যুদ্ধ-সংঘাত এবং সভ্যতার বিনির্মাণ – ১

কিছু ইতিহাস-লেখকরা বিশ্বের ইতিহাসকে শুধু যুদ্ধ ও সংঘাতের ইতিহাস’ বলে থাকেন। মানুষের পুরো ইতিহাস জুড়েই যেন শুধু যুদ্ধ ও সংঘাত দেখতে পাওয়া যায়। যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরন করে এবং করছে। সময়ের পরিক্রমায় মানুষ আধুনিক হচ্ছে, উন্নত হচ্ছে সমরাস্ত্র বলা যায় উন্নতির হাওয়া সামরিক পথ থেকেই শুরু হয়। বিংশ শতাব্দীতে অনুষ্ঠিত যুদ্ধ গুলো এত বেশি ধ্বংসাত্মক ও ভয়ংকর ছিল যে, হাজার হাজার বছরের যুদ্ধের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণও এর চাইতে অনেক কম।
.
বিংশ শতাব্দীর যুদ্ধগুলো বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই আমরা কতজন নিহত এবং কত ট্রিলিয়ান ডলারের ক্ষতি হয়েছে এটাই দেখি। যুদ্ধের নির্মমতা, অন্যায়, অবিচার, হাহাকার, দুর্ভিক্ষ, জুলুম, ব্যক্তিগত জীবনের কষ্ট, দুর্দশা, আপনজনকে হারানোর বেদনা ইত্যাদি নিয়ে গভীরে ঢুঁকে দেখার চেষ্টা করিনা। যারা যুদ্ধ থেকে হাজারো যোজন দূরে অবস্থান করে তারা যুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত নয়। তাদের কাছে যুদ্ধ একটা ফ্যান্টাসি ও নতুন কিছু বিনোদনের মত। অনেকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনে হতাশ, বিচ্ছিন্ন, নিঃসঙ্গতা বা নৈরাশায় ভুগছে তাই তারা যুদ্ধ কামনা করে। তবে এমনও লোক আছে যারা যৌক্তিক ভাবেই একটি যুদ্ধ চায়, বর্তমান সমাজ ভেঙ্গে অন্যায় ও হিংসা বিদ্বেষ মুক্ত সমাজ গড়বে এই প্রত্যাশায়।
.
যুদ্ধের প্রতি আমার এক বিশেষ আগ্রহ ও কৌতূহল সব সময় ছিল। যুদ্ধের ভয়াবহতা নির্মমতা বুঝার জন্য আমি বেশ সংখ্যক বই পড়েছি এবং ডকুমেন্টারি, মুভি, ড্রামা, সিরিয়াল দেখেছি। যারা যুদ্ধের ভয়াবহতা বুঝতে চান তাদেরকে এরিক মারিয়া রেমার্ক এর বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাস All Quiet on The Western Front পড়তে বলব। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে বেট্যাল অফ বার্লিন সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে মাত্র ১৭ দিনে প্রায় ১২,৯৮,৭৪৫ জন লোক মারা যায়। আমরা শোনে একটু অবাক হব ঠিক, কিন্তু এই ১৩ লক্ষ আমাদের কাছে শুধু একটি সংখ্যা মাত্র। আমরা এই সংখ্যার গভীরে ঢুকব না। এই মরে যাওয়া সকল মানুষের ছিল ভিন্ন ভিন্ন জীবন ও ভিন্ন ভিন্ন স্বপ্ন। এদের বেশির ভাগই বাধ্য হয়ে যুদ্ধ করছিল। যুদ্ধের মাঝে মাঝে সময় পেলেই এরা পকেট থেকে পরিবারের ছবি বের করে তাদের কথা চিন্তা করত, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠত, যুদ্ধের সময়ে এরা একে উপরের আপন বন্ধু হয়ে যেত, পরে সেই আপন বন্ধু মারা গেছে শুনলে এরা চিন্তা করত আমার জুতা ফুটো হয়ে গেছে তাই সে মরে যাওয়া বন্ধুর জুতা কে আগে নিবে …। এরা যুদ্ধের ময়দান থেকেও নারীর জুতা, সাজসজ্জার সামগ্রী এবং চকলেট ও খেলনা সংগ্রহ করত যুদ্ধ শেষে তার স্ত্রী-সন্তানের জন্য নিয়ে যাবে বলে। আমরা যদি গভীরে চিন্তা করি তবে সবাই বুঝতে পারব যুদ্ধ আসলেই কি বয়ে আনে।
.
