তারা নেমে এসেছে

এবং যে শহর [জেরুজালেম] আমরা ধ্বংস করে তার অধিবাসীদের [বনী ইজরায়েলের] জন্য হারাম করে দিয়েছি, তারা পুনরায় সে শহরে ফিরে আসতে পারবে না [ইজরায়েল রাষ্ট্র গঠিত হবে না] যতক্ষণ না ইয়াজুজ মাজুজদের [খাজার ইউরোপীয়] প্রাচীর খুলে যায় এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে নেমে আসে [ব্রিটেন ও আমেরিকার সমগ্র বিশ্বদখল বা কলোনাইজেশন]। 
(সুরা আম্বিয়া: ৯৫-৯৬)

শব্দবিশ্লেষণ:

১। ওয়া হারামুন = এবং [ওয়া] + হারাম বা নিষিদ্ধ [হারামুন]
২। ‘আলা = উপর
৩। ক্বারিয়াতিন = একটি শহর বা শহরটি বা জনপদটি (ক্বারিয়াহ)
—> ওয়া হারামুন ‘আলা ক্বারিয়াহ = যে শহরটি নিষিদ্ধ করেছি
৪। আহলাকনাহা = যা আমরা ধ্বংস করেছি
—> ওয়া হারামুন ‘আলা ক্বারিয়াতিন আহলাকনাহা = যে শহরটি আমরা ধ্বংস করে হারাম করে দিয়েছি (তার অধিবাসীদের জন্য)
৫। আন্নাহুম = যে তারা (অর্থাৎ ঐ শহরের অধিবাসীরা)
৬। লা ইয়ারজিউন = না (লা) + ফিরে আসবে বা প্রত্যাবর্তন করবে (ইয়ারজিউন)
—> আন্নাহুম লা ইয়ারজিউন = যে তারা (ঐ শহরের অধিবাসীরা) ফিরে আসবে না বা প্রত্যাবর্তন করবে না
৭। হাত্তা = যতক্ষণ না
৮। ইযা ফুতিহাত = যখন (ইযা) খুলে যাচ্ছে (ফুতিহাত) [ফুতিহাত এসেছে ফাতিহা থেকে। আমরা জানি, “আলহামদু” সুরাকে সুরা ফাতিহা বলা হয় কারণ এই সুরা দিয়ে পবিত্র কোরআন খুলে বা সুচনা হয়। ফাতিহা অর্থ খোলা বা সুচনা বা ওপেনিং।]
৯। ইয়া’জুজু ওয়া মা’জুজু = ইয়াজুজ এবং [ওয়া] মাজুজ
—> হাত্তা ইযা ফুতিহাত ইয়া’জুজু ওয়া মা’জুজু = যতক্ষণ না ইয়াজুজ ও মাজুজের [প্রাচীর] খুলে যাচ্ছে।
১০। ওয়া হুম = এবং [ওয়া] তারা [হুম]
১১। মিন = থেকে
১২। কুল্লি = প্রত্যেক
১৩। হাদাবিন = উচ্চভূমি
১৪। ইয়ানসিলুন = নেমে আসে বা ছড়িয়ে পড়ে।

—> ওয়া হুম মিন কুল্লি হাদাবিন ইয়ানসিলুন = এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে নেমে আসে বা ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ ইয়াজুজ মাজুজদের ওয়ার্ল্ড অর্ডার বা বিশ্ব ব্যবস্থা কায়েম হয়।

