সেই ইহুদী বালক ও বর্তমানের যায়নিস্ট মুসলমান

ছোটবেলায় শুনতাম কেউ মারা গেলে সবাই বলাবলি করত, লোকটা নেককার বান্দা ছিল, কলেমা পড়ে মারা গেছে। এখনও প্রতিদিন মরার সংবাদ পাই, রিক্সায় প্রায়দিনই কোন না কোন মৃত্যুর এলান শুনি, কিন্তু লোকটা কলেমা পড়ে মারা গেছে এমন আলোচনা বহুদিন শুনি না। এখন তো বেশির ভাগ মানুষ হাসপাতালেই মারা যায়। যায়নিস্ট হাসপাতাল। সেখানে মৃত্যুর সময় কলেমা পড়ার কোন সুযোগ নেই। যেমন সুযোগ নেই জন্মের সময় কানে আযান দেয়ার। কেউ দিলে তাকে নিশ্চয়ই গেয়ো ভূত বলবে।

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের এক সেবক ছিল ইহুদি বালক। সে মৃত্যুশয্যায় শায়িত শুনে নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। বললেন, কালেমা পড়ে নিতে। ছেলেটি তার বাবার দিকে তাকাল। বাবা চোখ নেড়ে সম্মতি দিলেন। ছেলেটি বলল, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ।

নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের মুখে তখন খুশীর ঝিলিক। আনন্দিত চিত্তে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। কারণ একজন জাহান্নামে যেতে যেতেও ফিরে এলো। জান্নাত পেল।

নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সময় ইহুদীও কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে জান্নাত পেয়ে গেল। আর আজ মুসলমান ব্যক্তিদেরও মৃত্যুর সময় কলেমা পড়া নসিব হয় না। ভয় লাগে, কি যে হবে। আল্লাহ্‌ মাফ করো।

সমাজে যে হারে সুদের লেনদেন বাড়ছে তাতে ঈমান ধরে রাখাই মুশকিল। সুদি ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নামী। কোনদিনও সে জান্নাতে যেতে পারবে না। (সূরা বাকারা – আয়াত – ২৭৫)। মানে এক কথায় কাফের। কাফের ব্যক্তি কিভাবে কলেমা পড়বে। যদিও সে আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ করে, ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ে। আল্লাহ্‌ শব্দ তো আবু জাহেলও বলত।

