তাক্বদিরের পরিচয় ও আখিরাতের পরিচয়

তাক্বদিরের পরিচয় ও আখিরাতের পরিচয়

এটি ছোটদের ঈমান শিক্ষার ধারাবাহিক লিখা। পড়ুন ছোটদের ঈমান শিক্ষা,
কালিমা তায়্যিবা,
আল্লাহতায়ালার পরিচয়,
ফেরেশতাদের পরিচয়,
নবীদের পরিচয়,
আসমানী কিতাবের পরিচয়।

ঈমান

আমরা ঈমান আনি মহান আল্লাহ্তায়ালার একত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতি এবং তাঁর সকল গুণসমূহের প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগনের প্রতি, তাঁর প্রেরিত নবী-রাসুলগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, ভাগ্যের ভালমন্দ আল্লাহ্তায়ালার হাতে এ কথার প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।

তাক্বদীরের পরিচয়

ঈমানের একটি মূল ভিত্তি হলো ভাগ্যের সমস্ত ভালো-মন্দ আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ হতে হয় একথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা। এজন্য কোন কিছু ভালো হলে আমার নিজ যোগ্যতায় ভালো হয়েছে এমন মনে না করা। এবং কোন কিছু খারাপ দেখলে হতাশ না হওয়া। মানুষ যার মধ্যে ভালো দেখছে আল্লাহ্তায়ালা তার মধ্যে খারাপও রাখতে পারেন। আবার মানুষ যার মধ্যে খারাপ দেখছে আল্লাহ্তায়ালা তার মধ্য থেকে ভালো বের করতে পারেন। এজন্য উভয় অবস্থাকে আল্লাহ্ সুবহানুহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য পরীক্ষা মনে করা। তাই উভয় অবস্থায় দিলকে আল্লাহ্তায়ালার দিকে রুজু করা। কারণ মাখলুক থেকে কিছু হয়না, সমস্ত কিছু আল্লাহ্ থেকে হয়। অতএব যে জিনিস হওয়ার তা হবেই, আর যে জিনিস হয়েছে তা হতোই। যে জিনিস হওয়ার নয় তা কোনদিনও হবেনা, আর যে জিনিস হয়নি তা কোনদিনও হওয়ার ছিলনা। তাই দুনিয়ার মাল-আসবাব যার জন্য যতটুকু রাখা আছে সে ততটুকুই পাবে। আর নিশ্চয়ই আখিরাতের মাল-আসবাব দুনিয়ার মাল-আসবাবের চেয়ে দামী। যে ব্যক্তি আখিরাতের জীবনকে দুনিয়ার জীবনের উপর প্রধান্য দেয় আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাকে আখিরাতে জান্নাত দান করেন এবং দুনিয়ায় তাকে পেরেশানীমুক্ত রাখেন এবং উত্তম রিযিক দান করেন। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের জীবনের উপর প্রধান্য দেয় আল্লাহ্ দুনিয়ায় তাকে ততটুকুই দেন যতটুকু তার ভাগ্যে রাখা আছে, কিন্তু আখিরাতে তার কোন স্থান নাই। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি তো সে যে সর্বঅবস্থায় নিজের নফসের হিসাব নেয়, (অর্থাৎ সে কি দুনিয়া কামাই করতে চায় না আখিরাত কামাই করতে চায়) এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করে। এজন্য আমরা সর্বঅবস্থায় আল্লাহ্ সুবহানুহু ওয়া তায়ালার মুখাপেক্ষী হই এবং আল্লাহ্তায়ালার ফায়সালার উপর রাজী থাকি।

আল্লাহ্ রব্বুল য়ালামীন ব্যতীত আর কেউ ভাগ্যের ভাল-মন্দের খবর জানেনা, বলতে পারেনা। কারণ ভবিষ্যত বা গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহ্তায়ালা জানেন। আল্লাহ্-র রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামও সাধারণভাবে গায়েবের খবর জানতেন না। রসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম গায়েবের খবর শুধু ততটুকু পরিমাণে জানতেন যা আল্লাহ্তায়ালা তাকে বিশেষভাবে ওহী মারফত জানিয়েছেন। যেসব ভবিষ্যতবানীগুলো এখনও হাদীসের কিতাবগুলোতে স্বর্ণাক্ষরে জ্বলজ্বল করছে। রসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্তায়ালার কাছ থেকে জেনে যেসব ভবিষ্যতবানী উচ্চারণ করেছেন তার সবকয়টি কিয়ামতের পূর্বে জমিনের বুকে মানুষ প্রত্যক্ষ করবে।

ভাগ্যের ভাল-মন্দ যেহেতু একমাত্র আল্লাহ্তায়ালা নিয়ন্ত্রণ করেন তাই কারো পক্ষে নিশ্চিতভাবে ইহা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। মানুষ কেবল তার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ধারণা করতে পারে যা সত্য হতেও পারে, সত্য নাও হতে পারে। এজন্য গণক, জ্যোতীষির কাছে যাওয়া, সৌভাগ্য লাভ বা দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তির জন্য পাথর, আংটি, ধাতব পদার্থ, মালা, রুদ্রাক্ষ, তাবিজ ব্যবহার করা ইসলামে হারাম। এগুলো সব আল্লাহ্তায়ালার ক্ষমতার সাথে শিরক বা অংশীদারিত্ব নির্দেশ করে বিধায় ভয়াবহ গুনাহর কাজ। আল্লাহ্ রব্বুল য়ালামীন আমাদের সবরকমের শিরকী গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

