অভ্যাস

আমি টুথপেস্ট ব্যবহার করি না। কয়লাও নয়। আগে টুথপাউডার ব্যবহার করে দেখেছি দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়। টুথপেস্টওয়ালাদের বিজ্ঞাপন আমাকে কনভিন্স করতে পারে না। ক্যামিকেল জাতীয় জিনিস থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই মঙ্গল। হারাম জিনিস যোগ থাকার সন্দেহও উড়িয়ে দেয়া যায় না। শুধুই মেসওয়াক করি। সুন্নত। প্রতিবার কিছু খেলেই হালকা করে মেসওয়াক করে ফেলি। চা পানের পরে করি। প্রতিবার নামাযের সময় একবার করে করি। মুখে দুর্গন্ধ হয় না। মুখ ভালো থাকে। নতুন যারা শুরু করতে চান প্রথম চার পাচদিন একটু কষ্ট হতে পারে। তবে এরপর শুধু লাভই লাভ। মক্কা মদিনায় দেখেছি অনেকে নামাযের আগেও মেসওয়াক করে। অনেক পুলিশের হাতেও মেসওয়াক দেখেছি। ডিউটির সময়ও তারা মেসওয়াক করছে। তেল ব্যবহার করা সুন্নত হলেও তেল ব্যবহার করতে পারছি না, কারণ সেখানেও ক্যামিকেল। আগে দেখতাম শীতকালে তেল জমে যেত, জমানো তেল রোদে গরম করে মাখার মজাই ছিল আলাদা। এখন কি মেশায় প্রচন্ড শীতের দিনেও তেল জমে না। সাবানও ছাড়ার চেষ্টা করছি। আগেকার মানুষ কি দিয়ে গোসল করত আর কাপড় পরিষ্কার করত জানা নেই। মানুষ যত আধুনিক হচ্ছে ততই পুরনোদের দাম বাড়ছে। ওল্ড ইজ গোল্ড।

দাওয়াত

অদ্য বিকেলে এক ইফতার পার্টির দাওয়াতের অনুরোধে পরে গেলাম। ইফতারের দাওয়াত বলে না করতে পারছি না। বললাম ইনশাআল্লাহ আসব। কিন্তু বাসার বাইরে ইফতার করতে মন মানছে না। ইফতারের কিছুক্ষণ আগে বাটি নিয়ে গেলাম। বললাম বাসায় অনেক কষ্ট করে ইফতার বানাচ্ছে। আমি বাইরে খেলে যে বানাচ্ছে তার কষ্টের মূল্যায়ন হবে না। আমার ইফতার বাটিতে দিয়ে দিন। আপনার ইফতার খাওয়ানোর সওয়াবও হবে, আমারও বাসায় ইফতার করা হবে। সুতরাং দাওয়াতকারী আমাকে বাটিতে ইফতার দেয়ার বন্দোবস্ত করে দিলেন। বাসায় এসে হৃষ্টচিত্তে ইফতার করলাম। আলহামদুলিল্লাহ। ইফতার পার্টিতে বাইরের মহিলাদের সাথে খোশগল্পের বদলে ঘরে বসে ঘরের মহিলার সাথে খোশগল্প করতে করতে ইফতার করলাম। আল্লাহপাক যাকে চান তাকে জমানার ফেতনা ও বিদআত থেকে হেফাজত করেন। সুবহানআল্লাহ।

ছোটবেলার শবে বরাত

ছোটবেলায় শবে বরাতে কি মজাই না হতো। তখন শবে বরাত পরত শীতকালে। সন্ধ্যাবেলায় গোসল শেষ করে পবিত্র পবিত্র ভাব নিয়ে তারাবাতি, মরিচা বাতির আলোর ছিটায় কেমন অন্যরকম একটা ধর্মীয় ভাব আসত। বড়মামী পুরোন ঢাকার মেয়ে। বিয়ের পর হরেক রকম হালুয়ার আমদানী করে ছোট ছেলেমেয়েদের মন জয় করে নিলেন। তার দেখাদেখি শেফালী মামী, তাহিনুর, মাহিনু্‌র, শাহিনুরেরা দুপুর থেকেই ভেজা চাল, বুটের ডাল বাটতে বসে যেতো। হান্নান মামা বড় হাড়িতে খুন্তি দিয়ে নেড়েচেড়ে পায়েস রান্না করত।

