তারপরও কি বলবেন ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়নি?

ইয়াজুজ মাজুজ মুক্তি পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের আমলে। আম্মাজান যয়নব বিনতে জাহাশ রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহার ঐ বিখ্যাত হাদিসটি স্মরণ করুন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম উদ্বিগ্নভাবে এসে বললেন, আরবদের জন্য অকল্যাণ। কারণ আজকে ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীরে এতোটুকু ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম শরীফের ফেতনার অধ্যায়ের প্রথম হাদিস। ইয়াজুজ মাজুজ মুক্তি পেয়ে যায় হযরত উমর রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুর ইন্তেকালের সময়। তিনি তার শাহাদাতের আগেই জানতেন তার মৃত্যুর মাধ্যমে ফেতনার দরজা ভেঙ্গে ফেলা হবে। এই দরজাই আসলে ইয়াজুজ মাজুজের সে প্রাচীর। যে প্রাচীর ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে দুনিয়ায় ‘মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব’ প্রতিষ্টিত হয়। তিনি হুযাইফা রাযি এর কাছে বারবার জানতে চান এ বিষয়ে। কারণ হুযাইফা রাযি-এর এ বিষয়ের হাদিসগুলো মুখস্থ ছিল। এ হাদিসটি পড়ুন।

“হযরত হুযাইফা রাযি এর ফেতনার হাদীসগুলো মুখস্থ ছিল ঠিক যেরূপ তিনি আল্লাহ্‌র রাসূল সা এর থেকে শুনেছেন। এ কথা শুনে উমর রাযি বললেন, তুমি তো বেশ নির্ভীক। বল তো শুনি, তিনি (সা) কিরূপ বলেছেন। আমি জানতে চাই ঐ ফেতনা সম্পর্কে যা সমুদ্রের অন্তহীন ঢেউয়ের মতো ঢেউ খেলতে থাকবে। (বুঝাই যাচ্ছে উমর রাযি ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। কারণ আল্লাহ্‌ কুরআনে ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনাকে ঢেউয়ের সাথে তুলনা করেছেন।) হুযাইফা রাযি বললেন, হে আমীরূল মুমিনীন ! ওসব ফেতনার সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। আপনার ও ওসব ফেতনার মাঝে একটা রুদ্ধদ্বার বিদ্যমান। উমর রাযি বললেন, সে দরজা কি ভেঙ্গে ফেলা হবে? নাকি খুলে দেয়া হবে? হুযাইফা রযি বললেন, না বরং ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমর রাযি বললেন, তাহলে তা আর কখনো বন্ধ না করা উচিৎ।

হুযাইফা রযি কে জিজ্ঞাসা করা হল উমর রাযি কি এ দরজা সম্পর্কে জানতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ তিনি এরূপ নিশ্চিতভাবে জানেন যেমন আগামীকালের পূর্বে রাত্রির আগমন সম্পর্কে জানেন।”

এটাই কুরআনের ভবিষ্যৎবাণী যে এই দেয়াল (খুলে দেয়া হবে না) বরং ভেঙ্গে ফেলা হবে।

এছাড়া মুসলিম শরীফে ফেতনা ও তা থেকে বেঁচে থাকা বিষয়ক হাদীসগুলো বর্ণনা করা হয়েছে দাজ্জাল বিষয়ের পূর্বে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী স্কলাররা জানতেন দাজ্জাল আসার পূর্ব থেকেই ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনা ক্রিয়াশীল থাকবে।

Advertisements

বর্বর ইয়াজুজ মাজুজ

কে বলে ওদের অন্তরে ভালোবাসা নাই, ওরা এখন রোবটকে ভালোবাসে, সেক্স রোবট পাওয়া যায়। আপনি পারবেন রোবটকে ভালবাসতে? দেখেন এই রোবটের দুই আঙ্গুল ভেঙ্গে গেছে বলে কি কান্না করতেছে এরা। কে জানে এটার সাথে কি করতে গিয়ে আঙ্গুল ভাঙ্গছে। ক্যাপশন এসেছে They Were ‘Like Barbarians.’ এর হিপটা নাকি ‘সে-ই’ দেখতে, আর্টিফিসিয়াল জি-স্পটও আছে। নগদ ৬৪৫০ ডলার মোহরের বিনিময়ে একে ঘরে তোলা যাবে। যাহোক, তাদের তরিকায় দুই বিবাহ হারাম। কিন্তু এক স্ত্রী সাথে একটা সেক্স রোবট হালাল। — এটিই পাশ্চাত্য সমাজ, ইয়াজুজ মাজুজের সমাজ। তারপরও যারা বলে ইয়াজুজ মাজুজ এখনও বের হয় নাই, ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনা শুরু হয় নাই তাদেরকে পাশ্চাত্য সভ্য সমাজে কিছুদিন রেখে আসা উচিৎ।

মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব

সুন্দরী প্রতিযোগিতার কেলেঙ্কারির কথা আপনারা জানেন। এক সুন্দরী প্রতিযোগিতা নিয়ে সারা জাতি ব্যস্ত। দেশ জাতি ভাসতেছিল সুন্দরিদের ওয়েস্ট, বাস্ট এবং হিপ মেজারমেন্টের বিশ্লেষণে। কোন এক নারী নাকি বিয়ের তথ্য গোপন করে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। অবিবাহিতা হয়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতা করলে যেন এটা জায়েজ হয়ে যেত। আবার বিচারকদের রায়ও নাকি পাল্টে ফেলা হয়েছে। বিচারকদের রায় সঠিকভাবে প্রকাশিত হলেই যেন এটা খুব মহৎ কাজ হয়ে যেত। এটা হচ্ছে মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব। ব্লু হোয়েল গেম মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব। রোহিঙ্গাদের গণহত্যা মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব। কাগজের টাকা ও ব্যাংকিং সিস্টেমও মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব। খাদ্যে ভেজাল, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, নারী আন্দোলন এমনকি ক্রীড়া জগত এগুলোও মুফসিদুনা ফীল আরদ্ব। সবচেয়ে বড় ফ্যাসাদ হচ্ছে আল্লাহর হুকুমকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো। আল্লাহর দুনিয়াতে থেকে আল্লাহর কর্তৃত্বকে হঠিয়ে দেয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা। এ কাজের জন্য জোট তৈরী করা। এই সর্বগ্রাসী ফ্যাসাদ কি পৃথিবী আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেছে? কারা এই ফ্যাসাদের হোতা? কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না? কোরআনে এই ফ্যাসদের কথা ও ফ্যাসাদকারীদের কথা বার বার এসেছে। এর উত্তর ঘাটতে গেলেই বের হয়ে পড়ে ভয়ংকর ইয়াজুজ মাজুজের আবির্ভাবের সম্ভাবনা। আল্লাহপাক হাদিসে কুদসীতে যাদের সম্পর্কে বলেছেন, আমি আমার এক সৃষ্টিকে এতটা ক্ষমতাবান করেছি, আমি ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে কেউ যুদ্ধ করতে পারবে না [সহীহ মুসলিম] । বিস্তারিত পড়ুন এখানে।

 

“কাজেই ইয়াজুজ মাজুজ যদি এখনও প্রাচীরের আড়ালে থাকে এবং দাজ্জাল আসার পরে বের হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই তারা ঈমানের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হবে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জানাচ্ছেন, মানবজাতির মধ্যে প্রতি ১০০০ জনে ৯৯৯ জন জাহান্নামী এবং তারা ইয়াজুজ মাজুজ।

আল্লাহ্‌ তায়ালা এতো বিপুল সংখ্যক মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত ব্যতিরেকে জাহান্নামে দিয়ে দিবেন এটা কুরআনের বক্তব্যের পরিপন্থী। এটা আল্লাহ্‌ তায়ালার ন্যায়-বিচারক গুণের পরিপন্থী।

