ফাদার’স ডে এর নেপথ্যে

লিখেছেন —সামীউর রহমান শামীম

Fathers Day

খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির নিদর্শন

.
.
ইংরেজিতে “Father’s Day” বাংলায় “পিতৃ দিবস” কিংবা “বাবা দিবস”। আমার মতে, বাবা দিবসটি তাদের জন্য যারা গির্জার পুরোহিতকে ফাদার ডেকে অভ্যস্ত। কারণ, গির্জার ফাদার ছাড়া তাদের জন্মদাতা পিতার সন্ধান তাদের মায়েরাও দিতে পারে না। তারা পালন করবে বাবা দিবস। আমরা না।
.
বললাম, ইউরোপ আমেরিকার সভ্যতার কথা। এখন আসি, গতকাল যারা বাবা দিবসে বাবার প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে উজাড় করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলি, ভালোবাসার কথাটা কি ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন নাকি আপনার জনককে কথাটা জানিয়েছেন! ফেসবুকের স্ট্যাটাসের মতো সুন্দর করে………
.
বাবা দিবসটি কবে? ১৯ জুন?? না! বাবা দিবস হলো, প্রতি জুন মাসের ৩য় রবিবার। এ বছর জুন মাসের ৩য় রবিবার ১৯ তারিখ, তাই এ দিনেই দিবসটি পালিত হলো। গত বছর জুনের ৩য় রবিবার ছিল ২১ জুন, তাই গত বছর ২১ জুনেই দিবসটি পালিত হয়েছে।
.
আচ্ছা! জুন মাসের ৩য় “রবিবার” বাবা দিবস। “রবিবার” কেন? অন্য কোন দিন কেন নয়? প্রশ্নটা আপনার মনে একবারও আসলো না?? রবিবার কাদের পবিত্র দিন?? যাদের পবিত্র দিন, তারাই এই দিবসটির উদ্ভাবক।
.
খ্রিস্টানরা এই দিবসের উদ্ভাবক। এই দিবসের উদ্ভাবন হয় এক খ্রিস্টান পুরোহিতের কথায়। ১৯০৮ সালের ৫ই জুলাই, আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালিত হয়।
.
বিস্তারিত দেখুন উইকিপিডিয়ায়।
.
আজকাল যুগ যামানা খুব সহজ। আপনি কি বাবা দিবস নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ার আগে উইকিপিডিয়া থেকে একটা চক্কর লাগিয়ে দেখে আসতে পারতেন না যে, দিবসটি কীভাবে এলো? কে চালু করলো?
.
সুতরাং কোনো অজুহাত গ্রাহ্য নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিষ্কার এবং পবিত্র ঘোষণা শুনে নিন,
.
عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من تشبه بقوم فهو منهم
.
অর্থাৎ ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্য সম্প্রদায়, জাতি বা কওমের অনুকরণ করবে, সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে।”
.
[সুনানে আবূ দাউদ, হা. ৪০৩১; মুসনাদে আহমাদ; মিশকাতুল মাসাবীহ, হা. ৪৩৪৭; সনদ সহীহ।]
.
এই হাদীসের সনদকে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) হাসান বলেছেন, ফাতহুল বারীতে। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) জায়্যিদ বলেছেন, ইক্তিযাউস সিরাতাল মুস্তাকীমে।
.
সহীহ বুখারী এবং মুসলিমের হাদীসের একটি অংশ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
.
المرء مع من أحب
.
অর্থাৎ “ব্যক্তি তার সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।”
.
খ্রিস্টানদের দিবস ভালোবেসে আপনি তাদের সাথে থাকতে চান কিনা,,,,, নিজেই সিদ্ধান্ত নিন।

ভন্ড বাঙালীয়ানা নয়, আমাদের আসল বাঙালী সংস্কৃতির খোঁজে

moktob

তিলক, ঢোলক, কল্কি, হুক্কা, বাদ্য বাজনা, মোমবাতি পূজা, আগুন পূজা, পানি পূজা, মাজার আর মিনার পূজা, দুর্গা, গনেশ, রাম, ঠাকুর, দিদি, বৌদি, বেলেল্লাপনা, পহেলা বৈশাখ, চড়ক গাছ, বৈশাখী মেলা, ইলিশ মাছ আর পান্তার প্রসাদ, হুতোম প্যাঁচা, মুখোশ, জন্মদিন, মৃত্যুদিন, থার্টি ফার্স্ট নাইট আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতি নয়।

