কম্পিউটার যেমন হ্যাকিং করা যায় ঠিক তেমন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন এমনকি আস্ত কোন দেশকেও হ্যাকিং করে ফেলা যায়। মানে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ইউজাররা ভাবে আমরাই চালাচ্ছি, কিন্তু মূল অপারেটর অন্য কোনখানে। যন্ত্র তখন অপারেটরের কমান্ড অনুযায়ী চলতে থাকে। এটা নতুন নয়, শত শত বছর ধরেই চলছে। ইহুদীরা এসব বেশী করে। পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজরা করেছিল। নবাবের ফৌজের নিয়ন্ত্রণ নবাবের হাতে ছিল না। এভাবে তারা ধর্মীয় সংগঠনকেও মূল ধর্ম থেকে ডাইভার্ট করে ফেলে। বিদ’য়াতই হয়ে যায় ধর্ম। আমাদের আশেপাশের ধর্মীয় সংগঠনগুলোর দিকে তাকালেও চোখে পড়বে। ধর্মীয় সংগঠনগুলো কিভাবে ইহুদিদের দ্বারা হ্যাকড হয়ে গেছে। এক পর্যায়ে তারা নিজেরা নতুন নতুন আ’মলের নিয়ম বানায়। মানে নতুন নতুন প্রোগ্রাম ইনস্টল করে। অবশেষে চরম ফেতনায় পতিত হয়। এভাবেই হ্যাকাররা আপনার কম্পিউটার ক্রাশ করে। আল্লাহ হেফাজত করুন আমাদের।

সদর দরজা যখন খোলা চোরের তখন পোয়াবারো

garagedoor

Install Security Cameras; Even Fake ones will Work!

আপনি যখন ৩০ হাজার টাকা দিয়া একটা কম্পিউটার কিনিলেন তখন প্রথমেই মনে হইল ভালো একটা এন্টিভাইরাস কিনিতে হইবে। যাহাতে হ্যাকাররা আপনার কম্পিউটারের ভেতর ঢুকিয়া আপনাকে মিসগাইড করিতে না পারে, আপনাকে ফাকি দিয়া আপনার দলিল দস্তাবেজ লইয়া যাইতে না পরে। সামান্য দুনিয়াবী ক্ষণস্থায়ী যাহা ডিলিট বাটনে টিপ দিলেই মুছিয়া যায় এমন দুই চারি হাজার ডাটা নিরাপদ রাখিবার জন্য আপনি ৭০০ টাকা খরচ করিয়া এন্টিভাইরাস কিনিয়া ফেলেন। আবার কয়েক দিন পর পর ইহাকে আপডেটও করেন।

৩০ লক্ষ টাকা দিয়া একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনিয়া আপনি ইহার নিরাপত্তার জন্য মাসিক ৭০০০ টাকা বেতন দিয়া একজন ভালো ও বিশ্বস্ত দারোয়ান রাখিয়া লইলেন। ইহাতেও আপনি খুশি হইলেন না। তাই টেলিফোনের ডাইরেক্টরীতে থানার ওসির নাম্বার ও ফায়ার ব্রিগেডের নাম্বার লাল কালিতে দাগ দিয়া রাখিলেন, যেন প্রয়োজন হইলে সাথে সাথে খুজিয়া পাইতে বিলম্ব না হয়।

ইহা তো গেল দুনিয়াবী হাকীকত। আল্লাহ্‌ তায়ালা কি করিয়াছেন? আর তিনি কুরআনের মাধ্যমে আমাদের কি রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানাইয়াছেন?

হযরত জিবরাঈল আমীন ফেরেশতা যখন কুরআনের আয়াত লইয়া আল্লাহ্‌র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসিতেন, আল্লাহ্‌ বলিতেছেন, এ সময় শয়তানকে কুরআন শ্রবণের সুযোগ থেকেও দূরে রাখা হইয়াছে। কি হইত শয়তানকে কুরআন শ্রবনের সুযোগ দিলে ? জিবরাঈল আমীন য়ালাইহিস সালামের উপর কি আল্লাহ্‌র আস্থা নাই ! তা নহে। আল্লাহ্‌র আস্থা ঠিকই আছে। কিন্তু তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করিয়াছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, কুরআনকে আমি প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি। তবে শয়তানদের কেউ যদি চুরি করে সংবাদ শুনে পালায় তাহলে জ্বলন্ত উল্কা পিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে। দেখুন সূরা শু’আরা ও সূরা হিজর ।

আর আমরা দ্বীনের মেহনতের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা খুলিয়া বসিয়াছি। আমরা মাদরাসা বানাইয়াছি, পীরের খানকাহ গড়িয়াছি, তবলীগের মারকাজ প্রতিষ্ঠা করিয়াছি। কিন্তু আমাদের কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই। কোন ইহুদী বা খ্রিস্টানকে শয়তান যেন প্ররোচনা দিতে পারে না, আমাদের প্রচেষ্টাগুলোকে হ্যাক করতে।

আমরা ইহুদী বিষয়ে মাথা ঘামাইতে চাহি না। আমরা শুধু আমাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা মেহনতগুলোর বর্ধিত কলেবর দেখিয়াই প্রশান্তি লাভ করি। কিন্তু তাহার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি নাই। শত শত বছর ধরে তাহা খোলা ময়দানে খোলা পড়িয়া রহিয়াছে।

যখনই কেহ মহানবী রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কোন শিক্ষাকে কাটছাট করিয়াছে বা নিজের মনমতো আকৃতি দিয়াছে আমরা ভাবিয়াছি ইহা আমাদের ভালোর জন্যই করা হইয়াছে। টুপী পাগড়ী ঘন দাড়ি দেখিয়া বিগলিত হইয়া গিয়াছি।

আমরা ভুলিয়া গিয়াছি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এমন ভাইরাসই আক্রমণ করবে যা উইন্ডোজের সাথে মানানসই। একসময় তা পুরো সিস্টেমকে নিজের কব্জায় পুড়িয়া লয়।

ইহুদীরা ইহুদী নাম দিয়া মুসলমানদের কেন হ্যাক করিতে যাইবে !! তাহারা মুসলমানদের দরদী হইয়া মুসলমানদের সিস্টেমে ঢুকিয়া পড়িবে। ইহা বুঝিতে কি আলেম হইতে হয়? পিএইচডি ডিগ্রী দরকার হয়?

