আখেরী জামানা বিষয়ক স্বপ্নের কথা কি প্রকাশ করা যাবে?

ফেসবুকে স্বপ্নের কথা বলিব কিনা এই বিষয়টা নিয়া আমি চিন্তা করিতেছিলাম। আবার এও চিন্তা করিলাম আমরা অতীতের অনেক স্বপ্নের কথা জানি। কুরআনেও অনেকের স্বপ্নের কথা উল্লেখ আছে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহই ওয়া সাল্লাম সাহাবা (রাযি)-দের স্বপ্ন শ্রবণ করিতেন। — কিন্তু বর্তমান জমানায় স্বপ্ন নিয়া কোন আলোচনা নাই। মানুষ স্বপ্নকে এখন আর বিশ্বাস করে না। মানুষ এখন বিশ্বাস করে পদার্থ বিজ্ঞান, গণিত এসব যা ল্যাবে প্রমাণ করা যায়। — কিন্তু আখেরী জমানায় স্বপ্ন গুরুত্বপূর্ণ। শায়খ ইমরান নযর হোসেনও তার স্বপ্নের কথা প্রকাশ করিতেছেন। ফলে আমরা আখেরী জমানার ভয়াবহতা জানিতে পারিতেছি। কারণ আমরা দেখিতেছি কিছু স্বপ্ন আছে ব্যক্তিগত আবার কিছু স্বপ্ন আছে উম্মাহ কল্যাণের দিক নির্দেশিকা। আমার মনে হলো ব্যক্তিগত স্বপ্ন প্রচার না করলেও উম্মাহর কল্যাণ ও ভীতি প্রদর্শনমূলক স্বপ্ন উম্মাহর স্বার্থে প্রকাশ করা উচিৎ। — রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, “স্বপ্নের যখন একটি ব্যাখ্যা দেয়া হয় তখন তা বাস্তবায়িত হয়।”
যেহেতু প্রথম তাবীর বাস্তবায়িত হয় তাই উম্মাহর জন্য কল্যাণকর তাবীর থাকলে তা লিখে দেয়া উচিৎ যেন পরে অন্য ব্যাখ্যা কার্যকর হতে না পারে। — আর ব্যক্তিগত স্বপ্ন বাদ দিয়ে উম্মাহর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্বপ্ন প্রকাশ করা দোষের দেখি না। এটা আমার বক্তিগত মত।
আল্লাহ্‌ ভালো জানেন।

মন্তব্যঃ

Kaisar Ahmed আমিও একবার স্বপ্ন দেখেছিলাম বেশ কয়েক মাস আগে। সেখানে আমি রাসুল সা কে দেখেছিলাম। উনাকে আমি জিজ্ঞাস করেছিলাম আবারো নবী (ঈসা আ) কবে আসবেন। আর দাজ্জাল থেকে কি করে বাঁচব? ফেইসবুকে সবাই নিজের মত করে তাবির করে যা ভয়ংকর তাই স্বপ্ন শেয়ার না করাই উত্তম।

Bashir Mahmud Ellias ভালো স্বপ্ন নবীজি (সাঃ) প্রকাশ করতে উৎসাহিত করেছেন । বিশেষত যে-সব স্বপ্নের সাথে অগণিত মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণ জড়িয়ে আছে, সেগুলো অবশ্যই সবাইকে জানানো উচিত । কারণ ইহা নবুয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ । নবী-রাসুলগণ যেমনভাবে তাহাদের নিকট আগত সংবাদ গোপন করতেন না, তেমনিভাবে ঈমানদারদের নিকট স্বপ্নযোগে যে সংবাদ আসে তাহাও গোপন করা উচিত নয় ।

তবে হ্যাঁ, যে-সব স্বপ্নের সাথে কোন ব্যক্তির কল্যাণ অকল্যাণ জড়িত আছে, সেগুলো যার তার কাছে বলা ঠিক না । কেবল শুভাকাঙ্খি বা বিজ্ঞ আলেমদের নিকট বলা উচিত । কেননা অজ্ঞতা বা শত্রুতার কারণে খারাপ ব্যাখ্যা দিলে সেটি বাস্তবায়িত হয়ে যেতে পারে ।

Advertisements

আখেরী জমানা সংক্রান্ত স্বপ্ন

গতরাতে আবারও স্বপ্নে দেখলাম ভূমিকম্প হইতেছে । ঘুম থেকে জেগে দেখলাম রাত তখন ১২:২৩ বাজে । স্বপ্নে দেখলাম ভূমিকম্প শুরু হয়েছে, আমি বাড়ি ছেড়ে পালাতে চাইলাম কিন্তু পালানো ত দূরের কথা এমন প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে উঠে দাঁড়াতেই পারলাম না । সত্য স্বপ্ন খুব অল্প ক্ষণই স্থায়ী হয়ে থাকে । ঘুম ভেঙ্গে যায়ার পর সন্দেহ হচ্ছিল স্বপ্ন দেখলাম নাকি সত্যসত্যই ভূমিকম্প হইতেছে । পাশের রুমে গিয়ে দেখলাম বউ-বাচ্চারা নাক ডেকে ঘুমাইতেছে । জানালা দিয়ে দেখলাম পাশে বিল্ডিংয়ের হিন্দু প্রতিবেশী ভাই সোফায় হেলান দিয়ে তখনও টিভি দেখতেছেন । ফলে নিশ্চিত হলাম যে ভূমিকম্প হচ্ছে না বরং স্বপ্ন দেখেছি । কেননা ভূমিকম্প হলে কেহ আরাম করে টিভি দেখতে পারত না । আমি গত তিন বছরে অন্তত তিন বার ভূমিকম্পের স্বপ্ন দেখেছি । আরো অনেকের কাছে শুনেছি তারাও ভূমিকম্পের স্বপ্ন দেখেছে । কাজেই ভয়াবহ ভূমিকম্প আসিতেছে । কেননা মহানবী (সাঃ) বলেছেন, পৃথিবীর শেষ যুগে ঈমানদার লোকদের স্বপ্ন কমই মিথ্যা প্রতিপন্ন হবে । আর ইহা সম্ভবত সেই ভয়াবহ ভূমিকম্প যার ভবিষ্যতবাণী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) করে গেছেন, ‘তিনটি বড় ভূমিকম্প হবে । পূর্ব দিকে একটি, পশ্চিম দিকে একটি এবং আরব দেশ একটি’ । সে যাক, আমি গত পাঁচ বছর যাবতই আমার ওয়াইফকে বুঝাইতেছি গ্রামে গিয়ে লতাপাতার তৈরী ঘরে বসবাস করার জন্য কিন্তু সে রাজী না । সে ঢাকাতেই থাকবে এবং যে করেই হোক তার বাচ্চাদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানাবে । আমার মনে হয় ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে না বরং মরে ভূত হবে । কয়দিন আগে আমার সমন্ধি এসেছিলেন আমার বাসায় বেড়াতে, তারও একই সমস্যা । সে গ্রামে গিয়ে বসবাস করতে চায় কিন্তু তার স্ত্রী রাজী না । কারণও একটাই, ঢাকায় না থাকলে বাচ্চাদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানানো যাবে না । অথচ ভূমিকম্পের পরে আমরা বেঁচে থাকলেও ঢাকায় থাকতে পারব না । প্রকেৌশলীদের মতে, ঢাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে সত্তর হাজার বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়বে । সত্তর হাজার যদি ভেঙ্গে পড়ে তবে ফেটে যাবে নিশ্চয় এক লাখ চল্লিশ হাজার বিল্ডিং । আর এসব ফাটা বিল্ডিংয়ে কেহ বসবাস করতে রাজী হবে বলে মনে হয় না ।

