নারীদের ঘরের বাইরে এসে চাকুরী

আজকাল নারীদের ঘরের বাইরে এসে চাকুরী করাটা একটা কমন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা নাকি থিওরিটিকালি ইয়াজুজ মাজুজের নতুন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার অংশ রূপেই প্রতীয়মান হয়। বিষয়টি আজকাল পুরুষদের কাছেও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

একজন নারী যখন বাহিরে কাজ করতে যায় সাধারণত সে মোটামুটি ভালো ড্রেসটা পড়েই যায়। ভালো ড্রেসের পাশাপাশি একটু আলতো করে লিপিস্টিক ও প্রসাধনী লেপে দিতেই হয়। আর কর্মক্ষেত্রে একটু বাড়তি স্মার্টনেসের জন্য বাচনভঙ্গীটাও একটু সুন্দর করতে হয়। কিন্তু এই নারীটা যখন ঘরে থাকে সাধারণত আটপৌরে কাপড়েই থাকে, বাচনভঙ্গির স্মার্টনেসও তেমন থাকে না। ঘরের ভেতর প্রসাধনী দিয়ে আকর্ষণীয় হয়ে বসে থাকার কোন মানে হয় না।

ফলে কি হয়? অফিসে পুরুষ কলিগ তার সাথে কথা বলতে আগ্রহী হয়। কারণ ঐ লোকের বাসায়ও হয়তো তার স্ত্রী সেজেগুজে আকর্ষণীয়া হয়ে থাকে না। যা কলিগের মধ্যে পাওয়া যায়। এই মহিলার স্বামীও অন্য কোন অফিসে হয়তো চাকরী করে। সেখানেও মহিলা কলিগ, সেখানেও একই রসায়নের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া চলতে থাকে।

এদিকে ঘরের ভেতর তৈরি হয় নিরাসক্তি, বাহিরে আসক্তি।

থিওরিটিকালি ব্যাপারটা এরকমই। বিভিন্ন জায়গায় পরিবেশ পরিস্থিতিভেদে এর মাত্রা কমবেশি হতে পারে। অনেক সাধু পুরুষ, ইনোসেন্ট নারীরা আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করতেই পারেন।

অনেকে বলতে পারেন, ইসলাম কি নারীদের চাকরী করার অধিকার দেয় না।

অবশ্যই দেয়। কিন্তু আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যাগণ, স্ত্রীগণ, খোলাফায়ে রাশেদীনের কন্যাগণ যাদের আমরা ‘আম্মাজান’ বলি, যারা আমাদের আদর্শ তারা কেউই চাকরী করতে বাইরে যাননি।

চৌদ্দশ বছর আগের কথা বাদ দিই, চল্লিশ বছর আগেও নারীরা গণহারে চাকরী করতে যেত না। ওসব নারীদের থেকে বহু প্রতিভাবান সন্তান বের হতেন। আমি জানি না, এইসব নারীদের থেকে অটিস্টিক শিশু ছাড়া আর কি বের হবে।

এটা কি ফ্যান্টাসির বিষয়?

ভাইদের মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে একটা ফ্যান্টাসি কাজ করে।

সে জানে ইসলাম তাকে অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তার সে সুপ্ত মনোবাসনা পূর্ণ হচ্ছে না। এ অজানা কারণটা তৈরি করেছে এ দাজ্জালী সমাজ। কারণ দাজ্জালী সমাজ যদিও অনেক টেনেটুনে, অনেক প্রতীক্ষার পর এক বিয়ের অনুমতি দেয় কিন্তু দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ বিয়ের অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।

কারণ দাজ্জাল বিয়ে জিনিসটাই পছন্দ করে না। সে চায় ফ্রি মিক্সিং। যা তরুণদের কাছে কাছে আসার গল্প নামে পরিচিত। ফলে যারা সমাজের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয় তাদের কাছে নারী কিছুই না।

