লাভ ম্যারেজ নয়, ম্যারেজ উইথ লাভ

সূরা নিসার ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন,

“……….. মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই।” [৪ঃ৩]

এখানে আল্লাহ্‌ পরিষ্কার বলে দিয়েছেন “যাদের ভালো লাগে” সেইসব নারীদেরকে বিয়ে করতে। আর আমাদের সমাজে “যদি কোন মেয়েকে ভালো লাগে” তাকে বিয়ে করতে কি পরিমাণ কষ্ট পোহাতে হয়, কাঠখড় পোড়াতে হয় তা বাঙ্গালী নাটক নভেলের চেয়েও বাস্তবে আরো ভালো করে বোঝা যায়।

ছেলে পড়াশোনা শেষ করে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একটা চাকরি যোগাড় করার পর বাবা-মার খেয়ালে আসে যে ছেলের বিয়ে দেয়া দরকার। শুরু হয় পাত্রী খোঁজার মহাযজ্ঞ। তারপর মা বাবার পছন্দ, বোনের পছন্দ, ভাবির পছন্দ, মামার পছন্দ, অমুকের ভাসুরের পছন্দ সবার পছন্দ শেষ করে পাত্রের পছন্দ হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়। লাজুক ছেলে তখন সলজ্জে উত্তর দেয়, ‘আপনারা মুরুব্বী মানুষ, আপনারা যা ভালো বুঝেন তাই করেন। এটি হচ্ছে টিপিকাল বাঙ্গালী ভালো ছেলে।

একবার এক মহিলা সম্ভবত তার নাম লায়লা বিনতে কায়স ইবনুল খাতিম রাসূলুল্লাহর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেদমতে হাজির হয়ে তার সাথে নিজেকে বিয়ের জন্য সরাসরি প্রস্তাব পেশ করেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নীরব থাকেন। মহিলার কথা শুনে পাশে থাকা আনাস (রাঃ) এর কন্যা বলে উঠলেন,

‘মা কানা আ’কাল্লা হা’য়াহা’
‘মেয়েটা কত নির্লজ্জই না ছিল’

আনাস (রাঃ) তাকে বললেন, ‘সে তোমার তুলনায় অনেক ভালো ছিল। সে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল এবং নিজেকে রাসূলের (সা.) নিকট বিয়ের জন্য পেশ করেছিলো।’

পরবর্তীতে এক সাহাবী তাকে বিয়ের জন্য আগ্রহী হলে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বিয়ে দিয়ে দেন।

খানসা বিনতে খিদাম রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহার স্বামী উহুদ যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণ করলে তার বাবা তাকে এক ব্যাক্তির নিকট বিয়ে দিয়ে দেন। তখন হযরত খানসা (রা.) রাসুল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন,

‘আমার পিতা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন; অথচ আমি আমার সন্তানের চাচাকেই অধিক পছন্দ করি’।

তার কথাগুলো লক্ষ্য করুন। তার বিয়ে হয়ে যাবার পর তিনি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে জানান, তার স্বামী হিসেবে তার সন্তানের চাচাকেই তিনি বেশী পছন্দ করবেন। এরপর যা ঘটলো তা হল, আল্লাহর রাসূল (সা.) তার বিয়ে ভেঙ্গে দিলেন।

এ ধরণের আরেকটি ঘটনা পাওয়া যায় মুগীরা ইবন শুবা রাযিয়াল্লাহু য়ানহুর ক্ষেত্রে। উসমান ইবন মাযউন রাযিয়াল্লাহু য়ানহুর মৃত্যুর পর তার কন্যাকে তার চাচা কুদামাহ বিয়ে দিয়ে দেন ইবন উমারের রাযিয়াল্লাহু য়ানহুর সাথে। কিন্তু ইবন উমার (রা.) প্রথম সারির একজন সাহাবী হওয়া সত্ত্বেও মেয়েটি এ বিয়েতে রাজি ছিলনা কারণ সে মুগীরা ইবন শুবাকে (রা.) পছন্দ করতো এবং সে চেয়েছিল যেন মুগীরা ইবন শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু)তাকে বিয়ে করেন। অবশেষে তার চাচা এ বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে মুগীরার (রা.) সাথে তার বিয়ে দেন।

।।

ইসলাম মানব মনের কি চমৎকার মূল্যায়নই না করেছে। সুবহানআল্লাহ। কোন নাটক নেভেলে পাওয়া যাবে এরকম একটি ঘটনা?

রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরামর্শ হলো,

“তুমি আগে গিয়ে তাকে দেখে নাও কেননা এটি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতিতে সহায়ক হবে।” [ইবনে মাজা]

আপনি কোন মুসলিমাহর প্রতি আকৃষ্ট হবেন এটাই স্বাভাবিক, কেননা এটা আপনার ফিতরাত। সূরা আর-রূমে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা বলছেন,

“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে যে তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন যুগলদের, যেন তোমরা তাদের মধ্যে স্বস্তি পেতে পার, আর তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেম ও করুণা সৃষ্টি করেছেন। (৩০:২১)

কোন মুসলিমাহ বোনের দ্বীনদারী, চরিত্র আপনার ভালো লাগতেই পারে। তবে এ ভালোবাসার একটা সীমারেখা রয়েছে। যদি তাকে পেতে চান, তাহলে চিরদিনের জন্য তাকে আপন করে নিন; দুই মাস বা দুই বছরের জন্য নয়। কাউকে পছন্দ করলে ইসলামের মূলনীতিটা হল,

‘ইঝা আতাকুম মান তারদাওনা দীনাহু ওয়া আক’লাহু ফাংকিহু’হু ’ (তিরমিযী)

‘তোমরা যখন বিয়ের জন্য এমন ছেলে বা মেয়ে পেয়ে যাবে যার দ্বীনদারী চরিত্র ও জ্ঞান-বুদ্ধিকে তোমরা পছন্দ করবে, তো তখনই তার সাথে বিয়ের সম্বন্ধ স্থাপন করো।

আবার অভিভাবকদেরকে বলা হচ্ছে,

“যদি এমন কেউ তোমার কাছে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসে – যার চরিত্র এবং তাকওয়া সন্তোষজনক, তাহলে তার কাছে (তোমার মেয়েকে) বিয়ে দাও। যদি এমনটি না কর, তাহলে পৃথিবীতে মারাত্মকরকম ফেতনা ও বিপর্যয় দেখা দিবে।” [তিরমিযি]

এটাই অবৈধ সম্পর্কের সাথে এর মাঝে পর্দা টেনে দিয়েছে। আপনি কাউকে পছন্দ করতে পারবেন কিন্তু তার সাথে কোনরূপ সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না। বিয়ের প্রস্তাব সংক্রান্ত হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। কোন নারীকে পছন্দ হলে তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে হবে তার অভিভাবকদের মাধ্যমে। এরপর তার মতামতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।

খুব ভালো নয় বিষয়টা? কত সম্মানজনক। মানব হৃদয়ের কত নিকটবর্তী।

সংগৃহীত ও সংক্ষেপিত। jasthasan.net

সেই নারী এই নারী

আমাদের ঠিক আগের জেনারেশনে সাধারণত নারীদের প্রতি বৈষম্য করা হতো। সে সময় মেয়েদের ঠকানো হতো। ইসলাম নারীদের যে সম্পত্তির অধিকার দিয়েছে তা থেকে বঞ্চিত করা হতো। ভাইরা পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারার সময় বোনদের ঠকাতো। মেয়েরা এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিত। মনে করত, ভাইদের বাসায় আসব খাব বেড়াব। সম্পত্তি নিব কেন? জামাইরাও কিছু বলত না।

এখন সময় গিয়েছে উল্টে। যে মহিলা তার পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার ছেড়ে দিয়ে এসেছে সে মহিলাটাই আজকে নারী পুরুষের সম অধিকারের কথা বলে নিজ ছেলেকে বঞ্চিত করছে। আজকাল মা ও মেয়ে একজোট। দেখা যাচ্ছে মেয়েকে শুধু দিচ্ছেই দিচ্ছেই। মৃত্যুর আগেই সম্পত্তি বিভিন্নভাবে মেয়েদের নামে করে দিচ্ছে। পক্ষান্তরে ছেলে, ছেলের বৌ, ছেলের ঘরের নাতি হয়ে গেছে পর।

আপনাদের কি মত? আমার মনে হয়, সাধারণত এরকমই হচ্ছে।

ঘরে থেকো

হোলীর ঘটনার পর এখনও কি মুসলিমা নারীদের ঘরে থাকার সময় আসেনি? না কি এখনও অফিস আদালত ক্যারিয়ার নিয়ে দাপিয়ে বেড়ানোর সময় আছে। যদি আপনি ঘরে থাকলেন তবে আপনি সূরা কাহাফের সেই যুবকদের অনুসরণ করলেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা তখন আপনার প্রতি রহমত বিস্তার করবেন যেভাবে সূরা কাহাফের যুবকদের উপর করেছিলেন। শেষ যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এটাই কুরআন বর্ণিত আত্মরক্ষার পদ্ধতি। Run away whenever you smell Fitnah.

