কাগজের রহস্যময় ব্যবহার

ইসলাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিষ্কার বলে দিয়েছে বিভিন্ন আদান প্রদান সোনা রূপা এবং খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে করতে হবে। কাগজের মুদ্রার ব্যবহার করা যাবে এরকম ইঙ্গিতও কোথাও পাওয়া যায় না।

ফিদিয়া – “আর যাদের জন্য সিয়াম কষ্টসাধ্য তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদিয়া দেয়া তথা একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করা।” [সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৮৪]। কুরআনের এরকম স্পষ্ট আদেশের পর নগদ অর্থ দিয়ে ফিদিয়া আদায় করা জায়েয নয়। বরং খাদ্য দিয়ে ফিদিয়া আদায় করা ফরয।

বিবাহের দেনমোহর – হযরত ফাতেমা রাঃ এর মোহর ছিল ৫০০ দিরহাম।

যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ।

ফেতরা – গম, আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনির।

কাগজের মুদ্রার কথা কোথাও নেই। বরং সতর্কবাণী এসেছে। কাগজের মুদ্রাকে রিবার বাষ্প ও রিবার ধুলা বলা হয়েছে। দেখুন, https://goo.gl/T3rUfE

প্রকৃত মুদ্রা হলো তাই যার ভেতরে আল্লাহ্‌ তায়ালা অন্তর্নিহিত মূল্য রেখেছেন। তাই সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা উচিৎ।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, ইসলামের আধুনিক ভার্সনে বা আধুনিক আলেমদের কল্যাণে সোনা রূপা এবং খাদ্যদ্রব্য হয়ে যায় টাকা, রূপী, রিয়েল, রিংগিত, ডলার ইতাদি। সকল নবী রাসূলদের সুন্নতী মুদ্রাব্যবস্থাকে ইহুদী খ্রিস্টানদের আবিষ্কৃত নিয়ম দ্বারা প্রতিস্থাপনের দায় ইসলামিক লেখক, স্কলার ও বক্তৃতা দানকারীরা কিভাবে এড়াবেন?

যে স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা কয়েক হাজার বৎসর মানবজাতি কোন রকম সমস্যা ছাড়া ব্যবহার করল বিংশ শতাব্দীতে এসে তা অচল হয়ে গেল এবং কাগজের মুদ্রার এক নতুন আইডিওলজি গড়ে উঠল সেটা কি স্বাভাবিক? এর চেয়েও বড় রহস্য কোন আলেমের কাছে এই অস্বাভাবিক বিষয় টা চোখে পড়ল না কেন??

কিভাবে কাগজের মুদ্রা নিজেই রিবা হয়

বিষয়টি আমি ততদিন পর্যন্ত বুঝতে অক্ষম ছিলাম যতক্ষণ না রিবার বাষ্প বা রিবার ধুলা কি জিনিস তা উপলব্ধি করতে পারি নাই। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়লাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, “সোনার বিনিময়ে সোনা, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, বার্লির বিনিময়ে বার্লি, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবনের বিনিময়ে লবন। সমান সমান বিনিময়ের ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধ অবশ্যই অকুস্থলে হতে হবে, এরপর যদি কেউ বেশি দেয় কিংবা বেশি দাবি করে, সে রিবায় জড়িয়ে পড়বে এবং যে দেবে আর যে নেবে উভয়েই অপরাধী হবে।” ইহা আবু সাঈদ আল খুদরী রাযি হতে বর্ণিত সহি মুসলিমের একটি হাদিস।
 
অবশ্যই আপনাকে একই ধরনের জিনিস (বা মুদ্রা) বিনিময়ের ক্ষেত্রে উভয়টির পরিমাপ ও গুণ সমান সমান হতে হবে। বেশী কম হলে তাহা রিবা।
 
একদিন বিলাল (রাঃ) মহানবী (সাঃ)-এর কাছে কিছু ভাল খেজুর নিয়ে আসলেন, তখন নবীজী জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কোত্থেকে পেয়েছো? বিলাল (রাঃ) উত্তরে বললেন: “আমার কাছে কিছু নিম্নমানের খেজুর ছিল, আমি সেরকম দুইটির বিনিময়ে এরকম (ভালো) একটি করে
নিয়েছি। মহানবী (সাঃ) প্রতিক্রিয়ায় বললেন, “আহ্, এটাই মূলত রিবা। এটা করো না। (বুখারী, মুসলিম)
 
