দাব্বাতুল আরদ্ব – ১

নবী সুলাইমান (আ) মারা গেছেন কিন্তু সেই খবর জ্বীনেরা জানে না। জাসাদ বা দাজ্জাল নবী সুলাইমান (আ) এর ছদ্মবেশে তাঁর সময়ের মাত্রাকে পরিবর্তন করা অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন লাঠি বা মিনসা’ হাতে নিয়ে নবী সুলাইমানের কুরসিতে বসে জ্বীনেদের দিয়ে ইজরায়েলের জন্য কাজ করাচ্ছে। ছদ্মবেশী দাজ্জাল মিনসা’ দ্বারা সময়ের মাত্রাকে পরিবর্তন করে জ্বীনেদের সামনে অতীতকে উপস্থাপন করছে এমনভাবে যাতে জ্বীনেদের মনে হয় নবী সুলাইমান (আ) এখনও জীবিত। তারা তখন ছদ্মবেশী দাজ্জালের হুকুমে ইজরায়েলের জন্য বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের যাদুকরী কাজগুলো করছে যা আমরা এই আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতায় প্রত্যক্ষ করছি।

“যখন আমি তার (নবী সুলাইমান আ.) মৃত্যুর ফয়সালা করলাম, তারা (জ্বীনেরা) এটি জানত না (যে, তিনি মৃত এবং তার স্থানে একজন ছদ্মবেশী বসে আসে তার মিনসা’ বা অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন লাঠি হাতে নিয়ে) যতক্ষণ না দাব্বাতুল আরদ সেই মিনসা’ (-এর ভিত্তি) খেয়ে ফেলে। যখন এটি পড়ে গেল (এই মর্মে যে, এটি এর অলৌকিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলল) জ্বীনেদের কাছে (যারা আল্লাহর নির্দেশে নবী সুলাইমানের অধীনে কাজ করছিল) এটি পরিষ্কার হয়ে গেল যে, (নবী সুলাইমান মারা গেছেন এবং তারা এতদিন নবী সুলাইমানের মিনসা’ ধরে থাকা ছদ্মবেশীর জন্য কাজ করেছে) যদি তারা গায়েবের খবর জানত, তাহলে তারা এই অপমানকর আজাবে (অর্থাৎ ইজরায়েলের জন্য ছদ্মবেশীর হুকুমে করা শয়তানী কাজগুলোতে) নিজেদের আবদ্ধ রাখত না।” (সুরা সাবাঃ ১৪)

দাব্বাতুল আরদ হলো ওয়ারলেস স্মার্টফোন যার পেছনে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করছে এবং কথা বলছে।তারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে গাফেল হয়ে গেছে এবং তাদের অন্তর অন্ধ হয়ে গেছে, তাই আল্লাহপাক দাব্বাতুল আরদকে ভূমি থেকে নির্গত করেছেন।

“আপনি অন্ধদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে সৎপথে আনতে পারবেন না। আপনি কেবল তাদেরকে শোনাতে পারবেন, যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে। অতএব, তারাই আজ্ঞাবহ। যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের (অর্থাৎ যাদের হৃদয় অন্ধ তাদের) সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।” (সুরা আন নামলঃ ৮২)

এই স্মার্টফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মি মিনসা’র অলৌকিক ক্ষমতাকে নষ্ট করছে। ফলে একসময় মিনসা’র ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাবে আর ছদ্মবেশী দাজ্জাল মিনসা’র দ্বারা সময়ের ভ্রমণ করাতে পারবে না ও জ্বীনেদের সামনে নবী সুলাইমান (আ) এর অতীতকে উপস্থাপন করতে পারবে না। পবিত্র কুর’আন একে এভাবে প্রকাশ করেছে,
“…যতক্ষণ না দাব্বাতুল আরদ (ঘুণপোকা) সেই মিনসা’ (-এর ভিত্তি) খেয়ে ফেলে। যখন এটি পড়ে গেল (এই মর্মে যে, এটি এর অলৌকিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলল) জ্বীনেদের কাছে (যারা আল্লাহর নির্দেশে নবী সুলাইমানের অধীনে কাজ করছিল) এটি পরিষ্কার হয়ে গেল যে, (নবী সুলাইমান মারা গেছেন এবং তারা এতদিন নবী সুলাইমানের মিনসা’ ধরে থাকা ছদ্মবেশীর জন্য কাজ করেছে) যদি তারা গায়েবের খবর জানত, তাহলে তারা এই অপমানকর আজাবে (অর্থাৎ ইজরায়েলের জন্য ছদ্মবেশীর হুকুমে করা শয়তানী কাজগুলোতে) নিজেদের আবদ্ধ রাখত না।” (সুরা সাবাঃ ১৪)

জ্বীনেরা যে দাজ্জালের হয়ে আধুনিক যুগের এই বৈপ্লবিক বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তির কাজ করে দিচ্ছে তার প্রমাণ রয়েছে সুরা আল নামলে।

“সুলায়মান বললেন, হে পরিষদবর্গ, তারা আত্নসমর্পণ করে আমার কাছে আসার পূর্বে কে বিলকীসের সিংহাসন আমাকে এনে দেবে? (38) জনৈক দৈত্য-জিন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং আমি একাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত। (39) কিতাবের জ্ঞান (অর্থাৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান) যার ছিল, সেই জ্বীন বলল, আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। অতঃপর সুলায়মান যখন তা সামনে রক্ষিত দেখলেন, তখন বললেন এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে, আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত কৃপাশীল। (40) সুলায়মান বললেন, বিলকীসের সামনে তার সিংহাসনের আকার-আকৃতি বদলিয়ে দাও, দেখব সে সঠিক বুঝতে পারে, না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের দিশা নেই। (41)” (সুরা আন নামলঃ ৩৮-৪১)

কিতাবের জ্ঞান থাকা জ্বীন থ্রিডি হলোগ্রাফিক টেলিভিশনে বিলকীসের সিংহাসনকে উপস্থাপন করেছিল যা কোন স্ক্রিন ব্যতীতই প্রত্যক্ষ করার কারণে সত্যিই সেখানে উপস্থিত ছিল বলে মনে হয়েছিল। এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, কোন নির্দিষ্ট কিতাব থেকে জ্বীনেরা বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তির ব্যপারে অবগত হয়। তারা দাজ্জালের হয়ে সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আধুনিক সভ্যতাকে বিনির্মাণ করেছে এবং করছে।

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

Advertisements

নবী সুলাইমান (আ) এর সিংহাসনে একজন ছদ্মবেশী

পবিত্র কোরান ধর্মীয় ইতিহাসের একটি অনন্য ঘটনাকে প্রকাশ করেছেন যার কোন তুলনা পাওয়া খুবই মুশকিল। এই ঘটনার বর্ণনা আমাদেরকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বাধ্য করে যে, সুলাইমান (আ) আল্লাহ সুবহানওয়াতালার তরফ থেকে একটি সত্যস্বপ্ন প্রাপ্ত হয়েছিলেন যেখানে তিনি দেখতে পান যে, একজন আত্মাহীন নফছহীন ছদ্মবেশী একদিন তাঁর সিংহাসনে আরোহণ করবে, এবং তারপর পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্র ফিরিয়ে আনার নামে একটি জাল বা মেকি বা ভুয়া রাস্ট্র বানানোর চেষ্টা করবে; ভবিষ্যতের এই অভূতপূর্ব ঘটনার জ্ঞান প্রাপ্ত হওয়ার পরপরই নবী সুলাইমান (আ) আল্লাহ সুবহানওয়াতালার দরবারে একটি অসামান্য দোয়া করেন।

“আমি সোলায়মানকে পরীক্ষা করলাম এবং রেখে দিলাম তার সিংহাসনের উপর একটি জাসাদ বা আত্মাহীন নফছহীন মানবদেহ। অতঃপর সে রুজু হল। সোলায়মান বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।” [সুরা সা’দঃ ৩৪-৩৫]

সুলাইমান (আ) যখন তাঁর সিংহাসনে জাসাদকে দেখলেন, তিনি তখন ধৈর্যের সাথে আল্লাহর দিকে ফিরলেন এবং দোয়া করলেন যে, আল্লাহ যেন তাঁর গুনাহ মাফ করে দেন এবং তাঁর পরে যেন কেউ পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্রের মালিক হতে না পারে।

যখন উপরোক্ত আয়াতদ্বয় একসাথে গবেষণা করা হবে, তখন বোঝা যাবে যে, যখন আত্মাহীন নফছহীন মানবদেহ বা জাসাদকে সুলাইমান (আ) এর সিংহাসনে স্থাপন করা হলো, তখন তিনি আতঙ্কিত হয়ে আলোচ্য দোয়াটি করলেন এ কারণে যে, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এই জাসাদ তাঁর সিংহাসনকে তথা পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্রকে দখল করার চেষ্টা করবে এবং পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্রের নামে পবিত্র ভূমিতে একটি অপবিত্র রাস্ট্র তৈরী করবে। 

আমাদের মত হলো নবী সুলাইমান (আ) জেরুজালেমে তাঁর সিংহাসনে দাজ্জালকে দেখেছিলেন যে পবিত্র ইজরায়েলের নামে ইজরায়েল রাস্ট্র গঠন করে তা শাসন করার মিশনে নামবে। তাই তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন যাতে দাজ্জালের এই পরিকল্পনা কখনও বাস্তবায়িত না হয়। সুতরাং, যে জাসাদ সিংহাসনে বসেছিল সেই দাজ্জাল!

সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম, দাজ্জাল ফেরেশতাও না, জ্বীনও না; সে একজন জাসাদ বা আত্মাহীন নফছহীন মানবদেহ।

যেহেতু দাজ্জাল একজন জাসাদ যাকে আল্লাহ সুবহানওয়াতালা সুলাইমান (আ) এর সিংহাসনে স্থাপন করেছেন, সুতরাং সে এমন একটি সৃষ্টি যাকে তার মানব সদৃশ শরীরের জন্য মানুষ মনে হবে কিন্তু সে তার নফছ ও আত্মাহীনতার কারণে পরিপূর্ণ মানুষ নয়। যেহেতু তার নফছ নেই, তাই তার কোন স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি নেই, ফলে সে তার কৃতকাজের জন্য দায়ী হবে না এবং বিচার দিবসে ফেরেশতাদের অনুরূপ তার কোন হিসাব-নিকাশ নেই।

যেহেতু দাজ্জাল একজন জাসাদ, তার নিজস্ব কোন বুদ্ধি বা জ্ঞান নেই। সে নিজে তার জন্য কোন চিন্তা করতে পারে না। তার জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি কম্পিউটারের মত বাইরে থেকে প্রোগ্রামড করা। সে রবোটের মত এবং আমরা দাজ্জালকে ভালোভাবে বুঝতে পারব এমনকি তার পদচিহ্ন দেখতে পার আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের মধ্যে। দাজ্জালের পদচিহ্ন বর্তমানে সবচেয়ে বেশী পরিমাণে দেখা যাচ্ছে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যেখানে সত্যিকারের মুদ্রা স্বর্ণ ও রৌপ্যের জায়গা দখল করে নিয়েছে অর্থনৈতিক জাসাদ তথা আর্টিফিশিয়াল মুদ্রা।

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

Click below to see the Surah: Surah Soa’d, 34 – 35 

দাজ্জালের পরবর্তী টার্গেট

দখলদার ইহুদিদের পরবর্তী টার্গেট হবে মসজিদুল আকসা ভেঙ্গে ফেলা ও দাজ্জালের থার্ড টেম্পল তৈরি করা।

সুলাইমান (আঃ) এর ইবাদাতগৃহ ইহুদিদের কাছে ফার্স্ট টেম্পল নামে পরিচিত। খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৯ অব্দে ব্যাবিলনের রাজা জেরুজালেম অবরোধ করেন এবং খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে ফার্স্ট টেম্পল ধ্বংস করে ফেলা হয়। ইহুদিদেরকে ঐ সময় ব্যাবিলনে নির্বাসিত করে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাবিলনের পতনের পর খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের রাজা সাইরাস দ্য গ্রেট ইহুদিদের কিংডম অফ জুডাতে ফিরে আসার অনুমতি দেন। হিব্রু বাইবেল অনুযায়ী ৫৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সেকেন্ড টেম্পল নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬৬ খ্রিস্টাব্দে ইহুদিরা রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। অতঃপর ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সেনাবাহিনী সেকেন্ড টেম্পল ধ্বংস করে ফেলে।

২০০০ বছর ধরে ইহুদিরা তাদের স্বপ্নের থার্ড টেম্পল বানানোর আশায় বসে আছে। থার্ড টেম্পল তৈরি না করতে পারলে কোন ইহুদিই দাজ্জালকে প্রতিশ্রুত মাসিহ হিসাবে মেনে নেবে না। দাজ্জালকে অবশ্যই ইহুদিদের স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনতে হবে। “মসিহ, বিধাতার জন্য একখানা গৃহ নির্মাণ করবেন” (বাইবেলের পুরাতন নিয়ম, ১ খান্দাননামা ১৭:১১-১৫)। আর ইহুদিদের বিশ্বাস তাদের উপাসনালয়ের অবস্থান টেম্পল মাউন্টে, ঠিক যেখানটায় মসজিদুল আকসা অবস্থিত।

থার্ড টেম্পলের নকশা রেডি করে ফেলেছে ইহুদিরা। থার্ড টেম্পলের জন্য বিভিন্ন ঐতিহাসিক জিনিসপত্র তাদের দরকার, বিভিন্ন মূল্যবান পাথর ইত্যাদি। তাদের কিং মেসায়াহকে বরণ করতে ও অভিষিক্ত করতে পবিত্র তেল দরকার যা হিব্রু বাইবেলে বর্ণিত গাছগাছড়া থেকে বানাতে হয়। কাগজের মুদ্রা টেম্পলে ব্যবহার করা হারাম, টেম্পলে ব্যবহার করতে হবে রৌপ্য মুদ্রা। এসব কিছু রেডি করে ফেলেছে ইহুদিরা। তাদের টেম্পল ইন্সটিটিউট জোরেশোরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেনঃ Ashrafuzzaman Tusher

Jubilee Patterns Revealed

 

দাজ্জালের আগমনের একটি পূর্বশর্ত বাস্তবায়ন হয়েছে- জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা হল-

জুবলি ইয়ার-

১৯১৭ – দুই হাজার বছর পরে ইয়াহুদিরা পবিত্রভূমিতে ফিরে আসে। ৫০ বছরের পরের জুবলি ইয়ার
১৯৬৭- দুইহাজার বছরে প্রথমবার জেরুজালেম/ বাইতুল মাকদিস ইসরাইলের দখলে আসে। ৫০ বছরের পরের জুবলি ইয়ার
২০১৭- দুই হাজার বছর পরে জেরুজালেম আবারো ইয়াহুদিদের রাজধানী হয়েছে।

রাবাই জনাথন চ্যান দীর্ঘদিন ধরে দাবী করছিলেন- এই জুবলিতে অবশ্যই ইয়াহুদিদের জন্য একটি সুসংবাদ অপেক্ষা করছে। অবশ্যই মাসিহার আগমন নিকটতর হচ্ছে এটাই হবে সেই সুসংবাদ। ইয়াহুদিদের মতে মাসিহাকে আসতে হলে অবশ্যই জেরুজালেমকে ইয়াহুদিদের রাজধানী হতে হবে। ট্রাম্পকে ক্ষমতায় বসানোর পিছনে অনেক কারন আছে, তার মধ্যে যায়নিস্টরা ট্রাম্পকে দিয়ে জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াবে এটিও একটি কারন। ইশতেহারে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিল অবশ্যই সে জেরুজালেমকে ইয়াহুদিদের রাজধানী বানাবে।

দাজ্জালের আগমনের একটি ধাপ পূর্ণ হল আজ। ২০১৪তে ‘দাজ্জালের মহাফিতনা ও বর্তমান বিশ্ব’ সিরিজের ৩য় পর্বে আমি এটা লিখেছিলাম। যাইহোক আমরা মুসলিমরা হয়তো এখনো ঐক্য গড়ব না। দেখাযাক ইরান আর টার্কি এখন কি করে। সৌদি কি করবে তা পূর্ব থেকে অনুনেয়। শিশু ইসরাইল এখন যৌবনে উপনিত হয়েছে, দাজ্জালকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়েছে। সি অব গ্যালিলির পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। আমরা মুসলিমরা ঘুমিয়ে আছি, কায়ামাত? তা তো হাজার বছর দূরে। দাজ্জাল? এই সব খবরের সাথে দাজ্জালের নাম এলো কেন? যাদের মনে এই সব ফালতু প্রশ্ন আসে, যারা সি অব গ্যালিলির সাথে হাদিস মিলিয়ে দেখেন না, যারা কুর’আনে জেরুজালেম নিয়ে কিছুই খুঁজে পান না, তাদের উচিত কম্বল চেপে ঘুমিয়ে থাকা। আর হ্যা জনাথনের কোনো ভবিষ্যতবাণী পূরণ হয় নি বরং এটা প্রি প্ল্যান্ড অয়েতে করা হয়েছে।

পড়ুনঃ
The Prophecy of Ten Jubilees

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

The Prophecy of Ten Jubilees

যুগে যুগে বহু ইয়াহুদি পণ্ডিত তাদের ধর্মগ্রন্থ থেকে মাসিয়াহ’র আগমনের ও দাজ্জালী যুগের সঠিক সময় নির্ণয় করার চেষ্টা করেন। ইয়াহুদিদের মাঝে সবচেয়ে জনশ্রুত ও গ্রহণযোগ্য এমন রাবাইদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাবাই জুদাহ বেন সেমুয়্যাল । ১২ শতাব্দীতে এই জার্মান রাবাই বাইবেলের গুননা ও ভবিষৎবাণীর চরণের সাহায্যে দাজ্জালের সময়ের ভবিষৎবাণী করেন। এটি পঞ্চাশ জয়ন্তীর দৈববাণী (The Prophecy of Ten Jubilees) নামে পরিচিত। রাবাই জুদাহ বেন সেমুয়্যাল বলেন-

“তুর্করা (উসমানীয় খিলাফত) জেরুজালেম দখল করবে, জেরুজালেমে তাদের শাসন হবে ৮ জুবলি পর্যন্ত। তারপর জেরুজালেম শাসনহীন বা নো-ম্যান ল্যান্ড হিসেবে থাকবে ১ জুবলি। নবম জুবলির সমাপ্তিতে জেরুজালেম পুনরায় ইয়াহুদিদের দখলে আসবে। এরপরেই (১ যুবলির পরে) মেসিয়ানিক যুগের প্রারম্ভ হবে”। –(March, 2008 in Israel Today on page 18)

জুদাহ বেন সেমুয়্যাল ১২১৭ সালে মারা যান। তার মৃত্যুর পুরো ৩০০ বছরে পরে ১৫১৭ সালে তুর্করা (উসমানি খিলাফত) মামলুক সালতানাতকে পরাজিত করে জেরুজালেম দখল করে। এখান থেকে শুরু হয় সেমুয়্যালের দৈববাণী। ১৯১৭ সালে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়ে জেরুজালেম উসমানি খিলাফতের বেদখল হয়। জেরুজালেমে উসামানিরা পুরো ৮ জুবলি (৫০*৮=৪০০ বছর) রাজত্ব করেছিল। এর পরের এক জুবলি বা ৫০ বছর (১৯১৭-১৯৬৭) বেদখল ও বিতর্কিত ভূমি হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ছিল। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলেও জেরুজালেম ইসরাইলের অংশ ছিল না। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইলের ৬ দিনের যুদ্ধ শেষে ইসরাইল জেরুজালেম দখল করে। এটা এমন ভাবে থাকবে এক জুবলি (৫০ বছর) অর্থাৎ ২০১৭ সাল পর্যন্ত। এর পরের জুবলিতে কি হবে সেমুয়্যাল তা স্পষ্ট করেনি তবে তার ছাত্ররা বলে এর পরের জুবলিতেই মাসিহার আগমন হবে। সেমুয়্যালের ৮ শত বছর আগের সকল দৈব্যবাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়েছে ও হচ্ছে এবং হবে বলে ইয়াহুদিরা বিশ্বাস করে। তার ছাত্ররা যখন তাকে জিজ্ঞাস করল, ‘এই অন্তর্দৃষ্টি আপনি কোথায় পেলেন?’ সেমুয়্যালে বলল- “নবী এলিজাহ (ইলিয়াস আলাহিস সালাম) প্রতীয়মান হয়ে (এই সকল বিষয় গুলো) অনাবৃত করছেন”

উল্লেখ্য যে, ইয়াহুদিদের মধ্যে অনেক দল-উপদল রয়েছে। বিশেষ করে শেষ যামানা বিষয়ে এরা ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসে বিশ্বাসী । কিছু এমন রয়েছে যারা দাজ্জাল আসবে বলে বিশ্বাস করে না, কিছু ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, তেমনি কিছু ইয়াহদি উপরিল্লিখিত বিষয়কে অস্বীকার করে। রাবাই সেমুয়্যালেরও নিজস্ব আলাদা বিশ্বাস ছিল।
.
(মেসিয়ানিক সিরিজের একটি অনুচ্ছেদ থেকে)

#দাজ্জালের_মহাফিতনা_ও_বর্তমান_বিশ্ব

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

কর্পোরেট যুগের জ্ঞান

বর্তমানে বিজ্ঞানী হওয়া যায় না। এখন কর্পোরেট যুগ। এখন প্রতিষ্ঠান পণ্য বা জ্ঞান আবিষ্কার করে। প্রতিষ্ঠানই নির্মাতা। কেউ একজন কম্পিউটার পড়ে অ্যাপলে চাকরী নিল। সে একটা সফটওয়্যার বানাল। বলা হবে অ্যাপল বানিয়েছে। গত শতাব্দীর পঞ্চাশ দশক হতে বিজ্ঞানী হওয়া শেষ। এর আগে অনেক বিজ্ঞানী ছিল। এখন যতদিন চাকরী করবে ততদিন আর্ন করবে। খ্যাতিটা পাবে কোম্পানি। ইচ্ছা করলেই কেউ পারমাণবিক বিজ্ঞানী হতে পারবে না। কেউ হতে চাইলে তাকে সরকারী চাকরী করতে হবে এবং সরকারের পরমাণু বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে চাকরী করতে হবে। কিন্তু তা অবসর পাওয়া পর্যন্তই। এরপর তার যোগ্যতার আর মূল্যায়ন নেই। তাই বলা যায় বিজ্ঞানের নিয়ন্ত্রণ এখন সরকার ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে। বিজ্ঞান ব্যবহৃত হয় তাদের যুদ্ধ ও বাণিজ্যের জন্য। কলাবিজ্ঞানীরা যে বিজ্ঞানের মায়াজালের স্বপ্ন বুনে সে বিজ্ঞান এখন ব্যাকডেটেড। বিজ্ঞানের পাশাপাশি ধর্মও অনেকাংশে সরকার ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বুকপকেটে।

মিরর

লিনাক্স যাতে সবাই পায় সেজন্য সারা পৃথিবীতে অনেকগুলো রিপোজিটরি বসানো হয় যাতে একটা সার্ভার থেকে ডাউনলোড করতে সমস্যা না হয় বা কোন নির্দিষ্ট সার্ভার নষ্ট হয়ে গেলে যেন তার ইফেক্ট না পড়ে। এগুলোকে মিরর বলে। এই প্রযুক্তি ১৪০০ বছর ধরেই ব্যবহার হয়ে আসছে কুরআন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে। আল্লাহ্‌ তায়ালা অসংখ্য কুরআনে হাফেজ তৈরি করে পৃথিবীর সব জায়গায় ফিট করে রেখেছেন যাতে যে কেউ যে কোন সময় কুরআনের এক্সেস পেতে পারে।

একই প্রযুক্তি দাজ্জালও ব্যবহার করছে। আই মিন দাজ্জালী এডভান্স ফোর্স। বাংলাদেশের গ্রামের ৯ বছরের এক কিশোরীকে যদি জিজ্ঞাসা করেন বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, নারীদের সামাজিকায়ন ইত্যাদি বিষয়ে তোমার মতামত কি, সে যা উত্তর দিবে বহুদূরের আমেরিকা বা ইউরোপের পিএইচডি-তে অধ্যয়নরতা কোন নারীও সেই উত্তরই দিবে। এবং অবশ্যই তা ইসলামিক ফিলোসফিকাল উত্তর নয়। বরং দাজ্জালী ফিলোসফিকাল উত্তর।

বেশীরভাগ মানুষের ব্রেনই দাজ্জালের মিরর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।