ভিনেগার নিয়ে ভাবনা

Monir Khan ভাই এই হাদিস টা সম্পর্কে একটু বলবেন! ৬৬৮৪ মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আবূ বুরদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতা ও মু’আয ইবনু জাবালকে ইয়ামানে পাঠালেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা সহজ আচরণ করো, কঠোরতা প্রদর্শন করো না, তাদের সুসংবাদ শোনাও, ভীতি প্রদর্শন করো না এবং একে অপরকে মেনে চলো। তখন আবূ মূসা (রাঃ) তাকে বললেনঃ আমাদের দেশে ‘বিত’ নামক এক প্রকার পানীয় প্রস্তুত করা হয় (যা মধুর সিরকা থেকে তৈরি)। উত্তরে তিনি বললেনঃ প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম। নাযর আবূ দাঊদ, ইয়াযিদ ইবনু হারুন, ওকী (রহঃ) সাঈদ-এর দাদা আবূ মূসা (রাঃ) সুত্রে এ হাদীসটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বোখারী
Hudhud শরাবকে সিরকায় পরিণত করা হারাম। এটা হচ্ছে শাফেঈ মাযহাবের মত। কিন্তু হানাফী মাযহাবের মত হচ্ছে শরাব সিরকায় পরিণত ‘করলে’ তা হালাল হয়ে যায়। তবে নিজে নিজে সিরকায় পরিণত হয়ে গেলে সব মাযহাব মতে তা হালাল। — এজন্য সিরকা বানানোর সময় হালাল টেকনোলজি ব্যবহার করতে হয়। ইহুদীদের প্রডাক্ট বাদ দিয়ে ঘরে বানানো উত্তম। দেখুন মুসলিম শরীফ ৭ম খন্ড কিতাব আল আশরিবা বা পানীয় অধ্যায়। এ বিষয়ে ইনশাআল্লাহ্‌ একটি পোস্ট দিব।
 making-wine-into-vinegar
Hudhud ভিনেগার বা সিরকায় নেশা হয় না। আর সিরকা থেকে কখনো মদ তৈরী করা যায় না। উপরের হাদিসটিতে বলা হয়েছে প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম। এ হাদীসটাতে দেখেন মধুর সিরকা মানে কিন্তু মধুর ভিনেগার নয়। এখানে মধুর সিরকা মানে মধুর ঝোল। বা এক কথায় মধু। এ হাদীসে বুঝা যায়, তারা মধু থেকে মদ বানাতো। যা দিয়ে নেশা হতো। ভিনেগার দিয়ে কখনও নেশা হয় না। আর সিরকা ও মদের বাহ্যিক পার্থক্য বুঝা যায়। দুটো তৈরী করার পদ্ধতিও আলাদা। মদ তৈরী হয় এনেরোবিক পদ্ধতিতে। এখানে বৈয়মের মুখ এয়ার টাইট রাখা হয়। অন্যদিকে ভিনেগার বানানো হয় এরোবিক পদ্ধতিতে। এখানে বৈয়মের মুখ পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয় যাতে ভেতরে অক্সিজেন পাস করতে পারে। মদের ঢাকনা এয়ার টাইট না করে রাখলেও তা সিরকায় পরিণত হয়ে যেতে পারে। মদ ও সিরকার কেমিকাল পার্থক্য বোঝার জন্য কিছু কেমিস্ট্রির জ্ঞান লাগবে। — আল্লাহ্‌ ভালো জানেন।
vinegar-is-a-good-condiment
Monir Khan জাযাকাল্লাহ
Hudhud আর তিব্বে নব্বি ওয়েব সাইটটা দেখতে পারেন ভাই। 
halal-vinegar-technology

সসীম মানুষ

একটা ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম থেকে শিখেছিলাম, Respect Your Limitations. এই ধরনের প্রোগ্রামে কিছু ভালো জিনিস শেখা যায়। তাই যদি কারো যাওয়ার সুযোগ হয় যাবেন ইনশাআল্লাহ্‌। আগে মানুষ বিনে পয়সায় পরামর্শ দিত। এখন পরামর্শ দেয়াটাও একটা পেশা। টাকার বিনিময়ে কথা বলাটা চাট্টিখানি কথা নয়। পাওয়ার পয়েন্ট ব্যবহার করতে জানতে হয়, সাথে লাগে সেরকম ভাষা জ্ঞান।

যাহোক বলছিলাম, Respect Your Limitations.
প্রতিটি মানুষেরই পেশাগত কাজে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। মানুষ হিসেবে থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে অনেকেই সেই সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন নয়। তাই সে একা সব কাজ করতে চায়। আর মানুষও একজনের কাছেই সব সার্ভিস পেতে চায়। কিন্তু এটা কি সম্ভব?

একজন মানুষ সব কিছু জানবে এটা যেমন আশা করা যায় না, আবার একজন মানুষ কিছুই জানবে না এটাও আশা করা যায় না। তাহলে কি দাঁড়াল? একজন মানুষ কিছু জানবে, কিছু জানবে না, আর কিছু বিষয় নিয়ে কনফিউশনে থাকবে।

সার্ভিস ডেলিভারির ক্ষেত্রে একজন মানুষ যা জানবে তার মধ্যেই সে সার্ভিস ডেলিভারী দিবে। যা জানবে না তা যোগ্যতর কাউকে রেফার করবে। আর যা কিছু কনফিউশন তা উল্লেখপূর্বক রেফার করবে।

তা হলে কি হবে? তা হলে পেশাগত জীবনে সেফ সাইডে থাকা যাবে, অনিয়ন্ত্রিত চাপ নিতে হবে না। গ্রাহক সেটিসফেকশন বাড়বে।

।।

আমাদের দেশে একজন ডাক্তারকে মনে করা হয় সে সর্ব রোগের ডাক্তার। এজন্য একজন ডাক্তারকে সব বিষয়েই প্রশ্ন করা হয়। আর সাধারণত সেও হাসিমুখে জবাব দেয়। সে কাউকে রিফিউজ করে না, কারণ সে নিজের ‘সীমাবদ্ধতা’ বা ‘কনফিউশনকে’ প্রকাশিত হতে দিতে চায় না। এটাই হচ্ছে প্রফেশনালিজমের উপরে আবেগকে প্রাধান্য দেয়া।

একজন কারডিওলজিস্টকে যখন ফোন করে তার একজন আত্মীয় বা বন্ধু জানতে চায় তার তিন বছরের বাচ্চাকে কৃমির ওষুধ কি এক চামচ করে দিবে নাকি দুই চামচ করে। তখন বেচারা ডাক্তার হয়তো আত্মীয়তার খাতিরে এক চামচ বা দুই চামচ কিছু একটা বলে দিল। কিন্তু সে হয়তো গত দুই পাঁচ বছরে কৃমির ওষুধের ডোজ সম্পর্কে পড়েই নাই। তার ১৫-২০ বছর আগের জ্ঞান দিয়ে সে ‘কনফিউশন সহকারে’ একটা উত্তর দিয়ে দিল। কিন্তু তার এই কনফিউশন কি একজনের জীবন রক্ষা করবে না জীবন নাশ করবে তা কে বলবে?

।।

আলেমদের ক্ষেত্রেও হুবহু একি অবস্থা? সমাজে একজন মাওলানা হওয়া মানে ধরেই নেয়া হয় সে ‘সব কিছু’ জানবে। আকায়িদ থেকে শুরু করে নামাযের ওয়াক্ত ও কেবলা নির্ণয়ের জন্য কম্পাস ও ঘড়ির মাসলা মাসায়েল, জিহাদ থেকে শুরু করে যাকাত, রুকিয়া থেকে শুরু করে ভিনেগার, জ্বিন থেকে শুরু করে ইয়াজুজ মাজুজ তাকে সবই জানতে হবে। তার কাছ থেকে সবই আশা করা হয়। ইজ ইট পসিবল?

