সূরা আম্বিয়ার ৯৫-৯৬ নং আয়াতের বাস্তব প্রমাণ

(১)
এ পৃথিবীতে সর্বনিম্ন জায়গা হচ্ছে ডেড সী। গুগলে lowest land point of the earth বা the lowest surface of the earth লিখে সার্চ দিলে সাথে সাথে ভেসে উঠবে Dead Sea Depression. কাজেই তা অনুসন্ধানী পাঠকদের জন্য রেখে দেই। Israel Marine Data Center এর মতে সমুদ্র সমতল থেকে ডেড সী ৪৩০.৫ মিটার নীচে অবস্থিত। Dead Sea লিখে সার্চ দিলে আসবে উইকিপিডিয়া এবং একটি ছবি যাতে দেখা যাবে ডেড সী এবং তার পাশেই জেরুজালেম। জেরুজালেম হলো ডেড সীর একদম সংলগ্ন স্থান। মাত্র ৩৩.৮ কিলোমিটার দূর। এজন্য একটু গুগল ম্যাপে যেতে হবে। distance from dead sea to jerusalem লিখে সার্চ দিলে পাবেন সবচেয়ে সুন্দর ছবিটি। অর্থাৎ সারা পৃথিবীর সমস্ত ভূমি ডেড সী এবং তৎসংলগ্ন জেরুজালেম থেকে উর্দ্ধে অবস্থিত। পাঠকরা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে গবেষণা করে এটা বের করতে পারেন। আর এখানেই কোরআনের মাহাত্ম্য। ১৪০০ বৎসর পূর্বেই, যখন এ বিষয়ে কারো কোন জ্ঞান ছিল না, তখনই কোরআনে এ বিষয়ে বলা হয়। নাস্তিকদের মুখ যদি এবার বন্ধ হয়। শুধু তাও নয়, মাত্র দুটি আয়াতে একইসাথে বনী ইসরাঈল তথা ইহুদীদের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব কুষ্ঠী প্রকাশ করে দেন।

“আর যে জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি তার অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত। যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।” (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৯৫-৯৬) এখানে একটি তারা সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে, এবং এই তারা (আরবিতে হুম) নির্দেশ করছে ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদের অধিবাসীদের। কারণ সর্বনাম সবসময় কার দিকে ফিরে বা কাকে নির্দেশ করে এটা একটি মৌলিক প্রশ্ন। সর্বনাম নিশ্চয়ই প্রথম সাবজেক্টকে অনুসরণ করে। এছাড়া প্রথম আয়াতের বক্তব্যটিতো অসমাপ্ত। ফলে এখন বোঝা যাচ্ছে, যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে, তখন সে জনপদের অধিবাসীরা আবার ফিরে আসবে, সে স্থানে, যেখান থেকে তাদের ধ্বংস বা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তারা আসবে প্রতিটি উচ্চভূমি থেকে। কারণ তাদের ভূমি সবচেয়ে নীচু। এর চেয়ে নীচে আর কোন ভূমি নেই। আর কুল্লু ভূমি বা সমস্ত ভূমি হচ্ছে উঁচু। এজন্যই আরবিতে বলা হয়েছে মিন কুললি হাদাবিন ইয়ানসিলুন। From every elevation they shall go down.

অতএব, কোরআনের এ ওয়াদা পূর্ণ হয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ, ইহুদীরা তাদের ভূমিতে মাত্র এক দশকের কম সময়ের মধ্যে দ্রুত নেমে গেছে। আর সাথে সাথে ইয়াজুজ মাজুজ বন্ধন মুক্ত হবার অপর অঙ্গীকারটিও পূর্ণ হয়ে গেছে।

(২) 
এবার আমরা আসি র‍্যাবাইদের সেই তিনটি প্রশ্নের একটি প্রশ্নে। মক্কার পৌত্তলিকরা ইহুদীদের খুব জ্ঞানী মনে করত। যেহেতু তাদের কাছে নবী আসত, তারা তাওরাত পড়ত। কাজেই শেষ নবী সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য মক্কার কুরাইশরা মদীনার ইহুদীদের কাছে জানতে চাইল। ইহুদী পুরোহিতরা যখন দেখল শেষ নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম ইসহাক য়ালাইহিস সালামের বংশ থেকে আসেনি, বরং এসেছে তাদের ভাই ইসমাঈলের বংশ থেকে তখন তারা পাগলের মতো হয়ে গেল। তাদের পরিমার্জিত নকল তাওরাত থেকে তারা জানত যদি তারা জেরুজালেম দখল করতে পারে তবেই তাদের পক্ষে সম্ভব তাদের হারানো ভূমি ও সম্মান উদ্ধার করা এবং সারা পৃথিবীতে তাদের শাসন ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। আর জেরুজালেম দখল করতে হলে তাদের দরকার ইয়াজুজ মাজুজকে। কারণ ইয়াজুজ মাজুজের সহায়তায়ই তারা জেরুজালেমে ফিরে আসতে সক্ষম হবে এ জ্ঞান তাদের ছিল। তারা জানত ইয়াজুজ মাজুজ প্রাচীরের অপর পাশে বন্দি হয়ে আছে। তাই তারা কৌশলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছিল ইয়াজুজ মাজুজের বর্তমান খবর কি? তাদের বন্ধন কি মুক্ত করা হয়েছে? কাজেই তারা কৌশলের আশ্রয় নিল। তারা মক্কার কুরাইশদের বলল তোমরা মুহাম্মাদকে তিনটি প্রশ্ন করো। এসব প্রশ্নের উত্তর নবীরাই দিতে পারে। ইহুদীদের আসল উদ্দেশ্য ছিল শেষ নবী থেকে কিছু তথ্য নেয়া যাতে তারা জেরুজালেমে পুনরায় প্রত্যাবর্তন করার একটি হিসাব নিকাশ করতে পারে। তাই তারা সরাসরি ইয়াজুজ মাজুজের প্রশ্ন না করে যুলকারনাইনের সম্পর্কে জানতে চাইল। তাদের দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, তাকে সেই পরাক্রমশালী পর্যটকের কথা জিজ্ঞেস করো, যে পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের কাছাকাছি পৌছেছিল। সূরা কাহাফের ৮৩ নং আয়াতে তাদের এই দ্বিতীয় প্রশ্নটি আছে। “তারা আপনাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুনঃ আমি তোমাদের কাছে তাঁর কিছু অবস্থা বর্ণনা করব।” ৮৪ নং আয়াত থেকে আল্লাহ উত্তর দেয়া শুরু করলেন, এবং বক্তব্যের শেষে ৯৮ নং আয়াতে তাদের কাঙ্ক্ষিত উত্তরটি বলে দিলেন, যে এখনও ইয়াজুজ মাজুজ প্রাচীরে বন্দী এবং ১০০ নং আয়াতে ইয়াজুজ মাজুজের সাথে তাদের সাক্ষাতের পরিণতিও বলে দিলেন। “যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য। আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে (ইহুদী ও ইয়াজুজ মাজুজ উভয়কে) একত্রিত করে আনব। সেদিন আমি কাফেরদের কাছে জাহান্নামকে প্রত্যক্ষ ভাবে উপস্থিত করব।” (সূরা কাহাফ, আয়াত ৯৮-১০০)

কাজেই বোঝা গেল এই ইয়াজুজ মাজুজের সাথে সাক্ষাত ও তাদের সহায়তায় পবিত্রভূমিতে প্রত্যাবর্তনের ষড়যন্ত্র তারা সেই নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের সময় থেকেই শুরু করেছিল। আর গত শতকে বেলফোর ডিক্লারেশনের মাধ্যমে তা বাস্তব রূপ লাভ করে। যা এই ২০১৭ সালে জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী ঘোষণার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে।

Advertisements

পবিত্র কুর’আনে ইজরায়েল

ইজরায়েলকে বোঝার জন্য পবিত্র কুর’আনের এই আয়াতগুলি গুরুত্বপূর্ণ।

১। আল্লাহপাক বনী ইজরায়েলকে পবিত্র ভূমিতে দু’বার শাস্তি দিয়েছিলেন (প্রথমবার তৌরাতের লেখা বদলে ফেলা ও অ-ইহুদিদের সাথে সুদের ব্যবসাকে হালাল করার জন্যে এবং দ্বিতীয়বার নবী-রাসুলগণকে হত্যা করার জন্যে)। তিনি তৃতীয়বার শাস্তি দেওয়ার ভবিষ্যতবাণী করেন কারণ তারা পুনরায় পবিত্র ভূমিতে ফ্যাসাদ করবে (অর্থাৎ বর্তমান ইজরায়েল রাস্ট্রের বর্বরতার কথা ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে): 
” আমি বনী ইজরায়েলকে কিতাবে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি যে, তোমরা দুইবার ঐ ভূমিতে ফ্যাসাদ (ধ্বংসাত্মক দুর্ণীতি ও ভয়ঙ্কর অত্যাচার) সৃষ্টি করবে এবং শক্তিমদত্ত হয়ে অহংকারী হয়ে উঠবে (এবং দুইবারই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে)। অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত সেই প্রথম সময়টি এলো [খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৭ সনে], তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে [বখতে নাসরের নেতৃত্বে ব্যাবিলনীয় বাহিনী] অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল। অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে পালা ঘুরিয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধনসম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম। তোমরা যদি ভালো কর, তবে নিজেদেরই ভালো করবে আর যদি মন্দ কর, তা-ও নিজেদের জন্যেই। এরপর যখন (অবিচার অনাচারের) দ্বিতীয় সে সময়টি এলো [৭০ খ্রিস্টাব্দে], তখন অন্য বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম [সেনাপতি টাইটাসের নেতৃত্বে রোমান বাহিনী] , যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয় আর (সুলাইমান আঃ নির্মিত) মসজিদে ঢুকে পড়ে যেমন প্রথমবার (তাদের পূর্বসূরিরা) ঢুকেছিল, এবং যেখানেই ঢুকে, সেখানেই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রুপ কর (অর্থাৎ পবিত্রভূমিতে এসে ফ্যাসাদ কর), তাহলে আমিও পুনরায় তাই করব (অর্থাৎ তোমাদের পূর্বের মত শাস্তি দেব)।” (সুরা বনী ইজরায়েল ১৭:৪-৮)
.
২। দ্বিতীয়বার শাস্তি পাওয়ার পর অর্থাৎ ৭০ খ্রিস্টাব্দে বনী ইজরায়েলের উপর জেরুজালেম শহর হারাম হয়ে যায় এবং তারা সারা বিশ্বে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। 
“আর আমি তাদেরকে (অর্থাৎ ইহুদিদেরকে) বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেণীতে…” (সুরা আ’রাফ ৭:১৬৮)
.
৩। এত অন্যায় করার পরও আল্লাহপাক তাদেরকে শেষবারের মত সুযোগ দেন এবং আখেরী নবী রাসুলুল্লাহ (সা) কে তাওবার দরজারূপে প্রেরণ করেনঃ
“যারা রাসুলকে অনুসরণ করে, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তাদের নিজেদের কিতাবসমূহে অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত আছে, যিনি তাদের সৎকাজে আদেশ ও মন্দকাজে নিষেধ করেন, যিনি তাদের জন্য যা ভালো (এবং খাঁটি) তা হালাল করেন এবং যা মন্দ (এবং ভেজাল) তা হারাম করেন, যিনি তাদের উপর ভারী বোঝা এবং তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া জোয়াল থেকে তাদের মুক্তি দেন। আর তাই, যারা তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর কাছে যে আলো (অর্থাৎ কুর’আন) প্রেরণ করা হয়েছে, তা অনুসরণ করে, তারাই মুক্তিলাভ করবে।” (সুরা আ’রাফ ৭:১৫৭)
.
৪। কিন্তু ইহুদিরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে। ফলে আল্লাহপাক তাদের উপর চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত করেন। কিবলা পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহপাক তাঁর এই রায়ে স্বাক্ষর করে দেন।
“এখন নির্বোধেরা বলবে, কীসে মুসলমানদেরকে ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কিবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।” (সুরা বাক্বারা ২:১৪২)
.
৫। আল্লাহপাক বনী ইজরায়েলের উপর চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজকে মুক্ত করে দেন।
” আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই তিনি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত তাদের (অর্থাৎ ইহুদিদের) উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তিদানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (সুরা আ’রাফ ৭:১৬৭)।
.
৬। দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ বনী ইজরায়েলকে জেরুজালেমে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
“কিন্তু একটা শহর (অর্থাৎ জেরুজালেম আল কুদস) যা আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, তার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে ঐ শহরের বাসিন্দারা (অর্থাৎ বনী ইজরায়েল) সেখানে ফিরে আসবে না, যতক্ষণ না ইয়াজুজ মাজুজ (ইউরোপীয় খাজার ইহুদি ও ইউরোপীয় খাজার খ্রিস্টান) মুক্তি লাভ করবে এবং প্রতিটি উঁচু স্থান থেকে তারা দ্রুত নেমে আসবে অর্থাৎ সবদিকে ছড়িয়ে পড়বে (সমগ্র বিশ্বে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ)।” (সুরা আম্বিয়া ২১:৯৫-৯৬)।
.
৭। তখন থেকে সমগ্র বিশ্ব থেকে ইহুদিরা পবিত্র ভূমিতে এসে মিশ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে জড়ো হচ্ছে। 
” কিন্ত জেনে রাখ,যখন আখিরাতের ওয়াদা আসবে (অর্থাৎ কিয়ামত নিকটবর্তী হবে), আমি তোমাদেরকে (অর্থাৎ বনী ইজরায়েলকে) মিশ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে একত্রিত করব।” (সুরা বনী ইজরায়েল ১৭:১০৪)
.
*** জায়োনিস্টপন্থি ইহুদি ও জায়োনিস্টপন্থি খ্রিস্টানরা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নির্বোধ জাতি। কারণ তাদের উপর শাস্তি আপতিত হলে তারা আনন্দিত হয়। এভাবেই আল্লাহ তাদেরকে তাদের কুফরের মধ্যে ঘুরপাক খেতে দেন। আল্লাহপাক তাদের উপর শাস্তিস্বরূপ দাজ্জালকে প্রেরণ করেছেন যে তার ইয়াজুজ মাজুজ বাহিনী দ্বারা বাইবেলের ভবিষ্যতবাণীগুলো হুবহু পূরণ করছে তাদেরকে ধোঁকায় নিমজ্জিত রাখার জন্য। আর তারা ভাবছে এটা তাদের উপর আশিরবাদ। এভাবে ভবিষ্যতবাণী পূরণ করতে করতে দাজ্জাল তাদেরকে বোঝাবে যে, সে-ই প্রকৃত মসীহ। তারা তখন তা-ই বিশ্বাস করবে। কিন্তু যখন সত্য মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) লুদের দরজার নিকট দাজ্জালকে হত্যা করবেন, সেদিন তারা বুঝতে পারবে যে, তারা কত বড় গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল! সেদিন তারা প্রত্যেকে ঈমান আনবে কিন্তু ফেরাউনের ঈমান আনা যেমন তার কোন কাজে লাগেনি, তাদেরও কাজে লাগবে না। 
“এবং আহলে কিতাবের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাঁর উপর (অর্থাৎ নবী ঈসা আঃ এর উপর) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে (অর্থাৎ নবী ঈসা আঃ এর মৃত্যুর পূর্বে) বিশ্বাস স্থাপন করতে বাধ্য হবে না এবং শেষ বিচারের দিনে তিনি তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হবেন।” (সুরা নিসা ৪:১৫৯)

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

ইসলাম গবেষণায় ইস্কেটোলজিকাল ভিউ

আমাদের ইসলামিক ইস্কেটোলজিক বিষয়ক গবেষণায় একটা বিষয় সবার কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত। দেয়ার শ্যুড বি নো কনফিউশন ইন দিস পয়েন্ট। আমরা ফিকহী মাসায়ালায় ট্র্যাডিশনাল নিয়মকানুন অনুসরণ করি। এ বিষয়ে আমরা হাতই দেই না। বিশেষ করে এভাবে কোন কিছু উচ্চারণ করি না, আমার মনে হয় এটা ভালো … এটা কল্যাণকর … এটা যুগের সাথে সামঞ্জস্যশীল … এর দ্বারা মুসলমানদের উন্নতি হবে। ইখতিলাফী মাসয়ালায় নীরব থাকি। যে যেই মাজহাব মানতে চায় তাকে ডিসকারেজ করি না। আমলের ক্ষেত্রে একই বিষয়ে একাধিক হাদিস থাকলে যে যেই হাদিসের অনুসরণ করতে চায় তার সামনে অন্য হাদিস তুলে ধরে অন্যটা মানার জন্য পীড়াপীড়ি করি না। বিশেষ করে, ইসলামে নতুন কিছু ইনপুট দিতে চেষ্টা করি না। আল্লাহ তায়ালা এসমস্ত কাজ থেকে আমাদের হেফাজত করুন।

আমরা শুধু মাত্র শেষ যুগ সংশ্লিষ্ট কোরান হাদিসের বর্ণনাগুলোকে গবেষণা করি। শেষ যুগে যেসব অলৌকিক ঘটনাগুলোর বর্ণনা আছে, আমরা সে বিশেষ সময়ে অবস্থান করছি কি না তা অন্তর্জাতিক রাজনীতি, মুদ্রানীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে যাচাই করার চেষ্টা করি। এবং এ অবস্থায় আমাদের কি করা উচিত, শহরে থাকা উচিত না কি গ্রামে চলে যাওয়া উচিত, কার সাথে জোট গঠন করা উচিত এসব বিষয়ে আলোচনা করি। তাও শায়খ ইমরান নযর হোসেনের মতো একজন গুরুর তত্ত্বাবধানে যিনি দীর্ঘকাল এ বিষয়ে কথা বলে আসছেন।

ফর এগজাম্পল, কেউ যদি শহরে থাকে তাতে কিন্তু তার কোন গোনাহ নেই। আবার গ্রামে গিয়ে থাকলেও কোন গোনাহ নেই। আমাদের গবেষণা অনুযায়ী মনে করি শেষ যুগে সহায় সম্বল নিয়ে পাহাড় বা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাওয়া উচিত। আমরা নিজেরাও আমাদের মতের উপর আমল করতে পারি না প্রায় ক্ষেত্রেই সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে। কিন্তু বিশ্বাস করি, যদি কেউ আমল করতে পারে সেটা তার জন্য ভালো হবে। এখন কোন ব্যক্তি যদি এ আমল না করল বা শহরে থাকাকে ভালো মনে করল তাহলে তার কিন্তু গোনাহ হবে না। এরকম ভাবে আমরা দাজ্জাল বা ইয়াজুজ মাজুজ বিষয়েও বলতে পারি। দাজ্জাল বা ইয়াজুজ মাজুজ বিষয়ে আমাদের ধারণাগুলো হচ্ছে একটা গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি। এখন কেউ যদি ট্রাডিশনাল মতামত মানে তাহলে সে কিন্তু মানতে পারে, এতে তার কোন গোনাহ হবে বলে মনে করি না। কিন্তু কেউ যদি আমাদের মত কিছু মানে আবার এর সাথে হিযবুত তাওহীদ বা আহমদিয়াদের একত্র করে ফেলে তার সাথে নিশ্চয়ই আমাদের সম্পর্ক নেই। যেমন আহমদিয়ারা পাশ্চাত্যদের ইয়াজুজ মাজুজ মনে করে, এ পর্যন্ত বিষয়টা মেনে নেয়া যায়, কিন্তু যখনই তারা তাদের নেতা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে ইমাম মাহদী মনে করে তখনই সেটা আর মেনে নেয়া যায় না। একটা ভ্রান্ত আকিদায় পরিণত হয়।

এখন লক্ষ্য করুন, আমরা প্রথমেই বলেছি, ফিকহী বিষয়গুলোতে আমরা ট্র্যাডিশনাল আলেমদের অনুসরণ করি। যেমন, তিন তালাক একবারে দিলে তিন তালাক পতিত হয়। অনেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিশেষ করে মডারেটদের মধ্যে, তাদের যুক্তি হলো, তিন তালাক একবারে দিলে যদি তিন তালাকই পতিত হয় তাহলে অনেক মানুষের পরিবার টিকানো কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এভাবে তারা যুক্তি দেখান। ইসলাম ‘আমার মনে হয়,’ ‘আমি ধারণা করি,’ এরকম কোন যুক্তির মুখাপেক্ষী নয়। যদি তারা কোরান হাদিস দিয়ে এ মত প্রতিষ্ঠা করতে পারেন সেটা ভিন্ন কথা। আমাদের বোঝা উচিত, আল্লাহ্‌র কাছে সত্য একটিই হবে, সত্য দুটি হবে না (সাধারণত)। আমরা ধারণার বা মুসলমানদের কল্যাণ কামনার বশবর্তী হয়ে একটা আমল করলাম, কিন্তু কোরান হাদিসে বা পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত দেখাতে পারলাম না, তাহলে এ আমলের গ্রহণযোগ্যতা নেই। ইজমা কিয়াসের নামে যা তা চালিয়ে দেয়া যায় না। ইজমা কিয়াসও কোরান হাদিসের মূল সূত্র লঙ্ঘন করে হতে পারে না। আল্লাহর কাছে যদি তালাক হয়ে যায়, আর আমার ইজমা কিয়াস দিয়ে তাকে সংসার করাই তাহলে কি সেটা সংসার হবে, নাকি জিনাহ হবে? এ দায়িত্ব কে নেবে?

এ কাজগুলো বেশী করে মডার্নিজমে আক্রান্ত লোকজন। সবচেয়ে সমস্যা হয় যখন সেলিব্রেটিরা এ কাজ করে। হয়তো অন্য কোন সাবজেক্টে বা অন্য লাইনে সেলিব্রেটি, মাঝে মাঝে টুকটাক দুয়েকটা ইসলামী পোস্ট দেন। কিন্তু সেলিব্রেটি হওয়ার সুবাদে তার লেখার একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়ে যায়। এটাও শেষ যুগের আলামত যে জ্ঞান বিলুপ্ত হবে। মানুষজন মূর্খদের কাছে মাসায়ালা জিজ্ঞাসা করবে। সেলিব্রেটিরা এই হাদিসের সুন্দর বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

যেমন একজন সেলিব্রেটি লিখলেন, মুসলমানরা যদি তাদের সাংস্কৃতিক বা মানসিক ক্ষুধা মেটাতে হিন্দুদের কালচারের মতো নিজেরা কিছু বিদায়াত তৈরি করে যাতে মিষ্টি সন্দেশ খেয়ে মানুষ আনন্দ উদযাপন করতে পারে তাহলে তা গ্রহণ করা উচিত। যেন মুসলমানরা অন্তত হিন্দুয়ানী কৃষ্টি কালচারের লোভে দ্বীন থেকে সরে না যায়। এটা মুসলমানদের কল্যাণ কামনায় তার একটা ব্যক্তিগত মত। সমস্যা হলো তিনি চাচ্ছেন ফেসবুকে লিখলিখি করে এটা সবার উপর চাপিয়ে দিতে। বলাই বাহুল্য অনেক সাড়া পাচ্ছেন। মডারেট সমর্থকরা খুব খুশি। হিন্দুরাও খুশি। ইজমার দোহাই দিয়ে তিনি এ কাজ করছেন। অথচ তিনি এ কাজ করতে গিয়ে ইসলামের বহু মূলনীতি ভুলে গেছেন। যেখানে রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের আপন চাচারা ইসলামে আসতে পারল না, সেখানে তিনি বিদায়াত চালু করে মানুষকে ইসলামে ধরে রাখতে চাচ্ছেন। তিনি ভুলে গেছেন হেদায়েত আল্লাহর হাতে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের হাতেও নেই।

কাউকে ফেরানোর দায়িত্ব দিয়ে আল্লাহ আমাকে তার খলিফা হিসেবে পাঠান নাই। আমার কাজ সুনির্দিষ্ট। এর বাইরে যাওয়ার অনুমতি নাই। যেমন রাষ্ট্রদূতকে যে দিকনির্দেশনা দিয়ে পাঠানো হয় তার বাইরে যেতে পারে না। যদি যায় তাহলে তার চাকরীই থাকবে না। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামকে আল্লাহ তায়ালা অপরাপর ব্যক্তিদের দ্বীন থেকে ফিরে যাওয়ার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না। যে ফিরে যাবে সে তার নিজ দায়িত্বে ফিরে যাবে। আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে আমরা আমাদের দাওয়াত বা জিহাদ ইত্যাদি দায়িত্বগুলি ঠিকভাবে পালন করেছি কি না। ইসলাম থেকে একজন বের হলো না এক বিলিয়ন লোক বের হয়ে গেল এজন্য নয়।

আমাদের অবশ্যই কোরআন এবং সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরতে হবে। ইজমা কিয়াসও কোরআন সুন্নাহভিত্তিক হতে হবে। নিজে নিজে একটা মনগড়া কথা বলে ইজমা কিয়াস নাম দিলে তো হল না। মূল সূত্র ঠিক থাকতে হবে। হিন্দুদের নাড়ু, মোয়া খেতে দেখে আমারও সন্দেশ জিলাপি খেতে হবে এ জিনিসের ইজমা দয়া করে না বানালেই ভালো হয়। এলোপ্যাথিক চিকিৎসায় যতই নতুন ওষুধ বের হোক ফলো করবে এলোপ্যাথিকের মূলসূত্রগুলোই। আবার হোমিওপ্যাথিকেও একই কথা। হোমিওপ্যাথিক যতই নতুন ওষুধ বাজারে আসুক হোমিওপ্যাথিকের মূল সূত্র ঠিক থাকতে হবে। Saying *Laa ilaha* by mouth is easy, but doing “laa” (denying), all the “ilah” from our lives by heart & actions are not easy. ইজমা কিয়াসের নামে যেন মনগড়া কিছুকে ইলাহ বানিয়ে না ফেলি। মনের অনুসরণ না করি। বেইস থেকে দূরে সরে না যাই। হয়তো আমার মন্তব্য ভালো লাগলো না। কিন্তু তিতা ওষুধও অনেক সময় ভালো কাজ করে জিলাপি সন্দেশ জর্দ্দার চেয়ে।

আমি আমার প্রতিক্রিয়া আমার সীমিত পাঠকদের সামনে তুলে ধরলাম। আমার কোন বড় পাঠকগোষ্ঠী নেই। কিন্তু এ’ বিশ্বাস করি, আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করলাম, কবুল করার দায়িত্ব আল্লাহর।

#ইসলাম_গবেষণায়_ইস্কেটোলজিকাল_ভিউ

রেসপন্স টু দ্য নিউ বুক অব শায়খ ইমরান নযর হোসেন

Ashrafuzzaman Tusher: শায়খ ইমরান হোসেনের নতুন বইটা পড়ছি। দাজ্জাল, দ্য কোরআন এন্ড আওয়াল আল-জামান। পড়েই বুঝতে পারলাম এখানে অনেক মৌলিক গবেষণালব্ধ নতুন জ্ঞান রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা অনেকেই নতুন জ্ঞানের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন। তাদের ধারণা কোরআন হাদিসের জ্ঞান চিরদিনের জন্য নিঃশেষিত হয়ে গেছে। পূর্ববর্তী মুফাসসিরুন মুহাদ্দিসুন যা বলে গেছেন এর বাইরে আর কিছু সংযোজিত হওয়ার নেই। এটি একটি ভুল ধারণা। কোরআনে হাদিসে এমন অনেক জ্ঞান রয়েছে যা পূর্ববর্তীরা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হননি। এমন নয় যে এটা তাদের অক্ষমতা। বরং কোরআন হাদিসে এমন অনেক বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে যা ঐ বিষয়ের জন্য নির্ধারিত সময় আসার আগ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। যখন নির্ধারিত সময় আসবে তখনই আল্লাহ তা’আলা ঐ বিষয়ের ব্যাখ্যা (তা’উইল) পৃথিবীতে পাঠাবেন। যেমন দাজ্জালের উড়ন্ত গাধা। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন দাজ্জাল উড়ন্ত গাধার পিঠে চড়বে। গাধার কানগুলো সুদূর বিস্তৃত থাকবে। গাধাটি মেঘের মত দ্রুতগতিতে উড়ে চলতে সক্ষম হবে। দাজ্জালের যুগে বসবাস করি বলে আমরা এখন জানি যে উড়ন্ত গাধাটি মডার্ন এয়ারক্র্যাফট ছাড়া আর কিছুই না। এরোপ্লেন আবিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত কারো পক্ষেই সম্ভব ছিল না এর ব্যাখ্যা দেওয়া, যেটা এখন একেবারেই পরিষ্কার। একইভাবে কোরআন হাদিসে বর্ণিত অসংখ্য বিষয়বস্তু সময়ের সাথে সাথে আমাদের সামনে উন্মচিত হচ্ছে যার ব্যাখ্যা পূর্ববর্তীরা দিতে সক্ষম হননি, কেননা তারা আমাদের যুগকে প্রত্যক্ষ করেননি। কেয়ামতের আগ পর্যন্ত কোরআন ও রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর হাদিস থেকে নতুন নতুন ইনফরমেশন আসতেই থাকবে। আর শেষ জামানার আলোকে এই যুগে বসবাসরত আলেমরা কোরআন হাদিসের অনেক বিষয়বস্তুকে ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করবেন যা যুগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। সেগুলো গ্রহন করার মন মানসিকতা থাকতে হবে। বদ্ধমূল চিন্তাভাবনার অধিকারী হলে শেষ জামানাকে বোঝা যাবে না।

Kaisar Ahmed: অবশ্যই সময়ের সাথে সাথে বা ব্যক্তি বিশেষে কুর’আন নতুন অর্থ বা নতুন কিছু উন্মোচিত করতে পারে। অবশ্যই উক্ত ব্যক্তির কুর’আনের তাফসির সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান থাকতে হবে। তবে মূলনীতি হল- এই নতুন অর্থ থেকে নতুন বিধান আরোপ করা যাবে না। বিধান বা আহকাম আরকান এই সব রাসুল (সা) নির্ধারণ করে গেছেন।

Ashrafuzzaman Tusher: বিধান বা আহকাম আসে আয়াত মুহকামাত থেকে। সেখানে কোন বক্রতা নেই। সেখানে মূলত হারাম হালাল, আদেশ নিষেধ বিষয়ে বলা থাকে। সেখানে নতুন ব্যাখ্যা দেওয়ার তেমন কিছুই নেই। আর আয়াত মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা দিতে পারবেন “রসিখুনা ফিল ইলম”। People who are deeply grounded in knowledge.

Kaisar Ahmed: হুম ঠিক। তবে সমস্যা হল যত গুলো নতুন ফিরকা বা গুমরাহি ইতিহাসে দেখা দিয়েছিল। এই অধিকাংশ দল বা মতের আলেমগণ মুতাশাবিহাত আয়াতের ব্যাখ্যা করে বিধান আরোপ করেছিল আবার এমনকি আকিদাও নির্ধারণ করেছিল যেমন মুতাজিলারা, আর মুহকাম আয়াতের তাহরিফ করেছিল, খারিজিয়ারা।

Ashrafuzzaman Tusher: সূরা আলে ইমরানের ৭ নাম্বার আয়াতের বিষয়ে দুইটি মতবাদ আছে। একটি মত হল আল্লাহ শব্দের উপর থামা। সেক্ষেত্রে অর্থ হয় মুতাশাবিহাতের অর্থ কেবল আল্লাহই জানেন। আরেকটা মত হল “রসিখুনা ফিল ইলম” এর উপর থামা। সেক্ষেত্রে অর্থ দাঁড়ায় এমন, “আয়াত মুতাশাবিহাতের অর্থ জানেন আল্লাহ ও রসিখুনা ফিল ইলম”। আসলে দুইটাই সত্য হয়। “তা’উইল” শব্দ কোরআনে দুইটি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। একটা অর্থ হল মূলনীতি বা যথার্থতা, আরেকটা অর্থ হল ব্যাখ্যা। যদি তা’উইল শব্দের অর্থ মূলনীতি বা যথার্থতা ধরি সেক্ষেত্রে সমস্ত কিছুর মূলনীতি বা যথার্থতা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর তা’উইল অর্থ যদি ধরি ব্যাখ্যা, সেক্ষেত্রে কোরআনের মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা আল্লাহর এলেমদার বান্দারা অবশ্যই জানেন, সাধারণ মানুষরা নয়। এখন ফুলস্টপটা কি আল্লাহ শব্দের উপর হবে না রসিখুনা ফিল ইলম শব্দের উপর হবে, দুইটা ভিউই সাপোর্টেড, দুই সাইডেই নির্ভরযোগ্য বড় বড় আলেমরা রয়েছেন। আর এক শ্রেণীর মানুষ অবশ্যই আয়াত মুতাশাবিহাত নিয়ে বক্রতা করে। উদাহরণ – শিয়ারা তাদের ১২ ইমাম থিওরি, যেটা নাকি তাদের কেন্দ্রীয় বিলিফ সিস্টেম, সেটার প্রমাণ আয়াত মুহকামাত থেকে প্রমাণ করতে পারে না, আয়াত মুতাশাবিহাত থেকে আজেবাজে ব্যাখ্যা দেয়। সেক্ষেত্রে বক্রতা অবলম্বনকারীদের এড়িয়ে চলতে হবে এবং আয়াত মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা যার কাছ থেকে নিচ্ছি সে রসিখুনা ফিল ইলম কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। তাফসীরে ইবনে কাসির দেখুন, সেখানে এই বিষয়টা খুব পরিষ্কারভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

Md Arefin Showrav: কিন্তু কথা হল এই যে, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে আরম্ভ করেছে যাকে বুঝতে, তারা অক্ষম। অথচ এখনো এর তা’বিল আসেনি। এমনিভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের পূর্ববর্তীরা। অতএব, লক্ষ্য করে দেখ, কেমন হয়েছে পরিণতি। (সুরা ইউনুস: ৩৯) ।

Ashrafuzzaman Tusher: সুবহানাল্লাহ…… কোরআনেই বলা আছে, তা’উইল নির্ধারিত সময়ে আসবে। আর এই সহজ জিনিসটাই অনেকে বুঝতে অক্ষম।

আলোচনায় ছিলেনঃ Ashrafuzzaman Tusher, Kaisar Ahmed, Md Arefin Showrav

জেরুজালেমের উত্থান, রিক্ত মদিনা, সোনার পাহাড় ও দাজ্জাল

Narrated Mu’adh ibn Jabal:

The Prophet (ﷺ) said: The flourishing state of Jerusalem will be when Yathrib is in ruins, the ruined state of Yathrib will be when the great war comes, the outbreak of the great war will be at the conquest of Constantinople and the conquest of Constantinople when the Dajjal (Antichrist) comes forth. He (the Prophet) struck his thigh or his shoulder with his hand and said: This is as true as you are here or as you are sitting (meaning Mu’adh ibn Jabal).

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ عُمْرَانُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ خَرَابُ يَثْرِبَ وَخَرَابُ يَثْرِبَ خُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ وَخُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ فَتْحُ قُسْطَنْطِينِيَّةَ وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ خُرُوجُ الدَّجَّالِ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ الَّذِي حَدَّثَ – أَوْ مَنْكِبِهِ – ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَا لَحَقٌّ كَمَا أَنَّكَ هَا هُنَا أَوْ كَمَا أَنَّكَ قَاعِدٌ ‏.‏ يَعْنِي مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ ‏.‏

: Hasan (Al-Albani) حسن (الألباني) حكم :
Reference : Sunan Abi Dawud 4294
In-book reference : Book 39, Hadith 4
English translation : Book 38, Hadith 4281

সুনানে আবু দাউদে রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের একটি হাদিস আছে। যেখানে তিনি বলিয়াছেন, উমরানু বাইতুল মাক্বদিস খারাবু ইয়াথরিব, ওয়া খারাবুল ইয়াথরিব খুরুজুল মালহামাহ, ওয়া খুরুজুল মালহামাহ ফাতহুল ক্বুসতুনতিনিয়া, ওয়া ফাতহুল কুসতুনতিনিয়া খুরুজুদ দাজ্জাল। তিনি বলিতেছেন, যখন জেরুজালেম উদীয়মান হইবে তখন মদীনার বিনাশ হইবে, মদিনার দালানকোঠাগুলিও ধ্বংস হইবে, পরিত্যক্ত হইবে, রিক্ত হইবে। আর যখন মদিনার এরূপ অবস্থা হইবে তখন তোমরা মালহামার জন্য অপেক্ষা করিবে। যাহা হইবে একটি মহাযুদ্ধ। সুতরাং আমরা সেই সময়ের একেবারে নিকটে আসিয়া পড়িয়াছি। মদিনার দালানগুলিকে সৌদিরা ধ্বংস করিতেছে, ইহা মক্কাতেও করা হইতেছে। আজকে পৃথিবীতে মদিনার কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যাইতেছে না। মুসলিম বিশ্বের কোন কিছুতে মদিনা কোন ভূমিকা রাখিতেছে না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কাজেই মদিনার দালানগুলো আজকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় পড়িয়া আছে। সুতরাং মালহামা একেবারে আমাদের নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছে। ইহা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হইয়া যাইতে পারে। ভয়ংকরভাবে বিপথে চালিত তুর্কি সরকার ন্যাটো কর্তৃক পরিবেষ্টিত হইয়া আছে এবং সিরিয়াতে আক্রমণের প্ররোচনা লাভ করিতেছে। যদি তাহারা সিরিয়া আক্রমণ করে তবে তুরস্কে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়া যাইবে। তখন রাশিয়া তুরস্ক আক্রমণ করিতে দ্বিধা করিবে না। যদি রাশিয়া তুরস্ক আক্রমণ করে তবে পূর্ব ইউরোপ তথা বাইজেন্টাইন রাশার সাথে যোগ দিবে। মুসলমানরা তখন ন্যাটোর হাত হইতে কনস্টান্টিনোপলকে মুক্ত করার জন্য রাশিয়াকে সমর্থন দিবে। ইহাই নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম বলিয়াছেন। যখনই রাশিয়ার সাথে ন্যাটোর যুদ্ধ লাগিয়া যাইবে উহাকেই বলা হইবে মহাযুদ্ধ বা মালহামা। কাজেই ইহা অতি সন্নিকটে অবস্থান করিতেছে। সুতরাং সৌদি যা করিতেছে তা দ্বারা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের ভবিষ্যতবাণীই বাস্তবায়িত হইতেছে। তাহারা দালানগুলিকে ধ্বংস করিতেছে। শুধু তাহাই নহে, যখন ইউএস ডলার সম্পূর্ণরূপে ধ্বসিয়া যাইবে, যাহা ইতিমধ্যেই ধ্বসিয়া গিয়াছে কিন্তু কৃত্রিমভাবে বাঁচাইয়া রাখা হইয়াছে, কাজেই ইহার পরিবর্তে অন্য কিছু আসিতে হইবে। ইউএস ডলার ১৯৭৩ সাল হইতে পেট্রডলার হিসাবে কাজ করিতেছে, যাহা আপনারা আমার রিবা কনফারেন্স অব ইসলাম শীর্ষক পূর্বের লেকচারে শুনিয়াছেন, কিভাবে ইউএস ডলার পেট্রডলারে পরিণত হইল। নবীজী ছাল্লালাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম ইহার ভবিষ্যতবাণী করিয়াছিলেন। ইহা আমাদেরই অযোগ্যতা যে আমরা তাহা পড়িতে ও বুঝতে ব্যর্থ হইয়াছি। ইহা আখেরি জামানা সম্পর্কিত হাদীস। তিনি বলিয়াছেন, ফোরাত নদী স্বর্ণের পাহাড় উন্মুক্ত করিয়া দিবে। তিনি ইহা দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন? বিশাল তেলের সাগর স্বর্ণের পাহাড়রূপে কাজ করিবে। যখন তেলের সাগর ডলারকে সমর্থন দিবে, (যেমন ইতিপূর্বে মুদ্রা স্বর্ণ দ্বারা সমর্থন পাইয়া থাকিত, এখন তেল দ্বারা সমর্থন পাইতেছে) কাজেই তেল স্বর্ণের পরিবর্তে ব্যবহৃত হইতে থাকিবে। যখন কিং ফয়সাল প্রতারিত হইলেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়া বসিলেন তেল একমাত্র ইউএস ডলারের বিনিময়ে বিক্রী করা যাইবে। ইহা কি শরীয়ত বিরোধী হয় নাই? ইহা শরীয়ত বিরোধী হইয়াছে, কারণ ইসলাম ফ্রী এবং ফেয়ার ট্রেডের কথা বলিয়া থাকে। আপনি একমাত্র ডলারের বিনিময়ে তেল বিক্রী করিবেন ইহা কি ফ্রী এবং ফেয়ার ট্রেডের কথা হইল? যখন আপনি মুক্তবাজার বা ফ্রী ট্রেডকে ধ্বংস করিবেন তখন ফেয়ার ট্রেডও উপেক্ষিত হইবে। কারণ ইউএস ডলার তো স্বর্ণের স্থলাভিষিক্ত নহে। যখন ১৯৭৩ সালে কিং ফয়সাল এইভাবে পরাস্ত হইলেন, তখন ইউএস ডলার পেট্রডলারে পরিণত হইয়া উড়িতে লাগিল। পরবর্তী ৪০ বৎসরে ইহার মূল্য উঠিতে লাগিল। এখন যায়োনিস্টরা চাহিতেছে ইহাকে নামাইতে। কাজেই ইহার পরিবর্তে তাহাদের অন্য কিছু বাহির করিতে হইবে। আর সেটা হইল ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মানি যা ব্যাংকিং সিস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে। কিন্তু এই নতুন মুদ্রাকেও পেট্রমানি হইতে হইবে যাহা তেল দ্বারা সমর্থন পাইবে। আর এই মুদ্রাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইজরায়েলের একটি পথই খোলা আছে, যদি ইজরায়েল সৌদি আরবের সাথে ঠিক অনুরূপ সম্পর্ক রাখিতে পারে, যাহা পূর্বে ইউনাইটেড স্টেটস রাখিয়াছিল, আর ইহাই আমরা আমাদের চোখের সামনে ঘটিতে দেখিতেছি, যাহা সৌদি ইসরায়েল জোট হিসেবে প্রকাশিত হইয়াছে। যাহা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম বলিয়াছেন, নজদ থেকে শয়তানের শিং প্রকাশিত হইবে। সৌদি শাসক ও তাদের ওহাবী মূল নজদ থেকে আসিয়াছে। সৌদি আজ যে ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছে, ইহাতে আমার প্রতিক্রিয়া হইল, সৌদির সাথে জোট গঠন করা সারা পৃথিবীর মধ্যে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত জোট হিসেবে প্রমাণিত হইবে। আমি আশা করি ইসলামী বিশ্ব সৌদি ইসরায়েল জোটকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করিতে সক্ষম হইবে। 

 

লেকচারঃ The Ruins in Madina and the Antichrist by Imran Hosein, You Tube Link:
https://www.youtube.com/watch?v=y_l1xjXCJ38

শায়খ ইমরান নযর হোসেন 

অনুবাদঃ আবু মুনতাহা

 

সৌদি আরবের গৃহযুদ্ধ খুবই নিকটবর্তী

গত ২২ জুন ২০১৭ সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান তার উত্তরসূরির পদ থেকে নিজের ভাইপো মোহাম্মদ বিন নায়েফকে থেকে সরিয়ে দিয়ে ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে বসিয়েছেন। সৌদি বাদশাহী ফরমানে এ ঘোষণা প্রদান করা হয়। এ ফরমানের মাধ্যমে প্রবল ক্ষমতাশালী বিন নায়েফ ক্ষমতাচ্যুত হলেন। তিনি ভবিষ্যৎ বাদশাহ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে দৃশ্যত বিদায় নিলেন। নতুন যুবরাজ ৩১ বছর বয়সী বিন সালমান উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করবেন। আর ৫৭ বছর বয়সী বিন নায়েফকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর পূর্বে ২০১৫ সালে বাদশাহ সালমান সিংহাসনে বসেই তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্স মুকরিন বিন আব্দুল আজিজ কে একইভাবে অপসারণ করেন।

বর্তমানে সৌদি রাজ পরিবারের অনেক সদস্য বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও তার ছেলে মুহাম্মদ বিন সালমান এর কর্মকান্ডে অসন্তুষ্ট। যার প্রমাণ ২০১৫ সালে একজন সৌদি প্রিন্স জনগনের উদ্দেশ্য খোলা চিঠি পর্যন্ত পাঠিয়েছেন। এছাড়াও ইয়েমেনের ব্যর্থ যুদ্ধ ও ইজরায়েলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তারা অসন্তুষ্ট।

এখন সৌদি রাজ পরিবারের সদস্যরা ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। আর এই ৩টি গ্রুপ তিন জন প্রিন্সকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়েছে। তারা হলেনঃ

১. মুকরিন বিন আব্দুল আজিজ ।
২. মুহাম্মদ বিন নায়েফ।
৩. মুহাম্মদ বিন সালমান।

হযরত ছওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“তোমাদের ধনভাণ্ডারের (রাজত্বের জন্য) নিকট তিনজন বাদশাহ এর সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কিন্তু ধনভাণ্ডার (রাজত্ব) তাদের একজনেরও হস্তগত হবে না। তারপর পূর্ব দিক (খোরাসান) থেকে কতগুলো কালো পতাকাবাকী দল আত্মপ্রকাশ করবে। তারা তোমাদের সাথে এমন ঘোরতর লড়াই লড়বে, যেমনটি কোন সম্প্রদায় তাদের সঙ্গে লড়েনি”।

বর্ণনাকারী বলেন, তারপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন,
“তারপর আল্লাহর খলীফা মাহদির আবির্ভাব ঘটবে। তোমরা যখনই তাঁকে দেখবে, তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদি এজন্য তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি খেয়ে যেতে হয়, তবুও যাবে। সে হবে আল্লাহর খলীফা মাহদি”।
(সুনানে ইবনে মাজা; খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৭; মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১০)

আর এই গৃহযুদ্ধের পর ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমন ঘটবে। তাই সকল সচেতন মুসলমানদের এই বিষয়ে নজর রাখা দরকার।
Writer @ Simul Ahmed, Courtesy @ Arman Khan

কারা বলবে ক্রসের বিজয় হয়েছে?

রোমকরা বলবে ক্রসের বিজয় হয়েছে। কারা ক্রসের বিজয়ের জন্য চেষ্টা করছে? ১০০০ বছর ধরে কারা ক্রুসেড চালাচ্ছে মুসলমানদের উপর। কারা সবসময় ক্রসের কথা বলে? ক্যাথলিকরা। যারা ঈসা আলাইহিস সালামের নাম ভাঙ্গিয়ে খ্রিস্টধর্মকে বিকৃত করে ফেলেছে। এমনকি ক্রস নিয়েও তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। ক্যাথলিকরা ১৫ – ১৬ শতকে ক্রসের সিস্টেম পরিবর্তন করে ফেলছে। ক্যাথলিকরা আগে বাম কাঁধ এরপর ডান কাঁধ স্পর্শ করে যা নাকি অর্থোডক্সদের বিপরীত। ক্রসের বিজয়ের কথা ক্রুসেডাররা বলবে এটাই স্বাভাবিক যে ক্রুসেড তারা ১০০০ বছরের বেশী সময় ধরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে চালাচ্ছে। থিওরিটিকালি তারাও রোমানদের অন্তর্ভুক্ত। পশ্চিম রুম।

অন্যদিকে অর্থডক্সদের সাথে যেহেতু মুসলমানদের জোট হওয়ার কথা তাই ধরে নেয়া যায় একসময় তারা ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান আনবে যে কথা কোরআন থেকে আমরা ধারণা করতে পারি। এবং ঈসা য়ালাইহিস সালাম তাদের ঈমানের বিষয়ে আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দিবেন। আমরা মনে করি যেসব ইহুদি এবং খ্রিস্টান যায়োনিস্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি এবং পূর্ব থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে ক্রুসেড পরিচালনা করেনি তারা ইনশাআল্লাহ ঈমান আনতে সক্ষম হবে। “আর আহলে-কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈসার উপর তাদের মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে।” এই ঘটনাটিকে কুর’আন খুব চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছে। আয়াতটি সামনে অগ্রসর হয়ে ঘোষণা করছে, এই ঈমানের ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তাদের বিরুদ্ধে / তাদের ঈমানের বিষয়ে কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবেন (সূরা নিসা, ৪ঃ১৫৯)

বিপরীতে যায়োনিস্ট রোমান তথা পাশ্চাত্য সমাজ, জাতিসংঘ, ন্যাটো ইত্যাদির বিরুদ্ধে মুসলমানরা যুদ্ধ করবে যখন তারা বলবে (হাজার বছরের যুদ্ধে) ক্রস জয়যুক্ত হয়েছে যে যুদ্ধ তারা মধ্যপ্রাচ্য, আফগানিস্থান ও এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে করেছে। ক্রস ভেঙ্গে ফেলার অর্থ হতে পারে তাদের জোট থেকে কোন মুসলিম দেশ বের হয়ে যাবে। তুরস্ক বা সৌদি আরব হতে পারে। আল্লাহু আ’লাম। এসব কিছু আল্লাহ ভালো জানেন।

পড়ুনঃ রুম পরিচিতি