জাযাকাল্লাহু

জাযা কা ‘ল্লাহু খইরন অর্থ আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন। জাযা অর্থ প্রতিদান, কা অর্থ তোমাকে, (নারী হলে ‘কি’ হতো – জাযা কি ল্লাহু, বহুবচন নারী বা পুরুষ হলে ‘কুম’ হতো জাযাকুমুল্লাহু)। এখানে আল্লাহ কর্তৃকারক তাই আল্লা(হু) হয়েছে। সব মিলে হলো জাযাকাল্লাহু। কর্মকারক হলে হা হতো। যেমন রাশেদ শাহেদকে মেরেছে। শাহেদের উপর মার পতিত হয়েছে। তাই শাহেদ কর্মকারক। কাজই হবে শাহেদা। আর রাশেদ মার দিয়েছে, তাই রাশেদ কর্তৃকারক, আরবিতে হবে রাশিদু, রাশিদ ছেলে বলে হবে রাশিদুন, কারণ ছেলেদের নামের শেষে ন হয়। যেমন রাশিদুন, মাজিদুন ইত্যাদি। মেয়েদের নামের শেষে সাধারণত গোল তা ও তার উপর পেশ হয়, যেমন, ফাতিমাতু, আয়িশাতু, আফিয়াতু। এই তু সবসময় উচ্চারণে আসে না।

জাযাকাল্লাহু খইরনের উত্তরে অনেকে বলে ওয়া ইয়্যাকা, ওয়া ইয়্যাকি, ওয়া ইয়্যাক। এর অর্থ ‘এবং তোমাকেও।’ অর্থাৎ আপনিও তার জন্য একই দোয়া করে দিলেন। ওয়া মানে এবং। কা, কি, ক এগুলোর অর্থ হচ্ছে তোমাকে। ছেলে হলে কা, মেয়ে হলে কি, বহুবচন হলে কুম। কা, কি না বলে শুধু ওয়া ইয়্যাক বললেও চলে। কারণ শেষে থেমে গেলে হরকত (জের জবর পেশ) উচ্চারিত হয় না।

ওয়া ইয়্যাকা সূরা ফাতিহাতে আছে। ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন। এখানে ইয়্যাকা অর্থ একমাত্র তোমার। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

বি দ্রঃ ফেসবুকে অনেক আলেম উলামা আছে। ভুল হলে ধরিয়ে দিবেন ও ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। জাযাকুমুল্লাহু খইরন।

Advertisements

এসো আরবি শিখি

আমার কন্যা মাওলানা আবু তাহের মেসবাহর এসো আরবি শিখি পড়ে। আমি মাঝে মাঝে দেখি কতদূর শেখা হলো। জিজ্ঞেস করলাম, মান রব্বুকি? সে ভেবে ভেবে বলল, আল্লাহু রব্বুনা, ওয়া রব্বুকুম। একটু পর বলল, ওয়া রব্বুহুম।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহতায়ালা জায়গামতো আমাদের সন্তানদের এ প্রশ্ন আসান করে দিন।

কুরআনের পাঠক

রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন,

تَعَلَّمُوا القرآنَ ، و سَلوا الله بهِ الجنةَ ، قبلَ أنْ يَتَعَلَّمَهُ قومٌ ، يَسْأَلونَ بهِ الدنيا ، فإنَّ القرآنَ يَتَعَلَّمُهُ ثلاثَةٌ : رجلٌ يُباهِي بهِ ، و رجلٌ يَسْتَأْكِلُ بهِ ، و رجلٌ يقرأُهُ لِلَّهِ

তোমরা কুরআন শিখ এবং তা দিয়ে আল্লাহর কাছে জান্নাত চাও তারপুর্বে, যখন কোন জাতি কুরআন শিখে তা দিয়ে দুনিয়া চাইবে। আর কুরআন পাঠকারী তিন ধরনের। এক প্রকার যারা তা প্রদর্শনের জন্য করবে। এক প্রকার লোক তা দিয়ে খাওয়া দাওয়া অর্জন করবে। এবং এক প্রকার যারা আল্লহর জন্য পড়বে। [শুয়াবুল ঈমান/২৪০৫ (সহীহ)]

مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فَلْيَسْأَلِ اللَّهَ بِهِ فَإِنَّهُ سَيَجِيءُ أَقْوَامٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ يَسْأَلُونَ بِهِ النَّاسَ

যে কেউ কুরান পড়ে সে যেন তা দিয়ে আল্লহর কাছে চায়। এরপর এমন কিছু মানুষ আসবে যারা কুরান পড়ে তার বিনিময়ে মানুষের কাছে চাইবে। [তিরমিযি/২৯১৭ (হাসান)]

উবাদা ইবনে সামিত (রা) হতে বর্নিত। তিনি বলেন,

عَلَّمْتُ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ الْقُرْآنَ وَالْكِتَابَةَ فَأَهْدَى إِلَىَّ رَجُلٌ مِنْهُمْ قَوْسًا فَقُلْتُ لَيْسَتْ بِمَالٍ وَأَرْمِي عَنْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْهَا فَقَالَ ‏ “‏ إِنْ سَرَّكَ أَنْ تُطَوَّقَ بِهَا طَوْقًا مِنْ نَارٍ فَاقْبَلْهَا

আমি আহলে সুফফার কিছু লোককে লেখা ও কুরান পড়া শিখাতাম। তাদের একজন আমার জন্য একটি ধনুক হাদিয়া দিল। তখন আমি ধারনা করি যে এত কোন মাল নয়, আমি এ দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় তিরন্দাযী করব। পরে রসুলুল্লাহ (স) কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি, তখন তিনি বলেন, তোমাকে আগুনের শিকল পড়ানো হোক, যদি তুমি এতে সন্তুষ্ট হও, তবে তুমি তা গ্রহন কর। [ইবনে মাযাহ/২১৫৭ (হাসান)]

শোকরিয়া @ কুরআনীয় আরবী শিক্ষা

আরবী তো বাংলার মতোই

অন্ধ ব্যক্তিকে কখনো এক্সিডেন্টে পড়তে দেখেছেন? তারা কিন্তু ঠিকই রাস্তা পার হয়, স্বাভাবিক সব কাজই করে। এক্সিডেন্ট হয় অসতর্ক ব্যক্তিরা। অন্ধরা নয়। কারণ অন্ধরা তাদের লিমিটেশন জানে। এ জন্য তাদের চোখের অভাব কান, স্পর্শ ও বোধের দ্বারা ওভারকাম করে। তারা থাকে অনেক সতর্ক। অনেক সময় তারা নিজেরাও রাস্তা পার হয়, কখনোবা প্রয়োজনে আরেকজনের সাহায্য নেয়।

একইভাবে যে বোবা সে কিন্তু ঠিকই কমিউনিকেট করে। যে বধির সেও তার অক্ষমতাকে জয় করে। যার হাত কাটা পড়েছে সেও পা দিয়ে লিখে পরীক্ষায় পাশ করে।

আরবী না জানার অক্ষমতাও একইভাবে জয় করা সম্ভব। আপনি বলছেন, আপনি আরবী জানেন না। কিন্তু আমি বলব, আপনি আরবী জানেন তবে স্কিল খুব দুর্বল। যদি আপনি রাস্তা পারাপার হওয়া ঐ অন্ধের মতো সতর্ক হোন তাহলে দেখবেন আপনি আরবীর অনেকগুলো শব্দ জানেন। জুমু’য়ার খুৎবা খুব মন দিয়ে শুনুন। দেখুন সেখানে আল্লাহ্‌ শব্দ বলা হয়, মুহাম্মাদ শব্দ বলা হয়, সালাম শব্দ বলা হয়, হামদ শব্দ বলা হয়। এসব শব্দ তো আপনি জানেন। কুরআনে পাবেন, লা তায়লামুন। এরকম শব্দ মন দিয়ে শুনুন। লা মানে না। তা মানে তোমরা, এলেম মানে জ্ঞান। মানে তোমাদের জ্ঞান নাই। আবার তায়মালুন মানে তোমাদের আমল। বুঝে নিবেন, তোমাদের আমল সম্পর্কে আল্লাহ্‌ ভালো জানেন। এভাবে অন্ধ ব্যক্তি যেমন লাঠি দিয়ে দিয়ে চলে, প্রয়োজনে কারো সাহায্য নেয় সেরকমভাবে লাঠি দিয়ে সতর্কভাবে চলতে হবে, কারো সাহায্য নিতে হবে।

পৃথিবীর যেকোন ভাষা শেখার জন্য প্রথমে আধাঘণ্টা সময় ব্যয় করে প্রো-নাউন গুলো আগে শিখে ফেলবেন। আমি তুমি সে তোমরা তারা তাহারা, ইহা, উহা এসব। দেখুন তো এই শব্দগুলো চেনা লাগছে কি না? হুয়া, হুমা, হুম, হিয়া, হুমা, হুন্না, আনতা, আনতুমা, আনতুম, আনতুন্না, আনা, নাহনু, হাযা, যালিকা। এরপর ইয়েস নো কিন্তু এবং। নায়াম, লা, বাল, ওয়া।

এরপর শিখবেন প্রিপোজিশন। উপরে, নীচে, মধ্যে, সামনে, পেছনে। তাহতিহাল আনহার শব্দটা শুনেছেন না? আনহার মানে নহরগুলি। কুরআনে অনেকবারই শুনেছেন নহরগুলি জান্নাতের নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। কাজেই নীচে মানে তাহতা। আবার ফী শব্দটাও শুনেছেন। ফী মানে মধ্যে। ফী দ্দুনিয়া মানে দুনিয়ার মধ্যে। আর শিখতে হবে হতে এবং পর্যন্ত। From এবং To. মিন এবং ইলা। মিন শাইত্বান মানে শয়তান হতে (আশ্রয় চাই আল্লাহ্‌র কাছে)। ইলাল আখিরাত মানে আখিরাতের দিকে। বয়ানে ইখওয়ানুল কিরাম শব্দটাও শুনেছেন। আমরা জানি ইখওয়ানুল মুসলিমীন মানে মুসলিম ব্রাদারহুড। অর্থাৎ ইখওয়ানুল মানে ব্রাদার, ভাই। ইখওয়ানুল কিরাম মানে সম্মানিত ভাইগণ। কিরাম পাবেন একরামুল মুসলিমীন শব্দে। মানে মুসলমানদের সম্মান। এসব শব্দ তো সবাই ব্যবহার করে।

প্রিপোজিশন শেখা শেষ হলে ভার্ব। দেখুন সাবজেক্ট ভার্ব এগ্রিমেন্ট সব ভাষাতেই আছে। আমি খাই, তুমি খাও, সে খায়। ইংরেজীতে I eat, You eat, He eats. যখন He হলো তখন eats হয়ে গেল। আরবীতেও তাই। এরকম ত্রিশ চল্লিশটা ভার্ব সবসময়ই ইউজ হয়। আর অল্প কয়েকটা নাউন। আর কয়েকটি Adjective শিখতে হবে। বাগানটি সুন্দর। সে ভালো দৌড়ায়। সুন্দর, ভালো, বড় ছোট, ভাঙ্গা, নতুন, পুরনো, ধনী, দরিদ্র, বেশী, কম, সত্যবাদী, মিথ্যাবাদী এসব। আরবীতে জামিল, জায়্যিদ, কাবির, ছাগির, মাকসুর, জাদীদ, কাদীম, গণি, ফকির, কাসীর, কালীল, সাদিক, কাযিব। আর শিখতে হবে জেন্ডার। সুন্দর পুরুষ হলে জামীল, মেয়ে হলে জামিলা। সত্যবাদী পুরুষ হলে সাদিক, সত্যবাদী মেয়ে হলে সাদিকা, ধনী পুরুষ হলো গনী, গরীব পুরুষ ফকীর। গরীব মহিলা ফকীরা।
ভাষা শিক্ষা শেষ।

– এগুলোর বেশীর ভাগই তো সম্ভবত আপনি শুনেছেন। হয়তো সেরকম সতর্কভাবে বা নিয়ম মেনে শুনেন নি।

এরকম সতর্কভাবে শুনলে দেখবেন কুরআনের ২০ – ৩০ ভাগ অর্থ এমনিতেই বা সামান্য চেষ্টাতেই জেনে যাবেন। হাদীসের ভাষা, খুতবার ভাষা আরবীতে হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন। যত বেশী সতর্ক হবেন, ধীরে ধীরে স্কিল বাড়বে। কারো সাহায্য নিবেন। যেভাবে অন্ধরা কারো সাহায্য নেয়। বই, উস্তাদ, ইন্টারনেট। চারিদিকে রিসোর্স ছড়ানো। যে আরবী ভাষা এতো সহজে বুঝতে পারছেন শুধু শুধু আরবী জুমু’য়ার খুৎবা দেয়া চলবে না এরকম আত্মঘাতী মনমানসিকতা কেন? বি পজেটিভ।

আরবী পারেন না বলে যাদের মনে দুঃখ আছে

FM Method এ ইংরেজী শিক্ষার বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন অনেকেই। সেখানে দেখানো হয় যে ব্যক্তি ইংরেজী জানে না সে আন্তর্জাতিক বোবা ও কালা। কারণ সে ইংরেজীতে নিজের মনোভাব প্রকাশ করতে পারে না, বুঝেও না। এ বক্তব্যের সাথে সবাই একমত। আজ পর্যন্ত কোনদিন দেখলাম না, সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের কেউ একজন দাড়িয়ে এর বিরোধিতা করেছেন। কেউ আজ পর্যন্ত ফিরোজ মুকুল স্যারকে বলেন নাই যে, স্যার আমি তো বাংলায় কথা বলতে পারি, আমি তো বাংলা কথা বুঝতে পারি। তাহলে আমি বোবা, কালা হলাম কিভাবে। আসলে কেন বোবা কালা বলা হয়েছে তা কিন্তু মানুষ ঠিকই বুঝে। তাই মানুষ চেষ্টা করে সে যেন FM Method এ ইংরেজী শিখতে পারে।

কিন্তু যখন আরবীর কথা আসে তখন মানুষ নিজেকে বোবা কালা মনে করতে রাজি নয়। সে যে আরবীতে কুরআন বুঝে না, হাদীস বুঝে না, জুমু’য়ার খুৎবা এমনকি নিজের বিয়ের খুতবাও বুঝে না তাতে তার মনে বোবা কালা হওয়ার মতো অনুভূতি সৃষ্টি হয় না। একজন বোবা কালা তথা প্রতিবন্ধি ব্যক্তি সাধারণত সবসময়ই একটা ইনফেরিওর কমপ্লেক্সিটিতে ভোগে। কিন্তু আরবী না জানার দরুন সে ধরনের হীনমন্যতা তৈরী হয় না। ইনফেরিওর কমপ্লেক্সিটি বা হীনমন্যতা খারাপ অর্থে বুঝানো হয়নি। বরং এই হীনমন্যতার কারণেই সে নিজের অবস্থা পরিবর্তনে নিরলস চেষ্টা করে যায়। যেমন ইংরেজী জানে না বলে যখন তার ভেতর হীনমন্যতা তৈরী হয় তখন সে চেষ্টা করে, ইংরেজী শেখার জন্য পরিশ্রম করে। সময় ও অর্থ ব্যয় করে। FM Method এ যায়, S@ifurs এ যায়, S M Zakir Hussain এর বই কিনে। যেন বোবা কালা হওয়ার অপবাদ দূর করা যায়। সে কিন্তু BBC, CNN কে বলে না, তোমরা সবাই বাংলা কথা বলো যাতে আমি বুঝতে পারি। বরং সে নিজেই ইংরেজী শেখার চেষ্টা করে। এগুলো মানুষের সাইকোলজি।

আরবীর না জানার জন্য যদি কারও মনের ভেতর এই হীনমন্যতা তৈরী হয় এটা হবে তার জন্য আশীর্বাদ। তখন সে বাংলায় খুৎবা দেয়ার জন্য হৈ চৈ করবে না, বা কুরআনের বা হাদীসের বঙ্গানুবাদ হাতে নিয়ে হামবড়া দেখাবে না। সে শিখতে সচেষ্ট হবে। তার ইনফেরিওর কমপ্লেক্সিটি আল্লাহ্‌ পছন্দ করবেন। তখন আল্লাহ্‌ তার প্রতি দয়ার্দ্র হবেন। তার জন্য আরবীর পথ সুগম করবেন।

মন্তব্যসহ

বিস্তারিত পড়ুন

বিশ্বনবীর (সা) ভাষা

আল্লাহ্‌ বলতেছেন, কুরআনকে আরবী ভাষায় নাযিল করেছেন যাতে আমরা বুঝতে পারি। আর আমরা বলি, আরবী ভাষা জানি না। আরবী ভাষা শিখি নাই, আরবীতে খুৎবার বদলে বাংলায় দিতে হবে। নানা রকমের টালবাহানা ছন্দেমন্দের কথা। কুরআনের পরিষ্কার আয়াতের পর এর বিপরীত কোন কিছু বিশ্বাস করা কবিরা গুনাহ। রাসূল (সা) বিশ্বনবী। তাকে আরব হিসেবে বা অন্য জাতপাতের লোক বিবেচনা করা ঠিক নয়। অন্য নবীরা যার যার ক্বওমের নিকট আবির্ভূত হয়েছেন। তাই সেসব নবীরা ওইসব ক্বওমের ভাষায় বয়ান করেছেন। আর রাসূল (সা) পুরো বিশ্ববাসীর সামনে দাড়িয়ে আরবীতেই খুৎবা দিয়েছেন। যদিও সেটি ছিল তার মাতৃভাষা। মাতৃভাষা হলেও তিনি সর্বোৎকৃষ্ট আরবীতে কথা বলতেন। সব আরব তো সর্বোৎকৃষ্ট আরবীতে কথা বলেন না। তার অডিয়েন্সের মধ্যে পৃথিবীর সব ভাষার লোক আছে। সালমান ফারসী (রাযি) আছেন। তিনি আরব নন। তার অডিয়েন্স কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। সব ভাষার লোকদের সামনে দাড়িয়ে তিনি আরবীতেই বয়ান করেছেন।

ইসলামী রাষ্ট্রের ভাষা

ইসলামী রাস্ট্র হলো খিলাফত রাস্ট্র। আর খিলাফত রাস্ট্রের অধীনে থাকা সকল মসজিদের খুতবার ভাষা হবে আরবি। কিন্তু যেহেতু আমরা দাজ্জালের ধোঁকায় পড়ে মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত অসংখ্য জাতীয়তাবাদী রাস্ট্রে নিজেদের বিভক্ত করেছি, তাই আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, মাতৃভাষায় খুতবা দেয়াটাই অধিকতর শ্রেয়। কিন্তু ইসলামী রাস্ট্র বা খিলাফত রাস্ট্রের আইন আলাদা।

এখন প্রশ্ন হলো, কেন খিলাফত রাস্ট্রে আরবীতে খুতবা দেয়া বাধ্যতামূলক। কারণ, খিলাফত রাস্ট্রে যে কোন মুসলমান যে কোন জায়গায় পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই গিয়ে বসবাস করতে পারবে। তাই শেখ ইমরান হোসেন যদি ত্রিনিদাদ ছেড়ে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন, তাহলে যেন সেখানকার খুতবা শুনে ঘুমিয়ে না যান, বরং বুতে পারেন। আবার আবুল কালাম আযাদ যদি বাংলাদেশ ছেড়ে তুর্কমেনিস্তানে গিয়ে বসবাস শুরু করেন, সেখানকার খুতবা শুনে যেন ঘুমিয়ে না যান, বরং বুঝতে পারেন।

@ Md Arefin Showrav