বেঁচাবিক্রি হতে হবে নগদ, বাকিতে বেঁচাবিক্রি হলে সুদের সম্ভাবনা থাকে

আমি ১ হাজার টাকায় একটা মোবাইল কিনলাম ২ হাজার দিয়ে বেচলাম। এটা একটা ব্যবসা। এটা হলো Cash Transaction. নগদ বিক্রয়। এটা হালাল।
আমি ১০ লাখ টাকায় একটা গাড়ী কিনলাম ২০ লাখ টাকায় বেচলাম। ক্রেতাকে ১০ বছর সময় দিলাম টাকা পরিশোধ করার জন্য। এটা হলো Credit Transaction. বাকীতে বিক্রয়। ক্রেতা ঐ গাড়ী যদি নগদ টাকায় কিনতো তবে আমি বেচতাম ১২ লাখ টাকায়। এখানে সময়ের কারণে টাকা বেড়ে যাচ্ছে। এটা একটা সুদ। 🙂

পৃথিবীতে সুদবিহীন কোনো ব্যাংকিং নেই। 
যদি আছে বলে কেউ দাবী করে তবে –
This is Dajjal’s deception. 😮

লিখেছেনঃ Ashraf Mahmud

..

প্রশ্নঃ আমি একটি ক্রেডিট কার্ড নিতে চাচ্ছি , যা দিয়ে শুধু মাত্র ০% ইন্টারেস্ট পণ্য গুলো কিনতে চাই। আমি কি এটা নিতে পারি? মতামত আশা করছি।

উত্তরঃ ব্যাংক এর যেকোনো রকম লেনদেনে না যাওয়ায় উত্তম,
যে পন্যটা কিনার সামর্থ্য আমার নাই, সেটা ইন্সটলমেন্টে কিনলাম ০% এ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে আমি পরিশোধ করতে পারবো তার কি নিশ্চয়তা আছে?? রিজিক এর মালিক আল্লাহ, আমরা তা নিজের হাতে নিতে পারিনা। কারণ এর পর সুদ দিতে হবে।

ক্রেডিট কার্ডের আবেদনে সই করাই সুদ। কারণ হাদিস অনুযায়ী, যারা সুদ দেয়, যারা সুদ খায় ও যারা লেখে, সবাই সমান।

Advertisements

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডলার ছাপানোর ক্ষমতা কার হাতে ???

যেসব আলেমরা কাগজের টাকা হালাল হালাল বলে সারাদিন চিৎকার করেন তারা কি জানেন বিশ্ব অর্থনীতি এখন কার হাতে? তা কি আল্লাহ্‌র খলিফাদের হাতে নাকি আমেরিকা ইসরায়েলের যায়োনিস্টদের হাতে? কার মুদ্রায় আজকে আপনারা লেনদেন করছেন? আল্লাহ্‌র নির্ধারিত মুদ্রায় নাকি আমেরিকান মুদ্রায়? জানতে পড়ুন –

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডলার ছাপানোর ক্ষমতা কার হাতে ???

