ইয়াজুজ মাজুজের কাছে কি দ্বীনের দাওয়াত পৌছেছে?

যারা এখনও মনে করেন ইয়াজুজ মাজুজকে পাঠানো হবে (يبعث) দাজ্জাল বের হওয়ার পর, তাদের এই দাবি যে কুরআনের অনেকগুলো আয়াত ও হাদিসের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক তা হয়তো তারা ভেবে দেখেন না। আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমরা অতীতে বহু প্রমাণ পেশ করেছি যে ইয়াজুজ মাজুজকে পাঠানো হয়েছে এবং ইয়াজুজ মাজুজ সারা বিশ্বে ফেতনার বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
 
পবিত্র কুরআনে দয়াময় আল্লাহ্‌ বলেন,
আমি সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারীরূপে রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের আগমনের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ। (সূরা নিসা, ১৬৫)
 
যে কেউ সৎপথে চলে, তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না। (সূরা বনী ইসরাঈল, ১৫)
 
– অর্থাৎ বুঝা গেল, আল্লাহ্‌ কাউকে শাস্তি প্রদানের পূর্বে তার কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছান।
 
নবী করীম ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“বিচার দিবসে আদমকে তাঁর সমগ্র বংশধরদের মধ্য থেকে যারা জাহান্নামের জন্যে উপযুক্ত তাদেরকে বাছাই করতে বলা হবে। আদম প্রশ্ন করবেন,
‘হে আমার প্রতিপালক!
তারা কারা?’ আল্লাহ তা’আলা বলবেন, ‘১০০০ জনে ৯৯৯ জন জাহান্নামের জন্যে ও ১ জন জান্নাতের উপযুক্ত।’ এটা শুনে সাহাবারা ভয় পেলেন এবং বললেন, “জান্নাতের জন্যে ১ জন হবে কে?”। নবী (সাঃ) বললেন, “ভয় পেওনা। ৯৯৯ জন হবে ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং ১ জন হবে তোমাদের মাঝে।”
[সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
 
– এখানেই সেই বাস্তবতা যার কারণে দাজ্জাল আগমনের পরে ইয়াজুজ মাজুজ পাঠানোর দাবি কুরআন হাদিসের কষ্টিপাথরে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।
 
দাজ্জাল আসার পরই হযরত ঈসা য়ালাইহিস সালাম সশরীরে আবির্ভূত হবেন। আর ঈসা য়ালাইহিস সালাম মঞ্চে চলে আসার পর সমস্ত পর্দা উঠে যাবে, শেষ সময় বা সা’আ সম্পর্কে সবাই অবগত হয়ে যাবে।
 
তখন আর দ্বীনের দাওয়াত পৌছানোর কোন বিষয় থাকবে না। প্রত্যেকটি খ্রিস্টান ও ইহুদি তাদের মৃত্যুর পূর্বে ঈসা (আ) এর প্রতি ঈমান আনবে। এই ঈমানের ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তাদের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবেন (সূরা নিসা, ৪ঃ১৫৯)
 
– কাজেই ইয়াজুজ মাজুজ যদি এখনও প্রাচীরের আড়ালে থাকে এবং দাজ্জাল আসার পরে বের হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই তারা ঈমানের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হবে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জানাচ্ছেন, মানবজাতির মধ্যে প্রতি ১০০০ জনে ৯৯৯ জন জাহান্নামী এবং তারা ইয়াজুজ মাজুজ।
 
আল্লাহ্‌ তায়ালা এতো বিপুল সংখ্যক মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত ব্যতিরেকে জাহান্নামে দিয়ে দিবেন এটা কুরআনের বক্তব্যের পরিপন্থী। এটা আল্লাহ্‌ তায়ালার ন্যায়-বিচারক গুণের পরিপন্থী।
 
অতএব আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, গত ১৪০০ বৎসর ধরে ইয়াজুজ মাজুজের কাছে কুরআন এবং হাদীসের বানী তথা দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে গেছে। কিন্তু তারা সে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের তৈরী জাতিসংঘ, আইএমএফ ও ন্যাটোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক, নাস্তিক ও সুদী অর্থনৈতিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
 
তারপরও যেসব ভাই গোঁয়ার গব্বরের মতো বলে চলেছেন, দাজ্জাল আসার পরে ইয়াজুজ মাজুজ বের হবে তাদের প্রতি নির্লিপ্ত করুণা ছাড়া আর কিছুর অবকাশ নেই।
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s