……।

ইমাম মাহদী য়ালাইহি সালাম যখন আসিবেন তাহাকে কেহ চিনিতে পারিবে না। তিনি আল্লাহ্‌র শেখানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিবেন। ৪০ বৎসর কাল তাহাকে কেহ সনাক্ত করিতে পারিবে না। যখন তিনি প্রকাশিত হইবেন তখনও প্রকৃত মুসলমান ছাড়া কোন ইহুদী খ্রিস্টান শয়তানের এজেন্ট তাহার কাছে ঘেঁষিতে পারিবে না।

পুনশ্চঃ

যেইসব আলেমরা ফতোয়া দেয়, হ্যাঁ, আপনি আপাতত ব্যাংকের চাকরী করিতে থাকুন, পাশাপাশি অন্য চাকরী দেখুন। সময় সুযোগ মতো ব্যাংকের চাকরী ছাড়িয়া দিলেই হইবে।

ইহাদের থেকে সাবধান হউন। এই ফতোয়ার অর্থ হইল,

আপনি আপাতত আপনার মায়ের সাথে জেনাহ করতে থাকেন। একসময় ভালো বউ পাইলে কালেমা পড়ে বিবাহ কইরে ফেইলেন।

অথবা আল্লাহ্‌র ও তার রাসূলের সাথে আপনি যে যুদ্ধ ঘোষনা করিয়াছেন ইহা বহাল থাকুক। সময়মতো যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ভাগিয়া যাইয়েন।

– আসলে এই সকল আলেমদের মগজের ভেতর ইহুদীদের মগজ এমনভাবে বসিয়া গিয়াছে যে ইহুদীদের সেই আদি ও সনাতন সুদী ব্যবস্থাও তাহাদের সামান্য বিচলিত করিতেছে না।

হ্যাকিং ইন দি পাওয়ার পলিটিক্স

লিখেছেনঃ Ashraf Mahmud

যে কোনো একটি সুসংগঠিত দলকে যদি হ্যাক করতে হয়, তবে তার প্রত্যেক সদস্যকে কন্ট্রোল করার দরকার হয় না। শুধু শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনকে হ্যাক করলেই হয়ে যায়। ঐ শীর্ষ কয়েকজন, যারা সিদ্ধান্ত নেয়, দলের বা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ করে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমকে এমনভাবে বদলে ফেলা হয় যা তাদের দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটাকে বলা যায় Infiltration বা অনুপ্রবেশ। এটা কীভাবে করা যায় তা’ জানার দরকার নেই। এটা যারা করে, তারা জানলেই চলবে। আমার আপনার তা’ প্রয়োজন নেই। এটা যখন করা হয়, তখন দলের সাধারণ সদস্যরা জানতেই পারে না। নিঃশব্দে অগোচরে কাজ হয়ে যায়। তখন পুরো দল ভ্রান্তপথে চলতে থাকে। এ রকম ঘটনা সব সময়ই হয়। নিরন্তর। সাধারণ মানুষ জানতেই পারে না। ইতিহাসে আমার জানা মতে নিঃশব্দে অগোচরে সব চাইতে বড় প্রতিষ্ঠান যেটি হ্যাকড্ বা বেদখল হয়ে গেছে তা হলো Roman Catholicism বা রোমান ক্যাথলিক খৃষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব। এটা Jesuits-রা দখল করে নিয়েছে। মানে, শয়তানের উপাসকরা। ক্যাথলিক জনসাধারণ দীর্ঘ অনেক যুগ পর একটু একটু জানতে পারছে। তবে এখনও অনেকেই জানে না। আমি শুধু একটি উদাহরণ দিলাম। এরকম প্রত্যেক দেশেই হয়। আমাদের বাংলাদেশেও। সেটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হতে পারে। রাজনৈতিক দল হতে পারে। কিংবা সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও হয়, তবে এক্ষেত্রে হাতবদল হলে তা’ মানুষ মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারে। অর্থাৎ সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হ্যাকিং হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা নিঃশব্দে অগোচরেই হয়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত এজেন্ডার বিপরীত এজেন্ডা বাস্তবায়ন চলে।

কে জিতল?