আল্লাহ্‌ বলেন, কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না। (সূরা বনী ইসরাঈল, ১৫)

অতএব, আমরা বলতে পারি ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়েছে এবং তাদের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছেছে। কিন্তু তারা সে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার নামে এক নতুন ধর্মের প্রবর্তন করেছে।”

বিস্তারিত পড়ুন এখানেঃ https://hudhudmail.wordpress.com/2017/06/15/yajuj-majuj-38

তারা নেমে এসেছে

এবং যে শহর [জেরুজালেম] আমরা ধ্বংস করে তার অধিবাসীদের [বনী ইজরায়েলের] জন্য হারাম করে দিয়েছি, তারা পুনরায় সে শহরে ফিরে আসতে পারবে না [ইজরায়েল রাষ্ট্র গঠিত হবে না] যতক্ষণ না ইয়াজুজ মাজুজদের [খাজার ইউরোপীয়] প্রাচীর খুলে যায় এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে নেমে আসে [ব্রিটেন ও আমেরিকার সমগ্র বিশ্বদখল বা কলোনাইজেশন]। 
(সুরা আম্বিয়া: ৯৫-৯৬)

শব্দবিশ্লেষণ:

১। ওয়া হারামুন = এবং [ওয়া] + হারাম বা নিষিদ্ধ [হারামুন]
২। ‘আলা = উপর
৩। ক্বারিয়াতিন = একটি শহর বা শহরটি বা জনপদটি (ক্বারিয়াহ)
—> ওয়া হারামুন ‘আলা ক্বারিয়াহ = যে শহরটি নিষিদ্ধ করেছি
৪। আহলাকনাহা = যা আমরা ধ্বংস করেছি
—> ওয়া হারামুন ‘আলা ক্বারিয়াতিন আহলাকনাহা = যে শহরটি আমরা ধ্বংস করে হারাম করে দিয়েছি (তার অধিবাসীদের জন্য)
৫। আন্নাহুম = যে তারা (অর্থাৎ ঐ শহরের অধিবাসীরা)
৬। লা ইয়ারজিউন = না (লা) + ফিরে আসবে বা প্রত্যাবর্তন করবে (ইয়ারজিউন)
—> আন্নাহুম লা ইয়ারজিউন = যে তারা (ঐ শহরের অধিবাসীরা) ফিরে আসবে না বা প্রত্যাবর্তন করবে না
৭। হাত্তা = যতক্ষণ না
৮। ইযা ফুতিহাত = যখন (ইযা) খুলে যাচ্ছে (ফুতিহাত) [ফুতিহাত এসেছে ফাতিহা থেকে। আমরা জানি, “আলহামদু” সুরাকে সুরা ফাতিহা বলা হয় কারণ এই সুরা দিয়ে পবিত্র কোরআন খুলে বা সুচনা হয়। ফাতিহা অর্থ খোলা বা সুচনা বা ওপেনিং।]
৯। ইয়া’জুজু ওয়া মা’জুজু = ইয়াজুজ এবং [ওয়া] মাজুজ
—> হাত্তা ইযা ফুতিহাত ইয়া’জুজু ওয়া মা’জুজু = যতক্ষণ না ইয়াজুজ ও মাজুজের [প্রাচীর] খুলে যাচ্ছে।
১০। ওয়া হুম = এবং [ওয়া] তারা [হুম]
১১। মিন = থেকে
১২। কুল্লি = প্রত্যেক
১৩। হাদাবিন = উচ্চভূমি
১৪। ইয়ানসিলুন = নেমে আসে বা ছড়িয়ে পড়ে।

—> ওয়া হুম মিন কুল্লি হাদাবিন ইয়ানসিলুন = এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে নেমে আসে বা ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ ইয়াজুজ মাজুজদের ওয়ার্ল্ড অর্ডার বা বিশ্ব ব্যবস্থা কায়েম হয়।

