কাগজের মুদ্রা

The Biggest Bidah in History

“মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিদআত হচ্ছে: সুন্নাহ মুদ্রা ব্যবস্থাকে হঠিয়ে (স্বর্ণ মুদ্রা ও রৌপ্য মুদ্রা, যা মহানবী (সা:) এবং সাহাবারা ব্যবহার করেছিলেন) স্থলাবিষিক্ত করা হয়েছে কাগুজে মুদ্রাকে, (এবং এটি তখন করা সম্ভব হয়েছে) যখন আমাদের আলেম সমাজ ঘুমোচ্ছিলেন…।”

–  শায়খ্ ইমরান নযর হোসেন
(অনুবাদ: দ্বীনুজ্জামান চৌধুরী)

— যতক্ষণ মুদ্রাব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক শিরক ও রিবার ধুলা না বুঝবেন ততক্ষণ এই দুনিয়া তার কাছে স্বাভাবিক মনে হবে। ফেতরা খেজুর দিয়ে দেয়ার কথা শুনলে তেড়ে আসবেন। আর অযথা প্রশ্ন করে সময় ক্ষেপণ করবেন। তাই জানুন ইসলামিক মুদ্রা কি জিনিস, সেকুলার মুদ্রা কি জিনিস, অর্থনৈতিক শিরক ও রিবার ধুলা সম্পর্কে জানুন।

— with Deen Choudhury.

Advertisements

দাম

আমাদের মাঝে একটি সাধারণ ভুল হল, আমরা বলি জিনিস পত্রের দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু আসলে জিনিস পত্রের দাম বাড়ে নি বরং মুদ্রার মান কমে গেছে। যদি একটি পণ্যের দাম বাড়ে, ধরুন অতিবৃষ্টি বা বর্ষাকালে তখন ছাতার দাম বেড়ে গেছে, অথবা প্রচণ্ড শীতে শীতবস্ত্রের দাম বেড়ে গেছে। আবার এমন হতে পারে দুর্ভিক্ষের ফলে উৎপাদন কমে গেছে, বা ঢাকা শহরে মানুষের সঙ্কুলান না হওয়ায় জমির দাম বেড়ে গেছে ইত্যাদি সবকিছুর মূল্য বাড়া বা কমাকে ‘The law of supply and demand’ এই ইকোনোমিক থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় অনেক গুলো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে বুঝতে হবে এটা ইনফ্ল্যাসনের কারণে হয়েছে।

১৫ বছর পূর্বে কেজি প্রতি চালের দাম ছিল ১৫-২০ টাকা, একটি ভালো চিপস পাওয়া যেত ৫ টাকায়, ভালো মানের আইসক্রিম কিনতাম ৯/১০ টাকায়, এক হাফ গরুর বিরিয়ানি ১৫-৪০ টাকা, একটি ৬ মন ওজনের গরু পাওয়া যেত ১৫-১৮ হাজার টাকায়। কিন্তু এখন, চালের কেজি ৪০+, একটি ভালোমানের চিপস বা আইস ক্রিম ২৫+, এক হাফ গরুর বিরয়ানী বক্স ৭০-১৮০ টাকা, ৫/৬ মন গরুর দাম ৬০-৭০ হাজার টাকা। মাত্র ১২-১৫ বছরে পণ্যের দাম ২-৫ গুন বেড়ে যাওয়া চাহিদা ও যোগানের অসামঞ্জস্যতার কারণে হয়নি, এটা হয়েছে মূল্যের মান কমে যাওয়ার কারণে।

আগে ১০ টাকায় যে পরিমাণ পণ্য কেনা যেত এখন সে পরিমাণ পণ্য কিনতে ২৫-৩০ টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ মুদ্রার মান কমতেছে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়তেছে। প্রতিবছর মুদ্রাস্ফীতি হয় আর প্রতি বছর পণ্যের দাম বাড়ে। চলতি অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতির হার হল ৬.১৭%। অর্থাৎ শতকরা ৬.১৭ ভাগ করে আমাদের কাছে যে টাকা রয়েছে তার মান কমতেছে। এটা স্পষ্ট একটি জুলুম। ক্যাপাটালিস্টরা আমাদের উপর এই মুদ্রাস্ফীতি নামক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। যদিও এখানে বাংলাদেশ বা প্রশাসন এর জন্য ততটা দায়ী নয় যতনা দায়ী হল বিশ্ব অর্থনীতি ব্যবস্থা, বিশেষ করে ফিয়াট মানি।

এছাড়াও আরো কারন থাকতে পারে, যেমন ব্যাংক সুদের হার বাড়ানো, ট্যাক্সরেইট বাড়ানো, বা ভর্তুকি কমিয়ে দেয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও ডলারের দামের বৃদ্ধি ইত্যাদি তবে এই সব খুব কম প্রভাব ফেলে। প্রধানত ভাবে দায়ী হল ফিয়াট মানি বা বর্তমান কাগুজে মুদ্রা।

Kaisar Ahmed

ডলার রূপীর বিদ’য়াত

যারা কথায় কথায় বলে, এইটা বিদ’আত, ঐটা বিদআত, সেইটা বিদআত, তারা কেন কখনো বলেনা কাগুজে মুদ্রা বিদআত? রাসুলুল্লাহ (সা) ও সাহাবায়ে কেরাম মার্কিন ডলার ব্যবহার করেননি! পাকিস্তানি রূপী ব্যবহার করেননি! বাংলাদেশী টাকা ব্যবহার করেননি! যারা কথায় কথায় বলে অমুক জিনিস বিদ’আত, তমুক জিনিস বিদ’আত, তারা কেন কখনো বলেনা হজ্জ্ব করার জন্য মুসলিমদের লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-র বদলে সৌদি ভিসার জন্য আবেদন করা লাগবে– এটা বিদ’আত!

— শেখ ইমরান নযর হোসেন

Md Arefin Showrav 

নিরাপত্তা কোথায়?

প্রশ্নঃ আপনারা বলেন, ব্যাংক হারাম। কিন্তু ঘরে টাকা রাখা নিরাপদ নয়। স্বর্ণ কিনে রাখাও নিরাপদ নয়, যারা ব্যবসা বা চাকুরী করেন তাদের পক্ষে চাষাবাদ করাও সম্ভব নয়। তাহলে তাদের অর্থের নিরাপত্তা কোথায় হবে? কোন আইডিয়া দিতে পারেন? 

উত্তরঃ আসলে নতুন আইডিয়ার দরকার নেই। কারণ রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনেই আছে প্রকৃত আদর্শ। — এবং ইসলাম হলো সামগ্রিক ও সামষ্টিক জীবন বিধান। আমি ১আ ইসলাম পালন করলাম আর ১০০ জন ইসলামের ধারে কাছেও নেই এমন হলে চলবে না। — সামষ্টিক অর্থ সবাই মিলে। মদিনায় যেমন ছিল। আমরা সবাই ভালো হয়ে যাই তখন চোরও চুরি করবে না। চোর তখন ইবাদত শুরু করবে। ডাকাতের ভয় থাকবে ডাকাতি করলে হাত কাটা পড়তে পারে। এজন্য মুসলিম ভিলেজ। খেলাফতের ক্ষুদ্রতম সংস্করণ। যারা আল্লাহ্‌তে বিশ্বাস করে তারা নিজেরাও নিজেদের বিশ্বাস করবে। আর একজন অপরজনের কাছে আমানত রাখবে। কেউ আমানত মেরে দিবে না। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তো কাফেররাও আমানত রাখত। আর আমার কাছে যদি মুসলমানরাই আমানত রাখতে না পরে তাহলে কেমন মুসলমান হলাম? এজন্য নিজেকেই জিজ্ঞেস করতে হবে, আমি কেমন? আমার কাছে মানুষ আমানত রাখতে পারবে তো? আমি আমানতটা মেরে দিব না তো। এভাবে সবাই যদি আমানতদার হয়ে যায় তাহলে ব্যাংক লাগবে না। — আর যদি সমাজের বেশীরভাগ মানুষ আমানতদার না হয়, তাহলে কাগজের মুদ্রা, ব্যাংকিং এসব বাদ দিয়েও লাভ নেই। তখন আল্লাহ্‌র শাস্তি পেতেই হবে।

ইলেকট্রনিক নোট

কয়েকমাস আগে ভারত সরকার তাদের সবচেয়ে বড় দু’টি নোটকে বাতিল করে দিয়ে তাদের দেশের মানুষকে আইএমএফের গিনিপিগ বানিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়– সেটা পরীক্ষা করে। আর এখন তারা টিভি চ্যানেলে ক্যাশের বদলে ইলেকট্রনিক কার্ড ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এভাবে ভারত দিয়ে শুরু হচ্ছে ক্যাশলেস সোসাইটির যাত্রা যা এরপর বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। অদৃশ্য অস্পৃশ্য টোটালি হারাম ইলেকট্রনিক মুদ্রাব্যবস্থা দখল করে নেবে কাগুজে মুদ্রার স্থান। – @ Md Arefin Showrav 

If you look at the recently launched card ad of MTB (Mutual Trust Bank), you will see the tag line: Towards cashless society. – @ Khalid Ibn Muneer

স্বর্ণের দাম

মানুষ বলে স্বর্ণের দাম বেড়েছে, বিশ বছর আগে স্বর্ণের দাম যা ছিল আজ স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে কয়েকগুণ। আসলেই তাই? এটা হাউজওয়াইফ মার্কা লজিক। আসল ঘটনা হলো, স্বর্ণের দাম বাড়ে নাই, বরং দাম কমেছে কাগজের মুদ্রার। ডলার, রিয়েল, রূপি, টাকা, রিংগিতের। এজন্যই কাগজের মুদ্রা হারাম। প্রকৃত মুদ্রার মূল্য কখনো কমে না। স্বর্ণ স্বর্ণের জায়গায়ই আছে। যা ছিলো বিশ বছর আগে বা কয়েক হাজার বছর আগে, আজও স্বর্ণ তার সেই দাম ধরে রেখেছে।

# স্বর্ণমুদ্রা

কমে যাচ্ছে কাগজের মুদ্রার দাম

আমি ৪০ টাকা কেজি গরুর মাংস কিনেছি। এখন কিনি ৫০০ টাকা কেজি। অর্থাৎ ৫০০ ভাগ ৪০ সমান সমান ১২.৫। অর্থাৎ গত ত্রিশ বছরে টাকার দাম সাড়ে ১২ গুণ কমেছে। ঐ সময়ে ১৫ থেকে ২০ টাকায় ইলিশ মাছ কিনতাম, ৫ টাকায় পাঁচমিশালী মাছের ভাগা কিনতাম। — ঐ সময়ে যে লোক ৮ হাজার টাকা বেতন পেত তার ঐ লেভেলের জীবনযাত্রা করতে বর্তমানে ৮ গুণ সাড়ে ১২, অর্থাৎ ১ লাখ টাকা বেতন পেতে হবে। কয়জন লোক ১ লাখ টাকা বেতন পায়? — হ্যাঁ, ঐ সময়ে আমরা আত্মীয় স্বজনের বাসায় বেড়াতে যেতাম, বিয়ের দাওয়াতে ১ সপ্তাহ বিয়ে বাড়িতে থাকতাম। নানা বাড়িতে রাতভর পিঠা বানাতো। নানা ধরনের মাছ, ফলমূল খাওয়া হতো। শুধু মোবাইল ও ইন্টারনেটটাই ছিল না, এই যা।