তবলীগের কোন পক্ষ জিতেনি, জিতেছে দুই পক্ষের মধ্যে ঢুকে যাওয়া ইহুদি খ্রিষ্টান চক্র তথা জায়নিস্টরা। আজকে টঙ্গীর তীরে বিজয় হয়েছে ইহুদিদের যারা দুই পক্ষে ঢুকে পড়েছে, আর কেউই তাদের বাধা দেয়নি। তারাই আজকে মুসলমানদের গ্রূপ লিডার, আমির, উমারাহ। রাতের আঁধারে তাদের একাত্মতা আমরা দেখিনা, শুধু দিনের আলোয় তাদের কোরআন হাদিসের ভুলভাল ব্যাখ্যা শুনে ঠিক ঠিক বা বেশক বেশক বলে মাঠ গরম করি। সিফফীন থেকে আমরা শিক্ষা নেই না। কিভাবে ইহুদিরা ১৪০০ বছর ধরে মুসলমানদের পেছনে লেগে আছে। একেকটা সুন্নত উঠিয়ে দিয়ে নতুন নতুন বিদয়াত চালু করেছে। ৪০ দিনে গাট্টি নিয়ে বের হওয়ার যে চিল্লা এটা অবশ্যই একটা বিদয়াত যা প্রায় ১০০ বছর ধরে চলে আসছে। এটা ইসলামে নতুন আমল ঢুকানোর নামান্তর। এরকম যদি টাইম ফ্রেমের প্রয়োজন থাকত তবে অবশ্যই নবীজি ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তা বলে যেতেন। সাময়িকভাবে এরকম টাইম ফ্রেম মুসলমানরা প্রয়োজন সাপেক্ষে বানাতে পারে, কিন্তু তাকে একেবারে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে দেয়ার কি ভিত্তি থাকতে পারে? না এটা কোরআন হাদিসে আছে, না এটা মুসলিম উম্মাহর ইজমা। এরকম নতুন আমল ফেরকার পথ খুলে দেয়। হযরত ঈসা আ’লাইহিস সালাম নবী হলেও তিনি যখন আবার ফিরে আসবেন কোন নতুন আমল চালু করতে পারবেন না। তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের অনুসরণই করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ইসলামী খেলাফত অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন জিনিস। এটা বংশ পরম্পরায় হওয়ার কথা নয়। যখন তবলীগের নেতৃত্ব বংশ পরম্পরায় রান করছে তখনই সন্দেহ হওয়া উচিত ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে যে অবস্থায় ছেড়ে গেছেন, আলী রাদ্বীআল্লাহু তায়ালা আনহু পর্যন্ত প্রতিটি খলিফা উম্মতকে সে অবস্থায় ছেড়ে গেছেন। কেউই নিজ বংশীয় লোকদের খলিফা করে যাননি। এমনকি আলী রাদ্বীআল্লাহু তায়ালা আনহুও হাসান রাদ্বীআল্লাহু তায়ালা আনহুকে দায়িত্ব দিয়ে যাননি। সে হিসেবে তবলীগের নেতৃত্ব ইসলামসম্মত হচ্ছে না। কয়েক পুরুষ ধরে তারা রাজনৈতিক দলের মতো তবলীগের নেতৃত্বে আসীন। তাদের কেউ প্রশ্নও করছে না, যেন তারা সমস্ত প্রশ্নের ঊর্ধ্বে।

এরপরের বিষয়টা বর্তমান আমীরকে মানা নিয়ে। আমি সা’দ সাহেবের পন্থী না, তার বিপক্ষ পন্থীও না। তারা সবসময় বলেন, আমীরের মাথা যদি কিসমিসের মতো ছোট হয় তবুও তার এতায়াত করতে হবে। খুব ভালো কথা। যে কথা বেশি বেশি বলা হয়, সে বিষয়ে মনে হয় আল্লাহ পরীক্ষা বেশি নেন। এখন এক অর্ধেক বলছে সা’দকে মানা যাবে না। তার এই এই সমস্যা। আচ্ছা, আপনারা তো মোদীকে মানেন। নরেন্দ্র মোদীর মতো একজন কাট্টা কাফেরকে তো মানতে কোন তাবলীগওয়ালার বা কোন আলেমের আপত্তি নেই। সা’দ সাব কি তার চেয়েও খারাপ? শুধু তাই নয়, আপনারা এমন সব লোকদের মানেন যারা আল্লাহর আইন দিয়ে বিচার ফয়সালা করে না। এমনকি যাদের সমস্ত কাজকর্মে আল্লাহ ও তার রাসূল বিরোধিতা স্পষ্ট। হ্যাঁ, আমি দেশে দেশে সরকারগুলোর কথাই বলছি। আপনারাই তাদের কাছে দুই গ্রূপ বিচারের জন্য যান। তাদের মানেন কেন? ও তাদের হাতে লাঠি আছে, সেজন্য? তাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা আছে। যেহেতু রাষ্ট্রীয় ব্যাপার, তাই মানতে হয়। আর সা’দ সাবেরটা ধর্মীয় ব্যাপার, তাই মানা যাবে না। এই তো? দাঁড়ান, দাঁড়ান। ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে আলাদা করার শিক্ষা আপনাকে কে দিয়েছে? এ শিক্ষা তো ইসলাম দেয়নি। এ শিক্ষা তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেননি। তাহলে এ শিক্ষাও নতুন শিক্ষা, অর্থাৎ ইহুদিদের তৈরি সিলেবাসের শিক্ষা। আর এ শিক্ষা সহীহ হওয়ার ব্যাপারে তবলীগের বা উলামা মাসায়েখদের কোন দ্বিমত নেই।

আপনারা মানবেন ইহুদি তরিকা, আর লেবাস পড়বেন ইসলামী তরিকার তা হবে কেন? এতএব, আল্লাহর শাস্তি ভক্ষণ করুন। আশা করি, আল্লাহ, আপনারা যারা ভুল করেছেন, ভাইয়ের উপর জুলুম করেছেন, আল্লাহ তায়ালা আপনাদের ও আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। শুধু নিজে নিজের ভাইদের আগে ক্ষমা করে দিন। পাশাপাশি পুনরায় কোরআন হাদিস সঠিক ভাবে সঠিক ব্যাখ্যাসহ পাঠ করুন। জিহাদের গোঁজামিলের ব্যাখ্যা পরিহার করুন।

আর যদি তা না করুন, তাহলে বনি ইসরাঈলিদের মতো একদল আরেকদলকে হত্যা করতেই থাকবেন। যতক্ষণ না আল্লাহর সাহায্য এসে পৌঁছায়।

ইমাম ভুল করেনি !!

20180925_170153

ছোটবেলায় শুনতাম যে এজিদ বা ইয়াজিদ একজন অনেক বড় জালেম ছিল। তার হুকুমে সীমার নামে একজন নবীজি ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র হুসাইন রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আ’নহুকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে। গলার সামনের দিকে দিয়ে কাটতেছিল না, কারণ সেখানে নাকি নবীজি ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম চুমু দিয়েছিলেন। তাই হুসাইন রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আ’নহু নাকি বললেন, হে সীমার, তুমি আর কষ্ট দিওনা। তুমি পেছন দিক থেকে কাট। তারপর ওই নরাধম পেছন দিক থেকে হুসাইন রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আ’নহুর পবিত্র শির আলাদা করে দেয়। তারপর নবী পরিবারের আরো সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহার করে এজিদের লোকেরা। বড় হয়ে হুজুরদের মুখে শুনলাম, এগুলো বিশ্বাস করা যাবে না। মীর মশাররফ হোসেনের বিষাদসিন্ধুতে নাকি অনেক বাড়াবাড়ি আছে। ঠিক আছে, বিশ্বাস করলাম না। আস্তে আস্তে দেখি হুজুরেরা বলা শুরু করলেন, ইমাম হোসাইন শহীদ হয়েছেন এটা কোন ব্যাপার না। আরো কত সাহাবা রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আ’নহুম শহীদ হয়েছেন। কই তাদের নিয়ে তো কোন আলোচনা নেই। ফলে, আশুরার দিন কারবালার আলোচনা আর শোনা যায় না কোথাও। এ আলোচনা করলে যেন বিশাল গুনাহ হয়ে যাবে, বিদআত হয়ে যাবে। একসময় শুনতে পেলাম যে, ইয়াজিদকে নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না। অতীতে বড়রাও নাকি তাই করেছেন। এমনকি ঐ সময় সাহাবীরাও নাকি তার সমালোচনা করতেন না। তার কৃতকর্মের ভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিতে হবে। আচ্ছা, এজিদের সমালোচনা করা ছেড়ে দিলাম। এখন দেখি আবার কেউ কেউ বলা শুরু করেছে, বৈধ খলিফার বিরুদ্ধে আন্দোলন করা নবী দৌহিত্রের উচিত হয় নাই। তিনি ভুল কাজ করেছেন। আর ইয়াজিদ তাকে হত্যা করিয়ে শরীয়ত সম্মত কাজই করেছে। হয়তোবা একটু বাড়াবাড়ি হয়েছে, তবে ওটা ধর্তব্য না। এরকম একটা ভাব। প্রতিটি মুসলমানই জান্নাতি, এ থিওরি মেনে কেউ কেউ তো তাকে জান্নাতের সার্টিফিকেটও দিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টা খুবই সন্দেহজনক হয়ে যাচ্ছে। আসলে তাদের উদ্দেশ্যটা কি? নবীজি ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করলেন, সেই হুসাইন রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আ’নহু, তিনি ইসলাম বুঝলেন না, আর ইসলাম বুঝল এজিদ? এখন খুনের পৃষ্ঠপোষকদের যদি সমালোচনা করা না যায়, তাহলে এরশাদ সিকদারের সমালোচনা কেন? কেন ইয়াহিয়া খানের সমালোচনা? কেন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সমালোচনা করা হবে? কেন সারা পৃথিবীর খুনিদের সমালোচনা করা হবে? আর একজন এজিদ, তার সমালোচনা করা যাবে না? এই লোকগুলো কারা যারা আজকে এজিদকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে? এজিদের জন্য হামদরদী দেখাচ্ছে। এরা কি এজিদের অনুসারী? এরা কি ক্ষমতার বলয়ের কাছ ঘেঁষে থাকা আলেম? আমাদের জানতে হবে ক্ষমতা থেকে বা দরবার থেকে দূরে থাকা আলেমরা কি বলেন? আজকে মনে হচ্ছে সারা পৃথিবীতে এজিদের অনুসারী মুসলমান দিয়ে ভরে গেছে। চারদিকে বিদআত, অরাজকতা, অন্যায় সেসব নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই। কারবালার আলোচনা করলেই, না না, এ আলোচনা করা যাবে না। কারণ, আমরা জানি হক্ব এর মৃত্যুর পর হক্ব এর আলোচনা করতে দেয় না বাতিলরা। আর ইমাম মাহদী আ’লাইহিস সালাম ইনশাআল্লাহ অবশ্যই এজিদের অনুসারী হবেন না। যে আন্দোলনকে দাবিয়ে দেয়া হয়েছিল কারবালায়, ইমাম মাহদী আ’লাইহিস সালাম এসে সে আন্দোলনের বিজয় ঘটাবেন।

“বাংলাদেশের নাস্তিকদের জন্য দুঃসংবাদ”

 

সাবেক সোভিয়েত আমলে ইহুদিদের চক্রান্তে সোভিয়েত ইউনিয়নকে নাস্তিকতা দ্বারা একসময় নৈতিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। রাশিয়া সেই ধ্বংস থেকে পুনরায় গড়ে উঠতে থাকে এবং ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে পুনরায় একটি পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। শুধু পরাশক্তি হিসেবেই নয়,বরং বিশ্বাসী পরাশক্তি হিসেবে। রাশিয়া সোভিয়েত শয়তানিজম থেকে পুনরায় অর্থোডক্স খ্রিস্টানের পথে আসতে শুরু করে। যেখানে ভ্যাটিকান সিটির পোপ পর্যন্ত ইঞ্জিলে বর্ণিত সোডোম ও গোমরাহর শিক্ষা ভুলে,আল্লাহর আদেশকে অমান্য করে সমকামীতার পক্ষে অবস্থান নেয়, সেখানে রাশিয়া ঘোষণা করে, নো গে, নো লেসবিয়ান। নো এলজিবিটি ইন রাশিয়া। যেখানে পশ্চিমারা নিজেদের খ্রিস্টান পরিচয়ের চেয়ে সেক্যুলার এথিস্ট পরিচয় দেয়াটাকেই সাইন্টিফিক ও যুক্তিযুক্ত মনে করে আনন্দ প্রকাশ করে বলে, “খোদা এখন সভ্যতার যাদুঘরে থাকে”; সেখানে রাশিয়ায় “খোদা নেই” বললে গ্রেফতার করা হয়। রাশিয়ার ধর্মীয় নেতা বলেন, ”রাশিয়া জানে ধর্মহীন রাস্ট্র কেমন হয়। তাই রাশিয়া প্রত্যাবর্তন করছে বিশ্বাসের পথে।”

অন্যদিকে চীনকে নিয়েও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রোপাগান্ডার শেষ নেই। তারা নাকি মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার পালন করতে বাধা দেয়। এটা চীনবিরোধী প্রচারনার অংশ। কিন্তু চীনের মানুষ হজে যায় এসব খবর মিডিয়ায় আসে না।

আজকে আলোচনায় আমরা বালাদেশের নাস্তিকদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ কিভাবে হবে তা নিয়ে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ। অবশ্যই বলার অপেক্ষা রাখে না যে নাস্তিকদের ভবিষ্যৎ দেশের রাজনৈতিক অবস্থার উপরই নির্ধারণ হবে। এজন্য দেশীয় রাজনীতির সঠিক ইন্টারপ্রিটেশন জরুরি। যদি আপনি ভুল সূত্রে দেশের রাজনীতিকে ব্যাখ্যা করেন তাহলে এর থেকে আপনি যেসব অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন তা সবই একে একে ভুল হতে থাকবে। ভুলগুলো কাজ করে চেইনের মতো। সাম্প্রতিক ইন্ডিয়ার সমকামিতা নিয়ে আদালতের রায়ে আমাদের বাংলাদেশের নাস্তিকদের জগতে খুশির জোয়ার লক্ষ্য করা যায়। এটা ছিল তাদের জন্য একটা ভুল বার্তা যে অচিরে বাংলাদেশেও তারা একই অবস্থা প্রত্যক্ষ করবে। নাস্তিকদের অন্তরজগত সবসময় এতটা কুরুচিপূর্ণ জিনিস দ্বারা ভর্তি থাকে যে তারা রাজনৈতিক ঘটনাবলীর সঠিক বিচার বিশ্লেষণ করে তা থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত বের করে আনতে অক্ষম। তবে তার আগে আমি পবিত্র কোরআন থেকে একটি আয়াতের তরজমা উপস্থাপন করতে চাই। ” ….. আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়। (২ঃ২৫১)” যেমন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, পৃথিবী দুটি বলয়ে বিভক্ত। একটি আমেরিকান ও অন্যটি রাশিয়ান ব্লক। কাজেই পৃথিবীর সব দেশের সরকারকেই একটা পক্ষ নিতে হবে। এ থেকে কারো মুক্তি নেই। কেউ ইচ্ছা করলেও নিউট্রাল থাকতে পারবে না বা কেউ দুইটি পক্ষই অবলম্বন করতে পারবে না।

কাজেই এখন আমাদের দেখতে হবে, বিশ্বরাজনীতির নতুন পোলারাইজেশনে বাংলাদেশ সরকার কোন পক্ষে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে এটা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে যে, বালাদেশে মার্কিন পক্ষ বেশ চাপের মুখে আছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সুদী কারবারী, আল জাজিরায় সাক্ষাৎকার দেয়া ফটোসংবাদিকসহ অনেক মার্কিনপন্থী আঁতেলরাও বেশ চাপের মুখে। মার্কিন পক্ষ মানে আমেরিকা ইসরায়েল ইউরোপ ইন্ডিয়া অর্থাৎ ইহুদী খ্রিস্টান ও মুর্তিপূজক জোট। নতুন উদীয়মান বেলুন, বাংলাদেশের নামজাদা মুহুরী এবং আরো কিছু ঝরে পড়া পাতাদের নেতৃত্বে যেসব তৎপরতা শুরু হয়েছে তা মার্কিনদের পৃষ্ঠপোষকতাতেই হচ্ছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনার ম্যাজিক সরকার এমন দুইটি দেশের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলে যারা ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন। এ বিষয়ে ইন্ডিয়ার কিছুই করার নেই।

আসুন দেখি এ বিষয়ে কোরআনের নির্দেশনাগুলো দেখি। আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে কোরআনে যেসব আয়াত আছে তাতে এ জোটের পক্ষ অবলম্বন করা নিষেধ। “তোমরা ইহুদি খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না যারা নিজেরা পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট শত্রু হলো ইহুদি ও মুর্তিপূজকরা।” আর (সেই সময়) তোমাদের প্রতি ভালবাসা এবং মমতায় সর্বাধিক হবে একদল লোক যারা বলে আমরা খ্রিষ্টান। আল্লাহ এখানেই থেমে যান নাই, তিনি আরো বলছেন, এর কারণ তারা মঠবাসী / আশ্রমবাসী সাধু দরবেশ এবং তারা অহংকারী নয়।” (দ্র: সূরা মায়েদা)

অর্থাৎ ইহুদি খ্রিস্টান মুর্তিপূজারী চক্র আমেরিকা, ইসরায়েল, ইউরোপ, ইন্ডিয়ার সাথে রাজনৈতিক ঐক্য করা নিষেধ। কিন্তু আরেকশ্রেণীর খ্রিস্টান যাদেরকে আমরা অর্থোডক্স খ্রিস্টান বলি তাদের সাথে রাজনৈতিক ঐক্য করা যাবে। আর যেকোনভাবেই হোক, হাসিনা সরকার তাই করছে।

অন্যদিকে দেশের ইসলামিক দলগুলোও দুটি পক্ষ হয়ে গেছে। সবচেয়ে প্রভাবশালী “তেঁতুল হুজুরের (!)” পক্ষ হাসিনার সাথে একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। নিয়মিত দোয়া খায়ের করছে। আবার রাস্তাঘাটেও নেতাদের দোয়া ও মোনাজাতের পোস্টার দিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। এগুলো সবই বাঙ্গালী ইসলামিক সেন্টিমেন্টের বিষয়। যদিও আসল ইসলামের সাথে এসবের কোন সম্পর্ক নেই। এখন সামনের আগত দিনগুলোতে বাংলাদেশের নির্বাচন। সেখানে বর্তমান ধারাবাহিকতায় আমরা সম্ভবত একটি নতুন বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছি যেখানে নাস্তিকতার কোন ঠাঁই নেই।

(শুধুমাত্র নাস্তিকদের পেইজের জন্য লিখিত একটি কৌশলগত পোস্ট।)

নারীদের ঘরের বাইরে এসে চাকুরী

আজকাল নারীদের ঘরের বাইরে এসে চাকুরী করাটা একটা কমন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা নাকি থিওরিটিকালি ইয়াজুজ মাজুজের নতুন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার অংশ রূপেই প্রতীয়মান হয়। বিষয়টি আজকাল পুরুষদের কাছেও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

একজন নারী যখন বাহিরে কাজ করতে যায় সাধারণত সে মোটামুটি ভালো ড্রেসটা পড়েই যায়। ভালো ড্রেসের পাশাপাশি একটু আলতো করে লিপিস্টিক ও প্রসাধনী লেপে দিতেই হয়। আর কর্মক্ষেত্রে একটু বাড়তি স্মার্টনেসের জন্য বাচনভঙ্গীটাও একটু সুন্দর করতে হয়। কিন্তু এই নারীটা যখন ঘরে থাকে সাধারণত আটপৌরে কাপড়েই থাকে, বাচনভঙ্গির স্মার্টনেসও তেমন থাকে না। ঘরের ভেতর প্রসাধনী দিয়ে আকর্ষণীয় হয়ে বসে থাকার কোন মানে হয় না।

ফলে কি হয়? অফিসে পুরুষ কলিগ তার সাথে কথা বলতে আগ্রহী হয়। কারণ ঐ লোকের বাসায়ও হয়তো তার স্ত্রী সেজেগুজে আকর্ষণীয়া হয়ে থাকে না। যা কলিগের মধ্যে পাওয়া যায়। এই মহিলার স্বামীও অন্য কোন অফিসে হয়তো চাকরী করে। সেখানেও মহিলা কলিগ, সেখানেও একই রসায়নের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া চলতে থাকে।

এদিকে ঘরের ভেতর তৈরি হয় নিরাসক্তি, বাহিরে আসক্তি।

থিওরিটিকালি ব্যাপারটা এরকমই। বিভিন্ন জায়গায় পরিবেশ পরিস্থিতিভেদে এর মাত্রা কমবেশি হতে পারে। অনেক সাধু পুরুষ, ইনোসেন্ট নারীরা আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন।

অনেকে বলতে পারেন, ইসলাম কি নারীদের চাকরী করার অধিকার দেয় না।

অবশ্যই দেয়। কিন্তু আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যাগণ, স্ত্রীগণ, খোলাফায়ে রাশেদীনের কন্যাগণ যাদের আমরা ‘আম্মাজান’ বলি, যারা আমাদের আদর্শ তারা কেউই চাকরী করতে বাইরে যাননি।

চৌদ্দশ বছর আগের কথা বাদ দিই, চল্লিশ বছর আগেও নারীরা গণহারে চাকরী করতে যেত না। ওসব নারীদের থেকে বহু প্রতিভাবান সন্তান বের হতেন। আমি জানি না, এইসব নারীদের থেকে অটিস্টিক শিশু ছাড়া আর কি বের হবে।

চোখ

এ পৃথিবীতে শুধুমাত্র নবী রাসূলগণই হচ্ছেন প্রকৃত দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন এবং প্রকৃত সত্যবাদী। কারন তারা শুধু বাহিরের চোখ দ্বারাই দেখেন না। তারা অন্তর্চক্ষু দ্বারা দেখেন। নবী রাসূলগণ বাদে পুরো মানবজাতি অন্ধ। যদিও তাদের হাই পাওয়ারের চোখ এবং হাই পাওয়ারের চশমা আছে। যেমন ধরুন, আমাদের নবীজি হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ চোখে জান্নাত জাহান্নাম দেখে এসেছেন। আমরা কেউ দেখিনি। তিনি দেখে এসে আমাদের জানিয়েছেন, তাই আমরা জানতে পেরেছি। অতএব তাঁর দেখার ক্ষমতা আর আমাদের দেখার ক্ষমতা এক নয়। তিনি যা দেখেছেন তা আমরা দেখতে পাইনি। কিন্তু তার সত্যবাদিতার কারণে আমরা তাকে বিশ্বাস করি। তিনি দেখেছেন, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা নারী। আর জান্নাতে অধিকাংশ গরীব। তিনি দেখেছেন, যারা সুদ খায় তাদের স্বচ্ছ পেটের ভেতর সাপ কিলবিল করছে। তারা রক্তের নদীতে সাঁতার কাটছে। যখন তারা সাঁতরে কূলে এসে পৌঁছাতে চাচ্ছে তখনই তাদের মাথায় পাথর মেরে আবার মাঝ সাগরে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, এসব জিনিসগুলোর অবশ্যই অস্তিত্ব আছে, কারণ আমরা জানি নবীরা সবসময় সত্যবাদী হন। কিন্তু আমাদের দেখার চোখ নেই বলে দেখতে পারছি না। কাজেই আমাদের সেই দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন নবীর অনুসরণ করতে হচ্ছে। আর তাতেই আমাদের মুক্তি। যদি অনুসরণ না করি তাহলে আমরা ভুল পথে চলে যাব এবং রক্তের নদীতে গিয়ে হাবুডুবু খাব।