আমি এমনও লোক দেখেছি মানিব্যাগে কনডম রাখে। বলা যায় না, চলতে ফিরতে কখন কার সাথে রিলেশন বিল্ড আপ হয় আর মানিব্যাগে রাখা জিনিসটা কাজে লেগে যায়। যেহেতু রিলেশনটা হয় স্বল্প সময়ের জন্য কাজেই দোকান পর্যন্ত যাওয়ার রিস্ক নিতেও রাজি না। এর মধ্যেও রিলেশন ব্রেক আপ হয়ে যেতে পারে। ফলে তাদের কাছে নারী তেমন কোন দামি বিষয় না। ডালভাতের মতো।

কিন্তু যারা ইসলামিক মন মানসিকতার অধিকারী তাদের জন্য ব্যাপারটা কিন্তু সহজ নয়। কারণ প্রতি মুহূর্তে আখিরাত, শরিয়ত, তাকওয়া ইত্যাদি নানা কিছু তার গতি রোধ করে দেয়।

ফলে সে না পারে অবাধ মেলামেশায় অভ্যস্ত হতে, না পারে দ্বিতীয় আরেকটা বিয়ে করতে। কারণ দ্বিতীয় বিয়ে করার মতো শরীয়তী ইলেম ও মানসিক শক্তি তার কখনো হয়ে উঠে না।

ফলে সে একটা দ্বিতীয় বিয়ের ফ্যান্টাসির রাজ্যে বসবাস শুরু করে। সে মনে করে হয়তো কোন তাকওয়াসম্পন্ন, পরহেজগার নারী তার জীবনে আসবে, কারণ ফেসবুকে এরকম অনেক নারীর দেখা মেলে, আর সে নারী এসে তার জীবন পরিপূর্ণ করে দেবে। তাকে আগলে রাখবে, তার পূর্বতন স্ত্রীর সাথে বান্ধবীর মতো সদ্ভাব থাকবে, আবার তার সন্তানগুলোকেও আদর করবে।

এরকম একটা কল্পনার জগতে বসবাস করা আসলেই খুব কষ্টের। যেহেতু সে তার স্ত্রীকে ভালোবাসে সে মনে করে স্ত্রী বোধহয় তার কষ্ট কিছু বুঝবে। বা অন্তত তার কথায় সায় দেবে।

কারণ সে দেখে তার স্ত্রীও মাশাআল্লাহ ভালো দ্বীনদার। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, পর্দা করে। ফলে তার একটা বিশ্বাস জন্মে যে সে অন্তত তার কথায় ইয়েস ইয়েস করবে। এদিকে দুর্বল মুহূর্তে সে তার সাথে বিষয়টা শেয়ার করে বসে। এমনকি তাদের পারসোনাল মুহূর্তেও এ ধরনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বসে।

এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার, এটা খুবই গর্হিত ব্যাপার, কারণ এটা ঠিক নয়। এতদিন সংসার করেও সে নারী জাতির মন বুঝতে পারেনি। এমনকি নারী জাতির মান সম্মানও বুঝতে পারেনি। আমি খুব অবাক হই, একজন স্বামী কিভাবে তার স্ত্রীর কাছে আরেক বিয়ের প্রসঙ্গ তুলতে পারে। তার কাছে অনুমতি চাওয়া মানে তাকে অপমান করা।

এ বিষয়টি আমাদের আইন প্রণেতারাও বুঝতে পারে নাই। যতদূর জানি, তারা দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতির নেয়ার একটি আইন করেছেন। তারা কি জানেন না, একজন নারীর সামনে কখনো আরেকজন নারীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করা যায় না? হোক সেটা হাস্যচ্ছলে বা খেলার ছলে। যার সাথে ঘর করেন, তাকে এ সম্মানটুকু দেবেন না?

