সনদদার

“হাইকোর্টের গ্রীক মুর্তি সরানো হবে না, তবে নামাজের সময় ঢেকে দেয়া হবে”- এটাকেই বলে হালালাইজেশন বা হালালীকরন। 🤣

সার্টিফিকেটধারী আল্লামারা কিছু বলুক। কিন্তু তারা তা বলবে না। তাহলে সার্টিফিকেট দেয়ার মালিক যদি অখুশি হয়। সার্টিফিকেট (দুনিয়ার জান্নাত) যদি কেড়ে নেয়। — মূর্তি পূজোয় দেশ ভরে যায় যাক, কিন্তু আমার দুনিয়ার জান্নাত ঠিক থাকুক।

Dajjal_is_knocking_the_door

# দাজ্জাল

দাজ্জাল ও দাজ্জালী যুগ

প্রশ্নঃ আপনারা কি বর্তমান যুগ বা ইউরো-আমেরিকান সভ্যতাকে দাজ্জাল বলেন?
উত্তরঃ না, তবে অনেকের মতোই আমরা বর্তমান যুগকে দাজ্জালী যুগ বলি। যেহেতু এই যুগে দাজ্জালের আগমন হবে তাই এ যুগকে দাজ্জালী যুগ বলা হয়। কারণে এই যুগের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো দাজ্জালের উপস্থিতি। কোন নির্দিষ্ট যুগে কোন বিশেষ প্রভাবশালী ব্যক্তির উপস্থিতি থাকলে সেই ব্যক্তির নাম অনুসারে ঐ যুগের নামকরণ করা যায়। যেমন, ফেরাউনের নাম অনুসারে অনেকে ঐ যুগকে ফেরাউনের যুগ বলে।

প্রশ্নঃ দাজ্জালী যুগের বৈশিষ্ট্য কি?
উত্তরঃ প্রতিটি যুগেরই একটি নির্দিষ্ট বা বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। দাজ্জালী যুগের বৈশিষ্ট্য হলো নীরব প্রতারণার যুগ। দাজ্জাল যেমন ‘সাইলেন্ট’ থাকবে, অর্থাৎ সে ঘোষণা দিবে না, আমিই দাজ্জাল, বরং সে বলবে, আমিই তোমাদের রব। আমাকে মানো। (নাউযুবিল্লাহ)। সে তার পরিচয়কে গোপন রাখতে চাইবে। ঠিক তেমন বর্তমান যুগ নিজের বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করে না। যেমন, বর্তমান কাগজের মুদ্রানীতি (ও অদূর ভবিষ্যতে ইনভিজিবল মানির মুদ্রানীতি) একটি প্রতারণার মুদ্রানীতি। আসল মুদ্রানীতি হলো স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রানীতি। কিন্তু বর্তমান মুদ্রানীতি দাবি করে এটাই শ্রেষ্ঠ মুদ্রানীতি। আর মানুষ তা মেনেও নিয়েছে।

ঠিক একইভাবে গণতান্ত্রিক রাজনীতিও প্রতারণার রাজনীতি। কিন্তু দাবি করা হয়, এটাই শ্রেষ্ঠ রাজনীতি। আবার মানুষ তা মেনেও নিয়েছে।

সামরিক নীতিও তাই। যে পক্ষ মানুষের জন্য ক্ষতিকর, মানুষ তারই পক্ষ নিচ্ছে। কেউ উগ্রপন্থার দ্বারা মানুষকে কাছে টানছে, তো আবার কেউ সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের কথা বলে মানুষকে কাছে টানছে। সবকিছুতেই নীরব প্রতারণা। সবাই বলছে, আমিই সঠিক, আমাকে মানো। ধর্মীয় দিকেও একই অবস্থা। শত শত দলে বিভক্ত মানুষ, সবার দাবি তারাই সর্বাপেক্ষা সঠিক। অথচ কুরআন সুন্নাহর কষ্টিপাথরে একটু ঘষা দিলেই বের হয় কে যে কতটুকু সঠিক।

দাজ্জালী যুগের রোগব্যাধিগুলোর চরিত্রও একইরকম। যেমন, ডায়াবেটিস। এটি একটি ‘সাইলেন্ট ডিজিজ।’ মানুষ মনে করে সে ভালো আছে, সুস্থ আছে, তার খাওয়ার রুচি ভালো। কিন্তু ইতিমধ্যে হয়তো তার রোগের অর্ধেকের বেশী অবস্থা অতিক্রান্ত হয়েছে। রোগ যখন ধরা পড়ে তখন তার শরীরের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় আছে। — ক্যান্সারেও একই অবস্থা। ডাক্তাররা রোগীদের বলেন, শুরুর দিকে আসলে হয়তো কাজ হতো। কিন্তু শুরুর দিকে কিভাবে আসবে? রোগের লক্ষণ তো শুরুতে প্রকাশ পায় না। বরং শুরুতে নীরব ঘাতককে পোষা হয়েছে।

দাজ্জালী যুগে খাদ্যদ্রব্যের অবস্থাও তাই। বড় বড় মিডিয়া জিএম ফুড, প্রসেসড ফুড ইত্যাদি যেসব পণ্যগুলোকে সারাদিন পুষ্টিকর খাদ্য বলে প্রচারণা চালায় আসলে তার মধ্যে কতটুকু খাদ্য আর কতটুকু ‘বিষ’ তা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। শুধুমাত্র যারা এ বিষয়ে চিন্তা গবেষণা করেন তারা কিছুটা অনুধাবন করতে পারেন।

প্রশ্নঃ দাজ্জাল কখন বের হবে?
উত্তরঃ যখন কনস্টান্টিনোপল বিজয় হবে।

প্রশ্নঃ কনস্টান্টিনোপল বিজয় কখন হবে?
উত্তরঃ যখন মালহামা হবে।

হযরতজির বাইয়াত

বলুন তো, কাকে বেশী মানুষ বাইয়াত দিবে? দাজ্জালকে নাকি ইমাম মাহদী য়ালাইহিস সালামকে? হয়তো এসব খবর আপনাকে প্রায়ই দেখতে হবেঃ

“কাতার, কুয়েত, জর্ডান, দুবাই, সৌদিআরব, সুদান, মরক্কো, ওমান, এয়ামান, লেবানন, উগান্ডা, ফিলিস্তিন সহ আরব জাহানের নানা দেশের জিম্মাদার / দায়িত্বশীল গণ সর্ব প্রথম আলাদা আলাদাভাবে অমুক (দামাত বারাকাতুহুম) এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, অমুক শায়খুল আরব ওয়াল আজম হযরতজির কাছে বাইয়াতের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরে এক এক করে ভারত পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন সহ সকল দেশের জিম্মাদার হযরতগন সারা দুনিয়ার আমির হিসাবে মাওলানা অমুকের কাছে বাইয়াত গ্রহন করেন।”

কাজেই এসব খবরে আল্লাহ্‌র রহমতে ইসলামিক ইস্কেটোলজির ছাত্ররা বিভ্রান্ত হবে না, ইনশাআল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌ তায়ালা শেষ যুগের ফেতনা থেকে আমাদের হেফাজত করুন।

সে আসছে

অনেক বৎসর হয়ে গেল রবীন্দ্রনাথ জন্ম নেয় না, নজরুলও নয়। গোটা পৃথিবী চষেও এখন সেই মাপের কবি বের করা সম্ভব নয়। অথচ গত শতাব্দীর সূচনালগ্নেও এরকম সময়োত্তীর্ণ সাহিত্যিকের অভাব ছিল না সারা পৃথিবীর গলি ঘুপচিতে। টলস্টয়, মার্ক টোয়েনের মতো প্রতিভাবান লেখক সারা বিশ্বে নেই গত অর্ধ শতকের বেশী সময় ধরে। পেলের মতো খেলোয়ার আর কখনো জন্মায়নি। ওয়াটসন, ক্রিকের ডিএনএ -র ডাবল হেলিক্স মডেল গত শতকের মাঝামাঝিতে সাইটোলজির বেস্ট আবিষ্কার। এরপর যেন এ ধরনের আবিষ্কারের চাকা থমকে গেছে। আইনস্টাইনও আর একটি জন্মায়নি। উড়োজাহাজ আবিষ্কার, তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা সবই গত শতকের প্রথমার্ধের ঘটনা। আইনস্টাইন, মেরী কুরী, সিগমন্ড ফ্রয়েড, ম্যক্স প্ল্যাঙ্ক, নীল বোর, পাভলভ সব খ্যাতিমান বিজ্ঞানীরা সবাই ই তো গত শতাব্দীর ৫০ এর দশকের আগে পরের লোক। রাজনীতিতেও একই অবস্থা। ভালো হোক, খারাপ হোক সেই মাপের প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ কি দেখতে পাওয়া যায় গত ৫০ বছর ধরে? চার্চিল, হিটলার, লেনিন, মার্কস তো দূরের কথা, ইন্দিরা, মুজিবের মাপের রাজনীতিবিদের সংখ্যাও তো শূন্যের কোঠায়।

কেন এ’ শূন্যতা? এর কারণ কি?

।।

কারণ পৃথিবীতে আসছে এমন একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি যার জন্য পথ করে দিতে হচ্ছে সবাইকে। সে হবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভাবান ব্যক্তি।

যার কথা বলে গেছেন প্রতিটি নবী ও রাসূল য়ালাইহিমুস সালাম।

সে একজন ইহুদী যুবক, কোকড়া চুল, কপালে লেখা কাফের যা কেউ পড়তে পারবে না যতই সে জ্ঞানী হউক, আরবী ভাষাশাস্ত্রে পণ্ডিত হোক, যদি না সে হয় ঈমানদার।

তার নাম দাজ্জাল। তার জন্য সব কিছু শূন্য করে রাখা হচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘ সভাপতির পদটাও।

দুনিয়ার জান্নাত

কোনটা যে আল্লাহ্‌র রহমত আর কোনটা যে দাজ্জালের জান্নাত এ দু’টা জিনিস পার্থক্য করা চাই। খুব কম লোক পার্থক্য করতে পারে। বেশীর ভাগ লোক দাজ্জালের জান্নাতকে আল্লাহ্‌র রহমত ভেবে ভুল করে।

হ্যামিলনের বাঁশির চিকন সুর

দাজ্জাল দুনিয়াকে প্রতিযোগিতামূলক করে ফেলেছে। “মানুষ দুনিয়া পাইতে চায়। কিন্তু দুনিয়ার এন্ট্রি কঠিন করিয়া ফেলিয়াছে।” আইইএলটিএস লাগে, ভর্তি পরীক্ষা লাগে, ব্যাংক ব্যালেন্স লাগে, নানা ধরনের লাইসেন্স লাগে। যেকোন একটা ছোটখাট কাজে হাত দিলেও নানা জায়গায় দৌড়াতে হয়। উন্নত দেশগুলোতে তো বটেই থার্ড ওয়ার্ল্ডের দেশগুলোতেও আজকাল এন্ট্রি পাওয়া কঠিন। ত্রিশ বছর আগেও এমন ছিল না। জাপান আমেরিকা আফ্রিকা রাশিয়া সৌদি সব দেশে যাওয়া যেত। ইচ্ছে করলেই ডাক্তার, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যেত। কৃষকের ছেলে ক্যালটেকে পড়তে পারত। কিন্তু আজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্বপ্নের মতো। অনেকের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। ধুলার ধরায় নেমে আসে না। তারপরও মানুষ ছুটে অধরা স্বপ্নের দিকে। যতই ছুটে ততই বিচ্ছিন্ন হয়। বিচ্ছিন্ন হয় শেকড় থেকে, কুরআন থেকে, জান্নাত থেকে। এটাই দাজ্জালের জান্নাত যাতে মানুষ পঙ্গপালের মতো ঝাঁপ দিচ্ছে। সে দুই হাতে দাড়িপাল্লার মতো ধরে জান্নাত জাহান্নাম নিয়ে আসবে না। আর ঘোষনা দিবে না আসো আমার জান্নাতে। তবে হ্যাঁ, ঘোষনা সে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। শোনার মতো কান থাকা চাই, বুঝার মতো অন্তর।

যার কথা মানুষ ভুলে যাবে

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দুনিয়াতে এসেছিলেন সে সময় কিন্তু ইহুদি / খ্রিস্টানরা জানত যে একজন নবী আসবেন তার নাম হবে আহমদ। কিন্তু আমরা সীরাত পরে যা বুঝি, ঐ সময় কিন্তু ইহুদী খ্রিস্টান সমাজে এই আলোচনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কেউ কেউ ঠিকই এ বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতেন। তবে সংখ্যায় খুব কম। আমার মনে হয়, দাজ্জালের ক্ষেত্রেও এমন হবে। মূলধারার সবাই ওর কথা ভুলে যাবে। এখন ভুলে গিয়েছে। অল্প কয়েকজন মনে রাখবে যাদের মনে রাখা না রাখা সমান। কারণ তারা মনে রাখলেও সমাজ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়বে না। আর আমার মনে হচ্ছে দাজ্জালের নামটিও দাজ্জাল হবে না। তার নাম হবে কোন একটি ইসরায়েলি নাম যেমন, ডেভিড বা জ্যাকব বা জোসেফ বা আব্রাহাম এরকম। তার নাম যদি দাজ্জালই হতো তাহলে সে যুবকটিকে দাজ্জালের হাতে মরে গিয়ে বুঝতে হতো না যে সে’ই দাজ্জাল।

উল্লেখ্য বর্তমান জায়নিষ্টদের কাছে দাজ্জাল “মেসাইয়া” নামে বেশী পরিচিত।