অন্ধ ভিক্ষুকরা যখন ভিক্ষা করে লাইন ধরে গান গেয়ে চলে তখন সবার সামনে একজন দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি থাকে। তার উপর পুরো কাফেলার বিশ্বাস থাকে। কাঁধে হাত রেখে সারি বেঁধে তারা চলে। ফলে তারা দূর দুরান্তে অপরিচিত জায়গায় যেতে পারে। পুরো মানবজাতি যদি এভাবে নবীজির অনুসরণ করে তাহলে অবশ্যই ইনশাআল্লাহ সবাই প্রকৃত মঞ্জিলে পৌঁছতে পারবে। কারন নবী সামনে থেকে আমাদের বলে দিচ্ছেন কোথায় রক্তের নদী, কোথায় হাতুড়ি, কোথায় মুগুর, আর কোথায় ফুলের বাগান।

অন্যদিকে দাজ্জালও আমাদের সংবাদ দেয়। সেও জান্নাত জাহান্নামের পথ দেখায়। কিন্তু সে যেহেতু এক চোখ বিশিষ্ট, উপরন্তু মিথ্যাবাদী, কাজেই সে আমাদের মিথ্যা সংবাদ দেয়। আর সে নিজেই জানে না সঠিক পথের দিশা। সে দুনিয়ার আরাম আয়েশকে বলে জান্নাত। সে বলে, সুদ খেয়ে পেট ভরাও, জুলুমের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাক, আর বৈধ অবৈধ সমস্ত পথে টাকা কামাও। টাকাই জান্নাত। আর দুনিয়ার দারিদ্রই জাহান্নাম। ওই যে দেখ, সিরিয়া ও ইয়েমেনবাসীদের, ফিলিস্তিনবাসীদের, আফগানবাসীদের, তারা জাহান্নামে আছে। তাদের হাতে মুখে রক্ত। তাদের ড্রোনের ছেঁচা খাওয়া শরীর। ওই যে দেখ, তোলাবাদের, না খেয়ে আছে, আলেমরা জেলে আছে। এভাবে তারা শহীদদের দেখায় ব্যর্থ হিসেবে, আর স্যুট বুট হাই হিল বা লেবাস পরা রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ধর্মীয় পুরোহিত, সেলিব্রেটি ইত্যাদি কিছু ধর্মহীন, ঠকবাজ, জোচ্চুর লোকদের দেখায় সফল হিসেবে।

কাজেই অন্ধকে যে অনুসরণ করবে সে কখনো সঠিক পথের সন্ধান পাবে না। আর যে মিথ্যাবাদিকে অনুসরণ করবে সে কখনো সফল হবে না।

চারদিক ছেয়ে গেছে

ইয়াজুজ মাজুজ আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক, বৈবাহিক, অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও ধর্মীয় প্যাটার্ন পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের ঘুমের প্যাটার্নও পরিবর্তন করে দিয়েছে।

ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনা এতো ভয়াবহ যে এরা রাষ্ট্র থেকে আল্লাহ্‌র আইনকে বিতাড়িত করেছে, আল্লাহ্‌র নির্ধারিত অর্থনীতি বাদ দিয়ে নিজেদের অর্থনীতি চালু করেছে, আল্লাহ্‌ যা হালাল করেছেন তা হারাম করেছে (যেমন, ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে), আল্লাহ্‌ যা হারাম করেছেন তা হালাল করেছে (যেমন, সুদ, মদ), মানুষের জন্মকে আটকে দেয়ার চেষ্টা করেছে (জন্ম নিয়ন্ত্রণ), চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা চালু করেছে, ফলে চিকিৎসায় রোগমুক্তি হওয়ার পরিবর্তে চিরস্থায়ী অসুখে মানুষ পতিত হয়েছে (যেমন ডায়াবেটিস, ক্যানসার), আখিরাতের সফলতাকে বাদ দিয়ে দুনিয়ার সফলতাকে হাইলাইট করেছে, আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুতে পরিবর্তন করেছে (যেমন, জেনেটিকালি মডিফাইড ফুড), শিল্প কারখানা, মোটরগাড়ি ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ করেছে, নদীতে বাঁধ দিয়ে নদীর গতিকে পাল্টে দিয়েছে, ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র বানিয়েছে (যেমন, এটম বোম)। তারপরও মানুষরা নাকি ইয়াজুজ মাজুজ দেখে না, ফেতনার জমানা দেখেনা।

ইয়াজুজ মাজুজের দেয়াল ধ্বংস হওয়ার পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত ইসলামী সাম্রাজ্যের বিস্তার মদিনা থেকে সুদূর ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। আমাদের দ্বিতীয় খলিফা উমর রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আ’নহুর শাহাদাতের সময় একটি বিশেষ ফেতনার দরজা চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। সম্ভবত সেটিই ছিল সেই ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনার দরজা বা প্রাচীর। (যদিও বিপরীত মত আছে, কিন্তু সে মত তো কোরআন হাদিস দ্বারা অকাট্য প্রমাণিত নয়, বরং ইয়াজুজ মাজুজকেই কোরআনে ফেতনার ফ্যাসাদের জাতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর উমর রাদ্বিআল্লাহু তায়ালা আ’নহুর শাহাদাতের মাধ্যমেই পৃথিবী ফেতনা ফ্যাসাদের জমানায় প্রবেশ করে।)

ফলে আমরা দেখতে পাই, মুসলমানদের যে খেলাফত একদা পূর্ব থেকে পশ্চিমে আলো ছড়াতো সে খেলাফত ধীরে ধীরে আঁধারে ঢেকে যায়। এক পর্যায়ে এসে গত শতকে খেলাফত বিলুপ্ত হয়। মুসলমানদের এক জাতি খন্ড বিখন্ড হয়ে পঞ্চাশের বেশি জাতি সৃষ্টি করে।

এর চেয়ে বড় ফেতনা ইসলামী রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আর কি হতে পারে?

