শত্রু খ্রিস্টান, মিত্র খ্রিস্টান

আমার পরিচিত একজন খ্রিস্টান আছে। দেখা হলে নমস্কার বলে। আমি বললাম, ভাই নমস্কার তো হিন্দুদের ভাষা। কিন্তু খ্রিস্টানরা তো মুসলমানদের অধিক নিকটবর্তী। তাদের উভয়ের কাছে আল্লাহ্‌র কিতাব আসছে। তো আপনি কি ধরনের খ্রিস্টান? তিনি বললেন, ক্যাথলিক। বুঝে নিলাম, এরা আসমানি ধর্ম পুরোটুকুই ছেড়ে দিয়েছে। হিন্দুদের সাথে মিশে গেছে। ইহুদি ও হিন্দুরা হলো মুসলমানদের শত্রু। যারা এদের সাথে সম্পর্ক রাখে তারাও মুসলমানদের শত্রু। এদের সাথে বন্ধুত্ব করতে আল্লাহ্‌ নিষেধ করেছেন। বাংলাদেশে বোধহয় বেশির ভাগ খ্রিস্টানই ক্যাথলিক। সূরা মায়িদার ৮২ নং আয়াতটা তাদের জন্য খাটছে না যেখানে আল্লাহ্‌ তাদের একত্ববাদের প্রশংসা করেছেন। “বন্ধুত্বে মুসলমানদের অধিক নিকটবর্তী খ্রিস্টানরা, কারণ তাদের মধ্যে আলেম আছে, দরবেশ আছে আর তারা অহংকারী নয়।” (সূরা মায়িদা, ৮২)। সূরা মায়িদার ৫১ ও ৮২ নং আয়াত দু’টি পড়লে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। শত্রু ও মিত্র খ্রিস্টানদের স্বরূপ বোঝা যাবে।

নিদারুণ উপেক্ষা

আমরা অনেকেই মানসিকভাবে কুরআনের অনেক আয়াত মানিতে পারিতেছি না। এমনকি আমরা দ্বীনের কাজ করিতেছি, ঈমানে আমলে নিজেদের অগ্রগামী মনে করিতেছি, সবচেয়ে বড় কথা অনেকেই হেদায়েতের ওপর আছে এইরূপ মনে করিতেছি। কিন্তু আশ্চর্য হইলেও সত্য আমাদের অনেকেই কুরআন হাদীসের বহু নির্দেশনা সম্পর্কে নিজেদের বাঁচাইয়া চলিতেছি। মনে করিতেছি, এইসব আগে হইয়া গিয়াছে বা বহু পরে ঘটিবে। ইহাতে আমাদের সম্পৃক্ত হওয়াটা ঈমান আমলের দ্বায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আমরা সূরা নিসার এই আয়াত তিলাওয়াত করি, “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতিম মেয়েদের অধিকার যথাযথভাবে পুরন করিতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের ভাল লাগে তাহাদের বিয়ে করিয়া নাও দুই, তিন কিংবা চারটি পযর্ন্ত ……”।–আল কোরআন (৪ঃ৩)। ইহা পড়িয়া আমাদের নেকী হয়। কিন্তু এই আয়াত মানিতে আমরা অপারগ। আমরা ভাবি এই আয়াত আমাদের জন্য নহে। ইহা তো তৎকালীন যুগের জন্য যখন জিহাদে অনেক পুরুষ শহীদ হইয়া গিয়াছেন। অনেক মেয়ে এতিম হইয়া গিয়াছে। অথবা ইহা আরো পরের যুগের জন্য যখন বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়া পৃথিবী পুরুষশূন্য হইয়া যাইবে। কিন্তু বর্তমান আবস্থা সেই যুগের চেয়ে ভয়াবহ ইহা আমরা চোখ থাকিতেও দেখিতে পাই না। আজকে পৃথিবী নারীঘটিত ফেতনায় ভরিয়া যাইতেছে কিন্তু অনেক নারীদের উপযুক্ত সময়ে বিবাহ হইতেছে না। আমাদের পেয়ারা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, “যদি এমন কেউ তোমার কাছে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসে – যার চরিত্র এবং তাকওয়া সন্তোষজনক, তাহলে তার কাছে (তোমার মেয়েকে) বিয়ে দাও। যদি এমনটি না কর, তাহলে পৃথিবীতে মারাত্মকরকম ফেতনা ও বিপর্যয় দেখা দিবে।” [তিরমিযি]। কিন্তু আমরা মনে করিতেছি এই হাদীস আমার জন্য নয়। আমার মেয়ের এখনও বিয়ের বয়স হয় নাই। অথচ তাহার বয়স ২৫ – ২৬ হইয়া গিয়াছে। তাহার দ্বারা সমাজে কত ফেতনা সৃষ্টি হইতেছে ইহা আমরা এখন না বুঝিলেও মৃত্যুর পরে বুঝিতে পারিব।

