সময়ের ছায়া

“যখন তোমরা মাক্কাতে সুড়ঙ্গ খুড়তে দেখবে। আর দেখবে দালানগুলো পর্বতের চুড়া ছাড়িয়ে গেছে। তখন জেনে রাখো সময় (আস সা’আহ) তার ছায়া ফেলে দিয়েছে।”
(মুসান্নাফ আবী শাইবাঃ ১২৪)

মুসলিম আলিমগণের মতে এই হাদীছে পৃথিবীর শেষ সময়ের নিদর্শনের কথা বলা হয়েছে।

এখন মাক্কাতে সুড়ঙ্গ দিয়ে গাড়ী চলে। দালানগুলোর চুড়া পর্বতকে ছাড়িয়ে গেছে। একটি দালানের নাম বুর্জ আস সা’আহ। এটি মাক্কাহ টাওয়ার নামে পরিচিত। একে জমজম টাওয়ারও বলে। এই দালানের মাথায় একটি ঘড়ি (সময়) আছে। দালানটি কাবার কাছে অবস্থিত। প্রতিদিন এর ছায়া কাবার উপর পড়ে।

@ Kishwar Kabir

Advertisements

শেকড় কামড়িয়ে পড়ে থাকো

(১) কতিপয় নির্বোধ বালকের হাতে হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত ধ্বংস হবে। ঐ সব বালকের প্রতি আল্লাহ্‌র লা’নত বর্ষিত হোক। ঐ বালকগুলো কুরাইশ বংশের। এদের পদচারণা সিরিয়া ও তার আশেপাশের এলাকা। এই হাদিসটি আবু হুরাইরা রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহু থেকে বর্ণিত। এই হাদিসটি বিস্তারিতভাবে বোখারী শরীফে ফেতনার অধ্যায়ে বর্ণিত আছে। সম্ভবত এরা আইএস হতে পারে। আল্লাহ্‌ ভালো জানেন।

(২) কিয়ামতের পূর্বে একটি যুগের কথা বলা হয়েছে মূর্খতার যুগ ও হারজের। হারজ অর্থ হত্যা, হত্যা। আমার ধারণা আমরা এই যুগে বাস করছি। মূর্খতার ও হত্যার যুগ।

(৩) প্রতিটি যুগের চেয়ে তার পরবর্তী যুগ আরো নিকৃষ্টতর।

(৪) দুনিয়ায় অনেক নারী কাপড় পড়বে। কিন্তু পরকালে বিবস্ত্র থাকবে।

(৫) কোন মুসলমানের প্রতি অস্ত্র দিয়ে ইশারা করা নিষেধ।

(৬) কোন মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসেকী ও হত্যা করা কুফরি।

(৭) ফিতনার সময় বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চাইতে, দাঁড়ানো ব্যক্তি হাঁটা ব্যক্তির চাইতে, হাঁটা ব্যক্তি দৌড়ানো ব্যক্তির চাইতে উত্তম। এ সময় নিরাপদ আশ্রয়স্থল পেলে সেখানে অবস্থান করো।

(৮) যদি মুসলমানদের জামা’ত না থাকে তাহলে দলমত পরিত্যাগ করে যথাসম্ভব শেকড় কামড়িয়ে পড়ে থাকো, যতক্ষণ না সে অবস্থায় তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়। — আমার মতে, শেকড় কামড়িয়ে পড়ে থাকা অর্থ হলো, ইসলামী মূল বিধিবিধানগুলো (যেমন সালাত, সিয়াম, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি) মেনে চলো। দৃঢ়ভাবে।

এর দ্বরা কুরআন ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধরে থাকার কথাও বুঝানো হয়ে থাকতে পারে। এটাই বেশী যুক্তিসঙ্গত ও সহজবোধ্য।

আল্লাহ্‌ যেন দলমত পরিত্যাগ করে (শিয়া, সুন্নি, হানাফী, তবলিগী, দেওবন্দি, বেরলভী ইত্যাদি) শেকড় কামড়িয়ে পড়ে থাকার তৌফিক দেন।

(৯) নবীজী সাঃ বলেন, আমি দেখতে পাচ্ছি তোমাদের ঘরগুলোতে ফেতনা বৃষ্টিধারার মতো প্রবাহিত হচ্ছে।

(১০) ফেতনার দিকে তাকিও না, ফেতনার দিকে তাকালে ফেতনাও তোমার দিকে তাকাবে।

সবকয়টি পয়েন্টই বোখারী শরীফের ফেতনার অধ্যায়ের কয়েকটি হাদীসের সারাংশ।

যৈতুন বৃক্ষের ছায়ায়

রাশিয়ান সেনাবাহিনী সিরিয়ার আলেপ্পোয় পাঁচ হাজার যৈতুন গাছ লাগিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। আল কুরআনে এই পবিত্র গাছকে “যৈতুন” নামে অভিহিত করা হয়েছে। আল হাদিস অনুযায়ী, এই জলপাই গাছেই কন্সট্যান্টিনোপল বিজয়ী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মুসলিম বাহিনী তাদের তলোয়ার ঝুলিয়ে রেখে বিশ্রাম নেবে।

