সেই ৭২ = এই ৭২

বনী ইসরাইলরা ৭২ দলে বিভক্ত হইয়াছিল। এই ৭২ দল নিঃশেষ হইয়া গেছে এমন কথা আমার জানামতে পাওয়া যায় নাই। মুসলমান বিভক্ত হবে ৭৩ দলে। এর অর্থ হল ঐ ৭২ বনী ইসরাইলের দলই মুসলমানদের ৭২ টি দলের নেতৃত্ব দিবে। ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনীতি, সামরিক ও শিক্ষা সব জায়গায়। মানুষ এই বনী ইসরাইলের নেতাদের অনুসরণ করিবে এমনভাবে যদি তারা টিকিটিকির গর্তেও যায় মানুষ তাই যাবে।

এই বনী ইসরাঈলের নেতারা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লামের ইসলামকে নতুন রূপ দিয়াছে। নতুনভাবে ফর্মূলেট করিয়াছে। অনেক ধরনের ফর্মুলা তাদের কাছে আছে। যে যেটা খেতে চায় তাকে সেটা খাওয়ানো হয়। কাউকে একটা যিকির ধরিয়ে দিয়া বলা হয় ইহাই তোমার ইসলাম, কাউকে একটা মার্কা ধরিয়ে দিয়া বলা হয় ইহা বহন করিতে থাকো, কাউকে একটা নির্দিষ্ট পাঠ দিয়ে দিয়া বলা হয় আমৃত্যু পড়িতে থাকো, কাউকে অমুক জায়গায় তমুক দিনের জন্য পাঠিয়ে দিয়া বলা হয় চলিতে থাকো, কাউকে একটা তলোয়ার ধরিয়ে দিয়া বলা হয় উহাকে হত্যা করিয়া ফেল, কাউকে মডারেট প্রেসক্রিপশন দিয়া বলা হয় ইহাই সর্বোত্তম – সবাই মনে করে তার রাস্তাই সহি। তার অষুধই সর্বরোগের মহৌষধ।

যদি কেউ নিজ দল সম্পর্কে চিন্তা করে তাহলে তাকে নিষেধ করা হয়। না না, তোমাকে চিন্তা করার অধিকার দেয়া হয় নাই। ইহা বড়দের তৈরী করা ফর্মুলা। ইহার মাধ্যমে বহু লোক হেদায়েত পাইয়াছে। ইহাই তোমার জন্য চূড়ান্ত।

অথচ, স্বয়ং কুরআনে আল্লাহ্‌ তায়ালা তার চিন্তাশীল বান্দাদের প্রশংসা করিয়াছেন। কুরআনের মূল অডীয়েন্সই হইল চিন্তাশীলরা। কিন্তু তাহারা, অর্থাৎ বনী ইসারাঈলের ৭২ দলের নেতারা চিন্তার দরজা মানুষের জন্য বন্ধ করিয়া দিয়াছে। বিনা আলোচনায় গণতন্ত্র, সুদ, নারী আন্দোলন, ফর্মূলেটেড ইসলাম সবই মানিয়া লইতে হইবে।

কিন্তু নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিতেছেন, এসব রাস্তার প্রত্যেকটার শুরুতে শয়তান বসে মানুষদের ডাকছে।

কেন রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র বংশীয় লোকেরা ও তার সাহাবায়ে কেরাম রাযি এর লোকেরা আজকে পৃথিবীর কোথাও আলোচনায় নাই, টিভিতে নাই, টক শোতে নাই, ইন্টারনেটে নাই, নির্বাচনে নাই, অফিস আদালতে নাই, রাতভর ওয়াজ মাহফিলে নাই, লং মার্চে নাই কোথাও তাহারা নাই। তাহারা কি হাওয়া হইয়া গেল? বাস্তবতা এই যে, তাহারা আছেন ঐ ১ দলে, যে দলকে শয়তান ও বনী ইসরাঈলের ঈহুদী নাসারারা স্পর্শ করিতে পারে নাই।

গুইসাপের গর্তের অভিমুখে যাত্রা

%e0%a7%ad%e0%a7%a9-%e0%a6%a6%e0%a6%b2

এই হাদীসটি বোখারীতেও আছে, মুসলিমেও আছে। মুত্তাফাকুন য়ালাইহি। কেউই এই হাদীসটি অস্বীকার করতে পারবে না। Sahih hadith, No doubt about it.