যারা দেশপ্রেম বা কোন মতবাদের প্রতি আবেগী হয়ে এবং যারা একটিভ পার্সোনাল তাদের কথা নাই বা বললাম কারণ তারা সব তো বুঝে শুনেই আর্মিকে বেঁছে নেয় কিন্তু যারা বাধ্য হয়ে যুদ্ধ করছে, তাদের বেদনা অবশ্যই আমাদেরকে অনুভব করতে হবে।
.
Yang Kyoungjong হল দক্ষিণ কোরিয়ার একজন যুবক। অন্য যুবকের মত সেও ভবিষ্যৎ সাজাতে ব্যস্ত ছিল, আর্থিক অবস্থা খারাব হওয়ায় সে রিকশা চালাত। তখন কোরিয়া জাপানের দখলে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ আরম্ভ হলে জাপান সরকার স্বাভাবিক ভাবেই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে হাজারো যুবকদের ধরে বাধ্য করে যুদ্ধ ময়দানে পাঠিয়ে দিল। মঙ্গোলিয়া সীমান্তে সোভায়েত ইউনিয়ন জাপানিজদের উপর তুমুল হামলা চালালে অনেক জাপানিজ ও কোরিয়ানের সাথে Yang Kyoungjong কেও যুদ্ধবন্দী হিসেবে ধরে নিয়ে গেল। ১৯৪১ সালে এবার সোভায়েতরা জার্মানিদের বিরুদ্ধে তাকে যুদ্ধ করতে বাধ্য করল। কেউ পিছনে পালালে সোভায়েতরা তাদেরকে গুলি করত। এই যুদ্ধে সোভায়েতরা হেরে যায়। এবার জার্মানরা তাকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে ধরে নিয়ে যায়। জার্মানরা তাকে তাদের দখলকৃত ফ্রান্সের বিখ্যাত যুদ্ধ ফ্রন্ট নরমান্ডি ক্যাম্পে স্থানান্তরিত করে। সেখানে এলিড আর্মির (আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের) আক্রমণে জার্মানরা হেরে যায় এবার আমেরিকান আর্মি তাকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে আটক করে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শেষে তার বিচার শুরু হয় তখন তাকে মুক্ত করে আবার তার নিজ দেশ অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়। সে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক, কিন্তু বাধ্য হয়ে এক এক করে জাপানিজ, সোভায়েত ও জার্মানের পক্ষ হয়ে লড়াই করেছিল, ৫ টি বছর এই অবস্থায় কাটিয়েছে। চিন্তা করুন এই ব্যক্তির জীবন। এটা একটি বাস্তব ঘটনা কিন্তু আমাদের সেই সংখ্যার গুননা এই সব ব্যক্ত করতে পারবে না।
.
এটা তো হল এক সৈনিকের কাহিনী। আধুনিক সভ্যতার প্রতিটা যুদ্ধে বেশির ভাগই বেসামরিক মানুষের ক্ষতি হয়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে মোট নিহত প্রায় ৪ কোটি ৮০ লক্ষের মধ্যে ২ কোটি ৭০ লক্ষই ছিল সাধারণ মানুষ। বার্লিনে মিত্র শক্তিরা টানা দুই সপ্তাহ হাজারো বিমান দিয়ে বোমা ফেলে। মোট ৪০ হাজার টনেরও বেশি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। শহরের শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ পালিয়ে গেল। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই বোমায় মারা গেল। পুরো শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। এটা বার্লিনের অবস্থা নিহতরা সরাসরি যুদ্ধের সাথে জড়িত না হলেও তার দেশ জড়িত ছিল কিন্তু চায়না বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়া, মিসর, ইরাক, লিবিয়া, জর্ডান বা ভারত-পাকিস্তান বা পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড এরা তো যুদ্ধ চাইতো না, জড়িতও ছিল না। এবং আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অসংখ্য কৃষ্ণাঙ্গদের বাধ্য করে যুদ্ধে আনা হয় হত্যা করা হয় এটা ছিল তাদের উপর জুলুম-অন্যায়। জুলুম নিয়ে বলতে গেলেই মজলুমের কথা আসে তাই উপরোক্ত কোনো ঘটনায় বর্তমান মুসলিমদের সাথে হওয়া অন্যায়ের উদাহরণ আনিনি। কারন এগুলো যুদ্ধ নয় এটা অন্যায়, যার উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, কাশ্মীর, বসেনিয়া, চেচেনিয়া সহ মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় যা হয়েছে ও হচ্ছে এই সবই অন্যায়।
.
১৯৫০ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হলে দক্ষিণ কোরিয়া তার অনেক নাগরিককে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করল। স্কুলের ছেলেদেরকেও ধরে নিয়ে বিভিন্ন ফ্রন্টে পাঠালো। এমনি ৭১ জন স্কুলবালককে উত্তর কোরিয়ার বড় ধরনের হামলাকে রুখে দিতে একটা ফ্রন্ট ক্যাম্পে মোতায়েন করল অথচ এই বালকেরা জীবনে এর আগে কখনোই গুলি চালাইনি, সেখানেই তারা কিছুদিনের ট্রেনিং নিয়েছিল। উত্তর কোরিয়া আক্রমণ করলে এরা ভয়ে ছুটাছুটি করছিল। মর্টারের ব্যবহার জানতো না। সেটআপ না করেই সেল ঢুকিয়ে দিল সেল সোজা উপর উড়ে গিয়ে পরক্ষনে নিচে এসে তাদের মাথার উপরেই পড়ল। এভাবেই তারা নিজেদের ক্যাম্পের নিজেরাই অনেক ক্ষতি করল। এটা ফ্যান্টাসি নয়, এটাই প্রকৃত বাস্তব যুদ্ধের সত্য। 
.
যুদ্ধ এক সময় বর্ডারে সীমাবদ্ধ ছিল। শহরের সাধারণ মানুষেরা যুদ্ধের সঠিক অবস্থা নিয়ে বেখবর থাকতো। কিছু অর্থনৈতিক মন্দা ছাড়া বাকি জীবন ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু প্রযুক্তি সব বদলে দিয়েছে। প্রতিদিনের মতই পুরো শহর কর্মব্যস্ত ছিল। যে যার কাছে আত্নমগ্ন ঠিক তখনি লিটল বয়! হিরোশিমায় আঘাত হানে লক্ষাধিক লোক মারা যায়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে কিছু সংখ্যার নয় বরং ১ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়। একইভাবে নাগাসাকিতে ১০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ৮০ হাজার মানুষ মারা যায়। এগুলো সংখ্যা নয় জীবন, প্রত্যেক মানুষের ছিল এক একটি ভিন্ন জীবন। হিউম্যান কোস্ট অফ ওয়ার কখনো পুষিয়ে উঠা যায় না। ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শীদের বিবরণ নিয়ে লেখা Hiroshima- John Hersey বইটি আগ্রহীরা পড়তে পারেন।
.
আমাদেরকে এমন ভয়ংকর অবস্থার সম্মুখিন হওয়ার মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিতে হবে। আজ ইয়াহুদি, খ্রিষ্টানরা মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছে না। তাহলে আমরা মুসলিম হয়েও কেন ভয় পেয়ে বস্তুবাদী দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরে কল্যাণ থেকে পালাবো। আমাদেরকে অবশ্যই নির্ভীক ও সাহসী হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
.
.
রি-পোষ্ট এক বছর আগে লিখেছিলাম। এখন খেয়াল করলাম কি করে একটি বছর কেটে গেল। যদিও মনে হচ্ছে কয়দিন আগেই এটা লিখেছি।