এই আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি, ইয়াজুজ মাজুজ হচ্ছে খাজার ইউরোপীয় ইহুদি-খ্রিস্ট জায়োনিস্ট এলায়েন্স যারা প্রথমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য দ্বারা সমগ্র বিশ্ব দখল করে “ইয়ুনসিলুন” হয় ও সমগ্র বিশ্বে নিজেদের ঈশ্বরবিমুখ সেক্যুলার শরীয়াহ কায়েম করে বিশ্ববাসীকে তাদের কারবনকপিতে পরিণত করে এবং বনী ইজরায়েলকে ২০০০ বছর পর আল্লাহ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি করা ক্বারিয়াহ বা শহর জেরুজালেমে ফিরিয়ে এনে ইজরায়েল রাস্ট্র গঠন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তারা আমেরিকার দ্বারা তাদের এই “ইয়ুনসিলুন” বজায় রাখে। তাই আমরা দক্ষিণ চীন সাগরে গেলেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব, ভারত মহাসাগরে গেলেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব, পারস্য উপসাগরে গেলেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব, আর্কটিক মহাসাগরেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব। কারণ হলো “ইয়ুনসিলুন”। ইয়াজুজ মাজুজ বা খাজার ইউরোপীয় ইহুদি-খ্রিস্ট জায়োনিস্ট এলায়েন্সের বিরুদ্ধে যারাই দাঁড়াবে, হোক সে সুন্নি মুসলিম অঞ্চল চেচনিয়া ও প্রিয় নেতা রমজান কাদিরভ, হোক সে শিয়া মুসলিম দেশ ইরান, হোক সে অর্থোডক্স খ্রিস্ট দেশ রাশিয়া ও প্রিয় নেতা ভ্লাদিমির পুতিন বা হোক সে আসমানি কিতাবের জ্ঞানহীন চীন ও উত্তর কোরিয়া; তারা আমাদের বন্ধু। আমরা তাদের ভালবাসি।

Md Arefin Showrav 
http://bit.ly/2vuSBQf

ইয়াজুজ মাজুজের কাছে কি দ্বীনের দাওয়াত পৌছেছে?

যারা এখনও মনে করেন ইয়াজুজ মাজুজকে পাঠানো হবে (يبعث) দাজ্জাল বের হওয়ার পর, তাদের এই দাবি যে কুরআনের অনেকগুলো আয়াত ও হাদিসের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক তা হয়তো তারা ভেবে দেখেন না। আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমরা অতীতে বহু প্রমাণ পেশ করেছি যে ইয়াজুজ মাজুজকে পাঠানো হয়েছে এবং ইয়াজুজ মাজুজ সারা বিশ্বে ফেতনার বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
 
পবিত্র কুরআনে দয়াময় আল্লাহ্‌ বলেন,
আমি সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারীরূপে রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের আগমনের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ। (সূরা নিসা, ১৬৫)
 
যে কেউ সৎপথে চলে, তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না। (সূরা বনী ইসরাঈল, ১৫)
 
– অর্থাৎ বুঝা গেল, আল্লাহ্‌ কাউকে শাস্তি প্রদানের পূর্বে তার কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছান।
 
নবী করীম ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“বিচার দিবসে আদমকে তাঁর সমগ্র বংশধরদের মধ্য থেকে যারা জাহান্নামের জন্যে উপযুক্ত তাদেরকে বাছাই করতে বলা হবে। আদম প্রশ্ন করবেন,
‘হে আমার প্রতিপালক!
তারা কারা?’ আল্লাহ তা’আলা বলবেন, ‘১০০০ জনে ৯৯৯ জন জাহান্নামের জন্যে ও ১ জন জান্নাতের উপযুক্ত।’ এটা শুনে সাহাবারা ভয় পেলেন এবং বললেন, “জান্নাতের জন্যে ১ জন হবে কে?”। নবী (সাঃ) বললেন, “ভয় পেওনা। ৯৯৯ জন হবে ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং ১ জন হবে তোমাদের মাঝে।”
[সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
 
– এখানেই সেই বাস্তবতা যার কারণে দাজ্জাল আগমনের পরে ইয়াজুজ মাজুজ পাঠানোর দাবি কুরআন হাদিসের কষ্টিপাথরে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।
 
দাজ্জাল আসার পরই হযরত ঈসা য়ালাইহিস সালাম সশরীরে আবির্ভূত হবেন। আর ঈসা য়ালাইহিস সালাম মঞ্চে চলে আসার পর সমস্ত পর্দা উঠে যাবে, শেষ সময় বা সা’আ সম্পর্কে সবাই অবগত হয়ে যাবে।
 
তখন আর দ্বীনের দাওয়াত পৌছানোর কোন বিষয় থাকবে না। প্রত্যেকটি খ্রিস্টান ও ইহুদি তাদের মৃত্যুর পূর্বে ঈসা (আ) এর প্রতি ঈমান আনবে। এই ঈমানের ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তাদের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবেন (সূরা নিসা, ৪ঃ১৫৯)
 
– কাজেই ইয়াজুজ মাজুজ যদি এখনও প্রাচীরের আড়ালে থাকে এবং দাজ্জাল আসার পরে বের হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই তারা ঈমানের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হবে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জানাচ্ছেন, মানবজাতির মধ্যে প্রতি ১০০০ জনে ৯৯৯ জন জাহান্নামী এবং তারা ইয়াজুজ মাজুজ।
 
আল্লাহ্‌ তায়ালা এতো বিপুল সংখ্যক মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত ব্যতিরেকে জাহান্নামে দিয়ে দিবেন এটা কুরআনের বক্তব্যের পরিপন্থী। এটা আল্লাহ্‌ তায়ালার ন্যায়-বিচারক গুণের পরিপন্থী।
 
অতএব আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, গত ১৪০০ বৎসর ধরে ইয়াজুজ মাজুজের কাছে কুরআন এবং হাদীসের বানী তথা দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে গেছে। কিন্তু তারা সে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের তৈরী জাতিসংঘ, আইএমএফ ও ন্যাটোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক, নাস্তিক ও সুদী অর্থনৈতিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
 
তারপরও যেসব ভাই গোঁয়ার গব্বরের মতো বলে চলেছেন, দাজ্জাল আসার পরে ইয়াজুজ মাজুজ বের হবে তাদের প্রতি নির্লিপ্ত করুণা ছাড়া আর কিছুর অবকাশ নেই।

ইয়াজুজ মাজুজ কি বন্দি না মুক্ত?

Why Do You Say Gog & Magog Are Released When They Are Trapped Behind An Iron Barrier? (With Bangla Subtitles)
This part is taken from lecture: Qur’an & the End Times. Held on 5 May 2011, Malaysia.

তাবারিয়া হ্রদ শুকানোর আগে ইয়াজুজ-মাজুজ মুক্তি পাবে না। অথচ আপনি বলছেন তারা বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে। বন্দী অবস্থায় তা কিভাবে সম্ভব?
উত্তর দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার, দার্শনিক এবং লেখক আল্লামা ইমরান নযর হোসেন। এই অংশটি ৫ মে ২০১১ মালেশিয়ায় ধারনকৃত ‘কোরআন ও শেষ সময়’ লেকচার থেকে নেয়া।

Imran Nazar Hosein is a leading International Islamic Philosopher, Scholar and author, specialising in world politics, economy, eschatology , modern socio-economic/political issues and expert on international affairs. He is best- selling author of Jerusalem in the Qur’an. Imran Nazar Hosein was born on the Caribbean island of Trinidad in 1942 to parents whose ancestors had migrated from India as indentured labourers. He studied Islam, Philosophy and International Relations at several universities and institutions of higher learning. Among them are al-Azhar University in Cairo, Egypt, the Institute of International Relations of the University of the West Indies in Trinidad, the University of Karachi in Pakistan, the Aleemiyah Institute of Islamic Studies in Karachi, Pakistan, and the Graduate Institute of International Studies in Geneva, Switzerland.

Deen Choudhury