পোস্ট প্যাক্স জুদাইকা (Pax Judaica)

Broken Cross

Broken Cross and Star of David

ঈসা য়ালাইহিস সালাম ক্রস ভেঙ্গে ফেলবেন (অর্থাৎ খ্রিস্টান ধর্ম বিলুপ্ত ঘোষণা করবেন), শূকর হত্যা করবেন (দাজ্জাল / ইহুদী হত্যা করবেন), জিযিয়া কর তুলে দেবেন (সম্পদে এতো বরকত হবে এবং প্রায় সকলেই মুসলমান হয়ে যাবে যে জন্য জিযিয়া গ্রহণের প্রয়োজন হবে না, পাশাপাশি সুদী লেনদেনও বিলুপ্ত করা হবে। অর্থাৎ জিযিয়ার মতো হালাল আয়েরও প্রয়োজন হবে না, সুদের মতো হারাম আয়ের কি প্রয়োজন হতে পারে? তাই ব্যাংকগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যাংকিং ক্যারিয়ারও বিলুপ্ত হবে)।

Narrated Abu Huraira (R): Allah’s Apostle said (Peace Be Upon Him), “By Him in Whose Hands my soul is, Son of Mary (jesus) will shortly descend amongst you people (Muslims) as a just ruler and will break the Cross and kill the pig and abolish the Jizya (a tax taken from the non-Muslims, who are in the protection, of the Muslim government). Then there will be abundance of money and no-body will accept charitable gifts. (Sahih Bukhari, Book #34, Hadith #425)

কিয়ামতের আলামতের বিষয়ে আলেমসমাজের প্রতিক্রিয়া

যখন পৃথিবী নিত্য নতুন ব্যান্ড, সঙ্গীত ও মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল, গ্ল্যামার জগতকে আইকন মানা শুরু করল তখনও আমাদের আলেম সমাজ মনে করল কিয়ামতের তো অনেক দেরী।

যখন যুব সমাজ পথভ্রষ্ট হল, তখনও আমরা মনে করলাম এদের বয়স অল্প, সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ঠিক আর হল না। সমস্যা আরো বেড়ে গেল।

যখন সুদ সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ল আমরা মনে করলাম এ আর এমন কি। অথচ ইতিমধ্যেই মানবজাতি আল্লাহর সাথে যুদ্ধ শুরু করে দিল।

যখন সুউচ্চ অট্টালিকাতে শহর ছেয়ে গেল, অযোগ্যরা শাসক হল, সারা পৃথিবীতে রক্তের বন্যা বইতে লাগল আমরা তখন মাযহাব আর লা মাযহাব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম।

যখন বলা হল ইয়াজুজ মাজুজ মুক্তি পেয়ে গেছে আরো প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে তখন আপনারা বললেন, ধুর এসব কি বলে?

ইয়াজুজ মাজুজের ফিতনাও আপনাদের কাছে ফিতনা মনে হল না, আধুনিক জগতের সবকিছুকে আল্লাহর নেয়ামত মনে হল।

চোখের সামনে ইয়াজুজ মাজুজ দেখে ইয়াজুজ মাজুজ না চিনলে দাজ্জাল কিভাবে চিনবেন? ইম্পসিবল।

শায়খ ইমরান নযর হোসেন এসব বিষয়ে মূল্যবান কাজ করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ! তার বইগুলো পড়ে উপকৃত হচ্ছি। লিঙ্ক।

পাথর কথা বলবে

 

Faris_odeh

The iconic picture of Faris Odeh (فارس عودة) throwing a stone at an Israel Defense Forces tank in the Gaza Strip, 29 October 2000 Born: December 1985, Gaza Strip Died: 8 November 2000 (aged 14) Nationality: Palestinian https://en.wikipedia.org/wiki/Faris_Odeh


আবু হুরাইরা (রাযিআল্লাহুতায়ালা য়ানহু) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হউক) বলেছেনঃ কেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত মুসলিমরা ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং মুসলিমরা ইহুদিদেরকে হত্যা করবে যতক্ষণ পর্যন্ত ইহুদিরা পাথর অথবা গাছের পিছনে লুকাবে এবং সেই গাছ অথবা পাথর বলবেঃ হে মুসলিম, অথবা আল্লাহর বান্দা, আমার পিছনে একজন ইহুদি আছে ; এসো এবং তাঁকে হত্যা কর; কিন্তু গারকাদ গাছ ছাড়া, কারণ এটা ইহুদিদের গাছ । (মুসলিম, ৪১ঃ৬৯৮৫)