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

Advertisements

আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে ঈমাম মাহদীর আগমন ঘটতে পারে-মুফতি ইব্রাহিম কাজী

মুফতি ইব্রাহীম কাজী হাফিজাহুল্লাহর এই লেকচারটি ইস্কেটোলজির ছাত্রদের শোনা আবশ্যক মনে করি। ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম আসতে পারেন ২ – ৩ বৎসরের মধ্যে। ১৯৭৯ সালে একজন আরব ইমাম মাহদী হবার দাবি করায় সে বছর হজ্বে প্রচুর রক্তপাত হয়, বহু লোক হতাহত হয়। এই ঘটনার ৩৫ – ৪০ বৎসর পরই প্রকৃত ইমাম মাহদী আসার কথা। আর ইমাম মাহদী আসার কথা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যাবে। সম্ভবত ইন্টারনেটের মাধ্যমে। অনেকে ইমাম মাহদী-র সাথে য়ালাইহিস সালাম বললে তীব্র আপত্তি করেন। বলেন এ দরূদ নবী রাসূলদের জন্য। ইমাম মাহদীর নামের সাথে এ টাইটেল ব্যবহার করা যাবে না। এসব শিয়ারা করে। অথচ তারা ভুলে যান আমরা নবীজী হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম, নবী পরিবার এবং সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুমদের উপর দরূদ ও সালাম পেশ করি। হযরত বলেন, ইমাম মাহদী নবী না হলেও নবী মর্যাদার। কারণ পূর্ববর্তী নবী রাসূলদের বংশধরদের মধ্যে অনেকে আবার নবী হতো। এটা ছিল পূর্ববর্তীদের জন্য সম্মান। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের পর যেহেতু আর নবী আসবেন না তাই আল্লাহ তার বংশধরদের মধ্যে ইমাম মাহদী য়ালাইহিস সালামকে পাঠাবেন যিনি নবী নন, কিন্তু যার মর্যাদা নবীদের মতো। এটা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের মর্যাদার কারণেই করা হবে। যেন পূর্ববর্তীদের তুলনায় রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের মর্যাদার কোন তারতম্য না ঘটে। এ সব কিছু আল্লাহ ভালো জানেন। — সবাইকে ভিডিওটি পুরোপুরি দেখার অনুরোধ করছি।

বর্বর ইয়াজুজ মাজুজ

কে বলে ওদের অন্তরে ভালোবাসা নাই, ওরা এখন রোবটকে ভালোবাসে, সেক্স রোবট পাওয়া যায়। আপনি পারবেন রোবটকে ভালবাসতে? দেখেন এই রোবটের দুই আঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে বলে কি কান্না করতেছে এরা। কে জানে এটার সাথে কি করতে গিয়ে আঙ্গুল ভাঙ্গছে। ক্যাপশন এসেছে They Were ‘Like Barbarians.’ এর হিপটা নাকি ‘সে-ই’ দেখতে, আর্টিফিসিয়াল জি-স্পটও আছে। নগদ ৬৪৫০ ডলার মোহরের বিনিময়ে একে ঘরে তোলা যাবে। যাহোক, তাদের তরিকায় দুই বিবাহ হারাম। কিন্তু এক স্ত্রী সাথে একটা সেক্স রোবট হালাল। — এটিই পাশ্চাত্য সমাজ, ইয়াজুজ মাজুজের সমাজ। তারপরও যারা বলে ইয়াজুজ মাজুজ এখনও বের হয় নাই, ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনা শুরু হয় নাই তাদেরকে পাশ্চাত্য সভ্য সমাজে কিছুদিন রেখে আসা উচিৎ।

শেষ যুগের মা বাবা

শেষ যুগের যে ইফেক্ট তাতে সাধারণ মুসলিম পারিবারিক পরিমণ্ডলে টানাপড়েন দেখা দিবে। নারীরা চাবে যুগের হাওয়ায় গা ভাসাতে। সাধারণ মুসলিম পরিবারের মেয়েরা বাইরে বেরিয়ে যাবে। বাবারা তাতে বাঁধা দিবে। যারা পারবে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখবে মেয়েদের। ফলে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার সম্মুখীন হবে। আর মায়েরা মেয়েদের সব কাজে সাপোর্ট দিবে। মেয়ে যা করতে চায় মা তাকে তাই করার সুযোগ দিবে। ঠিক যেমন দাসীরা মনিবের জন্য সব কিছু করে থাকে। ফলে মা মেয়ের সম্পর্ক খুব ভালো হবে। হাদিসে এসেছে, দাসী তার মনিবকে জন্ম দিবে এবং পুরুষরা পরিবারের মেয়েদের শেকল দিয়ে বেধে রাখবে যেন তারা দাজ্জালের কাছে যেতে না পারে। — এ’ তো বর্তমান সময়ের চিত্র ১৪০০ বছর আগে বর্ণনা করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ।

মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব

সুন্দরী প্রতিযোগিতার কেলেঙ্কারির কথা আপনারা জানেন। এক সুন্দরী প্রতিযোগিতা নিয়ে সারা জাতি ব্যস্ত। দেশ জাতি ভাসতেছিল সুন্দরিদের ওয়েস্ট, বাস্ট এবং হিপ মেজারমেন্টের বিশ্লেষণে। কোন এক নারী নাকি বিয়ের তথ্য গোপন করে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। অবিবাহিতা হয়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতা করলে যেন এটা জায়েজ হয়ে যেত। আবার বিচারকদের রায়ও নাকি পাল্টে ফেলা হয়েছে। বিচারকদের রায় সঠিকভাবে প্রকাশিত হলেই যেন এটা খুব মহৎ কাজ হয়ে যেত। এটা হচ্ছে মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব। ব্লু হোয়েল গেম মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব। রোহিঙ্গাদের গণহত্যা মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব। কাগজের টাকা ও ব্যাংকিং সিস্টেমও মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব। খাদ্যে ভেজাল, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, নারী আন্দোলন এমনকি ক্রীড়া জগত এগুলোও মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব। সবচেয়ে বড় ফ্যাসাদ হচ্ছে আল্লাহর হুকুমকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো। আল্লাহর দুনিয়াতে থেকে আল্লাহর কর্তৃত্বকে হঠিয়ে দেয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা। এ কাজের জন্য জোট তৈরী করা। এই সর্বগ্রাসী ফ্যাসাদ কি পৃথিবী আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেছে? কারা এই ফ্যাসাদের হোতা? কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না? কোরআনে এই ফ্যাসদের কথা ও ফ্যাসাদকারীদের কথা বার বার এসেছে। এর উত্তর ঘাটতে গেলেই বের হয়ে পড়ে ভয়ংকর ইয়াজুজ মাজুজের আবির্ভাবের সম্ভাবনা। আল্লাহপাক হাদিসে কুদসীতে যাদের সম্পর্কে বলেছেন, আমি আমার এক সৃষ্টিকে এতটা ক্ষমতাবান করেছি, আমি ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে কেউ যুদ্ধ করতে পারবে না [সহীহ মুসলিম] । বিস্তারিত পড়ুন এখানে।

 

সচ্চরিত্রা নারী স্ত্রী হিসেবে থাকা মানে জীবনটা আনন্দে ভরপুর হয়ে যাওয়া, যদিও সে মাঝে মাঝে ক্যাটক্যাট করে। আর দুশ্চরিত্রা নারীর ছায়া মাড়ানো মানে হলো জীবনকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো, যদিও সে মাঝে মাঝে মিষ্টি মধুর রং ঢং করার চেষ্টা করে।

শেষ যুগের যাদু

শেষ যুগ হলো ঘটনাবহুল। সারা পৃথিবীতে অসংখ্য ঘটনা ঘটতে থাকবে। কাজেই প্রতিটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে গেলে দিকভ্রান্ত হয়ে যেতে হবে। সঠিক গন্তব্য বা সঠিক দিশার জন্য চাই মূলনীতি। কারণ এরকম হাজার আজার বা লক্ষ লক্ষ ঘটনা কোন নির্দিষ্ট মূলনীতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। মূলনীতি না বুঝলে একেক ঘটনার ব্যাখ্যা একেক রকম হবে। ঠিক যাদুর মতো। যাদুকর যেমন তার ঝোলা থেকে একেক রঙ্গের কবুতর বের করে। বা ফেরাউনের যাদুকররা যেমন হাজার হাজার সাপ বের করেছিল। তার বিপরীতে মুসা য়ালাইহিস সালাম প্রতিটি সাপের পেছনে আলাদা আলাদাভাবে ছুটেন নি। তিনি এক নীতিতে ছিলেন। আর সেটা হলো তার লাঠিকে তিনি মাটিতে ছুড়ে মেরেছিলেন। ঐ এক লাঠিই সব সাপের উপর জয়ী হয়েছিল। কোরআন এবং সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে আমাদের শেষ যুগের সব যাদুকরদের বিরুদ্ধে জয়ী হতে হবে।