কারণ আমাদের পূর্বপুরুষরা একদিন ঘৃণাভরে এ সংস্কৃতিকে পরিহার করেছিলেন। এগুলো সনাতন সংস্কৃতি। দু-একটি নব্য আমদানীকৃত। যেমন থার্টি ফার্স্ট নাইট।

যে সংস্কৃতি আমাদের পূর্বপুরুষরা পরিহার করেছিলেন সে সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতি হতে পারে না। আমরা আমাদের সভ্য হওয়ার বিষয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের নিকট দায়বদ্ধ।

যে সংস্কৃতি আমাদের পূর্বপুরুষরা লালন করেছেন আমরা সে সংস্কৃতিরই ধারক ও বাহক। এটাই আসল বাঙ্গালী সংস্কৃতি। আমরা পরিত্যক্ত সনাতনী সংস্কৃতি বর্জন করে আমাদের পূর্বপুরুষদের গৃহীত সংস্কৃতি লালন করতে চাই। এতেই আমাদের গর্ব। এভাবে আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের ঋণ শোধ করতে চাই।

আসল বাঙালী সংস্কৃতিঃ

কুরআন তিলাওয়াত করা, সালাত আদায় করা, পর্দা করা, সুদ ঘুষ থেকে বেঁচে থাকা, মা বাবাসহ গুরুজনদের খেদমত করা, দান সদকা করা, আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের খোঁজ খবর করা, হজ্ব করা, জানাজার নামায পড়া, জিহাদ করা, টুপী-দাড়ী রাখা, আতর লাগানো, জুব্বা পড়া এগুলো হচ্ছে আসল বাঙ্গালী সংস্কৃতি। অর্থাৎ মুসলিম চেতনা ধারণ করাই হচ্ছে মূল বাঙ্গালী সংস্কৃতি। এক হাজার বছরের পূর্বে মাটি চাপা পড়া শিরকী চেতনা মাটি খুঁড়ে বের করে আনার নাম বাঙালীয়ানা নয়। বরং শিরকের ওপর বিজয়ী ইসলামকে বরণ করার নামই বাঙালীয়ানা।

আমার বাপ-চাচাদের তুলনায় আমার দাদা বেশী ধার্মিক ছিলেন। মাটির সানকিতে হয়তো পান্তাভাত কাঁচামরিচ খেতেন ঠিকই, কিন্তু তিনি ছিলেন একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম। আমার দাদার উপরের দিকে গেলে আরো বেশী ধার্মিকতা পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের ইসলামপ্রীতি দেখি না বা অনুসরণ করি না। দেখি তাদের পান্তাভাত খাওয়া। তারা কখনো নারী-পুরুষ গায়ে পায়ে রং মেখে বেলেল্লাপনা করতেন না। তারা প্রতিদিন সকালে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। কোনদিন সুদ-ঘুষ-দুর্নীতি করাতো দূরের কথা এগুলো চিনেনও নাই। আমার দাদা তার এক ছেলেকে কুরআনে হাফেজ বানিয়েছেন। কিন্তু আমার বাপ-চাচারা তাদের কোন ছেলেকে কুরআনে হাফেজ বানায়নি। আমার দাদা-পরদাদা তারাই ছিলেন প্রকৃত বাঙ্গালী। তারা তাদের নবজাতক সন্তানদের আযানের ধ্বনির মাধ্যমে পৃথিবীতে স্বাগত জানাতেন। মুখে কথা ফুটলেই কালিমা তাইয়্যিবা শিক্ষা দিতেন। হাঁটা শিখলে মক্তবে পাঠাতেন। তারা শিরকের বিরুদ্ধে ইসলামকে জয়যুক্ত করেছিলেন। ইসলামের সূচনালগ্নেই বাঙালীরা ইসলাম কবুল করেছেন। যে মুহূর্তে তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত এসেছে তারা সত্য গ্রহণ করতে পিছপা হননি। এখনকার প্রজন্ম তাদের গৌরবময় বাঙালীয়ানা অতীত ভুলে গেছে। তারা উদ্দাম নৃত্য, মূর্তিপূজা, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার নাম দিয়েছে বাঙালীয়ানা, অথচ যা কোনদিনও বাঙালীয়ানা ছিল না।

