দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার

শেয়ার করার জন্য শেয়ার বাটনটাতো ছিল, বা এট লিস্ট আমার নামটাতো কার্টেসীতে দিতে পারতেন। – This is called দাজ্জালী দৃষ্টিভঙ্গী।

আরে ভাই আমার লেখা কপি-পেস্ট করবেন এটা আবার জিজ্ঞেস করতে হয়? আল্লাহ তৌফিক দিয়েছেন বলেইতো লিখতে পারি। — This is রহমানী দৃষ্টিভঙ্গী।
.
.
“আমার উম্মাহর উদাহরণ হলো এমন এক বৃষ্টির মতো যার প্রথম ভালো নাকি শেষ ভালো বলা যায় না।” – রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম।

দ্বৈত নাগরিকত্ব

আপনি যখন কাফের-মোশরেকদের দেশের নাগরিকত্ব গ্রহন করেন, তখন আপনাকে অঙ্গীকার করিতে হয় যে আপনি সেই দেশের সংবিধান মানিয়া চলিবেন । ফলে ধরিয়া নেওয়া হইবে যে, আপনি সেই দেশের সংবিধানে ইসলামবিরোধী যত কুফুরি-শিরকি কথাবার্তা আছে তাহাকে স্বেচ্ছায় মানিয়া নিয়াছেন । কাজেই আপনার জন্য ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করিতেছে । পক্ষান্তরে যেই দেশে আপনি জন্মগ্রহন করিয়াছেন তাহার সংবিধানে যে-সব কুফুরি-শিরকি কথাবার্তা আছে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও আপনি তাহা মানিয়া চলিতে বাধ্য হইতেছেন । অন্যথায় সরকার আপনাকে জেলে ঢুকাইবে, ফাঁসিতে ঝুলাইবে । ইহা আল্লাহ ক্ষমা করিয়া দিবেন । কেননা সেই দেশে আপনার জন্ম হইয়াছে (এবং জন্মের ওপর আপনার কোন হাত ছিল না) ।

মূল : আল্লামা ইমরান নজর হোসেন
অনুবাদ : বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

ট্রেন্ড


যে যুগে যে ট্রেন্ড প্রবল হয় সে ট্রেন্ডের ফলোয়াররা তাকে ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। আজকে যারা বিজ্ঞান করছেন তাদের পূর্বপুরুষরা যাদু, ভাস্কর্য ও স্থাপত্য এবং কবিতা ও গীতিকাব্য করেছেন। হক্বের কাছে সবই নিশ্চিহ্ন হয়েছে।


আল মালহামা নাকের ডগায় ঘুরপাক খাচ্ছে আর ‘উনারা’ ব্যস্ত আছেন হযরত হাফেজ্জী হুযুরের নামে রাস্তা পুনর্বহালের দাবিতে। হুযুরের নামে রাস্তা বহাল থাকলেই যেন এ যাত্রায় ইসলাম টিকে গেল। হাফেজ্জী হুযুরের মতো দূরদর্শী আলেমের মাকাম আল্লাহ্‌ জান্নাতে উচু করুন। আর উনাদের কথা নাই বললাম।

তাহাদের চেনা কঠিন

অনেকের দ্বীনদারের সাইনবোর্ড থাকে, কিন্তু লেনদেন পরিষ্কার না। আবার অনেকের দ্বীনদারের সাইনবোর্ড থাকে কিন্তু জবান রক্ষা করে না। উনাদের চেনা খুব কঠিন। কারণ সাইনবোর্ডের বর্ম থাকে। ভুক্তভোগীরাই কেবল তাদের চেনেন, আর চেনেন আল্লাহ্‌।

উম্মাহ

মুসলিম উম্মাহ নামক আন্তর্জাতিক ভূতের কল্যাণ সবাই কামনা করে। তবলীগের ভাইয়েরা কামনা করেন, বাগদাদী কামনা করেন, হাসিনা খালেদা কামনা করেন, জর্জ বুশও নাকি কামনা করতেন। ট্রাম্পের কি অবস্থা? তিনি কামনা করেন নাই?

আলো

আমাদের গেছে যে দিন একেবারেই কি গেছে — কিছুই কি নেই বাকি? খটকা লাগল। একটুকু রইলেম চুপ করে; তার পর বললেম, দিনের সব আলোই আছে রাতের আঁধারের আড়ালে।

এক শতাব্দী পর কবিগুরুর ভুলটা শুধরে দিলেম; আর তা আমাদের হয়ে গেল। মুসলমানদের।

.

শেষের লাইনটাতে কারিগরি করছি। উলটা করে দিছি। ওটাতে ছিল রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে। মুসলমানদের সাথে মিলতেছে কি না এটা বলেন?

হায় ফেসবুক

যদি ভালো থাকতে চান, শরীর মন সুস্থ রাখতে চান তবে সপ্তাহে কমপক্ষে তিনদিন ফেসবুক ব্যবহার করবেন না। আজকের দিনটা আলহামদুলিল্লাহ ভালো কেটেছে। কারণ সারাদিন ফেসবুকের মুখ দেখি নাই। মাত্র এখানে ঢুকলাম সাথে সাথে মেজাজ বিগড়ে গেল, এর দীর্ঘমেয়াদী ফল হল ব্লাড প্রেশার বৃদ্ধি এবং শরীরের আরো অনেক অজানা মেকানিজমের ক্ষতি। ফেসবুক খুলতেই দেখি নোটিফিকেশন, আমার এক পোস্টে এক নারী কমেন্ট করেছে – আপনি শিয়া শিয়া শিয়া। আহ্ কত বড় অপবাদ। যদি আমি জাতীয়তাবাদী হতাম, সুন্নী সুন্নী বলে লাফাতাম তাহলে আমার স্ব-গোত্রীয়রা আমাকে এতো বড় কথা বলতে পারত না। যাহোক ব্লক করে দিলাম। সে তো জানে না, আমার ফ্রেন্ড সংখ্যা ১৫০০ প্লাস থেকে বিলো ৫০ তে নামিয়েছি, কত আলেম সেলিব্রেতিদের কুরবানী দিয়েছি – শুধু যা বলতে চাই তা বলতে পারব বলে। যে শুনতে চায় না সে নাহয় না-ই থাকুক আমার সাথে। যে শুনতে চায় এরকম বিপরীত মতের ভাইও আমার ছোট বন্ধুতালিকায় আছে। আলহামদুলিল্লাহ।
 
এর আগের দিন ফেসবুকে এক ব্যক্তির বালক সুলভ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হল। প্রতিটা কথার বিপরীতে সে প্রশ্ন করে। ভাবছি এভাবে শক্তি নষ্ট করে শারীরবৃতীয় কার্যক্রম ব্যহত করে লাভ কি?
 
মানুষের বোঝা উচিৎ স্ব-মতের লোকদের সাথে কথা বলার চাইতে বিপরীত মতের লোকদের সাথে কথা বলার সময় আরো অধিক পরিমাণে কার্টেসী ও ভদ্রতা প্রকাশ করা দরকার। এ বোধ যার নাই তার সাথে কমপ্লিকেটেড বিষয়ে কথা বলে লাভ কি? তার তো উচিৎ কিন্ডারগার্টেন বা মক্তব থেকে ভদ্রতার তালিম নিয়ে আসা। কিন্তু বাংলার ইসলামিক ফেসবুকারদের এ কথা কে বুঝাবে?
 
যাহোক আজকে কিছু কাজে বাইরে বাইরে ঘুরতে হল। দু’ হাত ভর্তি বাজার সদাই করে ফিরছি, এক পিংকু যুবক ফুটপাথে থামিয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল, আজকে তো বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ, আসেন আপনার হাতে WIN Bangladesh লিখে দেই। তার তোতলামি থামা বন্ধ হলে বললাম, ভাই, আমি খেলার লাইনের লোক না, আমি অন্য লাইনের লোক। সে বলল, অ বুঝতে পারছি। আমি হনহন করে চলে এলাম।
 
তবুও, বাস্তব জীবনের কমেডিদের মজা লাগে, প্রেশার কমে। কিন্তু ফেসবুকের কমেন্ট বক্সের কমেডিদের বিরক্ত লাগে, প্রেশার বেড়ে যায়।