ব্যবসায়ী

ব্যবসায়ীরা যখন দেশপ্রেমের কথা বলে বা ধর্মের কথা বলে তখন বুঝতে হয় সম্ভবত এর পেছনে কোন ব্যবসা আছে। যেমন, চিকিৎসকরা বলবে, আরে আমাদের দেশের চিকিৎসা সেবার মান অনেক উন্নত। ভুলেও তারা কোলকাতা, দিল্লী, মাদ্রাজ, মুম্বাইয়ের প্রশংসা করবে না। আমেরিকারও সমস্যা বের করে ফেলবে। শুধু আমাদের দেশের চিকিৎসাই ভালো। হা হা। ব্যাবসা ছাড়া এরকম আত্ম-অহংকারের আর কোন কারণ থাকতে পারে না। যখন তাদের কোন সুনির্দিষ্ট ভুল ধরিয়ে দিবেন তখনও তারা স্বীকার করতে রাজী নয়। এটাও ঐ ব্যবসায়ী মানসিকতার কারণে। ব্যবসায়ে ভুল স্বীকারের স্থান নেই। রাজনীতি দিয়ে যাদের আয় উপার্জন হয় তাদের কণ্ঠেও দেশপ্রেমের কথা খুব বেশী শোনা যায়। এমনকি কাব্য ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা। কবিদের ব্যবসার মূল পুঁজিই দেশপ্রেম। দেশপ্রেমের ব্যবসার সাথে ধর্ম ব্যবসার মিল আছে। তবে সেখানে পার্টি আরো ধুরন্ধর। বিদয়াত চালু রাখতে সুন্নতকে কোরবানি দিয়ে দিবে। পাছে তার ব্যবসা মার খেয়ে যায়। এজন্যই বলা হয়, ব্যবসায়ী চিকিৎসক ধ্বংস করবে আপনার স্বাস্থ্য, আর ব্যবসায়ী আলেম ধ্বংস করবে আপনার আমল। মাঝখানে তাদের লাভটা ঠিকই হয়ে যাবে।

Advertisements

রোবটের হবে নাকি বাচ্চা। উড়না নিয়ে টেনশনে সোফিয়ার মাথাব্যথা। — জাতি আছে মজাকে। তিন পাগলের হলো মেলা নদে এসে, তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে।

লেখা শেয়ার করার সময় যে জিনিসটি খেয়াল রাখা দরকার

ইসলামে একটি সুন্দর নিয়ম আছে। ইসলামে খারাপের আলোচনা করা নিষিদ্ধ। এটি রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম এবং তার সাহাবীদের সুন্নত থেকে প্রমাণিত। আপনি একটি পাপের আলোচনা করতে পারেন না। আপনি জিনাহের শাস্তির কথা বলতে পারবেন, জিনাহের কুফলের কথা বলতে পারবেন। কিন্তু আলোচনার সুযোগ নিয়ে জিনাহের প্রক্রিয়ার কথা বলতে পারবেন না। এরকম সব ক্ষেত্রেই। আমাদের পোস্টগুলোতে এসব বিষয় মাথায় রাখা দরকার। খারাপের আলোচনা খারাপকে বাড়িয়ে তোলে। এমনকি খারাপ কোন পোস্টে এংরি রিএকশনও দেয়া যাবে না। যেমন ধরুন ডয়চে ভেলে সারোগেট মাদার নিয়ে একটা রিপোর্ট করল। এটা আমি শেয়ার করে দিলাম। আর কোথাও ছোট্ট একটি মন্তব্য লিখলাম ‘কিয়ামতের আলামত।’ এখন ডয়চে ভেলের উদ্দেশ্য কিন্তু পূর্ণ হলো। সে তার কন্টেন্ট প্রচার করতে পারল। মানুষ জানতে পারল বাংলাদেশেও এখন এ ধরনের অপকর্ম করা যায়। ডয়েচের বিশাল প্রতিবেদনের অন্তরালে আমার রাসূলের ছোট্ট হাদিসটি হারিয়ে গেল। এজন্য নিয়ম হচ্ছে, আল্লাহ ও তার রাসূলের কথাকে হাইলাইট করা। ইসলামিক ইস্কেটোলজির মূলনীতিগুলোকে হাইলাইট করা। আশা করি সবাই বিষয়টির প্রতি খেয়াল রাখবেন।

status

গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিলের ধ্বনি বলে দিচ্ছে শীতকাল সমাগত প্রায়। ওয়ায়েজীনরা তাদের গ্রীস্মনিদ্রা ভেঙ্গে জেগে উঠছেন। শেষ যুগ বিষয়ে তারা কিছু বলবেন কি, নাকি শেষ যুগের ‘বক্তা’ হয়েই থাকবেন?