কি যে হবে, বড় ভয় করে। আল্লাহ্‌ মাফ করো।

সুদের কারণে প্রতিটি শহরকে আল্লাহ ধ্বংস করিবেন

আল্লাহ বলিয়াছেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হইয়া থাক। অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ্‌ ও তাহার রাসুলের সাথে যুদ্ধ করিতে প্রস্তুত হইয়া যাও” (আল কোরআন : ২:২৭৮) । এখানে খেয়াল করুন আল্লাহ কিন্তু কাফেরদেরকে যুদ্ধের হুমকি দেন নাই, দিয়াছেন মুসলমানদেরকে । এমন কোন মুসলিম সমাজ এখন পাওয়া যাইবে যাহারা সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গ্রহন করে নাই ? এমনকি সুদের বিরুদ্ধে এখন আর কেউ বক্তৃতাও করে না । সারা দুনিয়ায় এখন দারুল উলুম আছে কিন্তু সুদের বিরুদ্ধে কেউ কোন আওয়াজ করে না । সুদের বিরুদ্ধে আল্লাহ কেন এমন কঠোর মনোভাব গ্রহন করিয়াছেন ? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন, “যেই সমাজে সুদ চালু থাকে তাহাতে দারিদ্র বৃদ্ধি পায়”। যেখানে সুদের প্রচলন থাকে সেখানে দারিদ্র আসিবেই সুদের হার কম-বেশী যাহাই থাকুক না কেন ? সুদের হার কম থাকিলে অধিকাংশ মানুষ ধীরে ধীরে গরীব হইয়া যাইবে আর সুদের হার বেশী থাকিলে দ্রুত গতিতে গরীব হইয়া যাইবে । সুদ ব্যবস্থায় গরীবরা আরো গরীব হইতে থাকে এবং ধনীরা আরো ধনী হইতে থাকে । ইন্দোনেশিয়া এখন অত্যন্ত ভয়াবহ গরীব মানুষের দেশ, পাকিস্তান গরীব, বাংলাদেশ গরীব, আমি কি আরো দেশের নাম বলব ? আপনি যদি মনে করেন যে, ইহারা গরীব তাহার কারণ তাহারা অলস, তবে আমি বলিব আপনি অর্থনীতি নিয়া আরো পড়াশোনা করেন । এখন আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরিণতি কি হইতে পারে সেই সম্পর্কে কোরআনে কিছু বলা আছে কি ? হ্যাঁ, এই ব্যাপারে সুরা বনি ইসরাঈলের আটান্ন নাম্বার আয়াতটি পড়িয়া দেখিতে পারেন, “এমন কোন শহর নাই, যাহাকে আমি কেয়ামতের পূর্বে ধ্বংস করিব না অথবা যাহাকে কঠোর শাস্তি দিব না। ইহা তো কিতাবে লিপিবদ্ধ হইয়া গিয়াছে”। কাজেই শীঘ্রই দেখিতে পাইবেন পৃথিবীর অধিকাংশ শহর এমনভাবে ধ্বংস হইবে যেন এগুলোর কোনকালে কোনো অস্তিত্বই ছিল না ।


মূল – আল্লামা ইমরান নযর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

হারামের সাগরে বসবাস

শূকরের মাংস খাওয়া হারাম। স্পষ্ট হারাম। কুরআনের নির্দেশ। কিন্তু একই আয়াতে বলা আছে, তবে কেউ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হলে তখন আল্লাহ্‌ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা মায়িদা, ৩)।

কুরআনের অন্য আয়াতে বলা আছে, আল্লাহ্‌ কারো উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্বভার চাপিয়ে দেন না।

এখন এমন একজন লোকের কথা কল্পনা করি, যে নিয়মিত শুকরের মাংস খায়। এটাকে কোন অপরাধ মনে করে না। ভালো মনে করে। উপরন্তু জায়েজ মনে করে।

একই রকম ব্যাপার ঘটে যখন আমি মানুষের অধিকার নষ্ট করি, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করি। কিন্তু এটাকে কেয়ার করি না। মনে করি এটা আমার অধিকার। যেমন, আমরা যখন মোটর কার ব্যবহার করি সেটা দ্বারা অনেক মানুষের কষ্টের কারণ হই। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণের মাধ্যমে অনেকের ক্ষতির কারণ হই। কিন্তু এটা আমরা মোটেই খেয়াল করি? উপরন্তু মনে করি, এটা আমার অধিকার। মনের এই অবস্থা মানুষকে তওবা থেকে বিরত রাখে।

ঠিক একই ভাবে হারাম কাগুজে মুদ্রা। হারামের মধ্যে ইউজড টু হয়ে যাওয়া। একে অপরাধ মনে না করা। এটাকে জায়েজ প্রমাণের চেষ্টা করা। এটা হলো মনের এক রকম অবস্থা।

মনের অন্য আরেক রকম অবস্থা হলো, হায় আল্লাহ্‌, আমি নিরুপায়, আমি দুর্বল। বাধ্য হয়ে ব্যবহার করছি।

এখন এই যে মনের দুই রকম অবস্থা, এই দুটো কি এক? নিশ্চয়ই তাদের গতি ও গন্তব্যে ভিন্নতা আছে। নয় কি?

ইসলামী ব্যাংক- সুদের হালালীকরণ ব্যবস্থা

murabaha

সারা বিশ্বের ইসলামী ব্যাংকগুলো অশুভ অনৈতিক পদ্ধতি উদ্ভাবনের মাধ্যমে রিবাকে পাশ কাটানোর উদ্দেশ্যে কৌশলে বরং রিবাকে বৈধতা প্রদানের প্রচেষ্ঠা চালাচ্ছে। সরল প্রাণ মুসলিম জনগণকে সুদি-ব্যাংকিং এর বিকল্প হিসেবে তারা যা উপস্থাপন করছে তা মূলত রিবারই ছদ্মরূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, তারা মুরাবাহা নামক একটি পরিভাষা কৌশলে ব্যবহার করে এবং ত্রুটিপূর্ণভাবে তাকে সংজ্ঞায়িত করে। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে জনসাধারণকে প্রচ্ছন্নভাবে ধোঁকা দিয়েই এই ধরনের লেনদেন করা হয় যা নিশ্চিতভাবেই রিবার প্রভাব মুক্ত নয়। এই মুরাবাহা প্রকল্পের আওতায় কোন দ্রব্য নগদ মূল্যে ক্রয় করে এবং বেশি মূল্যে তা বাকিতে বিক্রি করে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের যুক্তি হচ্ছে এই যে, যেহেতু এ ধরনের লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে দ্রব্যের মূল্য সম্পর্কে আগেই সমঝোতা হয়ে থাকে সেহেতু এ ধরেনের লেনদেন হালাল।
.
যদি কোন ব্যাংক বাজার থেকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে একটি গাড়ি ক্রয় করে এবং সে বাজারেই নগদ ১৭ লাখ টাকায় বিক্রয় করে তবে এই লেনদেনটি হবে সন্দেহজনক। কারণ যদি বাজারে ১০ লাখ টাকায় গাড়িটি পাওয়া যায় তাহলে কেও ১৭ লাখ টাকা দিয়ে ব্যাংকের কাছ থেকে সেই একই গাড়ি কেন কিনতে যাবে? সেক্ষেত্রে যদি কোন ক্রেতার বাজারদর সম্পর্কে ধারণা না থাকে এবং সে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাকে ঠকিয়ে ৭ লাখ টাকা বেশি আদায় করা হয়, এ ধরনের প্রতারণাও রিবার অন্তর্ভুক্ত। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-

আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “একজন মুসতারসালকে (বাজারদর সম্পর্কে সে জানেনা এমন ক্রেতা) ঠকানো রিবার অন্তর্ভুক্ত।“ (বায়হাকী)
.
যদি কোন ক্রেতা বাজার দর সম্পর্কে জানার পরও ১৭ লাখ টাকা দিয়ে সে গাড়িটি ক্রয় করে তাহলে বুঝতে হবে এ ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেনের মধ্যে নিশ্চয়ই কোন গলদ কিংবা কোন অন্তর্নিহিত কারণ আছে। নয়তো ক্রেতা মানসিক ভারসাম্যহীন। সেক্ষেত্রে লেনদেনটি অবৈধ হবে।
.
অপরদিকে ব্যাংক যদি গাড়িটি নগদ ১০ লাখ টাকা দিয়ে কিনে ১৭ লাখ টাকায় বাকিতে বিক্রি করে তবে মূল্য বৃদ্ধির যথাযথ কারণ এখানে সময়ের উৎপাদক (ঋণ দানের মাধ্যমে সুদ গ্রহণ) ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এ ধরনের লেনদেনে সময়ের সাথে সাথে টাকার পরিমাণও বেড়ে যায়। তাই এই অবস্থায় শুধু টাকাই টাকা উৎপাদনে সক্ষম হয়ে যায়। এ ধরনের লেনদেনের সাথে রাসুল (ﷺ) এর হাদিস অনুযায়ী এটি অবশ্যই রিবাভিত্তিক লেনদেন।
.
যে সমস্ত পথহারা মুসলিমরা কৌশলে উপস্থাপিত মুরাবাহাকে হালাল বলে মনে করে তাকে আঁকড়ে ধরে আছেন তাদের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কে ভয় পাওয়া উচিত। কারণ তারা মুরাবাহাকে হালাল বলে প্রচার করে সাধারণ মুসলিম জনগণকে প্রতারণা করছেন, এই কাজের তাদের কোন কল্যাণ তো হবেই না বরং পথভ্রষ্টকারী হিসেবে তাদের শাস্তি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা পবিত্র কুর’আনে ইরশাদ করেছেন, “হে আমাদের রব! এরাই হলো সেসব লোক যারা আমাদের বিভ্রান্ত করেছিল কাজেই এদের আগুনের আজাব দ্বিগুণ করে দিন; তখন তিনি বলবেন, প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তোমরা তা জ্ঞাত নও ।” (সূরা আ’রাফ ৭:৩৮)

“Our lord, these had misled us, so give them a double punishment of fire. He will say, “For each is double, but you do not know.” (A’raf 38)
.
.
(এটি হল ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেম নিয়ে শাইখ ইমরান নযর হোসেন হাফিযাহুল্লাহ’র মত। উপরের লেখাটি বাংলাদেশি একজন আলেমের বই থেকে হুবহু তুলে দিলাম, ইসলামিক ব্যাংকিং নিয়ে উভয় শাইখ একই মত প্রকাশ করেছেন (আল্লাহ তাদেরকে দাজ্জালী সৈন্য থেকে হেফাজত করুক)। বই এবং লেখকের নাম গোপনেই থাক)

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

ইসলামিক সুদ ও সঞ্চয় !!

যারা ইনকামট্যাক্স দেন তারা তাদের ট্যাক্স আইনসিদ্ধভাবে অনেক কমিয়ে ফেলতে পারেন যদি তাদের ডিপিএস বা ইনস্যুরেন্স বা ফিক্সড ডিপোজিট জাতীয় কিছু থাকে। অর্থাৎ আপনি সুদের লেনদেন করুন রাষ্ট্র আপনাকে সহায়তা করবে। যদি তা না করেন তাহলে আপনাকে গুনতে হবে পুরোমাত্রার ট্যাক্স। অনেকে জানেন যে ডিপিএস হারাম, তাই তারা ইসলামিক ব্যাংকে এরকম ডিপোজিট করেন। ইসলামিক ব্যাংকে করলেই যেন সেটা হালাল হয়ে যায়। অথচ একে তো সুদের লেনদেন, তার ওপর টাকা জমানোর গুনাহ। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একদা কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা সঞ্চিত ছিল। তিনি সেটা তাড়াতাড়ি দান করে চিন্তামুক্ত হন। এ কারণে যে তার আশংকা ছিল যে কোন মুহূর্তে তার মৃত্যু হয়ে যেতে পারে, কিন্তু তার কাছে কয়েকটি সঞ্চিত মুদ্রা থেকে যায়। ইসলামী ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করা যদি হালাল হয়, সওয়াবের কাজ হয় তবে হযরত ঈসা মাসীহ য়ালাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম মাহদী য়ালাইহিস সালাম সে সওয়াব হাসিল করা থেকে বিরত থাকবেন কেন? উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া বিনতুল হারিস (রা) এর ভাই আমর ইবনুল হারিস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম তার ইন্তিকালের সময় কোন দীনার দিরহাম, দাস দাসী এবং অন্য সামগ্রী রেখে যাননি। তবে তার বাহন একটি সাদা খচ্চর, তার তরবারি এবং মুসাফিরদের জন্য দানকৃত কিছু ভূমি তিনি রেখে যান। (রিয়াদুস ছালেহীন)। দুনিয়ার প্রতি বিমুখতার এরকম অসংখ্য হাদিস আছে। যা প্রতিটি কুরআনের মানদন্ডে সত্যায়িত। তাহলে কিভাবে তার উম্মতের জন্য বিরাট বিরাট সঞ্চয় জায়েজ হতে পারে?

