বেচাকেনার তামাশা

মানুষ সাধারণত যাকে ব্যবসা নামে চালিয়ে দেয় আল্লাহ তাকে বলেন ক্রীড়া কৌতুক। কারণ ব্যবসার নামে মানুষ যা করে যা আমরা সমাজে দেখি তা ক্রীড়া কৌতুকই বটে। কারণ সেখানে অধিক মাত্রায় ক্রীড়া কৌতুক এবং অল্প মাত্রায় ব্যবসা থাকে। সূরা জুমু’আর শেষ আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন,

“যখন তারা কোন ব্যবসা বা খেল তামাশা দেখে তখন তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে যায়, বলো, ‘আল্লাহ্‌র নিকট যা আছে তা ক্রীড়া কৌতুক ও ব্যবসা অপেক্ষা উত্তম।’ আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।”

এই আয়াতটি ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন, এখানে এক চমৎকার এনালজি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে ব্যবসাকে আগে উল্লেখ করে পরে ক্রীড়া কৌতুককে তার সমার্থক হিসেবে আগে উল্লেখ করা হয়েছে, পরে ব্যবসাকে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান জামানার দিকে তাকালে দেখবেন সালাত সিয়াম বাদ দিয়ে মানুষ ব্যবসার নামে যা করে তা কতটুকু ব্যবসা আর কতটুকু ক্রীড়া কৌতুক। খেল তামাশার আধিক্যে মানুষ এটা ভুলে গেছে যে আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।

।।

ছোটবেলায় মা বলত, এমন এক সময় আসবে যখন মসজিদে নামায হবে আর মসজিদের বাইরে ঢোল বাজবে। সেটা কি এখন নয়, নাকি আরো ৫০০ বছর পরে? সালাতের সময়েও নানা ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন, নানা ভঙ্গিমায়, নানা বাহারে বেচাকেনা চলতেই থাকে।

।।
তবে প্রকৃত ব্যবসা কি তা সূরা ছাফফে উল্লেখ আছে। সেই ব্যবসার লাভ সম্পর্কে আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন।

বদনজর ও রুকইয়াহ – শেষ কিস্তি

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “বদনজর সত্য! এমন কিছু যদি থাকতো যা ভাগ্যের চেয়েও আগে বেড়ে যায়, তাহলে সেটা হতো বদনজর!!” (সহীহ মুসলিম)

বদনজর সিরিজ: কিছু কথা…

—-
[[ক.]]
প্রথমত, “বদনজর” সিরিজে কিছু পয়েন্ট বাদ গেছে যেগুলো উল্লেখ করা উচিত ছিলো… সেগুলো আমি এডিট করে বিভিন্ন পর্বে যোগ করে দিচ্ছি। তবে আপনাদের সব নতুন করে রিভিশন দেয়ার দরকার নাই। আমি ওগুলো চলতি পোস্টের মাঝে দিয়ে দিলাম।
.
[[খ.]]
দ্বিতীয়ত, যদিওবা প্রতি পর্বের শুরুতে লিখেছি “অনুলিখনঃ আব্দু………দ” কিন্তু আক্ষরিক অর্থে এগুলোকে অনুলিখন না বলে সারাংশ লিখন বলা মুনাসিব ছিল। সত্যি বলতে মুফতি জুনাইদ সাহেবের ৪টা বয়ানের বাছাইকৃত কিছু পয়েন্ট আপনাদের জন্য অনুবাদ হয়েছে এই ৫ পর্বের লেখাতে।
.
[[গ.]]
বাদ যাওয়া পয়েন্ট-
১। আপনি কয়েকবার মনোযোগ দিয়ে শোনার পরেও যদি কোনোই ইফেক্ট না বুঝতে পারেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ্‌ আপনার কোনো সমস্যা নাই। আপনার যদি আসলেই কোনো প্রবলেম থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি কিছুনা কিছু টের পাবেন। [৫/চ. পয়েন্টে যোগ হবে]
.
২। প্রচুর বমি হওয়া এবং জিন চলে আসার কথা শুনে অনেকে রুকয়া শোনার সাহস করতে পারছেন না। আসলে ওটা হচ্ছে মোস্ট এক্সট্রিম সিচুয়েশন। আমি বলেছি শুধু এজন্যই যে, “কখনো কখনো এরকম হয় সেটা আপনার জেনে রাখা উচিৎ” ব্যাস এতটুকুই…। [৫/ঙ পয়েন্টে যোগ হবে]
.
৩। আর কিছু উপলক্ষণ বলা উচিত ছিলো…
//রুকয়া শুনতে লাগলে শরীর প্রচুর ঘামা, প্রচুর প্রসাব হওয়া, ডায়েরিয়া হতে পারে…
তবে এরপরেও শুনতে থাকতে হবে, সমাধান হলে এসব ভালো হয়ে যাবে, দুশ্চিন্তার কারণ নাই… [৫/ছ. পয়েন্টে যোগ হবে]
.
৪।
//সিরিয়াস সমস্যা থাকলে যত শুনবেন তত কষ্ট বাড়বে, এক পর্যায়ে ভালো হয়ে যাবে।
.
//সময় কম..?? বিস্তারিত পড়ুন

