ইসলামিক ইস্কেটোলজি সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে হলে প্রথমে আমার দলই সঠিক এ ধারণা থেকে নিজেকে একটু খালি করতে হবে। অর্থাৎ নিজেকে শিয়া সুন্নি, হানাফি, মাযহাবী, লা মাযহাবী, তবলীগ, পীরের মুরিদ, জামাত, ইখওয়ান, ক্ব্ওমী ইত্যাদি থেকে নিজেকে একটু ঊর্ধ্বে উঠাতে হবে। অর্থাৎ আমার দেখার ক্ষেত্রটাকে কোন কিছু যেন প্রতিবন্ধকতা বা অবস্টাকল সৃষ্টি করতে না পারে। আমার দলই হক্ব, আর বাকী সব কিছু বাতিল এ প্রবণতা থেকে মুক্ত হতে হবে। আল্লাহর কাছে নিজের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দোয়া করতে হবে। কোরআন ও হাদিসের দোয়াগুলো করা সবচেয়ে ভালো। দাজ্জালের ফেতনা থেকে মুক্ত থাকার দোয়া ও আমলগুলো করতে হবে। নিজের চোখকে হেফাজত করতে হবে। কারণ আমি যদি আমার চোখ দিয়ে খারাপ জিনিস দেখি তাহলে ভালো জিনিস দেখতে পারব না। চোখ অযোগ্য হয়ে পড়বে। আমরা ইসলামিক ইস্কেটোলজির নীতিমালাগুলোর ক্ষেত্রে শায়খ ইমরান নযর হোসেনের নীতিমালা অনুসরণ করি। কারণ সেটা হলো, কোরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে। এর প্রথম মূলনীতি হলো যায়োনিস্ট-দের (অর্থাৎ ইহুদী খ্রিস্টানদের সম্মিলিত জোট, কোরআনের মতে যেসব ইহুদী খ্রিস্টান একে অপরের বন্ধু হয়, আলাদাভাবে ইহুদী বা খ্রিস্টান নয়) সাথে যারা যোগ দিবে, তাদের থেকে ফায়দা নিবে তারাও তাদের অন্তর্ভুক্ত। হতে পারে সেটা কোন মুসলিম দেশ বা মুসলিম সশস্ত্র সংগঠন। হতে পারে সেটা কোন খ্রিস্টান দেশ। এছাড়া ইসলামিক ইস্কেটোলজির আরও কিছু মূল পাঠ আছে। যেমন ইয়াজুজ মাজুজ, দাজ্জাল, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র, খাদ্য ও চিকিৎসা, ব্যাংকিং, স্বপ্ন, এবং নারী। এগুলোর জন্য শায়খ ইমরান নযর হোসেনের বইগুলো পড়া যেতে পারে। ইসলামিক ইস্কেটোলজির উপর কিছু ওয়েবসাইট আছে সেগুলো সার্চ করা যেতে পারে। আর এমন কিছু যদি আমার বিবেক সায় দেয় যা কোরআন সুন্নাহর অনুসরণ করে কিন্তু আমার এতদিনের ধ্যান ধারণার বিপরীত তাহলে নিজের ধ্যান ধারণা বিশ্বাস বদলে কোরআন সুন্নাহর অনুসরণ করার মানসিকতা থাকতে হবে। ইসলামিক ইস্কেটোলজি একটি অসাধারণ বিষয়। যা বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করে। এমনকি সমাজের খুঁটি নাটি বিষয়গুলোও যা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। আল্লাহর অনেক নিদর্শন চোখে পড়ে। ফলে ঈমান সূদৃঢ় হয়। ইসলামিক ইস্কেটলজির মূল বিষয় হচ্ছে কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা আখেরি জামানাকে বোঝা। এগুলো নিয়ে তর্ক বিতর্ক করা নয়।

Advertisements

শেষ যুগের প্রকৃত আলেমদের কেমন হওয়া উচিৎ

শেষ যুগের প্রকৃত আলেমদের শুধু কোরআন হাদিসের পঠন পাঠন ব্যাকরণ তেলাওয়াত সহি শুদ্ধকরণ এসব বিষয়ের জ্ঞান থাকলে হবে না। তাকে এসবের পাশাপাশি আরেকটি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সেটা হলো কোরআন হাদিসের আলোকে শেষ যুগ সনাক্তকরণ বা ইসলামিক ইস্কেটোলজি। এছাড়া তার আরও একটি বিষয়ে নূর অর্জন করতে হবে, সেটা হলো আধ্যাত্মিকতা। এর অর্থ বাহ্যিক চক্ষুর পাশাপাশি তার অন্তর্চক্ষু বা অন্তর্জ্ঞান জাগ্রত থাকতে হবে। গতকাল একজন নামকরা ইসলামিক স্কলারের বয়ানে বসার সৌভাগ্য হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ। তার ইসলামিক নলেজ অসাধারণ। মাশাআল্লাহ। তিনি যখন সূরা আল ইমরানের ১৮৫ আয়াতের তাফসীর করছিলেন চোখে পানি এসে যাচ্ছিল। কুললু নাফসিন যায়িকাতুল মাওত। প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। তারপর এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে তিনি নবীজী (সা) এর ওফাতের কথা আলোচনা করলেন। উমর রাযি এর তরবারী উত্তোলন করে ঘোষণা, যে বলবে রাসূল (সা) মৃত তার মাথা আলাদা হয়ে যাবে। একটু পর আবু বকর রাযি এসে মিম্বরে উঠলেন, বললেন, যে আল্লাহর ইবাদত করে সে জানুক আল্লাহ চিরঞ্জীব, আর যে মুহাম্মাদের আরাধনা করে সে জানুক রাসূল (সা) মরে গেছেন। আল্লাহ বলেন, তুমি তো একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নও, প্রতিটি নবী রাসূলই গত হয়েছেন। আল্লাহ বলেন, যদি রাসূল নিহত হয় বা মারা যায় তাহলে কি তোমরা দ্বীন থেকে সরে যাবে? (হ্যাঁ যদি সরে যাও তাহলে আল্লাহর কোন ক্ষতি নেই, ক্ষতি তোমাদের)। এসব কথা যখন শুনছিলাম অন্তর ছারখার হয়ে যাচ্ছিল। আসলে মানবজাতির জন্য এর চেয়ে বড় শক, কষ্ট, দুঃখ আর কি যে রাসূল (সা) মারা গেছেন। সবার শেষ হযরত জজবা সহকারে বলে উঠলেন, রোহিঙ্গাদের কথা, জিহাদের কথা, অতীতের তাতারিদের বর্বরতার কথা। বললেন, অনেকে মনে করছেন, ইমাম মাহদী আসবেন, এতো সহজ নয়, অতীতে মুসলমানরা অনেক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু মাহদী আসেননি। তারপর তিনি বললেন, “এক নতুন ফেতনা শুরু হয়েছে, বায়েজীদ খান পন্নীর অনুসারীরা বলছে ইয়াজুজ মাজুজ নাকি চলে আসছে, এগুলো মানুষের ঈমান নষ্ট করার নামান্তর।” বোঝলাম তাকে ইয়াজুজ মাজুজ, ইস্কেটোলজি বিষয়ে ভুলভাল বোঝানো হয়েছে। কে বায়েজীদ খান পন্নী আর কে ইমরান নযর হোসেন এসব বিষয়েও তিনি ওয়াকিবহাল নন। আগরতলা চৌকির তলা সব এক করে ফেলছেন। এমনকি তিনি শেষ যুগকেও সনাক্ত করতে পারছেন না। অতীতের ফেতনা থেকে বর্তমান ফেতনা যে কত ভয়ংকর এটা তো আজকাল ভুক্তভোগী মাত্রই জানে। আমি জানি না শেষ যুগ সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে শেষ যুগের ফেতনাগুলো কিভাবে শুধু উত্তেজক বক্তব্য দ্বারাই সমাধান করা সম্ভব। তাই বলছিলাম, শেষ যুগের প্রকৃত আলেম, নেতা, রাহবার হতে হলে তাকে বুনিয়াদী ইসলামিক ইলেমের পাশাপাশি ইসলামিক ইস্কেটোলজির ইলেম এবং অন্তর্জাগতিক নূরের অধিকারী হতে হবে।

ইসলামিক ইস্কেটোলজি

আলহামদুলিল্লাহ, গত দুই বছরের বেশী সময় ধরে আমরা ইসলামিক ইস্কেটোলজির আলোকে যেসব গবেষণা করছি আজকে সেসব সঠিক প্রতীয়মান হচ্ছে। ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ। আমরা যখন বিশ্বযুদ্ধের কথা বলেছিলাম তখন মানুষ হাসত। আমরা বাগদাদীর আইএসকে খারিজী এবং ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে ট্রিট করেছিলাম। এটা ওই সময়ের কথা যখন আইএস একটি হক্ব দল হিসেবে এ দেশের আলেম সমাজের কাছ থেকে সমীহ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করে নিয়েছিল। এটা সে সময়ের কথা যখন আইএসের পক্ষে প্রচার করে অনেক আলেম ফেসবুকার সেলিব্রেটি হয়ে গিয়েছিল। আমরা এমন সময়ে ক্যাশলেস সোসাইটির কথা বলেছিলাম যখন আলেমরা স্বর্ণমুদ্রা ও রৌপ্যমুদ্রাকে ভুলে গিয়েছিল। আমরা বলেছিলাম এই আলেমরাই একদিন ক্যাশলেস সিস্টেমকে বৈধতা দিবে। যেভাবে তারা কাগজের মুদ্রাকে বৈধতা দিয়েছিল। বাস্তবেও পৃথিবী সেদিকে যাচ্ছে। হজ্বকে বন্ধ করে দেয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে, বহুবিবাহকে হারাম ঘোষণা করা হবে এবং সমকামিতাকে হালাল করে দেয়া হবে। খাদ্যে ভেজাল মিশ্রিত করে দেয়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সম্পর্কে চরম মূর্খতা বিরাজ করবে তাদের মধ্যে যারা দুনিয়াবি শিক্ষায় অনেক বেশী পণ্ডিত। হ্যাঁ এভাবেই আমরা আন্তর্জাতিক সমাজকে ব্যাখ্যা করেছিলাম। আমাদের এ সফলতার কারণ কি? এর কারণ আমরা চোখে রঙ্গিন গ্লাস দিয়ে পৃথিবীর অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ করিনি। আমাদের সামনে কুরআন হাদিস ছিল, আমাদের সামনে সূরা কাহাফ, সূরা রুম ছিল, আমাদের সামনে ছিল খিজির আলাইহিস সালামের অন্তর্জ্ঞানের নমুনা। আমরা মহানবী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের কনস্টান্টিনোপলের হাদিস ভুলে যাইনি, আমরা ইয়েমেন, সিরিয়া এবং নজদের হাদিসকে বিস্মরণ হইনি। আমরা গাযওয়াতুল হিন্দের ভবিষ্যৎবানী, এমনকি শাহ নেয়ামতউল্লাহ রহ এর কাসিদাকেও বাদ দেইনি। আমরা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলমানদের ইসলামিক পররাষ্ট্রনীতি কেমন হওয়া উচিত তা নিরপেক্ষভাবে বিচার করার চেষ্টা করেছি। অন্যদিকে যারা কুরআন হাদিসকে বাদ দিয়ে ‘চোখে দেখা’ ঘটনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের কাছে এরদোগান বিরাট খলিফা। কারণ সে মুসলমানদের পক্ষে কথা বলে। সৌদি রাজাও মুসলিম উম্মাহর জনদরদী নেতা। হায়, বাস্তবতা কতই না ভিন্ন যা তারা চোখে দেখতে পায় না, কিন্তু কুরআনে স্পষ্ট বর্ণিত আছে। যারা ইহুদী খ্রিস্টানদের বলয়ে থাকে তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। বাস্তবতা এটাই যে, কন্সটান্টিনোপল মুসলমানরা বিজয় করবে আর তা এরদোগান করবে না। ইয়েমেন থেকে একটি আগুন বের হবে আর তা অপরাধীদেরকে হাশরের মাঠে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। সম্ভবত সে আগুনের সলতেতে আগুন প্রজ্জলিত করা হয়ে গেছে আর তা করেছে সৌদি ফাইটার বিমানগুলো। অনেকে আবার মুহাম্মাদ ফতেহ কর্তৃক কনস্টান্টিনোপল বিজয়কে হাদিসে বর্ণিত বিজয়ের সাথে মিলিয়ে ফেলেন। কিন্তু আফসোস, কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের সাথে দাজ্জাল বের হওয়ার সম্পর্কযুক্ত হাদিসকে ভুলে যান। কাজেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতিকে যারা সাদা চোখে দেখেন, অথবা চোখে রঙ্গিন চশমা দিয়ে ইসলামিক সেন্টিমেন্টাল বক্তব্য রাখেন তাদের সাথে আমাদের গবেষণার পার্থক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। শেষ যুগ বুঝতে হলে ইয়াজুজ মাজুজ ও দাজ্জাল বুঝতে হবে। কারণ তারা শেষ যুগের মানুষদের প্রধান দুই শত্রু। এ শত্রুর প্রকৃতি কেমন তা জানা বোঝা জরুরি। কুরআন হাদিসের উপর পরিপূর্ণ ঈমান আনা ছাড়া এসব জ্ঞান আত্মস্থ করা সভব নয়। অমুক হুজুরের বয়ান, তমুক পত্রিকার এডিটোরিয়াল / নিউজ, অমুক সেলিব্রেটির পোস্ট দেখে যারা সিদ্ধান্ত নেন তাদের কাছে অনুরোধ আপনার জ্ঞানকে কুরআন হাদিসের আলোকে সঠিকভাবে যাচাই করুন। অন্যথায় এরদোগানের পক্ষ হয়ে বা বাংলাদেশ মায়ানমারের যুদ্ধের উস্কানি দিয়ে আমাদের পোস্টে কমেন্ট পাস করবেন না। আর সাথে সাথে আমরা আল্লাহর কাছে নূরওয়ালা জ্ঞান প্রত্যাশা করি যা তিনি তার প্রিয় বান্দাদেরই দিয়ে থাকেন এবং আমাদের বক্তব্য, বিচার বিশ্লেষণ ও কাজের ভুল ত্রুটি থেকে একনিষ্ঠভাবে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।

#ইসলামিক_ইস্কেটোলজি , #আন্তর্জাতিক_রাজনীতি

ইসলামিক ইস্কেটোলজির জ্ঞান

আলহামদুলিল্লাহ্‌। যা শেখার শিখেছি। গ্যালিলী হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়া, সূর্য পশ্চিম দিকে উঠা, ইয়াজুজ মাজুজের পানি পান করা, তাদের প্রতিটি উচ্চস্তর থেকে নেমে আসা, বহুবিবাহ উঠিয়ে দিয়ে সমকামিতা প্রমোট করা, আমেরিকান ভাড়াটে জিহাদী উত্থান, ইসলামী পররাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি অনেক অনেক প্রশ্নের জবাব পেয়েছি। আমার কাছে যা পৌঁছেছে (ইসলামিক ইস্কেটোলজি) তা নিশ্চয়ই সবার কাছেই পৌঁছেছে। অর্থাৎ যাদের কাছে পৌছানো দরকার। কেউই বাদ যায়নি। আমি বলছি না ইসলামিক ইস্কেটোলজির জ্ঞান প্রতিটি মানুষের কাছেই পৌছাতে হবে। তবে যারা ‘কনসার্নড পার্সন’ যেমন যারা দ্বীন নিয়ে ভাবেন, অর্থাৎ চিন্তাশীল তারা নিশ্চয়ই কম বেশী এ বিষয়ে জেনেছেন। অতঃপর কেউ গ্রহণ করেছে, আর কেউ প্রত্যাখ্যান করেছে। যে প্রত্যাখ্যান করেছে তাকে আর বুঝানোর কিছু নেই। আর যে গ্রহণ করেছে তাকেও আর তেমন বুঝানোর কিছু নেই। এরকম অবস্থা কিছুকাল চলবে যতক্ষণ না বাস্তব অবস্থা সবার সামনে উপস্থিত হয়।

চুল্লী উথলে উঠা – কুরআনের একটি রূপক বর্ণনা

বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়াকে বলা হয়েছে চুলা থেকে পানি উথলে উঠা। অসাধারণ একটি রূপক। নূহ (আঃ) কে নৌকা তৈরীর প্রত্যাদেশ দেয়ার পর বলা হয়েছে, অতঃপর যখন আমার আদেশ আসবে এবং চুলা উথলে উঠবে তখন প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া উঠিয়ে নেবে এবং তোমার পরিবার পরিজনকেও, তবে তারা ব্যতীত যাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে …। এ ধরনের রূপক একটি যুদ্ধকৌশলও বটে। সরাসরি না বলে রূপকের অন্তরালে বলা। আবার কুরআন ও হাদীসের রূপক ব্যাখ্যার প্রতিও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

“অতঃপর আমি তার কাছে আদেশ প্রেরণ করলাম যে, তুমি আমার দৃষ্টির সামনে এবং আমার নির্দেশে নৌকা তৈরী কর। এরপর যখন আমার আদেশ আসে এবং চুল্লী উথলে উঠবে (فَارَ التَّنُّورُ), তখন নৌকায় তুলে নাও, ………” (সূরা মু’মিনূন, ২৩ঃ২৭)

“অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং চুল্লী উথলে উঠল (فَارَ التَّنُّورُ), আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বেই হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদ দিয়ে, আপনার পরিজনবর্গ ও সকল ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল।” (সূরা সূরা হুদ, ১১ঃ৪০)

আবারও চুল্লী উথলে উঠছে, এবারের চুল্লী হচ্ছে বিশ্বযুদ্ধ। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তা বিশ্বাস করে নূহ য়ালাইহিস সালামের নৌকায় আশ্রয় নিচ্ছে, অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারে শেষ যুগের চুল্লী থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে।

নক্ষত্র প্রদীপ

আমার মনে পড়ে, আমি পাকিস্তানের আলিমীয়া ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলাম। নামাজের পর আমি মসজিদের বাইরে আমার শিক্ষক মাওলানা আনসারি (রহ.) কে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম। প্রশ্নটি হলো, “মাওলানা, আল্লাহপাক বলেন যে তিনি আল কোরান মুত্তাকীদের পথপ্রদর্শন করতে পাঠিয়েছেন, তাহলে বাকীদের ব্যপারে কী?”

তিনি বললেন, “যখন আল্লাহপাক পবিত্র কোরান নাযিল করলেন, তিনি এটি সবার পথপ্রদর্শনের জন্যই নাযিল করেন। কিন্তু যখন তুমি আকাশের দিকে তাকাবে, তুমি দেখবে আকাশে নক্ষত্রমালা রয়েছে। যখন সাধারণ লোক আকাশের নক্ষত্রমালা দেখে, এটা তাকে আনন্দ দেয়। কারণ এটি খুব সুন্দর। কিন্তু যদি তুমি সেই নাবিক হও যে সমুদ্রে জাহাজ চালায়, তাহলে তুমি শিখবে যে কীভাবে প্রত্যেকটি নক্ষত্র পরষ্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং তার দ্বারা তুমি নির্ণয় করতে পারবে যে কোন দিকে তোমাকে যেতে হবে। পবিত্র কোরানের আয়াতগুলিও তেমনই। আল্লাহপাক বলেন, ‘আর আল্লাহ নিম্ন আকাশকে প্রদীপসমূহ দ্বারা সুসজ্জিত করেছেন।’ তিনি নক্ষত্রমালাকে প্রদীপ বলে অভিহিত করেছেন। আর প্রদীপ আলো দান করে। একইভাবে, পবিত্র কোরানের আয়াতসমূহও। সেগুলো প্রদীপের মত। সেগুলো আলো প্রদান করে এবং সেগুলো পরষ্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।”
—- শায়খ ইমরান হোসেইন

@ Md Arefin Showrav

স্বপ্ন

স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে আসতে পারে। আপনি আপনার স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ (সা) কে দেখতে পারেন। আপনার হৃদয় বলছে আপনি যাকে দেখেছেন তিনিই আখেরী পয়গম্বর রাসুলুল্লাহ (সা)। তাহলে আপনি মিথ্যে কিছু দেখেননি। আপনি স্বপ্নে আপনার মৃত বাবা-মাকে দেখতে পারেন, ফেরেশতাগণকে দেখতে পারেন, জান্নাত-জাহান্নাম দেখতে পারেন। তাহলে বুঝতে হবে এই স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে। তখন আপনি ঘুম থেকে উঠে দুই রাকাত শুকরিয়া নামায আদায় করবেন।

কিন্তু স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকেও আসে। সেই স্বপ্ন কারো কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। কারণ যদি আপনি সেই স্বপ্ন প্রকাশ করেন, তাহলে ধীরে ধীরে তা আপনার উপর ভর করবে। আল্লাহপাক আপনাকে অনেক সুন্দর চরিত্রের স্ত্রী দিয়েছেন। সেই স্ত্রী সব সময় আপনার খেয়াল রাখেন। আপনাকে নিজের থেকেও বেশী ভালবাসেন। কিন্তু একদিন আপনি ঘুমালেন আর স্বপ্নে দেখলেন, আপনার স্ত্রী অন্য একজন সুদর্শন যুবকের হাত ধরে হাঁটছে। ঘুম ভাঙার পর আপনি আপনার স্ত্রীর উপর ভীষণ রাগান্বিত হলেন। তাকে অনেক কথা শোনালেন। পরদিন আপনি ঘুমালেন আর স্বপ্নে দেখলেন, ওহ মাই গড! আপনার স্ত্রী সেই যুবকের বাহুতে! আপনি আতঙ্কিত অবস্থায় ঘুম থেকে উঠলেন। রাগে আপনার মুখ লাল হয়ে গেছে। বুঝতে হবে, শয়তানের তরফ থেকে আসা স্বপ্ন আপনার উপর ভর করেছে।

একজন সাহাবী তড়িঘড়ি করে রাসুলুল্লাহ (সা) এর কাছে আসলেন এবং বললেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি স্বপ্নে দেখেছি কয়েকজন ছেলে বল খেলছে। আর সেই বলটা হলো আমার মাথা।” রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, “এই স্বপ্ন শয়তান তোমাকে দেখিয়েছে। কারণ সে তোমার জীবনকে দুর্বিষহ করতে চায়।”

আবার স্বপ্ন হৃদয় থেকেও আসে। একজন পিতৃহীন গরীব শিশু তার বাসার জানালা দিয়ে দেখল, আইসক্রিমওয়ালা এসেছে আর এলাকার সব শিশুরা আইসক্রিম কিনতে ছুটে যাচ্ছে। সে তার মা’র কাছে আইসক্রিম কেনার টাকা চাইল। মা তাকে টাকা নেই বলে ধমক দিল। সে জানালা দিয়ে দেখল, সব শিশুরা আইসক্রিম খাচ্ছে। সে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেল। স্বপ্নে দেখল, মা তাকে আইসক্রিম কেনার টাকা দিয়েছে। সে টাকা নিয়ে দৌড়ে গেল আইসক্রিমওয়ালার কাছে। আইসক্রিম খেতে খেতে তার নাক-মুখ-জামায় আইসক্রিম লেগে গেছে। তারপর যখন সে ঘুম থেকে উঠল, তার হৃদয়ে একধরণের তৃপ্তি কাজ করছে। বুঝতে হবে, এই স্বপ্ন এসেছে হৃদয় থেকে।

একজন এতিম ছেলে তার দাদীর সাথে থাকে। দাদীর এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে তার হাত। দাদীর হাতের সুস্বাদু খাবার তার খুব প্রিয়। দাদীর সাথে গল্প করে তার দারুন সময় কাটে। এভাবেই সে দাদীর সঙ্গ পেয়ে বড় হয়েছে। কিন্তু এখন দাদী একটি হুইল চেয়ারে সারাক্ষণ অর্ধমৃতের মত পড়ে থাকে। কোন কথা বলে না। চলাচল করে না। সেই নাতী একদিন স্বপ্নে দেখল, তার দাদী আগের মত হয়ে গেছে। গল্প করছে, রান্না করছে, তাকে এটা-ওটা উপদেশ দিচ্ছে। এটি দেখে তার মন আনন্দে ভরে গেল। বুঝতে হবে, এই স্বপ্ন হৃদয় থেকে এসেছে।

কিন্তু মাঝে মাঝে স্বপ্ন আসে সাবধানবাণী হিসেবে। তিনি একজন বড় মাপের হুজুর। দেশ বিদেশ থেকে লোকেরা আসে তার সাথে একবার হাত মেলানোর জন্য। তার কোরানপাঠ শুনে শ্রোতারা মুগ্ধ হন। তার বক্তব্য শুনতে লাখো লাখো মানুষের ঢল নামে। তিনি নিশ্চিত যে, জান্নাতে আর কেউ যাক না যাক, তিনি যাবেনই। একদিন তিনি ঘুমালেন আর স্বপ্নে নিজেকে টয়লেটে আবিষ্কার করলেন। বুঝতে হবে, এই স্বপ্নটা সাবধানবাণী, ওয়াক আপ কল।

কিন্তু স্বপ্ন কখনও কখনও আসে ওহী হয়ে, ভবিষ্যতবাণী হয়ে। আপনি স্বপ্নে দেখলেন নিউক্লিয়ার বোমায় শহর জ্বলছে আর আকাশ মাশরুম ক্লাউডে ঢেকে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। কোন সূর্যালোক সেই অন্ধকারকে ছিদ্র করে বের হয়ে আসতে পারছে না। চারিদিকে লাশ আর ধ্বংসস্তূপ। বুঝতে হবে, এই স্বপ্ন নিউক্লিয়ার বিশ্বযুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী।
.
—- শেখ ইমরান হোসেন।
শোকরিয়া @ Md Arefin Showrav