আখিরাতের পরিচয়

আল্লাহ্তায়ালা আমাদের একটা স্বল্প সময়ের জিন্দেগী দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের দুনিয়ার জীবন শেষ হয়ে অসীম সময়ের হায়াতের জিন্দেগী শুরু হয়। মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। আল্লাহ্তায়ালা বলেন, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করতে হবে। আল্লাহ্তায়ালা আরও বলেন, যে মৃত্যু হতে তোমরা পলায়ন করছ সে মৃত্যু এসে তোমাদের পাকড়াও করবেই। এরপর তোমাদেরকে ঐ পবিত্র সত্তার সামনে উপস্থিত করা হবে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য সকল বিষয় জানেন। এরপর তোমাদের কৃতকর্মসমূহ তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে। এজন্য বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করে গুণাহ থেকে বেঁচে থাকা দরকার। মৃত্যু এসে পড়ার পূর্বেই মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া দরকার। কারণ মৃত্যু সত্য, কবর সত্য, কবরের সওয়াল জবাব সত্য, পুনরূত্থান সত্য, হাশর সত্য, মিযান সত্য, আমলনামা সত্য, পুলসিরাত সত্য, আর সত্য জান্নাত এবং জাহান্নাম।

মৃত্যুর পর কবর হবে প্রথম ঘাঁটি। ঈমান এবং আমল ছাড়া আর কিছুই সেদিন আমাদের সঙ্গী হবে না। কবরে আমাদের সাথে না যাবে আমাদের আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন, আর না যাবে আমাদের মাল, বাড়ি, পদ-পদবী। সাথে যাবে শুধু ঈমান আর আমল। তাই এ দুনিয়া না সম্পদ জমা করার স্থান, না এখানে চিরস্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার স্থান। কবরে ফেরেশতারা আমাদের তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন। তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কি? তোমার নবী কে? যারা দুনিয়া থেকে খাঁটি ঈমান এবং আমল নিয়ে কবরে যাবে তারা সহজেই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবে। তারা শান্তিতে কবরে থাকবে। যারা উত্তর দিতে পারবেনা তাদের উপর কঠিন আজাব নেমে আসবে। তাই কবর কারো জন্য জান্নাতের টুকরা আর কারো জন্য জাহান্নামের গর্ত। আর একটি নির্দিষ্ট সময় পর কিয়ামত আসবেই। আল্লাহ্তায়ালার হুকুমে আসমান জমিন চূর্ণবিচূর্ণ হবে। পৃথিবী সেদিন প্রকম্পিত হবে। পাহাড়গুলো তুলোর মতো উড়তে থাকবে। মানুষগুলোকে আবার ওঠানো হবে। সেদিন সব মানুষ দাঁড়াবে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে। সেদিন সমবেত সকল মানুষের কাজের হিসাব নেয়া হবে এবং কারো প্রতি জুলুম করা হবে না। প্রত্যেকের আমল ওজন করা হবে। প্রত্যেককে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হবে। যার নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে তাকে দেয়া হবে চির শান্তির ঘর জান্নাত, যার নীচে নহর বইবে। কিন্তু যার পাল্লা হালকা হবে তার জায়গা হবে হাবিয়া, এক গনগনে আগুন।

কোরআন শরিফের পাতায় পাতায় আল্লাহ্তায়ালা কিয়ামতের কঠোরতা, এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের কঠিন ঘাঁটিগুলো সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করেছেন। কিয়ামতের ভয়াবহতা এত কঠিন হবে যে, সেদিন দুধদানকারিনী মা ভুলে যাবে তার কোলের শিশুকে দুধ পান করাতে। হাশরের ময়দানে যার বাম হাতে আমলনামা দেয়া হবে সেদিন তার চেহারা মলিন হবে এবং ভীত-সন্ত্রস্তভাবে সে বলবে, হায় কতইনা ভালো হতো যদি এই আমলনামা আমার হাতে দেয়া না হতো। বাঁচার জন্য সেদিন সে বলবে, হায় আল্লাহ্, তুমি আমার সন্তানকে শাস্তি দাও, তুমি আমার স্ত্রীকে শাস্তি দাও, এমনকি সারা দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে শাস্তি দাও। তবুও আমাকে তুমি শাস্তি দিওনা। কিন্তু এ মুক্তিপণ সেদিন তার কোন কাজে দেবেনা। কারণ সেদিন কারো প্রতি কোন জুলুম করা হবেনা। অপরাধীদের ধনসম্পদ বা ক্ষমতা তাই সেদিন কোন কাজে আসবেনা। আল্লাহ্ ফেরেশতাদের হুকুম করবেন, ওকে ধর, ওর গলায় বেড়ি পড়াও আর ছুড়ে ফেল ওকে জাহান্নামে। অতঃপর ওকে শিকল পড়াও, সত্তুর হাত দীর্ঘ এক শিকল।

