দাম

আমাদের মাঝে একটি সাধারণ ভুল হল, আমরা বলি জিনিস পত্রের দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু আসলে জিনিস পত্রের দাম বাড়ে নি বরং মুদ্রার মান কমে গেছে। যদি একটি পণ্যের দাম বাড়ে, ধরুন অতিবৃষ্টি বা বর্ষাকালে তখন ছাতার দাম বেড়ে গেছে, অথবা প্রচণ্ড শীতে শীতবস্ত্রের দাম বেড়ে গেছে। আবার এমন হতে পারে দুর্ভিক্ষের ফলে উৎপাদন কমে গেছে, বা ঢাকা শহরে মানুষের সঙ্কুলান না হওয়ায় জমির দাম বেড়ে গেছে ইত্যাদি সবকিছুর মূল্য বাড়া বা কমাকে ‘The law of supply and demand’ এই ইকোনোমিক থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় অনেক গুলো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে বুঝতে হবে এটা ইনফ্ল্যাসনের কারণে হয়েছে।

১৫ বছর পূর্বে কেজি প্রতি চালের দাম ছিল ১৫-২০ টাকা, একটি ভালো চিপস পাওয়া যেত ৫ টাকায়, ভালো মানের আইসক্রিম কিনতাম ৯/১০ টাকায়, এক হাফ গরুর বিরিয়ানি ১৫-৪০ টাকা, একটি ৬ মন ওজনের গরু পাওয়া যেত ১৫-১৮ হাজার টাকায়। কিন্তু এখন, চালের কেজি ৪০+, একটি ভালোমানের চিপস বা আইস ক্রিম ২৫+, এক হাফ গরুর বিরয়ানী বক্স ৭০-১৮০ টাকা, ৫/৬ মন গরুর দাম ৬০-৭০ হাজার টাকা। মাত্র ১২-১৫ বছরে পণ্যের দাম ২-৫ গুন বেড়ে যাওয়া চাহিদা ও যোগানের অসামঞ্জস্যতার কারণে হয়নি, এটা হয়েছে মূল্যের মান কমে যাওয়ার কারণে।

আগে ১০ টাকায় যে পরিমাণ পণ্য কেনা যেত এখন সে পরিমাণ পণ্য কিনতে ২৫-৩০ টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ মুদ্রার মান কমতেছে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়তেছে। প্রতিবছর মুদ্রাস্ফীতি হয় আর প্রতি বছর পণ্যের দাম বাড়ে। চলতি অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতির হার হল ৬.১৭%। অর্থাৎ শতকরা ৬.১৭ ভাগ করে আমাদের কাছে যে টাকা রয়েছে তার মান কমতেছে। এটা স্পষ্ট একটি জুলুম। ক্যাপাটালিস্টরা আমাদের উপর এই মুদ্রাস্ফীতি নামক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। যদিও এখানে বাংলাদেশ বা প্রশাসন এর জন্য ততটা দায়ী নয় যতনা দায়ী হল বিশ্ব অর্থনীতি ব্যবস্থা, বিশেষ করে ফিয়াট মানি।

এছাড়াও আরো কারন থাকতে পারে, যেমন ব্যাংক সুদের হার বাড়ানো, ট্যাক্সরেইট বাড়ানো, বা ভর্তুকি কমিয়ে দেয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও ডলারের দামের বৃদ্ধি ইত্যাদি তবে এই সব খুব কম প্রভাব ফেলে। প্রধানত ভাবে দায়ী হল ফিয়াট মানি বা বর্তমান কাগুজে মুদ্রা।

Kaisar Ahmed

Advertisements

One response to “দাম

  1. কাগজের নোট / ইলেকট্রনিক নোট কিছুদিন পরে এমনিতেই সেগুলো পানি হয়ে যাবে। কারণ কাগজের টাকার মূল্য সবসময় কমে। আপনার পরদাদা যদি আপনার জন্য এক কলসি স্বর্ণের মুদ্রা রেখে যেতেন তাহলে আজকে আপনি খুশী হতেন। কিন্তু আপনি যদি এক কলসি ডলার রেখে যান তাহলে আপনার পরনাতি আপনাকে ফকীর ভাববে। আর ইলেকট্রনিক নোট তো কলসি ভরে রাখাও যাবে না। — যারা কাগজের নোটের মালিক মানে যারা নোট বানায় এবং তাতে মান নিয়ন্ত্রণ করে তারা নোটের সব রস শোষেও নিতে পারে। এ বিষয়টি যতদিন মুসলমান না বুঝবে ততদিন তারা অর্থনৈতিক শিরকে লিপ্ত থাকবে। সম্পদে আল্লাহ্‌র একচ্ছত্র মালিকানায় আরেকজনকে অংশ দিবে।

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s