মাল্টিন্যাশনালদের আগমন

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ শহরটা বিদেশিদের দ্বারা ভরে গেছে। টেকনাফের মতো একটা অজপাড়াগাকে দেখলে মনে হয় একটি মাল্টিন্যাশনাল ভিলেজ। নানা ধরনের সাদা চামড়া কালো চামড়ার মিলনমেলা। কত যে মানবতাবাদী বিদেশী এনজিও। বেশ মোটা অংকের বেতনে বাংলাদেশী অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ডাক্তার, নার্স, রিসার্চার, ইঞ্জিনিয়ার, ট্রান্সলেটর, লজিস্টিক অফিসার, ড্রাইভার নানা ধরনের পোস্টে চাকুরীর বাজার বেশ গরম। হোটেলওয়ালাদেরও রমরমা দিন। যারা এসব বিদেশী সংস্থায় চাকুরী করেন তারা নিশ্চয়ই নিজেদের খুব সৌভাগ্যবান মনে করেন। ভালো একটা অর্গানাইজেশনে ক্যারিয়ার হচ্ছে। রিমুনারেশনও ভালো। তবে সব কিছু মিলিয়ে আমাকে ৩০০ বছর আগের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কথা মনে করিয়ে দেয়। সেখানে যারা চাকুরী করতেন তারাও নিশ্চয়ই খুব সৌভাগ্যবান মনে করতেন নিজেদের। বাপরে, বিলেতিদের কোম্পানিতে চাকুরী। সে যে সে কথা তো নয়। এ কথা তখন কয়জনেরই বা মনে হয় বিদেশিরা যখন আসে তারা দু’তিন শ’ বছরের পরিকল্পনা নিয়েই আসে। সূঁই হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হওয়ার জন্য।

Advertisements

মধ্যযুগীয় বর্বরতা??

সেক্যুলার শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ অনেকসময় ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ ‘আদিম যুগ’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে থাকে। তারা মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলে ইসলামের দিকে ইঙ্গিত করে। আদিম যুগ দ্বারা আদম (আ) এর যুগকে ইঙ্গিত করে। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা যুগকে গালি দিও না, কারণ আমিই যুগ। আদম (আ) এর এক ছেলে কাবিল তার এক ভাই হাবিলকে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছিল। তাই সে যুগ আদিম যুগ। আর ৫ম শতাব্দী থেকে ১৫দশ শতাব্দী পর্যন্ত যুগকে মধ্যযুগ বলা হয়। সে যুগ ছিল ইসলামের সোনালী যুগ। যে যুগ ছিল শিরকের বিপরীতে তাওহীদের, সুদের বিপরীতে সদকার। যে যুগে নারীদের সাথে জিনা করার বিপরীতে নারীদের স্বামী লাভের অধিকারকে নিশ্চিত করা হয়েছে। যাকে সেক্যুলাররা উপহাস করে মধ্যযুগ বলে। অথচ সে সময় ইউরোপ ছিল প্রকৃত অর্থে বর্বর। সেখানে ছিল চার্চ কেন্দ্রিক বর্বরতা। আজও ইউরোপ ফিউডালিজম ছাড়তে পারেনি, সুদভিত্তিক অর্থনীতি ছাড়তে পারেনি, নারীদের পণ্যরূপে ব্যবহার করা ছাড়তে পারেনি।। শুধু যুগের নাম বদলিয়ে আধুনিক যুগ করা হয়েছে। আদিম যুগে তো হত্যার পর তবুও মাটি চাপা দিয়ে রাখা হতো। হাত পা কর্তন করে নাফ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো না। পুরো একটি জাতিগোষ্ঠীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হতো না। এজন্যই বলতে হয়, দুনিয়ার তাবৎ কাফের আগেও বর্বর ছিল, এখনও বর্বর আছে, কিয়ামত পর্যন্ত বর্বরই থাকবে।

মুসলমান ভাইয়েরা তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে আমল, শরীয়ত ও দ্বীনী বিষয়াবলী নিয়ে যে পরিমাণ বাকবিতণ্ডা ও মতদ্বৈততা করে সে পরিমাণ বাকবিতণ্ডা ও মতদ্বৈততা কাফের মুশরিকদের সাথে করলে মুসলমানরা পৃথিবীতে এতো অসহায় হতো না। এটি আমার একটি দুঃখজনক উপলব্ধি।

অতিবৃষ্টি, বন্যা ও আরো অনেক কিছু

অতিবৃষ্টি ও বন্যা চারদিকে। আল্লাহ্‌র আযাব এগুলো। তসবির দানার মতো একের পর এক আসছে। চিকনগুনিয়া, পাহাড়ধ্বস ইত্যাদি। সমস্যা হচ্ছে মানুষ এখন আর আল্লাহ্‌র আযাব বলে কিছু আছে এতে বিশ্বাসী নয়। চামড়া মোটা, অনুভূতি ভোঁতা। কেউ ফিরে আসছে না ভালোর দিকে। মানুষ উদ্ধতভাবে শিরক করছে, কবিরা গুনাহ করছে। ঈদের নাটক, সিনেমা, খেলা, শূকর আমদানি, ফ্রী মিক্সিং, সুদ, অধর্ম আরো নানা ধরনের জটিল জটিল হারামের কাজে নিমজ্জিত মানুষ। খারাপী যখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় তখন ভালো কে নীরবে বিদায় নিতে হয়। নবী রাসূল (য়ালাইহিমুস সালাম)-দের শিক্ষাও তাই। চিন্তা করার লোকের বড় অভাব। আল্লাহ্‌র আযাবের ভয় হয়। কোথায় যে পালাই। নবী রাসূলরা সাহসী ছিলেন। নৌকা নিয়ে পাল তুলে দিয়েছেন। আমাদের ক্যারিয়ারের ভয়, শেকড়ের ভয় আল্লাহ্‌র আযাবের ভয়কে ছাড়িয়ে যায়।

অস্থিতিশীল পৃথিবী

বাদশাহ সালমান ক্রাউন প্রিন্স মুহম্মদ নায়েফকে পদচ্যুত করে নিজের ছেলে মুহম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেছেন। নিঃসন্দেহে বাদশাহ এভাবে আরবকে স্থিতিশীল রাখতে পারবেন না। পৃথিবী দৌড়ে যাচ্ছে শেষ যুগের চূড়ান্ত ক্লাইমেক্সের দিকে। দৌড়ের গতি তুফান মেলের মতো বাড়ছে। পৃথিবীর কোন বাদশাহর ক্ষমতা নেই এর ব্রেক চেপে ধরার।

ফেরকাবাজি

হক্বের কী কোন সাইনবোর্ড থাকে? হ্যাঁ থাকে। একজন ব্রেন ওয়াশড ব্যক্তি বলবে তার ও তার এলাইড দলই হক্ব। আর ব্রেন ওয়াশের কোন চিকিৎসা নেই। ইট ইজ ইরিভারসিবল। এরা কোন যুক্তি বুঝে না। 😦

বাপ দাদার ধর্ম

যতদিন ইসলাম ধর্মটা আমাদের ‘বাপ-দাদার’ ধর্ম রয়ে যাবে ততদিন আমি জাহিলিয়াতের লোক। কারণ জাহিলিয়াতের লোকদের ধর্ম ছিল তাদের বাপ দাদার ধর্ম। যেদিন সেটা আমার ধর্ম হবে সেদিন বোঝা যাবে জাহেলিয়াতের থেকে একটু পৃথক হয়েছি।