৩য় বিশ্বযুদ্ধ কখন শুরু হবে?

প্রশ্নঃ অস্ট্রেলিয়ার পারথ থেকেঃ 

বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় কী কোনভাবে নির্ণয় করা যাবে?

শেখ ইমরান হোসেনঃ আমার উত্তর হলো এই যে আমি যতটুকু ধারণা করেছিলাম তাতে বিশ্বযুদ্ধ এতদিনে শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। আর এখন আমাদের কাছে যা আছে তা হলো অতিরিক্ত সময়। ২০০৯ সালে ট্রিনিদাদে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী রিট্রিটে আমি অংশগ্রহন করেছিলাম। তারপর ২০১১ সালে আরেকটি ইসলামী রিট্রিটে আমি অংশগ্রহণ করি যেটা অনুষ্ঠিত হয়েছিল আফ্রিকা মহাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত দক্ষিণ কেপটাউনের সাইমন্সটাউনে। তারপরে আর কোন রিট্রিট হয়নি কারণ ২০১১ সাল থেকে আমি বিশ্বযুদ্ধের আশংকা করছি। ভাবুন, কতদিন আগে থেকে! আর আমি ভেবেছিলাম যে, বিশ্বযুদ্ধ মার্কিন নির্বাচনের আগেই শুরু হয়ে যাবে কারণ তাদের ভয় ছিল ট্রাম্প নির্বাচনে জিতে যেতে পারে। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়নি। আমি ভেবেছিলাম যদি হিলারি ক্লিনটন নির্বাচনে বিজয়ী হয়, বিশ্বযুদ্ধ দ্রুত শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু সে নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেনি। ট্রাম্প নির্বাচনে বিজয়ী হয়। আর ট্রাম্প বলেছিল, সে রাশিয়ার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায় এবং আমি বিশ্বাস করি, সে সত্য কথাই বলেছিল। তাই আমি অনুভব করেছিলাম যে, একটা সূর্যালোকের জানালা খুলে গিয়েছে অর্থাৎ কিছু সময়ের জন্য হয়তো আমরা বেঁচে গিয়েছি এবং নিউক্লিয়ার যুদ্ধ কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখন ষষ্ঠ মাস চলছে আর আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি এই ছয় মাসের সূর্যালোকের জানালার জন্য। এখন কী বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে? আপনারা বাসায় বসে ইন্টারনেটে এই লেকচার দেখছেন আর জানতে চাচ্ছেন কখন বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে। এটাই সেই প্রশ্ন যা সবাই জিজ্ঞাসা করছে। কিন্তু আপনি কী বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছেন? আপনি কী খাদ্য সঞ্চয় করে রেখেছেন? আপনি কী পানি সঞ্চয় করে রেখেছেন? যদি বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় আপনি খাবার ও পানি কোথা থেকে পাবেন? কোন অর্থ ব্যবহার করবেন খাদ্য কিনতে? আপনি জানতে চান কখন বিশ্বযুদ্ধ শুক হবে কিন্তু আপনি কী এর প্রস্তুতি নিয়েছেন?  