এখন ইনশাআল্লাহ্‌ বুঝে আসবে যে কিভাবে কাগজের মুদ্রা নিজেই অটো রিবা হিসেবে কাজ করে। আপনি যদি ১ লাখ টাকা সিন্দুকে ভরে রাখেন এবং সিন্দুক ভালো করে তালাবন্ধ করে রাখেন তবে ১ বছর পর আপনার ১ লাখ টাকা ১ লাখ টাকাই থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে মুদ্রাস্ফীতির কারণে বা যে কারণেই হোক আপনি যখন ১ বছর পর সেই টাকা বের করবেন তবে তার মান আর ১ বছর পূর্বে সংরক্ষণের সময় যে মান ছিল তা সমান থাকবে না। কারণ এই ১ বছরে টাকার মান কমে গেছে। অর্থাৎ সময়ের সাথে টাকার মূল্যের পরিবর্তন ঘটেছে। সময়কে ফ্যাক্টর ধরে টাকার মূল্যের হ্রাসবৃদ্ধি রিবা। একই জিনিস বিনিময়ের ক্ষেত্রে সে জিনিসের পরিমাপ ও গুণ কমবেশী হতে পারে না। — সিন্দুক থেকে বের করে আপনি যখন ব্যাংকে টাকা বিনিময় করতে যাবেন তারা আপনাকে ১ লাখের বদলে ১ লাখ টাকাই দিবে। কিন্তু তা পূর্বের অর্থাৎ ১ বৎসর আগের ১ লাখের সমান টাকা দিবে না, বর্তমানের নিম্নমানের ১ লাখ টাকা দিবে।
 
কিন্তু যদি আপনি সিন্দুকে ১০০ গ্রাম সোনা সংরক্ষণ করতেন তা ১ বৎসর পরে কেন ১ লক্ষ বৎসর পরেও তার সেই দাম ধরে রাখত।
 
এই মুহূর্তে রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের আবু দাউদ শরীফের সেই হাদিসটি প্রণিধানযোগ্য যা আবু হুরাইরা রাযি বর্ণনা করেছেন। A time will come over mankind when not a single person will remain who does not consume riba (usury, interest); and if one does not consume it, the vapour or dust of it will hit him. মানবজাতির উপর এমন সময় অবশ্যই আসবে যখন সকলেই সুদ খাবে, যদি কেউ বলে আমি সুদ খাই না, তবে সুদের বাষ্প ও ধুলা তাকে আঘাত করবে।
 
এটাই সেই সুদের বাষ্প ও ধুলা যা কাগজের টাকার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। বাষ্প ও ধুলা যেমন সতত উড়ে যায় কিন্তু তা দেখা যায় না বরং উপলব্ধি করা যায়, কাগজের টাকার মানও তেমন গায়েব হয়ে যায় যা দেখা যায় না কিন্তু উপলব্ধি করা যায়।

কাগজের টাকার উপর আলেমদের কি ইজমা হয়েছে?

অনেকে বলেন কাগজের টাকার উপর নাকি আলেমদের ইজমা হয়েছে। কাজেই এটা এখন জায়েজ। বাস্তব কথা হলো এ ধরনের ইজমা হতে পারে না। রিবার তিয়াত্তুরটা দরজা আছে। একটা হলো মায়ের সাথে জেনাহ করা। মায়ের সাথে জেনাহ করার ইজমা হতে পারে না। এটা অসম্ভব ব্যাপার। যদি কিছু আলেম এ ধরনের রায় দেয় তবে তা বাতিল বলে বিবেচিত হবে। কারণ মুসলিম উম্মাহ কিয়ামত পর্যন্ত কোন ভুল বিষয়ে একমত হতে পারে না।

বরং এতোটুকু বলা যায়, কাগজের মুদ্রা গ্রহণের মাধ্যমে মুসলিমরা একটা নিকৃষ্ট বিদায়াতের জন্ম দিয়েছে। আরেকটু বাড়িয়ে বলা যায়, তারা ইহুদী খ্রিস্টানদের অনুসরণ করেছে। কারণ এ বিষয়ে হাদিস আছে, যে মুসলিমরা ইহুদী খ্রিস্টানদের অনুসরণ করবে গজে গজে, বিঘতে বিঘতে; যদি তারা গিরগিটির গর্তেও ঢুকে তবে তারাও সেই গর্তে ঢুকবে। — কিন্তু তাই বলে একে ইজমার নাম দিয়ে শরয়ী বিধান বানিয়ে ফেলবে সে অনুমতি ইসলাম কাউকে দেয় না।

(সবাই দয়া করে কপি পেস্ট করে শেয়ার করুন)

তোমরা যারা সুন্নতি মুদ্রা ও সেকুলার মুদ্রা চেনো না।

মনে করুন এই পৃথিবীতে ১০০ জন লোক আছে। তারা সবাই বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। কেউ চাষী, কেউ মাঝি, কেউ জেলে, কেউ ছাত্র, কেউ গৃহিণী, কেউ ব্যাংকার। সেখানে স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রার মাধ্যমে এবং বিনিময় পদ্ধতিতে জিনিসপত্র বেচাকেনা হতো। মানুষজন ব্যাংকারের কাছে স্বর্ণের চাকা রেখে যেতো। মাঝে মাঝে প্রয়োজনমতো কিছু কিছু তুলে নিত। ব্যাংকার সবার কাজের সুবিধার জন্য মানুষদের স্বর্ণের বিপরীতে একটি টোকেন দেয় যাতে কত পরিমাণ মুদ্রা জমা রাখল তা বোঝা যায়। আবার যখন প্রয়োজনমতো তুলতে আসে তখনও টোকেন দেয়া হয় যার বিপরীতে তার স্বর্ণ জমা থাকে। এভাবে লোকজন টোকেনগুলো বাজারে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে। যার যে মানের টোকেন আছে ব্যাংকে সে পরিমাণ সোনা বা রূপা অবশ্যই জমা থাকবে এবং চাহিবামাত্র ব্যাংকার তাকে সে পরিমাণ সোনা দিতে বাধ্য থাকবে। এভাবে সেই ১০০ জনের পৃথিবীতে সোনা রূপা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

তবে ব্যাংকারের কিছু দুষ্ট বন্ধু ছিল। একদিন ব্যাংকার তার দুষ্ট বন্ধুদের সাথে বুদ্ধি করে জমা রাখা সোনার চেয়ে বেশী বেশী টোকেন দেয়া শুরু করল। কারণ সব মানুষ এক সাথে ব্যাংকে তাদের টোকেনের বিপরীতে জমা রাখা সোনা চাইতে আসে না। বলা বাহুল্য এই বেশী টোকেনগুলো তার দুষ্ট বন্ধুরাই পেল। ফলে তারা বাজারের অনেক জিনিস কিনে ফেলল। ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেল এবং অন্য সাধারণ মানুষদের ক্রয়ক্ষমতার চেয়ে ঐ গুটিকয়েক লোকের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে গেল। তারা রাতারাতি ধনী হয়ে গেল এবং হঠাৎ করে বাকী সব লোক গরীব হয়ে গেল। কিন্তু কেউ কিছু বুঝতে পারল না কি হল। কারণ তারা সবাই ঘুমাচ্ছিল যখন চোরেরা কারসাজি করছিল।

এভাবে চোরের দল অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠল। একদিন তারা ঘোষণা করল, এখন থেকে আর ব্যাংকে সোনা রূপা রিজার্ভ থাকলে চলবে না। তারা একটা টোকেন বের করল তার নাম দিল ডলার। তারা বলল এখন থেকে এই ডলারই হবে রিজারভের উপাদান। যার যত বেশী ডলার রিজার্ভ থাকবে সে তত বেশী সম্পদের মালিক বলে বিবেচিত হবে। এভাবে ব্যাংকারের সহযোগিতায় তার গুটিকয়েক বন্ধুরা সব ডলারের মালিক বনে গেল। ব্যাংকার তার বন্ধুদের জন্য ডলার তৈরী করল আর সোনা রূপা বাদ হয়ে গেল। ফলে লোকজনদের আগের সোনার টোকেনগুলো বাতিল হয়ে গেল। এখন অনেক মানুষ হতদরিদ্র অবস্থায় চলে গেল। শুধু কিছু চোরেরা সারা পৃথিবীর সব সম্পদের মালিক হয়ে গেল।

এভাবে তারা আল্লাহ্‌ কর্তৃক প্রদত্ত প্রাকৃতিক বিনিময়ের মাধ্যম সোনা রূপাকে সরিয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে সম্পদের উপর আল্লাহ্‌র মালিকানাকে অস্বীকার করল। এবং নিজেরা মুদ্রা তৈরী করে সম্পদের উপর আল্লাহ্‌র মালিকানায় নিজেদের শরীক সাব্যস্ত করল। তারা তাদের নিজেদের তৈরী মুদ্রায় নিজেদের ছবি সেঁটে দিল।

কিন্তু বাকী লোকগুলো তখনও ঘুমিয়ে আছে। তাদের মধ্যে যারা বিদ্বান ছিল তারাও এতো বড় চুরি ধরতে পারল না। তারা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বলল, ঠিক আছে। বাকী সবাই বলল, ঠিক আছে। এভাবে সেই পুরো সমাজ অর্থনৈতিক শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়ল। গুটিকয়েক লোক চিরস্থায়ী ধনী আর বাকী সবাই চিরস্থায়ী গোলাম হয়ে গেল। গরীবেরা ধনীদের বাড়িতে কাজ করতে চাইত, কিন্তু ধনীরা তাদের সাথে দাসসুলভ আচরণ করত। সবাই ধনীদের কাছে ঘেঁষতে পারতো না। যারা ধনীদের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পেত তারা নিজেদের সফল ও ভাগ্যবান মনে করত। তাদের এ পরিণতির কারণ তারা আল্লাহ্‌সৃষ্ট হালাল মুদ্রাকে প্রতাখ্যান করে মানুষসৃষ্ট হারাম মুদ্রাব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।

#তোমরা_যারা_সুন্নতি_মুদ্রা_ও_সেকুলার_মুদ্রা_চেনো_না

স্বর্ণ দিয়ে বেতন

ধরুন, একজন ব্যক্তির মাসিক বেতন ৪০,০০০ টাকা। তিনি বর্তমান বাজারদরে আজকে ৪০,০০০ টাকায় যে জীবনযাপন করতে পারেন, আগামী বছর তাহা পারিবেন না। স্বাভাবিক নিয়মে আগামী বছর তাহার খরচ বাড়িবে। সন্তানেরা একটু বড় হইবে, তাহাদের টিউশন ফিশ বাড়িবে, মোবাইল খরচ বাড়িবে, পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের এই বৎসর হয়তো ডায়বেটিসের ঔষধ খাওয়ালয়েই হতো, আগামী বৎসর ইনসুলিন দিতে হইবে, সরকারি করের বোঝাও কিছু বাড়িয়া যাইবে। মোট কথা চাহিদা বাড়িয়া যাইবে, কিন্তু অর্থের মূল্য ১ বৎসর পরে কমিয়া যাইবে। এখানেই রয়েছে শুভঙ্করের ফাকি। কাজেই যদি বেতন না বাড়ানো বা ইনক্রিমেন্ট করা না হয় তাহা হইলে আগামী বৎসর তাহার সংসার চালাইতে হিমসিম খাইতে হইবে।

কিন্তু যদি স্বর্ণের দাম অনুযায়ী সে লোকটা বেতন পাইত তাহলে কি হইত? মনে করুন, সে ১০ গ্রাম স্বর্ণের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বেতন পাইতে লাগিল। আগামী বৎসর স্বাভাবিক নিয়মে তাহার খরচ বাড়িলেও সে ১০ গ্রাম স্বর্ণের দরেই তাহার বেতন পাইবে। তখন তাহার আর ইনক্রিমেন্টের প্রয়োজন হইবে না। তাহাকে ১১ গ্রাম স্বর্ণের মূল্য দিয়া বেতন দিতে হইবে না। এই বৎসর ১০ গ্রাম স্বর্ণ যে মান ধরে রাখে আগামী বৎসরও ১০ গ্রাম স্বর্ণ সেই একই মান ধরে রাখবে। ১০ গ্রাম স্বর্ণের মূল্য দিয়া সে এই বৎসর যতটুকু পণ্য ক্রয় করিতে পারে, আগামী বৎসরও সে ততটুকু পণ্যই ক্রয় করিতে পারিবে। ফলে তাহার খরচ কিছুটা বাড়িলেও বিপরীত অনুপাতে আয় কমিয়া যাইবে না। ফলে সংসার চালাইতে সে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় পড়িবে না।

