কোয়েটায় উড়ে গেল এক প্রজন্মের আইনজীবী

এই যে কোয়েটায় পুরো এক প্রজন্মের আইনজীবী উড়ে গেল এটা কি কোন হঠাৎ ঘটনা? হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে ভিড়ের মধ্যে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয় যেখানে আইনজীবীরা অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিলাল আনওয়ার কাসির মৃতদেহ দেখতে গিয়েছিলেন। দায় স্বীকার যেই করুক এটি নিশ্চয়ই পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়েছে। পাকিস্তানের উপর আক্রমণ পূর্বপরিকল্পিত। তাহাদের পরিকল্পনা হইল স্বাধীন বেলুচিস্তান সৃষ্টি করা যাহা হইবে একটি নতুন যায়োনিষ্ট লিবিয়া। আর কিছু অংশ নিয়া পাখতুনিস্তান সৃষ্টি করিবে। পাকিস্তানের যেই অংশকে আজাদ কাশ্মির বলে তাহাকে ভারতের নিকট ফেরত দেওয়া। পাঞ্জাব এবং সিন্ধুর কিছু অংশও ইন্ডিয়াকে দেওয়া হইবে। এমনকি করাচীকেও একটি নগর রাষ্ট্রে পরিণত করা হইতে পারে। তখন পাকিস্তানের কাছে থাকিবে কিছু টুকরা টাকরা যাহাকে ভারত খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে। করাচী পৃথিবীর সবচাইতে ভারসাম্যহীন শহর। যদি করাচীর পানি সরবরাহ বন্ধ হইয়া যায় আর ইন্ডিয়া তাহা করিতে সক্ষম। যদি করাচীর খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হইয়া যায় আর ইন্ডিয়া তাহা করিতে সক্ষম। …। পড়ুনঃ ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য সতর্কবাণী, ইমরান নযর হোসেন।

বিশ্বযুদ্ধ আসিতেছে এবং আমাদের করণীয় কি

“…আমরা এখন মালহামা/বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি যা মহানবী (সাঃ) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। আপনাদের যদি আখেরী জামানা সম্পর্কে কোন জ্ঞান না থাকে, তাহলে আপনারা সকালের ট্র্যাফিকের মুখোমুখি হয়ে কাজে যাবেন বিকেলের ট্র্যাফিকের মুখোমুখি হয়ে আবার বাসায় ফিরবেন

রাতে বিরিয়ানি খাবেন,

তারপর টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়বেন…

অথচ আপনাদের কোন ধারনাই থাকবে না যে, আপনারা মালহামা/ বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। এবং বর্তমান বিশ্বের আলেম-ওলামাদেরও ঐ একই অবস্থা (বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা এবং আমরা যে একটি বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি সে সম্পর্কে কোন ধারনা নেই), এবং এ ধরনের কথা বলা আমার জন্য খুবই দুঃখজনক।

যখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে; মুসলিম হিসেবে এ বিশ্বযুদ্ধে আমাদের কোন ভূমিকা থাকবে না, কেননা আমাদের কোন পারমানবিক অস্ত্র নেই। যখন সব নিওক্লিয়ার বোমা বিস্ফোরিত হবে তখন দোখান (ধোঁয়া-আখেরী জামানার ১০টি বড় আলামতের একটি) সৃষ্টি হবে। মানবজাতির অধিকাংশই তখন মারা যাবে। হয়তো (ফেরেশাতারা) উপর থেকে বলবেন মানবজাতির অধিকাংশ মারা যাওয়াটাই উচিত… (আমাদের অজ্ঞতার / অবাধ্যতার কারনে) ।

ইসরাঈল দিন গুনছে, এই ধ্বংসাবশেষ থেকে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করা তার জন্য সহজ হবে। এবং ইসরাঈল এর জন্য খুব সুবিধা হবে যদি দুই সুপারপাওয়ার [ন্যাটো-(যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, তুর্কি) এবং রাশিয়ান এলায়ান্স- (রাশিয়া, চীন, ইরান, সিরিয়া)] একে অপরকে ধ্বংস করে ফেলে।

আল্লামা ইমরান নযর হোসেন
অনুবাদ- দ্বীনুজ্জামান চৌধুরী
১০মে, ২০১৪, মালয়শিয়া।

World War Objectives

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

WW1 objectives:
1. Destroying Caliphate and creating Nationalism in muslim countries to divide themselves and breaking unity,
2. Liberating the holy land.

WW2 Objectives:
1. Belfour Declaration to give jews the holy land,
2. Creating United Nation to control the world and for universal Shirk.
3. Dajjal’s day like month [Pax Americana] started.

মুসলমানদের দুই প্রধান শত্রু

মাওলানা ইমরান নযর হোসেন

ইরানে হামলা থেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ

আমেরিকা চায় না ইরানে হামলা করিতে । কেননা তাহার ফলশ্রুতিতে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হইয়া যাইবে । আমেরিকা লিবিয়ার সাথে যুদ্ধ করিতে ভালবাসে ! (হা-হা-হা-) আমেরিকা ইরাকের সাথে যুদ্ধ করিতে চায়, আফগানিস্তানের সাথে যুদ্ধ করিতে চায় কিন্তু রাশিয়ার সাথে ? কখ্খনো না ! কারণ রাশিয়া তাহার বারোটা বাজাইয়া দিবে । (রাশিয়ার এটম বোমার আঘাতে) তখন আমেরিকার সুন্দর সুন্দর শহরগুলো জ্বলিয়া পুড়িয়া ছাই হইয়া যাইবে । রাশিয়ানরা আমেরিকার সাথে তেমন ব্যবহারই করিবে লিবিয়ার সাথে তাহারা যেমন ব্যবহার করিয়াছে, ইরাকের সাথে, আফগানিস্তানের সাথে তাহারা যেমন ব্যবহার করিয়াছে । এজন্যই আমেরিকা কখনও চায় না ইরানে হামলা করিতে । কিন্তু ইজরাঈল চায় । আপনারা কখনও মনে করিবেন না যে, ইসরাঈলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যখন ইরানে হামলা করিবার সিদ্ধান্ত নিবেন, তখন তিনি সেনাবাহিনীর বড় বড় জেনারেলদের সাথে পরামর্শ করিয়া সিদ্ধান্ত নিবেন । নাহ, বরং তিনি বড় বড় ইহুদী রাব্বি এবং জ্যোতিষীদের সাথে পরামর্শ করিয়া একটি শুভক্ষণ ঠিক করিবেন । (-হা-হা-হা) ইজরাঈল ইরানে এমনভাবে হামলা করিবে যাহাতে ইরানের এটমিক প্লান্টগুলো ধ্বংস হয়

ww3

কিন্তু ইরানের সামরিক শক্তির কোন ক্ষতি না হয় । কারণ ইসরাঈলীরা ভালোভাবেই জানে যে, তাহার ফলশ্রুতিতে ইরাক-কুয়েত-সৌদী আরব এবং লোহিত সাগরে আমেরিকার সকল সামরিক ঘাটি এবং যুদ্ধজাহাজে ইরানীরা প্রতিশোধমূলক ভয়াবহ হামলা চালাইবে । ফলে আমেরিকাও ইরানে পাল্টা হামলা চালাইবে । এভাবেই ইসরাঈল এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করিবে । ইজরাঈল অনেক বছর যাবতই পর্দার আড়ালে থাকিয়া পৃথিবী শাসন করিতেছে । কিন্তু এখন তাহারা চাহিতেছে বোরকা খুলিয়া বাহিরে আসিতে । এজন্য তাহারা ২০০৮ সালে আমেরিকাকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করিয়াছে । ইরানে হামলা করিবার মাধ্যমে তাহারা আমেরিকাকে সামরিক শক্তির দিক দিয়াও ধ্বংস করিবে । আমি মনে করি (শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরাক তো ইরানের নিয়ন্ত্রণে আছেই, অধিকন্তু) বাহরাইনকেও তখন ইরান দখন করিয়া নিবে । কেননা বাহরাইনের শাসকরা সুন্নী হইলেও সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ট জনগণ শিয়া । সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকা হয়ত তাহার শেষ অস্ত্র এটম বোমা ব্যবহার করিবে । আর তখনই সেটি আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকে বিশ্বযুদ্ধে রূপান্তরিত হইবে । কেননা তখন তাহাতে রাশিয়া এবং চীন জড়াইয়া যাইবে । আমি মনে করি, একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত রাশিয়া ও চীন আন্তর্জাতিক আইন মানিয়া চলিবে । আমেরিকা সেই সীমা অতিক্রম করিলে তখন রাশিয়া ও চীন আর কোন আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করিবে না । আর সেই সীমাটি হইল ইরান আক্রমণ ।

মুসলমানদের দুই প্রধান শত্রু

দুইটি শক্তি পৃথিবী থেকে ইসলামী খেলাফতকে ধ্বংস করিয়াছে এবং খিলাফাহ যাহাতে পুণরায় পৃথিবীতে ফিরিয়া আসিতে না পারে সেজন্য গত একশ বছর যাবত তাহারা তাহাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করিয়াছে । আর এই দুইটি শক্তি হইল তুরষ্ক এবং সৌদী আরব । (খেলাফতের কারণে চৌদ্দশত বছর মুসলমানরা ছিল পৃথিবীর একমাত্র সুপারপাওয়ার আর খেলাফত না থাকার কারণে গত একশ বছর যাবত মুসলমানরা পরিণত হইয়াছে পৃথিবীর সবচাইতে অসহায় জাতিতে ।)

মুসলমানদের মধ্যে ইহুদীদের স্বভাব

ইহুদীরা প্রচার করিয়া বেড়াইত যে, তাহারাই আল্লাহর একমাত্র প্রিয় দল এবং তাহারা ছাড়া অন্য কেউ বেহেশতে যাইতে পারিবে না । আল্লাহ তাহাদের এই মিথ্যা কথার প্রতিবাদ করিয়া বলেন, (হে নবী, আপনি) বলুন, হে ইহুদীগণ ! যদি তোমরা দাবী কর যে, তোমরাই আল্লাহ্‌র বন্ধু, অন্য কোন মানুষ নয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (কিন্তু) তাহারা নিজেদের কৃতকর্মের (অনিবার্য শাস্তির) কারণে কখনও মৃত্যু কামনা করিবে না। আল্লাহ্‌ জালেমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। (আল কোরআন, সূরা জুমু’আ, ৬২ঃ ৬-৭)। বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে অনেকগুলি দলের সৃষ্টি হইয়াছে । প্রতিটি দলই মনে করে যে, তাহারাই একমাত্র সঠিক পথে আছে এবং একমাত্র তাহারাই বেহেশতে যাইবে । অন্য দলগুলি পথভ্রষ্ট হইয়া গিয়াছে এবং তাহারা জাহান্নামে যাইবে । এই সমস্যাকে আমরা কি বলিতে পারি ? আত্মিক অন্ধত্ব নাকি আত্মিক অহমিকা ? মহানবী (সাঃ) ভবিষ্যতবাণী করিয়া গিয়াছেন যে, তোমরা প্রতি হাতে হাতে প্রতি বিঘতে বিঘতে ইহুদী খ্রীষ্টানদের অনুসরন করিবে । এমনকি তাহারা যদি গিরগিটির গর্তে প্রবেশ করে তবে তোমরাও গিরগিটির গর্তে প্রবেশ করিবে । রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর ভবিষ্যতবাণী আশ্চর্যজনকভাবে সত্যে পরিণত হইয়াছে ।

