নিদারুণ উপেক্ষা

আমরা অনেকেই মানসিকভাবে কুরআনের অনেক আয়াত মানিতে পারিতেছি না। এমনকি আমরা দ্বীনের কাজ করিতেছি, ঈমানে আমলে নিজেদের অগ্রগামী মনে করিতেছি, সবচেয়ে বড় কথা অনেকেই হেদায়েতের ওপর আছে এইরূপ মনে করিতেছি। কিন্তু আশ্চর্য হইলেও সত্য আমাদের অনেকেই কুরআন হাদীসের বহু নির্দেশনা সম্পর্কে নিজেদের বাঁচাইয়া চলিতেছি। মনে করিতেছি, এইসব আগে হইয়া গিয়াছে বা বহু পরে ঘটিবে। ইহাতে আমাদের সম্পৃক্ত হওয়াটা ঈমান আমলের দ্বায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আমরা সূরা নিসার এই আয়াত তিলাওয়াত করি, “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতিম মেয়েদের অধিকার যথাযথভাবে পুরন করিতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের ভাল লাগে তাহাদের বিয়ে করিয়া নাও দুই, তিন কিংবা চারটি পযর্ন্ত ……”।–আল কোরআন (৪ঃ৩)। ইহা পড়িয়া আমাদের নেকী হয়। কিন্তু এই আয়াত মানিতে আমরা অপারগ। আমরা ভাবি এই আয়াত আমাদের জন্য নহে। ইহা তো তৎকালীন যুগের জন্য যখন জিহাদে অনেক পুরুষ শহীদ হইয়া গিয়াছেন। অনেক মেয়ে এতিম হইয়া গিয়াছে। অথবা ইহা আরো পরের যুগের জন্য যখন বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়া পৃথিবী পুরুষশূন্য হইয়া যাইবে। কিন্তু বর্তমান আবস্থা সেই যুগের চেয়ে ভয়াবহ ইহা আমরা চোখ থাকিতেও দেখিতে পাই না। আজকে পৃথিবী নারীঘটিত ফেতনায় ভরিয়া যাইতেছে কিন্তু অনেক নারীদের উপযুক্ত সময়ে বিবাহ হইতেছে না। আমাদের পেয়ারা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, “যদি এমন কেউ তোমার কাছে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসে – যার চরিত্র এবং তাকওয়া সন্তোষজনক, তাহলে তার কাছে (তোমার মেয়েকে) বিয়ে দাও। যদি এমনটি না কর, তাহলে পৃথিবীতে মারাত্মকরকম ফেতনা ও বিপর্যয় দেখা দিবে।” [তিরমিযি]। কিন্তু আমরা মনে করিতেছি এই হাদীস আমার জন্য নয়। আমার মেয়ের এখনও বিয়ের বয়স হয় নাই। অথচ তাহার বয়স ২৫ – ২৬ হইয়া গিয়াছে। তাহার দ্বারা সমাজে কত ফেতনা সৃষ্টি হইতেছে ইহা আমরা এখন না বুঝিলেও মৃত্যুর পরে বুঝিতে পারিব।

বলিতেছিলাম আমরা কুরআনের অনেক আয়াত মানসিকভাবে মানিতে পারিতেছি না। ভাবি ইহা তো সেই যুগে হইয়া গিয়াছে। ইহা আবার হইবে কেন? ইহা পড়িয়া শুধু এখন নেকী অর্জন করিব কিন্তু শিক্ষা লইব না। সূরা রূমে আছে, “রোমকরা পরাজিত হইয়াছে। অতি শীঘ্রই তাহারা (জাযিরাতুল আরবের) নিকটবর্তী অঞ্চলে বিজয়ী হইবে। কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহ্‌রই।, এবং সেদিন মু’মিনরা আনন্দিত হইবে। (সূরা রূম, আয়াত ২ – ৪)

আল্লাহ্‌ বলিতেছেন, পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহ্‌রই। অর্থাৎ পূর্বেও যেমন মুসলমানরা রোমকদের বিজয়ে আনন্দিত হইয়াছিল ইহা আবার পরেও হইবে। কিন্তু আজকে এই আয়াত মুসলমানরা ভুলিয়া গিয়াছে। যখন বলা হয়, রোমকদের সহিত মুসলমানদের চুক্তি হইবে ইহা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষৎবাণী করিয়া গিয়াছেন তখনও আমরা মানিতে পারি না। আমাদের ভদ্রলোকের এক কথা, অমুসলিমদের বিজয়ে আমরা আনন্দিত হইব কেন? আসলে কুরআন থেকে আমরা রাজনীতি শিখি না। আমরা আনন্দিত হইব কারণ রোমকদের বিজয় আমাদের জেরুজালেম বিজয়ের পথ খুলিয়া দিবে, যেইভাবে অতীতে রোমকদের বিজয় মক্কা বিজয়ের পথ খুলিয়া দিয়াছিল। কাজেই রোমকদের নিয়া আমাদের কোনও মাথাব্যথা নাই। অথচ ইহা কুরআনে আছে। মুসলমান নাম লইয়া ইসরাইল ও আমেরিকার আনুগত্য করিলেও উহাদেরকে আমরা মাথায় তুলিয়া রাখি।

সূরা কাহাফ একটি শেষ যুগ সংশ্লিষ্ট সূরা। এই সূরায় দেখানো হইয়াছে ঐ সাতজন যুবকের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ, অত্যাচার, দমন, পীড়ণ শুরু হইয়াছিল তাহারা কিরূপে বেঈমান হইয়া যাওয়া হইতে আত্মরক্ষা করিয়াছিল। আমরা ইহা পড়িয়া নেকী অর্জন করি। কিন্তু ইহা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করি না। যখন শেষ যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হইবে যাহা ইতিমধ্যে শুরু হইয়া গিয়াছে তখন কিরূপে আমরা আত্মরক্ষা করিব যাহাতে পরে ঐ যুবকদের মতো বিজয়ের জন্য উঠিয়া দাড়াইতে পারি? আমাদের ফেতনা ছাড়িয়া দূরে গ্রামাঞ্চলে চলিয়া যাইতে হইবে। ইহা হাদীসে বর্ণিত হইয়াছে। বৃষ্টিপাতের অঞ্চলে বা পাহাড়ের চূড়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেখানে ফেতনা এখনও ভিড়িতে পারে নাই বা ফেতনার মাত্রা কম। সেখানে ভেড়া লইয়া অর্থাৎ যার যা সম্বল আছে তা নিয়া চলিয়া যাইতে হইবে। আমরা সূরা কাহাফে সাত যুবকের আত্মরক্ষার কাহিনী পড়ি, হাদীসও পড়ি। কিন্তু ভাবি, এই দিকনির্দেশনা আমাদের দেয়া হয় নাই। কুরআনের এই কাহিনী অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে। আর হাদীস বাস্তবায়নের সময় এখনও আসে নাই। বরং ফেতনার মধ্যেই আরাম আয়েশের দিন গুজরান করিয়া আমরা ইসলাম পালন করিতে চাহিতেছি যা কুরআন হাদীসের সম্পূর্ণ বিপরীত।

এইভাবে কুরআন হাদিসকে উপেক্ষা করার মাশুল আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতে দিয়া যাইতে হইবে।

।।

রোম পরিচিতি

চা সিংগারার জীবনকে বদলে ফেলার চেষ্টা

একটা সময় ছিল চা অফার করলে কেউ যখন বলত চা পান করি না ভীষণ অবাক হতাম। চা ছাড়া মানুষের চলে কিভাবে? আলহামদুলিল্লাহ্‌, আজ বহুদিন যাবত চা পান ছাড়াই ভালো আছি। চায়ের প্রয়োজন অনুভব করি না। এ সব কিছু হলো মাইন্ড সেট। লাইফস্টাইল চেঞ্জ করার জন্য আপনাকে আগে মোটিভেটেড হতে হবে। মাইন্ড সেট করতে হবে। কেন আমি চা পান করব না, কেন আমি কার্বহাড্রেট অল্প গ্রহণ করব। যখন আপনি এসব বিষয় ব্রেন দ্বারা চিন্তা করবেন, ভালোভাবে এর পেছনের কারণ জানবেন তখন আপনি মোটিভেটেড হবেন। একবার মোটিভেটেড হলে কেউ আপনাকে চা পান করাতে পারবে না, এক মুঠোর বেশী ভাত খাবেন না, কোল্ড ড্রিংকস, চিপস, বিস্কুট, আইসক্রিমের ধারে কাছেও যাবেন না। আপনাকে জানতে হবে কিভাবে কম কার্বহাইড্রেট গ্রহণ করেও শরীরকে সবল রাখবেন। যতদিন মোটিভেটেড না হচ্ছেন ততদিন জিহবার স্বাদের কাছে আপনি অসহায়।

সকালে ১ টা মাত্র রুটি / পরোটা আর ভাজি দিয়ে কিভাবে নাস্তা করা সম্ভব? হ্যা, আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমি এখন পারি। আগে আমার ৩ – ৪ টি পরোটা লাগত। কিন্তু আমি লাইফস্টাইল পরিবর্তন করেছি। না না আমার ডায়াবেটিস নেই, শরীরে এলডিএল, এইচডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রায় কোন ঝামেলা নেই, হার্টে ব্লক নেই। আলহামদুলিল্লাহ্‌। এটাই লাইফস্টাইল পরিবর্তনের উত্তম সময়।

দুপুর ১২ টায় বাঙ্গালী জাতি সিংগারা খায়। শহুরে লোকেরা। গৃহিণীদের কথা বলতে পারব না। বিশেষ করা যারা অফিস করে, ঐ সময়টা বাহিরে থাকে। যদি এই সিঙ্গারাটা না খান তাহলে কি হবে? মরে যাবেন? সিঙ্গারা না খেয়ে ইনশাআল্লাহ্‌ মরবেন না। কিন্তু এই সিঙ্গারা আপনার ইনসুলিনের সেনসিটিভিটি কমিয়ে দেবে। আর মাত্র ২ ঘণ্টা পরই ভাত খাবেন। তখন ইনসুলিন আপনাকে সাপোর্ট দিতে পারবে না। তার চেয়ে ২ ঘণ্টা একটু ক্ষুধা ক্ষুধা ভাব থাকুক। এ সময় ১ টা কলা ১ টা ডাব খান। ক্ষুধা চলে যাবে। কয়েকদিনে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। আপনার শরীরে পানি ও পটাশিয়াম ঢুকবে। ভালো লাগবে।

ভাত খাওয়ার সময় আগে ২ – ৩ প্লেট খেতেন, এক এক তরকারি দিয়ে এক এক প্লেট। এখন ১ প্লেটের কম খান। তরকারী বেশি নিন, মাছ / গোশত, সবজি সালাদ নিন। ভাত খাওয়ার পর আগের মতোই নড়তে পারবেন না।

বিকেলে ক্ষুধা লাগছে? বার্গার, পিজা, চটপটি, নুডলস বাদ দিন। একটা ডিম সিদ্ধ খান। অথবা বাদাম খান, অথবা দুধ খান। রাত পর্যন্ত ক্ষুধা লাগবে না। ডিনারে ভাত দুপুরের চেয়ে একটু কম নিন। সালাদ, ডাল, শাকসবজি দিয়ে পেট ভরে ফেলুন।

রাত সাড়ে দশটায় ঘুমাতে যান। এটা আমি সবদিন পারি না। একসময় ইনশাআল্লাহ্‌ পারব। আমাদের নবী করীম মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে ইশার পর শুয়ে পরতেন। রাত ২ টা আড়াইটা পর্যন্ত বয়ান দিয়ে, হাউমাউ কান্নাকাটি মোনাজাত করে বিরানী তবারক খেয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড দিয়ে শুতে যেতেন না।

এভাবে যদি করেন তবে কি হবে?

ইনশাআল্লাহ্‌ ইনশাআল্লাহ্‌, ডায়াবেটিস হাসপাতালে সকাল সকাল গিয়ে লাইন দিতে হবে না, হার্টে রিং লাগানোর জন্য ৪ – ৬ লাখ টাকা নিয়ে ডাক্তার ও রিং ব্যবসায়ী দালালদের পেছনে পেছনে দৌড়াতে হবে না, শরীরে ক্যান্সার কোষ বাড়তে পারবে না, শরীর স্লিম করার জন্য জিমের মেম্বার হতে হবে না। আরো অজানা সংখ্যক উপকারিতা যা আল্লাহ্‌ আপনাকে দিতে চান সবই পাবেন।

আল্লাহ্‌তায়ালাই মহান তৌফিকদাতা।

জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

 

দাওয়াত ও তাবলীগ – ১

তবলিগে প্রাইমারী লেভেলের জিনিস শেখার জন্যই যেতে হয়। যাতে ঈমান ও আমলের শখ পয়দা হয়। এর বাইরে কিছু শিখতে হলে অন্যত্র শিখতে হবে। আলেম উলামা লাগবে। বই কিতাবাদী লাগবে। প্রয়োজনে ইন্টারনেট লাগবে। সমস্যা হচ্ছে অনেকেই তবলিগে গিয়ে আটকে যায়। তখন সে কাউকে ঐ বলয়ের বাইরে যেতে দেখলে আটকে ধরার চেষ্টা করে। এর কারণ তারা ওটাকেই দ্বীনের শেষ মনে করে। আসলে ওটা দ্বীনের শুরু।

আর প্রাইমারী স্কুলে কেন ইউনিভার্সিটির পড়া পড়ায় না এটা নিয়ে অভিযোগ করাটাও বোকামী। কারণ প্রাইমারী না শিখে ইউনিভারসিটিতে আসা যায় না। প্রাইমারীর পড়া আপনাকে বাসায় হোক, কিন্ডার গার্টেনে হোক, মক্তবে হোক, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হোক বা হোম টিউটরের কাছে হোক শেষ করতেই হবে।

ঠিক তেমন ঈমান আমলের প্রাথমিক ধাপ তবলিগে গিয়ে হোক বা বাসায় হোক বা কারো সোহবতে থেকে হোক শেষ করতেই হবে। তা না হলে এর পরের ধাপ যেমন কুরআন হাদীসের ব্যাপক জ্ঞান অর্জন যাতে আছে দাজ্জাল ও শেষ যুগের জ্ঞান অর্জন, সে স্তরটিতে পৌছানো সম্ভব নয়। তবলিগের লোকদের উচিত নয় কাউকে যদি উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের জন্য তবলিগের কাজ থেকে সরে যেতে হয় তাকে আটকানোর চেষ্টা করা। আর কেউ যদি উচ্চতর স্তরে পৌছে যায় তারও উচিত নয় তবলিগের সীমিত সিলেবাসের সমালোচনা করা। কারণ সিলেবাসটা ডিজাইনই করা হয়েছে প্রাথমিক লেভেলের জন্য।

দাওয়াত ও তাবলীগ – ২

দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায় হল কালেমার দাওয়াত দেয়া। ইসলামের বুনিয়াদী আমল যেমন সালাত, সিয়াম, ইলেম, যিকির ইত্যাদি আমলের ওপর মানুষকে তোলার চেষ্টা করা। আলহামদুলিল্লাহ্‌, দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত বহু বছর যাবত এ মহান কাজের আঞ্জাম দিয়ে আসছে। কিন্তু দাওয়াতের আরো স্তর আছে।

হুকুমতের মালিক আল্লাহ্‌ – এটা একটা আলাদা সুনির্দিষ্ট দাওয়াত। দীর্ঘদিন তাবলীগের মেহনতে লেগে থেকেও অনেকে এই দাওয়াত পায় না। কারণ তবলীগের সিলেবাসে এর সরাসরি পাঠ পঠন নেই। যার ফলে ঈমানের একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অজ্ঞতা থেকে যাওয়ার সুযোগ আছে। হ্যা অনেকে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টায়। এতে বোঝা গেল দাওয়াত ও তবলীগের মারকাজকেন্দ্রিক মেহনত সব কিছু কভার করে না। আরো বিষয় বাকী থেকে যায়।

সুদের সাথে যেকোন ভাবে জড়িত থাকা হারাম। সরাসরি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা। শুধু কালেমার দাওয়াত ও বুনিয়াদী আমলের দাওয়াত সুদ থেকে মানুষকে কোনভাবেই ফেরানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এর জন্য অবশ্যই স্বতন্ত্র দাওয়াতের প্রয়োজন আছে। যদি ঈমান আমলের প্রাথমিক আলোচনাই সুদের আক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট হতো তবে বহু দ্বীনদার দাড়ি টুপী ওয়ালা নামাজী হাজ্বী লোক ব্যাংকে চাকরী করত না। অথবা তাদের সন্তানদেরকে ব্যাংকে চাকরী করতে দিত না।

শেষ যুগের দাওয়াত অতি উচ্চ স্তরের দাওয়াত। যে বিষয়ে আলোচনা দ্বীনী মহলেই অতি কম। অথচ শেষ যুগ বাস্তব। দাজ্জাল বাস্তব, হযরত ঈসা য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বাস্তব। এগুলো অবশ্যই হবে। দাজ্জালের ফেতনায় কিভাবে মুসলমান আত্মরক্ষা করবে তা না জানলে পথভ্রষ্ট হওয়ার খুব বেশী সম্ভাবনা। কেবলমাত্র ঈমান ও আমলের প্রাথমিক আলোচনাকে শেষ যুগের ঈমান হেফাজতের জন্য কোনভাবেই যথেষ্ট বলা যাবে না। শেষ যুগে যেসব যুদ্ধ বিগ্রহ হবে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখলে ধ্বংস কি ফেরানো যাবে? বরং রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের শত শত সাবধানবানী থেকে দূরে থাকার মাশুল দিতে হবে।

