রেসপন্স টু দ্য নিউ বুক অব শায়খ ইমরান নযর হোসেন

Ashrafuzzaman Tusher: শায়খ ইমরান হোসেনের নতুন বইটা পড়ছি। দাজ্জাল, দ্য কোরআন এন্ড আওয়াল আল-জামান। পড়েই বুঝতে পারলাম এখানে অনেক মৌলিক গবেষণালব্ধ নতুন জ্ঞান রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা অনেকেই নতুন জ্ঞানের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন। তাদের ধারণা কোরআন হাদিসের জ্ঞান চিরদিনের জন্য নিঃশেষিত হয়ে গেছে। পূর্ববর্তী মুফাসসিরুন মুহাদ্দিসুন যা বলে গেছেন এর বাইরে আর কিছু সংযোজিত হওয়ার নেই। এটি একটি ভুল ধারণা। কোরআনে হাদিসে এমন অনেক জ্ঞান রয়েছে যা পূর্ববর্তীরা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হননি। এমন নয় যে এটা তাদের অক্ষমতা। বরং কোরআন হাদিসে এমন অনেক বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে যা ঐ বিষয়ের জন্য নির্ধারিত সময় আসার আগ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। যখন নির্ধারিত সময় আসবে তখনই আল্লাহ তা’আলা ঐ বিষয়ের ব্যাখ্যা (তা’উইল) পৃথিবীতে পাঠাবেন। যেমন দাজ্জালের উড়ন্ত গাধা। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন দাজ্জাল উড়ন্ত গাধার পিঠে চড়বে। গাধার কানগুলো সুদূর বিস্তৃত থাকবে। গাধাটি মেঘের মত দ্রুতগতিতে উড়ে চলতে সক্ষম হবে। দাজ্জালের যুগে বসবাস করি বলে আমরা এখন জানি যে উড়ন্ত গাধাটি মডার্ন এয়ারক্র্যাফট ছাড়া আর কিছুই না। এরোপ্লেন আবিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত কারো পক্ষেই সম্ভব ছিল না এর ব্যাখ্যা দেওয়া, যেটা এখন একেবারেই পরিষ্কার। একইভাবে কোরআন হাদিসে বর্ণিত অসংখ্য বিষয়বস্তু সময়ের সাথে সাথে আমাদের সামনে উন্মচিত হচ্ছে যার ব্যাখ্যা পূর্ববর্তীরা দিতে সক্ষম হননি, কেননা তারা আমাদের যুগকে প্রত্যক্ষ করেননি। কেয়ামতের আগ পর্যন্ত কোরআন ও রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর হাদিস থেকে নতুন নতুন ইনফরমেশন আসতেই থাকবে। আর শেষ জামানার আলোকে এই যুগে বসবাসরত আলেমরা কোরআন হাদিসের অনেক বিষয়বস্তুকে ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করবেন যা যুগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। সেগুলো গ্রহন করার মন মানসিকতা থাকতে হবে। বদ্ধমূল চিন্তাভাবনার অধিকারী হলে শেষ জামানাকে বোঝা যাবে না।

Kaisar Ahmed: অবশ্যই সময়ের সাথে সাথে বা ব্যক্তি বিশেষে কুর’আন নতুন অর্থ বা নতুন কিছু উন্মোচিত করতে পারে। অবশ্যই উক্ত ব্যক্তির কুর’আনের তাফসির সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান থাকতে হবে। তবে মূলনীতি হল- এই নতুন অর্থ থেকে নতুন বিধান আরোপ করা যাবে না। বিধান বা আহকাম আরকান এই সব রাসুল (সা) নির্ধারণ করে গেছেন।

Ashrafuzzaman Tusher: বিধান বা আহকাম আসে আয়াত মুহকামাত থেকে। সেখানে কোন বক্রতা নেই। সেখানে মূলত হারাম হালাল, আদেশ নিষেধ বিষয়ে বলা থাকে। সেখানে নতুন ব্যাখ্যা দেওয়ার তেমন কিছুই নেই। আর আয়াত মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা দিতে পারবেন “রসিখুনা ফিল ইলম”। People who are deeply grounded in knowledge.

Kaisar Ahmed: হুম ঠিক। তবে সমস্যা হল যত গুলো নতুন ফিরকা বা গুমরাহি ইতিহাসে দেখা দিয়েছিল। এই অধিকাংশ দল বা মতের আলেমগণ মুতাশাবিহাত আয়াতের ব্যাখ্যা করে বিধান আরোপ করেছিল আবার এমনকি আকিদাও নির্ধারণ করেছিল যেমন মুতাজিলারা, আর মুহকাম আয়াতের তাহরিফ করেছিল, খারিজিয়ারা।

Ashrafuzzaman Tusher: সূরা আলে ইমরানের ৭ নাম্বার আয়াতের বিষয়ে দুইটি মতবাদ আছে। একটি মত হল আল্লাহ শব্দের উপর থামা। সেক্ষেত্রে অর্থ হয় মুতাশাবিহাতের অর্থ কেবল আল্লাহই জানেন। আরেকটা মত হল “রসিখুনা ফিল ইলম” এর উপর থামা। সেক্ষেত্রে অর্থ দাঁড়ায় এমন, “আয়াত মুতাশাবিহাতের অর্থ জানেন আল্লাহ ও রসিখুনা ফিল ইলম”। আসলে দুইটাই সত্য হয়। “তা’উইল” শব্দ কোরআনে দুইটি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। একটা অর্থ হল মূলনীতি বা যথার্থতা, আরেকটা অর্থ হল ব্যাখ্যা। যদি তা’উইল শব্দের অর্থ মূলনীতি বা যথার্থতা ধরি সেক্ষেত্রে সমস্ত কিছুর মূলনীতি বা যথার্থতা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর তা’উইল অর্থ যদি ধরি ব্যাখ্যা, সেক্ষেত্রে কোরআনের মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা আল্লাহর এলেমদার বান্দারা অবশ্যই জানেন, সাধারণ মানুষরা নয়। এখন ফুলস্টপটা কি আল্লাহ শব্দের উপর হবে না রসিখুনা ফিল ইলম শব্দের উপর হবে, দুইটা ভিউই সাপোর্টেড, দুই সাইডেই নির্ভরযোগ্য বড় বড় আলেমরা রয়েছেন। আর এক শ্রেণীর মানুষ অবশ্যই আয়াত মুতাশাবিহাত নিয়ে বক্রতা করে। উদাহরণ – শিয়ারা তাদের ১২ ইমাম থিওরি, যেটা নাকি তাদের কেন্দ্রীয় বিলিফ সিস্টেম, সেটার প্রমাণ আয়াত মুহকামাত থেকে প্রমাণ করতে পারে না, আয়াত মুতাশাবিহাত থেকে আজেবাজে ব্যাখ্যা দেয়। সেক্ষেত্রে বক্রতা অবলম্বনকারীদের এড়িয়ে চলতে হবে এবং আয়াত মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা যার কাছ থেকে নিচ্ছি সে রসিখুনা ফিল ইলম কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। তাফসীরে ইবনে কাসির দেখুন, সেখানে এই বিষয়টা খুব পরিষ্কারভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

Md Arefin Showrav: কিন্তু কথা হল এই যে, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে আরম্ভ করেছে যাকে বুঝতে, তারা অক্ষম। অথচ এখনো এর তা’বিল আসেনি। এমনিভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের পূর্ববর্তীরা। অতএব, লক্ষ্য করে দেখ, কেমন হয়েছে পরিণতি। (সুরা ইউনুস: ৩৯) ।

Ashrafuzzaman Tusher: সুবহানাল্লাহ…… কোরআনেই বলা আছে, তা’উইল নির্ধারিত সময়ে আসবে। আর এই সহজ জিনিসটাই অনেকে বুঝতে অক্ষম।

আলোচনায় ছিলেনঃ Ashrafuzzaman Tusher, Kaisar Ahmed, Md Arefin Showrav

Advertisements

জেরুজালেমের উত্থান, রিক্ত মদিনা, সোনার পাহাড় ও দাজ্জাল

Narrated Mu’adh ibn Jabal:

The Prophet (ﷺ) said: The flourishing state of Jerusalem will be when Yathrib is in ruins, the ruined state of Yathrib will be when the great war comes, the outbreak of the great war will be at the conquest of Constantinople and the conquest of Constantinople when the Dajjal (Antichrist) comes forth. He (the Prophet) struck his thigh or his shoulder with his hand and said: This is as true as you are here or as you are sitting (meaning Mu’adh ibn Jabal).

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ عُمْرَانُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ خَرَابُ يَثْرِبَ وَخَرَابُ يَثْرِبَ خُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ وَخُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ فَتْحُ قُسْطَنْطِينِيَّةَ وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ خُرُوجُ الدَّجَّالِ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ الَّذِي حَدَّثَ – أَوْ مَنْكِبِهِ – ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَا لَحَقٌّ كَمَا أَنَّكَ هَا هُنَا أَوْ كَمَا أَنَّكَ قَاعِدٌ ‏.‏ يَعْنِي مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ ‏.‏

: Hasan (Al-Albani) حسن (الألباني) حكم :
Reference : Sunan Abi Dawud 4294
In-book reference : Book 39, Hadith 4
English translation : Book 38, Hadith 4281