বলিতেছিলাম আমরা কুরআনের অনেক আয়াত মানসিকভাবে মানিতে পারিতেছি না। ভাবি ইহা তো সেই যুগে হইয়া গিয়াছে। ইহা আবার হইবে কেন? ইহা পড়িয়া শুধু এখন নেকী অর্জন করিব কিন্তু শিক্ষা লইব না। সূরা রূমে আছে, “রোমকরা পরাজিত হইয়াছে। অতি শীঘ্রই তাহারা (জাযিরাতুল আরবের) নিকটবর্তী অঞ্চলে বিজয়ী হইবে। কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহ্‌রই।, এবং সেদিন মু’মিনরা আনন্দিত হইবে। (সূরা রূম, আয়াত ২ – ৪)

আল্লাহ্‌ বলিতেছেন, পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহ্‌রই। অর্থাৎ পূর্বেও যেমন মুসলমানরা রোমকদের বিজয়ে আনন্দিত হইয়াছিল ইহা আবার পরেও হইবে। কিন্তু আজকে এই আয়াত মুসলমানরা ভুলিয়া গিয়াছে। যখন বলা হয়, রোমকদের সহিত মুসলমানদের চুক্তি হইবে ইহা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষৎবাণী করিয়া গিয়াছেন তখনও আমরা মানিতে পারি না। আমাদের ভদ্রলোকের এক কথা, অমুসলিমদের বিজয়ে আমরা আনন্দিত হইব কেন? আসলে কুরআন থেকে আমরা রাজনীতি শিখি না। আমরা আনন্দিত হইব কারণ রোমকদের বিজয় আমাদের জেরুজালেম বিজয়ের পথ খুলিয়া দিবে, যেইভাবে অতীতে রোমকদের বিজয় মক্কা বিজয়ের পথ খুলিয়া দিয়াছিল। কাজেই রোমকদের নিয়া আমাদের কোনও মাথাব্যথা নাই। অথচ ইহা কুরআনে আছে। মুসলমান নাম লইয়া ইসরাইল ও আমেরিকার আনুগত্য করিলেও উহাদেরকে আমরা মাথায় তুলিয়া রাখি।

সূরা কাহাফ একটি শেষ যুগ সংশ্লিষ্ট সূরা। এই সূরায় দেখানো হইয়াছে ঐ সাতজন যুবকের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ, অত্যাচার, দমন, পীড়ণ শুরু হইয়াছিল তাহারা কিরূপে বেঈমান হইয়া যাওয়া হইতে আত্মরক্ষা করিয়াছিল। আমরা ইহা পড়িয়া নেকী অর্জন করি। কিন্তু ইহা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করি না। যখন শেষ যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হইবে যাহা ইতিমধ্যে শুরু হইয়া গিয়াছে তখন কিরূপে আমরা আত্মরক্ষা করিব যাহাতে পরে ঐ যুবকদের মতো বিজয়ের জন্য উঠিয়া দাড়াইতে পারি? আমাদের ফেতনা ছাড়িয়া দূরে গ্রামাঞ্চলে চলিয়া যাইতে হইবে। ইহা হাদীসে বর্ণিত হইয়াছে। বৃষ্টিপাতের অঞ্চলে বা পাহাড়ের চূড়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেখানে ফেতনা এখনও ভিড়িতে পারে নাই বা ফেতনার মাত্রা কম। সেখানে ভেড়া লইয়া অর্থাৎ যার যা সম্বল আছে তা নিয়া চলিয়া যাইতে হইবে। আমরা সূরা কাহাফে সাত যুবকের আত্মরক্ষার কাহিনী পড়ি, হাদীসও পড়ি। কিন্তু ভাবি, এই দিকনির্দেশনা আমাদের দেয়া হয় নাই। কুরআনের এই কাহিনী অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে। আর হাদীস বাস্তবায়নের সময় এখনও আসে নাই। বরং ফেতনার মধ্যেই আরাম আয়েশের দিন গুজরান করিয়া আমরা ইসলাম পালন করিতে চাহিতেছি যা কুরআন হাদীসের সম্পূর্ণ বিপরীত।

এইভাবে কুরআন হাদিসকে উপেক্ষা করার মাশুল আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতে দিয়া যাইতে হইবে।

।।

রোম পরিচিতি

‘অবহেলিত’ ‘জ্ঞান’

মেধাবী ও জ্ঞানীর মধ্যে পার্থক্য আছে। সব মেধাবীই জ্ঞানী নয়। মেধা মানুষকে কুশলী করে। কাজের নৈপুণ্য বাড়ায়। মেধাবী মানুষ স্কিলড হয়। জ্ঞান হল সত্য ও মিথ্যা পার্থক্য করার ক্ষমতা। জ্ঞান না থাকলে মেধা মানুষকে বিপথে চালিত করে, ধ্বংস করে। মা বাবা চায় তার সন্তান মেধাবী হোক। জ্ঞানী হোক এটা সচেতনভাবে অনেক মা বাবাই চায় না। মেধাবী সন্তান পেলেই তারা খুশী।

একজন মেধাবী ব্যক্তি ইংরেজী বা আরবী ভালো জানতে পারে। অংক ও বিজ্ঞানে ভালো হতে পারে। এগুলো হল তার স্কিল। জ্ঞান কিন্তু স্কিল নয়। জ্ঞান হল আলো ও অন্ধকারকে পার্থক্য করার ক্ষমতা। জ্ঞান চর্চা করতে করতেও মানুষ একসময় স্কিলড হয়ে যায়।

ইহুদীরা হল স্কিলড। তারা মেধাবী। আর মুসলমানরা হল জ্ঞানী। যদিও বেশীর ভাগ মুসলমান জ্ঞানচর্চা করে না। সে জন্য স্কিলড হতে পারে না।

।।

রেড কাউ দুধ আমরা অনেক দিন যাবতই খাই। কিন্তু রেড কাউয়ের মাজেযাটা সেদিন মাত্র জানলাম। মাজেযা আরবী শব্দ। ইংরেজীতে বলে ‘মিরাকল।’ বাংলায় বিস্ময়কর ব্যাপার, অদ্ভুত কান্ড, কামাল। সারপ্রাইজিং ইভেন্ট ফ্রম ডিভাইন এজেন্সি। এতো বছর যাবত ‘তারা’ সাবলিমিনাল মেসেজ দিচ্ছে কিন্তু তা চৈতন্যে আসতেছিল না। এর কারণ স্কিলনেসের অভাব।

Red Heifer Found in West Virginia

হ্যামফারের ডায়েরী

হ্যামফার কাজ করেছে সুন্নী মুসলিমদের উপর। সে ডায়েরী লিখেছে যা কোনভাবে প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় সাড়া দুনিয়া জেনে যায় তাদের অপকর্ম। কাজেই যাদেরকে আমরা সুন্নী মনে করি তা আসলে হ্যামফারী ইসলাম ছাড়া আর কিছুই নয়। একইভাবে শীয়াদের উপরও নিশ্চয়ই অন্য কোন গোয়েন্দা কাজ করেছে। বৃটিশ কমনওয়েলথ মন্ত্রণালয় তো মাত্র একজন গোয়েন্দা এমপ্লয় করে নাই। নিশ্চয়ই শত শত হাজার হাজার গোয়েন্দা ছিল তাদের। সবাই তো আর তাদের গোয়েন্দাগিরির ডায়েরী লিখে নাই। আর লিখলেও সবার ডায়েরী প্রকাশও পায় নাই।

তারাই মুসলিমদের মধ্যে জাতীয়তা বাদ সৃষ্টি করেছে।

শীয়া বলেন আর সুন্নী উভয়টার মধ্যে আছে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের আদর্শ। আজকে আপনার আমার জন্ম যদি ইরানে হতো আপনি আমি হতাম এক নম্বর শিয়া। এখন বাংলাদেশে জন্ম হওয়ায় এক নম্বর সুন্নী। আসলে রাসূল সা ও সাহাবা রাযি দের আদর্শ থেকে সবাই দূরে। কাজেই শিয়া বলেন আর সুন্নী বলেন সেগুলো জাতীয়তাবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের অনুসরণ করবে গজে গজে বিঘতে বিঘতে। সেটাই করছে হ্যামফারী সুন্নী ও সাবাঈ শিয়ারা। হ্যামফার ছিল খ্রিস্টান ও ইবনে সাবা ছিল ইহুদী।

a-british-spy-hempher

বাংলায় বইটি প্রকাশ করেছে জ্ঞানকোষ প্রকাশনী (ফোন নাম্বার – 01711271718)। পাওয়া যেতে পারে রকমারিপড়ুয়াতে।

সেই ৭২ = এই ৭২

বনী ইসরাইলরা ৭২ দলে বিভক্ত হইয়াছিল। এই ৭২ দল নিঃশেষ হইয়া গেছে এমন কথা আমার জানামতে পাওয়া যায় নাই। মুসলমান বিভক্ত হবে ৭৩ দলে। এর অর্থ হল ঐ ৭২ বনী ইসরাইলের দলই মুসলমানদের ৭২ টি দলের নেতৃত্ব দিবে। ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনীতি, সামরিক ও শিক্ষা সব জায়গায়। মানুষ এই বনী ইসরাইলের নেতাদের অনুসরণ করিবে এমনভাবে যদি তারা টিকিটিকির গর্তেও যায় মানুষ তাই যাবে।

এই বনী ইসরাঈলের নেতারা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লামের ইসলামকে নতুন রূপ দিয়াছে। নতুনভাবে ফর্মূলেট করিয়াছে। অনেক ধরনের ফর্মুলা তাদের কাছে আছে। যে যেটা খেতে চায় তাকে সেটা খাওয়ানো হয়। কাউকে একটা যিকির ধরিয়ে দিয়া বলা হয় ইহাই তোমার ইসলাম, কাউকে একটা মার্কা ধরিয়ে দিয়া বলা হয় ইহা বহন করিতে থাকো, কাউকে একটা নির্দিষ্ট পাঠ দিয়ে দিয়া বলা হয় আমৃত্যু পড়িতে থাকো, কাউকে অমুক জায়গায় তমুক দিনের জন্য পাঠিয়ে দিয়া বলা হয় চলিতে থাকো, কাউকে একটা তলোয়ার ধরিয়ে দিয়া বলা হয় উহাকে হত্যা করিয়া ফেল, কাউকে মডারেট প্রেসক্রিপশন দিয়া বলা হয় ইহাই সর্বোত্তম – সবাই মনে করে তার রাস্তাই সহি। তার অষুধই সর্বরোগের মহৌষধ।

যদি কেউ নিজ দল সম্পর্কে চিন্তা করে তাহলে তাকে নিষেধ করা হয়। না না, তোমাকে চিন্তা করার অধিকার দেয়া হয় নাই। ইহা বড়দের তৈরী করা ফর্মুলা। ইহার মাধ্যমে বহু লোক হেদায়েত পাইয়াছে। ইহাই তোমার জন্য চূড়ান্ত।

অথচ, স্বয়ং কুরআনে আল্লাহ্‌ তায়ালা তার চিন্তাশীল বান্দাদের প্রশংসা করিয়াছেন। কুরআনের মূল অডীয়েন্সই হইল চিন্তাশীলরা। কিন্তু তাহারা, অর্থাৎ বনী ইসারাঈলের ৭২ দলের নেতারা চিন্তার দরজা মানুষের জন্য বন্ধ করিয়া দিয়াছে। বিনা আলোচনায় গণতন্ত্র, সুদ, নারী আন্দোলন, ফর্মূলেটেড ইসলাম সবই মানিয়া লইতে হইবে।

কিন্তু নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিতেছেন, এসব রাস্তার প্রত্যেকটার শুরুতে শয়তান বসে মানুষদের ডাকছে।

কেন রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র বংশীয় লোকেরা ও তার সাহাবায়ে কেরাম রাযি এর লোকেরা আজকে পৃথিবীর কোথাও আলোচনায় নাই, টিভিতে নাই, টক শোতে নাই, ইন্টারনেটে নাই, নির্বাচনে নাই, অফিস আদালতে নাই, রাতভর ওয়াজ মাহফিলে নাই, লং মার্চে নাই কোথাও তাহারা নাই। তাহারা কি হাওয়া হইয়া গেল? বাস্তবতা এই যে, তাহারা আছেন ঐ ১ দলে, যে দলকে শয়তান ও বনী ইসরাঈলের ঈহুদী নাসারারা স্পর্শ করিতে পারে নাই।

গুইসাপের গর্তের অভিমুখে যাত্রা

%e0%a7%ad%e0%a7%a9-%e0%a6%a6%e0%a6%b2

এই হাদীসটি বোখারীতেও আছে, মুসলিমেও আছে। মুত্তাফাকুন য়ালাইহি। কেউই এই হাদীসটি অস্বীকার করতে পারবে না। Sahih hadith, No doubt about it.

এই আশ্চর্য হাদীসটি বোখারী শরীফে আছে। এই হাদীসটি খুব ভালোভাবে খেয়াল করা উচিৎ। ইহা আছে আম্বিয়া (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহিম) অধ্যায়ে। আবু সাঈদ রাযি হতে বর্ণিতঃ নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করবে প্রতি গজে গজে এবং প্রতি বিঘতে বিঘতে। এমনকি তারা যদি গুই সাপের গর্তেও প্রবেশ করে তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আপনি কি ইহুদী ও নাসারাদের কথা বলছেন? তিনি বললেন, তবে আর কার কথা?

অনুসরণ কিভাবে করতে হয়? যাকে হয় অনুসরণ করা হয় সে কোথায় থাকে? সে অবশ্যই সামনে থাকে। আর অনুসরণকারীরা থাকে পেছনে।

যাকে অনুসরণ করা হয় সে সামনে থেকে লিড দেয়। সে যে পথে চলে দলের বাকী সবাই সে পথেই চলবে। এই হাদীস থেকে এরকম বুঝে আসছে, আমাদের সামনে থাকবে আমাদের পূর্ববর্তী জাতির বর্তমান লোকেরা। অর্থাৎ দুনিয়াতে বর্তমান ইহুদী ও খ্রিস্টান লোকেরা। তারা থাকবে নেতৃত্বে। কারণ তাদের আগের লোকেরা তো বর্তমান পৃথিবীতে নেই। বরং তাদের বর্তমান লোকেরাই তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব করবে।

আর পেছনে থাকব আমরা।

তারা কোন কোন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে? যেহেতু এটি ধর্মীয় বিষয় এবং নির্দিষ্ট করে বলা নেই কোন কোন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে। কাজেই ধরে নেয়া যায়, তারা সকল ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দিবে এবং বিশেষভাবে ধর্মীয় ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবে। ধর্মীয় ক্ষেত্রটা হচ্ছে মূল। এছাড়া তারা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাকী ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্ব বুঝে আসছে এবং তা বৃহৎ পরিসরে আমরা মেনেও নিয়েছি।

কিন্তু ধর্মীয় ক্ষেত্রে তাদের নেতৃত্ব বুঝে আসছে না। এর কারণ হল, ধর্মীয় ক্ষেত্রে তারা এতো ভালো নেতৃত্ব দিচ্ছে যে তাদেরকে আলাদা করে চেনা যাচ্ছে না।

মুসলমান জাতিকে তারা ৭৩ টা ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। ৭২ ভাগের নেতৃত্বে আছে তারা। এজন্যই অন্য হাদীসে বনী ইসরাঈলদের ৭২ ভাগের কথা বলা আছে। মাত্র ১ ভাগের মধ্যে তারা ঢুকতে পারে নি।

এরাই নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ণাঙ্গ দ্বীনকে বিভিন্নভাবে ফর্মূলেট করেছে। কখনো ৫ কাজের নামে, কখনো চিল্লার নামে, কখনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের নামে, কখনো লংমার্চের নামে, কখনো আইএস, কখনো জেএমবির নামে, মাদ্রাসা, পীর, খানকাহ, মাযার, শীতকালের সুরেলা ওয়াজ মাহফিল, আহলে হাদীস, ওহাবী, সালাফী, মাযহাবী, লা-মাযহাবী, মডারেট, শীয়া এরা ইসলামের নানা ধরনের ভার্সন বের করেছে। অভাব নেই।

এক একজন এক এক গিরগিটির গর্তে দলে দলে মানুষদের নিয়ে যাচ্ছে।

সদর দরজা যখন খোলা চোরের তখন পোয়াবারো

garagedoor

Install Security Cameras; Even Fake ones will Work!

আপনি যখন ৩০ হাজার টাকা দিয়া একটা কম্পিউটার কিনিলেন তখন প্রথমেই মনে হইল ভালো একটা এন্টিভাইরাস কিনিতে হইবে। যাহাতে হ্যাকাররা আপনার কম্পিউটারের ভেতর ঢুকিয়া আপনাকে মিসগাইড করিতে না পারে, আপনাকে ফাকি দিয়া আপনার দলিল দস্তাবেজ লইয়া যাইতে না পরে। সামান্য দুনিয়াবী ক্ষণস্থায়ী যাহা ডিলিট বাটনে টিপ দিলেই মুছিয়া যায় এমন দুই চারি হাজার ডাটা নিরাপদ রাখিবার জন্য আপনি ৭০০ টাকা খরচ করিয়া এন্টিভাইরাস কিনিয়া ফেলেন। আবার কয়েক দিন পর পর ইহাকে আপডেটও করেন।

৩০ লক্ষ টাকা দিয়া একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনিয়া আপনি ইহার নিরাপত্তার জন্য মাসিক ৭০০০ টাকা বেতন দিয়া একজন ভালো ও বিশ্বস্ত দারোয়ান রাখিয়া লইলেন। ইহাতেও আপনি খুশি হইলেন না। তাই টেলিফোনের ডাইরেক্টরীতে থানার ওসির নাম্বার ও ফায়ার ব্রিগেডের নাম্বার লাল কালিতে দাগ দিয়া রাখিলেন, যেন প্রয়োজন হইলে সাথে সাথে খুজিয়া পাইতে বিলম্ব না হয়।

ইহা তো গেল দুনিয়াবী হাকীকত। আল্লাহ্‌ তায়ালা কি করিয়াছেন? আর তিনি কুরআনের মাধ্যমে আমাদের কি রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানাইয়াছেন?

হযরত জিবরাঈল আমীন ফেরেশতা যখন কুরআনের আয়াত লইয়া আল্লাহ্‌র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসিতেন, আল্লাহ্‌ বলিতেছেন, এ সময় শয়তানকে কুরআন শ্রবণের সুযোগ থেকেও দূরে রাখা হইয়াছে। কি হইত শয়তানকে কুরআন শ্রবনের সুযোগ দিলে ? জিবরাঈল আমীন য়ালাইহিস সালামের উপর কি আল্লাহ্‌র আস্থা নাই ! তা নহে। আল্লাহ্‌র আস্থা ঠিকই আছে। কিন্তু তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করিয়াছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, কুরআনকে আমি প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি। তবে শয়তানদের কেউ যদি চুরি করে সংবাদ শুনে পালায় তাহলে জ্বলন্ত উল্কা পিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে। দেখুন সূরা শু’আরা ও সূরা হিজর ।