জাহান্নামের শাস্তি এত কঠিন হবে যে, জাহান্নামবাসীদের আর্তনাদ সেদিন শুধু আল্লাহ্তায়ালার ক্রোধই বৃদ্ধি করবে।

অন্যদিকে জান্নাত হবে চির শান্তির এক জায়গা। জান্নাতীদেরকে এখানে সালাম দ্বারা বরণ করা হবে। দুঃখ-কষ্ট এবং মৃত্যু আর কোনদিন তাদের স্পর্শ করবেনা। বৃক্ষশোভিত বাগানে তাদের জন্য নহর প্রবাহিত হবে। তারা তৃপ্তির সাথে সেখানে পানাহার করবে এবং তাদের রবের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। আলহামদুলিল্লাহ্।

এজন্য দুনিয়ার সুখ-শান্তি, সফলতা প্রকৃত সুখ-শান্তি, সফলতা নয়। যাকে আগুনের শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সেটাই হবে তার প্রকৃত সুখ-শান্তি, সফলতা। এই সুখ-শান্তি, সফলতা লাভের জন্য আমাদের সবাইকে দুনিয়ার জীবনের মোহ ও ঠুনকো অহংকার ত্যাগ করে দ্বীনের উপর চলতে হবে। অর্থাৎ আল্লাহ্তায়ালা এবং আল্লাহ্তায়ালার রসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করতে হবে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করতে হবে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবাদের অনুসরণ করতে হবে। এটাই সহজ-সরল পথ। যে ব্যক্তি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি কথাকে সত্য জানবে, এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবাদের অনুসরণ করবে, তাঁর কাজকে কাজ বানাবে, তাঁর ফিকিরকে ফিকির বানাবে আল্লাহ্তায়ালা তাকে দুনিয়া এবং আখিরাতে এক ইজ্জতওয়ালা, সুখ-শান্তি ও কামিয়াবীর জিন্দেগী দান করবেন। আল্লাহ্তায়ালা আমাদের দ্বীনের উপর অটুট রাখুন, আমাদের সকলের আমল কবুল করুন এবং আমাদের সালাম রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পেশ করুন। আমীন।

Advertisements

আমার পরিচয়

 

এটি ছোটদের ঈমান শিক্ষার ধারাবাহিক লিখা। আমার বাচ্চাকে ঈমানের বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দেয়ার জন্য আমি কিছু নোট লিখেছিলাম। আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। ঈমানে ও য়ামলের বেসিক বিষয়গুলো বুঝার জন্য নিজে পড়া, নিজ সন্তানকে পড়ানো অথবা দ্বীন প্রচারের কাজে আপনি হয়তো নোটগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। আল্লাহ তায়ালা তৌফিক দান করুন। পড়ুনঃ

ছোটদের ঈমান শিক্ষা,

কালিমা তায়্যিবা,

আল্লাহতায়ালার পরিচয়,

ফেরেশতাদের পরিচয়,

নবীদের পরিচয়,

আসমানী কিতাবের পরিচয়,

তাক্বদীরের পরিচয় ও আখিরাতের পরিচয়।

ঈমান

আমরা ঈমান আনি মহান আল্লাহতায়ালার একত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতি এবং তাঁর সকল গুণসমূহের প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগনের প্রতি, তাঁর প্রেরিত নবী-রাসুলগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, এবং

ভাগ্যের ভালমন্দ আল্লাহ্ তায়ালার হাতে এ কথার প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।

