বনী ইসরায়েল এবং আমরা

আল্লাহপাক বনী ইজরায়েলকে অনেক নিয়ামত দান করেছিলেন। তাদেরকে নবীদের বংশধর হিসেবে মর্যাদা দিয়েছিলেন। তাদেরকে সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক নিয়ামত ও সবচেয়ে বড় জাগতিক নিয়ামত দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তাদের মধ্য থেকে নবী-রাসুল পয়দা করেছিলেন এবং তাদের মধ্য থেকে রাজা-বাদশাহ পয়দা করেছিলেন। কিন্ত তারা এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করেনি। আল্লাহপাক তাদের থেকে যে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, তারা সে অঙ্গীকার পালন করেনি। তারা ইসলামী শরীয়াতকে ত্যাগ করে তাদের বস্তুজাগতিক লাভের আশায় নিজেদের ইচ্ছেমত শরীয়ত পরিবর্তন করে অর্থাৎ আল্লাহ যা হালাল করেছেন তাকে হারাম ও আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল বানিয়ে নেয়। তাদের এরকম অপকর্ম স্বাক্ষ্য দেয় যে, তাদের মনে আল্লাহর ভয় ছিল না। তারা সত্যের সাথে মিথ্যাকে মিশ্রণ করে প্রচার করত যাতে কিছুটা ধর্মের পথেও চলা যায়, আবার কিছুটা দুনিয়াবি ফায়দার পথেও চলা যায়। তারা সত্য গোপন করে রাসুলুল্লাহ (সা) এর নব্যুওয়াত অস্বীকার করত যাতে তাদের নেতৃত্ব টিকে থাকে। তারা মানুষকে সৎকাজের আদেশ দিত, কিন্তু নিজেরা ভুলে যেত। তারা ভাইয়ে ভাইয়ে ভালো ব্যবহারের আদেশ দিত, কিন্তু নিজেরা তাদের ঈসমাইলীয় ভাই অর্থাৎ আরবদেরকে গালমন্দ করত।

আমরা যদি আখেরী জামানার মুসলিমদের দিকে তাকাই, তাহলে একই অবস্থা দেখতে পাই। আল্লাহপাক মুসলিমদের নবী-রাসুলদের সরদার রাসুলুল্লাহ (সা) এর উম্মত বানিয়েছেন। তাদেরকে সাহাবায়ে কেরামের মত অসাধারণ মহামানবদের দান করেছেন যারা হলো নক্ষত্রের মত, কোন একজনকে অনুসরণ করলেই সঠিক পথ প্রাপ্ত হওয়া যাবে। আল্লাহপাক মুসলমানদের মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত সাম্রাজ্য দান করেছেন। অথচ আমরা আল্লাহপাকের শুকরিয়া আদায় করতে ভুলে যাই। আমরা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করতে ভুলে যাই। আমরা ইহুদি-খ্রিস্ট জায়োনিস্ট কর্তৃক নির্মিত পশ্চিমা আধুনিক সভ্যতার অনুসরণে লিপ্ত হয়ে আল্লাহর ইবাদাত ও রাসুলুল্লাহ (সা) এর সুন্নত পালন করা ছেড়ে দিই। আমরা পবিত্র কোরানের সংবিধান ত্যাগ করে দাজ্জালের দ্বীপ ব্রিটেনের সংবিধান গ্রহণ করি। ব্রিটেনের শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করি। ব্রিটেনের রাজনৈতিক পন্থা গ্রহণ করি। আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত ছেড়ে দিয়ে রাস্ট্র ও জাতিসংঘকেও উঁচু মাকাম দেই। আমাদের আলেম ওলামাগণ সত্যের সাথে মিথ্যাকে মিলিয়ে মিশিয়ে প্রচার করেন। একদিকে বলেন, সুদ খাওয়া হারাম; অন্যদিকে বলেন, কাগুজে মুদ্রা হালাল! একদিকে বলেন, সুপ্রিম কোরট থেকে মূর্তি সরাও; অন্যদিকে বলেন, গণতন্ত্র হালাল! মুসলিম দেশগুলো আল্লাহপাক যা হালাল করেছেন তাকে হারাম ও হারামকে হালাল করছে। তারা আইএমএফের কথা মেনে স্বর্ণমুদ্রার ব্যবহারকে হারাম করেছে। ১৮ বছরের নীচে বিবাহকে হারাম করেছে। আমাদের আলেমগণ মানুষকে বলে, মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই। সুতরাং ভাইয়ে ভাইয়ে মিলেমিশে থাকো। আবার নিজেদের বেলায় তারা কাউকে বিদআতপন্থী, কাউকে কাফের, কাউকে শিয়া বলে গালাগালি করেন! তবে কী তারা গ্রন্থ পাঠ করছে কিন্ত তা হৃদয়ঙ্গম করতে ব্যর্থ হচ্ছে? যেখানে আল্লাহপাক মুসলিম জাতিকে এত বড় নিয়ামত দিয়েছেন, সেখানে আমরা বনী ইজরায়েলের মত নিজেদের পথ হারিয়ে ফেলছি কেন? আমাদের ভয় করা উচিত সেদিনকে যেদিন কেউ কারো উপকার করতে পারবে না, কারো সুপারিশ গৃহীত হবে না, কারো থেকে বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং কেউ সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।

“হে বনী-ইসরাঈলগণ, তোমরা স্মরণ কর আমার সে অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি এবং তোমরা পূরণ কর আমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা, তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। আর ভয় কর আমাকেই। আর তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি সত্যবক্তা হিসেবে তোমাদের কাছে। বস্তুতঃ তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ। তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না আর নামায কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়। তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না? ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব– যারা একথা খেয়াল করে যে, তাদেরকে সম্মুখীন হতে হবে স্বীয় পরওয়ারদেগারের এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। হে বনী-ইসরাঈলগণ! তোমরা স্মরণ কর আমার অনুগ্রহের কথা, যা আমি তোমাদের উপর করেছি এবং (স্মরণ কর) সে বিষয়টি যে, আমি তোমাদেরকে উচ্চমর্যাদা দান করেছি সমগ্র বিশ্বের উপর। আর সে দিনের ভয় কর, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোন সুপারিশও কবুল হবে না; কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেয়া হবে না এবং তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না।”
[আল বাকারা: ৪০-৪৮]

@ Md Arefin Showrav

# ইহুদী # ইসলাম # মুসলমান

ইসলামের ভয়াবহ শত্রু কারা?

কোন শত্রু সবচেয়ে ভয়াবহ? যে শত্রু বন্ধুর বেশ ধরে থাকে। যে শত্রুকে আমি বন্ধু মনে করি সে শত্রুই তো সবচেয়ে ভয়াবহ। ইহুদিরা যে মুসলমানদের উপর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আগ্রাসন চালায় তা এরূপই। তারা বন্ধুর বেশে ধর্মের ভিন্ন সংস্করণ তৈরী করে। যা আসলে মূল ইসলাম ধর্মের সাথে মিল নেই। কিন্তু ইসলামের কিছু ফ্লেভার থাকে।

যারা এরূপ করে তারা সরাসরি ধর্মের বিরুদ্ধে লাগে না, বা ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে না। বরং তারা ধর্মের অঙ্গহানি করে ধর্মকে বিকৃত রূপ দান করে। সাধারণ মানুষ যে তা বুঝে তা নয়। বেশীর ভাগ সময়ই সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় পণ্ডিতরাও তা বুঝতে পারে না। সময়ের স্রোতে ভাষার যেমন বিবর্তন ঘটে তেমনিভাবে এরা ধর্মের ভেতর কৃত্রিম বিবর্তন সৃষ্টি করে। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে এরা সাধারণ মানুষের থেকে কোন বাঁধা বিঘ্নের সম্মুখীন হয় না। কারণ এটা যে ঘটছে তা মানুষ জানেই না। ওহাবী আন্দোলন এমনই একটি আন্দোলন। এর স্রষ্টা সরাসরি ইংরেজরা। এই যে ভারত ও বাংলাদেশে আলিয়া মাদ্রাসায় দীর্ঘ ৭৫ বৎসর ব্যাপী খ্রিস্টান প্রিন্সিপাল ছিল তারা কি ইসলামের বিরোধিতা করেছিল? ইসলামের বিরোধিতা করলে তো মানুষ তাদের প্রতিরোধ করত। বরং তারা ইসলামের কল্যাণকামীর মুখোশ পড়ে ছিল।

ইহুদীদের স্বভাব এরকমই। তারা নিজেদের ধর্মগ্রন্থে পরিবর্তন এনেছিল। এরপর তারা ইসলামে হাত দেয়। কিন্তু পবিত্র কুরআনকে আল্লাহ্‌ রক্ষা করবেন, তাই তারা মানুষের ধর্মীয় জ্ঞানের উপর হাত দেয়। তারা ধর্মীয় জ্ঞানকে এলোমেলো করে দেয়। বিশুদ্ধ ইসলামের বদলে সমাজে বিদয়াত ও নয়া আমল ছড়াতে থাকে।

যেহেতু তাদের দ্বারা বিবর্তিত ধর্মের মধ্যেও একটা ইসলামের ফ্লেভার থাকে তাই মানুষ এটাকে সন্দেহ করে না। বরং অনেকে ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে ভাবে লাভবান হওয়ার অনুভূতি লাভ করে তৃপ্তির ঢেকুড় তুলে। কেউ বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পায়, কেউ বা সনদ পায়। সবকিছুর পেছনে অদৃশ্য অশুভ হাত কাজ করে।

।।

ইসলামের ভয়াবহ শত্রু তারাই যাদের বিষয়ে কুরআনে অসংখ্য আয়াত নাযিলের মাধ্যমে মুসলমানদের সাবধান করা হয়েছে, সেই বনী ইসরাইল তথা ইহুদীরা।

।।

ট্যাগ # তবলীগ, ক্বওমী মাদ্রাসা

প্রজেক্ট নাম্বার এতো -২

হ্যামফারের ডায়েরি পড়ে আমরা জানি ইংরেজরা কিভাবে ওহাবি মতবাদকে সৃষ্টি করে ইসলামি খেলাফত ধ্বংসের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। ইংরেজ গোয়েন্দারা ইসলাম শিক্ষা করে মুসলমান যুবকদের মধ্যে ঢুকে পড়ে তাদের ব্রেনকে কব্জা করে ওহাবি আন্দোলন তৈরি করে। ঠিক যেমন বর্তমানের আইএসকে যেভাবে তৈরি করা হয়েছে।

এটাতো ছিল মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা। ইংরেজ বেনিয়ারা ভারতে কি করেছে? তারা ইসলামি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র মাদ্রাসাকে দখল করে সেখানে ইংরেজ প্রিন্সিপাল সরাসরি বসিয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসার প্রথম ২৬ জন প্রিন্সিপালের নাম নীচে দেয়া হলো। যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান একজন খ্রিস্টান, নিখুঁতভাবে বললে বলতে হবে যায়োনিস্ট, সে প্রতিষ্ঠানে কি ইসলামের আর কিছু বাকী থাকে? ১৮৫০ থেকে ১৯২৫ এই মোট ৭৫ বৎসর যদি যায়োনিস্টরা ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা দখল করে রাখে সেখান থেকে কি মুসলমান বের হবে নাকি ইহুদি? সেখান থেকে লেখাপড়া করে কুরআনের হাফেজ ও আলেম হয়ে তারা স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজদের পদলেহনকারী দরবারী আলেম হওয়া ছাড়া আর কি হতে পারে?

এটা কি খুব আশ্চর্যের বিষয় নয় যে ইংরেজদের তবলীগ, পীর ও ক্বওমী মাদ্রাসা নিয়ে কোন প্রজেক্ট ছিল না? আজকে সমাজ থেকে ইসলামকে বিচ্যুত করে মাদ্রাসাবন্দি করে রাখা ও মসজিদভিত্তিক নানা ধরনের দ্বয়িফ হাদিস, স্বপ্ন ও ফাযায়েলের তিলাওয়াত করা কি তাই প্রমাণ করে না যে সেখানে ইংরেজদের হিংস্র দাঁত বসেছে? ৪০ দিনের চিল্লার নতুন ফরমুলা, পীরদের খেলাফত, বাবাপীর, দাদাপীর এসব টার্ম ইসলামে নানা ধরনের নতুন জিনিস ঢুকানো ইত্যাদি বিদয়াত দিয়ে মানুষের মগজ ধোলাই করা কি প্রমাণ করে?

ইহুদিরা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কথা চুপিসারে কেন শুনতো? হেদায়েত লাভের উদ্দেশ্যে? না কি ইসলামের মধ্যে কিভাবে ভেজাল ঢুকানো যায় তার ফন্দি ফিকিরের উদ্দেশ্যে। তাদের চুরি করে কথা শুনার উদ্দেশ্য আজ পূর্ণ হয়েছে। ইংরেজরা সব হজম করেছে, কিন্তু এখনো সিরিয়াকে হজম করতে পারেনি। গিলতেও পারেনি। গলায় আটকে আছে। এখান থেকেই শুরু হবে ইংরেজদের গলার ক্যান্সার, ইনশাআল্লাহ্‌।

বিভিন্ন সময়ে নিয়োজিত আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপালবৃন্দঃ
নামঃ – কার্যকালঃ
(১) এ স্প্রেঙ্গার এম,এ – ১৮৫০ ইং
(২) স্যার উইলিয়াম নাসনলীজ এল,এল,ডি – ১৮৭০ ইং
(৩) জে স্যাটক্লিফ এম,এ – ১৮৭০ ইং
(৪) এইচ, এফ, ব্রকম্যান এম, এ – ১৮৭৩ ইং
(৫) এ,ই, গাফ এম, এ – ১৮৭৮ ইং
(৬) এ, এফ, আর হোর্নেল সি,আই,ই,পি,এইচ,ডি – ১৮৮১ ইং
(৭) এইচ প্রথেরো এম, এ – ১৮৯০ ইং
(৮) এ, এফ, হোর্নেল – ১৮৯০ ইং
(৯) এ, জে, রো,এম, এ – ১৮৯২ ইং
(১০) এ, এফ হোর্নেল – ১৮৯২ ইং
(১১) এ, জে, রো – ১৮৯৫ ইং
(১২) এ, এফ, হোর্নেল – ১৮৯৭ ইং
(১৩) এফ, জে, রো – ১৮৯৮ ইং
(১৪) এফ, সি, হল – ১৮৯৯ ইং
(১৫) স্যার অর‌্যাল স্টেইন – ১৮৯৯ ইং
(১৬) এইচ, এ,স্টার্ক – ১৯০০ ইং
(১৭) কর্ণেল রেস্কিং – ১৯০০ ইং
(১৮) এইচ, এ,স্টার্ক – ১৯০১ ইং
(১৯) এড, ওয়ার্ড ভেনিসন – ১৯০৩ ইং
(২০) এইচ, ই, স্টেপেল্টন – ১৯০৩ ইং
(২১) ডেনিসন রাস – ১৯০৪ ইং
(২২) মিঃ চীফম্যান – ১৯০৭ ইং
(২৩) এড,ওয়ার্ড, ডেনিসন – ১৯০৮ ইং
(২৪) এ, এইচ হারলি – ১৯১১ ইং
(২৫) জে, এম বুটামলি – ১৯২৩ ইং
(২৬) এ, এইচ হারলি – ১৯২৫ ইং

।।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্বওমী সনদকে মাস্টার্সের সমমান করে সম্মান দেয়াকেও ক্বওমী মাদ্রাসার উপর জুয়িশ বা যায়োনিস্ট কন্সপিরেসি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আমরা দেখতে পাবো ক্বওমীর উপর ইহুদিদের প্রভাব এবং ওহাবী ও সালাফীদের মতো অপর আর একটি নতুন ফেরকা হিসেবে ক্বওমীদের আবির্ভাব।

Please Read,

প্রজেক্ট নাম্বার এতো -১

শত্রু খ্রিস্টান, মিত্র খ্রিস্টান

আমার পরিচিত একজন খ্রিস্টান আছে। দেখা হলে নমস্কার বলে। আমি বললাম, ভাই নমস্কার তো হিন্দুদের ভাষা। কিন্তু খ্রিস্টানরা তো মুসলমানদের অধিক নিকটবর্তী। তাদের উভয়ের কাছে আল্লাহ্‌র কিতাব আসছে। তো আপনি কি ধরনের খ্রিস্টান? তিনি বললেন, ক্যাথলিক। বুঝে নিলাম, এরা আসমানি ধর্ম পুরোটুকুই ছেড়ে দিয়েছে। হিন্দুদের সাথে মিশে গেছে। ইহুদি ও হিন্দুরা হলো মুসলমানদের শত্রু। যারা এদের সাথে সম্পর্ক রাখে তারাও মুসলমানদের শত্রু। এদের সাথে বন্ধুত্ব করতে আল্লাহ্‌ নিষেধ করেছেন। বাংলাদেশে বোধহয় বেশির ভাগ খ্রিস্টানই ক্যাথলিক। সূরা মায়িদার ৮২ নং আয়াতটা তাদের জন্য খাটছে না যেখানে আল্লাহ্‌ তাদের একত্ববাদের প্রশংসা করেছেন। “বন্ধুত্বে মুসলমানদের অধিক নিকটবর্তী খ্রিস্টানরা, কারণ তাদের মধ্যে আলেম আছে, দরবেশ আছে আর তারা অহংকারী নয়।” (সূরা মায়িদা, ৮২)। সূরা মায়িদার ৫১ ও ৮২ নং আয়াত দু’টি পড়লে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। শত্রু ও মিত্র খ্রিস্টানদের স্বরূপ বোঝা যাবে।

নিদারুণ উপেক্ষা

আমরা অনেকেই মানসিকভাবে কুরআনের অনেক আয়াত মানিতে পারিতেছি না। এমনকি আমরা দ্বীনের কাজ করিতেছি, ঈমানে আমলে নিজেদের অগ্রগামী মনে করিতেছি, সবচেয়ে বড় কথা অনেকেই হেদায়েতের ওপর আছে এইরূপ মনে করিতেছি। কিন্তু আশ্চর্য হইলেও সত্য আমাদের অনেকেই কুরআন হাদীসের বহু নির্দেশনা সম্পর্কে নিজেদের বাঁচাইয়া চলিতেছি। মনে করিতেছি, এইসব আগে হইয়া গিয়াছে বা বহু পরে ঘটিবে। ইহাতে আমাদের সম্পৃক্ত হওয়াটা ঈমান আমলের দ্বায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আমরা সূরা নিসার এই আয়াত তিলাওয়াত করি, “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতিম মেয়েদের অধিকার যথাযথভাবে পুরন করিতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের ভাল লাগে তাহাদের বিয়ে করিয়া নাও দুই, তিন কিংবা চারটি পযর্ন্ত ……”।–আল কোরআন (৪ঃ৩)। ইহা পড়িয়া আমাদের নেকী হয়। কিন্তু এই আয়াত মানিতে আমরা অপারগ। আমরা ভাবি এই আয়াত আমাদের জন্য নহে। ইহা তো তৎকালীন যুগের জন্য যখন জিহাদে অনেক পুরুষ শহীদ হইয়া গিয়াছেন। অনেক মেয়ে এতিম হইয়া গিয়াছে। অথবা ইহা আরো পরের যুগের জন্য যখন বিশ্বযুদ্ধ লাগিয়া পৃথিবী পুরুষশূন্য হইয়া যাইবে। কিন্তু বর্তমান আবস্থা সেই যুগের চেয়ে ভয়াবহ ইহা আমরা চোখ থাকিতেও দেখিতে পাই না। আজকে পৃথিবী নারীঘটিত ফেতনায় ভরিয়া যাইতেছে কিন্তু অনেক নারীদের উপযুক্ত সময়ে বিবাহ হইতেছে না। আমাদের পেয়ারা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, “যদি এমন কেউ তোমার কাছে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসে – যার চরিত্র এবং তাকওয়া সন্তোষজনক, তাহলে তার কাছে (তোমার মেয়েকে) বিয়ে দাও। যদি এমনটি না কর, তাহলে পৃথিবীতে মারাত্মকরকম ফেতনা ও বিপর্যয় দেখা দিবে।” [তিরমিযি]। কিন্তু আমরা মনে করিতেছি এই হাদীস আমার জন্য নয়। আমার মেয়ের এখনও বিয়ের বয়স হয় নাই। অথচ তাহার বয়স ২৫ – ২৬ হইয়া গিয়াছে। তাহার দ্বারা সমাজে কত ফেতনা সৃষ্টি হইতেছে ইহা আমরা এখন না বুঝিলেও মৃত্যুর পরে বুঝিতে পারিব।

