বিবাহিত জীবনের অব্যক্ত কিছু কথা

একটা মোটা দাগের কৌতুকে পড়েছিলাম ক্রিকেটে থাই গার্ডের ব্যবহার শুরুর প্রায় ১০০ বছর পর হেলমেট ব্যবহার শুরু হয়। 
কৌতুকটা ছিল পুরুষ মানুষদের নিয়ে – তারা কোনটাকে গুরুত্ব দেয় এটা নিয়ে একটা প্রাপ্তবয়ষ্ক ইশারা ছিল।

যে কথাগুলো অনেকদিন ধরে বলব ভাবছি তা সর্বসমক্ষে বলা লজ্জার, কিন্তু কিছু ব্যাপারে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লজ্জার সীমানায় এসে হলেও মানুষকে কিছু শিক্ষা দিয়েছেন।*

উমার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তার মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, স্বামীকে ছাড়া তার স্ত্রী কয়দিন থাকতে পারে। উত্তর শুনেছিলেন চার মাস। এরপর তিনি নিয়ম করে দিয়েছিলেন, মুসলিম মুজাহিদদের চার মাসের বেশি জিহাদের ময়দানে রাখা যাবে না।

উমার পুরুষদের জিজ্ঞেস করেননি। আমাকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতাম, একজন পুরুষ তার স্ত্রী ছাড়া চার দিনের বেশি ভালো থাকতে পারে না।

আমি যে একটা বছর অ্যামেরিকায় ছিলাম স্ত্রীকে রেখে, কীভাবে ছিলাম সেটা আল্লাহ ভালো জানেন।

স্ত্রীকে ছাড়া ভালো থাকতে পারে না কেন? কারণ, আল্লাহ পুরুষকে সেভাবে বানিয়েছেন। চাহিদা দিয়ে, কামনা দিয়ে।

আমাদের সমাজের স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য যতটা ব্যস্ত, মনের ক্ষুধা এবং দৈহিক ক্ষুধা মেটানোর জন্য ততটাই অতৎপর।

অন্তত, আমার কাছে আসা ইনবক্সে ভাইদের অনুযোগে তাই মনে হয়।
মনের ক্ষুধা সংসারের আলাপে মেটে না। ডাল শেষ, তেল লাগবে – এগুলো সম্পর্কের উন্নতি করে না।

মনের ক্ষুধা মেটে যখন কোনো পুরুষ যে ব্যাপারে আগ্রহী সে ব্যাপারে তার সাথে আলাপ করলে। আমি বিজ্ঞান ভালোবাসি। বিজ্ঞানের নতুন একটা আবিষ্কার নিয়ে আমার সাথে আমার স্ত্রী কথা বললে আমার ভালো লাগে।

আমার স্ত্রীর বিজ্ঞান ভালো না লাগলে?

বোনেরা, কিছু একটা খুঁজে বের করুন যেটাতে আপনার আর আপনার স্বামীর কমন আগ্রহ আছে।

আর থাকল দেহের ক্ষুধা।

এই ক্ষুধা সত্য। পেটের ক্ষুধার মতই সত্য। যদিও পেটের ক্ষুধার কথা কেউ বলতে বা শুনতে লজ্জা পায় না, কিন্তু এই ক্ষুধাকে পায়।
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশে বেশ্যালয় আছে। কেন? 
বেশ্যালয়ে বিবাহিত পুরুষরাও যায়। কেন?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা চারটা পর্যন্ত বিয়ের বিধান দিয়েছেন এর একটা কারণ পুরুষদের দৈহিক ক্ষুধা অনেক বেশি আগ্রাসী।

এবং অধিকাংশ বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রীকে তার চাহিদার কথা বলতে লজ্জা পায়। প্রতিনিয়ত বলা তো আরো মুশকিল।

এই অবদমিত চাহিদার হালাল বহির্প্রকাশ বাধাপ্রাপ্ত হলে পুরুষেরা ছোটে পর্নের দিকে। এখন মোবাইলে বিছানায় শুয়েও সারা দুনিয়ার নোংরামি ঘুরে আসা যায়।

স্ত্রী তার মতো ঘুমে আছেন, স্বামী পাপাচারে মগ্ন।

পরকীয়া, ধর্ষণ – প্রায় সব বিকৃত কামাচারের পেছনে হালাল স্ত্রীসঙ্গ দুর্লভ হওয়াটা একটা বড় কারণ।

স্ত্রী বুঝতে পারেন না স্বামী কেন রেগে থাকেন। তিনি বুঝতে পারেন না, সংসারে অশান্তি। এই দম্পতিকে তাদের শারীরিক সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেস করে দেখেন।

আমি পুরুষদের সবর করতে না পেরে পাপে জড়ানোকে জাস্টিফাই করছি না। একজন পুরুষ হিসেবে আসলে পুরুষেরা কী চিন্তা করে, তাদের কী চাহিদা – সেটা বোনদের সামনে তুলে ধরলাম, লজ্জার মাথা খেয়েই।

সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।

রমণী শব্দের উৎস বিশ্লেষণে যাব না, তবে বোনেরা একটু চিন্তা করে দেখবেন। কথাটা সত্য। আমাকে গালমন্দ করতে পারেন – তবে আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি।

আর ভাইয়েরা, আল্লাহ আমাদের যে প্রবৃত্তি দিয়েছেন তা নিয়ন্ত্রণ করার নামই তাকওয়া – আল্লাহ সম্পর্কে সচেতন থাকা। যে আল্লাহর নামে আমরা আমাদের স্ত্রীদের ঘরে এনেছি, তাদেরও মানসিক এবং শারীরিক অধিকার আছে। সেটার দিকে নজর রাখা আমাদের কর্তব্য।

আমরা যেন আমাদের সঙ্গী-সঙ্গিনীদের সীমাবদ্ধতাটুকু উপেক্ষা করে তাদেরকে তাদের প্রাপ্যটুকুর চেয়েও বেশি কিছু দেয়ার চেষ্টা করি। তাদের পাপ থেকে বাঁচাই এবং নিজেও বাঁচি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

Shared from Sharif Abu Hayat Opu

মন্তব্যঃ যাই বলুন পুনরায় বহুবিবাহ প্রচলন ছাড়া এ সমস্যা সমাধানের কোন গতি নেই। সুন্নতকে ছেড়ে তাকওয়া হয় না।

Advertisements

সকল ইঞ্জিনিয়ারের সেরা ইঞ্জিনিয়ার

গত সেমিস্টারে আমাদেরকে কমিউনিকেশান ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হয়েছিলো। এ সাবজেক্টের একটা বড় অংশ ছিল মোবাইল কমিউনিকেশনের উপরে। মোবাইল ফোনকে ‘Cell-phone’ ও বলা হয়।
কেন?
.
কারণ, আমরা যখন কথা বলি তখন সে কথাকে অপর পাশে পৌছানোর জন্য যে ট্রান্সমিটার ব্যবহার করা হয়, সে ট্রান্সমিটার যতোটুকু এরিয়াকে কভার করতে পারে তাকে ‘Cell’ বলা হয়। সেখান থেকেই এসেছে ‘Cellular Phone’ বা ‘Cell Phone’। একটা সেলের শেইপ কেমন হলে ভালো হয় তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বেশ ভালোই গবেষণা করেছেন। বৃত্তকার শেইপ খুব ভালো অপশন। কারণ, কেন্দ্র থেকে পরিধির যে কোন বিন্দুর দূরত্ব যেহেতু সমান, তাই খুব সহজেই একটা ট্রান্সমিটার তার চারপাশের সকল এরিয়াকে একইভাবে কভার করতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এক সেল দিয়ে তো আর সব জায়গায় কথা বলা যায় না। একটা সেলের ব্যস কতোটুকুই আর হতে পারে?
এক মাইল থেকে শুরু করে বিশ মাইল পর্যন্ত। আমি যদি এখন খুলনা থেকে ঢাকায় কথা বলতে চাই তখন কী করব? দূরত্ব তো তিনশো কিলোর মতো।
.
সেজন্য পুরো মোবাইল কমিউনিকেশান এরিয়াকে বেশ কিছু ছোট ছোট সেলে ভাগ করা হয়। দরকার হলে এক সেল থেকে আরেক সেলে কল ট্রান্সফার করা যায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই সেলগুলোর শেইপ যদি বৃত্তাকার হয়, তাহলে কিছু এরিয়া থেকে যায় যা কখনোই কভার করা যাবে না। সেজন্য বৃত্তাকার শেইপের চিন্তা বাদ। তাহলে কী করা যায়?
সমবাহু ত্রিভুজের আকৃতিতে বানাবো সেলগুলোকে? বর্গাকৃতি? নাকি হেক্সাগোনাল বা ষড়ভুজাকৃতি?
.
তিনটাই ভালো অপশন। তবে হালকা জিওমেট্রি আর ট্রাইগনোমেট্রি এপ্লাই করে দেখা গেলো, হেক্সাগোনাল শেইপ হচ্ছে সবচেয়ে উপযোগী। এই শেইপ ব্যবহার করলেই কম খরচে বেশি দূরত্ব কভার করা যায়।
.
অনেকক্ষণ বোরিং কথা বললাম, এবার ইন্টারেস্টিং কিছু বলি।
.
কখনো মৌমাছির চাক দেখেছেন? অনেকগুলো ছোট ছোট ঘরে ভাগ করা থাকে না পুরো চাকটা? খেয়াল করলে দেখবেন, এই ঘরগুলো কিন্তু হেক্সাগোনাল। মৌমাছিরা কিন্তু ট্রাইগনোমেট্রি কিংবা জিওমেট্রি কিছুই জানে না। তারা কোন ইঞ্জিনিয়ারও না। তাহলে কিভাবে তারা জানলো হেক্সাগোনাল শেইপের কথা? কিভাবে তারা বুঝলো এই শেইপে মধুগুলোকে রাখলে কম মোম খরচ করেই অধিক পরিমাণে মধু সংরক্ষণ করা যায়?
.
বিবর্তনবাদীরা বলে, এটা ন্যাচারালি তাদের ‘Instinct’। অর্থাৎ, সত্তাগতভাবেই তারা এটা জানে। হুমায়ুন আহমেদের মতো সাহিত্যিকরা হয়তো লিখবেন- “প্রকৃতি গভীর মমতায় তাদের এটা শিখিয়েছে।”
.
আমরা বলি, এটা তাদের শিখিয়েছেন যিনি সকল ইঞ্জিনিয়ারদের সেরা ইঞ্জিনিয়ার। যার অসম্ভব সুন্দর ইঞ্জিনিয়ারিং পরিব্যপ্ত করে রেখেছে এ মহাবিশ্বকে। আমাকে, আপনাকে, আমাদের সবাইকে।
.
“তোমার রব মৌমাছির অন্তরে ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ দিয়েছেনঃ তুমি গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়, বৃক্ষ এবং মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে। এর পর প্রত্যেক ফল হতে কিছু কিছু আহার কর, অতঃপর তোমার রবের সহজ পথ অনুসরণ কর। ওর উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিষেধক। অবশ্যই এতে রয়েছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।” [সূরা আন-নাহল (মৌমাছি) ১৬:৬৮-৬৯] 
.
“(অন্তরে ইঙ্গিত করা বলতে বোঝানো হচ্ছে) এমন জ্ঞান-বুদ্ধি যা প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করার জন্য প্রত্যেক জীবকে দেয়া হয়েছে।” [তাফসীর আহসানুল বয়ান]
.

