কোথাও ‘উহারা’ নেই

একজন তাবলীগের ভাই বললেন, আমাদের তবলীগে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু ৫ কাজ করি আর চিল্লা দেই। এটা করতে করতে একসময় যখন সবাই ইমানদার হবে তখন দ্বীন প্রতিষ্ঠা হবে। আপাতত মুরব্বীদের ঘিরে ধরা বিতর্ক দেখেও না দেখার কোশেশ করতে ব্যস্ত আছি।

একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা কেবল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামের বিজয়ের জন্য লড়ছি।

একজন চরমোনাইয়ের মুরীদ ভাই বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা আপাতত পৌরসভা নির্বাচনের জন্য লড়ছি। সামনে আমাদের লং মার্চ আছে।

একজন আহলে হাদীস বললেন, আমাদের শাইখদের মধ্যে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু সহি হাদিসের ভিত্তিতে যেসব জায়গার মুসল্লিরা আমীন আস্তে বলে সেসব জায়গায় হঠাত করে একদিন গিয়ে আমীন জোরে বলতে চাই।

একজন আইএস বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু শাইখ বাগদাদীর কথিত খেলাফত কায়েমের লক্ষ্যে রক্ত ঝড়াই।

একজন মাদ্রাসার উস্তাদ বললেন, আমাদের মাদ্রাসায় কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু ইলেম চর্চা করি। আপাতত সনদের স্বীকৃতি নিয়ে ব্যস্ত আছি।

একজন শীয়া বললেন, আমাদের শিয়াদের মধ্যে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু আলী রাযি বাদে অন্য সব সাহাবীদের সম্পর্কে আজে বাজে কথা বলি। আর কোন সমস্যা নেই।

একজন ওহাবী বললেন, আমাদের ভেতর কোন ইহুদী নেই। তবে আমরাই খেলাফত থেকে আস সৌদকে স্বাধীন করে ফিলিস্তীন ইহুদীদের কাছে বিক্রী করে দিয়েছি। এরপর থেকে ইহুদীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।

তাহলে তো বলতে হয়,

ইহুদীদের মতো ভদ্র সভ্য ভালো মানুষ দুনিয়ায় আর একটাও নেই। কোথাও কোন ইহুদী নেই। ইহুদীরা শুধু টিভি দেখে আর চিকেন ফ্রাই খায়। তারা আমাদের মধ্যে ঢুকতেই পারে না। তারা আমাদের আশেপাশেও নেই। আমরা ইহুদীদের ষড়যন্ত্র থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমাদের মুরব্বী থাকতে, আলেম উলামা থাকতে, আস সৌদের সামরিক জোট থাকতে ইহুদীদের নিয়ে চিন্তা নেই।।

তাহলে প্রশ্ন জাগে,

কুরআনে এতো বেশীবার ইহুদীদের বর্ণনা দেয়া হল কেন?

ইহুদীরা কেন নবীজীর (ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম) মজলিশে আড়ি পাতত?

ইহুদীরা কেন নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের থালায় বিষ দিল??

কেন দাজ্জাল ইহুদী থেকে আসবে?? কেন দাজ্জালকে সহজে চেনা যাবে না?

কিভাবে মুসলমানরা প্রতি বিঘতে বিঘতে ইহুদীদের অনুসরণ করবে??

এসব প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। উত্তর একটাই, ইহুদীরা আমাদের ধারেকাছেও নেই। তারা অনেক ভালো, শান্তশিষ্ট, সভ্য।

অথচ উপরের সবগুলোই যতটুকু না ইসলামের অনুসরণ তার চেয়ে বেশী ইহুদীদের অনুসরণ। এসব ইহুদীরা কোথায় থাকে? আসমানে? নাকি ভাগ হয়ে যাওয়া প্রতিটি দলের কেন্দ্রবিন্দুতে? যেখান থেকে প্রতিটা হুকুমকে মানুষ অনুসরণ করতে বাধ্য।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s