কাফেরদের অনুসরণ

“হে ঈমান গ্রহণকারীগণ, যদি কোন ফাসেক তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসে তাহলে তা অনুসন্ধান করে দেখ। এমন যেন না হয় যে, না জেনে শুনেই তোমরা কোন গোষ্ঠীর ক্ষতি করে বসবে এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে।” (আল হুজুরাত, আয়াত ৬)

ফাসেক ব্যক্তির খবরকেও যাচাই করতে বলা হয়েছে যেন তা কোন গোষ্ঠীর ক্ষতির কারণ না হয়। ফাসেক ব্যক্তি তো মুসলমান। তাহলে কাফের ব্যক্তির খবরকে কিরূপ যাচাই করতে হতে পারে বা আদৌ তাদের খবরে বিশ্বাস করা যাবে কিনা? আর সেটা যদি হয় নিজের ক্ষতির সাথে সম্পর্কিত?

গত কয়েকশত বৎসরে আমাদের মুসলিম সমাজের এতোটাই অধঃপতন হয়েছে যে কাফেরদের দেয়া সমস্ত খবর আমরা বিশ্বাস করে বসে আছি।

কাফেররা কিছু জিনিস দেখিয়ে বলেছে এগুলো প্রযুক্তি, এর মাধ্যমে তোমার জীবনযাত্রা আধুনিক, সহজ ও সুন্দর হবে। আমরা বিশ্বাস করেছি।

কাফেররা কিছু বিধি-বিধান দেখিয়ে বলেছে এগুলো বর্তমান জমানার উপযুক্ত আইন, আমরা বিশ্বাস করেছি।

কাফেররা কিছু অভ্যাস রপ্ত করতে বলেছে, এগুলো আধুনিকতা। যেমন টাই, ডাইনিং টেবিল, শো-পিস, এটাচড টয়লেট। আমরা সেসব অভ্যাস রপ্ত করেছি।

কাফেররা কিছু স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছে, এগুলো সফলতা। যেমন নারীশিক্ষা, জন্মনিয়ন্ত্রণ, বিবাহের বয়স নির্ধারণ ইত্যাদি। আমরা সেসব স্ট্যান্ডার্ড ছুঁতে চেষ্টা করেছি, যেন সফল হতে পারি।

যখনি আমরা কাফেরদের দেয়া কোন খবর বিশ্বাস করেছি তখনই আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম) দেয়া কিছু খবরকে বাদ দিতে হয়েছে।

বিস্তারিত পড়ুন

ফতোয়া বোর্ড – ২

আগে হুজুরদের ফতোয়ার বিরুদ্ধে সেক্যুলারদের হাঁকডাক শোনা যেত। কিন্তু এখন আর সেরকমভাবে শোনা যায় না এ বিষয়টি নিয়ে। দাজ্জালী এডভান্স ফোর্স তথা ইয়াজুজ মাজুজের দল বুঝে গেছে ফতোয়ার বিরুদ্ধে শক্তিব্যয় না করে ফতোয়াকেই নিজের পক্ষে ব্যবহার করা সুবিধাজনক।

এই যেমন খবরে প্রকাশ পেল, যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসা থেকে নাকি রীতিমতো বোর্ড বসিয়ে ফতোয়া দেয়া হয়েছে সরকার থেকে যে পহেলা বৈশাখের ভাতা দেয়া হচ্ছে তা গ্রহণ করা জায়েজ। (link)

আর কি লাগে? কয়েকদিন পর যখন দাজ্জাল আসবে রুটির পাহাড় নিয়ে তখন দাজ্জালের এরকম ফতোয়া প্রয়োজন হবে মাসিহের উপঢৌকন গ্রহণ করা জায়েজ। অথচ ইমানদারদের জন্য তা গ্রহণ করা কিছুতেই জায়েজ নয়। অতঃপর কিছু মানুষ ফতোয়ার অনুসরণ করে দাজ্জালের জান্নাতে ঝাঁপ দিবে যা প্রকৃতপক্ষে জাহান্নাম।

তাই বলি, আলেম সমাজ যতদিন ইয়াজুজ মাজুজ ও দাজ্জালের সাথে সংশ্লিষ্ট বর্তমান পৃথিবীর বাস্তবতা (বা রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে শিরক) বুঝতে ব্যর্থ হবে অন্তর্দৃষ্টির অভাবের কারণে এবং বিশেষভাবে সূরা কাহাফের অনুসরণ করবে না, ততদিন তাদের ইলেম কালাম লেবাস মানুষকে সঠিক পথ দেখাবে না।

আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত যৌক্তিক কথা বলেছেন। তার সময়ে দাজ্জাল আবির্ভূত হলে তো তিনিই পুরো উম্মাহর পক্ষে দাজ্জালকে মোকাবিলা করতেন। পরবর্তী মানুষদের উচিৎ ব্যক্তিগতভাবে দাজ্জালকে মোকাবিলা করা। যা তিনি কোন ফতোয়া বোর্ডের ওপর ন্যস্ত করেননি।

‪#‎বৈশাখী_ভাতা‬

ফতোয়া বোর্ড – ১

ফতোয়া বোর্ড – ১

Pohela Boisakh Vata Fotua

যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসা থেকে নাকি রীতিমতো বোর্ড বসিয়ে ফতোয়া দেয়া হয়েছে সরকার থেকে যে পহেলা বৈশাখের ভাতা দেয়া হচ্ছে তা গ্রহণ করা জায়েজ।

আফসোস আলেম সমাজের জন্য। বনী ইসরাইলের রাবাইদের কথা মনে পরে যাচ্ছে যারা হালালকে হারাম, হারামকে হালাল ফতোয়া দিত। একেবারে বিঘতে বিঘতে অনুসরণ।

আপনারা যারা এসব ফতোয়া গ্রহণ করছেন তারা এ নিশ্চয়তাটাও নিয়ে নিবেন যে হাশরের ময়দানে তারা আপনাকে রক্ষা করতে আসবে কিনা।

মুসলমান সমাজে পহেলা বৈশাখ

Pohela Boisakh

মুসলমানদের জন্য পহেলা বৈশাখ পালন হারাম

মুসলমান সমাজে যারা পহেলা বৈশাখ পালন করে এরা আছে দুই রকমের।

(১) নাস্তিক, সেক্যুলার, মুরতাদ – পহেলা বৈশাখ সংশ্লিষ্ট এমন হারাম কাজ নেই যা এরা করে না বা সমর্থন দেয় না। এরা ইসলামের শত্রু। সমকাম ও অবৈধ কামের পক্ষের লোক। হতে পারে এদের মধ্যেই কেউ আছে আমার আপনার পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, আত্মীয়। – এদের সাথে সমস্ত রকম সম্পর্ক ছিন্ন করুন। এমন যেন না হয় যে আপনি ফেসবুকে ইভেন্ট খোলে ওদের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলছেন আবার দিনশেষে নাস্তিক সহকর্মীর সাথে এক টেবিলে খানা খাচ্ছেন। নিজ সন্তান বা আত্মীয়ের বেলায় মৌনতা অবলম্বন করছেন। এদের ওপর অতি শীঘ্র আল্লাহর গজব পড়বে। তাই এদের থেকে যেকোন উপায়ে পৃথক হয়ে যান।

