হায় ফেসবুক

যদি ভালো থাকতে চান, শরীর মন সুস্থ রাখতে চান তবে সপ্তাহে কমপক্ষে তিনদিন ফেসবুক ব্যবহার করবেন না। আজকের দিনটা আলহামদুলিল্লাহ ভালো কেটেছে। কারণ সারাদিন ফেসবুকের মুখ দেখি নাই। মাত্র এখানে ঢুকলাম সাথে সাথে মেজাজ বিগড়ে গেল, এর দীর্ঘমেয়াদী ফল হল ব্লাড প্রেশার বৃদ্ধি এবং শরীরের আরো অনেক অজানা মেকানিজমের ক্ষতি। ফেসবুক খুলতেই দেখি নোটিফিকেশন, আমার এক পোস্টে এক নারী কমেন্ট করেছে – আপনি শিয়া শিয়া শিয়া। আহ্ কত বড় অপবাদ। যদি আমি জাতীয়তাবাদী হতাম, সুন্নী সুন্নী বলে লাফাতাম তাহলে আমার স্ব-গোত্রীয়রা আমাকে এতো বড় কথা বলতে পারত না। যাহোক ব্লক করে দিলাম। সে তো জানে না, আমার ফ্রেন্ড সংখ্যা ১৫০০ প্লাস থেকে বিলো ৫০ তে নামিয়েছি, কত আলেম সেলিব্রেতিদের কুরবানী দিয়েছি – শুধু যা বলতে চাই তা বলতে পারব বলে। যে শুনতে চায় না সে নাহয় না-ই থাকুক আমার সাথে। যে শুনতে চায় এরকম বিপরীত মতের ভাইও আমার ছোট বন্ধুতালিকায় আছে। আলহামদুলিল্লাহ।
 
এর আগের দিন ফেসবুকে এক ব্যক্তির বালক সুলভ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হল। প্রতিটা কথার বিপরীতে সে প্রশ্ন করে। ভাবছি এভাবে শক্তি নষ্ট করে শারীরবৃতীয় কার্যক্রম ব্যহত করে লাভ কি?
 
মানুষের বোঝা উচিৎ স্ব-মতের লোকদের সাথে কথা বলার চাইতে বিপরীত মতের লোকদের সাথে কথা বলার সময় আরো অধিক পরিমাণে কার্টেসী ও ভদ্রতা প্রকাশ করা দরকার। এ বোধ যার নাই তার সাথে কমপ্লিকেটেড বিষয়ে কথা বলে লাভ কি? তার তো উচিৎ কিন্ডারগার্টেন বা মক্তব থেকে ভদ্রতার তালিম নিয়ে আসা। কিন্তু বাংলার ইসলামিক ফেসবুকারদের এ কথা কে বুঝাবে?
 
যাহোক আজকে কিছু কাজে বাইরে বাইরে ঘুরতে হল। দু’ হাত ভর্তি বাজার সদাই করে ফিরছি, এক পিংকু যুবক ফুটপাথে থামিয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল, আজকে তো বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ, আসেন আপনার হাতে WIN Bangladesh লিখে দেই। তার তোতলামি থামা বন্ধ হলে বললাম, ভাই, আমি খেলার লাইনের লোক না, আমি অন্য লাইনের লোক। সে বলল, অ বুঝতে পারছি। আমি হনহন করে চলে এলাম।
 
তবুও, বাস্তব জীবনের কমেডিদের মজা লাগে, প্রেশার কমে। কিন্তু ফেসবুকের কমেন্ট বক্সের কমেডিদের বিরক্ত লাগে, প্রেশার বেড়ে যায়।

কবুতর নিয়ে বাড়াবাড়ি

রাসূল ছাল্লাল্লাহ যেসব জিনিস অপছন্দ করতেন তাকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করা হয়েছে। এমনকি অত্যন্ত হালকা ব্যাপার বা বিষয়, কিন্তু সেটাকে অত্যন্ত সিরিয়াসভাবে এর উল্টোটা করা হয়েছে। আবার নবীজী যা পছন্দ করতেন তাকে ‘ক্ষ্যাত’ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। যেমন ধরুন, সুরমা। চোখে সুরমা লাগিয়ে বর্তমান জমানার কোন কর্পোরেট অফিসে যাওয়া যাবে? আবার ধরুন, কবুতরকে শান্তির প্রতীক বানিয়ে ছেড়েছে। কে বানাল এটা? কবুতর নিয়ে আধুনিক সমাজে এতো বাড়াবাড়ি কেন? এর উত্তর রয়েছে এই হাদিসটিতেঃ এটি আবু হুরাইরা রাযি থেকে বর্ণিত হাদীস।

