তারা নেমে এসেছে

এবং যে শহর [জেরুজালেম] আমরা ধ্বংস করে তার অধিবাসীদের [বনী ইজরায়েলের] জন্য হারাম করে দিয়েছি, তারা পুনরায় সে শহরে ফিরে আসতে পারবে না [ইজরায়েল রাষ্ট্র গঠিত হবে না] যতক্ষণ না ইয়াজুজ মাজুজদের [খাজার ইউরোপীয়] প্রাচীর খুলে যায় এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে নেমে আসে [ব্রিটেন ও আমেরিকার সমগ্র বিশ্বদখল বা কলোনাইজেশন]। 
(সুরা আম্বিয়া: ৯৫-৯৬)

শব্দবিশ্লেষণ:

১। ওয়া হারামুন = এবং [ওয়া] + হারাম বা নিষিদ্ধ [হারামুন]
২। ‘আলা = উপর
৩। ক্বারিয়াতিন = একটি শহর বা শহরটি বা জনপদটি (ক্বারিয়াহ)
—> ওয়া হারামুন ‘আলা ক্বারিয়াহ = যে শহরটি নিষিদ্ধ করেছি
৪। আহলাকনাহা = যা আমরা ধ্বংস করেছি
—> ওয়া হারামুন ‘আলা ক্বারিয়াতিন আহলাকনাহা = যে শহরটি আমরা ধ্বংস করে হারাম করে দিয়েছি (তার অধিবাসীদের জন্য)
৫। আন্নাহুম = যে তারা (অর্থাৎ ঐ শহরের অধিবাসীরা)
৬। লা ইয়ারজিউন = না (লা) + ফিরে আসবে বা প্রত্যাবর্তন করবে (ইয়ারজিউন)
—> আন্নাহুম লা ইয়ারজিউন = যে তারা (ঐ শহরের অধিবাসীরা) ফিরে আসবে না বা প্রত্যাবর্তন করবে না
৭। হাত্তা = যতক্ষণ না
৮। ইযা ফুতিহাত = যখন (ইযা) খুলে যাচ্ছে (ফুতিহাত) [ফুতিহাত এসেছে ফাতিহা থেকে। আমরা জানি, “আলহামদু” সুরাকে সুরা ফাতিহা বলা হয় কারণ এই সুরা দিয়ে পবিত্র কোরআন খুলে বা সুচনা হয়। ফাতিহা অর্থ খোলা বা সুচনা বা ওপেনিং।]
৯। ইয়া’জুজু ওয়া মা’জুজু = ইয়াজুজ এবং [ওয়া] মাজুজ
—> হাত্তা ইযা ফুতিহাত ইয়া’জুজু ওয়া মা’জুজু = যতক্ষণ না ইয়াজুজ ও মাজুজের [প্রাচীর] খুলে যাচ্ছে।
১০। ওয়া হুম = এবং [ওয়া] তারা [হুম]
১১। মিন = থেকে
১২। কুল্লি = প্রত্যেক
১৩। হাদাবিন = উচ্চভূমি
১৪। ইয়ানসিলুন = নেমে আসে বা ছড়িয়ে পড়ে।

—> ওয়া হুম মিন কুল্লি হাদাবিন ইয়ানসিলুন = এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে নেমে আসে বা ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ ইয়াজুজ মাজুজদের ওয়ার্ল্ড অর্ডার বা বিশ্ব ব্যবস্থা কায়েম হয়।

এই আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি, ইয়াজুজ মাজুজ হচ্ছে খাজার ইউরোপীয় ইহুদি-খ্রিস্ট জায়োনিস্ট এলায়েন্স যারা প্রথমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য দ্বারা সমগ্র বিশ্ব দখল করে “ইয়ুনসিলুন” হয় ও সমগ্র বিশ্বে নিজেদের ঈশ্বরবিমুখ সেক্যুলার শরীয়াহ কায়েম করে বিশ্ববাসীকে তাদের কারবনকপিতে পরিণত করে এবং বনী ইজরায়েলকে ২০০০ বছর পর আল্লাহ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি করা ক্বারিয়াহ বা শহর জেরুজালেমে ফিরিয়ে এনে ইজরায়েল রাস্ট্র গঠন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তারা আমেরিকার দ্বারা তাদের এই “ইয়ুনসিলুন” বজায় রাখে। তাই আমরা দক্ষিণ চীন সাগরে গেলেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব, ভারত মহাসাগরে গেলেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব, পারস্য উপসাগরে গেলেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব, আর্কটিক মহাসাগরেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব। কারণ হলো “ইয়ুনসিলুন”। ইয়াজুজ মাজুজ বা খাজার ইউরোপীয় ইহুদি-খ্রিস্ট জায়োনিস্ট এলায়েন্সের বিরুদ্ধে যারাই দাঁড়াবে, হোক সে সুন্নি মুসলিম অঞ্চল চেচনিয়া ও প্রিয় নেতা রমজান কাদিরভ, হোক সে শিয়া মুসলিম দেশ ইরান, হোক সে অর্থোডক্স খ্রিস্ট দেশ রাশিয়া ও প্রিয় নেতা ভ্লাদিমির পুতিন বা হোক সে আসমানি কিতাবের জ্ঞানহীন চীন ও উত্তর কোরিয়া; তারা আমাদের বন্ধু। আমরা তাদের ভালবাসি।