মুসলমানদের জন্য ভয়াবহ শাস্তি অপেক্ষা করিতেছে

রাসুল বলিলেন, হে আমার প্রতিপালক, আমার জাতি এই কোরআনকে পরিত্যক্ত সাব্যস্ত করিয়াছে। Then the Messenger will say: “O my Lord! Truly my people took this Qur’an for just foolish nonsense (neither listened to it, nor acted on its laws and teachings).” (আল কোরআন, সূরা ফুরকান, ২৫:৩০) আল্লাহর কোন নবী যখন আল্লাহর কাছে এই অভিযোগ করেন যে, তাঁহার জাতি তাঁহার প্রেরিত আসমানী গ্রন্থকে অবহেলা করিয়াছে, পরিত্যাগ করিয়াছে, তখন সেই জাতির উপর কত ভয়াবহ শাস্তি নামিয়া আসে তাহা ইতিহাস পড়িয়া দেখিতে পারেন । এখন পৃথিবীর সকল মুসলমানরাই তাহাদের সন্তানদের অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ আর হার্বার্ড ইউনিভার্সিটিতে পাঠান কমপিউটার সাইন্স পড়িবার জন্য । একজন মুসলমানও পাওয়া যাইবে না যে তাহার সন্তানকে অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ আর হার্বার্ড ইউনিভার্সিটিতে পাঠিয়েছেন কোরআন গবেষনার জন্য । কাজেই বর্তমান মুসলিম জাতি চুড়ান্তভাবে কোরআনকে অবজ্ঞা করিয়াছে, পরিত্যাগ করিয়াছে । সুতরাং মুসলমানদের উপর কি ভয়াবহ শাস্তি নাজিল হইয়াছে তাহা নিজেদের চোখেই দেখিতে পাইতেছেন এবং সামনে আরো যে-সব ‍ভয়ঙ্কর শাস্তি আসিতেছে তাহাও স্বচক্ষে দেখিতে পাইবেন ।

বোখারী শরীফে জাল হাদীস

বোখারী শরীফে একটি হাদীস আছে, হযরত আয়শা সিদ্দিকা (রাঃ) বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বিবাহ করেন যখন আমার বয়স ছয় এবং তিনি আমার সাথে বসবাস করা শুরু করেন যখন আমার বয়স নয়”। এখন কথা হইল, নবী করীম (সাঃ) যদি একটি ছয় বছরের শিশুকে বিবাহ করিয়া থাকেন, তবে তো ইহা নবীজির (সাঃ) সুন্নাহ । তাহলে আপনি রাসুলের (সাঃ) সুন্নাহর উপর আমল করেন না কেন ? বিগত চৌদ্দশত বছরে একজন মুসলমানও রাসুলুল্লাহর (সাঃ) এই সুন্নাহর উপর আমল করিল না কেন ? অন্ততঃপক্ষে সবার সামনে দাঁড়াইয়া ঘোষণা তো দেন যে, আমি ছয় বছরের একটি শিশুকে বিবাহ করিতে রাজী আছি । আমি তো আজ পর্যন্ত এমন একজন পুরুষকেও পাই নাই যে, প্রকাশ্যে ইহাতেই প্রমাণিত হয় যে, ইহা একটি জাল হাদীস । প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কখন আয়শা সিদ্দিকাকে (রাঃ) বিবাহ করেন নাই, কস্মিনকালেও না । বরং আল্লাহ নিজেই জিব্রাঈলের (আঃ) মাধ্যমে রাসুলে করীম (সাঃ)-কে জানাইয়া দিয়াছেন যে, এখন থেকে আয়শা সিদ্দিকা (রাঃ) আপনার সহধর্মিনী (যাহা অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত আছে) । কাজেই আল্লাহ তায়ালা নিজেই তাহাদের বিবাহ দিয়াছেন । আর আল্লাহ যেহেতু স্রষ্টা, কাজেই তিনি তাঁহার সৃষ্টি সম্পর্কে যে-কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করিতে পারেন, এই অধিকার তাঁহার আছে ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন অনুবাদ

 বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

 

বাংলাদেশী মুসলমান কোন পক্ষে যাবে?

