কোনো এক স্থানের চাঁদ দেখা সারা বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য কি?

“আমি এরকম একটি উত্তর চাচ্ছিলাম। যদিও দুয়েকটা বিষয়ে আরও একটু স্টাডি করা যেতে পারে, যেমন, ইসলামের পরিভাষায় দেশ কি? তবে ওভারঅল লেখাটা মোটামুটি অন্তরকে প্রশান্ত করতে পারে”

🌘🌘🌘🌘🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌙🌘🌘🌘🌘

আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিহিল্ আমীন, আম্মা বাদঃ

অতঃপর পবিত্র রামাযান মাস এবং ঈদ নিকটে আসলেই মুসলিম সমাজে একটি বিষয়ের চর্চা বৃদ্ধি পায়; বরং সাম্প্রতি বিষয়টির চর্চা একটু বেশীই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তা হল, পৃথিবীর কোনো স্থানে বা দেশে যদি হিলাল (১ম তারিখের চাঁদ) দেখা যায় এবং সেই সংবাদ যদি বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়, তাহলে সেই খবরটি সকল মুসলিমের সাউম শুরু করা বা ছাড়ার জন্য প্রযোজ্য কি না? অনেক স্থানে এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। পক্ষে বিপক্ষে দলীল-প্রমাণ ও যুক্তি দিতেও দেখা যায়। আবার অনেকে এসবের তোয়াক্কা না করে অন্য দেশে চাঁদ দেখা দিলে বিশেষ করে সউদীতে দেখা দিলে তারা সউদীর সাথে সাউম পালন শুরু করে দেয় কিংবা ঈদ করে। এর ফলে একই দেশে ও সমাজে বসবাস করার পরেও কেউ এক-দুই দিন আগেই রোযা ধরে কিংবা ছাড়ে।

আর বিষয়টি এখন শুধু এই তর্কে সীমিত নেই যে, অন্য দেশে চাঁদ দেখা দিলে আমাদের জন্যও তা প্রযো‍জ্য না অপ্রযোজ্য বরং তা একধাপ এগিয়ে এই তর্কে পৌঁছেছে যে, সেই সংবাদের ভিত্তিতে পৃথিবীর সকল মুসলিমের প্রতি সাউম শুরু করা বা ছাড়া জরূরি কি না? বলতে পারেন এর থেকেও এক ধাপ এগিয়ে এখন এই তর্কে পৌঁছেছে যে, যারা এই সংবাদ পাওয়ার পরেও রোযা করে না বা ঈদ করে না, তাদের নাকি সাউম ও ঈদ হয় না, তারা নাকি বড় গুনাহগার, বিদআতী এমন কি তাদের মুসলমানিত্বেও এখন প্রশ্ন!

এই সময় কিছু নাম কে ওয়াস্তে মুসলিম এবং মডার্যাুট মুসলিমদেরও ইসলামের কথা বলতে শোনা যায়। তারা যেহেতু এক সাথে সীমাই খেতে পারে না, একই দিনে আনন্দ শেয়ার করতে পারে না, তাই উলামাদের লক্ষ্য করে বলেঃ এদের কারণে মুসলিম সমাজে ঐক্য আসে না, এদের কারণে মুসলিমরা এক হতে পারে না, এদের কারণেই মুসলিমদের এই দুরাবস্থা। এরা অন্যান্য বিষয়ে তো মতভেদ করেই কিন্তু ঈদের মত বড় বিষয়েও মতভেদ করতে ছাড়ে না। এদের কারণেই আমরা ঈদের মত একটি বড় পর্বকে একই দিনে পালন করতে পারছি না, এক সাথে আনন্দ শেয়ার করতে পারছি না। বিশ্বের অমুসলিমরা আমাদের দিকে তাকাচ্ছে আর হাসছে। বড়ই পরিতাপের বিষয়! অতঃপর শুরু হয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাসের শুরু ও শেষ হওয়ার হিসেব নিকেশ।

আমরা বক্ষ্যমান লেখাতে উক্ত বিষয়ের পক্ষে বিপক্ষে শরীয়ার দলীল প্রমাণ এবং সালাফে সালেহীন ও উলামাগণের মন্তব্য পেশ করবো, অতঃপর সেই আলোকে একটি সমাধানে আসতে সচেষ্ট হব, ইন শাআল্লাহ। ওয়ামা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ।

মতভেদের কারণঃ

বিশ্বের কোনো দেশে বা প্রান্তে হিলাল দেখা দিলে এবং সেই সংবাদ বাকী দেশে ও প্রান্তে পৌঁছে গেলে, সেই সংবাদের ভিত্তিতে সকল মুসলিমের এক সাথে সাউম শুরু করা বা না করা এবং ঈদ করা বা না করার বিষয়ে যেই মতভেদ বিদ্যমান তার মুখ্য কারণ হচ্ছে দুটি: (ক) দলীল-প্রমাণে উভয় মতের অবকাশ থাকা। (খ) এই বাস্তবতা যে, পৃথিবীর সব স্থানে একই সময়ে চাঁদ প্রকাশ না পাওয়া।

যদি কোনো দেশবাসী রামাযান মাসের হিলাল দেখে, তাহলে তাদের দেখার ভিত্তিতে পৃথিবীর অন্যান্য সমস্ত দেশবাসীর প্রতি সাউম পালন করা জরূরী হয়ে যায়, না উদয়স্থলের তারতম্যের কারণে প্রত্যেক দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন স্বতন্ত্র দর্শনের ভিত্তিতে তাদের উপর রোযা পালন করা ও ঈদ করা জরূরী হবে? এ বিষয়ে বিগত উলামাগণের দুটি মৌলিক মত পাওয়া যায়।

প্রথম মতঃ চন্দ্রের উদয়স্থলের পার্থক্যের কারণে এক দেশের চাঁদ দেখা পৃথিবীর সকল দেশের জন্য যথেষ্ট হবে না; বরং প্রত্যেক দেশের জন্য স্বতন্ত্র দর্শন স্বীকৃত হবে। এই মতটি ইকরামা, কাসেম, সালেম, ইসহাক্ব সহ ইমাম শাফেয়ী ব্যক্ত করেছেন। [ফিকহ বিশ্বকোষ ২২/৩৬, আল্ মাজমূ ৫/২৭৩-২৭৫, আল্ মুগনী ৪/৩২৮]

এই মতের একটু ব্যাখ্যা স্বরূপ ইমাম নবভী বলেনঃ এই দর্শন সকল মানুষের জন্য সাধারণ ভাবে প্রযোজ্য হবে না; বরং যতখানি দূরত্বে নামায কসর করা বৈধ নয়, ততদূর পর্যন্ত স্বীকৃত হবে। আরোও বলা হয়েছে, যদি চন্দ্রের উদয়স্থল এক হয় তাহলে তাদের সকলের জন্য প্রযোজ্য হবে। [শারহু মুসলিম ৪/২০৯]

এই মতের দলীলাদিঃ

১ম দলীলঃ কুরাইব থেবে বর্ণিত যে, উম্মুল ফায্ল তাকে সিরিয়া প্রদেশে মুআবীয়ার নিকট প্রেরণ করেন। তিনি বলেনঃ “আমি সিরিয়ায় আসলাম এবং তার প্রয়োজন পূরণ করলাম। এই সময় রামাযান শুরু হল আর আমি শুক্রবারের রাতে চাঁদ দেখলাম। অতঃপর মাসের শেষে মদীনায় ফেরত আসলাম। তখন হিলালের প্রসঙ্গ উঠলেআব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা হিলাল কখন দেখেছো? আমি বললামঃ জুমআর রাতে। তিনি বললেনঃ তুমি দেখেছিলে? আমি বললামঃ হাঁ এবং অন্য লোকেরাও দেখেছিল। তারা সকলে রোযা রেখেছে এবং মুআবীয়াও রোযা রাখেন। তখন তিনি (ইবনে আব্বাস রাযিঃ) বললেনঃ কিন্তু আমরা তো শনিবারের রাতে চাঁদ দেখেছি। তাই আমরা সাউম রাখবো যতক্ষণে ৩০ পূরণ না হয় কিংবা তা না দেখতে পাই। আমি তাকে বললামঃ আমাদের জন্য মুআবিয়ার দর্শন ও তার রোযা করা যথেষ্ট নয় কি? তিনি বললেনঃ না। আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনই আদেশ করেছেন।” [মুসলিম, সিয়াম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ নং ৫ হাদীস নং (১০৮৭]

প্রমাণকরণঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) শামবাসীদের হিলাল দর্শন মদীনাবাসীদের জন্য যথেষ্ট মনে করলেন না, যা দ্বারা বুঝা যায় এক দেশের হিলাল দর্শন অন্য দেশবাসীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

আপত্তিঃ এটি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর ব্যক্তিগত রায় তথা ইজতিহাদ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস নয়।

আপত্তির উত্তরঃ

(ক) কোনো সাহাবীর উক্তি যে, ‘আল্লাহর রাসূল আমাদের আদেশ করেছেন’ কিংবা‘আমাদের আদেশ করা হয়েছে’ বা ‘আমাদের নিষেধ করা হয়েছে’বা ‘আদেশ করা হত’ বা নিষেধ করা হত’ এমন বাক্য উসূলে হাদীসের নীতিতে এবং হাদীসের পন্ডিতদের নিকট মারফু ও মুসনাদ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত । [উলূমুল হাদীস, ইবনু সালাহ, পৃঃ ৪৯, দারুল ফিকর বৈরূতের ছাপা] তাই ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর উপরোক্ত হাদীস (আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনই আদেশ করেছেন) একটি মারফূ ও মুসনাদ হাদীস তাঁর ইজতিহাদ বা নিজস্ব রায় নয়।

(খ) উসূলে ফিকহের নীতিতে উল্লেখ হয়েছে, সাহাবীর কথা যদি তার বিরোধিতা না করা হয়, তাহলে তা গ্রহণীয়। এই নিয়মেও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর এই হাদীস গৃহীত ও আমল যোগ্য কারণ তাঁর কথার বিরোধিতা অন্য সাহাবাগণ করেন নি।

(গ) যারা এমন মন্তব্য করেন যে, এটা ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর ইজতেহাদ বা তাঁর ইজতেহাদ গ্রহণ করাটা আমাদের জন্য জরূরী নয়। তাঁদের চিন্তা করা উচিৎ যে, নবী (সাঃ) এর পর এমন একটি বড় বিষয়ে নবীজীর দুআপ্রাপ্ত সম্মানিত সাহাবী যাঁকে (হাবরুল উম্মাহ) ও (তুরজুমানুল কুরআন) উম্মতের পন্ডিত ও কুরআনের মুফাস্সির উপাধী দেওয়া হয়েছে, তাঁর ইজতিহাদ গ্রহণ না করা হলে এ যুগের কার ইজতেহাদ গ্রহণীয় হবে?!

২য় দলীলঃ আল্লাহর বাণীঃ ( فَمَنْ شَهِدَ منكم الشّهْرَ فَلْيَصُمْهُ )

অর্থঃ (কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোযা পালন করে) [বাকারাহ/১৮৫]

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ صوموا لرؤيته و أفطروا لرؤيته فإن غُبِّيَ عليكم فأكملوا عدّة شعبان ثلاثين.

অর্থঃ “তোমরা তা (চাঁদ) দেখে রোযা রাখ এবং তা দেখে রোযা ছাড়, যদি মেঘাচ্ছন্নের কারণে না দেখতে পাও, তাহলে শা’বান মাস ৩০ পূরণ করে নাও”। [বুখারী, সাউম অধ্যায়, নং ১৯০৯, মুসলিম, সিয়াম অধ্যায়]

প্রমাণকরণঃ উপরোক্ত কুরআনের আয়াতেসাউম রাখার আদেশ রামাযান মাস পাওয়ার সাথে এবং হাদীসে সাউম রাখার আদেশ চাঁদ দেখার সাথে সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে, যা দ্বারা বুঝা যায় যে, যাদের নিকট সেই মাস এখনও উপস্থিত হয় নি বা তারা চাঁদ দেখতে পায় নি, তাদের জন্য এই আদেশ প্রযোজ্য হয় নি। তাই চন্দ্র উদয়স্থলের পার্থক্যের কারণে ঐ দেশবাসী যাদের দেশে এখনও চাঁদ উঠেনি তাদের অবস্থা এমন যে, তারা না তো হিলাল দেখেছে আর না তাদের নিকট রামাযান মাস উপস্থিত হয়েছে, ফলে এই বিধান তাদের জন্য প্রযোজ্যও হবে না।

আপত্তিঃ যদিও তারা হিলাল দেখতে পায় নি কিন্তু অন্য সৎ মুসলিম ভাই তো দেখেছে এবং দর্শনকারীর সংবাদ তো তার কাছে পৌঁছেছে। নবী (সাঃ) অন্য সৎ মুসলিম ব্যক্তির চাঁদ দেখার সংবাদের কারণে নিজে রোযা রেখেছেন এবং সাহাবীদেরও রোযা পালনের আদেশ দিয়েছেন। ইবনে উমার (রাযিঃ) বলেনঃ “ লোকেরা হিলাল দেখা-দেখি করে, তারপর আমি রাসূল (সাঃ) কে সংবাদ দিলাম যে, আমি হিলাল দেখেছি। তাই তিনি (সাঃ) রোযা রাখেন এবং লোকদের রোযা রাখার আদেশ দেন”। [আবু দাঊদ, ২৩৪০/ইবনু হিব্বান ৩৪৪৭]

উত্তরঃ সাহাবী ইবনে উমার (রাযিঃ) কোনো এমন দেশ থেকে এসে এই সংবাদ দেন নি যে, সেই দেশে চাঁদ দেখা গিয়েছিল আর মদীনায় যায়নি। আর নবী (সাঃ) তার সেই অন্য দেশের দর্শনকে মদীনাবাসীর জন্য প্রযোজ্য মনে করেছিলেন; বরং সাহাবী ইবনে উমার মদীনা শহরের অধিবাসী ছিলেন এবং মদীনাবাসী নবী (সাঃ) কে সংবাদ দিয়েছিলেন।এমন সংবাদ গ্রহণে আপত্তি নেই কারণ এটা এক দেশ বরং একই শহরের সংবাদ, যাতে চন্দ্রের উদয়স্থল এক। আর আমাদের বিষয় হচ্ছে একটি ভিন্ন দেশের সংবাদ যেখানকার চন্দ্রের উদয়স্থল বর্তমান দেশের উদয়স্থল থেকে ভিন্ন। বেদুইনের সংবাদে রোযা শুরু করা ও কাফেলার সংবাদে ঈদ করার হাদীসের জন্যও এই ব্যাখ্যা প্রযোজ্য; কারণ অন্য স্থান থেকে তাদের আগমন কোনো বড় দূরত্ব বুঝায় না।

৩য় দলীলঃ (বিবেক ও বাস্তবতা)

দেশের দূরত্বের কারণে যেমন সূর্যের উঠা ডুবাতে পার্থক্য রয়েছে, তেমন চন্দ্রের উদয় ও স্থিমিত হওয়াতে ও পার্থক্য স্বাভাবিক। তাই পূর্ব দিকের কোনো দেশে যখন ফজর হয়, তখন পশ্চিম দিকের দেশগুলিতে সেই সময় ফজর হয় না। এই ভাবে যখন ধরুন ভারত উপমহাদেশে সূর্য অস্ত যায়, তখন মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত যায় না। তাই ঐসময় ভারত উপমহাদেশের মুসলিমদের উপর ইফত্বার করা বৈধ হয় এবং মাগরিবের সময় হয় কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের জন্য ইফত্বার জায়েয নয় আর না তাদের ওখানে মাগরিব হয়। তাই মুসলিমদের মাঝে যেমন দৈনন্দিন রোযা শুরু করা ও ইফত্বার করার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে, তেমন অবশ্যই মাস শেষে ইফত্বার করা তথা চন্দ্র দর্শনের ব্যাপারে ও ব্যাবধান স্বাভাবিক। আর এই রকম হলে এক সাথে রোযা শুরু করা, ছাড়া এবং ঈদ করা অসম্ভব ও বাস্তবতা বিরোধী।

• বিগত মুহাদ্দেসগণের জ্ঞানও এ মতের পক্ষেঃ

এক দেশের চাঁদ দর্শন অন্য দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়, যদি চন্দ্রের উদয় স্থল ভিন্ন হয়। এই মর্মে আমরা যদি মুহাদ্দিসগণের হাদীসের অনুচ্ছেদ তথা শিরোনামগুলির দিকে দৃষ্টি দেই, তাহলে তাঁদের মতামত সম্বন্ধে সহজে অনুমান করেতে পারি। এ সম্পর্কে ইমাম মুসলিম (রাহ) এর অনুচ্ছেদ শিরোনাম হচ্ছে, (এই বিষয়ের বর্ণনা যে, প্রত্যেক দেশের জন্য তাদের দর্শন গৃহীত, তারা যখন কোনো দেশে হিলাল দেখবে, তখন তাদের থেকে দূরবর্তীদের জন্য সেই হিলালের বিধান প্রমাণিত হবে না)। ইমাম ইবনু খুযায়মা (রহ) এর অনুচ্ছেদ শিরোনাম হচ্ছে, (অনুচ্ছেদঃ এ কথার দলীল যে, প্রত্যেক দেশবাসীর উপর তাদের দর্শন অনুযায়ী রোযা করা জরূরী হবে, অন্যের দর্শনে নয়।) ইমাম তিরমিযী কর্তৃক লিখিত শিরোনাম হচ্ছে, (অনুচ্ছেদঃ এ কথার বর্ণনা যে, প্রত্যেক দেশের জন্য তাদের নিজেদের দর্শন রয়েছে )। অতঃপর তাঁরা ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর হাদীস উল্লেখ করেছেন।

ইমাম তিরমিযী উক্ত হাদীস বর্ণনা করার পর বলেনঃ (আহলে ইলমদের) জ্ঞানীদের এই হাদীসের প্রতি আমল রয়েছে যে, প্রত্যেক দেশবাসীর জন্য তাদের নিজের দর্শন গৃহীত।[সাউম অধ্যায়, নং ৬৮৯] সাধারনতঃ ইমাম তিরমিযী আহলে ইলমদের এমন উক্তি নকল করার সময় যদি তাদের মাঝে মতভেদ থাকে, তাহলে তিনি তাদের মতভেদও বর্ণনা করে দেন কিন্তু এই স্থলে তিনি কোনো মতভেদের দিকে ইঙ্গীত করেন নি, যা দ্বারা বুঝা যায় যে, হয়তো তাঁর যুগে এ বিষয়ে তেমন মতভেদ ছিল না।

দ্বিতীয় মতঃ যদি কোনো এক দেশবাসী চাঁদ দেখে তো পৃথিবীর সমস্ত মুসলিমদেশবাসীর প্রতি সাউম শুরু করা জরূরী হবে [এই ভাবে ঈদ করাও জরূরী হবে। কোনো দেশীয় কিংবা ভৌগলিক পার্থক্য করা যাবে না]।

