শায়খ ইমরান হোসেনের নতুন বইঃ দাজ্জাল, দ্য কোরআন এন্ড আওয়াল আল-জামান

Advertisements

রেসপন্স টু দ্য নিউ বুক অব শায়খ ইমরান নযর হোসেন

Ashrafuzzaman Tusher: শায়খ ইমরান হোসেনের নতুন বইটা পড়ছি। দাজ্জাল, দ্য কোরআন এন্ড আওয়াল আল-জামান। পড়েই বুঝতে পারলাম এখানে অনেক মৌলিক গবেষণালব্ধ নতুন জ্ঞান রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা অনেকেই নতুন জ্ঞানের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন। তাদের ধারণা কোরআন হাদিসের জ্ঞান চিরদিনের জন্য নিঃশেষিত হয়ে গেছে। পূর্ববর্তী মুফাসসিরুন মুহাদ্দিসুন যা বলে গেছেন এর বাইরে আর কিছু সংযোজিত হওয়ার নেই। এটি একটি ভুল ধারণা। কোরআনে হাদিসে এমন অনেক জ্ঞান রয়েছে যা পূর্ববর্তীরা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হননি। এমন নয় যে এটা তাদের অক্ষমতা। বরং কোরআন হাদিসে এমন অনেক বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে যা ঐ বিষয়ের জন্য নির্ধারিত সময় আসার আগ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। যখন নির্ধারিত সময় আসবে তখনই আল্লাহ তা’আলা ঐ বিষয়ের ব্যাখ্যা (তা’উইল) পৃথিবীতে পাঠাবেন। যেমন দাজ্জালের উড়ন্ত গাধা। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন দাজ্জাল উড়ন্ত গাধার পিঠে চড়বে। গাধার কানগুলো সুদূর বিস্তৃত থাকবে। গাধাটি মেঘের মত দ্রুতগতিতে উড়ে চলতে সক্ষম হবে। দাজ্জালের যুগে বসবাস করি বলে আমরা এখন জানি যে উড়ন্ত গাধাটি মডার্ন এয়ারক্র্যাফট ছাড়া আর কিছুই না। এরোপ্লেন আবিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত কারো পক্ষেই সম্ভব ছিল না এর ব্যাখ্যা দেওয়া, যেটা এখন একেবারেই পরিষ্কার। একইভাবে কোরআন হাদিসে বর্ণিত অসংখ্য বিষয়বস্তু সময়ের সাথে সাথে আমাদের সামনে উন্মচিত হচ্ছে যার ব্যাখ্যা পূর্ববর্তীরা দিতে সক্ষম হননি, কেননা তারা আমাদের যুগকে প্রত্যক্ষ করেননি। কেয়ামতের আগ পর্যন্ত কোরআন ও রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর হাদিস থেকে নতুন নতুন ইনফরমেশন আসতেই থাকবে। আর শেষ জামানার আলোকে এই যুগে বসবাসরত আলেমরা কোরআন হাদিসের অনেক বিষয়বস্তুকে ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করবেন যা যুগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। সেগুলো গ্রহন করার মন মানসিকতা থাকতে হবে। বদ্ধমূল চিন্তাভাবনার অধিকারী হলে শেষ জামানাকে বোঝা যাবে না।

Kaisar Ahmed: অবশ্যই সময়ের সাথে সাথে বা ব্যক্তি বিশেষে কুর’আন নতুন অর্থ বা নতুন কিছু উন্মোচিত করতে পারে। অবশ্যই উক্ত ব্যক্তির কুর’আনের তাফসির সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান থাকতে হবে। তবে মূলনীতি হল- এই নতুন অর্থ থেকে নতুন বিধান আরোপ করা যাবে না। বিধান বা আহকাম আরকান এই সব রাসুল (সা) নির্ধারণ করে গেছেন।

Ashrafuzzaman Tusher: বিধান বা আহকাম আসে আয়াত মুহকামাত থেকে। সেখানে কোন বক্রতা নেই। সেখানে মূলত হারাম হালাল, আদেশ নিষেধ বিষয়ে বলা থাকে। সেখানে নতুন ব্যাখ্যা দেওয়ার তেমন কিছুই নেই। আর আয়াত মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা দিতে পারবেন “রসিখুনা ফিল ইলম”। People who are deeply grounded in knowledge.

