কূটনৈতিক সুন্নাহ

strategic-sunnah

স্ট্র্যাটেজিক সুন্নাহ – মাওলানা ইমরান নযর হোসেন

মহানবীর (সাঃ) অনুসারীরা ইসলামী দুনিয়া বিশেষতঃ সমগ্র মানবজাতি বর্তমানে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো ভয়ঙ্কর অশুভ পরিবর্তনের দিকে যাইতেছে । একটি জঘন্য শয়তানী দুনিয়া সামনে আসিতেছে । আরো ব্যাপক জুলুম অত্যাচারের দুনিয়া আসিতেছে । ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী যুদ্ধ আসিতেছে । আর এই সবই হইতেছে ইজরাঈলের পক্ষে । যায়োনিষ্টরা যাহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ইসরাঈলকে পরবর্তী বিশ্বনিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র সুপারপাওয়ার হিসাবে অধিষ্টিত করিতে পারে । যেভাবে আসিয়াছিল প্যাক্স ব্রিটানিকার পরিবর্তে প্যাক্স অ্যামেরিকানা । একইভাবে আসিতেছে প্যাক্স অ্যামেরিকানার পরিবর্তে প্যাক্স জুড্যাইকা । এমনটা কেন হইতেছ ? পনের বছর আগে আমি একটি বই লিখিয়াছিলাম “পবিত্র কোরআনে জেরুজালেম” যাহাতে বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হইয়াছে । ইসলামী চিন্তাবিদগণ যদি এই সংকটময় মুহূর্তে দুনিয়ার বাস্তব অবস্থা মানুষকে বুঝাইতেছে ব্যর্থ হন, কেবল মুসলমানগণই নয় বরং সমগ্র মানবজাতিই বর্তমানে আলেমদের নিকট জানিতে চাহেন কিভাবে এই ক্রান্তিকাল মোকাবিলা করিতে হইবে । তাহারা যদি মানবজাতিকে প্রস্তুত করিতে ব্যর্থ হন, তবে স্মরণ করুন আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে নবী করিম (সাঃ) কি বলিয়া গিয়াছেন যাহা শুনিলে এমনকি অমুসলিমরাও বিস্মিত হইবেন । হাদীসটি বায়হাকী শরীফে আছে । মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন যে, “মানুষের উপর এমন একটি সময় আসিবে যখন ইসলামের নাম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না । কোরআনের লেখাগুলি ছাড়া (বাস্তবজীবনে) আর কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না । মসজিদগুলি হইবে আলিশান অট্টালিকা কিন্তু তাহা হইতে কেউ সুপথের সন্ধ্যান লাভ করিবে না । সেই (অন্ধকার) যুগের আলেমগণ হইবে আকাশের নীচে সবচাইতে নিকৃষ্ট মানব । তাহারা হইবে (মানুষের) পথভ্রষ্টতার ফিতনার কেন্দ্রবিন্দু ।” কাজেই এখন আলেমদের দ্বায়িত্ব হইল বর্তমান বিশ্ব যেই নির্মম বাস্তবতার মোকাবেলা করিতেছে তাহা মানুষের নিকট ব্যাখা করা এবং এই কাজে কোরআনকে ব্যবহার করা । পবিত্র কোরআনের সুরা নাহলে আল্লাহ তায়ালা বলিয়াছেন, “এই কোরআন আপনার প্রতি অবতীর্ন করিয়াছি যাহাতে রহিয়াছে সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা”। আলেমদের জন্য আরো প্রয়োজন হইল বিশ্বনবীর (সাঃ) সুন্নাহ এবং জীবনাদর্শকে এই যুগের সমস্যাবলীর সমাধানে ব্যবহার করা । কেননা মহান আল্লাহ তাঁহার শেষ নবী (সাঃ) সম্পর্কে বলিয়াছেন যে, “নিশ্চয় আপনি সর্বোত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী”। অর্থাৎ মহানবীর (সাঃ) আদর্শ সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য প্রযোজ্য এবং অনন্তকালের জন্য প্রযোজ্য । কসমেটিকস ইসলাম অর্থাৎ সাজুগুজু ইসলাম এই কাজ সম্পাদন করিতে অক্ষম । কসমেটিকস ইসলাম হইল যাহারা বলে একবার ঘরে যান একবার মসজিদে যান আবার ঘরে যান আবার মসজিদে যান ঘরে যান মসজিদে যান আর একই বয়ান বারবার ঘুরাইয়া ফিরাইয়া দেওয়া হইতেছে ষাট সত্তর বছর যাবত । সুতরাং সাজসজ্জার ইসলাম উটপাখির মতো বালির নীচে মাথা ঢুকাইয়া রাখিয়াছে এবং বর্তমান পৃথিবীর সমস্যাবলী নিয়া অধ্যয়ন গবেষণা কিংবা মোকাবেলার কোন প্রচেষ্টা নাই । কাজেই কসমেটিকস ইসলাম নিয়া পড়িয়া থাকিলে মুসলমান হিসাবে আমাদের দ্বায়িত্ব পালনে কখনও সফলকাম হইবে না । অন্যদিকে আছে প্রোটেস্ট্যান্ট ইসলাম (সালাফী) যাহাতে কোন যুক্তিবাদী চিন্তা নাই বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা নাই কিভাবে সত্যকে আধুনিক যুগে প্রয়োগ করা যায় কিভাবে কুরআনকে ব্যবহার করিয়া আধুনিক যুগের বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করা যায় । সালাফী ইসলাম মনে করে আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এবং প্রথম যুগের মুসলমানগণ ছাড়া কোরআন-হাদীসকে ব্যাখ্যা করিবার অধিকার কাহারও নাই । কোন ইমরান হোসেন তাহা করিতে পারিবে না । আমরা তাহাকে সেই সুযোগ দিব না । তাহাতে কি হইয়াছে ? দুনিয়ার মানুষ এখন ইমরানের কথা শুনিতেছে । এই জন্য আমরা আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা জানাইছি । আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় নবীজি (সাঃ) সুন্নাহ অর্থাৎ রীতিনীতি । কাজেই আমরা আপনাকে উপদেশ দিতেছি স্মরণ করাইয়া দিতেছি দাঁড়ি রাখেন । কেননা ইহা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ । আল্লাহ কোন দুর্ঘটনাক্রমে পুরুষদের মুখে দাঁড়ি দেন নাই । তিনি পুরুষদের মুখে দাঁড়ি দিয়াছেন তাঁহার প্রজ্ঞার বিবেচনায় । ফলে অনেক দূর হইতেও আমরা বুঝিতে পারি কে পুরুষ আর কে নারী তাহাদের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দিকে না তাকাইয়াও । ইহাই হল আসমানী জ্ঞান ।