(সংগৃহীত)
লেখকঃ শিহাব আহমেদ তুহিন

শিশুদের নামকরণ

পরিচিত এক বোনের একমাত্র ছেলে মাত্র চার বছর বয়সে হঠাৎই মারা যায়। বেড়াতে গিয়েছিলেন। সবাই যখন দুপুরের খাবারে ব্যস্ত, ছেলেটি কোন ফাঁকে বাসা থেকে বের হয় যায়। রাস্তার পাশে একটি ছোট পুকুরের মত। সেখানেই হঠাৎ করে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় তার।

নাবালেগ অবস্থায় সন্তানের মৃত্য বাবা মার জন্য আখিরাতে নাজাতের কারন হতে পারে। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সবরের তাউফিক দিন, উত্তম বিনিময় দান করুন।

তবে একটি লক্ষনীয় বিষয় হল, তারা না জেনে তাদের এই ছেলের নাম রেখেছিলেন “তাবীব”। যার অর্থ “ধ্বংসপ্রাপ্ত”। সুরা লাহাবের “তাব্বাত ইদা আবি লাহাব” অায়াতে এই একই অর্থে শব্দটি verb/ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।

আরেক ভাইয়ের ছেলের নাম “মুসআব”। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অতি প্রিয় সাহাবীদের একজন। কিন্তু সমস্যা হল, অারবী এই শব্দে একটি “অাইন” অক্ষর রয়েছে, যা আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ উচ্চারণ করতে পারে না। বরং আইনের স্থলে আলিফ উচারন করে। আর সেক্ষেত্রে “মুসাব” এর অর্থ হয় বিপদগ্রস্থ।

একদম ছোটবেলা থেকেই এই ছেলেটি প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকতো। এক পর্যায়ে তার নাম পরিবর্তন করে সুহাইল রাখা হয়। আলহামদুলিল্লাহ এরপর থেকেই সে মোটামুটি সুস্থ।

উত্তরা নয় নাম্বার সেক্টরে একটি এপার্টমেন্ট “হাবিতাত বিল্ডারস” কতৃক নির্মিত। হাবিতাত অর্থ ধ্বংস হয়ে যাওয়া। (আল্লাহ তা’অালা হিফাযত করুক)।

নামের একটি প্রতিক্রিয়া আছে, এটি হাদিস দ্বারা প্রমানিত। পাশাপাশি, দুনিয়াতে ব্যবহৃত নামেই আমাদেরকে আখিরাতে ডাকা হবে। খারাপ নাম থাকলে খারাপ নামে, ভাল থাকলে ভাল।

কুরঅানে ব্যবহৃত হলেই কোন শব্দের অর্থ ভাল হয়ে যায় না। কুরঅানে ফিরআউন, হামান, আবু লাহাবের নামও আছে। এসমস্ত নাম কুরঅানের আয়াত হিসেবে পড়লে প্রতি অক্ষরে দশটি করে সাওয়াব পাওয়া যাবে, কিন্তু কারো নাম হিসেবে যে এ শব্দগুলো ভাল নয়, তা তো সবাই বুঝে।

এজন্য কুরঅান বা হাদিসের বই থেকে কোন শব্দ পছন্দ হলেই নাম রেখে না দেয়া। কোন নির্ভরযোগ্য আলিমের সাথে পরামর্শ করা অবশ্যই জরুরী। গুগল করে বা নামের বই দেখেও নিজে নিজে নাম রেখে দেয়াটা অনেক রিস্কি। অনেক নামের ভাল খারাপ দুটো অর্থই থাকে। গুগল বা নামের বই আপনাকে ভাল অর্থটা বলবে,খারাপটা চেপে যাবে। আমাদের পাশের বাসার আপু তার ছেলের নাম এভাবে গুগলে দেখে রেখেছেন “ইহান”। উর্দুতে যার অর্থ “পূর্ণ চন্দ্র”, কিন্তু অারবীতে এর অর্থ “অপমানিত/লাঞ্ছিত”।

প্রতিটি বাবা মার মনে রাখা দরকার, সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পর তার একটি সুন্দর নাম রাখা তাদের দায়িত্ব। এটা সন্তানের হক। এই হক আদায়ে অবহেলা হলে আমাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

আল্লাহ তা’অালা আমাদের সতর্ক হওয়ার তাউফিক দিন।

সংগৃহীতঃ Rizwanul Kabir

নারী কি পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি?

“নারীদেরকে পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে” – এ কথাটি আমরা প্রায়ই শুনি। ইসলামকে বিতর্কিত করার জন্যে অনেকেই এ কথাটি বলে থাকেন।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলাম ধর্মের কোথাও এ কথাটি নেই। এটি হলো খ্রিস্টান ধর্মের একটি কথা।

বাইবেলে বলা হয়েছে –

Then the LORD God made a woman from the rib he had taken out of the man, and he brought her to the man.
[Bible, New International Version, Genesis,Chapter 2, Verse 22]

“স্রষ্টা পুরুষের পাঁজর থেকে একটি হাড় নিয়ে তা দিয়ে একজন নারীকে সৃষ্টি করেছেন। এবং তিনি নারীটিকে পুরুষের সামনে উপস্থিত করলেন।“

ribcage-by-Conscience-Killer-flickr.jpg

বাইবেলের এই লাইনটির ব্যাখ্যায় খ্রিস্টানগণ বলেন, আল্লাহ তায়ালা প্রথম আদম (আ)-কে সৃষ্টি করেছেন। এরপর আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় সংগ্রহ করেন। তারপর তা থেকে হাওয়া (আ)-কে সৃষ্টি করেন।

খ্রিস্টানদের এ কথাটি এখন মুসলিম সমাজে খুবই পরিচিত। কিন্তু এর কারণ কি? মূলত, রাসূল (স) –এর একটি হাদিসকে কোর’আনের সাহায্যে ব্যাখ্যা না করে, বাইবেলের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেই এ সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন

সুখি লোক

সব থেকে সুখি লোক মনে হয় সে’ই যার স্ত্রী(গণ) তাকে ভোলাভালা ভালোমানুষ মনে করে। আর এই প্রশংসা শুনে তার চেহারা আরো ভোলাভালা হয়ে যায়। সবই আল্লাহর রহমত। আলহামদুলিল্লাহ। সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

সকালবেলা ঘুমানো অজ্ঞতার লক্ষণ

আলি ইবনে আবু তালিব রদ্বীয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘সকালবেলা ঘুমানো অজ্ঞতার লক্ষণ।’
.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
এখানে আসার পরপরই আমাকে ‘ইনমেইট হ্যান্ডবুক( Inmate Handbook)’ নামে একটা বই ধরিয়ে দেওয়া হয়। এটা মূলত এই জেলের নিয়মকানুন নিয়ে পঞ্চাশ পৃষ্ঠার একটা বই। বইটির মধ্যে একটি নিয়ম ছিল এমন:

‘পরিষ্কার ও টানটান করে বিছানা গোছাতে হবে। বিছানার চাদর কুঁচকে থাকা চলবে না। মাথার দিক থেকে মোটামোটি ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত চাদর বিছিয়ে বাকিটুকু গুটিয়ে রাখতে হবে। সব বিছানা সকাল ৭.৩০ মিনিটের মধ্যে গুছিয়ে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে।’

এটা পড়ামাত্রই সালাফদের দৃষ্টিভঙ্গির একটি বিশেষ দিকের কথা আমার মনে পড়ে গেল। আলস্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয় এভাবে: ‘কাজ, সক্রিয়তা বা প্রচেষ্টার প্রতি অনীহা’। আর এই আলস্যকে সালাফগণ তীব্রভাবে ঘৃণা করতেন।
.
* উমার ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, ‘ দরকারি কিছু না করে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানোকে আমি ঘৃণা করি।’

* ইবন মাস’উদ রা. বলেন, ‘ এই দুনিয়া বা পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ না করে অলস বসে থাকে এমন ব্যক্তিকে আমি ঘৃণা করি।’

স্বয়ং আল্লাহ্‌র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিন আল্লাহ্‌র কাছে এই দুআর মাধ্যমে দিন শুরু করতেন, ‘… আমি আলস্য থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই…’। আসলে অলসতা সুন্নাহর এতটাই বিপরীতধর্মী একটা বিষয় যে, রাসূলুল্লাহ সা. জীবনে একবারও হাই তোলেননি। ইবন হাজার উল্লেখ করেন: ‘ নবীজির সা. অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল এই যে, তিনি সা. কক্ষণো হাই তোলেননি। ইয়াজিদ বিন আল-আসামের মুরসাল থেকে ইবনু আবি শায়বাহ এবং আল-বুখারি তাঁর তারিখ গ্রন্থে এটি লিপিবদ্ধ করেছেন।’
.
তাই, জেলখানার নিয়ম হলেও এটা আসলে একটা ভালো নিয়ম। নানান রকম মানুষের সাথে বছরের পর বছর কাছাকাছি থাকার ফলে আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে, যত সকালসকাল ঘুম থেকে উঠে দিন শুরু করা যায় দিনভর আলস্য ততোই কম হয়। ‘উমার রা. একবার শামে পৌঁছে দেখেন যে, মুয়াবিয়া রা. কিছুটা শ্লথ এবং মন্থর হয়ে পড়েছেন। তাই মুয়াবিয়াকে দেখে ‘উমারের প্রথম প্রশ্নটিই ছিল: ‘কী ব্যাপার মুয়াবিয়া? তুমি কি দুহার (সকালের শেষভাগ) সময় ঘুমোও?’ সালাফদের দৃষ্টিভঙ্গী পর্যালোচনা করলে এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, তারা সকলেই বেশি ঘুমানোর অভ্যাসকে ঘৃণার চোখে দেখতেন – বিশেষ করে দিনের প্রথম ভাগে।
.
* সাখর আল-ঘামিদির সূত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, ‘ হে আল্লাহ্‌! আমার উম্মাহর ভোরের পাখিদের উপর তুমি রহম করো।’ কোনো অভিযান বা সেনাবাহিনী পাঠানোর সময় তিনি সা. সবসময় দিনের শুরুতেই তাদের প্রেরণ করতেন। সাখর নিজে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তিনি ভোরবেলাতেই তাঁর ব্যবসায়িক কাজকর্ম শুরু করতেন। ফলে, একসময় তিনি অস্বাভাবিক রকমের ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হন।

* আলি ইবনে আবু তালিব বলেন, ‘ সকালবেলা ঘুমানো অজ্ঞতার লক্ষণ।’
.

* একবার একদল লোক ফজরের সালাতের পর ইবন মাস’উদের রা. সাথে দেখা করতে আসে। ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পরও তারা ইবন মাস’উদের রা. ঘরে প্রবেশ করতে ইতস্তত করতে থাকে। ইবন মাস’উদ রা. তাদের এই অস্বস্তির কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা উত্তরে বলে যে, তারা এই ভেবে অস্বস্তিবোধ করছে যে হয়তো ওনার স্ত্রী এই সময় ঘরে ঘুমিয়ে আছেন। ইবন মাস’উদ প্রত্যুত্তরে বলেন, ‘আপনারা কী মনে করেন আমার স্ত্রী এতটাই অলস?’ (ইবন মুফলিহ আল-হাম্বালি এই ঘটনার উপর মন্তব্য করে বলেন: ‘এই ঘটনা থেকে শিক্ষণীয় বিষয় এই যে, সকালবেলার এই সময়টুকু অবহেলা করা উচিত না এবং এই সময়ে ঘুমোনোকে নিরুৎসাহিত করা হয়।’) বুখারি এবং মুসলিম উভয়েই এই ঘটনাটি তাঁদের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন।
.
* ইব্‌ন আব্বাস রা. একদিন তার এক ছেলেকে সকালে ঘুমুতে দেখে বলেন: “উঠো! তুমি কি এমন সময় ঘুমুচ্ছ যখন রিযক বণ্টন হচ্ছে?”

* একজন তাবি’ই বলেন, ‘কোনো আলিমকে ফজরের পর ঘুমুতে দেখলে পৃথিবী দুঃখে কেঁদে ওঠে।’

* পূর্ববর্তী নবীগণও এমন মনোভাব পোষণ করতেন। নবী দাউদ আ. সুলাইমানকে আ. বলেছিলেন: ‘ অতিরিক্ত ঘুমানোর ব্যাপারে সতর্ক হও। অন্যরা যখন কাজ করে তখন এই অভ্যাস তোমাকে দরিদ্র করে দিবে।’

* ‘ঈসা ইবন মারইয়াম আ. বলেছেন, ‘ দুটি স্বভাবকে আমি ঘৃণা করি:
১) রাতে জেগে না থাকা সত্ত্বেও দিনের বেলায় ঘুমানো,
২) কোনো কারণে আনন্দিত হওয়া ছাড়াই উচ্চস্বরে হাসা।

* একজন কবি বলেন: ‘নিশ্চয়ই সকালবেলার ঘুম মানুষকে সন্দেহ-সংশয়ে ফেলে দেয়। আর বিকেলবেলায় ঘুমুনো তো পাগলামির নামান্তর।’
.

ইবন মুফলিহ উপরোক্ত বাণীগুলোর উপর মন্তব্য করে বলেন, ‘সুতরাং দিনের বেলা ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ এটা প্রাণোচ্ছলতা শুষে নেয় এবং শরীরের পেশিগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। তাই শারীরিক সক্রিয়তার মাধ্যমে পেশিগুলোকে সচল রাখা উচিত।’

কয়েক মাস আগে আমাকে CMU, Terre Haute থেকে এই জেলে (Marion CMU) নিয়ে আসা হয়। এই ধরনের জেল বদল সাধারণত কোনোরকম পূর্বাভাস ছাড়াই করা হয়। এক ভোরে হঠাৎ ৫টার সময় একজন প্রহরী আমার সেলের তালা খুলে জানালো যে, আমাকে অন্য এক জেলে স্থানান্তর করা হবে। আরো বলল যে, আমার জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার জন্য আমার হাতে এক ঘন্টারও কম সময় আছে। আমি বুঝতে পারলাম যে, এই জেলের ভাইদের সাথে হয়তো আর কখনো দেখা হবে না। তাই সিএমইউর নিকষ কালো অন্ধকার করিডোর ধরে হেঁটে হেঁটে আমি অন্যান্য সেলে থাকা ভাইদের সালাম দিয়ে বিদায় জানিয়ে আসতে গেলাম। এই সময়ে বেশিরভাগ কয়েদিরাই ঘুমিয়ে থাকে। কিন্তু বেশ কয়েকটা সেলে আমি আলো জ্বলতে দেখতে পাই। পা টিপে টিপে আলোকিত সেলগুলোর কাছে গিয়ে আমি কুরআন তিলাওয়াতের মৃদু গুনগুন শুনতে পাই। সেলের দরজা গলে চোখের কোণ দিয়ে দেখতে পেলাম প্রতিটি সেলেই আমার ভাইয়েরা কিয়ামুল-লাইলে মগ্ন হয়ে আছে।
.
* আল্লাহ্‌র রাসূল সা. বলেন, ‘জেনে রাখো, একজন মু’মিনের সম্মান হচ্ছে তাঁর কিয়ামুল লাইল ।’

* তিনি সা. আরো বলেন, ‘রাতের শেষ ভাগে বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, যদি তুমি সে সময়ে আল্লাহর যিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারো, তাহলে তাদের অন্তর্ভুক্ত হও।’

* তিনি সা. বলেন, ‘আমাদের রব প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকে। অতঃপর তিনি বলেন: কে আমাকে আহ্বান করবে, আমি যার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার নিকট প্রার্থনা করবে, আমি যাকে প্রদান করব? কে আমার নিকট ইস্তেগফার করবে, আমি যাকে ক্ষমা করব? ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ বলতে থাকেন’

* রাসূলুল্লাহ সা. আরো বলেন, ‘তোমরা রাতের সালাত আঁকড়ে ধর, কারণ এটা তোমাদের পূর্বের নেককার লোকদের অভ্যাস এবং তোমাদের রবের নৈকট্য দানকারী, গুনাহের কাফ্‌ফারা ও পাপ মোচনকারী। এটা শরীর থেকে রোগ-বালাই দূর করে দেয়।'(ইবন রজব এই হাদিসের ব্যাপারে মন্তব্য করেন, ‘এই হাদিসের একটি অন্যতম শিক্ষা হলো, কিয়ামুল লাইল এর ফলে সুস্বাস্থ্য লাভ করা যায়। এটি শরীরকে নীরোগ করে।’)

* তিনি সা. বলেন, ‘এমনভাবে ইবাদাত করো যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো। সেটা না পারলে জেনে রাখো যে তিনি তোমাকে দেখছেন। আর এটাই হচ্ছে ইহসান।’
.
কিয়ামুল-লাইল এর মাধ্যমে মানুষের কাছে সুনাম কুড়ানোর কোনো উপায় নেই। রাতের গভীরে জেলখানার সেলে বন্দী অবস্থায় কাউকে দেখিয়ে দেখিয়ে ইবাদাত করার কোনো উপায় নেই। তাই এই ইবাদাতে কোনোরকম কোনো পার্থিব ফললাভের আশা নেই। আর কিয়ামুল-লাইল তো বাধ্যতামূলকও নয়। বরং হাসান আল-বসরী বলেছেন, এটি হচ্ছে ‘সবচেয়ে কঠিন এবং প্রগাঢ়’ ইবাদাত। তাহলে বলুন, কী মানুষকে স্বেচ্ছায় এবং খুশীমনে শীতকালের প্রবল শীতের রাতে বিছানা ছেড়ে নেমে এসে বরফশীতল পানি দিয়ে ওযু করে এমন এক সত্তার ইবাদাত করতে প্রেরণা যোগায় যাকে সে দেখতেও পায় না?

* আবু সুলাইমান আদ-দারানি বলেন, ‘যারা বিনোদনে প্রমত্ত হয়ে রাত কাটায় তাদের চেয়ে যারা কিয়াম করে তারাই নিজেদের রাতগুলোকে বেশি উপভোগ করে। যদি রাত না থাকতো তাহলে আমি এই পৃথিবীতে থাকতে চাইতাম না। ‘

* আল-ফুদাইল বিন ‘ইয়াদ বলেন, ‘রাতে কিয়াম আর দিনে সিয়াম পালন করতে না পারলে বুঝে নিও যে তোমার পাপকাজ তোমাকে বেঁধে রেখে বঞ্চিত করছে। ‘

* সালাফদের একজন বলেছেন, ‘চল্লিশ বছর ধরে সূর্যোদয় ছাড়া অন্য কিছু আমাকে বিষণ্ণ করতে পারেনি। (কারণ সূর্যোদয়ের মাধ্যমেই কিয়াম এর সময় শেষ হয়ে যায়)’
.

তারা সকলেই কিয়ামুল-লাইলকে অত্যন্ত কঠিন কাজ বলে স্বীকার করেছেন কিন্তু তাদের ঈমান এই কাঠিন্যকেই তাদের বিশেষ সুবিধায় পরিণত করেছে। কপটতা, স্বার্থপরতা আর বস্তুবাদিতায় ডুবে থাকা পশ্চিমা সমাজের কাছে এমন চিন্তাধারা সম্পূর্ণ অপরিচিত। যা-ই হোক, প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তুতে ফিরে আসি। এই হাদিসটি নিয়ে ভাবুন:

* ‘ঘুমানোর সময় তোমাদের প্রত্যেকের মাথার শেষাংশে শয়তান তিনটি গিঁট দেয়। প্রত্যেক গিঁটের স্থানে সে মোহর এঁটে দিয়ে বলে: তোমার রাত এখনো অনেক বাকি, অতএব ঘুমাও। যদি সে জেগে উঠে আল্লাহর যিকর করে তখন একটি গিঁট খুলে যায়। যদি সে ওযু করে তো আরেকটি গিঁট খুলে যায়। যদি সে সালাত আদায় করে, তো তার সবকটি গিঁটই খুলে যায়, ফলে সে ভোরবেলায় প্রাণবন্ত ও প্রফুল্ল থাকে। অন্যথায় সে অবসাদ ও আলস্য অনুভব করে।’
.
এই হাদিসটির ব্যাপারে ইবন হাজার বলেন, ‘এই হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মেজাজ ভালো রাখার গোপন চাবিকাঠি কিয়ামুল-লাইল এর মাঝে লুকিয়ে আছে।’ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে লিপিবদ্ধ বিভিন্ন ঘটনা থেকে এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ ব্যাপারে সব বর্ণনা বলে শেষ করা যাবে না, তবে নিচের ঘটনাগুলো নিয়ে একটু ভাবুন:

* ‘আইশাহ রা. বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ্‌র রাসূল সা. কক্ষণো কিয়ামুল-লাইল ত্যাগ করতেন না। অসুস্থ বা ক্লান্ত হলেও তিনি বসে বসে তা আদায় করতেন। অথচ এর ফলে দিনের বেলায় তিনি কখনো ক্লান্ত হননি বরং এর প্রভাব এমন ছিল যে তিনি সা. কখনো হাই পর্যন্ত তোলেননি। রাতভর কিয়ামুল-লাইলের পরেও দিনের প্রথম প্রহরেই যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে পড়তে তাঁর উদ্যমের অভাব হতো না।

* ইবরাহিম বিন শাম্মাস বলেন, ‘আমি আহমাদ ইবন হাম্বালকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। সে কৈশোর থেকেই সারারাত কিয়ামুল-লাইল করতো। জীবনের এই সময়ের কথা বলতে গিয়েই ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন যে, তিনি কত আগে আগে তাঁর দিন শুরু করতেন। তিনি বলেন, ‘আমি হাদিস শুনার জন্য তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়তে চাইতাম। তখন আমার মা আমার জামা আঁকড়ে ধরে বলতেন, ‘অন্তত ফজরের আযান হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো। আগে মানুষজন ঘুম থেকে উঠুক!”
.
[দ্রষ্টব্য: যুহর এবং আসরের মধ্যবর্তী সময়ে একটু ঘুমিয়ে নেওয়াটা (কাইলুলা) সুন্নাহর অংশ। একারণেই ইমাম আহমাদ কিয়াম এর জন্য উঠতে পারতেন। তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন, ‘শীতগ্রীষ্ম সবসময়েই আমার বাবা দুপুরবেলায় একটু ঘুমিয়ে নিতেন। তিনি কখনো এটা ছাড়তেন না এবং আমাকেও এই অভ্যাস রপ্ত করতে উৎসাহিত করতেন। তিনি উমার ইবনুল খাত্তাবের রা. উদ্ধৃতি দিয়ে বলতেন, ‘ কাইলুলা অর্থাৎ দুপুরবেলা একটু ঘুমিয়ে নাও কারণ, শয়তানরা তা করে না।’ আনাস, ইবন আব্বাস প্রমুখ সাহাবিরাও (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এ ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। কিয়াম এর জন্য সহায়ক আরেকটি অভ্যাস রয়েছে। তা হলো ‘ইশার সালাতের আগে না ঘুমানো এবং ‘ইশার পর কথা না বলা এবং জেগে না থাকা । কারণ হাদিসে এসেছে যে, ‘ নবীজি সা. ‘ইশার আগে ঘুমানো অপছন্দ করতেন এবং ‘ইশার পর জেগে থেকে কথা বলাও অপছন্দ করতেন।’
.
এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কিয়ামুল-লাইল এর মানে এই নয় যে সারারাত কিংবা রাতের একটা নির্দিষ্ট সময় জেগে থাকতে হবে। বরং, সুবহে সাদিকের আধাঘন্টা আগে জেগে উঠে দুই রাকাত সালাত আদায় করলে সেটাও কিয়ামুল-লাইল বলে গণ্য হবে।] বিস্তারিত পড়ুন

Ibrahim’s (A) Hierarchy of Needs

Maslow’s hierarchy of needs নামে একটি তত্ত্ব আছে যেখানে মানুষের বিভিন্ন চাহিদাকে একটি পিরামিড আকারে দেখানো হয়েছে। এই পিরামিডের সবচেয়ে নিচের স্তরে আছে মানুষের শারীরবৃত্তীয় চাহিদা। অর্থাৎ এই তত্ত্ব অনুসারে শারীরিক চাহিদা (যেমন খাদ্যগ্রহণ) মানব জাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। গুরুত্বের দিক থেকে এর পরে আছে যথাক্রমে সামাজিক চাহিদা (সমাজবদ্ধ হয়ে থাকা), আধ্যাত্মিক চাহিদা (ধর্মচর্চা) এবং পিরামিডের চূড়ায় আছে আত্মোপলব্ধি; নিজের সম্ভাবনা ও প্রতিভাকে আবিষ্কার করে তা বিকশিত করতে ধাবিত হওয়া (self-actualization)। মাসলোর এই তত্ত্ব অনুযায়ী বলতে হয়, একজন মানুষ প্রথমে তার শারীরবৃত্তীয় চাহিদা পূরণ করতে সচেষ্ট হবে, তারপর দলবদ্ধ হয়ে থাকতে শুরু করবে, এরপর ধর্মের খোঁজ করবে এবং অবশেষে সে নিজস্ব স্বকীয়তা ও সৃষ্টিশীলতার সন্ধান করতে শুরু করবে।

কিন্তু ইবরাহীম (আ.) এর দুআতে তত্ত্বের এই পিরামিডটিকে সম্পূর্ণ উল্টো রূপে দেখা যায়। তিনি তাঁর পরিবারের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে প্রথমেই যা চেয়েছেন তা হলো–লি ইউক্বীমুস স্বলাহ–যেন তারা সালাত কায়েম করে। অর্থাৎ তিনি প্রথমে অগ্রাধিকার দিয়েছেন আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণের প্রতি। এরপর তিনি দুআ করেছেন, ফাজ’আল আফ-ইদাতাম মিনান নাস–আপনি কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করুন। এখানে তিনি তার পরিবারের জন্য মানুষের অন্তরে ভালোবাসা গড়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে অনুরোধ করেছেন। এটি হলো তার পরিবারের জন্য সামাজিক চাহিদা। সবশেষে তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে যা চাইলেন তা হলো রিযক্ব অর্থাৎ তাদের শারীরবৃত্তীয় চাহিদাপূরণওয়ারযুক্বুহুম মিনাস সামারাত–তাদেরকে ফলাদি দ্বারা রুযী দান করুন। তবে এখানে এটাও লক্ষণীয়, ইবরাহীম (আ.) তার দুআর শেষ অংশে শুধুমাত্র রুযীর ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেননি বরং এর সাথে ইবাদাতের ব্যাপারটিও যুক্ত করে দিয়েছেন, তিনি বলেছেন, লা আল্লাহুম ইয়াশকুরুন–যেন, তারা শুকরিয়া আদায় করে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

(যমযম কূপের উদ্ভব, প্রাক কথন, সীরাহ, প্রথম খণ্ড)

কার্টেসীঃ Rain Drops