তুরস্কের রেফারেন্ডাম

প্রশ্নঃ নেদারল্যান্ডের আমস্টারডাম থেকেঃ

প্রিয় শায়খ, আপনি তুরস্কের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে কী বলবেন?

শেখ ইমরান হোসেনঃ আমি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোওয়ান, যার নাম লেখা হয় এরদোগান কিন্তু উচ্চারণ আসলে এরদোওয়ান, আমি তার সম্পর্কে বলতে চাই যে, আমি তাকে বিশ্বাস করি না। তিনি লিবিয়া যুদ্ধে গাদ্দাফি সরকারকে হটিয়ে লিবিয়াকে ন্যাটোর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার পেছনে যে ভূমিকা রেখেছিলেন, সে কারণে আমি তাকে বিশ্বাস করি না। রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, “মুসলিমদের একই গর্তে দুইবার পা ফেলা উচিত নয়।” তাই আমি তাকে বিশ্বাস করি না। আর রাশিয়ারও তাকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। এরদোওয়ান এখন রেফারেন্ডেম বিজয়ী। আমি জানিনা সেই রেফারেন্ডেম কতটা ভুয়া। না, আমার সেই জ্ঞান নেই। কিন্তু তিনি এখন সম্রাটে পরিণত হয়েছেন। তুরস্কে তার এখন ক্ষমতা রয়েছে যা ইচ্ছা তাই করার। আর বৃহৎ প্ল্যান হচ্ছে তথাকথিত ইসলামী সাম্রাজ্য উসমানীয় সাম্রাজ্যের পুণরুত্থান। যা করতে হলে তুরস্ককে তার সীমানা বৃদ্ধি করতে হবে। যেটা আমি বলতে পারি, এই সময়ে তুরস্কের বর্তমান সরকার যে পলিসি গ্রহণ করেছে, সে পলিসি তুরস্ককে নিঃসন্দেহে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যখন সেই গৃহযুদ্ধ শুরু হবে, আমি বিশ্বাস করি এটা সেই গৃহযুদ্ধ হবে যা শেষ পর্যন্ত কন্সট্যান্টিনোপল বিজয়ে পরিণত হবে। তুরস্কে কন্সট্যান্টিনোপল শব্দটি ব্যবহার করা হয় না। তারা কন্সট্যান্টিনোপল শব্দটি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। কারণ, তারা চায় না যে মানুষ হাদিসের ভবিষ্যতবাণী সম্পর্কে জানুক। রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের বলেছেন যে, মালহামার পর অর্থাৎ যে যুদ্ধে প্রতি ১০০ জনে ৯৯ জন নিহত হবে, সেই বৃহৎ যুদ্ধের পর পরবর্তী ঘটনাই হবে কন্সট্যান্টিনোপল বিজয়। আর তিনি প্রশংসা করেছেন সেই বাহিনীর, তিনি প্রশংসা করেছেন সেই বাহিনীর নেতার। যদি রাসুলুল্লাহ (সা) কোন শহরের নাম কন্সট্যান্টিনোপল বলেন, তাহলে এটা কী সুন্নাহ নয় যে, আমরাও তাকে কন্সট্যান্টিনোপল বলে ডাকি? কিন্তু তারা এটা বদল করে দিল আর এর নাম রাখল ইস্তাম্বুল। তাই এখন আর কন্সট্যান্টিনোপল শব্দটি ব্যবহৃত হয় না। কিন্তু যখন আমরা কন্সট্যান্টিনোপল বিজয় করব, ন্যাটোকে বিদায় বলব, আমরা সেদিন এর পূর্বের নাম ফিরিয়ে আনব। এটাকে পুনরায় কন্সট্যান্টিনোপল বলে ডাকা হবে।

অনুবাদঃ Md Arefin Showrav

২৫-৪-২০১৭

পৃথিবীর হৃদয়

সিরিয়ার দামেস্কে পৃথিবীর হৃদয় অবস্থিত। তাই সিরিয়া অশান্ত হয়ে উঠলে সমগ্র বিশ্ব অশান্ত হয়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা সেটাই দেখতে পাচ্ছি। দিনকে দিন এই অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে। সমগ্র বিশ্বে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি। শেখ ইমরান হোসেনের সাম্প্রতিক লেকচারটি কে কে দেখেছেন?? সেখানে একজন বাংলাদেশীর ই-মেইলের জবাবে তিনি বলেন, মালহামার পর আরব ও এর আশেপাশের এলাকা টিকে থাকবে। আরব, সিরিয়া, তুরস্ক টিকে থাকবে কারণ মালহামার পরের ঘটনা কন্সতুন্তিনিয়া বিজয়। রাশিয়া টিকে থাকবে, হয়তো ইউরোপীয় অংশ ধ্বংস হবে কিন্তু এশিয়ান অংশ টিকে থাকবে। চীন টিকে থাকবে কারণ চীন অনেক বড় দেশ এবং সে বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে তার প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি গ্রামাঞ্চলে স্থানান্তর করে। কিন্তু এশিয়ার দেশগুলো [বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া] ও আফ্রিকার দেশগুলোর কী হবে আমি জানিনা। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, যুক্তরাস্ট্র, কানাডা, ইউরোপ ছাইয়ে পরিণত হবে। আর আধুনিক সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ তারা এত পাপ করেছে যা গণনা করা যাবে না। সুতরাং পাকিস্থান মালহামার পর টিকে থাকবে কী না আমি জানিনা।

Md Arefin Showrav

টমাহক

১ টা টমাহক = ১ মিলিয়ন ডলার = ১০ লক্ষ ডলার = ০ দশমিক ১ কোটি ডলার = ৮ কোটি টাকা।

সুতরাং, ৬০ টা টমাহক = ৬০ গুণ ৮ = ৪৮০ কোটি টাকা।

এই টাকাটা ইনভেস্ট করা হলো কেন? সোনার পাহাড়ের দখল নেয়ার জন্য।

পাহাড়ের দখল নিতে গেলে কি হবে? মরতে হবে। প্রতি ১০০ জনে মরবে ৯৯ জন। শেষ পর্যন্ত যারা বেচে থাকবে তারা কি করবে?

ধুর বলে লাথি মেরে চলে আসবে। এই পাহাড়ের আমার দরকার নাই। সোনার পাহাড় দিয়ে আমি কি করব। আমার লোকই তো নাই।

সেই সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যবান লোকগুলো কে হতে পারে? আল্লাহ্‌ ভালো জানেন।

মোহর মারা অন্তর

আজ থেকে এক দেড় বছর আগে যখন বুঝতে পারলাম মালহামা আসন্ন, ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে গেছে, একমাত্র আল্লাহ্‌ ছাড়া তাদের কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। আমার প্রথম কাজ হলো কাছের দ্বীনী ভাইদের বললাম, এবং নিকটাত্মীয়দের বললাম। আমার তখন আসন্ন মালহামার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থা। আমি খুব অবাক হলাম কেউ যখন কথাটাকে পাত্তা দিল না। সবার মধ্যে আরে ধুর ভাব। সবাই বলে, কোথায় যুদ্ধ, কিসের যুদ্ধ? আসতেছে না তো যুদ্ধ। একজন দ্বীনী ভাই বললেন, ভাই আপনি সুস্থ আছেন তো। ঠিক যেমন নূহ য়ালাইহিস সালামের উম্মতেরা বলেছিল, সে (নূহ) তো এক পাগল ব্যক্তি ছাড়া আর কিছু নয়। (সূরা মু’মিনূন, আয়াত ২৫)। আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমি সুস্থ ছিলাম। তবে তারাই নূহ য়ালাইহিস সালামের উম্মতের মতো। যত দিন যাচ্ছে মালহামা ততই প্রকাশ পেতে শুরু করছে। কেবল তারা এখনও আছেন অজ্ঞানতার অন্ধকারে। তাদেরকে মালহামার কথা বলে সাবধান করা বা না করা উভয়ই সমান। তাদের কোন পরোয়া নেই। তারা পুরো জোম্বিতে পরিণত হয়েছে।

“নিশ্চিতই যারা অবিশ্বাস পোষণ করে, তাদেরকে আপনি ভয় প্রদর্শন করুন আর নাই করুন তাতে কিছুই আসে যায় না, তারা বিশ্বাস করবে না। আল্লাহ তাদের অন্তকরণ এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।” (সুরা বাকারা ৬-৭)

এদের বোঝাতে গেলে উল্টো তামাশার পাত্র হতে হয়। হঠাৎ করে যেদিন আল্লাহর শাস্তি তাদের পাকড়াও করবে, সেদিন তাদের অবস্থা কী হবে? এদের কেউ কেউ নতুন ব্যবসা দিচ্ছেন, বিয়ে শাদী করছেন, জায়গায় ঘর তুলছেন। আর ফাক পেলে কেউ কেউ বলছেন, কোথায় তোমাদের মালহামা? আল্লাহ্‌ বলেন, আল্লাহ্‌র আদেশ আসবেই; সুতরাং তা ত্বরান্বিত করতে চেও না। (সূরা নাহল, আয়াত ১)।
@Md Arefin Showrav

গাযওয়া হবে মালহামার পর

গাযওয়া সেই যুদ্ধকে বলে যে যুদ্ধে একজন নবী অংশগ্রহণ করেন। যেমন, গাযওয়ায়ে বদর। আর ঈসা আলাইহিস সালাম আসবেন মালহামার শেষে। এজন্য মালহামাকে গাযওয়া বলে না। কারণ এ যুদ্ধে ঈসা য়ালাইহিস সালামের অংশগ্রহণ থাকছে না। উনি যখন এসে পড়বেন তখন মুসলিম উম্মাহ তার নিয়ন্ত্রণে। তখন গাযওয়ায়ে হিন্দ হবে। হিন্দু নেতাদের শেকল দিয়ে বেধে ঈসা য়ালাইহিস সালামের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। — গাযওয়া আগে হয়ে গেলে হিন্দু নেতাদের কিভাবে ঈসা য়ালাইহিস সালামের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে? মালহামা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তো ঈসা য়ালাইহিস সালাম আসছেন না। কাজেই মালহামা আগে হচ্ছে। গাযওয়া পরে। তাই আপাতত সবাই মালহামার দিকে মন দিন। আল্লাহ্‌ ভালো জানেন। আমি শুধু যুক্তি উপস্থাপন করলাম। জাযাকুমুল্লাহু খইরন।

যুদ্ধ হচ্ছে কৌশল

যুদ্ধ হচ্ছে কৌশল। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) – বোখারী, মুসলিম। আর যায়োনিস্টদের কৌশল হচ্ছে মিথ্যা প্রচারণা। এ প্রচারণায় অধিকাংশ মুসলমান বিভ্রান্ত হয়। কিন্তু আল্লাহ্‌ বলেছেন, কাফের ফাসেকদের কথাবার্তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করতে। বিশ্বাস করলে ক্ষতি হবে।

কোয়েটায় উড়ে গেল এক প্রজন্মের আইনজীবী

এই যে কোয়েটায় পুরো এক প্রজন্মের আইনজীবী উড়ে গেল এটা কি কোন হঠাৎ ঘটনা? হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে ভিড়ের মধ্যে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয় যেখানে আইনজীবীরা অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিলাল আনওয়ার কাসির মৃতদেহ দেখতে গিয়েছিলেন। দায় স্বীকার যেই করুক এটি নিশ্চয়ই পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়েছে। পাকিস্তানের উপর আক্রমণ পূর্বপরিকল্পিত। তাহাদের পরিকল্পনা হইল স্বাধীন বেলুচিস্তান সৃষ্টি করা যাহা হইবে একটি নতুন যায়োনিষ্ট লিবিয়া। আর কিছু অংশ নিয়া পাখতুনিস্তান সৃষ্টি করিবে। পাকিস্তানের যেই অংশকে আজাদ কাশ্মির বলে তাহাকে ভারতের নিকট ফেরত দেওয়া। পাঞ্জাব এবং সিন্ধুর কিছু অংশও ইন্ডিয়াকে দেওয়া হইবে। এমনকি করাচীকেও একটি নগর রাষ্ট্রে পরিণত করা হইতে পারে। তখন পাকিস্তানের কাছে থাকিবে কিছু টুকরা টাকরা যাহাকে ভারত খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে। করাচী পৃথিবীর সবচাইতে ভারসাম্যহীন শহর। যদি করাচীর পানি সরবরাহ বন্ধ হইয়া যায় আর ইন্ডিয়া তাহা করিতে সক্ষম। যদি করাচীর খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হইয়া যায় আর ইন্ডিয়া তাহা করিতে সক্ষম। …। পড়ুনঃ ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য সতর্কবাণী, ইমরান নযর হোসেন।