Global economic crisis নিয়ে গত ৫ বছর পেপার পত্রিকাতে পাইকারি’হারে লিখালিখি হয়েছে। দেখানো হয়েছে, মার্কিনীরা নাকি গরীব হয়ে গেছে, মার্কিন সরকারের ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ… ব্লাহ ব্লাহ ব্লাহ
সবই হয়ত ঠিক। আসলেই ঠিক। কিন্তু খুব কম পত্রিকা’তে মুল বিষয়টিকে বা সমস্যার পেছনে থাকা mechanism টিকে তুলে ধরেছে।
বন্ধু রাফির কাছে আমার ঋণ মাত্র ১০০০ টাকা। সেখানে মার্কিনীদের সারা দুনিয়ার কাছে ঋণ ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
মজার ব্যাপার হলো, মার্কিন সরকারের বার্ষিক বাজেটও ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ কাগজে কলমে তাদের অবস্থা, উপরের গল্পে বলা “আমার” অবস্থার মতো। যা আছে, সবই ঋণ। ধার শোধ দিলে পড়নের কাপড়ও থাকবে না।
কিন্তু আসলে কী তাদের অবস্থা এতো খারাপ ??
মোটেই না। একথা আপনি, আমি বা আমরা সবাই বুঝতে পারি।
—-
হাজার হোক, সেটাই capitalism অর্থনীতির রাজধানী। সারা দুনিয়া নিয়ন্ত্রন করে তারা আর্মি দিয়ে নয়, ডলার দিয়ে। দুনিয়ার অন্যসব টাকা মুলত ডলার নিয়ন্ত্রিত। সুতরাং ডলার ঠিক, তো দুনিয়া ঠিক।
কিন্তু একটা ব্যাপার শুনলে শিউড়ে উঠবেন। এই ডলার ছাপার অধিকার খোদ মার্কিন সরকারের নেই।
কেমন হবে যদি বলি, বাংলাদেশ ব্যাংক আসলে একটা বেসরকারি ব্যাংক
না না, ভয় পাবেন না। 🙂 বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি ব্যাংকই আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশের central ব্যাংক। যা দেশের অন্যসব ব্যাংক বা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন করে।
কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Federal reserve bank ( central bank) একটা বেসরকারি ব্যাংক। যাতে খোদ USA সরকারের বা সুপ্রিম কোর্টের access নেই। কেউ কেউ মজা করে বলে, not even GOD has access in it….
ভেবে দেখুন, সারা দুনিয়ার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন করে যে ডলার, সেই ডলার ব্যক্তিমালাকানাধীন একটি ব্যাংকের অধীনে চালিতো হয়।Global economic crisis টা সম্পূর্ণ মার্কিন ব্যাংকারদের অতিরিক্ত লোভের consequence, যা তারা নিজেদের পকেটভর্তি করতে ইন্টেনসোনালি করেছে।

আপনি যেমন সোনালি ব্যাংক থেকে লোন নেন, সোনালি ব্যাংক তেমন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লোন নেয়। 😛
কিন্তু FRB তো বেসরকারি ব্যাংক!! তারা ডলার পাচ্ছে কোথাথেকে ??
আসলে, তারা পাচ্ছে না, বানাচ্ছে
US MINT নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। আসলে এটা একটি কারখানা
Dollar তৈরির কারখানা। Federal Reserve Bank এর কথামত এদের বিশাল বিশাল মেশিনে টাকা, sorry ডলার তৈরি করা হয়।
যদিও নিয়ম হল, US treasury-এর সাথে সমন্বয় রেখে, দেশের যে সম্পদ আছে, তার সমপরিমাণ ডলার বানানো, বা সমপরিমাণ currency দেশে নিশ্চিত করা, যেটা আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংক করে #respect for that
কিন্ত ফেড যা করেছিলো, তা হল certified জাল টাকা তথা legalized জাল নোট পাইকারিহারে তৈরি করে এসব ব্যাংকে সাপ্লাই দিয়েছে।
অর্থাৎ, they have created a lot of money out of thin air, or nothing… 😮
অথচ এই ডলার তৈরি করার কথা US Treasury ডিপার্টমেন্টের।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)

Courtesy : Faisal Shovon

সুন্নাহ মুদ্রার বৈশিষ্ট্য ও বর্তমানে প্রচলিত কাগুজে নোট

ইসলামে অনুমোদিত বা সুন্নাহ মুদ্রা আমরা তাকেই বলতে পারি যার মূল্য মুদ্রার ভিতরেই অবস্থিত এবং সেই মূল্যমান একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংরক্ষিত থাকে। হাদিসে ৬ টি জিনিসের অসম বণ্টনকে সুদ বলা হয়েছে এবং আমরা এও জানি এ ৬ টি বস্তু মদিনায় তখন মুদ্রা বা লেন-দেনের মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহৃত হত।