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামও কখনো এক স্ত্রীর সামনে আরেক স্ত্রীর প্রসঙ্গ তুলতেন না, আমার জানামতে। যার যার ঘর আলাদা আলাদা। একজন নারী যখন বিয়ে করে, তার ন্যূনতম চাহিদা হচ্ছে একটা আলাদা ঘর, মানে প্রাইভেসি। সেখানে শাশুড়ি, ননদ, সতিনের আসা যাওয়া থাকতে পারে, কিন্তু অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় এসব না আসাই উচিত। যতক্ষণ স্ত্রীর কাছে থাকেন ততক্ষণ শুধু তাকে নিয়েই থাকেন। স্ত্রী আপনাকে ভালবাসবে।

আরেকটা বিয়ে করতে যদি ইচ্ছে করে, সেটা করেন, ইসলাম আপনাকে নিষেধ করেনি, আপনার স্ত্রী মানবে কি না সেটা তার ব্যাপার, আশা করি মানবে, কিন্তু তার কানের সামনে তাকে খাটো করে অন্য নারীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা ভালোমানুষী নয়, তবে ছেলেমানুষি অবশ্যই। আর নারীরা ছেলেমানুষ পছন্দ করে না। তারা পছন্দ করে পুরুষমানুষ। আমার এখানে নারী পাঠক আছেন, তারা জানেন আমি ভুল কিছু বলেছি কি না।

বিবাহিত জীবনের অব্যক্ত কিছু কথা

একটা মোটা দাগের কৌতুকে পড়েছিলাম ক্রিকেটে থাই গার্ডের ব্যবহার শুরুর প্রায় ১০০ বছর পর হেলমেট ব্যবহার শুরু হয়। 
কৌতুকটা ছিল পুরুষ মানুষদের নিয়ে – তারা কোনটাকে গুরুত্ব দেয় এটা নিয়ে একটা প্রাপ্তবয়ষ্ক ইশারা ছিল।

যে কথাগুলো অনেকদিন ধরে বলব ভাবছি তা সর্বসমক্ষে বলা লজ্জার, কিন্তু কিছু ব্যাপারে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লজ্জার সীমানায় এসে হলেও মানুষকে কিছু শিক্ষা দিয়েছেন।*

উমার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তার মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, স্বামীকে ছাড়া তার স্ত্রী কয়দিন থাকতে পারে। উত্তর শুনেছিলেন চার মাস। এরপর তিনি নিয়ম করে দিয়েছিলেন, মুসলিম মুজাহিদদের চার মাসের বেশি জিহাদের ময়দানে রাখা যাবে না।

উমার পুরুষদের জিজ্ঞেস করেননি। আমাকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতাম, একজন পুরুষ তার স্ত্রী ছাড়া চার দিনের বেশি ভালো থাকতে পারে না।

আমি যে একটা বছর অ্যামেরিকায় ছিলাম স্ত্রীকে রেখে, কীভাবে ছিলাম সেটা আল্লাহ ভালো জানেন।

স্ত্রীকে ছাড়া ভালো থাকতে পারে না কেন? কারণ, আল্লাহ পুরুষকে সেভাবে বানিয়েছেন। চাহিদা দিয়ে, কামনা দিয়ে।

আমাদের সমাজের স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য যতটা ব্যস্ত, মনের ক্ষুধা এবং দৈহিক ক্ষুধা মেটানোর জন্য ততটাই অতৎপর।

অন্তত, আমার কাছে আসা ইনবক্সে ভাইদের অনুযোগে তাই মনে হয়।
মনের ক্ষুধা সংসারের আলাপে মেটে না। ডাল শেষ, তেল লাগবে – এগুলো সম্পর্কের উন্নতি করে না।

মনের ক্ষুধা মেটে যখন কোনো পুরুষ যে ব্যাপারে আগ্রহী সে ব্যাপারে তার সাথে আলাপ করলে। আমি বিজ্ঞান ভালোবাসি। বিজ্ঞানের নতুন একটা আবিষ্কার নিয়ে আমার সাথে আমার স্ত্রী কথা বললে আমার ভালো লাগে।

আমার স্ত্রীর বিজ্ঞান ভালো না লাগলে?

