ফেরকাবাজি

হক্বের কী কোন সাইনবোর্ড থাকে? হ্যাঁ থাকে। একজন ব্রেন ওয়াশড ব্যক্তি বলবে তার ও তার এলাইড দলই হক্ব। আর ব্রেন ওয়াশের কোন চিকিৎসা নেই। ইট ইজ ইরিভারসিবল। এরা কোন যুক্তি বুঝে না। 😦

বাপ দাদার ধর্ম

যতদিন ইসলাম ধর্মটা আমাদের ‘বাপ-দাদার’ ধর্ম রয়ে যাবে ততদিন আমি জাহিলিয়াতের লোক। কারণ জাহিলিয়াতের লোকদের ধর্ম ছিল তাদের বাপ দাদার ধর্ম। যেদিন সেটা আমার ধর্ম হবে সেদিন বোঝা যাবে জাহেলিয়াতের থেকে একটু পৃথক হয়েছি।

দুই চোখের যোগসূত্র

আলোর চেয়ে দ্রুত গতির যান ব্যবহার করা হলেও ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে না। বিজ্ঞান লেখকরা টাইম মেশিনের কথা বলে মাসুম বাচ্চাদের বিভ্রান্ত করে। আজকে একটু পর আমার ভাগ্যে কি আছে তাও আগে থেকে জানা যাবে না। তবে অবশ্যই গেস করা যাবে। অনুমান করা দোষের কিছু নয়। অনুমান সত্য হতেও পারে, নাও হতে পারে। অনুমান করা হয় পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এটি হচ্ছে অংকের মতো। যোগ বিয়োগ করে করা হয়। গোয়েন্দারা, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা করে থাকে। তবে এর চেয়েও স্বচ্ছভাবে ভবিষ্যতকে দেখার উপায় আছে। সেটা হল কুরআন হাদীসের উপর ভিত্তি করে। এ কাজ আলেমদের করার কথা। তবে কুরআন হাদিসের সাথে যদি সততা ও অন্তর্দৃষ্টি যোগ হয় তবে আরো নিপুণভাবে ভবিষ্যতকে দেখা যায়। যার অন্তর্দৃষ্টি যত বেশী সে তত নিখুঁতভাবে ভবিষ্যতকে দেখতে পারে। অন্তর্দৃষ্টির মধ্যে সত্যস্বপ্নও বিদ্যমান। এটা হচ্ছে বহির্জ্ঞানের সাথে অন্তর্জ্ঞানের যোগসূত্র। প্রকৃত সুফী সাধকরা করে থাকেন। আজকের দাজ্জালী যুগের আলেমরা শেষোক্ত বিষয়টিকে এড়িয়ে চলেন। কারণ দাজ্জালী সমাজব্যবস্থায় অন্তর্চক্ষু অন্ধ থাকতে হয়।

রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তীনী

ফিলিস্তীনের উপর যখন জাতিগত নির্যাতন হয় তখন ফিলিস্তীনের পক্ষে সহানুভূতি প্রকাশের মতো সব দেশেই কিছু লোক পাওয়া যায়। তারা আর কিছু না পারুক অন্তত মিছিল বা অনলাইন এক্টিভিটির মাধ্যমে কিছু মানবিক আবেদন রাখার চেষ্টা করে যা একেবারে ফেলে দেয়ার মতো না। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কথা বলার মতো লোক এই জগতে দেখা গেল না। এ বিষয়ে সবাই চুপ। এর কারণ হল, ফিলিস্তীনী লোকেরা এখনও তাদের প্রতিবাদী চেতনা ধরে রেখেছে। দীর্ঘ ৫০-৬০ বৎসরের অব্যাহত সংগ্রামের পরও তাদের অন্তর মরে যায় নি। তারা শেষ হয়ে যায় নি। সাপের লেজে খোঁচা দিলে সাপ যেমন লাফ দিয়ে উঠে ফিলিস্তীনের নারী শিশু বৃদ্ধরা পর্যন্ত এখনও প্রয়োজনে তেমনই বারুদের মতো জ্বলে উঠে। আর অন্তরের এই জিনিসটিকেই মানুষ সম্মান করে। মানুষ তার পক্ষেই দাঁড়ায় যখন সেই ব্যক্তি নিজে তার পক্ষে দাঁড়ায়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিষয়টা অন্যরকম। তারা জান নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো এক জনগোষ্ঠী। এরা কারো সহানুভূতি পায় না। যদি তারা নিজেরাই প্রতিরোধ সংগ্রাম করত তবে ইনশাআল্লাহ অবশ্যই তারাও সহানুভূতি পেত। সম্ভবত তাদের প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের মানসিকতাটাকেই নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তারা এখন এক পলায়নপর সম্প্রদায়। দুঃখজনক হলেও সত্য বাংলাদেশের মানুষের অতি পরিচিত সেই প্রতিবাদী চেতনাটাও সবার অলক্ষ্যে ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে। পনের বছর আগেও বাঙ্গালী এমন নির্জীব জাতি ছিল না। সন্ধ্যার পরে ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে অনেক জায়গায়ই বিদ্যুতের দাবিতে মিছিল হতো। এখন সবাই লেখাপড়া শিখে কর্পোরেট দাসে পরিণত হচ্ছে। বাসা ভাড়া, সন্তান পালন, সময় মাপা কাজ, টিভি দেখা এসব রুটিন ওয়ার্কের বাইরে বের হওয়ার কথা এখন আর কেউ চিন্তা করে না। কুরআন হাদীসের অন্তর্নিহিত অর্থ চিন্তাভাবনা করা তো অনেক দূরের কথা, মেধা বা শ্রম একটু বেশী ব্যয় হয় এরকম কাজে বেশীরভাগ লোকেরই মনে হয় ঘোর আপত্তি। এ ধরনের একটা জবুথবু জাতি নিশ্চিহ্ন হওয়ার জন্য আদর্শ।

দুধ মা

হারিয়ে যাওয়া দুধ মা, দুধ ভাই, দুধ বোন সম্পর্কগুলো আবার চালু করা উচিত। বৃটিশ সভ্যতা আমাদের কাছ থেকে যা কেড়ে নিয়েছে সে সব ইসলামী সোনালী অতীত আবার ফিরে আসুক। নাও তোমাদের সারোগেটেড মাদার, আমাদের থাকুক দুধ মা।

বাংলার দুর্গন্ধ

দাজ্জালী বাহিনীতে অনেকগুলো ফ্রন্ট আছে। সবচেয়ে গোবরমার্কা ফ্রন্ট হচ্ছে বাংলার নাস্তিক ফ্রন্ট। যাদের জন্ম গোবরে, মৃত্যুও গোবরে। এগুলো মরলেও এদের পোস্ট আর আপলোড করা ছবির কারণে কয়েকদিন দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে।

মুদ্রার অপর পিঠ

হেকমত হলো মুদ্রার অপর পিঠ দেখার নাম। কোন শরীয়তবিরোধী কাজের নাম হেকমত নয়। হুদায়বিয়ার সন্ধি এটা তো অনেক অনেক বড় মাপের হেকমত ছিল। মুদ্রার একপিঠতো সহজেই দেখা যায়। শয়তানও মুদ্রার একপিঠ দেখেছিল। আমি আগুনের তৈরী। এই ইলেম শয়তানের ছিল। কিন্তু সে মুদ্রার অপর পিঠ দেখেনি। যার জন্য সে বিতাড়িত শয়তান হলো। ইলেম যদি জ্ঞান হয়, হেকমত হলো প্রজ্ঞা। ইলেম যেখানে শেষ হেকমত সেখানে শুরু। হেকমতের জন্য আরো দুটো জিনিস দরকার। কুরআন এবং আত্মার পবিত্রতা।