আর আমরা দ্বীনের মেহনতের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা খুলিয়া বসিয়াছি। আমরা মাদরাসা বানাইয়াছি, পীরের খানকাহ গড়িয়াছি, তবলীগের মারকাজ প্রতিষ্ঠা করিয়াছি। কিন্তু আমাদের কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই। কোন ইহুদী বা খ্রিস্টানকে শয়তান যেন প্ররোচনা দিতে পারে না, আমাদের প্রচেষ্টাগুলোকে হ্যাক করতে।

আমরা ইহুদী বিষয়ে মাথা ঘামাইতে চাহি না। আমরা শুধু আমাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা মেহনতগুলোর বর্ধিত কলেবর দেখিয়াই প্রশান্তি লাভ করি। কিন্তু তাহার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি নাই। শত শত বছর ধরে তাহা খোলা ময়দানে খোলা পড়িয়া রহিয়াছে।

যখনই কেহ মহানবী রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কোন শিক্ষাকে কাটছাট করিয়াছে বা নিজের মনমতো আকৃতি দিয়াছে আমরা ভাবিয়াছি ইহা আমাদের ভালোর জন্যই করা হইয়াছে। টুপী পাগড়ী ঘন দাড়ি দেখিয়া বিগলিত হইয়া গিয়াছি।

আমরা ভুলিয়া গিয়াছি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এমন ভাইরাসই আক্রমণ করবে যা উইন্ডোজের সাথে মানানসই। একসময় তা পুরো সিস্টেমকে নিজের কব্জায় পুড়িয়া লয়।

ইহুদীরা ইহুদী নাম দিয়া মুসলমানদের কেন হ্যাক করিতে যাইবে !! তাহারা মুসলমানদের দরদী হইয়া মুসলমানদের সিস্টেমে ঢুকিয়া পড়িবে। ইহা বুঝিতে কি আলেম হইতে হয়? পিএইচডি ডিগ্রী দরকার হয়?

……।

ইমাম মাহদী য়ালাইহি সালাম যখন আসিবেন তাহাকে কেহ চিনিতে পারিবে না। তিনি আল্লাহ্‌র শেখানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিবেন। ৪০ বৎসর কাল তাহাকে কেহ সনাক্ত করিতে পারিবে না। যখন তিনি প্রকাশিত হইবেন তখনও প্রকৃত মুসলমান ছাড়া কোন ইহুদী খ্রিস্টান শয়তানের এজেন্ট তাহার কাছে ঘেঁষিতে পারিবে না।

পুনশ্চঃ

যেইসব আলেমরা ফতোয়া দেয়, হ্যাঁ, আপনি আপাতত ব্যাংকের চাকরী করিতে থাকুন, পাশাপাশি অন্য চাকরী দেখুন। সময় সুযোগ মতো ব্যাংকের চাকরী ছাড়িয়া দিলেই হইবে।

ইহাদের থেকে সাবধান হউন। এই ফতোয়ার অর্থ হইল,

আপনি আপাতত আপনার মায়ের সাথে জেনাহ করতে থাকেন। একসময় ভালো বউ পাইলে কালেমা পড়ে বিবাহ কইরে ফেইলেন।

অথবা আল্লাহ্‌র ও তার রাসূলের সাথে আপনি যে যুদ্ধ ঘোষনা করিয়াছেন ইহা বহাল থাকুক। সময়মতো যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ভাগিয়া যাইয়েন।

– আসলে এই সকল আলেমদের মগজের ভেতর ইহুদীদের মগজ এমনভাবে বসিয়া গিয়াছে যে ইহুদীদের সেই আদি ও সনাতন সুদী ব্যবস্থাও তাহাদের সামান্য বিচলিত করিতেছে না।