Bashir Mahmud Ellias
২৭/০৬/২০১৭

বায়বীয় অভিযোগ

জ্ঞান সঠিক না ভুল তা একটু লক্ষ্য করলে বোঝা যায়। যেমন ধরুন, আহলে হাদীসের বিরুদ্ধে হানাফী মাযহাবের অনুসারীদের হাজার হাজার অভিযোগ আছে। তারা মাঝে মাঝেই ওপেন চ্যালেঞ্জ, বাহস ইত্যাদিতে লিপ্ত হয়। আহলে হাদীস থেকে জবাব দেয়ার চেষ্টাও করা হয়। আবার অনেক সময় শায়খ নাকি পালিয়ে যায়। এটিও আবার দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিপরীতদিকে হানাফীদের বিরুদ্ধেও আহলে হাদীসের অভিযোগের শেষ নাই। আবার তাবলীগের বিরুদ্ধেও অনেকে অভিযোগ যোগ করে। আমি বলতে চাচ্ছি এরা সবাই দলিল প্রমাণ হাতে নিয়েই অভিযোগ করে। কারো দলিল শক্ত, কারো দলিল দুর্বল। কিন্তু দলিল প্রায় সবার হাতেই থাকে। এসব দলিল দিয়ে সব পক্ষই শত শত পৃষ্ঠার বইও লিখে। আমি বলতে চাচ্ছি, শায়খ ইমরান নযর হোসেনের তাফসীরকে অনেকে বানোয়াট, গোমরাহি, মিথ্যা, বলে প্রচার করে। কিন্তু তাদের হাতে দলিল কোথায়? আজ পর্যন্ত তো পবিত্র কুরআনে জেরুজালেমের বা ইয়াজুজ মাজুজ বা সুদের বা মুদ্রানীতির বইয়ের বিপরীতে কোন বই দেখলাম না। আমার কাছে ইমরান নযরের বই পড়ে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে। এখন আমি যদি ভুল করি সে ভুল ভাঙ্গাতে হলে তো ইমরান নযরের মতো পর্যাপ্ত দলিল দিতে হবে। অমুক কিতাবে বলা আছে দাজ্জালের পর ইয়াজুজ মাজুজ আসবে হ্যামিলনের ইদুরের মতো, তারা চুমুক দিয়ে পানি পান করতে করতে যাবে – এসব গল্প তো আমার কাছে বললে হবে না ভাই। বিশেষ করে দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ বিষয়ে যার ইমরান নযর পড়া আছে তার কাছে।

ওয়াতানিয়াত/ জাতীয়তাবাদ – ড. আল্লামা ইকবাল

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

সকলকে আগত স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি আল্লামা ইকবালের একটি কবিতার মাধ্যমেঃ

ঈস দাওর মে মাই আওর হ্যাঁয়, জাআম আওর হ্যাঁয়, জাম আওর
সাকী নে বিনা কি রায়ুস-ই-লুতফ-ও-সিতাম আওর

মুসলিম নে ভি তামীর কিয়া আপনা হারাম আওর
তাহজীব কে আযার নে তারাসওয়ায়ে সানাম আওর

ইন তাযা খোদাও মে বারা সাবসে ওয়াতান হ্যাঁয়
জো পাইরাহান ইসকা হ্যাঁয়, ওহ মাযহাব কা কাফান হ্যাঁয়

ইয়ে বুত’কে তারাশিদা-ই-তাহযিব-ই-নাওয়ী হ্যাঁয়
ঘারাতগার-ই-কাশানা-ই-দ্বীন-ই-নাবওয়ী হ্যাঁয়

বায়ু তেরা তাওহীদ কী কুওয়াত সে কাওয়ী হ্যাঁয়
ইসলাম তেরা দেশ হ্যাঁয়, তু মুস্তাফাওয়ী হ্যাঁয়

নাযযারা-ই-দেরিনা যামানে কো দিখে দে
আই মুস্তাফাওয়ী খাক মে ঈশ বুত কো মিলা দে
.
বাংলা অনুবাদ –

এই যুগে আমি ভিন্ন কেউ, সুরাও ভিন্ন এমনকি গ্লাসটাও ভিন্ন
সাকীর চালচলন ও পরিবেশন ভঙ্গিটাও ভিন্ন

মুসলিমরাও নিজদের জন্য এক ভিন্ন হারাম গড়েছে
সভ্যতার আযররা এক ভিন্ন পূজ্য গড়েছে

এই নব্য খোদাদের মধ্যে, দেশ হল সবচেয়ে বড় খোদা
ইসলামের কাফন দিয়েই জাতীয়তাবাদ নিজের অঙ্গ ঢেকেছে

এই মূর্তি, নব্য উদ্ভাবিত খোদা নয়া সভ্যতার একটি পণ্য
এটি কি রাসুলের দ্বীনের মুল কাঠামোকে লুণ্ঠিত করে গড়া হয় নি?