বোনেরা, কিছু একটা খুঁজে বের করুন যেটাতে আপনার আর আপনার স্বামীর কমন আগ্রহ আছে।

আর থাকল দেহের ক্ষুধা।

এই ক্ষুধা সত্য। পেটের ক্ষুধার মতই সত্য। যদিও পেটের ক্ষুধার কথা কেউ বলতে বা শুনতে লজ্জা পায় না, কিন্তু এই ক্ষুধাকে পায়।
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশে বেশ্যালয় আছে। কেন? 
বেশ্যালয়ে বিবাহিত পুরুষরাও যায়। কেন?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা চারটা পর্যন্ত বিয়ের বিধান দিয়েছেন এর একটা কারণ পুরুষদের দৈহিক ক্ষুধা অনেক বেশি আগ্রাসী।

এবং অধিকাংশ বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রীকে তার চাহিদার কথা বলতে লজ্জা পায়। প্রতিনিয়ত বলা তো আরো মুশকিল।

এই অবদমিত চাহিদার হালাল বহির্প্রকাশ বাধাপ্রাপ্ত হলে পুরুষেরা ছোটে পর্নের দিকে। এখন মোবাইলে বিছানায় শুয়েও সারা দুনিয়ার নোংরামি ঘুরে আসা যায়।

স্ত্রী তার মতো ঘুমে আছেন, স্বামী পাপাচারে মগ্ন।

পরকীয়া, ধর্ষণ – প্রায় সব বিকৃত কামাচারের পেছনে হালাল স্ত্রীসঙ্গ দুর্লভ হওয়াটা একটা বড় কারণ।

স্ত্রী বুঝতে পারেন না স্বামী কেন রেগে থাকেন। তিনি বুঝতে পারেন না, সংসারে অশান্তি। এই দম্পতিকে তাদের শারীরিক সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেস করে দেখেন।

আমি পুরুষদের সবর করতে না পেরে পাপে জড়ানোকে জাস্টিফাই করছি না। একজন পুরুষ হিসেবে আসলে পুরুষেরা কী চিন্তা করে, তাদের কী চাহিদা – সেটা বোনদের সামনে তুলে ধরলাম, লজ্জার মাথা খেয়েই।

সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।

রমণী শব্দের উৎস বিশ্লেষণে যাব না, তবে বোনেরা একটু চিন্তা করে দেখবেন। কথাটা সত্য। আমাকে গালমন্দ করতে পারেন – তবে আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি।

আর ভাইয়েরা, আল্লাহ আমাদের যে প্রবৃত্তি দিয়েছেন তা নিয়ন্ত্রণ করার নামই তাকওয়া – আল্লাহ সম্পর্কে সচেতন থাকা। যে আল্লাহর নামে আমরা আমাদের স্ত্রীদের ঘরে এনেছি, তাদেরও মানসিক এবং শারীরিক অধিকার আছে। সেটার দিকে নজর রাখা আমাদের কর্তব্য।

আমরা যেন আমাদের সঙ্গী-সঙ্গিনীদের সীমাবদ্ধতাটুকু উপেক্ষা করে তাদেরকে তাদের প্রাপ্যটুকুর চেয়েও বেশি কিছু দেয়ার চেষ্টা করি। তাদের পাপ থেকে বাঁচাই এবং নিজেও বাঁচি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

Shared from Sharif Abu Hayat Opu

মন্তব্যঃ যাই বলুন পুনরায় বহুবিবাহ প্রচলন ছাড়া এ সমস্যা সমাধানের কোন গতি নেই। সুন্নতকে ছেড়ে তাকওয়া হয় না।