একজন আলেম বা হাফেজ মাওলানা আমার ভিনেগার প্রীতি দেখে খুব খুশী হলেন। তারপর তিনি বললেন, এতোদিন ভিনেগার বলতে তিনি বাজারের সাদা ভিনেগারকে বুঝতেন। হাদিসের উপর আমল করার জন্য দুয়েকবার তিনি সেই ভিনেগার খাওয়ার ‘ট্রাই’ করেছেন। কিন্তু বিধিবাম ! সফল হননি। আসলে এরকম টাটকা এসিটিক এসিড কেমিকেল কি খাওয়া যায়? এতোদিনে তিনি জানলেন যে আপেল বা খেজুর দিয়ে ভিনেগার বানাতে হয়।

এখন এই মাওলানার কাছে যদি কোন ব্যক্তি ভিনেগারের মাসায়েল জিজ্ঞাসা করতেন, তিনি কি বলতেন? তিনি তো ভিনেগারই চিনতেন না। তার দেয়া ফতোয়া কি মানুষকে ইসলামের পথ দেখাত না কি ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে দিত? জীবন রক্ষা হতো না কি জীবন নাশ হতো?

এজন্যই ক্যরিয়ার ডেভেলপমেন্ট কোর্সগুলোতে শিক্ষা দেয়া হয়, Respect Your Limitations.

আমাদের দেশে ডাক্তার আর আলেমদের মেছাল হচ্ছে খাজা বাবার দরবার। যে প্রশ্নই করা হোক কিছু একটা উত্তর মিলবেই। খালি হাতে যাবে না ফিরে কোন ভক্ত। তাদের জ্ঞানের কোন লিমিটেশন নেই।

।।

শুনেছি, আগেকার যুগে আলেমরা সহজে কথা বলতে চাইতেন না। তাদের কাছে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করলে তারা বলতেন, অমুকের কাছে যাও, তিনি আমার চেয়ে ভালো বুঝেন। এভাবে তিনি আবার আরেকজনের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। ঘুরে ঘুরে আবার প্রথম জনের কাছে ফিরে আসত। তারা কত বেশী সতর্কতা অবলম্বন করতেন।

বেচাকেনার তামাশা

মানুষ সাধারণত যাকে ব্যবসা নামে চালিয়ে দেয় আল্লাহ তাকে বলেন ক্রীড়া কৌতুক। কারণ ব্যবসার নামে মানুষ যা করে যা আমরা সমাজে দেখি তা ক্রীড়া কৌতুকই বটে। কারণ সেখানে অধিক মাত্রায় ক্রীড়া কৌতুক এবং অল্প মাত্রায় ব্যবসা থাকে। সূরা জুমু’আর শেষ আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন,

“যখন তারা কোন ব্যবসা বা খেল তামাশা দেখে তখন তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে যায়, বলো, ‘আল্লাহ্‌র নিকট যা আছে তা ক্রীড়া কৌতুক ও ব্যবসা অপেক্ষা উত্তম।’ আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।”

এই আয়াতটি ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন, এখানে এক চমৎকার এনালজি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে ব্যবসাকে আগে উল্লেখ করে পরে ক্রীড়া কৌতুককে তার সমার্থক হিসেবে আগে উল্লেখ করা হয়েছে, পরে ব্যবসাকে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান জামানার দিকে তাকালে দেখবেন সালাত সিয়াম বাদ দিয়ে মানুষ ব্যবসার নামে যা করে তা কতটুকু ব্যবসা আর কতটুকু ক্রীড়া কৌতুক। খেল তামাশার আধিক্যে মানুষ এটা ভুলে গেছে যে আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।

।।

ছোটবেলায় মা বলত, এমন এক সময় আসবে যখন মসজিদে নামায হবে আর মসজিদের বাইরে ঢোল বাজবে। সেটা কি এখন নয়, নাকি আরো ৫০০ বছর পরে? সালাতের সময়েও নানা ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন, নানা ভঙ্গিমায়, নানা বাহারে বেচাকেনা চলতেই থাকে।

।।
তবে প্রকৃত ব্যবসা কি তা সূরা ছাফফে উল্লেখ আছে। সেই ব্যবসার লাভ সম্পর্কে আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন।

Connecting the dots: সূরা আছর

মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানওয়াতালা ছয় দিনে আসমান ও জমীন সৃষ্টি করেছেন। এই সৃষ্টিকাজ শুরু হয় ইয়াওম আল আহাদ বা রবিবারে এবং শেষ হয় ইয়াওম আল জুমাহ বা শুক্রবারে। শুক্রবার আছর ওয়াক্তে আল্লাহপাক আদম (আ) কে সৃষ্টি করেন। আদম (আ) আছর থেকে মাগরিব ওয়াক্ত পর্যন্ত জান্নাত আল আদন বা ইডেন বাগানে ছিলেন। এজন্য আছর ওয়াক্তকে বলা যায় মানব ইতিহাসের সূচনালগ্ন। আছর ওয়াক্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কারণেও যে, আছর ওয়াক্ত মানবজাতির ইতিহাসের শেষ পর্যায়কেও রিপ্রেজেন্ট করে। আদম (আ) থেকে বনী ইজরায়েলের আগের উম্মতগণ একদিনে ঈসার ওয়াক্ত থেকে ফজরের ওয়াক্ত পর্যন্ত সময়কে রিপ্রেজেন্ট করে, বনী ইজরায়েল উম্মত একদিনে ফজর থেকে জোহর পর্যন্ত সময়কে রিপ্রেজেন্ট করে, ঈসায়ী উম্মত জোহর থেকে আছরের ওয়াক্ত পর্যন্ত সময়কে রিপ্রেজেন্ট করে আর উম্মতে মুহাম্মদী (সা) আছর থেকে মাগরিব ওয়াক্তকে রিপ্রেজেন্ট করে। এইজন্য আছর ওয়াক্ত মানবজাতির ইতিহাসের শুরু ও শেষ উভয়ের সাথে সম্পর্কিত। আছরের শপথ করে আল্লাহ সুবহানওয়াতালা বলেন,

“শপথ আছরের! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ।” (১০৩:১-২)

কোন কোন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত? আল্লাহ সুবহানওয়াতালা বলেন,

“নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং সরলপথে আসেনি।” (১০:৪৫)

বর্তমান ইয়াজুজ মাজুজ নিয়ন্ত্রিত সেক্যুলার বিশ্বের অনুসারীরা হলো ক্ষতিগ্রস্ত কারণ তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকে বিশ্বাস করে না। তারা ভাবে, মৃত্যুতেই সব শেষ। তারা ভাবে, এই বস্তুগত জগতের বাইরে কিছু নেই। তাদের এই দর্শন তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তারা সরলপথ অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে নিজেদের মনগড়া দ্বীনের অনুসরণ করছে। তারা রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, আইন ইত্যাদি ক্ষেত্রে আল্লাহর শরীয়াহকে বাদ দিয়ে নিজেদের বানানো শরীয়াহর অনুসরণ করছে। ফলে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। আর পূর্বেও অসংখ্য জাতি এই ক্ষতির স্বীকার হয়েছিল। আল্লাহ সুবহানওয়াতালা বলেন,

“অনেক জনপদ তাদের পালনকর্তা ও তাঁর রসুলগণের আদেশ অমান্য করেছিল, অতঃপর আমি তাদেরকে কঠোরভাবে ধরেছিলাম এবং তাদেরকে ভীষণ শাস্তি দিয়েছিলাম। অতঃপর তারা তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করল এবং তাদের কর্মের পরিণাম ক্ষতিই ছিল।”(৬৫:৮-৯)

এই সেক্যুলার বিশ্বের অনুসারীদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে। তবে তারা নয় যাদের ব্যপারে আল্লাহ সুবহানওয়াতালা বলেন,

“কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম (আমলে সালেহীন) করে এবং পরষ্পরকে তাকীদ করে সত্যের ও তাকীদ করে সবরের।” (১০৩:৩)

এরাই তারা যারা ধর্মের ঘাঁটিতে রয়েছে এবং সেক্যুলার জীবনব্যবস্থা তথা অধর্মের ঘাঁটিকে পরিত্যাগ করেছে। আল্লাহ সুবহানওয়াতালা বলেন,

“আপনি জানেন, সে (ধর্মের) ঘাঁটি কী? তা হচ্ছে দাসমুক্তি, অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান এতীম আত্বীয়কে অথবা ধুলি ধুসরিত মিসকিনকে। অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যারা ঈমান আনে এবং পরষ্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয় দয়ার।” (৯০:১২-১৭)

শেষ যুগে কুকুর পালনের তাৎপর্য

সুরা কাহফের আসহাবে কাহফের কাহিনী অনুযায়ী, কুকুর হচ্ছে পালন করা প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো। লিটারেরি এবং সিম্বলিকালি। কুকুর আপনার ভেড়াগুলোকে দেখাশোনা করবে ও পাহাড়া দেবে। ভেড়া হলো তারুণ্য আর কুকুর হলো পাহাড়াদার। পাহাড়াদার মুসলমান হোক বা অমুসলিম, সে তারুণ্যকে নিজের জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবে। উদাহরণঃ মহানবী (সা) এর চাচা আবু তালিব।

Md Arefin Showrav
14.02,2017

বাবার হোটেলে অপসংস্কৃতি

‘বাবার হোটেল’ জিনিসটা আর কোথাও নেই। ইউরোপীয় সভ্যতায় নেই, ইসলামেও নেই। ইসলামে পুত্র বালেগ হলে পিতার দায়িত্ব শেষ। আর কন্যা যতদিন না পাত্রস্থ হয়। আমাদের এখানে এমএ পাস পুত্রেরও বাবার হোটেলে ঠাঁই হয়ে যায়।

এখানে পুত্র কন্যাদের প্রাইভেট কোচিং থাকে। দেরী করে বাসায় ফিরে শুধু বললেই হয়, আজকে কোচিংয়ে স্পেশাল ক্লাস হয়েছে। তাহলেই ভাত রেডী। ব্যস, ভাত খেয়ে কানের মধ্যে বল্টু গুঁজে দরজা আটকে দিলেই হলো। একমাত্র ভূমিকম্প ছাড়া আর কিছুই তাকে বের করতে পারবে না। আহ, এ বড় আরামের হোটেল।

“তুমি তো জানো জান, তোমাকে দেয়ার মতো আমার কিছুই নেই। না তোমার হিযাবের ব্যবস্থা করতে পারব, না তোমাকে দু’ আয়াত কুরআন পড়ে শোনাতে পারব। না তোমার জন্য দু’ বেলা হালাল রিযিকের ব্যবস্থা করতে পারব। আমার শুধু আছে একটি Yolo অন্তর যা দিয়ে আমি ২৫ পয়সা রেটে তোমার সাথে কথা বলতে পারব। তারপর অন্য অফার আসলে কেটে পড়ব।”

যতদিন বাবার হোটেল থাকবে, ততদিন ভ্যালেন্টাইন ডের রমরমা ব্যবসা থাকবে।

বিশ্ব ভালোবাঁশ দিবস
বিশ্ব ঘৃণা দিবস

ভ্যালেনটাইনওয়ালা

বাংলাদেশে ফকিরনিরও একটা সংসার থাকে। ভ্যালেনটাইনওয়ালা গুলো এমনই ফকিরনি যে ২০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে সংসারের আরাম নিয়ে ফেলতে চায়। ৫০ টাকার ভিউকার্ড, ২০ টাকার গোলাপফুল আর বাকী যা থাকে তা দিয়ে রিকশাভাড়া, হোটেলভাড়া, মোবাইল বিল ইত্যাদি। এমন ফকিরনি এরা। এক মাস সংসার চালাতে বললে ভয়ের চোটে পেট খারাপ হয়ে যায়।