একদিন রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে কবুতরের পেছনে দৌড়াচ্ছে, তখন তিনি বললেন, এক শয়তান আরেক শয়তানের পেছনে ছুটছে। (মেশকাত শরীফ, হাদীস নং, ৪১৮৮, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

এতোটুকুই হাদীস। কিন্তু শয়তান সহ্য করতে পারে নি। তাই দুনিয়ার তাবৎ শয়তানদের দিয়ে কবুতরকে শান্তির প্রতীক বানিয়ে ফেলা হয়েছে।
এভাবে জীবনের আপাতদৃষ্টিতে ছোটখাট বিষয়গুলো আসলে ছোট নয়। দুনিয়ার সব কিছুই আবর্তিত হচ্ছে ইসলাম ও নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামকে কেন্দ্র করে।

আল্লাহ সব বিষয়ে ভালো জানেন।

শীতকালের ‘বক্তা’

গভীর রাত পর্যন্ত ওয়াজ মাহফিলের ধ্বনি বলে দিচ্ছে শীতকাল সমাগত প্রায়। ওয়ায়েজীনরা তাদের গ্রীস্মনিদ্রা ভেঙ্গে জেগে উঠছেন। শেষ যুগ বিষয়ে তারা কিছু বলবেন কি, নাকি শেষ যুগের ‘বক্তা’ হয়েই থাকবেন?

আবাদ

হজ ফিরে এসে আমার মেয়েকে নিয়ে ওর আম্মু গেল ওর জীবনের প্রথম শিক্ষিকার বাসায়। তিনি কুরআনে হাফেজা, আলেমা। উনার কাছেই আমার মেয়েটা ভালো পড়ত। উনার কাছে অনেক শিশু হাফেজ হাফেজা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ এখন অনেক বড় আলেম হয়েছে। উনি বললেন, এখন আর বাচ্চাদের হেফজ করান না। শুধুই সহি তিলাওয়াত শিক্ষা দেন। এখনকার বাচ্চাদের হেফজ করাতে অনেক কষ্ট হয়। আতফালদের মগজের বেশীর ভাগ জায়গা জুড়েই এখন থাকে মোবাইল, ল্যাপটপ। মা-বাবাও খুশী (কেউ কেউ উদ্বিগ্ন) তাদের দু বছর বয়সের বাচ্চারা কী বোর্ডে বাবার হাতের নড়াচড়া দেখে নিজেই পাসওয়ার্ড খুলে ফেলতে পারে বলে। কুরআন হেফজ করার মতো অন্তরের ও মগজের খালি জায়গাগুলো এখন কমে আসছে। আবাদ হচ্ছে অন্য ফসল। চিন্তা করার মতো কেউ আছেন কি?

তৃতীয় খলিফা শহীদ হলেন

তৃতীয় খলীফা হযরত ওসমান রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। যিনি যিন্নুরাইন। দুই নূরের মালিক। জান্নাতের সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত। ইসলামের তৃতীয় খলিফা। মদিনার মুসলমানদের পানির ব্যবস্থাকারী। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হল। রোযা অবস্থায় কুরআন পড়ছিলেন। ঘাতকরা ৮০ বছরের বৃদ্ধ খলিফার পবিত্র শরীরে আঘাত হানে। তার স্ত্রী হযরত নায়েলা রাযি. হাত দ্বারা আঘাতটি প্রতিহত করতে চাইছিলেন ফলে তাঁর দু’টি আঙুল কেটে আলাদা হয়ে যায়। খলিফা শহীদ হয়ে যান।

রক্তের ফোয়ারায় পবিত্র কুরআনের কপি লালে লাল হয়ে যাচ্ছিল।
খলিফা পারতেন পূর্ব থেকেই প্রতিরোধ যুদ্ধ করতে। তখনও মদীনায় অস্ত্র ছিল। যোয়ানরা ছিল। কিন্তু তিনি তার অনুমতি দেন নি। তিনি হত্যা হয়ে যান কিন্তু একজন মুসলমানের রক্ত যেন না ঝরে।
.
আজকের দুনিয়ার খলিফাদের (!) অবস্থা কি?

কমেন্ট বক্সের দুই ফেতনাঃ

কমেন্ট বক্সের দুই ফেতনাঃ

(১) যে বিষয়ে জ্ঞান নেই সে বিষয়ে কমেন্ট করা। স্কুলবয় কমেন্ট। না জানা থাকার পরও বিজ্ঞের মতো আচরণ করা।

(২) গীবত করা। কোন লেখকের চিন্তাভাবনা অপছন্দ হলে তার নামে সমমনা অন্য কারো কমেন্ট বক্সে গীবত করা।

সালাম ও নমস্কার

মোল্লা ব্রাডলির এক মুরিদ বললেন, শম্ভুদার মেয়ের জামাইটা একটা আস্ত আনসোশাল। সালামও দিল না, এমনকি নমস্কারটাও করল না।