e-money

e-money

ইলেকট্রনিক বা ইনভিজিবল মানির সমস্যা কি? আপনারা কি মনে করেন হ্যাকাররা আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাক করে আপনার একাউন্ট খালি করে দেবে? হ্যাঁ, এটা একটা সমস্যা, চোরেরা সবসময়ই থাকে, তবে আমাদের কানা চোখের মাসীহটি এরকম চুরিচামারী করে হাত নোংরা করে না। তাকে ফলস মাসীহর অভিনয় করতে হবে যাকে দেখতে মনে হবে মানবতার জন্য দয়াবান। সে এমন এক মুদ্রানীতি চালু করবে যা ডলার দ্বারাও সমর্থিত নয়। বর্তমানে যেমন ডলার সোনা দ্বারা সমর্থিত নয় সেরকম। ইতিমধ্যে বিশ্বযুদ্ধ ও অন্যান্য কিছু দ্বারা ডলারকে ফল করানো হবে। নতুন প্রবর্তিত মুদ্রানীতি চালু করার জন্য বহু নেতৃস্থানীয় ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সেলিব্রেটি ব্যক্তিত্ব মানবতার নতুন মুক্তিদূতকে সহায়তা করবে এবং এ কাজের জন্য সে কোন বাঁধার সম্মুখীন হবে না। সে কম্পিউটারে সংখ্যা টাইপ করে মুদ্রা ক্রিয়েট করতে পারবে। সে যত ইচ্ছা তত ডিজিটের সংখ্যা লিখতে পারবে। আর তার অনুসারীদের ডিস্ট্রিবিউট করতেও পারবে। সেখানে আমার আপনার ব্যাংকে রক্ষিত হাজার বা লাখ টাকা তার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টাকার তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র দেখাবে। যা দিয়ে কিছুই কেনা যাবে না। সারা পৃথিবী এক কঠিন ফিতনা (পরীক্ষা) ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়বে। মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর মুক্ত ও এবং নায্য (Free and Fair) বাজারনীতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বর্তমানে ডলারকে সোনার স্থলবর্তী করা কারণে ফ্রী এন্ড ফেয়ার ট্রেড লঙ্ঘিত হচ্ছে। তার পূর্ণ বিলুপ্তি হবে যখন এক ব্যক্তির কাছে টাকা বানানোর মেশিনটি চলে যাবে।

e-money

e-money

ডলার দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করা সমস্যা ছিল না। যেহেতু ডলার একটি কাগজের নোট সেহেতু তাকে অবশ্যই সোনা দ্বারা সমর্থিত থাকতে হতো। কিন্তু ১৯৪৪ সালের ব্রেটনউড কনফারেন্সে মুদ্রা হিসেবে সোনাকে নিষিদ্ধ করা হয়। এখন আর ডলার সোনা দ্বারা সমর্থিত নয়। কিন্তু বাকী সমস্ত কাগজের মুদ্রা ডলার দ্বারা সমর্থিত হতে হচ্ছে। এভাবে ডলার বিশ্ব অর্থনীতিতে একমাত্র সুপার পাওয়ার হিসেবে রাতারাতি আবির্ভূত হয়েছে। অর্থাৎ ডলারই একমাত্র হালাল মুদ্রা, বাকী সমস্ত মুদ্রাকে হালাল হতে হলে ডলারের কাছে মাথানত করতে হবে।

এখন বিশ্ব অন্য এক মুদ্রা ব্যবস্থার এক্সপেরিয়েন্স পেতে যাচ্ছে। ডলার ছাপাতে তো তাও কাগজ ও কালির দরকার হতো। প্রয়োজনমত মর্জিমাফিক ডলার ছাপিয়ে নেয়া হতো। এখন আর তাও দরকার হবে না। কম্পিউটারে মনমতো সংখ্যা লিখে নিলেই হবে। তখন সম্পদ লাভ করার জন্য পরিশ্রমের প্রয়োজন হবে না, সোনার খনি, তেলের খনির প্রয়োজন হবে না, শুধু দরকার একটি চার্জসহ কম্পিউটার। তবে সেই কম্পিউটারটা আমার আপনার কম্পিউটার নয়, সেটা থাকবে জেরুজালেমের কোঁকড়া চুলের এক যুবকের হাতে। যার এক চোখ হবে কানা ও কপালে লেখা থাবে কাফির।