ইসলামী ইস্কেটোলজি ইউটিউব লিঙ্ক

১। সংক্ষেপে ইসলামী এস্কাটোলজিঃ
https://m.youtube.com/watch
২। ইসলামী এস্কাটোলজির সূচনাঃ
https://m.youtube.com/watch
৩। ইতিহাসের সমাপ্তিঃ
https://m.youtube.com/watch
৪। দাজ্জালের শুরু থেকে শেষঃ
https://m.youtube.com/watch
৫। ইয়াজুজ মাজুজঃ
https://m.youtube.com/watch
৬। ইমাম মাহদীঃ
https://m.youtube.com/watch
৭। খিজির (আ):
https://m.youtube.com/watch
৮। রাশিয়া, জুলকারনাইনঃ
https://m.youtube.com/watch
৯। রিফিউজিঃ
https://m.youtube.com/watch
১০। নিউক্লিয়ার বিশ্বযুদ্ধ ও কোরানঃ
https://m.youtube.com/watch
১১। মুসলিম তরুণদের করণীয়ঃ
https://m.youtube.com/watch

রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কি শিক্ষা দিয়েছেন?

 

“তিনিই উম্মী (নিরক্ষর) -দের মধ্য থেকে তাদের মাঝে একজনকে রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তিলাওয়াত করেন তার আয়াতসমূহ, তাদের পবিত্র করেন, এবং কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন, ইতোপূর্বে তারা ঘোর বিভ্রান্তিতে ছিল।” [সূরা জুমু’য়া, আয়াত ২]

“তিনিই উম্মী (নিরক্ষর) -দের মধ্য থেকে তাদের মাঝে একজনকে রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তিলাওয়াত করেন তার আয়াতসমূহ, তাদের পবিত্র করেন, এবং কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন, ইতোপূর্বে তারা ঘোর বিভ্রান্তিতে ছিল।” [সূরা জুমু’য়া, আয়াত ২]

এই চারটি জিনিসের মধ্যে সব কিছু আছে। একটার সাথে আরেকটা সম্পর্কিত।

হেকমত ছাড়া এলেম অর্থহীন, এলেম ছাড়া পবিত্রতা অর্থহীন, পবিত্রতা ছাড়া কুরআন তিলাওয়াত অর্থহীন। যেমন, কুরআন তিলাওয়াত তো অনেক কাফেররাও করে, কিন্তু তাদের অন্তরের পবিত্রতা না থাকায় তা কোন কাজে আসে না। হেকমতবিহীন এলেম দ্বারা কোন জিনিসের শাব্দিক অর্থ বুঝে আসে, প্রকৃত অর্থ বুঝে আসে না।

আবার, কুরআন তিলাওয়াত না করলে অন্তরের পবিত্রতা অর্জিত হবে না, অপবিত্র অন্তরে এলেম অর্জিত হবে না, এলেম না থাকলে হেকমত আসবে না।

এখানে পবিত্রতা অর্থ তাহারাত বা শারীরিক পবিত্রতা নয়, বরং আত্মিক পবিত্রতা।
যাবতীয় বিষয়বস্তু সঠিক জ্ঞান দ্বারা জানাকে হেকমত বলে।

 

নবী (সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম) ও উম্মত

                        Quran image

হযরত ইবরাহীম য়ালাইহিস সালাম আল্লাহতায়ালার নিকট দু’য়া করলেন,

رَبَّنَا وَٱبْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًۭا مِّنْهُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ

“হে আমাদের রব! তাদের মাঝে তাদের নিজেদের থেকেই একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদেরকে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনাবেন এবং তাদের কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দান করবেন, এবং তাদের পবিত্র করবেন; নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, হেকমতওয়ালা।” [সূরা বাকারা, আয়াত ১২৯]