বলিতেছিলাম আমরা কুরআনের অনেক আয়াত মানসিকভাবে মানিতে পারিতেছি না। ভাবি ইহা তো সেই যুগে হইয়া গিয়াছে। ইহা আবার হইবে কেন? ইহা পড়িয়া শুধু এখন নেকী অর্জন করিব কিন্তু শিক্ষা লইব না। সূরা রূমে আছে, “রোমকরা পরাজিত হইয়াছে। অতি শীঘ্রই তাহারা (জাযিরাতুল আরবের) নিকটবর্তী অঞ্চলে বিজয়ী হইবে। কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহ্‌রই।, এবং সেদিন মু’মিনরা আনন্দিত হইবে। (সূরা রূম, আয়াত ২ – ৪)

আল্লাহ্‌ বলিতেছেন, পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহ্‌রই। অর্থাৎ পূর্বেও যেমন মুসলমানরা রোমকদের বিজয়ে আনন্দিত হইয়াছিল ইহা আবার পরেও হইবে। কিন্তু আজকে এই আয়াত মুসলমানরা ভুলিয়া গিয়াছে। যখন বলা হয়, রোমকদের সহিত মুসলমানদের চুক্তি হইবে ইহা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষৎবাণী করিয়া গিয়াছেন তখনও আমরা মানিতে পারি না। আমাদের ভদ্রলোকের এক কথা, অমুসলিমদের বিজয়ে আমরা আনন্দিত হইব কেন? আসলে কুরআন থেকে আমরা রাজনীতি শিখি না। আমরা আনন্দিত হইব কারণ রোমকদের বিজয় আমাদের জেরুজালেম বিজয়ের পথ খুলিয়া দিবে, যেইভাবে অতীতে রোমকদের বিজয় মক্কা বিজয়ের পথ খুলিয়া দিয়াছিল। কাজেই রোমকদের নিয়া আমাদের কোনও মাথাব্যথা নাই। অথচ ইহা কুরআনে আছে। মুসলমান নাম লইয়া ইসরাইল ও আমেরিকার আনুগত্য করিলেও উহাদেরকে আমরা মাথায় তুলিয়া রাখি।

সূরা কাহাফ একটি শেষ যুগ সংশ্লিষ্ট সূরা। এই সূরায় দেখানো হইয়াছে ঐ সাতজন যুবকের বিরুদ্ধে যখন যুদ্ধ, অত্যাচার, দমন, পীড়ণ শুরু হইয়াছিল তাহারা কিরূপে বেঈমান হইয়া যাওয়া হইতে আত্মরক্ষা করিয়াছিল। আমরা ইহা পড়িয়া নেকী অর্জন করি। কিন্তু ইহা হইতে শিক্ষা গ্রহণ করি না। যখন শেষ যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হইবে যাহা ইতিমধ্যে শুরু হইয়া গিয়াছে তখন কিরূপে আমরা আত্মরক্ষা করিব যাহাতে পরে ঐ যুবকদের মতো বিজয়ের জন্য উঠিয়া দাড়াইতে পারি? আমাদের ফেতনা ছাড়িয়া দূরে গ্রামাঞ্চলে চলিয়া যাইতে হইবে। ইহা হাদীসে বর্ণিত হইয়াছে। বৃষ্টিপাতের অঞ্চলে বা পাহাড়ের চূড়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেখানে ফেতনা এখনও ভিড়িতে পারে নাই বা ফেতনার মাত্রা কম। সেখানে ভেড়া লইয়া অর্থাৎ যার যা সম্বল আছে তা নিয়া চলিয়া যাইতে হইবে। আমরা সূরা কাহাফে সাত যুবকের আত্মরক্ষার কাহিনী পড়ি, হাদীসও পড়ি। কিন্তু ভাবি, এই দিকনির্দেশনা আমাদের দেয়া হয় নাই। কুরআনের এই কাহিনী অতিক্রান্ত হইয়া গিয়াছে। আর হাদীস বাস্তবায়নের সময় এখনও আসে নাই। বরং ফেতনার মধ্যেই আরাম আয়েশের দিন গুজরান করিয়া আমরা ইসলাম পালন করিতে চাহিতেছি যা কুরআন হাদীসের সম্পূর্ণ বিপরীত।

এইভাবে কুরআন হাদিসকে উপেক্ষা করার মাশুল আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতে দিয়া যাইতে হইবে।

।।

রোম পরিচিতি

‘অবহেলিত’ ‘জ্ঞান’

