সেই বৃক্ষটি যার পেছনে কিছু মানুষ ছুটে

অমরত্ব ও চিরকাল শাসন করার ইচ্ছা হলো সেই বৃক্ষ যার নিকটবর্তী হতে আল্লাহপাক আদম (আ) কে নিষেধ করেছিলেন।

” এবং আমি আদমকে হুকুম করলাম যে, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং ওখানে যা চাও, যেখান থেকে চাও, পরিতৃপ্তিসহ খেতে থাক, কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হয়ো না। অন্যথায় তোমরা যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে।” (সূরা বাকারা, ২ঃ৩৫)

“অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেননি; তবে তা এ কারণে যে, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও-কিংবা হয়ে যাও চিরকাল বসবাসকারী।” (সূরা আল আ’রাফ, ৭ঃ২০)

যারা এই চিরজীবন ও চিরস্থায়ী শাসনের পেছনে ছোটে, তাদের জান্নাতে ঠাই হবে না। আমরা জানি, কারা অমরত্বের পেছনে ছোটে, কারা চিরস্থায়ী শাসন চায়। যারা ফেরাউনের ন্যায় জীবনযাপন করে অর্থাৎ জায়োনিস্ট খাজার সম্প্রদায়।

@ Md Arefin Showrav

# ইহুদী খ্রিস্টান # যায়োনিস্ট # ইয়াজুজ মাজুজ

আল্লাহ্‌ ‘কী’ জানতেন যা ফেরেশতারা জানতো না?

আধুনিক বিশ্বের জনক হলো ইয়াজুজ মাজুজ। তারা বিশ্বের সকল মানুষকে তাদের কার্বন কপিতে পরিণত করেছে। ইয়াজুজ মাজুজের কাজই হলো জমীনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা। জমীনের সবকিছু দূষিত করে ফেলা। হোক তা নদী, সমুদ্র, বন জঙ্গল! শিল্প নগরায়নের মাধ্যমে আকাশকে ধোঁয়া দিয়ে তারা বিষাক্ত করে ফেলছে। এমনকি মহাকাশকেও তারা তাদের আবর্জনা দিয়ে দূষিত করে ফেলছে। তারাই হলো ফাসেকিন বা বিপদগামী। তাদের সম্বন্ধে আল্লাহপাক বলেন,

” (বিপথগামী ওরাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ পাক যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীর বুকে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে। ওরা যথার্থই ক্ষতিগ্রস্ত।” (২ঃ২৭)

এদের সম্পর্কেই ফেরেশতারা আল্লাহপাকের কাছে জানতে চেয়েছিল,
” আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যারা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে?”

প্যাক্স ব্রিটানিকা, প্যাক্স আমেরিকানা এবং প্যাক্স জুদাইকা হলো ইয়াজুজ মাজুজদের খিলাফত।

কিন্তু আল্লাহপাক ফেরেশতাদের বলেন, “ইন্নি আয়লামু মা লা তায়লামুন। নিশ্চয়ই আমি যা জানি তোমরা তা জানো না।” সেটা কী? সেটা হলো ইতিহাসের সমাপ্তি হবে মিথ্যের উপর সত্যের চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে। ইসলামী খিলাফত বা বাইবেলের ভাষায় “আল্লাহর সাম্রাজ্য”-এর চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে।

ইয়াজুজ মাজুজের মালহামা

আসন্ন মালহামায় মুসলমানদের কোন অংশগ্রহণ নেই। এই মালহামায় কুরআনে বর্ণিত অতীতের জাতিসমূহের মতো কাফেরদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। আল্লাহ্‌র রাসূল মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফোরাত নদীর সোনার পাহাড় বের হবে। তা নিয়ে যুদ্ধ হবে। প্রতি শ’তে ৯৯ জন মারা যাবে। আল্লাহ্‌র রাসূল সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তোমরা যেন সেই সোনা স্পর্শ না করো। কাজেই প্রকৃত মুসলমানরা এই যুদ্ধ থেকে দূরে থাকবে। তাদের আল্লাহ্‌ কোনভাবে হেফাজত করবেন যেভাবে অতীতে নূহ য়ালাইহিস সালাম ও লূত য়ালাইহিস সালামের সময় করেছেন। বিপর্যয় আসবেই, কিন্তু মুসলমান বিপর্যয়কে ভয় পায় না, মুসলমান ভয় পায় আল্লাহকে। আল্লাহ্‌ মুসলমানদের সাহায্য করেন যারা নূহ য়ালাইহিস সালামের নৌকায় আরোহণ করে অর্থাৎ ফেতনা থেকে দূরে থাকে ও অনৈতিক যুদ্ধ থেকে নিজেদের বিরত রাখে। যারা সোনার পাহাড়ের আশেপাশে ক্যাচাল করতে যাবে, ফাইটার পাঠাবে, মিসাইল মারবে তারা ম্যাসাকার হয়ে যাবে। কোন মুসলিম দেশ যদি এই যুদ্ধে জড়ায় বুঝতে হবে তারা প্রকৃত মুসলিম নয়, তাদের ধ্বংস অনিবার্য। শেষপর্যন্ত ধ্বংস থেকে রেহাই পাবে মুসলমানরা। তারপরও কিছু ইয়াজুজ মাজুজ ধ্বংস্তুপে টিকে থাকবে। কারণ তারা ইয়াজুজ মাজুজ। যতক্ষণ না আল্লাহ্‌ তায়ালা গায়েবিভাবে তাদের ধ্বংস করেন। কারণ আল্লাহ্‌ বলেন, আমার এক সৃষ্টি আছে, যাদের আমি ছাড়া আর কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। আসলে তারা এতো পাপ করেছে যেই পাপের শাস্তিটা আল্লাহ্‌ পাক নিজের হাতেই দিবেন।

সত্য দ্বীন

গতবছরও মার্চ মাসে ফেসবুক রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে গরম ছিল। প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তনের একটা ধুম পড়েছিল। গরমের হালকা বাতাস অফলাইনের ময়দানেও ছিল। এবার মার্চে অবশ্য ফেসবুকের ময়দানই ঠান্ডা, অফলাইনে তো মনে হয় বরফ। শোনা যাচ্ছে রাষ্ট্রধর্ম নাকি আবারও কাঠগড়ায় দাড়াচ্ছে। তা দাঁড়াক। রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে আমার কোন ফেসিনেশন নেই। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম আবু জাহেলের নিকট রাষ্ট্রধর্ম দাবি করেন নাই। আল্লাহ্‌ তাঁর রাসুলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহ পাঠিয়েছেন তাঁকে সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করার জন্য। তিনি তাই করেছেন। হযরত ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাই করার জন্যই আসবেন। ইসরাইলের কাছে ইসলাম পালনের অনুমতি চাইতে আসবেন না।

লিঙ্কঃ রাষ্ট্রধর্ম

ভাঙ্গা প্রাচীরের সেই ছিদ্র টি

ছিদ্র হওয়ার ব্যাপারটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। একে তো এটি রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম হাত দিয়ে ছিদ্রের মতো করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ইয়াজুজ মাজুজের দেয়ালে এতোটুকু ছিদ্র হয়েছে – যাতে উম্মতের কোন নিরক্ষর মানুষেরও বুঝতে সমস্যা না হয়। শুধু মুখেই বলেন নি, আঙ্গুল দিয়ে ছিদ্রের মতো করে দেখিয়েছেন। আর কুরআন দ্বারা তার এ আমল ব্যাকিং পেয়েছে। সূরা কাহাফে শেষ দশ আয়াতের মাত্র একটু আগে আল্লাহ্‌ তায়ালা দেয়াল ছিদ্রের কথা বলেছেন।

কি পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ !!

যখনই মানুষ শেষ দশ আয়াত আমলের জন্য তিলাওয়াত করবে তখনই নিশ্চয়ই কারো না কারো চোখে ছিদ্রের বিষয়টা আসবে। আর এর ব্যাখ্যা খুঁজতে গেলেই চোখে পড়বে মুসলিম শরীফের ফেতনার অধ্যায়ের ১ম হাদীসটা। উম্মুল মুমিনীন যয়নব বিনতে জাহাশ রাযি -র সেই বিখ্যাত হাদীস, যেখানে নবীজী সা নিজের পবিত্র হাত দিয়ে ছিদ্র তৈরী করে দেখিয়েছেন।

সুবহানআল্লাহ ! সুবহানআল্লাহ !!