আমি জানিনা কখন বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, এটা খুব শীঘ্রই শুরু হবে। কত শীঘ্র? আমি জানিনা কত শীঘ্র। এটা কী কোরিয়ায় শুরু হবে? না, আমি মনে করিনা যে, এটা কোরিয়ায় শুরু হবে। আমি আশা করি, এটা কোরিয়ায় শুরু না হোক। যদি ট্রাম্প কোরিয়ায় আক্রমণ করে, আপনি বলে দিতে পারেন গুডবাই সিউল। ২৫ মিলিয়ন লোক বাস করে ঐ রাজধানী শহরে যা ঐ দেশের মোট জনসংখ্যার ২৫-৩০ শতাংশ। আর সিউল হলো উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০-৪০ মাইল দূরে অবস্থিত! উত্তর কোরিয়া অনেক বুদ্ধিমান জাতি। নিজেদেরকে শক্তিশালী করার জন্য আপনার মাথায় অবশ্যই বুদ্ধি থাকতে হবে। আল্লাহপাক পবিত্র কোরানে বলেন, সামরিক শক্তি তৈরী কর, যতটা সম্ভব সামরিক শক্তি তৈরী কর। কেন? কেন আল্লাহপাক সামরিক শক্তি তৈরী করার নির্দেশ দিয়েছেন? বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর জন্য নয়, বিশ্বে অত্যাচার বা জুলুম করার জন্য নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশের নেতাদের পরিবর্তন করার জন্য নয়! না, এটা ইসলাম, এটা ওয়াশিংটন নয়। আল্লাহপাক বলেছেন যে, তুমি সামরিক শক্তি তৈরী কর যাতে অত্যাচারীদের মোকাবেলা করতে পার। এটাই করছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার যে শক্তি রয়েছে তা তারা অত্যাচারীদের মোকাবেলায় ব্যবহার করছে। তাই যুক্তরাস্ট্র সেখানে আক্রমণ করবে না। কারণ তারা জানে, যদি তারা উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ করে, তাহলে তার পরিণতি হবে ভীষণ মারাত্মক। কারণ, এটি অত্যাচারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত শক্তি। আর এটা সেই ধরণের শক্তি যার সম্পর্কে আল্লাহপাক পবিত্র কোরানে আদেশ করেছেন যে, শক্তি তৈরী কর মানুষকে সন্ত্রস্ত করার জন্য নয়, বরং এটা যেন ব্যবহৃত হয় অত্যাচারীর থেকে আত্মরক্ষা করতে। আমি মনে করিনা যে, তারা উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ করবে যদি না তা সম্পূর্ণভাবে পাগল হয়ে যায় এবং তাদের পাগলের ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। মাঝে মাঝে আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হই যে, তারা পাগলের ডাক্তারের কাছে যায়। তাই আমি এই সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দিতে পারছি না যে, তারা উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ করবে শুধুমাত্র পারমাণবিক বিশ্বযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করতে।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো, এই যুদ্ধ শুরু হতে পারে সিরিয়ায়। দুই সপ্তাহ আগে আমি ট্রাম্পের সিরিয়া হামলার বিষয়ে কথা বলেছি। অনেকগুলো ক্ষেপনাস্ত্র মারা হয়েছিল সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে। আর কিছু গাধা রয়েছে যারা সারাক্ষণ আসাদ সরকারকে ইদলিবে রাসায়নিক হামলার জন্য দায়ী করতে থাকে। তারা কী করে জানল? সিএনএন বলেছে তাই? ওয়াশিংটন বলেছে তাই? লন্ডন বলেছে তাই? আর আপনি নিজেকে মুসলিম দাবী করছেন? না, আপনি শত্রুশিবিরে যোগ দিয়েছেন। আপনি