আবু সাইদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- ‘সোনার বদলে সোনা, রুপার বদলে রুপা, গমের বদলে গম, যবের বদলে যব, খেজুরের বদলে খেজুর এবং লবণের বদলে লবণ বিক্রি করো নগদ নগদ এবং সমান সমান। যে বেশি দিবে অথবা বেশি নিবে সেটা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। দাতা-গ্রহীতা এক্ষেত্রে সমান অপরাধী। (মুসলিম : ১৫৮৪)

হাদিসের মাধ্যমে আমরা বলতে পারি, মুদ্রার অন্তর্নিহিত মূল্য ও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উক্ত মূল্য বা উপযোগিতার সংরক্ষণ সেই মুদ্রার মধ্যে থাকাই হলো সুন্নাহ মুদ্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এখন আমরা এই বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখিত ৬ টি বিমিময়ের মাধ্যমের সাথে মিলিয়ে দেখি। যেমন, ঘোড়া কি মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে? না কারণ এখানে প্রথম বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় কিন্তু দ্বিতীয়টি নেই অর্থাৎ যেকোন সময়ে ঘোড়ার মৃত্যু হতে পারে। চাল বা গম কি স্বল্পকালীন মুদ্রা হতে পারে ? পারে কারনে এতে উভয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আপনি চালের বিনিময়ে উপযোগিতা পেতে পারেন। ধরুন জমিতে একজন কৃষক কাজ করল মজুরি স্বরূপ মুদ্রা হিসেবে চাল দেওয়া যেতে পারে। তবে খামারে কাজ করলে মজুরি স্বরূপ মুদ্রা হিসেবে গরু বা ছাগল দেওয়া যাবে না। কাগুজে মুদ্রা কি সুন্নাহ মুদ্রা হতে পারে? পারে যদি, কাগুজের মুদ্রার স্থলে একটি নির্দিষ্ট মূল্যমান সংরক্ষণ করা থাকে, এবং চাহিবা মাত্র সে মূল্য পাওয়া যায়। কিন্তু যদি কোন মূল্যমান সংরক্ষণ না থাকে তবে কাগুজে মুদ্রাকে সুন্নাহ অনুযায়ী মুদ্রা বলা যাবে না। 
.
মুদ্রার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল মুদ্রার চাহিদা ও যোগান মানুষের হাতে থাকবে না। অর্থাৎ মানুষ এদুটির পরিবর্তন করতে পারবে না। কাগজ বা গাছের পাতা, বালু, পাথর ইত্যাদির অফুরন্ত যোগান রয়েছে তাই মানুষ চাইলেই এগুলো যত ইচ্ছে ব্যবহার করতে পারে। যতইচ্ছে, কাগজকে ডলার বানাতে পারে। প্রক্ষান্তরে সোনা, রুপা, চাল, ডাল, খেজুর, গম, বার্লি ইত্যাদি সব কিছুর যোগান আল্লাহর হাতে, মানুষ চাইলেই উৎপাদন করতে পারে না এবং আল্লাহ এগুলোর অফুরন্ত যোগানও দেন নি। তাই উক্ত জিনিস ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষ আল্লাহর উপর সরাসরি নির্ভরশীল এবং এর যোগানের সাথে চাহিদা নির্ভর করে মূল্য নির্ধারণ হয় অর্থাৎ চাল বেশি উৎপাদন হয় এবং স্বর্ণ খুবই কম তাই স্বর্ণের মূল্যমান চালের চাইতে অনেক বেশী।
.
আচ্ছা তবে কাগুজে মুদ্রা তো আর সবাই প্রিন্ট করতে পারে না সব কাগজ তো টাকা নয়, এবং সেন্ট্রাল ব্যাংক এটির একটি মান নির্ধারণ করেছে যা প্রায় অপরিবর্তিত থাকে তবে কেন এটি সুন্নাহ মুদ্রা হবে না? এর উত্তর অনেক ভাবেই দেয়া যায় তবে সহজ হল- কাগুজে টাকায় মানুষের হস্তক্ষেপ থাকে অর্থাৎ সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকে। যেমন ভারতীয় সরকারের হস্তক্ষেপে ৫০০ বা ১০০০ রুপি বাতিল হয়ে গেল এবং অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হল। আশাকরি ইসলামে কাগুজে মুদ্রার অবৈধতা নিয়ে কারোর মনে আর কোন সংশয় নেই। 
.
সুন্নাহ মুদ্রার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল সহজলভ্যতা অর্থাৎ এটি সমাজে সহজে পাওয়া যেতে হবে। যেমন ডায়মন্ড বা হিরা মুদ্রা হবে না কারণ এটি সহজলভ্য নয়। তাই এটি অনেক মূল্যবান সামগ্রী হতে পারে কিন্তু মুদ্রা হতে পারে না।

