অসুখ বিসুখে হোমিওপ্যাথিক পরামর্শ

লিখেছেনঃ BASHIR MAHMUD ELLIAS

২২০. Sir, 50 mlcml mdcn er bepare jodi kisu advise korten

Ekhono beshirvag manush e shototomik poddhoti use kore but onekei abar bole 50 mlcml hosse 6th edition organon ke follow kore

Ami nobio practice shuru korsi, jodi ektu advise korten

উত্তরঃ পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতির ঔষধের ওপর অনেক বই পাওয়া যায়, সেগুলো পড়ে দেখুন । পৃথিবীর অধিকাংশ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তাররাই মনে করেন যে, পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতির ঔষধের ওপর হ্যানিম্যান তার গবেষনা শেষ করে যেতে পারেন নাই । এজন্য অধিকাংশ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগণই শততমিক পদ্ধতির ঔষধ ব্যবহার করে থাকেন । আরেকটি কারণ হলো পঞ্চাশ সহস্রতমিক পদ্ধতির ঔষধের গবেষনা যখন প্রকাশিত হয়, তার অনেক পূর্বেই শততমিক পদ্ধতির ঔষধ বাজার দখল করে বসে আছে । কাজেই সত্তর বছর বিলম্বের কারণে পঞ্চাশ সহস্রতমিক ঔষধ আর শততমিক ঔষধকে বাজার থেকে উৎখাত করতে সক্ষম হয় নাই । তবে যারা পঞ্চাশ সহস্রতমিক ঔষধ ব্যবহার করেন তারা বলেন যে, এগুলো ক্রনিক ডিজিজের চিকিৎসা ব্যবহার করা সুবিধাজনক এবং ফলাফল দেয় বেশ চমৎকার ।

২২১. assalamualikum sir, kmn asen asha kori Allahpak apnake valo rakhce, sir apner wall a akta post dekhlam j 11 ti ousude diabetes theke mukti, tobe okhane ousud gulur nam pai nai, amar mayer diabetes, r halka hridrug r pray sara bochori dater betha thake akhono ase ajke giye cilo dat uthaite pore dr. bolce diabetes komate hobe pore uthabe akhon diabetes 10 ase, se akhon ki ousud khete pare ba ai bapare apner poramorso chai plzz,

২২২. ৪ দিন থেকে জ্বর । রাত ৮টার পর জ্বর আসে ১০২-১০৩ ডিগ্রী । তারপর প্যারাসিটামল খেয়ে জ্বর ঘন্টাক খানেক পর কমে যায় । তখন ফ্যান না দিলে ঘেমে যাই । রাত ২টা থেকে মাথা ব্যথা শুরু হয় তা সকাল ৯-১০ টা পর্যন্ত থাকে । ব্যথাতে আহ উহ করতে হয়, ঘুমাতে পারি না । মাথা ঝাঁকালে ব্যথা আরো বাড়ে । খাওয়ার রুচি প্রথম ২দিন থাকলেও বর্তমানে নেই । দিনে জ্বর থাকে না । এবং শরীরও ঠিক থাকে । পায়খানা পাতলা টাইপ । . এটা কি ধরনের জ্বর ভাই?

উত্তর : Rhus toxicodendron 30 খান ১ ফোটা অথবা ৫ বড়ি করে রোজ ৩ বার – ৪ দিন ।

২২৩. স্যার অাসসালামু আলাইকুম। স্যার আমার মুখে ব্রণ। তার জন্য ফোনা প্লাস, বেটনোভেট ক্রিম ব্যবহান করেছি বাট কোন উপকার পাই নাই। তাই আজকে সরকারি হোমিও হাসপাতাল এ যেয় ডাক্তার দেখাই। এবং আমাকে এই ঔষধ দেয়। প্রেসক্রিপশন এর ছবি দিয়ে দিলাম। স্যার এ ঔষুধ খেলে কি আমার ব্রণ কমবে নাকি অন্য কোন ঔষধ খেতে হবে? বিস্তারিত পড়ুন

লাভ ম্যারেজ নয়, ম্যারেজ উইথ লাভ

সূরা নিসার ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন,

“……….. মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই।” [৪ঃ৩]

এখানে আল্লাহ্‌ পরিষ্কার বলে দিয়েছেন “যাদের ভালো লাগে” সেইসব নারীদেরকে বিয়ে করতে। আর আমাদের সমাজে “যদি কোন মেয়েকে ভালো লাগে” তাকে বিয়ে করতে কি পরিমাণ কষ্ট পোহাতে হয়, কাঠখড় পোড়াতে হয় তা বাঙ্গালী নাটক নভেলের চেয়েও বাস্তবে আরো ভালো করে বোঝা যায়।