তারপরও যারা মানতে পারবে না? তাদের জন্য শেষ দশ আয়াতের প্রথমেই আছে সতর্কবাণী। “যাদের চক্ষু আমার যিকির থেকে পর্দায় আবৃত ছিলো এবং যারা শুনতেও ছিলো অপারগ।” প্রতি সপ্তাহে এই আমল করতে থাকো তারপরও যদি চোখ থেকে পর্দা কিছু সরে, কান একটু শোনার উপযোগী হয়। অনেক তো শায়খের দল ভারী করলে, হে নবী হে নবী -র গজলে গজলে মাহফিল মাতালে।

আলহামদুলিল্লাহ।

।।

যুলকারনাইন দেয়াল তৈরী করার পর সেই দেয়ালটির বৈশিষ্ট্য হল এরকমঃ

فَمَا اسْطَاعُوا أَن يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا

অতঃপর তারা (ইয়াজুজ মাজুজ) তা অতিক্রম করতে পারল না এবং তাতে ছিদ্রও করতে পারল না। (সূরা কাহাফ, ৯৭)

ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে যে প্রাচীরটি

(১) প্রাচীরে ছিদ্র হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের আমলে।

(২) ফেতনার দরজা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে হযরত উমর রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুর শাহাদাতের মাধ্যমে।

খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ

মুসলিম শরীফে ফেতনার অধ্যায়ে প্রথম হাদীসে নিয়ে আসা হয়েছে ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর খুলে যাওয়ার উম্মুল মুমিনীন যয়নব বিনতে জাহাশ রাযি -র সেই বিখ্যাত হাদীসটি। প্রাচীরটি ছিদ্র হওয়ার মাধ্যমে এটি খুলে যায় যা এর দুই পাশকে একীভূত করে ফেলে। যার ফলে ঐ পাশ থেকে ফেতনা তরঙ্গের মতো এ’পাশে আসা শুরু করে। হ্যাঁ, কুরআনে তরঙ্গের কথাই বলা হয়েছে। রাসূল সা প্রাচীর খুলে যাওয়ার এই ঘটনায় ভীত হয়ে পড়েন। এমনকি উম্মুল মুমিনীনও এটা সন্দেহ করেন যে এই ফেতনায় নেককার বদকার সবাই হালাক হয়ে যাবে। এই ফেতনা আর কিছুই নয়, ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনা। এই প্রাচীর খুলে যাওয়ার মাধ্যমে ইয়াজুজ মাজুজ মুক্তি পেয়ে যায়। আর কুরআন বলে পরবর্তীতে এক সময় এ প্রাচীরটিকে আল্লাহ্‌ তায়ালা নিশ্চিহ্ন করে দেন। আজকে এই ফেতনায় নেককার বদকার সবাই হালাক হওয়ার উপক্রম। সারা দুনিয়া জুড়ে বর্তমানের ফেতনা কোন সাধারণ ফেতনা নয়। এটাই ইয়াজুজ মাজুজের দেয়ালের ওপার থেকে আগত ফেতনা।

মুসলিম শরীফে ফেতনা ও তা থেকে বেঁচে থাকা বিষয়ক হাদীসগুলো বর্ণনা করা হয়েছে দাজ্জাল বিষয়ের পূর্বে। অর্থাৎ দাজ্জাল আসার পূর্ব থেকেই ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনা ক্রিয়াশীল থাকবে।

ইয়াজুজ মাজুজের দেয়ালটি সম্ভবত পুরোপুরি ভেঙ্গে যায় হযরত উমর রাযি এর মৃত্যুর / শাহাদাতের সময়।

হযরত হুযাইফা রাযি এর ফেতনার হাদীসগুলো মুখস্থ ছিল ঠিক যেরূপ তিনি আল্লাহ্‌র রাসূল সা এর থেকে শুনেছেন। এ কথা শুনে উমর রাযি বললেন, তুমি তো বেশ নির্ভীক। বল তো শুনি, তিনি (সা) কিরূপ বলেছেন। আমি জানতে চাই ঐ ফেতনা সম্পর্কে যা সমুদ্রের অন্তহীন ঢেউয়ের মতো ঢেউ খেলতে থাকবে। (বুঝাই যাচ্ছে উমর রাযি ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। কারণ আল্লাহ্‌ কুরআনে ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনাকে ঢেউয়ের সাথে তুলনা করেছেন।) হুযাইফা রাযি বললেন, হে আমীরূল মুমিনীন ! ওসব ফেতনার সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। আপনার ও ওসব ফেতনার মাঝে একটা রুদ্ধদ্বার বিদ্যমান। উমর রাযি বললেন, সে দরজা কি ভেঙ্গে ফেলা হবে? নাকি খুলে দেয়া হবে? হুযাইফা রযি বললেন, না বরং ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমর রাযি বললেন, তাহলে তা আর কখনো বন্ধ না করা উচিৎ।

হুযাইফা রযি কে জিজ্ঞাসা করা হল উমর রাযি কি এ দরজা সম্পর্কে জানতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ তিনি এরূপ নিশ্চিতভাবে জানেন যেমন আগামীকালের পূর্বে রাত্রির আগমন সম্পর্কে জানেন।

আমি খুব জোর ধারণা করি এ দেয়ালটি ছিল প্রকৃতপক্ষে জুলকারনাইনের সেই দেয়াল যা আল্লাহ্‌ ভেঙ্গে ফেলবেন বলে অঙ্গীকার করেছিলেন।

উমর রাযি এর শাহাদাতের পরই সাড়া দুনিয়ায় ইয়াজুজ মাজুজের ফেতনা কার্যকরী হয়। এবং এটা সাধারণ কোন ফেতনা নয়। এ ফেতনা হচ্ছে আল্লাহ্‌ কর্তৃক নির্ধারিত Divine Decision যা কুরআনের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন।

উমর রাযি কেন রহস্যময়ভাবে বললেন, তাহলে তা আর কখনো বন্ধ না করা উচিৎ ? কারণ তিনি জানতেন এটাই আল্লাহ্‌পাকের ইচ্ছা। এটাই কুরআনের ভবিষ্যৎবাণী যে এই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হবে। আর এটাই উমর রাযি নিশ্চিত হতে চাইছিলেন যে, সে দরজা কি ভেঙ্গে ফেলা হবে? নাকি খুলে দেয়া হবে? কারণ কুরআনে দরজা ভেঙ্গে ফেলার কথা বলা হয়েছে।

যে বলবে বিশ্বাস করি না ইয়াজুজ মাজুজ মুক্তি পেয়ে গেছে? আমি বলব, না করেন ভাই, আলহামদুলিল্লাহ। আমার সীমিত জ্ঞানে আমি যা বলছি তা আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন।

sahih-muslim-kitabul-fitnahsahih-muslim-hadith-7061-umar-r-and-door-of-fitnah

ছিদ্র ও তরঙ্গ ।।…।।…।।…।।…।।…

standing_wavestanding_wavesimple_harmonic_motion

simple_harmonic_motion

কণাগুলোর ভাইব্রেশন বা উপর-নীচ উঠানামায় তরঙ্গ সামনের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। সিম্পল হারমোনিক মোশন।

উম্মুল মু’মিনীন যয়নাব বিনতে জাহাশ (রাযি) থেকে বর্ণিত হাদীসটিতে আমরা জানতে পারি, একদা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লাম উদ্বিগ্ন ও চেহারা রক্তিম বর্ণ অবস্থায় বের হয়ে বলতে লাগলেন, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ! আরব জাহানের উপর বড়ই অকল্যাণ ঘনিয়ে এসেছে। আজ ইয়াজুজ মাজুজ পরিবেষ্টিত দেয়ালটির এতোটুকু উন্মুক্ত হয়ে গেছে। এ বলে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুল ও শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা একটি বেড় তৈরী করে দেখালেন। যয়নাব (রাযি) জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া, রাসূলুল্লাহ ! আমরাও কি ধ্বংস হয়ে যাব অথচ অনেক নেককার লোক আমাদের মধ্যে আছেন? রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লাম বললেন, হ্যা ! কারণ তখন পাপাচার বেড়ে যাবে। (অর্থাৎ পাপাচার বেশী হলে নেককার বদকার সবাই হালাক হবে।) (মুসলিম)

আল্লাহতায়ালা বলেন, “যুলকারনাইন বললেন, এটা আমার রবের অনুগ্রহ, যখন আমার রবের প্রতিশ্রুত সময় আসবে তখন তিনি ওটা (দেয়াল) চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন, এবং আমার রবের প্রতিশ্রুতি সত্য।

সেদিন আমি তাদের (ইয়াজুজ মাজুজদের) ছেড়ে দেবো একের পর এক তরঙ্গের আকারে (এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে, অতঃপর তাদের সবাইকে আমি একত্রিত করব)” (সূরা কাহাফ, ৯৮-৯৯)

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লাম বললেন, আজকে দেয়ালে এতোটুকু ছিদ্র হয়েছে। এরপর তিনি আঙ্গুল দিয়ে বৃত্ত তৈরী করে দেখালেন।

আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমি তাদের ছেড়ে দেব তরঙ্গের মতো।

একটু চিন্তা করে দেখুন, (আল্লাহতায়ালা চিন্তাশীলদের জন্য অনেক নিদর্শন রেখেছেন) তরঙ্গ কাকে বলে? এতটুকু পরিমাণ ছিদ্র কি তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট? হ্যা, এটিই ফিজিক্সের জ্ঞান প্রয়োগের একটি সর্বোৎকৃষ্ট স্থান। এখানে তরঙ্গের কথা বলা হয়েছে, পঙ্গপালের কথা বলা হয়নি। এটাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে কুরআনের বর্ণনাভঙ্গীর পার্থক্য করে দেয়। এমন নয় যে, ইয়াজুজ মাজুজরা দলে দলে বের হয়ে পঙ্গপালের মতো সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়াটা আবশ্যক। বরং তারা তরঙ্গ বৈশিষ্ট্য ধারণ করে সারা পৃথিবীতে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম।

তাহলে বুঝতে পারবেন, বস্তুত সেদিন থেকেই ইয়াজুজ মাজুজের প্রভাব একটি ফ্রিকোয়েন্সি বা তরঙ্গের গতিতে সারা বিশ্বে পড়তে শুরু করেছে।

তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জন্য এতোটুকু ছিদ্রই যথেষ্ট। কয়েকটি তরঙ্গের উদাহরণঃ

(১) সমুদ্রের ঢেউ।

(২) বেতার তরঙ্গ, মাইক্রোওয়েভ, অবলোহিত রশ্মি, দৃশ্যমান আলো, অতিবেগুনী রশ্মি, এক্স রে, এবং গামা রশ্মি দ্বারা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। এই ধরণের তরঙ্গের ক্ষেত্রে তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। শূণ্য মাধ্যমে এই তরঙ্গের গতিবেগ আলোর বেগের সমান।

(৩) শব্দ তরঙ্গ।

(৪) ভূকম্পীয় তরঙ্গ – ভূমিকম্প বা বিস্ফোরণজনিত কারণে পৃথিবীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত তরঙ্গ।

(৫) মহাকর্ষীয় তরঙ্গ – মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রে আন্দোলনজনিত কারণে উদ্ভূত আলোর সমান বেগে ধাবমান অতি ক্ষীণ তরঙ্গ। ইত্যাদি।

আমরা দেখি, এতোটুকু ছিদ্র দিয়ে যেকোন তরঙ্গ যেকোন দিকে শব্দের গতিতে বা আলোর গতিতে প্রবাহিত হতে পারে।

এখানে আরো একটি বিস্ময়কর ব্যাপার আছে। তরঙ্গের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যগুলো যদি আমরা গবেষণা করি তাহলে দেখতে পাব, তরঙ্গ বা ঢেউ হলো এক ধরনের পর্যাবৃত্ত আন্দোলন যা কোন জড় মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে নিজ নিজ স্থান থেকে স্থানান্তরিত হয় না।

wave

অর্থাৎ তরঙ্গের কনাগুলো স্থানান্তরিত না হয়েই এর ভেতরের শক্তি প্রবাহিত হতে পারে। সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে। তরঙ্গের প্রবাহের অভিমুখ বা দিক আছে।

আল্লাহতায়ালা তরঙ্গের আকারে ইয়াজুজ মাজুজদের ছেড়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ ইয়াজুজ মাজুজের অন্তর্গত শক্তি বা অপশক্তি তাদের নিজেদের স্থান পরিবর্তন ছাড়াই সারা পৃথিবীর যেকোন স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। যেমন, টর্চ লাইট থেকে আলোকশক্তি তরঙ্গের আকারে ছোট্ট একটু বিন্দুর মতো ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে বহু দূরের দেয়ালে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

এটিই পয়েন্ট যে, ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে গেছে এবং সেটা পঙ্গপালের মতো মিছিল করে বা বিপুল সংখ্যাধিক্যের মতো করে নয়, বরং তরঙ্গের আকারে, যা একস্থানে উপস্থিত থেকে অন্য স্থানে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

কাজেই এ দুটো বিষয় হচ্ছে ইয়াজুজ মাজুজকে উপলব্ধির মূল বিষয়,

(১) দেয়ালে ছিদ্র হয়েছে
(২) তরঙ্গের আকারে ইয়াজুজ মাজুজকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আর তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জন্য অতটুকু ছিদ্রই যথেষ্ট।

surface_waves

যদিও শায়খ ইমরান নযর হোসেনের গবেষণা থেকে আমরা বিশ্বাস করি, ইতিমধ্যে সেই দেয়ালটি চূর্ন বিচূর্ণ হয়ে গেছে এবং ইয়াজুজ মাজুজ সশরীরে বের হয়ে এসেছে এবং সেই হ্রদটির পানিও শেষ করে ফেলছে। তারপরও, আশা করি কুরআনে বর্ণিত তরঙ্গ বিষয়ক এই গবেষণা ইয়াজুজ মাজুজের উপস্থিতি ও তাদের প্রভাবকে আরো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।

#standing_wave #simple_harmonic_motion #surface_waves