এই আশ্চর্য হাদীসটি বোখারী শরীফে আছে। এই হাদীসটি খুব ভালোভাবে খেয়াল করা উচিৎ। ইহা আছে আম্বিয়া (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহিম) অধ্যায়ে। আবু সাঈদ রাযি হতে বর্ণিতঃ নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করবে প্রতি গজে গজে এবং প্রতি বিঘতে বিঘতে। এমনকি তারা যদি গুই সাপের গর্তেও প্রবেশ করে তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আপনি কি ইহুদী ও নাসারাদের কথা বলছেন? তিনি বললেন, তবে আর কার কথা?

অনুসরণ কিভাবে করতে হয়? যাকে হয় অনুসরণ করা হয় সে কোথায় থাকে? সে অবশ্যই সামনে থাকে। আর অনুসরণকারীরা থাকে পেছনে।

যাকে অনুসরণ করা হয় সে সামনে থেকে লিড দেয়। সে যে পথে চলে দলের বাকী সবাই সে পথেই চলবে। এই হাদীস থেকে এরকম বুঝে আসছে, আমাদের সামনে থাকবে আমাদের পূর্ববর্তী জাতির বর্তমান লোকেরা। অর্থাৎ দুনিয়াতে বর্তমান ইহুদী ও খ্রিস্টান লোকেরা। তারা থাকবে নেতৃত্বে। কারণ তাদের আগের লোকেরা তো বর্তমান পৃথিবীতে নেই। বরং তাদের বর্তমান লোকেরাই তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব করবে।

আর পেছনে থাকব আমরা।

তারা কোন কোন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে? যেহেতু এটি ধর্মীয় বিষয় এবং নির্দিষ্ট করে বলা নেই কোন কোন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে। কাজেই ধরে নেয়া যায়, তারা সকল ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দিবে এবং বিশেষভাবে ধর্মীয় ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে। ধর্মীয় ক্ষেত্রটা হচ্ছে মূল। এছাড়া তারা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাকী ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্ব বুঝে আসছে এবং তা বৃহৎ পরিসরে আমরা মেনেও নিয়েছি।

কিন্তু ধর্মীয় ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্ব বুঝে আসছে না। এর কারণ হল, ধর্মীয় ক্ষেত্রে তারা এতো ভালো নেতৃত্ব দিচ্ছে যে তাদেরকে আলাদা করে চেনা যাচ্ছে না।

মুসলমান জাতিকে তারা ৭৩ টা ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। ৭২ ভাগের নেতৃত্বে আছে তারা। এজন্যই অন্য হাদীসে বনী ইসরাঈলদের ৭২ ভাগের কথা বলা আছে। মাত্র ১ ভাগের মধ্যে তারা ঢুকতে পারে নি।

এরাই নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ণাঙ্গ দ্বীনকে বিভিন্নভাবে ফর্মূলেট করেছে। কখনো ৫ কাজের নামে, কখনো চিল্লার নামে, কখনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের নামে, কখনো লংমার্চের নামে, কখনো আইএস, কখনো জেএমবির নামে, মাদ্রাসা, পীর, খানকাহ, মাযার, শীতকালের সুরেলা ওয়াজ মাহফিল, আহলে হাদীস, ওহাবী, সালাফী, মাযহাবী, লা-মাযহাবী, মডারেট, শীয়া এরা ইসলামের নানা ধরনের ভার্সন বের করেছে। অভাব নেই।

এক একজন এক এক গিরগিটির গর্তে দলে দলে মানুষদের নিয়ে যাচ্ছে।

সদর দরজা যখন খোলা চোরের তখন পোয়াবারো

garagedoor

Install Security Cameras; Even Fake ones will Work!