এই আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি, ইয়াজুজ মাজুজ হচ্ছে খাজার ইউরোপীয় ইহুদি-খ্রিস্ট জায়োনিস্ট এলায়েন্স যারা প্রথমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য দ্বারা সমগ্র বিশ্ব দখল করে “ইয়ুনসিলুন” হয় ও সমগ্র বিশ্বে নিজেদের ঈশ্বরবিমুখ সেক্যুলার শরীয়াহ কায়েম করে বিশ্ববাসীকে তাদের কারবনকপিতে পরিণত করে এবং বনী ইজরায়েলকে ২০০০ বছর পর আল্লাহ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি করা ক্বারিয়াহ বা শহর জেরুজালেমে ফিরিয়ে এনে ইজরায়েল রাস্ট্র গঠন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তারা আমেরিকার দ্বারা তাদের এই “ইয়ুনসিলুন” বজায় রাখে। তাই আমরা দক্ষিণ চীন সাগরে গেলেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব, ভারত মহাসাগরে গেলেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব, পারস্য উপসাগরে গেলেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব, আর্কটিক মহাসাগরেও মার্কিন রণতরী দেখতে পাব। কারণ হলো “ইয়ুনসিলুন”। ইয়াজুজ মাজুজ বা খাজার ইউরোপীয় ইহুদি-খ্রিস্ট জায়োনিস্ট এলায়েন্সের বিরুদ্ধে যারাই দাঁড়াবে, হোক সে সুন্নি মুসলিম অঞ্চল চেচনিয়া ও প্রিয় নেতা রমজান কাদিরভ, হোক সে শিয়া মুসলিম দেশ ইরান, হোক সে অর্থোডক্স খ্রিস্ট দেশ রাশিয়া ও প্রিয় নেতা ভ্লাদিমির পুতিন বা হোক সে আসমানি কিতাবের জ্ঞানহীন চীন ও উত্তর কোরিয়া; তারা আমাদের বন্ধু। আমরা তাদের ভালবাসি।

Md Arefin Showrav 
http://bit.ly/2vuSBQf

টাকা অর্জনের জন্য জ্ঞান অর্জন নিষিদ্ধ

প্রথম, চতুর্থ এবং নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া আমার তিন মেয়েই এবার বার্ষিক পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করেছে । কোনমতে টেনেটুনে উপরের ক্লাশে উঠেছে । বুঝ আর না বুঝ গপগপ করে মুখস্ত কর, গোল্ডেন এ প্লাস পেতেই হবে, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-জজ-ব্যারিষ্টার হতেই হবে, কাড়িকাড়ি টাকা কামাইতেই হবে । এই এক অমানবিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে দুনিয়া জুড়ে । আমার বিবিসাহেবাও স্কুল, কোচিং, বাসায় টিচার ইত্যাদি করে করে আমার মেয়েদের জীবন একেবারে অতিষ্ট করে ফেলেছেন । শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েরা আমার কথায় বিশ্বাস করেছে । আমি তাদেরকে বুঝিয়েছি পড়াশোনা করতে হবে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে, ভালো মানুষ হওয়ার উদ্দেশ্যে । উপরের ক্লাশে উঠা, বেশী নাম্বার পাওয়া, বড় চাকুরি পাওয়া, বেশী টাকা উপার্জন করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে পড়াশোনা করা মারাত্মক পাপের কাজ । রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, প্রথমে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে একজন জ্ঞানী ব্যক্তিকে । আল্লাহ বলবেন, তোমাকে এতো এতো জ্ঞান দিলাম, বিনিময়ে তুমি আমার জন্য কি করেছ ? জ্ঞানী ব্যক্তি বলবে, হে প্রভূ ! আমি তোমাকে সন্তুষ্ট করার জন্য জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তোমার বান্দাদেরকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি । আল্লাহ বলবেন, নাহ, তুমি জ্ঞান অর্জন করেছ এবং মানুষকে শিক্ষা দিয়েছ যাতে লোকেরা তোমাকে জ্ঞানী বলে এবং সম্মান করে । কাজেই তুমি যা চেয়েছ তা দুনিয়াতেই পেয়ে গেছ । সুতরাং আমার কাছে তোমার জন্য কোন পুরষ্কার নাই । তারপর ফেরেশতাদের নির্দেশ দিবেন তাকে উল্টো করে জাহান্নামে নিক্ষেপ কর……….হে আল্লাহ ! আমাদেরকে তোমার প্রিয়বন্ধু মহানবী (সাঃ)-এর পবিত্র জুতা মোবারকের ওসীলায় সুপথে চালিত করো এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো, আমিন !

লেখকঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

একজন মনোবিজ্ঞানী স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট পড়ানোর সময় রুমে চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে এক সময় শ্রোতাদের সামনে এক গ্লাস পানি উপর করে তুলে ধরলেন। তখন সবাই ভেবে ছিল হয়তো তিনি গ্লাস অর্ধেক খালি না অর্ধেক ভর্তি এই প্রশ্নটি করবেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না। 

তিনি হাসিমুখে প্রশ্ন করলেন ” এই এক গ্লাস পানি কত ভারী”। উত্তর আসল আট আউন্স থেকে বিশ আউন্সের ভেতর। 

তিনি বললেন এর আসল ওজন এখানে কোন ব্যাপার না। ব্যাপার হলো আমরা এটাকে কতক্ষন ধরে রাখছি। ওজনটা তার উপরও নির্ভর করছে। 

যদি আমি এটাকে এক মিনিটের জন্য ধরে রাখি, তবে কোন সমস্যা হবে না। যদি এটাকে এক ঘন্টা ধরে রাখি তবে আমার হাতে ব্যাথা অনুভূত হবে। আর যদি একদিনের জন্য এভাবে ধরে থাকি তবে আমি অসাড় এবং পক্ষঘাতগ্রস্থ বোধ করব। প্রতিটা ক্ষেত্রে এর আসল ওজনে কোন পরিবর্তন হয় না। কিন্তু ধরে রাখার সময় বাড়ার সাথে সাথে এটি ভারী থেকে ভারী লাগতে শুরু করে। 

তিনি আরো বিশদে গিয়ে বলেন আমাদের জীবনের চাপ এবং উদ্বেগগুলো এই গ্লাসের পানির মত। যা নিয়ে কিছুক্ষন ভাবলে তেমন কোন কিছু হবে না। কিন্তু এই চাপ আর উদ্বেগ যদি আমরা সারাদিনের জন্য ধরে রাখি, মনে রাখি ।তবে তা আমাদের কোন কিছু করার সামর্থ্যটা কেড়ে নিতে পারে। তাই চাপ কখনো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানতে যাবেন না। এটাকে সব সময় ছেড়ে দিতে হবে। অর্থাৎ গ্লাস নামিয়ে রাখতে হবে মনে করে। 

সংগৃহীত

কার্টেসিঃ বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

জীবনের খালি জায়গা

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে মেতে থাকা উচিৎ। এতে নিউরনে ইলেক্ট্রিকাল ও কেমিক্যাল ট্রান্সমিশন সতেজ হয়। যেমন লিনাক্স নিয়ে মাতা যেতে পারে। লিনাক্স নিয়ে কাজ করলে ব্রেন খুলে। উইন্ডোজে কাজ করলে ব্রেন ভোঁতা হয়। তাই লিনাক্সের জ্ঞান অর্জন করা উচিৎ। বেশিরভাগ মানুষের জীবন মনোটোনাস। মনোটোনাস মানুষ গতানুগতিকতার বাহিরে চিন্তা করতে পারে না। শুধু চাকরী ব্যবসা পাঠ্যবই ক্যারিয়ার বাজার-সদাই এসব জীবনকে অনুভূতিহীন করে দেয়। দাজ্জাল, শেষ যুগ, ইয়াজুজ মাজুজ ইত্যাদি বিষয়েও তাদের আগ্রহ থাকার কথা নয়। ফেসবুকে যারা পারিবারিক ছবি শেয়ার করে, ব্যক্তিগত বিষয় প্রচার করে তাদের জীবনও খানিকটা মনোটোনাস, অনুভুতিহীন। আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়া চীন রাশিয়া যুদ্ধ লেগে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও তাদের কিছু যায় আসে না। কম্পিউটার ভালো রান করতে যেমন হার্ড ডিস্কে বা র‍্যামে খালি জায়গা লাগে ঠিক তেমন জীবনেও প্রচুর খালি জায়গা রাখতে হয়। এজন্য অবসরের দরকার। অবসর আল্লাহ্‌ তায়ালার নেয়ামত।

জীবনের চাওয়াগুলো

জীবনে যা চেয়েছি কিন্তু পাই নাই তার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আলহামদুলিল্লাহ্‌। কারণ যদি তা পেতাম তবে নিশ্চয়ই জীবন বিধ্বস্ত হয়ে যেত। আল্লাহ্‌তায়ালাই তার অপার করুণায় যা প্রয়োজন তা দান করেছেন। গাড়ী যখন রাস্তা দিয়ে চলে তখন ড্রাইভারের রাস্তার দুপাশের দৃশ্য দেখে সুন্দর লাগতে পারে। কিন্তু তাই বলে তার ভাবুক হৃদয় রাস্তা ছেড়ে দু’পাশের সৌন্দর্য অভিমুখে ধাবিত হয় না। জীবনে যা চেয়েছিলাম তা ছিল রাস্তার সেই দু’পাশের সৌন্দর্য। কতবার এদিক সেদিক পানে চোখ তাকিয়েছে। কিন্তু সেদিকে গেলে মূল পথ থেকেই যে বিচ্যুত হতে হতো। আর তা হতো অনিবার্য ধ্বংস। আর তাই বুঝি পরম করুণাময় বারবারই সেসবকে দৃষ্টির আড়াল করে দিয়েছেন। একে কি না পাওয়ার ব্যর্থতা বলব নাকি সঠিক পথে চলার অনুগ্রহ বলব !!

কপিরাইট

জ্ঞানের পথকে বন্ধ করে দেয়ার একটি উপায় হচ্ছে কপিরাইট। এগুলো হচ্ছে পাশ্চাত্যদের আবিষ্কার যাতে মানুষের কাছে জ্ঞান অর্জন কঠিন করে দেয়া যায় আর জ্ঞানের বিনিময়ে কিছু টাকা কামানো যায়। জ্ঞানকেও তারা পণ্য বানিয়ে ফেলেছে। সবচেয়ে আশ্চর্য লাগে এতে নাকি লেখকের প্রতি সম্মান করা হয়। লেখকের ;লেখা প্রচার করতে বাঁধা দেয়া কি লেখকের প্রতি সম্মান করা? অনেকে অর্থের অভাবে লেখকের লেখার প্রতি এক্সেস পেতে পারে না। এটা খুবই দুঃখজনক। রাসূল (সা) এর একটা হাদীসের শিক্ষা অনুযায়ী বলা হয় জ্ঞানের কথা পৌঁছে দিতে। হয়তো পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের চেয়ে মেধায় অগ্রগামী। স্মরণ রাখতে বেশী সক্ষম। কিন্তু কপিরাইট আইন লেখকের জ্ঞান প্রচারের বিষয়টি মূল্যায়ন করে না। শুধু ক্ষুদ্র অর্থ সংশ্লিষ্ট স্বার্থ দেখে। এগুলোই পাশ্চাত্য সমাজের নিকৃষ্ট স্ট্যান্ডার্ড। যা তারা খুব গর্বের সাথে ও শোভনীয়ভাবে প্রচার করে। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় জ্ঞানের কথা ফ্রী প্রচার করার জন্য। এজন্য কুরআনের কোন কপিরাইট নাই, হাদীসের কোন কপিরাইট নাই। ইসলামের সত্যিকারের পণ্ডিতরা তাদের লেখার কোন কপিরাইট রাখেন না। ফলে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি। তাদের বিনিময় আল্লাহ্‌র কাছে। আর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়ও দেখি, বিনামূল্যে কাউকে ভালো পরামর্শ দিতে ভালো লাগে (যেমন ফেসবুকে) যা টাকা দিয়ে প্রফেশনালী দিতে ততো ভালো লাগে না।

টক্সিন

দুনিয়ার আলোচনা ও ভাবনা মানুষকে ইনটক্সিকেটেড করে ফেলে। ঠিক যেমন মিউজিক বা ওয়াইন মানুষকে কল্পনার জগতে নিয়ে যায়। বাড়ি গাড়ির হিসাব কষা, ডিগ্রি করা, বিদেশে যাওয়া, সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার ভাবনা, বিয়ে সংসার, ব্যবসা চাকরী ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা ভাবনা অতি মধুর। এসব নিয়ে ভাবনার বাড়াবাড়ি মানুষকে কিয়ামতের বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। জীবনের অনেক বাস্তবতা থেকেও দূরে সরিয়ে দেয়। এসব ভাবনা নিষেধ নয় তবে লিমিটেড হওয়া উচিৎ। তাকদীরের কথা মাথায় রেখে সব পরিকল্পনা করা উচিৎ। মানুষ ভাবে অনেক কিছু কিন্তু হয় সেটাই যেটা তার জন্য বিধিবদ্ধ হয়ে আছে।