The Real Solution

ধর্ষণ নিয়ে অনেকেই দেখি লিখতেছেন। ধর্ষণ কেন হয় এটা জানার মানুষের খুব আগ্রহ। মেয়ের জামাকাপড়ের ত্রুটি নাকি ছেলের পাশবিক প্রবৃত্তি? আসলে এগুলো কোন মূল কারণ নয়। এর প্রকৃত কারণ অন্য জায়গায়। আমি যদি বলি, ধর্ষণ হওয়ার মূল কারণ ইসলামিক আইনের প্রয়োগের ব্যবস্থা না থাকা। – এখন ইসলামিক আইন যদি প্রয়োগ করার কথা বলেন তাহলে নারীবাদীরাই সর্বপ্রথম ভেটো দিবেন। সমস্বরে কিচিরমিচির শুরু করবেন ইসলামিক আইন মধ্যযুগীয়। হা হা। যদি বলা হয় ধর্ষণ করার শাস্তি পাথর অথবা বেত। শাস্তি হবে পুরুষের। তখন দেখা যাবে নারীবাদীরা কিভাবে লেজ গুটিয়ে পালায়। ইসলামিক আইনের প্রয়োগের ব্যবস্থা করেন ধর্ষণ টর্ষন সব রাতারাতি শেষ হয়ে যাবে। শুধু শুধু আবোল তাবোল আলোচনা করে মূল্যবান সময় নষ্ট করা কেন? আদিযুগের অপরাধ মধ্যযুগের আইনে বিচার করা হবে সমস্যা কি? সমস্যা হলো তখন ধর্ষকদের পরে নারীবাদী, অমুক বাদী, তমুক বাদী এবং নারীকে যারা বিজ্ঞাপনে, নাটকে, সোসাইটিতে পণ্য বানায় তাদের পিঠও রক্ষা পাবে না।

বিশ্বনবীর (সা) ভাষা

আল্লাহ্‌ বলতেছেন, কুরআনকে আরবী ভাষায় নাযিল করেছেন যাতে আমরা বুঝতে পারি। আর আমরা বলি, আরবী ভাষা জানি না। আরবী ভাষা শিখি নাই, আরবীতে খুৎবার বদলে বাংলায় দিতে হবে। নানা রকমের টালবাহানা ছন্দেমন্দের কথা। কুরআনের পরিষ্কার আয়াতের পর এর বিপরীত কোন কিছু বিশ্বাস করা কবিরা গুনাহ। রাসূল (সা) বিশ্বনবী। তাকে আরব হিসেবে বা অন্য জাতপাতের লোক বিবেচনা করা ঠিক নয়। অন্য নবীরা যার যার ক্বওমের নিকট আবির্ভূত হয়েছেন। তাই সেসব নবীরা ওইসব ক্বওমের ভাষায় বয়ান করেছেন। আর রাসূল (সা) পুরো বিশ্ববাসীর সামনে দাড়িয়ে আরবীতেই খুৎবা দিয়েছেন। যদিও সেটি ছিল তার মাতৃভাষা। মাতৃভাষা হলেও তিনি সর্বোৎকৃষ্ট আরবীতে কথা বলতেন। সব আরব তো সর্বোৎকৃষ্ট আরবীতে কথা বলেন না। তার অডিয়েন্সের মধ্যে পৃথিবীর সব ভাষার লোক আছে। সালমান ফারসী (রাযি) আছেন। তিনি আরব নন। তার অডিয়েন্স কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। সব ভাষার লোকদের সামনে দাড়িয়ে তিনি আরবীতেই বয়ান করেছেন।

আনন্দদায়ক ক্ষুধা

Hedonic Hunger এর নাম শুনেছেন কখনো? আনন্দদায়ক ক্ষুধা। ক্ষুধা তো এমনিতে কষ্টের। কিন্তু কিছু ক্ষুধা আছে আনন্দের। সামনে যখন ডিশভর্তি গরম ভাত থাকে অথবা জাংফুড, সুইট, বেভারেজ তখন ক্ষুধা হয় আনন্দের। খাবারের এই মেনুগুলো এখন আমাদের জিহবার সাথে মিলেমিশে গেছে। এসব খাবার খেতেই আমাদের পছন্দ। সারা পৃথিবীতে এই ডায়েটই এখন চলছে। এই খাবারে আছে মাত্রাতিরিক্ত চিনি এবং আনহেলদি ফ্যাট। ফলাফল শরীর মুটিয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, হার্ট এটাক, ব্রেন স্ট্রোক, কিডনি ফেলিউর, ক্যানসার এবং ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ। রক্তে গ্লুকোজ বেশী থাকার কারণে স্বাভাবিক ব্রেন সিগনাল বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে আলঝেইমার ডিজিজ এবং স্মৃতিভ্রংশ খুব বেশী দেখা যায়।

আমাদের রক্তে মাত্র এক চামচ চিনি থাকতে পারে। কিন্তু যদি তা এক টেবিল চামচ হয়ে যায় তাহলে রক্ত অতিরিক্ত সুগার বহন করতে থাকে। এটা খুবই বিপদজনক। এতে রোগী কমা অবস্থায়ও চলে যেতে পারে। রক্তের গ্লুকোজকে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখার কাজ করে ইনসুলিন। কিন্তু এটা শরীরের জন্য সহজ নয়। ইনসুলিন তৈরী হওয়া একটি জটিল প্রক্রিয়া। আবার তৈরী হলেও তা দ্রুত রেজিস্ট্যান্স হয়ে যায়।

আমাদের খাবারে সামান্য বেশী পরিমাণ চিনি ও শস্যদানাজাত খাদ্য যেমন চাল, আটা শরীরে দ্রুত সুগারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

আমরা হয়তো অনেকেই জানি না, সুগারকে কিন্তু একসময় স্বাভাবিক খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। শিল্প বিপ্লবের পর ১৮ থেকে ১৯ শতকের মধ্যে অনেক চিনিকল গড়ে উঠে। আর তখন সুগার সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসে। এর আগে সুগারকে বিশেষ বিশেষ রুচিকর খাবারে কনডিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এটা ছিল মানব জাতির জন্য ব্লেসিং বা বলা চলে স্রষ্টার গোপন আশির্বাদ।

এরপর যখন পর্যাপ্ত চিনি উৎপাদন হতে লাগল তখন তাকে স্বাভাবিক খাবারের মর্যাদা দেয়া হলো। তখন খাবারের ৬ টি উপাদানের এক নম্বরে চলে গেল কার্বোহাইড্রেট। এর আগের ঘটনা অন্যরূপ। হযরত ইবরাহীম (আ) যখন তার ছেলে ইসমাইল (আ) এর সাথে মক্কায় দেখা করতে যান তখন ছেলে বৌয়ের সাথে দেখা হয়। তিনি জিজ্ঞেস করলেন তোমাদের খাওয়া দাওয়া কিরকম হয়। ইসমাইল (আ) এর স্ত্রী উত্তরে বললেন, আমরা মাংস আহার করি। এরপর আরো ঘটনা আছে। — প্রোটিন ও ফ্যাটকে টপকে কার্বোহাইড্রেট আগে চলে আসল এই দেড়শ বছর হলো। আর এর পর থেকেই শুরু হলো ডায়াবেটিস, ক্যান্সার।

যকৃৎ আমাদের সব খাদ্যকে মেটাবোলাইজ করে শরীরের জন্য গ্রহণীয় করে তুলে। কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে যকৃৎ বা লিভারের কার্বোহাইড্রেট মেটাবোলাইজ করার খুব খুব খুব অল্প ক্ষমতা আছে। যকৃৎ সারাদিনে মাত্র ৬ চা চামচ অতিরিক্ত চিনি মেটাবোলাইজ করতে পারে। কিন্তু আমরা সাধারণত অতিরিক্ত ২০ চা চামচ বেশী চিনি গ্রহণ করি। অনেকে আরো বেশী। এই পুরোটা যকৃৎ কিছুই করতে পারে না। বরং সে এতোটুকু করতে পারে যে তা ফ্যাটে পরিণত করে রাখতে পারে। যদি কখনো শরীরে খাদ্যের অভাব হয় সেখান থেকে ব্যয় করা হবে।

রক্তের ভেতর অতিরিক্ত চিনির সাগরে ডুবে থাকা প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ একসময় গ্লাইকেটেড হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। চোখের রেটিনা, রক্তনালী, কিডনি সব ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

আর অতিরিক্ত চিনি আরেকটা কাজ করে। সেটা হলো সে আরো চিনি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। ড্রাগ এডিকশনের মতো কার্বোহাইড্রেট এডিকশন করে ফেলে। খুবই ভয়াবহ ব্যাপার। তখনই Hedonic Hunger তৈরী হয়। আনন্দদায়ক ক্ষুধা।

এ সাইকেলকে ব্রেক করার জন্য শুধু হালকা পাতলা ইচ্ছাশক্তি বা কিছু ব্যয়াম যথেষ্ট নয়। পুরো খাদ্যাভ্যাসকে বদলে ফেলতে হবে। আর প্রচুর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সে বড় কঠিন কাজ। কিন্তু সম্ভব।

সেই ইসলাম এখন …

কিজন্য আমরা কিছুতেই ইসলামকে মেলাতে পারছি না। আসলে মন্দিরে গিয়ে কি নামায হবে? হবে না। মন্দিরে হবে পূজা। কুফরের মধ্যে কি তাওহীদ হবে? হয় না কখনো। আমরা আমাদের কুফরির মধ্যে ইসলামকে adaptation করাতে বা খাপ খাওয়াতে চেষ্টা করছি। এজন্য যদি ইসলামের ঈষৎ পরিবর্তন করার দরকার হয় তাও আমরা করতে রাজি। কিন্তু সমাজকে ইসলামের জন্য পরিবর্তন করতে বা তা একান্তই না হলে এ সমাজ ছেড়ে দিতে রাজি নই বা সক্ষমও নই। অতএব ইসলামকে সমাজের বক্সে ঢুকাতে হবে। এজন্য ইসলামিক খেলাফতকে বাদ দিতে হলে বাদ দিতে হবে। স্বর্ণমুদ্রার স্থলে কাগজের মুদ্রা চলবে । সুদের বদলে ইসলামিক ব্যাংকিং হলেই হবে। জিযিয়ার বদলে মুসলিমরাই ট্যাক্স দিবে। চুরি করলে হাত কাটার বদলে অন্য কোন ব্যবস্থা নিলেও হবে। জিনাহ করলে পাথর বা দোররা মারার বদলে বিয়ে করিয়ে দিলেই হবে। আরবী জানিনা, তাই জুমু’য়ার খুতবা বাংলায় দিলেও হবে। — অর্থাৎ যেখানে যেখানে ইসলাম এ সমাজের বক্সে ঢুকবে না সেখানে ঠেলেঠুলে কেটেছেটে ঢুকাতেই হবে। আর আমরা তাতেই মনে করব জান্নাতের জন্য আর আমাদের ঠেকায় কে? ইসলামকে আমাদের সমাজে নিয়ে এসেছি। তারপরও যদি কেউ আরো বেশী কিছু করতে চায়, এমনকি হিজরত করতে চায় তারও ব্যবস্থা আছে। কোন ভিন্ন এলাকার মসজিদে বা কোন পীরের খানকাহ শরীফে কিছুদিন থেকে এলেও হিজরতের নকল হরকত করার কারণে সওয়াব পাওয়া যাবে। কি অদ্ভুত আমরা। কি অদ্ভুতভাবে আমরা ইসলামকে আমাদের পকেটের মাপে মাপে তৈরী করে নিয়েছি।

ইসলামী রাষ্ট্রের ভাষা

ইসলামী রাস্ট্র হলো খিলাফত রাস্ট্র। আর খিলাফত রাস্ট্রের অধীনে থাকা সকল মসজিদের খুতবার ভাষা হবে আরবি। কিন্তু যেহেতু আমরা দাজ্জালের ধোঁকায় পড়ে মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত অসংখ্য জাতীয়তাবাদী রাস্ট্রে নিজেদের বিভক্ত করেছি, তাই আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, মাতৃভাষায় খুতবা দেয়াটাই অধিকতর শ্রেয়। কিন্তু ইসলামী রাস্ট্র বা খিলাফত রাস্ট্রের আইন আলাদা।

এখন প্রশ্ন হলো, কেন খিলাফত রাস্ট্রে আরবীতে খুতবা দেয়া বাধ্যতামূলক। কারণ, খিলাফত রাস্ট্রে যে কোন মুসলমান যে কোন জায়গায় পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই গিয়ে বসবাস করতে পারবে। তাই শেখ ইমরান হোসেন যদি ত্রিনিদাদ ছেড়ে ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন, তাহলে যেন সেখানকার খুতবা শুনে ঘুমিয়ে না যান, বরং বুতে পারেন। আবার আবুল কালাম আযাদ যদি বাংলাদেশ ছেড়ে তুর্কমেনিস্তানে গিয়ে বসবাস শুরু করেন, সেখানকার খুতবা শুনে যেন ঘুমিয়ে না যান, বরং বুঝতে পারেন।

@ Md Arefin Showrav

শেষ যুগের ফেতনা জুমু’য়ার খুতবাকেও বন্ধ করতে চাচ্ছে

এমন সময় এসে পড়েছে যখন মূর্খরা প্রতিপত্তি করে বেড়াবে। কোন এক ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কালাম ও তার রাসূল হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের মহব্বতে আরবী ভাষা শিক্ষা লাভ করল যেন সে আরবীতে কুরআন বুঝতে পারে, যেন সে আরবীতেই হাদীস বুঝতে পারে, যেন জুম’য়ার খুৎবা, বিবাহের খুৎবা আরবীতেই বুঝতে পারে, এবং রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহ ওয়া সাল্লামের আরবভূমির মানুষের সাথে মন ভরে আরবীতে দুটো কথা বলতে পারে। এই লোক নিঃসন্দেহে অনেক কষ্ট করে আরবী শিখেছে। যেহেতু সে নেটিভ আরব নয়। — আরেকজন লোক আরবী শিখে নাই। সে আল্লাহ্‌র কালামের ভাষার জন্য, রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষার জন্য ঐ পরিমাণ কষ্ট স্বীকার করতে রাজি নয়। এবং তার তলবও নেই। —

এই দু’জনের স্ট্যাটাস কি এক হলো? হাজার হাজার বেতলব মানুষের গুরুত্ব বেশী, না কি এই একজন মানুষের গুরুত্ব বেশী। নিশ্চয়ই হাজার হাজার বেতলব মানুষের থেকে এই একজন তলবওয়ালা লোকের গুরুত্ব বেশী।

কিন্তু বলা হচ্ছে, এই মূর্খ বেতলব লোকদের জন্য নাকি বাংলায় খুৎবা দিতে হবে। ফলে যে কষ্ট করে আরবী শিখল, অর্থাৎ এই তলবওয়ালা লোকটা মসজিদে গিয়ে দেখল তার আরবী শেখার কোন মূল্য নেই। মূল্য হলো ঐ হাজার হাজার বেতলব মূর্খ ব্যক্তিদের। কারণ সে মসজিদে গিয়ে দেখল সেখানে বাংলায় খুৎবা হচ্ছে। — এটা কি ইনসাফ হলো? আশ্চর্য হয়ে যাই। কিয়ামতের পূর্বলক্ষণ তো এটা যে মূর্খদের জন্য সমাজ সবকিছু উন্মুক্ত করে দিবে। আর যে কষ্ট করে শিখে, মেহনত করে জ্ঞান অর্জন করে তাদের কোন মূল্যায়ন নেই। মসজিদে গিয়ে তারা দেখবে বাংলায় খুৎবা হচ্ছে, ইংরেজীতে খুৎবা হচ্ছে। তার অন্তরের বেদনা কে অনুভব করবে? আমি জানি না কোন শায়খ এটা তরুণ যুবকদের মোটা মাথায় ঢুকাচ্ছেন। যারাই এসব করে থাকেন তারা নিঃসন্দেহে ভালো কাজ করছেন না। কেন মানুষের মনে হবে তার সুবিধার জন্য রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নতকে পরিবর্তন করে ফেলা হবে? আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে হযরত হুযাইফা (রাযি) ইরানের শাহ কিসরার রাজদরবারে এ সমস্যার সমাধান করে গেছেন। যখন তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়া খাবার তুলে খেয়ে বললেন, “আরে, আমি কি এই বেকুবদের কারণে নবীজি হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত ছেড়ে দিব?” — আর আজকে এইসব বেকুব মূর্খদের জন্য নাকি আরবীতে খুৎবা দেয়া চলবে না।

আরো আশ্চর্য, এদের অনেকে স্বপ্ন দেখেন তারাই ইমাম মাহদী (আলাইহিস সালাম) এর সাথে যোগ দিবেন, তার হাতে বাইয়াত হবেন। সেখানে উনাকে কি বলতে পারবেন, “হযরত বাংলায় খুৎবা দিন। বুঝতে পারতেছি না।” এখন যদি আরবী না জানেন ইমাম মাহদী (আ) আসলে তখন জানবেন এটা বিশ্বাস হয় না। এটা প্র্যাকটিকালি সম্ভব নয়। এক্ষেত্রেও যে ব্যক্তি আগে থেকে মাহদী (আ) এর সাথে দেখা করার জন্য, তার হাতে বাইয়াত হওয়ার জন্য ভাষার প্রস্তুতি নিয়েছে সে বেশী গুরুত্ব পাবে, না কি যে প্রস্তুতি নেয় নি সে বেশী গুরুত্ব পাবে? — আর সব থেকে বড় কথা, রাসূল (সা) তার পবিত্র জবানে আরবীতে কথা বলেছেন, আরবীতে খুৎবা দিয়েছেন রাসূল (সা) -কে যারা ভালবাসে তারা কিয়ামত পর্যন্ত এর অন্যথা হতে দেবে না। এটাই পরিষ্কার কথা। কোন শায়খ কি বলল, এটা কোন বিবেচ্য নয়।

মন্তব্যসহ

বিস্তারিত পড়ুন

স্বপ্ন

স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে আসতে পারে। আপনি আপনার স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ (সা) কে দেখতে পারেন। আপনার হৃদয় বলছে আপনি যাকে দেখেছেন তিনিই আখেরী পয়গম্বর রাসুলুল্লাহ (সা)। তাহলে আপনি মিথ্যে কিছু দেখেননি। আপনি স্বপ্নে আপনার মৃত বাবা-মাকে দেখতে পারেন, ফেরেশতাগণকে দেখতে পারেন, জান্নাত-জাহান্নাম দেখতে পারেন। তাহলে বুঝতে হবে এই স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে এসেছে। তখন আপনি ঘুম থেকে উঠে দুই রাকাত শুকরিয়া নামায আদায় করবেন।

কিন্তু স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকেও আসে। সেই স্বপ্ন কারো কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। কারণ যদি আপনি সেই স্বপ্ন প্রকাশ করেন, তাহলে ধীরে ধীরে তা আপনার উপর ভর করবে। আল্লাহপাক আপনাকে অনেক সুন্দর চরিত্রের স্ত্রী দিয়েছেন। সেই স্ত্রী সব সময় আপনার খেয়াল রাখেন। আপনাকে নিজের থেকেও বেশী ভালবাসেন। কিন্তু একদিন আপনি ঘুমালেন আর স্বপ্নে দেখলেন, আপনার স্ত্রী অন্য একজন সুদর্শন যুবকের হাত ধরে হাঁটছে। ঘুম ভাঙার পর আপনি আপনার স্ত্রীর উপর ভীষণ রাগান্বিত হলেন। তাকে অনেক কথা শোনালেন। পরদিন আপনি ঘুমালেন আর স্বপ্নে দেখলেন, ওহ মাই গড! আপনার স্ত্রী সেই যুবকের বাহুতে! আপনি আতঙ্কিত অবস্থায় ঘুম থেকে উঠলেন। রাগে আপনার মুখ লাল হয়ে গেছে। বুঝতে হবে, শয়তানের তরফ থেকে আসা স্বপ্ন আপনার উপর ভর করেছে।

একজন সাহাবী তড়িঘড়ি করে রাসুলুল্লাহ (সা) এর কাছে আসলেন এবং বললেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি স্বপ্নে দেখেছি কয়েকজন ছেলে বল খেলছে। আর সেই বলটা হলো আমার মাথা।” রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, “এই স্বপ্ন শয়তান তোমাকে দেখিয়েছে। কারণ সে তোমার জীবনকে দুর্বিষহ করতে চায়।”

আবার স্বপ্ন হৃদয় থেকেও আসে। একজন পিতৃহীন গরীব শিশু তার বাসার জানালা দিয়ে দেখল, আইসক্রিমওয়ালা এসেছে আর এলাকার সব শিশুরা আইসক্রিম কিনতে ছুটে যাচ্ছে। সে তার মা’র কাছে আইসক্রিম কেনার টাকা চাইল। মা তাকে টাকা নেই বলে ধমক দিল। সে জানালা দিয়ে দেখল, সব শিশুরা আইসক্রিম খাচ্ছে। সে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেল। স্বপ্নে দেখল, মা তাকে আইসক্রিম কেনার টাকা দিয়েছে। সে টাকা নিয়ে দৌড়ে গেল আইসক্রিমওয়ালার কাছে। আইসক্রিম খেতে খেতে তার নাক-মুখ-জামায় আইসক্রিম লেগে গেছে। তারপর যখন সে ঘুম থেকে উঠল, তার হৃদয়ে একধরণের তৃপ্তি কাজ করছে। বুঝতে হবে, এই স্বপ্ন এসেছে হৃদয় থেকে।

একজন এতিম ছেলে তার দাদীর সাথে থাকে। দাদীর এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে তার হাত। দাদীর হাতের সুস্বাদু খাবার তার খুব প্রিয়। দাদীর সাথে গল্প করে তার দারুন সময় কাটে। এভাবেই সে দাদীর সঙ্গ পেয়ে বড় হয়েছে। কিন্তু এখন দাদী একটি হুইল চেয়ারে সারাক্ষণ অর্ধমৃতের মত পড়ে থাকে। কোন কথা বলে না। চলাচল করে না। সেই নাতী একদিন স্বপ্নে দেখল, তার দাদী আগের মত হয়ে গেছে। গল্প করছে, রান্না করছে, তাকে এটা-ওটা উপদেশ দিচ্ছে। এটি দেখে তার মন আনন্দে ভরে গেল। বুঝতে হবে, এই স্বপ্ন হৃদয় থেকে এসেছে।

কিন্তু মাঝে মাঝে স্বপ্ন আসে সাবধানবাণী হিসেবে। তিনি একজন বড় মাপের হুজুর। দেশ বিদেশ থেকে লোকেরা আসে তার সাথে একবার হাত মেলানোর জন্য। তার কোরানপাঠ শুনে শ্রোতারা মুগ্ধ হন। তার বক্তব্য শুনতে লাখো লাখো মানুষের ঢল নামে। তিনি নিশ্চিত যে, জান্নাতে আর কেউ যাক না যাক, তিনি যাবেনই। একদিন তিনি ঘুমালেন আর স্বপ্নে নিজেকে টয়লেটে আবিষ্কার করলেন। বুঝতে হবে, এই স্বপ্নটা সাবধানবাণী, ওয়াক আপ কল।

কিন্তু স্বপ্ন কখনও কখনও আসে ওহী হয়ে, ভবিষ্যতবাণী হয়ে। আপনি স্বপ্নে দেখলেন নিউক্লিয়ার বোমায় শহর জ্বলছে আর আকাশ মাশরুম ক্লাউডে ঢেকে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। কোন সূর্যালোক সেই অন্ধকারকে ছিদ্র করে বের হয়ে আসতে পারছে না। চারিদিকে লাশ আর ধ্বংসস্তূপ। বুঝতে হবে, এই স্বপ্ন নিউক্লিয়ার বিশ্বযুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী।
.
—- শেখ ইমরান হোসেন।
শোকরিয়া @ Md Arefin Showrav