কিতাবুল মুনীর

কুরআন হচ্ছে কী। মানে চাবি। কুরআন দিয়ে আমাকে বর্তমান জগতের সব রহস্যের তালা খুলতে হবে। শুধু চাবি থাকলে কোন লাভ হবে না। সেই চাবি দিয়ে তালা খুলতে জানা চাই।

কুরআনকে বলা হয়েছে এমন একটি বই যা অন্ধকারে আলোক সম্পাতকারী বা কিতাবুল মুনীর বা বুক অফ এনলাইটনমেন্ট। এই আলো অন্ধকারে পথ দেখায়। আজকের অন্ধকার পৃথিবীর জঙ্গলে সঠিকভাবে পথ চলার আলো কুরআন। অন্ধকার জঙ্গলের রহস্য ভেদ করে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছার জন্য সঠিক চাবি কুরআন।

আমাদের এই রহস্যময় ও নিষ্ঠুর পৃথিবীর প্রতিটা রহস্যের গোড়ায় কুরআনের আলো ফেলতে হবে। কাজটি সহজ নয়। এর জন্য নির্দিষ্ট মেথড আছে। যা শিক্ষা করতে হয়।

শুধু আলো দিয়েই যেমন পথ চলা যায় না। পথ চলার জন্য দরকার চোখ। কুরআনে এই চোখের কথা বলা হয়েছে আর তা হলো সেটা আমাদের দৃশ্যমান সাধারণ চোখ নয়, বরং যে চোখ মানুষের বক্ষদেশের গভীরে থেকে। কাজেই সেই ভেতরের চোখ আছে এমন গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের পক্ষেই কুরআনের আলো পথ দেখাতে পারে। Truly it is not their eyes that are blind, but their hearts which are in their breasts. চোখ তো অন্ধ হয় না, অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয়। (سورة الحج, Al-Hajj, Chapter #22, Verse #46)

এজন্যই কুরআনের অনেক তিলাওয়াতকারী মজুদ থাকা সত্ত্বেও মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপকসংখ্যক লোক ইয়াজুজ মাজুজ ও দাজ্জালের ফেতনার অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে।

মানুষ যাকে মনে করছে মানবতার ও উন্নয়নের চূড়ান্ত শিখর কুরআনের আলোয় একজন অন্তর্চক্ষুওয়ালা দৃষ্টিসম্পন্ন লোকের কাছে তা ঘনঘোর অন্ধকার। এজন্য তিনি পৃথিবীকে যেভাবে দেখবেন ও অন্যরা যেভাবে দেখবে তাতে পার্থক্য থাকবে।

এভাবে একজন অন্তর্দৃষ্টিওয়ালা আলেম অবশ্যই নিজেকে ফেতনা থেকে দূরে রাখবেন, কারণ তিনি প্রকৃত ফেতনাকে চিনেন। আর একজন সাধারণ কুরআন নাড়াচাড়া করা ‘আল্লামা’ ফেতনার মধ্যে ঝাপ দিবেন, কারণ তিনি ফেতনাকে আপন মনে করেন। আর তার সতর্ককারীদের এড়িয়ে চলেন। তারা এখনো মিলাদ কিয়াম, আমীন, হাত বাঁধা ইত্যাদি ৩০০ বৎসরের অসমাপ্ত বহসের আপডেট দিতে থাকবেন।

হুদহুদ মেইল ওয়েবসাইটের নীতি

(১) কুরআন সুন্নাহর বাহিরে মুসলমানদের কোন দল নেই।

(২) আমরা শিয়া সুন্নি হানাফি ক্বওমী, দেওবন্দি বেরলভি মাযহাবি, লা মাযহাবি, তবলিগী বা আরো যত নামের যত সাইনবোর্ড আছে সব সাইনবোর্ড থেকে মুক্ত। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

(৩) আইএস, আল কায়েদা, বখতিয়ারের ঘোড়া বা কোন জিহাদি নামের সংগঠনের কোন প্রশ্রয় এখানে নেই। দেখামাত্র আনফ্রেন্ড ও ব্লক।

(৪) শেষ যুগ বিদ্যা বা ইসলামিক ইস্কেটোলজি বিষয়ে আমাদের বিশেষ আগ্রহ। এ বিষয়ে আমরা শায়খ ইমরান নযর হোসেনের লেখা ৫ টি বই দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত।

(৫) আমরা মনে করি শেষ যুগ চলছে। ইয়াজ্যুজ মাজ্যুজের দেয়াল ফুটো হয়েছে। সে দেয়াল মাটির সাথে মিশে গেছে। ইয়্যাজুজ মাজ্যুজ বের হয়েছে।

(৬) আমরা মনে করি সভ্যতার সূর্য যা আগে প্রাচ্য থেকে উঠত, তা এখন পশ্চিমাকাশ থেকে প্রতিদিন উঠছে। ফোরাত নদীর স্বর্ণকে আমরা পেট্রোডলার মনে করি। মনে করি, ফোরাত নদীর স্বর্ণ নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

(৭) আমরা মনে করি মুসলমানদের রাজনৈতিক বন্ধু ও শত্রু আল্লাহ্‌ কুরআনে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ইহুদি খ্রিস্টান চক্র তথা আমেরিকা ইউরোপ তুরস্ক সৌদি ইসরাইল জোট তথা যায়োনিস্টরাই মুসলমানদের শত্রু। যারা এ চক্রের সাথে বন্ধুত্ব করবে তারা তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে। (এ অনুসিদ্ধান্তের ভিত্তি সূরা আল মায়েদার ৫১ নং আয়াত)

(৮) আমরা মনে করি মুসলমানদের রাজনৈতিক বন্ধু অর্থোডক্স খ্রিস্টান তথা পূর্ব রোম তথা রাশিয়া। এ অনুসিদ্ধান্তের ভিত্তি সূরা আল মায়েদার ৮২ নং আয়াত। এবং সূর রূমের ২ থেকে ৪ নং আয়াত। আল্লাহ্‌ বলেন,

“রোমকরা পরাজিত হইয়াছে। অতি শীঘ্রই তাহারা (জাযিরাতুল আরবের) নিকটবর্তী অঞ্চলে বিজয়ী হইবে। কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহ্‌রই। এবং সেদিন মু’মিনরা আনন্দিত হইবে। (সূরা রূম, আয়াত ২ – ৪)

আল্লাহ্‌ বলছেন, পূর্বের ও পরের ফয়সালা আল্লাহ্‌রই। অর্থাৎ পূর্বেও যেমন মুসলমানরা রোমকদের বিজয়ে আনন্দিত হইয়াছিল ইহা আবার পরেও হইবে। অর্থোডক্স খ্রিস্টান আবার বিজয়ী হবে এবং মুমিন মুসলিমদের জন্য তা আশীর্বাদ বয়ে নিয়ে আসবে। পুর্বে যেমন রূমের বিজয়ে মক্কা বিজয়ের প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছিল, তেমন বর্তমানে প্রকৃত রূম তথা রাশিয়ার বিজয়ে মুসলমানদের জেরুজালেম বিজয়ের প্রেক্ষাপট রচিত হবে।

(৯) সিরিয়া ও বাশার আল আসাদ বিষয়ে আমাদের অভিমত হলো সে শিয়া না সুন্নি তা আমাদের বিবেচ্য নয়। কারণ পূর্বেই বলেছি আমরা শিয়া সুন্নি, হানাফী মাযহাবী লা মাযহাবী ইত্যাদি সেক্টরিয়ান ইসলামে বিশ্বাসী নই। মুসলিম বিশ্বে ও আরব ও আজমীদের মধ্যে একমাত্র সেই আমেরিকা ও ইসরাইলের কাছে মাথা নত করেনি। কিন্তু অনেক সুন্নী রাজা বাদশা আমেরিকা ব্রিটেন ইসরাইলের কোলে নিরাপদে ও শান্তিতে শুয়ে আছে।

।।

আমরা মনে করি আমাদের সাইট ভিজিট করার সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য উপরের এই কয়টি পয়েন্টই আপনার জন্য যথেষ্ট। উলামায়ে কেরাম ও ইসলামিক চিন্তাধারার ভাইদের জন্য এটা বিশেষ ভাবে বলা।

বর্তমানে ও ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে মতানৈক্য বা তর্ক বিতর্ক করে আপনাদের মূল্যবান সময় অপচয় না করার জন্য ধন্যবাদ।

জাযাকুমুল্লাহ খইরন।

কুরআন সব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা করতে সক্ষম

Guidance to humanity

অনেকে নানাভাবে কুরআনের সত্যতাকে প্রমাণের চেষ্টা করেন। কেউ আকাশের গ্রহ নক্ষত্রের দিকে দৃষ্টিপাত করেন। তার অভিজ্ঞতার সাথে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতাংশকে মেলানোর চেষ্টা করেন। কেউবা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের মধ্যে গাণিতিক সামঞ্জস্য খুঁজেন। আবার কেউ কুরআনের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন। এগুলো সব ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের এও মনে রাখতে হবে, কুরআন শুধুমাত্র নাস্তিকদের সাথে তর্ক করার জন্য নয়, কুরআনের অনন্য বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক বা ভাষাগত সৌন্দর্যে কেবলমাত্র বিমোহিত হওয়ার জন্য নয়। কুরআন হচ্ছে এমন একটি কিতাব যা সবকিছুর সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা দান করে। “…. (It is a) a detailed explanation of everything and a guide and a Mercy for the people who believe.” (سورة يوسف, Yusuf, Chapter #12, Verse #111)

আমাদের অবশ্যই বর্তমান রহস্যময় পৃথিবীকে বুঝতে হবে। যে পৃথিবীতে আমরা বাস করি। যদি আমরা ন’টা পাঁচটা অফিস করি আর কৌচে হেলান দিয়ে টিভির রিমোট পাল্টাই, আর যদি শুধু মসজিদে যাই আর আসি, আসি আর যাই তাহলে আমরা কখনো পৃথিবীর রহস্যময়তার সন্ধান পাবো না। সব কিছু মনে হবে স্বাভাবিক।

কেন গত শতকে ইহুদীরা প্রায় ২০০০ বৎসর পর পবিত্রভূমি জেরুজালেমে ফিরে এলো, কেন সারা বিশ্ব ধর্মহীনতা দ্বারা শাসিত হতে লাগল, কেন নিরীহ মুসলমানদের ওপর জুলুম নির্যাতন ও রক্তের ধারা প্রবাহিত হল। কেনই বা আজকে মদিনার প্রভাব খর্ব হলো ও জেরুজালেম নতুন সুপার পাওয়ার হতে চলেছে। সোনা রূপার বদলে কেন কাগজের ডলারের পথ ধরে পৃথিবী ইনভিজিবল মুদ্রার দিকে যাত্রা শুরু করেছে। কেন বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও মালকাল ইয়ামীন বা অধিকারভুক্ত নারীদের সমাজের জন্য অগ্রহণযোগ্য, পচনশীল ও ক্ষতিকর ট্যাগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সমকামিতা ও অযাচারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে।

কেন গত শ্তকের শুরুতে যায়োনিস্ট আন্দোলনের শুরু হলো এবং তার অব্যবহিত পূর্বে ফেরাউনের লাশ আবিষ্কার হলো। এসব প্রতিটি ঘটনার সিগনিফিকেন্স আছে। It means it has Meanings.

সিরিয়া ও ইয়েমেনের উপর হামলা পৃথিবীকে কোথায় নিয়ে যাবে। আর কেনই বা রাশিয়া ও চীন সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমেরিকা ও ন্যাটোর মুখোমুখি অবস্থান করছে। আল্লাহ্‌ বলেন, আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়। ২ঃ২৫১ (অনুবাদ – মা’রেফুল কুরআন)

অতএব আমাদের কুরআনের দ্বারা এ’ পৃথিবীকে ব্যাখ্যা করতে হবে। এরাই চিন্তাশীল, যাদের প্রশংসা আল্লাহ্‌ কুরআনে বারবার করেছেন। বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর পেয়ারা নবী হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ইয়েমেন হইতে একটি আগুন বাহির হইবে, এই আগুন অপরাধীদের তাড়াইয়া বিচারের ময়দানে লইয়া যাইবে।” আজ যারা কুরআনের আলোয় পথ দেখতে ব্যর্থ হবে সম্ভবত তারা এই ধোঁয়াশার পৃথিবীতে অপরাধীদের সমর্থন দিবে এবং নিজেরাও অপরাধী হয়ে বিচারের ময়দানে প্রবেশ করবে।

সূরা তাকভীরের ইস্কেটোলজিকাল ব্যাখ্যা

আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করিলাম
দয়া ও করুণায় ভরা যার নাম।

সেইদিন সূর্য হবে দীপ্তিহারা, (১)
বসিয়া পড়িবে যত গগণের তারা, (২)

পর্বতমালাকে হবে চালিত করা, (৩)
উষ্ট্রী হবে উপেক্ষিত, গর্ভভরা, (৪)

বন্য পশু করা হবে একত্রিত, (৫)
সাগর যত হয়ে যাবে উদ্বেলিত, (৬)

পুনরায় আত্মা হবে সংযোজিত, (৭)
কন্যা শিশুরা হবে জিজ্ঞাসিত, (৮)
কোন অপরাধে তারা জীবন্ত প্রোথিত? (৯)

আমলনামাসমূহ খুলে হবে ধরা, (১০)
আকাশসমূহ হবে উন্মোচিত করা, (১১)

দোজখ করা হবে প্রজ্জ্বলিত, (১২)
বেহেশত করা হবে নিকটে আনিত, (১৩)

জানিতে পারিবে সব মানুষ তখন
আনিয়াছে নিজের সাথে কী সে এমন! (১৪)

কসম তারকা যা পশ্চাতে সরে– (১৫)
চলে আর নিজেকে সে আড়াল করে, (১৬)

কসম চলে যাওয়া সেই যে রাতের, (১৭)
আলোকিত করে দেওয়া ঐ প্রভাতের, (১৮)

নিশ্চয়ই এ বাণীগুলি ফেরেশতা আনীত (১৯)
আরশ-মালিকের যিনি সম্মানিত (২০)

বিশ্বাসী বাহক সে এক সেথায় মানিত। (২১)
তোমাদের সাথীর মাথা নহে বিকৃত, (২২)
ফেরেশতা দেখা তাঁর খোলা স্বীকৃত, (২৩)
কৃপণতা করে না সে বলিতে কভু-ও
গায়েবের বিষয় সেটা হলেও তবু-ও। (২৪)

শয়তানের উক্তি নহে, এটা [কুর’আন] রয়ে যায়, (২৫)
অতএব তোমরা সবাই চলেছ কোথায়? (২৬)

বিশ্ববাসী তরে এতে উপদেশ রয়, (২৭)
সঠিক পথে চলিতে চায় যারা নিশ্চয়। (২৮)

তোমাদের ইচ্ছা কোন কার্যকরী নয়
বিশ্বপালকের যদি ইচ্ছা না হয়। (২৯)

[সুরা তাকভীর: ৮১: ১-২৯]

দ্বীপ্তিহারা সূর্য রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরী জামানার স্পিরিচুয়াল ডার্কনেস বা গডলেস সেক্যুলার সভ্যতাকে। ধসে পড়া তারকামন্ডলী রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরী জামানার আলেম-ওলামাদের দুর্নীতিগ্রস্থ ও ইলম-হারা হয়ে যাওয়াকে। পর্বতমালা চালিত হওয়া রিপ্রেজেন্ট করছে দেশে দেশে কালার রেভ্যুলেশনের মাধ্যমে নেতৃত্বের বদল বা রিজিম চেঞ্জ । উপেক্ষিত উষ্ট্রী দ্বারা আধুনিক যানবাহনের ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। বন্য পশু একত্রিত করা রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরি জামানায় গ্রামগুলোর শহরে পরিণত হওয়া, পশুদের চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা, প্রিমিটিভ অধিবাসীদের স্থান যেমন: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আমেরিকা, আফ্রিকা ইত্যাদি জায়গায় বড় বড় বিখ্যাত শহর প্রতিষ্ঠা হওয়া। সাগর উদ্বেলিত হওয়া দ্বারা সাগরে বড় বড় রণতরীর অবস্থানকে ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। আত্মা সংযোজনের দ্বারা যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে পুরো বিশ্বের মানুষ এক সমাজের অধিবাসী হওয়ার কথা ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে অথবা নতুন নতুন রাজনৈতিক পার্টির সৃষ্টি ও তাদের ব্যানারে মানুষকে একত্রিত করার কথা ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। কন্যা শিশুর জিজ্ঞাসা দ্বারা সমগ্র বিশ্বে নারী অধিকারে সচেতনতা বৃদ্ধির ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। আমলনামা/সহিফা/গ্রন্থসমূহ খোলা দ্বারা আখেরি জামানায় বই, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, লাইব্রেরী, বইমেলা ইত্যাদির বিকাশ সাধনকে ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। আকাশসমূহের উন্মোচন দ্বারা আখেরী জামানায় মহাকাশবিজ্ঞানে মানবজাতির অগ্রগতি, আকাশপথে যাত্রা, বিমানবাহিনী, আকাশ যুদ্ধ ইত্যাদিকে ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। দোজখ প্রজ্জ্বলিত করা দ্বারা আখেরী জামানায় বড় বড় বিশ্বযুদ্ধসহ ঘন ঘন যুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে। বেহেশত নিকটে আনা রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরী জামানার এসব যুদ্ধে সাধারণ নিরাপরাধ মানুষের শহীদ হওয়াকে। নিজের কাজ মানুষ দেখতে পারবে–এর দ্বারা হাতে হাতে ক্যামেরা থাকার ভবিষ্যতবাণী করা হচ্ছে। পশ্চাতে সরে যাওয়া তারকা রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরী জামানার আলেম-ওলামাদের যাদের কেউ কেউ গতিশীল অর্থাৎ সেক্যুলার সমাজের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে আর যাদের কেউ কেউ আড়ালে থাকে অর্থাৎ আধুনিক দাজ্জালীয় সভ্যতার ব্যপারে একেবারেই বেখবর। বয়ে যাওয়া রাত রিপ্রেজেন্ট করছে আখেরি জামানায় সেক্যুলার বিশ্বে মুসলমানদের শোচনীয় অবস্থাকে। আর সমাগত প্রভাত দ্বারা ইমাম মাহদী ও সত্য মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) এর মাধ্যমে ইসলামের চূড়ান্ত সাফল্যের সময়কে ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে।

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

দুই বিজয়

ফেক বিজয় অনেক হয়। দশকের পর দশক বা শ্তাব্দি ধরে মানুষ ফেক বিজয়ের আনন্দে ডুবে থাকে। পরে একসময় বোঝা যায়, বিজয়টা ছিল ধোকা। মক্কা বিজয় ফেক ছিল না, মদিনা বিজয়ও ফেক ছিল না। এ দুটো বিজয় সারা পৃথিবীতে আদর্শ বিজয়। আশ্চর্য বিষয় মক্কা ও মদিনা বিজয়ে কোন রক্তপাত হয় নি। তিনি (সা) এলেন এবং জয় করলেন। হ্যা হৃদয়ের উচ্ছ্বাস ছিল, ঘটনা প্রতিঘটনা ছিল, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা ছিল, আর ছিল অন্তহীন ঈমান।

আরো দুটো বিজয় সামনে আসছে যা কোন ফেক বিজয় নয়। একটি কনস্টান্টিনোপল বিজয়, আরেকটি জেরুজালেম বিজয়। একজন নবীর হাতেই হবে তা, ঠিক আগের মতো। কনস্টান্টিনোপলে থাকবে মদিনার মতো উচ্ছ্বাস, মানুষ তাকবীর দিয়েই তা জয় করবে, আর পরেরটায় থাকবে বহু ঘটনা প্রতিঘটনা।

আল্লাহ্‌ আগের ও পরের সব খবর জানেন।

Connecting the dots: সূরা আছর

মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানওয়াতালা ছয় দিনে আসমান ও জমীন সৃষ্টি করেছেন। এই সৃষ্টিকাজ শুরু হয় ইয়াওম আল আহাদ বা রবিবারে এবং শেষ হয় ইয়াওম আল জুমাহ বা শুক্রবারে। শুক্রবার আছর ওয়াক্তে আল্লাহপাক আদম (আ) কে সৃষ্টি করেন। আদম (আ) আছর থেকে মাগরিব ওয়াক্ত পর্যন্ত জান্নাত আল আদন বা ইডেন বাগানে ছিলেন। এজন্য আছর ওয়াক্তকে বলা যায় মানব ইতিহাসের সূচনালগ্ন। আছর ওয়াক্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কারণেও যে, আছর ওয়াক্ত মানবজাতির ইতিহাসের শেষ পর্যায়কেও রিপ্রেজেন্ট করে। আদম (আ) থেকে বনী ইজরায়েলের আগের উম্মতগণ একদিনে ঈসার ওয়াক্ত থেকে ফজরের ওয়াক্ত পর্যন্ত সময়কে রিপ্রেজেন্ট করে, বনী ইজরায়েল উম্মত একদিনে ফজর থেকে জোহর পর্যন্ত সময়কে রিপ্রেজেন্ট করে, ঈসায়ী উম্মত জোহর থেকে আছরের ওয়াক্ত পর্যন্ত সময়কে রিপ্রেজেন্ট করে আর উম্মতে মুহাম্মদী (সা) আছর থেকে মাগরিব ওয়াক্তকে রিপ্রেজেন্ট করে। এইজন্য আছর ওয়াক্ত মানবজাতির ইতিহাসের শুরু ও শেষ উভয়ের সাথে সম্পর্কিত। আছরের শপথ করে আল্লাহ সুবহানওয়াতালা বলেন,

“শপথ আছরের! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ।” (১০৩:১-২)

কোন কোন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত? আল্লাহ সুবহানওয়াতালা বলেন,

“নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং সরলপথে আসেনি।” (১০:৪৫)

বর্তমান ইয়াজুজ মাজুজ নিয়ন্ত্রিত সেক্যুলার বিশ্বের অনুসারীরা হলো ক্ষতিগ্রস্ত কারণ তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎকে বিশ্বাস করে না। তারা ভাবে, মৃত্যুতেই সব শেষ। তারা ভাবে, এই বস্তুগত জগতের বাইরে কিছু নেই। তাদের এই দর্শন তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তারা সরলপথ অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে নিজেদের মনগড়া দ্বীনের অনুসরণ করছে। তারা রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, আইন ইত্যাদি ক্ষেত্রে আল্লাহর শরীয়াহকে বাদ দিয়ে নিজেদের বানানো শরীয়াহর অনুসরণ করছে। ফলে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। আর পূর্বেও অসংখ্য জাতি এই ক্ষতির স্বীকার হয়েছিল। আল্লাহ সুবহানওয়াতালা বলেন,

“অনেক জনপদ তাদের পালনকর্তা ও তাঁর রসুলগণের আদেশ অমান্য করেছিল, অতঃপর আমি তাদেরকে কঠোরভাবে ধরেছিলাম এবং তাদেরকে ভীষণ শাস্তি দিয়েছিলাম। অতঃপর তারা তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করল এবং তাদের কর্মের পরিণাম ক্ষতিই ছিল।”(৬৫:৮-৯)

এই সেক্যুলার বিশ্বের অনুসারীদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে। তবে তারা নয় যাদের ব্যপারে আল্লাহ সুবহানওয়াতালা বলেন,

“কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম (আমলে সালেহীন) করে এবং পরষ্পরকে তাকীদ করে সত্যের ও তাকীদ করে সবরের।” (১০৩:৩)

এরাই তারা যারা ধর্মের ঘাঁটিতে রয়েছে এবং সেক্যুলার জীবনব্যবস্থা তথা অধর্মের ঘাঁটিকে পরিত্যাগ করেছে। আল্লাহ সুবহানওয়াতালা বলেন,

“আপনি জানেন, সে (ধর্মের) ঘাঁটি কী? তা হচ্ছে দাসমুক্তি, অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান এতীম আত্বীয়কে অথবা ধুলি ধুসরিত মিসকিনকে। অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যারা ঈমান আনে এবং পরষ্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয় দয়ার।” (৯০:১২-১৭)

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

কূটনৈতিক সুন্নাহ

strategic-sunnah

স্ট্র্যাটেজিক সুন্নাহ – মাওলানা ইমরান নযর হোসেন

মহানবীর (সাঃ) অনুসারীরা ইসলামী দুনিয়া বিশেষতঃ সমগ্র মানবজাতি বর্তমানে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো ভয়ঙ্কর অশুভ পরিবর্তনের দিকে যাইতেছে । একটি জঘন্য শয়তানী দুনিয়া সামনে আসিতেছে । আরো ব্যাপক জুলুম অত্যাচারের দুনিয়া আসিতেছে । ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী যুদ্ধ আসিতেছে । আর এই সবই হইতেছে ইজরাঈলের পক্ষে । যায়োনিষ্টরা যাহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ইসরাঈলকে পরবর্তী বিশ্বনিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র সুপারপাওয়ার হিসাবে অধিষ্টিত করিতে পারে । যেভাবে আসিয়াছিল প্যাক্স ব্রিটানিকার পরিবর্তে প্যাক্স অ্যামেরিকানা । একইভাবে আসিতেছে প্যাক্স অ্যামেরিকানার পরিবর্তে প্যাক্স জুড্যাইকা । এমনটা কেন হইতেছ ? পনের বছর আগে আমি একটি বই লিখিয়াছিলাম “পবিত্র কোরআনে জেরুজালেম” যাহাতে বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হইয়াছে । ইসলামী চিন্তাবিদগণ যদি এই সংকটময় মুহূর্তে দুনিয়ার বাস্তব অবস্থা মানুষকে বুঝাইতেছে ব্যর্থ হন, কেবল মুসলমানগণই নয় বরং সমগ্র মানবজাতিই বর্তমানে আলেমদের নিকট জানিতে চাহেন কিভাবে এই ক্রান্তিকাল মোকাবিলা করিতে হইবে । তাহারা যদি মানবজাতিকে প্রস্তুত করিতে ব্যর্থ হন, তবে স্মরণ করুন আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে নবী করিম (সাঃ) কি বলিয়া গিয়াছেন যাহা শুনিলে এমনকি অমুসলিমরাও বিস্মিত হইবেন । হাদীসটি বায়হাকী শরীফে আছে । মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন যে, “মানুষের উপর এমন একটি সময় আসিবে যখন ইসলামের নাম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না । কোরআনের লেখাগুলি ছাড়া (বাস্তবজীবনে) আর কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না । মসজিদগুলি হইবে আলিশান অট্টালিকা কিন্তু তাহা হইতে কেউ সুপথের সন্ধ্যান লাভ করিবে না । সেই (অন্ধকার) যুগের আলেমগণ হইবে আকাশের নীচে সবচাইতে নিকৃষ্ট মানব । তাহারা হইবে (মানুষের) পথভ্রষ্টতার ফিতনার কেন্দ্রবিন্দু ।” কাজেই এখন আলেমদের দ্বায়িত্ব হইল বর্তমান বিশ্ব যেই নির্মম বাস্তবতার মোকাবেলা করিতেছে তাহা মানুষের নিকট ব্যাখা করা এবং এই কাজে কোরআনকে ব্যবহার করা । পবিত্র কোরআনের সুরা নাহলে আল্লাহ তায়ালা বলিয়াছেন, “এই কোরআন আপনার প্রতি অবতীর্ন করিয়াছি যাহাতে রহিয়াছে সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা”। আলেমদের জন্য আরো প্রয়োজন হইল বিশ্বনবীর (সাঃ) সুন্নাহ এবং জীবনাদর্শকে এই যুগের সমস্যাবলীর সমাধানে ব্যবহার করা । কেননা মহান আল্লাহ তাঁহার শেষ নবী (সাঃ) সম্পর্কে বলিয়াছেন যে, “নিশ্চয় আপনি সর্বোত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী”। অর্থাৎ মহানবীর (সাঃ) আদর্শ সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য প্রযোজ্য এবং অনন্তকালের জন্য প্রযোজ্য । কসমেটিকস ইসলাম অর্থাৎ সাজুগুজু ইসলাম এই কাজ সম্পাদন করিতে অক্ষম । কসমেটিকস ইসলাম হইল যাহারা বলে একবার ঘরে যান একবার মসজিদে যান আবার ঘরে যান আবার মসজিদে যান ঘরে যান মসজিদে যান আর একই বয়ান বারবার ঘুরাইয়া ফিরাইয়া দেওয়া হইতেছে ষাট সত্তর বছর যাবত । সুতরাং সাজসজ্জার ইসলাম উটপাখির মতো বালির নীচে মাথা ঢুকাইয়া রাখিয়াছে এবং বর্তমান পৃথিবীর সমস্যাবলী নিয়া অধ্যয়ন গবেষণা কিংবা মোকাবেলার কোন প্রচেষ্টা নাই । কাজেই কসমেটিকস ইসলাম নিয়া পড়িয়া থাকিলে মুসলমান হিসাবে আমাদের দ্বায়িত্ব পালনে কখনও সফলকাম হইবে না । অন্যদিকে আছে প্রোটেস্ট্যান্ট ইসলাম (সালাফী) যাহাতে কোন যুক্তিবাদী চিন্তা নাই বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা নাই কিভাবে সত্যকে আধুনিক যুগে প্রয়োগ করা যায় কিভাবে কুরআনকে ব্যবহার করিয়া আধুনিক যুগের বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করা যায় । সালাফী ইসলাম মনে করে আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এবং প্রথম যুগের মুসলমানগণ ছাড়া কোরআন-হাদীসকে ব্যাখ্যা করিবার অধিকার কাহারও নাই । কোন ইমরান হোসেন তাহা করিতে পারিবে না । আমরা তাহাকে সেই সুযোগ দিব না । তাহাতে কি হইয়াছে ? দুনিয়ার মানুষ এখন ইমরানের কথা শুনিতেছে । এই জন্য আমরা আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা জানাইছি । আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় নবীজি (সাঃ) সুন্নাহ অর্থাৎ রীতিনীতি । কাজেই আমরা আপনাকে উপদেশ দিতেছি স্মরণ করাইয়া দিতেছি দাঁড়ি রাখেন । কেননা ইহা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ । আল্লাহ কোন দুর্ঘটনাক্রমে পুরুষদের মুখে দাঁড়ি দেন নাই । তিনি পুরুষদের মুখে দাঁড়ি দিয়াছেন তাঁহার প্রজ্ঞার বিবেচনায় । ফলে অনেক দূর হইতেও আমরা বুঝিতে পারি কে পুরুষ আর কে নারী তাহাদের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দিকে না তাকাইয়াও । ইহাই হল আসমানী জ্ঞান ।

অবশ্য আপনি যখন দাঁড়ি রাখিবেন তখন সেগুলো নিয়া আপনার বাচ্চা খেলা করিবার সুযোগ পায় । কাজেই আপনি যখন দাঁড়ি সেভ করিয়া ফেলেন, তখন নিশ্চিতভাবেই আপনি আপনার শিশুর খেলাধুলার অধিকার হরণ করিলেন । কারণ শিশুরা আর দাঁড়ি নিয়া খেলাধুলা করিতে পারিতেছে না । সুন্নাহ আছে পোষাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে যেগুলো আমরা পরিধান করিয়া থাকি । পোষাকের কিছু সুনির্দিষ্ট ডিজাইন যাহা শালীনতা বজায় রাখে । কিন্তু ইহাই একমাত্র সুন্নাহ নয় । সুন্নাহ আছে আমাদের পানাহারের ক্ষেত্রেও । কিন্তু ইহাই একমাত্র সুন্নাহ নয় । আপনি যেই পৃথিবীতে বসবাস করেন সেই সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও সুন্নাহ । আরো সূক্ষ্মভাবে বলিতে গেলে আপনার আত্মরক্ষা, প্রতিরক্ষা, সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও সুন্নাহ । আপনি সত্য মিথ্যার যুদ্ধে লিপ্ত আছেন । আর মিথ্যার সেনাবাহিনী সর্বদাই আপনার উপর আক্রমণের চেষ্টায় লিপ্ত আছে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য অবশ্যই বিলুপ্ত করিয়া দিবে মিথ্যাকে । সুতরাং প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি বা যুদ্ধকৌশলগত কলাকৌশল হইল সত্য মিথ্যার লড়াই । সুতরাং প্রতিরক্ষা বা সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত বিষয়গুলি কিভাবে মোকাবেলা করিতে হইবে তাহা জানাও সুন্নাহ । কাজেই আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় হইল সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত সুন্নাহ, যেই সম্পর্কে আপনি আগে কখনও শুনেন নাই । কারণ এই বিষয়টি এখন আর কেউ শিক্ষা দেন না । আমরা আজকে আলোচনা করিব মহানবীর (সাঃ) সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত সুন্নাহ । কাজেই বিশ্বনবীর (সাঃ) সামরিক সুন্নাহসমূহ স্মরণ এবং বিশ্লেষণ করিয়া আমাদের আজকের এই জটিল বিশ্ব পরিস্থিতিতে প্রয়োগের কৌশল আলোচনা করিব । আর এই কাজে আমাদের থাকিতে হইবে দূরদৃষ্টিগত এবং অন্তর্দৃষ্টিগত চিন্তাভাবনার যোগ্যতা । কাজেই আল্লাহর পবিত্র নাম নিয়ে আমরা সত্য মিথ্যা এবং ন্যায় অন্যায়ের লড়াই নিয়ে আলোচনার সূচনা করিতেছি । নবী করীম (সাঃ) এর উপরে আক্রমণ পরিচালনা করা হইয়াছিল । কুরাইশগণ ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিয়াছিল, জুলুম অত্যাচার, অবিচার এবং মিথ্যার সৈন্যবাহিনী । আপনি যখন দেখিবেন ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হইয়াছে তখন কি করিবেন ? আপনি যদি যথেষ্ট শক্তিশালী না হইয়া থাকেন, তবে আপনি কি আপোষ করিবেন যাহাতে আপনি যেখানে আছেন সেখানে বসবাস করিতে পারেন ? যাহাতে আপনার গ্রীনকার্ড ঠিক থাকে, আপনার চাকরি ঠিক থাকে এবং আপনার গাড়ি-বাড়িও ঠিক থাকে ? নাকি আপনি যেই পরিণতিই হোক না কেন তাহা পরোয়া না করিয়া সত্যকে আকড়াইয়া থাকিবেন ? সুন্নাহ হইল প্রয়োজনে (জন্মভূমি) মক্কা ত্যাগ করুন তবু সত্যকে ত্যাগ করিবেন না । এবং আপনি সত্যকে প্রচার করিতে থাকুন । এমন অবস্থা যখন আসিবে তখন হিজরত দেশত্যাগ করিতে হইবে । আর এজন্য এখন অনেক মানুষ বিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে হিজরত করিতেছেন । কারণ সেখানে এখন আর সত্যকে প্রচার করিবার স্বাধীনতা নাই । কিন্তু রাসুলে পাক (সাঃ) যখন হিজরত করিলেন তাহাতে কিন্তু কুরাইশগণ তাঁহাকে ছাড়িয়া দেন নাই । তাহারা নবীজির (সাঃ) পেছনে পেছনে ধাওয়া করিয়া আসিয়াছে । ফলে সংগঠিত হইয়াছে বদরের যুদ্ধ । তাহাতে আমরা তাহাদেরকে দিয়াছি অপমানজনক পরাজয় । বিস্তারিত পড়ুন