আমার পরিচয়

আমি একজন সাধারণ মুসলমান। আমার রব আল্লাহ যিনি আমাকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমাকে মানুষরূপে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাকে পৃথিবীতে তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধিরূপে পাঠিয়েছেন। তিনি আমার প্রতি দয়া করেছেন, রহমত করেছেন। তিনি আমাকে মানুষ করেছেন, তিনি আমাকে মুসলমান করেছেন, তিনি আমাকে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত করেছেন এবং তিনি আমাকে তাঁর একত্ববাদের কালিমা শিক্ষা দিয়েছেন। তিনিই আমাকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনিই আমাকে রিযিক দান করেছেন এবং জীবনের সমস্ত উপকরণ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালা আমাকে তাঁর দয়া দিয়ে, তাঁর প্রেম দিয়ে, তাঁর রহমত দিয়ে এবং এক অসীম কুদরত দিয়ে আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আসমানের ফেরেশতারা বললেন, আমরাইতো আপনার ইবাদত করি। এরাতো পৃথিবীতে অশান্তি ও রক্তপাত করবে। আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জান না। আল্লাহ তায়ালা আমাকে এভাবে স্রেফ নিজের ইচ্ছায়, ফেরেশতাদের আবদার উপেক্ষা করে পরম দরদ আর পরম মমতা দিয়ে আমাকে সৃষ্টি করলেন। সৃষ্টি করলেন আমার সর্বোত্তম অবয়বে। আমার পূর্বপুরুষ হযরত আদম য়ালাইহিস সালামকে সৃষ্টির পর তার পিঠ থেকে আরও অযুত-নিযুত রূহের সাথে আমাকেও বের করলেন। এরপর সমস্ত রূহের বিশাল সমাবেশে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করলেন, আলাসতু বিরব্বিকুম? আমি কি তোমাদের রব নই? সমস্ত রূহের সাথে আমিও সমস্বরে জবাব দিলাম,” বালা”। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আপনিই আমাদের রব, আমাদের মহান প্রতিপালক। পৃথিবীতে কিছুকালের জন্য আল্লাহ তায়ালা আমাকে তাঁর খলিফা হিসেবে পাঠাবেন, এজন্য তিনি শূণ্য থেকে মহাশূণ্য সৃষ্টি করলেন। আল্লাহর ভয়ে মহাশূণ্য প্রবল আর্তনাদ করে উঠল। তিনি পানি সৃষ্টি করলেন। আল্লাহর ভয়ে পানি প্রবল বেগে ধাবিত হতে লাগল। তিনি জমিন সৃষ্টি করলেন। জমিন প্রবল বেগে কম্পিত হতে লাগল। অতঃপর আল্লাহ জমিনে পাহাড় স্থাপন করলেন। জমিনের কম্পন স্তিমিত হল। জমিনের বুকে আল্লাহ তায়ালা বায়ুকে প্রবাহিত করে দিলেন। আর ধাপে ধাপে সাত আসমান সৃষ্টি করলেন। এত আয়োজন, এত সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালা করলেন, সব আমার জন্য, জমিনের বুকে আমাকে তাঁর খলিফা হিসেবে পাঠাবেন বলে। আল্লাহ জমিনকে প্রাণধারণের উপযোগী করলেন। আকাশ থেকে জমিতে বারিবর্ষণ করলেন। দিন এবং রাত সৃষ্টি করলেন। ঋতুর পরিবর্তন ঘটালেন। জমিন সতেজ হলো। লতা-গুল্ম আর বৃক্ষের পাতায় ঢেউ খেলে গেল। সৃষ্টির প্রথম হাতি বৃংহতি দিয়ে উঠল, প্রথম ঘোড়া হ্রেষা করল, প্রথম সিংহ গর্জন করে উঠল, প্রথম চিতা ক্ষিপ্রগতিতে দৌড়ে গেল, এক ভোরবেলায় প্রথম মোরগটি কক্ কক্ করে উঠল। এরপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আল্লাহপাক হযরত আদম য়ালাইহিস সালামকে জমিনের বুকে প্রথম খলিফারূপে প্রেরণ করলেন। জমিনের বুকে প্রথম মানুষ, প্রথম খলিফা, প্রথম নবী। এভাবে আল্লাহ তায়ালা সমস্ত সৃষ্টিকূলকে মানুষের খেদমতে নিয়োজিত করলেন এবং মানুষ ও জিনকে একমাত্র আল্লাহতায়ালার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করলেন।

দেখতে দেখতে পার হলো সহস্র সহস্র বছরের ইতিহাস। সময়ের পরিক্রমায় কত মানুষ ভুলে গেল তার রবকে। ভুলে গেল তার প্রথম স্বীকারোক্তি। “বালা। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আপনিই আমাদের রব, আমাদের মহান প্রতিপালক”। সে তার রবকে ভুলে পৃথিবীর খেলতামাশায় পড়ে রইল। আর এভাবে সে জালিমে পরিণত হল। এসব আল্লাহভোলা মানুষকে পুনরায় আল্লাহর সাথে জুড়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে লক্ষাধিক নবী-রসূল য়ালাইহিমুস সালামকে প্রেরণ করলেন। তারা এসে মানুষের ময়দানে মানুষের দিলের উপর মেহনত করে মানুষকে এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন। যারা নবীদের দাওয়াতে সাড়া দিল তাদের জন্য আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন চিরস্থায়ী জান্নাতের ঘোষণা করলেন যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নিল, নবীদের কষ্ট দিল, হত্যা করল তাদের জন্য দুনিয়ায় বেইজ্জতি এবং আখিরাতে জাহান্নামে অপমানকর শাস্তির ব্যবস্থা করলেন।

আজ থেকে সহস্রাব্দ সহস্রাব্দ পূর্বে নবীরা দাওয়াতের মেহনত করতেন। দাওয়াতের কাজে বিপদ ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। কোন নবীকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে হয়েছে, কোন নবীকে মাছের পেটে যেতে হয়েছে, কোন নবীকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। তারপরও তারা চোখের পলক পরিমাণ সময় দাওয়াতের কাজ থেকে বিরত হননি। এমন কোন নবী নেই যে দাওয়াতের কাজ করতে গিয়ে কষ্ট-মুজাহেদা করেননি। সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন আমাদের প্রিয় নবী শেষ রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম।

আল্লাহ তায়ালা নবীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন। তাই তাদের দিয়ে তিনি সবচেয়ে উঁচু এবং দামী কাজ দাওয়াতের মেহনত করিয়েছেন। নবীরা মানুষের ঘরে ঘরে দ্বারে দ্বারে বারে বারে আল্লাহর কথা নিয়ে যেতেন এবং মানুষের দিলের রোখ দুনিয়া থেকে আখিরাতমুখী করার চেষ্টা করতেন। অর্থাৎ যে খেলাফত বা প্রতিনিধিত্ব দিয়ে মহান আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন দুনিয়ায় মানুষ প্রেরণ করেছিলেন, মানবকূলের মধ্যে নবীরাই মূলত এ দায়িত্ব পালন করলেন।

কিন্তু আল্লাহ তায়ালা শেষ রসুল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পর দুনিয়ায় নবী আসার ধারাবাহিকতা বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়ে আল্লাহ দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন। কিয়ামত পর্যন্ত আর নবী আসবেন না। অথচ দুনিয়ায় মানুষ আসতে থাকবে। পথহারা পথভোলা মানুষকে তাহলে কে সঠিক পথের সন্ধান দেবে? অতঃপর এ কাজ আল্লাহ তায়ালা তাঁর রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের উপর অর্পণ করলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, নিজে নেক আমল করে এবং বলে যে নিশ্চয় আমি সাধারণ মুসলমানদের মধ্য হতে একজন”। (সূরা হা-মীম সিজদাহ, আয়াতঃ ৩৩ এর অনুবাদ)। আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। মানুষের কল্যণের জন্য তোমাদের বের করা হয়েছে। তোমাদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ এই যে, (তিনটি কারণ) তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহ তায়ালার প্রতি ঈমান আনবে”। (সূরা আল-ইমরান, আয়াতঃ ১১০ এর অনুবাদ)।

ফায়েদাঃ হে আল্লাহ! আমি অস্তিত্বহীন ছিলাম, তুমি আমাকে ভালোবেসে অস্তিত্বে এনেছ; আমি অনাকৃতি ছিলাম শুক্রবিন্দুরূপে, মায়ের পেটে তিন অন্ধকারে পানির ভিতর তুমি আমাকে আকৃতি দান করেছ; আমি দুর্বল ছিলাম, তুমি আমার মাতা-পিতার হৃদয়ে আমার জন্য ব্যাকুলতা তৈরী করেছ; প্রসববেদনার ধকলের পর চেতনা অচেতনার মধ্যভাগে অবস্থিত আমার মা তোমারই কুদরতে তার ক্লান্ত শীর্ণ বাহুতে আমাকে আঁকড়ে ধরল আর আমার মুখে দান করল অমিয়ধারা!! হে আল্লাহ! অতি তুচ্ছ পানি থেকে তুমি আমাকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করলে, আমাকে রিযিক দিলে, তুমিই আমার দুর্বল পা-কে মজবুত করলে, আমাকে এলেম দান করলে এবং সত্য মিথ্যার পার্থক্য শেখালে, পৃথিবীতে তোমার একত্ববাদ এবং তোমার বড়াই-বড়ত্বের প্রচারের জন্য আমাকে প্রতিনিধিত্ব দিলে। তুমিই আমাকে তোমার সর্বশ্রেষ্ঠ রসূল শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত করে রসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতের মেহনতের জিম্মাদারী দান করলে। রসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম যে দ্বীন আমাদের কাছে এনেছেন তার উপর অটল থাকলে তুমি আমাদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা করলে। আলহামদুলিল্লাহ।

হে আল্লাহ! হাজার বছর পূর্বে নবীরা যে দাওয়াতের মেহনত করতেন তার বরকতে তুমি আকাশকে তাদের অধীন করেছিলে, জমিনকে তাদের অধীন করেছিলে, সমুদ্রকে তাদের অধীন করেছিলে। আগুন তাদের পোড়াতে পারত না, সাগর তাদের জন্য পথ করে দিত, লোহার ধারাল ছুড়ি তাদের গলায় বসত না, তাদের হাতে লোহা মোমের মত গলে যেত। তাদের পায়ে বাদশাহী আছড়ে পড়ত, তারা অন্ধ রোগীর চোখে হাত বুলালে অন্ধ দৃষ্টিমান হত, কুষ্ঠ রোগীর গায়ে হাত বুলালে কুষ্ঠ রোগ আরোগ্য হত, তাদের স্পর্শে মৃত জীবিত হত। দীর্ঘ অসুস্থতা তাদের ধৈর্য্য ও তাওয়াক্কুলের কাছে পরাজিত হত। তাদের হুকুমে প্রাণিকূল এমনকি পাখীও হক্বের দাওয়াত দিত, জ্বীন বহুদূরের রাণীর সিংহাসন মুহূর্তে এনে দিত। তাদের হাতের লাঠি সাপে পরিণত হত, আবার সাপ তাদের হাতের লাঠিতে পরিণত হত, তাদের সাথীদের জন্যও জান্নাত থেকে খাবারের ব্যবস্থা হত। আর মক্কার মরুপ্রান্তরের সেই মুকুটহীন সম্রাটের অঙ্গুলি ঈশারায় আকাশের পূর্ণ চাঁদ দ্বিখন্ডিত হত, মক্কার পাষাণ-হৃদয় মানুষগুলোর হৃদয়ও মোমের মত গলে যেত। আল্লাহ্-র হুকুমে ফেরেশতা জিবরাঈল আসমান থেকে নাযিল হতেন আল্লাহর পয়গাম নিয়ে।

