ইয়াহুদি, খৃষ্টান ও মুসলিমদের মধ্যে শেষ যামানা সচেতনতা এবং সাম্প্রতিক ঘটনা

শেষ যামানা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন হল ইয়াহুদিরা। তারা তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রিক, অর্থনৈতিক প্রতিটি পদক্ষেপ শেষ যামানার আলোকে নেয়। তারা তাদের বিকৃত ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে যতটুকু বুঝেছে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করে। তাদের ব্যক্তিগত চিন্তায়, রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক আলোচনায়, মিডিয়ার খবরে শেষ যামানা সম্পর্কিত অনেক আলোচনা থাকে। মাসিয়াখ (দাজ্জাল) অচিরেই আসবে, অমুক রাবাই অমুক ভবিষ্যৎবাণী করেছে, অমুক আশ্চর্য ঘটনা অমুক ধর্মীয় বিষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সুপারমুন, সাবাত, জুবলি ইত্যাদি নিয়ে তাদের বড় বড় মিডিয়া প্রায় খবর করে।

ইয়াহুদিদের চাইতে কম হলেও শেষ যামানা সচেতনতা খৃষ্টানদের মধ্যে অনেক রয়েছে। সাম্প্রতি এমন অনেক ঘটনায় এটা সহজে বুঝা যায়। হুয়াইট ইভেনজালিস্ট খৃষ্টানরা প্রথমে ট্রাম্পকে ভোট দিতে চায়নি কিন্তু যখন ট্রাম্প ইশতেহারে জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে বলে উল্লেখ করেছিল, এটা শুনে ৮১% ইভেঞ্জালিস্টরা তাকে ভোট দেয়- কারন তাদের বিশ্বাস হল জেরুজালেম রাজধানী হলে ইসা (আঃ) এর দ্রুত আগমন হবে। এখন তারা প্রচার করছে ট্রাম্পের এমন ঘোষণা আরমোগেডান ও মানব জাতির ধ্বংসকে কাছিয়ে এনেছে। তাদের প্রধান প্রধান মিডিয়া প্রায় এমন নিউজ করে। বড় কোনো অবাক, সংকটপূর্ণ, রহস্যময় ঘটনাকে তারা এপোক্লিপ্স (দুনিয়ার ধ্বংস) ও আরমোগেডন (মহাযুদ্ধ/মালহামা) শব্দ ব্যবহার করে নিউজ করে। আমেরিকার সাথে কোরিয়া, বা রাশিয়া বা চীনের দ্বন্দ্ব ইত্যাদিকে তারা আরমোগেডন বলে নিউজে করেছিল। আমি কোনো কন্সপাইরেসি থিওরি শেয়ারিং নিউজ মিডিয়ার কথা বলছি না, বরং ওয়াসিংটন পোষ্ট, টাইম নিউজ, ইকোনমিক, ফক্স, বিবিসি, সিএনএন ইত্যাদি নিউজের কথা বলছি। যেমন ক্যালিফোরনিয়ার দাবানলের চিত্র তুলে ধরতে ইকোনোমিক্স ‘এপোক্লিপ্ট সিন’ শব্দ ব্যবহার করেছে। অর্থোডক্স খৃষ্টান ইস্পুটিনিক নিউজ করেছে (Trump’s Jerusalem Move ‘Step Closer to Armageddon’ Say US Evangelical Christians)

তাদের মুভি, ডকুমেন্টারি এমনকি গেমসেও এই সব শব্দ অনেক ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন কাহিনিকে আরমোগেডন বা এপোক্লিপ্স এর সাথে জুড়ে দেয়। জেরুজালেমকে রাজধানী করার পরে, অনেক খৃষ্টান তাদের মত শেয়ার করতে গিয়ে এন্টিক্রাইস্ট ও শেষ যামানার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মিডিয়া সি অব গ্যালিলি’র নিউজ করলে অবশ্যই এন্টিক্রাইস্টের কথাও বলে। একই ভাবে উল্লেখ্যযোগ্য মিডিয়া, জেরুজালেমকে শুধু রাজধানী না বলে ‘ইটারনাল (অনন্ত ও চিরস্থায়ী) রাজধানী’ ব্যবহার করেছে। এখানে ইটারনাল বলতে তাদের চিরস্থায়ী বিশ্বাস ও চিরস্থায়ী জান্নাতের বিশ্বাসকে বুঝানো হচ্ছে।

এমনকি তাদের ধর্মীয় গুরু বা রাস্ট্র শাসককে তাদের অনেকে এন্টি ক্রাইস্ট (দাজ্জাল) বা জিসাস (দ্বিতীয়বার আগত জিসাস) মনে করে। ২০১৩ সালের সার্ভেতে বলা হয়েছিল প্রতি ৪ জনের একজন আমেরিকান (২৫%) জনগন বারাক ওবামাকে এন্টিক্রাইস্ট বা দাজ্জাল মনে করে। পোপ ফ্রান্সিস খ্রিষ্টানদের একটি ইবাদতের পদ্ধতি চেঞ্জ করতে বলেছেন, এটা শুনে অনেকে তাকে এন্টিক্রাইস্ট বলে আখ্যায়িত করেছে। এই সব কথা নিউজে তারা ছেপেছে। রাশিয়া যখন সিরিয়ায় আগমন করে এটাকে অনেক মিডিয়া আরমোগেডন শিরোনামে নিউজ করেছিল। ট্রাম্পকে ভোট দেয়ার পিছনে অনেক খ্রিষ্টানরা প্রথমে বিবলিকাল প্রফেসি দিয়ে জাস্টিফাই করেছে, কেউ বলেছে সে এন্টিক্রাইস্ট, কেউ বা বলেছে সে আসলে এন্টি ক্রাইস্ট আসবে। এই সব বিশ্বাস কতটুকু যৌক্তিক তা জানা জরুরি নয় তবে জরুরি হল তারা শেষ যামানা সচেতন মানুষ।

মুসলিম। অত্যন্ত আফসোসের বিষয় পৃথিবীর বলতে গেলে প্রায় সকল ধর্মের মানুষের চাইতে আমরা এই সব নিয়ে কম ভাবি। আমরা পশ্চিমাদের অর্থাৎ ইয়াহুদি খৃষ্টানদের অন্ধভাবে অনুসরন করি কিন্তু আমরা তাদের মত আমাদের সকল বিষয় তথা ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি কুর’আন হাদিসের জ্ঞানের আলোকে দেখি না। আমরা মনে করি এই সব কাজে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের মিডিয়া কখনো মালহামা, ইমাম মাহদি, দাজ্জাল, কালো পতকা বাহিনী, সি অব গ্যালিলি ইত্যাদি শব্দ উচ্চারন করে না। এই সব হল সেকেলে, অজ্ঞদের বিশ্বাস!!!!। এমনকি আমাদের আলেমরাও শেষ যামানার জ্ঞানের সাথে যুগের বিভিন্ন ঘটনাকে মিলিয়ে দেখেন না। একজন আলেম নেই যিনি জেরুজালেম বা ইসরাইলের কোন ঘটনার সাথে শেষ যামানার জ্ঞান মিলিয়ে দেখেন। অথচ কিয়ামত ও শেষ যামানার ফিতনা নিয়ে আমাদের কাছে সব চেয়ে বেশি তথ্য রয়েছে। শত শত আলামত হাজারো হাদিস রয়েছে। কিন্তু আমরা ছোট ছোট বিষয় নিয়ে একে অপরের সাথে লড়াই করতে ব্যস্ত। সামগ্রিক উম্মাহ নিয়ে ভাবার কারোর সময় নেই। ভাবটাও এমন থাকে যে এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পরে না।

মুসলিমদের কোন খ্যাত অখ্যাত মিডিয়া পাবেন না যারা একবারো কোনো ঘটনাকে শেষ যামানার কোনো শব্দ দিয়ে নিউজ করেছে। কোন জনপ্রিয় আলেমেরও সময় নেই এই সব নিয়ে বলার। তারা সি অব গ্যালিলি নিয়ে কিছুই জানেন না। গোল্ড বেসড টাকা চলে গেল তারা জানতেন না, এখন ফালতু মিথ্যা কাগুজে নোট খতম হয়ে আরো বড় ফালতু বোগাস ক্রিপ্টকারেন্সি আসতেছে তারা কিছুই জানেন না। যেহেতু গোল্ড বেসড টাকা জায়িজ ছিল তাই যতই নতুন মুদ্রা ব্যবস্থা আসুক সবই জায়িজ আমরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে পারি এখন। আমার ২৫ বছর পার হল একবারো কোনো খুতবাতে দাজ্জালের নাম শুনিনি। ওলামাদের অবস্থা এমন হলে সাধারনের অবস্থা সহজেই বুঝা যায়। তারা পশ্চিমাদের ফ্যাশন, স্টাইল, এটিটিউড কোপি করতে ব্যস্ত। বর্তমান উম্মাহর যে অবস্থা দাজ্জাল মশাই এমন অবস্থারই অপেক্ষা করছে নিশ্চয়।

উল্লেখ্য যে, সকল আলেম এমন নন। যাইহোক হতাশা বা আফসোস নয়। মুমিনদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে। আল্লাহ অবশ্যই মহাপরিকল্পক।সুসংবাদ রয়েছে গুরাবাদের জন্য।

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

Advertisements

নারী কি পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি?

“নারীদেরকে পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে” – এ কথাটি আমরা প্রায়ই শুনি। ইসলামকে বিতর্কিত করার জন্যে অনেকেই এ কথাটি বলে থাকেন।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলাম ধর্মের কোথাও এ কথাটি নেই। এটি হলো খ্রিস্টান ধর্মের একটি কথা।

বাইবেলে বলা হয়েছে –

Then the LORD God made a woman from the rib he had taken out of the man, and he brought her to the man.
[Bible, New International Version, Genesis,Chapter 2, Verse 22]

“স্রষ্টা পুরুষের পাঁজর থেকে একটি হাড় নিয়ে তা দিয়ে একজন নারীকে সৃষ্টি করেছেন। এবং তিনি নারীটিকে পুরুষের সামনে উপস্থিত করলেন।“

ribcage-by-Conscience-Killer-flickr.jpg

বাইবেলের এই লাইনটির ব্যাখ্যায় খ্রিস্টানগণ বলেন, আল্লাহ তায়ালা প্রথম আদম (আ)-কে সৃষ্টি করেছেন। এরপর আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় সংগ্রহ করেন। তারপর তা থেকে হাওয়া (আ)-কে সৃষ্টি করেন।

খ্রিস্টানদের এ কথাটি এখন মুসলিম সমাজে খুবই পরিচিত। কিন্তু এর কারণ কি? মূলত, রাসূল (স) –এর একটি হাদিসকে কোর’আনের সাহায্যে ব্যাখ্যা না করে, বাইবেলের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেই এ সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন

আয়না

আজকের মুসলমান সমাজ দাবি তো করি আমরা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত। কিন্তু উম্মতের যে নমুনা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম রেখে গেছেন ছাহাবা কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা য়ানহুমের মাঝে তার সাথে আমাদের ছিটেফোঁটাও মিল খুঁজে পাই না।

কিন্তু যখন কুরআনের দর্পণে আমাদের সমাজকে মেলে ধরি তখন অতীতের আ’দ ও ছামুদ জাতি, নূহ য়ালাইহিস সালামের জাতি, লূত ও শুয়াইব য়ালাইহিমুস সালামের জাতি, ফিরআউনের বিশাল সৈন্য সামন্ত এবং তৎপরবর্তী মূসা য়ালাইহিস সালামের বনী ইসরাঈলের সাথে পুরোটাই মিলে যায়। পুরো কুরআনে আল্লাহ্‌ অতীতে ধ্বংসপ্রাপ্ত বেয়াদব জাতিগুলোর যে বর্ণনা দিয়েছেন তা যেন আজকের সমাজের প্রতিটি পাতারই কপি পেস্ট।

বিশ্বাস না হলে কুরআন খুলে মিলিয়ে দেখুন। প্রতিটি ছত্রে ছত্রে অতীত ও বর্তমান কিভাবে মিশে যায়।

শরীর ও আত্মা

আপনি কাউকে ক্রুশবিদ্ধ করলেন, তারপর সে উঠে গেল, স্যুট পড়ল আর ব্যাগ কাঁধে নিয়ে চলে গেল; এটাকে কী ক্রুশবিদ্ধকরণ বলা যাবে?? না। ক্রুশবিদ্ধকরণ তখনই বলা যাবে, যখন সেই ব্যক্তি মওত বা মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করবে। মৃত্যু মানে শারিরিকভাবে মৃত্যু, কাব্যিকভাবে মৃত্যু নয়। কারণ কোন একজন কবি বলেছিলেন, “তাকে প্রথমবার দেখার পর আমি মরেই গিয়েছিলাম!” অথচ তিনি জীবন্ত অবস্থায় এই কথা আবৃত্তি করছিলেন!!!

অর্থাৎ কাব্যিকভাবে মৃত্যু নয়, শারীরিকভাবে মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করলেই আপনি বলতে পারবেন লোকটি ক্রুশবিদ্ধ হয়েছে। এখন মওত কী? আল্লাহপাক মানুষের আত্মা নিয়ে নেন। তারপর কিছু আত্মাকে তিনি ফিরিয়ে দেন। তখন তাকে আমরা বলি ঘুম। আর কিছু আত্মা তিনি ফিরিয়ে দেন না। তখন তাকে আমরা বলি মৃত্যু। তাই কোন ব্যক্তিকে তখনই ক্রুশবিদ্ধ হয়েছে বলা যাবে যখন সে ব্যক্তির আত্মা আল্লাহপাক তার দেহ থেকে নিয়ে নেবেন এবং তা আর ফিরিয়ে দেবেন না।

— শেখ ইমরান হোসেন।

Md Arefin Showrav

জীবনের প্রতি সবার চাইতে লোভী

আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরলাম যে, শক্ত করে ধর, আমি যা তোমাদের দিয়েছি আর শোন। তারা বলল, আমরা শুনেছি আর অমান্য করেছি। কুফরের কারণে তাদের অন্তরে গোবৎসপ্রীতি পান করানো হয়েছিল। বলে দিন, তোমরা বিশ্বাসী হলে, তোমাদের সে বিশ্বাস মন্দ বিষয়াদি শিক্ষা দেয়। বলে দিন, যদি আখেরাতের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে-অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক। কস্মিনকালেও তারা মৃত্যু কামনা করবে না ঐসব গোনাহর কারণে, যা তাদের হাত পাঠিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ গোনাহগারদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন। আপনি তাদেরকে জীবনের প্রতি সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী দেখবেন। তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায়। অথচ এরূপ আয়ু প্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহ দেখেন যা কিছু তারা করে। [সুরা বাকারাহ: ৯৩-৯৬]

যখন মানুষ আল্লাহর কিতাবকে ছেড়ে দেয় ও তাঁর নির্দেশ অমান্য করতে থাকে, তখন সে দুনিয়ার প্রেমে পড়ে যায় ও দুনিয়ার পূজা করতে শুরু করে। আখেরী জামানার মুসলিমদেরও এই অবস্থা হয়েছে। তারা পবিত্র কোরানকে ছেড়ে দেয়ায় দুনিয়াকে তাদের কাছে খুব প্রীতিকর লাগছে, দুনিয়ার মানবসৃষ্ট শরীয়তকে তাদের বেশী ভালো লাগছে।

যারা বস্তুগত দুনিয়ায় নিজেদের ভাসিয়ে দিয়েছে, তারা হাজার বছরের আয়ু চায়। কারণ দুনিয়া ত্যাগ করার সাথে সাথেই তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আপতিত হবে। এজন্য তারা অনেক দিন বাঁচতে চায়। সেক্যুলার মনোভাবযুক্ত লোকেরা এর মধ্যে পড়ে। এছাড়া জায়োনিস্টরাও এর মধ্যে পড়ে। রথসচাইল্ড, রকসফেলার ইত্যাদি অভিজাত ইহুদি পরিবারের লোকেরা বহুদিন বেঁচে থাকতে চায়। কারণ তারা জানে, মৃত্যুর পর তাদের জন্য আল্লাহর আজাব ব্যতীত কিছু নেই।

বনী ইসরায়েল ও মুসলমান

বনী ইজরায়েলের কাছে নবী রাসুল এসেছিল, তারা নিজেরাও ছিল নবীর বংশধর, তবে তারা কী করে গরুপূজায় লিপ্ত হতে পারে? তারা কী জানত না যে, আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন কিন্তু শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না? তারা কী দেখেনি কীভাবে আল্লাহপাক ফেরাউন ও তার আর্মিকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মারেন? তারা কী দেখেনি কীভাবে নবী ইউসুফ (আ) দাস থেকে মিশরের সেকেন্ড ইন কমান্ডে পরিণত হন? তবুও তারা আল্লাহকে রেখে কীভাবে গরুপূজায় লিপ্ত হয়? তাদের মাথা কী গোবরে ভরা ছিল? নাকি তারা অন্ধ ছিল? কীভাবে তারা এ কাজ করতে পারল?
উত্তর খুঁজুন আখেরি জামানার মুসলিমদের অবস্থা দেখে। কীভাবে তারা আল্লাহর শরীয়তকে অবজ্ঞা করে ইউরোপ-আমেরিকার শরীয়তের অনুসরণ করছে!

Md Arefin Showrav

অঙ্গীকার নেয়ার পর

“যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী। যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে। অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন। এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না।” [আল বাকারা ২: ৮৩-৮৬]

আখেরী জামানার মুসলিমদের হালও কী একইরকম নয়? আল্লাহর ইবাদতের জায়গায় তারা ওয়াশিংটন, প্যারিস, বার্লিনের গ্রিন কার্ডের উপাসনা করে; রাস্ট্রের উপাসনা করে; সংসদের উপাসনা করে; জাতিসংঘের উপাসনা করে। পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার তো দূরের কথা, তাদের হত্যা করতেও পিছপা হয় না, তাদের গায়ে হাত তুলতে পিছপা হয় না, তাদের সাথে কর্কশ ভাষায় কথা বলতে পিছপা হয় না, তাদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে পিছপা হয় না। পান থেকে চুন খসলেই আত্মীয়স্বজনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। ইয়াতিম ও মিসকিনদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসে না বরং বিনোদনে অর্থসম্পদ খরচ করে ফেলে। মানুষের সাথে সৎব্যবহার না করে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়া এখন স্বাভাবিক ব্যপার। নামাজ ও যাকাত নিয়মিত আদায় করে না। মুসলিম হয়ে অন্য মুসলিমকে হত্যা করা এখন নিয়মিত ব্যপার। আমেরিকার টাকায় ভুয়া জিহাদ করে প্রতিদিন মুসলিমদের রক্ত ঝরাচ্ছে। ভুয়া জিহাদ করে সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান থেকে সেখানকার মুসলিমদেরকে তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে ভূমধ্যসাগরের ডুবিয়ে মারছে কিংবা ইউরোপের ভিখারি শরণার্থী বানাচ্ছে। নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ইসলামকে ব্যবহার করে কোন কোন আকিদা পালন করছে আর কোন কোনটি পালন করতে অস্বীকার করছে। এরাই আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়াকে ক্রয় করেছে। কিন্তু এর ফলে এরা দুনিয়ায় যেমন অসম্মানিত হচ্ছে, আখিরাতেও এদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

ইসলামী কলিযুগবিদ্যা