ফেরকা শেষ যুগ সম্পর্কে জানার অন্তরায়

আপনি যদি খন্ডবিখন্ড ইসলামের পটভূমিতে শেষ যুগ সম্পর্কে জানিতে চান তবে তাহা আপনি পারিবেন না। আপনার শাখাকে আপনি যত ভালোই জানেন না কেন বা যে নামই দেন না কেন। আপনি গোঁড়া বা মৌলবাদী ইসলাম পালন করুন বা মুক্তমনা ইসলাম পালন করুন উভয় ক্ষেত্রেই আপনার দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ হয়ে যাবে। কারণ উভয়টাই পাশ্চাত্য দ্বারা নিকৃষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থে অর্থায়নকৃত।

নতুন পৃথিবী

You cannot learn anything of Akhiruzzaman/Islamic Eschatology/Ilmu Akhir Zaman with such Islamic Sectarianism backdrop, with whatever name you want to call your movement, ideology, and so forth. Such case as well for those so called moderate and radical. The unseen narrowed, dunia-ly based, politically driven perspectives, that is financed by the West.

Novaya Zemlya

কাগজের রহস্যময় ব্যবহার

ইসলাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিষ্কার বলে দিয়েছে বিভিন্ন আদান প্রদান সোনা রূপা এবং খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে করতে হবে। কাগজের মুদ্রার ব্যবহার করা যাবে এরকম ইঙ্গিতও কোথাও পাওয়া যায় না।

ফিদিয়া – “আর যাদের জন্য সিয়াম কষ্টসাধ্য তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদিয়া দেয়া তথা একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করা।” [সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৮৪]। কুরআনের এরকম স্পষ্ট আদেশের পর নগদ অর্থ দিয়ে ফিদিয়া আদায় করা জায়েয নয়। বরং খাদ্য দিয়ে ফিদিয়া আদায় করা ফরয।

বিবাহের দেনমোহর – হযরত ফাতেমা রাঃ এর মোহর ছিল ৫০০ দিরহাম।

যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ।

ফেতরা – গম, আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনির।

কাগজের মুদ্রার কথা কোথাও নেই। বরং সতর্কবাণী এসেছে। কাগজের মুদ্রাকে রিবার বাষ্প ও রিবার ধুলা বলা হয়েছে। দেখুন, https://goo.gl/T3rUfE

প্রকৃত মুদ্রা হলো তাই যার ভেতরে আল্লাহ্‌ তায়ালা অন্তর্নিহিত মূল্য রেখেছেন। তাই সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা উচিৎ।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, ইসলামের আধুনিক ভার্সনে বা আধুনিক আলেমদের কল্যাণে সোনা রূপা এবং খাদ্যদ্রব্য হয়ে যায় টাকা, রূপী, রিয়েল, রিংগিত, ডলার ইতাদি। সকল নবী রাসূলদের সুন্নতী মুদ্রাব্যবস্থাকে ইহুদী খ্রিস্টানদের আবিষ্কৃত নিয়ম দ্বারা প্রতিস্থাপনের দায় ইসলামিক লেখক, স্কলার ও বক্তৃতা দানকারীরা কিভাবে এড়াবেন?

যে স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা কয়েক হাজার বৎসর মানবজাতি কোন রকম সমস্যা ছাড়া ব্যবহার করল বিংশ শতাব্দীতে এসে তা অচল হয়ে গেল এবং কাগজের মুদ্রার এক নতুন আইডিওলজি গড়ে উঠল সেটা কি স্বাভাবিক? এর চেয়েও বড় রহস্য কোন আলেমের কাছে এই অস্বাভাবিক বিষয় টা চোখে পড়ল না কেন??

অস্থিতিশীল পৃথিবী

বাদশাহ সালমান ক্রাউন প্রিন্স মুহম্মদ নায়েফকে পদচ্যুত করে নিজের ছেলে মুহম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেছেন। নিঃসন্দেহে বাদশাহ এভাবে আরবকে স্থিতিশীল রাখতে পারবেন না। পৃথিবী দৌড়ে যাচ্ছে শেষ যুগের চূড়ান্ত ক্লাইমেক্সের দিকে। দৌড়ের গতি তুফান মেলের মতো বাড়ছে। পৃথিবীর কোন বাদশাহর ক্ষমতা নেই এর ব্রেক চেপে ধরার।