নারীর মর্যাদা

১.
মসনদে বসে আছেন আব্বাসি খলীফা মু’তাসিম বিল্লাহ। পানি পান করার জন্যে গ্লাস হাতে নিয়েছেন। সেই মুহুর্তে একজন ছুটে এল দরবারে.. হে আমীরুল মুমিনীন..! সীমান্তে রোমানরা আক্রমণ করেছে। ঘটনা মন দিয়ে শুনছিলেন খলীফা…. বর্ণনার একপর্যায়ে লোকটি বলল- আমি দুর থেকে শুনেছি হাশেমি এক বন্দী নারী আর্তনাদ করে বলছিল, ‘খলীফা মুতাসিম বিল্লাহ..! তুমি কোথায়..?’ এটা শুনেই খলীফা পানির গ্লাস ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন: ‘লাব্বাইক’ [আমি হাজির]। নিজেই দ্রুতগতিতে ছুটলেন সীমান্তের দিকে। কাউকে বলতে হলনা, পেছনে ছুটল হাজার হাজার সৈন্য। কিন্তু ততক্ষণে বন্দীদের নিয়ে রোমানরা তাদের দূর্গে পৌঁছে গেছে। একমুহুর্তও থামলেন না খলীফা, একই গতিতে সীমানা পেরিয়ে সরাসরি হামলা করে বসলেন রোমানদের। তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ ‘আমুরিয়া’ দখল করে সকল বন্দীদের উদ্ধার করে নিজ এলাকায় ফিরে এলেন। . .

২.
গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে দেবল [বর্তমান করাচী] থেকে একটি চিঠি এসেছে। দেবলের রাজা দাহির মুসলিম বণিক কাফেলাকে আটক করেছে। সেখান থেকে এক বন্দী মেয়ে চিঠিটি পাঠিয়েছে। মেয়েটি লিখেছেঃ ‘মুসলমানদের তলোয়ার যদি ভোতা না হয়, তারা যেন আমাদের ডাকে সাড়া দেয়..!’ অসহায় মেয়েটির চিঠি পড়েই দাড়িয়ে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। নিজের জামাতা ও ভাইয়ের ছেলে মুহাম্মদ বিন কাসিমকে বললেন, যত দ্রুত সম্ভব সিন্ধু জয় করতে..! . .

৩.
স্পেনের জালিম সম্রাট রডরিক তার আঞ্চলিক গভর্ণর কাউন্ট জুলিয়ানের মেয়ে ফ্লোরিডার সম্ভ্রমহানি করেছে..! কন্যার এমন অপমান সহ্য করা যেকোন পিতার পক্ষেই কঠিন। তিনি জানতেন ন্যায়বিচারক হিসেবে খ্যাত একজনই আছেন। আফ্রিকার গভর্ণর মুসা বিন নুসাইর। কোন উপায় না পেয়ে তিনি মুসার কাছেই যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন। জুলিয়ান এসেছেন মুসার কাছে। এক অসহায় পিতার মুখে কন্যার নির্মমতার কথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন মুসা। জুলিয়ানের কথা শেষ হবার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। নিজের বিশ্বস্ত সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদকে জরুরী তলব করে বললেন, চরিত্রহীন রডরিককে হটিয়ে সমগ্র স্পেন জয় করতে। জুলিয়ান অবাক হয়ে দেখলেন, সেদিনই স্পেন দখলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল তারিকের বিশাল বাহিনী..! .

৪.
স্পেনের শাসক মনসুর আল-হাজিবের চোখে ঘুম নেই। তিনি খবর পেয়েছেন, তার সীমান্তের বাইরে একটি গীর্জায় এক মুসলিম নারী বন্দি অবস্থায় আছে..! সীমানার ওপারে বলে তিনি চিন্তিত। শেষে একটি মেয়ের জন্যই যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন। সমস্ত শক্তি নিয়ে হঠাৎ আক্রমণ করে বসলেন…! . .

৫.
সম্প্রতি অন্ধকার জগত থেকে আলোর পথে ফিরে এসেছেন এক সময়ের আলোচিত চলচিত্র অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপি।

জান্নাতের প্রত্যশায় তিনি এখন তার জীবনকে সাজিয়ে নিয়েছেন নামাজ, রোজা, তাজবিহ তাহলিল ও দাওয়াতে তাবলীগের মাধ্যমে।

২০১৪ সালে তার অভিনয় করা একটি সিনেমা আগামী সপ্তাহে রিলিজ হতে যাচ্ছে। এই নিয়ে বেশ চিন্তিত সাবেক এই অভিনেত্রী।

তিনি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের নিকট সিনেমাটি বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং আলেম উলামাদের তার পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।

নাজনীন আক্তার হ্যাপি’র স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

।।

“শুনলাম আমার পূর্বের করা একটি সিনেমা নাকি আগামী সপ্তাহে রিলিজ হতে যাচ্ছে। যতদূর মনে পড়ে সেটার শ্যুটিং হয়েছিল ২০১৪ সালে।

আমার এত পরিমাণ টাকা বা ক্ষমতা নেই এই সিনেমা রিলিজ হওয়া বন্ধ করে দেওয়ার। যদি কারো ক্ষমতা থাকে এই সিনেমাটি বন্ধ করার, তাহলে আল্লাহর জন্যই বন্ধ করে দিন।এর বিনিময়ে অবশ্যই আল্লাহ উত্তম কিছু দিবেন ইনশাআল্লাহ!

এই সিনেমাটি যাদের হাতে,তাদের আমি রিকোয়েস্ট করলেও তারা শুনবে না ব্যবসার জন্য। তবুও করছি, প্লিজ আল্লাহর জন্য এটা বন্ধ করুন। আমাকে সিনেমার মাধ্যমে দেখানোর সুযোগ করে দিবেন না।

হয়তো এই কথাটা তাদের গায়েও লাগবে না।।কিন্তু আল্লাহর সামনে বলতে তো পারবো যে, আমার যতটুকু করার বা বলার ছিল সেটা করেছি। জানিনা তখন আল্লাহ আমার জন্য কি ফায়সালা করবেন!

আমি আলেম-ওলামাদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। আমি তো আপনাদেরই এক বোন। আগে না বুঝে গুনাহর সাগরে হাবুডুবু খেয়েছি। যখন আল্লাহ বোঝালেন, ফিরে এসেছি। একটা সিনেমা বন্ধ করা অসম্ভব কিছুও না।সবাই যদি আল্লাহর জন্য আওয়াজ তোলেন, এটা বন্ধ করা খুব কঠিন কিছু হবে না। আল্লাহর কসম,কলিজা ফেটে যাচ্ছে। আল্লাহর জন্য, শুধু দ্বীনের স্বার্থে এই সিনেমা বন্ধ করার ব্যবস্থা করুন। বাংলাদেশের আলেমরা এবং সবাই যদি এটা নিয়ে শক্ত অবস্থান নেন, তাহলে এই সিনেমাটা বন্ধ করা কোনো ব্যাপারই হবে না ইনশাআল্লাহ। শুধু একটু এগিয়ে আসা দরকার…..”

– নাজনীন আক্তার হ্যাপী (আমাতুল্লাহ)

(সংগৃহীত)

সিজার

নারীদের জন্য নারীদের নারীসুলভ সামান্য সিমপ্যাথি বা দরদ নেই তা গাইনি ডাক্তারদের দেখে বুঝা যায়। নারীরা তাদের কাছে একটা দামী পণ্য ছাড়া কিছুই নয়। আজকে কয়টা সিজার হল এই হিসাবের বাইরে তাদের তেমন কিছু জানা নেই। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ট্রাম্প, সিরিয়া এইসব নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহর একটা বইয়ে আবু হুরাইরা রাযি বর্ণিত একটা হাদিস নিয়ে আসা হয়েছে যেটাতে বলা হয়েছে, সিজার অপারেশন কিয়ামতের একটি নিদর্শন। নারীদের ধরে ধরে পেট ফেড়ে বাচ্চা বের করা হবে।

সেম উমর একটি চমকপ্রদ তথ্য প্রদান করেছেন। বর্তমানের মিনারেল ওয়াটারে এমন সব জিনিস মেশানো হয় যার জন্য বাচ্চা বেশী বড় হয়। মিনারেল ওয়াটার ও ফাস্টফুডের কারণে সিজার আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর এই মিনারেলগুলো মেশানোও বাধ্যতামূলক।

হাল আমলে জনপ্রিয় করে তোলা ফাস্টফুডের প্রভাবেও একদিকে প্রজনন ক্ষমতা তো কমে, কিন্তু স্বাস্থ্য মোটা হয়ে যায়। ফাস্টফুড, মিনারেল ওয়াটারের ফলে ডায়াবেটিস হয় যা বড় বাচ্চার জন্ম দেয়, ফলে ইন্সট্রুমেন্টাল ডেলিভারির চান্স বাড়ে। আর এদিকে বিভিন্ন এনজিও হাসপাতালগুলো সিজার করার সব রকম বন্দোবস্ত করে রাখে। এবং সিজার অপারেশনের মাইন্ড সেটিংয়ের জন্য নানা ধরনের চার্ট, ছবি ইত্যাদি ব্যবহার করে।

মূল কথা হচ্ছে দাজ্জালী সভ্যতার অকল্যাণে মানব জাতির ধ্বংস।

এই গল্প বাংলাদেশের নয়, চাঁদের দেশের। কাজেই আশা করি কোন ডাক্তার নারী চাঁদের দেশের বিষয় নিয়ে চন্দ্রাহত হবেন না।

বিয়ে-শাদী এবং আখেরী জামানাহ

muslim-family

আমি ধীরে ধীরে কথা বলিব, আশা করি ইনশাআল্লাহ আপনারা বুঝিতে পারিবেন (যেহেতু আপনাদের অধিকাংশেরই মাতৃভাষা ইংরেজি নয়)। আমাদের আলোচনার বিষয় বিবাহ এবং আখেরী জামানা । আখেরী জামানা বা শেষ যুগ কি ? আখেরী জামানা হইল নবী পাক (সাঃ) বলিয়াছেন, যখন আমরা বিরাট বিরাট ফিতনাহ অর্থাৎ বিপদ-মুসিবত-পরীক্ষার সম্মুখীন হইব, যেমনটা হযরত আদম (আঃ) এর সময় হইতে কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতি কখনও হয় নাই । আপনি জানিবেন আপনি আখেরী জামানায় আছেন যখন দেখিবেন নারীরা কাপড় পরিধান করে তথাপি তাহাদেরকে নগ্ন মনে হয় । আপনি জানিবেন আপনি আখেরী জামানায় আছেন যখন দেখিবেন নারীরা কাপড় পরিধান করে পুরুষদের মতো এবং পুরুষরা কাপড় পরিধান করে নারীদের ন্যায় । আপনি জানিবেন আপনি আখেরী জামানায় আছেন যখন দেখিবেন জিনা ব্যভিচারের ব্যাপক বৃদ্ধি, অধিকাংশ শিশু হইবে ব্যভিচারের সন্তান হারামজাদা । আপনি জানিবেন যে দাজ্জালের সকল কর্মকান্ড হইবে আখেরী জামানায় । আপনি জানিবেন আপনি শেষ জামানায় আছেন যখন দেখিবেন সুদ লেনদেন সকল স্থানে ছড়াইয়া পড়িয়াছে । আপনি সমগ্র মানবজাতির মধ্যেও একজন মানুষও পাইবেন না যে সুদ খায় না অথবা সুদ দেয় না । ইহাই হইল আখেরী জামানা শেষ যুগ । কাজেই আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় একটিই আর তাহা হইল আখেরী জামানায় বিবাহ ।

আমাদের আলোচনা শুরু করিব ইসরাহ বা মেরাজ নিয়া, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে মহাশূণ্যে উঠাইয়া নেওয়া হইয়াছিল, মহাকাশে জান্নাতে নয় । সেখানে নবী-রাসুল এবং ফেরেশতাগণ তাহাকে স্বাগত জানাইয়াছিলেন । সকলেই ছিলেন আনন্দিত মুখে ছিল হাসি । কিন্তু একজন ফেরেশতার মুখে কোন হাসি ছিল না । হযরত জিবরাঈল (আঃ) বলিলেন, তিনি হইতেছেন মালিক, জাহান্নামের রক্ষনাবেক্ষণকারী ফেরেশতা । এমনকি আপনার শুভাগমনেও তাহার মুখে হাসি নাই । কারণ জাহান্নাম কোন ভালো জায়গা হয় । সুতরাং মহানবী (সাঃ) জিবরাঈলকে জাহান্নামের ভিতরে তাকানোর জন্য তাহার অনুমতি নিতে বলিলেন । তারপর নবী করীম (সাঃ) জাহান্নামের ভিতরে তাকাইয়া দেখিলেন । তিনি অনেকগুলি বিষয় দেখিলেন যাহাদের অবস্থান হইল আখেরী জামানায় । তিনি কিছু মানুষকে দেখিলেন যাহাদের পেট বিরাট বড় । তাহাদের পেটের ভিতরে ছিল বড় বড় সাপ, সত্যি ভয়াবহ দৃশ্য । তাহাদের পেট ছিল স্বচ্ছ বাইরে থেকে সব দেখা যায় । রাসুলে পাক (সাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, ভাই জিবরাঈল, এই লোকগুলি কাহারা ? জিবরাঈল (আঃ) বলিলেন, তাহারা হইল ঐ সকল লোক দুনিয়াতে যাহারা সুদ খাইত । সুতরাং সুদ হইল আখেরী জামানার সবচাইতে বড় আলামত । বিশ্বনবী (সাঃ) বলিয়াছেন, সুদ দারিদ্র অভাব-অনটন সৃষ্টি করে । সুদের হার কম-বেশী হইলে সময় কম-বেশী লাগিতে পারে, কিন্তু দারিদ্র ‍নিঃস্বতা সৃষ্টি হইবেই । তারপর মহানবী (সাঃ) দেখিলেন আরেক ব্যক্তিকে যে একটি টেবিলে বসিয়া আহার করিতেছিল । তাহার সামনে ছিল খাবারের দুইটি বাসন । একটি থালায় ছিল কাচ্চি বিরিয়ানী সুস্বাদু তাজা রুটি । অন্য প্লেটে ছিল ভয়াবহ দুর্গন্ধযুক্ত পঁচা মাংস ভয়াবহ জঘন্য ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার যোগ্য । কিন্তু সেই লোকটি ভালো খাবারগুলির পরিবর্তে পচাঁ নোংরা খাবারগুলো খাইতেছিল । নবীজি (সাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, এই লোকটি কে ? হযরত জীবরাইল (আঃ) বলিলেন, এই ব্যক্তি হইল যাহাকে আল্লাহ স্ত্রী দিয়াছিল যাহা ছিল তাহার জন্য হালাল । কিন্তু সে তাহার স্ত্রীকে রাখিয়া অন্য নারীদের সাথে মেলামেশা করিত যাহারা ছিল তাহার জন্য হারাম । আর জাহান্নামে ইহাই হইল তাদের শাস্তি । আজ রাতে আমি আরেকটি বিষয় উল্লেখ করিতে চাই যাহা নিয়ে আমি অনেক অনুসন্ধান করিয়াছি । যাহার কোন সমাধান আমি খুঁজিয়া পাই নাই আমার সারাজীবনের চিন্তাগবেষনার পরেও আল্লাহর মেহেরবাণীতে যতক্ষন না আমি আখেরী জামানাবিদ্যা অধ্যয়ন করা শুরু করি । নবী করীম (সাঃ) বলিয়াছেন, “আমি জাহান্নামের ভিতরে তাকাইয়া দেখিলাম সেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী” । কিন্তু আপনি যদি ভুল পদ্ধতি অনুসরন করেন তবে এই উপসংহারে পৌছিঁবেন যে, মানব ইতিহাসের সকল যুগের নারীরাই বিপুল সংখ্যায় জাহান্নামে যাইবে । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সমগ্র মানবইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কিন্তু ইহা ভুল । বরং কেবলমাত্র আখেরী জামানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । ইসরাহ মেরাজে দেখা সকল কিছু আখেরী জামানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । সুতরাং আখেরী জামানায় নারীজগতে এমন কিছু ঘটিবে যাহার ফলস্রুতিতে অধিকাংশ নারীরাই পথভ্রষ্ট হইয়া জাহান্নামে যাইবে । আর ইহাই আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু – বিবাহ এবং শেষ যুগ ।

আখেরী জামানার অধিকাংশ মহিলার শেষ আবাসস্থল কেন জাহান্নাম ইহার উত্তর জানিবার জন্য আজকের মজলিশে উপস্থিত ভাইদের চাইতে আমাদের বোনেরা বেশী আগ্রহী হইবেন যাহাতে তাহারা জাহান্নাম থেকে নিজেদের রক্ষা করিতে পারেন । ইহার উত্তর নির্ভর করে আখেরী জামানার মূলনায়ক মাসীহ দাজ্জালের উপর । সে সারা দুনিয়া শাসন করিতে চায় । সে যখন সারা দুনিয়ার দখল করিতে সক্ষম হইবে তখন ঘোষণা করিবে “আমি সেই প্রতিশ্রুত মাসিহ” । কিন্তু সে মাসীহ নয়, মাসীহ হইলেন হযরত ঈসা ইবনে মারিয়াম (আঃ) অর্থথাৎ জেসাস । এই ব্যক্তি সত্যিকারের মাসীহের চরিত্রে ছদ্মবেশী অভিনেতা হইতে চায় এবং এভাবে ইহুদীদের সাথে প্রতারনা করিয়া বোকা বানাইতে চায় । এভাবে দাজ্জাল যাহা করিতে চায় তাহা হইল ইহুদীদের ভুল পথে পরিচালিত করা যাহাতে তাহারা তাহাকে ম্যাসাইয়া হিসাবে মানিয়া নেয় । ইহার বাহিরেও দাজ্জালকে আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে পরীক্ষার মাধ্যম বানিয়েছেন । মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, “দাজ্জালের সহযোগী হিসাবে সর্বশেষ যেই দলের আবির্ভাব হইবে তাহারা হইল নারী এবং ঈমানদার ব্যক্তি তাহার ঘরে আসিয়া রশি দিয়া তাহার স্ত্রী-কন্যা-বোনকে বাধিয়া রাখিবে দাজ্জালের তীব্র আকর্ষণ থেকে রক্ষা করিবার জন্য” । রশি দিয়া বাধাকে ইন্দোনেশিয়ার ভাষায় কি বলে ? আচ্ছা যাক, আগে জানিয়া পরে আমাকে বলিবেন । এই হাদীসের মানে হইল নারী জাতির উপর দাজ্জালের সাংঘাতিক পরিকল্পিত হামলা হইবে এবং এই হামলা এমন সূক্ষ্ম নিপুণ হইবে যে, সে তাহাদের মগজ ধোলাই করিয়া ফেলিবে । দাজ্জাল মহিলাদেরকে এমনভাবে ব্রেন ওয়াশ করিবে যে আপনি তাহাদেরকে যতই বুঝান না কেন আপনার কথা তাহাদের কানে ঢুকিবে না । ব্যাপারটি হইল অনেকটা দেয়ালে মাথা ঠুকিবার মতো, ঠুকিতে ঠুকিতে আপনার মাথা চুড়মার হইয়া যাইবে কিন্তু দেয়ালের কিছুই হইবে না । ইহাই হইল নারীদের মগজ ধোলাই । আর এই ব্রেন ওয়াশিংয়ের মাধ্যমে দাজ্জাল তাহাদেরকে নারী প্রগতি নারী অধিকার আন্দোলন নারী বিপ্লব ইত্যাদির দিকে নিয়া যাইবে । ফলে নারীরা তখন পুরুষদের মতো পোষাক পরিধান করিবে । মহিলারা কেন পুরুষদের স্যুট কোট জেকেট টাই ইত্যাদি পরিধান করিবে ? কারণ দাজ্জাল চায় নারীরা সমাজে পুরুষদের ভূমিকা পালন করুক । দাজ্জাল তাহাদেরকে পেশাজীবী নারী হওয়ার জন্য, কর্মজীবী নারী হওয়ার জন্য প্ররোচিত করিতে থাকে । তাছাড়া আল্লাহ তো তাহাদেরকে বিদ্যা, বুদ্ধি, যোগ্যতা দিয়াছেন । আপনার মা তো একজন নারী, আর আপনি জানেন তিনি কতো বুদ্ধিমতী । কাজেই নারীদের বুদ্ধিশুদ্ধি পুরুষদের চাইতে কম, এই জাতীয় ফালতু কথা বলার অভ্যাস ছাড়েন । সুতরাং দাজ্জাল বর্তমানে নারীদেরকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আরো ‘দায়িত্ব’ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করিবে ।

কিন্তু এজন্য তাহাকে স্ত্রী হিসাবে, মা হিসাবে তাহার ভূমিকা অনেকটা কমাইয়া দিতে হইবে । প্রথম কথা হইল আপনি একজন কর্মজীবী নারী হইয়া একই সাথে যশোরে আপনার দাদী যাহা করিতেন তাহা করিতে সক্ষম হইবেন না । তাহার ছিল বারটি সন্তান, সোবহানাল্লাহ । কিন্তু আপনার মতো একজন পেশাজীবী নারীর পক্ষে তো বারটি সন্তান লালন-পালন করা সম্ভব নয়, বিরাট ঝামেলার ব্যাপার । কাজেই আল্লাহ কোরআনে বলেন, আল্লাহ আপনাদের জন্য যতটি সন্তান ভালো মনে নির্ধারন করিয়া রাখিয়াছেন তাহার বদলে এখন আপনারা নিজেরাই নিজেদের জন্য যতটি ভালো মনে করিয়াছেন নিয়াছেন । সুতরাং আপনাদের কতটি সন্তান থাকা উত্তম হইবে তাহা আল্লাহ নির্ধারন করিবেন, তাহাই আল্লাহ কোরআনে বলিয়াছেন । “তোমরা স্ত্রীদের নিকট গমন করো এবং কামনা করো আল্লাহ যাহা (সন্তান) তোমাদের জন্য লিখিয়া রাখিয়াছেন । আল কোরআন।” কিন্তু এখন দাজ্জালের যুগে একটি নতুন বিষয় চালূ হইয়াছে যাহাকে বলা হয় “দ্বায়িত্বশীল পিতামাতা” । কাজেই এখন আপনিই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেছেন । আপনি এবং আপনার স্বামী মিলিয়া সিদ্ধান্ত নিতেছেন কতটি সন্তান নিবেন এবং মাঝখানে কত বছর বিরতি রাখিবেন । আর যখনই আপনি বিরতি দিলেন, কারণ আমি একজন কর্মজীবি নারী, তখনই আপনি শিরক করিলেন । খেয়াল করিবেন “শিরক্” শব্দটি উচ্চারণ করিলাম, কেননা আল্লাহ এভাবেই শব্দটি ব্যবহার করিয়াছেন । আপনি যদি অন্যভাবে ইহা উচ্চারণ করেন তবে আপনি কোরআনকে অপমান করিলেন, মনে রাখিবেন । সংসারের বদলে দাজ্জাল তাহাকে অফিসে পাঠাইয়া দিয়াছে, ফলস্রুতিতে তিনি হইয়া গিয়াছেন খন্ডকালীন স্ত্রী এবং খন্ডকালীন মা । অফিসে তাহার চারপাশে থাকে অসংখ্য পুরুষ আর তিনি একজন সুন্দরী মহিলা । ফলাফল হিসাবে কি ঘটিয়া থাকে আপনারা জানেন, বেশীরভাগ দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙ্গিয়া যাইতেছে । কাজেই নারীমুক্তি আন্দোলনের কারণে সমাজে তালাকের সংখ্যা বাড়িয়া গিয়াছে, বিবাহ বন্ধন ভাঙ্গিয়া যাইতেছে । এই ধরনের ঘটনা কি মালয়েশিয়াতেও ঘটিতেছে ? দাজ্জাল এভাবে মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে তাহাকে ঘরের বদলে বাইরে দ্বায়িত্ব পালনের দিকে নিয়া যাইতেছে । হযরত খাদিজা (রাঃ)ও একজন ব্যবসায়ী নারী ছিলেন, এই জাতীয় ফালতু কথা আমাকে বলিতে আসিবেন না । আমি তাহা জানি, আপনাকে বলিতে হইবে না । আমরা অন্য বিষয়ে আলোচনা করিতেছি । দাজ্জাল কেবল নারী বিপ্লব সাধন করিতে চায় না ; সাথে সাথে যৌন বিপ্লবও সফল করিতে চায় । কাজেই যখন নারীরা এমনভাবে পোষাক পরিধান করে যাহাতে তাহাদেরকে নগ্নই মনে হয়, তাহা পুরুষদেরকে সুড়সুড়ি দিতে থাকে বিশেষতঃ যুবকদেরকে । ফলে সত্যিকারের ভালবাসা কমিয়া যায় এবং তাহার বদলে বৃদ্ধি পায় যাহাকে বলা হয় “লালসা” । আর ইহাও আরেকটি কারণ যাহাতে বিবাহ-বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাইতেছে । কাজেই আখেরী জামানায় এই দাজ্জালের যুগের একটি লক্ষণ হইল আপনি দেখিতে পাইবেন বিবাহ বন্ধন ভাঙ্গিয়া যাইতেছে, বিবাহ-বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাইতেছে ।

একজন নারী প্রথম বিবাহ করিলেন তাহা ভাঙ্গিয়া গেলো, তারপর তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করিলেন তাহাও বিচ্ছেদ হইয়া গেলো ; তারপর তিনি বলিলেন “নাহ, আর বিবাহ করিব না” । সুতরাং বিবাহ-বিচ্ছেদ যখন বৃদ্ধি পাইতে থাকিবে, মনোযোগ দিয়া শুনন, নারীদের একটি বিরাট সংখ্যা তখন নিঃসঙ্গ হইয়া যাইবে, পরিবারহীন । আমি ইতিমধ্যে দুইবার বিবাহ করিয়াছি, কাজেই আর নয় বিয়ে যতক্ষন না সত্যি সত্যি সকল পুরুষদের মধ্যে সেরা পুরুষের সন্ধ্যান না পাইতেছি । এসব আবর্জনা টাইপের পুরুষদের সাথে আর জীবন কাটাইব না । এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হইলে মানবজাতিকে তাহার কি মাশুল দিতে হইবে যখন অগণিত নারীরা বিবাহ-বহির্ভূত থাকিবে ? যাহারা বিবাহ করিতে ইচ্ছুক কিন্তু উপযুক্ত স্বামী পাইবে না । এখানেই আমাদের বক্তৃতা বিস্ময়কর মোড় নিতে যাইতেছে । আমি এখন পবিত্র কোরআনের সুরা নিছার প্রতি দৃষ্টি দিতে চাই যেখানে আল্লাহ সর্বপ্রথম বহুবিবাহের কথা বলিয়াছেন । বদর যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছে এবং আমাদের কিছু সংখ্যক পুরুষ তাহাতে শহীদ হইয়াছেন, ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছে এবং তাহাতে আমাদের বিরাট সংখ্যক পুরুষ শহীদ হইয়াছেন । ফলে বিরাট সংখ্যক নারী বিধবা হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য মেয়েরা ইয়াতীম হইয়া গেলেন । সুতরাং আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা নির্দেশ পাঠিয়ে দিলেন, “তোমরা যদি আশংকা কর যে জাতি হিসাবে ইয়াতীম নারীদের প্রতি দ্বায়িত্ব পালন করিতে পারিবে না তবে তাহাদের মধ্য হইতে দুই, তিন অথবা চার জনকে বিবাহ করিয়া নাও” । আল্লাহ এখানে সেই সব ইয়াতীম বালিকাদের কথা বলিতেছেন যাহারা বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ নারীতে পরিণত হইয়াছে । যাহাদের মাসিক ঋতুস্রাব শুরু হইয়া গিয়াছে । বর্তমানে সে গর্ভধারনের, মাতৃত্বে অধিষ্টিত হইবার যোগ্যতা অর্জন করিয়াছে । কাজেই আল্লাহ বলিতেছেন এই অনাথ নারীদের কথা, যাহারা প্রাপ্ত বয়ষ্কা হইয়াছে, তাহাদেরকে বিবাহ কর সর্বোচ্চ চারজনকে । ইতিপূর্বে আল্লাহ যত শরীয়্যাহ (জীবনবিধান) অবতীর্ন করিয়াছিলেন তাহাতে কোন সীমা নির্ধারন করা ছিল না, একজন পুরুষ তাহার যত ইচ্ছা ততজন স্ত্রী গ্রহন করিতে পারিতেন । কিন্তু এই শারীয়াহ হইল সর্বশেষ শরীয়াহ এবং ইহাতে স্ত্রীদের সংখ্যা নির্ধারন করিয়া দেওয়া হইয়াছে সর্বোচ্চ চারটি ।