আপনি যখন ৩০ হাজার টাকা দিয়া একটা কম্পিউটার কিনিলেন তখন প্রথমেই মনে হইল ভালো একটা এন্টিভাইরাস কিনিতে হইবে। যাহাতে হ্যাকাররা আপনার কম্পিউটারের ভেতর ঢুকিয়া আপনাকে মিসগাইড করিতে না পারে, আপনাকে ফাকি দিয়া আপনার দলিল দস্তাবেজ লইয়া যাইতে না পরে। সামান্য দুনিয়াবী ক্ষণস্থায়ী যাহা ডিলিট বাটনে টিপ দিলেই মুছিয়া যায় এমন দুই চারি হাজার ডাটা নিরাপদ রাখিবার জন্য আপনি ৭০০ টাকা খরচ করিয়া এন্টিভাইরাস কিনিয়া ফেলেন। আবার কয়েক দিন পর পর ইহাকে আপডেটও করেন।

৩০ লক্ষ টাকা দিয়া একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনিয়া আপনি ইহার নিরাপত্তার জন্য মাসিক ৭০০০ টাকা বেতন দিয়া একজন ভালো ও বিশ্বস্ত দারোয়ান রাখিয়া লইলেন। ইহাতেও আপনি খুশি হইলেন না। তাই টেলিফোনের ডাইরেক্টরীতে থানার ওসির নাম্বার ও ফায়ার ব্রিগেডের নাম্বার লাল কালিতে দাগ দিয়া রাখিলেন, যেন প্রয়োজন হইলে সাথে সাথে খুজিয়া পাইতে বিলম্ব না হয়।

ইহা তো গেল দুনিয়াবী হাকীকত। আল্লাহ্‌ তায়ালা কি করিয়াছেন? আর তিনি কুরআনের মাধ্যমে আমাদের কি রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানাইয়াছেন?

হযরত জিবরাঈল আমীন ফেরেশতা যখন কুরআনের আয়াত লইয়া আল্লাহ্‌র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসিতেন, আল্লাহ্‌ বলিতেছেন, এ সময় শয়তানকে কুরআন শ্রবণের সুযোগ থেকেও দূরে রাখা হইয়াছে। কি হইত শয়তানকে কুরআন শ্রবনের সুযোগ দিলে ? জিবরাঈল আমীন য়ালাইহিস সালামের উপর কি আল্লাহ্‌র আস্থা নাই ! তা নহে। আল্লাহ্‌র আস্থা ঠিকই আছে। কিন্তু তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করিয়াছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, কুরআনকে আমি প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি। তবে শয়তানদের কেউ যদি চুরি করে সংবাদ শুনে পালায় তাহলে জ্বলন্ত উল্কা পিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে। দেখুন সূরা শু’আরা ও সূরা হিজর ।

আর আমরা দ্বীনের মেহনতের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা খুলিয়া বসিয়াছি। আমরা মাদরাসা বানাইয়াছি, পীরের খানকাহ গড়িয়াছি, তবলীগের মারকাজ প্রতিষ্ঠা করিয়াছি। কিন্তু আমাদের কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই। কোন ইহুদী বা খ্রিস্টানকে শয়তান যেন প্ররোচনা দিতে পারে না, আমাদের প্রচেষ্টাগুলোকে হ্যাক করতে।

আমরা ইহুদী বিষয়ে মাথা ঘামাইতে চাহি না। আমরা শুধু আমাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা মেহনতগুলোর বর্ধিত কলেবর দেখিয়াই প্রশান্তি লাভ করি। কিন্তু তাহার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি নাই। শত শত বছর ধরে তাহা খোলা ময়দানে খোলা পড়িয়া রহিয়াছে।

যখনই কেহ মহানবী রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কোন শিক্ষাকে কাটছাট করিয়াছে বা নিজের মনমতো আকৃতি দিয়াছে আমরা ভাবিয়াছি ইহা আমাদের ভালোর জন্যই করা হইয়াছে। টুপী পাগড়ী ঘন দাড়ি দেখিয়া বিগলিত হইয়া গিয়াছি।

আমরা ভুলিয়া গিয়াছি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এমন ভাইরাসই আক্রমণ করবে যা উইন্ডোজের সাথে মানানসই। একসময় তা পুরো সিস্টেমকে নিজের কব্জায় পুড়িয়া লয়।

ইহুদীরা ইহুদী নাম দিয়া মুসলমানদের কেন হ্যাক করিতে যাইবে !! তাহারা মুসলমানদের দরদী হইয়া মুসলমানদের সিস্টেমে ঢুকিয়া পড়িবে। ইহা বুঝিতে কি আলেম হইতে হয়? পিএইচডি ডিগ্রী দরকার হয়?