সুনানে আবু দাউদে রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের একটি হাদিস আছে। যেখানে তিনি বলিয়াছেন, উমরানু বাইতুল মাক্বদিস খারাবু ইয়াথরিব, ওয়া খারাবুল ইয়াথরিব খুরুজুল মালহামাহ, ওয়া খুরুজুল মালহামাহ ফাতহুল ক্বুসতুনতিনিয়া, ওয়া ফাতহুল কুসতুনতিনিয়া খুরুজুদ দাজ্জাল। তিনি বলিতেছেন, যখন জেরুজালেম উদীয়মান হইবে তখন মদীনার বিনাশ হইবে, মদিনার দালানকোঠাগুলিও ধ্বংস হইবে, পরিত্যক্ত হইবে, রিক্ত হইবে। আর যখন মদিনার এরূপ অবস্থা হইবে তখন তোমরা মালহামার জন্য অপেক্ষা করিবে। যাহা হইবে একটি মহাযুদ্ধ। সুতরাং আমরা সেই সময়ের একেবারে নিকটে আসিয়া পড়িয়াছি। মদিনার দালানগুলিকে সৌদিরা ধ্বংস করিতেছে, ইহা মক্কাতেও করা হইতেছে। আজকে পৃথিবীতে মদিনার কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যাইতেছে না। মুসলিম বিশ্বের কোন কিছুতে মদিনা কোন ভূমিকা রাখিতেছে না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কাজেই মদিনার দালানগুলো আজকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় পড়িয়া আছে। সুতরাং মালহামা একেবারে আমাদের নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছে। ইহা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হইয়া যাইতে পারে। ভয়ংকরভাবে বিপথে চালিত তুর্কি সরকার ন্যাটো কর্তৃক পরিবেষ্টিত হইয়া আছে এবং সিরিয়াতে আক্রমণের প্ররোচনা লাভ করিতেছে। যদি তাহারা সিরিয়া আক্রমণ করে তবে তুরস্কে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়া যাইবে। তখন রাশিয়া তুরস্ক আক্রমণ করিতে দ্বিধা করিবে না। যদি রাশিয়া তুরস্ক আক্রমণ করে তবে পূর্ব ইউরোপ তথা বাইজেন্টাইন রাশার সাথে যোগ দিবে। মুসলমানরা তখন ন্যাটোর হাত হইতে কনস্টান্টিনোপলকে মুক্ত করার জন্য রাশিয়াকে সমর্থন দিবে। ইহাই নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম বলিয়াছেন। যখনই রাশিয়ার সাথে ন্যাটোর যুদ্ধ লাগিয়া যাইবে উহাকেই বলা হইবে মহাযুদ্ধ বা মালহামা। কাজেই ইহা অতি সন্নিকটে অবস্থান করিতেছে। সুতরাং সৌদি যা করিতেছে তা দ্বারা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের ভবিষ্যতবাণীই বাস্তবায়িত হইতেছে। তাহারা দালানগুলিকে ধ্বংস করিতেছে। শুধু তাহাই নহে, যখন ইউএস ডলার সম্পূর্ণরূপে ধ্বসিয়া যাইবে, যাহা ইতিমধ্যেই ধ্বসিয়া গিয়াছে কিন্তু কৃত্রিমভাবে বাঁচাইয়া রাখা হইয়াছে, কাজেই ইহার পরিবর্তে অন্য কিছু আসিতে হইবে। ইউএস ডলার ১৯৭৩ সাল হইতে পেট্রডলার হিসাবে কাজ করিতেছে, যাহা আপনারা আমার রিবা কনফারেন্স অব ইসলাম শীর্ষক পূর্বের লেকচারে শুনিয়াছেন, কিভাবে ইউএস ডলার পেট্রডলারে পরিণত হইল। নবীজী ছাল্লালাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম ইহার ভবিষ্যতবাণী করিয়াছিলেন। ইহা আমাদেরই অযোগ্যতা যে আমরা তাহা পড়িতে ও বুঝতে ব্যর্থ হইয়াছি। ইহা আখেরি জামানা সম্পর্কিত হাদীস। তিনি বলিয়াছেন, ফোরাত নদী স্বর্ণের পাহাড় উন্মুক্ত করিয়া দিবে। তিনি ইহা দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন? বিশাল তেলের সাগর স্বর্ণের পাহাড়রূপে কাজ করিবে। যখন তেলের সাগর ডলারকে সমর্থন দিবে, (যেমন ইতিপূর্বে মুদ্রা স্বর্ণ দ্বারা সমর্থন পাইয়া থাকিত, এখন তেল দ্বারা সমর্থন পাইতেছে) কাজেই তেল স্বর্ণের পরিবর্তে ব্যবহৃত হইতে থাকিবে। যখন কিং ফয়সাল প্রতারিত হইলেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়া বসিলেন তেল একমাত্র ইউএস ডলারের বিনিময়ে বিক্রী করা যাইবে। ইহা কি শরীয়ত বিরোধী হয় নাই? ইহা শরীয়ত বিরোধী হইয়াছে, কারণ ইসলাম ফ্রী এবং ফেয়ার ট্রেডের কথা বলিয়া থাকে। আপনি একমাত্র ডলারের বিনিময়ে তেল বিক্রী করিবেন ইহা কি ফ্রী এবং ফেয়ার ট্রেডের কথা হইল? যখন আপনি মুক্তবাজার বা ফ্রী ট্রেডকে ধ্বংস করিবেন তখন ফেয়ার ট্রেডও উপেক্ষিত হইবে। কারণ ইউএস ডলার তো স্বর্ণের স্থলাভিষিক্ত নহে। যখন ১৯৭৩ সালে কিং ফয়সাল এইভাবে পরাস্ত হইলেন, তখন ইউএস ডলার পেট্রডলারে পরিণত হইয়া উড়িতে লাগিল। পরবর্তী ৪০ বৎসরে ইহার মূল্য উঠিতে লাগিল। এখন যায়োনিস্টরা চাহিতেছে ইহাকে নামাইতে। কাজেই ইহার পরিবর্তে তাহাদের অন্য কিছু বাহির করিতে হইবে। আর সেটা হইল ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মানি যা ব্যাংকিং সিস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে। কিন্তু এই নতুন মুদ্রাকেও পেট্রমানি হইতে হইবে যাহা তেল দ্বারা সমর্থন পাইবে। আর এই মুদ্রাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইজরায়েলের একটি পথই খোলা আছে, যদি ইজরায়েল সৌদি আরবের সাথে ঠিক অনুরূপ সম্পর্ক রাখিতে পারে, যাহা পূর্বে ইউনাইটেড স্টেটস রাখিয়াছিল, আর ইহাই আমরা আমাদের চোখের সামনে ঘটিতে দেখিতেছি, যাহা সৌদি ইসরায়েল জোট হিসেবে প্রকাশিত হইয়াছে। যাহা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম বলিয়াছেন, নজদ থেকে শয়তানের শিং প্রকাশিত হইবে। সৌদি শাসক ও তাদের ওহাবী মূল নজদ থেকে আসিয়াছে। সৌদি আজ যে ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছে, ইহাতে আমার প্রতিক্রিয়া হইল, সৌদির সাথে জোট গঠন করা সারা পৃথিবীর মধ্যে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত জোট হিসেবে প্রমাণিত হইবে। আমি আশা করি ইসলামী বিশ্ব সৌদি ইসরায়েল জোটকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করিতে সক্ষম হইবে। 

 

লেকচারঃ The Ruins in Madina and the Antichrist by Imran Hosein, You Tube Link:
https://www.youtube.com/watch?v=y_l1xjXCJ38

শায়খ ইমরান নযর হোসেন 

অনুবাদঃ আবু মুনতাহা

 

সৌদি আরবের গৃহযুদ্ধ খুবই নিকটবর্তী

গত ২২ জুন ২০১৭ সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান তার উত্তরসূরির পদ থেকে নিজের ভাইপো মোহাম্মদ বিন নায়েফকে থেকে সরিয়ে দিয়ে ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে বসিয়েছেন। সৌদি বাদশাহী ফরমানে এ ঘোষণা প্রদান করা হয়। এ ফরমানের মাধ্যমে প্রবল ক্ষমতাশালী বিন নায়েফ ক্ষমতাচ্যুত হলেন। তিনি ভবিষ্যৎ বাদশাহ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে দৃশ্যত বিদায় নিলেন। নতুন যুবরাজ ৩১ বছর বয়সী বিন সালমান উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করবেন। আর ৫৭ বছর বয়সী বিন নায়েফকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর পূর্বে ২০১৫ সালে বাদশাহ সালমান সিংহাসনে বসেই তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্স মুকরিন বিন আব্দুল আজিজ কে একইভাবে অপসারণ করেন।

বর্তমানে সৌদি রাজ পরিবারের অনেক সদস্য বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও তার ছেলে মুহাম্মদ বিন সালমান এর কর্মকান্ডে অসন্তুষ্ট। যার প্রমাণ ২০১৫ সালে একজন সৌদি প্রিন্স জনগনের উদ্দেশ্য খোলা চিঠি পর্যন্ত পাঠিয়েছেন। এছাড়াও ইয়েমেনের ব্যর্থ যুদ্ধ ও ইজরায়েলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তারা অসন্তুষ্ট।

এখন সৌদি রাজ পরিবারের সদস্যরা ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। আর এই ৩টি গ্রুপ তিন জন প্রিন্সকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়েছে। তারা হলেনঃ

