হযরতজির বাইয়াত

বলুন তো, কাকে বেশী মানুষ বাইয়াত দিবে? দাজ্জালকে নাকি ইমাম মাহদী য়ালাইহিস সালামকে? হয়তো এসব খবর আপনাকে প্রায়ই দেখতে হবেঃ

“কাতার, কুয়েত, জর্ডান, দুবাই, সৌদিআরব, সুদান, মরক্কো, ওমান, এয়ামান, লেবানন, উগান্ডা, ফিলিস্তিন সহ আরব জাহানের নানা দেশের জিম্মাদার / দায়িত্বশীল গণ সর্ব প্রথম আলাদা আলাদাভাবে অমুক (দামাত বারাকাতুহুম) এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, অমুক শায়খুল আরব ওয়াল আজম হযরতজির কাছে বাইয়াতের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরে এক এক করে ভারত পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন সহ সকল দেশের জিম্মাদার হযরতগন সারা দুনিয়ার আমির হিসাবে মাওলানা অমুকের কাছে বাইয়াত গ্রহন করেন।”

কাজেই এসব খবরে আল্লাহ্‌র রহমতে ইসলামিক ইস্কেটোলজির ছাত্ররা বিভ্রান্ত হবে না, ইনশাআল্লাহ্‌। আল্লাহ্‌ তায়ালা শেষ যুগের ফেতনা থেকে আমাদের হেফাজত করুন।

সে আসছে

অনেক বৎসর হয়ে গেল রবীন্দ্রনাথ জন্ম নেয় না, নজরুলও নয়। গোটা পৃথিবী চষেও এখন সেই মাপের কবি বের করা সম্ভব নয়। অথচ গত শতাব্দীর সূচনালগ্নেও এরকম সময়োত্তীর্ণ সাহিত্যিকের অভাব ছিল না সারা পৃথিবীর গলি ঘুপচিতে। টলস্টয়, মার্ক টোয়েনের মতো প্রতিভাবান লেখক সারা বিশ্বে নেই গত অর্ধ শতকের বেশী সময় ধরে। পেলের মতো খেলোয়ার আর কখনো জন্মায়নি। ওয়াটসন, ক্রিকের ডিএনএ -র ডাবল হেলিক্স মডেল গত শতকের মাঝামাঝিতে সাইটোলজির বেস্ট আবিষ্কার। এরপর যেন এ ধরনের আবিষ্কারের চাকা থমকে গেছে। আইনস্টাইনও আর একটি জন্মায়নি। উড়োজাহাজ আবিষ্কার, তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা সবই গত শতকের প্রথমার্ধের ঘটনা। আইনস্টাইন, মেরী কুরী, সিগমন্ড ফ্রয়েড, ম্যক্স প্ল্যাঙ্ক, নীল বোর, পাভলভ সব খ্যাতিমান বিজ্ঞানীরা সবাই ই তো গত শতাব্দীর ৫০ এর দশকের আগে পরের লোক। রাজনীতিতেও একই অবস্থা। ভালো হোক, খারাপ হোক সেই মাপের প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ কি দেখতে পাওয়া যায় গত ৫০ বছর ধরে? চার্চিল, হিটলার, লেনিন, মার্কস তো দূরের কথা, ইন্দিরা, মুজিবের মাপের রাজনীতিবিদের সংখ্যাও তো শূন্যের কোঠায়।

কেন এ’ শূন্যতা? এর কারণ কি?

।।

কারণ পৃথিবীতে আসছে এমন একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি যার জন্য পথ করে দিতে হচ্ছে সবাইকে। সে হবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভাবান ব্যক্তি।

যার কথা বলে গেছেন প্রতিটি নবী ও রাসূল য়ালাইহিমুস সালাম।

সে একজন ইহুদী যুবক, কোকড়া চুল, কপালে লেখা কাফের যা কেউ পড়তে পারবে না যতই সে জ্ঞানী হউক, আরবী ভাষাশাস্ত্রে পণ্ডিত হোক, যদি না সে হয় ঈমানদার।

তার নাম দাজ্জাল। তার জন্য সব কিছু শূন্য করে রাখা হচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘ সভাপতির পদটাও।

দুনিয়ার জান্নাত

কোনটা যে আল্লাহ্‌র রহমত আর কোনটা যে দাজ্জালের জান্নাত এ দু’টা জিনিস পার্থক্য করা চাই। খুব কম লোক পার্থক্য করতে পারে। বেশীর ভাগ লোক দাজ্জালের জান্নাতকে আল্লাহ্‌র রহমত ভেবে ভুল করে।

হ্যামিলনের বাঁশির চিকন সুর

দাজ্জাল দুনিয়াকে প্রতিযোগিতামূলক করে ফেলেছে। “মানুষ দুনিয়া পাইতে চায়। কিন্তু দুনিয়ার এন্ট্রি কঠিন করিয়া ফেলিয়াছে।” আইইএলটিএস লাগে, ভর্তি পরীক্ষা লাগে, ব্যাংক ব্যালেন্স লাগে, নানা ধরনের লাইসেন্স লাগে। যেকোন একটা ছোটখাট কাজে হাত দিলেও নানা জায়গায় দৌড়াতে হয়। উন্নত দেশগুলোতে তো বটেই থার্ড ওয়ার্ল্ডের দেশগুলোতেও আজকাল এন্ট্রি পাওয়া কঠিন। ত্রিশ বছর আগেও এমন ছিল না। জাপান আমেরিকা আফ্রিকা রাশিয়া সৌদি সব দেশে যাওয়া যেত। ইচ্ছে করলেই ডাক্তার, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যেত। কৃষকের ছেলে ক্যালটেকে পড়তে পারত। কিন্তু আজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্বপ্নের মতো। অনেকের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। ধুলার ধরায় নেমে আসে না। তারপরও মানুষ ছুটে অধরা স্বপ্নের দিকে। যতই ছুটে ততই বিচ্ছিন্ন হয়। বিচ্ছিন্ন হয় শেকড় থেকে, কুরআন থেকে, জান্নাত থেকে। এটাই দাজ্জালের জান্নাত যাতে মানুষ পঙ্গপালের মতো ঝাঁপ দিচ্ছে। সে দুই হাতে দাড়িপাল্লার মতো ধরে জান্নাত জাহান্নাম নিয়ে আসবে না। আর ঘোষনা দিবে না আসো আমার জান্নাতে। তবে হ্যাঁ, ঘোষনা সে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। শোনার মতো কান থাকা চাই, বুঝার মতো অন্তর।

যার কথা মানুষ ভুলে যাবে

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দুনিয়াতে এসেছিলেন সে সময় কিন্তু ইহুদি / খ্রিস্টানরা জানত যে একজন নবী আসবেন তার নাম হবে আহমদ। কিন্তু আমরা সীরাত পরে যা বুঝি, ঐ সময় কিন্তু ইহুদী খ্রিস্টান সমাজে এই আলোচনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কেউ কেউ ঠিকই এ বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতেন। তবে সংখ্যায় খুব কম। আমার মনে হয়, দাজ্জালের ক্ষেত্রেও এমন হবে। মূলধারার সবাই ওর কথা ভুলে যাবে। এখন ভুলে গিয়েছে। অল্প কয়েকজন মনে রাখবে যাদের মনে রাখা না রাখা সমান। কারণ তারা মনে রাখলেও সমাজ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়বে না। আর আমার মনে হচ্ছে দাজ্জালের নামটিও দাজ্জাল হবে না। তার নাম হবে কোন একটি ইসরায়েলি নাম যেমন, ডেভিড বা জ্যাকব বা জোসেফ বা আব্রাহাম এরকম। তার নাম যদি দাজ্জালই হতো তাহলে সে যুবকটিকে দাজ্জালের হাতে মরে গিয়ে বুঝতে হতো না যে সে’ই দাজ্জাল।

উল্লেখ্য বর্তমান জায়নিষ্টদের কাছে দাজ্জাল “মেসাইয়া” নামে বেশী পরিচিত।

ইহাই সেই জ্ঞান

জ্ঞান হচ্ছে এমন এক জিনিস যা আল্লাহপাক যাহাকে দিয়া থাকেন কেবলমাত্র সেই পাইতে পারে। অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ইত্যাদির আধিক্যের দরুন নিজেদেরকে অনেক জ্ঞানী মনে করে। কিন্তু আল্লাহপ্রদত্ত জ্ঞান না হইলে সে মূল তত্ত্বকথার কিছুই আয়ত্ব করিতে পারে না। এজন্য ইসলামের সাধারণ সাধারণ বিধানকে তাদের কাছে অনেক যুক্তিহীন মনে হয়। তারা বুঝিতে পারে না, ইসলাম পুরুষদের কেন ৪ বিয়ের অনুমতি দিয়াছে এবং বাল্যবিবাহকে কেন নিষেধ করা হয় নাই। তাহারা বিলবোর্ডের বিজ্ঞাপন বিশ্বাস করে, যে নিরাপদ যৌনমিলন এইডস হইতে মুক্তির উপায়, কিন্তু কুরআনে বর্ণিত পর্দা করার হুকুম তাহাদের চোখ এড়াইয়া যায়। ইহাই হইল সেই অন্তর্জ্ঞান যা আল্লাহ হযরত খিজির য়ালাইহিস সালামকে দান করিয়াছিলেন। ইহা তিনি যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে দান করিয়া থাকেন। তখন সে লোকেদের নিকট দুর্বোধ্য হইয়া যায়।

দাজ্জালী আর্থিক নিরাপত্তার ছাতা

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

umbrella-of-dajjal

দাজ্জালী ছাতা – ইনস্যুরেন্স / বীমা / ফিক্সড ডিপোজিট / ইসলামিক ব্যাংক

আল্লাহ মানুষকে সম্পদ দান করেছেন। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ। অবশ্যই এই সম্পদে অন্য বঞ্চিত মানুষের দান সদকা যাকাত ইত্যাদি রূপে হক রয়েছে। বান্দা যদি সম্পদশালী হয়ে অহংকার করে এবং অন্যকে বঞ্চিত করে তবে অবশ্যই আল্লাহ সম্পদ ছিনিয়ে নিবেন। বরং সেই সম্পদকে ধ্বংস করে দিয়ে বান্দাকে পরক্ষনে ধনী থেকে গরীব বানিয়ে দিতে পারেন। একজন মুমিন ব্যক্তি নিজসম্পদ থেকে অন্যের হক আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে সম্পদের হিফাজত সহ বরকতের দুয়া করে। অর্থাৎ এখানে ব্যক্তির সম্পদের নিরাপত্তা বা রাতারাতি সম্পদের ধ্বংস হওয়া বা ধনী থেকে গরীব হওয়া সব আল্লাহর হাতে -এটাই বান্দার বিশ্বাস। আমরা সবাই কারুনের ঘটনা জানি,তাকে আল্লাহর রাস্তায় দান করে পরকালের সম্বল ও অন্যদের প্রতি অনুগ্রহ করার উপদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে বড়াই করে বলল, এই সব সম্পদ তার জ্ঞান বলে লাভ করেছে, তাই অন্য কাওকে সে দিবে না এবং কেউ তার সম্পদ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। তারপরে আল্লাহ তার প্রাসাদ ভূগর্ভে ধসিয়ে দিলেন। এবং আল্লাহ বললেন,

“অতঃপর আমি কারুনকে ও তার প্রাসাদকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিলাম। তার পক্ষে আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন দল ছিল না, যারা তাকে সাহায্য করতে পারে এবং সে নিজেও আত্মরক্ষা করতে পারল না”। (সূরা কাসাস ৮১)

আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে থেকে যার জন্য ইচ্ছে রিজিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছে কমিয়ে দেন। আল্লাহ যদি কারোর সম্পদ কমিয়ে দেন তবে আল্লাহর বিপরীতে সে কোন সাহায্যকারী পাবে না।
.
উটকে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে তারপর উটের নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর কাছে বিশ্বাস রাখতে হবে। তবুও যদি উট হাড়িয়ে যায় তবে কিছুই করার নেই, এটিকে ভাগ্য মনে করে ধৈর্য ধরতে হবে। এটা হল কুর’আন ও হাদিসের দেখানো বিধান। এতে বার বার আল্লাহ’র প্রতি বান্দার অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়।
.
কিন্তু দাজ্জালি ব্যবস্থা আলাদা। দাজ্জাল নিজেকে আল্লাহর বিপরীতে সাহায্যকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আল্লাহর বিধানের ঠিক উল্টো বিধান হবে দাজ্জালের। সে বলবে তোমার জ্ঞান প্রজ্ঞা থেকে তুমি সম্পদ লাভ করেছ, এটাতে অন্যদের কোন হক নেই। তোমাকে যাকাত, দান ও সদকা কিছুই করতে হবে না এবং এই সম্পদ ধ্বংস হয়ে তুমি কখনই গরীব হবে না এর নিশ্চয়তা আমি দিচ্ছি। ব্যবসায়ের লোকসান ব্যতীত কোণ প্রকার তোমার সম্পদের ক্ষতি হতে দিব না। তোমাকে কেউ রাতারাতি গরিব বানাতে পারবে না এবং কেউই তোমার বাগান ধ্বংস করে দিতে পারবে না। তুমি আল্লাহর সাথে কুফুরি করে আমার উপর ঈমান (বিশ্বাস) রাখতে পারো। তখন দেখবে তুমি কারোর নিকট অসহায় নও। আল্লাহর বিপরীতে আমাকে সাহায্যকারী রূপে গ্রহণ করতে পারো (নাউযুবিল্লাহ)। তুমি উটকে বাঁধবে এবং আমার উপর বিশ্বাস রাখবে তারপরও যদি উট হাড়িয়ে যায় তবে আমি তা ফিরিয়ে দিব। আল্লাহর রাস্তায় বিশাল! অর্থ দানের স্থলে তুমি আমার ব্যবস্থায় যদি কিছু অর্থ দাও তবে এ সিস্টেমই তোমার সম্পদের নিরাপত্তা দিবে, এমনকি যদি সম্পদ ধ্বংস হয়েও যায় তবে উৎকৃষ্ট নাহোক কিন্তু সমপরিমাণ অর্থ তোমাকে দেওয়া হবে। তুমি নিশ্চিন্তে সূরা কাহফ এ উল্লেখিত ব্যক্তির মত করে দাবী করতে পার।

“সে বলল, আমি মনে করি না এ বাগান কখনও ধ্বংস হবে। এবং আমি মনে করি না যে,কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়,তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব।” (সূরা কাহফ- ৩৫)
.
দাজ্জালি ব্যবস্থা শুধু বাড়ি-ঘর না আপনার সন্তান মারা গেলেও আপনাকে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে দিবে না। এখানে সবকিছুর নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে, জীবন বীমা, অগ্নিবীমা, জাহাজ ডুবির বিমা, যুদ্ধ বীমা, ভূমিকম্প/সুনামি/বন্যা সহ ইত্যাদি প্রকারের বীমা ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ শর্ত সাপেক্ষে আপনার সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পদের নিরাপত্তা পাবেন।
.
ব্যাংকের মত বীমাকেও হালালাইজড (হালালিকরন) করা হচ্ছে। কিছু বীমা তো বাধ্যতামূলক, গাড়ি/বাইক সহ সকল প্রকার পরিবহনের, গার্মেন্টসের এবং ওয়ার্কারের বীমা ইত্যাদি।
.
একজন ধনী নিশ্চিন্তে জাহাজে পণ্য আনতে পারে, নিশ্চিন্তে মারাও যেতে পারে, তার ফ্যাক্টারিতে আগুন লাগলেও নিশ্চিন্তে থাকবে, তার প্রয়োজন নেই ধৈর্য ধরার, তার কোণ ক্ষতিই হবে না কারণ সে দাজ্জালের দলে শামিল হচ্ছে। ইন্সুরেন্স হল দাজ্জাল প্রদত্ত আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আমাদেরকে প্রতি পদে পদে আল্লাহর উপর ভরসা বাদ দিয়ে দাজ্জালের ছাতার নিচে আশ্রয় গ্রহণ করতে ডাকা হচ্ছে। তাই সাবধান এমন কে আছে যে আল্লাহর বিপরীতে নিরাপত্তা দিবে?