News: Russian troops help plant 5,000 olive trees in eastern Aleppo

Hadith Ref: http://sunnah.com/muslim/54/44

Hadith Text:

Abu Huraira reported Allah’s Messenger (ﷺ) as saying:

The Last Hour would not come until the Romans would land at al-A’maq or in Dabiq. An army consisting of the best (soldiers) of the people of the earth at that time will come from Medina (to counteract them). When they will arrange themselves in ranks, the Romans would say: Do not stand between us and those (Muslims) who took prisoners from amongst us. Let us fight with them; and the Muslims would say: Nay, by Allah, we would never get aside from you and from our brethren that you may fight them. They will then fight and a third (part) of the army would run away, whom Allah will never forgive. A third (part of the army) which would be constituted of excellent martyrs in Allah’s eye, would be killed and the third who would never be put to trial would win and they would be conquerors of Constantinople. And as they would be busy in distributing the spoils of war (amongst themselves) after hanging their swords by the olive trees, the Satan would cry: The Dajjal has taken your place among your family. They would then come out, but it would be of no avail. And when they would come to Syria, he would come out while they would be still preparing themselves for battle drawing up the ranks. Certainly, the time of prayer shall come and then Jesus (peace be upon him) son of Mary would descend and would lead them in prayer. When the enemy of Allah would see him, it would (disappear) just as the salt dissolves itself in water and if he (Jesus) were not to confront them at all, even then it would dissolve completely, but Allah would kill them by his hand and he would show them their blood on his lance (the lance of Jesus Christ).
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ الرُّومُ بِالأَعْمَاقِ أَوْ بِدَابِقَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ جَيْشٌ مِنَ الْمَدِينَةِ مِنْ خِيَارِ أَهْلِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ فَإِذَا تَصَافُّوا قَالَتِ الرُّومُ خَلُّوا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الَّذِينَ سَبَوْا مِنَّا نُقَاتِلْهُمْ ‏.‏ فَيَقُولُ الْمُسْلِمُونَ لاَ وَاللَّهِ لاَ نُخَلِّي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ إِخْوَانِنَا ‏.‏ فَيُقَاتِلُونَهُمْ فَيَنْهَزِمُ ثُلُثٌ لاَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ أَبَدًا وَيُقْتَلُ ثُلُثُهُمْ أَفْضَلُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ وَيَفْتَتِحُ الثُّلُثُ لاَ يُفْتَنُونَ أَبَدًا فَيَفْتَتِحُونَ قُسْطُنْطِينِيَّةَ فَبَيْنَمَا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْغَنَائِمَ قَدْ عَلَّقُوا سُيُوفَهُمْ بِالزَّيْتُونِ إِذْ صَاحَ فِيهِمُ الشَّيْطَانُ إِنَّ الْمَسِيحَ قَدْ خَلَفَكُمْ فِي أَهْلِيكُمْ ‏.‏ فَيَخْرُجُونَ وَذَلِكَ بَاطِلٌ فَإِذَا جَاءُوا الشَّأْمَ خَرَجَ فَبَيْنَمَا هُمْ يُعِدُّونَ لِلْقِتَالِ يُسَوُّونَ الصُّفُوفَ إِذْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَأَمَّهُمْ فَإِذَا رَآهُ عَدُوُّ اللَّهِ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ فَلَوْ تَرَكَهُ لاَنْذَابَ حَتَّى يَهْلِكَ وَلَكِنْ يَقْتُلُهُ اللَّهُ بِيَدِهِ فَيُرِيهِمْ دَمَهُ فِي حَرْبَتِهِ ‏”‏ ‏.
Reference  : Sahih Muslim 2897
In-book reference  : Book 54, Hadith 44
USC-MSA web (English) reference  : Book 41, Hadith 6924
  (deprecated numbering scheme)

……

টীকাঃ মদিনা বলতে সিরিয়া বুঝানো হয়েছে, আরবীতে মদিনা অর্থ শহর। এখানে শেষ যুগের সিরিয়ার যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।

রোমান বাহিনী বলতে পশ্চিম রোমান বা আমেরিকা ন্যাটো বুঝানো হয়েছে। রাশিয়া পূর্ব রোমানের অন্তর্গত।

যৈতুন জলপাই সদৃশ একটি গাছ।

Olive Tree

লাল গরুড়ের ছানা

পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় লাল বাছুর পাওয়া গেছে যা ইহুদিদের তৃতীয় মন্দির নির্মাণে ব্যবহৃত হওয়ার উপযুক্ত। ইহুদি ট্রেডিশন অনুযায়ী, তৃতীয় মন্দির নির্মাণের আগে লাল বাছুরের ছাই দ্বারা ইহুদিদের পবিত্র হয়ে নিতে হবে। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় এমন একটি লাল বাছুর পাওয়া গেছে যা তওরাতে বর্ণিত বিবরণগুলোর সাথে মিলে যায়। উল্লেখ্য, পবিত্র কোরানের সুরা বাকারায়ও এই ধরণের বাছুরের কথা উল্লেখ আছে যেখানে হযরত মুসা (আ) বণী ইজরায়েলকে এই জাতীয় বাছুর কুরবানি করতে বলেছিলেন।

A retiree in West Virginia has discovered a red heifer, and by all appearances, the young and unique cow is suitable to clear the path for service in the Third Temple to begin. Bill Shuff, a retired civil engineer from West Virginia, discovered the…
BREAKINGISRAELNEWS.COM|BY STAFF WRITER

চাদটা ছিল লাল

আজকে চাঁদটা বেশী লাল ছিল। সন্ধ্যাবেলায়। আমি নিশ্চিত হওয়ার জন্য রিকশাওয়ালা ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই চাঁদটা কি আজকে বেশী লাল না? ভাই রিকশা চালাতে চালাতে চাঁদের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, বেশী গরম চেইতা উঠলে চাঁদ লাল হইয়ে যায়। আস্তে আস্তে গরম চেইতা উঠতেছে তো। আমি নিশ্চিত হলাম, তাহলে লালই হবে। চোখের ভুল নয়।
February 11, 2017 at 12:48am

পোস্ট প্যাক্স জুদাইকা (Pax Judaica)

Broken Cross

Broken Cross and Star of David

ঈসা য়ালাইহিস সালাম ক্রস ভেঙ্গে ফেলবেন (অর্থাৎ খ্রিস্টান ধর্ম বিলুপ্ত ঘোষণা করবেন), শূকর হত্যা করবেন (দাজ্জাল / ইহুদী হত্যা করবেন), জিযিয়া কর তুলে দেবেন (সম্পদে এতো বরকত হবে এবং প্রায় সকলেই মুসলমান হয়ে যাবে যে জন্য জিযিয়া গ্রহণের প্রয়োজন হবে না, পাশাপাশি সুদী লেনদেনও বিলুপ্ত করা হবে। অর্থাৎ জিযিয়ার মতো হালাল আয়েরও প্রয়োজন হবে না, সুদের মতো হারাম আয়ের কি প্রয়োজন হতে পারে? তাই ব্যাংকগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যাংকিং ক্যারিয়ারও বিলুপ্ত হবে)।

Narrated Abu Huraira (R): Allah’s Apostle said (Peace Be Upon Him), “By Him in Whose Hands my soul is, Son of Mary (jesus) will shortly descend amongst you people (Muslims) as a just ruler and will break the Cross and kill the pig and abolish the Jizya (a tax taken from the non-Muslims, who are in the protection, of the Muslim government). Then there will be abundance of money and no-body will accept charitable gifts. (Sahih Bukhari, Book #34, Hadith #425)

কিয়ামতের আলামতের বিষয়ে আলেমসমাজের প্রতিক্রিয়া

যখন পৃথিবী নিত্য নতুন ব্যান্ড, সঙ্গীত ও মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল, গ্ল্যামার জগতকে আইকন মানা শুরু করল তখনও আমাদের আলেম সমাজ মনে করল কিয়ামতের তো অনেক দেরী।

যখন যুব সমাজ পথভ্রষ্ট হল, তখনও আমরা মনে করলাম এদের বয়স অল্প, সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ঠিক আর হল না। সমস্যা আরো বেড়ে গেল।

যখন সুদ সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ল আমরা মনে করলাম এ আর এমন কি। অথচ ইতিমধ্যেই মানবজাতি আল্লাহর সাথে যুদ্ধ শুরু করে দিল।

যখন সুউচ্চ অট্টালিকাতে শহর ছেয়ে গেল, অযোগ্যরা শাসক হল, সারা পৃথিবীতে রক্তের বন্যা বইতে লাগল আমরা তখন মাযহাব আর লা মাযহাব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম।

যখন বলা হল ইয়াজুজ মাজুজ মুক্তি পেয়ে গেছে আরো প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে তখন আপনারা বললেন, ধুর এসব কি বলে?

ইয়াজুজ মাজুজের ফিতনাও আপনাদের কাছে ফিতনা মনে হল না, আধুনিক জগতের সবকিছুকে আল্লাহর নেয়ামত মনে হল।

চোখের সামনে ইয়াজুজ মাজুজ দেখে ইয়াজুজ মাজুজ না চিনলে দাজ্জাল কিভাবে চিনবেন? ইম্পসিবল।

শায়খ ইমরান নযর হোসেন এসব বিষয়ে মূল্যবান কাজ করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ! তার বইগুলো পড়ে উপকৃত হচ্ছি। লিঙ্ক।