হে আল্লাহ! নবীরা দাওয়াতের যে আসল মেহনত করতেন তুমি আমাদের তাদের নকল মেহনত করার তৌফিক দান কর। তুমি নবীদের মেহনতে যে রহমত ঢেলেছিলে আমাদের মেহনতেও সে রহমত ঢাল। দাওয়াতের মেহনতে তুমি আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত লাগিয়ে রাখ। আমরা যেন তোমার খলিফা হিসেবে তোমার এই কাজ, তোমার সকল নবীদের সুন্নত এই দাওয়াতের মেহনত করতে করতে মরতে পারি, মরতে মরতে করতে পারি তুমি দয়া করে আমাদের এই তৌফিক দান কর। ধৈর্য্যের সাথে শরীয়ত মোতাবেক তোমার ইবাদত করার তৌফিক দান কর। তোমার অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান কর। আমাদের গুনাহরাশিকে তুমি ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের অভিভাবক, অতএব কাফিরদের বিরুদ্ধে আমাদের জয়যুক্ত কর। জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে আমাদের জান্নাত দান কর। আমাদের মানব জনম সার্থক কর। সকল নবীদের প্রতি সালাম। আমীন।

আমার মেয়ের লেখাপড়া

 

আমার মেয়ের লেখাপড়া

যারা নিজেদের ক্যারিয়ার, উচ্চতর ডিগ্রী ইত্যাদি নিয়ে দিবা-রাত্র ব্যস্ত সময় কাটান তারা কি কোনদিন জানতে পারবেন নিজ সন্তানকে আ-কার, ই-কার, ঋ-কার শেখাতে কেমন লাগে। কতখানি আবেগ, ভালবাসা, মায়া ও মমতার বন্ধনে জড়ানো সে সোনা সোনা ক্ষণ। কতটুকু ধৈর্য্য ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন নিজ সন্তানদের প্রথম পাঠের শিক্ষক হিসেবে নিজেকে কাজে লাগাতে! এটা কোন ছোট বিষয় নয়, বরং অত্যন্ত বড় একটি বিষয় যা আমি আমার মেয়েকে পড়াতে গিয়ে বুঝতে পারছি। আমি প্রতিদিন আমার বাচ্চাকে নিয়ে বসছি। তাকে শেখাতে গিয়ে আমি নিজেও অনেক কিছু শিখতে পারছি যা আমার জন্য নতুন ও আনন্দদায়ক। ধৈর্য্যের পরীক্ষাও হয়ে যাচ্ছে একইসাথে। আমার মেয়েকে শেখালাম ঔ-কার লিখতে। তারপর বললাম ঔ-কারের ভিতরের খালি জায়গায় তোমার মনমত একটা অক্ষর লিখ। সে অনেকক্ষণ চিন্তা-ভাবনা করে লিখল ‘e.’ আমি হাসব, না রাগ করব বুঝে উঠার চেষ্টা করলাম। একটা প্রয়োজনে তাকে শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। ভাবলাম কান ধরে উঠবস করালে কেমন হয়। পরে আবিষ্কার করলাম কানে ধরার সিস্টেমই সে জানে না। তাহলে এটা যে একটা শাস্তি সেটা বুঝবে কিভাবে। আমার মেয়েকে পড়াতে আমার ভাল লাগছে। নিজের ক্যারিয়ারের জন্য লেখাপড়া করতে যতটুকু ভাল লাগে তার থেকে অনেক বেশী ভাল লাগছে। আমার কাছেই আমার বাচ্চা শিখুক সঠিক উচ্চারণে কুরআন শরীফ পড়া। আমার কাছেই হোক আমার সন্তানের বাংলা, ইংরেজী ও অংক শেখা। জ্ঞান সমুদ্রের পথ পাড়ি দেয়ার সময়গুলোতে তার প্রথম সহযাত্রী হিসেবে আমার নামটি তার হৃদয়ে লেখা থাকুক। আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন। আমীন। 

আবু মুনতাহা

21 November 2014 

বাচ্চাদের ছড়া

অনেক খোঁজাখুঁজি করে বুঝলাম বাচ্চাদের জন্য বাংলা ভাষায় তেমন ভালো ছড়া নেই। বেশীর ভাগ ছড়াই বড়দের উপযোগী, কিন্তু বড়রা ছড়া পড়ে সময় কাটাবে এটা কোন ভালো কাজ না। বাচ্চাদের ভাষা শিক্ষা, ভাষার ছন্দ বোঝা এবং ভাষার সৌন্দর্য বিকাশে ছড়া একটা ভালো কাজের জিনিস হতে পারে। কিন্তু অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করে তেমন ভালো শিক্ষামূলক কিছু চোখে পড়ল না। আবার ছড়ার নামে একেবারে যা তা জিনিস দিয়ে বাচ্চাদের মগজ ধোলাই করা হবে এটাও হতে দেয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত অনেক খুঁজেটুজে একটা সংগ্রহ তৈরি করলাম যা মোটামুটি উপকার হতে পারে।

Kids Bangla Rhyme

আসমানী কিতাবের পরিচয়

আল্লাহ্তায়ালা অনেক নবীর উপর আসমানী কিতাব প্রেরণ করেছেন। যেন নবীরা আল্লাহ্ প্রদত্ত এলেম মানুষকে শিক্ষা দিতে পারেন। তার মধ্যে চারটি কিতাব প্রসিদ্ধ। হযরত দাউদ য়ালাইহিস সাল্লামের ওপর যাবুর, হযরত মূসা য়ালাইহিস সাল্লামের ওপর তাওরাত, হযরত ঈসা য়ালাইহিস সাল্লামের ওপর ইঞ্জিল এবং হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর কুরআন শরীফ নাযিল হয়। এছাড়া আরো অনেক নবীর উপর ছোট ছোট কিতাব বা সহীফা নাযিল হয়। আমরা সকল আসমানী কিতাবের উপর দৃঢ় ঈমান রাখি। কুরআন হলো আল্লাহ্তায়ালা প্রেরিত পূর্বের সমস্ত কিতাবের সমর্থক এবং বর্তমানে আল্লাহ্তায়ালার একমাত্র মনোনীত আসমানী কিতাব। পূর্বের জাতিগুলি তাদের ওপর নাযিলকৃত আসমানী কিতাবগুলোকে নিজেদের মনমতো পরিবর্ধন, পরিবর্তন করেছিল। অতঃপর পূর্বের সমস্ত কিতাবের কার্যকারিতা আল্লাহ্তায়ালা বন্ধ করে দিয়েছেন। কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের হেদায়েতের কিতাব হলো এই কুরআন। এই কিতাব সম্পর্কে আল্লাহ্তায়ালা বলেন,

ذَٰلِكَ ٱلۡكِتَٰبُ لَا رَيۡبَۛ فِيهِۛ هُدٗى لِّلۡمُتَّقِينَ
“এ সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই। যারা আল্লাহ্তায়ালাকে ভয় করে এ কিতাব কেবল তাদের জন্যই পথ প্রদর্শক”। (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ২)

অর্থাৎ কুরআন দ্বারা সকলেই হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে না। যারা আল্লাহ্তায়ালাকে ভয় করে এ কিতাব কেবল তাদের জন্যই পথ প্রদর্শক।

এ কুরআন বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মানুষের জন্য প্রেরিত হয়েছে। আজ বিশ্বমানবতা চূড়ান্ত অন্ধকারে নিমজ্জিত। কুরআন হলো এ গভীর অন্ধকার থেকে আলোর দিকে উত্তরণের পথের নূর বা আলো। কুরআনের নূর দ্বারা বর্তমান রহস্যঘেরা পৃথিবীর প্রতিটি ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এক একটা ঘটনাকে যদি এক একটা বিন্দু ধরা হয় তাহলে এরকম অজস্র বিন্দুর মধ্য দিয়ে কুরআনের আলো দ্বারা একজন ঈমানদার ব্যক্তি তার সঠিক গন্তব্যে পৌঁছতে সক্ষম। তবে এর জন্য প্রয়োজন কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা যা মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস।

কুরআনে আল্লাহপাক অতীতের বিভিন্ন নিদর্শন বা ঘটনাবলী বর্ণনা করেছেন। কারো কৃতকর্মের জন্য শাস্তি দিয়েছেন আবার কারো জন্য আসমান থেকে খাদ্য পাঠিয়েছেন। ফেরাউনকে পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন আবার হযরত মূসা য়ালাইহিস সালামকে বাক্সবন্দি অবস্থায়ও পানি থেকে হেফাজত করেছেন। আল্লাহপাক এরকম শাস্তি ও সাহায্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে থাকেন।

ইতিহাস বার বার ফিরে আসে।

وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ

“আর এ দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন ঘটিয়ে থাকি” (সূরা আল ইমরান, ১৪০)
.

হ্যাঁ ! ইতিহাসের ঘটনা গুলো বার বার আবর্তিত হয়। কোন অভিজ্ঞ চোখ যখন তার ঈমানওয়ালা হৃদয় দিয়ে কুরআনের আয়াতগুলোকে উপলব্ধি করে তাহলে সে কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনার একটার সাথে একটা যোগসূত্র দেখতে পাবে। জাহাজের নাবিক যেমন অন্ধকার রাতে আকাশের তারাগুলোর সম্মিলিত অবস্থানকে বিশ্লেষন করে সঠিক পথ খুঁজে পায়, কুরআনের নিবিষ্ট ছাত্রও তেমন কুরআনের নূর দ্বারা বর্তমান ও অতীতের ঘটনাপঞ্জি বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পথ খুঁজে পায়।

বিস্তারিত পড়ুন

নবীদের পরিচয়

Al-Anbiya

দুনিয়ার সমস্ত মানুষের হেদায়াতের জন্য আল্লাহ্তায়ালা হযরত আদম আলাইহিস সাল্লাম থেকে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত যুগে যুগে লক্ষাধিক নবী-রসূল পাঠিয়েছেন। নবীরা আল্লাহ রব্বুল য়ালামীনের পক্ষ থেকে মনোনীত ব্যক্তি। কোন সাধনা বা শক্তিবলে নবী বা রসূল হওয়া যায় না। এটা সম্পূর্ণ আল্লাহতায়ালার এখতিয়ার যে তিনি কাকে নবী করবেন। (দ্রষ্টব্যঃ সূরা আল আনআম, আয়াত ১২৪)। নবী রসূলরা ছিলেন মানব জাতির মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানুষ, নিষ্পাপ এবং আল্লাহতায়ালার প্রতি সর্বাধিক অনুগত। তারা সকলেই আল্লাহর একত্ববাদের দিকে মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন। তারা মানুষের অন্তরগুলোকে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া থেকে চিরস্থায়ী আখিরাতমুখী করার মেহনত করেছেন। যেন মানুষ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি ও সফলতার জীবন লাভ করতে পারে। যারা নবীদের দাওয়াত গ্রহণ করেছেন তাদেরকে আল্লাহ্তায়ালা দুনিয়ায় পেরেশানীমুক্ত ইজ্জতওয়ালা জীবন দান করেছেন এবং আখিরাতে তাদের জন্য জান্নাত রেখেছেন। এরাই তারা যারা আখিরাতকে দুনিয়ার জীবনের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আল্লাহ্তায়ালা বর্তমানে পূর্বের জমানার সকল নবী-রসূলদের নবুওয়্যাত এবং রিসালাতের কার্যকারিতা বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে জারি আছে শেষ জমানার শেষ রসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়্যাত এবং রিসালাত। এবং কিয়ামত পর্যন্ত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত চলতে থাকবে। অর্থাৎ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই শেষ নবী এবং রসুল। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়েই আল্লাহ্তায়ালা দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছেন। তার পরে আর কোন নবী অথবা রসূল আসবেনা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দ্বীন আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন আমরা সবাই তা গ্রহণ করেছি, এবং এর ওপরই আমরা আমল করি। এটাই সহজ-সরল পথ। পাশাপাশি আল্লাহ্তায়ালা-প্রেরিত পূর্বের সমস্ত নবী-রসূলদেরকে আমরা স্বীকার করি এবং তাদের নবী-রসূল হওয়ার ব্যাপারে আমরা দৃঢ় সাক্ষ্য দেই। বিস্তারিত পড়ুন

শিক্ষা

এক ব্যক্তি তার মেয়ের স্কুলে ভর্তির শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন। বিভাগীয় শহরের অত্যন্ত নামকরা স্কুলে ক্লাস থ্রীতে ভর্তির জন্য তাকে অতি উঁচু স্তরের লোক দিয়ে ফোন করাতে হয়েছিল। আমি বললাম ঐ স্কুলে দিলেন কেন যাদের মধ্যে এতটুকু নীতি-নৈতিকতা নেই। তিনি বললেন আমার মেয়ে এখন ক্লাস সিক্সে। ম্যাথে যেমন এক্সপার্ট, ইংলিশ ও বিজ্ঞানেও তেমন। এই বয়সেই নাইন টেনের ম্যাথও বুঝে। দুর্বলতা শুধু সমাজ-বিজ্ঞান ও ইসলাম ধর্মে। বিশেষ করে ইসলাম ধর্মটা সবচেয়ে কঠিন লাগে। আমি বললাম ইসলামধর্ম কঠিন লাগার মত বিষয়ই বটে। এজন্যই আইনস্টাইনের মত বিজ্ঞানীও ইসলাম বুঝেন নাই। (আর আপনার মেয়ে কিভাবে বুঝবে?) তবে যেটা বলার আগেই তিনি উঠে পড়লেন তা হচ্ছে আইনস্টাইন কাফের মানুষ ছিলেন তাই তার কাছে ইসলাম নাও বোধগম্য হতে পারে। কিন্তু একজন মুসলিম ঘরের মেয়ে ইসলাম বুঝবে না এটা আমার-আপনার জন্যও মারাত্মক লজ্জাকর। কি জবাব দিবেন আখিরাতে?

এ শিশুটির মতোই কোন শিশু যদি বড় হয়ে আল্লাহকে আল্লাহ ডাকতে লজ্জাবোধ করে গড ডাকে, ঈশ্বর ডাকে, সৃষ্টিকর্তা ডাকে তাহলে অবাক হওয়ার খুব বেশী কিছু আছে কি?