Kaisar Ahmed: হুম ঠিক। তবে সমস্যা হল যত গুলো নতুন ফিরকা বা গুমরাহি ইতিহাসে দেখা দিয়েছিল। এই অধিকাংশ দল বা মতের আলেমগণ মুতাশাবিহাত আয়াতের ব্যাখ্যা করে বিধান আরোপ করেছিল আবার এমনকি আকিদাও নির্ধারণ করেছিল যেমন মুতাজিলারা, আর মুহকাম আয়াতের তাহরিফ করেছিল, খারিজিয়ারা।

Ashrafuzzaman Tusher: সূরা আলে ইমরানের ৭ নাম্বার আয়াতের বিষয়ে দুইটি মতবাদ আছে। একটি মত হল আল্লাহ শব্দের উপর থামা। সেক্ষেত্রে অর্থ হয় মুতাশাবিহাতের অর্থ কেবল আল্লাহই জানেন। আরেকটা মত হল “রসিখুনা ফিল ইলম” এর উপর থামা। সেক্ষেত্রে অর্থ দাঁড়ায় এমন, “আয়াত মুতাশাবিহাতের অর্থ জানেন আল্লাহ ও রসিখুনা ফিল ইলম”। আসলে দুইটাই সত্য হয়। “তা’উইল” শব্দ কোরআনে দুইটি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। একটা অর্থ হল মূলনীতি বা যথার্থতা, আরেকটা অর্থ হল ব্যাখ্যা। যদি তা’উইল শব্দের অর্থ মূলনীতি বা যথার্থতা ধরি সেক্ষেত্রে সমস্ত কিছুর মূলনীতি বা যথার্থতা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর তা’উইল অর্থ যদি ধরি ব্যাখ্যা, সেক্ষেত্রে কোরআনের মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা আল্লাহর এলেমদার বান্দারা অবশ্যই জানেন, সাধারণ মানুষরা নয়। এখন ফুলস্টপটা কি আল্লাহ শব্দের উপর হবে না রসিখুনা ফিল ইলম শব্দের উপর হবে, দুইটা ভিউই সাপোর্টেড, দুই সাইডেই নির্ভরযোগ্য বড় বড় আলেমরা রয়েছেন। আর এক শ্রেণীর মানুষ অবশ্যই আয়াত মুতাশাবিহাত নিয়ে বক্রতা করে। উদাহরণ – শিয়ারা তাদের ১২ ইমাম থিওরি, যেটা নাকি তাদের কেন্দ্রীয় বিলিফ সিস্টেম, সেটার প্রমাণ আয়াত মুহকামাত থেকে প্রমাণ করতে পারে না, আয়াত মুতাশাবিহাত থেকে আজেবাজে ব্যাখ্যা দেয়। সেক্ষেত্রে বক্রতা অবলম্বনকারীদের এড়িয়ে চলতে হবে এবং আয়াত মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা যার কাছ থেকে নিচ্ছি সে রসিখুনা ফিল ইলম কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। তাফসীরে ইবনে কাসির দেখুন, সেখানে এই বিষয়টা খুব পরিষ্কারভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

Md Arefin Showrav: কিন্তু কথা হল এই যে, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে আরম্ভ করেছে যাকে বুঝতে, তারা অক্ষম। অথচ এখনো এর তা’বিল আসেনি। এমনিভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের পূর্ববর্তীরা। অতএব, লক্ষ্য করে দেখ, কেমন হয়েছে পরিণতি। (সুরা ইউনুস: ৩৯) ।

Ashrafuzzaman Tusher: সুবহানাল্লাহ…… কোরআনেই বলা আছে, তা’উইল নির্ধারিত সময়ে আসবে। আর এই সহজ জিনিসটাই অনেকে বুঝতে অক্ষম।

আলোচনায় ছিলেনঃ Ashrafuzzaman Tusher, Kaisar Ahmed, Md Arefin Showrav

ইয়াহুদি, খৃষ্টান ও মুসলিমদের মধ্যে শেষ যামানা সচেতনতা এবং সাম্প্রতিক ঘটনা

শেষ যামানা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন হল ইয়াহুদিরা। তারা তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রিক, অর্থনৈতিক প্রতিটি পদক্ষেপ শেষ যামানার আলোকে নেয়। তারা তাদের বিকৃত ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে যতটুকু বুঝেছে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করে। তাদের ব্যক্তিগত চিন্তায়, রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক আলোচনায়, মিডিয়ার খবরে শেষ যামানা সম্পর্কিত অনেক আলোচনা থাকে। মাসিয়াখ (দাজ্জাল) অচিরেই আসবে, অমুক রাবাই অমুক ভবিষ্যৎবাণী করেছে, অমুক আশ্চর্য ঘটনা অমুক ধর্মীয় বিষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সুপারমুন, সাবাত, জুবলি ইত্যাদি নিয়ে তাদের বড় বড় মিডিয়া প্রায় খবর করে।

ইয়াহুদিদের চাইতে কম হলেও শেষ যামানা সচেতনতা খৃষ্টানদের মধ্যে অনেক রয়েছে। সাম্প্রতি এমন অনেক ঘটনায় এটা সহজে বুঝা যায়। হুয়াইট ইভেনজালিস্ট খৃষ্টানরা প্রথমে ট্রাম্পকে ভোট দিতে চায়নি কিন্তু যখন ট্রাম্প ইশতেহারে জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে বলে উল্লেখ করেছিল, এটা শুনে ৮১% ইভেঞ্জালিস্টরা তাকে ভোট দেয়- কারন তাদের বিশ্বাস হল জেরুজালেম রাজধানী হলে ইসা (আঃ) এর দ্রুত আগমন হবে। এখন তারা প্রচার করছে ট্রাম্পের এমন ঘোষণা আরমোগেডান ও মানব জাতির ধ্বংসকে কাছিয়ে এনেছে। তাদের প্রধান প্রধান মিডিয়া প্রায় এমন নিউজ করে। বড় কোনো অবাক, সংকটপূর্ণ, রহস্যময় ঘটনাকে তারা এপোক্লিপ্স (দুনিয়ার ধ্বংস) ও আরমোগেডন (মহাযুদ্ধ/মালহামা) শব্দ ব্যবহার করে নিউজ করে। আমেরিকার সাথে কোরিয়া, বা রাশিয়া বা চীনের দ্বন্দ্ব ইত্যাদিকে তারা আরমোগেডন বলে নিউজে করেছিল। আমি কোনো কন্সপাইরেসি থিওরি শেয়ারিং নিউজ মিডিয়ার কথা বলছি না, বরং ওয়াসিংটন পোষ্ট, টাইম নিউজ, ইকোনমিক, ফক্স, বিবিসি, সিএনএন ইত্যাদি নিউজের কথা বলছি। যেমন ক্যালিফোরনিয়ার দাবানলের চিত্র তুলে ধরতে ইকোনোমিক্স ‘এপোক্লিপ্ট সিন’ শব্দ ব্যবহার করেছে। অর্থোডক্স খৃষ্টান ইস্পুটিনিক নিউজ করেছে (Trump’s Jerusalem Move ‘Step Closer to Armageddon’ Say US Evangelical Christians)

তাদের মুভি, ডকুমেন্টারি এমনকি গেমসেও এই সব শব্দ অনেক ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন কাহিনিকে আরমোগেডন বা এপোক্লিপ্স এর সাথে জুড়ে দেয়। জেরুজালেমকে রাজধানী করার পরে, অনেক খৃষ্টান তাদের মত শেয়ার করতে গিয়ে এন্টিক্রাইস্ট ও শেষ যামানার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মিডিয়া সি অব গ্যালিলি’র নিউজ করলে অবশ্যই এন্টিক্রাইস্টের কথাও বলে। একই ভাবে উল্লেখ্যযোগ্য মিডিয়া, জেরুজালেমকে শুধু রাজধানী না বলে ‘ইটারনাল (অনন্ত ও চিরস্থায়ী) রাজধানী’ ব্যবহার করেছে। এখানে ইটারনাল বলতে তাদের চিরস্থায়ী বিশ্বাস ও চিরস্থায়ী জান্নাতের বিশ্বাসকে বুঝানো হচ্ছে।

এমনকি তাদের ধর্মীয় গুরু বা রাস্ট্র শাসককে তাদের অনেকে এন্টি ক্রাইস্ট (দাজ্জাল) বা জিসাস (দ্বিতীয়বার আগত জিসাস) মনে করে। ২০১৩ সালের সার্ভেতে বলা হয়েছিল প্রতি ৪ জনের একজন আমেরিকান (২৫%) জনগন বারাক ওবামাকে এন্টিক্রাইস্ট বা দাজ্জাল মনে করে। পোপ ফ্রান্সিস খ্রিষ্টানদের একটি ইবাদতের পদ্ধতি চেঞ্জ করতে বলেছেন, এটা শুনে অনেকে তাকে এন্টিক্রাইস্ট বলে আখ্যায়িত করেছে। এই সব কথা নিউজে তারা ছেপেছে। রাশিয়া যখন সিরিয়ায় আগমন করে এটাকে অনেক মিডিয়া আরমোগেডন শিরোনামে নিউজ করেছিল। ট্রাম্পকে ভোট দেয়ার পিছনে অনেক খ্রিষ্টানরা প্রথমে বিবলিকাল প্রফেসি দিয়ে জাস্টিফাই করেছে, কেউ বলেছে সে এন্টিক্রাইস্ট, কেউ বা বলেছে সে আসলে এন্টি ক্রাইস্ট আসবে। এই সব বিশ্বাস কতটুকু যৌক্তিক তা জানা জরুরি নয় তবে জরুরি হল তারা শেষ যামানা সচেতন মানুষ।

মুসলিম। অত্যন্ত আফসোসের বিষয় পৃথিবীর বলতে গেলে প্রায় সকল ধর্মের মানুষের চাইতে আমরা এই সব নিয়ে কম ভাবি। আমরা পশ্চিমাদের অর্থাৎ ইয়াহুদি খৃষ্টানদের অন্ধভাবে অনুসরন করি কিন্তু আমরা তাদের মত আমাদের সকল বিষয় তথা ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি কুর’আন হাদিসের জ্ঞানের আলোকে দেখি না। আমরা মনে করি এই সব কাজে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের মিডিয়া কখনো মালহামা, ইমাম মাহদি, দাজ্জাল, কালো পতকা বাহিনী, সি অব গ্যালিলি ইত্যাদি শব্দ উচ্চারন করে না। এই সব হল সেকেলে, অজ্ঞদের বিশ্বাস!!!!। এমনকি আমাদের আলেমরাও শেষ যামানার জ্ঞানের সাথে যুগের বিভিন্ন ঘটনাকে মিলিয়ে দেখেন না। একজন আলেম নেই যিনি জেরুজালেম বা ইসরাইলের কোন ঘটনার সাথে শেষ যামানার জ্ঞান মিলিয়ে দেখেন। অথচ কিয়ামত ও শেষ যামানার ফিতনা নিয়ে আমাদের কাছে সব চেয়ে বেশি তথ্য রয়েছে। শত শত আলামত হাজারো হাদিস রয়েছে। কিন্তু আমরা ছোট ছোট বিষয় নিয়ে একে অপরের সাথে লড়াই করতে ব্যস্ত। সামগ্রিক উম্মাহ নিয়ে ভাবার কারোর সময় নেই। ভাবটাও এমন থাকে যে এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পরে না।

মুসলিমদের কোন খ্যাত অখ্যাত মিডিয়া পাবেন না যারা একবারো কোনো ঘটনাকে শেষ যামানার কোনো শব্দ দিয়ে নিউজ করেছে। কোন জনপ্রিয় আলেমেরও সময় নেই এই সব নিয়ে বলার। তারা সি অব গ্যালিলি নিয়ে কিছুই জানেন না। গোল্ড বেসড টাকা চলে গেল তারা জানতেন না, এখন ফালতু মিথ্যা কাগুজে নোট খতম হয়ে আরো বড় ফালতু বোগাস ক্রিপ্টকারেন্সি আসতেছে তারা কিছুই জানেন না। যেহেতু গোল্ড বেসড টাকা জায়িজ ছিল তাই যতই নতুন মুদ্রা ব্যবস্থা আসুক সবই জায়িজ আমরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে পারি এখন। আমার ২৫ বছর পার হল একবারো কোনো খুতবাতে দাজ্জালের নাম শুনিনি। ওলামাদের অবস্থা এমন হলে সাধারনের অবস্থা সহজেই বুঝা যায়। তারা পশ্চিমাদের ফ্যাশন, স্টাইল, এটিটিউড কোপি করতে ব্যস্ত। বর্তমান উম্মাহর যে অবস্থা দাজ্জাল মশাই এমন অবস্থারই অপেক্ষা করছে নিশ্চয়।

উল্লেখ্য যে, সকল আলেম এমন নন। যাইহোক হতাশা বা আফসোস নয়। মুমিনদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে। আল্লাহ অবশ্যই মহাপরিকল্পক।সুসংবাদ রয়েছে গুরাবাদের জন্য।

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

দাব্বাতুল আরদ্ব – ৪

জন্তু / Beast / Animal এর শাব্দিক অর্থ বাহিমা بهيمة / হাইওয়ান حيوان

সো, এটা হচ্ছে জন্তু বা পশুর গ্রামাটিকাল অর্থ। দাব্বাত কিন্তু জন্তু বা বিস্টের সাধারণ অর্থ নয়। এটি একটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। দাব্বাতুল আরদ্ব এর অর্থ হচ্ছে Earth’s habitat. জন্তু বলতেই যে এটি একটি ভয়ঙ্কর প্রাণী তা নয়। কোরআনে সোলাইমান য়ালাইহিস সালামের সাথে যে দাব্বাতুল আরদ্ব সংশ্লিষ্ট তার অর্থ করা হয়েছে ঘুণপোকা। এবং এটি একটি রেলিজিয়াস সিম্বল। সোলাইমান য়ালাইহিস সালামের সাথে সংশ্লিষ্ট যে ভূমি অর্থাৎ জেরুজালেম যেমন শেষ যুগের সাথে সম্পৃক্ত, ঠিক তেমন তার মৃত্যুর ঘটনা জ্বীনদের সামনে প্রকাশ করে দেয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট দাব্বাতুল আরদ্ব বা ঘুণপোকাও শেষ যুগের সাথে সম্পৃক্ত। এটা কোন ভয়ংকর জন্তু নয় যা বাহিমা বা হাইওয়ান অর্থে ব্যবহৃত হয়। বরং এটি একটি প্রসেস (Process) যা রেলিজিয়াস সিম্বলের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রসেসের আউটপুট হচ্ছে মানুষকে বা জ্বীনকে অবহিত করানো বা জানানো বা সংবাদ দেয়া। যেমন আল্লাহ বলেন, “যখন আমি সোলায়মানের মৃত্যু ঘটালাম, তখন ঘুণ পোকাই (দাব্বাতুল আরদ্ব) জিনদেরকে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করল।” (সূরা সাবা, আয়াত ১৪) দাব্বাতুল আরদ্বের ফাংশন সম্পর্কে ফাইনালি আমরা জানতে পারি এ’ আয়াতটিতেঃ “যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে।” (সূরা নমল, আয়াত ৮২) অতএব এখন আর কারো সন্দেহের অবকাশ থাকার কথা নয় যে, এই দাব্বাতুল আরদ্ব হচ্ছে একটি সংবাদদাতা যা মানুষকে ও জ্বীনকে কোন কিছু সম্পর্কে অবহিত করে। কাজেই একে ভয়ংকর প্রাণী মনে করার কিছু নেই। এটি এমন একটি প্রযুক্তি বা বিষয় যার দ্বারা আপনি শেষ যুগ সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পাচ্ছেন। আপনি বুঝতে পারছেন যে পৃথিবীর সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহু য়ালাম।

দাব্বাতুল আরদ্ব – ৩

কোরআনকে যেমন আসমানি কিতাব বলা হয়, কিন্তু মানুষ এখন আসমানি কিতাবের বদলে মাটির কিতাব ফেসবুকে বেশী আগ্রহী। যেমন বনী ইসরাইল জান্নাতী খাবার মান্না সালওয়া ছেড়ে দুনিয়ার খাদ্য পছন্দ করেছিল। কাজেই মাটির কিতাব পড়ার জন্য মানুষকে এখন যেতে হবে মাটির জন্তু ফেসবুক বা বিভিন্ন অ্যাাপসের কাছে। যেটা হচ্ছে দাব্বাতুল আরদ্ব বা ঘুণপোকা। মাটির পোকাগুলো যেরকম দেখতে মোবাইল অ্যাাপসগুলোও সেরকমই দেখতে। আগে কোরআন মানুষের সাথে কথা বলত, এখন ফেসবুক, গুগল, রোবট মানুষের সাথে কথা বলে। এরাই দাব্বাতুল আরদ্ব। আল্লাহু য়ালাম।

“আর আমি তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি মেঘমালার দ্বারা এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি ’মান্না’ ও সালওয়া’। সেসব পবিত্র বস্তু তোমরা ভক্ষন কর, যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে।” (সূরা বাকারা, আয়াত ৫৭)

“আর তোমরা যখন বললে, হে মূসা, আমরা একই ধরনের খাদ্য-দ্রব্যে কখনও ধৈর্য্যধারণ করব না। কাজেই তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট আমাদের পক্ষে প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের জন্যে এমন বস্তুসামগ্রী দান করেন যা জমিতে উৎপন্ন হয়, তরকারী, কাকড়ী, গম, মসুরি, পেঁয়াজ প্রভৃতি। মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা কি এমন বস্তু নিতে চাও যা নিকৃষ্ট সে বস্তুর পরিবর্তে যা উত্তম? তোমরা কোন নগরীতে উপনীত হও, তাহলেই পাবে যা তোমরা কামনা করছ। …” (সূরা বাকারা, আয়াত ৬১)

দাব্বাতুল আরদ্ব – ২

দাব্বাতুল আরদ্ব হলো সেই ঘুণপোকা। শেষ যুগের প্রতিশ্রুত যে দাব্বাতুল আরদ্ব আমরা তালাশ করছি। যাকে আমরা মাটির জন্তু বলছি, মাটি থেকে বের হবে আর মানুষের সাথে কথা বলবে। নিয়ম হলো, কুরআনের বা হাদীসের কোন শব্দের ব্যাখ্যা প্রথমে কুরআন থেকে দিতে হবে। এরপর হাদিস থেকে। আমি কয়েকদিন আগে দাব্বাতুল আরদ্বের কোরআনের ব্যাখ্যাগুলো একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলাম। এবং আমার মনে হয়েছিল, দাব্বাতুল আরদ্ব বলতে মোবাইল বা গুগল বা বিভিন্ন অ্যাাপস হবে। কারণ এগুলো দিয়ে সব ভাষায় মুহূর্তের মধ্যে কথা বলা যায়। কাজেই সেটা হলো প্রকৃতপক্ষে সেই ঘুণপোকা যা সুলাইমান য়ালাইহিস সালামের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করে দেয় অর্থাৎ সুলাইমান য়ালাইহিস সালামের লাঠি হাতে নিয়ে তার সিংহাসনে যে প্রতারক দাজ্জাল বসেছিল তার পরিচয় প্রকাশ করে দেয়। দেখুন সূরা সাবা, আয়াত ১৪ এবং সুরা সা’দঃ ৩৪-৩৫। যেমন, আমরা আজকে জানতে পারছি, মসজিদুল আকসা যা সুলাইমান য়ালাইহিস সালামের ইবাদতগৃহ ছিল সেটার সাথে থার্ড টেম্পলের কোন মিল নেই। দাজ্জাল জ্বিনদের ব্যবহার করে থার্ড টেম্পল তৈরি করিয়ে নিতে চাচ্ছে। এছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে শেষ যুগের সত্য ছড়িয়ে পড়ছে যা কেউ গ্রহণ করছে, কেউবা প্রত্যাখ্যান করছে। এমনকি এর দ্বারা প্রতিটি মানুষ চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছে সে আসলে কি আক্বিদা বা বিশ্বাস লালন করে। যেমন হাদিস অনুযায়ী ঐ জন্তু মানুষকে চিহ্নিত করে দিবে। এসব বিষয়ে আল্লাহ ভালো জানেন।

কোরআনের কথা

তা’বিলের কোন বাংলা পরিশব্দ নেই। বাংলায় একে “তাবীর” বলা হয়। ব্যাখ্যা–এর সঠিক শব্দার্থ নয়। কারণ তাফসিরকেও ব্যাখ্যা বলা হয়। কিন্তু তাফসির ও তা’বিলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পবিত্র কুর’আনের আয়াতসমূহ দুইভাগে বিভক্ত। আয়াতে মুহকামাত ও আয়াতে মুতাশাবিহাত। আয়াতে মুহকামাতের তাফসির হয়। এগুলো পবিত্র কুর’আনের মুল। ঐতিহাসিক ঘটনাবলি, শরীয়তী বিষয়াদি, হালাল-হারাম এগুলোর মধ্যে পড়ে। কিন্তু আয়াতে মুতাশাবিহাত ভিন্ন ধরণের আয়াত। এগুলোকে তাফসির করা যায়না, তা’বিল করতে হয়। স্বপ্নের যেমন তাফসির করা যায়না, তা’বিল করতে হয়; ঠিক তেমনি। তা’বিল করার সময় বলতে হয়, “এসব ব্যপারে আল্লাহর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কেউ নয়।”

আল্লাহপাক পবিত্র কুর’আনে উল্লেখ করেছেন যে, এই মহান গ্রন্থের কিছু কিছু আয়াতের সঠিক অর্থ জানা এখনো বিশ্বের বাকি রয়েছে। সম্ভবত এগুলোকে আল্লাহপাক সময়ের হিজাবে আবৃত করে দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময় বা যুগ আসার পূর্বে ও ইতিহাসের নির্দিষ্ট ঘটনাসমূহ ঘটার আগে এই আয়াতগুলোর সঠিক মানে বোঝা যাবে না।

“কিন্তু কথা হল এই যে, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে আরম্ভ করেছে যাকে বুঝতে, তারা অক্ষম। অথচ এখনো এর তা’বিল আসেনি। এমনিভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের পূর্ববর্তীরা। অতএব, লক্ষ্য করে দেখ, কেমন হয়েছে তাদের পরিণতি।” (সুরা ইউনুসঃ ৩৯)

এরকম অনেক আয়াত আমরা বর্তমানে তা’বিল করতে পারি যা আগে করা সম্ভব ছিল না। যেমনঃ ফেরাউনের লাশ পুনরুদ্ধার, ইজরায়েল রাস্ট্রের সৃষ্টি ও ইয়াজুজ মাজুজের সাথে তার সম্পর্ক, জায়োনিস্ট ইহুদি খ্রিষ্ট যৌথ বাহিনী ও তাদের মুসলিম দোসর ইত্যাদি।

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav