কর্পোরেট যুগের জ্ঞান

বর্তমানে বিজ্ঞানী হওয়া যায় না। এখন কর্পোরেট যুগ। এখন প্রতিষ্ঠান পণ্য বা জ্ঞান আবিষ্কার করে। প্রতিষ্ঠানই নির্মাতা। কেউ একজন কম্পিউটার পড়ে অ্যাপলে চাকরী নিল। সে একটা সফটওয়্যার বানাল। বলা হবে অ্যাপল বানিয়েছে। গত শতাব্দীর পঞ্চাশ দশক হতে বিজ্ঞানী হওয়া শেষ। এর আগে অনেক বিজ্ঞানী ছিল। এখন যতদিন চাকরী করবে ততদিন আর্ন করবে। খ্যাতিটা পাবে কোম্পানি। ইচ্ছা করলেই কেউ পারমাণবিক বিজ্ঞানী হতে পারবে না। কেউ হতে চাইলে তাকে সরকারী চাকরী করতে হবে এবং সরকারের পরমাণু বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে চাকরী করতে হবে। কিন্তু তা অবসর পাওয়া পর্যন্তই। এরপর তার যোগ্যতার আর মূল্যায়ন নেই। তাই বলা যায় বিজ্ঞানের নিয়ন্ত্রণ এখন সরকার ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে। বিজ্ঞান ব্যবহৃত হয় তাদের যুদ্ধ ও বাণিজ্যের জন্য। কলাবিজ্ঞানীরা যে বিজ্ঞানের মায়াজালের স্বপ্ন বুনে সে বিজ্ঞান এখন ব্যাকডেটেড। বিজ্ঞানের পাশাপাশি ধর্মও অনেকাংশে সরকার ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বুকপকেটে।

Advertisements

মিরর

লিনাক্স যাতে সবাই পায় সেজন্য সারা পৃথিবীতে অনেকগুলো রিপোজিটরি বসানো হয় যাতে একটা সার্ভার থেকে ডাউনলোড করতে সমস্যা না হয় বা কোন নির্দিষ্ট সার্ভার নষ্ট হয়ে গেলে যেন তার ইফেক্ট না পড়ে। এগুলোকে মিরর বলে। এই প্রযুক্তি ১৪০০ বছর ধরেই ব্যবহার হয়ে আসছে কুরআন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে। আল্লাহ্‌ তায়ালা অসংখ্য কুরআনে হাফেজ তৈরি করে পৃথিবীর সব জায়গায় ফিট করে রেখেছেন যাতে যে কেউ যে কোন সময় কুরআনের এক্সেস পেতে পারে।

একই প্রযুক্তি দাজ্জালও ব্যবহার করছে। আই মিন দাজ্জালী এডভান্স ফোর্স। বাংলাদেশের গ্রামের ৯ বছরের এক কিশোরীকে যদি জিজ্ঞাসা করেন বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, নারীদের সামাজিকায়ন ইত্যাদি বিষয়ে তোমার মতামত কি, সে যা উত্তর দিবে বহুদূরের আমেরিকা বা ইউরোপের পিএইচডি-তে অধ্যয়নরতা কোন নারীও সেই উত্তরই দিবে। এবং অবশ্যই তা ইসলামিক ফিলোসফিকাল উত্তর নয়। বরং দাজ্জালী ফিলোসফিকাল উত্তর।

বেশীরভাগ মানুষের ব্রেনই দাজ্জালের মিরর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দাজ্জাল গবেষণা

খুব জরুরী একটি বিষয়ে পোস্ট করার ইরাদা করলাম। দাজ্জাল নিয়ে হঠাৎ করে অনেকে লিখা শুরু করেছেন। আজব আজব ঘটনা বর্ণনা করছেন। হাজার হাজার লাইক হচ্ছে। শত শত শেয়ার হচ্ছে। যেসব আলেমরা ইমরান নযর হোসেনের কথা শুনলে নাক সিটকান তারা এসব ভৌতিক গল্পে লাইক দিচ্ছেন। — কারণ আর কিছুই না। লেখক হয়তো কোন ধর্মীয় দল করে, লেবাস আছে, সাইনবোর্ড আছে, ব্যস সাথে সাথে তার সতীর্থ ও সমমনারা উপচে পড়ল। তারা খুশী হয়ে গেল এই ভেবে দাজ্জালের গবেষক তাদের মধ্য থেকে এসেছে।

একজন লিখেছে, দাজ্জাল নিয়ে লিখতে লিখতে তার নোটপ্যাড বন্ধ হয়ে গেছে। তার মোবাইলে দাজ্জালের হামলার শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনী। ফলাফল, ইতিমধ্যে ৮১৪ পাবলিক রিএকশন, ২১ শেয়ার।

বাস্তব কথা হলো, মোবাইলে একসাথে কয়েকটি এ্যাপ চললে বা নোটপ্যাডে লিখা বড় হলে হঠাৎ করে এমনিতেই এ্যাপ ক্লোজ হয়ে যায়। এটা দাজ্জালী প্রযুক্তির দুর্বলতা। দাজ্জালের সফলতা নয়। আগে যখন নোটপ্যাডে লিখতাম বহুবার আমার এমন হয়েছে।

দাজ্জাল নিয়ে লেখা এতো সহজ নয়। আগে মেথডিক্যালি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দাজ্জাল বোঝার আগে ইয়াজুজ মাজুজ বুজতে হবে। দাজ্জালের কাছে যেতে হলে ইয়াজুজ মাজুজ হয়ে যেতে হবে। কেন ইয়াজুজ মাজুজ হয়ে যেতে হবে? তা আমরা অতীতে বলেছি। কারণ কুরআনে ইয়াজুজ মাজুজকে সরাসরি গুরুত্বের সাথে এড্রেস করা হয়েছে। দাজ্জালকে পরোক্ষভাবে। দাজ্জাল আছে হাদিসে। কুরআনকে বাদ দিয়ে হাদিসকে বিচ্ছিন্নভাবে স্টাডি করলে পদ্ধতি ভুল হবে। গবেষণার সিদ্ধান্ত ভুল আসবে। হাদিস হচ্ছে কুরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এ উপমহাদেশীয় অঞ্চলে দাজ্জাল এতো হট টপিক কেন? আর ইয়াজুজ মাজুজই বা এতো অপিরিচত কেন? কারণ এ অঞ্চলে কুরআন টপকে হাদিসে চলে যাওয়ার প্রবণতা আছে। আবার হাদিসের চেয়েও মনগড়া কাহিনীর মূল্য বেশী।

যাহোক, আল্লাহ্‌র কাছে এই আশা করি যেন তিনি হাজার হাজার বা বৃহৎ সংখ্যক মানুষের গন্তব্য থেকে আমাদের সঠিক গন্তব্যের ক্ষুদ্র কাফেলার অন্তর্ভুক্ত করেন। আমাদের ভুলত্রুটিকে আল্লাহ্‌ ক্ষমা করুন।

দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদিসের প্রতিকী ভাষার অর্থ

দাজ্জাল পূর্বদিক থেকে আসবে = জেরুজালেম থেকে মানুষরূপে ও ইহুদিরাজা হিসেবে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ।

দাজ্জাল ইস্পাহান থেকে আসবে = ইরানের পশ্চিমাপন্থী হওয়া।

দাজ্জাল ইয়েমেন বা সিরিয়ার সাগরে রয়েছে = দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পূর্বে অশান্ত ইয়েমেন, সিরিয়া, লিবিয়া।

দাজ্জালের একদিন এক বছরের সমান = ব্রিটেনের বিশ্ব শাসন

দাজ্জালের একদিন এক মাসের সমান = যুক্তরাস্ট্রের বিশ্ব শাসন

দাজ্জালের একদিন এক সপ্তাহের সমান = ইজরায়েলের বিশ্ব শাসন

বাকি দিন তোমাদের মত = দাজ্জালের মানুষরূপে ইহুদি লোক হিসেবে আত্মপ্রকাশ

দাজ্জাল যে দ্বীপে বন্দী ছিল = গ্রেট ব্রিটেন

একজন ইহুদিকে দাজ্জাল সন্দেহ = দাজ্জাল মুক্ত হয়ে গেছে

দাজ্জালের উড়ন্ত গাধা = আধুনিক বিমান।

দাজ্জালের ডান চোখ অন্ধ = সেক্যুলার আধুনিক সভ্যতা

দাজ্জালের কপালে “কাফের” লেখা = সেক্যুলার সভ্যতাকে কাফেররূপে কেবল মুমিন ব্যক্তিই চিনতে পারবে।