#দাজ্জালের_মহাফিতনা_ও_বর্তমান_বিশ্ব

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

কাগজের রহস্যময় ব্যবহার

ইসলাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিষ্কার বলে দিয়েছে বিভিন্ন আদান প্রদান সোনা রূপা এবং খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে করতে হবে। কাগজের মুদ্রার ব্যবহার করা যাবে এরকম ইঙ্গিতও কোথাও পাওয়া যায় না।

ফিদিয়া – “আর যাদের জন্য সিয়াম কষ্টসাধ্য তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদিয়া দেয়া তথা একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করা।” [সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৮৪]। কুরআনের এরকম স্পষ্ট আদেশের পর নগদ অর্থ দিয়ে ফিদিয়া আদায় করা জায়েয নয়। বরং খাদ্য দিয়ে ফিদিয়া আদায় করা ফরয।

বিবাহের দেনমোহর – হযরত ফাতেমা রাঃ এর মোহর ছিল ৫০০ দিরহাম।

যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ।

ফেতরা – গম, আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনির।

কাগজের মুদ্রার কথা কোথাও নেই। বরং সতর্কবাণী এসেছে। কাগজের মুদ্রাকে রিবার বাষ্প ও রিবার ধুলা বলা হয়েছে। দেখুন, https://goo.gl/T3rUfE

প্রকৃত মুদ্রা হলো তাই যার ভেতরে আল্লাহ্‌ তায়ালা অন্তর্নিহিত মূল্য রেখেছেন। তাই সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা উচিৎ।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, ইসলামের আধুনিক ভার্সনে বা আধুনিক আলেমদের কল্যাণে সোনা রূপা এবং খাদ্যদ্রব্য হয়ে যায় টাকা, রূপী, রিয়েল, রিংগিত, ডলার ইতাদি। সকল নবী রাসূলদের সুন্নতী মুদ্রাব্যবস্থাকে ইহুদী খ্রিস্টানদের আবিষ্কৃত নিয়ম দ্বারা প্রতিস্থাপনের দায় ইসলামিক লেখক, স্কলার ও বক্তৃতা দানকারীরা কিভাবে এড়াবেন?

যে স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা কয়েক হাজার বৎসর মানবজাতি কোন রকম সমস্যা ছাড়া ব্যবহার করল বিংশ শতাব্দীতে এসে তা অচল হয়ে গেল এবং কাগজের মুদ্রার এক নতুন আইডিওলজি গড়ে উঠল সেটা কি স্বাভাবিক? এর চেয়েও বড় রহস্য কোন আলেমের কাছে এই অস্বাভাবিক বিষয় টা চোখে পড়ল না কেন??

কিভাবে কাগজের মুদ্রা নিজেই রিবা হয়

বিষয়টি আমি ততদিন পর্যন্ত বুঝতে অক্ষম ছিলাম যতক্ষণ না রিবার বাষ্প বা রিবার ধুলা কি জিনিস তা উপলব্ধি করতে পারি নাই। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়লাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, “সোনার বিনিময়ে সোনা, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, বার্লির বিনিময়ে বার্লি, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবনের বিনিময়ে লবন। সমান সমান বিনিময়ের ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধ অবশ্যই অকুস্থলে হতে হবে, এরপর যদি কেউ বেশি দেয় কিংবা বেশি দাবি করে, সে রিবায় জড়িয়ে পড়বে এবং যে দেবে আর যে নেবে উভয়েই অপরাধী হবে।” ইহা আবু সাঈদ আল খুদরী রাযি হতে বর্ণিত সহি মুসলিমের একটি হাদিস।
 
অবশ্যই আপনাকে একই ধরনের জিনিস (বা মুদ্রা) বিনিময়ের ক্ষেত্রে উভয়টির পরিমাপ ও গুণ সমান সমান হতে হবে। বেশী কম হলে তাহা রিবা।
 
একদিন বিলাল (রাঃ) মহানবী (সাঃ)-এর কাছে কিছু ভাল খেজুর নিয়ে আসলেন, তখন নবীজী জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কোত্থেকে পেয়েছো? বিলাল (রাঃ) উত্তরে বললেন: “আমার কাছে কিছু নিম্নমানের খেজুর ছিল, আমি সেরকম দুইটির বিনিময়ে এরকম (ভালো) একটি করে
নিয়েছি। মহানবী (সাঃ) প্রতিক্রিয়ায় বললেন, “আহ্, এটাই মূলত রিবা। এটা করো না। (বুখারী, মুসলিম)
 
এখন ইনশাআল্লাহ্‌ বুঝে আসবে যে কিভাবে কাগজের মুদ্রা নিজেই অটো রিবা হিসেবে কাজ করে। আপনি যদি ১ লাখ টাকা সিন্দুকে ভরে রাখেন এবং সিন্দুক ভালো করে তালাবন্ধ করে রাখেন তবে ১ বছর পর আপনার ১ লাখ টাকা ১ লাখ টাকাই থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে মুদ্রাস্ফীতির কারণে বা যে কারণেই হোক আপনি যখন ১ বছর পর সেই টাকা বের করবেন তবে তার মান আর ১ বছর পূর্বে সংরক্ষণের সময় যে মান ছিল তা সমান থাকবে না। কারণ এই ১ বছরে টাকার মান কমে গেছে। অর্থাৎ সময়ের সাথে টাকার মূল্যের পরিবর্তন ঘটেছে। সময়কে ফ্যাক্টর ধরে টাকার মূল্যের হ্রাসবৃদ্ধি রিবা। একই জিনিস বিনিময়ের ক্ষেত্রে সে জিনিসের পরিমাপ ও গুণ কমবেশী হতে পারে না। — সিন্দুক থেকে বের করে আপনি যখন ব্যাংকে টাকা বিনিময় করতে যাবেন তারা আপনাকে ১ লাখের বদলে ১ লাখ টাকাই দিবে। কিন্তু তা পূর্বের অর্থাৎ ১ বৎসর আগের ১ লাখের সমান টাকা দিবে না, বর্তমানের নিম্নমানের ১ লাখ টাকা দিবে।
 
কিন্তু যদি আপনি সিন্দুকে ১০০ গ্রাম সোনা সংরক্ষণ করতেন তা ১ বৎসর পরে কেন ১ লক্ষ বৎসর পরেও তার সেই দাম ধরে রাখত।
 
এই মুহূর্তে রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের আবু দাউদ শরীফের সেই হাদিসটি প্রণিধানযোগ্য যা আবু হুরাইরা রাযি বর্ণনা করেছেন। A time will come over mankind when not a single person will remain who does not consume riba (usury, interest); and if one does not consume it, the vapour or dust of it will hit him. মানবজাতির উপর এমন সময় অবশ্যই আসবে যখন সকলেই সুদ খাবে, যদি কেউ বলে আমি সুদ খাই না, তবে সুদের বাষ্প ও ধুলা তাকে আঘাত করবে।
 
এটাই সেই সুদের বাষ্প ও ধুলা যা কাগজের টাকার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। বাষ্প ও ধুলা যেমন সতত উড়ে যায় কিন্তু তা দেখা যায় না বরং উপলব্ধি করা যায়, কাগজের টাকার মানও তেমন গায়েব হয়ে যায় যা দেখা যায় না কিন্তু উপলব্ধি করা যায়।

কাগজের টাকার উপর আলেমদের কি ইজমা হয়েছে?

অনেকে বলেন কাগজের টাকার উপর নাকি আলেমদের ইজমা হয়েছে। কাজেই এটা এখন জায়েজ। বাস্তব কথা হলো এ ধরনের ইজমা হতে পারে না। রিবার তিয়াত্তুরটা দরজা আছে। একটা হলো মায়ের সাথে জেনাহ করা। মায়ের সাথে জেনাহ করার ইজমা হতে পারে না। এটা অসম্ভব ব্যাপার। যদি কিছু আলেম এ ধরনের রায় দেয় তবে তা বাতিল বলে বিবেচিত হবে। কারণ মুসলিম উম্মাহ কিয়ামত পর্যন্ত কোন ভুল বিষয়ে একমত হতে পারে না।

বরং এতোটুকু বলা যায়, কাগজের মুদ্রা গ্রহণের মাধ্যমে মুসলিমরা একটা নিকৃষ্ট বিদায়াতের জন্ম দিয়েছে। আরেকটু বাড়িয়ে বলা যায়, তারা ইহুদী খ্রিস্টানদের অনুসরণ করেছে। কারণ এ বিষয়ে হাদিস আছে, যে মুসলিমরা ইহুদী খ্রিস্টানদের অনুসরণ করবে গজে গজে, বিঘতে বিঘতে; যদি তারা গিরগিটির গর্তেও ঢুকে তবে তারাও সেই গর্তে ঢুকবে। — কিন্তু তাই বলে একে ইজমার নাম দিয়ে শরয়ী বিধান বানিয়ে ফেলবে সে অনুমতি ইসলাম কাউকে দেয় না।

(সবাই দয়া করে কপি পেস্ট করে শেয়ার করুন)

তোমরা যারা সুন্নতি মুদ্রা ও সেকুলার মুদ্রা চেনো না।

মনে করুন এই পৃথিবীতে ১০০ জন লোক আছে। তারা সবাই বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। কেউ চাষী, কেউ মাঝি, কেউ জেলে, কেউ ছাত্র, কেউ গৃহিণী, কেউ ব্যাংকার। সেখানে স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রার মাধ্যমে এবং বিনিময় পদ্ধতিতে জিনিসপত্র বেচাকেনা হতো। মানুষজন ব্যাংকারের কাছে স্বর্ণের চাকা রেখে যেতো। মাঝে মাঝে প্রয়োজনমতো কিছু কিছু তুলে নিত। ব্যাংকার সবার কাজের সুবিধার জন্য মানুষদের স্বর্ণের বিপরীতে একটি টোকেন দেয় যাতে কত পরিমাণ মুদ্রা জমা রাখল তা বোঝা যায়। আবার যখন প্রয়োজনমতো তুলতে আসে তখনও টোকেন দেয়া হয় যার বিপরীতে তার স্বর্ণ জমা থাকে। এভাবে লোকজন টোকেনগুলো বাজারে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে। যার যে মানের টোকেন আছে ব্যাংকে সে পরিমাণ সোনা বা রূপা অবশ্যই জমা থাকবে এবং চাহিবামাত্র ব্যাংকার তাকে সে পরিমাণ সোনা দিতে বাধ্য থাকবে। এভাবে সেই ১০০ জনের পৃথিবীতে সোনা রূপা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

তবে ব্যাংকারের কিছু দুষ্ট বন্ধু ছিল। একদিন ব্যাংকার তার দুষ্ট বন্ধুদের সাথে বুদ্ধি করে জমা রাখা সোনার চেয়ে বেশী বেশী টোকেন দেয়া শুরু করল। কারণ সব মানুষ এক সাথে ব্যাংকে তাদের টোকেনের বিপরীতে জমা রাখা সোনা চাইতে আসে না। বলা বাহুল্য এই বেশী টোকেনগুলো তার দুষ্ট বন্ধুরাই পেল। ফলে তারা বাজারের অনেক জিনিস কিনে ফেলল। ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেল এবং অন্য সাধারণ মানুষদের ক্রয়ক্ষমতার চেয়ে ঐ গুটিকয়েক লোকের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে গেল। তারা রাতারাতি ধনী হয়ে গেল এবং হঠাৎ করে বাকী সব লোক গরীব হয়ে গেল। কিন্তু কেউ কিছু বুঝতে পারল না কি হল। কারণ তারা সবাই ঘুমাচ্ছিল যখন চোরেরা কারসাজি করছিল।

এভাবে চোরের দল অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠল। একদিন তারা ঘোষণা করল, এখন থেকে আর ব্যাংকে সোনা রূপা রিজার্ভ থাকলে চলবে না। তারা একটা টোকেন বের করল তার নাম দিল ডলার। তারা বলল এখন থেকে এই ডলারই হবে রিজারভের উপাদান। যার যত বেশী ডলার রিজার্ভ থাকবে সে তত বেশী সম্পদের মালিক বলে বিবেচিত হবে। এভাবে ব্যাংকারের সহযোগিতায় তার গুটিকয়েক বন্ধুরা সব ডলারের মালিক বনে গেল। ব্যাংকার তার বন্ধুদের জন্য ডলার তৈরী করল আর সোনা রূপা বাদ হয়ে গেল। ফলে লোকজনদের আগের সোনার টোকেনগুলো বাতিল হয়ে গেল। এখন অনেক মানুষ হতদরিদ্র অবস্থায় চলে গেল। শুধু কিছু চোরেরা সারা পৃথিবীর সব সম্পদের মালিক হয়ে গেল।

এভাবে তারা আল্লাহ্‌ কর্তৃক প্রদত্ত প্রাকৃতিক বিনিময়ের মাধ্যম সোনা রূপাকে সরিয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে সম্পদের উপর আল্লাহ্‌র মালিকানাকে অস্বীকার করল। এবং নিজেরা মুদ্রা তৈরী করে সম্পদের উপর আল্লাহ্‌র মালিকানায় নিজেদের শরীক সাব্যস্ত করল। তারা তাদের নিজেদের তৈরী মুদ্রায় নিজেদের ছবি সেঁটে দিল।

কিন্তু বাকী লোকগুলো তখনও ঘুমিয়ে আছে। তাদের মধ্যে যারা বিদ্বান ছিল তারাও এতো বড় চুরি ধরতে পারল না। তারা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বলল, ঠিক আছে। বাকী সবাই বলল, ঠিক আছে। এভাবে সেই পুরো সমাজ অর্থনৈতিক শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়ল। গুটিকয়েক লোক চিরস্থায়ী ধনী আর বাকী সবাই চিরস্থায়ী গোলাম হয়ে গেল। গরীবেরা ধনীদের বাড়িতে কাজ করতে চাইত, কিন্তু ধনীরা তাদের সাথে দাসসুলভ আচরণ করত। সবাই ধনীদের কাছে ঘেঁষতে পারতো না। যারা ধনীদের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পেত তারা নিজেদের সফল ও ভাগ্যবান মনে করত। তাদের এ পরিণতির কারণ তারা আল্লাহ্‌সৃষ্ট হালাল মুদ্রাকে প্রতাখ্যান করে মানুষসৃষ্ট হারাম মুদ্রাব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।