পুরষ্কারের আশা

কোরআন আমাদের প্রথম শিক্ষা দেয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা, রহমানুর রহীম, বিচার দিনের মালিক। (সূরা ফাতিহা ১ – ৪) । এটিই কোরআন প্রদত্ত আমাদের প্রথম শিক্ষা। এজন্য দেখবেন ইসলামের ইতিহাসে অসংখ্য জ্ঞানী গুণী ব্যক্তি ছিলেন, আবু বকর, উমর, আয়েশা রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুমের মতো ব্যক্তিবর্গ ছিলেন, খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুর মতো বীর ছিলেন, ইমাম আবু হানিফা, ইমাম গাজ্জালি, ইবনে সিনার মতো অসংখ্য অসংখ্য আলেম, দার্শনিক, চিকিৎসা বিজ্ঞানী, পর্যটক, সমাজ সংস্কারক ছিলেন। কেউ কখনও দুনিয়ার মানুষের কাছ থেকে প্রশংসা, পুরষ্কার আশা করেননি। আর তাই ইসলামে পুরষ্কার, প্রাইজ মানি, দি গ্রেট জাতীয় উপাধি এসবের রীতিও নেই। কারণ মানুষের মেধা আল্লাহর দান। কাজেই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য তিনিই। যখন মানুষকে পুরস্কৃত করা হয় তখন আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকে সম্মানিত করা হয়। এটাই শিরক। এটা এমন কোন গোপন শিরক নয়, প্রকাশ্য শিরক-ই। কিন্তু মানুষের আজ বোধশক্তি নেই বলে বুঝতে পারছে না। যেখানে মেধা ও উত্তম কর্মের জন্য পুরস্কৃত করা জায়েজ হচ্ছে না সেখানে স্রেফ চেহারার ও ফিগারের সৌন্দর্যের জন্য পুরস্কৃত করা কত বড় শিরক। একটা মানুষের চেহার, বুক, কোমর, নিতম্ব এগুলো কি সে নিজে সৃষ্টি করেছে না আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন? যদি আল্লাহ সৃষ্টি করে থাকেন তাহলে এখানে মানুষের কি ক্রেডিট যে তাকে পুরস্কৃত করা হবে? কাজেই নোবেল পুরষ্কার, অস্কার পুরস্কার, মিস ওয়ার্ল্ড, মিস ইউনিভার্স এসব কোন মুসলমান গ্রহণ করে নিজেকে সম্মানিত মনে করতে পারে না। এসব পেলে কোন দেশও সম্মানিত হয় না। কারণ এসব যে আল্লাহর ক্ষমতা ও মহত্বের সাথে শিরক।

What’s on your mind?

যে বিষয়টি বলব কি বলব না এরকম দ্বিধাদন্দ্ব তৈরী হয় সে বিষয়ের সাধারণ সূত্র হলো বিষয়টি না বলা। কারণ বললে তা আর ফিরিয়ে নেয়ার উপায় থাকে না। আর না বললে, বলটা তখনও আমার পায়ে থাকে। বল থ্রো করার সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করা যায়। এজন্য মাঝে মাঝে স্ট্যাটাস লিখেও অনলি মি দিয়ে রাখতে হয়। যদিও তা বেশিক্ষণ রাখা যায় না। আল্টিমেটলি বলে কিক করতেই হয়।

কপিরাইট

জ্ঞানের পথকে বন্ধ করে দেয়ার একটি উপায় হচ্ছে কপিরাইট। এগুলো হচ্ছে পাশ্চাত্যদের আবিষ্কার যাতে মানুষের কাছে জ্ঞান অর্জন কঠিন করে দেয়া যায় আর জ্ঞানের বিনিময়ে কিছু টাকা কামানো যায়। জ্ঞানকেও তারা পণ্য বানিয়ে ফেলেছে। সবচেয়ে আশ্চর্য লাগে এতে নাকি লেখকের প্রতি সম্মান করা হয়। লেখকের ;লেখা প্রচার করতে বাঁধা দেয়া কি লেখকের প্রতি সম্মান করা? অনেকে অর্থের অভাবে লেখকের লেখার প্রতি এক্সেস পেতে পারে না। এটা খুবই দুঃখজনক। রাসূল (সা) এর একটা হাদীসের শিক্ষা অনুযায়ী বলা হয় জ্ঞানের কথা পৌঁছে দিতে। হয়তো পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের চেয়ে মেধায় অগ্রগামী। স্মরণ রাখতে বেশী সক্ষম। কিন্তু কপিরাইট আইন লেখকের জ্ঞান প্রচারের বিষয়টি মূল্যায়ন করে না। শুধু ক্ষুদ্র অর্থ সংশ্লিষ্ট স্বার্থ দেখে। এগুলোই পাশ্চাত্য সমাজের নিকৃষ্ট স্ট্যান্ডার্ড। যা তারা খুব গর্বের সাথে ও শোভনীয়ভাবে প্রচার করে। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় জ্ঞানের কথা ফ্রী প্রচার করার জন্য। এজন্য কুরআনের কোন কপিরাইট নাই, হাদীসের কোন কপিরাইট নাই। ইসলামের সত্যিকারের পণ্ডিতরা তাদের লেখার কোন কপিরাইট রাখেন না। ফলে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি। তাদের বিনিময় আল্লাহ্‌র কাছে। আর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়ও দেখি, বিনামূল্যে কাউকে ভালো পরামর্শ দিতে ভালো লাগে (যেমন ফেসবুকে) যা টাকা দিয়ে প্রফেশনালী দিতে ততো ভালো লাগে না।