শত্রুদের প্রোপাগান্ডা মেশিনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছেন আর আপনি আমাকে সালাম দিচ্ছেন? আমি আপনার ছালামের কোন জবাব দেব না যতক্ষণ আপনি ঐ শিবিরে রয়েছেন কারণ আল্লাহ্‌ বলেছেন, “তোমাদের মুসলিমদের মধ্যে যারা ওদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তারা ওদের দলের লোক বলেই বিবেচিত হবে”, আমাদের নয়। যদি আপনি এটা পছন্দ না করেন, তাহলে আপনি এটা পাইপে ঢুকিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে পারেন। সিরিয়ান সরকার এটা করেনি। এটা ছিল আরেকটি ফলস ফ্ল্যাগ আক্রমণ। সুতরাং ট্রাম্প এমন একটি অবস্থায় পড়ে যায় যে, তাকে অবশ্যই সিরিয়ায় আক্রমণ করতে হত। যদি সে তা না করে, তাহলে তার চাকরী চলে যাবে। সে অভিশংসিত হয়ে যাবে। তাই সে সিরিয়ায় আক্রমণ করে। যখন সে সিরিয়ায় আক্রমণ করল, রাশিয়া ও ইরান প্রতিবাদ জানাল আর বলল, দ্বিতীয়বার এটা করোনা। কারণ যদি তুমি আবারো এ কাজ কর, তাহলে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। সুতরাং তারা যুক্তরাস্ট্রকে বাজিমাত করে দিয়েছে। যদি সে আরেকবার এ কাজ করে, তাহলে নিউক্লিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। আর যদি নিউক্লিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়, কী হবে তখন? গুডবাই উত্তর আমেরিকা। সমগ্র উত্তর আমেরিকা ইলেকট্রনিক গ্রিড দিয়ে পরষ্পরের সাথে যুক্ত আর সবকিছু সেই গ্রিডের মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া সেরকম নয় ও চীনও সেরকম নয়। কিন্ত ইউরোপ সেরকম। পশ্চিম ইউরোপ সেরকম। সবকিছু গ্রিডের সাথে সংযুক্ত। সুতরাং যখন পারমাণবিক বিশ্বযুদ্ধ লেগে যাবে, গুডবাই সম্পূর্ণ যুক্তরাস্ট্র, গুডবাই কানাডা। কারণ পুরো গ্রিডে ধ্বস নামবে। আর যদি আপনি কোনভাবে পারমাণবিক বিশ্বযুদ্ধে বেঁচেও যান, তখন আপনি আশা করবেন, মৃত্যু হলেই ভালো হয়। কারণ পারমানবিক বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আমেরিকায় জীবনযাপন করা হবে অসম্ভব। কিন্তু রাশিয়া বিশ্বযুদ্ধের পরও টিকে থাকবে কারণ সমগ্র রাশিয়া গ্রিড দিয়ে সংযুক্ত নয় এবং সমগ্র চীনও গ্রিড দিয়ে সংযুক্ত নয়। এটা প্রাথমিক বিশ্লেষণ। এটা কোন জটিল মিলিটারি বিশ্লেষণ নয়, এটা সাধারণ প্রাথমিক বিশ্লেষণ। সুতরাং নিউক্লিয়ার বিশ্বযুদ্ধ সমগ্র রাশিয়াকে ধ্বংস করবে না এবং চীনকেও করবে না। কিন্তু এটা সমগ্র পশ্চিমা সভ্যতাকে ধ্বংস করে দেবে। আমরা তা থেকে এক সপ্তাহ দূরে থাকতে পারি আবার এক মাস দূরেও থাকতে পারি। আমি জানিনা কতদিন বাকি রয়েছে। কিন্তু আমি যেটা জানি সেটা হলো যখনই পারমানবিক বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে এবং সকল পরমাণু বোমা ব্যবহৃত হতে থাকবে, গুডবাই উত্তর আমেরিকা, গুডবাই ইউরোপ, গুডবাই রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশ যেখানে গ্রিড রয়েছে এবং চীনের সেই অংশ যেখানে গ্রিড রয়েছে। গুডবাই সেগুলোকে। তো কীভাবে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি? খাদ্য জমিয়ে রাখুন, পানি জমিয়ে রাখুন এবং এমন কিছু জমিয়ে রাখুন যা দিয়ে আপনি খাদ্য কিনতে পারবেন।