Md Arefin Showrav 
http://bit.ly/2vuSBQf

ইয়াজুজ মাজুজের কাছে কি দ্বীনের দাওয়াত পৌছেছে?

যারা এখনও মনে করেন ইয়াজুজ মাজুজকে পাঠানো হবে (يبعث) দাজ্জাল বের হওয়ার পর, তাদের এই দাবি যে কুরআনের অনেকগুলো আয়াত ও হাদিসের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক তা হয়তো তারা ভেবে দেখেন না। আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমরা অতীতে বহু প্রমাণ পেশ করেছি যে ইয়াজুজ মাজুজকে পাঠানো হয়েছে এবং ইয়াজুজ মাজুজ সারা বিশ্বে ফেতনার বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
 
পবিত্র কুরআনে দয়াময় আল্লাহ্‌ বলেন,
আমি সুসংবাদদাতা ও ভীতি-প্রদর্শনকারীরূপে রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের আগমনের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ। (সূরা নিসা, ১৬৫)
 
যে কেউ সৎপথে চলে, তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়, তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না। (সূরা বনী ইসরাঈল, ১৫)
 
– অর্থাৎ বুঝা গেল, আল্লাহ্‌ কাউকে শাস্তি প্রদানের পূর্বে তার কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছান।
 
নবী করীম ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“বিচার দিবসে আদমকে তাঁর সমগ্র বংশধরদের মধ্য থেকে যারা জাহান্নামের জন্যে উপযুক্ত তাদেরকে বাছাই করতে বলা হবে। আদম প্রশ্ন করবেন,
‘হে আমার প্রতিপালক!
তারা কারা?’ আল্লাহ তা’আলা বলবেন, ‘১০০০ জনে ৯৯৯ জন জাহান্নামের জন্যে ও ১ জন জান্নাতের উপযুক্ত।’ এটা শুনে সাহাবারা ভয় পেলেন এবং বললেন, “জান্নাতের জন্যে ১ জন হবে কে?”। নবী (সাঃ) বললেন, “ভয় পেওনা। ৯৯৯ জন হবে ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং ১ জন হবে তোমাদের মাঝে।”
[সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
 
– এখানেই সেই বাস্তবতা যার কারণে দাজ্জাল আগমনের পরে ইয়াজুজ মাজুজ পাঠানোর দাবি কুরআন হাদিসের কষ্টিপাথরে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।
 
দাজ্জাল আসার পরই হযরত ঈসা য়ালাইহিস সালাম সশরীরে আবির্ভূত হবেন। আর ঈসা য়ালাইহিস সালাম মঞ্চে চলে আসার পর সমস্ত পর্দা উঠে যাবে, শেষ সময় বা সা’আ সম্পর্কে সবাই অবগত হয়ে যাবে।
 
তখন আর দ্বীনের দাওয়াত পৌছানোর কোন বিষয় থাকবে না। প্রত্যেকটি খ্রিস্টান ও ইহুদি তাদের মৃত্যুর পূর্বে ঈসা (আ) এর প্রতি ঈমান আনবে। এই ঈমানের ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তাদের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য দিবেন (সূরা নিসা, ৪ঃ১৫৯)
 
– কাজেই ইয়াজুজ মাজুজ যদি এখনও প্রাচীরের আড়ালে থাকে এবং দাজ্জাল আসার পরে বের হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই তারা ঈমানের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হবে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জানাচ্ছেন, মানবজাতির মধ্যে প্রতি ১০০০ জনে ৯৯৯ জন জাহান্নামী এবং তারা ইয়াজুজ মাজুজ।
 
আল্লাহ্‌ তায়ালা এতো বিপুল সংখ্যক মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত ব্যতিরেকে জাহান্নামে দিয়ে দিবেন এটা কুরআনের বক্তব্যের পরিপন্থী। এটা আল্লাহ্‌ তায়ালার ন্যায়-বিচারক গুণের পরিপন্থী।
 
অতএব আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, গত ১৪০০ বৎসর ধরে ইয়াজুজ মাজুজের কাছে কুরআন এবং হাদীসের বানী তথা দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে গেছে। কিন্তু তারা সে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের তৈরী জাতিসংঘ, আইএমএফ ও ন্যাটোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক, নাস্তিক ও সুদী অর্থনৈতিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
 
তারপরও যেসব ভাই গোঁয়ার গব্বরের মতো বলে চলেছেন, দাজ্জাল আসার পরে ইয়াজুজ মাজুজ বের হবে তাদের প্রতি নির্লিপ্ত করুণা ছাড়া আর কিছুর অবকাশ নেই।

ইয়াজুজ মাজুজ কি বন্দি না মুক্ত?

Why Do You Say Gog & Magog Are Released When They Are Trapped Behind An Iron Barrier? (With Bangla Subtitles)
This part is taken from lecture: Qur’an & the End Times. Held on 5 May 2011, Malaysia.

তাবারিয়া হ্রদ শুকানোর আগে ইয়াজুজ-মাজুজ মুক্তি পাবে না। অথচ আপনি বলছেন তারা বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে। বন্দী অবস্থায় তা কিভাবে সম্ভব?
উত্তর দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার, দার্শনিক এবং লেখক আল্লামা ইমরান নযর হোসেন। এই অংশটি ৫ মে ২০১১ মালেশিয়ায় ধারনকৃত ‘কোরআন ও শেষ সময়’ লেকচার থেকে নেয়া।

Imran Nazar Hosein is a leading International Islamic Philosopher, Scholar and author, specialising in world politics, economy, eschatology , modern socio-economic/political issues and expert on international affairs. He is best- selling author of Jerusalem in the Qur’an. Imran Nazar Hosein was born on the Caribbean island of Trinidad in 1942 to parents whose ancestors had migrated from India as indentured labourers. He studied Islam, Philosophy and International Relations at several universities and institutions of higher learning. Among them are al-Azhar University in Cairo, Egypt, the Institute of International Relations of the University of the West Indies in Trinidad, the University of Karachi in Pakistan, the Aleemiyah Institute of Islamic Studies in Karachi, Pakistan, and the Graduate Institute of International Studies in Geneva, Switzerland.

Deen Choudhury

ইয়াজুজ মাজুজ বিষয়ে একজনের প্রশ্নের উত্তর

একটা ইনবক্স আসল, ইয়াজুজ মাজুজ নাকি পশুর থেকে ভয়ংকর। আমি বললাম, ঠিকই তো আছে, পশুর থেকে ভয়ংকর তো বটেই। আপনি বনের কোন বাঘকে দেখেছেন হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ মেরে ফেলতে? একটা বুনো পশুকে যদি শহরে ছেড়ে দেন সে শহরের কয়জনের ক্ষতি করতে পারবে? কিন্তু একজন ইয়াজুজ মাজুজ শহরগুলোতে যুদ্ধ সৃষ্টি করে, লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষদের উপর বোমা ফেলে, খাদ্যে বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত করে, কলকারখানা ও নিউক্লিয়ার বর্জ্য দিয়ে সারা পৃথিবীর পরিবেশ দূষিত করে, মানুষকে জন্ম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করে। তাদের তৎপরতায় মানবতা শব্দটিই আজ হুমকির সম্মুখীন। তারপরও কি তারা পশুর চেয়ে ভয়ংকর নয়?

ইয়াজুজ মাজুজ

এই জীবনে ইয়াজুজ মাজুজের সাথে দেখা হয়ে যাবে কল্পনাতেও ভাবি নাই।

ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর খুলে যাওয়ার সংবাদ

প্রাচীর খুলে যাওয়া বিষয়ক হাদিসের সাথে প্রথম বার যথাযথ শিরোনাম দেখলাম। বইটির নাম- খাসায়েসুল কুবরা : নবী (সা:) জীবনের অত্যাশ্চর্য ঘটনাবলী-আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহ, ২য় খণ্ড পৃষ্ঠা নাম্বার ১২৪।

Kaisar Ahmed

Dam of Yajuj Majuj is opened

মন্তব্যসহ  বিস্তারিত পড়ুন

ইয়াজুজ মাজুজ কি মুক্তি পেয়েছে? আপনি বলছেন তারা বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে। বন্দী অবস্থায় তারা কিভাবে বিশ্ব শাসন করছে?

THE SEA OF GALILEE, ISRAEL

প্রশ্নঃ হাদীসের মাধ্যমে আমরা জানি যে, #তাবারিয়া_হ্রদ বা #সি_অব_গ্যালিলি শুকানোর আগে #ইয়াজুজ_মাজুজ মুক্তি পাবে না। অথচ আপনি বলছেন তারা বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে। বন্দী অবস্থায় তারা কিভাবে বিশ্ব শাসন করছে?

উত্তরঃ প্রশ্ন করা হয়েছে, #যুলকারনাইন প্রাচীর তৈরি করেছিলেন, তিনি লোহার ইট ব্যবহার করেছিলেন, এবং তারপর সেগুলিকে গলিত তামা দিয়ে জুড়ে দিয়েছিলেন। এবং ইয়াজুজ-মাজুজ সেখানে আটকা পড়েছিলো, এবং সেই লৌহ প্রাচীর ভেঙে তারা বেরুতে সক্ষম হয়নি। অথচ ইমরান হোসেন বলছেন যে, ইয়াজুজ-মাজুজ বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু এই প্রাচীর তো এখনও অক্ষত অবস্থায় থাকার কথা এবং তা গ্যালিলি হ্রদ শুকানোর আগে ভেঙে যাওয়ার কথা নয়। তাহলে এর ব্যাখ্যা কি?

প্রথমতঃ আমি বলতে চাই সেই হাদীসের কথা। রাসূল (সাঃ) তাঁর স্ত্রী যয়নাব (রাঃ) এর বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। এবং তিনি একটি স্বপ্ন দেখলেন। নিশ্চই স্বপ্নটি ছিলো খুবই ভয়াবহ। তিনি যখন ভয়ার্ত অবস্থায় ঘুম থেকে ঊঠলেন তাঁর মুখমন্ডল রক্তিম ছিলো। তারপর তিনি বললেন “ওয়াইলুল্লিল্ আরাব (দুর্ভাগ্য আরবদের), মিন শাররিন্ কারিব তারাবা (এক মহা অকল্যান তাদের কাছে প্রায় সমাগত)”।
কোন্ মহা অকল্যানের কথা তিনি বলছিলেন যা আরবদের ধ্বংস করে দেবে?
তারপর রাসূল (সাঃ) তাঁর দুটো আঙ্গুল দিয়ে বৃত্ত তৈরি করে দেখালেন। এই হাদীসটি সহী বুখারীতে আটবার উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূল (সাঃ) বললেন ‘আজ’, আজ শব্দের অর্থ ২০০০ বছর পর নয়, আজ অর্থাৎ আজ।
তিনি বললেন, “আজ ইয়াজুজ-মাজুজের রাদাবে এতোবড় ছিদ্র তৈরি করা হয়েছে”। রাদাব শব্দটি এখানে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। যখন যুলকারনাইনকে দেয়াল তৈরির কথা বলা হয়েছিলো তখন ‘সাদ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। ‘সাদ’ হচ্ছে দেয়াল। আর যুলকারনাইন তখন বলেছিলেন আমি একটি রাদাব তৈরি করবো। রাদাব হচ্ছে ড্যাম (বাধ)। রাসূল (সাঃ) বললেন, আজ ইয়াজুজ-মাজুজের বাধে ছিদ্র তৈরি হয়েছে, এবং একথা থেকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, ইয়াজুজ-মাজুজ তখন মুক্ত হয়ে গেছে, তা না হলে তিনি কেন বললেন, “ওয়াইলুল্লিল আরাব, মিন শাররিন কারিব তারাবা, (দুর্ভাগ্য আরবদের, এক মহা অকল্যান তাদের নিকটবর্তী)”। নিকটবর্তী বলতে দুই হাজার বছর পর বোঝায় না।

সুতরাং এই লৌহ প্রাচীর তখন চূর্ণ বিচূর্ণ হবে, যখন আল্লাহ্ তা ধ্বংস করবেন। কারন যুলকারনাইন বলেছেন,
“এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার (শেষ যুগ সম্বন্ধীয়) প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন, এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।”
(কুর’আন, সূরা কাহাফ ১৮:৯৮)

অতএব রাসূল (সাঃ) যে (খুবই ভয়ার্ত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে) বলেছেন, ছিদ্র হয়ে গেছে, তা থেকে আমরা এটাই বুঝতে পারি যে, উনার জীবনকালেই দেয়াল চূর্ণ বিচূর্ণ হয়েছে।

তবে আমাদের এখন খুব অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শুধুমাত্র একটি হাদীসের ওপর ভিত্তি করে অধিকাংশ মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, এই লৌহ প্রাচীর এখনও অক্ষত অবস্থায় আছে। কারন এই হাদীসটি বুঝতে ভুল হয়েছে। এবং এই ভুল বোঝার কারনে (ঐ হাদীসের সাথে সম্পৃক্ত) কোরআন এবং হাদীসের সমস্থ ডাটা সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে।

এই লৌহ প্রাচীর এখনও যদি অক্ষত অবস্থায় থাকে, তাহলে কোর’আনকে ভালোবাসি বলে আমার তো ইচ্ছে করবে এই লৌহ প্রাচীর দেখে আসতে। কোর’আনে এই লৌহ প্রাচীরের কথা বলা হয়েছে, এবং এই লৌহ প্রাচীর যদি আজও অক্ষত অবস্থায় থাকে, তাহলে তা খুঁজে বের করা না পর্যন্ত আমার মন ব্যাকুল থাকার কথা। যদি এ ব্যাপারে আমার মন ব্যাকুল না থাকে, যদি তা খুঁজে বের করতে আমি কোন চেষ্ঠা না করি, তাহলে বলতে হবে আমার মধ্যে সততার অভাব রয়েছে।

তাছাড়া এখন গুগল আর্থ এর কল্যাণে সমস্থ পৃথিবীর প্রতিটি স্কয়ার ইঞ্চির ছবি রয়েছে, বাসায় বসে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই লৌহ প্রাচীর খুঁজে বের করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

আসল সত্য হচ্ছে, মহানবী (সাঃ) এর সময় থেকে এখন পর্যন্ত একজন মানুষও এই লৌহ প্রাচীরকে কোথাও দেখতে পায়নি। অথচ আপনারা একটি হাদীসের ওপর ভিত্তি করে এই লৌহ প্রাচীরের অস্তিত্ব রয়েছে বলে তর্ক করছেন!

এই হাদীসে কী বলা হয়েছে? হাদীসে বলা হয়েছে, যখন ঈসা (আঃ) ফিরে আসবেন, তিনি দাজ্জালকে মেরে ফেলবেন। তারপর “ফাবা’তাল্লাহু ইয়া’জুজু ওয়া মা’জুজু…”, বা’তা এর অর্থ উত্তলন অথবা প্রেরণ, আর এখানে উত্তলন অর্থ সঠিক হতে পারে না, কারন তাদের আগেই উত্তলন করা হয়েছিলো। তাদের আগেই সৃষ্টি করা হয়েছিলো এবং তারা ফাসাদ সৃষ্টি করছিলো,
“ইন্না ইয়া’জুজা ওয়া মা’জুজা মুফসিদুনা ফিল আর্দ (ইয়াজুজ-মাজুজ এদেশে ফাসাদ সৃষ্টি করে রেখেছে)”
সূরা কাহাফ ১৮:৯৪

তাহলে এখানে উত্তলন অর্থটি সঠিক হতে পারে না। এখন যে অর্থটি বাকী থাকে, তা হলো ‘প্রেরণ’। অতএব ঈসা (আঃ) দাজ্জালকে মেরে ফেলার পর ইয়াজুজ-মাজুজকে প্রেরণ করা হবে। এবং তখন হবে নিওক্লিয়ার বিশ্ব যুদ্ধ যার মাধ্যমে প্রতিটি নগর, মহানগর ধ্বংস হবে। এই হাদীসে ইয়াজুজ-মাজুজকে মুক্ত করে দেয়া হবে বলা হয়নি, প্রেরণ বা পাঠানো হবে বলা হয়েছে। মুক্ত হওয়ার কথা শুধুমাত্র কোর’আনে বলা হয়েছে। “ওয়া হারামুন আ’লা কারিয়াতিন আহলাকনাহা আন্নাহুম লা- ইয়ার্জিয়ুন। হাত্তা ইজা ফুতিহাত ইয়া’জুজ ওয়া মা’জুজ… (এবং একটি শহরকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, তাদের অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত: যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধনমুক্ত করে দেয়া হবে…)”
সূরা আম্বিয়া ২১:৯৫-৯৬

কিন্তু বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মুসলিমরা এটাই ধরে নিয়েছেন যে, বা’তা শব্দের অর্থ হচ্ছে মুক্ত। এ কেমন দূর্বল পান্ডিত্য?

মূলঃ শায়খ্ ইমরান নযর হোসেন
অনুবাদঃ Deen Choudhury (দ্বীনুজ্জামান চৌধুরী)