আল্লাহতায়ালা বলেন,

كَمَآ أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًۭا مِّنكُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْكُمْ ءَايَٰتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا۟ تَعْلَمُونَ

“যেমনিভাবে আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের মাঝে রাসূল প্রেরণ করেছি, যিনি তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন, এবং তোমাদের পবিত্র করেন, তোমাকে আমার কিতাব এবং তার অন্তর্নিহিত জ্ঞান শিক্ষা দেন (হেকমত) এবং তোমরা যা অবগত ছিলে না তা শিক্ষা দান করেন।” [সূরা বাকারা, আয়াত ১৫১]

আল্লাহতায়ালা বলেন,

هُوَ ٱلَّذِى بَعَثَ فِى ٱلْأُمِّيِّۦنَ رَسُولًۭا مِّنْهُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا۟ مِن قَبْلُ لَفِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍۢ

“তিনিই উম্মী (নিরক্ষর) -দের মধ্য থেকে তাদের মাঝে একজনকে রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তিলাওয়াত করেন তার আয়াতসমূহ, তাদের পবিত্র করেন, এবং কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন, ইতোপূর্বে তারা ঘোর বিভ্রান্তিতে ছিল।” [সূরা জুমু’য়া, আয়াত ২]

যাবতীয় বিষয়বস্তু সঠিক জ্ঞান দ্বারা জানাকে হেকমত বলে।
বিস্তারিত পড়ুন

উম্মাহর শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি

‪#‎জান্নাত_বিজয়ীদের_গল্প‬
এই উম্মাহর মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি হযরত ‪#‎আবু_বকর_রা‬। তার শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হলো নবিজী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে বেশি সান্নিধ্য এবং ইলমে ওহীর বরকত। যেদিন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনলেন যে মদিনায় হিযরত করতে হতে পারে, সেদিন থেকে তিনি রাতে ঘুমাননি। কারণ হয়তো রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে এসে দরজায় টোকা দিবেন আর তার প্রস্তুতি নিতে দেরী হবে। সেজন্য প্রতি মুহূর্ত সজাগ। একটা ঘোড়া প্রস্তুত করে রেখেছেন যেন প্রয়োজনের সময় এক মুহূর্ত অপচয় না হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ইসলামের দাওয়াত পাওয়ার সাথে সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এবং পরবর্তীদিন আরো কয়েকজনকে দাওয়াত দিয়ে সাথে নিয়ে এসেছেন। হাশরের মাঠে যখন উম্মাহর আমল নবীজী সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম দেখবেন উম্মতের জন্য নবিজী খুব চিন্তান্বিত হবেন। তখন আবু বকর রাযিআল্লাহুতায়ালা য়ানহুর আমল পেশ করা হবে। তার আমলনামা দেখে নবিজী খুশী হবেন। পুরো উম্মতের নেক আমলের যে ওজন হযরত আবু বকর রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুর নেক আমলের ওজন তার চেয়ে বেশি হবে। কারণ উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনি মানুষের ময়দানে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। এজন্য তাদের আমলনামার সমপরিমাণ সওয়াব তিনিও পাবেন। পরবর্তীতে ঐসব মানুষরা আবার অন্য মানুষদের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছিয়েছেন। সেসবের সমপরিমাণ সওয়াবও তার আমলনামায় যোগ হবে। এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ ইসলামে আসবে সবার সওয়াবের সমপরিমাণ তিনিও পাবেন। কারণ তিনিই উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম মানুষকে দ্বীনের দিকে ডেকেছেন। সবার সওয়াবের সমপরিমাণের সাথে তার নিজের ইবাদতের সওয়াব যোগ হবে। ফলে একদিকে পুরো উম্মতের নেক আমল রাখলে আর অন্যদিকে তার নিজের নেক আমল রাখলে হযরত আবু বকরের দিকের পাল্লাই ভারী হয়ে যাবে।

মুহূর্তের অনুভূতি

বিশ্ব রাজনীতি, আইএস, প্যারিস, রাশিয়া, আসাদ, সৌদি শাসক, ইরান, আমেরিকা নিয়ে ফেসবুক বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধির তোড়ে ভেসে যাচ্ছি। একজনের বিশ্লেষণের সাথে আরেকজনের বিশ্লেষণের কোন মিলই নেই। কিন্তু লেখার ঠেলা এমন যে সব পক্ষ উনাদের সাথে টেলিফোনে আলাপ করে করে প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছে।