নক্ষত্র প্রদীপ

আমার মনে পড়ে, আমি পাকিস্তানের আলিমীয়া ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলাম। নামাজের পর আমি মসজিদের বাইরে আমার শিক্ষক মাওলানা আনসারি (রহ.) কে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম। প্রশ্নটি হলো, “মাওলানা, আল্লাহপাক বলেন যে তিনি আল কোরান মুত্তাকীদের পথপ্রদর্শন করতে পাঠিয়েছেন, তাহলে বাকীদের ব্যপারে কী?”

তিনি বললেন, “যখন আল্লাহপাক পবিত্র কোরান নাযিল করলেন, তিনি এটি সবার পথপ্রদর্শনের জন্যই নাযিল করেন। কিন্তু যখন তুমি আকাশের দিকে তাকাবে, তুমি দেখবে আকাশে নক্ষত্রমালা রয়েছে। যখন সাধারণ লোক আকাশের নক্ষত্রমালা দেখে, এটা তাকে আনন্দ দেয়। কারণ এটি খুব সুন্দর। কিন্তু যদি তুমি সেই নাবিক হও যে সমুদ্রে জাহাজ চালায়, তাহলে তুমি শিখবে যে কীভাবে প্রত্যেকটি নক্ষত্র পরষ্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং তার দ্বারা তুমি নির্ণয় করতে পারবে যে কোন দিকে তোমাকে যেতে হবে। পবিত্র কোরানের আয়াতগুলিও তেমনই। আল্লাহপাক বলেন, ‘আর আল্লাহ নিম্ন আকাশকে প্রদীপসমূহ দ্বারা সুসজ্জিত করেছেন।’ তিনি নক্ষত্রমালাকে প্রদীপ বলে অভিহিত করেছেন। আর প্রদীপ আলো দান করে। একইভাবে, পবিত্র কোরানের আয়াতসমূহও। সেগুলো প্রদীপের মত। সেগুলো আলো প্রদান করে এবং সেগুলো পরষ্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।”
—- শায়খ ইমরান হোসেইন

@ Md Arefin Showrav

স্বপ্ন

স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে আসতে পারে। আপনি আপনার স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ (সা) কে দেখতে পারেন। আপনার হৃদয় বলছে আপনি যাকে দেখেছেন তিনিই আখেরী পয়গম্বর রাসুলুল্লাহ (সা)। তাহলে আপনি মিথ্যে কিছু দেখেননি। আপনি স্বপ্নে আপনার মৃত বাবা-মাকে দেখতে পারেন, ফেরেশতাগণকে দেখতে পারেন, জান্নাত-জাহান্নাম দেখতে পারেন। তাহলে বুঝতে হবে এই স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে। তখন আপনি ঘুম থেকে উঠে দুই রাকাত শুকরিয়া নামায আদায় করবেন।

কিন্তু স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকেও আসে। সেই স্বপ্ন কারো কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। কারণ যদি আপনি সেই স্বপ্ন প্রকাশ করেন, তাহলে ধীরে ধীরে তা আপনার উপর ভর করবে। আল্লাহপাক আপনাকে অনেক সুন্দর চরিত্রের স্ত্রী দিয়েছেন। সেই স্ত্রী সব সময় আপনার খেয়াল রাখেন। আপনাকে নিজের থেকেও বেশী ভালবাসেন। কিন্তু একদিন আপনি ঘুমালেন আর স্বপ্নে দেখলেন, আপনার স্ত্রী অন্য একজন সুদর্শন যুবকের হাত ধরে হাঁটছে। ঘুম ভাঙার পর আপনি আপনার স্ত্রীর উপর ভীষণ রাগান্বিত হলেন। তাকে অনেক কথা শোনালেন। পরদিন আপনি ঘুমালেন আর স্বপ্নে দেখলেন, ওহ মাই গড! আপনার স্ত্রী সেই যুবকের বাহুতে! আপনি আতঙ্কিত অবস্থায় ঘুম থেকে উঠলেন। রাগে আপনার মুখ লাল হয়ে গেছে। বুঝতে হবে, শয়তানের তরফ থেকে আসা স্বপ্ন আপনার উপর ভর করেছে।

একজন সাহাবী তড়িঘড়ি করে রাসুলুল্লাহ (সা) এর কাছে আসলেন এবং বললেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি স্বপ্নে দেখেছি কয়েকজন ছেলে বল খেলছে। আর সেই বলটা হলো আমার মাথা।” রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, “এই স্বপ্ন শয়তান তোমাকে দেখিয়েছে। কারণ সে তোমার জীবনকে দুর্বিষহ করতে চায়।”

আবার স্বপ্ন হৃদয় থেকেও আসে। একজন পিতৃহীন গরীব শিশু তার বাসার জানালা দিয়ে দেখল, আইসক্রিমওয়ালা এসেছে আর এলাকার সব শিশুরা আইসক্রিম কিনতে ছুটে যাচ্ছে। সে তার মা’র কাছে আইসক্রিম কেনার টাকা চাইল। মা তাকে টাকা নেই বলে ধমক দিল। সে জানালা দিয়ে দেখল, সব শিশুরা আইসক্রিম খাচ্ছে। সে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেল। স্বপ্নে দেখল, মা তাকে আইসক্রিম কেনার টাকা দিয়েছে। সে টাকা নিয়ে দৌড়ে গেল আইসক্রিমওয়ালার কাছে। আইসক্রিম খেতে খেতে তার নাক-মুখ-জামায় আইসক্রিম লেগে গেছে। তারপর যখন সে ঘুম থেকে উঠল, তার হৃদয়ে একধরণের তৃপ্তি কাজ করছে। বুঝতে হবে, এই স্বপ্ন এসেছে হৃদয় থেকে।

একজন এতিম ছেলে তার দাদীর সাথে থাকে। দাদীর এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে তার হাত। দাদীর হাতের সুস্বাদু খাবার তার খুব প্রিয়। দাদীর সাথে গল্প করে তার দারুন সময় কাটে। এভাবেই সে দাদীর সঙ্গ পেয়ে বড় হয়েছে। কিন্তু এখন দাদী একটি হুইল চেয়ারে সারাক্ষণ অর্ধমৃতের মত পড়ে থাকে। কোন কথা বলে না। চলাচল করে না। সেই নাতী একদিন স্বপ্নে দেখল, তার দাদী আগের মত হয়ে গেছে। গল্প করছে, রান্না করছে, তাকে এটা-ওটা উপদেশ দিচ্ছে। এটি দেখে তার মন আনন্দে ভরে গেল। বুঝতে হবে, এই স্বপ্ন হৃদয় থেকে এসেছে।

কিন্তু মাঝে মাঝে স্বপ্ন আসে সাবধানবাণী হিসেবে। তিনি একজন বড় মাপের হুজুর। দেশ বিদেশ থেকে লোকেরা আসে তার সাথে একবার হাত মেলানোর জন্য। তার কোরানপাঠ শুনে শ্রোতারা মুগ্ধ হন। তার বক্তব্য শুনতে লাখো লাখো মানুষের ঢল নামে। তিনি নিশ্চিত যে, জান্নাতে আর কেউ যাক না যাক, তিনি যাবেনই। একদিন তিনি ঘুমালেন আর স্বপ্নে নিজেকে টয়লেটে আবিষ্কার করলেন। বুঝতে হবে, এই স্বপ্নটা সাবধানবাণী, ওয়াক আপ কল।

কিন্তু স্বপ্ন কখনও কখনও আসে ওহী হয়ে, ভবিষ্যতবাণী হয়ে। আপনি স্বপ্নে দেখলেন নিউক্লিয়ার বোমায় শহর জ্বলছে আর আকাশ মাশরুম ক্লাউডে ঢেকে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। কোন সূর্যালোক সেই অন্ধকারকে ছিদ্র করে বের হয়ে আসতে পারছে না। চারিদিকে লাশ আর ধ্বংসস্তূপ। বুঝতে হবে, এই স্বপ্ন নিউক্লিয়ার বিশ্বযুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী।
.
—- শেখ ইমরান হোসেন।
শোকরিয়া @ Md Arefin Showrav

ইসলামিক ইস্কেটোলজির ছাত্র

ইসলামিক ইস্কেটোলজি অনেককে প্রথম থেকে বুঝানো খুব কঠিন। মন্তব্য করা সহজ। চিন্তা করা অতি কঠিন। দিস ইজ নট স্পুন ফিডিং টেকনিক। এর মধ্যেই যে যা বুঝে। শেষ জামানার জ্ঞান না থাকলে পোস্টদাতার জন্যও সমস্যা, পোস্ট বুঝার জন্যও সমস্যা। আর শেষ জমানার জ্ঞান হলো কুরআন ও হাদীস। ইসলামিক ইস্কেটোলজি বিশ্বাস করার বিষয়। বিশ্বাস করলে বুঝা যায়। মগজকে বায়াস থেকে খালি থাকতে হয়। যখন শিশু অবস্থায় প্রথম শুনেছিলাম কিয়ামত হবে আর ভয়াবহ ধ্বংস হবে তখন রাতে ঘুমাতে পারিনি। ওটা ছিল আমার ইস্কেটোলজির প্রথম জ্ঞান। সেদিন প্রশ্ন করিনি কিয়ামতের অনেক দেরী আছে কি না। আজও করি না। যারা এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় তারা ইস্কেটোলজি শিক্ষা করতে পারে না। আল্লাহ্‌ বলেন, কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। (সূরা আল ক্বামার, আয়াত ১)

হিজরতকারীদের জন্য মান্না সালওয়া

যখন কোন দেশে অত্যাচারী শাসক থাকে যারা মুসলিমদের উপর অত্যাচার করে, তখন মুসলিমদের নিজেদের ঈমান বাঁচাতে সে দেশ থেকে হিজরত করা বাঞ্চনীয়। আধুনিক বিশ্বে পৃথিবীর সর্বত্রই অত্যাচারী শাসকদের শাসন চলছে এবং সর্বত্র ফিৎনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই জামানা এমন এক জামানা যখন একজন ব্যক্তিও পাওয়া যাবে না যে ব্যক্তি সুদ খায় না। সর্বত্র সুদের ছড়াছড়ি আর সুদ বহনকারী বাহন হলো কাগুজে মুদ্রা। এই জামানা এমন এক জামানা যখন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা ভীষণ কঠিন। আর যুবকদের জন্য হিমালয়সম কঠিন। কারণ, বর্তমান বিশ্বে নারীরা পুরুষদের মত পোশাক পড়ে, নারীরা এমন পোশাক পড়ে যা পরিধান করা বা না করা সমান কথা, গান-বাজনা, কনসার্ট, নাচ, সিনেমা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে এখন ঈমান টিকিয়ে রাখা মুশকিল। তার মধ্যে আরো রয়েছে রাস্ট্রীয় ফিৎনা। ইসলামের কথা বললে জঙ্গী বা সন্ত্রাসী ভাবা হয়, রাস্ট্রবিরোধী, সংবিধান বিরোধী ভাবা হয়। কেন এমনটা হচ্ছে? কারণ, আমরা বসবাস করছি আখেরী জামানায়। আমরা বসবাস করছি আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতায়, যার mastermind হলো দাজ্জাল এবং এই সভ্যতার বাস্তবায়নকারী হলো খাজার জায়নিষ্ট (ইয়াজুজ মাজুজ)। এই খাজার জায়নিষ্ট তথা কোরান বর্ণিত ইয়াজু’জ মা’জুজরাই হলো দাজ্জালের foot soldiers. এটাই সেই সময় যে সময় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “কিয়ামতের পূর্বে এমন এক সময় আসবে যখন মু’মিন ব্যক্তি ঈমান বাঁচাতে ভেড়া নিয়ে পাহাড়ে বা বৃষ্টিপাতের স্থানে পালিয়ে যাবে।”

Narrated Abu Sa`id al-Khudri:

Allah’s Messenger (ﷺ) said, “There will come a time when the best property of a man will be sheep which he will graze on the tops of mountains and the places where rain falls (i.e. pastures) escaping to protect his religion from afflictions.”  Sahih al-Bukhari  Book of Beginning of Creation Hadith

তাই খাঁটি মুমিন ব্যক্তির এখন হিজরত করার সময়। বনী ইজরায়েল যেমন মিশর থেকে হিজরত করেছিল, আমাদেরকেও হিজরত করতে হবে এবং পাহাড়ে কিংবা অজপাড়াগাঁ যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, সেখানে গিয়ে গ্রামীন জীবনযাপন করতে হবে। কারণ, দাজ্জালের আক্রমণ মূলত শহরের দিকে হয়ে থাকে। আর আমাদের রিজিকের জন্য আল্লাহর মুখাপেক্ষী হতে হবে। দাজ্জাল চাইবে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটিয়ে মু’মিন বান্দাদের কষ্ট দিতে। সে যেখানে চাইবে সেখানে বৃষ্টিপাত হবে আর যেখানে চাইবে না সেখানে বৃষ্টিপাত হবে না। এভাবে সে তার নিজের দিকে অনেক লোককে আকৃষ্ট করবে। যারা শুধুমাত্র বাহ্যিক দৃষ্টি দিয়ে দেখে আর আধ্যাত্মিক দৃষ্টি যাদের অন্ধ, তারা সহজেই দাজ্জালের ফাঁদে পা দেবে ও তার অনুসারী হয়ে যাবে। কিন্তু যারা মুমিন তাদের জন্য এই অনাবৃষ্টি ভীষণ কঠিন পরীক্ষা হবে। তারা যদি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তবে “সুবহানআল্লাহ” তাদের খাবার দেবে, “আলহামদুলিল্লাহ” তাদের খাবার দেবে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” তাদের খাবার দেবে। অর্থাৎ আল্লাহ তাদের জন্য খাবার পাঠাবেন আর তারা আনন্দের সাথে বলে উঠবে, সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ইতিহাস এর স্বাক্ষী। বনী ইজরায়েল যখন অত্যাচারী ফেরাউনের দেশ থেকে হিজরত করে, তখন আল্লাহপাক তাদের জন্য খাবার হিসেবে মান্না ও সালওয়া পাঠান।

“আর আমি তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি মেঘমালার দ্বারা এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি ’মান্না’ ও সালওয়া’। সেসব পবিত্র বস্তু তোমরা ভক্ষন কর, যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে।” [সুরা বাকারা: ৫৭]

ইসলামী কলিযুগবিদ্যা

কিতাবুল মুনীর

কুরআন হচ্ছে কী। মানে চাবি। কুরআন দিয়ে আমাকে বর্তমান জগতের সব রহস্যের তালা খুলতে হবে। শুধু চাবি থাকলে কোন লাভ হবে না। সেই চাবি দিয়ে তালা খুলতে জানা চাই।

কুরআনকে বলা হয়েছে এমন একটি বই যা অন্ধকারে আলোক সম্পাতকারী বা কিতাবুল মুনীর বা বুক অফ এনলাইটনমেন্ট। এই আলো অন্ধকারে পথ দেখায়। আজকের অন্ধকার পৃথিবীর জঙ্গলে সঠিকভাবে পথ চলার আলো কুরআন। অন্ধকার জঙ্গলের রহস্য ভেদ করে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছার জন্য সঠিক চাবি কুরআন।

আমাদের এই রহস্যময় ও নিষ্ঠুর পৃথিবীর প্রতিটা রহস্যের গোড়ায় কুরআনের আলো ফেলতে হবে। কাজটি সহজ নয়। এর জন্য নির্দিষ্ট মেথড আছে। যা শিক্ষা করতে হয়।

শুধু আলো দিয়েই যেমন পথ চলা যায় না। পথ চলার জন্য দরকার চোখ। কুরআনে এই চোখের কথা বলা হয়েছে আর তা হলো সেটা আমাদের দৃশ্যমান সাধারণ চোখ নয়, বরং যে চোখ মানুষের বক্ষদেশের গভীরে থেকে। কাজেই সেই ভেতরের চোখ আছে এমন গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের পক্ষেই কুরআনের আলো পথ দেখাতে পারে। Truly it is not their eyes that are blind, but their hearts which are in their breasts. চোখ তো অন্ধ হয় না, অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয়। (سورة الحج, Al-Hajj, Chapter #22, Verse #46)

এজন্যই কুরআনের অনেক তিলাওয়াতকারী মজুদ থাকা সত্ত্বেও মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপকসংখ্যক লোক ইয়াজুজ মাজুজ ও দাজ্জালের ফেতনার অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে।

মানুষ যাকে মনে করছে মানবতার ও উন্নয়নের চূড়ান্ত শিখর কুরআনের আলোয় একজন অন্তর্চক্ষুওয়ালা দৃষ্টিসম্পন্ন লোকের কাছে তা ঘনঘোর অন্ধকার। এজন্য তিনি পৃথিবীকে যেভাবে দেখবেন ও অন্যরা যেভাবে দেখবে তাতে পার্থক্য থাকবে।

এভাবে একজন অন্তর্দৃষ্টিওয়ালা আলেম অবশ্যই নিজেকে ফেতনা থেকে দূরে রাখবেন, কারণ তিনি প্রকৃত ফেতনাকে চিনেন। আর একজন সাধারণ কুরআন নাড়াচাড়া করা ‘আল্লামা’ ফেতনার মধ্যে ঝাপ দিবেন, কারণ তিনি ফেতনাকে আপন মনে করেন। আর তার সতর্ককারীদের এড়িয়ে চলেন। তারা এখনো মিলাদ কিয়াম, আমীন, হাত বাঁধা ইত্যাদি ৩০০ বৎসরের অসমাপ্ত বহসের আপডেট দিতে থাকবেন।

হুদহুদ মেইল ওয়েবসাইটের নীতি

(১) কুরআন সুন্নাহর বাহিরে মুসলমানদের কোন দল নেই।

(২) আমরা শিয়া সুন্নি হানাফি ক্বওমী, দেওবন্দি বেরলভি মাযহাবি, লা মাযহাবি, তবলিগী বা আরো যত নামের যত সাইনবোর্ড আছে সব সাইনবোর্ড থেকে মুক্ত। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

(৩) আইএস, আল কায়েদা, বখতিয়ারের ঘোড়া বা কোন জিহাদি নামের সংগঠনের কোন প্রশ্রয় এখানে নেই। দেখামাত্র আনফ্রেন্ড ও ব্লক।

(৪) শেষ যুগ বিদ্যা বা ইসলামিক ইস্কেটোলজি বিষয়ে আমাদের বিশেষ আগ্রহ। এ বিষয়ে আমরা শায়খ ইমরান নযর হোসেনের লেখা ৫ টি বই দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত।

(৫) আমরা মনে করি শেষ যুগ চলছে। ইয়াজ্যুজ মাজ্যুজের দেয়াল ফুটো হয়েছে। সে দেয়াল মাটির সাথে মিশে গেছে। ইয়্যাজুজ মাজ্যুজ বের হয়েছে।

(৬) আমরা মনে করি সভ্যতার সূর্য যা আগে প্রাচ্য থেকে উঠত, তা এখন পশ্চিমাকাশ থেকে প্রতিদিন উঠছে। ফোরাত নদীর স্বর্ণকে আমরা পেট্রোডলার মনে করি। মনে করি, ফোরাত নদীর স্বর্ণ নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

(৭) আমরা মনে করি মুসলমানদের রাজনৈতিক বন্ধু ও শত্রু আল্লাহ্‌ কুরআনে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ইহুদি খ্রিস্টান চক্র তথা আমেরিকা ইউরোপ তুরস্ক সৌদি ইসরাইল জোট তথা যায়োনিস্টরাই মুসলমানদের শত্রু। যারা এ চক্রের সাথে বন্ধুত্ব করবে তারা তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে। (এ অনুসিদ্ধান্তের ভিত্তি সূরা আল মায়েদার ৫১ নং আয়াত)

(৮) আমরা মনে করি মুসলমানদের রাজনৈতিক বন্ধু অর্থোডক্স খ্রিস্টান তথা পূর্ব রোম তথা রাশিয়া। এ অনুসিদ্ধান্তের ভিত্তি সূরা আল মায়েদার ৮২ নং আয়াত। এবং সূর রূমের ২ থেকে ৪ নং আয়াত। আল্লাহ্‌ বলেন,

“রোমকরা পরাজিত হইয়াছে। অতি শীঘ্রই তাহারা (জাযিরাতুল আরবের) নিকটবর্তী অঞ্চলে বিজয়ী হইবে। কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহ্‌রই। এবং সেদিন মু’মিনরা আনন্দিত হইবে। (সূরা রূম, আয়াত ২ – ৪)

আল্লাহ্‌ বলছেন, পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহ্‌রই। অর্থাৎ পূর্বেও যেমন মুসলমানরা রোমকদের বিজয়ে আনন্দিত হইয়াছিল ইহা আবার পরেও হইবে। অর্থোডক্স খ্রিস্টান আবার বিজয়ী হবে এবং মুমিন মুসলিমদের জন্য তা আশীর্বাদ বয়ে নিয়ে আসবে। পুর্বে যেমন রূমের বিজয়ে মক্কা বিজয়ের প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছিল, তেমন বর্তমানে প্রকৃত রূম তথা রাশিয়ার বিজয়ে মুসলমানদের জেরুজালেম বিজয়ের প্রেক্ষাপট রচিত হবে।

(৯) সিরিয়া ও বাশার আল আসাদ বিষয়ে আমাদের অভিমত হলো সে শিয়া না সুন্নি তা আমাদের বিবেচ্য নয়। কারণ পূর্বেই বলেছি আমরা শিয়া সুন্নি, হানাফী মাযহাবী লা মাযহাবী ইত্যাদি সেক্টরিয়ান ইসলামে বিশ্বাসী নই। মুসলিম বিশ্বে ও আরব ও আজমীদের মধ্যে একমাত্র সেই আমেরিকা ও ইসরাইলের কাছে মাথা নত করেনি। কিন্তু অনেক সুন্নী রাজা বাদশা আমেরিকা ব্রিটেন ইসরাইলের কোলে নিরাপদে ও শান্তিতে শুয়ে আছে।

।।

আমরা মনে করি আমাদের সাইট ভিজিট করার সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য উপরের এই কয়টি পয়েন্টই আপনার জন্য যথেষ্ট। উলামায়ে কেরাম ও ইসলামিক চিন্তাধারার ভাইদের জন্য এটা বিশেষ ভাবে বলা।

বর্তমানে ও ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে মতানৈক্য বা তর্ক বিতর্ক করে আপনাদের মূল্যবান সময় অপচয় না করার জন্য ধন্যবাদ।

জাযাকুমুল্লাহ খইরন।

কুরআন সব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা করতে সক্ষম

Guidance to humanity

অনেকে নানাভাবে কুরআনের সত্যতাকে প্রমাণের চেষ্টা করেন। কেউ আকাশের গ্রহ নক্ষত্রের দিকে দৃষ্টিপাত করেন। তার অভিজ্ঞতার সাথে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতাংশকে মেলানোর চেষ্টা করেন। কেউবা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের মধ্যে গাণিতিক সামঞ্জস্য খুঁজেন। আবার কেউ কুরআনের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন। এগুলো সব ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের এও মনে রাখতে হবে, কুরআন শুধুমাত্র নাস্তিকদের সাথে তর্ক করার জন্য নয়, কুরআনের অনন্য বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক বা ভাষাগত সৌন্দর্যে কেবলমাত্র বিমোহিত হওয়ার জন্য নয়। কুরআন হচ্ছে এমন একটি কিতাব যা সবকিছুর সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা দান করে। “…. (It is a) a detailed explanation of everything and a guide and a Mercy for the people who believe.” (سورة يوسف, Yusuf, Chapter #12, Verse #111)

আমাদের অবশ্যই বর্তমান রহস্যময় পৃথিবীকে বুঝতে হবে। যে পৃথিবীতে আমরা বাস করি। যদি আমরা ন’টা পাঁচটা অফিস করি আর কৌচে হেলান দিয়ে টিভির রিমোট পাল্টাই, আর যদি শুধু মসজিদে যাই আর আসি, আসি আর যাই তাহলে আমরা কখনো পৃথিবীর রহস্যময়তার সন্ধান পাবো না। সব কিছু মনে হবে স্বাভাবিক।

কেন গত শতকে ইহুদীরা প্রায় ২০০০ বৎসর পর পবিত্রভূমি জেরুজালেমে ফিরে এলো, কেন সারা বিশ্ব ধর্মহীনতা দ্বারা শাসিত হতে লাগল, কেন নিরীহ মুসলমানদের ওপর জুলুম নির্যাতন ও রক্তের ধারা প্রবাহিত হল। কেনই বা আজকে মদিনার প্রভাব খর্ব হলো ও জেরুজালেম নতুন সুপার পাওয়ার হতে চলেছে। সোনা রূপার বদলে কেন কাগজের ডলারের পথ ধরে পৃথিবী ইনভিজিবল মুদ্রার দিকে যাত্রা শুরু করেছে। কেন বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও মালকাল ইয়ামীন বা অধিকারভুক্ত নারীদের সমাজের জন্য অগ্রহণযোগ্য, পচনশীল ও ক্ষতিকর ট্যাগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সমকামিতা ও অযাচারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে।

কেন গত শ্তকের শুরুতে যায়োনিস্ট আন্দোলনের শুরু হলো এবং তার অব্যবহিত পূর্বে ফেরাউনের লাশ আবিষ্কার হলো। এসব প্রতিটি ঘটনার সিগনিফিকেন্স আছে। It means it has Meanings.

সিরিয়া ও ইয়েমেনের উপর হামলা পৃথিবীকে কোথায় নিয়ে যাবে। আর কেনই বা রাশিয়া ও চীন সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমেরিকা ও ন্যাটোর মুখোমুখি অবস্থান করছে। আল্লাহ্‌ বলেন, আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়। ২ঃ২৫১ (অনুবাদ – মা’রেফুল কুরআন)

অতএব আমাদের কুরআনের দ্বারা এ’ পৃথিবীকে ব্যাখ্যা করতে হবে। এরাই চিন্তাশীল, যাদের প্রশংসা আল্লাহ্‌ কুরআনে বারবার করেছেন। বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর পেয়ারা নবী হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ইয়েমেন হইতে একটি আগুন বাহির হইবে, এই আগুন অপরাধীদের তাড়াইয়া বিচারের ময়দানে লইয়া যাইবে।” আজ যারা কুরআনের আলোয় পথ দেখতে ব্যর্থ হবে সম্ভবত তারা এই ধোঁয়াশার পৃথিবীতে অপরাধীদের সমর্থন দিবে এবং নিজেরাও অপরাধী হয়ে বিচারের ময়দানে প্রবেশ করবে।