আপনার যদি একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থাকে আর তাহাতে কিছু কর্মচারী থাকে আর আপনি যদি ইসলামিক জীবনযাপন করিতে চান তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠানের স্টাফদের স্বর্ণের মূল্য ভিত্তিতে বেতন পরিশোধ করিতে পারেন। কোন স্টাফ তাহার যোগ্যতানুসারে পাইল ২২ ক্যারেটের ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম, কেহ পাইল ৮ গ্রামের হিসাবে কেহ পাইল ৫ গ্রামের হিসাবে। নিয়োগের সময় আপনি উভয়পক্ষের চুক্তি অনুযায়ী বিষয়টি ফয়সালা করে নিয়োগপত্রে উল্লেখ করিতে পারেন। ঘরের কাজের বুয়াকেও আপনি স্বর্ণের দামের ভিত্তিতে এইভাবে বেতন দিতে পারেন।

ইহাতে দাজ্জালের গাত্রদাহ হইবে বটে, কিন্তু আইনত সে আপনাকে কিছু করিতে পারিবে না।

সেই ইহুদী বালক ও বর্তমানের যায়নিস্ট মুসলমান

ছোটবেলায় শুনতাম কেউ মারা গেলে সবাই বলাবলি করত, লোকটা নেককার বান্দা ছিল, কলেমা পড়ে মারা গেছে। এখনও প্রতিদিন মরার সংবাদ পাই, রিক্সায় প্রায়দিনই কোন না কোন মৃত্যুর এলান শুনি, কিন্তু লোকটা কলেমা পড়ে মারা গেছে এমন আলোচনা বহুদিন শুনি না। এখন তো বেশির ভাগ মানুষ হাসপাতালেই মারা যায়। যায়নিস্ট হাসপাতাল। সেখানে মৃত্যুর সময় কলেমা পড়ার কোন সুযোগ নেই। যেমন সুযোগ নেই জন্মের সময় কানে আযান দেয়ার। কেউ দিলে তাকে নিশ্চয়ই গেয়ো ভূত বলবে।

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের এক সেবক ছিল ইহুদি বালক। সে মৃত্যুশয্যায় শায়িত শুনে নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে গেলেন। বললেন, কালেমা পড়ে নিতে। ছেলেটি তার বাবার দিকে তাকাল। বাবা চোখ নেড়ে সম্মতি দিলেন। ছেলেটি বলল, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ।

নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের মুখে তখন খুশীর ঝিলিক। আনন্দিত চিত্তে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। কারণ একজন জাহান্নামে যেতে যেতেও ফিরে এলো। জান্নাত পেল।

নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সময় ইহুদীও কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে জান্নাত পেয়ে গেল। আর আজ মুসলমান ব্যক্তিদেরও মৃত্যুর সময় কলেমা পড়া নসিব হয় না। ভয় লাগে, কি যে হবে। আল্লাহ্‌ মাফ করো।

সমাজে যে হারে সুদের লেনদেন বাড়ছে তাতে ঈমান ধরে রাখাই মুশকিল। সুদি ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নামী। কোনদিনও সে জান্নাতে যেতে পারবে না। (সূরা বাকারা – আয়াত – ২৭৫)। মানে এক কথায় কাফের। কাফের ব্যক্তি কিভাবে কলেমা পড়বে। যদিও সে আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ করে, ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ে। আল্লাহ্‌ শব্দ তো আবু জাহেলও বলত।

