নারী জীবন

নারীদের জীবনটা কাছ থেকে দেখেছেন কয়জন? গভীরভাবে তাকানোর কথা বলছি, দেখার মতো চোখ দিয়ে। বাহিরে নয়, ঘরে কেন প্রশান্তি বিরাজ করে, এ প্রশান্তিকে কে নির্মাণ করে? আর তার জীবনটাই বা কেমন। মা একশ টাকা দাও বলে চাইলেই কিভাবে একশ টাকা পাওয়া যায়। কিভাবে কাটল তার শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বৃদ্ধবয়স। জীবনের বাঁকে বাঁকে তার শারীরিক পরিবর্তনগুলো কি পরিমাণ স্পর্শকাতর। আর তার ধৈর্য ও স্থৈর্য। বাচ্চা গর্ভে আসার পর থেকে খেতে না পারা, বমি, শরীরের দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, পায়ে পানি আসা, রক্তপাত ও রক্তশূন্যতা, ডায়বেটিস ও আরো কত রকমের ঝড় তার উপর দিয়ে বয়ে যায়। আর সে থাকে নির্লিপ্ত। তারপর বুকের দুধ পান করানো, দিনের পর দিন রাত জাগা যেন বাচ্চা ক্ষুধায় কষ্ট না পায়। ইসলাম নারীদের এতোসব গুণের মূল্যায়ন করেছে। ইসলাম তাকে স্থিরতা দিয়েছে যেন সে দু’দন্ড শান্তি লাভ করতে পারে। তার সালাত, সিয়াম এবং আর অনেক আমল শিথিল করা হয়েছে। যেভাবে আল্লাহ্‌ ভালো মনে করেন। তার আরামের জন্য ঘর ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। পর্দার ব্যবস্থা করেছে যেন তাকে অযথা বিরক্ত করা না হয়। সে যেন তার মতো থাকতে পারে, প্রাইভেট ও নিরিবিলি। কিন্তু আজকে যারা তাকে মাতৃত্বকালীন ২-৪ মাস ছুটি দিয়ে আর বাকী সময় কাজে লাগিয়ে দিয়েছে তারা নারীকে নিয়ে প্রকৃত কোন চিন্তা করে না। তারপরও তারা নারীর কল্যাণকামী সেজে বসে আছে। কোন বুদ্ধিমান নারী তাদের ফাদে পা দিতে পারে না।

বাইরের মেয়ে

আমরা যখন বলি মেয়েদের ঘরে পর্দার মধ্যে রাখা হোক। তখন কিছু ইসলামিস্ট বলে অমুক জায়গার কথিত খিলাফাতে নারীরা বড় বড় কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন। আবার তারা বলে নারীরা যদি ডাক্তার না হয় তবে সিজারের সময় আমাদের মা বোনদের সতর দেখে ভিন্ন পুরুষ। যখনই পর্দার কথা বলা হয় তখনই তারা এসব কথা বলে। কিন্তু সিজারের মাধ্যমে তাদের কয়জন মা সালাহুদ্দীন আাইয়ূবী রহ জন্ম দিয়েছেন। লক্ষ লক্ষ সাহাবী রাযি, তাবিঈন, তাবে তাবিঈনদের জন্মের জন্য তাদের সম্মানিতা মাতাদের ঘরের বাইরে বের হতে হয়নি। এর বিপরীতে আজকের স্মার্ট হিজাবী মায়েরা একজনও কি জন্ম দিয়েছেন সেসব মনীষীদের মতো? অথচ অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম হওয়া এটিও একটি দাজ্জালী জীবনব্যবস্থার ফল। মুসলিম উম্মাহ এখন আর কোনও সালাহুদ্দীন জন্ম দিতে পারছে না। বীর মুজাহিদদের স্থানে জন্ম দিয়েছে একগাদা ‘মুখান্নাস’। মেয়েলি স্বভাবের পুরুষ। যাদের প্রধান কাজ ঘরের মা বোন স্ত্রীদের বড় বড় কাজ আঞ্জাম দেয়ার জন্য বাহিরে পাঠানো।

ইসলামের নারীগণ

হাওয়া, হাজেরা, মারিয়াম, আছিয়া, খাদিজা, আয়িশা, হাফসা, ফাতিমা, … … … (আঃ) / (রা) – ইসলামের নারীগণ

ইসলামী জীবনব্যবস্থায় –

(১) নারীরা পুরুষদের চেয়ে অধিক সম্মানিতা ও অধিক নিরাপত্তাপ্রাপ্তা,

(২) নারীরা পুরুষদের চেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্তা,

(৩) নারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে পুরুষদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের থেকে ভিন্ন যা তাদের প্রকৃতির অনুকূল।


কুফফার বিশ্ব ও তাদের সহযোগী মুনাফিকরা নারীদের অধিকার বিষয়ে সোচ্চার। কিন্তু অন্তরালে তারা –

(১) নারীর সম্মানকে বিনষ্ট করেছে তাদের পণ্যরূপে ব্যবহার করে ও নারীদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করেছে তাদের অনিরাপদ পরিবেশে ছেড়ে দিয়ে,

(২) সমান অধিকারের নামে তারা নারীদের অগ্রাধিকারকে নীচে নামিয়ে এনেছে,

(৩) পুরুষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নারীদের কাঁধে তুলে দিয়ে তাদের কাঁধের বোঝা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু নারীদের অরিজিনাল দায়িত্ব একফোটাও কমায়নি।

বিয়ের মোহর

বিয়ের মোহরের কিছু বাকী ‘টাকা’ শোধ করতে ১০ বছর পার হয়ে গেল। গৃহিণী যতই না না করুক, ওটা আপাতত আপনার কাছেই থাকুক, পরে দিলেও হবে, তবে এবার টাকাটা তার হাতে গছিয়ে দিতে পেরে শান্তি হলাম। কিন্তু পরক্ষণে ভাবলাম, তাকে ঠকানো হল না তো। দশ বছর পরে দশ বছর আগের সমান টাকা দিলে হবে? দশ বছর আগে টাকাটা দিলে সে যেভাবে ব্যবহার করতে পারত, দশ বছর পরে কি সে তার সমমানের ব্যবহার করতে পারবে? টাকার দাম কমে গেছে নিশ্চয়ই অনেক শতাংশ। তখনকার ৫০ হাজার নিশ্চয়ই এখনকার ৬০ হাজার হয়ে গেছে। শেষে ভেবে বললাম, আমি তোমাকে ঐ সময়ের অর্থ-মানের মোহর পরিশোধ করব। তোমার বাকী টাকা দিয়ে ঐ সময়ে যে স্বর্ণ পাওয়া যেত ঐ পরিমাণ স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী তুমি মোহর নিয়ে নাও। তুনি অমূল্য তাই তোমাকে চির মূল্যবান স্বর্ণের দামে বিয়ে করব। যে মুদ্রার মূল্য প্রতিদিন কমে যায় সে মুদ্রার দামে নয়। তার মুখ খুশীতে ভরে উঠল। এই খুশী মূল্যহীন টাকা দিয়ে কেনা যায় না, মূল্যবান সোনা দিয়ে কিনতে হয়।

তালাক নেব তবু সতীন নেব না

যে নারী বলল, “আমি তালাক নিয়ে নেব তবু সতীন মেনে নেব না”; সে নারী স্পষ্টত শিরক করল এবং নিজেকে আল্লাহর থেকে বড় মনে করল, আর মুশরিকা নারীর সাথে দাম্পত্য জীবন বজায় রাখা হারাম, হারাম, হারাম।

— শেখ ইমরান হোসেন।                                                                           Md Arefin Showrav 

বেকার মানুষ, বিবাহ করিব কিভাবে ?

বেকার মানুষ, বিবাহ করিব কিভাবে ?

বিবাহ করিতেছেন না কেন এমন প্রশ্ন করিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি যুবকদের নিকট থেকে একটি উত্তরই পাইয়া থাকি, বেকার মানুষ বিবাহ করিলে বউকে খাওয়াব কি ? তখন আমার প্রশ্ন হইয়া থাকে,
বেকার বলিয়া কি আপনি না খাইয়া থাকেন ?
আপনাকে বর্তমানে কে খাওয়াইতেছে ?
আপনি যাহাকে বিবাহ করিতে চাহেন সে কি বর্তমানে না খাইয়া আছে ?
তাহাকে কে খাওয়াইতেছে ?

বর্তমানে আপনাদের দুইজনকে যাহারা খাওয়াইতেছে, বিবাহ করিলে তাহারা কি আপনাদের দুইজনের খাওয়া দাওয়া বন্ধ করিয়া দিবেন ? আমার কথার অর্থ এই নহে যে, বিবাহ করিবার পরে আপনি আয়রোজগারের সকল চেষ্টা বাদ দিয়া হাত গুটাইয়া বসিয়া থাকিবেন । আমার কথা হইল কেবলমাত্র খাওয়ার অজুহাতে বিবাহ করা হইতে বিরত থাকিয়া নিজেদের দুনিয়া আখেরাত বরবাদ করিবার ঝুঁকি নেওয়াটা যুক্তিসঙ্গত নয় ।

মূল – শায়খ খালিদ ইয়াসিন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

The Real Solution

ধর্ষণ নিয়ে অনেকেই দেখি লিখতেছেন। ধর্ষণ কেন হয় এটা জানার মানুষের খুব আগ্রহ। মেয়ের জামাকাপড়ের ত্রুটি নাকি ছেলের পাশবিক প্রবৃত্তি? আসলে এগুলো কোন মূল কারণ নয়। এর প্রকৃত কারণ অন্য জায়গায়। আমি যদি বলি, ধর্ষণ হওয়ার মূল কারণ ইসলামিক আইনের প্রয়োগের ব্যবস্থা না থাকা। – এখন ইসলামিক আইন যদি প্রয়োগ করার কথা বলেন তাহলে নারীবাদীরাই সর্বপ্রথম ভেটো দিবেন। সমস্বরে কিচিরমিচির শুরু করবেন ইসলামিক আইন মধ্যযুগীয়। হা হা। যদি বলা হয় ধর্ষণ করার শাস্তি পাথর অথবা বেত। শাস্তি হবে পুরুষের। তখন দেখা যাবে নারীবাদীরা কিভাবে লেজ গুটিয়ে পালায়। ইসলামিক আইনের প্রয়োগের ব্যবস্থা করেন ধর্ষণ টর্ষন সব রাতারাতি শেষ হয়ে যাবে। শুধু শুধু আবোল তাবোল আলোচনা করে মূল্যবান সময় নষ্ট করা কেন? আদিযুগের অপরাধ মধ্যযুগের আইনে বিচার করা হবে সমস্যা কি? সমস্যা হলো তখন ধর্ষকদের পরে নারীবাদী, অমুক বাদী, তমুক বাদী এবং নারীকে যারা বিজ্ঞাপনে, নাটকে, সোসাইটিতে পণ্য বানায় তাদের পিঠও রক্ষা পাবে না।