কাজেই ‘আমরাই দাওয়াতের জিম্মাদারী আদায় করছি’ এই উন্নাসিকতা পরিহার করা কর্তব্য। হ্যা আমি আমার লেভেলে আমার জিম্মাদারী আদায় করছি। কিন্তু আমার লেভেলের উপরেও যে আরো স্তর আছে তা অস্বীকার করলে চলবে না। প্রতিটি উপরের লেভেলের অডিয়েন্স নীচের লেভেলের অডিয়েন্সের চেয়ে সংখ্যায় কম, কিন্তু গুরুত্বে কম নয় মোটেই।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

শত্রু খ্রিস্টান, মিত্র খ্রিস্টান

আমার পরিচিত একজন খ্রিস্টান আছে। দেখা হলে নমস্কার বলে। আমি বললাম, ভাই নমস্কার তো হিন্দুদের ভাষা। কিন্তু খ্রিস্টানরা তো মুসলমানদের অধিক নিকটবর্তী। তাদের উভয়ের কাছে আল্লাহ্‌র কিতাব আসছে। তো আপনি কি ধরনের খ্রিস্টান? তিনি বললেন, ক্যাথলিক। বুঝে নিলাম, এরা আসমানি ধর্ম পুরোটুকুই ছেড়ে দিয়েছে। হিন্দুদের সাথে মিশে গেছে। ইহুদি ও হিন্দুরা হলো মুসলমানদের শত্রু। যারা এদের সাথে সম্পর্ক রাখে তারাও মুসলমানদের শত্রু। এদের সাথে বন্ধুত্ব করতে আল্লাহ্‌ নিষেধ করেছেন। বাংলাদেশে বোধহয় বেশির ভাগ খ্রিস্টানই ক্যাথলিক। সূরা মায়িদার ৮২ নং আয়াতটা তাদের জন্য খাটছে না যেখানে আল্লাহ্‌ তাদের একত্ববাদের প্রশংসা করেছেন। “বন্ধুত্বে মুসলমানদের অধিক নিকটবর্তী খ্রিস্টানরা, কারণ তাদের মধ্যে আলেম আছে, দরবেশ আছে আর তারা অহংকারী নয়।” (সূরা মায়িদা, ৮২)। সূরা মায়িদার ৫১ ও ৮২ নং আয়াত দু’টি পড়লে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। শত্রু ও মিত্র খ্রিস্টানদের স্বরূপ বোঝা যাবে।

শেষ যুগের আতরের ঘ্রাণ

১। উনারা এলেন। আতর সুবাস লাগিয়ে। জীবিত থাকতে কুরআনের একটা আয়াতও এসে শুনান নি। কিন্তু মৃত্যুর পর পুরো কুরআন পড়ে বাসা গরম করে ফেললেন। বিস্কুট, ফল, চা খেলেন, টাকাও নিলেন, আবার দুপুরের মেজবানও খেলেন। আহ যদি জীবিত থাকতে আসতেন কুরআনের একটা আয়াত নিয়ে, কতই না ভালো হতো। হয়তো লোকটার জীবনটা অন্যরকম হতো। এটাই কি রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবা রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুমদের নীতি ছিল?? বড় বিস্ময় জাগে !!

২। বাংলাদেশ ভারত সামরিক সমঝোতা স্মারক বা চুক্তিটা বোধহয় হয়েই যাবে। উনাদের লোকবল ছিল, হুঙ্কার ছিল। উনারা সেটা হাফেজ্জি হুজুরের নামে রাস্তা বহাল রাখার কাজে ব্যয় করছেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম কি কখনো রাস্তার নামকরণের দাবি নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়েছিলেন? তিনি ও তার সাহাবীরা তো আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছেন। তারপরও উনারা নায়েবে রাসূল। সহজ কথা নয়।

ভাবায় কখনো কখনো।

ব্যায়াম নিয়ে কতিপয় ভুল শ্রূতি

সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়াম অপরিহার্য। কিন্তু সবার এক কথা, সময় কোথায় ব্যায়াম করার। অনেকে বলে, যদি ধরেই না রাখতে পারি তো শুরু করে লাভ কি? ব্যায়াম নিয়ে আছে অনেক মিথ, অনেক অজ্ঞতা। তার মধ্য থেকেই মাত্র ৬ টি শুধরে নিলে জীবনটা হতে পারে সুস্বাস্থ্যময়। আসুন জেনে নিই।

(১) মেয়েদের ভাবনা – শরীর মাংসল বা পুরুষালী হয়ে যাবে তো।

– মেয়েদের শরীরে কিন্তু প্রাকৃতিকভাবেই মাংসের পরিমাণ কম। ব্যায়াম করলে আপনার শুধু আনাকাঙ্খিত চর্বি কমবে, মাংস বেড়ে যাবে না। বরং বুড়ো বয়সে মাংসপেশির ক্ষয় হতে রক্ষা পাওয়া যাবে। আপনার শারীরিক গঠন পুরুষালী হয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই যদি না আপনার জিনের গঠনে সমস্যা থাকে, অথবা আপনি প্রফেশনাল এথলেটদের মতো ব্যায়াম করেন কিংবা স্টেরয়েড নেন।

(২) বুড়ো বয়সে ব্যায়াম শুরু করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

– আসলে ব্যায়াম শুরু করার জন্য বয়স কোন বাধা নয়। বুড়ো বয়সে হালকা ব্যায়ামও আপনার শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। সামান্য ব্যায়াম আপনার শক্তি, চলাফেরার দক্ষতা, স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। শারীরিক ভারসাম্য বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙ্গার সম্ভাবনা কমবে। এমনকি বয়সের ছাপটাও কিছুটা কমিয়ে ফেলতে পারে।

(৩) অনেকে মনে করেন, হাঁটা আর এমন কি আহামরি ব্যায়াম। হেঁটে কি হবে?

– শুধুমাত্র হাটা আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অর্ধেক কমিয়ে ফেলতে পারে। যারা বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন, দীর্ঘক্ষণ শুয়ে বসে টিভি দেখেন তাদের হার্টের রোগ ও মেটাবলিক রোগ তথা ডায়বেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

(৪) কারো মতে, ওজন কমানোর জন্য কঠোর ব্যায়াম ও পরিশ্রম করতে হবে, প্রচুর সময় দিতে হবে।

– আসলে কঠোর ব্যায়াম ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে কম কার্যকরী পন্থা। অথচ মাত্র ২০ মিনিটের ব্যায়াম আপনাকে সুফল দিতে পারে। এই ২০ মিনিটের ৭৫ ভাগ সময়ই আপনি ওয়ার্ম আপ বা স্লো মুভমেন্ট করতে পারেন। মাত্র ৪ থেকে ৫ মিনিট হার্ড এন্ড ফাস্ট ব্যায়াম। সবচেয়ে ভালো হচ্ছে, প্রতিদিন ১ ঘণ্টা হাঁটা।

(৫) নির্দিষ্ট স্থানের চর্বি কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা।

– অনেকে শুধু পেটের চর্বি কমাতে পেটের ব্যায়াম করে। এটি একটি ভুল ধারণা। হ্যাঁ, এতে তার পেটের মাংসপেশি শক্তিশালী হবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা চর্বির আড়ালেই রয়ে যাবে। আপনি যদি চর্বি কমাতে চান তাহলে শরীরে চর্বি কিভাবে পুড়ে তা আপনাকে জানতে হবে। চর্বি পুড়ে বায়োকেমিক্যাল রিএকশানের মাধ্যমে, মেকানিক্যাল প্রেশারের কারণে নয়। এটি সারা শরীরের সামগ্রিক বিক্রিয়া, কোন নির্দিষ্ট অংশের নয়। চর্বি জ্বালানোর জন্য বায়োকেমিক্যাল রিএকশানের সূচনা করতে হবে কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে এবং নিয়মিত পরিমিত ব্যায়ামের মাধ্যমে।

(৬) আমার ওজন কমানোর প্রয়োজন নেই, কাজেই আমার ব্যায়ামেরও প্রয়োজন নেই।

– এটি একটি জনপ্রিয় ভুল ধারণা। আসলে ওজন কমানো ব্যায়ামের প্রধান লক্ষ্য নয় মোটেই। ব্যায়ামের প্রধান উপকারিতা হচ্ছে তা আপনার নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক সমস্যার প্রতিষেধক। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ, মানসিক ব্যাধি থেকে ওষুধ ছাড়াই ইনশাআল্লাহ্‌ মুক্ত থাকতে পারবেন।

।।

ব্যায়ামকে জীবনের অংশ করুন। ব্যায়ামের জন্য সময় বের করুন। যেভাবে আপনি চুল আঁচড়ানোর জন্য, দাঁত মাজার জন্য, টয়লেটের জন্য সময় বের করেন সেভাবে। আপনার চুল, দাঁত পরিষ্কার থাকলে তবেই তো আপনি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারেন। ঠিক তেমন নিয়মিত ব্যায়াম করলে মানুষের কল্যাণে ইনশাআল্লাহ্‌ আরো বেশী কাজ করতে পারবেন। আপনার যদি ওজন কমানোর প্রয়োজন থাকে তবে ভালো, আর ওজন কমানোর প্রয়োজন না থাকলেও ভালো। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যায়াম আপনাকে উপকার দিবে। এটিই হচ্ছে সেলফ কেয়ার বা নিজের যত্ন।

Detoxification of body

লিখেছেনঃ Ashraf Mahmud

যে কোনো সবুজ শাক সবজি খেতে বলা হয় মানুষকে। বলা হয় ভিটামিন আছে, এটা আছে, ওটা আছে। আমি বলি কি – বিভিন্ন ধরেনের ভিটামিন ও মিনারেলস তো আছেই কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হলো এই সব সবুজ শাক সবজি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করে। বের করে দেয়। বিভিন্ন ধরণের রঙ্গিন শাক সবজি খাওয়া দরকার। এতে আছে ফাইটোক্যামিক্যাল, যা’ ক্যানসার প্রতিরোধক, ডায়াবেটিস প্রতিরোধক। লো কার্বহাইড্রেট। ব্লাড সুগারের জন্য ভালো। দূষিত পরিবেশ এবং সামুদ্রিক মাছ, ফার্মের মুরগী, কীটনাশক, রাসায়নিক সার ও বিভিন্ন খাবার দাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরণের বিষাক্ত ধাতু যেমন সীসা, মার্কারী, এলুমিনিয়াম ইত্যাদি ঢুকে পরে। এগুলো আমাদের রক্তে, মস্তিস্কে, কোষে, টিস্যুতে জমা হয়ে থাকে। এগুলো এক পর্যায়ে নানান ধরণের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। তাই সবুজ শাক সবজি এই সব বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। আমরা ৪টি চ্যানেলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করি। (Detoxification). এক. ঘামের মাধ্যমে। এ জন্য শরীর চর্চা দরকার। দুই. নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে। তিন. মল ত্যাগের মাধ্যমে। চার. মূত্রত্যাগের মাধ্যমে। এই চারটি চ্যানেল যাতে ঠিক মত প্রতিদিন কাজ করে তা’ লক্ষ্য রাখা খুবই দরকার। পানি খাওয়া দরকার। ঘাম বের করা শরীর চর্চা দরকার। নিয়মিত মলমুত্র ত্যাগ দরকার। এজন্য খাবার দাবার হিসেব করে খেতে হবে। প্রোটিনের সাথে শাক সবজি ও আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হবে। সফট ড্রিংস একেবারে বাদ। টেষ্টিং সল্ট একেবারে বাদ। এটি ব্রেন সেল Damage করে। ম্যাগী নুডলস বাদ। সীসা ভর্তি এখানে। কারো সামর্থ্যে কুলালে ব্রোকলিটা খাবেন। আঁশ, detoxifier, Phytochemicals,এবং ভিটামিন ও মিনারেলস এ ভর্তি। আর সকালে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস বা দুই গ্লাস পানি পান করা খুবই উপকারি। সাথে লেবুর রস। কুসুম গরম পানি। নরমাল পানিও চলবে।

সূরা তাকভীরের ইস্কেটোলজিকাল ব্যাখ্যা

আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করিলাম
দয়া ও করুণায় ভরা যার নাম।

সেইদিন সূর্য হবে দীপ্তিহারা, (১)
বসিয়া পড়িবে যত গগণের তারা, (২)

পর্বতমালাকে হবে চালিত করা, (৩)
উষ্ট্রী হবে উপেক্ষিত, গর্ভভরা, (৪)

বন্য পশু করা হবে একত্রিত, (৫)
সাগর যত হয়ে যাবে উদ্বেলিত, (৬)

পুনরায় আত্মা হবে সংযোজিত, (৭)
কন্যা শিশুরা হবে জিজ্ঞাসিত, (৮)
কোন অপরাধে তারা জীবন্ত প্রোথিত? (৯)

আমলনামাসমূহ খুলে হবে ধরা, (১০)
আকাশসমূহ হবে উন্মোচিত করা, (১১)

দোজখ করা হবে প্রজ্জ্বলিত, (১২)
বেহেশত করা হবে নিকটে আনিত, (১৩)

জানিতে পারিবে সব মানুষ তখন
আনিয়াছে নিজের সাথে কী সে এমন! (১৪)

কসম তারকা যা পশ্চাতে সরে– (১৫)
চলে আর নিজেকে সে আড়াল করে, (১৬)

কসম চলে যাওয়া সেই যে রাতের, (১৭)
আলোকিত করে দেওয়া ঐ প্রভাতের, (১৮)

নিশ্চয়ই এ বাণীগুলি ফেরেশতা আনীত (১৯)
আরশ-মালিকের যিনি সম্মানিত (২০)

বিশ্বাসী বাহক সে এক সেথায় মানিত। (২১)
তোমাদের সাথীর মাথা নহে বিকৃত, (২২)
ফেরেশতা দেখা তাঁর খোলা স্বীকৃত, (২৩)
কৃপণতা করে না সে বলিতে কভু-ও
গায়েবের বিষয় সেটা হলেও তবু-ও। (২৪)

শয়তানের উক্তি নহে, এটা [কুর’আন] রয়ে যায়, (২৫)
অতএব তোমরা সবাই চলেছ কোথায়? (২৬)

বিশ্ববাসী তরে এতে উপদেশ রয়, (২৭)
সঠিক পথে চলিতে চায় যারা নিশ্চয়। (২৮)

তোমাদের ইচ্ছা কোন কার্যকরী নয়
বিশ্বপালকের যদি ইচ্ছা না হয়। (২৯)

[সুরা তাকভীর: ৮১: ১-২৯]

দ্বীপ্তিহারা সূর্য রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরী জামানার স্পিরিচুয়াল ডার্কনেস বা গডলেস সেক্যুলার সভ্যতাকে। ধসে পড়া তারকামন্ডলী রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরী জামানার আলেম-ওলামাদের দুর্নীতিগ্রস্থ ও ইলম-হারা হয়ে যাওয়াকে। পর্বতমালা চালিত হওয়া রিপ্রেজেন্ট করছে দেশে দেশে কালার রেভ্যুলেশনের মাধ্যমে নেতৃত্বের বদল বা রিজিম চেঞ্জ । উপেক্ষিত উষ্ট্রী দ্বারা আধুনিক যানবাহনের ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। বন্য পশু একত্রিত করা রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরি জামানায় গ্রামগুলোর শহরে পরিণত হওয়া, পশুদের চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা, প্রিমিটিভ অধিবাসীদের স্থান যেমন: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আমেরিকা, আফ্রিকা ইত্যাদি জায়গায় বড় বড় বিখ্যাত শহর প্রতিষ্ঠা হওয়া। সাগর উদ্বেলিত হওয়া দ্বারা সাগরে বড় বড় রণতরীর অবস্থানকে ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। আত্মা সংযোজনের দ্বারা যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে পুরো বিশ্বের মানুষ এক সমাজের অধিবাসী হওয়ার কথা ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে অথবা নতুন নতুন রাজনৈতিক পার্টির সৃষ্টি ও তাদের ব্যানারে মানুষকে একত্রিত করার কথা ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। কন্যা শিশুর জিজ্ঞাসা দ্বারা সমগ্র বিশ্বে নারী অধিকারে সচেতনতা বৃদ্ধির ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। আমলনামা/সহিফা/গ্রন্থসমূহ খোলা দ্বারা আখেরি জামানায় বই, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, লাইব্রেরী, বইমেলা ইত্যাদির বিকাশ সাধনকে ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। আকাশসমূহের উন্মোচন দ্বারা আখেরী জামানায় মহাকাশবিজ্ঞানে মানবজাতির অগ্রগতি, আকাশপথে যাত্রা, বিমানবাহিনী, আকাশ যুদ্ধ ইত্যাদিকে ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। দোজখ প্রজ্জ্বলিত করা দ্বারা আখেরী জামানায় বড় বড় বিশ্বযুদ্ধসহ ঘন ঘন যুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে। বেহেশত নিকটে আনা রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরী জামানার এসব যুদ্ধে সাধারণ নিরাপরাধ মানুষের শহীদ হওয়াকে। নিজের কাজ মানুষ দেখতে পারবে–এর দ্বারা হাতে হাতে ক্যামেরা থাকার ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। পশ্চাতে সরে যাওয়া তারকা রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরী জামানার আলেম-ওলামাদের যাদের কেউ কেউ গতিশীল অর্থাৎ সেক্যুলার সমাজের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে আর যাদের কেউ কেউ আড়ালে থাকে অর্থাৎ আধুনিক দাজ্জালীয় সভ্যতার ব্যপারে একেবারেই বেখবর। বয়ে যাওয়া রাত রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরি জামানায় সেক্যুলার বিশ্বে মুসলমানদের শোচনীয় অবস্থাকে। আর সমাগত প্রভাত দ্বারা ইমাম মাহদী ও সত্য মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) এর মাধ্যমে ইসলামের চূড়ান্ত সাফল্যের সময়কে ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে।