তোমার বাহু তো, তাওহীদের আদর্শে ঐক্যতায় পৌঁছে
ইসলাম তোমার দেশ, তুমিই তো রাসুলের অনুসারী

হে মুসলিম, সেই পুরাতন দৃশ্যপট আবারো দেখিয়ে দাও
হে রাসুলের অনুসারী, এই সব খোদাকে মাটিতে মিশিয়ে দাও
.
ব্যাখ্যা –

যুগ বদলেছে বদলেছে যুগের মানুষ। মুসলিমরা আলাদা কাবা গড়েছে। নয়া যুগের আযররা (ইব্রাহীম আ এর পিতা’র অনুসারীরা) নতুন খোদা বানিয়েছে। দেশ হল বর্তমানে সব চেয়ে বড় খোদা, এই খোদার সমাজে ইসলাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আধুনিক সভ্যতার এই নতুন খোদা ইসলামের কাঠামোকে চুরি করেই গড়া হয়েছে। কেননা ইসলাম শুধু একটি মাজহাব (ধর্মীয় বিধি নিষেধ) নয়। ইসলাম হল একটি দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা)। জাতীয়তাবাদের এই ধারনা ইসলামের ভিতর থেকে চুরি করে পশ্চিমারা আবিষ্কার করেছে এবং ধর্মকে বাহিরে রেখে ভিন্ন ভিন্ন জাতীয়তাবাদের ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম তৈরি করেছে। মুসলিমরা সীমানা বা পতাকার মাঝে একত্র হয় না বরং কালেমার পতাকার নিচে ঐক্য হয়। ইসলাম হল মুসলিমের দেশ, কেননা তারা রাসুল (সা) এর অনুসারী। বাতিল সকল খোদাকে উপড়ে ফেলাতেই মুসলিমরা অভ্যস্ত, তাই মুসলিমদের উচিত এই এই বাতিল ধ্বংস করে এককার হওয়ার। মুসলিমদের একটি নির্দিষ্ট দেশ নেই সকল দেশই আমাদের। কবি ইকবাল বলেন,

“চীন ও আরব হামারা হিন্দুস্তা হামারা
মুসলিম হ্যাঁয় হাম ওয়াতান হ্যাঁয় সারা জাহা হামারা”

চীন ও আরব আমাদের, হিন্দুস্তান আমাদের
মুসলিম আমরা, পুরো বিশ্বটাই আমাদের
.
আল্লামা ইকবাল অন্য একটি কবিতায় মুসলিমদেরকে প্রশ্ন করেছেন-

“ইউ তো সাইয়্যাদ ভি হো, মীর্জা ভি হো, আফগান ভি হো
তুম সাভি কুছ হো, বাতাও তো মুসালমান ভি হো?”

তুমি নিজের পরিচয় দাও তুমি সাইয়্যাদ, তুমি মীর্জা, তুমি আফগান
সব কিছুই তো আছ তুমি, এটা বল তুমি কি মুসলিমও আছো?