Book 041 of Sahih Muslim, Number 6985:

Abu Huraira (R) reported Allah’s Messenger (may peace be upon him) as saying: The last hour would not come unless the Muslims will fight against the Jews and the Muslims would kill them until the Jews would hide themselves behind a stone or a tree and a stone or a tree would say: Muslim, or the servant of Allah, there is a Jew behind me; come and kill him; but the tree Gharqad would not say, for it is the tree of the Jews.


Volume 4 of Sahih Bukhari, Book 56, Number 791:

Narrated ‘Abdullah bin ‘Umar (R):

I heard Allah’s Apostle (may peace be upon him) saying, “The Jews will fight with you, and you will be given victory over them so that a stone will say, ‘O Muslim! There is a Jew behind me; kill him!’ “


 

Sahih Muslim 41:6985, এগুলোও দেখুন: Sahih Muslim 41:6981, Sahih Muslim 41:6982, Sahih Muslim 41:6983, Sahih Muslim 41:6984, এবং Sahih Bukhari4:56:791


তোমরা কী সেসব পাথরের কথা শুনতে পাও না, যেসব পাথর ব্যবহৃত হচ্ছে ফিলিস্তীনীদের ইন্তিফাদায়?

তবে তোমরা তোমাদের আধ্যাত্মিক শ্রবণেন্দ্রিয়কে শক্তিশালী কর।

রাজনীতি থেকে ‘শিরক’ ও
অর্থনীতি থেকে ‘সুদকে’ পরিহার করে।

কারণ তা ইহুদীদের অস্ত্র;
যার আঘাতে তোমাদের অন্তর ও কর্ণগুলো হয়ে পড়ে বিকল আর

তোমাদের চক্ষুসমূহের ওপরও পড়ে যায় আস্তরণ;

যার ফলে দেশে দেশে তোমাদের ভাইদের হত্যা করা হয়
তোমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় ‘জুলুম।’

অথচ তোমরা তা দেখ না, শোন না
এবং অনুভবও কর না;

তোমরা নেক য়ামাল কর ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাক।

অতঃপর শ্রবণ কর পাথর ও বৃক্ষসমূহের বজ্রনিনাদ।

ঐ যে দেখা যায় ট্যাংকের সাথে লড়াইরত কিশোর

হাতে তার পাথর
কথা বলছে।

চাপা পড়া ছোট্ট শিশুর খন্ডিত শরীরের অংশবিশেষের উপর পাথরের স্তুপ

কথা বলছে।

 

তওবার দরজা – ২

তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে যেসব ভাইদের আপত্তি আছে তারা নিজেই একটা ছোট পরীক্ষা করে যার যার নিজের ক্ষেত্রে তওবার দরজা বন্ধ হয়েছে কিনা বের করতে পারেন। নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করি, আমি কি তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত একজন? আমি কি তওবা করেছি?

(১) আমি কি সুদভিত্তিক অর্থনীতি এবং হারাম কাগজের মুদ্রা ব্যবহার করা থেকে তওবা করেছি? যদি করে থাকি তাহলে আমি অর্থনৈতিক শিরক থেকে মুক্ত হয়েছি।

(২) আমি কি হারাম যানবাহন তথা তেল ও গ্যাস দ্বারা চালিত যানবাহন ব্যবহার করা থেকে তওবা করেছি?

(৩) আমি কি গাইরে মাহরাম নারীদের সাথে দেখাসাক্ষাৎ, কথাবার্তা থেকে তওবা করেছি? নাকি এখনও পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে অফিস আদালত, মার্কেট, স্কুল কলেজে তাদের সাথে আনপ্রটেক্টেড দেখা সাক্ষাৎ, কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি।

যিনি বলেন যে তওবার দরজা বন্ধ হয় নাই, এবং হয়তো আশা করছেন যে একটি গায়েবী ঘোষনার মাধ্যমে তওবার দরজা বন্ধ হবে, তারা ওপরের তিনটি গুনাহ থেকে তওবার মাধ্যমে বের হয়ে এসেছেন কি?

