বিয়ের সময় আইশা (রাঃ) এর বয়স ৬/৯ বছর হবার বর্ণনাটি ভুল, তার প্রকৃত বয়স ছিল ১৯ বছর।

“বিয়ের সময় আইশা (রাঃ) এর বয়স ৬/৯ বছর হবার বর্ণনাটি ভুল, তার প্রকৃত বয়স ছিল ১৯ বছর।” আলহামদুলিল্লাহ, একটি চমৎকার গবেষণামূলক রচনা। লিখেছেন ঘুম ভাঙাতে চাই, যিনি, মাশাআল্লাহ অনেকদিন যাবত ইসলামিক ইস্কেটোজির চর্চা করছেন। ব্লগে লেখালেখি করেন। তিনি এ রচনায় গবেষণার মূলনীতি অনুসরণ করেছেন। কুরআন দিয়ে, আরও অন্যান্য হাদিস দিয়ে এবং রিজালশাস্ত্র দিয়ে আইশা (রাযি) বিয়ের বয়সের ৬ বৎসরের বর্ণনার সত্যাসত্য যাচাই করেছেন। যেখানে প্রথাগত আলেমরা বোখারী শরীফে বা মুসলিম শরীফে কোন বর্ণনা থাকলেই তাকে যেন কুরআনের বর্ণনার উপরে প্রাধান্য দেয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না, ফলে মুসলিম সমাজ নানা রকম জ্ঞান সংশ্লিষ্ট জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে, যেমন নাস্তিক ও সেকুলারদের জ্ঞানভিত্তিক উপযুক্ত জবাব দিতে, আবার বর্তমান জমানাকে কুরআন হাদিস অনুযায়ী ব্যাখ্যা করতেও তাদের ইচ্ছা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ জ্ঞানের ধারাকে প্রবাহিত রেখেছেন। ইসলামিক ইসকেটোলজির চর্চা এ জন্যই আজ অনুসন্ধিৎসু মানুষের মনের দুয়ারে কড়া নাড়তে সক্ষম হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বোনকে জাযাখায়ের দান করুন। গবেষণা শুদ্ধ হলে দ্বিগুণ সওয়াব ও ভুল হলে ক্ষমা ও এক নেকী হলেও দান করুন। আল্লাহুম্মা ছাল্লি য়া’লা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া য়া’লা আলিহী ওয়া আসহাবিহী ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম।

https://goo.gl/SxnH8m

ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য সতর্কবাণী

ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য সতর্কবাণী

ইহা  প্রকৃতপক্ষেই  একটি  বিস্ময়কর  ব্যাপার  যাহা  আজকে  আমরা  আলোচনা  করিতে  nurul islam faruqi 6janazaবসিয়াছি  ভারত,  পাকিস্তান,  বাংলাদেশ,  কাশ্মিরে  ইসলামের  ভবিষ্যত ।  মুসলমানদের  ভবিষ্যত  নয়,  পাকিস্তানীদের  ভবিষ্যত  নয়,  বাংলাদেশীদের  ভবিষ্যত  নয়  বরং  এই  অঞ্চলে  ইসলামের  ভবিষ্যত ।  এমন  একটি  সময়ে  যখন  পৃথিবীতে  অনেক  আশ্চর্যজনক  ঘটনা  সংঘটিত  হইতেছে ।  বর্তমানে  খুবই  অশুভ,  দুর্ভাগ্যজনক,  বিপদজনক  ঘটনা  ঘটিতেছে ।  আমরা  বর্তমানে  ইতিহাসের  সবচাইতে  বিপজ্জনক  ক্রান্তিলগ্নের  মুখোমুখি  আসিয়া  দাঁড়াইয়াছি ।  একইভাবে  সংঘটিত  হইয়াছিল  একশ  বছর  আগে  প্রথম  বিশ্বযুদ্ধ ।  একইভাবে  সংঘটিত  হইয়াছিল  দ্বিতীয়  বিশ্বযুদ্ধ  আজ  থেকে  সত্তর  বছর  আগে ।  আমরা  বর্তমানে  সেই  সময়ের  মুখোমুখি  দাঁড়াইয়া  আছি  যখন  সংঘটিত  হইবে  বিশ্বযুদ্ধসমূহের  বিশ্বযুদ্ধ ।  যেই  সম্পর্কে  মহানবী (সাঃ)  ভবিষ্যতবাণী  করিয়া  গিয়াছেন ।   তিনি   বিশ্বযুদ্ধ  বলেন  নাই ।  কিন্তু  পাকিস্তানের  রাজনীতিবিদগণ,  বাংলাদেশের  রাজনীতিবিদগণ  এবং  ভারতের  রাজনীতিবিদগণ  এই  বিষয়টি  অধ্যয়ন  করেন  না ।  রাজনীতিবিদগণ  এই  বিষয়টিতে  পড়াশোনা  করেন  না ।  তিনি  ইহাকে  বিশ্বযুদ্ধ  বলেন  নাই ।  তিনি  ইহাকে  কি  বলিয়াছেন ?  তিনি  বলিয়াছেন  মালহামা (মহাযুদ্ধ / বিশাল  যুদ্ধ) ।  সুতরাং  প্রথম  বিশ্বযুদ্ধ  এবং  দ্বিতীয়  বিশ্বযুদ্ধ  ছিল  তাহার  প্রস্তুতিস্বরূপ  যাহা  বর্তমানে  আসিতেছে (অর্থাৎ  তৃতীয়  বিশ্বযুদ্ধ) ।  সারা  বিশ্বেই  ইহার  প্রভাব  পড়িবে ।  কিন্তু  ইহার  সর্বাধিক  প্রভাব  পড়িবে  ভারত,  পাকিস্তান  এবং  বাংলাদেশে ।  সম্ভবতঃ  আগামী  কয়েক  মাসের  মধ্যেই  ইসরাঈল  এসব  যুদ্ধ  শুরু  করিবে ।  ইহা  আরম্ভ  হইতে  পারে  চারটির  মধ্যে  যে-কোন  একটি  টার্গেটকে  লক্ষ্য  করিয়া ।  ইহা  ইতিমধ্যেই  আপনারা  জানিতে  পারিয়াছেন ।  ইহা  হইতে  পারে  পাকিস্তান  এবং  পাকিস্তানীরা  বিষয়টি  জানে ।  এই  কারণে  ইসরাঈলী  মোসাদ  এবং  সিআইএ  যৌথভাবে  আমেরিকায়  নাইন-ইলাভেনের  সন্ত্রাসী  হামলা  চালায় ।  কেন ?  কারণ  তাহারা  চাহিয়াছে  আফগানিস্তানের  ঘাটি  গাড়িবার  একটি  অজুহাত ।  যাহাতে  তাহারা  আফগানিস্তানে  হাজার  হাজার  সৈন্য  পাঠাইতে  পারে ।  যাহাতে  তাহারা  আফগানিস্তানের  ঘাটি  থেকে  পাকিস্তানে  অস্থিতিশীলতা  সৃষ্টি  করিতে  পারে ।  রাজনীতিবিদরাই  কেবল  বিষয়টি  বুঝিতে  পারেন  না  কিন্তু  অন্য  সবাই  বুঝিতে  পারে ।  কারণ  একজন  রাজনীতিবিদ  যদি  বলেন  যে,  ইসরাঈলী  মোসাদ  নাইন  ইলাভেন  ঘটাইয়াছে,  তবেই  কারবার  শেষ ।  তাহার  রাজনীতির  পেশার  পরিসমাপ্তি ।  যায়োনিষ্টরা  আর  তাহাকে  সমর্থন  করিবে  না,  যায়নবাদিরা  তাহাকে  খতম  করিয়া  ফেলিবে ।  কাজেই  রাজনীতিবিদরা  জানে  কোথা  হইতে  তাহাদের  অজিফা  আসে,  তাহারা  ভালো  করিয়াই  জানে  কি  বলা  যাইবে  আর  কি  বলা  যাইবে  না ।  সুতরাং  পাকিস্তানের  উপর  আক্রমণের  প্রস্তুতি  শুরু  হইয়াছে  নাইন  এলাভেন  থেকে,  এখন  থেকে  দশ  বছর  পূর্বে ।  আর  পাকিস্তানে  হামলার  উদ্দেশ্য  হইল  পাকিস্তানের  পারমাণবিক  স্থাপনা  এবং  পারমাণবিক  বোমাগুলি  ধ্বংস  করা ।  কেন  ?  কারণ  ইসরাঈল  চায়  সারা  পৃথিবী  শাসন  করিতে ।  যে  কেউ  কোরআন  এবং  হাদীস  সঠিকভাবে  অধ্যয়ন  করেন,  তিনি  অবশ্যই  বিষয়টি  জানেন ।  আমরা  এই  বিষয়টিকে  বলিয়া  থাকি  দাজ্জালের  কাহিনী ।  আপনারা  নিশ্চয়  আমার  “পবিত্র  কোরআনে  জেরুজালেম”  বইটি  অধ্যয়ন  করিয়াছেন ।  আপনি  পড়েন  নাই ?  ইহা  ইংরেজিতে  পাওয়া  যায়,  ইন্দোনেশিয়ান  ভাষায়  পাওয়া  যায়  (বাংলাতেও  পাওয়া  যায়) ।  আপনাদের  জন্য  আরেকটি  সুসংবাদ  আছে ।  এখন  আমার  সামনে  বসিয়া  আছেন  একজন  তরুণ  ইমাম,  যিনি  তামিল  ভাষায়  ইহার  অনুবাদ  প্রায়  শেষ  করিয়া  আনিয়াছেন ।  আল্লাহ  এই  ইমামের  ওপর  রহমত  নাজিল  করুন ।  কাজেই  শীঘ্রই  আপনারা  “পবিত্র  কোরআনে  জেরুজালেম”  এর  তামিল  অনুবাদ  পাইয়া  যাইবেন ।

আগামীতে  অর্থাৎ  আজ  থেকে  বিশ  বছর  পরে  জেরুজালেম  থেকে  এক  ব্যক্তি  ঘোষনা  করিবে  “আমিই  সেই  প্রতিশ্রুত  ম্যাসাইয়্যাহ /  মাসিহ” ।  কিন্তু  আমরা  জানি  যে,  মেসাইয়া  হইলেন  মরিয়ম  পুত্র  ঈশা  (আঃ)  অর্থাৎ  জেসাস ।  তাহলে  এই  ব্যক্তি  কে ?  হ্যাঁ,  সে  হইল  দাজ্জাল ।  কিন্তু  “আমিই  সেই  প্রতিশ্রুত  মেসাইয়্যা”  ঘোষণা  করিবার  জন্য  প্রথমে  তাহাকে  ইসরাঈলকে  পৃথিবীর  একমাত্র  সুপারপাওয়ার  হিসাবে  প্রতিষ্টিত  করিতে  হইবে ।  তারপর  সে  পৃথিবী  শাসন  করিবে  এবং  ঘোষণা  করিবে  যে,  “আমিই  সেই  প্রতিশ্রুত  ম্যাসাইয়্যা” ।  এই  বিষয়টি  আপনারা  ইতিমধ্যেই  বুঝিতে  পারিয়াছেন ।  কিন্তু  ইসরাঈলকে  পরাশক্তি  হওয়ার  জন্য  প্রথমে  তাহাকে  একটি  মহাযুদ্ধ / বিশ্বযুদ্ধ  সংঘটিত  করিতে  হইবে ।  ইহাই  হইল  মালহামা  যাহা  আসিতেছে ।  তবে  ইজরাঈল  ততদিন  পর্যন্ত  বিশ্বযুদ্ধের  সূচনা  করিতে  পারিবে  না  যতদিন  পর্যন্ত  মুসলমানদের  হাতে  এমন  অস্ত্র  থাকিবে  যাহা  দিয়া  তাহারা  ইসরাঈলের  অস্তিত্বের  জন্য  সত্যিকারের  হুমকি  সৃষ্টি  করিতে  পারে  অর্থাৎ  পারমাণবিক  বোমা ।  সুতরাং  কোন  মুসলিম  দেশের  এটম  বোমা  থাকিতে  পারিবে  না ।  ইহা  হইল  ইসরাঈলের  নতুন  ধর্ম,  যায়োনিষ্টদের  নতুন  ধর্ম ।  কোন  মুসলিম  দেশের  পারমাণবিক  অস্ত্র  থাকিতে  পারিবে  না  যাহা  দ্বারা  তাহারা  ইসরাঈলের  প্রতি  হুমকি  সৃষ্টি  করিতে  পারে ।  কিন্তু  পাকিস্তানের  পারমাণবিক  অস্ত্র  আছে ।  জুলফিকার  আলী  ভুট্টোকে  ধন্যবাদ  যিনি  অনেক  খারাপ  কাজ  করিয়াছেন  কিন্তু  এই  একটি  কাজ  ভালো  করিয়াছেন ।  মরহুম  জিয়াউল  হককে  ধন্যবাদ  যিনি  কিছু  খারাপ  কাজ  করিয়াছেন  কিন্তু  এই  কাজটি  ভালো  করিয়াছেন ।  আলহামদুলিল্লাহ,  তিনি  ঈমানদার  হিসাবে  মৃত্যুবরণ  করিয়াছেন  শাহাদাত  লাভ  করিয়াছেন।  এদের  ছাড়াও  আরো  অনেকে  আছেন  যাহারা  পাকিস্তানকে  পারমাণবিক  ক্লাবের  সদস্য  করিতে  ভূমিকা  রাখিয়াছেন ।

পাকিস্তানের  নিউক্লিয়ার  প্লান্ট  এবং  পারমাণবিক  অস্ত্রগুলি  ধ্বংস  করিবার  জন্য  হামলা  করিবার  পূর্বে  প্রথমে  আপনাকে  পাকিস্তানকে  ভেঙ্গে  টুকরা  টুকরা  করিতে  হইবে  যেন  পাকিস্তান  আর  উঠিয়া  দাঁড়াইতে  না  পারে ।  কিন্তু  এই  কাজ  কে  করিবে  পাকিস্তানকে  টুকরা  টুকরা  করিবার  কাজ ?  কেননা  পাকিস্তানীরা  ইহাতে  ভীষণ  ক্রুদ্ধ  হইবে ?  এই  বিষয়টি  বুঝিবার  জন্য  আপনাকে  পিএইচডি  করিবার  দরকার  নাই ।  দরকার  আছে  কি ?  বর্তমান  দুনিয়ায়  যুক্তরাষ্ট্রের  পরে  ইসরাঈলের  সবচাইতে  বড়  সামরিক  কৌশলগত  বন্ধু  সহযোগী  হইল  ভারত ।  ইন্ডিয়ান  ন্যাশনাল  কংগ্রেসের  অধীনে  ইন্ডিয়া  ছিল  ধর্মনিরপেক্ষ  ইন্ডিয়া ।  কিন্তু  এখন  ইন্ডিয়া  হিন্দু  ইন্ডিয়াতে  পরিণত  হইয়াছে ।  গান্ধীর  হিন্দু  ইন্ডিয়া  নয়,  ভিন্ন  ধরনের  হিন্দু  ইন্ডিয়া ।  এই  হিন্দু  ভারত  যোগ  দিবে  ইজরাঈলের  সাথে  সামরিক  সম্পর্কে ।  সুতরাং  পাকিস্তানের  পারমাণবিক  স্থাপনা  এবং  নিউক্লিয়ার  অস্ত্রগুলি  ধ্বংস  করিতে,  পাকিস্তানকে  বিনাশ  করিতে  এবং  পাকিস্তানকে  টুকরা  টুকরা  করিবার  প্রচেষ্টায়  ভারত  পালন  করিবে  সবচাইতে  গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা  ।  আমি  বিশ্বাস  করি  যে,  ভারতীয়  মুসলমানরা  বিষয়টি  জানে ।  সুতরাং  ইহা  হইল  সেই  সম্ভাব্য  যুদ্ধ  যাহা  আসিতেছে ।  দ্বিতীয়তঃ  হইল  ইরানের  ওপর  হামলা ।  আপনার  বলিতে  হইবে  না  যে,  ইরানীরা  শিয়া  আর  আমরা  সুন্নী ।  আমি  ইহা  জানি ।  কিন্তু  আপনি  যদি  বলেন  যে,  শিয়ারা  কাফের  তবে  আমি  আপনার  সাথে  একমত  নই ।  সেটা  আপনার  মতামত  আমার  নয় ।  কিন্তু  তাহারা  যখন  ইরানে  হামলা  করিবে,  তাহা  কেবল  পারমাণবিক  অস্ত্রের  সম্ভাব্য  হামলার  ভয়ে  হইবে  না ।  তাহাদের  আরেকটি  টার্গেট  আছে  আর  তাহা  হইল  ইরানের  শাসকগোষ্টী  পরিবর্তন  করা ।  কারণ  ইরানের  বর্তমান  শাসকরা  ইসরাঈলের  সামনে  নত  হইতে  রাজী  নয় ।  গাদ্দাফীর  অধীনে  লিবিয়া  কখনও  ইজরাঈলের  সামনে  মাথানত  করে  নাই ।  তুমি  যদি  ইসরাঈলের  সামনে  মাথানত  না  করো  তবে  আমরা  তোমার  বিরুদ্ধে  কিছু  নির্বোধ  মোজাহিদ  প্রেরণ  করিব ।  কিছু  নির্বোধ  যাহারা  নিজেদেরকে  বলে  মোজাহেদীন ।  তোমরা  মোজাহেদিন  নও  তোমরা  বোকা ।  আমি  তাহাদেরকে  বলিয়াছি  তোমরা  মোজাহিদ  নও  তোমরা  নির্বোধ ।  কারণ  কোরআন  তোমাদেরকে  নিষেধ  করিয়াছে  ইহুদী-খ্রীষ্টানদের  জোটের  সাথে  যোগদান  করিতে  যাহা  বর্তমানে  যায়োনিষ্ট  জোট  ন্যাটো ।  যদি  তোমরা  তাহা  কর  তবে  আল্লাহ  বলিয়াছেন  “তোমরা  যাহাদের  সাথে  যোগদান  করিবে  তোমরা  তাহাদের  অন্তর্ভূক্ত  গণ্য  হইবে”  অর্থাৎ  তোমরা  ইসলাম  থেকে  বহিষ্কৃত  হইবে ।  লিবিয়া  যেহেতু  ইসরাঈলের  কাছে  মাথা  নত  করিতে  রাজী  হয়  নাই,  এজন্য  তাহারা  লিবিয়া  আক্রমণ  করিয়াছে ।  এবং  যেহেতু  ইরান  মাথা  নত  করিতে  ইচ্ছুক  নয়  ইজরাঈলের  কাছে,  সেজন্য  তাহারা  ইরানে  হামলা  করিবে ।  ইরানে  আক্রমণের  উদ্দেশ্য  হইবে  শাসকগোষ্টি  বা  শাসনব্যবস্থা  পরিবর্তন  করা,  যাহাতে  ইরানে  একটি  নতুন  সরকার  ক্ষমতা  গ্রহন  করিবে  যেমনটা  আছে  সৌদী  আরবে ।  যাহাকে  বলা  হয়  এমেরিকান  কিংডম  অব  সৌদী  এরাবিয়া,  নির্লজ্জ  আমেরিকান  কিংডম  অব  সৌদী  অ্যারাবিয়া  যাহারা  যায়োনিষ্টদের  সাথে  জোট  বাধিয়াছে ।  যাহারা  সৌদী  আরবের  নিয়ন্ত্রণ  নিয়া  সেখানে  ইসরাঈলের  সবচেয়ে  বড়  সামরিক  সহযোগীর  ভূমিকায়  অবতীর্ন  হইয়াছে ।   ধিক্কার  জানাই  তোমাদের !  কাজেই  ইরানেও  তাহারা  ইহা  করিতে  চায় ।  ইরানের  এই  সরকারকে  উৎখাত  করা  এবং  তাহার  বদলে  বন্ধুভাবাপন্ন  সরকারকে  প্রতিষ্টা  করা ।  আর  তখনই  নবী  করিম (সাঃ)  এর  ভবিষ্যতবাণী  বাস্তবায়িত  হইবে ।  হাদীসটি  আপনারা  জানেন,  “(ইরানের)  ইস্ফাহানের  সত্তর  হাজার  ইহুদী  দাজ্জালের  দলে  যোগ  দিবে” ।  কিন্তু  ইরানের  বর্তমান  সরকারের  আমলে  তাহা  হইবে  না ।  তৃতীয়  সম্ভাব্য  যুদ্ধক্ষেত্র  হইবে  সিরিয়া ।  কারণ  তাহারা  সিরিয়াতে  কেবল  শাসকগোষ্ঠি  পরিবর্তন  করিতে  চায়  না,  যেমনটা  তাহারা  করিয়াছে  লিবিয়াতে,  সিরিয়াতে  একটি  বন্ধুভাবাপন্ন  সরকার  প্রতিষ্টা  করা,  নাহ  তাহারা  তাহার  চাইতেও  বেশী  কিছু  করিতে  চায় ।  ইসরাঈল  হইল  রাশিয়ার  সহযোগী  বা  বন্ধু  ।  আপনারা  যদি  আমার  “আধুনিক  বিশ্বে  ইয়াজুজ-মাজুজ”  বইটি  পড়িয়া  থাকেন  তবে  ইয়াজুজ  মাজুজ  সম্পর্কে  জানিতে  পারিবেন ।  রাশিয়া  এবং  তাহার  সহযোগিরা  (চীন)  হইল  মাজুজ ।  আমেরিকা  এবং  ব্রিটিশ  জোট  হইল  ইয়াজুজ (ন্যাটো) ।  সুতরাং  ইয়াজুজ  মাজুজের  যুদ্ধ  আসিতেছে ।  আর  ইহা  হইবে  পারমাণবিক  যুদ্ধ ।  আজ  থেকে  আনুমানিক  বিশ  বছর  পরে  যখন  যুদ্ধ  শেষ  হইবে  মানবজাতির  ক্ষুদ্র  একটি  ভগ্নাংশ  মাত্র  তখন  বাঁচিয়া  থাকিবে ।  এই  কথা  একমাত্র  ইসলামী  বিশেষজ্ঞরা  বলিতে  পারেন ।  কেননা  আমরা  পড়িয়াছি  কোরআন  এবং  মোহাম্মদ (সাঃ)-এর  বাণী ।  সিরিয়াতে  আছে  রাশিয়ার  একটি  নৌ  ঘাটি ।  ইহা  ভূমধ্যসাগরে  রাশিয়ার  একমাত্র  নৌঘাটি ।  কাজেই  আপনি  যদি  সিরিয়ার  শাসকগোষ্ঠি  পরিবর্তন  করিতে  চান,  তবে  রাশিয়ার  কাছ  থেকে  ভয়াবহ  ঘুষি  খাইবেন ।  আপনাকে  চীনের  সাথেও  মোকাবিলা  করিতে  হইবে ।

সুতরাং  আমাদের  সামনে  সম্ভাব্য  তিনটি  যুদ্ধ  ক্ষেত্র  বিদ্যমান – পাকিস্তান,  ইরান  এবং  সিরিয়া ।  আর  চতুর্থ  যুদ্ধক্ষেত্র  সম্ভবত  মিশর ।  কারণ  মিশরের  ভূখন্ডের  একটি  অংশ  ইজরাঈল  দখল  করিতে  চায় ।  ইহার  কারণ  তাওরাত  কিতাবে  কেউ  একজন  লিখিয়া  দিয়াছে  যে,  পবিত্র  ভূমি  নীল  নদী  থেকে  ফোরাত  নদী  পর্যন্ত  বিস্তৃত ।  অর্থাৎ  নীল  নদের  পাদদেশ  হইতে  লোহিত  সাগর  পর্যন্ত  ভূখন্ডের  মালিক  হইল  ইসরাঈল ।  কাজেই  আমরা  আশা  করিতেছি  আগামী  কয়েক  মাসের  মধ্যেই  মহাযুদ্ধ  শুরু  হইবে ।  এই  ব্যাপারে  ইসলামিক  মনীষীদের  প্রস্তুত  থাকা  উচিত।  আগামীকাল  যদি  পাকিস্তানের  পারমাণবিক  স্থাপনা  এবং  পারমাণবিক  অস্ত্র  ধ্বংস  করিবার  এবং  পাকিস্তানকে  টুকরা  টুকরা  করিবার  প্রচেষ্টা  ভারত  শুরু  করে,  তখন  মুসলিম  আলেমদের  ভূমিকা  কি  হইবে  তাহা  স্থির  করা  প্রয়োজন ।  ইহা  হইল  বর্তমানে  আমাদের  সামনে  আগত  সবচাইতে  জটিল  মুহূর্ত ।  আগামীকাল  আমরা  দেখিতে  পাইব  ইহা  কেবল  সামরিক  হুমকি  নয়,  সাথে  সাথে  রাজনৈতিক  এবং  অর্থনৈতিক  হুমকিও  বটে ।  কাগজের  মুদ্রা  বিলুপ্ত  হইতেছে  এবং  তাহার  বদলে  কেবলমাত্র  ইলেকট্রনিক  মুদ্রা  চালু  হইতেছে ।  আপনারা  তখন  ইলেকট্রনিক  অর্থব্যবস্থার  কারাগারে  বন্দি  হইয়া  পড়িবেন ।  পরিস্থিতি  মোকাবেলা  এবং  আমাদের  ভবিষ্যত  করণীয়  নির্ধারনে  আমরা  এখন  ইতিহাসে  ফিরিয়া  যাইব,  অতীতে  মারাত্মক  যত  ভুল  করা  হইয়াছে  তাহা  সনাক্ত  করিবার  জন্য ।  যখন  আমরা  উপলব্ধি  করিতে  পারিব  এবং  সনাক্ত  করিতে  পারিব  ভারত  ভাগ  হওয়ার  সময়,  যখন  ব্রিটেন  তাহার  উপনিবেশ  ত্যাগ  করিয়া  যায়,  আমাদের  মারাত্মক  বিপর্যয়সমূহ  যখন  পাকিস্তানের  অভ্যুদয়  ঘটে,  তারপর  যখন  বাংলাদেশের  জন্ম  হয়,  বিশেষত  ভারতীয়  মুসলমানদের  জন্য  ভবিষ্যত  করণীয়  নির্ধারনে ।  ইসলাম  পৃথিবীকে  একটি  রাজনৈতিক  ব্যবস্থা  উপহার  দিয়াছে,  কিন্তু  ইহা  মহানবী  হযরত  মোহাম্মদ (সাঃ)-এর  আমলে  প্রথম  আসে  নাই ।  বরং  ইহার  প্রথম  সূচনা  হয়  আল্লাহর  নবী  হযরত  দাউদ (আঃ)-এর  আমলে,  নবী  হযরত  সোলায়মান (আঃ) এর  পবিত্র  রাষ্ট্র (খিলাফাহ)  ইজরাঈলে ।  সেই  পবিত্র  ইজরাঈল  রাষ্ট্র  আল্লাহর  কর্তৃত্বকে  সর্বোচ্চ  বা  সার্বভৌম  বলিয়া  স্বীকার  করিত,  আল্লাহর  আইনকে  সর্বোচ্চ  আইন  বলিয়া  স্বীকার  করিত ।  ইন্ডিয়া,  পাকিস্তান,  বাংলাদেশ  অর্থাৎ  দক্ষিণ  এশিয়া  ছিল  মোগল  শাসনের  অধীনে ।  যেভাবে  তুরষ্ক  এবং  আরব  দেশগুলি  ছিল  উসমানী  খেলাফতের  অধীনে ।  এগুলো  ছিল  রাজতন্ত্র  কিন্তু  তাহারা  ইসলামের  কিছু  অনুশাসন  মানিয়া  চলিত ।  অর্থাৎ  ইসলামের  খোলস  অর্থাৎ  খিলাফাহর  খোলসটা  সেখানে  ছিল ।  তারপর  ব্রিটিশ  সেনাবাহিনী  ফ্রান্স  এবং  জার্মান  সেনাবাহিনীর  সাহায্যে  ইসলামী  বিশ্বকে  দখল  করিল,  উপনিবেশ  কায়েম  করিল ।  ফলে  মুসলিম  ভারত  বর্তমানে  ব্রিটিশ  শাসনের  অধীনে,  কত  দিন  হবে,  প্রায়  দেড়শ  থেকে  দুইশ  বছরের  জন্য ।  ইহা  কি  কোন  দূর্ঘটনাক্রমে  ঘটিয়াছে ?  নাহ,  ইহা  ছিল  দাজ্জালের  পরিকল্পনা ।  কারণ  দাজ্জাল  চাহিয়াছিল  পরিবর্তন  সাধন  করিতে ।  দাজ্জাল  চাহিয়াছিল  তাহার  পরিকল্পনা  মতো  মুসলিম  বিশ্বকে  নতুন  রাজনৈতিক  ব্যবস্থায়  বন্দি  করিতে ।  কাজেই  ব্রিটেনের  যখন  ভারত  ত্যাগের  সময়  আসিল  তাহা  কোন  দুর্ঘটনাক্রমে  ঘটে  নাই ।  ব্রিটেন  ভারতীয়  উপনিবেশ  ছাড়িয়া  দিতে  চাহিল  কিন্তু  একটি  শর্তে ।  অর্থাৎ  তাহারা  ভারতকে  যেই  অবস্থায়  ত্যাগ  করিয়া  গিয়াছে  তাহা  হইবে  ইউরোপীয়ান  রাজনৈতিক  ব্যবস্থার  একটি  কার্বন  কপি ।  সুতরাং  আপনি  বলিতে  পারেন,  পাকিস্তান  মানে  কি ?  লা  ইলাহা  ইল্লাল্লাহ ।  কিন্তু  আমি  জানিতে  চাই  দাজ্জাল  কেন  আম  গাছের  পেছনে  দাঁড়াইয়া  মুচকি  হাসিতেছে ?  সে  খুবই  আনন্দিত,  কেন ?  তুমি  কি  বুঝিতে  পারিতেছ  না  হাদা  কোথাকার !  তুমি  ইসলামী  রাষ্ট্রব্যবস্থা  ত্যাগ  করিয়াছ,  তুমি  খিলাফাহ  পরিত্যাগ  করিয়াছ ।  তাহার  পরিবর্তে  তুমি  আধুনিক  রাষ্ট্রব্যবস্থাকে  গ্রহন  করিয়াছ  যাহার  আবির্ভাব  ঘটিয়াছে  ইউরোপে ।  ইউরোপের  আধুনিক  রাষ্ট্রব্যবস্থা  যাহা  ঘোষণা  করে  যে,  আল্লাহ  আর  সর্বোময়  ক্ষমতার  অধিকারী  নয়  বরং  রাষ্ট্রই  এখন  সর্বোময়  ক্ষমতার  অধিকারী ।  ইহাই  তো  শিরক  !  আল্লাহ  এখন  আর  সর্বশ্রেষ্ট  নয়  বরং  রাষ্ট্রই  সর্বশ্রেষ্ট !  ইহাই  তো  শিরক !  আল্লাহর  আইন  এখন  আর  সর্বোচ্চ  আইন  নয়  বরং  রাষ্ট্রের  আইনই  এখন  সর্বোচ্চ  আইন ।  ইহাই  তো  শিরক !  কেন  কেন  কেন  ডঃ  মোহাম্মদ  ইকবাল  ইহা  বুঝিতে  পারিলেন  না ?  কেন  কেন  কেন  মোহাম্মদ  আলী  জিন্নাহ  বিষয়টি  বুঝিতে  পারিলেন  না ?  দয়া  করিয়া  পড়িবেন  বাহিরে  আমার  লেখা  ছোট্ট  একটি  বই  আছে,  “ইকবাল  এন্ড  পাকিস্তান  –  মোমেন্ট  অব  ট্রুথ”।  ডঃ  ইকবাল  একজন  বড়  মাপের  পন্ডিত  ব্যক্তি  এবং  তাঁহার  প্রতি  আমার  সুগভীর  শ্রদ্ধাবোধ  রহিয়াছে ।  কিন্তু  আমি  যখন  তাঁহার  সম্পর্কে  কোন  সমালোচনামূলক  উক্তি  করি,  তাহাতে  তাঁহার  মর্যাদা  হ্রাস  পায়  না,  তারপরও  তিনি  আমার  দৃষ্টিতে  একজন  বিশাল  মনিষীরূপেই  থাকিয়া  যান ।

ধর্মনিরপেক্ষ  আধুনিক  রাষ্ট্রের  ত্রুটিসমূহ  বুঝিতে  না  পারিবার  ব্যর্থতার  দায়ভারের  অধিকাংশ  ইকবালের  কাধেই  চাপাইতে  হইবে ।  আধুনিক  ধর্মনিরপেক্ষ  রাষ্ট্র  ব্যবস্থা  যাহা  ইউরোপ  থেকে  আসিয়াছে  যাহাকে  তুরষ্কের  মোস্তফা  কামাল  গ্রহন  করিয়াছিল  ১৯২২  সালে ।  আল্লামা  ইকবাল  তাঁহার  “রিকন্সট্রাকশান  অব  রিলিজিয়াস  থট”  পুস্তকে  লিখিয়াছেন  যে,  “আধুনিক  গণতান্ত্রিক  রাষ্ট্রের  পার্লামেন্ট  খিলাফাহর  উপযুক্ত  বিকল্প” ।  ইকবাল  ইহা  কি  বলিলেন ?  ইহা  তো  একেবারেই  ফালতু  কথা ।  আধুনিক  প্রজাতান্ত্রিক  রাষ্ট্রের  নির্বাচিত  সংসদ  খিলাফতের  যথাযোগ্য  প্রতিস্থাপন ?  এটা  তো  ফালতু  কথা ।  ‍কিন্তু  যেহেতু  ইকবালের  ভাবমূর্তি  ছিল  পর্বত  সমান,  ফলে  উপমহাদেশের  ইসলামী  চিন্তাধারা  মাশায়াল্লাহ  একই  গাড়িতে  চলিয়া  গিয়াছেন ।  আপনি  পাকিস্তানের  মাথায়  একটি  পাগড়ি  পড়াইতে  পারেন,  পাকিস্তানের  থুতনিতে  দাঁড়ি  গজাইতে  পারেন,  পাকিস্তানের  শরীরে  সুন্নাহ  সম্মত  পোষাক  পড়াইতে  পারেন ।  তারপরও  পাকিস্তান  একটি  ধর্মনিরপেক্ষ  রাষ্ট্রই  থাকিয়া  যাইবে,  বুঝিতে  পারিতেছ  হাদা  কোথাকার !  কেননা  অন্যান্য  ধর্মনিরপেক্ষ  রাষ্ট্রের  মূলনীতির  সবই  ইহার  সংবিধানে  আছে ।  সেগুলি  বিদ্যমান  রাখিয়া  তাহাতে  যতকিছুই  যোগ  করেন  না  কেন,  মুনাফেকীর  আশ্রয়  নিয়া  এই  সম্পর্কে  কেউ  কথা  বলেন  না ।  কাজেই  যখন  পাকিস্তান  প্রতিষ্টিত  হইল  মুসলিম  ভারত  বলিল,  বিদায়  তোমাকে  ইসলামী  রাজনীতি,  বিদায়  তোমাকে  খিলাফাহ ।  তারপর  একটি  নতুন  অদ্ভূত  জন্তু  পয়দা  হইল,  যাহা  পূর্বে  কখনও  দেখি  নাই ।  জীবনে  তাহাকে  প্রথম  দেখিলাম  যাহাকে  বলা  হইতেছে  মুসলিম  জাতীয়তাবাদ ।  কি  আবর্জনা,  এই  রকম  কথা  তো  আগে  কখনও  শুনি  নাই ।  ব্রিটিশ  জাতীয়তাবাদ  আছে,  জার্মান  জাতীয়তাবাদ  আছে,  রাশিয়ান  জাতীয়তাবাদ  আছে ।  ন্যাশান্যালিজম  কওমিয়া ।  কিন্তু  তাহারা  পাকিস্তানী  জাতীয়তাবাদ  শব্দটি  উচ্চারণ  করিতে  চায়  না ।  সুতরাং  আপনারা  বলিতে  পারেন  যে,  আমরা  মুসলিম  জাতীয়তাবাদের  উপর  ভিত্তি  করিয়া  এই  রাষ্ট্র  নির্মাণ  করিয়াছি ।  যাহারা  মুসলিম  জাতীয়তাবাদের  কথা  বলেন  তাহারা  কি  কুরআন  পড়েন  না ?  মুসলিম  জাতীয়তাবাদকে  ভিত্তিপ্রস্তর  করিয়া  পাঞ্জাবী  জাতীয়তাবাদ,  বাঙালী  জাতীয়তাবাদ,  ভারতীয়  জাতীয়তাবাদ  ইত্যাদি  সৃষ্টি  হইতেছে ।  আল্লাহ  তায়ালা  কোরআনে  আমাদের  পরিচিতর  জন্য  জাতীয়  বা  গোত্রীয়  পরিচয়কে  স্বীকার  করিয়াছেন  এবং  বলিয়াছেন  ইহাকে  খাবারের  সচ  বা  সালাদের  মতো  ব্যবহার  করিতে  হইবে  অর্থাৎ  ইতিবাচকভাবে  ব্যবহার  করিতে  হইবে ।  জাতীয়  বা  গোত্রীয়  পরিচয়  কখনও  রাজনীতির  মূলভিত্তি  হইতে  পারিবে  না,  ইহা  ভ্রান্ত  নীতি ।  কেননা  ইহা  হইল  আমরা  শ্রেষ্ট  তোমরা  নিকৃষ্ট  এই  মনোভাব ।  আল্লাহ  আরো  বলেন,  হ্যাঁ,  আমরা  চাই  তোমরা  নিজেদের  সনাক্ত  করিবার  জন্য  তোমাদের  জাতীয়  বা  গোত্রীয়  পরিচয়  সংরক্ষন  কর ।  কিন্তু  তাহা  কখনও  রাজনৈতিক  ব্যবস্থার  মূলনীতি  হইতে  পারে  না ।  ইহা  একটি  ব্যাধি ।  কাজেই  জাতীয়তাবাদের  ভিত্তিতে  রাষ্ট্রব্যবস্থা  ইসলামের  অংশ  নয় ।  আর  তাহারা  তাই  করিয়াছে ।  তাহারা  মুসলিম  জাতীয়তাবাদ  সৃষ্টি  করিয়াছে ।

 

কাজেই  যখন  পাকিস্তান  প্রতিষ্টিত  হইল  তাহাদের  কেউ  পিঠে  নিল  পাঞ্জাবী  জাতীয়তাবাদ,  কেউ  পিঠে  নিল  বাঙালী  জাতীয়তাবাদ,  কেউ  পিঠে  নিল  পাখতুন  জাতীয়তাবাদ,  আবার  যাহারা  ইন্ডিয়া  থেকে  পাকিস্তানে  আসিয়াছিল  তাহারা  পিঠে  নিল  মোহাজির  জাতীয়তাবাদ ।  সুতরাং  পাকিস্তান  ভাগ  হইয়া  গেল  অসংখ্য  জাতীয়তাবাদে ।  তারপর  বাঙলা  জাতীয়তাবাদের  সাথে  শত্রুতা  আরম্ভ  হইল  যাহার  ফলস্রুতিতে  বাংলাদেশের  জন্ম  হইল ।  সুতরাং  পৃথিবীর  এই  অংশে  যদি  ইসলামের  কোন  ভবিষ্যত  থাকে  অর্থাৎ  ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ-কাশ্মিরে  তাহা  কোন  পার্ট-টাইম  মুসলমানের  জন্য  নয়  এবং  অবশ্যই  রাজনীতিবিদদের  জন্য  নয়,  বরং  যাহারা  আধুনিক  ধর্মনিরপেক্ষ  রাজনীতি  এবং  ইহার  শিরক  থেকে  তাওবাহ  করিবে  এবং  খেলাফাহ  প্রতিষ্টার  ইসলামী  রাষ্ট্র  প্রতিষ্টার  আন্দোলনে  শরীক  হইবে  তাহাদের  জন্য ।  ইহা  হইল  সেই  উৎপাত  যাহা  বিগত  ষাট  সত্তর  বছরে  পাকিস্তান  এবং  বাংলাদেশে  সৃষ্টি  হইয়াছে ।  ইহা  শ্রবণে  আপনাদের  হৃদয়  পুলকিত  হইবে  আমাদেরকে  খিলাফাহর  জন্য  আর  বেশী  দিন  অপেক্ষা  করিতে  হইবে  না ।  আমার  অনুমান  আগামী  বিশ  হইতে  পঁচিশ  বছরের  মধ্যেই  ইমাম  মাহদীর  নেতৃত্বে  খেলাফত  প্রতিষ্টিত  হইতে  যাইতেছে ।  আমার  পক্ষ  থেকে  পলিটিশিয়ানদের  বলিয়া  দেন  যে  খিলাফাহর  জন্য  আমাদেরকে  আর  বেশী  দিন  অপেক্ষা  করিতে  হইবে  না ।  মিঃ  পলিটিশিয়ান !  আপনি  কি  আমার  কথা  শুনিতে  পাইতেছেন ?  খিলাফাহ  প্রতিষ্টার  পরে  একজন  মুসলিম  হিসাবে  আপনার  কি  পাকিস্তান  যাইতে  ভিসা  লাগিবে ?  বাংলাদেশে  যাইতে  কোন  ভিসা  লাগিবে ?  একেবারেই  ফালতু  কথা  !  এই  ব্যবস্থা  খিলাফাতে  নয়  বরং  ইউরোপে  সৃষ্টি  হইয়াছে ।  দারুল  ইসলাম  যখন  প্রতিষ্টিত  হইবে  তখন  সকল  মুসলিম  সেই  রাষ্ট্রে  প্রবেশ  করিতে  পারিবে,  কেবল  স্বীকার  করিতে  হইবে  “লা  ইলাহা  ইল্লাল্লাহ  মোহাম্মাদুর  রাসুলুল্লাহ” ।  সেই  দিন  আসিতেছে ।  জানেন  মানুষ  কি  বলে ?  আমি  বাঁচিব  পাকিস্তানের  জন্য,  আমি  মরিব  পাকিস্তানের  জন্য !  আমি  বাঁচিব  বাংলাদেশের  জন্য  !  আমি  মরিব  বাংলাদেশের  জন্য !  তাহাদেরকে  আল্লাহর  জন্য  বাঁচিতে  আমন্ত্রণ  জানান ।  তাহাদেরকে  আল্লাহর  জন্য  মরিতে  আহবান  জানান ।

এই  অঞ্চলে  যেই  যুদ্ধ  আসিতেছে  এবং  তাহাকে  কিভাবে  মোকাবিলা  করিতে  হইবে  তাহা  আলোচনা  করিবার  পূর্বে  আরেকটি  কথা  বলি ।  এই  অঞ্চলে  ইসলামের  ভবিষ্যতের  জন্য  যাহারা  কাজ  করিবেন  তাহাদেরকে  প্রথমে  সকল  মুসলমানদেরকে  ঐক্যবদ্ধ  করিতে  হইবে ।  আপনাদের  এমন  একটি  জামায়াত  থাকিতে  হইবে  যাহাতে  বেরেলভী  এবং  দেওবন্দীরা  ভাই  ভাই  রূপে  একত্রে  কাজ  করিবে ।  ইহা  কি  সম্ভব ?  যাহারা  বলেন  অসম্ভব  তাহারা  দয়া  করিয়া  আমার  লেকচারে  আসিবেন  না ।  আমি  আপনাদের  কোন  সাহায্য  করিতে  পারিব  না ।  আপনারা  অন্য  কোথাও  যান,  অন্য  কাহারো  কাছে  যান ।  ঈমানদারদেরকে  একতাবদ্ধ  করা  কোরআন-সুন্নাহর  কাজ ।  কাজেই  কোরআন-সুন্নাহ  যদি  আপনাদেরকে  ঐক্যবদ্ধ  করিতে  না  পারে,  তবে  আপনারা  অন্য  কোথাও  যান ।  কেননা  আপনাদের  পকেটে  সম্ভবত  দাজ্জাল  আছে ।  সুতরাং  ইহাকেই  বলে  দলাদলি,  ফেরকাবাজি,  উর্দুতে  বলে  ফিরকাবন্দি ।  আল্লাহ  বলেন,  “তোমরা  সম্মীলীতভাবে  আল্লাহর  রজ্জুকে  শক্তভাবে  আকড়াইয়া  ধর  এবং  পরস্পর  বিচ্ছিন্ন  হইয়া  যাইও  না”।  ইহা  আল্লাহর  আদেশ ।  আপনাদের  অন্তরে  কি  ভয়  নাই  যে  আল্লাহর  নির্দেশ  অমান্য  করিলে  আল্লাহ  আপনাদের  সাথে  কি  ব্যবহার  করিবেন ?  আল্লাহ  আপনাদের  কি  শাস্তি  দিবেন  সেই  ভয়  নাই  আপনাদের  মনে ?  আল্লাহ  যেখানে  হুকুম  করিয়াছেন  একতাবদ্ধ  থাকিতে ।  আমরা  তাহাই  করিতে  চাই ।  কিন্তু  আপনারা  যদি  নিজেদের  ফেরকাবাজী  নিয়া  থাকিতে  চান,  তবে  আপনারা  আপনাদের  পথে  চলিতে  থাকুন ।  কাজেই  আপনারা  যদি  মুসলমানদের  মধ্যে  ঐক্য  সৃষ্টি  করিতে  চাহেন,  তবে  প্রথমে  নিজেদেরকে  এই  সেই  অমুক  তমুক  ইত্যাদি  দলের  নামে  পরিচয়  দেওয়া  বন্ধ  করিতে  বাদ  দিতে  হইবে ।  না  ভাই  আমি  কোন  ফেরকাহর  সাথে  নাই,  আমি  একজন  মুসলিম ।  আমি  জানি  আমার  কথাগুলি  তরুণ  যুবকদের  অন্তরে  আকর্ষণ  সৃষ্টি  করিতেছে ।  আমার  ওস্তাদ  মাওলানা  ডঃ  ফজলুর  রহমান  আনসারী  একজন  বড়  মনিষী  ছিলেন ।  তিনি  সব  সময়  বলিতেন  আমি  দেওবন্দি  নই,  আমি  বেরেলভী  নই,  আমি  আহলে  হাদীস  নই,  আমি  ওহাবী  নই,  আমি  একজন  মুসলিম ।  কাজেই  এক  নাম্বারে  আপনাদেরকে  বলিতে  হইবে,  না  ভাই  আমি  কোন  দলের  সাথে  নাই,  আমি  একজন  মুসলিম ।  আর  দুই  নাম্বারে  আমরা  সকল  মুসলমানদেরকে  একত্রে  এক  জায়গায়  আনিয়া  উপস্থিত  করিতে  চাই,  উদাহরণস্বরূপ  মসজিদে ।  আমি  বলি  আমরা  আল্লাহর  ঘরে  এমন  কোন  কাজ  করিতে  দিব  না  যাহা  কোরআন  এবং  সুন্নাহ  কর্তৃক  সুস্পষ্টভাবে  সমর্থিত  নয় ।  আপনাদের  কোন  সমস্যা  আছে ?  আমার  যদি  কোন  ব্যক্তিগত  আমল  থাকে  যাহা  আমি  নিজের  বাড়িতে  আদায়  করি  তাহাতে  কি  আপনার  কোন  সমস্যা  আছে ?  ইহার  আমার  ব্যাপার  আপনার  নয় ।  যেমন  মীলাদুন্নবী (সাঃ)  পালন  করা ।  মহানবী (সাঃ) –এর  জন্মদিন  পালন  করা ।  মীলাদুন্নবী (সাঃ)  পালন  করা  কি  শরাবখোরীর  মতো  কোন  খারাপ  কাজ ?  না  বরং  ইহা  একটি  তাকওয়া  বৃদ্ধিকারী  আমল ।  ইহাতে  পাপের  কিছু  নাই ।  কিন্তু  যেহেতু  ইহা  কোরআন  এবং  সুন্নাহসম্মত  নয়,  কাজেই  আমরা  বলিব  ঐক্যের  স্বার্থে  ইহাকে  মসজিদে  আনিবেন  না ।  আপনি  যদি  ইহাকে  মসজিদে  আনিতে  বলপ্রয়োগ  করেন  তবে  তাহা  ফিতনাহ  সৃষ্টি  করিবে ।  কাজেই  ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ-কাশ্মিরের  মুসলমানরা  কে  কোন  ফেরকার  তাহা  গুরুত্বপূর্ণ  নয়  বরং  গুরুত্বপূর্ণ  হইল  আপনি  একজন  মুসলিম।  আমাদেরকে  ঐক্যের  স্বার্থে  কোরআন-সুন্নাহ  সমর্থিত  নয়  এমন  ধর্মীয়  কাজকর্মকে  মসজিদের  বাহিরে  রাখিতে  হইবে ।  আপনি  মীলাদুন্নবী (সাঃ)  পালন  করিতে  পারেন  নিজের  ঘরে  আলাদাভাবে,  তাহাতে  ফিতনাহ  সৃষ্টির  সম্ভাবনা  নাই ।  বিশ্বনবী (সাঃ)-কে  বিচ্ছিন্নতা  দলাদলির  কাজে  ব্যবহার  করিবেন  না,  বরং  একতার  কাজে  ব্যবহার  করুন ।  এইভাবে  আমরা  দলাদলি  ফেরকাহবাজীর  রোগ  নির্মূল  করিতে  পারিব  যাহা  বর্তমানে  ক্যানসারে  পরিণত  হইয়া  গিয়াছে ।  আমার  এই  লেকচার  ভারতে  পৌঁছাইবে,  পাকিস্তানে  পৌঁছাইবে,  বাংলাদেশ  এবং  কাশ্মিরে  পৌঁছাইবে  ইনশায়াল্লাহ,  বিশেষত  তরুণ  প্রজন্মের  হৃদয়কে  আলোড়িত  করিবে ।  এই  ব্যক্তি  যেহেতু  বেরেলভী  সেহেতু  সে  এই  ইমামের  পিছনে  নামাজ  পড়িবে  না ।  সেই  ব্যক্তি  ঐ  ইমামের  পিছনে  নামাজ  পড়িবে  না  তাবলীগ  করে ।  এ  বলে  সে  কাফের  সে  বলে  এ  কাফের ।  এ  বলে  সে  মুশরিক ।  আমার  মনে  হইতেছে  বিরিয়ানী  খাওয়ার  অনুষ্টান,  বিরিয়ানীর  কি  ঘাটতি  পড়িল  নাকি ?  কাজেই  আমাদের  আহবান  থাকিবে  ফেরকাহবাজী  প্রতিরোধের  স্বার্থে  কোরআন-সুন্নাহয়  দৃঢ়ভাবে  সমর্থিত  নয়  এমন  কোন  ধর্মীয়  কাজকে  মসজিদে  আনিবেন  না,  মসজিদে  টানিয়া  আনিবেন  না ।  আপনি  যদি  এমন  কোন  আমল  করিতে  চান,  তবে  তাহা  আপনার  ঘরে  আলাদাভাবে  করিতে  পারেন ।

কাজেই  এক  নাম্বারে  আমাদের  সৃষ্ট  সেই  মহাসর্বনাশ  যাহা  আমরা  করিয়াছিলাম  খেলাফাহ  দারুল  ইসলাম  ত্যাগ  করা  এবং  আধুনিক  রাষ্ট্রব্যবস্থাকে  গ্রহন  করা ।  আল্লামা  ইকবালকে  ধন্যবাদ  আল্লাহ  তাঁহাকে  ক্ষমা  করুন  তিনিই  হইলে  ইহার  অগ্রদূত ।  তাঁহার  একার  ভুল  পথনির্দেশনার  কারণে  কোটি  কোটি  মানুষ  ভুল  পথে  চলিয়া  গিয়াছে ।  এখন  আমরা  বুঝিতে  পারিয়াছি  যে  আমাদেরকে  সে  মহা  অধঃপতন  হইতে  ফিরিয়া  আসিতে  হইবে ।  কাজেই  ঈমানদারদের  হৃদয়  থেকে  ধর্মনিরপেক্ষ  রাষ্ট্রব্যবস্থাকে  মুছিয়া  ফেলিতে  হইবে  এবং  খিলাফাহ  অর্থাৎ  দারুল  ইসলামের  দিকে  ফিরাইয়া  আনিতে  হইবে ।  আমার  নিকট  মালয়ী  জাতীয়তাবাদ  পাঞ্জাবী  জাতীয়তাবাদ  ইত্যাদি  সবই  সমান ।  এগুলি  সবই  জঘন্য  খারাপ ।  আল্লাহ  বলেন,  মুসলমানরা  সবাই  ভাই  ভাই ।  গায়ের  রঙ,  ভাষা,  গোত্র  ইত্যাদি  কারণে  কেউ  কাহারো  চাইতে  শ্রেষ্ট  বা  নিকৃষ্ট  নয় ।  তারপরে  আছে  বিভিন্ন  ফেরকাহর  ব্যাপার  যাহাও  এক  ধরনের  ক্যানসারের  মতো ।  এখন  আমরা  কি  করিব ?  ইসরাঈল  যখন  পাকিস্তানে  হামলা  করিবে  সম্ভবত  আগামী  কয়েকমাসের  মধ্যেই ।  আর  ইন্ডিয়া  হইল  আমেরিকার  পরে  ইসরাঈলের  সবচাইতে  কৌশলগত  বড়  সামরিক  বন্ধু ।  ইহা  ভারতীয়  মুসলমানদের  মারাত্মক  অশুভ  পরিণতির  ইঙ্গিত  বহন  করে ।  আজকের  সভায়  অনেক  ইন্ডিয়ান  মুসলিম  উপস্থিত  আছেন ।  যেহেতু  পাকিস্তানের  উপর  আক্রমণ  পূর্বপরিকল্পিত,  কাজেই  আমরা  নিশ্চিত  জানি  ইহা  আসিতেছে ।  তাহাদের  পরিকল্পনা  হইল  স্বাধীন  বেলুচিস্তান  সৃষ্টি  করা  যাহা  হইবে  একটি  নতুন  যায়োনিষ্ট  লিবিয়া ।  আর  কিছু  অংশ  নিয়া  পাখতুনিস্তান  সৃষ্টি  করিবে ।  পাকিস্তানের  যেই  অংশকে  আজাদ  কাশ্মির  বলে  তাহাকে  ভারতের  নিকট  ফেরত  দেওয়া ।  পাঞ্জাব  এবং  সিন্ধুর  কিছু  অংশও  ইন্ডিয়াকে  দেওয়া  হইবে ।  এমনকি  করাচীকেও  একটি  নগর  রাষ্ট্রে  পরিণত  করা  হইতে  পারে ।  তখন  পাকিস্তানের  কাছে  থাকিবে  কিছু  টুকরা  টাকরা  যাহাকে  ভারত  খুব  সহজেই  নিয়ন্ত্রণ  করিতে  পারিবে ।  রাজনৈতিক,  অর্থনৈতিক  এমনকি  সাংস্কৃতিকভাবে  ভারতের  উপনিবেশে  পরিণত  হইবে ।  যেহেতু  আমরা  জানি  যে  তাহা  আসিতেছে,  কাজেই  এই  পরিস্থিতিতে  আমাদের  কি  করা  উচিত ?  তেমন  পরিস্থিতিতে  পড়িলে  আমি  কি  করিতাম ?  আমি  যদি  বাংলাদেশ  বা  পাকিস্তানে  থাকিতাম  তবে  প্রথমেই  আমি  শহর  ত্যাগ  করিতাম ।  কারণ  শহরগুলিতে  অরাজকতা  দাঙ্গা  হাঙ্গামা  শুরু  হইবে ।  খাবার  পানির  সরবরাহ  বিপর্যস্ত  হইবে ।  বিদ্যুৎ  সরবরাহ  ব্যবস্থা  ধ্বংসপ্রাপ্ত  হইবে ।  আর  ইহা  সারায়েভোর  মতো  কোন  ভারসাম্যপূর্ণ  শহর  নয়  যাহা  তিন  বছর  অবরোধের  মধ্যেও  টিকিয়া  ছিল ।  করাচী  পৃথিবীর  সবচাইতে  ভারসাম্যহীন  শহর ।

যদি  করাচীর  পানি  সরবরাহ  বন্ধ  হইয়া  যায়  আর  ইন্ডিয়া  তাহা  করিতে  সক্ষম ।  যদি  করাচীর  খাদ্য  সরবরাহ  বন্ধ  হইয়া  যায়  আর  ইন্ডিয়া  তাহা  করিতে  সক্ষম ।  আপনি  কি  বুঝিতে  পারিতেছেন  না  যে  তখন  করাচীর  প্রতিটি  অলিগলিতে  দাঙ্গা  হাঙ্গামা  খুনাখুনি  লাগিয়া  যাইবে ।  আর  শত্রুরা  তাহাতে  আরো  উস্কানী  দিবে ।  খাবার  পানি  বন্ধ  হইয়া  গেলে  মানুষের  অবস্থা  হইবে  যাহাকে  বলা  হয়  কুকুর  কুকুরকে  খায় ।  তাহারা  জানোয়ারে  পরিণত  হইবে ।  তাহারা  ধর্মের  বাণী  ভুলিয়া  যাইবে ।  কাজেই  আমার  উপদেশ  হইল,  আমি  আশা  করি  যথেষ্ট  দেরি  হওয়ার  পূর্বেই  আমার  কথা  আপনাদের  কাছে  পৌঁছিয়া  যাইবে,  বেশী  বিলম্ব  হওয়ার  পূর্বেই  শহর  ত্যাগ  করুন  এবং  দূরবর্তী  গ্রামগুলোতে  আশ্রয়  নেওয়ার  চেষ্টা  করুন ।  আসন্ন  যুদ্ধের  হাত  থেকে  জীবন  বাঁচাইতে  প্রত্যন্ত  অঞ্চলের  গ্রামগুলোতে  বসবাস  করুন  যেখানে  জীবনধারনের  মতো  খাবার-পানির  ব্যবস্থা  আছে  এবং  জীবনের  নিরাপত্তা  আছে ।  অনেক  লোক  একত্রে  বসবাস  করিবেন  না  বরং  অল্প  অল্প  লোকেরা  দলবদ্ধ  ভাবে  বসবাস  করুন ।  আমি  ইহাকে  বলি  মুসলিম  ভিলেজ ।  সর্বদা  আল্লাহর  রহমত,  আল্লাহর  করুণা,  আল্লাহর  ক্ষমার  জন্য  প্রার্থনা  করিতে  থাকুন ।  সেখানে  আপনারা  আল্লাহর  বিধান  এবং  পথনির্দেশনা  মতো  জীবন  যাপন  করুন ।  সুতরাং  ইহা  হইবে  খিলাফাহর  ক্ষুদ্রতম  সংস্করণ ।  হয়ত  পঞ্চাশ  বা  একশত  পরিবারের  একত্রে  বসবাসরত  ক্ষুদ্রতম  খেলাফত ।  এভাবে  যদি  আপনারা  দূরবর্তী  গ্রামাঞ্চলে  হাজারে  হাজারে  ক্ষুদ্র  ক্ষুদ্র  ইসলামী  রাষ্ট্রের  আকারে  ছড়িয়ে  ছিটিয়ে  বসবাস  করেন,  তাহলে  দাজ্জাল  আপনাদেরকে  হজম  করিতে  পারিবে  না ।  দাজ্জালের  পেটে  বদহজম  দেখা  দিবে ।  কেননা  দাজ্জাল  কামনা  করে  আপনারা  শহরে  একত্রে  বসবাস  করিবেন  যাহাতে  সে  আপনাদেরকে  সহজে  আক্রমণ  করিতে  পারে,  আপনাদেরকে  সহজে  ধ্বংস  করিতে  পারে,  আপনার  সন্তানদেরকে  ধ্বংস  করিতে  পারে ।  কাজেই  আপনারা  যদি  প্রত্যন্ত  গ্রামগুলোতে  বসবাস  করেন,  তবে  নিজেদের  রক্ষা  করিতে  পারিবেন ।  সেই  টর্নেডো  থেকে  বাঁচিতে  পারিবেন  যাহা  সামনে  আসিতেছে ।  ঢাকা  একটি  বসবাসের  অনুপযুক্ত  শহর ।  আমি  মনে  করি  তেমন  পরিস্থিতিতে  করাচীর  চাইতেও  অনেক  আগে  ঢাকায়  রায়ট  শুরু  হবে ।  সুতরাং  পাকিস্তান  এবং  বাংলাদেশে  শহরগুলো  ত্যাগ  করিয়া  গ্রামে  বসবাস  করা  এবং  নিজেদের  খাবার-পানির  ব্যবস্থা  করা,  এই  প্রক্রিয়া  কি  ভারতীয়  মুসলমানদের  ক্ষেত্রেও  যথেষ্ট  হইবে  যাহারা  একটি  হিন্দুত্ববাদী  সরকারের  খপ্পরে  পড়িবে  যে  কিনা  ইসরাঈলের  পক্ষে  যুদ্ধ  করিবে  ?  আমি  মনে  করি  ভারতের  সরকার  মুসলমানদের  সাথে  তেমন  আচরণ  করিবে  আমেরিকান  সরকার  সেখানকার  মুসলমানদের  সাথে  যেমন  আচরণ  করিবে ।  এই  কারণে  তাহারা  আমেরিকায়  বন্দী  শিবির  তৈরী  করিতেছে ।  কাজেই  ভারতীয়  মুসলমানদের  জন্য  ভয়াবহ  অশুভ  ভবিষ্যত  অপেক্ষা  করিতেছে ।  সুতরাং  আমি  মনে  করি  না  যে,  ভারতীয়  মুসলমানদের  জন্য  আমার  নিকট  যথেষ্ট  পথনির্দেশনা  রহিয়াছে ।  প্রথম  কথা  হইল  শহর  ছাড়িয়া  গ্রামে  বসবাস  করা  এবং  খাবার-পানিতে  আত্মনির্ভশীল  হওয়া,  এই  পলিসি  ভারতীয়  মুসলমানদের  জন্য  যথেষ্ট  নয় ।  আমি  মনে  করি  ভারতীয়  মুসলমানদের  প্রথমতঃ  নিজেদেরকে  ব্যক্তিগতভাবে  নয়  বরং  সম্মীলীতভাবে  রক্ষা  করিবার  চেষ্টা  করিতে  হইবে ।  কাজেই  ভারতীয়  মুসলমানদেরকে  বিপুল  বিশাল  সংখ্যায়  একত্রে  বসবাস  করিতে  হইবে ।  যাহাতে  বিশ  জনের  একটি  দল  আসিয়া  তাহাদেরকে  আক্রমণ  করিতে  সাহস  না  পায়  বরং  তাহাদের  উপরে  হামলা  করিতে  চাহিলে  বিশ  হাজার  লোকেরা  বিরাট  বাহিনীর  দরকার  হয় ।  আমি  মনে  করি  ভারতীয়  মুসলমানদের  অবশ্যই  শহর  ত্যাগ  করা  উচিত,  কেননা  বড়  শহরগুলোতে  কেবল  হরহামেশা  রায়ট  লাগিবে  তাহাই  নয়  বরং  দাজ্জাল  অবশ্যই  শহরবাসীদের  উপর  জীবাণূ  অস্ত্র  দিয়া  হামলা  করিবে ।  অনেক  দিন  পূর্বে  ইহাকে  বলা  হইত  প্লেগ  আর  বর্তমানে  বলা   হয়  ইপিডেমিকস ।  আর  মহামারীর  সময়  আপনি  সর্বশেষ  যেই  স্থানে  বসবাস  করিতে  চাহিবেন  না  তাহা  হইল  শহর ।  কারণ  তাহাতে  আপনি  একেবারে  নির্বংশ  হইয়া  যাইবেন ।  কাজেই  আমি  বিশ্বাস  করি  ভারতীয়  মুসলমানদের  বড়  শহরগুলোর  বাহিরে  যাইয়া  আত্মরক্ষার  প্রচেষ্টা  চালাইতে  হইবে ।  আপনাদেরকে  এমন  বিরাট  সংখ্যায়  বসবাস  করিতে  হইবে  যাহাতে  কেউ  আপনাদের  উপর  আক্রমণ  করিতে  ভাতিপ্রদর্শন  করিতে  মানুষ  হত্যা  করিতে  আসিলে  (অতীতে  তাহারা  অনেকবার  এমন  করিয়াছে)  যেন  বিশ  জন  বা  দুইশ  জনের  দল  নিয়া  আসিতে  সাহস  না  পায়,  বরং  বিশ  হাজার  লোকের  বিরাট  বাহিনী  নিয়া  আসিতে  হয় ।  সেক্ষেত্রে  তীব্র  স্বসস্ত্র  মোকাবেলা  হইবে  এবং  অনেক  মানুষ  শাহাদাত  লাভ  করিবে ।

 

এখন  আমি  রাসুলে  করীম (সাঃ)  এর  ভারত  সংক্রান্ত  একটি  হাদীসের  দিকে  ফিরিয়া  যাইতে  চাই ।  সেই  হাদীসে  ইন্ডিয়া  বা  ভারত  শব্দটি  নাই  বরং  তাহাতে  যেই  শব্দটি  ব্যবহৃত  হইয়াছ  তাহা  হইল  হিন্দ ।  গাজওয়া  হইল  এমন  যুদ্ধ  যাহাতে  একজন  নবী  অংশ  গ্রহন  করেন ।  যেহেতু  হযরত  ঈশা  (আঃ) এর  ফিরিয়া  আসিবার  পরে  এই  যুদ্ধটি  সংঘটিত  হইবে  সেই  কারণে  সম্ভবত  তাহাকে  গাযওয়া  বলা  হইয়াছে,  গাযওয়াতুল  হিন্দ ।  আল্লাহই  ভাল  জানেন ।  মহানবীর (সাঃ)  একটি  হাদীস  আছে  যাহাতে  বলা  হইয়াছে  আখেরী  জামানায়  হিন্দুস্তান  বিজয়  সম্পর্কে ।  এই  হাদীসের  সনদ  সম্পর্কে  মতামত  দেওয়ার  যোগ্যতা  আমার  নাই ।  আরেকটি  হাদীসে  বলা  হইয়াছে  আখেরী  জামানায়  কন্সট্যান্টিপোল  বিজয়  সম্পর্কে ।  আর  এই  হাদীসটি  খুবই  প্রতিষ্টিত  ইহার  সনদ  অত্যন্ত  মজবুত ।  নবী  করিম (সাঃ)  বলিয়াছেন,  “যখন  বায়তুল  মাকদিসের  অর্থাৎ  জেরুজালেমের  উত্থান  হইবে  এবং  মদীনার  অধঃপতন  হইবে,  তারপরের  বড়  ঘটনা  হইবে  মালহামা  অর্থাৎ  মহাযুদ্ধ,  তারপরে  বিজিত  হইবে  কন্সট্যান্টিপুল” ।  বর্তমানে  ইহুদীদের  অধীনে  যায়োনিষ্টদের  অধীনে  জেরুজালেম  অর্থাৎ  ইজরাঈলের  উত্থান  হইয়াছে,  ইহাই  বর্তমানে  পৃথিবীর  কেন্দ্রীয়  রাষ্ট্র,  পৃথিবীর  সবকিছু  সেখান  থেকে  নিয়ন্ত্রিত  হয় ।  যখন  মদীনার  অধঃপতন  হইবে,  এখনকার  মদীনার  সেই  নৈরাশ্যজনক  অবস্থা  চলিতেছে ।  পৃথিবীর  কোন  ব্যাপারে  এমনকি  ইসলামী  বিষয়েও  মদীনার  কোন  গুরুত্ব  নাই ।  এখন  আমি  ভুলিয়া  যাওয়ার  পূর্বেই  বলিয়া  রাখি,  “মদীনা  রিটার্নস  টু  দ্যা  সেন্টার  স্টেজ  ইন  আখিরুজ্জামান”  নামে  আমার  বিশ  ত্রিশ  পৃষ্টার  ছোট্ট  একটি  বই  মাত্র  দুইদিন  আগে  প্রকাশিত  হইয়াছে ।  খুব  সহজেই  পড়া  যাবে,  অডিটরিয়ামের  বাহিরে  পাওয়া  যায়  একটি  সংগ্রহ  করে  নিবেন  ইংরেজির  সাথে  ইন্দোনেশিয়ান  ভাষায়  অনুবাদও  আছে ।  এক  কপি  সংগ্রহ  করিতে  পারেন ।  জেরুজালেমের  উত্থানের  সময়টি  হইবে  যখন  মদীনার  পতনের  সময়  হইবে ।  আর  মদীনার  অধঃপতনের  পরে  আসিবে  মালহামা  অর্থাৎ  মহাযুদ্ধ,  যাহাতে  মানবজাতির  অধিকাংশই  মৃত্যুবরণ  করিবে ।  মালহামার  পরে  ঘটিবে  কন্সট্যান্টিপোল  বিজয় ।  কাজেই  যাহারা  মনে  করেন  ছয়শত  বছর  পূর্বে  সুলতান  ফতেহ  মোহাম্মদের  সময়  কন্সট্যান্টিনোপল  বিজিত  হইয়াছিল,  তাহা  সেই  বিজয়  নয়  যেই  সম্পর্কে  নবী  করীম (সাঃ)  ভবিষ্যতবাণী  করিয়াছিলেন ।  কন্সট্যান্টিনোপল  বিজয়ের  পরে  ঘটিবে  দাজ্জালের  আত্মপ্রকাশ ।  দাজ্জালের  মুক্তি  এক  জিনিস  আর  দাজ্জালের  আত্মপ্রকাশ  অন্য  জিনিস ।  দাজ্জালকে  মুক্তি  দেওয়া  হইয়াছিল  রাসুলে  পাক (সাঃ) এর  যুগেই ।  দাজ্জাল  হইল  আধুনিক  রাজনৈতিক  ব্যবস্থার  মাস্টারমাইন্ড  মহাপরিকল্পনাকারী  যাহা  মুসলিম  বিশ্বকে  প্যারালাইসিস  করিয়াছে ।  ইসলামী  দুনিয়াকে  জেলখানায়  বন্দী  করিয়া  রাখিয়াছে ।  দাজ্জালই  প্রতারণামূলক  কাগজের  মুদ্রাভিত্তিক  মুদ্রানীতি  অর্থনীতির  মহাপরিকল্পনাকারী ।  কিন্তু  আপনারা  তাহাকে  দেখিতে  পাইবেন  না,  কেননা  সে  সময়  এবং  জগতের  ভিন্ন  মাত্রায়  অবস্থান  করিতেছে ।  কিন্তু  সে  যখন  আত্মপ্রকাশ  করিবে  তখন  আপনারা  তাহাকে  দেখিতে  পাইবেন ।  মহানবী (সাঃ)  বলিয়াছেন,  সে  হইবে  একজন  ইহুদী  যুবক,  সুঠামদেহী,  দুই  কানের  পাশে  কোঁকড়ানো  চুল  বিশিষ্ট,  অর্থোডক্স  ইহুদীরা  যেমন  চুল  রাখে ।  সুতরাং  আমরা  কেবল  কন্সট্যান্টিনোপল  বিজয়  দেখিতেছি  না  বরং  ইন্ডিয়া  বিজয়ও  দেখিতে  যাইতেছি ।  সুতরাং  যখন  হযরত  ঈশা (আঃ)  ফিরিয়া  আসিবেন  তখন  তিনি  হইবেন  হাকিম  অর্থাৎ  শাসক ।  সেজন্য  আমি  গতরাতে  প্রশ্ন  করিয়াছি  যে,  ঈশা  ইবনে  মারিয়াম (আঃ)  যখন  ফিরিয়া  আসিবেন  তখন  কি  তিনি  জাতিসংঘের  নিরাপত্তা  পরিষদের  অনুমতি  নিয়া  শাসনকার্য  পরিচালনা  করিবেন ?  উত্তর  দেন !  অবশ্যই  না ।  আমার  পক্ষ  হইতে  এই  কথাটি  ওয়াশিংটনকে  জানাইয়া  দেন ।

ঈশা (আঃ)  যখন  আসমান  হইত  ফিরিয়া  আসিবেন  তখন  তিনি  পৃথিবী  শাসন  করিতে  আসিবেন ।  তাহার  মানে  হইল  তিনি  যায়োনিষ্টদের  শাসন  করিতে  আসিবেন ।  তাহার  মানে  হইল  তিনি  ইন্ডিয়াকেও  শাসন  করিতে  আসিবেন ।  ভারতকে  অবশ্যই  তাঁহার  নিকট  বশ্যতা  স্বীকার  করিতে  হইবে ।  হিন্দু  ইন্ডিয়াকে  অবশ্যই  জেসাস  অর্থাৎ  হযরত  ঈশা (আঃ)-এর  নিকট  আত্মসমর্পন  করিতে  হইবে ।  কাজেই  গাযওয়াতুল  হিন্দ  বা  ভারত  বিজয়  সংক্রান্ত  কোন  হাদীস  থাকুক  বা  না  থাকুক,  আমি  মনে  করি  যুদ্ধের  মাধ্যমে  ভারত  বিজয়  আসিতেছে  যাহাতে  নিশ্চিত  হওয়া  যায়  ভারত  ঈশা (আঃ)  এর  শাসনে  বশ্যতা  স্বীকার  করিয়াছে ।  হিন্দু  ইন্ডিয়াকে  অবশ্যই  ঈশা (আঃ)-এর  নিকট  আত্মসমর্পন  করিতে  হইবে ।  সেই  সেনাবাহিনীতে  কাহারা  থাকিবে ?  তাহারা  অবশ্যই  মোজাহেদীন  হইবেন ।  আমি  মনে  করি  না  যে  আধুনিক  ধর্মনিরপেক্ষ  কোন  রাষ্ট্রের  সেনাবাহিনী  দিয়া  সেই  কাজ  সম্পন্ন  হইবে ।  মোজাহেদীনরা  কি  ধরনের  যুদ্ধে  লিপ্ত  হইবে ?  তাহাদের  উপরে  সব  রকমের  জুলুম  অত্যাচার  চাপাইয়া  দেওয়া  হইয়াছে ।  কাজেই  যুদ্ধ  খুব  তাড়াতাড়িই  শুরু  হইতে  যাইতেছে ।  আমি  আশা  করি  পাকিস্তানী  মুসলমানরা  আমার  কথা  শুনিতে  পাইতেছেন ।  কারণ  আমি  আশা  করি  পাকিস্তানীরা  তাহাদের  আফগানিস্তানের  ভাইদের  সাথে  যোগ  দিতে  গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা  পালন  করিবে ।  আফগানিস্তান  হইল  যুদ্ধে  প্রধান  ফ্রন্ট ।  আফগানিস্তান  গত  দশ  বছর  যাবত  যায়োনিষ্ট  ন্যাটোকে  সফলতার  সাথে  মোকাবিলা  করিয়া  আসিতেছে ।  ওবামার  চূড়ান্ত  মাথাব্যথার  কারণ  হইয়া  দাঁড়াইয়াছে ।  ইহা  সেই  আফগানিস্তান !  আমি  আশা  করি  ইহার  দ্বিতীয়  সারিতে  থাকিবে  পাকিস্তান ।  এই  কারণে  আমি  পাকিস্তানী  যুব  সম্প্রদায়কে  বলিতেছি,  এখনই  শহর  ত্যাগ  কর  গ্রামে  চলিয়া  যাও ।  নিজেদের  খাবারের  নিশ্চয়তা  বিধান  কর,  নিজেদের  পানির  নিশ্চয়তা  বিধান  কর,  নিজের  পরিবারের  নিরাপত্তা  বিধান  কর ।  কেননা  তোমরাই  থাকিবে  সামনের  সারিতে  ফ্রন্টলাইনে ।  কেননা  আমি  মনে  করি  তাহা  গতানুগতিক  কোন  যুদ্ধ  হইবে  না  বরং  তাহা  হইবে  বিশ  বছর  ব্যাপী  গেরিলা  যুদ্ধ  আফগানিস্তানের  স্টাইলে ।  আমি  আশা  করি  আমার  এই  কথাগুলি  পাকিস্তানের,  ভারতের  এবং  বাংলাদেশের  যুব  সম্প্রদায়ের  নিকট  পৌছিয়া  গিয়াছে ।

এদের  ছাড়াও  আরো  কিছু  মানুষ  আছে  যাহারা  এই  লড়াইয়ের  অংশীদার  হইবে  না ।  তাহারা  কারা ?  তাহারা  হইল  ঐসব  লোক  যাহারা  আমার  আজ  রাতের  কথাগুলোকে  প্রত্যাখ্যান  করিয়াছে ।

আমাদেরকে  ভোট  কেন্দ্রে  যাইতে  হইবে  এবং  ভোট  দিতে  হইবে !  আমাদেরকে  একে-ওকে-তাকে  ভোট  দিতে  হইবে !  তাহারা  শিরক  ভিত্তিক  নির্বাচনী  ব্যবস্থা  ভোট  পদ্ধতির  রাজনীতিতে  আঠার  মতো  লাগিয়া  গিয়াছে ।  আপনি  তাহাদেরকে  ওয়াজ  নসীহত  করিতে  পারেন,  তাহা  হইবে  তলাবিহীন  বালতিতে  পানি  রাখিবার  মতো ।  তাহারা  আপনার  কথায়  কর্ণপাত  করিবে  না ।  তাহারা  এই  দলকে  ঐ  দলকে  এই  ব্যক্তিকে  ঐ  ব্যক্তিকে  ভোট  দিতে  যাইবে ।  আপনাদের  জন্য  আমার  নিকট  কোন  পথনির্দেশনা  নাই,  আমি  জানি  না  আপনাদের  জন্য  কি  করিতে  হইবে ।  আরেকদল  মানুষ  আছে  আপনি  যতই  তাহাদেরকে  বলেন  যে  সুদ  হারাম,  আপনি  যদি  এক  লক্ষ  বারও  বলেন  যে  আল্লাহর  নবী (সাঃ)  চার  ধরনের  লোককে  অভিসম্পাত  করিয়াছেন  এবং  বলিয়াছেন  তাহারা  সবাই  সমান  অপরাধী ।  যে  সুদে  টাকা  ঋণ  দেয়,  আপনারা  কি  ফিক্সড  ডিপোজিটের  কথা  শুনিয়াছে ?  সে  হইল  দাদন  ব্যবসায়ী  মহাজান ।  সুদে  টাকা  কর্জ  নেয়  শহরে  একটি  বাড়ি-গাড়ি  ক্রয়  করিবার  জন্য ,  ব্যবসা  করিবার  জন্য ।  আপনি  কি  জানেন  না  যে  আপনি  যখন  সুদে  টাকা  ধার  করেন,  মোহাম্মদ (সাঃ)  আপনাকে  অভিশাপ  দেন ।  আপনি  কি  জানেন  না ?  ইহা  কি  আপনার  অন্তরকে  স্পর্শ  করে  না ?  আপনার  হৃদয়  কি  কাঁপিয়া  উঠে  না ?  নাহ,  কখনও  সুদে  টাকা  ঋন  নিবেন ।  আসলে  এগুলো  তাহাদের  কাছে  কোন  বিষয়ই  না ।  এইসব  লোকের  জন্য  আমার  কাছে  কোন  হেদায়েত  নাই,  আপনারা  হেদায়েতের  জন্য  অন্য  কারো  নিকট  যান ।  এদের  ছাড়াও  আরেকটি  দল  আছে  যাহারা  চরম  মাত্রা  নির্বোধ ।  কারণ  আলেমরা  চূড়ান্তভাবে  ব্যর্থ  হইয়াছেন  বিষয়টি  মুসলমানদেরকে  শিক্ষা  দিতে ।  আমরা  তাহাদেরকে  বলি  যে,  এই  কাগজের  মুদ্রা  দাজ্জালের  সৃষ্টি  এবং  হারাম ।  তাহারা  তখন  এমনভাবে  তাকায়  যেন  আমরা  মঙ্গল  গ্রহ  থেকে  আসিয়াছি ।  এই  কাগজের  মুদ্রা  মানুষকে  ক্রীতদাসে  পরিণত  করে ।  এই  কাগজের  মুদ্রা  দাজ্জালের  কারসাজি ।  কিন্তু  তাহারা  বিষয়টি  বুঝিতে  পারেন  না ।  কারণ  আলেমরা  এই  বিষয়টি  অধ্যয়ন  করেন  না ।  অন্যদিকে  ওলামায়ে  কেরাম  চান  অনেক  অনেক  ডলার  ইসলামী  ব্যাংক  বা  এটা  সেটার  উপদেষ্টা  হইয়া ।  দিনার  এবং  দিরহামের  (স্বর্ণমুদ্রা  রৌপ্যমুদ্রা)  কথা  কে  ভাবে ?  মাত্র  একটি  ইসলামী  ব্যাংকের  নাম  বলিতে  পারিবেন  যাহা  সুন্নাহ  মুদ্রা  দিনার  এবং  দিরহাম  ফিরাইয়া  আনিবার  জন্য  এমনকি  একটি  মাত্র  অঙ্গুলি  উঠাইয়াছিল ?  দিনার  এবং  দিরহাম  যাহার  কথা  কোরআনে  আছে  যাহার  কথা  সুন্নাহতে  আছে ।  দিনার  এবং  দিরহাম ।  সুতরাং  আপনি  যদি  এই  বিষয়ে  অধ্যয়ন  করিতে  না  চান ।   আপনি  কোন  গুরুত্ব  দেন  না  যাহা  আমরা  বলিতেছি  কাগজের  মুদ্রা  ভোগাস  প্রতারনামূলক  হারাম  শিরক ।

কাগজের  মুদ্রা  হইল  অর্থনৈতিক  দাসত্বের  টিকেট ।  সেক্ষেত্রে  আমরা  কি  করিতে  পারি ?  আপনার  জন্য  আমাদের  কাছে  কোন  হেদায়েত  নাই ।  কাজেই  আপনি  ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশে  জুলুমের  বিরুদ্ধে  আসন্ন  বিশ  বছর  মেয়াদী  স্বসস্ত্র  প্রতিরোধ  যুদ্ধের  অংশ  হইতে  পারিবেন  না,  বর্তমানে  যাহা  আফগানিস্তানে  চলিতেছে ।  আল্লাহর  নবী (সাঃ)  কি  বলেন  না ?  হাদীসটি  কি  সহীহ  বোখারীতে  নাই ?  আমি  আর  বেশী  সময়  নিব  না ।  মনে  হয়  পাকিস্তানী  মুসলমানরা  ফাতেমা  জিন্নাহ,  বেনজির  ভূট্টো  এবং  বাংলাদেশী  বোনদের  নাম  মনে  করিতে  পারিতেছি  না  খালেদা  এবং  শেখ  মুজিবের  কন্যা,  তাদের  সময়  হাদীসটি  পড়ে  নাই ।  নবী  করীম (সাঃ)  বলিয়াছেন,  যেই  জাতি  একজন  নারীকে  তাহাদের  শাসক  হিসাবে  নির্বাচন  করে,  তাহারা  কখনও  সফলকাম  হইবে  না ।  পাকিস্তানের  বিরোধী  দল  আইউব  খানের  সময়  ফাতেমা  জিন্নাহকে  সমর্থন  দেয় ।  আলেমরাও  ফাতেমা  জিন্নাহকে  সমর্থন  দেয়,  তার  পক্ষে  ফতোয়াও  জারি  করে !  একই  ঘটনা  ঘটিয়াছে  বেনজির  ভুট্টোর  সময়,  একই  ঘটনা  বাংলাদেশেও ।  কিন্তু  যাহারা  ইসলামের  ভবিষ্যতের  জন্য  লড়াই  করিবে  তাহারা  কখনও  কোন  নারীকে  তাহাদের  শাসক  হিসাবে  নির্বাচন  করিবে  না ।  তাহারা  কখনও  ব্যাংক  থেকে  সুদে  ঋণ  নিবে  না ।  তাহারা  কাগজের  মুদ্রা  এবং  ইলেকট্রনিক  মুদ্রা  ব্যবস্থা  থেকে  বাহির  হওয়ার  জন্য  সংগ্রাম  করিবে ।  কারণ  আগামীতে  কাগজের  মুদ্রা  থাকিবে  না,  একমাত্র  ইলেকট্রনিক  মুদ্রা  চালু  হইবে ।  তাহারা  একবার  যদি  আপনার  প্রোফাইল  জানিতে  পারে,  সাথে  সাথে  আপনার  একাউন্ড  ফ্রিজ  করিয়া  দিবে ।  আপনি  আপনার  টাকা  পয়সা  অর্থাৎ  ধন-সম্পদ  হারাইবেন ।  আপনি  আমার  কাছে  নালিশ  করিবেন ?  আমি  কি  করিতে  পারিব ?  ব্যাংক  যদি  আপনার  একাউন্ট  বন্ধ  করিয়া  দেয়,  আপনি  কিছুই  করিতে  পারিবেন  না ।  আপনার  একাউন্টে  যত  টাকা  ছিল  এখন  সব  শেষ ।  ইহা  এমন  টাকা  যাহা  চোখ  দেখা  যায়  না ।  ইহা  হইবে  এমন  টাকা  যাহা  স্পর্শ  করা  যায়  না ।  কাজেই  একমাত্র  গাধাই  তাহাকে  মুদ্রা  বলিয়া  ঘোষনা  করিতে  পারে ।  আর  এখন  দুনিয়াতে  প্রচুর  গাধা  আছে ।  আপনি  কেবল  এক  একাউন্ট  থেকে  অন্য  একাউন্টে  স্থানান্তর  করিতে  পারিবেন ।  সুতরাং  ব্যাংকিং  সিস্টেম  থেকে  বাহির  হওয়ার  কোন  উপায়  থাকিবে  না ।  ব্যাংক  ইচ্ছা  করিলে  যে-কোন  সময়  আপনার  একাউন্ট  ফ্রিজ  করিয়া  দিতে  পারিবে ।  আপনার  সরকারও  কিছু  করিতে  পারিবে  না ।  কারণ  ব্যাংকিং  সিস্টেম  আপনার  সরকার  নিয়ন্ত্রণ  করে  না  বরং  যায়োনিষ্টরা  নিয়ন্ত্রণ  করে ।  এবার  আমাকে  সমাপ্তি  টানিতে  দেন ।  আজ  রাতে  আমার  কথাগুলো  পাকিস্তানের  সবার  উদ্দেশ্যে  নয়,  বাংলাদেশের  সবার  জন্য  নয়,  ভারত  এবং  কাশ্মিরের  সকলের  জন্য  নয়  বরং এই  অঞ্চলের  যাহারা  সততার  সাথে  ফুল  টাইম  আল্লাহ  এবং  আল্লাহর  রাসুলের (সাঃ)  আনুগত্য  করিতে  চাহেন  তাহাদের  উদ্দেশ্যে ( আমার  ইচ্ছা  আছে  কাশ্মিরীদের  ব্যাপারে  আরো  বেশী  সময়  খরচ  করিবার  জন্য) ।  ইহারা  সেই  সমস্ত  লোক  যাহারা  খিলাফাহর  পুণঃপ্রতিষ্টায়  আত্মনিবেদিত ।  তাহারা  সেই  সব  লোক  যাহারা  নির্বাচনে  যুদ  মধুকে  ভোট  দেওয়ার  নাটক  নিয়া  সময়  নষ্ট  করে  না ।  ইহারা  সেই  সকল  মানুষ  যাহারা  ফেরকাহবাজিতে  লিপ্ত  হয়  না,  আমি  এই  ফেরকাহ  সেই  ফেরকাহ ।  নাহ,  আমি  একজন  মুসলিম ।  তাহারা  কোরআন  এবং  সুন্নাহর  মাধ্যমে  সকল  মুসলমানকে  ঐক্যবদ্ধ  করিতে  সচেষ্ট  থাকে  যাহাতে  সুফী  এবং  সালাফীগণ  ভাই  ভাই  হিসাবে  একত্রে  থাকিতে  পারেন  এবং  জুলুমের  বিরুদ্ধে  তাহাদের  জিহাদ  অব্যাহত  রাখিতে  পারেন ।  ইহারা  সেই  সমস্ত  মানুষ  যাহারা  দীনার  এবং  দিরহাম  ফিরাইয়া  আনিবার  প্রচেষ্টা  চালাইবে  এবং  কোন  অজুহাতে  ব্যাংক  থেকে  সুদে  ঋণ  নিবেন  না ।  আমি  আল্লাহর  নিকট  প্রার্থনা  করি  তিনি  যেন  ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ-কাশ্মিরের  মুসলমানদের  চক্ষু  খুলিয়া  দেন  এবং  তাহাদের  অস্তিত্ব  রক্ষার  একটি  পথ  দেখাইয়া  দেন ।  আমিন !

মূল –  আল্লামা  ইমরান  নজর  হোসেন

অনুবাদ – ডাঃ  বশীর  মাহমুদ  ইলিয়াস

The Future Of Islam In India, Pakistan & Bangladesh   লেকচারের  অনুবাদ

 

 

 

বড় জিহাদ কি ও কিভাবে লড়তে হয়?

আমাদের উপর জিহাদ ফরজ করা হয়েছে, তাই আমাদেরকে জিহাদ করতে হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন জিহাদ সবচেয়ে বড়?

আল্লাহ তায়ালা বলছেন –

فَلَا تُطِعِ ٱلْكَـٰفِرِينَ وَجَـٰهِدْهُم بِهِۦ جِهَادًۭا كَبِيرًۭا

“তুমি কাফেরদের আনুগত্য করবে না এবং তাদের সাথে কোর’আনের সাহায্যে বড় জিহাদ কর”। [সূরা ২৫/ ফুরকান – ৫২]

এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট যে, তরবারির সাহায্যে নয়, বরং কোর’আনের সাহায্যে যে জিহাদ করা হয়, তা হল সবচেয়ে বড় জিহাদ। অর্থাৎ, কোর’আনের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ-ই হল সবচেয়ে বড় জিহাদ।

এছাড়া, উত্তম জিহাদ সম্পর্কে রাসূল (স)-কে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন –

عن أبي ذر قال: قلت يا رسول الله أي الجهاد أفضل قال: أن يجاهد الرجل نفسه وهواه

“হযরত আবু জর রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, “কোন জিহাদ সর্বোত্তম?” তিনি বললেন, “নফস ও কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদই উত্তম জিহাদ”।

[সুয়ুতী, জামিউল আহাদীস, মাকতাবায়ে শামেলা, হাদিস নং – ৪১৬৮৩। কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আক্বওয়াল ওয়াল আফআল, হাদিস নং- ১১৭৮০]

নফস ও কু-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে আল কোর’আন।

এখন প্রশ্ন হলো, কেন এবং কিভাবে কোর’আন দিয়ে জিহাদ করতে হবে?

উত্তর দিচ্ছেন আল্লাহ – বিস্তারিত পড়ুন

‘আল্লাহ ১’ – এর গাণিতিক অর্থ

কেউ এসে পিথাগোরাসকে কোনো কিছু জিজ্ঞাস করলে, তিনি তা সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করতেন। যেমন, তিনি বলতেন, আল্লাহ হলো ‘এক’, অথবা, ‘এক’ হলো আল্লাহ।

পিথাগোরাস যদি রাসূল (স)-এর পরে জন্ম গ্রহণ করতেন, তাহলে সম্ভবত তিনি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”কেও সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করে যেতেন।

কিন্তু তবুও, আমরা চাইলে এখন পিথাগোরাসের স্টাইলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”কে বোঝার চেষ্টা করেতে পারি।
_______

“লা ইলাহা, ইল্লাল্লাহ”-এ বাক্যে দুটি অংশ রয়েছে। “লা ইলাহা” অর্থ হলো “কোনো ইলাহ নেই”। এবং “ইল্লাল্লাহ” অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া। সুতরাং পিথাগোরাসের কথা অনুযায়ী “লা ইলাহা” এর মান হলো [০] শূন্য। এবং ‘ইল্লাল্লাহ’ এর মান [১] এক।

এখানে দেখুন, বাক্যটির প্রথম অংশের মান [০] শূন্য, এবং পরের অংশের মান [১] এক। সুতরাং সম্পূর্ণ বাক্যটির মান [০১] বা এক। কিন্তু বাক্যটির প্রথম অংশের মান যদি [১] হত, এবং পরবর্তী অংশের মান যদি [০] শূন্য হত, তাহলে সম্পূর্ণ বাক্যটির মান [১০] হয়ে যেত। আল্লাহ যেহেতু এক, তাই এ বাক্যের মান ১০ হয়ে গেলে বাক্যটি সংখ্যাগতভাবে শুদ্ধ ও সঠিক হত না। কিন্তু এখন আমরা দেখতে পারছি, বাক্যটি সংখ্যাগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক।

সহজ কথায়, “লা ইলাহা, ইল্লাল্লাহ” না বলে আরবিতে যদি “আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই” এভাবে বলা হত, তাহলে বাক্যটি সংখ্যাগতভাবে ভুল হয়ে যেত। কিন্তু “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাক্যটির গঠন কাঠামো একেবারেই সঠিক হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন

বিভিন্ন ধর্মের দশ আদেশ

ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্মের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো আল্লাহর ‘দশ আদেশ’ বা ‘Ten Commandments’। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এই দশটি আদেশ খুব বেশি পরিচিত না হলেও ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী মানুষেরা এ নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেন। তারা আল্লাহর এই দশটি আদেশকে কেবল ধর্মীয় আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘Ten Commandments’ নামে প্রচুর শিল্প, সাহিত্য ও ধর্মীয় সিনেমা তৈরি করেছেন।

আল্লাহর এই দশটি আদেশ তাদের ধর্মীয় গ্রন্থসমূহের যেমন মূল শিক্ষা, কোরআনেরও তেমনি মূল শিক্ষা। কোরআনে সূরা আন’আমের ১৫১ থেকে ১৫৩ আয়াতে এই দশটি আদেশের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাত বা পুরাতন বাইবেলের এক্সোডাস ২০ অধ্যায়ের ১-১৭ অনুচ্ছেদ ও ডিউটরনমি ৫ অধ্যায়ের ৬-২১ অনুচ্ছেদে; এবং খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ ইঞ্জিলে বা নতুন বাইবেলের মথি ১৯ অধ্যায়ের ১৬-১৯ অনুচ্ছেদ ও ২২ অধ্যায়ের ৩৪-৪০ অনুচ্ছেদে এই দশটি আদেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কেবল ধর্মগ্রন্থ নয়, বিজ্ঞানীরাও এই দশটি আদেশকে তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। যেমন বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন তার লেখায় উল্লেখ করেন যে, ‘মানুষকে সত্য বুঝতে হলে আল্লাহর এই দশটি আদেশকে মেনে চলতে হবে।’ [সূত্র: Keynes Ms. 7, King’s College, Cambridge, UK]

ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দশটি আদেশ গুরুত্বপূর্ণ; কারণ তুর পর্বতে আল্লাহ তায়ালা মূসা (আ)-কে দুটি পাথর খণ্ডে এই দশটি আদেশ খোদাই করে লিখে দিয়েছিলেন। সম্পূর্ণ তাওরাতে যত আদেশ রয়েছে, সবগুলোর মূল হলো এই দশটি আদেশ। তাই ইহুদিদেরকে প্রতিটি ইবাদতে এবং উৎসবে বাধ্যতামূলকভাবে এই দশটি আদেশ পাঠ করতে হয়।

অন্যদিকে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের নিকট এই দশটি আদেশ গুরুত্বপূর্ণ; কারণ ঈসা (আ) জৈতুন পর্বতে তাঁর সাহাবীদের সামনে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক যে ভাষণটি দিয়েছিলেন, সেখানেও এই দশটি আদেশ ছিল। তাই খ্রিষ্টানদের জন্যও এই দশটি আদেশ মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

এরপর মুসলিমদের জন্যে এই দশটি আদেশ গুরুত্বপূর্ণ; কারণ মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার সময় বলে থাকেন, হে প্রভু ‘আমাদেরকে সরল পথপ্রদর্শন করুন।’ এর জবাব হিসেবে আল্লাহ তায়ালা সূরা আন’আমের ১৫১ থেকে ১৫৩ নং আয়াতে নিম্নোক্ত দশটি আদেশ উল্লেখ করে বলে দিলেন যে, ‘এই আদেশগুলো-ই হচ্ছে আমার পক্ষ থেকে সরল ও সঠিক পথ।’

পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা যত আসমানি কিতাব পাঠিয়েছেন, সবগুলোর নির্যাস রয়েছে তিনটি কিতাবে; যথা তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিলে। আর এই তিনটি কিতাবের মূল নির্যাস বর্ণনা করা হয়েছে আল কোরআনে। এর প্রমাণ হচ্ছে সূরা আন’আমের (১৫১ থেকে ১৫৩) এই তিনটি আয়াত। আল্লাহ তায়ালা এই তিনটি আয়াতের মাধ্যমে তাওরাত ও ইঞ্জিলের মূল শিক্ষা মুসলিমদের জানিয়ে দিতে চাইলেন। তাই তিনি ইসলামের নবী মুহাম্মদ (স)-কে আদেশ দিয়ে বলেন।

“আপনি বলুন: এসো, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শোনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন—

১) আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে অংশীদার করো না।

২) পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।

৩) দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না। আমি তোমাদের যেমন রিজিক দেই, তাদেরকেও তেমন রিজিক দেই।

৪) প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে হোক অশ্লীল কাজের নিকটেও যেয়ো না।

৫) যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে কাউকে হত্যা করো না, এ কাজকে আল্লাহ হারাম করেছেন। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা অনুধাবন করো। [সূরা আন’আম, আয়াত ১৫১]

৬) এতিমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না, যদি তাদের জন্য উত্তম কোনো ব্যবস্থা কর তাহলে ভিন্ন কথা।

৭) পরিমাণ ও ওজন ন্যায়-পূর্ণভাবে দেবে। আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত কষ্ট দেই না।

৮) যখন তোমরা কথা বলবে, তখন সুবিচার করবে, যদিও সে তোমার আত্মীয় হয়।

৯) আল্লাহর নামে তোমরা যে অঙ্গীকার কর, তা পূর্ণ করবে। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। [সূরা আন’আম, আয়াত ১৫২]

১০) নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথের অনুসরণ করে চলো এবং ভিন্ন পথ অনুসরণ করো না। যদি বিভিন্ন পথ অনুসরণ কর তাহলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তোমাদেরকে তিনি এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সাবধান হও। [সূরা আন’আম, আয়াত ১৫৩]”

উপরে সূরা আন’আমের ১৫১নং আয়াতের পাঁচটি আদেশ হলো ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদেশ। ১৫২নং আয়াতের চারটি আদেশ হলো সামাজিক আদেশ। এবং ১৫৩নং আয়াতের শেষ একটি আদেশ হলো বৈশ্বিক আদেশ।

লক্ষ করলে দেখা যায়, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ১০টি আদেশের মধ্যে একটা চমৎকার ধারাবাহিকতা রয়েছে। প্রথম আল্লাহর অধিকার, দ্বিতীয় পিতামাতার অধিকার, তৃতীয় সন্তানের অধিকার, চতুর্থ স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, পঞ্চম সাধারণ ব্যক্তি মানুষের অধিকার, ষষ্ঠ এতিম ছেলে-মেয়েদের অধিকার, সপ্তম ব্যবসা-বাণিজ্যিক অধিকার, অষ্টম ও নবম সমাজের অধিকার, এবং দশম হলো বৈশ্বিক মানবতার অধিকার।

বিশ্বের সকল স্তরের সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যেই আল্লাহ তায়ালা এই দশটি আদেশ প্রতিটি ধর্মে বাধ্যতামূলকভাবে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই দশ আদেশের এই তিনটি আয়াত আমাদের মুখস্থ করে নেওয়া এবং নিয়মিত মেনে চলা উচিত। আর তখনই কেবল পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

ক্বলম

নুনশপথ কলমের এবং তারা (ফেরেশতাগণ) যা লিপিবদ্ধ করে তার:- তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহে তুমি মজনু (উন্মাদ) নও আর নিশ্চয়ই তোমার জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরষ্কার। সেই সাথে নিশ্চয়ই তুমি আখলাকআজিমের (মহান চরিত্রের) উপর রয়েছ। সহসাই তুমিও দেখবে আর তারাও দেখবেকে তোমাদের মধ্যে আলমাফতুন (বিকারগ্রস্ত)। তোমার প্রতিপালক ভালোভাবে অবগত আছেন যে, কে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি তাদের সম্পর্কেও অধিক জ্ঞাত যারা হেদায়েতপ্রাপ্ত। অতএব তুমি আলমুকাজ্জিবিনদের (মিথ্যারোপকারীদের) অনুসরণ কর না। তারা চায় যে যদি তুমি নমনীয় হও, তবে তারাও নমনীয় হবে। 
[সুরা কলমঃ ১]
——-
নুন হচ্ছে দোয়াত যাতে কালি থাকে।

কলম হচ্ছে আলো থেকে সৃষ্ট ভাগ্যকলম যাকে আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করার পূর্বে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর নির্দেশে সে কিয়ামত পর্যন্ত সংগঠিত সমস্ত কিছুর বর্ণনা লাওহে মাহফুজ বা সংরক্ষিত ফলকে লিখে রেখেছে। মুসলিমদের অবশ্যই ভাগ্য বা নিয়তিতে বিশ্বাস করতে হবে। যা সংগঠিত হবার, তা অবশ্যই সংগঠিত হবে। সুতরাং মালহামা, কন্সট্যান্টিনোপল বিজয়, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ, ইমাম মাহদীর আগমন, মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম () এর অবতরণ, ইয়াজুজ মাজুজের ধ্বংস ইত্যাদি ঘটনা অবশ্যই সংগঠিত হবে। এই কলম প্রথম বুদ্ধিজীবি এবং একজন ফেরেশতাও বটে। মানুষ কল্পনা করে, কখনো তা ফলে যায়, কিন্তু বেশিরভাগ সময় ফলে না। মানুষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে পূর্বাভাস দেয়, ভবিষ্যতবাণী করে। কখনো তা ফলে যায়, বেশীরভাগ সময় ফলে না। কিন্তু আল্লাহ যা কল্পনা করেন, তা ফলতে বাধ্য। কারণ সবকিছুই আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। আল্লাহর কল্পনা বা ইচ্ছাকে আল্লাহর নির্দেশে ভাগ্য বা নিয়তি হিসেবে লিখে রেখেছে ভাগ্যকলম। 

তারা যা লিখে রাখেএর দ্বারা আদম সন্তানের দুই কাঁধের দুই লেখক ফেরেশতার কথা বলা হচ্ছে। ডান কাঁধের ফেরেশতা মানুষের ভালো নিয়ত, ভালো কাজগুলো তার খাতায় লিপিবদ্ধ করেন। আর বাম কাঁধের ফেরেশতা মানুষের খারাপ নিয়ত, খারাপ কাজগুলো তার খাতায় লিপিবদ্ধ করছেন। বিচার দিবসে এগুলো দাঁড়িপাল্লায় মেপে দেখা হবে কোন খাতার ওজন বেশী।

আল্লাহপাক নুন, কলম ও ফেরেশতাদের লিপিবদ্ধ কিতাবসমূহের শপথ করে বলছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) উন্মাদ নন। কারণ তাঁর উপর মহান প্রতিপালক আল্লাহ সুবহানওয়াতালার অনুগ্রহ রয়েছে। মহান প্রতিপালকের অনুগ্রহে তিনি নব্যুওয়াত (নবী হওয়ার মর্যাদা ), রিসালাত (রাসুল হওয়ার মর্যাদা) ও ইসলাম (এক আল্লাহর কাছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পিত করার মর্যাদা) লাভ করেছেন। তিনি সত্যের ঝান্ডা হাতে সমগ্র বিশ্বের জন্য পথপ্রদর্শকরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। যে সমাজ মিথ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত, যে সমাজে যুগের পর যুগ ধরে মিথ্যেকেই মানুষ মেনে আসে, সে সমাজে সত্যের আবির্ভাব হয় উপহাসের পাত্র হয়ে। সে সমাজের মানুষ সত্যকে হেসে উড়িয়ে দেয়। সত্যের পথে আহবানকারীকে পাগল বা উন্মাদ বলে উপহাস করে। কিন্তু সত্য তার নিজ বৈশিষ্ট্যের জন্যই একসময় প্রতিষ্ঠিত হয়। আর মিথ্যা তার নিজ বৈশিষ্ট্যের জন্যই একসময় বিলুপ্ত হয়ে যায়। সত্য অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবেএটাই ভাগ্য বা নিয়তির চূড়ান্ত বক্তব্য। আল্লাহপাক নুন, কলম ও ফেরেশতাদের লিপিবদ্ধ আমলনামার শপথ করে বলছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) উন্মাদ নন, বরং মহান প্রতিপালকের অনুগ্রহে তিনি সত্য প্রতিষ্ঠাকারী পৃথিবীর সবচেয়ে মহান মনীষী। এখানে আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় হলোসত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যতই সমালোচনার তীর আমাদের বিদ্ধ করুক না কেন, যতই উপহাস আমাদের করা হোক না কেন, আমাদেরকে অবশ্যই সত্য বা আলহক্ব প্রচার করে যেতে হবে। আর অদ্বিতীয় মাবুদ আল্লাহই হচ্ছেই আলহক্ব বা প্রকৃত সত্য।

পরবর্তী আয়াতে আল্লাহপাক বলছেন, রাসুলুল্লাহ (সা) এর জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরষ্কার। দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গাতেই রাসুলুল্লাহ (সা) এর জন্য মহান আল্লাহপাক অফুরন্ত পুরষ্কারের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহপাক রাসুলুল্লাহ (সা) কে সমগ্র নবী রাসুলগণের সরদার করেছেন। তাঁকে পবিত্র কোরান দান করেছেন যে কিতাব একটি জীবন্ত মৌযেযা আর যে কিতাবের প্রথম সুরা সুরায়ে ফাতিহার মত কোন সুরা পূর্ববর্তী কোন কিতাবে নাযিল হয়নি। আল্লাহপাক তাকে মক্কা বিজয় করার সৌভাগ্য দিয়েছেন যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তিনি উন্মাদ ছিলেন না, বরং সত্য প্রতিষ্ঠাকারী সত্য রাসুল ছিলেন। তাঁর উম্মত পূর্ব থেকে পশ্চিম সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে রয়েছে। তাঁর বংশ থেকে ইমাম মাহদী আগমন করবেন ও মুসলিম জাতির গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ফিরিয়ে আনবেন। তাঁর উম্মত হয়ে মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম () পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন ও মিথ্যের উপর সত্যের চূড়ান্ত বিজয় প্রতিষ্ঠা করবেন। জান্নাতে তাঁর উম্মতের সংখ্যাই হবে সর্বাধিক। আল্লাহপাক জান্নাতে তাঁকে কাউসার দান করবেন। আমাদের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা) এর উপর দরুদ পাঠ করা।

আল্লাহপাক বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) সুমহান চরিত্রের অধিকারী। এ আয়াতের দ্বারা মহান রাব্বুল আলামিন রাসুলুল্লাহ (সা) কে সম্মানিত করেছেন। তাঁর চরিত্র ছিল পবিত্র কোরানের অনুরূপ। এমন পবিত্র সুমহান চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি উন্মাদ হতে পারে না। বরং যারা সরকারে মদিনার (সা) সমালোচনা করে, তারা নিজেরাই মানসিক বিকারগ্রস্ত। আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন, যারা রাসুল (সা) এর সমালোচনা করে, তারা মানসিকভাবে সুস্থ নয় বরং প্রতিবন্ধী বিকারগ্রস্ত লোক। কোন সুস্থ বিবেকবান লোকের পক্ষে এমন সুমহান চরিত্রের অধিকারী সত্যের বার্তাবাহকের সমালোচনা করা সম্ভব নয়। আমাদের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা)এর সুন্নাহর অনুসরণ করে চলা যদিও বর্তমান দাজ্জালীয় সভ্যতায় সুন্নাহ অনুসরণ করা ভীষণ কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ দাজ্জাল চায় না আমরা রাসুলের আদর্শে নিজেদের জীবন গড়ি।

পরবর্তী আয়াতদ্বয়ে আল্লাহপাক ভবিষ্যতবাণী করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা) ও মক্কার মুশরিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত তা শীঘ্রই তারা জানতে পারবে। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, রাসুলুল্লাহ (সা) ছিলেন সত্য প্রতিষ্ঠাকারী আর মক্কার মুশরিক নেতৃবৃন্দ ছিল বিকারগ্রস্ত লোকজন। মিথ্যের উপর সত্যের চূড়ান্ত বিজয় সুনিশ্চিত। আজ যারা ইসলামকে সন্ত্রাসের ধর্ম বলে গালমন্দ করে, একদিন তারা দেখতে পাবে ইসলামই একমাত্র সত্য ও সুমহান দ্বীন। ইতিহাসের শেষপাতায় সত্য জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা থাকবে। কারণ আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহনযোগ্য দ্বীন হলো ইসলাম বা একত্ববাদী মহান প্রতিপালকের কাছে আত্মসমর্পণ করা।  বিস্তারিত পড়ুন

চুল্লী উথলে উঠা – কুরআনের একটি রূপক বর্ণনা

বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়াকে বলা হয়েছে চুলা থেকে পানি উথলে উঠা। অসাধারণ একটি রূপক। নূহ (আঃ) কে নৌকা তৈরীর প্রত্যাদেশ দেয়ার পর বলা হয়েছে, অতঃপর যখন আমার আদেশ আসবে এবং চুলা উথলে উঠবে তখন প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া উঠিয়ে নেবে এবং তোমার পরিবার পরিজনকেও, তবে তারা ব্যতীত যাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে …। এ ধরনের রূপক একটি যুদ্ধকৌশলও বটে। সরাসরি না বলে রূপকের অন্তরালে বলা। আবার কুরআন ও হাদীসের রূপক ব্যাখ্যার প্রতিও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

“অতঃপর আমি তার কাছে আদেশ প্রেরণ করলাম যে, তুমি আমার দৃষ্টির সামনে এবং আমার নির্দেশে নৌকা তৈরী কর। এরপর যখন আমার আদেশ আসে এবং চুল্লী উথলে উঠবে (فَارَ التَّنُّورُ), তখন নৌকায় তুলে নাও, ………” (সূরা মু’মিনূন, ২৩ঃ২৭)

“অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং চুল্লী উথলে উঠল (فَارَ التَّنُّورُ), আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বেই হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদ দিয়ে, আপনার পরিজনবর্গ ও সকল ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল।” (সূরা সূরা হুদ, ১১ঃ৪০)

আবারও চুল্লী উথলে উঠছে, এবারের চুল্লী হচ্ছে বিশ্বযুদ্ধ। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তা বিশ্বাস করে নূহ য়ালাইহিস সালামের নৌকায় আশ্রয় নিচ্ছে, অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারে শেষ যুগের চুল্লী থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে।