ইসলামিক সুদ ও সঞ্চয় !!

যারা ইনকামট্যাক্স দেন তারা তাদের ট্যাক্স আইনসিদ্ধভাবে অনেক কমিয়ে ফেলতে পারেন যদি তাদের ডিপিএস বা ইনস্যুরেন্স বা ফিক্সড ডিপোজিট জাতীয় কিছু থাকে। অর্থাৎ আপনি সুদের লেনদেন করুন রাষ্ট্র আপনাকে সহায়তা করবে। যদি তা না করেন তাহলে আপনাকে গুনতে হবে পুরোমাত্রার ট্যাক্স। অনেকে জানেন যে ডিপিএস হারাম, তাই তারা ইসলামিক ব্যাংকে এরকম ডিপোজিট করেন। ইসলামিক ব্যাংকে করলেই যেন সেটা হালাল হয়ে যায়। অথচ একে তো সুদের লেনদেন, তার ওপর টাকা জমানোর গুনাহ। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একদা কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা সঞ্চিত ছিল। তিনি সেটা তাড়াতাড়ি দান করে চিন্তামুক্ত হন। এ কারণে যে তার আশংকা ছিল যে কোন মুহূর্তে তার মৃত্যু হয়ে যেতে পারে, কিন্তু তার কাছে কয়েকটি সঞ্চিত মুদ্রা থেকে যায়। ইসলামী ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করা যদি হালাল হয়, সওয়াবের কাজ হয় তবে হযরত ঈসা মাসীহ য়ালাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম মাহদী য়ালাইহিস সালাম সে সওয়াব হাসিল করা থেকে বিরত থাকবেন কেন? উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া বিনতুল হারিস (রা) এর ভাই আমর ইবনুল হারিস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম তার ইন্তিকালের সময় কোন দীনার দিরহাম, দাস দাসী এবং অন্য সামগ্রী রেখে যাননি। তবে তার বাহন একটি সাদা খচ্চর, তার তরবারি এবং মুসাফিরদের জন্য দানকৃত কিছু ভূমি তিনি রেখে যান। (রিয়াদুস ছালেহীন)। দুনিয়ার প্রতি বিমুখতার এরকম অসংখ্য হাদিস আছে। যা প্রতিটি কুরআনের মানদন্ডে সত্যায়িত। তাহলে কিভাবে তার উম্মতের জন্য বিরাট বিরাট সঞ্চয় জায়েজ হতে পারে?

e-money

e-money

ইলেকট্রনিক বা ইনভিজিবল মানির সমস্যা কি? আপনারা কি মনে করেন হ্যাকাররা আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাক করে আপনার একাউন্ট খালি করে দেবে? হ্যাঁ, এটা একটা সমস্যা, চোরেরা সবসময়ই থাকে, তবে আমাদের কানা চোখের মাসীহটি এরকম চুরিচামারী করে হাত নোংরা করে না। তাকে ফলস মাসীহর অভিনয় করতে হবে যাকে দেখতে মনে হবে মানবতার জন্য দয়াবান। সে এমন এক মুদ্রানীতি চালু করবে যা ডলার দ্বারাও সমর্থিত নয়। বর্তমানে যেমন ডলার সোনা দ্বারা সমর্থিত নয় সেরকম। ইতিমধ্যে বিশ্বযুদ্ধ ও অন্যান্য কিছু দ্বারা ডলারকে ফল করানো হবে। নতুন প্রবর্তিত মুদ্রানীতি চালু করার জন্য বহু নেতৃস্থানীয় ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সেলিব্রেটি ব্যক্তিত্ব মানবতার নতুন মুক্তিদূতকে সহায়তা করবে এবং এ কাজের জন্য সে কোন বাঁধার সম্মুখীন হবে না। সে কম্পিউটারে সংখ্যা টাইপ করে মুদ্রা ক্রিয়েট করতে পারবে। সে যত ইচ্ছা তত ডিজিটের সংখ্যা লিখতে পারবে। আর তার অনুসারীদের ডিস্ট্রিবিউট করতেও পারবে। সেখানে আমার আপনার ব্যাংকে রক্ষিত হাজার বা লাখ টাকা তার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টাকার তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র দেখাবে। যা দিয়ে কিছুই কেনা যাবে না। সারা পৃথিবী এক কঠিন ফিতনা (পরীক্ষা) ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়বে। মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর মুক্ত ও এবং নায্য (Free and Fair) বাজারনীতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বর্তমানে ডলারকে সোনার স্থলবর্তী করা কারণে ফ্রী এন্ড ফেয়ার ট্রেড লঙ্ঘিত হচ্ছে। তার পূর্ণ বিলুপ্তি হবে যখন এক ব্যক্তির কাছে টাকা বানানোর মেশিনটি চলে যাবে।

e-money

e-money

ডলার দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করা সমস্যা ছিল না। যেহেতু ডলার একটি কাগজের নোট সেহেতু তাকে অবশ্যই সোনা দ্বারা সমর্থিত থাকতে হতো। কিন্তু ১৯৪৪ সালের ব্রেটনউড কনফারেন্সে মুদ্রা হিসেবে সোনাকে নিষিদ্ধ করা হয়। এখন আর ডলার সোনা দ্বারা সমর্থিত নয়। কিন্তু বাকী সমস্ত কাগজের মুদ্রা ডলার দ্বারা সমর্থিত হতে হচ্ছে। এভাবে ডলার বিশ্ব অর্থনীতিতে একমাত্র সুপার পাওয়ার হিসেবে রাতারাতি আবির্ভূত হয়েছে। অর্থাৎ ডলারই একমাত্র হালাল মুদ্রা, বাকী সমস্ত মুদ্রাকে হালাল হতে হলে ডলারের কাছে মাথানত করতে হবে।

এখন বিশ্ব অন্য এক মুদ্রা ব্যবস্থার এক্সপেরিয়েন্স পেতে যাচ্ছে। ডলার ছাপাতে তো তাও কাগজ ও কালির দরকার হতো। প্রয়োজনমত মর্জিমাফিক ডলার ছাপিয়ে নেয়া হতো। এখন আর তাও দরকার হবে না। কম্পিউটারে মনমতো সংখ্যা লিখে নিলেই হবে। তখন সম্পদ লাভ করার জন্য পরিশ্রমের প্রয়োজন হবে না, সোনার খনি, তেলের খনির প্রয়োজন হবে না, শুধু দরকার একটি চার্জসহ কম্পিউটার। তবে সেই কম্পিউটারটা আমার আপনার কম্পিউটার নয়, সেটা থাকবে জেরুজালেমের কোঁকড়া চুলের এক যুবকের হাতে। যার এক চোখ হবে কানা ও কপালে লেখা থাবে কাফির।

পেট্রোডলার

PetroDollar

আপনারা কি জানেন, আপনার দেশের সরকার আরবদের পেট্রোল কিনতে হলে সর্বপ্রথম তাকে মার্কিন ডলার কিনতে হবে? মার্কিন ডলার ছাড়া পেট্রোল বিক্রয় হবে না। এটাই পেট্রোডলার।

অর্থাৎ আরব বিশ্ব আপনার দেশের মুদ্রাকে হারাম করে মার্কিন ডলারকে হালাল করে দিয়েছে। অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) মুক্ত ও এবং নায্য (Free and Fair) বাজার নীতির কথা বলেছেন। শুধুমাত্র আমেরিকান ডলারের বিনিময়ে তেল বিক্রয় করে মুক্তবানিজ্য নীতির লঙ্ঘন করেছিলো আরব বিশ্ব। ১৯৭৩ সালে আমেরিকার তৎকালিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার সৌদি আরবের বাদশা ফায়সালের সাথে চুক্তি করে বসলো, শুধুমাত্র মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তেল ক্রয়/বিক্রয় হবে। হ্যাঁ, এটাই মার্কিন ডলার। যা দিয়ে আমেরিকা সারা দুনিয়া থেকে আল্লাহর কর্তৃত্বকে হটিয়ে নিজেরাই দুনিয়ার ভুয়া মালিক সেজে বসে আছে। এই মার্কিন ডলারের সহায়তায় ছোট্ট একটি ভুয়া রাষ্ট্র থেকে ইসরাঈল আজ একটি নিওক্লিয়ার সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়েছে।

সুন্নতী মুদ্রায় ফেতরা আদায়

Fitra

একজন মুফতী সাহেবের সাথে কথা বলে জানলাম, “ফেতরা খেজুর দিয়ে দিলে সাড়ে তিন কেজি দিলে হবে। গম / আটা দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ১ কেজি সাড়ে ৭০০ গ্রাম দিতে হবে। সতর্কতার জন্য ২ কেজি দেয়া যেতে পারে। অতিরিক্তটুকু নফল সদকা হিসেবে গণ্য হবে।”

এভাবে দ্রব্য দিয়ে ফেতরা আদায় করলে সুন্নতের উপর আমল হবে। যেখানেই পারা যায় বা সম্ভব হয় যায়োনিস্ট কাগজের মুদ্রা ও ইলেকট্রনিক মুদ্রাকে বর্জন করে সুন্নতী মুদ্রা তথা সোনা রূপা, খেজুর, গম ইত্যাদি দ্রব্যাদি যার ভেতরে আল্লাহ অন্তর্নিহিত মূল্য রেখেছেন সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা উচিৎ।

এতে সুন্নতের উপর আমল হবে তাই নয় বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সালামের মৃত সুন্নতকে জীবিত করার সওয়াব ইনশাআল্লাহ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ইহুদী খ্রিস্টান চক্রের অর্থনৈতিক শোষণ বা নিপীড়ণ থেকে মুক্তির একটা পথ মিলবে।

আল্লাহ বোঝার ও আমল করার তৌফিক দিন। আমীন।

সোনার পাহাড়ের ফলস ফ্ল্যাগ

ISIS-oil-Israel

Israel Caught Receiving Stolen Oil From ISIS Militants, Posted on November 28, 2015 by Sean Adl-Tabatabai in Middle East, News, http://yournewswire.com/israel-caught-receiving-stolen-oil-from-isis-militants/

যেসব জিহাদী দলকে দেখবেন তেলের প্রতি আকর্ষণ, তেলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়, তারা অবশ্যই ফলস ফ্ল্যাগ। আফগানিস্থানের জিহাদে মুজাহিদদের তেলক্ষেত্র খোঁজ করতে দেখা যায় নাই। ফোরাত নদীর সোনার পাহাড় হচ্ছে এই তেল যা নিয়ে যুদ্ধ হবে। প্রতি ১০০ জনে ৯৯ জন মারা যাবে। ঈমানদাররা এই তেল স্পর্শ করবে না। আর আজকে আরামদায়ক জীবন লাভের জন্য আলেম সমাজ এই তেল জায়েজ ফতোয়া দিচ্ছেন। এই আরামদায়ক জীবন মুসলমানদের জিহাদ থেকে ফিরিয়ে রাখে।

যাদের আল্লাহ একচোখ দেন নাই, বরং দুইটি চোখ দিয়েছেন (বাহ্যিক দৃষ্টি এবং অন্তর্দৃষ্টি) তারা ইনশাআল্লাহ অবশ্যই সোনার পাহাড় এবং ফলস ফ্ল্যাগ সনাক্ত করতে পারবেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন যে,

“ফোরাত নদী তাহার সোনার পাহাড় বাহির করিয়া দিবে । লোকেরা তাহার দখল নিয়া ‍যুদ্ধে লিপ্ত হইবে । তাহাতে শতকরা ৯৯ জন নিহত হইবে । প্রত্যেকেই বলিবে হয়ত আমি বাঁচিয়া যাইব (এবং সোনার পাহাড়ের মালিক হইবে) । ঈমানদারগণের কেউ যেন অবশ্যই তাহা স্পর্শ না করে ” ।

শায়খ ইমরান নযর হোসেন বলেন, হাদীসটি বোখারী শরীফে আছে একবার আর এটি মুসলিম শরীফে পেয়েছি চারবার, প্রতিটি বর্ণনাই হযরত আবু হোরায়রার (রাঃ) । সুতরাং মোত্তাফাকুন আলাই, কাজেই কেউ আমাকে বলিতে পারিবেন না যে এটি জঈফ দুর্বল হাদীস ।

রহমানী মুদ্রায় গরীবের ঈদ উল ফিতর

Fitrah

আলহামদুলিল্লাহ ! আর মাত্র তিন মাস পরেই আসছে রমজানুল মোবারক। রমজানের পরই ঈদ উল ফিতর। আর ঈদ উল ফিতরকে ঘিরেই ফিতরার মাসআলা সামনে চলিয়া আসিবে প্রতিবারের মতো। বরাবরের মতোই ইসলামী ফাউন্ডেশনে ফিতরার ওহী নাযিল হইবে এ বছর ফিতরা নির্ধারণ করা হইয়াছে এতো টাকা। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা ঘোষনা করা হইবে। কে নির্ধারণ করিল এটা? কে? কার এ অধিকার আছে? সারা দেশে এই ওহী ইমাম সাহেবরা পাঠ করিয়া শুনাইবেন। পত্রিকায় প্রথম পাতায় বক্স করিয়া ইহা প্রচার করা হইবে।

পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালাতো ‘মূল্যহীন’ টাকার কথা বলেন নাই। আল্লাহপাক বলিয়াছেন অমূল্য খেজুর, চাউল, কিসমিস, যবের কথা। ইহাইতো একটা স্পষ্ট দলিল যে আল্লাহপাকের মনোনীত মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণ ও রূপার পাশাপাশি এইসব দ্রব্যগুলোকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাইবে যার অন্তর্নিহিত মূল্য (intrinsic value) স্বয়ং রাব্বে কারীম দ্বারা নির্ধারিত। আল্লাহর বাদশাহীতে কোন মানুষের ক্ষমতা নাই একটা কাগজে দশ লিখিয়া বলিবে ইহার মূল্য দশ। এই দশ ডলারের, দশ রূপির, দশ রিংগিতের, দশ টাকার কোন মূল্যই আল্লাহর কাছে নাই। আর অন্যদিকে স্বর্ণ ও রূপার অবস্থাতো এমন যে আল্লাহপাক দুনিয়ার পর আখিরাতেও ইহাদের মূল্যমান বজায় রাখিবেন।

ইহুদী খ্রিস্টান জোট মূল্যহীন হারাম কাগজের মুদ্রা দ্বারা অমূল্য রাহমানী মুদ্রা (সোনা, রূপা, খেজুর, চাউল, কিসমিস ইত্যাদি) -কে পৃথিবী হইতে বিতাড়িত করিয়াছে। সারা পৃথিবীর সমস্ত ছাপাখানা মিলিয়া যদি হাজার হাজার কাগজের নোট ছাপিয়া পৃথিবী ভরিয়া ফেলে আর প্রত্যেক কাগজের নোটে যদি নিজেদের ইচ্ছামত সংখ্যা লিখিয়া লয় তবুও এই সব কিছু দিয়াও তারা আল্লাহর মাত্র একটা মুদ্রা এক দানা চাউল বা এক পিস কিসমিস কিনিতে পারে না। কিন্তু ১৯৪৪ সাল হইতে কাফেররা ইহা করিয়া আসিতেছে। অবুঝ মুসলমান তা অনুসরণ করছে। পুরো মুসলিম জাতিকে অর্থনৈতিক শিরকে বেঁধে ফেলা হইয়াছে। আর যায়োনিস্টরা ভুয়া মুদ্রার মাধ্যমে পৃথিবীর ভুয়া প্রভু হইয়া বসিয়াছে। আর এই জুলুমের বিরুদ্ধে বলিবার মতো একটা মুফতী সাহেবকেও কোথাও খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। আখিরাতে এইসব ইসলামী পন্ডিতদের ইনশাআল্লাহ জবাবদিহি করিতে হইবে।

এইজন্য জবাবদিহি করিতে হইবে যে কেন তাহারা আল্লাহর হুকুমের উপরে কাফের জোটের ১৯৪৪ সালের ব্রিটন ওডস কানফারেন্সকে স্থান দিয়া তাহাদের অনুসরণ করিল। ইহার কারণে আজ পুরো মুসলিম জাতি এমন এক চোরাগর্তে ঢুকিয়া পড়িয়াছে যেখান হইতে বাহির হইবার কোন রাস্তা দেখা যাইতেছে না।

পাপ পাপকে ডাকিয়া আনে। এক পাপ ঢাকা দিতে প্রতি বছর ওহীর আইনের বিপরীতে যাইয়া মানবরচিত ওহী প্রকাশ করিতে হয়।

এই পাপ নিঃসন্দেহে কিয়ামত ডাকিয়া আনিবে।
.
.
আল্লাহর ওয়াস্তে কেহ কমেন্ট করিতে চাহিলে নীচের লিঙ্কগুলিতে গিয়া মুদ্রাব্যবস্থা বিষয়ে ভালোভাবে অধ্যয়ন করিয়া তারপর কমেন্ট করিবেন।

জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।
.

রিলেটেড লিঙ্কসঃ

সোনার পাহাড়
বিশ্ব অর্থনীতি