নাকি জানেনই না কাগজের মুদ্রা ব্যবহার করা হারাম (কোনদিন কোন আলেম হয়তো বলেনি)।

নাকি জানেনই না আধুনিক যন্ত্রচালিত যানবাহন ব্যবহার হারাম (কোনদিন কোন আলেম হয়তো বলেনি)।

সারা পৃথিবীর সব মানুষের জন্য যদি তওবার দরজা খোলা থাকে এবং আমি নিজে তওবা করে পবিত্র না হই, এর অর্থতো এটাই যে আমার জন্য তওবার দরজা বন্ধ হয়ে আছে।

আচ্ছা, উপরের বিষয়গুলো তো অনেকের কঠিন মনে হতে পারে, তাই সহজ কিছু আমলে আসি।

– পুরুষরা বিনা ওজরে জামাত তরক করে ঘরে নামায পড়া থেকে তওবা করেছেন?

– মহিলারা পর্দা ঠিকমতো না করা থেকে তওবা করেছেন?

– যাকাত, সিয়াম, হজ্ব, দাওয়াত, জিহাদ এসব আমলগুলো কি ঠিকঠাকমতো করছেন?

– বহুবিবাহ সম্পর্কে কি সঠিক আক্বীদা পোষন করেন?

সবশেষে বলি, তওবা ও এস্তেগফারের মাধ্যে পার্থক্য আছে। তওবা করার মাধ্যমে গুনাহ থেকে ফিরে আসতে যদি নাও পারেন, সবসময় এস্তেগফার করতে থাকুন।

রিলেটেড লিঙ্কস (পোস্টটি উপলব্ধির জন্য জরুরী)

তওবার দরজা – ১

স্বপ্নের বাহন – ১

স্বপ্নের বাহন – ২

সোনার পাহাড়

স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রার কুরআনিক ভিত্তি

ঈদ উল ফিতর

পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের কুর’আনিক ব্যাখ্যা

The sun rises from the west

ইতিপূর্বে আমরা ইয়াজুজ মাজুজের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়েছি আজকে পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও ইনশাআল্লাহ আমরা সে পদ্ধতি অনুসরণ করব। আমাদের মূলনীতি দুটি –

(১) আমরা প্রথমে কুর’আনের কাছে যাবো। এরপর যাবো সে বিষয়ক হাদীসের ভান্ডারে। কারণ, কুর’আন হচ্ছে আমাদের ধর্মগ্রন্থ, আল্লাহর কালাম। কুর’আন মূলনীতি বর্ণনা করবে, হাদীস সে মূলনীতির ব্যাখ্যা করবে। হাদীস কুর’আনকে অনুসরণ করবে।

(২) কুরআনের কোন আয়াত বা কোন একটি হাদীসকে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যাখ্যা না করে ঐ বিষয়কে কুর’আন ও হাদীসের আলোকে সামগ্রিকভাবে ব্যাখ্যা করা। আমাদের নীতি হল, বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং সামগ্রিকতা। এতে আমাদের লাভ হল এটাই যে, আমরা একটি আয়াত বা একটি হাদীস গ্রহণ করতে গিয়ে অন্য আরেকটি আয়াত বা অন্য আরেকটি হাদীস অবজ্ঞা বা অস্বীকার করা থেকে বিরত থাকতে পারব।

যারা ভিন্ন কর্মপন্থা অবলম্বন করবে, মানে এক বা একাধিক বিচ্ছিন্ন হাদীস নিয়ে আসবে এবং হাদীসকে কুরআনের সাথে সমন্বয় করবে না, তারা যে উপসংহারে পৌঁছাবে তা খুব সম্ভব আমাদের থেকে ভিন্ন হবে।

আমাদের আজকের বিষয় হলো পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়। কারণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়” শেষ সময়ের একটি আলামত (সহীহ মুসলিম)। আসুন আমরা এ কথার তাৎপর্য উদ্ধারে অগ্রসর হই।

কুর’আনে কি সূর্যোদয়ের কথা আছে? কোথা থেকে সূর্যোদয় হয়?

আল্লাহর নিয়মের ব্যতিক্রম হয় কি?

যদি হয় তবে তা কখন?