ছেলে পড়াশোনা শেষ করে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একটা চাকরি যোগাড় করার পর বাবা-মার খেয়ালে আসে যে ছেলের বিয়ে দেয়া দরকার। শুরু হয় পাত্রী খোঁজার মহাযজ্ঞ। তারপর মা বাবার পছন্দ, বোনের পছন্দ, ভাবির পছন্দ, মামার পছন্দ, অমুকের ভাসুরের পছন্দ সবার পছন্দ শেষ করে পাত্রের পছন্দ হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়। লাজুক ছেলে তখন সলজ্জে উত্তর দেয়, ‘আপনারা মুরুব্বী মানুষ, আপনারা যা ভালো বুঝেন তাই করেন। এটি হচ্ছে টিপিকাল বাঙ্গালী ভালো ছেলে।

একবার এক মহিলা সম্ভবত তার নাম লায়লা বিনতে কায়স ইবনুল খাতিম রাসূলুল্লাহর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেদমতে হাজির হয়ে তার সাথে নিজেকে বিয়ের জন্য সরাসরি প্রস্তাব পেশ করেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নীরব থাকেন। মহিলার কথা শুনে পাশে থাকা আনাস (রাঃ) এর কন্যা বলে উঠলেন,

‘মা কানা আ’কাল্লা হা’য়াহা’
‘মেয়েটা কত নির্লজ্জই না ছিল’

আনাস (রাঃ) তাকে বললেন, ‘সে তোমার তুলনায় অনেক ভালো ছিল। সে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল এবং নিজেকে রাসূলের (সা.) নিকট বিয়ের জন্য পেশ করেছিলো।’

পরবর্তীতে এক সাহাবী তাকে বিয়ের জন্য আগ্রহী হলে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বিয়ে দিয়ে দেন।

খানসা বিনতে খিদাম রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহার স্বামী উহুদ যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণ করলে তার বাবা তাকে এক ব্যাক্তির নিকট বিয়ে দিয়ে দেন। তখন হযরত খানসা (রা.) রাসুল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন,

‘আমার পিতা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন; অথচ আমি আমার সন্তানের চাচাকেই অধিক পছন্দ করি’।

তার কথাগুলো লক্ষ্য করুন। তার বিয়ে হয়ে যাবার পর তিনি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে জানান, তার স্বামী হিসেবে তার সন্তানের চাচাকেই তিনি বেশী পছন্দ করবেন। এরপর যা ঘটলো তা হল, আল্লাহর রাসূল (সা.) তার বিয়ে ভেঙ্গে দিলেন।

এ ধরণের আরেকটি ঘটনা পাওয়া যায় মুগীরা ইবন শুবা রাযিয়াল্লাহু য়ানহুর ক্ষেত্রে। উসমান ইবন মাযউন রাযিয়াল্লাহু য়ানহুর মৃত্যুর পর তার কন্যাকে তার চাচা কুদামাহ বিয়ে দিয়ে দেন ইবন উমারের রাযিয়াল্লাহু য়ানহুর সাথে। কিন্তু ইবন উমার (রা.) প্রথম সারির একজন সাহাবী হওয়া সত্ত্বেও মেয়েটি এ বিয়েতে রাজি ছিলনা কারণ সে মুগীরা ইবন শুবাকে (রা.) পছন্দ করতো এবং সে চেয়েছিল যেন মুগীরা ইবন শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু)তাকে বিয়ে করেন। অবশেষে তার চাচা এ বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে মুগীরার (রা.) সাথে তার বিয়ে দেন।

।।

ইসলাম মানব মনের কি চমৎকার মূল্যায়নই না করেছে। সুবহানআল্লাহ। কোন নাটক নেভেলে পাওয়া যাবে এরকম একটি ঘটনা?

রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরামর্শ হলো,

“তুমি আগে গিয়ে তাকে দেখে নাও কেননা এটি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতিতে সহায়ক হবে।” [ইবনে মাজা]

আপনি কোন মুসলিমাহর প্রতি আকৃষ্ট হবেন এটাই স্বাভাবিক, কেননা এটা আপনার ফিতরাত। সূরা আর-রূমে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা বলছেন,

“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে যে তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন যুগলদের, যেন তোমরা তাদের মধ্যে স্বস্তি পেতে পার, আর তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেম ও করুণা সৃষ্টি করেছেন। (৩০:২১)

কোন মুসলিমাহ বোনের দ্বীনদারী, চরিত্র আপনার ভালো লাগতেই পারে। তবে এ ভালোবাসার একটা সীমারেখা রয়েছে। যদি তাকে পেতে চান, তাহলে চিরদিনের জন্য তাকে আপন করে নিন; দুই মাস বা দুই বছরের জন্য নয়। কাউকে পছন্দ করলে ইসলামের মূলনীতিটা হল,

‘ইঝা আতাকুম মান তারদাওনা দীনাহু ওয়া আক’লাহু ফাংকিহু’হু ’ (তিরমিযী)

‘তোমরা যখন বিয়ের জন্য এমন ছেলে বা মেয়ে পেয়ে যাবে যার দ্বীনদারী চরিত্র ও জ্ঞান-বুদ্ধিকে তোমরা পছন্দ করবে, তো তখনই তার সাথে বিয়ের সম্বন্ধ স্থাপন করো।

আবার অভিভাবকদেরকে বলা হচ্ছে,

“যদি এমন কেউ তোমার কাছে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসে – যার চরিত্র এবং তাকওয়া সন্তোষজনক, তাহলে তার কাছে (তোমার মেয়েকে) বিয়ে দাও। যদি এমনটি না কর, তাহলে পৃথিবীতে মারাত্মকরকম ফেতনা ও বিপর্যয় দেখা দিবে।” [তিরমিযি]

এটাই অবৈধ সম্পর্কের সাথে এর মাঝে পর্দা টেনে দিয়েছে। আপনি কাউকে পছন্দ করতে পারবেন কিন্তু তার সাথে কোনরূপ সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না। বিয়ের প্রস্তাব সংক্রান্ত হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। কোন নারীকে পছন্দ হলে তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে হবে তার অভিভাবকদের মাধ্যমে। এরপর তার মতামতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।

খুব ভালো নয় বিষয়টা? কত সম্মানজনক। মানব হৃদয়ের কত নিকটবর্তী।

সংগৃহীত ও সংক্ষেপিত। jasthasan.net

চা সিংগারার জীবনকে বদলে ফেলার চেষ্টা

একটা সময় ছিল চা অফার করলে কেউ যখন বলত চা পান করি না ভীষণ অবাক হতাম। চা ছাড়া মানুষের চলে কিভাবে? আলহামদুলিল্লাহ্‌, আজ বহুদিন যাবত চা পান ছাড়াই ভালো আছি। চায়ের প্রয়োজন অনুভব করি না। এ সব কিছু হলো মাইন্ড সেট। লাইফস্টাইল চেঞ্জ করার জন্য আপনাকে আগে মোটিভেটেড হতে হবে। মাইন্ড সেট করতে হবে। কেন আমি চা পান করব না, কেন আমি কার্বহাড্রেট অল্প গ্রহণ করব। যখন আপনি এসব বিষয় ব্রেন দ্বারা চিন্তা করবেন, ভালোভাবে এর পেছনের কারণ জানবেন তখন আপনি মোটিভেটেড হবেন। একবার মোটিভেটেড হলে কেউ আপনাকে চা পান করাতে পারবে না, এক মুঠোর বেশী ভাত খাবেন না, কোল্ড ড্রিংকস, চিপস, বিস্কুট, আইসক্রিমের ধারে কাছেও যাবেন না। আপনাকে জানতে হবে কিভাবে কম কার্বহাইড্রেট গ্রহণ করেও শরীরকে সবল রাখবেন। যতদিন মোটিভেটেড না হচ্ছেন ততদিন জিহবার স্বাদের কাছে আপনি অসহায়।

সকালে ১ টা মাত্র রুটি / পরোটা আর ভাজি দিয়ে কিভাবে নাস্তা করা সম্ভব? হ্যা, আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমি এখন পারি। আগে আমার ৩ – ৪ টি পরোটা লাগত। কিন্তু আমি লাইফস্টাইল পরিবর্তন করেছি। না না আমার ডায়াবেটিস নেই, শরীরে এলডিএল, এইচডিএল, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রায় কোন ঝামেলা নেই, হার্টে ব্লক নেই। আলহামদুলিল্লাহ্‌। এটাই লাইফস্টাইল পরিবর্তনের উত্তম সময়।

দুপুর ১২ টায় বাঙ্গালী জাতি সিংগারা খায়। শহুরে লোকেরা। গৃহিণীদের কথা বলতে পারব না। বিশেষ করা যারা অফিস করে, ঐ সময়টা বাহিরে থাকে। যদি এই সিঙ্গারাটা না খান তাহলে কি হবে? মরে যাবেন? সিঙ্গারা না খেয়ে ইনশাআল্লাহ্‌ মরবেন না। কিন্তু এই সিঙ্গারা আপনার ইনসুলিনের সেনসিটিভিটি কমিয়ে দেবে। আর মাত্র ২ ঘণ্টা পরই ভাত খাবেন। তখন ইনসুলিন আপনাকে সাপোর্ট দিতে পারবে না। তার চেয়ে ২ ঘণ্টা একটু ক্ষুধা ক্ষুধা ভাব থাকুক। এ সময় ১ টা কলা ১ টা ডাব খান। ক্ষুধা চলে যাবে। কয়েকদিনে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। আপনার শরীরে পানি ও পটাশিয়াম ঢুকবে। ভালো লাগবে।

ভাত খাওয়ার সময় আগে ২ – ৩ প্লেট খেতেন, এক এক তরকারি দিয়ে এক এক প্লেট। এখন ১ প্লেটের কম খান। তরকারী বেশি নিন, মাছ / গোশত, সবজি সালাদ নিন। ভাত খাওয়ার পর আগের মতোই নড়তে পারবেন না।

বিকেলে ক্ষুধা লাগছে? বার্গার, পিজা, চটপটি, নুডলস বাদ দিন। একটা ডিম সিদ্ধ খান। অথবা বাদাম খান, অথবা দুধ খান। রাত পর্যন্ত ক্ষুধা লাগবে না। ডিনারে ভাত দুপুরের চেয়ে একটু কম নিন। সালাদ, ডাল, শাকসবজি দিয়ে পেট ভরে ফেলুন।

রাত সাড়ে দশটায় ঘুমাতে যান। এটা আমি সবদিন পারি না। একসময় ইনশাআল্লাহ্‌ পারব। আমাদের নবী করীম মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে ইশার পর শুয়ে পরতেন। রাত ২ টা আড়াইটা পর্যন্ত বয়ান দিয়ে, হাউমাউ কান্নাকাটি মোনাজাত করে বিরানী তবারক খেয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড দিয়ে শুতে যেতেন না।

এভাবে যদি করেন তবে কি হবে?

ইনশাআল্লাহ্‌ ইনশাআল্লাহ্‌, ডায়াবেটিস হাসপাতালে সকাল সকাল গিয়ে লাইন দিতে হবে না, হার্টে রিং লাগানোর জন্য ৪ – ৬ লাখ টাকা নিয়ে ডাক্তার ও রিং ব্যবসায়ী দালালদের পেছনে পেছনে দৌড়াতে হবে না, শরীরে ক্যান্সার কোষ বাড়তে পারবে না, শরীর স্লিম করার জন্য জিমের মেম্বার হতে হবে না। আরো অজানা সংখ্যক উপকারিতা যা আল্লাহ্‌ আপনাকে দিতে চান সবই পাবেন।

আল্লাহ্‌তায়ালাই মহান তৌফিকদাতা।

জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

 

সেই নারী এই নারী

আমাদের ঠিক আগের জেনারেশনে সাধারণত নারীদের প্রতি বৈষম্য করা হতো। সে সময় মেয়েদের ঠকানো হতো। ইসলাম নারীদের যে সম্পত্তির অধিকার দিয়েছে তা থেকে বঞ্চিত করা হতো। ভাইরা পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারার সময় বোনদের ঠকাতো। মেয়েরা এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিত। মনে করত, ভাইদের বাসায় আসব খাব বেড়াব। সম্পত্তি নিব কেন? জামাইরাও কিছু বলত না।

এখন সময় গিয়েছে উল্টে। যে মহিলা তার পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার ছেড়ে দিয়ে এসেছে সে মহিলাটাই আজকে নারী পুরুষের সম অধিকারের কথা বলে নিজ ছেলেকে বঞ্চিত করছে। আজকাল মা ও মেয়ে একজোট। দেখা যাচ্ছে মেয়েকে শুধু দিচ্ছেই দিচ্ছেই। মৃত্যুর আগেই সম্পত্তি বিভিন্নভাবে মেয়েদের নামে করে দিচ্ছে। পক্ষান্তরে ছেলে, ছেলের বৌ, ছেলের ঘরের নাতি হয়ে গেছে পর।

আপনাদের কি মত? আমার মনে হয়, সাধারণত এরকমই হচ্ছে।

সুদের কারণে প্রতিটি শহরকে আল্লাহ ধ্বংস করিবেন

আল্লাহ বলিয়াছেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হইয়া থাক। অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ্‌ ও তাহার রাসুলের সাথে যুদ্ধ করিতে প্রস্তুত হইয়া যাও” (আল কোরআন : ২:২৭৮) । এখানে খেয়াল করুন আল্লাহ কিন্তু কাফেরদেরকে যুদ্ধের হুমকি দেন নাই, দিয়াছেন মুসলমানদেরকে । এমন কোন মুসলিম সমাজ এখন পাওয়া যাইবে যাহারা সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গ্রহন করে নাই ? এমনকি সুদের বিরুদ্ধে এখন আর কেউ বক্তৃতাও করে না । সারা দুনিয়ায় এখন দারুল উলুম আছে কিন্তু সুদের বিরুদ্ধে কেউ কোন আওয়াজ করে না । সুদের বিরুদ্ধে আল্লাহ কেন এমন কঠোর মনোভাব গ্রহন করিয়াছেন ? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন, “যেই সমাজে সুদ চালু থাকে তাহাতে দারিদ্র বৃদ্ধি পায়”। যেখানে সুদের প্রচলন থাকে সেখানে দারিদ্র আসিবেই সুদের হার কম-বেশী যাহাই থাকুক না কেন ? সুদের হার কম থাকিলে অধিকাংশ মানুষ ধীরে ধীরে গরীব হইয়া যাইবে আর সুদের হার বেশী থাকিলে দ্রুত গতিতে গরীব হইয়া যাইবে । সুদ ব্যবস্থায় গরীবরা আরো গরীব হইতে থাকে এবং ধনীরা আরো ধনী হইতে থাকে । ইন্দোনেশিয়া এখন অত্যন্ত ভয়াবহ গরীব মানুষের দেশ, পাকিস্তান গরীব, বাংলাদেশ গরীব, আমি কি আরো দেশের নাম বলব ? আপনি যদি মনে করেন যে, ইহারা গরীব তাহার কারণ তাহারা অলস, তবে আমি বলিব আপনি অর্থনীতি নিয়া আরো পড়াশোনা করেন । এখন আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরিণতি কি হইতে পারে সেই সম্পর্কে কোরআনে কিছু বলা আছে কি ? হ্যাঁ, এই ব্যাপারে সুরা বনি ইসরাঈলের আটান্ন নাম্বার আয়াতটি পড়িয়া দেখিতে পারেন, “এমন কোন শহর নাই, যাহাকে আমি কেয়ামতের পূর্বে ধ্বংস করিব না অথবা যাহাকে কঠোর শাস্তি দিব না। ইহা তো কিতাবে লিপিবদ্ধ হইয়া গিয়াছে”। কাজেই শীঘ্রই দেখিতে পাইবেন পৃথিবীর অধিকাংশ শহর এমনভাবে ধ্বংস হইবে যেন এগুলোর কোনকালে কোনো অস্তিত্বই ছিল না ।


মূল – আল্লামা ইমরান নযর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

দাওয়াত ও তাবলীগ – ১

তবলিগে প্রাইমারী লেভেলের জিনিস শেখার জন্যই যেতে হয়। যাতে ঈমান ও আমলের শখ পয়দা হয়। এর বাইরে কিছু শিখতে হলে অন্যত্র শিখতে হবে। আলেম উলামা লাগবে। বই কিতাবাদী লাগবে। প্রয়োজনে ইন্টারনেট লাগবে। সমস্যা হচ্ছে অনেকেই তবলিগে গিয়ে আটকে যায়। তখন সে কাউকে ঐ বলয়ের বাইরে যেতে দেখলে আটকে ধরার চেষ্টা করে। এর কারণ তারা ওটাকেই দ্বীনের শেষ মনে করে। আসলে ওটা দ্বীনের শুরু।

আর প্রাইমারী স্কুলে কেন ইউনিভার্সিটির পড়া পড়ায় না এটা নিয়ে অভিযোগ করাটাও বোকামী। কারণ প্রাইমারী না শিখে ইউনিভারসিটিতে আসা যায় না। প্রাইমারীর পড়া আপনাকে বাসায় হোক, কিন্ডার গার্টেনে হোক, মক্তবে হোক, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হোক বা হোম টিউটরের কাছে হোক শেষ করতেই হবে।

ঠিক তেমন ঈমান আমলের প্রাথমিক ধাপ তবলিগে গিয়ে হোক বা বাসায় হোক বা কারো সোহবতে থেকে হোক শেষ করতেই হবে। তা না হলে এর পরের ধাপ যেমন কুরআন হাদীসের ব্যাপক জ্ঞান অর্জন যাতে আছে দাজ্জাল ও শেষ যুগের জ্ঞান অর্জন, সে স্তরটিতে পৌছানো সম্ভব নয়। তবলিগের লোকদের উচিত নয় কাউকে যদি উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের জন্য তবলিগের কাজ থেকে সরে যেতে হয় তাকে আটকানোর চেষ্টা করা। আর কেউ যদি উচ্চতর স্তরে পৌছে যায় তারও উচিত নয় তবলিগের সীমিত সিলেবাসের সমালোচনা করা। কারণ সিলেবাসটা ডিজাইনই করা হয়েছে প্রাথমিক লেভেলের জন্য।

দাওয়াত ও তাবলীগ – ২

দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায় হল কালেমার দাওয়াত দেয়া। ইসলামের বুনিয়াদী আমল যেমন সালাত, সিয়াম, ইলেম, যিকির ইত্যাদি আমলের ওপর মানুষকে তোলার চেষ্টা করা। আলহামদুলিল্লাহ্‌, দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত বহু বছর যাবত এ মহান কাজের আঞ্জাম দিয়ে আসছে। কিন্তু দাওয়াতের আরো স্তর আছে।

হুকুমতের মালিক আল্লাহ্‌ – এটা একটা আলাদা সুনির্দিষ্ট দাওয়াত। দীর্ঘদিন তাবলীগের মেহনতে লেগে থেকেও অনেকে এই দাওয়াত পায় না। কারণ তবলীগের সিলেবাসে এর সরাসরি পাঠ পঠন নেই। যার ফলে ঈমানের একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অজ্ঞতা থেকে যাওয়ার সুযোগ আছে। হ্যা অনেকে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টায়। এতে বোঝা গেল দাওয়াত ও তবলীগের মারকাজকেন্দ্রিক মেহনত সব কিছু কভার করে না। আরো বিষয় বাকী থেকে যায়।

সুদের সাথে যেকোন ভাবে জড়িত থাকা হারাম। সরাসরি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা। শুধু কালেমার দাওয়াত ও বুনিয়াদী আমলের দাওয়াত সুদ থেকে মানুষকে কোনভাবেই ফেরানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এর জন্য অবশ্যই স্বতন্ত্র দাওয়াতের প্রয়োজন আছে। যদি ঈমান আমলের প্রাথমিক আলোচনাই সুদের আক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট হতো তবে বহু দ্বীনদার দাড়ি টুপী ওয়ালা নামাজী হাজ্বী লোক ব্যাংকে চাকরী করত না। অথবা তাদের সন্তানদেরকে ব্যাংকে চাকরী করতে দিত না।

শেষ যুগের দাওয়াত অতি উচ্চ স্তরের দাওয়াত। যে বিষয়ে আলোচনা দ্বীনী মহলেই অতি কম। অথচ শেষ যুগ বাস্তব। দাজ্জাল বাস্তব, হযরত ঈসা য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বাস্তব। এগুলো অবশ্যই হবে। দাজ্জালের ফেতনায় কিভাবে মুসলমান আত্মরক্ষা করবে তা না জানলে পথভ্রষ্ট হওয়ার খুব বেশী সম্ভাবনা। কেবলমাত্র ঈমান ও আমলের প্রাথমিক আলোচনাকে শেষ যুগের ঈমান হেফাজতের জন্য কোনভাবেই যথেষ্ট বলা যাবে না। শেষ যুগে যেসব যুদ্ধ বিগ্রহ হবে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখলে ধ্বংস কি ফেরানো যাবে? বরং রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের শত শত সাবধানবানী থেকে দূরে থাকার মাশুল দিতে হবে।

কাজেই ‘আমরাই দাওয়াতের জিম্মাদারী আদায় করছি’ এই উন্নাসিকতা পরিহার করা কর্তব্য। হ্যা আমি আমার লেভেলে আমার জিম্মাদারী আদায় করছি। কিন্তু আমার লেভেলের উপরেও যে আরো স্তর আছে তা অস্বীকার করলে চলবে না। প্রতিটি উপরের লেভেলের অডিয়েন্স নীচের লেভেলের অডিয়েন্সের চেয়ে সংখ্যায় কম, কিন্তু গুরুত্বে কম নয় মোটেই।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।