এখন ইমরান হোসেন তাহার বক্তৃতা বন্ধ করিতে চাহেন এবং কুয়ালালামপুরের এই মসজিদে উপস্থিত শ্রোতাদেরকে একটি প্রশ্ন করিতে চান । আল্লাহ তো বিধান দিয়াছেন পুরুষদেরকে চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার । পৃথিবীতে নারী-পুরুষের সংখ্যা কত হইবে তাহা তো আল্লাহ নির্ধারন করিয়া থাকেন । আল্লাহ যতক্ষন সৃষ্টি না করেন ততক্ষন পৃথিবীতে কোন শিশু জন্মগ্রহন করে না । সুতরাং পৃথিবীর জনসংখ্যা আল্লাহ নির্ধারন করেন, জাতিসংঘের সেই ক্ষমতা নাই । কাজেই দুনিয়াতে কতজন নারী আর কতজন পুরুষ সৃষ্টি হইবে তাহাও নির্ধারন করেন আল্লাহ । এই ক্ষমতা এমনকি সেই লোকেরও নাই কি যেন নাম এখন, ওহ হ্যাঁ বারাক হোসেন ওবামা । সুতরাং ইহা আল্লাহ স্থির করিয়া থাকেন পৃথিবীতে কতজন নারী আর কতজন পুরুষ সৃষ্টি হইবে । আমি এখন আপনাদেরকে জিজ্ঞাসা করিতে চাই, আল্লাহ যদি পুরুষদেরকে চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার বিধান দিয়া থাকেন তাহার ফলাফল হইল আল্লাহ পুরুষদের চাইতে নারীদেরকে অনেক অনেক বেশী সংখ্যায় সৃষ্টি করেন । কাজেই কোরআনের এই আয়াতের বাস্তবতা হইল আল্লাহকে অবশ্যই অনেক বেশী সংখ্যায় নারীদেরকে সৃষ্টি করিতে হইবে । অন্যথায় পুরুষদেরকে দুই তিন চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসিত না । দীর্ঘদিন যাবত দাজ্জাল নারীমুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে মগজ ধোলাই করিয়া আসিতেছে, নারী-পুরুষের সম্মানজনক সম্পর্ক হইল একজন পুরুষের মাত্র একজন স্ত্রী থাকিবে, ইহাই নৈতিকভাবে গ্রহনযোগ্য । দাজ্জাল যুক্তি দেখাইয়া আসিতেছে যে নীতিবান পুরুষের মাত্র একজন বিবি থাকিবে কিন্তু যাহার একাধিক স্ত্রী আছে তাহার নৈতিক মান নিম্নশ্রেণীর নিম্নমানের । ফলে এখন যাহার একজন স্ত্রী আছে সে ভালো পুরুষ আর যাহার দুই-তিন-চারজন স্ত্রী আছে তাহার মানসিকতায় কোন সমস্যা আছে । এখন আমার নিজেকে সংযত করিতে হইবে অন্যথায় আমার বেগম সাহেবা পরবর্তীতে আমার উপর রাগিয়া যাইবেন । “কেন তুমি রাগিয়া গেলে ? কেন তুমি গলার আওয়াজ উচুঁ করিলে ?” কারণ আমি একজন আদম সন্তান, আমি খুবই হতাশ হইয়া পড়িয়াছি, আমার হৃদয়টি তো কাঠের তৈরী নয় । তো দাজ্জাল এইভাবে মানবজাতিকে ব্রেনওয়াশিং (গাড়ি নাম্বার ৮৩৮০ আপনার স্ত্রী গাড়িতে অপেক্ষা করিতেছেন, আপনি দ্রুত যোগাযোগ করুন অন্যথায় তিনি গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে যাবেন । সারা দুনিয়াবাসী আপনাদের কথা এখন শুনে গেলো….হা-হা-হা-) এর মাধ্যমে বিশ্বাস করাইয়াছে যে এক পুরুষের এক স্ত্রী হইল গ্রহনযোগ্য আদর্শ । ফলে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এখন একটির বেশী বিবাহ করা আইনতঃ নিষিদ্ধ । দুইজন স্ত্রী থাকিতে পারিবেন না কিন্তু মনিকা লিউনষ্কি থাকিতে পারিবে যত ইচ্ছা ।

মালয়েশিয়ার জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ, মালয়েশিয়াতে এখনও সুলতান আছেন । যেহেতু সুলতানের একাধিক স্ত্রী আছে কাজেই আপনারাও স্ত্রী রাখিতে পারিবেন । মালয়েশিয়াতে একাধিক বিবাহ নিষিদ্ধ হইবে না, আইনতঃ আপনারা এখনও চারটি বিবাহ করিতে পারেন । আলহামদুলিল্লাহ , মালয়েশিয়ার জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ । অবশ্য আমি জানি না কতজন মালয়েশিয়ান পুরুষের চারজন স্ত্রী আছে, আমি কথা বলিতেছি বাকী দুনিয়ার কথা । এখন আমার প্রশ্ন হইল আল্লাহ যদি পুরুষদের চাইতে অনেক বেশী সংখ্যায় নারীদেরকে সৃষ্টি করিয়া থাকেন, কারণ পুরুষদেরকে তিনি চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার অনুমতি দিয়াছেন, তারপর তুমি আসিয়াছো বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করিয়া তোমার নতুন আইন নিয়া, পৃথিবীর অধিকাংশ পুরুষই এখন একটি বিবাহ করে, তাহার ফলাফলটি কি হইবে তাহা কি ভাবিয়া দেখিয়াছো ? তুমি কি ভাবিয়া দেখিয়াছো তোমার নির্বুদ্ধিতা, তোমার চরম বোকামীর ফলাফলটা কি হইবে ? তুমি কোরআন নিষিদ্ধ করিয়া, ইসলাম নিষিদ্ধ করিয়া দাজ্জালের অনুসরন করিয়াছো । একটা গাধার সমান বুদ্ধিশুদ্ধিও তো আমাদের নাই, একটা গাধা সমান । ইহার ফলাফল হইল বিপুল সংখ্যক নারীরা একজন স্বামী লাভ করিবে না । কারণ আল্লাহ তো পুরুষদের চাইতে অনেক বেশী সংখ্যায় নারীদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন । ইহা কি একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নয় ? এমন পরিস্থিতি তো আল্লাহ চাহেন নাই । আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা আমাদেরকে এই সমস্যা ‍উপহার দিয়াছে ।

আমাদেরকে বেশী দিন অপেক্ষা করিতে হইবে না, আমাদেরকে আর বেশী দিন অপেক্ষা করিতে হইবে না যখন আগামীতে মালহামা (মহাযুদ্ধ) ইত্যাদি ইত্যাদি শুরু হইবে । সেই বিচার-বিশ্লেষণ আমার কাছ থেকে দূরে রাখেন, আমি সে-সব শুনিতে চাই না । আমি আপনাদেরকে নতুন জ্ঞান দিতেছি । আমি বলিতেছি আল্লাহ অবশ্যই পুরুষদের চাইতে অনেক বেশী সংখ্যায় নারীদেরকে ‍সৃষ্টি করিয়াছেন । আমি তাহাদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্বাস করি না, এই লোকগুলো বিরাট বিশাল মিথ্যা কথা বলে অনেকটা নাইন এলাভেনের মতো ।

প্রতারণায় তাহাদের পিএইচডি ডিগ্রি আছে । সুতরাং যখন একজন পুরুষের একজন স্ত্রী থাকিবে, তাহার ফলাফল হইবে আখেরী জামানায় বিপুল সংখ্যক নারীরা কোন স্বামী পাইবে না । কাজেই এখন যেই সকল নারীরা একবার তালাকপ্রাপ্ত হইয়াছে, দুইবার তালাকপ্রাপ্ত হইয়াছে, বিধবা হইয়াছে, যাহাদের ছোট বাচ্চা আছে তাহাদেরকে পুরুষরা বিবাহ করিতে চায় না । তো এই নারীরা কোন স্বামী পাইবে না কারণ পুরুষরা বলিতেছে আমি কোন বাচ্চাওয়ালা মহিলাকে বিবাহ করিব না । আমি একজনের নিকট থেকে ইহা নিজের কানেই ইহা শুনিয়াছি যে আমাকে তাহার বিবাহের জন্য সাহায্য করিতে অনুরোধ জানাইয়াছিল । সে বলিয়াছে আমি কোন বাচ্চাওয়ালা নারীকে বিবাহ করিতে চাই না । অথচ আপনার নবী মোহাম্মাদ (সাঃ) বাচ্চাসহ বিধবা খাদিজা (রাঃ)-কে বিবাহ করিয়াছিলেন । আমার মা আঠারো বছর বয়সে বিধবা হন এবং তাহার একটি বাচ্চা মেয়েও ছিল । আমার বাবা যখন তাহাকে দেখিতে আসেন সবাই তখন তাহাকে সাজিয়ে-গুছিয়ে একটি কক্ষে তাহাদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন । আমার বাবা তাহাকে বিবাহ করিতে রাজি হন এবং বলেন, “যদি মোহাম্মদ (সাঃ) বাচ্চাসহ বিধবা মহিলাকে বিবাহ করিতে পারেন তবে আমি কেন পারব না ” ? কিন্তু এখন অধিকাংশ পুরুষের মতামত হইল বিশেষত যুবক এবং সুদর্শন পুরুষদের, যেহেতু আমি মাত্র একটি বিবাহ করিতে পারিব কাজেই আমি কোন তালাকপ্রাপ্তা, বিধবা অথবা বাচ্চাওয়ালা নারীকে বিবাহ করিব না । কাজেই এই আখেরী জামানায় দাজ্জালের পরিকল্পনার কারণে ইতিমধ্যে এখনই ইতিমধ্যে এখনই বিপুল সংখ্যক নারীরা কোন স্বামী পাইতেছে না । এখন আমরা কি করিব, এখন আমাদের কি করা উচিত ? “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতিম মেয়েদের অধিকার যথাযথভাবে পুরন করিতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের ভাল লাগে তাহাদের বিয়ে করিয়া নাও দুই, তিন কিংবা চারটি পযর্ন্ত”।–আল কোরআন (৪:৩) কিন্তু আপনি যখন ইসলামে বিবাহ করিবেন যেহেতু ইহা ন্যায়বিচারের ধর্ম কাজেই আপনাকে সকল স্ত্রীদের মধ্যে সমানভাবে আচরণ করিতে হইবে । আপনি এক স্ত্রীকে মার্সিডিজ গাড়ি কিনিয়া দিবেন আর অন্যজনকে দিবেন টয়োটা তাহা হইতে পারে না । আপনার প্রথম স্ত্রী মার্সিডিজ চড়িতেছে, এখন আপনি দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহন করিতে যাইতেছেন । কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রীর জন্য মার্সিডিজ কিনিবার সামর্থ আপনার নাই । এখন কি করিবেন ? প্রথম স্ত্রীকে বলিবেন যে, আসো তোমার মার্সিডিজটা বিক্রি করিয়া দুইজনের জন্য দুইটি টয়োটা কিনিয়া আনি ? তাহা তো ভালো দেখায় না । আপনি দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ স্ত্রী গ্রহন করিবার কারণে আপনার প্রথম স্ত্রীকে ভোগান্তি পোহাইতে হইবে কেন ? নাহ, আপনি কেবল তখনই দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ স্ত্রী গ্রহন করিতে পারেন যখন আপনার প্রথম স্ত্রীকে কোন ভোগান্তি পোহাইতে না হয় । কাজেই এজন্য আপনার দরকার অনেক রিংগিট, ওহ দুঃখিত, দিনার এবং দিরহাম । কিন্তু এই আখেরী জামানায় মানবজাতি ধীরে ধীরে অভাব-অনটন-দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হইতেছ । আমরা গরীব থেকে আরো গরীব হইয়া যাইতেছি । আমি বাইশ বছর আগে যখন মালয়েশিয়ায় প্রথম আসি এবং দিনার-দিরহামের (স্বর্ণমুদ্রা-রৌপ্যমুদ্রার) কথা প্রচার করা শুরু করি, মানুষ আমার দিকে এমনভাবে তাকাইয়া থাকিতো যেন আমি মঙ্গল-নেপচুন-প্লটো থেকে আসিয়াছি । তখন আমাদেরকে এক আউন্স সোনা ক্রয় করিতে অল্প কয়েকটা দিরহাম ওহ দুঃখিত, রিংগিট লাগিত ।

সোনার তুলনায় রিংগিটের দাম ছিল বেশ শক্তিশালী । তারপর আপনি যদি গত বাইশ বছরের গ্রাফচিত্র দেখেন, তবে দেখিতে পাইবেন রিংগিটের মূল্য কেবল নীচে নামিতেছে, নামিতেছে, নামিতেছে…. । কাজেই আপনি যদি এই ব্যাপারে সচেতন না হন যে আপনি দিন দিন গরীব আরো অধিকতর গরীব হইয়া যাইতেছেন । যখন রাসুলে করীম (সাঃ)-এর ভবিষ্যতবাণী করা মালহামা (মহাযুদ্ধ) আরম্ভ হইবে যাহা প্রকৃতপক্ষে একেবারে নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছে খ্রিস্টানরা যাহাকে বলে আরমাগেডান । আজকে আমি মালহামা সম্পর্কে আমার মতামত প্রকাশ করিব, আমি মনে করি ইউক্রেনে প্রক্সিযুদ্ধের মাধ্যমে মালহামা ইতিমধ্যেই শুরু হইয়া গিয়াছে । মালয়েশিয়ান ভাষায় প্রক্সিকে কি বলে ? কি ? বাগিবিহা ? বাগিবিহা । মালহামা ইতিমধ্যেই শুরু হইয়া গিয়াছে ইউক্রেনে পরোক্ষভাবে ছায়াযুদ্ধের মাধ্যমে । সুতরাং ইক্রেনের পরিস্থিতি ক্রমাগতভাবে খারাপের দিকে যাইতে থাকিবে এবং শেষপর্যন্ত পারমাণবিক যুদ্ধ লাগিয়া যাইবে । কেননা রাশিয়া কখনও নতি স্বীকার করিবে না অন্ততঃ প্রেসিডেন্ট পুতিনের আমলে । কাজেই আপনি চক্ষু বন্ধ করিয়া আশংকা করিতে পারেন যে পারমাণবিক যুদ্ধ আসিতেছে, ইহাই হইল মালহামা বিশ্বনবী (সাঃ) যাহার ভবিষ্যতবাণী করিয়া গিয়াছেন । আর ইহাই হইল সকল কাগজের মুদ্রার সমাপ্তি বিদায় ঘন্টা । সকল কাগজের মুদ্রা বিলুপ্ত হইয়া যাইবে, কোন রিংগিট থাকিবে না, কোন মার্কিন ডলার থাকিবে না, কোন ইউরো থাকিবে না, কোন ফ্রেঞ্চ ফ্রাঙ্ক থাকিবে না । এসব আর তাহাদের (যায়োনিষ্টদের) কোন প্রয়োজন নাই । বিশ্বব্যাপী মাত্র একটি মুদ্রা চালূ হইবে আর তাহা হইবে অদৃশ্য মুদ্রা, আপনি তাহা দেখিতে পাইবেন না, আপনি তাহা স্পর্শ করিতে পারিবেন না । আপনি আপনার মুদ্রাগুলো নিয়া পকেটে বা মানিবেগে রাখিতে পারিবেন না । কারণ ইলেক্ট্রনিক মুদ্রা চালু হইবে, এগুলো কেবল ব্যাংকের ভেতরেই লেনদেন করা যাইবে আর আপনাদের সবচাইতে নিকৃষ্ট দুশমন ইহুদীরা ব্যাংকিং সিষ্টেম নিয়ন্ত্রণ করে । “(আখেরী জামানায়) আপনি মানুষের মধ্যে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাইবেন “-আল কোরআন (৫:৮২) সকল ইহুদী মুসলমানদের নিকৃষ্ট শত্রু হইবে না, কেবল যায়োনিষ্ট ইহুদীরা । দুনিয়াব্যাপী মুদ্রা ব্যবস্থার পতন আসিতেছে, বিশ্বব্যাপী দারিদ্র অভাব-অনটন আসিতেছে । কেননা এভাবেই সম্ভব ইজরাঈলের পক্ষে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের অর্থাৎ মালহামার পরে পৃথিবীর যেই অংশটুকু অক্ষত থাকিবে তাহাকে শাসন করা । সামনে আসিতেছে অর্থনৈতিক পতন অর্থনৈতিক মন্দা । কাগজের মুদ্রা উঠিয়া যাইবে । অভাব-অনটন-দারিদ্র আরো প্রকট আকার ধারন করিবে । তখন খুব কম পুরুষের পক্ষেই সম্ভব হইবে চারজন স্ত্রীর ভরনপোষন করা । তাহলে সেই বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত নারীদের কি উপায় হইবে ? তখন আপনারা কি করিবেন ? এখনই আপনার স্ত্রী ঘোষণা করিতেছে যে, বিশ্বাস না হইলে বাসায় গিয়া আপনার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখেন, আমার স্বামীর আরেকটি বিবাহ করিবে তাহা আমি মানিয়া নিব না । নাহ, কিছুতেই না । আমি তাহার নিকট থেকে তালাক নিয়া নিব, তবুও তাহার দুই স্ত্রী মানিতে পারি না, মানিয়া নিব না । অধিকাংশ নারীদেরই চিন্তাভাবনা বর্তমানে এই রকম । আমি আমার স্বামীকে আরেকজন স্ত্রী গ্রহন করিতে দিব না, সহ্য করিব না । হ্যাঁ, বোন আপনি যে-সব কারণে জাহান্নামে যাইবেন তাহার মধ্যে ইহাও একটি কারণ । হ্যাঁ, বোন আপনি যে-সব কারণে জাহান্নামে যাইবেন তাহার মধ্যে ইহাও একটি কারণ । আজ রাতে আমি একজন ইসলামী বিশেষজ্ঞ আপনাকে কোরআন এবং হাদীসের ভিত্তিতে বলিতেছি, আপনি জাহান্নামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন ।

আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলিতেছেন, “যদি তোমরা আশংকা কর যে স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার করিতে পারিবেন না, তবে বিবাহ কর মাত্র একটি” । আল্লাহ এখানেই থামিয়া যান নাই, এই আয়াতে আরো বলা হইয়াছে, “ইয়াতীম বালিকাদের মধ্য হইতে বিবাহ কর দুই, তিন অথবা চারটি পর্যন্ত যাহারা প্রাপ্ত বয়ষ্কা হইয়াছে” । আল্লাহ তো এখানে ক্রীতদাসীদের সম্পর্কে বলিতেছেন না, আশা করি ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশে যাহারা আছেন তাহারা আমার কথা শুনিতে পাইতেছেন । আল্লাহ এখানে ক্রীতদাসীদের কথা বলিতেছেন না, তিনি এখানে যুদ্ধবন্ধী নারীদের কথা বলিতেছেন না, তিনি বলিতেছেন অনাথ বালিকাদের কথা । ইহাই হইল কোরআনের এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট শানে নুজুল । সুতরাং আল্লাহ দুই শ্রেণীর নারীদের কথা উল্লেখ করিয়াছেন যাহাদের সাথে একজন পুরুষ অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়িতে পারে । কাজেই ক্রীতদাসী বা যুদ্ধবন্দি না হইয়াও একজন নারী মালকাল ইয়ামীন হইতে পারেন । এবার চলুন আমরা সুরা নিসা, সুরা মো’মিনুনে যাই । “মুমিনগণ সফলকাম হইয়া গিয়াছে। যাহারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র। যাহারা অনর্থক কথা-বার্তায় বিরত। যাহারা যাকাত প্রদান করে থাকে এবং যাহারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাহাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত নারীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখিলে তাহারা তিরস্কৃত হইবে না (২৩:১-৬)।” কোরআনের বাণী এখানে দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার, কেনো অযথা সন্দেহ দ্বিধায় ভোগিতেছেন ? “যাহারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাহাদের স্ত্রী ও অধিকারভুক্ত নারীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখিলে তাহারা অভিযুক্ত হইবে না”। অন্যকথায় পুরুষদের দুই শ্রেণীর নারীদের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রাখিবার সুযোগ আছে, স্ত্রী এবং মালকাল ইয়ামীন (অধিকারভুক্ত নারী) । স্ত্রী এবং মালকাল ইয়ামীনের মধ্যে পার্থক্য কি ? প্রথমতঃ স্ত্রী উত্তরাধিকার সূত্রে স্বামীর সম্পত্তির অংশ পাইয়া থাকেন । কিন্তু মালকাল ইয়ামীন স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন না, তবে স্বামী ইচ্ছে করিলে তাহাকে কিছু দিতে পারেন । দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীর সামাজিক মর্যাদা বেশী, তাহার মানে এই নহে যে মালকাল ইয়ামীনের কোন মর্যাদা নাই । মালকাল ইয়ামীনের গর্ভে সন্তানের জন্ম হইলে তখন তাহাকে বলা হয় উম্মে ওয়ালাদ (সন্তানের মা) । সেই সন্তানের মর্যাদা এবং অধিকার স্ত্রীদের গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানদের সমান, কোন তারতম্য নাই । তৃতীয়তঃ পুরুষদের ওপর মালকাল ইয়ামীনকে তাহার স্ত্রীর সমান সুযোগ-সুবিধা ভরনপোষন দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় । সুতরাং আল্লাহ তায়ালা এইভাবে অবহেলিত অতিরিক্ত নারীদের শারীরিক-সামাজিক চাহিদা পূরণ করিবার একটি সুযোগ একটি উপায় করিয়া দিয়াছেন । তো এখনকার দিনে দাজ্জাল কি করে ? কোরআনের একটি একটি করিয়া আয়াত ধরিয়া হিমাগারে পাঠাইয়া দেয় ! ইহা শুধু মালকাল ইয়ামীন সংক্রান্ত এই একটি আয়াতে ব্যাপারে নহে । দাজ্জাল বলে একজন নারী কেবলমাত্র তখনই মালকাল ইয়ামীন হইতে পারেন যখন সে ক্রীতদাসী বা যুদ্ধবন্দী হয় । আপনি এই ব্যাপারে মুখ খুলিবার পূর্বে বলেন, কোরআন কি এমন বলিয়াছে ? এখন আমার নিজেকে সংযত রাখিতে হইবে যাহাতে অতি মাত্রায় রাগিয়া না যাই, এই ব্যাপারে যে-সব দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন মতামত দেওয়া হইয়াছে । দ্বিতীয়বার কথা বলিবার পূর্বে আপনি কেন আরেকবার কোরআন পড়িয়া দেখেন না ? আল্লাহ কি মালকাল ইয়ামীনদেরকে ক্রীতদাসী হিসাবে উল্লেখ করিয়াছে ? নাহ, আল্লাহ তাহাদেরকে উল্লেখ করিয়াছেন “যুবতী নারী” হিসাবে । নবী করীম (সাঃ) বলিয়াছেন, “তাহাদেরকে ক্রীতদাসী বলিবে না” । কাজেই এসব বলা বন্ধ করেন । কিন্তু আধুনিক বিশ্ব বলে একজন নারী কেবলমাত্র একটি উপায়ে মালকাল ইয়ামীন হইতে পারেন আর তাহা হইল তিনি যদি ক্রীতদাসী হন এবং তিনি যদি যুদ্ধবন্দী নারী হন । ইহা মিথ্যা কথা, একেবারে ডাহা মিথ্যা কথা । একজন নারী ক্রীতদাসী বা যুদ্ধবন্দী না হইয়াও অন্য উপায়ে মালকাল ইয়ামীন হইতে পারেন, যেমন এই আয়াতে ইয়াতীম বালিকাদের কথা বলা হইয়াছে ।

এখন সমস্যা হইল আখেরী জামানা নিয়া, এই বিপুল সংখ্যক স্বামীহীন নারীদের সমস্যা আমরা কিভাবে সমাধান করিতে পারি, ক্রমাগতভাবে যাহাদের সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাইতেছে । কারণ আল্লাহ তো পুরুষদের চাইতে নারীদেরকে অনেক বেশী সংখ্যায় সৃষ্টি করেন । বর্তমানে আবিষ্কৃত নতুন ধরনের সেলফোন, মোবাইল রেডিয়েশান, ওয়াই-ফাই রেডিয়েশান, জেনেটিক ফুড অর্থাৎ মেগাসাইজের ফল মূল তরকারি ইত্যাদি অনেক কারণে পুরুষদের ‍শুক্রাণু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে । এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য-উপাত্ত থেকে প্রমাণিত । ফলে ছেলে শিশুদের জন্মহার কমিয়া যাইতেছে এবং মেয়ে শিশুদের জন্মহার বৃদ্ধি পাইতেছে । ইন্দোনেশিয়ায় এই সম্পর্কিত একটি লেকচারের পরে একজন অফিসার দাঁড়াইয়া বলিয়াছিলেন, হে শায়খ ! আমরা আপনার কথার সত্যতার প্রমাণ পাইয়াছি । আমাদের মোবাইল টাওয়ারে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোতে জন্ম নেওয়া সকল শিশুই কন্যা শিশু । এই জাতীয় অনেকগুলি কারণে বর্তমানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হইয়াছে যে, বিপুল সংখ্যক নারীরা বর্তমানে স্বামী পাইতেছে না, তাহাদের দেখাশুনা করার মতো কোন পুরুষ পাইতেছেন না । এই কারণেই কি মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, আমাকে আরেকটি হাদীস বর্ণনা করিতে দেন, রাসুলে পাক (সাঃ) আখেরী জামানা সম্পর্কে বলিয়াছেন যে, “একজন পুরুষকে পঞ্চাশজন নারীর রক্ষাণাবেক্ষন করিতে হইবে” । আখেরী জামানা সম্পর্কে আমার সুদীর্ঘ পড়াশোনা থেকে আমি নবীজির (সাঃ) এই হাদীস সম্পর্কে যাহা বুঝিতে পারিয়াছি, এই হাদীসে বুঝানো হইয়াছে যে আখেরী জামানায় এই অতিরিক্ত নারীদের রক্ষণাবেক্ষনকারী পুরুষদের সংখ্যা হইবে খুবই কম খুবই কম । কারণ প্রতিটি পুরুষকেই মগজ ধোলাই করিয়া দেওয়া হইবে, তাহারা বলিবে একটার বেশী বিবাহ করা আমার দ্বায়িত্ব নহে । অধিকাংশ পুরুষ হইবে ব্রেনওয়াশড, মালকাল ইয়ামীন বলিয়া কিছু নাই, হ্যাঁ, মালকাল ইয়ামীনের আয়াতকে কুলস্টোরে পাঠাইয়া দাও । কাজেই এই অতিরিক্ত নারীদের দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ স্ত্রীরূপে বা মালকাল ইয়ামীন হিসাবে গ্রহন করা পুরুষদের সংখ্যা দুনিয়াতে এতো কম হইবে এতো কম হইবে এতো কম হইবে যে, তাহাদের তুলনামূলক সংখ্যা হইবে পঞ্চাশজনে একজন । ইহা হইল মহানবীর (সাঃ) এই হাদীসের ব্যাখ্যার ব্যাপারে আমার উপলব্ধি, আপনার কাছে যদি আরো ভালো কোন ব্যাখ্যা থাকে দয়া করে আমাদেরকে বলেন । এখন আমরা “আখেরী জামানায় বিয়ে-শাদী” আলোচনার উপসংহার টানিয়া দিব ।

আমাদের পুরুষদেরকে শেষবিচারের দিনে অবশ্যই আল্লাহর কাছে কৈফিয়ত দিতে হইবে । কেন ? একজন স্বামী লাভ করা প্রত্যেক নারীর অধিকার । কিন্তু একজন স্ত্রী লাভ করা পুরুষের অধিকার নহে । বরং প্রত্যেক নারীর একজন স্বামী লাভের অধিকার রক্ষার জন্য একজন পুরুষকে প্রয়োজনে দুই-তিন-চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিতে প্রস্তুত থাকিতে হইবে । অন্যথায় আপনাকে এজন্য আল্লাহর কাছে একদিন জবাবদিহি করিবার জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে । দাজ্জালের মগজ ধোলাইয়ের কারণে নারীদের মতো এখন পুরুষরাও বিশ্বাস করিতে শুরু করিয়াছে যে,  একটির বেশী বিবাহ করা কোনভাবেই তাহাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে না । পুরুষরা যদি তাহাদেরকে বিবাহ না করে তবে এই বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত নারীরা কোন স্বামী পাইবে না, কেননা তাহারা তো কোন আবর্জনা টাইপের পুরুষকে বিবাহ করিতে ইচ্ছুক নহে । আপনাকে শেষবিচারের দিনে আল্লাহর কাছে এজন্য জবাবদিহি করিতে হইবে, সেজন্য প্রস্তুত থাকেন । কারণ আপনি কোরআনের নির্দেশ মানিয়া চলেন নাই । কাজেই একাধিক বিবাহের ক্ষেত্রে যাহা সাধারণত ধনী সম্পদশালী ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের পক্ষে কঠিন কাজ, আল্লাহ এখানে একটি বিকল্প উপায় করিয়া দিয়াছেন আর তাহা হইল মালকাল ইয়ামীন । এই আখেরী জামানায় একজন নারী কিভাবে মালকাল ইয়ামীন হইতে পারেন ? কিভাবে ? উত্তর হইল সেই নারীকে একজন স্বাধীন নারী হইতে হইবে (অর্থাৎ কাহারো সাথে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ নহে) । সেই নারী যদি তাহার পছন্দের পুরুষের নিকট (কোনো আলতু-ফালতু পুরুষ নয়) স্বেচ্ছায় কোন বাধ্যবাধকতা ছাড়া কোন টাকাপয়সার লেনদেন ছাড়া নিজেকে মালকাল ইয়ামীন হিসাবে প্রস্তাব করেন এবং সেই পুরুষ তাহার প্রস্তাব গ্রহন করেন, তবে জাতিসংঘ এবং তাহার সকল আইনকানুন ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করেন, কারণ ইহা আল্লাহর আইন । আমরা আল্লাহর আইনের পক্ষে দাঁড়াইতে ভয় করি না, এজন্য যতো মাশুল দিতে হয় দিব, কারণ আমরা মেরুদন্ড বিশিষ্ট পুরুষ । আমরা দাজ্জাল এবং তাহার নাস্তিক দুনিয়ার ব্রেনওয়াশিংকে প্রত্যাখ্যান করি । কাজেই কোন মুসলিম নারী যদি নিজেকে মালকাল ইয়ামীন হিসাবে প্রস্তাব করেন এবং আপনি তাহার প্রস্তাব গ্রহন করেন, তাহলে ইহা কাগজে লিখিয়া সাক্ষীসহ সই করিয়া নেন । এখন তিনি আপনার মালকাল ইয়ামীনে পরিণত হইলেন এবং এখন তাহার ভরনপোষন দেওয়া আপনার কর্তব্য, তবে অন্য স্ত্রীদের সমান মানের নয় (বরং আপনার সামর্থ অনুযায়ী) । কিন্তু কোরআন ইহা ছাড়াও আরো বলিয়াছে, মনে রাখিবেন এগুলো সবই কোরআনের কথা । কোরআন বলিতেছে, সে যদি স্বাধীনতা (তালাক) চায় তবে আমাদের অভিমত হইল কোরআনের এই আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ব্যাপারেও তাহার সাথে দ্বিতীয় আরেকটি লিখিত চুক্তি করিয়া নিবেন কি কি পরিস্থিতিতে তিনি মুক্তি (বিচ্ছেদ) নিতে পারিবেন । দ্বিতীয় চুক্তিতে প্রেক্ষাপট এবং পরিস্থিতির বর্ণনা থাকিবে যাহার ভিত্তিতে তিনি স্বামীর নিকট থেকে মুক্তি নিতে পারিবেন । যেমন তিনি বলিতে পারেন যে আমি এক দিরহাম (তিন ভড়ি রৌপ্য) পরিশোধ করিলে যে-কোন দিন আমাকে বৈবাহিক বন্ধন থেকে মুক্তি দিতে হইবে অথবা ইহা করিলে অথবা উহা করিলে অথবা এই জাতীয় কিছু করিলে আমাকে মুক্তি দিতে হইবে । কাজেই এখন তিনি যখন ইচ্ছা চুক্তির শর্ত মোতাবেক মালকাল ইয়ামীনের বন্ধন থেকে মুক্তি নিতে পারিবেন । আমার মনে হয় ইহা এমন একটি আইন যাহার মাধ্যমে আমরা আখেরী জামানার সমস্যার সমাধান করিতে পারি । যে-সব পুরুষদের বিবাহের ক্ষমতা আছে কিন্তু বিবাহ করে না এবং এই কারণে আমাদের বোনেরা কষ্ট ভোগ করিয়া যাইতেছেন, শেষ বিচারের দিনে তাহাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর নিকট এই জন্য জবাবদিহি করিতে হইবে । আরেকটি শেষ কথা, কোন পুরুষের ইহা শোভনীয় নয় যে তিনি কোনো নারীকে মালকাল ইয়ামীন হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিবেন, ইহা ঠিক নয় । আমার মতামত হইল আর নিয়ম হইল আমার কোনো মতামত আপনি তখনই গ্রহন করিবেন যখন আপনার মনে হইবে যে ইহা সঠিক । আমার অভিমত হইল ইহা একেবারেই নারীদের অধিকার এবং কেবলমাত্র নারীরাই তাহার প্রস্তাব দিতে পারেন । কোন নারী যদি তাহার নিজেকে মালকাল ইয়ামীন হিসাবে প্রস্তাব করেন, তখন পুরুষদের অধিকার আছে সেই প্রস্তাব গ্রহন করিবার অথবা প্রত্যাখ্যান করিবার । কিন্তু কোন পুরুষের উচিত নয় কোন নারীকে মালকাল ইয়ামীন হওয়ার প্রস্তাব করা । কোন নারী যখন আপনার মালকাল ইয়ামীনে পরিণত হয়, তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “তাহাকে খাওয়াও যাহা তুমি খাও, তাহাকে পরিধান করাও যাহা তুমি পরিধান করা, তাহার মনুষ্যত্ব এবং অধিকারকে সম্মান কর” । কাজেই যে-সকল পুরুষরা তাহাদের স্ত্রী এবং মালকাল ইয়ামীনদের প্রতি দয়াশীল, সে-সব নারীরা তাহাদের স্বামী এবং রক্ষণাবেক্ষনকারী পুরুষদের জন্য আল্লাহর নিকট হাত উঠিয়ে দোয়া করেন, ইহা আমাদের আখেরী জামানার পুরুষদের জন্য রহমত হিসাবে পরিগণিত হইবে । আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন আখেরী জামানায় (দাজ্জালের ষড়যন্ত্রের) বিন্দুসমূহ সংযুক্ত করিবার ক্ষমতা দান করেন, যাহাতে আমরা দাজ্জালের ষড়যন্ত্র ‍উপলব্ধি করিতে পারি এবং প্রতিহত করিতে সক্ষম হই । নবী পাক (সাঃ) আমাদেরকে দাজ্জালের পরিকল্পনার ব্যাপারে সতর্ক করিয়া গিয়াছেন সেগুলো আমাদেরকে কোথায় নিয়া যাইবে, অগণিত নারীরা স্বামী পাইবে না, কাপড় পরিধান করিয়াও নগ্ন থাকিবে । রাসুলে করীম (সাঃ) বলিয়া গিয়াছেন, “মানুষ প্রকাশ্যে (গরু) গাধার ন্যায় যৌনকর্মে লিপ্ হইবে” । সেই দিন আসিতেছে । সুতরাং আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করিতে হইবে ছোট ছোট সমাজ তৈরী করিবার মাধ্যমে যেখানে সকলে কোরআন এবং সুন্নাহ মতো জীবন যাপন করিবে, যাহাতে আমরা পাশ্চাত্যকে দেখাইয়া দিতে পারি যে, আমাদের সমাজ এখনো সুস্থ এবং সুন্দর আছে যেখানে তোমাদের সমাজ ভাঙিয়া পড়িয়াছে ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

Marriage and nikah in akhiruzzaman By Sheikh Imran Hosein লেকচারের অনুবাদ

নারী স্বাধীনতা

নারী স্বাধীনতা মানে তালাক প্রাপ্তা ও বিধবা নারীর বিয়ে করার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে বালেগা হওয়ার সাথে সাথেই বিয়ে করার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে নারীদের মসজিদে গিয়ে নামায আদায়ের স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে মাহরাম পুরুষ নিয়ে চলার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে হিজাব করার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে পুরুষের দ্বিতীয়া স্ত্রী হয়েও সংসারে সবার আপনজন হওয়ার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি, ইনজেকশনকে লাত্থি মারার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে শয়তানী কপার টি ও গর্ভপাতকে নাউযুবিল্লাহ বলার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে চাকরী বা লেখাপড়া করার জন্য পরপুরুষকে মুখ না দেখানোর স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে রান্না করার আগে নিজের নামায পড়ার স্বাধীনতা।