Albert Einstein, Physicist

আখেরী জামানা সংক্রান্ত আমার দেখা কিছু স্বপ্ন

লিখেছেনঃ Bashir Mahmud Ellias

০৮-০৩-২০১৫ঃ

গতরাতে পারমাণবিক যুদ্ধের একটি স্বপ্ন দেখলাম । আমি দেখলাম ইরান ও রাশিয়া এটম বোমার যুদ্ধ ঠেকাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হইল । দেখলাম পারমাণবিক মিসাইল আকাশে নিক্ষেপ করা হইল এবং তাহা নির্দিষ্ট জায়গায় আঘাত করে প্রলয়কান্ড ঘটাইল । আমি মনে করি ইহা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেখানো একটি সত্য স্বপ্ন । পারমাণবিক যুদ্ধ কখন শুরু হবে সেই সম্পর্কে স্বপ্নে আমাকে কোন ইঙ্গিত দেওয়া হয় নাই কিন্তু আমি নিশ্চিত যে সেই যুদ্ধে ইরান এবং রাশিয়া এক পক্ষে থাকবে ।

১৬-১০-২০১৫ঃ

গতরাতে আমি একটি উল্লেখযোগ্য স্বপ্ন দেখেছি । দেখলাম আমি দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে একটি গ্রন্থাগারে পৌছলাম । কিন্তু আমি যখন লাইব্রেরীতে পৌছঁলাম তখন দেখলাম ইহাতে কোন বই-পুস্তক নাই । বইয়ের তাকগুলি সবই খালি । চমৎকার একটি লাইব্রেরী অথচ তার সেলফগুলো সব বই শূন্য । আমার বিশ্বাস এটি একটি সত্য স্বপ্ন এবং ইহাতে আখেরী জামানার একটি আলামতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে । নবী পাক (সাঃ) বলেছেন, “কেয়ামত নিকটবর্তী হইলে (ধর্মীয়) জ্ঞান উঠাইয়া নেওয়া হইবে” । তার মানে আখেরী জামানায় ধর্মীয় জ্ঞান বিলুপ্ত হইয়া যাইবে, মারাত্মক অজ্ঞতা দেখা দিবে । ধর্মীয় জ্ঞানের ভয়াবহ অজ্ঞতার একটি উদাহরণ হইল অনেক মুসলমান ইদানীং ব্যাংক থেকে সুদে টাকা ঋণ নিয়ে হজ্জ আদায় করতে যায় (যা ইসলামে নিষিদ্ধ) …হা….হা…..হা…..আমাদের আলেম-ওলামাদেরকে ধন্যবাদ…..

২৫-১১-২০১৫ঃ

গতরাতে আমি আখেরী জামানা সংক্রান্ত স্বপ্ন দেখেছি । দেখলাম ইমাম মাহদী (আঃ) জেরুজালেম দখলের জন্য দামেস্কের দিকে অভিযান শুরু করেছেন । লোকজন দলে দলে তাহার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতেছে । আমি দেখলাম অধিকাংশ গাছ ফলের ভাবে একেবারে নুয়ে পড়েছে । আমার এক জেঠাতো ভাই মাঠে কৃষিকাজে লিপ্ত ছিল । সে বিস্মিত হয়ে ভাবছিল লোকজন এভাবে দলে দলে কোথায় যাইতেছে ? আমি তার কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছিলাম । গতরাতের স্বপ্নটি এ পর্যন্তই । সহী হাদীসে মুসলমানদের প্রতি নবীজির (সাঃ) নির্দেশ রয়েছে তারা যেন ইমাম মাহদীর (আঃ) আত্মপ্রকাশের সাথে সাথে তাহার দলে যোগ দেয়, এমনকি এজন্য যদি বরফের উপরে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয় তবু পিছপা না হয় । হাদীসে এই কথাও বর্নিত হয়েছে যে, ইমাম মাহদী (আঃ) এবং ঈশা (আঃ) এর শাসন আমলে খাদ্য শস্যে এমন প্রবৃদ্ধি হবে যে, মাত্র একটি আঙ্গুর বিরাট একদল মানুষ খেয়ে পেট ভরতে পারবে ।

২৩-০৫-২০১৬ঃ

গতরাত ছিল ১৫ শাবানের পবিত্র রাত (শবে বরাত) । ফজরের নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়লাম আর সাথে সাথেই একটি পারমাণবিক যুদ্ধের স্বপ্ন দেখলাম । এটম বোমা বিস্ফোরনের উজ্জ্বলতম আলোর ঝলকানি দেখলাম এবং সাথে কান ফাটানো বিস্ফোরনের বিকট শব্দ শুনলাম । প্রায় ১৪ মাস আগে আমি পারমাণবিক যুদ্ধের একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং তাতে এটম বোমার বিস্ফোরনের স্থানটি ছিল অনেক দূরে । কিন্তু গতরাতের বিস্ফোরনটি এত কাছে ছিল যেন মনে হলো আমার ঘরেই ভিতরেই বিস্ফারিত হয়েছে । আমার মনে হলো এই স্বপ্নটি আমাকে সতর্ক করার জন্য দেখানো হয়েছে এবং আমার পাঠকদেরকে সতর্ক করার জন্য যে, পারমাণবিক যুদ্ধ একেবারে নাকের ডগায় এসে পড়েছে ।

১১-০৬-২০১৬ঃ

গতরাতে একটি ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখলাম । দেখলাম বিশাল আকৃতির এক আগ্নেয়গিরি আমাদের রাজধানী শহর ঢাকায় লাভা উদগিরণ করতেছে । মানুষের সাথে সাথে আমিও লাভায় চাপা পড়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াইতেছি এবং পালানোর সময় আমার দুই সন্তানকে হারিয়ে ফেলেছি । যতবারই আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, উত্তপ্ত লাভা পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল থেকে ভূপৃষ্টের দিকে উঠিতেছে, তার পরদিনই বাংলাদেশে একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে । কিন্তু এবারই আমি প্রথম স্বপ্নে দেখলাম যে, বিপুল পরিমাণ উত্তপ্ত লাভা ঢাকা মহানগরীর উপরিভাগে ভীতিকর গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে । আমার মনে হয় দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প আসন্ন বলে গত বিশ বছর যাবত ভূবিজ্ঞানীরা যে ভবিষ্যতবাণী করে আসছেন, তা একেবারে নাকের ডগায় এসে পড়েছে । বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, নেপাল এবং আসাম সেই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে ধ্বংস হবে এবং প্রায় চার কোটি মানুষ তাতে নিহত হইবে । ভূবিজ্ঞানীরা আরও ভবিষতবাণী করেছেন যে, এই এলাকার ভূপৃষ্টের নীচের স্তর তরলে পরিণত হয়েছে । ফলে ভূমিকম্পের সময় অনেক এলাকা উল্টে যাবে এবং অনেক এলাকা দেবে যাবে । নুরনবী (সাঃ) ভবিষ্যতবাণী করে গেছেন যে, আখেরী জামানায় অর্থাৎ কেয়ামত নিকটবর্তী হইলে তিনটি বড় ধরনের ভূমিকম্প বা ভূমিধ্বস হইবে – একটি পূর্বদিকে, একটি পশ্চিম দিকে এবং একটি আরব অঞ্চলে । যদিও মাওলানা ইমরান নজর হোসেন মনে করেন যে, পূর্বদিকের ভূমিকম্পটি ২০০৪ সালে সংগঠিত হয়ে গেছে, যাতে ইন্দোনেশিয়ার নিকটে সমুদ্রের নীচে ভূমিকম্প এবং সুনামিতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড আর শ্রীলংকাতে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছিল । তবে আমি মনে করি বিশ্বনবীর (সাঃ) ভবিষ্যতবাণী করা পূর্বদিকের সেই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পটি এখনও আসতে বাকী ।

০৭-০৯-২০১৬ঃ

আজ রাতে একটি ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখলাম । দেখলাম ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো তারপর আমার স্ত্রীকে ডেকে তুললাম । দেখলাম আমাদের তিন কন্যা গভীর ঘুমে আছে এবং ভুমিকম্প টের পায়নি । ভাবছিলাম মেয়েদের জাগিয়ে নিয়ে বাড়ির বাহিরে চলে যাব নাকি মেয়েদেরকে ঘুমের মধ্যে রেখে ঘরেই বসে থাকব । ভাবতে ভাবতেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো এবং স্বপ্নটি শেষ হয়ে গেলো । ঘুম থেকে জাগার পরে দেখলাম ভয়ে আমার সারা শরীর প্যারালাইসিসের মতো হয়ে আছে । আমার মনে হইতেছে ঈদের আগেই রাসুলে করীম (সাঃ) ভবিষ্যতবাণী করা সেই নারকীয় ভূমিকম্প আঘাত হানবে এবং সম্ভবত রাতের বেলা ।

০৬-১০-২০১৬ঃ

গতরাতে একটি ভয়াবহ স্বপ্ন দেখলাম । দেখলাম কে যেন আমাদের ঘরের দরজায় ঠক্ ঠক্‌ করতেছে । দরজা খুলতেই দেখলাম আমার মেজ মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে (যার বয়স দশ এগার হবে) । কিন্তু তার চেহারা দেখলাম রাক্ষসের মতো ভয়ঙ্কর রূপ ধারন করেছে । “আমি সীতা’’ বলে সে আমার বুকের বাম পাশে কামড় বসিয়ে দিলো । ভয়ে আমি ঘুম থেকে জেগে উঠলাম । ঘড়িতে দেখলাম রাত দুইটার উপরে বাজে । আমি এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে, বাকী রাত আর নিজের রুমে একা ঘুমানোর সাহস হলো না । বাচ্চাদের রুম থেকে ওয়াইফকে ডেকে আনতে হয়েছিল । স্বপ্নটির ব্যাখ্যা নিয়ে অনেক ভেবেও কোন কুল কিনারা করতে পারলাম না । পরে মনে হলো হিন্দু ধর্মের পৌরানিক কাহিনী অনুযায়ী সীতা এমন একজন নারী ছিল যার কারণে যুদ্ধ করে দুটি দেশ ধ্বংস হয়েছিল । বর্তমানে আবার দুটি দেশ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বাধা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যাতে দুটি দেশই ধ্বংস হবে । কিন্তু আমার হৃৎপিন্ড বরাবরে কামড় বসানোর ব্যাখ্যা কি হতে পারে বুঝতে পারছি না । ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যদি যুদ্ধ লাগে তবে তা হবে মুসলমানদের জন্য এক নতুন কারবালা । কেননা পাকিস্তানে যত মুসলমান আছে, ভারতে আছে তার চাইতে বেশী । ফলে উভয় পক্ষে অগণিত মুসলমান শহীদ হবে যা আমার জন্য হবে একটি হৃদয়বিদারক ব্যাপার । অবশ্য আমার এক বন্ধু বললেন, হৃদপিন্ডে কামড় দেওয়ার মানে হলো এই যুদ্ধে বাংলাদেশেরও সর্বনাশ হবে । সে যাক, এই স্বপ্নের প্রকৃত অর্থ আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলই (সাঃ) ভালো জানেন ।

১৬-১১-২০১৬ঃ

গতরাতে স্বপ্নে দেখলাম ভিন্ন গ্রহের প্রাণীরা (এলিয়েনরা) পৃথিবীতে হামলা করেছে । তাদের মহাকাশ প্রযুক্তির অসাধারণ প্রদর্শনী দেখলাম, বিস্ময়কর । এলিয়েনরা দেখলাম পৃথিবীর সকল যোগাযোগ প্রযুক্তি এমনভাবে বিকল করে দিয়েছে যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন পর্যন্ত ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে । অবশ্য পুতিন যে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতেছে তাকে দেখতে কিছুটা সাবমেরিনের মতো মনে হলো । স্বপ্নের দৃশ্যগুলো সাধারণত এমন সাংকেতিক হয় যে তাদের যথাযথভাবে বর্ণনা করা খুবই কঠিন কাজ । আর ব্যাখ্যা করা তো আরো কঠিন । সে যাক আমি মনে করি এমন একটি ঘটনা আসতেছে যাতে বিমানবাহিনীর সাংঘাতিক ব্যবহার থাকবে এবং তাতে জড়িত থাকবে পুতিন । অবশ্য এই স্বপ্নের প্রকৃত অর্থ আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলই (সাঃ) ভালো জানেন ।

শিক্ষক

আমাদের শায়খকে (ইমরান নযর হোসেন) আমি শেষ যুগের শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করি। বিভিন্ন আমল যেমন, সালাত, সিয়াম ও যাকাতের জন্য এখনও ভালো শিক্ষক পাইনি। এমনিই বিভিন্ন জায়গা থেকে টুকটাক করে শিখে কাজ চলে। হজ্ব শিখেছি হাফেজ্বী হুযুর থেকে আবু তাহের মিসবাহ রচিত বাইতুল্লাহর মুসাফির পড়ে। ঈমানের প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছি তবলীগে। তবে সেখানে রাজনৈতিক শিরক ও অর্থনৈতিক শিরক শেখা হয়নি। সেটা আবার শিখেছি আমাদের শায়খের কাছে। সব কিছু মিলে আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ্‌ তায়ালা যদি কবুল করেন। অনেকে বলেন, কাকে অনুসরণ করব? আমি বলি, কুরআন হাদীস অনুসরণ করেন। তবে শিক্ষক লাগবে।

দাজ্জাল, ইয়াজুজ মাজুজ, ইসরাইল, সুদ ও ব্যাঙ্কিং, ফলস কাগজের ও ইলেকট্রনিক মুদ্রা এবং গণতন্ত্র – এ কয়টি বিষয় শেষ যুগের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বা হার্ট। শেষ যুগের প্রকৃত আলেম হতে হলে এসব বিষয়ে বলতে হবে।

পীর মুরীদী, মাযহাবী লা মাযহাবী, অমুকে ভ্রান্ত, তমুকে কাফের ইত্যাদি আলোচনায় আসর জমতে পারে, কিন্তু হার্টকে বাদ দিয়ে দেহের কোন মূল্য নেই।

সূক্ষ্ম শিরক, কিন্তু অনেক বড়

অনেক ইসলামিক ভাই যারা ফেসবুকে সাধারণত ইসলাম নিয়েই লিখেন কয়েকদিন ধরে এটা শেয়ার করছেন যে, দেশের সংবিধানের অমুক অমুক আর্টিকেল অনুসারে তিনিও একজন দেশের মালিক।

তারা এও শেয়ার করছেন যে, ইসলাম না থাকলেও তারা জীবন রক্ষার্থে ধর্মান্তরিত হয়েও বেঁচে থাকতে পারবে, কিন্তু সুন্দরবন ধ্বংস হলে আপনার বংশধররা এই ভূমিতে সাইক্লোনের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে টিকে থাকতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম।

ইন্নালিল্লাহ, ইন্নালিল্লাহ।

কয়েকদিন আগেও না তারা বলতেন, বিশ্বাস করতেন, (আমি জানি এখনও তারা সেই বিশ্বাসেই অটল) ওয়া লিল্লাহি মুলকুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব। আকাশ এবং পৃথিবীর সব কিছুর মালিক আল্লাহ। অতীতে ইসলামিক রাজনীতিবিদরা দেশের মালিক আল্লাহ এটা বলার জন্য অনেক জুলুমের স্বীকার হয়েছেন। আর আজকে ইসলামিক লেখকরাও কত সহজেই না বলে দিচ্ছে দেশের মালিক আমি নিজে।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি পুরোপুরি কুফরী। ধর্মান্তরিত হয়ে বেঁচে থাকাকে বেঁচে থাকা বলে না। ওটা মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ। কারণ মৃত্যুর কষ্টের শেষ আছে, কিন্তু ধর্মান্তরিতদের ক্ষমা নেই। না দুনিয়ায়, না আখিরাতে। সারা পৃথিবী ও আসমান জমিনের মোকাবিলায় এক ছটাক ঈমান বেশী দামী।

এটা শেষ যুগ, নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লাম ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন, শেষ যুগে শিরক এতো সূক্ষ্ম হবে যে মানুষ তা বুঝতে পারবে না। সকালের ঈমানদার সন্ধ্যায় কাফের, সন্ধ্যার ঈমানদার সকালে কাফের হয়ে যাবে। আল্লাহ হেফাজত করুন।