অনুবাদঃ Md Arefin Showrav

২৫-৪-২০১৭

স্বীকৃতি

এপ্রিলের ৬ তারিখ থেকে মে-র ৫। এই একটা মাস আমার অন্তরে একটা ধ্যান খেয়াল থাকে। বারবার ফিরে যাই ২০১৩ সালের ১৩ দফার সেই দিনগুলোতে। ক্বওমী পদভারে সেই উত্তাল দিনগুলোতে দেশের আনাচে কানাচে গমগম করতো। প্রতিটা জেলায় উপজেলায় বাংলাদেশের উলামায়ে দেওবন্দের মিটিং হতো। আগে থেকেই এই আন্দোলনকে পেট্রনাইজ করত আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমান। কে এই মাহমুদুর রহমান? এক সময়ের ক্ষমতার পাশাপাশি থাকা নানা ধরনের সমালোচিত ঘটনার নেপথ্য ইন্টেলিজেন্ট ব্যক্তি হিসেবে আলোচিত মাহমুদুর রহমান। হঠাৎ করেই আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক হয়ে ক্বওমী আলেমদের প্রিয়ভাজন হয়ে গেলেন? এতো ইসলাম দরদী হয়ে গেলেন?

মার্চ মাস থেকেই শানে রেসালাত কর্মসূচি হতে লাগল হেফাজতের। সারা দেশব্যাপী। বক্তারা তীব্র শ্বাসরুদ্ধকর বক্তৃতা দিতেন। শ্রোতা ছিল বেশিরভাগই মাদ্রাসার ছেলেরা ও একেবারেই সাধারণ দ্বীনদার লোকজন। তারা ইসলামকে মনে প্রাণে ভালোবাসতেন। প্রতিটি শানে রিসালাতে বক্তারা দু’টা জিনিস বলতেন। এই আন্দোলনকে জিহাদ বলতেন। আর রক্ত দেয়ার কথা বলতেন। সমাবেশে উপস্থিত লোকজন দাড়িয়ে, দুই হাত তুলে একাত্মতা প্রকাশ করতেন, রক্ত দেয়ার বাইয়াত গ্রহণ করতেন। সে এক অদ্ভুত অভাবনীয় দৃশ্য। ঈমানহীন সমাজে ঈমানের বাধহারা জোয়ার যে কাউকে আবেগাপ্লুত করত।

তারপরের ঘটনা সবার জানা। এপ্রিলের ৬ তারিখে শশা, বিরানি ও পানির তুমুল মেহমানদারি অংশগ্রহণকারীদের জিহাদের আকঙ্খা আরো বাড়িয়ে দেয়। মে-র ৫ তারিখে শুরু থেকেই বুঝা যাচ্ছিল থম্থমে পরিবেশ। তারপরও অনেক মাদ্রাসার উস্তাদরা তাদের নাবালক ছাত্রদেরও সাথে নিয়েছেন। উনাদের আক্কেলজ্ঞান নিয়ে আমি বরাবরই সন্দিহান। উনারা কি অভিভাবকের অনুমতি নিয়েছিলেন? আমার নাবালক সন্তান থাকলে আমি কি অনুমতি দিতাম? উনারা তো রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের অনুসরণ করেন নাই। দুইজন বালক রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে জিহাদে যাওয়ার জন্য নাম লিখাতে আসছে। বালকদ্বয় বুঝতে পারছিল যে তাদের নেয়া হবে না। তাই তারা পায়ে ভর দিয়ে বড় হওয়ার অভিনয় করছে। একজন আরেকজনের সাথে পরামর্শ করছে নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে কিভাবে নিজদের বড় প্রমাণ করা যায়। তাদের আগ্রহ দেখে নবীজী তাদের সাথে নেন। অতঃপর তারা তুমুল বিক্রমে যুদ্ধ করে। তাদের তলোয়ারের আঘাতে আবু জাহেলের মতো বর্ষীয়ান লোকের পায়ের গোড়ালির নীচের অংশ খেজুরের বিচির মতো ছিটকে বের হয়ে যায়। — আমাদের দেশের মাদ্রাসার রোগা বাচ্চারা কি সেই যোগ্যতার অধিকারী?

