হিযাব

আমাদের বাসার সামনে একটি পরিত্যক্ত খানাখন্দে আশেপাশের বস্তি এলাকার ছোট ছোট পিচ্চিরা খেলা করে। গতকাল দেখলাম তিনটা মেয়ে পিচ্চি একেকটার বয়স বছর চারেক হবে অত্যন্ত পুরনো কাপড়ের হিজাব পরে খেলছিল। এতো সুন্দর লাগছিল পোলাপানগুলোরে। সাথে ক্যামেরা থাকলে হয়তো ছবি তুলতাম। বাসা থেকে দৌড়ে গিয়ে ক্যামেরা আনার চিন্তা বাদ দিলাম। কি হবে এসব জিনিস তাদের দেখিয়ে যারা এগুলোর মর্যাদা বুঝে না। এসব জিনিসতো আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে মু’মিনদের জন্য প্রশান্তি ছাড়া অন্য কিছু নয়।

Advertisements

হাঁচি

হাঁচি আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে নেয়ামত। হাঁচি উপকারী। হাঁচিতে শরীর ঝরঝরে হয়। ক্লান্তি দূর হয়। তাই হাঁচি দিলে আলহামদুলিল্লাহ বলে আল্লাহতায়ালার প্রশংসা করতে হয়। এর উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে দুয়া করতে হয়। এতে আল্লাহতায়ালার জিকির হয়। সওয়াব হয়।

হাই তোলা শয়তানের পক্ষ থেকে। এটি বিশ্রী। চেহারাকে বিকৃত করে। শরীরে অবসাদ আনে।

কিন্তু পাশ্চাত্য শয়তানী সভ্যতা আমাদের শেখায় হাঁচি খারাপ। হাঁচি লজ্জাজনক। হাঁচিতে রোগজীবানু ছড়ায়। তাই হাঁচি দিলে Sorry বলতে হবে। আর হাই তুললে মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে সবাইকে জানান দিতে হবে।

হে আল্লাহ! শয়তান তোমার নাফরমানী করতে শেখায়। আমরা শয়তানের শয়তানী থেকে তোমার কাছে পানাহ চাই।

কঠিন সময়ে

হযরত জাফর বিন আবু তালিব, আসিম বিন সাবিত, সা’দ বিন মুআয রাযিআল্লাহু য়ানহুমরা ইসলামের কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন। তাদের অনেকেরই ইসলামের সুসময় দেখার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু তারা ইসলামের সুসময়ের পথ তৈরী করে দিয়েছিলেন।

আজ আবার ইসলামের কঠিন সময়ে দীপ, রুম্মান এবং হাফেজ মাসউদরা ইসলামের সুসময়ের পথই তৈরী করছেন। তাদের কাউকে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারো ব্যাপারে নির্লিপ্ত ও কারো ব্যাপারে উন্মত্ত আমরা কি করে হতে পারি? যতদিন তাদের আলাদাভাবে দেখা হবে ততদিন হাফেজ মাসউদের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। ততদিন ৬ই মের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবেই।

থার্টি বাঁশ নাইট

পুরো বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই এক শ্রেনীর নর-নারী নির্বিশেষে রাস্তায় নেমে পরবে থার্টি বাঁশ নাইট উদযাপন করার জন্য। অধীর আগ্রহে স্বেচ্ছায় বাঁশ খাওয়ার অপেক্ষায় বসে আছে হাজার হাজার উচ্ছৃঙ্খল তরুণী। ফটকা পোলাপান, আর কিছু জোয়ান-মর্দা-বুড়া লোল ঝরাতে ঝরাতে অপেক্ষা করছে কখন আসবে সেই প্রতীক্ষীত বাঁশ বাগানের রাত। আজকে তারা সীমালঙ্ঘন করবে শহরের গলিতে গলিতে। তাদের জন্য সতর্কবানী আছে। শুনে নাও হে সীমালঙ্ঘনকারীরাঃ

“সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্টতম ঠিকানা – জাহান্নাম, সেখানে তারা প্রবেশ করবে, কত নিকৃষ্ট সে বিশ্রামস্থল! এটা সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য; সুতরাং তারা আস্বাদন করুক ফুটন্ত পানি ও পুঁজ, আরও এরূপ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি ••••”

“হে মু’মিন নারীরা, আপনারা নিকৃষ্ট নারীদের মত নন।

(১) আপনারা নিজ ঘরে অবস্থান করুন।
(২) আপনারা মূর্খদের মত নিজেদের প্রদর্শন করবেন না।
(৩) নামায আদায় করুন।
(৪) যাকাত আদায় করুন।
(৫) আল্লাহ এবং তার রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের অনুগত থাকুন।

হে ঈমানদার নারীরা, আপনারা আপনাদের দৃষ্টিকে নত রাখুন, লজ্জাস্থানের হেফাজত করুন, সৌন্দর্যকে অপ্রকাশিত রাখুন, বড় ওড়না পরিধান করুন।

আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে এই মর্মে উপদেশ দেন যেন আপনারা যথাযথভাবে পোশাক পরিধান করেন যেন আপনাদের উচ্চ মর্যাদা মানুষের পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব হয় এবং খারাপ লোকেরা আপনাদের উত্ত্যক্ত না করে।”

(বিস্তারিত দেখুনঃ সূরা নূর, সূরা আহযাব, আল কুরআন; অনুধাবন করুনঃ আল্লাহর রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবাদের জীবনাদর্শ)।

বিস্তারিত পড়ুন

ড্রিম

এই বিষয়টা খুব ইণ্টারেস্টিং। একজনের ড্রিম হল পিএইচডি করবে। তার পরিপূর্ণ যোগ্যতা আছে। পিএইচডি করলে তার অনেক লাভ। চাকরী, সম্মান এই সেই ইত্যাদি। এটা দুনিয়াবী লাভ। পিএইচডি করতে তার সময় লাগবে সাড়ে তিন বৎসর। এই তিন, সাড়ে তিন বৎসরে তাকে অনেক ফেতনার মধ্যে পড়তে হবে। বহু মানুষের গোলামী করতে হবে। বহু সালাত কাযা হবে। এর বিপরীতে লোকটা আখিরাতের লাভকে দাঁড় করিয়ে ফেলল। সে কুরআনে হাফেজ হতে পারে। সে দ্বীনের দাঈ হতে পারে। দ্বীনের আরো অনেক কিছুই সে করতে পারে। আর রিযিকের বিষয়ে সে চিন্তা করল রিযিকতো আল্লাহ তায়ালাই দিবেন। পিএইচডি করলে কি আর তার রিযিক বেড়ে যাবে নাকি? রিযিকতো তার জন্মের পূর্বেই লিখে রাখা হয়েছে। সম্মানের বিষয়েও সে একইরূপ চিন্তা করল। এভাবে দুনিয়ার প্রতিটি বিষয়কে সে আখিরাতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। ফলে আল্লাহ তায়ালা তার দুনিয়ার বিপরীতে আখিরাতকে জয়যুক্ত করেন। দুনিয়ার কাজকে ছোট করার ও আখিরাতের কাজকে বড় মনে করার তৌফিক দান করেন। আর রিযিকতো সে তা-ই পায় যা তার জন্মের পূর্বে লিখে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাকে নিজ হাত দ্বারা ধরে রাখেন যার ফলে সে কখনো বিচ্যুত হয় না। কোন মানুষের গোলামীও করতে হয় না।

আইন

১.
ঢাকা শহরে দেখলাম সিএনজিওয়ালারা এখন মিটারে চলে। কেউ কেউ মিনমিন করে বলে যে মিটারে যা দেখাবে তার থেকে ২০-৩০ টাকা বাড়িয়ে দিবেন। কেউবা আবার নিম্নস্বরে দরদাম করতে চায়। বুঝা গেল চাপে আছে বেশ। এর মধ্যেও কয়েক জায়গায় মিটারেই ভ্রমণ করলাম। বাড়তি টাকা গুণা ও দরদাম করার ঝামেলা পোহাতে হলো না বলে ভালই লাগল।

এ অবস্থা কয়দিন থাকে বোঝা ভার। কারণ চালকরা নিম্নস্বরে হলেও দরদামের প্রস্তাব দেয়। এতে রাজী না হলে গড়িমসি করে। একজনতো আমাকে ভয়ঙ্কর প্রস্তাব দিল। বলল মিটারের চেয়ে কিছু টাকা বাড়িয়ে দিবেন। কিন্তু পুলিশ কিছু জিজ্ঞাসা করলে বলবেন মিটারে যাচ্ছি। আমি বললাম বিশ পঞ্চাশ টাকার জন্য মিথ্যা কথা বলব? আখিরাতে আল্লাহর কাছে কি জবাব দিব?

কোন কোন ক্ষেত্রে হয়তোবা যাত্রীই নিরুপায় হয়ে প্রস্তাব দিবে, ভাই বিশটা টাকা বেশি রাখেন, তাও চলেন।

মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে আইন তৈরী করছে। প্রয়োজনে একটু গড়মিল হলেই আইন ভাঙছে।

২.
যেদিন মদ্যপান হারাম করা হলো সেদিন মদিনা মুনাওয়ারার মরুময় রাস্তায় মদ ভেসে যাচ্ছিল। মদ যার ঠোঁট স্পর্শ করেছিল তার জিভ স্পর্শ করেনি। একজন সাহাবী (রাযি) ব্যবসার জন্য মদের চালান এনেছিলেন। পুরো চালান ফিরিয়ে দেননি, ধ্বংস করে দিলেন।

একজন মহিলা সাহাবী (রাযি) ভুলক্রমে জিনা করে বারবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পবিত্র হওয়ার জন্য আসছেন। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আসছেন। আইনের ফাঁকফোকড় গলে বের হয়ে যেতে চাননি।

রাহমানের বান্দা ও দাজ্জালের অনুসারীদের পার্থক্য এখানেই। রাহমানী আইনের জয় ও দাজ্জালী আইনের পরাজয়ের মূলেও এটাই। হাজার হাজার আইন বানিয়েও মানবাধিকার রক্ষা পাবেনা যে পর্যন্ত না মানুষ রাহমানী আইনের দিকে ফিরে আসে।

সময় মাত্র ৭২ ঘন্টা

মানুষ এমনভাবে দুনিয়ায় বাঁচে যে সে কখনো এখান থেকে যাবে না।

মানুষ এমনভাবে দুনিয়া থেকে চলে যায় যে সে কখনো এখানে ছিলই না।

•••••

এক ব্যক্তি মারা গেলেন। তারা স্ত্রী রীতিমত বেহুঁশ। তখন আমার এক কলিগ ঐ মহিলাকে দেখিয়ে আমাকে বললেন, ৭২ ঘণ্টা পাস হতে দেন। তারপর দেখবেন সে মৃত্যুশোক ভুলে গেছে। মানুষের মৃত্যুশোক ভুলতে লাগে ৭২ ঘণ্টা।

•••••

আমি কেন দুনিয়ায় এটা সেটা করছি। কিসের আশায়? সবাই আমাকে ভুলে যাবে। আমার মৃত্যুর মাত্র ৭২ ঘণ্টা পর। আর আমার রেখে যাওয়া সার্টিফিকেট পুরনো কাগজের গাট্টিতে ফেলে দেয়া হবে। পরিধানের কাপড়গুলো পোটলা বানিয়ে কাউকে দিয়ে দেয়া হবে। আর পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে সম্ভবতঃ কাউকে কাউকে ঠকানো হবে।

•••••

তাই আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করাই উত্তম। তাহলে আর শয়তানকে ভয় পাওয়ার লাঞ্ছনায় যেতে হবে না।