(২) ফাসেক – এরা নামায পড়ে, যিকির করে, হজ্ব করে, তবলিগ করে, মাঝে মাঝে জিহাদী কথাও বলে। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ পালন করে, নারী-পুরুষ বেপর্দা চলে, সুদ-ঘুষ হারামীতে লিপ্ত থাকে। কিন্তু জিনিসটা তারা এমনভাবে করে যে মনে হয় এসব কাজগুলো খুব একটা হারাম না তবে হালালও নয়। সাংস্কৃতিক বিষয় হিসেবে করা যেতে পারে। এদের দ্বীনী কথা এতো মিষ্ট যে আমি মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে যাই। আবার তারা বৈশাখে পান্তা ইলিশও খাওয়া দাওয়া করে। মেলায় একটু ঢুঁ মেরে আসে। ঢোল তবলাওয়ালা পাঞ্জাবী পরিধান করে মসজিদেও চলে আসে। নিজেকে সংরক্ষণ বা হেফাজত করে এদের সাথে মিশা যায় কিনা তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

আপনারা বনী-ইস্রাঈলীদের মতো হবেন না, যারা নিকৃষ্ট লোকদের সৎ কাজের আদেশ করত এবং অসৎ কাজে নিষেধ করত, কিন্তু নিকৃষ্ট লোকেরা তাতে কর্ণপাত না করার পরও তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখত।

সংশোধন

হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু তায়ালা য়ানহু যখন বিয়ের মোহরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিতে চাইলেন দু’জন নারী তাৎক্ষণিক বাঁধা দিলেন। কুরআন সুন্নাহর দলিল চাইলেন। খলিফা নিজেকে সংশোধন করে নিলেন। আরেকদিন এক যুবক নাঙ্গা তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। বললেন যেদিন কুরআন সুন্নাহ মতো শাসন কার্য পরিচালনা করা হবে না সেদিন উমরের বিরুদ্ধে এই তলোয়ারই যথেষ্ট। সেদিন তাদের বাঁধা দেননি কেউ। খলিফার দরবারের কোন খাস লোক তাদের থামিয়ে দেননি, অবাঞ্ছিতও ঘোষনা করেননি। এমনকি একটা টু শব্দও করেননি।

কেউ বলেননি, আগে খলিফা উমরের মতো হও তারপর খলিফার কাজের ভুল ধরতে এসো।

এটিই ইসলামের স্পিরিট। ভুল হলে লোকমা দেওয়া। ভুলটাকে চলিয়ে নেওয়া নয়। মানুষ ভুল করবেই। কিন্তু ভুলটাকে শোধরানোর মতো পরিবেশ থাকতে হবে।

ইসলামের সবচেয়ে বড় ইবাদত নামায। নামাযে ইমাম সাহেবের ভুল হলে মুক্তাদীরা লোকমা দিবে। ইমাম সাহেবের চেয়ে ইলেম আমলে ছোট হলেও মুক্তাদীদের লোকমা দেয়ার অধিকার আছে। ইমাম সাহেবের ভুলকে চালিয়ে নিতে দেয়া হলেতো কারোই নামায হবে না।

আজকের সমাজব্যবস্থা ইহুদীদের অনুকরণে তৈরী। এখানে কারো লোকমা দেয়ার অধিকার নেই। ইহুদীদের রাবাইরা যেমন হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল বলে চালিয়ে দিত মানুষরাও তা মেনে নিত। এটাই ছিল শিরক। মানুষ ইহুদী খ্রিস্টানদের অনুসরণ করবে বিঘতে বিঘতে যদি তারা গর্তেও পৌঁছে যায়।

আজকে কেউ লোকমা দিলে লোকমা উইথড্র করার আবেদন জানানো হয়। অন্যথায় বলা হয় তুমি আমাদের অঙ্গনের কেউ নও। আমাদের নেতার বা রূহানী পিতার ভুল হলে তার জবাব তিনি দিবেন, তোমার মন্তব্য করার দরকার নেই।

এভাবে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়, এভাবে ইহুদীদের অনুসরণ করা হয়।

মুদ্রার বিপরীত পিঠের কথা হল, সংশোধনের উদ্দেশ্যে সতর্ক করুন। সমালোচনার উদ্দেশ্যে নয়। নামাযে কেউ ইমাম সাহেবের সমালোচনা করার জন্য লোকমা দেয় না, বরং নিজের নামায সহী হওয়ার জন্য লোকমা দেয়।