মেধাবী ও জ্ঞানীর মধ্যে পার্থক্য আছে। সব মেধাবীই জ্ঞানী নয়। মেধা মানুষকে কুশলী করে। কাজের নৈপুণ্য বাড়ায়। মেধাবী মানুষ স্কিলড হয়। জ্ঞান হল সত্য ও মিথ্যা পার্থক্য করার ক্ষমতা। জ্ঞান না থাকলে মেধা মানুষকে বিপথে চালিত করে, ধ্বংস করে। মা বাবা চায় তার সন্তান মেধাবী হোক। জ্ঞানী হোক এটা সচেতনভাবে অনেক মা বাবাই চায় না। মেধাবী সন্তান পেলেই তারা খুশী।

একজন মেধাবী ব্যক্তি ইংরেজী বা আরবী ভালো জানতে পারে। অংক ও বিজ্ঞানে ভালো হতে পারে। এগুলো হল তার স্কিল। জ্ঞান কিন্তু স্কিল নয়। জ্ঞান হল আলো ও অন্ধকারকে পার্থক্য করার ক্ষমতা। জ্ঞান চর্চা করতে করতেও মানুষ একসময় স্কিলড হয়ে যায়।

ইহুদীরা হল স্কিলড। তারা মেধাবী। আর মুসলমানরা হল জ্ঞানী। যদিও বেশীর ভাগ মুসলমান জ্ঞানচর্চা করে না। সে জন্য স্কিলড হতে পারে না।

।।

রেড কাউ দুধ আমরা অনেক দিন যাবতই খাই। কিন্তু রেড কাউয়ের মাজেযাটা সেদিন মাত্র জানলাম। মাজেযা আরবী শব্দ। ইংরেজীতে বলে ‘মিরাকল।’ বাংলায় বিস্ময়কর ব্যাপার, অদ্ভুত কান্ড, কামাল। সারপ্রাইজিং ইভেন্ট ফ্রম ডিভাইন এজেন্সি। এতো বছর যাবত ‘তারা’ সাবলিমিনাল মেসেজ দিচ্ছে কিন্তু তা চৈতন্যে আসতেছিল না। এর কারণ স্কিলনেসের অভাব।

Red Heifer Found in West Virginia

হ্যামফারের ডায়েরী

হ্যামফার কাজ করেছে সুন্নী মুসলিমদের উপর। সে ডায়েরী লিখেছে যা কোনভাবে প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় সাড়া দুনিয়া জেনে যায় তাদের অপকর্ম। কাজেই যাদেরকে আমরা সুন্নী মনে করি তা আসলে হ্যামফারী ইসলাম ছাড়া আর কিছুই নয়। একইভাবে শীয়াদের উপরও নিশ্চয়ই অন্য কোন গোয়েন্দা কাজ করেছে। বৃটিশ কমনওয়েলথ মন্ত্রণালয় তো মাত্র একজন গোয়েন্দা এমপ্লয় করে নাই। নিশ্চয়ই শত শত হাজার হাজার গোয়েন্দা ছিল তাদের। সবাই তো আর তাদের গোয়েন্দাগিরির ডায়েরী লিখে নাই। আর লিখলেও সবার ডায়েরী প্রকাশও পায় নাই।

তারাই মুসলিমদের মধ্যে জাতীয়তা বাদ সৃষ্টি করেছে।

শীয়া বলেন আর সুন্নী উভয়টার মধ্যে আছে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের আদর্শ। আজকে আপনার আমার জন্ম যদি ইরানে হতো আপনি আমি হতাম এক নম্বর শিয়া। এখন বাংলাদেশে জন্ম হওয়ায় এক নম্বর সুন্নী। আসলে রাসূল সা ও সাহাবা রাযি দের আদর্শ থেকে সবাই দূরে। কাজেই শিয়া বলেন আর সুন্নী বলেন সেগুলো জাতীয়তাবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের অনুসরণ করবে গজে গজে বিঘতে বিঘতে। সেটাই করছে হ্যামফারী সুন্নী ও সাবাঈ শিয়ারা। হ্যামফার ছিল খ্রিস্টান ও ইবনে সাবা ছিল ইহুদী।

a-british-spy-hempher

বাংলায় বইটি প্রকাশ করেছে জ্ঞানকোষ প্রকাশনী (ফোন নাম্বার – 01711271718)। পাওয়া যেতে পারে রকমারিপড়ুয়াতে।