১. মুকরিন বিন আব্দুল আজিজ ।
২. মুহাম্মদ বিন নায়েফ।
৩. মুহাম্মদ বিন সালমান।

হযরত ছওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“তোমাদের ধনভাণ্ডারের (রাজত্বের জন্য) নিকট তিনজন বাদশাহ এর সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কিন্তু ধনভাণ্ডার (রাজত্ব) তাদের একজনেরও হস্তগত হবে না। তারপর পূর্ব দিক (খোরাসান) থেকে কতগুলো কালো পতাকাবাকী দল আত্মপ্রকাশ করবে। তারা তোমাদের সাথে এমন ঘোরতর লড়াই লড়বে, যেমনটি কোন সম্প্রদায় তাদের সঙ্গে লড়েনি”।

বর্ণনাকারী বলেন, তারপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন,
“তারপর আল্লাহর খলীফা মাহদির আবির্ভাব ঘটবে। তোমরা যখনই তাঁকে দেখবে, তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদি এজন্য তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি খেয়ে যেতে হয়, তবুও যাবে। সে হবে আল্লাহর খলীফা মাহদি”।
(সুনানে ইবনে মাজা; খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৭; মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১০)

আর এই গৃহযুদ্ধের পর ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমন ঘটবে। তাই সকল সচেতন মুসলমানদের এই বিষয়ে নজর রাখা দরকার।
Writer @ Simul Ahmed, Courtesy @ Arman Khan

কারা বলবে ক্রসের বিজয় হয়েছে?

রোমকরা বলবে ক্রসের বিজয় হয়েছে। কারা ক্রসের বিজয়ের জন্য চেষ্টা করছে? ১০০০ বছর ধরে কারা ক্রুসেড চালাচ্ছে মুসলমানদের উপর। কারা সবসময় ক্রসের কথা বলে? ক্যাথলিকরা। যারা ঈসা আলাইহিস সালামের নাম ভাঙ্গিয়ে খ্রিস্টধর্মকে বিকৃত করে ফেলেছে। এমনকি ক্রস নিয়েও তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। ক্যাথলিকরা ১৫ – ১৬ শতকে ক্রসের সিস্টেম পরিবর্তন করে ফেলছে। ক্যাথলিকরা আগে বাম কাঁধ এরপর ডান কাঁধ স্পর্শ করে যা নাকি অর্থোডক্সদের বিপরীত। ক্রসের বিজয়ের কথা ক্রুসেডাররা বলবে এটাই স্বাভাবিক যে ক্রুসেড তারা ১০০০ বছরের বেশী সময় ধরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে চালাচ্ছে। থিওরিটিকালি তারাও রোমানদের অন্তর্ভুক্ত। পশ্চিম রুম।

অন্যদিকে অর্থডক্সদের সাথে যেহেতু মুসলমানদের জোট হওয়ার কথা তাই ধরে নেয়া যায় একসময় তারা ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান আনবে যে কথা কোরআন থেকে আমরা ধারণা করতে পারি। এবং ঈসা য়ালাইহিস সালাম তাদের ঈমানের বিষয়ে আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দিবেন। আমরা মনে করি যেসব ইহুদি এবং খ্রিস্টান যায়োনিস্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি এবং পূর্ব থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে ক্রুসেড পরিচালনা করেনি তারা ইনশাআল্লাহ ঈমান আনতে সক্ষম হবে। “আর আহলে-কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈসার উপর তাদের মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে।” এই ঘটনাটিকে কুর’আন খুব চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছে। আয়াতটি সামনে অগ্রসর হয়ে ঘোষণা করছে, এই ঈমানের ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তাদের বিরুদ্ধে / তাদের ঈমানের বিষয়ে কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবেন (সূরা নিসা, ৪ঃ১৫৯)

বিপরীতে যায়োনিস্ট রোমান তথা পাশ্চাত্য সমাজ, জাতিসংঘ, ন্যাটো ইত্যাদির বিরুদ্ধে মুসলমানরা যুদ্ধ করবে যখন তারা বলবে (হাজার বছরের যুদ্ধে) ক্রস জয়যুক্ত হয়েছে যে যুদ্ধ তারা মধ্যপ্রাচ্য, আফগানিস্থান ও এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে করেছে। ক্রস ভেঙ্গে ফেলার অর্থ হতে পারে তাদের জোট থেকে কোন মুসলিম দেশ বের হয়ে যাবে। তুরস্ক বা সৌদি আরব হতে পারে। আল্লাহু আ’লাম। এসব কিছু আল্লাহ ভালো জানেন।

পড়ুনঃ রুম পরিচিতি

ইসলামিক ইস্কেটোলজি সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে হলে প্রথমে আমার দলই সঠিক এ ধারণা থেকে নিজেকে একটু খালি করতে হবে। অর্থাৎ নিজেকে শিয়া সুন্নি, হানাফি, মাযহাবী, লা মাযহাবী, তবলীগ, পীরের মুরিদ, জামাত, ইখওয়ান, ক্ব্ওমী ইত্যাদি থেকে নিজেকে একটু ঊর্ধ্বে উঠাতে হবে। অর্থাৎ আমার দেখার ক্ষেত্রটাকে কোন কিছু যেন প্রতিবন্ধকতা বা অবস্টাকল সৃষ্টি করতে না পারে। আমার দলই হক্ব, আর বাকী সব কিছু বাতিল এ প্রবণতা থেকে মুক্ত হতে হবে। আল্লাহর কাছে নিজের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দোয়া করতে হবে। কোরআন ও হাদিসের দোয়াগুলো করা সবচেয়ে ভালো। দাজ্জালের ফেতনা থেকে মুক্ত থাকার দোয়া ও আমলগুলো করতে হবে। নিজের চোখকে হেফাজত করতে হবে। কারণ আমি যদি আমার চোখ দিয়ে খারাপ জিনিস দেখি তাহলে ভালো জিনিস দেখতে পারব না। চোখ অযোগ্য হয়ে পড়বে। আমরা ইসলামিক ইস্কেটোলজির নীতিমালাগুলোর ক্ষেত্রে শায়খ ইমরান নযর হোসেনের নীতিমালা অনুসরণ করি। কারণ সেটা হলো, কোরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে। এর প্রথম মূলনীতি হলো যায়োনিস্ট-দের (অর্থাৎ ইহুদী খ্রিস্টানদের সম্মিলিত জোট, কোরআনের মতে যেসব ইহুদী খ্রিস্টান একে অপরের বন্ধু হয়, আলাদাভাবে ইহুদী বা খ্রিস্টান নয়) সাথে যারা যোগ দিবে, তাদের থেকে ফায়দা নিবে তারাও তাদের অন্তর্ভুক্ত। হতে পারে সেটা কোন মুসলিম দেশ বা মুসলিম সশস্ত্র সংগঠন। হতে পারে সেটা কোন খ্রিস্টান দেশ। এছাড়া ইসলামিক ইস্কেটোলজির আরও কিছু মূল পাঠ আছে। যেমন ইয়াজুজ মাজুজ, দাজ্জাল, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র, খাদ্য ও চিকিৎসা, ব্যাংকিং, স্বপ্ন, এবং নারী। এগুলোর জন্য শায়খ ইমরান নযর হোসেনের বইগুলো পড়া যেতে পারে। ইসলামিক ইস্কেটোলজির উপর কিছু ওয়েবসাইট আছে সেগুলো সার্চ করা যেতে পারে। আর এমন কিছু যদি আমার বিবেক সায় দেয় যা কোরআন সুন্নাহর অনুসরণ করে কিন্তু আমার এতদিনের ধ্যান ধারণার বিপরীত তাহলে নিজের ধ্যান ধারণা বিশ্বাস বদলে কোরআন সুন্নাহর অনুসরণ করার মানসিকতা থাকতে হবে। ইসলামিক ইস্কেটোলজি একটি অসাধারণ বিষয়। যা বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করে। এমনকি সমাজের খুঁটি নাটি বিষয়গুলোও যা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। আল্লাহর অনেক নিদর্শন চোখে পড়ে। ফলে ঈমান সূদৃঢ় হয়। ইসলামিক ইস্কেটলজির মূল বিষয় হচ্ছে কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা আখেরি জামানাকে বোঝা। এগুলো নিয়ে তর্ক বিতর্ক করা নয়।

শেষ যুগের প্রকৃত আলেমদের কেমন হওয়া উচিৎ

শেষ যুগের প্রকৃত আলেমদের শুধু কোরআন হাদিসের পঠন পাঠন ব্যাকরণ তেলাওয়াত সহি শুদ্ধকরণ এসব বিষয়ের জ্ঞান থাকলে হবে না। তাকে এসবের পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সেটা হলো কোরআন হাদিসের আলোকে শেষ যুগ সনাক্তকরণ বা ইসলামিক ইস্কেটোলজি। এছাড়া তার আরও একটি বিষয়ে নূর অর্জন করতে হবে, সেটা হলো আধ্যাত্মিকতা। এর অর্থ বাহ্যিক চক্ষুর পাশাপাশি তার অন্তর্চক্ষু বা অন্তর্জ্ঞান জাগ্রত থাকতে হবে। গতকাল একজন নামকরা ইসলামিক স্কলারের বয়ানে বসার সৌভাগ্য হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ। তার ইসলামিক নলেজ অসাধারণ। মাশাআল্লাহ। তিনি যখন সূরা আল ইমরানের ১৮৫ আয়াতের তাফসীর করছিলেন চোখে পানি এসে যাচ্ছিল। কুললু নাফসিন যায়িকাতুল মাওত। প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। তারপর এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে তিনি নবীজী (সা) এর ওফাতের কথা আলোচনা করলেন। উমর রাযি এর তরবারী উত্তোলন করে ঘোষণা, যে বলবে রাসূল (সা) মৃত তার মাথা আলাদা হয়ে যাবে। একটু পর আবু বকর রাযি এসে মিম্বরে উঠলেন, বললেন, যে আল্লাহর ইবাদত করে সে জানুক আল্লাহ চিরঞ্জীব, আর যে মুহাম্মাদের আরাধনা করে সে জানুক রাসূল (সা) মরে গেছেন। আল্লাহ বলেন, তুমি তো একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নও, প্রতিটি নবী রাসূলই গত হয়েছেন। আল্লাহ বলেন, যদি রাসূল নিহত হয় বা মারা যায় তাহলে কি তোমরা দ্বীন থেকে সরে যাবে? (হ্যাঁ যদি সরে যাও তাহলে আল্লাহর কোন ক্ষতি নেই, ক্ষতি তোমাদের)। এসব কথা যখন শুনছিলাম অন্তর ছারখার হয়ে যাচ্ছিল। আসলে মানবজাতির জন্য এর চেয়ে বড় শক, কষ্ট, দুঃখ আর কি যে রাসূল (সা) মারা গেছেন। সবার শেষ হযরত জজবা সহকারে বলে উঠলেন, রোহিঙ্গাদের কথা, জিহাদের কথা, অতীতের তাতারিদের বর্বরতার কথা। বললেন, অনেকে মনে করছেন, ইমাম মাহদী আসবেন, এতো সহজ নয়, অতীতে মুসলমানরা অনেক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু মাহদী আসেননি। তারপর তিনি বললেন, “এক নতুন ফেতনা শুরু হয়েছে, বায়েজীদ খান পন্নীর অনুসারীরা বলছে ইয়াজুজ মাজুজ নাকি চলে আসছে, এগুলো মানুষের ঈমান নষ্ট করার নামান্তর।” বোঝলাম তাকে ইয়াজুজ মাজুজ, ইস্কেটোলজি বিষয়ে ভুলভাল বোঝানো হয়েছে। কে বায়েজীদ খান পন্নী আর কে ইমরান নযর হোসেন এসব বিষয়েও তিনি ওয়াকিবহাল নন। আগরতলা চৌকির তলা সব এক করে ফেলছেন। এমনকি তিনি শেষ যুগকেও সনাক্ত করতে পারছেন না। অতীতের ফেতনা থেকে বর্তমান ফেতনা যে কত ভয়ংকর এটা তো আজকাল ভুক্তভোগী মাত্রই জানে। আমি জানি না শেষ যুগ সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে শেষ যুগের ফেতনাগুলো কিভাবে শুধু উত্তেজক বক্তব্য দ্বারাই সমাধান করা সম্ভব। তাই বলছিলাম, শেষ যুগের প্রকৃত আলেম, নেতা, রাহবার হতে হলে তাকে বুনিয়াদী ইসলামিক ইলেমের পাশাপাশি ইসলামিক ইস্কেটোলজির ইলেম এবং অন্তর্জাগতিক নূরের অধিকারী হতে হবে।

ইসলামিক ইস্কেটোলজি

আলহামদুলিল্লাহ, গত দুই বছরের বেশী সময় ধরে আমরা ইসলামিক ইস্কেটোলজির আলোকে যেসব গবেষণা করছি আজকে সেসব সঠিক প্রতীয়মান হচ্ছে। ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ। আমরা যখন বিশ্বযুদ্ধের কথা বলেছিলাম তখন মানুষ হাসত। আমরা বাগদাদীর আইএসকে খারিজী এবং ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে ট্রিট করেছিলাম। এটা ওই সময়ের কথা যখন আইএস একটি হক্ব দল হিসেবে এ দেশের আলেম সমাজের কাছ থেকে সমীহ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করে নিয়েছিল। এটা সে সময়ের কথা যখন আইএসের পক্ষে প্রচার করে অনেক আলেম ফেসবুকার সেলিব্রেটি হয়ে গিয়েছিল। আমরা এমন সময়ে ক্যাশলেস সোসাইটির কথা বলেছিলাম যখন আলেমরা স্বর্ণমুদ্রা ও রৌপ্যমুদ্রাকে ভুলে গিয়েছিল। আমরা বলেছিলাম এই আলেমরাই একদিন ক্যাশলেস সিস্টেমকে বৈধতা দিবে। যেভাবে তারা কাগজের মুদ্রাকে বৈধতা দিয়েছিল। বাস্তবেও পৃথিবী সেদিকে যাচ্ছে। হজ্বকে বন্ধ করে দেয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে, বহুবিবাহকে হারাম ঘোষণা করা হবে এবং সমকামিতাকে হালাল করে দেয়া হবে। খাদ্যে ভেজাল মিশ্রিত করে দেয়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সম্পর্কে চরম মূর্খতা বিরাজ করবে তাদের মধ্যে যারা দুনিয়াবি শিক্ষায় অনেক বেশী পণ্ডিত। হ্যাঁ এভাবেই আমরা আন্তর্জাতিক সমাজকে ব্যাখ্যা করেছিলাম। আমাদের এ সফলতার কারণ কি? এর কারণ আমরা চোখে রঙ্গিন গ্লাস দিয়ে পৃথিবীর অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ করিনি। আমাদের সামনে কুরআন হাদিস ছিল, আমাদের সামনে সূরা কাহাফ, সূরা রুম ছিল, আমাদের সামনে ছিল খিজির আলাইহিস সালামের অন্তর্জ্ঞানের নমুনা। আমরা মহানবী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের কনস্টান্টিনোপলের হাদিস ভুলে যাইনি, আমরা ইয়েমেন, সিরিয়া এবং নজদের হাদিসকে বিস্মরণ হইনি। আমরা গাযওয়াতুল হিন্দের ভবিষ্যৎবানী, এমনকি শাহ নেয়ামতউল্লাহ রহ এর কাসিদাকেও বাদ দেইনি। আমরা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলমানদের ইসলামিক পররাষ্ট্রনীতি কেমন হওয়া উচিত তা নিরপেক্ষভাবে বিচার করার চেষ্টা করেছি। অন্যদিকে যারা কুরআন হাদিসকে বাদ দিয়ে ‘চোখে দেখা’ ঘটনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের কাছে এরদোগান বিরাট খলিফা। কারণ সে মুসলমানদের পক্ষে কথা বলে। সৌদি রাজাও মুসলিম উম্মাহর জনদরদী নেতা। হায়, বাস্তবতা কতই না ভিন্ন যা তারা চোখে দেখতে পায় না, কিন্তু কুরআনে স্পষ্ট বর্ণিত আছে। যারা ইহুদী খ্রিস্টানদের বলয়ে থাকে তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। বাস্তবতা এটাই যে, কন্সটান্টিনোপল মুসলমানরা বিজয় করবে আর তা এরদোগান করবে না। ইয়েমেন থেকে একটি আগুন বের হবে আর তা অপরাধীদেরকে হাশরের মাঠে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। সম্ভবত সে আগুনের সলতেতে আগুন প্রজ্জলিত করা হয়ে গেছে আর তা করেছে সৌদি ফাইটার বিমানগুলো। অনেকে আবার মুহাম্মাদ ফতেহ কর্তৃক কনস্টান্টিনোপল বিজয়কে হাদিসে বর্ণিত বিজয়ের সাথে মিলিয়ে ফেলেন। কিন্তু আফসোস, কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের সাথে দাজ্জাল বের হওয়ার সম্পর্কযুক্ত হাদিসকে ভুলে যান। কাজেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতিকে যারা সাদা চোখে দেখেন, অথবা চোখে রঙ্গিন চশমা দিয়ে ইসলামিক সেন্টিমেন্টাল বক্তব্য রাখেন তাদের সাথে আমাদের গবেষণার পার্থক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। শেষ যুগ বুঝতে হলে ইয়াজুজ মাজুজ ও দাজ্জাল বুঝতে হবে। কারণ তারা শেষ যুগের মানুষদের প্রধান দুই শত্রু। এ শত্রুর প্রকৃতি কেমন তা জানা বোঝা জরুরি। কুরআন হাদিসের উপর পরিপূর্ণ ঈমান আনা ছাড়া এসব জ্ঞান আত্মস্থ করা সভব নয়। অমুক হুজুরের বয়ান, তমুক পত্রিকার এডিটোরিয়াল / নিউজ, অমুক সেলিব্রেটির পোস্ট দেখে যারা সিদ্ধান্ত নেন তাদের কাছে অনুরোধ আপনার জ্ঞানকে কুরআন হাদিসের আলোকে সঠিকভাবে যাচাই করুন। অন্যথায় এরদোগানের পক্ষ হয়ে বা বাংলাদেশ মায়ানমারের যুদ্ধের উস্কানি দিয়ে আমাদের পোস্টে কমেন্ট পাস করবেন না। আর সাথে সাথে আমরা আল্লাহর কাছে নূরওয়ালা জ্ঞান প্রত্যাশা করি যা তিনি তার প্রিয় বান্দাদেরই দিয়ে থাকেন এবং আমাদের বক্তব্য, বিচার বিশ্লেষণ ও কাজের ভুল ত্রুটি থেকে একনিষ্ঠভাবে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।

#ইসলামিক_ইস্কেটোলজি , #আন্তর্জাতিক_রাজনীতি