মূর্তি

গ্রিক মূর্তি হোক বা বাঙ্গালী নারী মূর্তি হোক এগুলো হচ্ছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষের ধর্মীয় চেতনাকে ধ্বংস করে দেয়া। সাড়া পৃথিবীকে একটি কমন ধর্মীয় চেতনাবিরোধী সংস্কৃতিতে আনা। ইসলামিক ইস্কেটোলজি বিশেষ করে দাজ্জালিক থিওরি ছাড়া শেষ যুগের সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আগ্রাসনকে বোঝা এক কথায় অসম্ভব।

# দাজ্জাল

অবিচারের প্রতীক জাস্টিসিয়া

“চোখ কালো কাপড়ে বন্ধ থাকার অর্থ হচ্ছে সে ন্যায় অন্যায় কিছুই বুঝে না। সত্য মিথ্যা পার্থক্য করতে পারে না। ন্যয় অন্যায়ের পার্থক্যজ্ঞান থাকলে তার চোখ থাকত খোলা।
 
হাতে দাড়িপাল্লা। দাড়িপাল্লা এদিকেও হেলে না, ওদিকেও হেলে না। এর অর্থ এই দাড়িপাল্লা সঠিক মাপ দিতে পারে না। এটা হচ্ছে নষ্ট ঘড়ির মতো। ওজনের জন্য দুই পাশে ভালো খারাপ যাই দেয়া হোক না কেন, দাড়িপাল্লার কাটা একটুও নড়বে না। সে দেখাবে ন্যায় অন্যায় সমান, ভুল রিডিং দিবে।”
Allah has set a seal on their hearts and on their hearing, and on their eyes there is a covering. Theirs will be a great torment. (Al-Baqara, Chapter #2, Verse #7)
 
আল্লাহ তাদের অন্তকরণ এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। (সূরা আল বাকারা, আয়াত ৭)
 
And the weighing on that day (the Day of Resurrection) will be the true weighing . So as for those whose scale (of good deeds) will be heavy, they will be the successful (by entering Paradise).
 
And as for those whose scale will be light, they are those who will lose their ownselves (by entering Hell) because they denied and rejected Our Ayat (i.e. proofs, evidence, verses, lessons, signs, revelations, etc.). (Al-A’raaf, Chapter #7, Verse #8-9)
 
আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে।
 
এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো। (সূরা সূরা আল আ’রাফ, আয়াত ৮-৯) 

যুব সমাজ কি নির্বোধ হয়ে গেছে?

নির্বোধরা যখন নিজেদের স্মার্ট মনে করে তাদের আরো নির্বোধ লাগে। যখন কেউ জাংকফুড, আইসক্রিম, কোক, বিরানি, মিষ্টি খেয়ে শরীর তুলতুলে করে ফেলে আর মটর সাইকেলে করে ঘুরে, ভাব ধরে, এরা তো বেসিকালি স্বাস্থ্য সম্পর্কে কিছুই জানে না। অনেক শিক্ষিত লোকেরা সিগারেট খায়। গোল্লা গোল্লা করে ধোয়া ছাড়ে আর নিজেকে একটা কিছু মনে করে। অথচ এটা অত্যন্ত বোকামি। এর ভেতর কোন স্মার্টনেস নেই। যেসব মেয়েরা বয়ফ্রেন্ডের সাথে গটগট করে ঘুরে বেড়ায় আর নিজেকে এক কল্পনার পরী ভাবে, ফেসবুকে নিজের আধানেংটো ছবি পোস্ট করে মনে করে বিরাট এক কর্ম করে ফেলছে এরা যে কোন জাতের নির্বোধ তা তারা নিজেরাও জানে না। যে নিজের নিরাপত্তা বুঝে না, শারীরিক ভালো হবে কিসে তা জানে না এদের সুন্দর চেহারা ও অহংকারী আচরণ তাদের অজ্ঞতাকেই প্রকাশ করে দেয়।

চারুকলাতে

চারুকলাতে মুসলমান যায় এ কথা কে বলেছে? মুসলমান চারুকলায় যাবে কেন? সেখানে গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে মারামারি হোক বা লাঠালাঠি হোক এতে মুসলমানদের কি সেটাই আমি এখনো বুঝতে পারলাম না। — মুসলমান সেখানে গেলেই না পরে তাদের উপর আক্রমণের প্রশ্ন। মুসলমানেরা অপবিত্র স্থানে যাবে কেন আগে এ প্রশ্ন সল্ভ করতে হবে। পরে দ্বিতীয় প্রশ্ন।

খবরের লিঙ্ক

বাঙলা নববর্ষ

বছরের প্রথম দিন যদি কুরআন তিলাওয়াত দিয়ে শুরু করেন আর ভাবেন একটা ভালো কাজ দিয়ে বছরের প্রথম দিন শুরু করলাম, বিশ্বাস করেন এটা বিদয়াত। বছরের প্রথম দিন যদি মেহমানদারি করেন আর ভাবেন মেহমানদারি নবী রাসূলদের সুন্নত। বছরের প্রথম দিন একটা সুন্নত কাজ করি, বিশ্বাস করেন এটা বিদয়াত।

বছরের প্রথম দিন যদি ভালো কাপড় পড়েন আর ভাবেন আল্লাহ্‌ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন। বিশ্বাস করেন আপনার এই ভালো কাপড় পড়া আল্লাহ্‌র অসন্তুষ্টির কারণ হবে।

পবিত্র কুরআনের সতর্কবাণী, আল্লাহ্‌ বলেন “শয়তান তাদের কার্যবলী তাদের নিকট শোভন করেছে এবং তাদেরকে সৎপথ চলা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে, ফলে তারা সৎপথ পায় না। -(সুরা নামল, আয়াত ২৪)।

ইসলাম পরিপূর্ণ। একে দয়া করে আর পরিপূর্ণ করতে যাবেন না। আখিরাতে নাযাত চাইলে ইসলামে যতটুকু আছে ততটুকু মানেন। টু দ্য পয়েন্ট মানেন। খারাপ ছাত্রদের মতো খাতা ভরে লিখে ফেল করবেন না। ভালো ছাত্রদের মতো টু দ্য পয়েন্ট আমল করে পাশ করে যান।

# পহেলা বৈশাখ

শাঁখের কড়াত

শিক্ষিত শ্রেণীর আধুনিক মুসলমানদের মডারেট ফেরকা একটা শাঁখের কড়াতের মধ্যে থাকে। না পারে ইসলাম ছাড়তে, না পারে শেরেক ছাড়তে। পহেলা বৈশাখে উৎসবও করতে মন চায়, নামাযও পড়তে মন চায়। সন্তানের জন্মদিনে দুই রাকাত নামায পড়ে, কুরআন তিলাওয়াত করে। পহেলা বৈশাখ হিন্দুদের, জন্মদিন খ্রিস্টানদের। আসলে কখনো এই ধরনের শেরক মিশ্রিত আমল গ্রহণ করা হবে না। আল্লাহ্‌র জন্য অন্তরের সবটুকু জায়গা খালি করলে তবেই ঈমান ও আমল গ্রহণযোগ্য হবে। যেমন ইব্রাহীম য়ালাইহিস সালাম স্বীয় পুত্রকে আল্লাহ্‌র হুকুমের সামনে কুরবানী করে মুসলিম জাতিকে এই শিক্ষাই দিয়েছেন। ইব্রাহীম য়ালাইহিস সালামের তাওহীদের শিক্ষা গ্রহণ করা ভিন্ন কেউ মুসলমান হতে পারবে না। আল্লাহ্‌ স্বয়ং হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সালামকে আদেশ দিয়েছেন ইব্রাহীম য়ালাইহিস সালামের শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য। শাঁখের কড়াত থেকে বের হওয়ার জন্য ইব্রাহীম য়ালাইহিস সালামের শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

বাবার হোটেলে অপসংস্কৃতি

‘বাবার হোটেল’ জিনিসটা আর কোথাও নেই। ইউরোপীয় সভ্যতায় নেই, ইসলামেও নেই। ইসলামে পুত্র বালেগ হলে পিতার দায়িত্ব শেষ। আর কন্যা যতদিন না পাত্রস্থ হয়। আমাদের এখানে এমএ পাস পুত্রেরও বাবার হোটেলে ঠাঁই হয়ে যায়।

এখানে পুত্র কন্যাদের প্রাইভেট কোচিং থাকে। দেরী করে বাসায় ফিরে শুধু বললেই হয়, আজকে কোচিংয়ে স্পেশাল ক্লাস হয়েছে। তাহলেই ভাত রেডী। ব্যস, ভাত খেয়ে কানের মধ্যে বল্টু গুঁজে দরজা আটকে দিলেই হলো। একমাত্র ভূমিকম্প ছাড়া আর কিছুই তাকে বের করতে পারবে না। আহ, এ বড় আরামের হোটেল।

“তুমি তো জানো জান, তোমাকে দেয়ার মতো আমার কিছুই নেই। না তোমার হিযাবের ব্যবস্থা করতে পারব, না তোমাকে দু’ আয়াত কুরআন পড়ে শোনাতে পারব। না তোমার জন্য দু’ বেলা হালাল রিযিকের ব্যবস্থা করতে পারব। আমার শুধু আছে একটি Yolo অন্তর যা দিয়ে আমি ২৫ পয়সা রেটে তোমার সাথে কথা বলতে পারব। তারপর অন্য অফার আসলে কেটে পড়ব।”

যতদিন বাবার হোটেল থাকবে, ততদিন ভ্যালেন্টাইন ডের রমরমা ব্যবসা থাকবে।

বিশ্ব ভালোবাঁশ দিবস
বিশ্ব ঘৃণা দিবস