অবশ্য আপনি যখন দাঁড়ি রাখিবেন তখন সেগুলো নিয়া আপনার বাচ্চা খেলা করিবার সুযোগ পায় । কাজেই আপনি যখন দাঁড়ি সেভ করিয়া ফেলেন, তখন নিশ্চিতভাবেই আপনি আপনার শিশুর খেলাধুলার অধিকার হরণ করিলেন । কারণ শিশুরা আর দাঁড়ি নিয়া খেলাধুলা করিতে পারিতেছে না । সুন্নাহ আছে পোষাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে যেগুলো আমরা পরিধান করিয়া থাকি । পোষাকের কিছু সুনির্দিষ্ট ডিজাইন যাহা শালীনতা বজায় রাখে । কিন্তু ইহাই একমাত্র সুন্নাহ নয় । সুন্নাহ আছে আমাদের পানাহারের ক্ষেত্রেও । কিন্তু ইহাই একমাত্র সুন্নাহ নয় । আপনি যেই পৃথিবীতে বসবাস করেন সেই সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও সুন্নাহ । আরো সূক্ষ্মভাবে বলিতে গেলে আপনার আত্মরক্ষা, প্রতিরক্ষা, সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও সুন্নাহ । আপনি সত্য মিথ্যার যুদ্ধে লিপ্ত আছেন । আর মিথ্যার সেনাবাহিনী সর্বদাই আপনার উপর আক্রমণের চেষ্টায় লিপ্ত আছে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য অবশ্যই বিলুপ্ত করিয়া দিবে মিথ্যাকে । সুতরাং প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি বা যুদ্ধকৌশলগত কলাকৌশল হইল সত্য মিথ্যার লড়াই । সুতরাং প্রতিরক্ষা বা সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত বিষয়গুলি কিভাবে মোকাবেলা করিতে হইবে তাহা জানাও সুন্নাহ । কাজেই আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় হইল সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত সুন্নাহ, যেই সম্পর্কে আপনি আগে কখনও শুনেন নাই । কারণ এই বিষয়টি এখন আর কেউ শিক্ষা দেন না । আমরা আজকে আলোচনা করিব মহানবীর (সাঃ) সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত সুন্নাহ । কাজেই বিশ্বনবীর (সাঃ) সামরিক সুন্নাহসমূহ স্মরণ এবং বিশ্লেষণ করিয়া আমাদের আজকের এই জটিল বিশ্ব পরিস্থিতিতে প্রয়োগের কৌশল আলোচনা করিব । আর এই কাজে আমাদের থাকিতে হইবে দূরদৃষ্টিগত এবং অন্তর্দৃষ্টিগত চিন্তাভাবনার যোগ্যতা । কাজেই আল্লাহর পবিত্র নাম নিয়ে আমরা সত্য মিথ্যা এবং ন্যায় অন্যায়ের লড়াই নিয়ে আলোচনার সূচনা করিতেছি । নবী করীম (সাঃ) এর উপরে আক্রমণ পরিচালনা করা হইয়াছিল । কুরাইশগণ ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিয়াছিল, জুলুম অত্যাচার, অবিচার এবং মিথ্যার সৈন্যবাহিনী । আপনি যখন দেখিবেন ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হইয়াছে তখন কি করিবেন ? আপনি যদি যথেষ্ট শক্তিশালী না হইয়া থাকেন, তবে আপনি কি আপোষ করিবেন যাহাতে আপনি যেখানে আছেন সেখানে বসবাস করিতে পারেন ? যাহাতে আপনার গ্রীনকার্ড ঠিক থাকে, আপনার চাকরি ঠিক থাকে এবং আপনার গাড়ি-বাড়িও ঠিক থাকে ? নাকি আপনি যেই পরিণতিই হোক না কেন তাহা পরোয়া না করিয়া সত্যকে আকড়াইয়া থাকিবেন ? সুন্নাহ হইল প্রয়োজনে (জন্মভূমি) মক্কা ত্যাগ করুন তবু সত্যকে ত্যাগ করিবেন না । এবং আপনি সত্যকে প্রচার করিতে থাকুন । এমন অবস্থা যখন আসিবে তখন হিজরত দেশত্যাগ করিতে হইবে । আর এজন্য এখন অনেক মানুষ বিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে হিজরত করিতেছেন । কারণ সেখানে এখন আর সত্যকে প্রচার করিবার স্বাধীনতা নাই । কিন্তু রাসুলে পাক (সাঃ) যখন হিজরত করিলেন তাহাতে কিন্তু কুরাইশগণ তাঁহাকে ছাড়িয়া দেন নাই । তাহারা নবীজির (সাঃ) পেছনে পেছনে ধাওয়া করিয়া আসিয়াছে । ফলে সংগঠিত হইয়াছে বদরের যুদ্ধ । তাহাতে আমরা তাহাদেরকে দিয়াছি অপমানজনক পরাজয় । বিস্তারিত পড়ুন