#তোমরা_যারা_সুন্নতি_মুদ্রা_ও_সেকুলার_মুদ্রা_চেনো_না

স্বর্ণ দিয়ে বেতন

ধরুন, একজন ব্যক্তির মাসিক বেতন ৪০,০০০ টাকা। তিনি বর্তমান বাজারদরে আজকে ৪০,০০০ টাকায় যে জীবনযাপন করতে পারেন, আগামী বছর তাহা পারিবেন না। স্বাভাবিক নিয়মে আগামী বছর তাহার খরচ বাড়িবে। সন্তানেরা একটু বড় হইবে, তাহাদের টিউশন ফিশ বাড়িবে, মোবাইল খরচ বাড়িবে, পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের এই বৎসর হয়তো ডায়বেটিসের ঔষধ খাওয়ালয়েই হতো, আগামী বৎসর ইনসুলিন দিতে হইবে, সরকারি করের বোঝাও কিছু বাড়িয়া যাইবে। মোট কথা চাহিদা বাড়িয়া যাইবে, কিন্তু অর্থের মূল্য ১ বৎসর পরে কমিয়া যাইবে। এখানেই রয়েছে শুভঙ্করের ফাকি। কাজেই যদি বেতন না বাড়ানো বা ইনক্রিমেন্ট করা না হয় তাহা হইলে আগামী বৎসর তাহার সংসার চালাইতে হিমসিম খাইতে হইবে।

কিন্তু যদি স্বর্ণের দাম অনুযায়ী সে লোকটা বেতন পাইত তাহলে কি হইত? মনে করুন, সে ১০ গ্রাম স্বর্ণের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বেতন পাইতে লাগিল। আগামী বৎসর স্বাভাবিক নিয়মে তাহার খরচ বাড়িলেও সে ১০ গ্রাম স্বর্ণের দরেই তাহার বেতন পাইবে। তখন তাহার আর ইনক্রিমেন্টের প্রয়োজন হইবে না। তাহাকে ১১ গ্রাম স্বর্ণের মূল্য দিয়া বেতন দিতে হইবে না। এই বৎসর ১০ গ্রাম স্বর্ণ যে মান ধরে রাখে আগামী বৎসরও ১০ গ্রাম স্বর্ণ সেই একই মান ধরে রাখবে। ১০ গ্রাম স্বর্ণের মূল্য দিয়া সে এই বৎসর যতটুকু পণ্য ক্রয় করিতে পারে, আগামী বৎসরও সে ততটুকু পণ্যই ক্রয় করিতে পারিবে। ফলে তাহার খরচ কিছুটা বাড়িলেও বিপরীত অনুপাতে আয় কমিয়া যাইবে না। ফলে সংসার চালাইতে সে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় পড়িবে না।

আপনার যদি একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থাকে আর তাহাতে কিছু কর্মচারী থাকে আর আপনি যদি ইসলামিক জীবনযাপন করিতে চান তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠানের স্টাফদের স্বর্ণের মূল্য ভিত্তিতে বেতন পরিশোধ করিতে পারেন। কোন স্টাফ তাহার যোগ্যতানুসারে পাইল ২২ ক্যারেটের ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম, কেহ পাইল ৮ গ্রামের হিসাবে কেহ পাইল ৫ গ্রামের হিসাবে। নিয়োগের সময় আপনি উভয়পক্ষের চুক্তি অনুযায়ী বিষয়টি ফয়সালা করে নিয়োগপত্রে উল্লেখ করিতে পারেন। ঘরের কাজের বুয়াকেও আপনি স্বর্ণের দামের ভিত্তিতে এইভাবে বেতন দিতে পারেন।

ইহাতে দাজ্জালের গাত্রদাহ হইবে বটে, কিন্তু আইনত সে আপনাকে কিছু করিতে পারিবে না।