Map Russia and Arabia
ইসরাঈল চায় সুপার পাওয়ার হতে। বেকিং দেবে আমেরিকা এবং বৃটেন। সুপার পাওয়ার হওয়ার জন্য বিশ্বযুদ্ধ অপরিহার্য। আরমাগেডান। নবীজী সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষায় মালহামা। যুদ্ধের মূল সেন্টার সিরিয়া। এটাই ইসরাঈলের দুরভিসন্ধি। জেরুজালেম থেকে সে সারা ওয়ার্ল্ডের নেতৃত্ব দিবে। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে কে? সৌদী? আর তার জিহাদী জোট? না। সেদিন তারা মীরজাফরের ভূমিকা পালন করবে। কারণ তারা ইহুদী খ্রীস্টানদের একই দলভুক্ত। যারা ইহুদী খ্রীস্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে যারা নিজেরা পরস্পরের বন্ধু আল্লাহতায়ালা তাদের জালেম বলেছেন। একই দলভুক্ত বলেছেন। আর আল্লাহতায়ালা জালিমদের হেদায়েত দেন না। তাহলে? কেউ না কেউ তো রুখে দাঁড়াতেই হবে। এটাই নিয়ম। আল্লাহতায়ালা এক দলকে আরেক দল দিয়ে যদি শায়েস্তা না করতেন তাহলে পৃথিবী ফ্যাসাদে ভরে যেতো।
.
রুখে দাঁড়াবে সাধারণ মুসলমানেরা। তাহলে কোন্ মুসলমানদের কাছে ফাইট দেয়ার মতো অস্ত্র আছে? হ্যাঁ ! পাকিস্থানের কাছে পারমানবিক বোমা আছে। দেশটি সৌদির জোটেও নেই। আর যুদ্ধটাতো পারমাণবিক যুদ্ধই হবে। যে যুদ্ধের পর ধোঁয়ায় ঢেকে যাবে পৃথিবী। কিয়ামতের আলামত। ধোঁয়া।
.
আর কে রুখে দাঁড়াবে? রাশিয়া। কারণ রাশিয়া ইসরাঈল-আমেরিকাকে কর দিয়ে চলে না। এরকম ইতিহাসই তার নেই। উপরন্তু তার আছে পারমানবিক অস্ত্র। এজন্যই নাস্তিকতা ও কম্যুনিজম দিয়ে তাকে শেষ করার উপক্রম করা হয়েছিল। তাদের মঠের সাধু দরবেশদের হত্যা করা হয়েছিল। যায়নিস্টরা এই আকাজ করেছিল। একটা জাতিকে শেষ করে দেয়া। তার সাথে মুসলমানদের দীর্ঘস্থায়ী তিক্ত সম্পর্ক তৈরী করা হয়েছিল। তার থেকে ক্রিমিয়াকে ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অতঃপর রাশিয়া ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ইজরায়েলের ইলেকট্রনিক মানিকে অস্বীকার করেছে। ক্রিমিয়াকে যায়োনিস্টরা ছিনিয়ে নিতে পারেনি। মুসলমানদের সাথে তিক্ততাও ইনশাআল্লাহ দ্রুত দূর হয়ে যাবে। পাশাপাশি রাশিয়া এটা জানে যে ইসরায়েল যখন পরাশক্তি হয়ে যাবে তার একমাত্র নৌ ঘাঁটি যা কৃষ্ণসাগরে অবস্থিত তা হারাতে হবে। যেটা সে হারাতে চায় না। কাজেই সে যুদ্ধই বেছে নেবে।
.
– এই হচ্ছে সার-সংক্ষেপ। এরপরের ঘটনা দেরী আছে। তাই আমরা আপাতত এ পর্যন্ত নিয়েই চিন্তা ভাবনা করি।
.
.
এখন আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালী মুসলমানদের মতামত কি দেখা যাইতেছে?
.
এটাই দেখা যাচ্ছে যে, তারা রাশিয়াকে মিত্ররূপে দেখতে খুশি নয়। কেন? কেন খুশি নয়? কারণ তারা মুজাহিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। মুসলমান মেরেছে। কিন্তু আল্লাহতায়ালা বলেছেন রূমের বিজয়ে খুশি হতে। উপরের আলোচনায় বুঝা গেল রূম মানে রাশিয়া। এছাড়া রূম হওয়ার মতো পৃথিবীর আর কোন দেশ বাকী নেই। তুরস্ক তো ন্যাটোর দলভুক্ত। রাশিয়ার বিজয়ে খুশি হতে বলা হয়েছে কেন? কারণ তারা ইতিহাসের নিকৃষ্ট ইহুদী, খ্রীস্টান এবং মীরজাফর সৌদী ও তার জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। সেখানে তারা বিজয় লাভ করবে।
.
বাঙালী মুসলমানরা তাহলে কি করবে? সৌদীর পক্ষ নেবে? সৌদীর পক্ষ নেয়া মানে ইহুদীদের পক্ষ নেয়া। সূরা মায়েদার ৫১ নং আয়াত অনুসারে। আর সেটার শাস্তি চিরস্থায়ী জাহান্নাম।
.
আচ্ছা, রাশিয়ার কথা বাদ দেই। পাকিস্থানওতো একটা ইহুদীবিরোধী সম্ভাব্য পক্ষ। বাংলাদেশ কি পাকিস্থানের পক্ষ নেবে? পাকিস্থানও যে মুসলমান হত্যা করেছে। বাঙালী হত্যা করেছে। ৭১ এ। যে আবেগে বাঙালী সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান রাশিয়ার পক্ষ নিতে পারছে না, সে একই আবেগে বরং তার চেয়ে বেশী আবেগে সে পাকিস্থানের পক্ষ নিতে পারবে?
.
তাহলে? সে কি শুধু খেলা দেখেই যাবে?
.
আল্লাহু আ’লাম।
.
.
.
এখানে যা ভুল সব আমার পক্ষ থেকে আর যা সঠিক তা আল্লাহপাকের রহমতের কারণে।
.
জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

ইয়েমেন থেকে একটি আগুন বাহির হইবে

Sham Yemen Najd

আখেরী জামানার ত্রিভূজ অঞ্চল – শাম ইয়েমেন নাজদ

প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেল সৌদী আরব ইয়েমেনে আক্রমণ অর্থাৎ বোমা হামলা শুরু করেছে । এজন্য তারা একই মানসিকতার আরো কিছু দেশকে সাথে নিয়ে একটি জোট তৈরী করেছে, যেমন জেনারেল সিসি’র মিশর । সৌদী অনুরোধ সত্ত্বেও পাকিস্তান সরকার এই জোটে যোগ দেওয়ার সাহস পায় না্ই । পাকিস্তানের পার্লামেন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ট ভোটে ইয়েমেন আক্রমণে যোগ দেওয়ার সৌদী অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে । জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইয়েমেনের জনগণের উপর অস্ত্রনিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাইতেছে । জাতিসংঘের জন্য যায়োনিষ্ট জাতিসংঘের পক্ষে ইহা একটি লজ্জাজনক পদক্ষেপ হইবে । রাশিয়া যদি জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞায় ভেটো না দেয়, তবে সেও ইয়েমেন বিরোধীদের সাথেই গণ্য হইল । তবে এই ব্যাপারে আমার বিশ্লেষণ হইল ইসলামের আখেরী জামানা বিদ্যার আলোকে । যারা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আছেন, তারা বিষয়টির রাজনৈতিক বিশ্লেষণ আমার চাইতেও ভালোভাবে করতে পারবেন । আমি মনোযোগ দিতেছি নবী করীম (সাঃ)-এর একটি হাদীসের উপর যাতে তিনি আখেরী জামানার তিনটি অঞ্চলের (ত্রিভূজ) উপর মতামত দিয়েছেন । আমার আজকের সংক্ষিপ্ত আলোচনা এই ত্রিভূজের উপর । তিন কোণ বিশিষ্ট এই এলাকাগুলির মধ্যে আছে ইয়েমেন, শাম (সিরিয়া-ফিলিস্তীন) এবং নজদ (রিয়াদ) । ত্রিভূজের এক কোণায় আছে সিরিয়া যার সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন, “হে আল্লাহ ! আমাদের শামের (সিরিয়ার) উপর কল্যাণ দান করুন” । ত্রিভূজের অন্য কোণা হইল ইয়েমেন যার সম্পর্কে নবী করীম (সাঃ) দোয়া করেন, “হে আল্লাহ ! আমাদের ইয়েমেনের উপর কল্যাণ নাজিল করুন” । আখেরী জামানায় এই শাম এবং ইয়েমেন উভয়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রহিয়াছে । ‍উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দামেষ্কের কথা । ইহা হইল সেই দামেষ্ক যাহাতে ইমাম মাহদী (আঃ) ‍উপস্থিত থাকিবেন । ইমাম মাহদী (আঃ) হইলেন আখেরী জামানার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব । তিনি মসজিদে ইমামতী করিতে দাঁড়াবেন । মসজিদের বাহিরে থাকিবে দাজ্জাল সাথে পারসী চাদর পরিহিত সত্তর হাজার ইস্ফাহানী ইহুদী । দাজ্জাল হইল আখেরী জামানার আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি । শুধু তাই নয়, ইহা সেই দামেষ্ক যেখানে আকাশ হইতে হযরত ঈশা (আঃ) নামিয়া আসিবেন । আখেরী জামানার এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি একই সাথে এই শামে । বিশ্বনবী (সাঃ) বলিয়াছেন, দাজ্জালের ফিতনাহ (সন্ত্রাস) হইবে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে জঘন্য ফিতনা যাহা হযরত আদম (আঃ) হইতে কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতি প্রত্যক্ষ করিয়াছে । কাজেই আলেমদের দায়িত্ব হইল দাজ্জালের ফিতনাহ বিপর্যয় সম্পর্কে মুসলমানদের সতর্ক করা, শিক্ষা দেওয়া, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা । মসজিদের মিম্বারে বসে দিনের পর দিন এই কাজ করিতে হইবে । কাজেই ত্রিভূজের এই কোণাটি সবচাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ । এই কোণা সম্পর্কে রাসুলে পাক (সাঃ) বলিয়াছেন, “আমাদের প্রিয় শাম”। আরেক কোণা ইয়েমেন সম্পর্কেও হুজুরে পাক (সাঃ) বলিয়াছেন, “আমাদের প্রিয় ইয়েমেন” । এই ইয়েমেনও একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা । আখেরী জামানায় সংঘঠিত ঘটনাবলীতে ইয়েমেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রহিয়াছে । কেননা নূরনবী (সাঃ) বলিয়াছেন, “ইয়েমেন হইতে একটি আগুন বাহির হইবে যাহা মানুষদেরকে বিচারের জন্য একত্রিত করিবে’। যুক্তরাষ্ট্রের ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট ব্যাপারটা আদৌ পছন্দ করিবে না কিন্তু তারপরও এই আগুনকে ঠেকাইতে পারিবে না । ইয়েমেন হইতে একটি আগুনের শিখা বাহির হইবে । ব্রিটেন এবং ফ্রান্স যাহা ইচ্ছা করিতে পারে কিন্তু সেই আগুনকে বন্ধ করিতে পারিবে না । ইয়েমেন হইতে একটি আগুন আত্মপ্রকাশ করিবে যাহা মানুষকে বিচারের স্থানে সমবেত করিবে । যাহারা বিশ্বাসঘাতক, যাহারা ইসলামের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছে । যাহারা ইহুদী-খ্রীষ্টানদের জোটে যোগদান করেছে । যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলিয়াছেন, “সেই সকল ইহুদী এবং খ্রীষ্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করিও না যাহারা নিজেরা নিজেদের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যাহারা তাহাদের সাথে বন্ধুত্ব করিবে, তাহারা তাহাদের মধ্যে গণ্য হইবে ।” (সূরা মায়িদা, আয়াত ৫১) তাহারা ইসলাম থেকে খারিজ হইয়া যাইবে, এই উম্মাহ হইতে বাহির হইয়া যাইবে । “ইয়েমেন হইতে একটি আগুন বাহির হইবে যাহা লোকদেরকে কেয়ামতের পূর্বে বিচারের জন্য একত্রিত করিবে” । ওহ ! কি চমৎকার ভাষা ! মাশাআল্লাহ !! কি চমৎকার শব্দ !! আমার খুবই পছন্দ হইয়াছে !! কাজেই ইয়েমেন হইতে একটি আগুন বাহির হইতেছে যাহা বিশ্বাসঘাতকদের উৎখাত করিয়া বিচারের সম্মুখীন করিবে । সুতরাং আখেরী জামানায় ত্রিভূজের দুই কোণা শাম এবং ইয়েমেন কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিবে । কিন্তু ত্রিভূজের আরেকটি কোণার সম্পর্কে কি বলা হইয়াছে ? সাহাবায়ে কেরামগণ আবেদন করিলেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমাদের নাজদের (জন্যও দোয়া করুন)” ? এখনকার মানুষ আর নাজদের সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করে না , তাহারা ভুলিয়া গিয়াছে। শব্দটি হারাইয়া গিয়াছে , যেভাবে (কুসতুনতুনিয়া) কন্সট্যান্টিনোপল শব্দটি হারাইয়া গিয়াছে । কেন নামটি পরিবর্তন করা হইল ? ইহা একটি সুগভীর চক্রান্ত । রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যেই নাম ব্যবহার করিয়াছেন, তাহা উম্মতের জন্য সুন্নাহস্বরূপ । তরুণ ধর্মহীন তুর্কীরা যখন কন্সষ্ট্যান্টিনোপলের নাম পরিবর্তন করিয়া ইস্তাম্বুল রাখিয়াছিল, তাহার উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যাহাতে নবীজির (সাঃ) দেওয়া নামটি ভুলিয়া যায় । কেননা আখেরী জামানায় মুসলমানরা কন্সষ্ট্যান্টিনোপল বিজয় করিবে এবং কন্সষ্ট্যান্টিনোপলের বিজয় সংঘঠিত হইবে মালহামার (মহাযুদ্ধ / ৩য় বিশ্বযুদ্ধ) পরে । আর মালহামা এখনও সংঘঠিত হয় নাই । আমরা এই হাদীসটি নিয়ে খুবই আনন্দিত । এই হাদীস থেকে আমরা জানিতে পারি যে, কন্সষ্ট্যান্টিনোপল বিজয়ের পরে রাশিয়ার নৌবাহিনী বসফরাস প্রণালী দিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করিবে । এই হাদীস থেকে আমরা জানিতে পারি যে, মালহামার / পারমাণবিক যুদ্ধের পরেও রাশিয়া টিকিয়া থাকিবে । এজন্য তাহারা আইন পাশ করিয়া নিষিদ্ধ করিয়াছে যাহাতে কেউ কন্সট্যান্টিনোপল নামটি ব্যবহার করিতে না পারে । আপনারা তুরষ্কের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, তুমি তোমার দেশে নামটি নিষিদ্ধ করিতে পারো কিন্তু আমাকে নামটি ব্যবহারে বিরত রাখিতে পারিবে না, মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মতকেও কন্সষ্ট্যান্টিনোপল নামটি উচ্চারণে বিরত রাখিতে পারিবে না । মহানবী (সাঃ) যেই নামটি ব্যবহার করেছেন । আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলিয়াছেন, “নিশ্চয় তোমরা কন্সষ্ট্যান্টিনোপল বিজয় করিবে । কি চমৎকার হইবে সেই সেনাবাহিনী ! কি চমৎকার হইবে তাহার সেনাপতি !” । একই ভাবে তাহারা নজদের নাম পরিবর্তন করিয়া সৌদী এরাবিয়া রাখিয়াছে । সৌদী আরব এই ভোগাস নামটি নিয়া ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করুন কিংডোম অব সৌদী এরাবিয়া ! নবী করীম (সাঃ)-এর ব্যবহৃত নাম নাজদ কে পৃথিবী থেকে মুছিয়া ফেলিবার জন্য তাহারা এই ভোগাস নাম কিংডোম অব সৌদী এরাবিয়া নামকরণ করিয়াছে । কেন ? যাহাতে আপনারা নাজদ শব্দটি ভুলিয়া যান । আমি আল্লাহর নিকট দোয়া করি যাতে আমার কথাগুলি সৌদি আরবের লোকদের নিকট পৌঁছে যায়, কেননা তাহাদের অনেকেই আছেন যাদের হৃদয় সত্যকে গ্রহন করিতে সক্ষম । যেই কারণে নাজদের নাম পরিবর্তন করিয়া বোগাস নাম সৌদী এরাবিয়া রাখা হইয়াছে যাতে মানুষ নাজদকে একেবারে ভুলিয়া যায় । নাজদ কি ? এরাবিয়ান পেনিনসুলা বা আরব উপদ্বীপ মূলতঃ দুই ভাগে বিভক্ত – পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চল । পূর্বাঞ্চলকে বলা হয় নাজদ যাহাতে আছে তেলের খনি, আছে দাহরান, আছে রিয়াদ । আর পশ্চিমাঞ্চলকে বলা হয় হেজাজ যাহাতে আছে মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফ এবং জেদ্দা । মহানবী (সাঃ) এর সময় হইতে শতাব্দির পর শতাব্দি যাবত এই নামটি চলিয়া আসিতেছে যতক্ষন না তাহারা ইহা পরিবর্তন করিয়াছে । কেন তাহারা নামটি বদলাইয়া ফেলিয়াছে ? কেন তাহারা চায় মানুষ নাজদ নামটি ভুলিয়া যাক ? ইহার কারণ রাসুলে করীম (সাঃ) নাজদের জন্য দোয়া করেন নাই । একদিকের জন্য সাইয়্যেদুল মোরসালীন (সাঃ) দোয়া করিলেন, “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি শামিনীনা” এবং অন্যদিকের জন্য দোয়া করিলেন, “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি ইয়েমেনীনা” । তৃতীয় দিকের ব্যাপারে তিনি একেবারেই নিশ্চুপ রহিলেন । লোকেরা বলিলেন, “হে আল্লাহর নবী ! আমাদের নাজদের জন্যও দোয়া করুন”। মদীনা শরীফের লোকেরা যখন বলেন, “আমাদের নাজদ” তাহার দ্বারা তাহারা কোন নাজদের কথা বুঝাইয়াছেন ? এখানেই আমরা ইসলামের সৎ আলেম এবং ভ্রান্ত আলেমদের পরিচয় লাভ করিতে পারি । সৎ আলেম, সঠিক আলেম, বিশুদ্ধ আলেম, কাণ্ডজ্ঞানযুক্ত আলেম বলিবেন যে, মদীনা শরীফের লোকেরা নাজদ বলিতে হেজাজের নিকটবর্তী এলাকাকেই বুঝাইয়াছেন । পক্ষান্তরে ভোগাস আলেম, প্রতারক আলেম, বিশ্বাসঘাতক আলেমরা বলবে নাজদ হইল ইরাকে বা ডিজনীল্যাণ্ডে অবস্থিত । 

খাতামুন নাবিয়ীন (সাঃ) নাজদ সম্পর্কে উত্তর দিলেন । তিনি নাজদের দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করিয়া বলিলেন, “নাজদ হইতে ফিতনাহ উৎপত্তি হইবে (রাজনৈতিক-ধর্মীয় সন্ত্রাস) এবং ভূমিকম্প সৃষ্টি হইবে” । আর ভূমিকম্প সবসময় কেবল মাটির ভূমিকম্প হয় না, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ভূমিকম্পও হতে পারে । যেমন- পেট্টোডলার অর্থব্যবস্থা । ত্রিভূজের আরেক কোণা নাজদ সম্পর্কে হুজুরে পাক (সাঃ) আরো বলেন, “কারণুস শায়তান / সেখানে শয়তানের শিং (যুগ) উদিত হইবে” । কারন্‌ অর্থ শিং আবার কারন্‌ অর্থ যুগও বুঝায় । (যেমন, যুল কারণাইন বা দুই যুগের অধিপতি।) এখন কোন শব্দের সঠিক অর্থ বুঝিতে চাহিলে তাহার সঠিক পদ্ধতি হইল কোরআনে অনুসন্ধান করা । আর কোরআনে আল্লাহ কারন্‌ শব্দটিকে সর্বদা যুগ / কাল অর্থে ব্যবহার করিয়াছেন, কখনও শিং অর্থে ব্যবহার করেন নাই । কাজেই আমরা উপসংহার টানিতে পারি যে, মহানবী (সাঃ) যখন নাজদ সম্পর্কে কারন্‌ শব্দটি ব্যবহার করিয়াছেন তাহা যুগ অর্থেই ব্যবহার করিয়াছেন “শয়তানের যুগ” । দেখা যায় এক কোণা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন “বারাকাহ” আবার অন্য কোণা সম্পর্কে তিনি বলিয়াছেন, “বারাকাহ” । আর তৃতীয় কোণাটি সম্পর্কে বলিয়াছেন, “শয়তানী যুগ”। কাজেই তাহারা কেন ইহা গোপন করিতে চায় ? কেন ভোগাস স্কলাররা বলে নাজদ হইল ইরাকে কিংবা ডিজনীল্যাণ্ডে, কেন ? কেন ? কেন ? কেন ? ইহার কারণ হইল সৌদী ওহাবী অশুভ জোট যাহারা আরব ভূমিকে হাইজ্যাক করিয়াছিল এবং তারপর আরব উপদ্বীপকে যায়োনিষ্টদের (ইহুদীদের) হাতে তুলিয়া দিয়াছিল । এই ওহাবী আন্দোলনের লোকেরা অশুভ সৌদী রাজপরিবার ছিল নাজদের অধিবাসী, নাজদী । ঠিক একই সময়ে ফেরাউনের লাশ আবিষ্কৃত হইয়াছিল ১৮৯৮ সালে । যখন ফেরাউনের লাশ পুণঃআবিষ্কৃত হইয়াছিল, তাহার রহস্য হইল ইতিহাস পূণরাবৃত্তি হইতে যাইতেছে । আল্লাহ বলেন, ফেরাউন যেভাবে জীবনযাপন করিয়াছে যাহারা সেভাবে জীবনযাপন করিবে, তবে ফেরাউন যেভাবে মৃত্যুবরণ করিয়াছে তাহারাও সেভাবে মৃত্যুবরণ করিবে । ফেরাউনের লাশ আবিষ্কারের সাথে সাথেই সত্যিকারের আখেরী জামানার দিনক্ষণ গণনা শুরু হইয়া গিয়াছে । নাজদী সৌউদ বংশ ক্ষমতা দখল করে ১৯০২ সালে । একই সময়ে একই ঘটনা ঘটিয়াছে প্যারিসের কনফারেন্সে যখন তাহারা তুর্কী ওসমানী খেলাফত ধ্বংস করিবার পরিকল্পনা করিয়াছিল । ১৮৮৭ সালে ইজরাইল সৃষ্টির জন্য সূচনা হইয়াছিল যায়োনিষ্ট আন্দোলনের । প্যারিস কনফারেন্সের ছয় বছরের মাথায় ওসমানী খেলাফাহ বিলুপ্ত করা হয় এবং নাস্তিক তুর্কী যুবকরা তুরষ্কের ক্ষমতা দখল করিয়া খলিফাকে বিতাড়িত করে । তো এই ঘটনাগুলি কোন দুর্ঘটনাক্রমে সংঘটিত হয় নাই । সৌদীরা যখন রিয়াদে আসিল, সৌদী ওহাবী জোট হইতে “শয়তানী যুগ” এর আরম্ভ । এই হইল আখেরী জামানার ত্রিভূজ এলাকা । এখন তাহারা বোরখা খুলিয়া বাহির হইয়া আসিয়াছে ইয়েমেন হামলা করার জন্য । আমরা বলিতে পারি ইহা হইল সৌউদ পরিবারের পতনের সূচনা । যায়োনিষ্টরা এখন চাহিতেছে সৌদী রাজবংশের পতন ঘটাইয়া তাহার চাইতেও খারাপ কিছুকে ক্ষমতায় বসাইতে যেমন আইসিস । সৌদী রাজপরিবার এখন আকাশ হইতে ইয়েমেনে বোমা হামলা করিতেছে যাহাতে আমাদের অনেক নিঃস্পাপ ইয়েমেনী ভাইয়েরা মৃত্যুবরণ করিতেছে শহীদ হইতেছে । কাপুরুষের দল তোমাদের সাহস থাকিলে স্থল আক্রমণ কর । সৌদী আরবের সাধারণ মুসলমানগণ কখনও তাদের ইয়েমেনী ভাইদের উপর হামলায় অংশ নিবে না । যেসব পাইলট বিমান থেকে বোমা ফেলিতেছে তাহারা জাহান্নামের আগুনে জ্বলিবে । কাজেই এই হামলা থেকেই ইয়েমেনে আগুনের আত্মপ্রকাশ ঘটিবে যেই সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ভবিষ্যৎবাণী করিয়া গিয়াছেন । ইয়েমেন থেকে একটি আগুন বাহির হইবে যাহা অপরাধীদেরকে উৎখাত করিয়া আরব ভূমিকে মুক্ত করিবে এবং পাপাচারীদেরকে বিচারের ময়দানে নিয়া সমবেত করিবে । পরিশেষে আসুন আমরা আমাদের ইয়েমেনী ভাইদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করি যাহারা জুলুম আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়িয়া তুলিতেছে ।

.

.

.

Comments:

Constantinople (القسطنطينية)
the former name of Istanbul from ad 330 (when it was given its name by Constantine the Great) until the early 20th century. (Google translate)
Istanbul – (اسطنبول)
a port in Turkey on the Bosporus that straddles Europe and Asia; population 10,757,300 (est. 2007). Formerly the Roman city of Constantinople 330–1453, it was built on the site of the ancient Greek city of Byzantium. It was captured by the Ottoman Turks in 1453 and was the capital of Turkey from that time until 1923. (Google translate)

বিস্তারিত পড়ুন

পারমাণবিক বিশ্বযুদ্ধের ব্যাখ্যা এবং প্রস্তুতি

BlackSeaMap

আমাদের আজকের আলোচনা সভায় উপস্থিত আছেন গ্রীস হইতে আগত ভাই আবদুল কাদের যিনি অর্থোডক্স খ্রীষ্টধর্ম হইতে ইসলাম গ্রহন করিয়াছেন । যিনি গতরাতে এখানে আসিয়া পৌঁছিয়াছেন এবং তিনি গ্রীসে এই বছর আমার জন্য একটি সেমিনারের আয়োজনের চেষ্টা করিতেছেন । ভাই আবদুল কাদের আপনি একটু দাঁড়ান যাতে আমরা সবাই আপনাকে দেখতে পাই । আমাদের মধ্যে আরেক ভাই আছেন যিনি পাকিস্তান থেকে আসিয়াছেন, ভাই রায়না । আমরা তাদেরকে এবং আপনাদের সকলকে আজকে আলোচনা সভায় স্বাগত জানাই । তো আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় হইল আসন্ন পারমাণবিক যুদ্ধ । আমাদের উদ্দেশ্য আপনাদেরকে ভয় দেখানো নয়, সন্ত্রস্ত করা নয় । কিন্তু ইসলামী চিন্তাবিদদের কিছু দায়িত্ব রহিয়াছে । আমরা যদি না জানাই ভবিষ্যতে কি ঘটিতে যাইতেছে, কোরআনে এই ব্যাপারে কি বলা আছে এবং নবী করীম (সাঃ) কি বলিয়াছেন, তবে মানুষ কবরে বসিয়া আমাদেরকে অভিশাপ দিবে, আপনারা কেন আমাদেরকে বলেন নাই ?

flight-mh-370-nuke-attack.jpg

সুতরাং এজন্য আমাদেরকে বিষয়টি প্রচার করতে হয় এবং আশা করি আপনারা এই আলোচনাতে আমার সাথে ধৈর্যধারন করিয়া অবস্থান করবেন । পারমাণবিক যুদ্ধ আসিতেছে, এটা আমাদের আখেরী জামানা বিদ্যায় আছে (কলিকালবিদ্যা) । মহানবী (সাঃ) ইহাকে অভিহিত করিয়াছেন মালহামা (মহাযুদ্ধ) হিসাবে । অধিকাংশ মুসলমানদেরই এই শব্দের সাথে পরিচয় নাই । খ্রিষ্টানদের আখেরী জামানা বিদ্যাতে এই মহাযুদ্ধের কথা আছে, তারা একে বলে আরমাগেডান । ইহা অবশ্যই পারমাণবিক যুদ্ধ হইতে বাধ্য, কিছুতেই গতানুগতিক যুদ্ধ হতে পারে না । কেন ? আজকের আলোচনায় আমরা ইহার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করিব, অবশ্যই ইসলামের দৃষ্টিতে । আগামীকালের আলোচনায় আমরা ইহার অর্থনৈতিক এবং মুদ্রাব্যবস্থার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করিব । বোখারী শরীফের একটি হাদীস আছে, যার বিশুদ্ধতা নিয়ে কেহ প্রশ্ন তোলেন নাই । “ফোরাত নদী তাহার সোনার পাহাড় বাহির করিয়া দিবে এবং লোকেরা তাহার জন্য যুদ্ধ করিবে । তাতে শতকরা ৯৯ জন নিহত হইবে । প্রত্যেকেই আশা করিবে যে, সে হয়ত বাঁচিয়া যাইবে (এবং সোনার পাহাড়ের মালিক হইবে) এবং মুসলমানরা অবশ্যই সেই সোনা স্পর্শ করিবে না”। আমি বলতে চাই যে, এই হাদীসটি আমি বিশ বছর পূর্বে পড়িয়াছি কিন্তু তাহার মানে বুঝি নাই যতক্ষন না আল্লাহ তায়ালা দয়া করিয়া আমাকে ইহার অর্থ বুঝিবার সুযোগ দিয়াছেন । পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন যুদ্ধ হয় নাই যাতে শতকরা ৯৯ জন নিহত হইয়াছে । ইহা হইবে পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী যুদ্ধ যাহার সাথে অন্য কোন যুদ্ধের কোন তুলনাই হইতে পারে না । একমাত্র তখনই আপনি শতকরা ৯৯ জনকে হত্যা করিতে পারবেন যখন আপনি ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র ব্যবহার করিবেন । আর এই যুগে ব্যাপক গণবিধ্বংসী অস্ত্র মানে এটম বোমা / পারমাণবিক বোমা । কাজেই এই যুদ্ধ হইবে পারমাণবিক যুদ্ধ । কাজেই মহানবী (সাঃ) পরমাণু যুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী করিয়াছেন এবং তিনি ভবিষ্যতবাণী করিয়াছেন পারমাণবিক যুদ্ধ সংঘঠিত হবে সোনার পাহাড়ের দখল নিয়া । আর আপনি যদি সোনার পাহাড় সম্পর্কে জানিতে চান তবে আগামীকালের লেকচারে আবার আসিবেন ।

বিস্তারিত পড়ুন