Md Arefin Showrav 

সেক্যুলার দাজ্জাল

ধর্মীয় জ্ঞান অনুযায়ী, মূর্তি ও ভাস্কর্য একই জিনিস। কিন্তু সেক্যুলার জ্ঞান অনুযায়ী, মূর্তি ও ভাস্কর্য এক জিনিস নয়। মানবজাতির শুরু থেকে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ ধর্মীয় জ্ঞান অনুযায়ী জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে। আমাদের ভারত উপমহাদেশেও অনেক বড় বড় মাপের ধর্মীয় জ্ঞানের অধিকারী মুনি-ঋষি মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে এসেছে। কিন্তু আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতা সমগ্র বিশ্বে এক নতুন ধারা নিয়ে হাজির হয়। প্রথমে ইউরোপে ফ্রেঞ্চ রেভ্যুলেশনের মাধ্যমে, তারপর সমগ্র বিশ্বে সেক্যুলারাইজেশনের বিষ ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মীয় শিক্ষাকে ইতিহাসের যাদুঘরে পাঠিয়ে শিক্ষাকে সেক্যুলারাইজেশন করা হয়। ধর্মীয় জ্ঞানকে বলা হয় মিথ বা পুরাকথা। সেক্যুলার শিক্ষাকে দেয়া হয় সকল মর্যাদা। কীভাবে এই রহস্যময় আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতা মানবজাতির হাজার হাজার বছরের অভ্যাসকে পাল্টে দিল? কে এর নাটের গুরু?

রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের জানিয়ে গেছেন যে, দাজ্জালের ডান চোখ হবে অন্ধ। দাজ্জালের কপালে কাফ ফা র (ك ف ر) অর্থাৎ কাফের লেখা থাকবে। সকল মুমিন ব্যক্তি সেই লেখা পড়তে পারবে হোক সে শিক্ষিত অথবা অশিক্ষিত।

বর্তমান ঈশ্বরবিমুখ সেক্যুলার আধুনিক সভ্যতার ডান চোখ অন্ধ। কারণ এই সভ্যতার ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক দৃষ্টি নেই। তাইতো এই সভ্যতার দৃষ্টিতে মূর্তি ও ভাস্কর্যের সংজ্ঞা ভিন্ন।

সকল মু’মিন ব্যক্তি হোক সে মুসলিম কিংবা আহলে কিতাব; সে এই আধুনিক সেক্যুলার পশ্চিমা সভ্যতার কপালে কাফের লেখা সহজেই পড়তে পারে হোক সে শিক্ষিত বা অশিক্ষিত। এই সভ্যতা যে দাজ্জাল বা এন্টি-ক্রাইস্টের সৃষ্টি তাতে কোন সন্দেহ নেই।

Md Arefin Showrav 

ইসলামিক রিপাবলিক !!

ইসলামিক রিপাবলিক ইরান!
ইসলামিক আবার রিপাবলিক হয় কীভাবে??? হয় ইসলামিক, নয়তো রিপাবলিক। ইসলামিক রাস্ট্র মানে খিলাফাত আর রিপাবলিক রাস্ট্র মানে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক রাস্ট্র ও বোগাস ইলেকশনের গোপন ব্যালট বাক্স। ইসলামী রাজনীতিতে কোন গোপন বাক্স লাগে না, মুসলিম তার পছন্দ জনসম্মুখে প্রকাশ করে।

@ Md Arefin Showrav

Iranian President Hassan Rouhani is winning in Friday’s election, leading by over 7 million votes from his conservative rival, Ebrahim Raisi, Interior Ministry official Ali…
RT.COM

সোলজারস অব দাজ্জাল

যখন দাজ্জাল বের হবে তখন তৎকালীন প্রথাগত আলেমরা তাকে সমর্থন দিবে। ডূ ইউ বিলিভ? পারহেপস, ইউ ডু নট। ঠিক যেভাবে তারা বর্তমানে গণতন্ত্রকে সমর্থন দিয়েছে, কাগজের মুদ্রাকে সমর্থন দিয়েছে, ইলেকট্রনিক মানিকে সমর্থন দিতে যাচ্ছে। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহকে যারা নিষিদ্ধ করেছে তাদের সমর্থন দিচ্ছে। আল্লাহ্‌ যা হালাল করেছেন তাকে হারাম করা হচ্ছে, এবং আল্লাহ্‌ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে। যেভাবে ইহুদী রাব্বিরা করত। এ বিষয়ে রাসূল (সা) এর পরিষ্কার সহি হাদীস আছে। যে তোমরা ইহুদী খ্রিস্টানদের অনুসরণ করবে। — ভবিষ্যতবানী বাস্তবায়িত হয়েছে। দাজ্জাল আসলে পুরোটুকু বাস্তবায়ন হবে। সে হবে ইহুদী যুবক। আর পৃথিবীর সব প্রথাগত বিশেষজ্ঞরা তাকে সমর্থন দিবে।