জ্ঞান ও হিংসা

অন্তরের প্রশান্তি হচ্ছে জ্ঞান। আর চামড়ার প্রশান্তি হচ্ছে হিংসা। জ্ঞান অন্তরকে ঠান্ডা করে। হিংসার কারণে অন্তর জ্বলেপুড়ে মরে, কিন্তু চামড়ার আরাম হয়। ইবলিসের ধারণা ছিল, আমি এতোবড় আলেম, ফেরেশতারা পর্যন্ত আমাকে সমীহ করে। কিন্তু ইবলিস বুঝতে পারে নি যে সে আল্লাহ্‌ থেকে জ্ঞান লাভ করেনি। তাই ‘সার্টিফিকেটের ডিগ্রি’ তার কাজে আসেনি। আর আদম শ্রেষ্ঠ হলো জ্ঞানের কারণে, আল্লাহ্‌ নিজে তাকে জ্ঞান দান করেছেন। – ইহুদিদের হিংসা হলো শেষ নবী আমাদের থেকে আসবে। কিন্তু আল্লাহ্‌ তাদের ভাই থেকে শেষ নবী মনোনীত করলেন যা তারা মেনে নিতে পারেনি। ইসরায়েলের কিছু ব্লগে তাদের অন্তরের জ্বালাপোড়া দেখলাম, আর মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ। আমার অন্তর্দৃষ্টি বলছে, শেষ যুগে আবার এ ঘটনা যাচ্ছে। আমার থেকে কেন হলো না, আমার দল থেকে কেন হলো না – এ প্রশ্ন বহু লোককে কুড়ে কুড়ে খাবে। আমরা দেখি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। কারণ আল্লাহ্‌ বলেন, “অগ্র-পশ্চাতের কাজ আল্লাহর হাতেই।” অতীতের বিষয়গুলো আল্লাহ্‌র হাতেই ছিল, পরের বিষয়গুলোও আল্লাহ্‌র হাতেই।

সেকুলার চেতনা

যারা মনে করেন দাজ্জাল, ইয়াজুজ মাজুজ এসব নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। মহাযুদ্ধ নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। এসব যখন আসবে তখন দেখা যাবে। তাদের দৃষ্টান্ত সূরা কাহাফের ঐ ব্যক্তির মতো যে বলেছিল,

“আমি মনে করি না যে শেষ সময় আসবে, এমনকি যদি (এসেও পড়ে), আর আমাকে আমার সৃষ্টিকর্তার নিকটে সম্মুখীন করানো হয় তা হলেও আমি আরো ভাল স্থানই পাবো।”

[কাহাফ ১৮:৩৬; আরো দেখুন ফুসসিলাত ৪১:৫০ এবং সাবা ৩৪:০২]

“And I do not think the Hour will occur. And even if I should be brought back to my Lord, I will surely find better than this as a return.”

ইহাই আজকের ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের বাসিন্দাদের চেতনা। সেকুলার ইসলামী পন্ডিতরাও তা থেকে মুক্ত নন।

ঈমান ও আমল

কেউ যদি মনে করে আমার নেক আমল আমাকে জান্নাতে নিবে এটাও শিরক হবে। তবে সাধারণত কেউ তা মনে করে না। সবাই আল্লাহ্‌র উপরই ভরসা করে। হ্যা, ভরসা করতে হবে আল্লাহ্‌র উপর। কিন্তু তাই বলে নেক আমল ছেড়ে দিলে চলবে না। ঠিক তেমন ওষুধ খাওয়ার ব্যাপারটা। তবে ওষুধ বা চিকিৎসার উপর মনে হয় মানুষ অনেক নির্ভর করে। খুব খেয়াল রাখা উচিৎ যেন শিরকের পর্যায়ে চলে না যায়। অনেকে টাকার অভাবে ওষুধ খেতে পারে না, চিকিৎসা করাতে পারে না, ইনসুলিন কিনতে পারে না, লাইফ সাপোর্ট দিতে পারে না। এটাও আল্লাহ্‌র ইচ্ছা। চিকিৎসা করলেই যে ভালো হবে এমনটা নয়। — এগুলো সবই দুনিয়ার ছোটখাটো সমস্যা। দুনিয়ার ছোটখাটো সমস্যা যেন ঈমান নষ্ট না করে ফেলে, আখিরাতের জন্য বড় সমস্যা তৈরী না করে। — এসব সমস্যায় পড়ার আগে থেকেই নিয়মিত দোয়া করা উচিৎ।

ভালো আছে মুসলমান

গত সাড়ে সাতশ বছর ধরে যারা চিন্তা করছেন মুসলমানরা কেমন আছে, মুসলমানরা দরিদ্র কেন, মুসলমানরা জ্ঞান বিজ্ঞান ছেড়ে দিল কেন – আমি তাদের বলব মুসলমানরা ভালো আছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌, মুসলমানরা অনেক ভালো আছে। আপনারা আপনাদের নিয়ে চিন্তা করুন, মুসলমানদের মঙ্গল নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। মুসলমানদের জন্য আল্লাহতায়ালাই যথেষ্ট।

তবে যেসব মুসলমানরা আংশিক মুসলমান, আংশিক ইহুদী, খ্রিস্টান, মুশরিক, যেসব মুসলমানের কাছে তার নিজ পরিচয়ের চাইতে পাশ্চাত্য জীবন অধিক লোভনীয় যেখানে গরুর সাথে সেক্স করাকে মেনে নেয়া হয়, সুদ, উলঙ্গপনা এবং সমকামিতাকে সামাজিক স্বীকৃতি দেয়া হয় – আপনারা তাদের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য দোয়া দরূদ তসবীহ জপতে পারেন।