মশা

এই মুহূর্তে আইসিইউতে ৩ টা রোগী আছে ডেঙ্গুর। মশারি দিয়ে রাখা হয়েছে। গত কয়েকদিনে ডেঙ্গুর আরো রোগী ছিল। শুনলাম গত কয়েকদিনে দেশে কয়েকজন ডাক্তারও মারা গেছে। জ্বর নিয়ে আসলে ডেঙ্গুর টেস্ট দিচ্ছি। IgG পজেটিভ আসছে। অর্থাৎ এদের আগেও ডেঙ্গু হয়েছিল। এই হচ্ছে অবস্থা। এবারের ডেঙ্গু অনেক ভয়ানক। রোগী খুব দ্রুত আয়ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে হার্ট আক্রমণ করছে। বিপি ফল করছে, হার্টের ইজেকশন ফ্রাকশন কমে যাচ্ছে। কার্ডিয়াক এরেস্ট হচ্ছে। এই যে পেশেন্টটাকে সিসিইউতে রেফার করলাম তার আজকেই সিজার হলো। প্রেগনেন্সি প্লাস ডেঙ্গু। মোর দেন হাই রিস্ক অপারেশন ছিল। কোন প্লাসেন্টায় আজ পর্যন্ত পাস পাওয়া যায় নাই (আমাদের জানামতে), এর প্লাসেন্টায় পাস পাওয়া গেছে।

এডিস মশার ভেতরে থাকে ডেঙ্গুর ভাইরাস। মশা একটা ছোট জিনিস। আর তার ভেতরের ভাইরাস আরো ছোট জিনিস। কিন্তু এই ছোট জিনিস দেশ কাঁপিয়ে ফেলছে। পৃথিবীর ইতিহাস খোঁজ নিয়ে দেখেন, মশার কারণে সব সময় ধারাবাহিকভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। এতো ধারাবাহিকভাবে অন্য কোন কারণে মানুষ মারা যায় না। আর সেগুলো স্ত্রী মশা। কোরআনে আল্লাহ বায়উদ্বাতা শব্দে গোল তা দ্বারা স্ত্রী মশার কথাই বলেছেন। দেখুন সূরা বাকারা, ২৬ নং আয়াত। পৃথিবীর বিজ্ঞান এই তুচ্ছ মশা আর তার চেয়েও তুচ্ছ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছে না। আর আমরা যারা বাস্তবতা জানি তারা বুঝি কোনদিনও পারবে না।

এই জন্য যারা বিজ্ঞান জানে তারা অহংকারী হয় না। যারা বিজ্ঞান জানে না তারা বিজ্ঞানকে অসীম জ্ঞান করে। স্রষ্টার চেয়েও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মনে করে। তারা বিজ্ঞানও জানে না, ধর্মও জানে না। কাফেররা বলে, আল্লাহ মশার মতো একটা ছোট জিনিস দিয়ে কি বুঝাতে চান!! What did Allah intend by this as an example? এই হলো মশা নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা।

মশা কি ছোট জিনিস? যদি ছোট জিনিসই হতো তাহলে কেন তোমরা ডেঙ্গুর ওষুধ আবিষ্কার করতে পার না? তোমরা নাকি বিজ্ঞান দিয়ে মহাকাশে যাও।

আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও ছোট কিছুর (ভাইরাস) উপমা দিতে লজ্জা বোধ করেন না। কাফেররা বলে, আল্লাহ মশার মতো একটা ছোট জিনিস দিয়ে কি বুঝাতে চান!! আসল কথা হচ্ছে, তিনি এ দিয়ে অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং এ দিয়ে অনেককে হিদায়াত দেন।

পাপীরা মনে করে, আল্লাহ এই ছোট জিনিস দিয়ে কি বুঝাতে চান। তাদের প্রয়োজন বড় বড় জিনিস। ভাবটা এমন, আসমান থেকে বড় বড় পাথর নেমে আসলেই তবে তারা বিশ্বাস করবে। অথচ সেই পাথরও নিশ্চিত আসতেছে। “যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠানো থেকে তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ, তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী?” (সূরা মূলক, আয়াত ১৭)

আমরা একেবারে জীবন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারতেছি না। মনে করছি, আরো হাজার বছর বেঁচে থাকব। চলাফেরা, ভাবভঙ্গি, চিন্তাভাবনা সেরকমই। এক রোগীর লোক কিছুতেই তার রোগীর মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। অথচ সে নিজের মৃত্যু সম্পর্কে বেখবর। তুচ্ছ এক এডিস মশার মৃত্যুর মতোই তুচ্ছ তার মৃত্যু।

যাহোক, আবার মশার আযাব নেমে আসছে দেশে। আলহামদুলিল্লাহ। সবই আল্লাহর ইচ্ছা আর মানুষের দুই হাতের কামাই। মানুষের অপরাধ অনেক বেড়ে গেছে। শাস্তি আসবে এটাই স্বাভাবিক। আর শাস্তি আসলে ভালোমন্দ বাছবিচার করা হয় না। সবার উপরেই আসে। তাই সবাই সাবধান হোন, আল্লাহর শাস্তিকে হাত দিয়ে ফেরানো যাবে না, ফেরাতে হয় তওবা দিয়ে।

ভারত ও বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

ছেলেধরা, কল্লাকাটা, প্রিয়া সাহা। দেশে একের পর এক বিপদ। স্পষ্টতই দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র। কি হতে পারে? প্রিয়া সাহারা তো খেলোয়াড় নয়, বরং খেলার ঘুঁটি। মুল খেলোয়াড় আড়ালে। যতই এসব নিয়ে আলোচনা হবে ততই খেলোয়াড়ের খেলা জমবে ভালো। রিয়েল ফেস থাকে সবসময় আর্টিফিশিয়াল ফেসের আড়ালে।
তবে সব কিছুর উত্তর এক জায়গায় এসে মিলে। মার্কিন ব্লক। প্রতিটি ঘটনা মার্কিন ব্লকের অনুকূলে। শেখ হাসিনার উচিত রাশিয়ান ব্লকে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা। আওয়ামী লীগ আগের থেকেই রাশিয়ান ব্লকের। কংগ্রেসের ইন্ডিয়াও রাশিয়ান ব্লকের ছিল। দেশের হিন্দুরা ভারতীয় ব্লক অনুসরণ করে। অর্থাৎ ইন্ডিয়া যে ব্লকে থাকবে দেশের হিন্দুরাও ঐ ব্লকের। সে হিসেবে একসময় হিন্দুদের সাথে আওয়ামী লিগের সখ্যতা ছিল। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। মোদির ইন্ডিয়া আমেরিকাপন্থী। ফলে দেশের হিন্সুরাও আওয়ামী লীগের থেকে মুখ ফিরিয়ে মোদী তথা আমেরিকাপন্থী হয়ে গেছে। এসকে সিনহা, প্রিয়া সাহারা তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। তাই আওয়ামী লীগের ও প্রশাসনের ভিতরে ও বাইরে কিভাবে আমেরিকাপন্থীদের পরিশুদ্ধ করা যায় আওয়ামী লীগের সামনে এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

অপেক্ষায়

বাঙ্গালীর জিহাদ শুরু হয়ে গেছে ছেলেধরাদের বিরুদ্ধে। তাই রাস্তায় পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলছে। ইমাম ছাড়া যখন জিহাদ হয়, তখন এই অবস্থাই হতে বাধ্য। ইমাম নেই, আমল নেই, কিন্তু হাতে লাঠি। এখন ফেতনার সময়। এরকম সময়ে সুযোগ সন্ধানী ইসলামের দুশমনও হকের কথা বলে। মানুষকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে। অনেক ভাই বলেন, এখন জিহাদের প্রকৃষ্ট সময়। অনেক ভাই আরো আগে বেড়ে বলেন, জিহাদ এখন ফরজ। আচ্ছা, ইমাম ছাড়া জিহাদ ফরজ হলো কিভাবে? মানুষ কি একা একাই লাঠি সোটা নিয়ে বের হবে। বের হলে কি হবে তা এই ছেলেধরাদের বিরুদ্ধে জিহাদের নমুনা দেখেই বুঝে আসার কথা। পুরো মুসলিম জাতির এক ইমাম ছাড়া জিহাদ হলে ভয়ানক বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। যার যার ইলেম অনুযায়ী সে কোপানো শুরু করবে। যতদিন মুসলমানরা এক ইমামের অধীনে না আসবে ততদিন জিহাদ ফরজ হওয়ার প্রশ্ন উঠে না। যতদিন ইমাম না আসেন ততদিন মুসলমানদের ব্যাকফুটে থাকতে হবে। ততদিন পর্যন্ত মুসলমানদের সবর ও আত্মশুদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মুসলমানদের ইসলামিক মূল্যবোধ গঠনের দিকে জোড় দিতে হবে। বিদায়াত থেকে মুক্ত হতে হবে। অনেক দ্বীনী ভাইবোন ইসলামিক রীতিনীতি মন থেকে মেনে নিতে পারেন না। যেমন, বহুবিবাহ, পর্দা, নারীদের ঘরে থাকা ইত্যাদি। অনেক ভাই কাফেরদের তৈরি জন্মনিন্ত্রন সামগ্রী ব্যবহার করে উম্মতের সংখ্যা লাঘব করেন। অনেক ভাই কাগজের মুদ্রার অসারতা বুঝেন না। অনেক দ্বীনী ভাই কুরআন পাঠে মনোযোগী না হয়ে কাফেরদের জাদুকরী বিজ্ঞান চর্চায় বেশি গুরুত্ব দেন। তাদের তৈরি করা ফ্রেমে লেখাপড়াকে উত্তম মনে করেন। আবার দেখা যায় তারাই জিহাদের প্রচুর সমর্থক হয়ে যান। কাজেই জিহাদের জন্য যতটুকু না অস্ত্রের প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি আত্মিক ও ইলমি প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। তা না করে বর্তমান কাঠামোকে মেনে নিয়ে তার পরিবর্তনের চেষ্টা করা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয় না। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে বললাম। যদিও অনেক প্রকৃত ইলমওয়ালা ভাই ভিন্নমত পোষণ করেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি। 

পর্দা ও নয়া জমানার নারীশিক্ষা

পর্দা শুধু হিজাব নিকাবে নয়। পর পুরুষের কাছে পড়তে না যাওয়াও পর্দার অন্তর্ভুক্ত। নারীশিক্ষা নাকি দেশকে আগিয়ে নিবে। এখন তো দেখা যাচ্ছে নারী শিক্ষা নারীকে নিয়ে গেছে পরপুরুষের বেডে। আমাদের দাদা নানাদের আমলে নারী শিক্ষা ভালো চোখে দেখা হতো না। সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ তাদের কত দ্বীনের জ্ঞান দান করেছিলেন। ছোটবেলায় আমার একটি গল্পের বই ছিল। শেয়াল পন্ডিতের পাঠশালা নামে একটি গল্প ছিল। এক কুমির শিয়াল পন্ডিতের কাছে তার নয় ছানাকে পড়তে দেয়। শেয়াল প্রতিদিন একটি করে কুমির খায়। এদিকে কুমির ছানাদের মাবাবা প্রতিদিন তাদের দেখতে আসে। কিন্তু শিয়াল একটি একটি করে নয়টি কুমির দেখায়। শেষে একটি কুমিরকেই নয়বার দেখায়। সুবহানাল্লাহ, লেখক যে কত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন তা ভাবলে অবাক হতে হয়। আজকের অভিভাবকদের বুদ্ধিমত্তা কুমিরের পর্যায়ে নেমে গেছে। এ জন্য তাদের মেয়ে ছানাদের শিয়াল পন্ডিত বানাতে স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় দিয়ে আসে। কিন্তু বিয়ে দেয় না। বিয়ে দিলে নাকি নারী অরক্ষিত হয়। তার কচি শরীর নাকি বাচ্চা নেয়ার উপযুক্ত নয়। আর এদিকে শিয়ালেরা চাকুম চাকুম করে ছানাদের খায়। আবার তাদের গর্ভপাতও প্রমাণ করে তাদের শরীর ঠিকই বিয়ে ও সন্তান ধারণের উপযুক্ত ছিল। কাজেই নারীরা শুধু নারী শিক্ষকের কাছেই পড়তে যেতে পারে। পুরুষ শিক্ষক মাদ্রাসার হুজুর, মসজিদের আলেম হলেও পরিত্যাজ্য।

নারীর ফেতনা

নারীর ফেতনা বড় ফেতনা। এক নারীর জন্য পথেঘাটে জীবন দিল দুই পুরুষ। একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন, একটা যোগ্যতাহীন, অন্তঃসারশুন্য নারীও কত সহজে পুরুষদের ফেতনায় নিপতিত করতে পারে। না আছে কোয়ালিটি সৌন্দর্য্য, না আছে কোয়ালিটি শিক্ষা, না আছে কোয়ালিটি সম্পন্ন ক্যারিয়ার, না আছে তিলে তিলে যত্নে গড়া সংসার। তাহলে কেন এমন হলো? কারণ ভেতরে কিছু না থাকলেও নারীর আছে জগৎ বিধ্বংসী ফেতনার যোগ্যতা। এটা তার ইনবিল্ট যোগ্যতা। সাথে নিয়েই ঘুরে সবসময়। নারীর সর্দি কাশি অপুষ্টি ইনফেকশন পেটে ব্যথা ডায়রিয়া নাপাকী কোন কিছুই পুরুষকে আটকাতে পারে না। পুরুষ তাকে চায়ই।

নারী নিজেও জানে না সে কত বড় ফেতনা। মিননি নামের এক নারীর ভালোবাসার কথা আজ জানে দেশবাসী। হা হা হা। এতো সহজে কোন পুরুষ ভাইরাল হতে পারে না। তাকে ভাইরাল হতে হলে নারীর ফেতনায় জীবন হারিয়ে ভাইরাল হতে হয়। ফেতনায় নারীরও জীবন যায় প্রচুর। স্কুল, কলেজ, চাকরি যত জায়গায় যত নারী দেখেন সবাই টাইম বোমা। যেকোন মুহূর্তে ঘটাতে পারে বিস্ফোরণ। এজন্য নারীদের উচিত কুরআনের হুকুম মেনে প্রতি মুহূর্তে ঘরে অবস্থান করা। একান্ত বাধ্য হলে ভালো করে ঢেকেঢুকে স্বল্প সময়ের জন্য বের হওয়া। তাহলে পুরুষরাও শান্তিতে থাকবে, নারীরাও শান্তিতে থাকবে। দেশবাসীকে রিফাত-মিননি-নয়ন ভন্ডের সাসপেনশন দেখতে হবে না। কি বলেন?

কামনা

বহুবিবাহের জন্য কি পুরুষের বিস্তর টাকা পয়সা থাকতে হবে?

যেসব দ্বীনদার বোনেরা বহুবিবাহকে মেন্টালি একসেপ্ট করেছেন, এই পোস্ট তাদের জন্য। অনেকেই মনে করেন, বহুবিবাহ করার অধিকার শুধু ধনী পুরুষদের জন্য। প্রত্যাশা এই যে, তারা একেকজন স্ত্রীকে একেক প্রাসাদে রাখবে। ফলে বহুবিবাহের প্রসঙ্গ উঠলে তারা সৌদি রাজবংশের দিকে বা বড় বড় সেলিব্রেটির দিকে তাকিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের মতো অঢেল সম্পত্তি তো সবার থাকে না। আর তারা আমাদের আদর্শও নয়। আমাদের আদর্শ রসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনারা যদি রসূলের আদর্শ না মেনে সৌদ বংশ বা ধনীদের অনুসরণ করেন তবে কখনোই হারানো সুন্নাহ পুনরুদ্ধার করতে পারবেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিল জগতের ধন সম্পদের চাবি। কিন্তু তিনি সম্পদকে পরিত্যাগ করেছেন। রাসূলের স্ত্রীদের ঘরগুলোতে টানা দুই থেকে তিন মাস চুলায় আগুন জ্বলত না। যদি তিনি সম্পদ বেছে নিতেন, তবে এই উম্মাহর একজন সদস্যও গরিব হওয়াকে মেনে নিতেন না।

নবীজির সম্মানিতা স্ত্রীগণ আমাদের ভগিনী ও স্ত্রীগনের মতো এতো বিলাসী ছিলেন না। তারপরও আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন, “হে নবী ! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করো, তবে এসো, আমি তোমাদের কিছু ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় দিই।

আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও আখিরাত কামনা করো, তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, আল্লাহ তাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন” (সূরা আহযাব, আয়াত ২৮-২৯)

আয়েশা রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর, নবীজি সর্বপ্রথম আমার কাছে এসে বললেন, “আমি তোমাকে একটি কথা বলছি, তাড়াহুড়া না করে পিতামাতার সাথে পরামর্শ করে জবাব দিবে।” তিনি ভালো করেই জানতেন, আমার পিতামাতা কখনোই আমাকে তার থেকে বিচ্ছেদের অনুমতি দেবেন না। অতঃপর রসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। আমি তাকে বললাম, এ এমন কোন বিষয় যাতে আমি পিতামাতার অনুমতি নেবো? আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকালই আমার কাম্য।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পার্থিব সুখসম্ভোগ অথবা আল্লাহ, তার রাসূল ও আখিরাত – এ দু’টির মধ্যে যেকোন একটি বেছে নেয়ার এখতিয়ার দিলেন। আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বেছে নিয়েছিলাম। (সহি বোখারী, হাদীস – ৪৭৮৬ এবং ৫২৬২)

কাজেই বোনেরা যদি মনে করেন, বহুবিবাহের সুন্নত জিন্দা করবেন, তাহলে আপনাদের একটি জিনিস বেছে নিতে হবে। হয় দুনিয়ার সুখসম্ভোগ অথবা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও আখিরাত। যদি মনে করেন, আপনি বহুবিবাহ মেনে নিবেন কিন্তু আপনাকে সেলিব্রেটি বা সৌদি বাদশাদের স্ত্রীদের স্ট্যাটাসে রাখতে হবে, তাহলে সেটা কখনো সম্ভব নয়।

এ জমানায় দারিদ্রের মধ্যে সুন্নত জিন্দা হবে, ধনসম্পদের মধ্যে শুধু মনের খাহেসাত পুরো হবে।

প্রটেকশন

নবীজি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, নারীরা বাহিরে গেলে মাহরাম পুরুষ নিয়ে বের হবে। এটাই হচ্ছে নারীদের প্রটেকশন। কিন্তু আজকের নারী সমাজ এই পিতৃতান্ত্রিক প্রটেকশনকে অস্বীকার করে নিজেরাই বাহিরে বের হচ্ছে। অনেকে বলেন, মেয়েটাতো শালীন পোশাকেই বের হয়েছিলো, তাহলে ধর্ষিতা হলো কেন? আসলে পোশাকের আলোচনাটাই এখানে ইম্পরট্যান্ট নয়। যদি একজন নারী তার বাবার সাথে বের হয়, বা ভাইয়ের সাথে বা স্বামীর সাথে, সেখানে তারা অটোমেটিক ভালো পোশাক পরে বের হতে বাধ্য। মাহরাম পুরুষ না থাকলে তার ভালো পোশাক তাকে প্রটেকশন দিতে পারবে না। এটা প্রমাণিত যে, একাকী নারীর উপরই আক্রমণ হয়। কয়টা ঘটনা এরকম দেখাতে পারবেন যে, রাস্তাঘাটে বাবা, ভাই বা স্বামী সাথে থাকা অবস্থায় কোন নারী ধর্ষিতা হয়েছে? একজন মাহরাম পুরুষের উপস্থিতিই নারীর সবচেয়ে বড় প্রটেকশন। কাজেই আমাদের আলোচনার ফোকাস হতে হবে মাহরাম পুরুষ তার সঙ্গী হয়েছে কি না। এখন যদি কেউ অন্য আলোচনা করে, যেমন, নারীকে চাকরি করতে হবে, হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতে হবে তাহলে আবারও তারা চোরাগর্তে পড়বে। সেগুলো একজন নারীর কোন জরুরি দায়িত্ব নয়। নারীর সবচেয়ে জরুরি বিষয় তার নিরাপত্তা। আর সেটা মাহরাম পুরুষের মাধ্যমে পুরুষতান্ত্রিক প্রটেকশনের দ্বারা করতে হবে, ইনশাআল্লাহ।