আসাদ কি সুফিয়ানী?

লিখেছেনঃ Ashraf Mahmud

প্রশ্নঃ

সিরিয়া থেকে একটি বাহিনী যাবে ইমাম মাহাদীকে হত্যা করার জন্য। সেই বাহিনী কি আসাদের বাহিনী? কিংবা তার উত্তরসূরীদের কেউ?

আমার উত্তরঃ
সিরিয়া থেকে একটা বাহিনী যাবে ইমাম মাহাদীকে হত্যা করার জন্য। ঠিক।কিন্তু সেই বাহিনী যে আসাদের বাহিনী, তা’ নিশ্চিত নয়। অতদিন আসাদ থাকবে কিনা, তাও কারো জানা নেই। অনেক উলট পালট হয়ে যাবে। আসাদকে হজম করতে হচ্ছে কৌশলগত কারণে। আসাদ সরলে আসবে মার্কিন-জায়নিষ্ট পুতুল সরকার। রাশিয়ার জন্য সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও তারা মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া ইমাম মাহাদী কখন আত্মপ্রকাশ করবে, তা’ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আমাদের অনুমান তিনি বিশ্বযুদ্ধের পরই বের হবে। সে সময় বিশ্ব পরিস্থিতি কোন অবস্থায় গিয়ে দাড়ায়, বলা যাচ্ছে না। আপাতত নরপিশাচ আসাদকে সহ্য করে যেতে হবে আরো বড় ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য। বর্তমান সুন্নী প্রধান দেশ তুরস্ক ও সওদী আরব জায়নিষ্টদের করতলে। দীর্ঘদিন যাবত। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র আসাদ ছাড়া বাকী সব দেশ ইহুদী আমেরিকানদের কব্জায়। মিশরও তাই। ইয়েমনও অশান্ত। লিবিয়াও তাই। একমাত্র আসাদ, শিয়া হলেও, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বেকিং দিচ্ছে রাশিয়া। ইরানও দিচ্ছে। তবে, রাশিয়া না হলে ইরানের বেকিং এ কিছুই হবে না। উড়ে যাবে। তাই বলা যায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য আসাদকে কিছুদিন মেনে নিতে হবে। কৌশলগত কারণে। আশা করি পরিষ্কার করতে পেরেছি।

(ইস্কেটোলজিকাল হাইপোথিসিস)

শেষ যুগের দুই সাগর

সূরাতুল হাদীদ – আয়রন / স্টিল (৫৭ঃ৩) এই আয়াতটি লইয়া আমরা ইনশাআল্লাহ কিছু কথা বলিব। কুরআনে কোন কিছু এমনকি একটি শব্দও দৈবক্রমে আসেনি। আল্লাহ তিনি শুরুতে ছিলেন, আবার শেষেও থাকবেন। সুতরাং তিনিই উভয়কে সংযোগ করান। নিশ্চয়ই ইতিহাসের শুরু এবং শেষের মধ্যে কোন সংযোগ আছে। যদি আপনি আখেরুজ্জামান সম্পর্কে শিখতে চান তবে আপনাকে আওয়ালুজ্জামান সম্পর্কেও জানিতে হইবে। আজ রাতে আমরা ইনশাআল্লাহ ইতিহাসের প্রথম পাতাটি ও প্রথম প্যারাগ্রাফ সম্পর্কে আলোচনা করিব এবং ইহার সহিত ইতিহাসের শেষ দৃশ্যকে মিলাইব।

আয়াতটিতে আরো পাওয়া যায় তিনিই প্রকাশমান, আবার তিনিই লুকায়িত বা অপ্রকাশমান। এবং তিনিই সব বিষয়ে জ্ঞান রাখেন। অর্থাৎ পূর্বের বা পরের, বাহিরের বা ভিতরের। কাজেই সবকিছুই জ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত।

কাজেই কিরূপে পূর্বের পরের বা বাহিরের ও ভিতরের সংযোগ স্থাপিত হয় তাহাকে জানিতে হইলে আপনাকে কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করিতে হইবে। ইহাকে বলে ইপিস্টিমোলজি বা জ্ঞানতত্ত্ব। আপনাকে অবশ্যই বহির্জ্ঞানের সাথে অন্তর্জ্ঞানের সংযোগ ঘটাইতে হবে।

আসুন আমরা সূরাতুল কাহফের স্মরণ করি যা একটি শেষ যুগ বা ইস্কেটোলজি বিষয়ক সূরা। সূরাতুল কাহাফে আমরা একটি মডেল পাই। গল্পটি শুরু হয়েছিল সূরার বাইরে যা সহি বোখারীতে লিপিবদ্ধ আছে। কে শেষ যুগ বিষয়ে মানবজাতির মধ্যে সবচাইতে বেশী জানে। তাকে পাওয়া যাবে দুই সাগরের সংযোগস্থলে যাকে মজমাউল বাহরাইন বলা হয়। কোন ইউনিভার্সিটিতে আপনাকে এই বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হইবে না। হ্যাঁ, তিনিই খিজির য়ালাইহিস সালাম, যার উপর আমি একটি ছোট বই লিখিয়াছি। আপনাকে অবশ্যই ঐ দুইটি সাগরের মধ্যে সংযোগ ঘটাইতে হইবে, খিজির তাহাই করিয়াছিলেন। উহা কোন দুইটি সাগর ছিল? এখানেই আমরা হারমোনিয়াসলি ইন্টিগ্রেটেড দুইটি সমুদ্রের সন্ধান পাই যে সমুদ্র দুইটির সংযোগস্থলে হযরত খিজির য়ালাইহিস সালাম ছিলেন। আমাদের কথা হইল উহা আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগর বা ভারত মহাসাগর ছিল না। উহা ছিল জ্ঞানের দুইটি সাগর। একটি হইল জাহেরী জ্ঞান যা বহির্জগৎ থেকে আহরিত হয়। অন্যটি হইল অন্তর্জ্ঞান যা অন্তর্জগতে আহরিত হয়। এই দুই ধরনের জ্ঞান যখন একত্রিত হইবে তখন আউয়ালুজ্জামান ও আখেরুজ্জামানকেও একত্রিত করা যাইবে।

আমাদের ব্যর্থতা হইল ইহা এখন আর দারুল উলুমগুলিতে শিক্ষা দেওয়া হয় না। কাজেই ইসলামের প্রকৃত স্কলার তৈরি হইতেছে না যিনি খিজির য়ালাইহিস সালামের পদচিহ্ন অনুসরণ করিয়া সামনে আগাইতে পারেন। এই পৃথিবীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, মুদ্রানীতি এবং সামরিক সংঘাতের বাস্তবতা বুঝিতে হইলে শুধু বাহির চোখ ব্যবহার করিলে হইবে না, অন্তর্চক্ষুও ব্যবহার করিতে হইবে। সুরা কাহাফ থেকে আমরা জানিতে পারি খিজির য়ালাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ দুইটি জিনিস দান করিয়াছিলেন। তা হল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত এবং এক বিশেষ জ্ঞান। তাই আপনিও যদি খিজির য়ালাইহিস সালামের মতো বর্তমান পৃথিবীর গভীর বাস্তবতা উপলব্ধি করতে চান তবে আপনাকেও খিজিরের মতো এই দুইটি গুন অর্জন করতে হবে। প্রথমত আল্লাহর রহমত যা এক বিশেষ দয়া।

আপনি যখন আল্লাহর রহমত বা দয়া পাইবেন তখন আপনি নিজেও দয়াশীল হইবেন। দয়াশীল হইতে হইলে আপনাকে প্রচুর ধৈর্যশীল হইতে হইবে। যদি আপনি পৃথিবীর বাস্তবতা শিক্ষা করিতে যান তবে আপনাকে প্রচুর ধৈর্যের পরিচয় দিতে হইবে। দ্বিতীয়ত, জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ হইতে আসিতে হইবে। লাইসা লিল ইনসানি ইল্লা মা শা। যদি আপনি বীজের বপন না করেন আপনি ফসল কাটিতে চাইতে পারেন না। যদি আপনি আল্লাহর থেকে নূর প্রত্যাশা করেন এবং জ্ঞান তবে আপনাকে এর জন্য পরিশ্রম করিতে হইবে ………।। এবং এই পরিশ্রম করার জন্য আপনার অন্তর আল্লাহর দিকে রুজু হইতে হইবে। আপনার অন্তরের অবস্থা এমন হইতে হইবে যেন সে আল্লাহপ্রদত্ত শিক্ষা মানিয়া লয়। ইহাই হইল ঈমান, কিন্তু আল্লাহ আপনার ঈমান পরীক্ষা করিবেন। হয়তো আপনাকে টেররিস্ট নামে আখ্যায়িত করা হইবে। আপনার হিজাব নিয়া যখন কথা উঠিবে তখন কি আপনি হিজাব খুলিয়া ফেলিবেন?

যদি আপনি ইসলামের কথা বলেন, ইসলামের দেয়া বিধান অনুসারে চলেন আপনার চাকরী চলিয়া যাইতে পারে। আপনার প্রমোশন বন্ধ হইতে পারে। আপনার চলাচল নিষিদ্ধ হইতে পারে। আপনার ব্যবসা বন্ধ হইয়া যাইতে পারে। আপনি কি মনে করেন ইহা এমনি এমনি হইতেছে? না না, ইহা আল্লাহ আপনার পরীক্ষা নিতেছেন। আল্লাহ আপনার হৃদয়ের দিকে তাকাইয়া আছেন। আপনাকে ফলাফলের দিকে না তাকাইয়া দ্বীনের নীতিগুলির উপর অটল থাকিতে হইবে। যদি প্রয়োজন হয় আপনাকে দেশ ত্যাগ করিয়া কিছু মেষ লইয়া পাহাড়ের দিকে চলিয়া যাইতে হইবে। ইহা শেষ যুগ, এবং এই যুগ পৃথিবীতে দৈবক্রমে চলিয়া আসে নাই। আমাদের পরীক্ষা করা হইতেছে। এই যুগে দ্বীনের উপর অটল থাকা হাতে জ্বলন্ত কয়লা ধরে রাখার চাইতে কঠিন। যদি আপনি বিরানি খান আর বাসায় আসিয়া ঘুমান আর ভাবেন বাহ পৃথিবী তো ঠিক চলতেছে তাহলে সেখানে কিছু অসুবিধা আছে। যদি আপনি ইপিস্টিমোলজি শিক্ষা করিয়া খিজির য়ালাইহিস সালামের পদচিহ্ন অনুসরণ করিতে চান তবে আপনাকে আল্লাহর সহিত সিনসিয়ার থাকিতে হইবে।

যখন আমরা দেখব ইতিহাসের প্রথম ও শেষ দৃশ্যের সংযোগ, সম্ভবত সূরাতুর রূমে, লিল্লাহিল আমর মিন কাবল ওয়া মিম বায়দ। … আল্লাহর আদেশ, কমান্ডস, অথরিটি প্রথম ও শেষ উভয় দৃশ্যে বিদ্যমান। এর একটি তাৎক্ষণিক উদাহরণ রূমের বিজয়। এর শেষ দৃশ্যে বিশ্বাসীরা আনন্দ উদযাপন করবে। ইতিহাস এভাবেই সমাপ্ত হয়, বিশ্বাসীদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে।

The Qur’an & Awwal Al Zaman (The Beginning Of History) By Sheikh Imran Hosein এর সোয়া ২ ঘণ্টা বক্তব্যের প্রথম ২৫ মিনিটের মূলভাব।

শেষ যুগের দুই সাগর

মডারেট ইসলামিস্টদের সাথে ইসলামের কোন বিষয়ে আমি যুক্তিতে যেতে ইচ্ছুক নই। ইসলামে নারীনীতি বলেন অথবা বহুবিবাহ বা বাল্যবিবাহ বলেন, তবলিগ হোক আর দেউবন্দই হোক কোন বিষয়েই যুক্তি-পাল্টাযুক্তিতে যেতে রাজি নই। যুক্তি দিয়ে আপনি সব কিছুকে আটকে দিতে পারবেন। অযু ভাঙ্গে পশ্চাদদেশ দিয়ে, কিন্তু ধুতে হয় হাত-মুখ। যুক্তির কথা তো ছিল পশ্চাদদেশ ধুয়ে নিলেই হবে। কিন্তু ইসলাম অযুর মাধ্যমে মুসলমানদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে ইসলাম কোন যুক্তির পরোয়া করে না। আপনি হ্যামফারের ডায়েরি বইটা পড়ুন, সেখানে দেখবেন, ইহুদি আলেমরা কিভাবে মুসলমানদের মগজের উপর যুক্তির অস্ত্রপচার চালিয়েছে। আপনি যদি সূরা কাহফ পড়েন, যেটি একটি শেষ যুগ বিষয়ক সূরা, তাহলে দেখবেন, সেখানে হযরত খিযির য়ালাইহিস সালাম, যিনি শেষ যুগের জ্ঞানের মডেল, এমন কিছু কাজ করেছেন যার ব্যাখ্যা যুক্তি দিয়ে করা যায় না। আপনি যদি সূরা হাদীদের ৩ নং আয়াতটি পড়েন, সেখানে দেখবেন, আল্লাহ তায়ালা আদি-অন্তের, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব বিষয়ের উপর জ্ঞান রাখেন। এখন এই অপ্রকাশ্য বিষয়সমূহকে প্রকাশ্য বিষয়ের জ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা করা যাবে না। এখানেই আমরা হারমোনিয়াসলি ইন্টিগ্রেটেড দুইটি সমুদ্রের সন্ধান পাই যে সমুদ্র দুইটির সংযোগস্থলে হযরত খিজির য়ালাইহিস সালাম ছিলেন। এ সমুদ্র দুইটি আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগর নয়, ভারত সাগর বা আরব সাগরও নয়। এটি আসলে দুইটি জ্ঞান-সাগর। একটি বহির্জাগতিক জ্ঞান আরেকটি অন্তর্লব্ধ জ্ঞান। দুঃখজনকভাবে এই অন্তর্লব্ধ জ্ঞানকে মুসলমানেরা বাদ দিয়েছে। দারুল উলুম গুলিতে তা আর পড়ানো হয় না। দাজ্জালের যেমন এক চক্ষু, অর্থাৎ সে শুধু বহির্জাগতিক জ্ঞানেই সন্তুষ্ট, দাজ্জালের ফেতনায় পতিত আজকের মুসলমানদের অবস্থাও তাই। কারণ ইহুদীরা মুসলমানদের অন্তর্চক্ষুগুলোকে শেষ করিয়া দিয়াছে। আলহামদুলিল্লাহ, আরো অনেক কিছু বলা যায়। কিন্তু সংক্ষিপ্তই ভালো, আল্লাহ ভালো জানেন।

শিক্ষক

একজন ব্যক্তি হানাফী, সুন্নী, তাবলীগী, ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষক। আরেকজন ব্যক্তি ইসলামিক ইস্কেটোলজির গবেষক। তার মাযহাব, লা-মাযহাব, ৬ নাম্বার বয়ান করার সময় নাই।

ইমরান নযরের কাছে আপনাকে ইসলামিক ইস্কেটোলজি শিখতেই হবে তা নয়। আপনি একজন সহি আক্বীদার যেকোন হানাফী, সুন্নী, তাবলীগী বা ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছেও তা শিখতে পারেন।

এমনকি কিয়ামতের আলামত বিষয়ক যেকোন বই কিনেও শিখতে পারেন। — feeling joyful.

ছোট্ট একটু আওয়াজ

হক্বের শুরুটা হয় সবসময় ছোট আওয়াজে। ছোট্ট একটু আওয়াজ, মনে ভয় হয় মানুষ শুনবে তো !! হযরত ইবরাহীম য়ালাইহিস সালাম কা’বাঘর বানানোর পর আল্লাহ আদেশ দিলেন, হে ইবরাহীম ! তুমি মানুষকে হজ্বের আযান দাও। মানুষ আসবে পায়ে হেঁটে, সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটের পিঠে আরোহণ করে, তারা আসবে দূর দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। ইবরাহীম য়ালাইহিস সালাম আযান দিলেন। আশেপাশে কেউ নেই। কোন মানুষ নেই, ধূ ধূ মরুভূমি। সে আযানের ক্ষীন আওয়াজ কতটুকুই বা পথ অতিক্রম করতে পারে? কিন্তু ওটা ছিল হক্বের আওয়াজ। সে আওয়াজ আল্লাহ পৌঁছে দিলেন মায়ের গর্ভস্থ শিশুর কান থেকে শুরু করে আলমে রওয়াহায় অবস্থানরত রূহের জগত পর্যন্ত।

নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লাম মদীনা নামের ছোট্ট একটা শহর থেকে হক্বের ডাক দিলেন। কোন মাইক নেই, কিছু নেই, ফেসবুক নেই। আর আল্লাহ তা ১৪০০ বৎসর ধরে পৌঁছে দিচ্ছেন আলোকিত হৃদয়গুলোতে অথবা হৃদয়গুলোকে করছেন আলোকিত।

চারদিকে যখন বাতিলের উচ্চকন্ঠ আওয়াজ ঠিক তখন ইমরান নযর হোসেন ছোট্ট করে বললেন, ব্রেটনউডসের মুদ্রানীতি সুন্নাহসম্মত নয় বরং শিরক, পেট্রোডলারই সেই হাদীসের সোনার পাহাড় মুসলমানরা যা স্পর্শ করবে না, ইয়াজুজ মাজুজ তো বের হয়েছে অনেক পূর্বে, দাজ্জালের আগমন ঘটতে যাচ্ছে আসন্ন ৩য় বিশ্বযুদ্ধ ও প্যাক্স যুদাইকার পরে যখন দাজ্জাল আমাদের সামাওয়াতে অবস্থান করবে, আইসিস দাজ্জালের ওয়ারিয়র। ছোট্ট একটু আওয়াজ, যায়োনিস্টদের পাহাড় টলানো চক্রান্তের সামনে কিছুই না, তারপরও যে ছেলেটি কোনদিন অর্থনীতি পড়েনি সে অর্থনীতি নিয়ে লেখাপড়া শুরু করল, যে ব্যক্তিটি কোনদিন শেষ যুগের হাদীস শুনেনি, সে ব্যক্তিটিও হাদীস ঘাঁটাঘাঁটি করতে লাগল। সূরা কাহাফের আমল করা শুরু করল। দুয়া করি আল্লাহ এ আওয়াজকে কবুল ফরমান ও বুলন্দ করে দিন।

সন্দেহ

প্রশ্ন করলেই দ্বীনের বিষয়াদী সব জানা যায় না। যেসব প্রশ্নের উৎপত্তিস্থলে সন্দেহ সঞ্চিত থাকে সেসব আপনার হৃদয়কে প্রশান্ত করবে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সালামের নিকট সাহাবা রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুম অনেক প্রশ্ন করতেন। কিন্তু তাদের অন্তরে সন্দেহ ছিল না। তাই তারা দ্বীন শিখতে পেরেছেন। সাহাবা রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুমের উপস্থিতিতে একদিন হযরত জিবরাঈল য়ালাইহিস সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সালামের নিকট আসলেন। এরপর প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে দ্বীনের কিছু বিষয়াদী শিক্ষা দিলেন। এটা সম্ভব হয়েছিল ঐ অবস্থায় যখন শিক্ষা গ্রহণ কারীদের অন্তরে সন্দেহের সামান্য বীজ পর্যন্ত ছিল না।

অন্তর যখন সত্যকে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে তখনই সত্য সেই হৃদয়ে ধরা দেয়। “যা সে দেখেছে (বাহিরের চোখে) তার অন্তর (অভ্যন্তরীণ অন্তর) তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনি।” মা-কাযাবাল ফুআ-দু মা-রআ। (সূরা নযম, আয়াত ১১)

যখন অন্যথা হয়, সত্য গ্রহণ করার জন্য অন্তর তৈরী থাকে না, অন্তরের ঐ অবস্থায় যে প্রশ্ন অন্তরে জাগ্রত হয় তা কোন সুফল বয়ে আনে না। এ অবস্থায় প্রশ্ন করার উপরও নিষেধাজ্ঞা আছে। “তিনি বললেন, আচ্ছা, তুমি যদি আমার অনুসরণ করোই, তাহলে কোনো বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবে না, যতক্ষণ না আমি নিজে থেকেই তোমাকে সেকথা বলি।” (সূরা কাহাফ, আয়াত ৭০)

আজকের যুগটা দেখুন। দ্বীনের বিষয়ে অন্তরের মধ্যে অবিশ্বাস নিয়ে মানুষ প্রশ্ন করে। নাস্তিকরা তো অহরহ করে। এমনকি দ্বীনের উপর এস্তেকামাতের সাথে থাকা লোকজনও এরূপ প্রশ্ন করে। আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক জীবন ব্যবস্থায় দাজ্জাল প্রশ্ন এবং যুক্তিকে মানুষের কাছে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলে ধর্মীয় জ্ঞান অন্বেষণেও মানুষ আধ্যাত্মিকতার পরিবর্তে প্রশ্ন ও যুক্তিনির্ভর হয়ে পরছে।

আমরা যখন বলি আন্তর্জাতিক মুদ্রানীতি সম্পর্কে যে এটা হারাম, আমরা যখন বলি ইয়াজুজ মাজুজ বেরিয়ে গেছে, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের সম্পর্কে, আধুনিক জীবন ব্যবস্থা (বাসস্থান, খাদ্য, বাহন ইত্যাদি) সম্পর্কে তখন অনেক দ্বীনদার মানুষও প্রশ্ন করে।

“যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারণ করবে কেমন করে?” (সূরা কাহাফ, আয়াত ৬৮)

এ বিষয়ে তো তারা গতানুগতিকতার বাহিরে ইতিপূর্বে কিছু পাঠ করেনি, কোন শায়খও তাদের বলেনি তাই তারা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যায়। ইসলামিক ইস্কেটোলজি বা শেষ যুগ বিষয়ে জানতে হলে পরিচ্ছন্ন হৃদয় নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বারবার প্রশ্ন করার মাধ্যমে জানা যাবে না।