আর ব্যক্তিগতভাবে ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনা প্রতিটি মানুষকে কামড় দিয়েছে। মানুষকে স্বাভাবিক খাদ্যের পরিবর্তে দূষিত ব্রয়লার ফুড, ফাস্টফুড, টিনজাত খাদ্য, বোতলের পানি খাওয়াচ্ছে। মানুষের বিবাহ সাদি করার স্বাভাবিক অধিকারকে নষ্ট করেছে, এমনকি রাতকে তারা দিনে পরিণত করেছে। ফলে হাজার হাজার বছর ধরে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ঘুমের সার্কেলকেও নষ্ট করে ফেলেছে। মানুষ এখন আর ই’শার পর ঘুমোতে যায় না, তাহাজ্জুদ পড়ে না, সকালে ঘুমের কারনে ফজরের সালাত অনেকে পড়তে পারে না।

40330303_2046495838997624_2425489072819535872_o843951092.jpg

আসুন আজকে আমরা পরিমাপ সম্পর্কে কিছু বাস্তব জ্ঞান অর্জন করি। এ বিষয়টি ইস্কেটলজির এডভান্স স্টুডেন্টদের উদ্দেশ্যে করা। তারপরও অত্যন্ত ধৈর্যশীল পাঠকদেরও তা বোঝার কথা। আচ্ছা, বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা হয় মিলিমিটারে। আপনারা রুলার স্কেলে দেখবেন ১ মিমি খুবই ছোট একটু জায়গা। প্রায় আপনার নখের অগ্রভাগের সমান। টেবিলের উপর ১ ফোঁটা পানি ফেললে তার দৈঘ্য ১ মিলিমিটারের বেশিই হবে। কিন্তু আমি যদি বলি, আধা গ্লাস পানির উচ্চতাকে ১ মিমি বাড়াতে হবে তাহলে দেখবেন ১ ফোঁটা পানি যোগ করলে হবে না, বেশ কিছুটা পানি সেখানে যোগ করতে হবে। আবার যদি বলি, ১ ঘন্টায় ১ মিমি বৃষ্টিপাত তাহলে একটা বিশাল এমাউন্ট পানি হবে। অর্থাৎ প্রতিক্ষেত্রে আমরা ১ মিলিমিটার বলছি, কিন্তু প্রতিক্ষেত্রে পানির আয়তন কিন্তু সমান না। বড় পরিসরে আয়তন বড় হচ্ছে, আবার ছোট পরিসরে আয়তন ছোট হচ্ছে। ঠিক?

আবার দেখুন, যদি বলি পুকুরের পানি ১ ইঞ্চি বেড়েছে, আবার যদি বলি সাগরের পানি ১ ইঞ্চি বেড়েছে। দুটা কি একই অর্থ বহন করে? দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে হয়তো হইচই শুরু হয়ে যাবে। আর পুকুরের পানি ১ ইঞ্চি বাড়লেই কি আর ১ ফুট বাড়লেই কি?

এগুলো হচ্ছে পরিমাপের বাস্তব জ্ঞান।

আবার ধরুন, বলা হলো, ১ টা ট্রেনের বগি উল্টে পড়ে গেছে, আবার আরেক জায়গায় ১ টা রিকশা উল্টে পড়ে গেছে। দুইক্ষেত্রে অংকের হিসাব সমান, কিন্তু বাস্তব ফলাফল কি সমান?

একদিন নবীজি ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ভয়ার্ত অবস্থায়
আম্মাজান জয়নব বিনতে জাহাশ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আ’নহার নিকটবর্তী হলেন এবং বললেন: আল্লাহ ব্যতীত কারো উপাস্য হবার অধিকার নেই! আরবদের দুর্ভাগ্য, এক মহা অকল্যাণ তাদের কাছে আসছে।
(আজ) ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীরে একটি ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। নবী (সাঃ) তাঁর তর্জনী আর বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে একটি বৃত্ত তৈরী করে দেখালেন।”

আচ্ছা এখন বলুন, ইয়াজুজ মাজুজের ‘ফেতনার’ দেয়ালের ছিদ্র আর আপনার শার্টের ছিদ্র কি সমান? মোটেই সমান নয়, কারন আমরা আগেই জেনেছি ছোট পরিসরে কোন কিছুর আয়তন ছোট, আর বড় পরিসরে কোন কিছুর আয়তন বড়। জুলকারনাইন যে দেয়াল তৈরি করেছিলেন, তার একদিকে ছিল কৃষ্ণ সাগর আর অপরপ্রান্তে কাস্পিয়ান সাগর। দু’প্রান্তের মধ্যে ৮৩৬ মাইল বা ১৩৪৫ কিলোমিটারের দূরত্ব। যা বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্বের চেয়েও অনেক অনেক বেশি।

অতএব, আমরা বলতে পারি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের যুগেই ইয়াজুজ মাজুজের দেয়ালে ছিদ্র হয়েছিল, যা বাস্তবে ছিল বিশাল আকৃতির যা আমাদের নবীজিকে পর্যন্ত ভয়ার্ত করে তুলেছিল। সে ছিদ্র দিয়ে ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে আসা শুরু করে এবং একটা নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহতায়ালা সে দেয়াল চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেন। অন্য একটি হাদিস অনুসারে মনে হয়, হজরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আ’নহুর শাহাদাতের সময়েই সেই মহা বিপর্যয়টি ঘটে।

যারা এই লেখায় ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না, এবং ইয়াজুজ মাজুজ দাজ্জালের পরে বের হবে এ সংক্রান্ত হাদিস আনয়ন করেন, তারা জানবেন, আমরা এ বিষয়টি কোরআন ও হাদিসের সকল বর্ননার আলোকে একত্রে ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করি। শুধু ১ টি হাদিসের উপর নয়।কাজেই তারা দয়া করে এখানে বিতর্ক করবেন না। আপনাদের মতামত আপনাদের কাছে থাকুক। আমরা আপনাদের মতামতকে সম্মান করি, কিন্তু আমাদের মতামতকে গ্রহণ করি। যতক্ষন না তা আমাদের কাছে ভুল প্রমানিত হয়।