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

আখেরী জামানা সংক্রান্ত আমার দেখা কিছু স্বপ্ন


০৮-০৩-২০১৫ঃ

গতরাতে পারমাণবিক যুদ্ধের একটি স্বপ্ন দেখলাম । আমি দেখলাম ইরান ও রাশিয়া এটম বোমার যুদ্ধ ঠেকাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হইল । দেখলাম পারমাণবিক মিসাইল আকাশে নিক্ষেপ করা হইল এবং তাহা নির্দিষ্ট জায়গায় আঘাত করে প্রলয়কান্ড ঘটাইল । আমি মনে করি ইহা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেখানো একটি সত্য স্বপ্ন । পারমাণবিক যুদ্ধ কখন শুরু হবে সেই সম্পর্কে স্বপ্নে আমাকে কোন ইঙ্গিত দেওয়া হয় নাই কিন্তু আমি নিশ্চিত যে সেই যুদ্ধে ইরান এবং রাশিয়া এক পক্ষে থাকবে ।

১৬-১০-২০১৫ঃ

গতরাতে আমি একটি উল্লেখযোগ্য স্বপ্ন দেখেছি । দেখলাম আমি দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে একটি গ্রন্থাগারে পৌছলাম । কিন্তু আমি যখন লাইব্রেরীতে পৌছঁলাম তখন দেখলাম ইহাতে কোন বই-পুস্তক নাই । বইয়ের তাকগুলি সবই খালি । চমৎকার একটি লাইব্রেরী অথচ তার সেলফগুলো সব বই শূন্য । আমার বিশ্বাস এটি একটি সত্য স্বপ্ন এবং ইহাতে আখেরী জামানার একটি আলামতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে । নবী পাক (সাঃ) বলেছেন, “কেয়ামত নিকটবর্তী হইলে (ধর্মীয়) জ্ঞান উঠাইয়া নেওয়া হইবে” । তার মানে আখেরী জামানায় ধর্মীয় জ্ঞান বিলুপ্ত হইয়া যাইবে, মারাত্মক অজ্ঞতা দেখা দিবে । ধর্মীয় জ্ঞানের ভয়াবহ অজ্ঞতার একটি উদাহরণ হইল অনেক মুসলমান ইদানীং ব্যাংক থেকে সুদে টাকা ঋণ নিয়ে হজ্জ আদায় করতে যায় (যা ইসলামে নিষিদ্ধ) …হা….হা…..হা…..আমাদের আলেম-ওলামাদেরকে ধন্যবাদ…..

২৫-১১-২০১৫ঃ

গতরাতে আমি আখেরী জামানা সংক্রান্ত স্বপ্ন দেখেছি । দেখলাম ইমাম মাহদী (আঃ) জেরুজালেম দখলের জন্য দামেস্কের দিকে অভিযান শুরু করেছেন । লোকজন দলে দলে তাহার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতেছে । আমি দেখলাম অধিকাংশ গাছ ফলের ভাবে একেবারে নুয়ে পড়েছে । আমার এক জেঠাতো ভাই মাঠে কৃষিকাজে লিপ্ত ছিল । সে বিস্মিত হয়ে ভাবছিল লোকজন এভাবে দলে দলে কোথায় যাইতেছে ? আমি তার কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছিলাম । গতরাতের স্বপ্নটি এ পর্যন্তই । সহী হাদীসে মুসলমানদের প্রতি নবীজির (সাঃ) নির্দেশ রয়েছে তারা যেন ইমাম মাহদীর (আঃ) আত্মপ্রকাশের সাথে সাথে তাহার দলে যোগ দেয়, এমনকি এজন্য যদি বরফের উপরে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয় তবু পিছপা না হয় । হাদীসে এই কথাও বর্নিত হয়েছে যে, ইমাম মাহদী (আঃ) এবং ঈশা (আঃ) এর শাসন আমলে খাদ্য শস্যে এমন প্রবৃদ্ধি হবে যে, মাত্র একটি আঙ্গুর বিরাট একদল মানুষ খেয়ে পেট ভরতে পারবে ।

২৩-০৫-২০১৬ঃ

গতরাত ছিল ১৫ শাবানের পবিত্র রাত (শবে বরাত) । ফজরের নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়লাম আর সাথে সাথেই একটি পারমাণবিক যুদ্ধের স্বপ্ন দেখলাম । এটম বোমা বিস্ফোরনের উজ্জ্বলতম আলোর ঝলকানি দেখলাম এবং সাথে কান ফাটানো বিস্ফোরনের বিকট শব্দ শুনলাম । প্রায় ১৪ মাস আগে আমি পারমাণবিক যুদ্ধের একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং তাতে এটম বোমার বিস্ফোরনের স্থানটি ছিল অনেক দূরে । কিন্তু গতরাতের বিস্ফোরনটি এত কাছে ছিল যেন মনে হলো আমার ঘরেই ভিতরেই বিস্ফারিত হয়েছে । আমার মনে হলো এই স্বপ্নটি আমাকে সতর্ক করার জন্য দেখানো হয়েছে এবং আমার পাঠকদেরকে সতর্ক করার জন্য যে, পারমাণবিক যুদ্ধ একেবারে নাকের ডগায় এসে পড়েছে ।