ইনশাআল্লাহ আমরা উত্তরগুলো খুঁজব।

কুর’আন বলছে সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদিত হয় (সূরা বাকারাহ, ২:২৫৮)।
বাহ্যিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটা তো নিশ্চিতভাবেই প্রমাণিত।
সূরাটিতে যে সূর্যের কথা বলা হয়েছে তা অবশ্যই আকাশে দেখা আমাদের প্রতিদিনের সূর্য। ইব্রাহীম বললো: “আমার প্রতিপালক সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। পারলে তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করো!”। সত্যকে অস্বীকারকারী ব্যক্তিটি হতভম্ভ হয়ে গেল। আল্লাহ তা’আলা সে সব লোকদেরকে হেদায়েত দেন না যারা জালিম। [বাকারাহ ২:২৫৮]

আমার প্রতিপালক সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। পারলে তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করো! এ কথার দ্বারা বুঝা গেল, পূর্ব দিক থেকে সূর্য উদিত করাটাই আল্লাহর নিয়ম।

এবং,

وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا

তুমি কখনো আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন পাবে না। [আল-আহযাব, ৩৩:৬২]

এবং অন্য আয়াতে আমরা জানতে পারি,

আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কোন রদবদল নেই, “লা তাবদীলা লি খালকিল্লাহ”।
[রূম ৩০:৩০]

তবে রদবদল একদিন হবে, পৃথিবী ও আসমানে সে সময় একটা তাবদীল বা পরিবর্তন সংঘঠিত হবে। সে-টি কোন দিন? যেটি সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা নিজেই বলেন,

يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ ۖ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ

On the Day when the earth will be changed to another earth and so will be the heavens, and they (men) will appear before Allah, the One, the Irresistible.

সে দিন আমি পৃথিবীকে একটা ভিন্ন পৃথিবী দ্বারা পরিবর্তন করে দেব এবং আসমানকেও। তাদেরকে (মানুষ) আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে, যিনি একক, মহা শক্তিশালী।
[ইব্রাহীম ১৪:৪৮] বিস্তারিত পড়ুন

সকলেই ঈমান আনার ব্যাখ্যা

কিয়ামত হবে না যতক্ষণ অভিন্ন দাবি নিয়ে দুটি দল মহাযুদ্ধ না করবে, ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জাল প্রকাশ না পাবে, ভূমিকম্প, ব্যাপক হত্যা, সূর্য পশ্চিম দিকে উঠা অতঃপর সকলেই ঈমান আনা, কিন্তু সে ঈমান কোন কাজে আসবে না ………। ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠার একটি ব্যাখ্যা ইতিপূর্বে শায়খ ইমরান নযর হোসেনের লেকচারের একটি সংগৃহীত অনুবাদ দেয়া হয়েছিল। সকলেই ঈমান আনার বিষয় নিয়ে আমি এখানে কিছু আলোকপাত করছি।

প্রথমে দুটো ঘটনা পেশ করছি। প্রথমে আজকে এক নারী সহকর্মী আমাকে কি বলেছেন সেটা বলি। তিনি বলছেন, আপনি আমাদের পেশাজীবী সংগঠনের সেমিনারগুলোতে আসেন না কেন। সবার সাথে যোগাযোগ রাখলে ভালো। বলা যায় না কখন কোন বিপদ আসে। যাহোক আমি প্রায় নিরুত্তর রইলাম। বিস্তারিত পড়ুন

তওবার দরজা – ১

একটা দরজা দু’দিক থেকেই বন্ধ করা যায়।

তওবার জানালার কথা বলা হয়নি। জানালা একদিক থেকে বন্ধ করতে হয়।

কিয়ামতের আলামত হিসেবে বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা হাদীসে এসেছে।

তওবার দরজা কি আল্লাহতায়ালার দিক থেকে বন্ধ হবে না বান্দার দিক থেকে বন্ধ হবে?

কুরআনে বারবার আল্লাহতায়ালা নিজেকে তওবা কবুলকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। “ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহীম।” আবার “ইন্নাহু কা-না তাওয়াবা।”

যাদের তওবা আল্লাহতায়ালা কবুল করবেন না তা নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে।

(১) সারা জীবন গুনাহ করার পর মৃত্যুর সময় তওবা করলে। (সূরা নিসা, আয়াত ১৮)

(২) ঈমান আনার পর মুরতাদ হয়ে যাওয়াদের তওবা কবুল করা হবে না। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৯০)

(৩) কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে কোন ক্ষমা নেই। (সূরা নিসা, আয়াত ১৮)

বুঝা গেল, আল্লাহতায়ালার দিক থেকে তওবা কবুল করা হবে সবসময়ই যদি না উপরোক্ত অবস্থায় পতিত হয়।

বরং বান্দার দিক দিক থেকেই তওবার দরজা বন্ধ করা হয়েছে।

আমরা নিজের নিজের অবস্থার প্রতি খেয়াল করলেই বিষয়টা পরিষ্কার বুঝতে পারব। আমরা কি তওবা আসলেই করেছি।

তওবা হলো গুনাহ থেকে পাপমুক্তির দিকে হিযরত করা।

সাহাবা রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুমরা তওবাকারী ছিলেন। জিনা করেছেন তো রজম মাথা পেতে নিয়েছেন। মদপান বন্ধের আয়াত নাজিল হয়েছে তো তাদের গ্লাসের মদ মুখ স্পর্শ করেনি। পর্দার আয়াত নাজিল হয়েছে তো মহিলারা নিজেদের পুরুষদের থেকে লুকিয়ে ফেলেছেন।

এগুলো হলো তওবা। শুধু আস্তাগফিরুল্লাহ বলার মাধ্যমে তওবা শুধু এ যুগেই সম্ভব। যা আসলে তওবাই নয়।

আমরা কি করছি?

দু’য়াতে বলছি, হে আল্লাহ সারা জীবনের সব গুনাহখাতা নিয়ে তোমার কাছে দাঁড়ালাম, তুমি মাফ করে দাও। ইন্না কা আনতাত তাওয়াবুর রাহীম। একথা বলে আবার ব্যাংকের চাকরীতে যাচ্ছি। একথা বলে আবার বেপর্দা মেয়েদের সাথে একত্রে ক্লাস করার জন্য, চাকরী করার জন্য যাচ্ছি। ফেসবুকে ইসলামী পোস্টের ফাকে ফাকে আবার হয়তো বিকিনি পরিহিত নারীর দিকে একটু চোখ বুলিয়ে নিচ্ছি।

তওবার দরজা তো আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। আবার দোষ চাপাচ্ছি আল্লাহতায়ালার নামে, যে তিনি আল্লাহপাক কিয়ামতের পূর্বে বান্দাদের তওবার দরজা বন্ধ করে দিবেন। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক।

একটু বিবেচনা থাকার দরকার ছিল আমাদের।

আমরা মনে করে বসে আছি, সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হলে এক ঘোষনাকারী ঘোষনা দিবে যে, আজ থেকে তওবার দরজা বন্ধ করা হলো। কি পরমাণ ছেলেমানুষীই না আমরা করছি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু আমাদের এলেম শিক্ষা দিতেই আসেননি, হেকমত শিক্ষা দিতেও এসেছিলেন। তা আজ আমরা ভুলে গেছি।

আর কতদিন শেষ যুগের হাদীসগুলোর আক্ষরিক অনুবাদের মধ্যে আমরা ঘুরপাক খাব? আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের একটি প্রধান কাজ ছিল মুসলমানদের হেকমত শিক্ষা দেয়া। হেকমত অর্থ কোন একটা বিষয়ের প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করতে সক্ষম হওয়া।

আল্লাহতায়ালা বলেন,

هُوَ ٱلَّذِى بَعَثَ فِى ٱلْأُمِّيِّۦنَ رَسُولًۭا مِّنْهُمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا۟ مِن قَبْلُ لَفِى ضَلَٰلٍۢ مُّبِينٍۢ
“তিনিই উম্মী (নিরক্ষর) -দের মধ্য থেকে তাদের মাঝে একজনকে রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তিলাওয়াত করেন তার আয়াতসমূহ, তাদের পবিত্র করেন, এবং কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেন, ইতোপূর্বে তারা ঘোর বিভ্রান্তিতে ছিল।” [সূরা জুমু’য়া, আয়াত ২]

জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

রিলেটেড লিঙ্ক (পোস্টটি উপলব্ধির জন্য জরুরী)

তওবার দরজা – ২