ছিদ্র ও তরঙ্গ ।।…।।…।।…।।…।।…

standing_wavestanding_wavesimple_harmonic_motion

simple_harmonic_motion

কণাগুলোর ভাইব্রেশন বা উপর-নীচ উঠানামায় তরঙ্গ সামনের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। সিম্পল হারমোনিক মোশন।

উম্মুল মু’মিনীন যয়নাব বিনতে জাহাশ (রাযি) থেকে বর্ণিত হাদীসটিতে আমরা জানতে পারি, একদা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লাম উদ্বিগ্ন ও চেহারা রক্তিম বর্ণ অবস্থায় বের হয়ে বলতে লাগলেন, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ! আরব জাহানের উপর বড়ই অকল্যাণ ঘনিয়ে এসেছে। আজ ইয়াজুজ মাজুজ পরিবেষ্টিত দেয়ালটির এতোটুকু উন্মুক্ত হয়ে গেছে। এ বলে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুল ও শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা একটি বেড় তৈরী করে দেখালেন। যয়নাব (রাযি) জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া, রাসূলুল্লাহ ! আমরাও কি ধ্বংস হয়ে যাব অথচ অনেক নেককার লোক আমাদের মধ্যে আছেন? রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লাম বললেন, হ্যা ! কারণ তখন পাপাচার বেড়ে যাবে। (অর্থাৎ পাপাচার বেশী হলে নেককার বদকার সবাই হালাক হবে।) (মুসলিম)

আল্লাহতায়ালা বলেন, “যুলকারনাইন বললেন, এটা আমার রবের অনুগ্রহ, যখন আমার রবের প্রতিশ্রুত সময় আসবে তখন তিনি ওটা (দেয়াল) চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন, এবং আমার রবের প্রতিশ্রুতি সত্য।

সেদিন আমি তাদের (ইয়াজুজ মাজুজদের) ছেড়ে দেবো একের পর এক তরঙ্গের আকারে (এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে, অতঃপর তাদের সবাইকে আমি একত্রিত করব)” (সূরা কাহাফ, ৯৮-৯৯)

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লাম বললেন, আজকে দেয়ালে এতোটুকু ছিদ্র হয়েছে। এরপর তিনি আঙ্গুল দিয়ে বৃত্ত তৈরী করে দেখালেন।

আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমি তাদের ছেড়ে দেব তরঙ্গের মতো।

একটু চিন্তা করে দেখুন, (আল্লাহতায়ালা চিন্তাশীলদের জন্য অনেক নিদর্শন রেখেছেন) তরঙ্গ কাকে বলে? এতটুকু পরিমাণ ছিদ্র কি তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট? হ্যা, এটিই ফিজিক্সের জ্ঞান প্রয়োগের একটি সর্বোৎকৃষ্ট স্থান। এখানে তরঙ্গের কথা বলা হয়েছে, পঙ্গপালের কথা বলা হয়নি। এটাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে কুরআনের বর্ণনাভঙ্গীর পার্থক্য করে দেয়। এমন নয় যে, ইয়াজুজ মাজুজরা দলে দলে বের হয়ে পঙ্গপালের মতো সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়াটা আবশ্যক। বরং তারা তরঙ্গ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে সারা পৃথিবীতে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম।

তাহলে বুঝতে পারবেন, বস্তুত সেদিন থেকেই ইয়াজুজ মাজুজের প্রভাব একটি ফ্রিকোয়েন্সি বা তরঙ্গের গতিতে সারা বিশ্বে পড়তে শুরু করেছে।

তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জন্য এতোটুকু ছিদ্রই যথেষ্ট। কয়েকটি তরঙ্গের উদাহরণঃ

(১) সমুদ্রের ঢেউ।

(২) বেতার তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত রশ্মি, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুনী রশ্মি, এক্স রে, এবং গামা রশ্মি দ্বারা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। এই ধরণের তরঙ্গের ক্ষেত্রে তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। শূণ্য মাধ্যমে এই তরঙ্গের গতিবেগ আলোর বেগের সমান।

(৩) শব্দ তরঙ্গ।

(৪) ভূকম্পীয় তরঙ্গ – ভূমিকম্প বা বিস্ফোরণজনিত কারণে পৃথিবীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত তরঙ্গ।

(৫) মহাকর্ষীয় তরঙ্গ – মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রে আন্দোলনজনিত কারণে উদ্ভূত আলোর সমান বেগে ধাবমান অতি ক্ষীণ তরঙ্গ। ইত্যাদি।

আমরা দেখি, এতোটুকু ছিদ্র দিয়ে যেকোন তরঙ্গ যেকোন দিকে শব্দের গতিতে বা আলোর গতিতে প্রবাহিত হতে পারে।

এখানে আরো একটি বিস্ময়কর ব্যাপার আছে। তরঙ্গের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যগুলো যদি আমরা গবেষণা করি তাহলে দেখতে পাব, তরঙ্গ বা ঢেউ হলো এক ধরনের পর্যাবৃত্ত আন্দোলন যা কোন জড় মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে নিজ নিজ স্থান থেকে স্থানান্তরিত হয় না।

wave

অর্থাৎ তরঙ্গের কনাগুলো স্থানান্তরিত না হয়েই এর ভেতরের শক্তি প্রবাহিত হতে পারে। সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে। তরঙ্গের প্রবাহের অভিমুখ বা দিক আছে।

আল্লাহতায়ালা তরঙ্গের আকারে ইয়াজুজ মাজুজদের ছেড়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ ইয়াজুজ মাজুজের অন্তর্গত শক্তি বা অপশক্তি তাদের নিজেদের স্থান পরিবর্তন ছাড়াই সারা পৃথিবীর যেকোন স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। যেমন, টর্চ লাইট থেকে আলোকশক্তি তরঙ্গের আকারে ছোট্ট একটু বিন্দুর মতো ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে বহু দূরের দেয়ালে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এটিই পয়েন্ট যে, ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে গেছে এবং সেটা পঙ্গপালের মতো মিছিল করে বা বিপুল সংখ্যাধিক্যের মতো করে নয়, বরং তরঙ্গের আকারে, যা একস্থানে উপস্থিত থেকে অন্য স্থানে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

কাজেই এ দুটো বিষয় হচ্ছে ইয়াজুজ মাজুজকে উপলব্ধির মূল বিষয়,

(১) দেয়ালে ছিদ্র হয়েছে
(২) তরঙ্গের আকারে ইয়াজুজ মাজুজকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আর তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জন্য অতটুকু ছিদ্রই যথেষ্ট।

surface_waves

যদিও শায়খ ইমরান নযর হোসেনের গবেষণা থেকে আমরা বিশ্বাস করি, ইতিমধ্যে সেই দেয়ালটি চূর্ন বিচূর্ণ হয়ে গেছে এবং ইয়াজুজ মাজুজ সশরীরে বের হয়ে এসেছে এবং সেই হ্রদটির পানিও শেষ করে ফেলছে। তারপরও, আশা করি কুরআনে বর্ণিত তরঙ্গ বিষয়ক এই গবেষণা ইয়াজুজ মাজুজের উপস্থিতি ও তাদের প্রভাবকে আরো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।

#standing_wave #simple_harmonic_motion #surface_waves

ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে গেছে যারা মানেন না

عبدالله النعمان

ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে গেছে এইটা আমি মানি না

Munirul Islam Ibn Jakir

জনাব, আপনি মানুন আর না মানুন কুরআন বলছে- যখন ইহুদিরা আবার ইস্রাঈলে ফিরে আসবে তখনই ইয়াজুজ-মাজুজ তাদের আগ্রাসী আক্রমণ শুরু করবে। [সূরা আম্বিয়া, ৯৫-৯৬]


আবার বুখারীর নির্ভরযোগ্য হাদীসে এসেছে, রাসূল (সা.) এর সময়েই ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর উন্মুক্ত হয়ে গেছে। তাদের মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।


সহীহ মুসলিমের হাদীসে এসেছে, ইয়াজুজ মাজুজের দুটি বাহিনি হবে। প্রথমটি যখন ইস্রাইলের বাহরে তাবারিয়্যা বা ট্রাইবেরিয়াস লেকের পাশ দিয়ে যাবে তখন তারা ঐ লেকের সমস্ত পানি নি:শেষ করে ফেলবে। যখন দ্বিতীয় দলটি লেকটির পাশ দিয়ে যাবে তখন তারা বলবে, ‘এখানে একসময় যথেষ্ট পানি ছিল!’ মূলত : ইয়াজুজ মাজুজের প্রথম দলটি ইহুদিরা পবিত্র জেরুজালেমে অন্যায়দাবি নিয়ে ফিরে আসার মাধ্যমে মুক্তি পেয়ে গেছে। এরাই পৃথিবীকে অশ্লীলতা, গান, বাজনা আর সুদের ব্যাপক সয়লাবে ভাসিয়ে দিয়েছে। লক্ষ কোটি বছর ধরে চলে আসা প্রাকৃতিক (রহমানি নিযামের) সবকিছু উঠিয়ে দিয়ে সব জিনিসের নকল বের করেছে। দিনার-দিরহামের বিপরীতে অন্তর্গত মূল্যহীন সুদী কাগুজে টাকা (ফলস মানি), ঘরের মুয়াযযিনের বিপরীতে পোল্ট্রি মুরগি, হিদায়াতশূন্য সুরম্য মসজিদ, ঘন ঘন বাজার, ঘরে ঘরে বাজার (ই-শপিং), তাসাউফ বা ইহসানশূন্য নব্য সালাফিয়্যাত, অন্তর্দৃষ্টিহীন হাজার হাজার আলেম, ইসলামি ব্যাংক (হালাল সুদ আর কি!), ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (হালাল নাস্তিকতা আর কি!), সর্বোপরি গ্লোবালাইজেশন তথা গণতন্ত্র, মানবাধিকার আর মুক্তবাজার অর্থনীতির বুলি অাওড়িয়ে গোটা পৃথিবীতে আজকে তারা দাপটের সাথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গোটা পৃথিবীটাই যেন আজ তাদের কব্জায়। হ্যাঁ, তথাকথিত ইসলামি রাজতন্ত্র আর প্রজাতন্ত্রগুলোও ওদের কব্জায়। এখন দ্বিতীয় দলটি বের হওয়ার অপেক্ষায়। হ্যাঁ, দাজ্জালকে ইস্রাঈলের তেলআবিবস্থ ‘বাবে লুদ্দ’-এ হত্যার পর তারা বের হবে। সেই সময়টাও খুবই নিকটে। হয়তো আমরাই দেখতে পারবো। অবশ্য না-ও দেখতে পারি, কারণ আমাদের অন্তরের চক্ষু তো দাজ্জালের জ্ঞানতাত্বিক আক্রমণের ফলে অন্ধ হয়ে গেছে বহু আগেই।

নীল চক্ষু

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

যেদিন সিঙ্গায় ফূৎকার দেয়া হবে, সেদিন আমি অপরাধীদেরকে সমবেত করব নীল চক্ষু অবস্থায়। (সুরা তোয়াহা ২০ঃ১০২)
.
হাশরের ময়দানে অপরাধীদের চোখ নীল বর্ণ ধারন করবে। অপরাধীরা ভয়ে মুষড়ে যাবে আর এতে চোখ গুলো নীল বর্ণ হবে অথবা আল্লাহ অপরাধীদের কে আরো বেশি লাঞ্ছনা ও শাস্তি দেয়ার জন্য সকলের মাঝে নীল চক্ষু করে চিহ্নিত করে রাখবেন।
.
আমাদের সমাজে আমরা অনেক রঙের চোখের মানুষ দেখি তবে এদের মধ্যে সব চেয়ে অনন্য হল নীল চোখ। ২০০৮ সালের এক রিসার্চে দেখা গেছে পৃথিবীর সকল নীল চোখের মানুষদের DNA একই। এদের সকলের পূর্বপুরুষ হল একই ব্যক্তি। অর্থাৎ এরা সকলে একজন ব্যক্তির বংশধর। এদের কে ট্রেইস করে দেখা গেল এরা একসময় পূর্ব ইউরোপ ও ব্ল্যাক সি এর আশেপাশে বসবাস করতো। এদেরকে Scythians (সিদিআর লোক) ও খাজার জাতি বলা হত। বিভিন্ন সময়ে এরা তাদের অঞ্চল থেকে বেরিয়ে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পরত। সর্বশেষ এদের প্রধান গোত্র প্রায় ৭০০ খ্রিষ্টাব্দে নিজস্ব ভুমি থেকে বের হয়ে পুরো ইউরোপ ছড়িয়ে পরে। এরাই ছিল ইয়াজুজ মাজুজ এরাই হবে প্রতি হাজারে সেই ৯৯৯ আদম সন্তান যারা জাহান্নামে যাবে। আজ এদের সংখা অনেক।
.
মুতাওয়াতির হাদিসে এসেছে, আদম সন্তানের মধ্যে প্রতি হাজারে ৯৯৯ জন হবে জাহান্নামী এরাই হবে ইয়াজুজ মাজুজ ও তাদের অনুসারী। স্পষ্ট ভাবেই আমরা বুঝতে পারি এই ইয়াজুজ মাজুজ ও তাদের অনুসারী’রা সেই জাহান্নামী যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা অপরাধী হিসেবে নীল চক্ষু অবস্থায় সমবেত করবেন।
.
.
এখন আমরা যদি আমাদের চারপাশে আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীর দিকে তাকায় আমরা দেখতে পাবো পুরো বিশ্ব যেন অনাচার-অন্যায়-অত্যাচার-জুলুম-ফ্যাসাদে ভরে গেছে। আমরা আরো দেখতে পাবো এই সব ফিতনা ফ্যাসাদের পিছনে অধিকাংশ ওই সকল লোকই দায়ি যারা নীল চোখের অধিকারী। (তবে সকল নীল চোখের মানুষ মন্দ নয় এদের মধ্যে ভালোও রয়েছে) আজ বিশ্বে যত অনিয়ম সবার মাস্টার প্ল্যান কোন নীল চোখের বিকৃত মস্তিষ্ক থেকে বের হয়েছে। পিরামিডের যতই উপরে উঠবো শুধু নীল চোখের মানুষদেরই দেখতে পাবো। যদি এটাকে একটা চিহ্ন হিসেবে ধরে নেই তবে আমরা বলতে পারি আল্লাহ হাশরের ময়দানের আগেই ডেমো হিসেবে এই আখিরুজ্জামানে অপরাধীদের কে আমাদের সামনে নীল চক্ষু অবস্থায় সমবেত করেছেন। ওয়াল্লাহু আলাম।

ইয়াজুজ মাজুজরা কি ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হতে পারে?

Mahbub Al Shirazi
ইয়াজুজ মাজুজরা কি ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হতে পারে?
আবু মুনতাহা
সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াতের তিলাওতের মধ্যে (যা দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখে) উপরের প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ উত্তর পাবেন, ইনশাআল্লাহ। ৬ষ্ঠ আয়াতে দেখুনঃ
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلَىٰ آثَارِهِمْ إِن لَّمْ يُؤْمِنُوا بِهَـٰذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا
অর্থ – “তারা এই বাণী বিশ্বাস না করলে তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে আপনি সম্ভবতঃ দুঃখে আত্মবিনাশী হয়ে পড়বেন।” শায়খ ইমরান নযর হোসেন বলেন, “এই আয়াতে সুমহান আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম -কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, এমনও লোক রয়েছে যাদের অন্তরে মোহর মারা হয়ে গেছে কোন প্রকার ধর্মপ্রচারণা তাদেরকে সত্যের দিকে আনতে পারবে না। এর মাধ্যমে বিশ্বাসীদেরকেও এই উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন ইসলাম বিরোধীদের ব্যাপারে অধিক চিন্তা না করে। তাদের উচিৎ হবে নিজেদের বিশ্বাস রক্ষায় মনোযোগ দেয়া।” এবং অসহায় মুসলমানদের জন্য ইয়াজুজ মাজুজের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখার জন্য সেরূপ প্রাচীরের ব্যবস্থা করতে আত্মনিয়োগ করা যেরূপ প্রাচীর যুলকারনাইন তৈরি করেছিলেন। অর্থাৎ মুসলমানদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা ও তাদের জন্য কুরআন ও সুন্নাহর ধর্মীয় জ্ঞান সংরক্ষণ করা। লক্ষ্য রাখতে হবে, যুলকারনাইনের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ইয়াজুজ মাজুজকে দ্বীনের দাওয়াত দেননি বা তাদের প্রতি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। এখন কেউ যদি ইউরোপ আমেরিকায় গিয়ে তাদের দাওয়াত দিয়ে আত্মসুখ খুঁজে পায় সেটা হবে কুরআনের নির্দেশনার বিপরীত এবং অসহায় মুসলমানদের সাথে করা চরম উপহাস।
আবু মুনতাহা
এছাড়া সূরা আম্বিয়ার ৯৫-৯৬ নং আয়াতে ইয়াজুজ মাজুজের আলোচনা করার পর ৯৭ নং আয়াতেই তাদের কাফের বলা হয়েছে। এছাড়া নবীজী সাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সালামের হাদীস থেকে জানতে পারি প্রতি ১০০০ জন জাহান্নামীর মধ্যে ৯৯৯ ইয়াজুজ মাজুজ (এবং তাদের বিশ্বব্যবস্থার অনুসরণকারী)। এরপরও যদি কেউ তাদের উপর দাওয়াতী কার্যক্রম চালু রাখতে চায় সেটা তাদের বিষয়।

সেই ঈমানদীপ্ত দল

গত কয়েকদিন যাবৎ একটি অসাধারণ ঈমানদীপ্ত কথা ফেসবুকে বারবার ভেসে উঠছে। হযরত খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহু পারস্যের সেনাপতি বরাবর চিঠি লিখছেন, “ইসলাম গ্রহণ করুন এবং এর মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভ করুন। যদি তা না করতে চান, জিযিয়া (কর) প্রদান করতে সম্মত হন; তাতে আপনার জনগণ আমাদের মুসলিমদের নিরাপত্তার অধীনে থাকবেন। অন্যথায় আমি এমন একটি দলকে ডেকে আনব যারা এমনভাবে মৃত্যু কামনা করেন – ঠিক যেভাবে আপনারা জীবন কামনা করেন।”

আসলে খালিদ রযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুর ঐ দলটি ছিল মুসলমানদের দল।

তাহলে আজকে কেন মুসলমানদের এমন একটি দল হচ্ছে না যারা এতো তীব্রভাবে মৃত্যু কামনা করে যেভাবে কাফেররা জীবন কামনা করে?

এর কারণ হচ্ছে –

আরামদায়ক বিছানা, গদি, সোফাসেট, ইলেক্ট্রিক ফ্যান, এসি, এটাচড বাথরুম, বহুতল ভবন।

এর কারণ হচ্ছে –

পায়ে হাঁটা আর ঘোড়ায় চড়ার অভ্যাসের পরিবর্তে তেল ও ইঞ্জিনচালিত যানবাহনে আরোহণের অভ্যাস পয়দা করা এবং সে অনুযায়ী রাস্তাঘাট নির্মাণ করা।

এর কারণ হচ্ছে –

এক স্ত্রী ও সংসার নিয়ে সারা জীবন অতিবাহিত করা। সাহাবা রযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুম জিহাদ করার প্রয়োজনে স্ত্রী তালাক দিয়েছেন অথবা স্ত্রীকে বিধবা করেছেন।

এর কারণ হচ্ছে –

এর কারণ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী করা, হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, বা কমপক্ষে ঢাবি বা বুয়েট।

এর কারণ হচ্ছে –

চাকরী করা, সরকারী চাকরী বা এনজিও ও মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীতে, আর হুজুররা মসজিদে, মাদ্রাসায়, ইসলামিক সংস্থায়।

উপরের তালিকা ধরে ধরে ঐ জিনিসগুলি বাদ দিলে তারপর যে মুসলিম বাহিনী গঠিত হবে তা হবে সেই খালিদ বিন ওয়ালিদ রযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুর সেই মৃত্যুঞ্জয়ী বাহিনীর মতো।

রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম একটা পাতলা বিছানায় শুতেন। সেটাকে দুই ভাজ করে আরামদায়ক করতেন না। হযরত ওমর রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহু রোদের মধ্যে বালির ওপর চাটাইতে শুয়ে থাকতেন। এভাবেই তারা জীবন অতিবাহিত করেছেন। আর আজকে আমাদের জন্য আরামদায়ক বিছানা, গদি, সোফাসেট সব হালাল, মুবাহ, জায়েজ হয়ে গেল? হালাল তো হবেই, কারণ এখন যারা হালাল হারাম ফতোয়া দেন তাদের কোলবালিশ, ফোম এসব ছাড়াতো চলেই না।
 

মনে রাখবেন, হযরত ঈসা য়ালাইহিস সালাম ও ইমাম মাহদী য়ালাইহিস সালাম গদিতে আরাম করার জন্য আসবেন না, হুন্দাই গাড়িতে চড়ার জন্য আসবেন না, চাকরী করার জন্য আসবেন না, হার্ভার্ডে পড়ার জন্য আসবেন না।

এক লেখায় আমি বলেছিলাম, এসব যন্ত্রচালিত যানবাহন হারাম। হুজুররা উঠে পরে লেগেছে তা হারাম নয় প্রমাণ করার জন্য।

আর কত হারামকে হালাল বলে তারা চালিয়ে দিবেন। আর কত মানুষকে জিহাদ বিমুখ করে রাখার সেক্যুলার ফতোয়া দিবেন?

এরা কি ইমাম মাহদীর দলে থাকবে নাকি ইয়াজুজ মাজুজের দাজ্জালী দলে! দল কিন্তু দু’টি। এর বাইরে দল নেই।

স্বপ্নের বাহন – ২

Cars

আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমান ভাইয়ের দিকে অস্ত্র তাক করতে নিষেধ করেছেন, কেননা সে জানে না কখন শয়তান তাকে আঘাত করতে প্ররোচিত করার মাধ্যমে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবে। (Bukhari, Book #88, Hadith #193)

আজকের আধুনিক যানবাহন যাকে এই লেখক ইয়াজুজ মাজুজের বাহন হিসেবে অভিহিত করছেন তার মধ্যে অস্ত্রের বৈশিষ্ট্য পুরোমাত্রায় বিদ্যমান। ছোট ইঞ্জিনচালিত গাড়ি যেন ছোট অস্ত্র, মাঝারি গাড়ি মাঝারি অস্ত্র এবং বড় গাড়ি বড় অস্ত্রের মতো। আর পথচারী অস্ত্রহীন নিরীহ মানুষের মতো। কাজেই গাড়ি যখন তীব্রবেগে ছুটে আসে তখন তা খোলা অস্ত্রের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। যার ফলে প্রায়ই নিরীহ পথচারী হতাহতের শিকার হয়। বড় গাড়ি ছোট গাড়ির ওপর চড়াও হয়।

একটি আদর্শ বাহনের দু’টি বৈশিষ্ট্য সমান্তরালে থাকতে হবে। (১) গতি, (২) নিয়ন্ত্রণ। আল্লাহপ্রদত্ত প্রাকৃতিক বাহন যা সব নবী রাসূল য়ালাইহিমুস সালাম ব্যবহার করেছেন (যেমন উট, ঘোড়া ইত্যাদি) তাদের মধ্যে এই দুটি বৈশিষ্ট্য সমান্তরালে বিদ্যমান ছিল। যত গতিই থাকুক না কেন মুহূর্তের মধ্যে তাকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলা যায়। একটি দ্রুতগামী ঘোড়ার দড়িতে টান দিলে সে সেখানেই থেমে যাবে।

অন্যদিকে আধুনিক ইয়াজুজ মাজুজীয় বাহনের ক্ষেত্রে গতি তার নিয়ন্ত্রণের ওপর প্রাধান্য লাভ করে। যা অস্ত্রের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ। ফলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।

তাই একজন মুসলমান হিসেবে এর উত্তর জানা আবশ্যিক যে এরকম একটি উন্মুক্ত অস্ত্র প্রকাশ্য রাস্তায় ব্যবহার করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কিনা। বিশেষ করে যখন রাস্তায় নিরীহ মুসলমান চলাচল করে যার মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও আছে। প্রতিনিয়ত এসব যানবাহন নামক অস্ত্রের আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পথিককে সতর্ক থাকতে হয়। তারপরও অনেকের শেষ রক্ষা হয় না।

উপরে বর্ণিত হাদীসের আলোকে তা স্পষ্টত নাজায়েয রূপে প্রতীয়মান হয়।

।।

ভাইয়েরা আমাকে প্রশ্ন করেন, তাহলে আপনি কেন এসব যানবাহন ব্যবহার করেন?

বিস্তারিত পড়ুন

স্বপ্নের বাহন

Cars

বর্তমান জমানার যানবাহন আমার কাছে খুব কষ্টকর অনুভূতি সৃষ্টি করে। আমি এগুলোকে ইয়াজুজ মাজুজের যানবাহন বলি। কে আমার সাথে একমত হবেন আর কে হবেন না তা আমার বিষয় নয়। ইসলাম মানুষকে কষ্ট দেয়ার অনুমতি দেয় না। কিন্তু বর্তমান জামানার প্রতিটি যানবাহন এমনভাবে তৈরি করা যে আপনার কষ্ট হবেই। আপনার পাশ দিয়ে একটা বাইক বা মোটর গাড়ি চলে যাবে কাদা ছিটিয়ে। কিন্তু কিছুই করার নেই। কোন ক্ষতিপূরণ নেই। সামান্য বিনয়াবনত ভঙ্গিটিও নেই। মনে হয় যে যেহেতু সে গাড়ির মালিক তাই স্বাভাবিকভাবেই কাদা ছিটানোর অধিকার রাখে। ধোঁয়া উদগিরনের অধিকার রাখে। হরণ দেয়ার অধিকার রাখে। এতে অন্য সকল মানুষের কষ্ট কোন ব্যাপার না। মাইগ্রেনের রোগী কোন ব্যাপার না। হার্টের রোগী কোন ব্যাপার না। শিশু বৃদ্ধ নারী তারাও কোন ব্যাপার না। আর গাড়িগুলো এমনভাবে চলে যায় যে নিজেকেই ছিটকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে হয়। ফুটপাথেও জায়গা পাওয়া যায় না। বিস্তারিত পড়ুন