হারামের সাগরে বসবাস

শূকরের মাংস খাওয়া হারাম। স্পষ্ট হারাম। কুরআনের নির্দেশ। কিন্তু একই আয়াতে বলা আছে, তবে কেউ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হলে তখন আল্লাহ্‌ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা মায়িদা, ৩)।

কুরআনের অন্য আয়াতে বলা আছে, আল্লাহ্‌ কারো উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্বভার চাপিয়ে দেন না।

এখন এমন একজন লোকের কথা কল্পনা করি, যে নিয়মিত শুকরের মাংস খায়। এটাকে কোন অপরাধ মনে করে না। ভালো মনে করে। উপরন্তু জায়েজ মনে করে।

একই রকম ব্যাপার ঘটে যখন আমি মানুষের অধিকার নষ্ট করি, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করি। কিন্তু এটাকে কেয়ার করি না। মনে করি এটা আমার অধিকার। যেমন, আমরা যখন মোটর কার ব্যবহার করি সেটা দ্বারা অনেক মানুষের কষ্টের কারণ হই। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণের মাধ্যমে অনেকের ক্ষতির কারণ হই। কিন্তু এটা আমরা মোটেই খেয়াল করি? উপরন্তু মনে করি, এটা আমার অধিকার। মনের এই অবস্থা মানুষকে তওবা থেকে বিরত রাখে।

ঠিক একই ভাবে হারাম কাগুজে মুদ্রা। হারামের মধ্যে ইউজড টু হয়ে যাওয়া। একে অপরাধ মনে না করা। এটাকে জায়েজ প্রমাণের চেষ্টা করা। এটা হলো মনের এক রকম অবস্থা।

মনের অন্য আরেক রকম অবস্থা হলো, হায় আল্লাহ্‌, আমি নিরুপায়, আমি দুর্বল। বাধ্য হয়ে ব্যবহার করছি।

এখন এই যে মনের দুই রকম অবস্থা, এই দুটো কি এক? নিশ্চয়ই তাদের গতি ও গন্তব্যে ভিন্নতা আছে। নয় কি?

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s