বাড়ির মেয়েরা দুপুর থেকে রান্নাঘরে ব্যস্ত থেকে ক্লান্ত হয়ে সন্ধ্যার পর গোসল সেরে ‘তাহিয়্যাতুল ওযু’ নামায পড়ত। তারপর সারা রাত একটু ঘুম একটু নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত এভাবে চলত।

আর অল্পবয়সী ছেলেছোকরারা ভ্যানগাড়িতে করে শহর ঘুরত। মনে হয় হাইকোর্টের মাযার টাযারে ঘুরত। মরিচা বাতি জ্বালাত। পুলিশ এসে কাউকে কাউকে দু’ঘা দিয়ে নিয়ে যেত। তাদের গার্জেনরা আবার ছাড়িয়ে নিয়ে আসত। আর বলত, আমার ছেলেটা আতশবাজি করে নাই তারপরও ধরে নিয়ে গেল। কি অবিচার!

আলহামদুলিল্লাহ! আলেম উলামাদের অনেক বছরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এসব বিদআতি কাজ মনে হয় এখন অনেক কমে এসেছে।

নাকি সময়ের সাথে সাথে প্রকৃত ধর্মীয় কাজে মানুষের আগ্রহ কমার সাথে সাথে বিদায়াতী কর্মকাণ্ডও কমেছে? যেহেতু বিদয়াত হলেও ধর্মের ট্যাগ লাগানো আছে।

এবারের শবে বরাতে আহালিয়াকে বললাম, পরোটা আর গোশত করলে কেমন হয়? বলল, ঘরে বিদয়াতী কর্মকাণ্ড একদম নিষিদ্ধ। আলহামদুলিল্লাহ! কি আর করা?

শিশুদের জগত

একজন ৬ বৎসরের বাচ্চার চিন্তাভাবনার জগত কেমন হওয়া উচিৎ? আমার মেয়ে আমাকে বলে, আব্বু! বাবুরা যদি দুষ্টুমি করে আল্লাহ কি গোনাহ দেয়। আমি বলি, নাহ। সে কিন্তু উত্তরটা জানে। তারপরও জিজ্ঞাসা করবে। একদিন জিজ্ঞাসা করল, আব্বু! বাবুরা মরে গেলে তো জান্নাতে যাবে, তাই না? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে তো মরে গেলেই ভাল হতো, জান্নাতে এখনই চলে যাওয়া যেত। আমি আমার বুকে একটু ধাক্কার মতো খেলাম। সহজ হয়ে বললাম, ইচ্ছা করলেই তো আর মরা যাবে না। আল্লাহ প্রতিটি মানুষকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এর একটু আগে বা পরেও যাওয়া যাবে না। আর তাছাড়া বড় হয়ে মরলে সুবিধা আছে। নেকী করা যায়।

“আচ্ছা আব্বু! বাবুরা যদি আগে মরে যায় তাহলে তো জান্নাতে যাবে, কিন্তু ওদের মা-বাবা যদি জাহান্নামে যায় তাহলে ওর খারাপ লাগবে না?”

আমি বললাম, এজন্যই তো মা-বাবার ভালো ভালো কাজ করা উচিৎ যাতে তারাও জান্নাতে যেতে পারে।

একটা ৬ বৎসরের বাচ্চার স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা আমার কাছে মনে হয় এরকমই হওয়া উচিৎ।

কিন্তু আজকে ডিজিটাল যুগ। আসলে পড়তে হবে, দাজ্জালী যুগ।

আমাদের বাসায় আমার এক রিলেটিভ এলো। তাদের দুই বাচ্চা। ছোট মেয়েটা আমার মেয়ের বয়সী। বাচ্চারা বাচ্চাদের দেখলে আর খেলার অন্ত নাই। সারাদিন খেলা।

এর মধ্যেই আমার ঐ রিলেটিভের মেয়ে আমার মেয়েকে সতর্ক করল, তুমি যদি বড় হয়ে ভালো চাকরী করতে চাও তাহলে তোমাকে অবশ্যই ভালো করে লেখাপড়া করতে হবে।

আলহামদুলিল্লাহ! আমার মেয়ে বোধহয় কখনো চিন্তাও করে নাই যে বড় হয়ে বাবুদের চাকরী করতে হবে।

কাজেই সে এর জবাব দেয় না।

আল্লাহ যেন এমন পরিস্থিতি মুসলমান মেয়েদের ঘরে চাপিয়ে না দেন যাতে চাকরীর জন্য তাদের ঘরের বাইরে যেতে হয়। আল্লাহ তো ঘরে বসেই মেয়েদের হালাল ও ইজ্জতের রিযিক দিতে পারেন। কতজনকেই তো দিচ্ছেন।