১১-০৬-২০১৬ঃ

গতরাতে একটি ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখলাম । দেখলাম বিশাল আকৃতির এক আগ্নেয়গিরি আমাদের রাজধানী শহর ঢাকায় লাভা উদগিরণ করতেছে । মানুষের সাথে সাথে আমিও লাভায় চাপা পড়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াইতেছি এবং পালানোর সময় আমার দুই সন্তানকে হারিয়ে ফেলেছি । যতবারই আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, উত্তপ্ত লাভা পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল থেকে ভূপৃষ্টের দিকে উঠিতেছে, তার পরদিনই বাংলাদেশে একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে । কিন্তু এবারই আমি প্রথম স্বপ্নে দেখলাম যে, বিপুল পরিমাণ উত্তপ্ত লাভা ঢাকা মহানগরীর উপরিভাগে ভীতিকর গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে । আমার মনে হয় দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প আসন্ন বলে গত বিশ বছর যাবত ভূবিজ্ঞানীরা যে ভবিষ্যতবাণী করে আসছেন, তা একেবারে নাকের ডগায় এসে পড়েছে । বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, নেপাল এবং আসাম সেই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে ধ্বংস হবে এবং প্রায় চার কোটি মানুষ তাতে নিহত হইবে । ভূবিজ্ঞানীরা আরও ভবিষতবাণী করেছেন যে, এই এলাকার ভূপৃষ্টের নীচের স্তর তরলে পরিণত হয়েছে । ফলে ভূমিকম্পের সময় অনেক এলাকা উল্টে যাবে এবং অনেক এলাকা দেবে যাবে । নুরনবী (সাঃ) ভবিষ্যতবাণী করে গেছেন যে, আখেরী জামানায় অর্থাৎ কেয়ামত নিকটবর্তী হইলে তিনটি বড় ধরনের ভূমিকম্প বা ভূমিধ্বস হইবে – একটি পূর্বদিকে, একটি পশ্চিম দিকে এবং একটি আরব অঞ্চলে । যদিও মাওলানা ইমরান নজর হোসেন মনে করেন যে, পূর্বদিকের ভূমিকম্পটি ২০০৪ সালে সংগঠিত হয়ে গেছে, যাতে ইন্দোনেশিয়ার নিকটে সমুদ্রের নীচে ভূমিকম্প এবং সুনামিতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড আর শ্রীলংকাতে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছিল । তবে আমি মনে করি বিশ্বনবীর (সাঃ) ভবিষ্যতবাণী করা পূর্বদিকের সেই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পটি এখনও আসতে বাকী ।

০৭-০৯-২০১৬ঃ

আজ রাতে একটি ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখলাম । দেখলাম ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো তারপর আমার স্ত্রীকে ডেকে তুললাম । দেখলাম আমাদের তিন কন্যা গভীর ঘুমে আছে এবং ভুমিকম্প টের পায়নি । ভাবছিলাম মেয়েদের জাগিয়ে নিয়ে বাড়ির বাহিরে চলে যাব নাকি মেয়েদেরকে ঘুমের মধ্যে রেখে ঘরেই বসে থাকব । ভাবতে ভাবতেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো এবং স্বপ্নটি শেষ হয়ে গেলো । ঘুম থেকে জাগার পরে দেখলাম ভয়ে আমার সারা শরীর প্যারালাইসিসের মতো হয়ে আছে । আমার মনে হইতেছে ঈদের আগেই রাসুলে করীম (সাঃ) ভবিষ্যতবাণী করা সেই নারকীয় ভূমিকম্প আঘাত হানবে এবং সম্ভবত রাতের বেলা ।

০৬-১০-২০১৬ঃ

গতরাতে একটি ভয়াবহ স্বপ্ন দেখলাম । দেখলাম কে যেন আমাদের ঘরের দরজায় ঠক্ ঠক্‌ করতেছে । দরজা খুলতেই দেখলাম আমার মেজ মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে (যার বয়স দশ এগার হবে) । কিন্তু তার চেহারা দেখলাম রাক্ষসের মতো ভয়ঙ্কর রূপ ধারন করেছে । “আমি সীতা’’ বলে সে আমার বুকের বাম পাশে কামড় বসিয়ে দিলো । ভয়ে আমি ঘুম থেকে জেগে উঠলাম । ঘড়িতে দেখলাম রাত দুইটার উপরে বাজে । আমি এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে, বাকী রাত আর নিজের রুমে একা ঘুমানোর সাহস হলো না । বাচ্চাদের রুম থেকে ওয়াইফকে ডেকে আনতে হয়েছিল । স্বপ্নটির ব্যাখ্যা নিয়ে অনেক ভেবেও কোন কুল কিনারা করতে পারলাম না । পরে মনে হলো হিন্দু ধর্মের পৌরানিক কাহিনী অনুযায়ী সীতা এমন একজন নারী ছিল যার কারণে যুদ্ধ করে দুটি দেশ ধ্বংস হয়েছিল । বর্তমানে আবার দুটি দেশ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বাধা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যাতে দুটি দেশই ধ্বংস হবে । কিন্তু আমার হৃৎপিন্ড বরাবরে কামড় বসানোর ব্যাখ্যা কি হতে পারে বুঝতে পারছি না । ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যদি যুদ্ধ লাগে তবে তা হবে মুসলমানদের জন্য এক নতুন কারবালা । কেননা পাকিস্তানে যত মুসলমান আছে, ভারতে আছে তার চাইতে বেশী । ফলে উভয় পক্ষে অগণিত মুসলমান শহীদ হবে যা আমার জন্য হবে একটি হৃদয়বিদারক ব্যাপার । অবশ্য আমার এক বন্ধু বললেন, হৃদপিন্ডে কামড় দেওয়ার মানে হলো এই যুদ্ধে বাংলাদেশেরও সর্বনাশ হবে । সে যাক, এই স্বপ্নের প্রকৃত অর্থ আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলই (সাঃ) ভালো জানেন ।

১৬-১১-২০১৬ঃ

গতরাতে স্বপ্নে দেখলাম ভিন্ন গ্রহের প্রাণীরা (এলিয়েনরা) পৃথিবীতে হামলা করেছে । তাদের মহাকাশ প্রযুক্তির অসাধারণ প্রদর্শনী দেখলাম, বিস্ময়কর । এলিয়েনরা দেখলাম পৃথিবীর সকল যোগাযোগ প্রযুক্তি এমনভাবে বিকল করে দিয়েছে যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন পর্যন্ত ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে । অবশ্য পুতিন যে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতেছে তাকে দেখতে কিছুটা সাবমেরিনের মতো মনে হলো । স্বপ্নের দৃশ্যগুলো সাধারণত এমন সাংকেতিক হয় যে তাদের যথাযথভাবে বর্ণনা করা খুবই কঠিন কাজ । আর ব্যাখ্যা করা তো আরো কঠিন । সে যাক আমি মনে করি এমন একটি ঘটনা আসতেছে যাতে বিমানবাহিনীর সাংঘাতিক ব্যবহার থাকবে এবং তাতে জড়িত থাকবে পুতিন । অবশ্য এই স্বপ্নের প্রকৃত অর্থ আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলই (সাঃ) ভালো জানেন ।