কি যে হবে, বড় ভয় করে। আল্লাহ্‌ মাফ করো।

সুদের কারণে প্রতিটি শহরকে আল্লাহ ধ্বংস করিবেন

আল্লাহ বলিয়াছেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হইয়া থাক। অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ্‌ ও তাহার রাসুলের সাথে যুদ্ধ করিতে প্রস্তুত হইয়া যাও” (আল কোরআন : ২:২৭৮) । এখানে খেয়াল করুন আল্লাহ কিন্তু কাফেরদেরকে যুদ্ধের হুমকি দেন নাই, দিয়াছেন মুসলমানদেরকে । এমন কোন মুসলিম সমাজ এখন পাওয়া যাইবে যাহারা সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গ্রহন করে নাই ? এমনকি সুদের বিরুদ্ধে এখন আর কেউ বক্তৃতাও করে না । সারা দুনিয়ায় এখন দারুল উলুম আছে কিন্তু সুদের বিরুদ্ধে কেউ কোন আওয়াজ করে না । সুদের বিরুদ্ধে আল্লাহ কেন এমন কঠোর মনোভাব গ্রহন করিয়াছেন ? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন, “যেই সমাজে সুদ চালু থাকে তাহাতে দারিদ্র বৃদ্ধি পায়”। যেখানে সুদের প্রচলন থাকে সেখানে দারিদ্র আসিবেই সুদের হার কম-বেশী যাহাই থাকুক না কেন ? সুদের হার কম থাকিলে অধিকাংশ মানুষ ধীরে ধীরে গরীব হইয়া যাইবে আর সুদের হার বেশী থাকিলে দ্রুত গতিতে গরীব হইয়া যাইবে । সুদ ব্যবস্থায় গরীবরা আরো গরীব হইতে থাকে এবং ধনীরা আরো ধনী হইতে থাকে । ইন্দোনেশিয়া এখন অত্যন্ত ভয়াবহ গরীব মানুষের দেশ, পাকিস্তান গরীব, বাংলাদেশ গরীব, আমি কি আরো দেশের নাম বলব ? আপনি যদি মনে করেন যে, ইহারা গরীব তাহার কারণ তাহারা অলস, তবে আমি বলিব আপনি অর্থনীতি নিয়া আরো পড়াশোনা করেন । এখন আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরিণতি কি হইতে পারে সেই সম্পর্কে কোরআনে কিছু বলা আছে কি ? হ্যাঁ, এই ব্যাপারে সুরা বনি ইসরাঈলের আটান্ন নাম্বার আয়াতটি পড়িয়া দেখিতে পারেন, “এমন কোন শহর নাই, যাহাকে আমি কেয়ামতের পূর্বে ধ্বংস করিব না অথবা যাহাকে কঠোর শাস্তি দিব না। ইহা তো কিতাবে লিপিবদ্ধ হইয়া গিয়াছে”। কাজেই শীঘ্রই দেখিতে পাইবেন পৃথিবীর অধিকাংশ শহর এমনভাবে ধ্বংস হইবে যেন এগুলোর কোনকালে কোনো অস্তিত্বই ছিল না ।


মূল – আল্লামা ইমরান নযর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

হারামের সাগরে বসবাস

শূকরের মাংস খাওয়া হারাম। স্পষ্ট হারাম। কুরআনের নির্দেশ। কিন্তু একই আয়াতে বলা আছে, তবে কেউ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হলে তখন আল্লাহ্‌ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা মায়িদা, ৩)।

কুরআনের অন্য আয়াতে বলা আছে, আল্লাহ্‌ কারো উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্বভার চাপিয়ে দেন না।

এখন এমন একজন লোকের কথা কল্পনা করি, যে নিয়মিত শুকরের মাংস খায়। এটাকে কোন অপরাধ মনে করে না। ভালো মনে করে। উপরন্তু জায়েজ মনে করে।

একই রকম ব্যাপার ঘটে যখন আমি মানুষের অধিকার নষ্ট করি, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করি। কিন্তু এটাকে কেয়ার করি না। মনে করি এটা আমার অধিকার। যেমন, আমরা যখন মোটর কার ব্যবহার করি সেটা দ্বারা অনেক মানুষের কষ্টের কারণ হই। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণের মাধ্যমে অনেকের ক্ষতির কারণ হই। কিন্তু এটা আমরা মোটেই খেয়াল করি? উপরন্তু মনে করি, এটা আমার অধিকার। মনের এই অবস্থা মানুষকে তওবা থেকে বিরত রাখে।

ঠিক একই ভাবে হারাম কাগুজে মুদ্রা। হারামের মধ্যে ইউজড টু হয়ে যাওয়া। একে অপরাধ মনে না করা। এটাকে জায়েজ প্রমাণের চেষ্টা করা। এটা হলো মনের এক রকম অবস্থা।

মনের অন্য আরেক রকম অবস্থা হলো, হায় আল্লাহ্‌, আমি নিরুপায়, আমি দুর্বল। বাধ্য হয়ে ব্যবহার করছি।

এখন এই যে মনের দুই রকম অবস্থা, এই দুটো কি এক? নিশ্চয়ই তাদের গতি ও গন্তব্যে ভিন্নতা আছে। নয় কি?