এই মতটি, হানাফী, মালেকী, হাম্বালী তথা জমহূর উলামার মত। তবে মালেকী মাযহাবের উলামাদের মতামতের কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে। হাফেয ইবনু আব্দিল বার্র বলেনঃ তারা এক মত পোষণ করেছেন যে, যদি দুটি দেশের মধ্যে দূরত্ব খুব বেশী হয়, যেমন উন্দুলুস (স্পেন) এবং খুরাসানের (ইরান) মাঝে দূরত্ব, তাহলে সেই দর্শন এক অপরের জন্য প্রযোজ্য হবে না। [আল্ ইস্তিযকার, ইবনু আব্দিল বার্র ১০/৩০] ইবনুল মাজেশূন বলেনঃ যেই দেশে চাঁদ দেখা গেছে, তা অপর দেশের জন্য জরূরী হবে না; যতক্ষণে সেই দেসের শাসক জনগণকে আদেশ না করেন। [ইস্তিযকার ১০/২৯]

এই মতের প্রমাণসমূহঃ

১ম প্রমাণঃ আল্লাহর বাণীঃ ( فَمَنْ شَهِدَ منكم الشّهْرَ فَلْيَصُمْهُ )

অর্থঃ (কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোযা পালন করে) [বাকারাহ/১৮৫]

প্রমাণ করণঃ (তোমাদের মধ্যে) সম্বোধনটি একটি ব্যাপক সম্বোধন, যা পৃথিবীর সকল লোক ও দেশের জন্য প্রযোজ্য। তাই তা কোনো স্থান ও দেশের জন্য নির্দিষ্ট হবে না।

২য় প্রমাণঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ صوموا لرؤيته و أفطروا لرؤيته فإن غُبِّيَ عليكم فأكملوا عدّة شعبان ثلاثين.

অর্থঃ “তোমরা তা (চাঁদ) দেখে রোযা রাখ এবং তা দেখে রোযা ছাড়, যদি মেঘাচ্ছন্নের কারণে না দেখতে পাও, তাহলে শা’বান মাস ৩০ পূরণ করে নাও”। [বুখারী, সাউম অধ্যায়, নং ১৯০৯, মুসলিম, সিয়াম অধ্যায়]

প্রমাণকরণঃ (তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং তা দেখে রোযা ছাড়) এখানে তোমরা সম্বোধনটি সকল মুসলিমদের উদ্দেশ্যে, তাই এই আদেশে পৃথিবীর সকল দেশের মুসলিম অন্তর্ভুক্ত। আর এমন হলে পৃথিবীর কোনো এক দেশের লোকদের চাঁদ দেখা বাকী সকল দেশের জন্য জরূরী হবে।

আপত্তি সমূহঃ

(ক) আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূলের এই আদেশটি ও সম্বোধনটি সকল মুসলিমের উদ্দেশ্যে ব্যাপক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা একই সময়ে পৃথিবীর সকল দেশের মুসলিমদের জন্য বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। কারণ ইসলামের ঐ সকল বিধান যা সূর্য বা চন্দ্রের উঠা-ডুবা তথা মধ্যাকাশে হওয়ার সাথে সম্পর্ক রয়েছে তা প্রত্যেক দেশ ও স্থান অনুযায়ী উঠা-ডুবার সাথে সম্পর্কিত। এক দেশের চন্দ্র-সূর্য উদয় ও স্তিমিত হওয়া অন্য দেশের জন্য উদয় ও স্তিমিত হওয়া বুঝায় না। উদাহারণ স্বরূপ নবী (সাঃ) বলেনঃ … “এবং সূর্য ডুবে যাবে তখন রোযাদার ইফত্বার করবে”। [বুখারী, সাউম অধ্যায়, অনুচ্ছেদঃ রোযাদারের জন্য কখন ইফত্বার বৈধ?/মুসলিম সিয়াম অধ্যায়] এখন নবী (সাঃ) এর এই আদেশটি ব্যাপক হলেও, তা পৃথিবীর সকল দেশের মুসলিমের জন্য একই সময়ে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব বরং অবৈধ। কারণ ধরুন ভারত উপমহাদেশে যখন সূর্য অস্ত যায় তখন তাদের ইফত্বার করা বৈধ হয় কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যবাসীদের জন্য বৈধ হয় না বরং তাদের ইফত্বার করা হারাম কারণ এখনও তাদের ওখানে সূর্য অস্ত যায় নি; অথচ আদেশটি ভারত উপমহাদেশ সহ সারা জগতের জন্য আম ও ব্যাপক। তাই চাঁদ দেখে রোযা ধর ও ছাড় আদেশটি ব্যাপক হলেও একই সময়ে সকল দেশের জন্য আমল করা অসম্ভব ও অবাস্তব। কারণ সূর্যের ন্যায় চন্দ্রের উদয় ও স্তিমিত হওয়াতে পার্থক্য থাকা বাস্তব ও প্রমাণিত এবং যেভাবে দৈনন্দিন সময়-সুচী প্রত্যেক দেশ অনুযায়ী বাস্তবায়ন হয়, সেভাবে মাসিক সময়-সুচীও দেশ অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।

(খ) উপরোক্ত কিতাব ও সুন্নার আদেশটি আমরা যারা সাধারণ ভাবে আম-ব্যাপক বুঝে তা পৃথিবীর সকল মুসলিমের জন্য পালন করা জরূরী মনে করছি, সালাফ ও খুলাফায়ে রাশেদীনগণ তেমন বুঝেন নি। তাই খলীফাদের যুগে ইসলাম যখন আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে বহূ দুরে পৌঁছেছিল, তখন কোনো খলীফা তাঁর খেলাফতের সকল বাসিন্দাদের একই সাথে রোযা শুরু করতে হবে বা তাদের সকলকেএক সাথে ঈদ করতে হবে বলে মনে করতেন না। এই কারণে কোনো খলীফার এমন নিয়ম ছিল না যে, যখন তাঁর শহরে রোযার চাঁদ কিংবা ঈদের চাঁদ দেখা দিত, তখন তিনি বিশেষ দূত তাঁর খেলাফতের সকল দূরবর্তী স্থানে প্রেরণ করে এই সংবাদের ব্যবস্থা করতেন।

ইমাম সুবক্বী তাঁর স্বীয় গ্রন্থ “আল্ ইলম আল্ মানশূর ফী ইসবাতিশ্ শহূর” পৃঃ ১৫ তে উল্লেখ করেনঃ [… কারণ উমার বিন খাত্তাব এবং সমস্ত খুলাফায়ে রাশেদীন থেকে এটা বর্ণিত নেই যে, তারা যখন হিলাল দেখতেন, তখন দূরবর্তী প্রদেশে পত্র লিখতেন। যদি উপরোক্ত বিধান তাদের উপর জরূরী হত, তাহলে তাঁরা তাদের অবশ্যই লিখতেন; কারণ তাঁরা দ্বীনের বিষয়ে যত্নশীল ছিলেন ……]

৩য় প্রমাণঃ ইবনে উমার (রাযিঃ) বলেনঃ “ লোকেরা হিলাল দেখা-দেখি করে, তারপর আমি রাসূল (সাঃ) কে সংবাদ দিলাম যে, আমি হিলাল দেখেছি। তাই তিনি (সাঃ) রোযা রাখেন এবং লোকদের রোযা রাখার আদেশ দেন”। [আবু দাঊদ, সিয়াম অধ্যায় নং ২৩৪২/ইবনু হিব্বান ৩৪৪৭]

একদা এক আ’রাবী (বেদুইন) নবী (সাঃ) কে সংবাদ দেয় যে, সে হিলাল দেখেছে, তখন রাসূল (সাঃ) তাকে বলেনঃ “তুমি কি সাক্ষী দিচ্ছ যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই এবং অবশ্যই মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল”? সে বললঃ হাঁ। তারপর নবীজী বিলালকে বললেনঃ “বিলাল উঠ এবং লোকদের সংবাদ দিয়ে দাও যেন তারা আগামী কাল রোযা রাখে”। [আবু দাঊদ, সিয়াম অধ্যায়, নং (২২৪০) তিরমিযী, সিয়াম অধ্যায়ঃ নং (৬৯১) নাসাঈ, ইবনু মাজাহ]

প্রমাণকরণঃ উপরোক্ত হাদীসদ্বয়ে নবী (সাঃ) মাত্র এক সৎ ব্যক্তির চাঁদ দেখার সংবাদ শুনে নিজে সাউম পালন করেন এবং অন্যদের সাউম পালনের আদেশ দেন, যা দ্বারা বুঝা যায় যে, যদি আমাদের নিকটও সৎ লোকের মাধ্যমে চাঁদের সংবাদ পৌঁছে যায়, তাহলে সকলের প্রতি রোযা শুরু করা জরূরী হবে; সংবাদটি যেই দেশেরই হোক না কেন। এই ভাবে ঈদ পালনের ক্ষেত্রেও।

আপত্তি সমূহঃ

(ক) উপরোক্ত হাদীস দুটির মাধ্যমে মুহাদ্দিসগণ এবং উলামাগণ যা বুঝেছেন বা যা প্রমাণ করেছেন, তা হলঃ এক জন সৎ ব্যক্তির চাঁদ দেখার সাক্ষীর উপর নির্ভর করে সাউম শুরু করা বৈধ। এমন নয় যে, এক জন এমন দূর দেশের লোকের সাক্ষী যার দেশের চন্দ্রস্থল বর্তমান দেশ থেকে ভিন্ন, তার পরেও নবী (সাঃ) তার সাক্ষী রোযা পালনে গ্রহণ করেছেন।

(খ) আমাদের বিষয়বস্তু হচ্ছে, এমন দেশের চাঁদ দর্শনের সংবাদ বাকী দেশগুলির জন্য জরূরী কি না, যেই দেশের চন্দ্র উদয়স্থল বাকী দেশের চন্দ্র উদয়স্থল থেকে ভিন্ন। কিন্তু উপরোক্ত হাদীসদ্বয়ে হিলাল দেখার সংবাদদাতা এবং সংবাদ গ্রহীতা একই দেশের বরং একই শহরের, যাদের চন্দ্রের উদয় সময়ে পার্থক্য ছিল না। তাই হাদীস দুটি আমাদের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।

(গ) তার পরেও আমরা যদি উভয় হাদীসকে আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত মনে করি, তাহলে মনে রাখা উচিৎ যে সেই সংবাদটি দেশের ইমাম (শাসক) অর্থাৎ নবী (সাঃ) গ্রহণ করেন অতঃপর সকল লোকদের তা গ্রহণ করার আদেশ করেন। বুঝা যাচ্ছে, সেই সংবাদটি সাধারণ লোকেরা নিজে নিজে গ্রহণ করে স্বয়ং আমল শুরু করেননি; বরং ইমাম তা সত্যায়িত করেছেন এবং তিনি তাঁর জনগণকে ফরমান জারি করে তা গ্রহণ করার আদেশ জারি করেছেন। আর এই রকম নিয়মে যদি এখনও কোনো দেশের শাসক অন্য দেশের সংবাদের যাঁচাই করে নিজ দেশের জন্য গ্রহণীয় মনে করে সারা দেশের লোকদের সাউম পালন বা ঈদ করতে আদেশ করেন, তাহলে তা গ্রহণে কোনো আপত্তি হতে পারে না। কিন্তু যদি এমন না হয়, তাহলে চন্দ্র উদয় সময়ে পার্থক্য রয়েছে, এমন দেশের সংবাদকে যদি ভিন্ন দেশের সাধারণ জনগণ নিজ ইচ্ছায় নিজের মত করে কেউ মেনে নিয়ে সাউম পালন করে কিংবা রোযা ছাড়ে, তাহলে যেমন নববী তরীকার বরখেলাফ করা হয়, তেমন হাদীসেরও বিপরীত আমল করা হয়, যাতে নবী (সাঃ) তাঁর উম্মতকে এক সাথে রোযা রাখার বা ঈদ করার আদেশ করেছেন। নবী (সাঃ) বলেনঃ “সাউম সেদিন যেদিন তোমরা সকলে রোযা রাখ, আর ঈদ সেদিন, যেদিন তোমরা সকলে ঈদ কর, আর কুরবানী সেদিন যেদিন তোমরা সকলে কুরবানী কর”। [তিরমিযী, আবু দাঊদ, বায়হাক্বী, সহীহ সুনান তিরমিযী ১/২১৩]

ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ কতিপয় জ্ঞানী এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ এর অর্থ, রোযা এবং ঈদ জামাআত ও সংখ্যাগুরুর সাথে হবে”।

আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ কুরবানী সেদিন যেদিন সকল লোক কুরবানী করে আর ঈদ সেদিন যেদিন সকল লোক ঈদ করে”। [তিরমিযী, সিলসিলা সহীহা নং (২২৪)]

উল্লেখ্য যে, রামাযানের রোযা শুরু করা এবং ঈদ পালন করা একটি সম্মিলিতাকারে পালন করার ইবাদত বিচ্ছিন্নরূপে পালন করার নয়। তাই এক দেশে বা এক অঞ্চলে বা এক শহরে ও গ্রামে বসবাসকারী লোকেরা বিচ্ছিন্নরূপে কেউ আজ আর কেউ কাল রোযা রাখতে পারে না আর না ঈদ করতে পারে। আর এমন হলে আমরা কমপক্ষে একটি দেশীয় ঐক্য রক্ষা করতে সক্ষম হতে পারি। অন্যথায় এই সময়উপরোক্ত মতের দলীলগুলি সরাসরি আমল করতে লাগলে বিশ্ব ঐক্য তো দূরের কথা বরং একটি দেশীয় ঐক্য বরং একটি প্রাদেশিক ঐক্য বরং একটি শহরবাসীর ঐক্য এমন কি একটি বাড়ির ঐক্য স্থাপন করাও দূরুহ হয়ে দাঁড়াবে, যেমন আমরা উপরোক্ত হাদীসের আলোকে দূর দেশের সংবাদ শুনেই সরাসরি রোযা পালনকারীদের মাঝে এই সব মতভেদ লক্ষ্য করছি।

৪র্থ প্রমাণঃ (একটি যুক্তি) এক সাথে রোযা শুরু করা ও ঈদ করাতে মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

আপত্তি সমূহঃ

প্রথমতঃ এটি একটি যুক্তি ও অনুমান মাত্র, তা হতেও পারে আর নাও পারে।

দ্বিতীয়তঃ প্রশ্ন হচ্ছে, মুসলিম ঐক্য বলতে কি বুঝায় এবং মুসলিম ঐক্য কিসে হতে হবে? সত্যিকারে মুসলিম ঐক্য বলতে বুঝায় তাওহীদের প্রতি ঐক্য। আর ঐক্য হবে ইসলামের মৌলিক ও সার্বিক বিষয় সমূহে; অথচ এক দেশের বা এক সৎ ব্যক্তির চাঁদ দেখা অন্য সকল দেশের ও সকল মুসলিমের জন্য গ্রহণীয় কি না? একটি ইসলামের গৌণ ও ইজতেহাদী বিষয়।

তৃতীয়তঃ ধরুন আমরা বর্তমান পৃথিবীর মুসলিমরা এক সাথে রোযা শুরু করতে লাগলাম এবং এক দিনে ঈদ করতে লাগলাম। তাতে কি মুসলিম উম্মার মধ্যে শির্ক দূরীভুত হবে? বিদআতীরা বিদআত প্রত্যাখ্যান করবে? বিভিন্ন দলে বিভক্ত মুসলিম সমাজ তাদের দল ও মত প্রত্যাখ্যন করে এক হবে? বিভিন্ন মুসলিম দেশ তাদের ভৌগলিক সীমা ছেড়ে এক সীমানায় একত্রিত হবে? বর্তমান মুসলিম বিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে অবগত পাঠক অবশ্যই এর উত্তরে হাঁ বলতে পারেন না; কারণ এটা কল্পনা মাত্র বাস্তবতা নয়। মনে রাখা উচিৎ মুসলিম উম্মার এক দিনে রোযা শুরু করা ও এক দিনে ঈদ পালনের ঐক্য অপেক্ষামুসলিম উম্মার তাওহীদের প্রতি ঐক্য অধিকতর গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

চতুর্থতঃ প্রকৃতপক্ষে মুসলিম ঐক্য ও সংহতির সম্পর্ক চন্দ্র দর্শনে ঐক্যের সাথে নেই। কারণ বিশ্বের মুসলিমগণ দৈনন্দিন নামাযের সময়ে এক নয়, রোযা শুরু ও ইফতার করার সময়ে এক নয়। আর এই পার্থক্য তাদের দলাদলিতে পরিণত করেনি। এই ভাবে মাসের শুরু ও শেষ হওয়াতে পার্থক্য হলেও তাদের দলাদলি হয় নি। এই কারণে বলা সঙ্গত যে, সকল মুসলিমের চন্দ্র দর্শনে ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে, তাদের সকলের ঐক্য হওয়া আবশ্যিক নয়। বরং সত্যিকারে মুসলিম ঐক্য হচ্ছে আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাতে রাসূলকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে তার প্রতি আমল করা।

পঞ্চমতঃ এক মুসলিম ব্যক্তির হিলাল দর্শনকে সকল মুসলিমের দর্শন মনে করে যেই বিশৃংখল পদ্ধতিতে আমরা অনেকে ঐক্যের আহব্বান জানাচ্ছি, তা বর্তমানে মুসলিম উম্মতে যতখানি ঐক্য বিরাজ করছে, তাও ধ্বংসের পথে। তাই আজ দেখা যাচ্ছে, এক দেশে এক প্রদেশে এক অঞ্চলে এমনকি এক বাড়িতে তিন শ্রেণীর লোক। কেউ সংবাদের ভিত্তিতে পৃথিবীর সেই দেশের সাথে রোযা রাখছে, যেখানে তারা সবচেয়ে প্রথমে চাঁদ দেখেছে। কেউ সউদী আরবের সাথে আর কেউ নিজ দেশের দর্শন অনুযায়ী। এবার বলুন এটাই কি মুসলিম ঐক্য? এই ভাবে কি ঐক্য হয় ও হতে পারে? আসলে ঐক্য করতে গিয়ে যদি অনৈক্যই বেশী হয়, তাহলে তা অবশ্যই বর্জনীয়। তাই জনৈক সালাফ বলেছেনঃ জামাআত বদ্ধাকারে জীবন-যাপনের সময় তোমরা তাতে যা অপছন্দ কর, তা দলাদলিকারে জীবন-যাপনের সময় যা পছন্দ কর, তা থেকে উত্তম।

৫ম প্রমাণঃ জ্যোতির্বিদ্যায় এটা প্রমাণিত যে, বিশ্বের মুসলিম দেশ সমূহ তা এক দেশ থেকে অন্য দেশটি যত দূরেই অবস্থান করুক না কেন চন্দ্র উদয় সময়ের মধ্যে সে সব দেশের সর্ব্বচ্চ ব্যবধান ৯য় ঘন্টার মত। আর এমন হলে সকল মুসলিম দেশ রাতের কোনো না কোনো অংশে চন্দ্র উদয় সময়ে একত্রিত হয়। তাই কোনো এক দেশে চাঁদ দেখা গেলে সংবাদ মাধ্যমে বাকী দেশগুলো তাদের দর্শনের উপর নির্ভর করে সাউম পালন করতে পারে।আর এই ভাবে এক সাথে সাউম পালন ও ঈদ করা সম্ভব।

আপত্তিঃ যে সবশারঈ বিধানের সম্পর্ক চন্দ্র দর্শনের সাথে রয়েছে, যেমন সাউম শুরু করা, ঈদ করা, তাতে জ্যোতির্বিজ্ঞান গ্রহণীয় নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল এসব ক্ষেত্রে চন্দ্র দর্শনের আদেশ করেছেন নচেৎ মাসকে ৩০ দিন পূরণ করতে বলেছেন।

নবী (সাঃ) বলেনঃ “তোমরা চাঁদ দেখে রোযা শুরু কর এবং চাঁদ দেখে রোযা ছাড়। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তাহলে ৩০ পূরণ কর”। [বুখারী মুসলিম] এই অর্থের আরোও প্রচুর হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যা হাদীসের গ্রন্থসমূহে সিয়াম অধ্যায়ে দেখা যেতে পারে।

প্রমাণিত হল যে, নবী (সাঃ) রোযা করা কিংবা ঈদ করার আদেশ হিলাল দর্শনের সাথে সম্পর্কযুক্ত করেছেন কোনো অন্য নিয়ম বা হিসাবের সাথে নয়।

নবী (সাঃ) আরও বলেনঃ “আমরা উম্মী (নিরক্ষর) উম্মত, লিখতে জানি না, গণনা জানি না। মাস এমন, এমন, এবং এমন হয়। [তৃতীয় বার এমন বলার সময় বৃদ্ধাঙ্গুলি মুড়ে রাখেন] তার পর বললেনঃ এবং মাস এমন, এমন, ও এমন অর্থাৎ পূর্ণ ৩০। [মুসলিম]

এখানে নবী (সাঃ) ‘এমন’ বলার সময় ২ই হাতের ১০ আঙ্গুল দেখিয়ে ইশারা করলেন। তাই তিন ‘এমন’ অর্থাৎ তিন দশে ত্রিশ। কিন্তু তিনি (সাঃ) প্রথম তিন ‘এমন’ বলার সময় তৃতীয় বারে বুড়ো আঙ্গুল প্রশস্ত না করে মুড়ে রাখলেন মানে ২৯। অর্থাৎ মাস উনত্রিশা হয় এবং ত্রিশা হয়।

হাদীসে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, নবী (সাঃ) এক দিকে বলছেন (লিখতে জানি না, গণনা জানি না) অথচ তিনি (সাঃ) আবার গণনা করছেন। অর্থাৎ সাধারণ গণনা তো আমরা জানি এই ভাবে এই ভাবে কিন্তু জ্যোতির্বিদ্যা বা চন্দ্র বিদ্যার সুক্ষ্ম হিসাব আমরা জানি না। অর্থাৎ নবী (সাঃ) এখানে সাধারণ নিয়ম ও গণনার কথা উল্লেখ করে তা গ্রহণ করার ও মানার নির্দেশ দেন, যা দ্বারা বুঝা যায় কোনো বিজ্ঞানের জ্ঞান যদিও তা সুক্ষ্ম হয়, তা এখানে প্রযোজ্য নয়।

উল্লেখ্য যে, চন্দ্র ও সৌর বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশের উপর নির্ভর করে রোযা করা বা ছাড়া হলে দুটি বড় শারঈ বিধান উল্লংঘন হয়।

ক-সাউম ও ইফতারীর যেই শারঈ কারণ ইসলাম নির্ধারণ করেছে, অর্থাৎ চোখ দ্বারা হিলাল দর্শন, তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

খ-রোযা ও ইফতারের কারণ হিসাবে এমন নতুন কারণ মানা হয়, যার ইসলাম বিধান দেন নি। আর তা হচ্ছে জ্যোতির্বিজ্ঞান বা সৌরবিজ্ঞান।

বিষয়বস্তুর সারাংশঃ

১-সারা বিশ্বে হিলাল উদয়স্থলে পার্থক্য থাকার কারণে বিভিন্ন দেশ ও প্রান্তে সেখানকার দর্শন অনুযায়ী সাউম পালন ও ঈদ উদযাপন স্বীকৃত হবে। এই নিয়ম যেমন দলীল সম্মত তেমন বিগত মুসলিম খুলাফাগণেরও পদ্ধতি। এমন কি যুগে যুগে ধারাবাহিক ভাবে চলে আসা মুসলিম সমাজের নিয়ম। ইতিপূর্বে তাঁরা কোনো মুসলিম দেশে চাঁদ দেখা দিলে সেই দর্শনের ফলে পৃথিবীর সকল মুসলিমকে জরূরী ভিত্তিক আর না মুস্তাহাব ভিত্তিক এক সাথে রোযা শুরু করার বা ঈদ করার ফরমান দিতেন।

ইমাম সুবক্বী তাঁর “আল্ ইলম আল্ মানশূর ফী ইসবাতিশ্ শহূর” গ্রন্থে উল্লেখ করেনঃ [… কারণ উমার বিন খাত্তাব এবং সমস্ত খুলাফায়ে রাশেদীন থেকে এটা বর্ণিত নেই যে, তারা যখন হিলাল দেখতেন, তখন দূরবর্তী প্রদেশে পত্র লিখতেন। যদি উপরোক্ত বিধান তাদের উপর জরূরী হত, তাহলে তাঁরা তাদের অবশ্যই লিখতেন; কারণ তাঁরা দ্বীনের বিষয়ে যত্নশীল ছিলেন ……]

সউদী স্থায়ী উলামা কমিটি বলেনঃ “এই দ্বীন প্রকাশের পর ১৪ শতাব্দী অতিবাহিত হয়ে গেছে, তাতে আমরা এমন কোনো এক সময়ের সম্পর্কে জানি না, যে সময়ে মুসলিম উম্মাহকে এক চন্দ্র দর্শনে একত্রীকরণ করা হয়েছিল। তাই শীর্ষস্থানীয় উলামা পরিষদ মনে করে, বিষয়টি যেন পূর্বের নিয়মে বলবৎ থাকে এবং তা যেন প্ররোচিত না করা হয়। [১০/১৩৫, মাক্তাবা শামেলা অনুযায়ী] তবে তারা একথাও বলেছেন যে, প্রত্যেক দেশ যেন উভয় মতের কোনো একটির প্রতি আমল করা বা না করার বিষয়ে তাদের দেশের উলামাদের পরামর্শ গ্রহণ করেন।

২-বিষয়টি ইসলামের একটি ইজতিহাদী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাতে মতভেদের অবকাশ তো রয়েছে কিন্তু তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া, বাড়াবাড়ি করতঃ দলাদলি করা, ইজতেহাদের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ইজতিহাদ করা এবং ইজতেহাদে সালাফদের পদাংক অনুসরণ না করাচরম আপত্তিকর।

৩-যদি পৃথিবীর কোনো এক দেশে হিলাল দেখা দেয়, তাহলে তাদের দর্শনের ভিত্তিতে পৃথিবীর সমস্ত মুসলিম দেশবাসীর প্রতি সাউম শুরু করা ও ঈদ করা জরূরী হবে,কোনো দেশীয় কিংবা ভৌগলিক পার্থক্য করা যাবে না।

ক-এই মর্মে বর্ণিত দলীলগুলি আম তথা ব্যাপক হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একই সময়ে বাস্তবায়ন অসম্ভব; কারণ সারা পৃথিবীতে হিলালের উদয় সময় এক নয়।

খ-দলীলগুলি ব্যাপক হলেও একা একা আমলযোগ্য নয়; কারণ সাউম শুরু করা ও ঈদ করা একটি (ইজতেমাঈ) সম্মিলিতাকারে করার ইবাদত বিক্ষিপ্তাকারে করার নয়। নবী (সাঃ) বলেনঃ “সাউম সেদিন যেদিন তোমরা সকলে রোযা রাখ, আর ঈদ সেদিন, যেদিন তোমরা সকলে ঈদ কর, আর কুরবানী সেদিন যেদিন তোমরা সকলে কুরবানী কর”। [তিরমিযী, আবু দাঊদ, বায়হাক্বী, সহীহ সুনান তিরমিযী ১/২১৩]

গ-সরাসরি আমলে রয়েছে কিছু বাধা-বিঘ্ন যেমনঃ

• সকলের জন্য কোন্ দেশের হিলাল দর্শন গ্রহণীয় মনে করা হবে?

• কোনো একটি দেশের দর্শন স্বীকৃত হলে (চাঁদ দেখে রোযা কর এবং তা দেখে রোযা ছাড়)। এই হাদীসের প্রতি বিশ্বের বহু দেশের মুসলিম আর আমল করতে পারবে না। হিলাল দেখা এবং তা দেখে নবী (সাঃ) যেই দুআ পড়তে বলেছেন, তা আমল করাও আর তাদের ভাগ্যে জুটবে না; কারণ অনেক দেশের লোককে আর চাঁদ দেখার প্রয়োজন হবে না। স্বীকৃত দেশটি দেখবে আর বাকীগুলো কেবল তাদের সংবাদের ভিত্তিতে রোযা রাখবে এবং ঈদ করবে।

• যারা সন্ধায় পরিষ্কার আকাশে হিলাল দেখার চেষ্টা করেঅতঃপর যদি তা দেখতে না পায়, তাহলে সেই সকল মুসলিম বিনা সংকোচে নিদ্রা যেতে স্বাধীন কিন্তু যদি পৃথিবীর কোনো এক বিশেষ দেশের দর্শন স্বীকার করে নেওয়া হয়, তাহলে স্বভাবতঃ পৃথিবীর বহু দেশের সময়ের সাথে সেই দেশের সময়ের পার্থক্য হবে। এমতাবস্থায় কিছু দেশের লোকের প্রতি এই দায়িত্ব অর্পিত হবে যে, তারা যেন রাত জেগে সেই দেশের সংবাদের অপেক্ষা করে। অতঃপর হাঁ বা না’র সংবাদ রাতেই দেশবাসীদের পৌঁছে দেয়। আর এটি একটি এমন দায়িত্ব ও কর্তব্য যা ইসলাম আমাদের দেই নি।

• শাবান মাসের ২৯ তারিখে কোনো স্থানে চাঁদ দেখা না দিলে, তাদের জন্য ৩০ শাবান পূরণ করতে নবী (সাঃ) আদেশ করেছেনে। সেখানকার লোকদের জন্য ৩০ শাবান হচ্ছে (ইয়ামুশ্ শাক্ক) সন্দেহের দিন। এরা যদি সে দিন অন্য দেশের সংবাদের ভিত্তিতে রোযা রাখে তাহলে, তারা সন্দেহের দিনে রোযাপালনকারী হবে না কি? অথচ নবী (সাঃ) সন্দেহের দিনে সাউম পালন করতে নিষেধ করেছেন। বলতে পারেন এক পর্যায়ে পৃথিবীতে আর সন্দেহের দিনই থাকবে না।

এই রকম আরো প্রচুর বাধা-বিঘ্নের কারণে সরাসরি উক্ত মত পালন করা অনুচিত।

৪-যদি মুসলিম দেশের (ইমাম) শাষক তাঁর দেশের জনগণকে উপরোক্ত মত গ্রহণে আদেশ দেন, অর্থাৎ অন্য দেশের হিলাল দর্শন তাঁর দেশের জন্য প্রযোজ্য মনে করেন, তাহলে তা গ্রহণীয়। আর যদি দেশের ইমাম আদেশ না দেন কিংবা মুসলিম শাষকের অবর্তমানে মুসলিমগণ দ্বীনী বিষয়ে যে সব সংস্থা বা উলামাদের অনুকরণীয় মনে করেন, তারাও যদি উক্ত মতের পক্ষে আদেশ না দেন, তাহলে বিক্ষিপ্তাকারে একই দেশে বিভিন্ন স্থানে রোযা শুরু করা বা ঈদ করা অবৈধএবং মুসলিম জামাআতে ফাটল সৃষ্টিকারীর সমতুল্য।

৫-হিলাল দর্শনে ঐক্যের মাধ্যমে মুসলিম জাতি ঐক্যবদ্ধকরণ একটি খোঁড়া যুক্তি যা, বাস্তবতা বিরোধী। প্রকৃতপক্ষে মুসলিম ঐক্য হচ্ছে তাওহীদের ঐক্য, কিতাবুল্লাহ ও সহীহ সুন্নাতে রাসূলিল্লাহর প্রতি আমলের ঐক্য। আর তা হিলাল ঐক্যে অর্জন হতে পারে না।

৬-উলামাদের নিকট মন্দদূরীকরণের নীতি হচ্ছে, প্রথমে তা যে শরীয়ার দৃষ্টিতে মন্দ তা প্রমাণিত হতে হওয়া। অতঃপর তা অপসারণে যদি তার থেকে বেশী মন্দ স্থান নেয়, তাহলে সেই মন্দ দূরীভূত করা জায়েয নয়।[মাজমুউল ফাতাওয়া-১৪/৪৭২/ ইলামুল মুআক্বিয়ীন, ইবনুল ক্বাইয়্যুম] তাই বিভিন্ন স্থানে হিলাল উদয়ের পার্থক্যের কারণে মুসলিমগণ যেই ভাবে হিলাল দেখে রোযা রাখে বা ছাড়ে, স্বয়ং এই নিয়মটি কোনো মন্দ নিয়ম নয়। তাই তা অপসারণের চেষ্টা করার কোনো প্রয়োজন নেই।অতঃপর এই নিয়ম অপসারণের চেষ্টা করা হলে যদি দেখেন যে, দেশ, সমাজ, এমনকি স্বয়ং এক পরিবারে অনৈক্য সৃষ্টি হচ্ছে এবং বৃহৎ মুসলিম দল ভেঙ্গে আরো ছোট ছোট উপদলে পরিণত হচ্ছে, তখন এমন ঐক্যের ডাক মূলতঃ অনৈক্য ও বিভেদ সৃষ্টির ডাক, যা বর্জনীয়।

[ওয়াল্লাহু আ’লাম]

লেখক: শাইখ আব্দুর রাকিব আল-বুখারী

লিসান্স, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় দাঈ, খাফজী দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব। Email: a.raquib1977@yahoo.

Advertisements

দিনার দিরহামের হুযুর

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম কি কোরআন হাদিস শিখিয়ে দিনার নিছেন? দিরহাম? নাউযুবিল্লাহ। 
মুসা য়ালাইহিস সালাম তাওরাত শিখিয়ে কিছু নিছেন? 
ঈসা য়ালাইহিস সালাম ইঞ্জিল শিখিয়ে? 
দাউদ য়ালাইহিস সালাম যবুর শিখিয়ে? 
সাহাবীদের কি অবস্থা? 
আবু বকর (রাযি), উমর, উসমান, আলী, আবু হোরাইরা, আবু যর গিফারী (রাযি য়ানহুম)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস (রাযি য়ানহুমা)?
কোন নারী সাহাবী?
তাবেঈন? তাঁবে তাবেঈন?
আবু হানীফা (রহি), আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারী?
কেউ নয়।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, “অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।” (সূরা ইয়াসীন, আয়াত ২১)

বিনিময় না নেওয়ার কথা কোরআনে আছে। হাদিসে আছে। সেসব আলেমদের বিষয়ে সতর্কবাণী আছে, ধমকী আছে, যারা কোরআন শিখিয়ে বিনিময় নেয়।

আমি কি মিথ্যা বলছি? আপনারা কোরআন খুলে দেখেন। হাদিস খুলে দেখেন।

কোরআন হাদিসের জ্ঞান আল্লাহ তায়ালা ফ্রী করছেন। কারণ এটা মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয়। যেমন আল্লাহ সবার জন্য আলো হাওয়াকে ফ্রী করছেন। কারণ আলো হাওয়া ছাড়া মানুষ অচল। দ্বীন ছাড়া মানুষ আরও বেশী অচল। কাজেই দ্বীনের জ্ঞান হবে ফ্রী।

দ্বীন শিখিয়ে আজকাল বিনিময় নেয়া হয় কি, হয় না? স্কুল কলেজে মাস্টাররা যেমন লেখাপড়া শিখিয়ে টাকা নেয়, হুজুররা তেমন কোরআন হাদিস শিখিয়ে টাকা নেয়। একই রকম। দুটার মধ্যে কোন পার্থক্য আছে? টাকা ছাড়া তারা বাচ্চা পড়ান? বেতনের কথা আগে ক্লিয়ার করে নেন। ব্যতিক্রমের কথা বলছি না, সামগ্রিক অবস্থার কথা বলছি। টাকা নিয়েও তো ঠিকভাবে পড়ান না। ক্লাসে মোবাইল টিপেন। সবাই হয়তো মোবাইল নিয়ে ক্লাসে যান না। কিন্তু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যান।

কোরআন হাদিসের স্পষ্ট নির্দেশনা, অতীতের অসংখ্য উদাহরণ থাকার পরও তারা ফাঁকফোকড় বের করছেন, এ টাকা নাকি জায়েজ, এ টাকা নাকি হালাল। সর্বোৎকৃষ্ট রোজগার। এটা নাকি বিনিময় না। বিনিময় না তাহলে কি?

অনেকে প্রশ্ন করেন, তারা খাবে কি? এ প্রশ্ন আমাকে করেন কেন? আমি কি তাদের রিজিকের জিম্মাদারী নিয়েছি নাকি? রিজিকের জিম্মাদারী আল্লাহর। নাবী রাসূল (য়ালাইহিমুস সালাম), সাহাবায়ে কেরাম (রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুম) ফ্রি দ্বীন শিখিয়ে কি না খেয়ে মরে গেছেন?

এ লেখা যখন লিখছি তখনও বাহির থেকে ওয়াজের আওয়াজ ভেসে আসছে। শীতের রাত। ওয়াজের আওয়াজ আসবে স্বাভাবিক। এই মাত্র কোন সওদাগর যেন দিল তিন হাজার টাকা। সবাই আমীন বলতেছে। দরূদ শরীফও হয়ে গেল।

এখন দ্বীনের মূল আকর্ষণ হচ্ছে মাল। মানে টাকা। নগদ কড়ি। এটাই হচ্ছে দ্বীনের কেন্দ্রবিন্দু। একে ঘিরে এখন দ্বীনের প্রচারকরা আবর্তিত হয়। মসজিদ মাদ্রাসা ওয়াজ মাহফিল বেশীর ভাগ জায়গায় একই অবস্থা।

মাওলানা সাদ নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। হয়তো তিনি বিতর্কিত কথা বলেছেন, হয়তো তিনি বাতিল, গোমরাহ ব্যক্তি। কিন্তু যদি তিনি সত্যিই এ কথা বলে থাকেন এবং এ কথার উপর স্থির থাকেন যে, দ্বীন শিখিয়ে বিনিময় নেওয়া ঠিক না, তবে তিনি ভুল বলেননি। অন্তত এ কথাটা। তার অন্য সব কথা ভুল হতে পারে। এ কথার ভুল তারাই ধরবে যারা দ্বীনী শিক্ষা দিয়ে টাকা নেয়।

আল্লাহ তায়ালা দ্বীন শিক্ষা দিয়ে বিনিময় নেয়া হতে আমাদের হেফাজত করুন। আমাদের বংশধরদের হেফাজত করুন। আমীন। আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল য়ালামীন।

January 14, 2018 at FB

এটা কি ফ্যান্টাসির বিষয়?

ভাইদের মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে একটা ফ্যান্টাসি কাজ করে।

সে জানে ইসলাম তাকে অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তার সে সুপ্ত মনোবাসনা পূর্ণ হচ্ছে না। এ অজানা কারণটা তৈরি করেছে এ দাজ্জালী সমাজ। কারণ দাজ্জালী সমাজ যদিও অনেক টেনেটুনে, অনেক প্রতীক্ষার পর এক বিয়ের অনুমতি দেয় কিন্তু দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ বিয়ের অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।

কারণ দাজ্জাল বিয়ে জিনিসটাই পছন্দ করে না। সে চায় ফ্রি মিক্সিং। যা তরুণদের কাছে কাছে আসার গল্প নামে পরিচিত। ফলে যারা সমাজের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয় তাদের কাছে নারী কিছুই না।

আমি এমনও লোক দেখেছি মানিব্যাগে কনডম রাখে। বলা যায় না, চলতে ফিরতে কখন কার সাথে রিলেশন বিল্ড আপ হয় আর মানিব্যাগে রাখা জিনিসটা কাজে লেগে যায়। যেহেতু রিলেশনটা হয় স্বল্প সময়ের জন্য কাজেই দোকান পর্যন্ত যাওয়ার রিস্ক নিতেও রাজি না। এর মধ্যেও রিলেশন ব্রেক আপ হয়ে যেতে পারে। ফলে তাদের কাছে নারী তেমন কোন দামি বিষয় না। ডালভাতের মতো।

কিন্তু যারা ইসলামিক মন মানসিকতার অধিকারী তাদের জন্য ব্যাপারটা কিন্তু সহজ নয়। কারণ প্রতি মুহূর্তে আখিরাত, শরিয়ত, তাকওয়া ইত্যাদি নানা কিছু তার গতি রোধ করে দেয়।

ফলে সে না পারে অবাধ মেলামেশায় অভ্যস্ত হতে, না পারে দ্বিতীয় আরেকটা বিয়ে করতে। কারণ দ্বিতীয় বিয়ে করার মতো শরীয়তী ইলেম ও মানসিক শক্তি তার কখনো হয়ে উঠে না।

ফলে সে একটা দ্বিতীয় বিয়ের ফ্যান্টাসির রাজ্যে বসবাস শুরু করে। সে মনে করে হয়তো কোন তাকওয়াসম্পন্ন, পরহেজগার নারী তার জীবনে আসবে, কারণ ফেসবুকে এরকম অনেক নারীর দেখা মেলে, আর সে নারী এসে তার জীবন পরিপূর্ণ করে দেবে। তাকে আগলে রাখবে, তার পূর্বতন স্ত্রীর সাথে বান্ধবীর মতো সদ্ভাব থাকবে, আবার তার সন্তানগুলোকেও আদর করবে।

এরকম একটা কল্পনার জগতে বসবাস করা আসলেই খুব কষ্টের। যেহেতু সে তার স্ত্রীকে ভালোবাসে সে মনে করে স্ত্রী বোধহয় তার কষ্ট কিছু বুঝবে। বা অন্তত তার কথায় সায় দেবে।

কারণ সে দেখে তার স্ত্রীও মাশাআল্লাহ ভালো দ্বীনদার। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, পর্দা করে। ফলে তার একটা বিশ্বাস জন্মে যে সে অন্তত তার কথায় ইয়েস ইয়েস করবে। এদিকে দুর্বল মুহূর্তে সে তার সাথে বিষয়টা শেয়ার করে বসে। এমনকি তাদের পারসোনাল মুহূর্তেও এ ধরনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বসে।

এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার, এটা খুবই গর্হিত ব্যাপার, কারণ এটা ঠিক নয়। এতদিন সংসার করেও সে নারী জাতির মন বুঝতে পারেনি। এমনকি নারী জাতির মান সম্মানও বুঝতে পারেনি। আমি খুব অবাক হই, একজন স্বামী কিভাবে তার স্ত্রীর কাছে আরেক বিয়ের প্রসঙ্গ তুলতে পারে। তার কাছে অনুমতি চাওয়া মানে তাকে অপমান করা।

এ বিষয়টি আমাদের আইন প্রণেতারাও বুঝতে পারে নাই। যতদূর জানি, তারা দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতির নেয়ার একটি আইন করেছেন। তারা কি জানেন না, একজন নারীর সামনে কখনো আরেকজন নারীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করা যায় না? হোক সেটা হাস্যচ্ছলে বা খেলার ছলে। যার সাথে ঘর করেন, তাকে এ সম্মানটুকু দেবেন না?

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামও কখনো এক স্ত্রীর সামনে আরেক স্ত্রীর প্রসঙ্গ তুলতেন না, আমার জানামতে। যার যার ঘর আলাদা আলাদা। একজন নারী যখন বিয়ে করে, তার ন্যূনতম চাহিদা হচ্ছে একটা আলাদা ঘর, মানে প্রাইভেসি। সেখানে শাশুড়ি, ননদ, সতিনের আসা যাওয়া থাকতে পারে, কিন্তু অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় এসব না আসাই উচিত। যতক্ষণ স্ত্রীর কাছে থাকেন ততক্ষণ শুধু তাকে নিয়েই থাকেন। স্ত্রী আপনাকে ভালবাসবে।

আরেকটা বিয়ে করতে যদি ইচ্ছে করে, সেটা করেন, ইসলাম আপনাকে নিষেধ করেনি, আপনার স্ত্রী মানবে কি না সেটা তার ব্যাপার, আশা করি মানবে, কিন্তু তার কানের সামনে তাকে খাটো করে অন্য নারীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা ভালোমানুষী নয়, তবে ছেলেমানুষি অবশ্যই। আর নারীরা ছেলেমানুষ পছন্দ করে না। তারা পছন্দ করে পুরুষমানুষ। আমার এখানে নারী পাঠক আছেন, তারা জানেন আমি ভুল কিছু বলেছি কি না।

রিডিং গ্লাস

আসসালামু আ’লাইকুম। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। কিছু ব্যক্তিগত স্টাডিতে ব্যস্ত ছিলাম। যার ফলে ফেসবুকে লগ ইন করতে পারিনি। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। জীবন আগের মতোই চলছে। শুধু ইস্কেটোলজি থেকে দূরে থাকার কারণে মনে হয়েছিল পৃথিবীতে কোথাও কোন সমস্যা নেই। এর মধ্যে ব্যক্তিগত জীবনে যোগ হয়েছে আইগ্লাসেস। বেশিরভাগ সময় কম্পিউটারেই লেখাপড়া করা হয় বলে এতদিন ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কারণ কম্পিউটার পরিষ্কার দেখতে বাধ্য করে। ফন্ট, ব্রাইটনেস ইত্যাদি এডজাস্ট করা যায়। কিন্তু যখন বই পড়তে শুরু করলাম তখনই দেখতে পেলাম ছোট লেখাগুলো পড়তে সমস্যা হয়। ঘরের অন্য কারো পুরনো চশমা চোখের সামনে ধরতেই দেখি সব পরিষ্কার। বুঝে গেলাম চশমা লাগবে। একে বলে প্রেসবায়োপিয়া। চল্লিশ বছরের দিকে কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা হয়। কিন্তু দূরের জিনিস দেখা যায়। কারণ আমাদের চোখের লেন্স কাছের জিনিস দেখার জন্য যে পরিমাণ উত্তল হওয়া দরকার তা হয় না। ফলে ফোকাস রেটিনা ছাড়িয়ে আরও পেছনে চলে যেতে চায়। ফলে কাছের লেখা ঝাপসা আসে। তখন লেখা একটু দূরে নিলে ফোকাস রেটিনায় ঠিকমতো পড়ে। এজন্য দেখা যায় অনেক বয়স্ক লোক পেপার হাত দিয়ে দূরে নিয়ে পড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু লেখা দূরে নেয়ার কারণে ছাপা ছোট দেখা যায়। ফলে এতেও পড়তে কিছুটা অসুবিধা হয়। এখন চোখের সামনে উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার করলে আলোক রশ্মিগুলো আগে থেকেই প্রতিসরণের মাধ্যমে সংকুচিত হয়ে আসে। এতে চোখের লেন্সের উপর চাপ কমে। সবকিছু ঝকঝকে পরিষ্কার দেখা যায়। ফলে এর পরদিন সকালে চশমার দোকানে গিয়ে ট্রায়াল এন্ড এরর বেসিসে নিজেই পাওয়ার ঠিক করলাম। খুব ছোট লেখা পড়ার জন্য +১.২৫ ডায়পটার। আর মোটামুটি সাধারণ লেখা পড়ার জন্য +১.০ ডায়পটার রিডিং গ্লাস। নতুন চশমার উত্তেজনা এখনও কাটেনি। কারণ সেটার লেন্স আবার ইউভি রে প্রটেকশন দেয়। আবার আলোতে গ্লাস থেকে সবুঝাভ কালার টিন্ট দেয়। যেহেতু কম্পিউটারে কাজ করতে হয় মনে হয় ভালই হবে জিনিসটা। সবচেয়ে বড় খুশির কথা হলো এই একচল্লিশ বিয়াল্লিশ বৎসর পর্যন্ত কোন চশমা ছাড়াই দেখতে পারলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ্‌র কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ।

March 16, 2018 at FB

অস্বাস্থ্যকর দশটি জিনিস

সুস্থ থাকার জন্য এই দশটি জিনিস থেকে বেঁচে থাকুন। পারলে ঘর থেকে বিদেয় করে দিন।
 
(1) Artificial Sweeteners – বারডেমওয়ালারা আপনাকে বলবে চিনির বদলে আর্টিফিসিয়াল সুইটেনার খান। মানে ডায়াবেটিসের বদলে ক্যানসার ডেকে আনুন।
 
(2) Plastic Food Containers and Bottles – ক্যানসার, হাই ব্লাড প্রেসার, লো আই কিউ শিশু, বাচ্চা না হওয়ার প্রবলেম।
 
(3) Non-Stick Cookware – এই নন স্টিক উপাদানটা ক্যানসার সৃষ্টি করে। গ্লাস বা সিরামিকের কুকওয়ার ব্যবহার করুন।
 
(4) Air Fresheners –
বাজে জিনিস, শরীরের হরমোনের ক্ষতি করে, ক্যানসার সৃষ্টি করে। গন্ধ হলে গন্ধ মাস্ক না করে উৎস খুঁজুন। দরজা জানালা খুলে দিন। সুগন্ধের জন্য এসেনশিয়াল ওয়েল ব্যবহার করুন।
 
(5) Antibacterial Soaps and Detergents – এসব রুটিনলি ব্যবহার করা ঠিক নয়। গোসলের জন্য হালকা গরম পানি ও সাধারণ সাবান যথেষ্ট। পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ধৌত করলেই শরীর বা হাত পর্যাপ্ত জীবনামুক্ত হয়। এর বেশি করার দরকার নেই।
 
সাবান বা টুথপেস্টে এন্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান এলার্জি, হরমোনের সমস্যা, ওয়েট গেইন, ইনফ্লামেশন সহ নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
 
(6) Commercial Cleaning Products -রান্নাঘর এবং বাথরুম ডিসইনফেকশন করার জন্য বেকিং সোডা, 3% হাইড্রোজেন পারক্সাইড বা হোয়াইট ভিনেগার ব্যবহার করুন।
 
(7) Personal Care Products – লোশন, শ্যাম্পু, মেকআপ এগুলোর মাধ্যমে প্রতি বছর আপনার শরীরে 5 পাউন্ড ক্যামিকেল স্কিনের মাধ্যমে এবজর্ব হয়। আই লাইনার, মাসকারা, লিপিস্টিক এগুলোতে সীসা থাকে। এসব বাদ দিয়ে পার্সনাল কেয়ারের জন্য খাঁটি নারিকেল তেল বা সরিষার তেল ব্যবহার করুন।
 
(8) Stale Spices – বাসি পুরানো মসলা ফেলে দিন। টাটকা ফ্রেস মসলা ব্যবহার করুন। মসলাতে শাকসবজি ও ফলের চেয়ে বেশি এন্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা খুব উপকারী। বাসি মসলায় এসব উপাদান নষ্ট হয়ে যায়।
 
(9) Electronic Devices – ওয়ারলেস রেডিয়েশন মারাত্মক জিনিস। বিশেষ করে যারা মোবাইল পকেটে রাখেন। তারা কন্টিনিউয়াস রেডিয়েশন এক্সপোজারের মধ্যে থাকেন। তাই মোবাইল শরীর থেকে দূরে রেখে বহন করবেন।
 
(10) Chair – চেয়ারে বসে কাজ করা স্মোকিংয়ের চেয়েও খারাপ জিনিস। যতই ব্যয়াম করা পেটানো শরীর হোক না কেন চেয়ার টাইপ টু ডায়াবেটিস মেলাইটাস, ওবেসিটি, পেইনসহ নন কমিউনিকেবল ক্রনিক ডিজিজের একটি অন্যতম কারণ। অবাক হলেও সত্য চেয়ারে বসে কাজ করা জীবনের কোয়ালিটিকে কমিয়ে দেয় এবং মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে। কাজ করার জন্য স্ট্যান্ডিং ডেস্ক বানিয়ে নিন। দাঁড়িয়ে কাজ করুন। কাজের মাঝে মাঝে হাঁটুন।
 
#Find_out_reality
 
তথ্যসূত্র: ডা: জোসেফ মারকোলা।

স্বাস্থ্যের প্রাথমিক জ্ঞান যা অনেক শিক্ষিত মানুষেরও নেই

আমেরিকার মানুষ এখন কোক খাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে। বা ছাড়ার জন্য স্ট্রাগল করছে। এর মূল কারণ চিনি ও আর্টিফিসিয়াল সুইটেনার। কারণ তারা এখন স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে। জেনে গেছে পরিণতি। কোককে ওরা বলে সোডা। সেখানে কোকের বিক্রি ৭% কমে গেছে।
 
Coca-Cola is engaging in an intensive marketing ploy to “reintroduce” Coke, using smaller serving sizes and personalized cans to target teens. Marketing Ploy মানে বাজারজাত করার কৌশল।
 
আসুন আমরা সোডার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছু জানি।
 
সোডা খাওয়ার পর ব্রেনে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হয়। ২০ আউন্সের একটা কোকের বোতলে ১৬ চামচ চিনি থাকে ফ্রোকটোজ সিরাপ হিসেব। এ জিনিস পরিপাকের জন্য ইনসুলিন প্রয়োজন হয়, কিন্তু এটা একই সাথে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স করে। ফলে ইনসুলিন কাজ করতে পারে না। ফলাফল ডায়াবেটিস।
 
আসুন আমরা দেখি এক কৌটা কোক খেলে শরীরে কি কি ঘটে। খুব মন দিয়ে খেয়াল করুন।
 
Within 20 minutes: Blood Sugar rises, ফলে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিনের প্রভাবে প্রচুর সুগার ফ্যাটে পরিণত হয়। (এটা ইনসুলিনের একটা ইফেক্ট। এ কারণে দেখবেন যারা ইনসুলিন নেয় তার খুব দ্রুত মোটা হয়ে যায়)। এই বিশেষ তথ্যটি মনে রাখবেন, যা পরে আমার লেখা বুঝতে কাজে দিবে।
 
Within 40 minutes: কোকের ক্যাফেইন শরীরে গৃহীত হয়। চোখের মণি প্রসারিত হয়। ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়। লিভার থেকে আরো সুগার রক্তে চলে আসে।
 
Around 45 minutes: রক্তে ডোপামিন বেড়ে যায়, ফলে ব্রেনের প্লেজার সেন্টার উদ্দীপ্ত হয়। ঠিক হেরোইনের আইডেন্টিকাল রেসপন্স হয়।
 
After 60 minutes: রক্তে ধীরে ধীরে সুগারের পরিমাণ কমতে থাকে। ফলে ক্ষুধা অনুভূত হয়। এ মুহূর্তে শরীর চায় মিষ্টি কিছু স্ন্যাকস বা পানীয়।
 
ফলে এ সাইকেল আবার চলতে থাকে। একসময় প্যানক্রিয়াস বিদ্রোহ করে। সে আর ইনসুলিন সাপ্লাই দিতে পারে না। এদিকে অতিরিক্ত ইনসুলিন এক্সপোজারের কারণে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয়ে যায়। যতটুকু ইনসুলিন আছে তা আর কাজ করে না।
 
ফলে হয় IGT বা ইমপেয়ার্ড গ্লোকোজ টলারেন্স এবং এর পরের ধাপে ডায়াবেটিস।
 
এখন ডাক্তার প্রাথমিকভাবে বলবে, ইনসুলিনের সেনসেটিভিটি বাড়ানোর জন্য হাঁটুন। তাতে খুব বেশী সুবিধা না হলে সেনসেটিভিটি বাড়ানোর ওষুধ দিবে। এটা যখন ফেইল করবে তখন বলবে, আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ইনসুলিন নেই। কাজেই ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হবে। এবং চিরজীবনের জন্য কোন এক ইনসুলিন প্রস্তুতকারক ওষুধ কোম্পানির কাছে আপনাকে হস্তান্তর করে দিবে।
 
তখন দ্রব্যমূল্যের খবর রাখার পাশাপাশি ইনসুলিনের মূল্য আবার বাড়ল কি না আপনাকে সে খবরও রাখতে হবে। ইনসুলিনের দাম বেড়েছে প্যাকেট প্রতি ৫০০ টাকা – এ জাতীয় খবর দেখলেই খুব আগ্রহ নিয়ে সে খবর পড়ে ফেলবেন।
 
তথ্যসূত্রঃ ডাঃ জোসেফ মারকোলা।

দ্বিতীয় বিয়ে দাজ্জাল পছন্দ করে না। সহ্য করে না। ব্যতিক্রম ও অপারগতা ছাড়া বেশীর ভাগ মেয়েই স্বামীকে ভাগ করতে পছন্দ করে না। তারা কোরআনের এই বিধান পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না। তার মানে স্রষ্টার বিধানের প্রতি তারা পুরোপুরি আত্মসমর্পন করে না। নাটকে মিডিয়ায় পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে নেগেটিভ এবং খুবই খারাপভাবে দেখানো হয়। আর পুরুষদের মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য যে চারিত্রিক গুণাবলী কাঙ্খিত, তা’ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বিদ্যমান থাকেনা। এ এক কঠিন সমস্যা। সত্যি কথা বলতে কি – দাজ্জাল “বিয়ে” জিনিষটাই পছন্দ করে না। সে নারী পুরুষের আলাদা সত্ত্বা মানে না। তাই সে নারী-নারী, পুরুষ-পুরুষ বিয়ে, incest, পশুকাম ইত্যাদি চালু করেছে। 😮

লিখেছেনঃ Ashraf Mahmud