মাল্টিন্যাশনালদের আগমন

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ শহরটা বিদেশিদের দ্বারা ভরে গেছে। টেকনাফের মতো একটা অজপাড়াগাকে দেখলে মনে হয় একটি মাল্টিন্যাশনাল ভিলেজ। নানা ধরনের সাদা চামড়া কালো চামড়ার মিলনমেলা। কত যে মানবতাবাদী বিদেশী এনজিও। বেশ মোটা অংকের বেতনে বাংলাদেশী অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ডাক্তার, নার্স, রিসার্চার, ইঞ্জিনিয়ার, ট্রান্সলেটর, লজিস্টিক অফিসার, ড্রাইভার নানা ধরনের পোস্টে চাকুরীর বাজার বেশ গরম। হোটেলওয়ালাদেরও রমরমা দিন। যারা এসব বিদেশী সংস্থায় চাকুরী করেন তারা নিশ্চয়ই নিজেদের খুব সৌভাগ্যবান মনে করেন। ভালো একটা অর্গানাইজেশনে ক্যারিয়ার হচ্ছে। রিমুনারেশনও ভালো। তবে সব কিছু মিলিয়ে আমাকে ৩০০ বছর আগের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কথা মনে করিয়ে দেয়। সেখানে যারা চাকুরী করতেন তারাও নিশ্চয়ই খুব সৌভাগ্যবান মনে করতেন নিজেদের। বাপরে, বিলেতিদের কোম্পানিতে চাকুরী। সে যে সে কথা তো নয়। এ কথা তখন কয়জনেরই বা মনে হয় বিদেশিরা যখন আসে তারা দু’তিন শ’ বছরের পরিকল্পনা নিয়েই আসে। সূঁই হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হওয়ার জন্য।

Advertisements

আশুরার শিক্ষা

পবিত্র কোরানে আশুরা হলো সেদিন যেদিন নবী মুসা (আ) এর লাঠির আঘাতে সমুদ্রে পথের সৃষ্টি হয় এবং বনী ইজরায়েল ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা পায়।এদিন ফেরাউনের মৃত্যু হয়। কোন ফেরাউন? ফেরাউন দ্বিতীয় রামেসিস। কিন্তু এদিন আরেকটি ঘটনা ঘটে যা পবিত্র কোরান নাযিলের আগে কেউ জানত না। আর সেটা হলো মৃত্যুর আগমুহূর্তে ফেরাউন কালেমা পাঠ করে ঈমান এনেছিল। সে বলেছিল, “আমি মুসার খোদার উপর ঈমান আনলাম”। তখন আল্লাহ বলেছিলেন, “এখন? এখন তুমি ঈমান আনছ ফেরাউন? অথচ এতদিন তুমি দুনিয়ার বুকে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িয়েছ? এতদিন তুমি দুনিয়ায় দুর্নীতি ও ধ্বংসের মধ্যে লিপ্ত ছিলে? আজ থেকে আমি তোমার লাশকে সংরক্ষণ করে রাখব যাতে যখন এ লাশ পুণরায় আবিষ্কৃত হবে, তখন তা তোমার মত জীবনযাপন করা ভবিষ্যতের লোকদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকবে। তাদেরকেও তোমার পরিণতি বরণ করতে হবে।”

ফেরাউনের লাশ আবিষ্কৃত হয় ১৮৯৭ সালে। ঠিক একই সময় জায়োনিস্ট মুভমেন্টেরও সুচনা হয়। এটা কী কেবলই কাকতালীয় কোন ঘটনা?
না, বরং ইহুদি-খ্রিস্ট জায়োনিস্ট পশ্চিমা বিশ্বকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে যে পরিণতি ফেরাউন বরণ করেছিল।

যখন ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) দামেস্কে ফিরে আসবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন, তখন জায়োনিস্টদের হযরত মুহাম্মদ (সা) এর রিসালাতে ঈমান আনা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। কিন্তু তাদেরকেও ফেরাউনের ঈমান আনার অনুরূপ জবাব দেয়া হবে। এখন? এখন ঈমান আনছ? অথচ এতদিন তোমরা দুনিয়ার বুকে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াতে।

এখানেই আশুরা আমাদের অতীত ও ভবিষ্যতকে একবিন্দুতে মিলিয়ে দেয়।

Writer: Md Arefin Showrav

তিনি অসুস্থ

Stephen Hawking

হ্যাঁ, সেই ছোটবেলায় শুনছি, তিনি অসুস্থ, আমার বাবা শুনছেন, তার বাবা শুনছেন। — Amyotrophic Lateral Sclerosis (ALS) — ১৯৬৩ সালে তার এই রোগ ধরা পড়ে, এই রোগে গড়ে মানুষ বাচে ৪ বছর। আরেকজন হাইয়েস্ট বাঁচছে ২০ বছর। আর হকিং সাহেব ৫ দশক ধরে বেঁচে আছে। ইজ ইট পসিবল? এরা চিরজীবন চায় যে কথা কুরআনে আছে। এজন্যই বোধহয় মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে চায়। — আর আমরা দুনিয়ার মানুষরা সব বিশ্বাস করে যাই।

http://yournewswire.com/stephen-hawking-died/

রমজান মাস

রমজান মাস হলো মুসলিম উম্মাহকে দেয়া আল্লাহর বিশেষ উপহার। এরকম উপহার অন্য কোন উম্মাহকে দেয়া হয়নি। এই মাসের কারণে অনেক উম্মাহই বিশেষ করে বনী ইজরায়েল মুসলিম উম্মাহকে ঈর্ষা করে। এজন্যই এ মাসে জায়োনিস্টরা তাদের ভাড়াটে গুন্ডাদের দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় লোন উলফ সন্ত্রাসী হামলা চালায় যাতে রমজান মাসকে নিয়ে মানুষের মনে এক ধরণের ভীতি ও ঘৃণা সৃষ্টি করা যায়।

Md Arefin Showrav 

ইনজেকট ডিজিজ এন্ড রিমেডিজ

১।
ডায়াবেটিস একটি যায়োনিস্ট রোগ। এ রোগকে সমাজে কোন এক সুপরিকল্পিত উপায়ে ইনজেকট করা হয়েছে গত ত্রিশ বছরে। জীবনযাত্রা, খাদ্য এগুলোকে মেনিপুলেট করা হয়েছে। কি জন্য? এর মধ্যে রয়েছে মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। মূল ব্যবসা হলো ইনসুলিন। একজন ডায়াবেটিসের রোগীকে শেখানো হয় এটা ইনসুলিনের ঘাটতি জনিত রোগ। আপনাকে একসময় ইনসুলিন নিতে হবেই। একজন নতুন ডায়াবেটিস রোগীর অর্থ হলো তার জীবনের বাকী অংশটুকুর উপর ওষুধ কোম্পানির কর্তৃত্ব। এখন গরীবদেরও ডায়বেটিস হয়। মোটা কমানোর জন্য মানুষের কি আপ্রাণ প্রচেষ্টা। না খেয়ে থাকা। তারপরও মোটা কমে না। খাদ্যে কি এমন করা হয়েছে যে না খেয়ে থাকলেও মোটা কমে না? ডায়বেটিসের সাথে যোগ হয় উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের সমস্যা, হার্টের সমস্যা এবং ক্যান্সার। এগুলো সব কয়টিকে একসাথে বলে নন কমিউনিকেবল ডিজিজ। নন কমিউনিকেবল ডিজিজ পিপড়ার মতো লাইন ধরে আসে। একটার পেছন ঘেঁষে আরেকটা। সারা জীবনের সমস্ত আয় ইনকাম যায়োনিস্ট কোম্পানিকে দিয়ে তারপর কবরে যাও।

২।
সারা বছরই ডাব পাওয়া যায়। আশেপাশের দোকানগুলোতেই ডাবের স্তুপ থাকে। অবহেলায় মানুষ পাশ কেটে চলে যায়। আর সারা বছর পাওয়া যায় কলা। — যে জিনিসের প্রয়োজন মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী আল্লাহ্‌ সে জিনিসকে প্রকৃতিতে করেছেন সবচেয়ে সহজলভ্য। ডাক্তার ডাব খেতে বলবে না, কলা খেতে বলবে না। ডাক্তার বলবে লবণ খাওয়া বন্ধ করতে। হাজার বৎসরের ইতিহাসে মানুষ লবণ খেয়ে প্রেশার বাড়লো না। গত ত্রিশ বছরেই মানুষ বুঝে গেল লবণ এতো বড় শত্রু? আর লবণ যদি এতোই ক্ষতিকর হতো আল্লাহ্‌ লবণকে প্রকৃতিতে সহজলভ্য করতেন না। আসলে সবই ব্যবসা। শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্যহীনতার কারণে ব্লাড প্রেশার বাড়ে। লবণের সোডিয়ামকে ব্যলেন্স করার জন্য প্রকৃতিতে আল্লাহ্‌ ডাব দিয়ে রেখেছেন, কলা দিয়ে রেখেছেন। সেখানে আছে পটাসিয়াম। সেগুলো খান। নিয়মিত। যায়োনিস্টদের কথা আর কতো বিশ্বাস করে তাদের পিছে টাকা ঢালবে মানুষ?

দুই পক্ষ

….. আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়। ২ঃ২৫১ (অনুবাদ – মা’রেফুল কুরআন)

বর্তমানে যুক্তরাস্ট্রের এক নম্বর শত্রু হলো রাশিয়া ও চীন। কারণ, এতদিন যুক্তরাস্ট্র ছিল বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি, বিশ্বের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত একমাত্র সম্রাট। কিন্তু রাশিয়া ও চীন তার এই সাম্রাজ্যে ভাগ বসিয়েছে। রাশিয়া যুক্তরাস্ট্রের সামরিক শক্তিতে ভাগ বসিয়েছে আর চীন যুক্তরাস্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তিতে ভাগ বসিয়েছে। যুক্তরাস্ট্রকে বিশ্বের ক্ষমতায় বসানো ছিল জায়োনিস্টদের কৌশল। আর রাশিয়া ও চীনকে বিশ্বের ক্ষমতায় বসানো ছিল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কৌশল। ফলে বিশ্বের সাম্রাজ্য স্পষ্ট দুইভাগে ভাগ হয়ে যায় যাকে ইংরেজী ভাষায় বলে মাল্টিপোলার ওয়ার্ল্ড। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো, অপরদিকে রাশিয়া-চীন। যুক্তরাষ্ট্র তাই রাশিয়া ও চীনকে তাদের সীমান্তের চারদিক দিয়ে সামরিকভাবে অবরোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এজন্য তাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দুটি কার্ড হলো “রাশিয়ান এগ্রেসন” ও “জঙ্গী বাহিনী”।

রাশিয়ান এগ্রেসনের দোহাই দিয়ে পূর্ব ইউরোপে সেনাবাহিনী জড়ো করে যুক্তরাস্ট্র-ন্যাটো রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্ত অবরোধ করে। আফগানিস্তানে তালেবান-আল কায়েদার দোহাই দিয়ে সেনাবাহিনী জড়ো করে তারা রাশিয়ার দক্ষিণ সীমান্ত অবরোধ করে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষার দোহাই দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে থাড সিস্টেম চালু করে তারা রাশিয়া ও চীনের পূর্ব সীমান্ত অবরোধ করছে। এবার বাকি আছে শুধু চীনের দক্ষিণ সীমান্ত। যুক্তরাস্ট্র-ন্যাটো দক্ষিণ চীন সাগর দখল করার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে উদ্ভুদ্ধ করে এবং আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সাগরের দখলদারিত্ব চীনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর যখন ফিলিপাইনের ক্ষমতায় ডরটমুন্ডে আসে, তখন তার চীনপন্থি নীতি যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটোর দক্ষিণ চীন সাগরের দখল নিয়ে চীনের দক্ষিণ সীমান্ত অবরোধ করার কৌশলে কুঠারাঘাত করে।

তাই যুক্তরাস্ট্রের তখন একটাই পথ খোলা থাকে চীনকে দক্ষিণ দিক দিয়ে আটকানোর আর সেটা হলো বঙ্গোপসাগর। চীন তার বাণিজ্যের অগ্রগতির জন্য মায়ানমার, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করছে যার মাধ্যমে তারা চীন থেকে আররে এই সমুদ্রবন্দরগুলো ব্যবহার করে আমদানী-রপ্তানি করবে। আর বঙ্গোপসাগর নিঃসন্দেহে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। যুক্তরাস্ট্র-ন্যাটো এটি অবরোধ করতে চায়। তাই তারা মায়ানমারকে অশান্ত করতে রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি করে। আর এক্ষেত্রে বৌদ্ধ ও মুসলিম উভয় পক্ষে অবস্থান করা কিছু জায়োনিস্টদের দালাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সংকট সমাধানের জন্যে চীন ও ইন্দোনেশিয়া অসংখ্য রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশে আশ্রয় দেয়। কিন্তু যুক্তরাস্ট্র-ন্যাটো রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান চায় না বরং তারা এর জন্য মায়ানমার সরকারকে দায়ী করে বিষয়টি জাতিসংঘে তোলে। কিন্তু রাশিয়া ও চীন এ বিষয়ে ভেটো দেয়। ফলে জায়োনিস্টদের মায়ানমার অশান্ত করে বঙ্গোপসাগরে ঢোকার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তাই তারা এখন বাংলাদেশের দিকে নজর দিয়েছে। আর এক্ষেত্রে তারা বেছে নিয়েছে মুসলিম দেশে প্রয়োগ করা তাদের অতি পরিচিত অস্ত্র জঙ্গী হামলা। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ কী জায়োনিস্টদের এই চালকে ফিলিপাইন ও মায়ানমারের মত ব্যর্থ করে দিতে পারে কী না!

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav