সদর দরজা যখন খোলা চোরের তখন পোয়াবারো

garagedoor

Install Security Cameras; Even Fake ones will Work!

আপনি যখন ৩০ হাজার টাকা দিয়া একটা কম্পিউটার কিনিলেন তখন প্রথমেই মনে হইল ভালো একটা এন্টিভাইরাস কিনিতে হইবে। যাহাতে হ্যাকাররা আপনার কম্পিউটারের ভেতর ঢুকিয়া আপনাকে মিসগাইড করিতে না পারে, আপনাকে ফাকি দিয়া আপনার দলিল দস্তাবেজ লইয়া যাইতে না পরে। সামান্য দুনিয়াবী ক্ষণস্থায়ী যাহা ডিলিট বাটনে টিপ দিলেই মুছিয়া যায় এমন দুই চারি হাজার ডাটা নিরাপদ রাখিবার জন্য আপনি ৭০০ টাকা খরচ করিয়া এন্টিভাইরাস কিনিয়া ফেলেন। আবার কয়েক দিন পর পর ইহাকে আপডেটও করেন।

৩০ লক্ষ টাকা দিয়া একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনিয়া আপনি ইহার নিরাপত্তার জন্য মাসিক ৭০০০ টাকা বেতন দিয়া একজন ভালো ও বিশ্বস্ত দারোয়ান রাখিয়া লইলেন। ইহাতেও আপনি খুশি হইলেন না। তাই টেলিফোনের ডাইরেক্টরীতে থানার ওসির নাম্বার ও ফায়ার ব্রিগেডের নাম্বার লাল কালিতে দাগ দিয়া রাখিলেন, যেন প্রয়োজন হইলে সাথে সাথে খুজিয়া পাইতে বিলম্ব না হয়।

ইহা তো গেল দুনিয়াবী হাকীকত। আল্লাহ্‌ তায়ালা কি করিয়াছেন? আর তিনি কুরআনের মাধ্যমে আমাদের কি রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানাইয়াছেন?

হযরত জিবরাঈল আমীন ফেরেশতা যখন কুরআনের আয়াত লইয়া আল্লাহ্‌র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসিতেন, আল্লাহ্‌ বলিতেছেন, এ সময় শয়তানকে কুরআন শ্রবণের সুযোগ থেকেও দূরে রাখা হইয়াছে। কি হইত শয়তানকে কুরআন শ্রবনের সুযোগ দিলে ? জিবরাঈল আমীন য়ালাইহিস সালামের উপর কি আল্লাহ্‌র আস্থা নাই ! তা নহে। আল্লাহ্‌র আস্থা ঠিকই আছে। কিন্তু তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করিয়াছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, কুরআনকে আমি প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি। তবে শয়তানদের কেউ যদি চুরি করে সংবাদ শুনে পালায় তাহলে জ্বলন্ত উল্কা পিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে। দেখুন সূরা শু’আরা ও সূরা হিজর ।

আর আমরা দ্বীনের মেহনতের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা খুলিয়া বসিয়াছি। আমরা মাদরাসা বানাইয়াছি, পীরের খানকাহ গড়িয়াছি, তবলীগের মারকাজ প্রতিষ্ঠা করিয়াছি। কিন্তু আমাদের কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই। কোন ইহুদী বা খ্রিস্টানকে শয়তান যেন প্ররোচনা দিতে পারে না, আমাদের প্রচেষ্টাগুলোকে হ্যাক করতে।

আমরা ইহুদী বিষয়ে মাথা ঘামাইতে চাহি না। আমরা শুধু আমাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা মেহনতগুলোর বর্ধিত কলেবর দেখিয়াই প্রশান্তি লাভ করি। কিন্তু তাহার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি নাই। শত শত বছর ধরে তাহা খোলা ময়দানে খোলা পড়িয়া রহিয়াছে।

যখনই কেহ মহানবী রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কোন শিক্ষাকে কাটছাট করিয়াছে বা নিজের মনমতো আকৃতি দিয়াছে আমরা ভাবিয়াছি ইহা আমাদের ভালোর জন্যই করা হইয়াছে। টুপী পাগড়ী ঘন দাড়ি দেখিয়া বিগলিত হইয়া গিয়াছি।

আমরা ভুলিয়া গিয়াছি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এমন ভাইরাসই আক্রমণ করবে যা উইন্ডোজের সাথে মানানসই। একসময় তা পুরো সিস্টেমকে নিজের কব্জায় পুড়িয়া লয়।

ইহুদীরা ইহুদী নাম দিয়া মুসলমানদের কেন হ্যাক করিতে যাইবে !! তাহারা মুসলমানদের দরদী হইয়া মুসলমানদের সিস্টেমে ঢুকিয়া পড়িবে। ইহা বুঝিতে কি আলেম হইতে হয়? পিএইচডি ডিগ্রী দরকার হয়?

……।

ইমাম মাহদী য়ালাইহি সালাম যখন আসিবেন তাহাকে কেহ চিনিতে পারিবে না। তিনি আল্লাহ্‌র শেখানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিবেন। ৪০ বৎসর কাল তাহাকে কেহ সনাক্ত করিতে পারিবে না। যখন তিনি প্রকাশিত হইবেন তখনও প্রকৃত মুসলমান ছাড়া কোন ইহুদী খ্রিস্টান শয়তানের এজেন্ট তাহার কাছে ঘেঁষিতে পারিবে না।

পুনশ্চঃ

যেইসব আলেমরা ফতোয়া দেয়, হ্যাঁ, আপনি আপাতত ব্যাংকের চাকরী করিতে থাকুন, পাশাপাশি অন্য চাকরী দেখুন। সময় সুযোগ মতো ব্যাংকের চাকরী ছাড়িয়া দিলেই হইবে।

ইহাদের থেকে সাবধান হউন। এই ফতোয়ার অর্থ হইল,

আপনি আপাতত আপনার মায়ের সাথে জেনাহ করতে থাকেন। একসময় ভালো বউ পাইলে কালেমা পড়ে বিবাহ কইরে ফেইলেন।

অথবা আল্লাহ্‌র ও তার রাসূলের সাথে আপনি যে যুদ্ধ ঘোষনা করিয়াছেন ইহা বহাল থাকুক। সময়মতো যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ভাগিয়া যাইয়েন।

– আসলে এই সকল আলেমদের মগজের ভেতর ইহুদীদের মগজ এমনভাবে বসিয়া গিয়াছে যে ইহুদীদের সেই আদি ও সনাতন সুদী ব্যবস্থাও তাহাদের সামান্য বিচলিত করিতেছে না।

কোথাও ‘উহারা’ নেই

একজন তাবলীগের ভাই বললেন, আমাদের তবলীগে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু ৫ কাজ করি আর চিল্লা দেই। এটা করতে করতে একসময় যখন সবাই ইমানদার হবে তখন দ্বীন প্রতিষ্ঠা হবে। আপাতত মুরব্বীদের ঘিরে ধরা বিতর্ক দেখেও না দেখার কোশেশ করতে ব্যস্ত আছি।

একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা কেবল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামের বিজয়ের জন্য লড়ছি।

একজন চরমোনাইয়ের মুরীদ ভাই বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা আপাতত পৌরসভা নির্বাচনের জন্য লড়ছি। সামনে আমাদের লং মার্চ আছে।

একজন আহলে হাদীস বললেন, আমাদের শাইখদের মধ্যে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু সহি হাদিসের ভিত্তিতে যেসব জায়গার মুসল্লিরা আমীন আস্তে বলে সেসব জায়গায় হঠাত করে একদিন গিয়ে আমীন জোরে বলতে চাই।

একজন আইএস বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু শাইখ বাগদাদীর কথিত খেলাফত কায়েমের লক্ষ্যে রক্ত ঝড়াই।

একজন মাদ্রাসার উস্তাদ বললেন, আমাদের মাদ্রাসায় কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু ইলেম চর্চা করি। আপাতত সনদের স্বীকৃতি নিয়ে ব্যস্ত আছি।

একজন শীয়া বললেন, আমাদের শিয়াদের মধ্যে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু আলী রাযি বাদে অন্য সব সাহাবীদের সম্পর্কে আজে বাজে কথা বলি। আর কোন সমস্যা নেই।

একজন ওহাবী বললেন, আমাদের ভেতর কোন ইহুদী নেই। তবে আমরাই খেলাফত থেকে আস সৌদকে স্বাধীন করে ফিলিস্তীন ইহুদীদের কাছে বিক্রী করে দিয়েছি। এরপর থেকে ইহুদীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।

তাহলে তো বলতে হয়,

ইহুদীদের মতো ভদ্র সভ্য ভালো মানুষ দুনিয়ায় আর একটাও নেই। কোথাও কোন ইহুদী নেই। ইহুদীরা শুধু টিভি দেখে আর চিকেন ফ্রাই খায়। তারা আমাদের মধ্যে ঢুকতেই পারে না। তারা আমাদের আশেপাশেও নেই। আমরা ইহুদীদের ষড়যন্ত্র থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমাদের মুরব্বী থাকতে, আলেম উলামা থাকতে, আস সৌদের সামরিক জোট থাকতে ইহুদীদের নিয়ে চিন্তা নেই।।

তাহলে প্রশ্ন জাগে,

কুরআনে এতো বেশীবার ইহুদীদের বর্ণনা দেয়া হল কেন?

ইহুদীরা কেন নবীজীর (ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম) মজলিশে আড়ি পাতত?

ইহুদীরা কেন নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের থালায় বিষ দিল??

কেন দাজ্জাল ইহুদী থেকে আসবে?? কেন দাজ্জালকে সহজে চেনা যাবে না?

কিভাবে মুসলমানরা প্রতি বিঘতে বিঘতে ইহুদীদের অনুসরণ করবে??

এসব প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। উত্তর একটাই, ইহুদীরা আমাদের ধারেকাছেও নেই। তারা অনেক ভালো, শান্তশিষ্ট, সভ্য।

অথচ উপরের সবগুলোই যতটুকু না ইসলামের অনুসরণ তার চেয়ে বেশী ইহুদীদের অনুসরণ। এসব ইহুদীরা কোথায় থাকে? আসমানে? নাকি ভাগ হয়ে যাওয়া প্রতিটি দলের কেন্দ্রবিন্দুতে? যেখান থেকে প্রতিটা হুকুমকে মানুষ অনুসরণ করতে বাধ্য।

প্রজেক্ট নাম্বার এতো

jewish_conspiracy

ইহুদীদের অনেক প্রজেক্ট আছে। মুসলমানদের ভেতর। প্রজেক্ট ম্যানেজাররা এক একজন জীবন্ত দরবেশ। কিভাবে বুঝবেন এসব দরবেশ যে ইহুদিদের প্রডাক্ট? সাধারণ মুসলমানদের জন্য তাদের ধরা খুব কঠিন। এরা আপনাকে ঈমানের কথা বলবে, আখিরাতের কথা বলবে। তাহলে কিভাবে চিনবেন তাদের?

(১) যখন দেখবেন তারা ইসলামের একটা বিকৃত রূপকে উপস্থাপন করছে ইসলামের নাম দিয়ে।

প্রথমে কুরআন ও সুন্নাহকে মাত্র একটু বিকৃত করে এবং বলে দ্বীনের স্বার্থে করা হয়েছে। অল্প কয়েকদিন পরেই তারা একটা বিকৃত ইসলাম উপহার দেয়।

(২) যখন দেখবেন ইসলামের নাম দিয়ে তারা তাদের দলের দিকে মানুষকে ডাকছে। তারা বলবে তোমাকে এই এই করতে হবে। এই এই জায়গায় তোমার সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে হবে। তারপর একটা মূলো ধরিয়ে দিবে। সেটা চল্লিশ দিন হতে পারে, চল্লিশ বছর হতে পারে।

শিয়া হল ইহুদীদের একটি পুরনো প্রজেক্ট।

যারা সুন্নী তাদের মধ্যে অনেক সাব প্রজেক্ট আছে। যারা বিকৃত ইসলামের দিকে মানুষকে ডাকে। এবং ডাকে নিজেদের দলের দিকে। কৌশলে। অতি কৌশলে।

তাবলীগ জামাত, জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীর, আইএস, আল-কায়েদা, আহলে হাদীস, মাদ্রাসা, মডারেট ইসলাম, ওহাবিজম এগুলো সবই সাব প্রজেক্ট। হক্বের অতি কাছাকাছি বা অতি সদৃশ দেখে মানুষ মনে করে আসলেই হক্ব। যদিও কিছু ক্ষেত্রে হক্ব দিয়েই সম্ভবত শুরুটা হয়। ধীরে ধীরে ইহুদীদের অনুপ্রবেশ ও হ্যাকিং শুরু হয়।

সব প্রজেক্টে লাভও আছে, লসও আছে। তাবলীগ জামাত ও মাদ্রাসা প্রজেক্ট দু’টিতে তাদের লাভও বেশী হয়েছে, লসও বেশী হয়েছে।

হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ ইসলামের বেশ ভালো একটা ফ্লেভার পেয়েছে। আবার হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ অপভ্রংশ ইসলামকে আসল ইসলাম মনে করেছে।

সম্ভবত, তবলিগ জামাত প্রজেক্টের প্রয়োজনীয়তা ওদের কাছে ফুরিয়েছে। তাই এই অধ্যায়কে তারা শেষ করতে চাইছে। জাল গুটাচ্ছে। ইসলামের ফ্লেভার দিতেও তারা আগ্রহী নয়।

আগে ভাবতাম কুরআনের এতো বেশী সংখ্যক স্থানে ইহুদীদের শয়তানীর বর্ণনা কেন? কেন বনী ইসরাঈলের এতো আলোচনা ?

আসলে,

ইহুদীদের ষড়যন্ত্র এমন যেন পাহাড়কে টলিয়ে দেয়।

দুধ মা

হারিয়ে যাওয়া দুধ মা, দুধ ভাই, দুধ বোন সম্পর্কগুলো আবার চালু করা উচিত। বৃটিশ সভ্যতা আমাদের কাছ থেকে যা কেড়ে নিয়েছে সে সব ইসলামী সোনালী অতীত আবার ফিরে আসুক। নাও তোমাদের সারোগেটেড মাদার, আমাদের থাকুক দুধ মা।

হ্যামফারের ডায়েরী

আলহামদুলিল্লাহ, পুরনো বইয়ের ভিড়ে হ্যামফারের ডায়েরী বইটি পেয়ে গেলাম। তিনি একজন বৃটিশ গোয়েন্দা ছিলেন। কিভাবে ইরাকের বসরায় সাক্ষাৎ হওয়া নজদের মোহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব এবং দরিয়ার আমীর মোহাম্মদ বিন সৌদ – এই দুই মোহাম্মদকে ট্রেনিং দিয়ে লা-মাযহাবী ও ওয়াহবী মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল তার শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনী। প্রকৃতপক্ষে লা-মাযহাবী ও ওয়াহাবী শেষ যুগের ইসলামের প্রতিষ্ঠিত ধর্মমত যার প্রধান আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসলামের পূর্ববর্তী যুগের দুটি মত শিয়া ও সুন্নীদের বিভেদকে আরো উস্কে দেওয়া এবং সুন্নীদের মাযহাবগত পার্থক্যকে বিভেদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এভাবে ইসলামের পূর্বতন সব কাজকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া। লা-মাযহাবী ও ওয়াহাবী মতবাদ বুঝতে পারার অর্থ হল ইসলামের শেষ যুগের মতবাদ বুঝতে পারা। তারা প্রথম যুগের ইসলামের প্রতিটি ভিত্তির মূলে আঘাত করেছে এবং অবশ্যই তা বৃটিশ গোয়েন্দাদের নির্দেশনায়।

a-british-spy-hempher

বাংলায় বইটি প্রকাশ করেছে জ্ঞানকোষ প্রকাশনী। পাওয়া যেতে পারে রকমারি ও পড়ুয়াতে।

বাংলায় বইটি প্রকাশ করেছে জ্ঞানকোষ প্রকাশনী (ফোন নাম্বার – 01711271718)। পাওয়া যেতে পারে রকমারিপড়ুয়াতে।

বিয়ে-শাদী এবং আখেরী জামানাহ

muslim-family

আমি ধীরে ধীরে কথা বলিব, আশা করি ইনশাআল্লাহ আপনারা বুঝিতে পারিবেন (যেহেতু আপনাদের অধিকাংশেরই মাতৃভাষা ইংরেজি নয়)। আমাদের আলোচনার বিষয় বিবাহ এবং আখেরী জামানা । আখেরী জামানা বা শেষ যুগ কি ? আখেরী জামানা হইল নবী পাক (সাঃ) বলিয়াছেন, যখন আমরা বিরাট বিরাট ফিতনাহ অর্থাৎ বিপদ-মুসিবত-পরীক্ষার সম্মুখীন হইব, যেমনটা হযরত আদম (আঃ) এর সময় হইতে কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতি কখনও হয় নাই । আপনি জানিবেন আপনি আখেরী জামানায় আছেন যখন দেখিবেন নারীরা কাপড় পরিধান করে তথাপি তাহাদেরকে নগ্ন মনে হয় । আপনি জানিবেন আপনি আখেরী জামানায় আছেন যখন দেখিবেন নারীরা কাপড় পরিধান করে পুরুষদের মতো এবং পুরুষরা কাপড় পরিধান করে নারীদের ন্যায় । আপনি জানিবেন আপনি আখেরী জামানায় আছেন যখন দেখিবেন জিনা ব্যভিচারের ব্যাপক বৃদ্ধি, অধিকাংশ শিশু হইবে ব্যভিচারের সন্তান হারামজাদা । আপনি জানিবেন যে দাজ্জালের সকল কর্মকান্ড হইবে আখেরী জামানায় । আপনি জানিবেন আপনি শেষ জামানায় আছেন যখন দেখিবেন সুদ লেনদেন সকল স্থানে ছড়াইয়া পড়িয়াছে । আপনি সমগ্র মানবজাতির মধ্যেও একজন মানুষও পাইবেন না যে সুদ খায় না অথবা সুদ দেয় না । ইহাই হইল আখেরী জামানা শেষ যুগ । কাজেই আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় একটিই আর তাহা হইল আখেরী জামানায় বিবাহ ।

আমাদের আলোচনা শুরু করিব ইসরাহ বা মেরাজ নিয়া, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে মহাশূণ্যে উঠাইয়া নেওয়া হইয়াছিল, মহাকাশে জান্নাতে নয় । সেখানে নবী-রাসুল এবং ফেরেশতাগণ তাহাকে স্বাগত জানাইয়াছিলেন । সকলেই ছিলেন আনন্দিত মুখে ছিল হাসি । কিন্তু একজন ফেরেশতার মুখে কোন হাসি ছিল না । হযরত জিবরাঈল (আঃ) বলিলেন, তিনি হইতেছেন মালিক, জাহান্নামের রক্ষনাবেক্ষণকারী ফেরেশতা । এমনকি আপনার শুভাগমনেও তাহার মুখে হাসি নাই । কারণ জাহান্নাম কোন ভালো জায়গা হয় । সুতরাং মহানবী (সাঃ) জিবরাঈলকে জাহান্নামের ভিতরে তাকানোর জন্য তাহার অনুমতি নিতে বলিলেন । তারপর নবী করীম (সাঃ) জাহান্নামের ভিতরে তাকাইয়া দেখিলেন । তিনি অনেকগুলি বিষয় দেখিলেন যাহাদের অবস্থান হইল আখেরী জামানায় । তিনি কিছু মানুষকে দেখিলেন যাহাদের পেট বিরাট বড় । তাহাদের পেটের ভিতরে ছিল বড় বড় সাপ, সত্যি ভয়াবহ দৃশ্য । তাহাদের পেট ছিল স্বচ্ছ বাইরে থেকে সব দেখা যায় । রাসুলে পাক (সাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, ভাই জিবরাঈল, এই লোকগুলি কাহারা ? জিবরাঈল (আঃ) বলিলেন, তাহারা হইল ঐ সকল লোক দুনিয়াতে যাহারা সুদ খাইত । সুতরাং সুদ হইল আখেরী জামানার সবচাইতে বড় আলামত । বিশ্বনবী (সাঃ) বলিয়াছেন, সুদ দারিদ্র অভাব-অনটন সৃষ্টি করে । সুদের হার কম-বেশী হইলে সময় কম-বেশী লাগিতে পারে, কিন্তু দারিদ্র ‍নিঃস্বতা সৃষ্টি হইবেই । তারপর মহানবী (সাঃ) দেখিলেন আরেক ব্যক্তিকে যে একটি টেবিলে বসিয়া আহার করিতেছিল । তাহার সামনে ছিল খাবারের দুইটি বাসন । একটি থালায় ছিল কাচ্চি বিরিয়ানী সুস্বাদু তাজা রুটি । অন্য প্লেটে ছিল ভয়াবহ দুর্গন্ধযুক্ত পঁচা মাংস ভয়াবহ জঘন্য ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার যোগ্য । কিন্তু সেই লোকটি ভালো খাবারগুলির পরিবর্তে পচাঁ নোংরা খাবারগুলো খাইতেছিল । নবীজি (সাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, এই লোকটি কে ? হযরত জীবরাইল (আঃ) বলিলেন, এই ব্যক্তি হইল যাহাকে আল্লাহ স্ত্রী দিয়াছিল যাহা ছিল তাহার জন্য হালাল । কিন্তু সে তাহার স্ত্রীকে রাখিয়া অন্য নারীদের সাথে মেলামেশা করিত যাহারা ছিল তাহার জন্য হারাম । আর জাহান্নামে ইহাই হইল তাদের শাস্তি । আজ রাতে আমি আরেকটি বিষয় উল্লেখ করিতে চাই যাহা নিয়ে আমি অনেক অনুসন্ধান করিয়াছি । যাহার কোন সমাধান আমি খুঁজিয়া পাই নাই আমার সারাজীবনের চিন্তাগবেষনার পরেও আল্লাহর মেহেরবাণীতে যতক্ষন না আমি আখেরী জামানাবিদ্যা অধ্যয়ন করা শুরু করি । নবী করীম (সাঃ) বলিয়াছেন, “আমি জাহান্নামের ভিতরে তাকাইয়া দেখিলাম সেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী” । কিন্তু আপনি যদি ভুল পদ্ধতি অনুসরন করেন তবে এই উপসংহারে পৌছিঁবেন যে, মানব ইতিহাসের সকল যুগের নারীরাই বিপুল সংখ্যায় জাহান্নামে যাইবে । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সমগ্র মানবইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কিন্তু ইহা ভুল । বরং কেবলমাত্র আখেরী জামানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । ইসরাহ মেরাজে দেখা সকল কিছু আখেরী জামানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । সুতরাং আখেরী জামানায় নারীজগতে এমন কিছু ঘটিবে যাহার ফলস্রুতিতে অধিকাংশ নারীরাই পথভ্রষ্ট হইয়া জাহান্নামে যাইবে । আর ইহাই আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু – বিবাহ এবং শেষ যুগ ।

আখেরী জামানার অধিকাংশ মহিলার শেষ আবাসস্থল কেন জাহান্নাম ইহার উত্তর জানিবার জন্য আজকের মজলিশে উপস্থিত ভাইদের চাইতে আমাদের বোনেরা বেশী আগ্রহী হইবেন যাহাতে তাহারা জাহান্নাম থেকে নিজেদের রক্ষা করিতে পারেন । ইহার উত্তর নির্ভর করে আখেরী জামানার মূলনায়ক মাসীহ দাজ্জালের উপর । সে সারা দুনিয়া শাসন করিতে চায় । সে যখন সারা দুনিয়ার দখল করিতে সক্ষম হইবে তখন ঘোষণা করিবে “আমি সেই প্রতিশ্রুত মাসিহ” । কিন্তু সে মাসীহ নয়, মাসীহ হইলেন হযরত ঈসা ইবনে মারিয়াম (আঃ) অর্থথাৎ জেসাস । এই ব্যক্তি সত্যিকারের মাসীহের চরিত্রে ছদ্মবেশী অভিনেতা হইতে চায় এবং এভাবে ইহুদীদের সাথে প্রতারনা করিয়া বোকা বানাইতে চায় । এভাবে দাজ্জাল যাহা করিতে চায় তাহা হইল ইহুদীদের ভুল পথে পরিচালিত করা যাহাতে তাহারা তাহাকে ম্যাসাইয়া হিসাবে মানিয়া নেয় । ইহার বাহিরেও দাজ্জালকে আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে পরীক্ষার মাধ্যম বানিয়েছেন । মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, “দাজ্জালের সহযোগী হিসাবে সর্বশেষ যেই দলের আবির্ভাব হইবে তাহারা হইল নারী এবং ঈমানদার ব্যক্তি তাহার ঘরে আসিয়া রশি দিয়া তাহার স্ত্রী-কন্যা-বোনকে বাধিয়া রাখিবে দাজ্জালের তীব্র আকর্ষণ থেকে রক্ষা করিবার জন্য” । রশি দিয়া বাধাকে ইন্দোনেশিয়ার ভাষায় কি বলে ? আচ্ছা যাক, আগে জানিয়া পরে আমাকে বলিবেন । এই হাদীসের মানে হইল নারী জাতির উপর দাজ্জালের সাংঘাতিক পরিকল্পিত হামলা হইবে এবং এই হামলা এমন সূক্ষ্ম নিপুণ হইবে যে, সে তাহাদের মগজ ধোলাই করিয়া ফেলিবে । দাজ্জাল মহিলাদেরকে এমনভাবে ব্রেন ওয়াশ করিবে যে আপনি তাহাদেরকে যতই বুঝান না কেন আপনার কথা তাহাদের কানে ঢুকিবে না । ব্যাপারটি হইল অনেকটা দেয়ালে মাথা ঠুকিবার মতো, ঠুকিতে ঠুকিতে আপনার মাথা চুড়মার হইয়া যাইবে কিন্তু দেয়ালের কিছুই হইবে না । ইহাই হইল নারীদের মগজ ধোলাই । আর এই ব্রেন ওয়াশিংয়ের মাধ্যমে দাজ্জাল তাহাদেরকে নারী প্রগতি নারী অধিকার আন্দোলন নারী বিপ্লব ইত্যাদির দিকে নিয়া যাইবে । ফলে নারীরা তখন পুরুষদের মতো পোষাক পরিধান করিবে । মহিলারা কেন পুরুষদের স্যুট কোট জেকেট টাই ইত্যাদি পরিধান করিবে ? কারণ দাজ্জাল চায় নারীরা সমাজে পুরুষদের ভূমিকা পালন করুক । দাজ্জাল তাহাদেরকে পেশাজীবী নারী হওয়ার জন্য, কর্মজীবী নারী হওয়ার জন্য প্ররোচিত করিতে থাকে । তাছাড়া আল্লাহ তো তাহাদেরকে বিদ্যা, বুদ্ধি, যোগ্যতা দিয়াছেন । আপনার মা তো একজন নারী, আর আপনি জানেন তিনি কতো বুদ্ধিমতী । কাজেই নারীদের বুদ্ধিশুদ্ধি পুরুষদের চাইতে কম, এই জাতীয় ফালতু কথা বলার অভ্যাস ছাড়েন । সুতরাং দাজ্জাল বর্তমানে নারীদেরকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আরো ‘দায়িত্ব’ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করিবে ।

কিন্তু এজন্য তাহাকে স্ত্রী হিসাবে, মা হিসাবে তাহার ভূমিকা অনেকটা কমাইয়া দিতে হইবে । প্রথম কথা হইল আপনি একজন কর্মজীবী নারী হইয়া একই সাথে যশোরে আপনার দাদী যাহা করিতেন তাহা করিতে সক্ষম হইবেন না । তাহার ছিল বারটি সন্তান, সোবহানাল্লাহ । কিন্তু আপনার মতো একজন পেশাজীবী নারীর পক্ষে তো বারটি সন্তান লালন-পালন করা সম্ভব নয়, বিরাট ঝামেলার ব্যাপার । কাজেই আল্লাহ কোরআনে বলেন, আল্লাহ আপনাদের জন্য যতটি সন্তান ভালো মনে নির্ধারন করিয়া রাখিয়াছেন তাহার বদলে এখন আপনারা নিজেরাই নিজেদের জন্য যতটি ভালো মনে করিয়াছেন নিয়াছেন । সুতরাং আপনাদের কতটি সন্তান থাকা উত্তম হইবে তাহা আল্লাহ নির্ধারন করিবেন, তাহাই আল্লাহ কোরআনে বলিয়াছেন । “তোমরা স্ত্রীদের নিকট গমন করো এবং কামনা করো আল্লাহ যাহা (সন্তান) তোমাদের জন্য লিখিয়া রাখিয়াছেন । আল কোরআন।” কিন্তু এখন দাজ্জালের যুগে একটি নতুন বিষয় চালূ হইয়াছে যাহাকে বলা হয় “দ্বায়িত্বশীল পিতামাতা” । কাজেই এখন আপনিই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেছেন । আপনি এবং আপনার স্বামী মিলিয়া সিদ্ধান্ত নিতেছেন কতটি সন্তান নিবেন এবং মাঝখানে কত বছর বিরতি রাখিবেন । আর যখনই আপনি বিরতি দিলেন, কারণ আমি একজন কর্মজীবি নারী, তখনই আপনি শিরক করিলেন । খেয়াল করিবেন “শিরক্” শব্দটি উচ্চারণ করিলাম, কেননা আল্লাহ এভাবেই শব্দটি ব্যবহার করিয়াছেন । আপনি যদি অন্যভাবে ইহা উচ্চারণ করেন তবে আপনি কোরআনকে অপমান করিলেন, মনে রাখিবেন । সংসারের বদলে দাজ্জাল তাহাকে অফিসে পাঠাইয়া দিয়াছে, ফলস্রুতিতে তিনি হইয়া গিয়াছেন খন্ডকালীন স্ত্রী এবং খন্ডকালীন মা । অফিসে তাহার চারপাশে থাকে অসংখ্য পুরুষ আর তিনি একজন সুন্দরী মহিলা । ফলাফল হিসাবে কি ঘটিয়া থাকে আপনারা জানেন, বেশীরভাগ দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙ্গিয়া যাইতেছে । কাজেই নারীমুক্তি আন্দোলনের কারণে সমাজে তালাকের সংখ্যা বাড়িয়া গিয়াছে, বিবাহ বন্ধন ভাঙ্গিয়া যাইতেছে । এই ধরনের ঘটনা কি মালয়েশিয়াতেও ঘটিতেছে ? দাজ্জাল এভাবে মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে তাহাকে ঘরের বদলে বাইরে দ্বায়িত্ব পালনের দিকে নিয়া যাইতেছে । হযরত খাদিজা (রাঃ)ও একজন ব্যবসায়ী নারী ছিলেন, এই জাতীয় ফালতু কথা আমাকে বলিতে আসিবেন না । আমি তাহা জানি, আপনাকে বলিতে হইবে না । আমরা অন্য বিষয়ে আলোচনা করিতেছি । দাজ্জাল কেবল নারী বিপ্লব সাধন করিতে চায় না ; সাথে সাথে যৌন বিপ্লবও সফল করিতে চায় । কাজেই যখন নারীরা এমনভাবে পোষাক পরিধান করে যাহাতে তাহাদেরকে নগ্নই মনে হয়, তাহা পুরুষদেরকে সুড়সুড়ি দিতে থাকে বিশেষতঃ যুবকদেরকে । ফলে সত্যিকারের ভালবাসা কমিয়া যায় এবং তাহার বদলে বৃদ্ধি পায় যাহাকে বলা হয় “লালসা” । আর ইহাও আরেকটি কারণ যাহাতে বিবাহ-বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাইতেছে । কাজেই আখেরী জামানায় এই দাজ্জালের যুগের একটি লক্ষণ হইল আপনি দেখিতে পাইবেন বিবাহ বন্ধন ভাঙ্গিয়া যাইতেছে, বিবাহ-বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাইতেছে ।

একজন নারী প্রথম বিবাহ করিলেন তাহা ভাঙ্গিয়া গেলো, তারপর তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করিলেন তাহাও বিচ্ছেদ হইয়া গেলো ; তারপর তিনি বলিলেন “নাহ, আর বিবাহ করিব না” । সুতরাং বিবাহ-বিচ্ছেদ যখন বৃদ্ধি পাইতে থাকিবে, মনোযোগ দিয়া শুনন, নারীদের একটি বিরাট সংখ্যা তখন নিঃসঙ্গ হইয়া যাইবে, পরিবারহীন । আমি ইতিমধ্যে দুইবার বিবাহ করিয়াছি, কাজেই আর নয় বিয়ে যতক্ষন না সত্যি সত্যি সকল পুরুষদের মধ্যে সেরা পুরুষের সন্ধ্যান না পাইতেছি । এসব আবর্জনা টাইপের পুরুষদের সাথে আর জীবন কাটাইব না । এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হইলে মানবজাতিকে তাহার কি মাশুল দিতে হইবে যখন অগণিত নারীরা বিবাহ-বহির্ভূত থাকিবে ? যাহারা বিবাহ করিতে ইচ্ছুক কিন্তু উপযুক্ত স্বামী পাইবে না । এখানেই আমাদের বক্তৃতা বিস্ময়কর মোড় নিতে যাইতেছে । আমি এখন পবিত্র কোরআনের সুরা নিছার প্রতি দৃষ্টি দিতে চাই যেখানে আল্লাহ সর্বপ্রথম বহুবিবাহের কথা বলিয়াছেন । বদর যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছে এবং আমাদের কিছু সংখ্যক পুরুষ তাহাতে শহীদ হইয়াছেন, ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছে এবং তাহাতে আমাদের বিরাট সংখ্যক পুরুষ শহীদ হইয়াছেন । ফলে বিরাট সংখ্যক নারী বিধবা হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য মেয়েরা ইয়াতীম হইয়া গেলেন । সুতরাং আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা নির্দেশ পাঠিয়ে দিলেন, “তোমরা যদি আশংকা কর যে জাতি হিসাবে ইয়াতীম নারীদের প্রতি দ্বায়িত্ব পালন করিতে পারিবে না তবে তাহাদের মধ্য হইতে দুই, তিন অথবা চার জনকে বিবাহ করিয়া নাও” । আল্লাহ এখানে সেই সব ইয়াতীম বালিকাদের কথা বলিতেছেন যাহারা বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ নারীতে পরিণত হইয়াছে । যাহাদের মাসিক ঋতুস্রাব শুরু হইয়া গিয়াছে । বর্তমানে সে গর্ভধারনের, মাতৃত্বে অধিষ্টিত হইবার যোগ্যতা অর্জন করিয়াছে । কাজেই আল্লাহ বলিতেছেন এই অনাথ নারীদের কথা, যাহারা প্রাপ্ত বয়ষ্কা হইয়াছে, তাহাদেরকে বিবাহ কর সর্বোচ্চ চারজনকে । ইতিপূর্বে আল্লাহ যত শরীয়্যাহ (জীবনবিধান) অবতীর্ন করিয়াছিলেন তাহাতে কোন সীমা নির্ধারন করা ছিল না, একজন পুরুষ তাহার যত ইচ্ছা ততজন স্ত্রী গ্রহন করিতে পারিতেন । কিন্তু এই শারীয়াহ হইল সর্বশেষ শরীয়াহ এবং ইহাতে স্ত্রীদের সংখ্যা নির্ধারন করিয়া দেওয়া হইয়াছে সর্বোচ্চ চারটি ।

এখন ইমরান হোসেন তাহার বক্তৃতা বন্ধ করিতে চাহেন এবং কুয়ালালামপুরের এই মসজিদে উপস্থিত শ্রোতাদেরকে একটি প্রশ্ন করিতে চান । আল্লাহ তো বিধান দিয়াছেন পুরুষদেরকে চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার । পৃথিবীতে নারী-পুরুষের সংখ্যা কত হইবে তাহা তো আল্লাহ নির্ধারন করিয়া থাকেন । আল্লাহ যতক্ষন সৃষ্টি না করেন ততক্ষন পৃথিবীতে কোন শিশু জন্মগ্রহন করে না । সুতরাং পৃথিবীর জনসংখ্যা আল্লাহ নির্ধারন করেন, জাতিসংঘের সেই ক্ষমতা নাই । কাজেই দুনিয়াতে কতজন নারী আর কতজন পুরুষ সৃষ্টি হইবে তাহাও নির্ধারন করেন আল্লাহ । এই ক্ষমতা এমনকি সেই লোকেরও নাই কি যেন নাম এখন, ওহ হ্যাঁ বারাক হোসেন ওবামা । সুতরাং ইহা আল্লাহ স্থির করিয়া থাকেন পৃথিবীতে কতজন নারী আর কতজন পুরুষ সৃষ্টি হইবে । আমি এখন আপনাদেরকে জিজ্ঞাসা করিতে চাই, আল্লাহ যদি পুরুষদেরকে চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার বিধান দিয়া থাকেন তাহার ফলাফল হইল আল্লাহ পুরুষদের চাইতে নারীদেরকে অনেক অনেক বেশী সংখ্যায় সৃষ্টি করেন । কাজেই কোরআনের এই আয়াতের বাস্তবতা হইল আল্লাহকে অবশ্যই অনেক বেশী সংখ্যায় নারীদেরকে সৃষ্টি করিতে হইবে । অন্যথায় পুরুষদেরকে দুই তিন চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসিত না । দীর্ঘদিন যাবত দাজ্জাল নারীমুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে মগজ ধোলাই করিয়া আসিতেছে, নারী-পুরুষের সম্মানজনক সম্পর্ক হইল একজন পুরুষের মাত্র একজন স্ত্রী থাকিবে, ইহাই নৈতিকভাবে গ্রহনযোগ্য । দাজ্জাল যুক্তি দেখাইয়া আসিতেছে যে নীতিবান পুরুষের মাত্র একজন বিবি থাকিবে কিন্তু যাহার একাধিক স্ত্রী আছে তাহার নৈতিক মান নিম্নশ্রেণীর নিম্নমানের । ফলে এখন যাহার একজন স্ত্রী আছে সে ভালো পুরুষ আর যাহার দুই-তিন-চারজন স্ত্রী আছে তাহার মানসিকতায় কোন সমস্যা আছে । এখন আমার নিজেকে সংযত করিতে হইবে অন্যথায় আমার বেগম সাহেবা পরবর্তীতে আমার উপর রাগিয়া যাইবেন । “কেন তুমি রাগিয়া গেলে ? কেন তুমি গলার আওয়াজ উচুঁ করিলে ?” কারণ আমি একজন আদম সন্তান, আমি খুবই হতাশ হইয়া পড়িয়াছি, আমার হৃদয়টি তো কাঠের তৈরী নয় । তো দাজ্জাল এইভাবে মানবজাতিকে ব্রেনওয়াশিং (গাড়ি নাম্বার ৮৩৮০ আপনার স্ত্রী গাড়িতে অপেক্ষা করিতেছেন, আপনি দ্রুত যোগাযোগ করুন অন্যথায় তিনি গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে যাবেন । সারা দুনিয়াবাসী আপনাদের কথা এখন শুনে গেলো….হা-হা-হা-) এর মাধ্যমে বিশ্বাস করাইয়াছে যে এক পুরুষের এক স্ত্রী হইল গ্রহনযোগ্য আদর্শ । ফলে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এখন একটির বেশী বিবাহ করা আইনতঃ নিষিদ্ধ । দুইজন স্ত্রী থাকিতে পারিবেন না কিন্তু মনিকা লিউনষ্কি থাকিতে পারিবে যত ইচ্ছা ।

মালয়েশিয়ার জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ, মালয়েশিয়াতে এখনও সুলতান আছেন । যেহেতু সুলতানের একাধিক স্ত্রী আছে কাজেই আপনারাও স্ত্রী রাখিতে পারিবেন । মালয়েশিয়াতে একাধিক বিবাহ নিষিদ্ধ হইবে না, আইনতঃ আপনারা এখনও চারটি বিবাহ করিতে পারেন । আলহামদুলিল্লাহ , মালয়েশিয়ার জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ । অবশ্য আমি জানি না কতজন মালয়েশিয়ান পুরুষের চারজন স্ত্রী আছে, আমি কথা বলিতেছি বাকী দুনিয়ার কথা । এখন আমার প্রশ্ন হইল আল্লাহ যদি পুরুষদের চাইতে অনেক বেশী সংখ্যায় নারীদেরকে সৃষ্টি করিয়া থাকেন, কারণ পুরুষদেরকে তিনি চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার অনুমতি দিয়াছেন, তারপর তুমি আসিয়াছো বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করিয়া তোমার নতুন আইন নিয়া, পৃথিবীর অধিকাংশ পুরুষই এখন একটি বিবাহ করে, তাহার ফলাফলটি কি হইবে তাহা কি ভাবিয়া দেখিয়াছো ? তুমি কি ভাবিয়া দেখিয়াছো তোমার নির্বুদ্ধিতা, তোমার চরম বোকামীর ফলাফলটা কি হইবে ? তুমি কোরআন নিষিদ্ধ করিয়া, ইসলাম নিষিদ্ধ করিয়া দাজ্জালের অনুসরন করিয়াছো । একটা গাধার সমান বুদ্ধিশুদ্ধিও তো আমাদের নাই, একটা গাধা সমান । ইহার ফলাফল হইল বিপুল সংখ্যক নারীরা একজন স্বামী লাভ করিবে না । কারণ আল্লাহ তো পুরুষদের চাইতে অনেক বেশী সংখ্যায় নারীদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন । ইহা কি একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নয় ? এমন পরিস্থিতি তো আল্লাহ চাহেন নাই । আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা আমাদেরকে এই সমস্যা ‍উপহার দিয়াছে ।

দাজ্জাল অবশ্য আপনাদেরকে নানা রকম তথ্যউপাত্ত দিয়া বলিবে যে, না না, নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় নাই, পুরুষদের সমানই আছে । দাজ্জালের এসব তথ্য উপাত্ত নিয়া ‍আমার কাছে আসিবেন না । আল্লাহ সকল যুগেই নারীদেরকে পুরুষদের চাইতে বেশী সংখ্যায় সৃষ্টি করেন । বর্তমানে দাজ্জালের আবিষ্কৃত মোবাইল রেডিয়েশান, ওয়াই-ফাই রেডিয়েশান, জেনেটিক ফুড অর্থাৎ মেগাসাইজের ফল মূল তরকারি ইত্যাদি অনেক কারণে পুরুষদের ‍শুক্রাণু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে । ফলে ছেলে শিশুদের জন্মহার কমিয়া যাইতেছে এবং মেয়ে শিশুদের জন্মহার বৃদ্ধি পাইতেছে । মালয়েশিয়ায় এই সম্পর্কিত একটি লেকচারের পরে একজন মোবাইল ইঞ্জিনিয়ার আমাকে বলিয়াছিলেন যে, হে শায়খ ! আমরা আপনার কথার সত্যতার প্রমাণ পাইয়াছি । আমাদের মোবাইল টাওয়ারে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোতে জন্ম নেওয়া সকল শিশুই কন্যা শিশু । নবী করীম (সাঃ) এর ভবিষ্যতবাণী করা মালহামার অর্থাৎ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পৃথিবীতে নারীদের সংখ্যা কি পরিমাণে বৃদ্ধি পাইবে সেই সম্পর্কেও মহানবী সাঃ বলিয়া গিয়াছেন । তিনি বলিয়াছেন, পঞ্চাশজন নারীকে দেখাশুনা করিতে হইবে মাত্র একজন পুরুষকে । আর দাজ্জাল চায় মুসলমানদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা অনেক অনেক বৃদ্ধি পাক এবং সমাজ জিনা ব্যভিচারে সয়লাব হইয়া যাক । মানবজাতি বর্তমানে অভাব-অনটন দারিদ্র্যে জর্জড়িত । এজন্য খুব কম পুরুষের পক্ষেই দুই তিন কিংবা চারজন স্ত্রীর ভরনপোষণ করা সম্ভব । ভবিষ্যতে এই দারিদ্র্য আরো প্রকট আকার ধারন করিবে । কেননা এভাবেই সম্ভব ইজরাঈলের পক্ষে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের অর্থাৎ মালহামার পরে পৃথিবীর যেই অংশটুকু অক্ষত থাকিবে তাহাকে শাসন করা । সামনে আসিতেছে অর্থনৈতিক পতন অর্থনৈতিক মন্দা । কাগজের মুদ্রা উঠিয়া যাইবে । অভাব-অনটন-দারিদ্র আরো প্রকট আকার ধারন করিবে । তখন খুব কম পুরুষের পক্ষেই সম্ভব হইবে চারজন স্ত্রীর ভরনপোষন করা । তাহলে সেই বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত নারীদের কি উপায় হইবে ? তখন আপনারা কি করিবেন ? এখনই আপনার স্ত্রী ঘোষণা করিতেছে যে, বিশ্বাস না হইলে বাসায় গিয়া আপনার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখেন, আমার স্বামী আরেকটি বিবাহ করিবে তাহা আমি মানিয়া নিব না । নাহ, কিছুতেই না । আমি তাহার নিকট থেকে তালাক নিয়া নিব, তবুও তাহার দুই স্ত্রী মানিতে পারি না, মানিয়া নিব না । অধিকাংশ নারীদেরই চিন্তাভাবনা বর্তমানে এই রকম । হ্যাঁ, বোন আপনি যে-সব কারণে জাহান্নামে যাইবেন তাহার মধ্যে ইহাও একটি কারণ । হ্যাঁ, বোন আপনি যে-সব কারণে জাহান্নামে যাইবেন তাহার মধ্যে ইহাও একটি কারণ । আজ রাতে আমি একজন ইসলামী বিশেষজ্ঞ আপনাকে বলিতেছি, আপনি জাহান্নামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন । আমাদেরকে মনে রাখিতে হইবে যে, একজন স্বামী লাভ করা প্রত্যেক নারীর অধিকার । কিন্তু একজন স্ত্রী লাভ করা প্রত্যেক পুরুষের অধিকার নহে । বরং প্রত্যেক নারীর একজন স্বামী লাভের অধিকার রক্ষার জন্য একজন পুরুষকে প্রয়োজনে দুই-তিন-চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিতে প্রস্তুত থাকিতে হইবে । অন্যথায় আপনাকে এজন্য আল্লাহর কাছে একদিন জবাবদিহি করিবার জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে । দাজ্জালের মগজ ধোলাইয়ের কারণে নারীদের মতো এখন পুরুষরাও বিশ্বাস করিতে শুরু করিয়াছে যে, একটির বেশী বিবাহ করা কোনভাবেই তাহাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে না । (অসমাপ্ত)

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

Marriage and nikah in akhiruzzaman By Sheikh Imran Hosein লেকচারের অনুবাদ

রোগব্যাধিতে হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ

লিখেছেনঃ ডাঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

১৪৮.  doya koray khoma korun sir, aj hotat koray amar nijar apon small sister ar akta khub emergency problem hoyaca,, aj sokal thaky automatic sorir kapcay r buker vitor jam badha acy, sorir jala pura korcay,,, hotat koray bolcy amar amon lagcay kno bolayi emergency obostha hoya galo,,, r sorir khub kapacca r gora gori cillacilli…. tar por dati lagay jacca,,, tar por ambulance k khobor diya hospital a vori koralo doctor,,, tarpor dupor a injection dawar por ghumiya galo, ghum thaky utha vlo hata cola o kothao bollo vlo hoya galo tobuo bolcilo sirir hat pa kapcy r buker vitor jam hoya acy,,, ami rat 10 pm a bari colay aslam aktu por ammu phone koray bollo aber naki sorir kapcy,, diya sister aber injection dilo abong ghumiya porlo,,, r sorir khub naki pain…. kno amon ta hocca plz plz…sir help me

উত্তরঃ  মৃগী রোগ   বা  হিষ্টিরিয়া  হতে পারে অথবা মারাত্মক ধরনের কোন ইনফেকশান ।  পরীক্ষা-নিরীক্ষা  না  করে  প্রকৃত  কারণ নির্ণয়  করা  যাবে  না ।

১৪৯.  সালাম নিবেন।আশা করি আল্লাহর অশেষ দয়ায় ভাল আছেন এবং আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন।আপনার কাছে আমার একটাপ্রশ্ন:আমি দীর্ঘ দিন যাবত এপিস মেল Q সেবন করে যাচ্ছি,এতে কী কোন বড় ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে?স্যার,দয়াকরে জানাবেন।

homeopathy-18768

উত্তরঃ  একটি  ঔষধ  দীর্ঘদিন  খেলে  সেই  ঔষধটি  যে-সব  রোগ  নিরাময়  করে,  সেই  রোগগুলি  আপনার  শরীরে  সৃষ্টি  করে দিবে ।  কাজেই  আপনার  যদি  এই  ঔষধটি  খেতেই  হয়,  তবে  মাঝে  মাঝে  এক  সপ্তাহ  বা  দুই  সপ্তাহ  বিরতি  দিয়ে  খান । এতে  তার  ক্ষতিকর  ক্রিয়া  থেকে  বেচেঁ  যাবেন ।

১৫০.  Sir my father is 75 yrs old nd suffering from parkinsonism since 2 years. he took stem cells therapy nd now his condition is stable. he can walk but very slow and can talk but very little. Please suggest homeopathic medicine for my father

Answer-  Alumina  200,  take  this  medicine  1  drop  or  5  pills  for  one  day.

৩৫১.   Assalamualikum,  ami scientific Officer, BARI.  Amar chele(13),mae(4) duijoni autistic,  ora kotha bolena,  kotha bojena,  gumaina,  sarakhon kannakati kore.  Homeo medicine ki oder kono help korte pare,  pls janaben.

উত্তরঃ  অটিজম  হোমিওপ্যাথিক  চিকিৎসায়  অধিকাংশ  ক্ষেত্রে  পুরোপুরি  ভালো  হয়ে  যায় ।  আর  কোন  কোন  ক্ষেত্রে  যদি পুরোপুরি  ভালো  না  হয়ে  ৫০  ভাগ  বা  ৭০ ৮০  ভাগ  উন্নতি  হয়,   তাও  তো  একটা  বিরাট  প্রাপ্তি  হিসাবেই  মনে  হবে । কাজেই  আপনি  যত  দ্রুত  সম্ভব  একজন  হোমিওপ্যাথিক  চিকিৎসকের  অধীনে  আপনার  সন্তানদের  ন্যস্ত  করুন । বিস্তারিত পড়ুন

সেই ৭২ = এই ৭২

বনী ইসরাইলরা ৭২ দলে বিভক্ত হইয়াছিল। এই ৭২ দল নিঃশেষ হইয়া গেছে এমন কথা আমার জানামতে পাওয়া যায় নাই। মুসলমান বিভক্ত হবে ৭৩ দলে। এর অর্থ হল ঐ ৭২ বনী ইসরাইলের দলই মুসলমানদের ৭২ টি দলের নেতৃত্ব দিবে। ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনীতি, সামরিক ও শিক্ষা সব জায়গায়। মানুষ এই বনী ইসরাইলের নেতাদের অনুসরণ করিবে এমনভাবে যদি তারা টিকিটিকির গর্তেও যায় মানুষ তাই যাবে।

এই বনী ইসরাঈলের নেতারা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লামের ইসলামকে নতুন রূপ দিয়াছে। নতুনভাবে ফর্মূলেট করিয়াছে। অনেক ধরনের ফর্মুলা তাদের কাছে আছে। যে যেটা খেতে চায় তাকে সেটা খাওয়ানো হয়। কাউকে একটা যিকির ধরিয়ে দিয়া বলা হয় ইহাই তোমার ইসলাম, কাউকে একটা মার্কা ধরিয়ে দিয়া বলা হয় ইহা বহন করিতে থাকো, কাউকে একটা নির্দিষ্ট পাঠ দিয়ে দিয়া বলা হয় আমৃত্যু পড়িতে থাকো, কাউকে অমুক জায়গায় তমুক দিনের জন্য পাঠিয়ে দিয়া বলা হয় চলিতে থাকো, কাউকে একটা তলোয়ার ধরিয়ে দিয়া বলা হয় উহাকে হত্যা করিয়া ফেল, কাউকে মডারেট প্রেসক্রিপশন দিয়া বলা হয় ইহাই সর্বোত্তম – সবাই মনে করে তার রাস্তাই সহি। তার অষুধই সর্বরোগের মহৌষধ।

যদি কেউ নিজ দল সম্পর্কে চিন্তা করে তাহলে তাকে নিষেধ করা হয়। না না, তোমাকে চিন্তা করার অধিকার দেয়া হয় নাই। ইহা বড়দের তৈরী করা ফর্মুলা। ইহার মাধ্যমে বহু লোক হেদায়েত পাইয়াছে। ইহাই তোমার জন্য চূড়ান্ত।

অথচ, স্বয়ং কুরআনে আল্লাহ্‌ তায়ালা তার চিন্তাশীল বান্দাদের প্রশংসা করিয়াছেন। কুরআনের মূল অডীয়েন্সই হইল চিন্তাশীলরা। কিন্তু তাহারা, অর্থাৎ বনী ইসারাঈলের ৭২ দলের নেতারা চিন্তার দরজা মানুষের জন্য বন্ধ করিয়া দিয়াছে। বিনা আলোচনায় গণতন্ত্র, সুদ, নারী আন্দোলন, ফর্মূলেটেড ইসলাম সবই মানিয়া লইতে হইবে।

কিন্তু নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিতেছেন, এসব রাস্তার প্রত্যেকটার শুরুতে শয়তান বসে মানুষদের ডাকছে।

কেন রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র বংশীয় লোকেরা ও তার সাহাবায়ে কেরাম রাযি এর লোকেরা আজকে পৃথিবীর কোথাও আলোচনায় নাই, টিভিতে নাই, টক শোতে নাই, ইন্টারনেটে নাই, নির্বাচনে নাই, অফিস আদালতে নাই, রাতভর ওয়াজ মাহফিলে নাই, লং মার্চে নাই কোথাও তাহারা নাই। তাহারা কি হাওয়া হইয়া গেল? বাস্তবতা এই যে, তাহারা আছেন ঐ ১ দলে, যে দলকে শয়তান ও বনী ইসরাঈলের ঈহুদী নাসারারা স্পর্শ করিতে পারে নাই।

গুইসাপের গর্তের অভিমুখে যাত্রা

%e0%a7%ad%e0%a7%a9-%e0%a6%a6%e0%a6%b2

এই হাদীসটি বোখারীতেও আছে, মুসলিমেও আছে। মুত্তাফাকুন য়ালাইহি। কেউই এই হাদীসটি অস্বীকার করতে পারবে না। Sahih hadith, No doubt about it.

এই আশ্চর্য হাদীসটি বোখারী শরীফে আছে। এই হাদীসটি খুব ভালোভাবে খেয়াল করা উচিৎ। ইহা আছে আম্বিয়া (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহিম) অধ্যায়ে। আবু সাঈদ রাযি হতে বর্ণিতঃ নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করবে প্রতি গজে গজে এবং প্রতি বিঘতে বিঘতে। এমনকি তারা যদি গুই সাপের গর্তেও প্রবেশ করে তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আপনি কি ইহুদী ও নাসারাদের কথা বলছেন? তিনি বললেন, তবে আর কার কথা?

অনুসরণ কিভাবে করতে হয়? যাকে হয় অনুসরণ করা হয় সে কোথায় থাকে? সে অবশ্যই সামনে থাকে। আর অনুসরণকারীরা থাকে পেছনে।

যাকে অনুসরণ করা হয় সে সামনে থেকে লিড দেয়। সে যে পথে চলে দলের বাকী সবাই সে পথেই চলবে। এই হাদীস থেকে এরকম বুঝে আসছে, আমাদের সামনে থাকবে আমাদের পূর্ববর্তী জাতির বর্তমান লোকেরা। অর্থাৎ দুনিয়াতে বর্তমান ইহুদী ও খ্রিস্টান লোকেরা। তারা থাকবে নেতৃত্বে। কারণ তাদের আগের লোকেরা তো বর্তমান পৃথিবীতে নেই। বরং তাদের বর্তমান লোকেরাই তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব করবে।

আর পেছনে থাকব আমরা।

তারা কোন কোন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে? যেহেতু এটি ধর্মীয় বিষয় এবং নির্দিষ্ট করে বলা নেই কোন কোন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে। কাজেই ধরে নেয়া যায়, তারা সকল ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দিবে এবং বিশেষভাবে ধর্মীয় ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে। ধর্মীয় ক্ষেত্রটা হচ্ছে মূল। এছাড়া তারা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাকী ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্ব বুঝে আসছে এবং তা বৃহৎ পরিসরে আমরা মেনেও নিয়েছি।

কিন্তু ধর্মীয় ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্ব বুঝে আসছে না। এর কারণ হল, ধর্মীয় ক্ষেত্রে তারা এতো ভালো নেতৃত্ব দিচ্ছে যে তাদেরকে আলাদা করে চেনা যাচ্ছে না।

মুসলমান জাতিকে তারা ৭৩ টা ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। ৭২ ভাগের নেতৃত্বে আছে তারা। এজন্যই অন্য হাদীসে বনী ইসরাঈলদের ৭২ ভাগের কথা বলা আছে। মাত্র ১ ভাগের মধ্যে তারা ঢুকতে পারে নি।

এরাই নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ণাঙ্গ দ্বীনকে বিভিন্নভাবে ফর্মূলেট করেছে। কখনো ৫ কাজের নামে, কখনো চিল্লার নামে, কখনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের নামে, কখনো লংমার্চের নামে, কখনো আইএস, কখনো জেএমবির নামে, মাদ্রাসা, পীর, খানকাহ, মাযার, শীতকালের সুরেলা ওয়াজ মাহফিল, আহলে হাদীস, ওহাবী, সালাফী, মাযহাবী, লা-মাযহাবী, মডারেট, শীয়া এরা ইসলামের নানা ধরনের ভার্সন বের করেছে। অভাব নেই।

এক একজন এক এক গিরগিটির গর্তে দলে দলে মানুষদের নিয়ে যাচ্ছে।