আমার এক কলিগ, বেচারা ভালো পদে আছেন, হুজুর মানুষ, গতকাল বললেন, তিনি পোস্ট গ্রাজুয়েশনের সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে মাসে ১০ হাজার টাকা খরচ নিতেন। যা তিনি পরে শোধ করে দেন। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে একদিন খোটা দেয়, ‘তুমি তো আমার বাবার পয়সায় লেখাপড়া করেছ’ এই বলে। ভাইটি আক্ষেপ করে বললেন, সেদিন তিনি তাকে মেরেছেন। আসলে মহিলার কথাটা আমারও খারাপ লাগল। যদি তিনি সত্যিই এ কথা বলে থাকেন আর কি। বেচারা মেট্রিক, নটরডেমে ইন্টার, সরকারী মেডিকেলে লেখাপড়া এগুলো কি ফাউ ফাউ করছেন? এ প্রশ্ন এসেই যায়। কিন্তু মার দিয়ে কি তাকে বুঝানো যাবে যে আমি ভালো ছাত্র ছিলাম। এখন কি করে তাকে বুঝানো যায় যে সে কথাটি ঠিক বলেনি। মার দিলে তো আরও মনে করবে, আমার বাবার টাকা দিয়ে লেখাপড়া করল আবার আমাকে মারল। তোর মতো ছোটলোক স্বামীই আমার ভাগ্যে ছিল !! পরে চিন্তা করলাম কি করা যেত। কি করলে সে বুঝত। আমি বললাম, মোহরের টাকা দিছেন? বলল, বাকী আছে। এ তো আরও সমস্যা। একে তো শ্বশুরের থেকে টাকা নিয়ে পড়েছে (যদিও তা শোধ করে দিয়েছে), আবার মোহরও বাকী আছে। চিন্তা করে বের করলাম, আসলে এই মুহূর্তে কিছু করার ছিল না। ধৈর্য ধরা উচিত ছিল। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নানাভাবে পরীক্ষা করেন। তখন ধৈর্য ধারণ করতে হয়। কিল দিয়ে জেতা যায় না। নবীজী (সা)-কে একবার আয়েশা (রাযি) দৌড় প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়েছিলেন। আবার অনেকদিন পর আয়েশা (রাযি) যখন একটু ভারী হয়ে গেছেন তখন নবীজীর কাছে হেরে যান। হা হা। কাজেই সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো মেয়েটির বাবা একসময় অসহায় হবেন, যেমন একসময় মেয়েটির স্বামী হয়েছিলেন। তখন তাকে মনখুলে সাহায্য করে দিলেও কিন্তু হয়ে যায়। আর তাতেই তখন মেয়েটি বুঝতে পারতেন, জীবন জয় পরাজয়ের নয়, সহযোগিতার। সেই প্রকৃত সময় আসা পর্যন্ত কিলাকিলি করে লাভ নেই। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ সব কিছুর জন্য নির্ধারণ করেছেন একটি নির্দিষ্ট সময় / পরিমাপ / ক্ষণ। (সূরা তালাক্ব, ৬৫ঃ৩)

নারীদের মারপিট করাটা বা মানসিক নির্যাতন করা ঠিক নয়। তাদের ভালোবাসা উচিত। নবীজী (সা) নারীদের ভালোবাসতেন। সে হিসেবেও তারা ভালো ব্যবহারের হক্বদার। অন্যদিকে নারীদেরও উচিত নয় পুরুষের কয়টা স্ত্রী থাকবে এই নিয়ে মতামত দেয়া। উভয়টাই সীমালঙ্ঘন। আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। স্বামী যদি স্ত্রীদের মধ্যে বৈষম্য করে তার জন্য আইনের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আর আল্লাহ তার জন্য আখিরাতে শাস্তিও দিতে পারেন, ক্ষমাও করতে পারেন। একমাত্র শিরকের গোনাহ ছাড়া আল্লাহ যে কোন গোনাহই ক্ষমা করতে পারেন।

“আমার দেহ আমি যাকে খুশী তাকে বিলাবো তাতে তোমাদের এত চিল্লা চিল্লি কেন ?”
-তসলিমা নাসরিন

বার্ধক্যের কোঠায় আজ বিখ্যাত নারীবাদী লেখিকা। কেউ কি বিনা পয়সায় তার শয্যা সঙ্গী হতে চান? যোগাযোগ করুন, ফ্রী তে হোম সার্ভিস দেয়া হবে। শাহবাগীদের অগ্রধিকার দেয়া হবে।

বিষ ফোঁড়া আর জ্বর নিয়ে ভারতের এক হাসপাতালে ভর্তি। (FB Status – Taslima Nasreen, October 17, 2017)
১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা বিল আদায়ে অক্ষম তসলিমা নাসরিন।
আছেন কি ? কোন সহৃদয় ব্যক্তি এই বিল পরিশোধ করে মেডামকে মুক্ত করে আনবেন ?