মে-র ৫ তারিখের সকাল থেকেই হালকা বৃষ্টি ছিল। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছিল উৎকণ্ঠা। লং মার্চ শেষ করে তাদের তো চলে যাওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু কেন তাদের শাপলা চত্ত্বরের অভিমুখী করা হলো? কে দিল এই নির্দেশ? সারা দেশ থেকে আগত লোকেরা অনেকেই ঢাকার রাস্তাঘাটের ম্যাপ সম্পর্কে অনবগত। কেন তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে ফেলা হলো? পুলিশের গাড়ি, এম্বুলেনসের সাইরেন, থেকে থেকে বোমা গুলির শব্দ, ধোয়া ইত্যাদির মাধ্যমে তুমুল হট্টগোল করা হলো। জিহাদের ময়দানে তো সালাত মাফ নেই। কোথায় তাদের অযুর ব্যবস্থা, কোথায় টয়লেট? কোথায় পানি? মসজিদগুলো তো সব তালাবন্ধ। সবাই দেখতে পেল এরকম নাজুক পরিস্থিতিতে রাতযাপনের হুকুম দিয়ে আমীর সাহেব নিরাপদে হেলিকপ্টারে বাড়ি ফিরে গেলেন। বাস্তবদর্শীরা বলেন, তার আশেপাশের মানুষরা তাকে নিয়ে খেলেছে, তিনি অনেক বৃদ্ধ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল, তাই আশপাশের মানুষ যা বলে তিনি ভাবেন সেটাই সঠিক, এভাবে করে তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে রাখা হয়েছিল। এক পক্ষের লোককে নাকি তার কাছে ঘেঁসতে দেয়া হচ্ছিল না। সেদিন রাতে তিনি গাড়িতে বের হন শাপলা চত্বর যাওয়ার জন্য, পুলিস ও আশেপাশের কিছু আলেম পলাশীর’ সামনে থেকে তাকে আবার ঘুরিয়ে নিয়ে আসেন। পরের দিন যোহরের সময় সরকার তাকে আটক করে এবং বাধ্য করে হাটাহাজারী মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেয়।

জিহাদের ময়দান থেকে আমীরের কি বাড়ি ফেরার হুকুম আছে বা মা’মুরদের কানে ধরে বের হওয়ার হুকুম আছে কি না সেই শর‍য়ী প্রশ্নে আমি যাবো না। আমি বলব, এরকম একটি রাজনৈতিক প্রোগ্রামকে কেন জিহাদ নামে আখ্যায়িত করা হলো শানে রেসালাতগুলোতে? কেন হাজারো মানুষের রক্ত দেয়ার বাইয়াত গ্রহণ করা হলো? — আর কেনই বা এতো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে আমীরের পদবিতে রাখা হলো। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম জিহাদে আমীর প্রেরণে দূরদর্শিতার পরিচয় দিতেন।

এরপর রাতে কি হয়েছিল জানি না। আসলেই হাজার হাজার মানুষ মারা হয়েছে নাকি এরা রং মেখে শুয়েছিল তাও অজানা। এদের কারোর কথায়ই বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তবে এর পরদিন থেকে অনেক নেতৃস্থানীয় হুজুরদের ফোন ছিল টানা দুই মাসের জন্য বন্ধ। কেউ কেউ জেলে গেছে। কেউ হয়তো পালিয়ে ছিল। অনেকে নাকি জেলে নামায পড়িয়েছে, ওয়াজ করেছে। আল্লাহ্‌ মালুম।

এগুলো ঘটে যাওয়া ঘটনা। এখন বর্তমান। বর্তমানে কি অবস্থা? সেই ১৩ দফা দাবি কি পূরণ হয়ে গেছে? কথা ছিল ১৩ দফা দাবি পূরণ না করে ঘরে ফিরবে না। প্রথম দাবিটি ছিল, সংবিধানে ‘আল্লাহ্‌র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরান-সুন্নাহ্‌ বিরোধী সকল আইন বাতিল করা। এরপর ছিল ব্লাসফেমি আইন করতে হবে। বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সকল বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করা। কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা। মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরীতে রূপান্তর এবং ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। … এরকম ১৩ টি দাবির কয়টি পূরণ হয়েছে। একটিও পূরণ হয়নি। কিন্তু একটি দাবি পূরণ হয়েছে যা এই ১৩ দফায় ছিল না। সেটি হল, ক্বওমি মাদরাসার সনদ কে মাস্টার্সের মান ঘোষনা করা হয়েছে।

এই পুরো ঘটনা কি প্রমাণ করে? আজকে যদি সেই ১৩ দফার জন্যই আবার ডাক দেয়া হয় তাহলে কি পুনরায় বের হবে ইসলামপ্রিয় মানুষ? না। সেদিনের পর থেকে ইসলামের নামে মানুষের মনে ভয় ঢুকে গেছে। সুপরিকল্পিতভাবে এই কাজটি সেদিন করা হয়েছিল। আর তার কুশীলব ছিলেন বড় বড় আল্লামারা। ৫ তারিখের ঘটনা মানুষের মনে চিরকাল ভীতি ও প্রশ্ন হয়ে থাকবে। মানুষকে শাসন ও শোষণ করার জন্য সেদিনের পর থেকে ইসলাম আর কোন বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি। দাঁড়াবেও না যতদিন ইসলামের ঠিকাদারি এই আল্লামাদের কাছে থাকে। এ দেশের ইসলামপ্রিয় মানুষের সাহসের শেকড়কে সেদিন কেটে দেয়া হয়েছে। আরো কিছুদিন পর যদি ইনভিজিবল গ্লোবাল ইলেকট্রনিক মুদ্রা চালু হয় তাহলে কোন ইসলামপ্রিয় মানুষ আর উঠে দাঁড়াবে না। ৫ তারিখের ঘটনার মূল বেনিফিশিয়ারী ইসলাম নয়, বরং গ্লোবাল ইহুদী খ্রিস্টান যায়োনিস্ট চক্রই। তবে এর কোন সদুত্তর কোন আল্লামা দিবেন না। তারা হয়তো বুঝে বা না বুঝে তাদের হাতের ক্রীড়নক হয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইসলামের ইতিহাসে একটি অন্যতম ফলস ফ্লাগ রচনা করেছেন। যার একটি পুরস্কার এই ক্বওমী সনদ।

সমস্যাসঙ্কুল সিরিয়া

পৃথিবীর সবচেয়ে সমস্যাসঙ্কুল এলাকায় নবী রাসূলদের পাঠানো হয়। যেমন হযরত মূসা আ কে পাঠানো হয়েছে ফিরাউনের এলাকায়, হযরত ইবরাহীম আ কে নমরূদের এলাকায়, হযরত লুত আ কে যৌন বিকারগ্রস্থ জনপদে এবং হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামকে চরম শিরক ও কুফরে ডুবে থাকা মানুষদের কাছে পাঠানো হয়।

হযরত ঈসা আ এর আগমন হবে সিরিয়ায়। ঐ সময় সিরিয়া হবে সবচেয়ে সমস্যাসঙ্কুল জনপদ। সবচেয়ে জটিল জায়গা। দাজ্জাল সেখানে উপস্থিত থাকবে। এমনকি দাজ্জালের রাজধানীও হতে পারে সেটা। কারণ দাজ্জাল মক্কা মদিনায় জায়গা পাবে না। সম্ভবত সিরিয়াই হবে দাজ্জালের হেড কোয়ার্টার।

সিরিয়ার অবস্থা ধীরে ধীরে সেদিকেই যাচ্ছে।

হাদীসে এসেছে, প্রথমে সিরিয়া মুক্ত হবে, এরপর ইয়েমেন, এরপর ইরাক। এমনকি ধীরে ধীরে মানুষ মদিনা থেকেও সেসব জায়গায় চলে যাবে। যদিও তাদের জন্য মদিনায় থাকাটাই ভালো ছিল।

বেচাকেনার তামাশা

মানুষ সাধারণত যাকে ব্যবসা নামে চালিয়ে দেয় আল্লাহ তাকে বলেন ক্রীড়া কৌতুক। কারণ ব্যবসার নামে মানুষ যা করে যা আমরা সমাজে দেখি তা ক্রীড়া কৌতুকই বটে। কারণ সেখানে অধিক মাত্রায় ক্রীড়া কৌতুক এবং অল্প মাত্রায় ব্যবসা থাকে। সূরা জুমু’আর শেষ আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন,