……।

ইমাম মাহদী য়ালাইহি সালাম যখন আসিবেন তাহাকে কেহ চিনিতে পারিবে না। তিনি আল্লাহ্‌র শেখানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিবেন। ৪০ বৎসর কাল তাহাকে কেহ সনাক্ত করিতে পারিবে না। যখন তিনি প্রকাশিত হইবেন তখনও প্রকৃত মুসলমান ছাড়া কোন ইহুদী খ্রিস্টান শয়তানের এজেন্ট তাহার কাছে ঘেঁষিতে পারিবে না।

পুনশ্চঃ

যেইসব আলেমরা ফতোয়া দেয়, হ্যাঁ, আপনি আপাতত ব্যাংকের চাকরী করিতে থাকুন, পাশাপাশি অন্য চাকরী দেখুন। সময় সুযোগ মতো ব্যাংকের চাকরী ছাড়িয়া দিলেই হইবে।

ইহাদের থেকে সাবধান হউন। এই ফতোয়ার অর্থ হইল,

আপনি আপাতত আপনার মায়ের সাথে জেনাহ করতে থাকেন। একসময় ভালো বউ পাইলে কালেমা পড়ে বিবাহ কইরে ফেইলেন।

অথবা আল্লাহ্‌র ও তার রাসূলের সাথে আপনি যে যুদ্ধ ঘোষনা করিয়াছেন ইহা বহাল থাকুক। সময়মতো যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ভাগিয়া যাইয়েন।

– আসলে এই সকল আলেমদের মগজের ভেতর ইহুদীদের মগজ এমনভাবে বসিয়া গিয়াছে যে ইহুদীদের সেই আদি ও সনাতন সুদী ব্যবস্থাও তাহাদের সামান্য বিচলিত করিতেছে না।

কোথাও ‘উহারা’ নেই

একজন তাবলীগের ভাই বললেন, আমাদের তবলীগে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু ৫ কাজ করি আর চিল্লা দেই। এটা করতে করতে একসময় যখন সবাই ইমানদার হবে তখন দ্বীন প্রতিষ্ঠা হবে। আপাতত মুরব্বীদের ঘিরে ধরা বিতর্ক দেখেও না দেখার কোশেশ করতে ব্যস্ত আছি।

একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা কেবল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামের বিজয়ের জন্য লড়ছি।

একজন চরমোনাইয়ের মুরীদ ভাই বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা আপাতত পৌরসভা নির্বাচনের জন্য লড়ছি। সামনে আমাদের লং মার্চ আছে।

একজন আহলে হাদীস বললেন, আমাদের শাইখদের মধ্যে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু সহি হাদিসের ভিত্তিতে যেসব জায়গার মুসল্লিরা আমীন আস্তে বলে সেসব জায়গায় হঠাত করে একদিন গিয়ে আমীন জোরে বলতে চাই।

একজন আইএস বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু শাইখ বাগদাদীর কথিত খেলাফত কায়েমের লক্ষ্যে রক্ত ঝড়াই।

একজন মাদ্রাসার উস্তাদ বললেন, আমাদের মাদ্রাসায় কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু ইলেম চর্চা করি। আপাতত সনদের স্বীকৃতি নিয়ে ব্যস্ত আছি।

একজন শীয়া বললেন, আমাদের শিয়াদের মধ্যে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু আলী রাযি বাদে অন্য সব সাহাবীদের সম্পর্কে আজে বাজে কথা বলি। আর কোন সমস্যা নেই।

একজন ওহাবী বললেন, আমাদের ভেতর কোন ইহুদী নেই। তবে আমরাই খেলাফত থেকে আস সৌদকে স্বাধীন করে ফিলিস্তীন ইহুদীদের কাছে বিক্রী করে দিয়েছি। এরপর থেকে ইহুদীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।

তাহলে তো বলতে হয়,

ইহুদীদের মতো ভদ্র সভ্য ভালো মানুষ দুনিয়ায় আর একটাও নেই। কোথাও কোন ইহুদী নেই। ইহুদীরা শুধু টিভি দেখে আর চিকেন ফ্রাই খায়। তারা আমাদের মধ্যে ঢুকতেই পারে না। তারা আমাদের আশেপাশেও নেই। আমরা ইহুদীদের ষড়যন্ত্র থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমাদের মুরব্বী থাকতে, আলেম উলামা থাকতে, আস সৌদের সামরিক জোট থাকতে ইহুদীদের নিয়ে চিন্তা নেই।।

তাহলে প্রশ্ন জাগে,

কুরআনে এতো বেশীবার ইহুদীদের বর্ণনা দেয়া হল কেন?

ইহুদীরা কেন নবীজীর (ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম) মজলিশে আড়ি পাতত?

ইহুদীরা কেন নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের থালায় বিষ দিল??

কেন দাজ্জাল ইহুদী থেকে আসবে?? কেন দাজ্জালকে সহজে চেনা যাবে না?

কিভাবে মুসলমানরা প্রতি বিঘতে বিঘতে ইহুদীদের অনুসরণ করবে??

এসব প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। উত্তর একটাই, ইহুদীরা আমাদের ধারেকাছেও নেই। তারা অনেক ভালো, শান্তশিষ্ট, সভ্য।

অথচ উপরের সবগুলোই যতটুকু না ইসলামের অনুসরণ তার চেয়ে বেশী ইহুদীদের অনুসরণ। এসব ইহুদীরা কোথায় থাকে? আসমানে? নাকি ভাগ হয়ে যাওয়া প্রতিটি দলের কেন্দ্রবিন্দুতে? যেখান থেকে প্রতিটা হুকুমকে মানুষ অনুসরণ করতে বাধ্য।

প্রজেক্ট নাম্বার এতো

jewish_conspiracy

ইহুদীদের অনেক প্রজেক্ট আছে। মুসলমানদের ভেতর। প্রজেক্ট ম্যানেজাররা এক একজন জীবন্ত দরবেশ। কিভাবে বুঝবেন এসব দরবেশ যে ইহুদিদের প্রডাক্ট? সাধারণ মুসলমানদের জন্য তাদের ধরা খুব কঠিন। এরা আপনাকে ঈমানের কথা বলবে, আখিরাতের কথা বলবে। তাহলে কিভাবে চিনবেন তাদের?

(১) যখন দেখবেন তারা ইসলামের একটা বিকৃত রূপকে উপস্থাপন করছে ইসলামের নাম দিয়ে।

প্রথমে কুরআন ও সুন্নাহকে মাত্র একটু বিকৃত করে এবং বলে দ্বীনের স্বার্থে করা হয়েছে। অল্প কয়েকদিন পরেই তারা একটা বিকৃত ইসলাম উপহার দেয়।

(২) যখন দেখবেন ইসলামের নাম দিয়ে তারা তাদের দলের দিকে মানুষকে ডাকছে। তারা বলবে তোমাকে এই এই করতে হবে। এই এই জায়গায় তোমার সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে হবে। তারপর একটা মূলো ধরিয়ে দিবে। সেটা চল্লিশ দিন হতে পারে, চল্লিশ বছর হতে পারে।

শিয়া হল ইহুদীদের একটি পুরনো প্রজেক্ট।

যারা সুন্নী তাদের মধ্যে অনেক সাব প্রজেক্ট আছে। যারা বিকৃত ইসলামের দিকে মানুষকে ডাকে। এবং ডাকে নিজেদের দলের দিকে। কৌশলে। অতি কৌশলে।

তাবলীগ জামাত, জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীর, আইএস, আল-কায়েদা, আহলে হাদীস, মাদ্রাসা, মডারেট ইসলাম, ওহাবিজম এগুলো সবই সাব প্রজেক্ট। হক্বের অতি কাছাকাছি বা অতি সদৃশ দেখে মানুষ মনে করে আসলেই হক্ব। যদিও কিছু ক্ষেত্রে হক্ব দিয়েই সম্ভবত শুরুটা হয়। ধীরে ধীরে ইহুদীদের অনুপ্রবেশ ও হ্যাকিং শুরু হয়।

সব প্রজেক্টে লাভও আছে, লসও আছে। তাবলীগ জামাত ও মাদ্রাসা প্রজেক্ট দু’টিতে তাদের লাভও বেশী হয়েছে, লসও বেশী হয়েছে।

হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ ইসলামের বেশ ভালো একটা ফ্লেভার পেয়েছে। আবার হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ অপভ্রংশ ইসলামকে আসল ইসলাম মনে করেছে।

সম্ভবত, তবলিগ জামাত প্রজেক্টের প্রয়োজনীয়তা ওদের কাছে ফুরিয়েছে। তাই এই অধ্যায়কে তারা শেষ করতে চাইছে। জাল গুটাচ্ছে। ইসলামের ফ্লেভার দিতেও তারা আগ্রহী নয়।

আগে ভাবতাম কুরআনের এতো বেশী সংখ্যক স্থানে ইহুদীদের শয়তানীর বর্ণনা কেন? কেন বনী ইসরাঈলের এতো আলোচনা ?

আসলে,

ইহুদীদের ষড়যন্ত্র এমন যেন পাহাড়কে টলিয়ে দেয়।

হ্যাকিং ইন দি পাওয়ার পলিটিক্স

লিখেছেনঃ Ashraf Mahmud

যে কোনো একটি সুসংগঠিত দলকে যদি হ্যাক করতে হয়, তবে তার প্রত্যেক সদস্যকে কন্ট্রোল করার দরকার হয় না। শুধু শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনকে হ্যাক করলেই হয়ে যায়। ঐ শীর্ষ কয়েকজন, যারা সিদ্ধান্ত নেয়, দলের বা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ করে। এটাকে বলা যায় Infiltration বা অনুপ্রবেশ। এটা কীভাবে করা যায় তা’ জানার দরকার নেই। এটা যারা করে, তারা জানলেই চলবে। আমার আপনার তা’ প্রয়োজন নেই। এটা যখন করা হয়, তখন দলের সাধারণ সদস্যরা জানতেই পারে না। নিঃশব্দে অগোচরে কাজ হয়ে যায়। চলতে থাকে। এ রকম ঘটনা সব সময়ই হয়। নিরন্তর। সাধারণ মানুষ জানতেই পারে না। ইতিহাসে আমার জানা মতে নিঃশব্দে অগোচরে সব চাইতে বড় প্রতিষ্ঠান যেটি হ্যাকড্ বা বেদখল হয়ে গেছে Roman Catholicism বা রোমান ক্যাথলিক খৃষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব। এটা Jesuits-রা দখল করে নিয়েছে। মানে, শয়তানের উপাসকরা। ক্যাথলিক জনসাধারণ দীর্ঘ অনেক যুগ পর একটু একটু জানতে পারছে। তবে এখনও অনেকেই জানে না। আমি শুধু একটি উদাহরণ দিলাম। এরকম প্রত্যেক দেশেই হয়। আমাদের বাংলাদেশেও। সেটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হতে পারে। রাজনৈতিক দল হতে পারে। কিংবা সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও হয়, তবে এক্ষেত্রে হাতবদল হলে তা’ মানুষ মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারে। অর্থাৎ সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হ্যাকিং হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা নিঃশব্দে অগোচরেই হয়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত এজেন্ডার বিপরীত এজেন্ডা বাস্তবায়ন চলে।

তবলিগ হ্যাকিং ??

দারুল উলুম দেওবন্দ তবলীগ জামাতের আমীর মাওলানা সা’দ সাহেব কান্ধলভীর বিরুদ্ধে যে ফতোয়া জারি করেছে এর ইস্কেটোলজিকাল সিগনিফিকেন্স আছে। এটা অনেক গুরুতর বিষয়, কিন্তু অনেকেই খুব সাধারণভাবে নিচ্ছে। যেন এক ভাই আরেক ভাইকে শাসন করে দিচ্ছে। অথবা ডাক্তার যেন রোগীর অপারেশন করেছে। প্রথমে ইসলামকে অতি কৌশলে তবলীগ জামাতের ফ্রেমে নিয়ে আসা হয়েছিল। যাতে লোকেরা মনে করা এটাই ইসলামের মডেল। এরপর সম্ভবত ‘তাদের কাছে’ তবলিগ জামাতের প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তাই অনেকদিন ধরেই এ জামাতকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এখন কোন দলকে দুর্বল করতে আক্রমণ করতে হয় মাথায়। কাজেই আমরা দেখতে পেলাম মাওলানা সা’দ সাহেবের উপর আক্রমণ। কিন্তু সেটা এমনভাবে দেখানো লাগবে যেন মাথায় অপারেশন করা হচ্ছে। রোগীর ভালোর জন্য। এদিকে ডাক্তার তো রোগীর অপারেশন করে খুশিতে বাগবাগ, কিন্তু ডাক্তার সাহেব নিজে সুস্থ তো? এর উত্তর জানতে আপনাকে যেতে হবে আজ থেকে ৩০০ বৎসর আগে।

সেই সময় ব্রিটিশরা গোয়েন্দা নিয়োগ করেছিল ২০০ বৎসর পরের লক্ষ্যকে সামনে রেখে। সেই গোয়েন্দারা কুরআন পড়েছে, আলেম হয়েছে, মুসলিমা নারী বিয়ে করেছে। কিন্তু আসলে পেশা গোয়েন্দা। ২০০ বৎসর পর খেলাফত বিলুপ্ত হয়েছে। মুসলিম বিশ্ব অপারেশন করে ছোট ছোট করা হয়েছে, অসংখ্য ফেরকা বের হয়েছে। কুরআনের জিহাদের আয়াতের নতুন নতুন ব্যাখ্যা করেছে, নামায, রোযার মধ্যে ইসলামকে সীমিত করে দিয়েছে। সভ্য মানুষেরা এক বিয়ে করে, দ্বিতীয় বিবাহের জন্য পূর্বের স্ত্রীর অনুমতি নিতে হয় কোমলমতি নারীদের হৃদয়ে এই বীজ ঢুকিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র বলেন, মাদ্রাসা বলেন, দ্বীনী প্রতিষ্ঠান বলেন সবকিছুতে তাদের ‘ছায়া’ আছে। সে অনেক কথা। অনেক সময় রোগীও তারা, ডাক্তারও তারা। তাই কোন কিছু দেখেই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব না। আজ পর্যন্ত কোনদিন শুনলাম না দেওবন্দ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছে, আইএসের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছে, গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, নারীনীতি, পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের অধিকার, মুদ্রানীতি, সোনার পাহাড় তথা পেট্রোডলার, ইসলামিক ব্যাংক, সুদভিত্তিক অর্থনীতি, রোহিঙ্গাদের অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে ফতোয়া জারি করেছে। হঠাৎ মাওলানা সা’দ সাহেবের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা কি আশ্চর্যজনক নয়? ইহুদীদের পরিকল্পনা এমন যে পাহাড় টলে যায়। এটা শেষ যুগ। বড়ই ডেঞ্জারাস যুগ।

তবলিগ বা দেওবন্দ হ্যাকড হয়েছে কিনা তা বুঝতে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবলিগের কারণে মুসলিমবিরোধী শক্তির অনেক ক্ষতি হয়েছে, আবার অনেক লাভও হয়েছে। অনেক মানুষ দ্বীনের ছোঁয়া পেয়ে জীবনকে বদলে নিয়েছে, আবার একটি ‘কাটছাটওয়ালা ইসলাম’ সমাজে পরিচিতি পেয়েছে।

اللَهُمَّ أَرِنَا الاَشْيَاءَ كَمَا هِي‌َ

“আল্লাহুম্মা আরিনাল আশ’ইয়া’আ কামা হিয়া” (হে আল্লাহ আমাদের প্রত্যেক জিনিসের আসল রূপ দেখাও যাতে বাহ্যিক রূপ দেখে প্রতারিত না হই)

।।

পড়ুনঃ 

হ্যাকিং ইন দি পাওয়ার পলিটিক্স