নাই…কারন,ফুলে মধু নেই তো,তার ত্রি-সীমানায় ভ্রমরও নেই।
আমি তার হাজার বছর আয়ূ কামনা করি–
এক সময় বার্ধক্যের যন্ত্রনায় যেন মৃত্যুর জন্য চিৎকার করে—-যেমন জাহান্নামীরা অসহ্য যন্ত্রণায় বার বার আল্লাহর কাছে মৃত্যুর জন্য ফরিয়াদ জানাবে।

(সংগৃহীত)

কৃতজ্ঞতায়ঃ জান্নাতুল ফেরদৌস জিনাত

হেনরী কিসিঞ্জারের পলিসি

আজীবন মার্কিন প্রেসিডেন্টদের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জার্মান ইহুদী হেনরী কিসিঞ্জার।
বাংলাদেশের যুদ্ধপরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে হেনরী কিসিঞ্জার আন্তর্জাতিকভাবে একটি পলিসি তৈরী করে যা National Security Study Memorandum 200 বা NSSM200 নামে পরিচিত। এ পলিসি অনুসারে, তারা ১৩টি রাষ্ট্রের জনসংখ্যাকে তাদের নিজ দেশের নিরাপত্তা, নিজ নাগরিকদের আরাম-আয়েশ ও সম্রাজ্যবাদ টিকিয়ে রাখতে হুমকি বলে মনে করে। এই ১৩টি রাষ্ট্রের ১টি হচ্ছে বাংলাদেশ। (http://bit.ly/1Vx0lZx) এজন্য তারা এসব দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মিডিয়া ও সরকারের মাধ্যমে তাদের পলিসিগুলো বাস্তবায়ন করে থাকে। বুদ্ধি দিয়েই যদি কোটি কোটি মুসলমানকে আতুর ঘরে হত্যা করা যায়, তবে কষ্ট করে যুদ্ধাস্ত্র খরচ করার দরকার কি, বলুন ?

অথচ পাঠক ! একটু খেয়াল করুন-
এখন মানুষ ২টা বাচ্চা নিয়েও টাকা-পয়সার অভাবে সারাদিন হা-হুতাশ করে দিন কাটায়। অথচ আমাদের দাদি-নানীদের আমলে তারা ১২-১৫টা বাচ্চাকে দিব্বি খাওয়াইছে।
একটু হিসেব করে দেখুন-
চালের কেজি ৭০ টাকা হলে যদি ২ বাচ্চা খায়,
তবে চালের কেজি ৩৫ টাকা হলে ৪টা বাচ্চা খেতে পারবে।
আর চালের কেজি যদি ১৭.৫ টাকা হয় তবে ৮টা বাচ্চা খেতে পারবে।
বাচ্চা কমিয়ে কৃত্রিমভাবে পন্যদ্রব্যের দামবৃদ্ধি চলছে, তাহলে জনসংখ্যার উপর দায়টা আসছে কেন ??

আবার, জনসংখ্যা বলতে মিডিয়ায় শুধু ঢাকা শহরকেই দেখানো হয়।
কিন্তু ঢাকা শহরের আয়তন হচ্ছে মাত্র ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার, যেখানে থাকে ২ কোটি মানুষ ।
তাহলে ঢাকা শহরের জনসংখ্যার ঘনত্বে পুরো বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার বর্গমাইলে থাকতে পারবে- ৮১৬ কোটি লোক।
অর্থাৎ ঢাকা শহর যে পরিমাণ জনবহুল, পুরো বাংলাদেশও সে পরিমাণ জনবহুল হলে থাকতে পারবে ৮১৬ কোটি লোক। যদিও পুরো পৃথিবীর জনসংখ্যা এখনও সাড়ে ৬শ’ কোটি।
তারমানে আপনি শুধু রাজধানী ঢাকার জনবহুলতা দেখিয়ে পুরো দেশকে ইন্ডিকেট করেন তবে সম্পূর্ণ ভুল হবে।

পাঠক, তৃতীয় বিশ্বের মানুষরা এখনও হেনরি কিসিঞ্জারদের সাইকোজিক্যাল ওয়ারফেয়ার বুঝতে পারেনি, বরং তার বানানো তত্ত্বের উপর এখনও ওকালতি করে যাচ্ছে।

সংক্ষেপিত @ নয়ন চ্যাটার্জি