প্রশান্তির অনুভূতি

আহ্ সে অনুভূতিটা কতই না প্রশান্তিকর যখন হৃদয় বলে ওঠে হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দুনিয়ায় সম্মান ও আসানের সাথে হালাল রিযিকের ব্যবস্থা করে দিয়েছ অথচ আমার কোন যোগ্যতা ছিল না। হে আল্লাহ! আমার প্রবৃত্তি আমাকে অবশ্যই গোমরাহ করে দিত যদি তুমি আমাকে নিজ হাতে ধরে না রাখতে। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সৎসঙ্গী ও সৎসন্তান দান করেছ অথচ আমার নিজের পক্ষে কোনদিনও তা আয়ত্ব করা সম্ভব ছিল না।

মসজিদে যেতে যেতে মনে হলো আমি কিভাবে মসজিদে যাচ্ছি। আল্লাহর দয়ার কথা মনে হলো।

আমার দাদা

আমার দাদা। আজ থেকে ৩৫-৩৬ বৎসর পূর্বে আছাড় দিয়ে রেডিও ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। তখন রেডিওতে ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, দেশাত্মবোধক গান হতো। রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুল গীতি হতো। আমার দাদা ছিলেন সুন্নতী মানুষ। সুন্নতের পাবন্দী করতেন। তাকে বলে দিতে হয়নি সাদাসিধা প্রযুক্তির মাধ্যমে আগত বদদ্বীনীর বীজ একসময় মহীরূহ হবে। গোটা মানবজাতিকে অশ্লীলতা গিলে ফেলবে। রেডিও ছিল দাজ্জালের প্রাথমিক আক্রমণ। আমার দাদা আছাড় মেরে রেডিও ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। উনারা সুন্নতী লেবাস পড়তেন, মুখে বড় সাদা দাড়ি শোভা বিস্তার করত। একেবারেই সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। বিছানা বালিশ লেপ চৌকি এসব ছিল আসবাব। শোপিস বলতে কিছু তারা চিনতেন না। দাদী লম্বা ঘোমটা দিয়ে রাখতেন। অনেক সন্তানের জননী ছিলেন। এখনকার বহু দ্বীনদার লোকদের বাসাতেও ঘরভর্তি শোপিস ছড়ানো থাকে। একহাত লম্বা ঘোমটা দিয়ে দরজার আড়াল থেকে গাইরে মাহরামদের সাথে কথা বলতে এখনকার দ্বীনদার মহিলারাও বোধহয় লজ্জা পান। কিন্তু উনাদের সময় এগুলো ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। আমার ফুফুদের এত্তটুকুন থাকতে থাকতে বিয়ে হয়ে গেছে। এখনতো দেখি দ্বীনদার ঘরের বড় বড় মেয়েরাও নেকাব পরে কলেজে পড়ে। আমাদের দাদাদের জীবনে দ্বীন স্বাভাবিকভাবে প্রবাহমান ছিল। এখনকার মানুষ কসরত করে দ্বীনকে আয়ত্ব করে। তাই এবড়ো থেবড়ো হয়ে যায়। স্বাভাবিকতা থাকে না। আমার দাদাদের সময়ে পুরুষরা দু-তিন-চার বিবাহ করলেও কেউ আড়চোখে দেখত না। বহু বুজুর্গ ব্যক্তিরাও তাই করেছেন। এখনকার বুজুর্গরা দ্বিতীয় বিবাহ কল্পনাও করতে পারেন না। উনারা ঘরে প্রবেশ করলে ঘরের সবাই এলার্ট হয়ে যেত। সালাম দিয়ে কাশি দিয়ে দাপটের সাথে ঘরে প্রবেশ করতেন। ঘরের সবাই তাদের সমীহ করতেন। এখনতো পরিবারের কর্তা হয়েছেন বন্ধু। হারিয়েছেন দাপট। আমার দাদা রেডিও ভেঙ্গে ফেলে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন। এখন আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে দ্বীনের দাওয়াত দেই। আমাদের দাদারা আবেদ ছিলেন। তাহাজ্জুদের নামাযে ক্রন্দন করে দাড়ি ভিজাতেন। ফজর কোনদিন কাযা হয়নি। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আমরা এখন আলেম হয়েছি। মাযহাব, লা-মাযহাবের বিতর্ক খুব ভালো পারি। কিন্তু পারি না দ্বীনের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে।

The End of a Life-History

আগে ডেস্কটপ কম্পিউটার ইউজ করতাম। এখন লেখালেখির কাজগুলো মোবাইলেই করি। ডেস্কটপ কম্পিটার বেঁচে দিয়েছি তাও কয়েক বছর হল। ডেস্কটপ থেকে ল্যাপটপ। ল্যাপটপ থেকে মোবাইল। ল্যাপটপটা হারিয়ে গিয়েছিল। তারপরও ততটা কষ্ট পাইনি যতটা কষ্ট পেতাম আমার ডেস্কটপটা বিকল হয়ে গেলে। মান্ধাতার আমলের জিনিস। তারপরও তার প্রতি মুগ্ধতা ছিল অপরিসীম। পাশের বাড়ির থেকে ল্যান্ডফোনের তার টেনে মডেম যুক্ত করে প্রি-পেইড কার্ডের মাধ্যমে ইণ্টারনেট চালাতাম। একটা ইয়াহু আইডি ছিল। সে আইডি মানুষকে দিয়ে বেড়াতাম। “মেইল করবেন।” চাকরীর সিভিতে খুবই আগ্রহ করে সে আইডিটা দিতাম। আর ইয়াহু ম্যাসেঞ্জার ইউজ করতাম। ম্যাসেঞ্জারের ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ঝরার দৃশ্য মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। আমার ভাল লাগার অনেকখানি জুড়ে ছিল সে ডেস্কটপটা। পেণ্টিয়াম 4, ২৫৬ মেগাবাইট রেম আর ৮০ জিবির হার্ডডিস্কের লক্কর ঝক্কর যন্ত্রটাকে মনে হত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম কনফিগারেশন। যখনই সেখানে কোন প্রবলেম দেখা দিত মনে হত আমি আর নেই। হতাশায় বিছানায় এলিয়ে পরা। ঘরে সংসারখরচ থাকুক আর না থাকুক যেকোন উপায়ে ওটাকে নিয়ে যেতে হবে সারাতে। সারানোর পর তৃপ্ত।

প্রিয় জিনিস নষ্ট হওয়ার কারণে হতাশায় বিছানায় এলিয়ে পরা অনুভূতিটা দেখি এখনও আছে। যদি পছন্দের কোন জিনিস কিনে আনি আর আনার পর দেখি ওটাতে প্রবলেম আছে তাহলে আর কিছুই ভাল লাগে না। হতাশা ও অবসাদ ঘিরে ধরে।

আজ হঠাৎ করেই মনে হল এই যে প্রিয় জিনিসের প্রতি এত পাগলামি, এত মোহাচ্ছন্নতা -যদি আমি জানতাম আজকে আমার মৃত্যুর তারিখ আসমানে ঝুলতেছে আমি কি পারতাম সে জিনিসের প্রতি আর এক মুহূর্ত নজর দিতে? কি করতাম তখন? সারা পৃথিবীটা যদি আমাকে তখন দান করে দেয়া হত, আর গোটা পৃথিবীর সাথে এর অভ্যন্তরস্থ যত সম্পদ আছে সব আমাকে দান করে দেয়া হত আমি কি সেদিকে আড়চোখেও তাকাতাম?

অথচ আজ রাতটিও পৃথিবীর অনেক মানুষের শেষ রাত হবে। পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা বেজে যাবে। ঠাস করে আমল-নামার খাতা বন্ধ হয়ে যাবে।

“The End of a life history”

অতঃপর প্রতীক্ষা। একটু পরই ফলাফল জানিয়ে দেয়া হবে। আর প্রতিটি কাজের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। কাউকে তার প্রাপ্যর চেয়ে কম দেয়া হবে না। কারো প্রতি জুলুমও করা হবে না।

أَلۡهَىٰكُمُ ٱلتَّكَاثُرُ
 حَتَّىٰ زُرۡتُمُ ٱلۡمَقَابِرَ
 كَلَّا سَوۡفَ تَعۡلَمُونَ
 ثُمَّ كَلَّا سَوۡفَ تَعۡلَمُونَ
 كَلَّا لَوۡ تَعۡلَمُونَ عِلۡمَ ٱلۡيَقِينِ
•••
 •••
“প্রাচুর্য্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে,
এভাবেই তোমরা কবরে পৌঁছে যাবে;

কখনো নয়, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে,
আবার বলি, কখনো নয়, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে,
সাবধান! তোমাদের নিশ্চিত জ্ঞান থাকলে অবশ্যই তোমরা মোহাচ্ছন্ন হতে না
•••
 •••
(সূরা তাকাসুর, ১-৫ আয়াতের অনুবাদ)