রোযা

শাওয়ালে ৬ টা রোযা। প্রতি সপ্তাহে ২ টা। সোমবার ও বৃহস্পতিবার। প্রতি চান্দ্রমাসে ৩ টা। ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ। রোযায় রোযাময়। যারা রোযা চলে যাওয়ায় অন্তরে কষ্ট পাচ্ছেন তাদের জন্য আছে এতোগুলো সান্ত্বনা। ইনশাআল্লাহ্‌।

মুয়ানাকা

ঈদে খুব কম লোকই পেলাম যারা মুয়ানাকা সঠিকভাবে করতে পারলেন। আলেমরা পর্যন্ত ঠাস ঠাস করে তিনবার কোলাকুলি করে ফেলল। সুন্নত মুয়ানাকার অশুদ্ধ বাঙ্গালী রূপ হচ্ছে কোলাকুলি। মুয়ানাকার দুয়া তো কেউ বলে না। আল্লাহুম্মা জিদ মুহাব্বাতি লিল্লাহি ওয়া লি রসূলিহি। হে আল্লাহ্‌, আপনার ও আপনার রাসূলের জন্য আমার ভালোবাসা বাড়িয়ে দিন। আলেমদের থেকেই মসজিদে মুয়ানাকার তরিকা শিখেছি। তাই যখন অনেক আলেমদের সাধারণ জনগণের মতো আমল করতে দেখি তাদের উচ্চমর্যাদা নিয়ে অস্বস্তি বোধ করি। পরিচিত একজন আলেম রাস্তাঘাটে দেখা হলেই জড়িয়ে ধরে ঠাস ঠাস তিনবার কোলাকুলি করে ফেলত। একদিন বললাম, রাস্তাঘাটে দেখা হলেই এসব কি শুরু করেন। আপনার সাথে কি আমার অনেকদিন পরে দেখা হচ্ছে না কি। এরকম আর করবেন না। যা করবেন সুন্নত মেনে করবেন। এরপর থেকে বাগে পেলেও শুধু সালামের মধ্যেই থাকত। আর আগে বাড়ার সাহস পেতো না। তাই সবাইকে বলি, যেকোন আমলই করবেন সুন্নত তরিকায় করুন। দৃষ্টিনন্দন হবে, ভালোবাসা বাড়বে, সওয়াব হবে।

মন্তব্যঃ  বিস্তারিত পড়ুন

আখেরী জামানা বিষয়ক স্বপ্নের কথা কি প্রকাশ করা যাবে?

ফেসবুকে স্বপ্নের কথা বলিব কিনা এই বিষয়টা নিয়া আমি চিন্তা করিতেছিলাম। আবার এও চিন্তা করিলাম আমরা অতীতের অনেক স্বপ্নের কথা জানি। কুরআনেও অনেকের স্বপ্নের কথা উল্লেখ আছে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহই ওয়া সাল্লাম সাহাবা (রাযি)-দের স্বপ্ন শ্রবণ করিতেন। — কিন্তু বর্তমান জমানায় স্বপ্ন নিয়া কোন আলোচনা নাই। মানুষ স্বপ্নকে এখন আর বিশ্বাস করে না। মানুষ এখন বিশ্বাস করে পদার্থ বিজ্ঞান, গণিত এসব যা ল্যাবে প্রমাণ করা যায়। — কিন্তু আখেরী জমানায় স্বপ্ন গুরুত্বপূর্ণ। শায়খ ইমরান নযর হোসেনও তার স্বপ্নের কথা প্রকাশ করিতেছেন। ফলে আমরা আখেরী জমানার ভয়াবহতা জানিতে পারিতেছি। কারণ আমরা দেখিতেছি কিছু স্বপ্ন আছে ব্যক্তিগত আবার কিছু স্বপ্ন আছে উম্মাহ কল্যাণের দিক নির্দেশিকা। আমার মনে হলো ব্যক্তিগত স্বপ্ন প্রচার না করলেও উম্মাহর কল্যাণ ও ভীতি প্রদর্শনমূলক স্বপ্ন উম্মাহর স্বার্থে প্রকাশ করা উচিৎ। — রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, “স্বপ্নের যখন একটি ব্যাখ্যা দেয়া হয় তখন তা বাস্তবায়িত হয়।”
যেহেতু প্রথম তাবীর বাস্তবায়িত হয় তাই উম্মাহর জন্য কল্যাণকর তাবীর থাকলে তা লিখে দেয়া উচিৎ যেন পরে অন্য ব্যাখ্যা কার্যকর হতে না পারে। — আর ব্যক্তিগত স্বপ্ন বাদ দিয়ে উম্মাহর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্বপ্ন প্রকাশ করা দোষের দেখি না। এটা আমার বক্তিগত মত।
আল্লাহ্‌ ভালো জানেন।

মন্তব্যঃ

Kaisar Ahmed আমিও একবার স্বপ্ন দেখেছিলাম বেশ কয়েক মাস আগে। সেখানে আমি রাসুল সা কে দেখেছিলাম। উনাকে আমি জিজ্ঞাস করেছিলাম আবারো নবী (ঈসা আ) কবে আসবেন। আর দাজ্জাল থেকে কি করে বাঁচব? ফেইসবুকে সবাই নিজের মত করে তাবির করে যা ভয়ংকর তাই স্বপ্ন শেয়ার না করাই উত্তম।

Bashir Mahmud Ellias ভালো স্বপ্ন নবীজি (সাঃ) প্রকাশ করতে উৎসাহিত করেছেন । বিশেষত যে-সব স্বপ্নের সাথে অগণিত মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণ জড়িয়ে আছে, সেগুলো অবশ্যই সবাইকে জানানো উচিত । কারণ ইহা নবুয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ । নবী-রাসুলগণ যেমনভাবে তাহাদের নিকট আগত সংবাদ গোপন করতেন না, তেমনিভাবে ঈমানদারদের নিকট স্বপ্নযোগে যে সংবাদ আসে তাহাও গোপন করা উচিত নয় ।

তবে হ্যাঁ, যে-সব স্বপ্নের সাথে কোন ব্যক্তির কল্যাণ অকল্যাণ জড়িত আছে, সেগুলো যার তার কাছে বলা ঠিক না । কেবল শুভাকাঙ্খি বা বিজ্ঞ আলেমদের নিকট বলা উচিত । কেননা অজ্ঞতা বা শত্রুতার কারণে খারাপ ব্যাখ্যা দিলে সেটি বাস্তবায়িত হয়ে যেতে পারে ।

আখেরী জমানা সংক্রান্ত স্বপ্ন

গতরাতে আবারও স্বপ্নে দেখলাম ভূমিকম্প হইতেছে । ঘুম থেকে জেগে দেখলাম রাত তখন ১২:২৩ বাজে । স্বপ্নে দেখলাম ভূমিকম্প শুরু হয়েছে, আমি বাড়ি ছেড়ে পালাতে চাইলাম কিন্তু পালানো ত দূরের কথা এমন প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে উঠে দাঁড়াতেই পারলাম না । সত্য স্বপ্ন খুব অল্প ক্ষণই স্থায়ী হয়ে থাকে । ঘুম ভেঙ্গে যায়ার পর সন্দেহ হচ্ছিল স্বপ্ন দেখলাম নাকি সত্যসত্যই ভূমিকম্প হইতেছে । পাশের রুমে গিয়ে দেখলাম বউ-বাচ্চারা নাক ডেকে ঘুমাইতেছে । জানালা দিয়ে দেখলাম পাশে বিল্ডিংয়ের হিন্দু প্রতিবেশী ভাই সোফায় হেলান দিয়ে তখনও টিভি দেখতেছেন । ফলে নিশ্চিত হলাম যে ভূমিকম্প হচ্ছে না বরং স্বপ্ন দেখেছি । কেননা ভূমিকম্প হলে কেহ আরাম করে টিভি দেখতে পারত না । আমি গত তিন বছরে অন্তত তিন বার ভূমিকম্পের স্বপ্ন দেখেছি । আরো অনেকের কাছে শুনেছি তারাও ভূমিকম্পের স্বপ্ন দেখেছে । কাজেই ভয়াবহ ভূমিকম্প আসিতেছে । কেননা মহানবী (সাঃ) বলেছেন, পৃথিবীর শেষ যুগে ঈমানদার লোকদের স্বপ্ন কমই মিথ্যা প্রতিপন্ন হবে । আর ইহা সম্ভবত সেই ভয়াবহ ভূমিকম্প যার ভবিষ্যতবাণী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) করে গেছেন, ‘তিনটি বড় ভূমিকম্প হবে । পূর্ব দিকে একটি, পশ্চিম দিকে একটি এবং আরব দেশ একটি’ । সে যাক, আমি গত পাঁচ বছর যাবতই আমার ওয়াইফকে বুঝাইতেছি গ্রামে গিয়ে লতাপাতার তৈরী ঘরে বসবাস করার জন্য কিন্তু সে রাজী না । সে ঢাকাতেই থাকবে এবং যে করেই হোক তার বাচ্চাদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানাবে । আমার মনে হয় ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে না বরং মরে ভূত হবে । কয়দিন আগে আমার সমন্ধি এসেছিলেন আমার বাসায় বেড়াতে, তারও একই সমস্যা । সে গ্রামে গিয়ে বসবাস করতে চায় কিন্তু তার স্ত্রী রাজী না । কারণও একটাই, ঢাকায় না থাকলে বাচ্চাদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানানো যাবে না । অথচ ভূমিকম্পের পরে আমরা বেঁচে থাকলেও ঢাকায় থাকতে পারব না । প্রকেৌশলীদের মতে, ঢাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে সত্তর হাজার বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়বে । সত্তর হাজার যদি ভেঙ্গে পড়ে তবে ফেটে যাবে নিশ্চয় এক লাখ চল্লিশ হাজার বিল্ডিং । আর এসব ফাটা বিল্ডিংয়ে কেহ বসবাস করতে রাজী হবে বলে মনে হয় না ।

Bashir Mahmud Ellias
২৭/০৬/২০১৭

ঈদের খুশি

ঈদের দিন অন্তরে যে এক ধরনের খুশি তৈরি হয় তার উৎস জমিনে নয়, বরং আসমানে। খুশির সাথে কেমন যেন এক ধরনের পবিত্রতা মিশ্রিত থাকে। যা বলে বোঝানোর বিষয় নয়। এটা ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য আসমানওয়ালার পক্ষ থেকে উপহার। বয়স এতো বাড়ল ঈদের খুশী কমল না মোটেও। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

২৬/০৬/২০১৭

ঈদের চাঁদ

ঈদ মোবারক। ফেসবুকে একজন বন্ধু তার প্রেমিকার উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “ইনবক্সে তোমার ছবি দাও, চাঁদ দেখব।” এ লেখা দেখে একটা গল্প মনে পড়ল।
এক ব্যক্তি বিয়ের আগে তার স্ত্রীকে দেখেনি। বাসর ঘরে বউ যখন ঘোমটা পড়ে বসে আছে, লোকটি তখন সেখানে বসে বলল, “আল্লাহর শপথ! তুমি যদি চাঁদের মত সুন্দর না হও, তবে তুমি তিন তালাক।”
তারপর যখন সে ঘোমটা খুলল, তখন দেখল, তার স্ত্রী পাতিলের মত কালো।
সে তখন অনুতাপে পুড়ে দৌড়ে গেল মসজিদের ইমামদের কাছে। তারা ছিল আখেরী জামানার আলেম-ওলামাদের মত যারা ভুঁড়ি ভুঁড়ি তাফসির মুখস্ত করেছে, কিন্তু নিজেদের কোন চিন্তাশক্তি নেই যা দ্বারা তারা পবিত্র কোরান ও হাদিসকে বিশ্লেষণ করতে পারে। ফলে তারা তাদের অন্তরে প্রজ্ঞার নুর লাভ করতে পারেনি। সেসব ইমামগণ এক বাক্যে সেই লোককে বলে দিলেন, “তোমার তালাক হয়ে গেছে। সুতরাং ঐ স্ত্রী তোমার জন্য অবৈধ।”
লোকটি তখন মনের দুঃখে ফিরে আসছিল। তখন লোকটির দেখা হয় একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর সাথে যিনি বালকাবস্থা থেকেই তার হৃদয়ে প্রজ্ঞার নুর ধারণ করতে সক্ষম হোন। তিনি লোকটির কথা শুনে লোকটিকে বলেন, “আপনার তালাক হয়নি। যান, বাড়িতে স্ত্রীর কাছে ফিরে যান।”
লোকটি বালকটির কথা শুনে অবাক হয়ে যান। তিনি তখন বালকটিকে নিয়ে মসজিদের ইমামদের কাছে যান। ইমামগণ বালকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কীভাবে বললে যে, লোকটির তালাক হয়নি?”
বালকটি বলল, “আপনি কী পবিত্র কোরানে পড়েননি যে, আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, “” নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সবচেয়ে উত্তম গঠনে সৃষ্টি করেছি।”” (সুরা ত্বীনঃ ৪)। সুতরাং এই ব্যক্তির স্ত্রী চাঁদের থেকেও সুন্দর। তাই তাদের তালাক হয়নি।”
ইমামগণ তখন মানতে বাধ্য হলো যে, বালকটির কথাই ঠিক। লোকটির তালাক হয়নি।

Md Arefin Showrav

২৬/০৬/২০১৭

বিশুদ্ধ আমল

ধরুন এক এলাকায় সব মানুষ যদি শুকরের গোশৎ খায়। এখানে আর কোন হালাল খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যায় না। এরি মধ্যে একজন লোক কোনক্রমে হালাল গরুর গোশত পেল। এখন কি সে চিন্তা করবে আমি হালাল খেয়ে লাভ কি, সবাই তো হালাল খেতে পারছে না। তার তখন কি করা উচিৎ হবে? ঐ এলাকার আর কোন লোক তো হালাল খাবার খেতে চায় না। তাই বলে সে কি সমাজের বেশীর ভাগ মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের মতোই হয়ে যাবে। যতদিন ঐ এলাকার সবাই হালাল খাবার না খাচ্ছে ততদিন কি সেও হারামের উপর চলবে? অবশ্যই নয়। কারণ তার কাছে এই মুহূর্তে হালাল গরুর মাংস আছে। তাকে হালালই খেতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের আগে তার নিজের পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।

কাজেই যার সুযোগ আছে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে সোনা রূপা ব্যবহার করার, বা সোনা রূপার মাধ্যমে যাকাত দেয়ার, বা খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে ফেতরা আদায় করার তার সেটাই করা উচিৎ।

যাকে যাকাত বা ফেতরা দেয়া হবে তার সোনারূপার দরকার নেই, খাদ্যদ্রব্যের দরকার নেই বলে তাকে টাকা দিতে হবে? তার সন্তুষ্টি বেশী দরকার নাকি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি বেশী দরকার? যদি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি বেশী দরকার হয় আর নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাচানো বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয় তবে আল্লাহ্‌র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ করা জরুরী। যার সুযোগ হয়ে যায় সুন্নাহ অনুসরণ করার তার উচিৎ সে সুযোগ কাজে লাগানো। সুযোগ না থেকে নিরূপায় হলে ভিন্ন কথা।