“যখন তারা কোন ব্যবসা বা খেল তামাশা দেখে তখন তারা তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে যায়, বলো, ‘আল্লাহ্‌র নিকট যা আছে তা ক্রীড়া কৌতুক ও ব্যবসা অপেক্ষা উত্তম।’ আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।”

এই আয়াতটি ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন, এখানে এক চমৎকার এনালজি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে ব্যবসাকে আগে উল্লেখ করে পরে ক্রীড়া কৌতুককে তার সমার্থক হিসেবে আগে উল্লেখ করা হয়েছে, পরে ব্যবসাকে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান জামানার দিকে তাকালে দেখবেন সালাত সিয়াম বাদ দিয়ে মানুষ ব্যবসার নামে যা করে তা কতটুকু ব্যবসা আর কতটুকু ক্রীড়া কৌতুক। খেল তামাশার আধিক্যে মানুষ এটা ভুলে গেছে যে আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।

।।

ছোটবেলায় মা বলত, এমন এক সময় আসবে যখন মসজিদে নামায হবে আর মসজিদের বাইরে ঢোল বাজবে। সেটা কি এখন নয়, নাকি আরো ৫০০ বছর পরে? সালাতের সময়েও নানা ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন, নানা ভঙ্গিমায়, নানা বাহারে বেচাকেনা চলতেই থাকে।

।।
তবে প্রকৃত ব্যবসা কি তা সূরা ছাফফে উল্লেখ আছে। সেই ব্যবসার লাভ সম্পর্কে আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন।

বদনজর ও রুকইয়াহ – শেষ কিস্তি

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- “বদনজর সত্য! এমন কিছু যদি থাকতো যা ভাগ্যের চেয়েও আগে বেড়ে যায়, তাহলে সেটা হতো বদনজর!!” (সহীহ মুসলিম)

বদনজর সিরিজ: কিছু কথা…

—-
[[ক.]]
প্রথমত, “বদনজর” সিরিজে কিছু পয়েন্ট বাদ গেছে যেগুলো উল্লেখ করা উচিত ছিলো… সেগুলো আমি এডিট করে বিভিন্ন পর্বে যোগ করে দিচ্ছি। তবে আপনাদের সব নতুন করে রিভিশন দেয়ার দরকার নাই। আমি ওগুলো চলতি পোস্টের মাঝে দিয়ে দিলাম।
.
[[খ.]]
দ্বিতীয়ত, যদিওবা প্রতি পর্বের শুরুতে লিখেছি “অনুলিখনঃ আব্দু………দ” কিন্তু আক্ষরিক অর্থে এগুলোকে অনুলিখন না বলে সারাংশ লিখন বলা মুনাসিব ছিল। সত্যি বলতে মুফতি জুনাইদ সাহেবের ৪টা বয়ানের বাছাইকৃত কিছু পয়েন্ট আপনাদের জন্য অনুবাদ হয়েছে এই ৫ পর্বের লেখাতে।
.
[[গ.]]
বাদ যাওয়া পয়েন্ট-
১। আপনি কয়েকবার মনোযোগ দিয়ে শোনার পরেও যদি কোনোই ইফেক্ট না বুঝতে পারেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ্‌ আপনার কোনো সমস্যা নাই। আপনার যদি আসলেই কোনো প্রবলেম থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি কিছুনা কিছু টের পাবেন। [৫/চ. পয়েন্টে যোগ হবে]
.
২। প্রচুর বমি হওয়া এবং জিন চলে আসার কথা শুনে অনেকে রুকয়া শোনার সাহস করতে পারছেন না। আসলে ওটা হচ্ছে মোস্ট এক্সট্রিম সিচুয়েশন। আমি বলেছি শুধু এজন্যই যে, “কখনো কখনো এরকম হয় সেটা আপনার জেনে রাখা উচিৎ” ব্যাস এতটুকুই…। [৫/ঙ পয়েন্টে যোগ হবে]
.
৩। আর কিছু উপলক্ষণ বলা উচিত ছিলো…
//রুকয়া শুনতে লাগলে শরীর প্রচুর ঘামা, প্রচুর প্রসাব হওয়া, ডায়েরিয়া হতে পারে…
তবে এরপরেও শুনতে থাকতে হবে, সমাধান হলে এসব ভালো হয়ে যাবে, দুশ্চিন্তার কারণ নাই… [৫/ছ. পয়েন্টে যোগ হবে]
.
৪।
//সিরিয়াস সমস্যা থাকলে যত শুনবেন তত কষ্ট বাড়বে, এক পর্যায়ে ভালো হয়ে যাবে।
.
//সময় কম..?? বিস্তারিত পড়ুন

ইসলামী ইস্কেটোলজি ইউটিউব লিঙ্ক

১। সংক্ষেপে ইসলামী এস্কাটোলজিঃ
https://m.youtube.com/watch
২। ইসলামী এস্কাটোলজির সূচনাঃ
https://m.youtube.com/watch
৩। ইতিহাসের সমাপ্তিঃ
https://m.youtube.com/watch
৪। দাজ্জালের শুরু থেকে শেষঃ
https://m.youtube.com/watch
৫। ইয়াজুজ মাজুজঃ
https://m.youtube.com/watch
৬। ইমাম মাহদীঃ
https://m.youtube.com/watch
৭। খিজির (আ):
https://m.youtube.com/watch
৮। রাশিয়া, জুলকারনাইনঃ
https://m.youtube.com/watch
৯। রিফিউজিঃ
https://m.youtube.com/watch
১০। নিউক্লিয়ার বিশ্বযুদ্ধ ও কোরানঃ
https://m.youtube.com/watch
১১। মুসলিম তরুণদের করণীয়ঃ
https://m.youtube.com/watch

রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কি শিক্ষা দিয়েছেন?

 

“তিনিই উম্মী (নিরক্ষর) -দের মধ্য থেকে তাদের মাঝে একজনকে রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তিলাওয়াত করেন তার আয়াতসমূহ, তাদের পবিত্র করেন, এবং কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন, ইতোপূর্বে তারা ঘোর বিভ্রান্তিতে ছিল।” [সূরা জুমু’য়া, আয়াত ২]

“তিনিই উম্মী (নিরক্ষর) -দের মধ্য থেকে তাদের মাঝে একজনকে রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তিলাওয়াত করেন তার আয়াতসমূহ, তাদের পবিত্র করেন, এবং কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন, ইতোপূর্বে তারা ঘোর বিভ্রান্তিতে ছিল।” [সূরা জুমু’য়া, আয়াত ২]

এই চারটি জিনিসের মধ্যে সব কিছু আছে। একটার সাথে আরেকটা সম্পর্কিত।

হেকমত ছাড়া এলেম অর্থহীন, এলেম ছাড়া পবিত্রতা অর্থহীন, পবিত্রতা ছাড়া কুরআন তিলাওয়াত অর্থহীন। যেমন, কুরআন তিলাওয়াত তো অনেক কাফেররাও করে, কিন্তু তাদের অন্তরের পবিত্রতা না থাকায় তা কোন কাজে আসে না। হেকমতবিহীন এলেম দ্বারা কোন জিনিসের শাব্দিক অর্থ বুঝে আসে, প্রকৃত অর্থ বুঝে আসে না।

আবার, কুরআন তিলাওয়াত না করলে অন্তরের পবিত্রতা অর্জিত হবে না, অপবিত্র অন্তরে এলেম অর্জিত হবে না, এলেম না থাকলে হেকমত আসবে না।

এখানে পবিত্রতা অর্থ তাহারাত বা শারীরিক পবিত্রতা নয়, বরং আত্মিক পবিত্রতা।
যাবতীয় বিষয়বস্তু সঠিক জ্ঞান দ্বারা জানাকে হেকমত বলে।