নারী স্বাধীনতা

নারী স্বাধীনতা মানে তালাক প্রাপ্তা ও বিধবা নারীর বিয়ে করার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে বালেগা হওয়ার সাথে সাথেই বিয়ে করার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে নারীদের মসজিদে গিয়ে নামায আদায়ের স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে মাহরাম পুরুষ নিয়ে চলার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে হিজাব করার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে পুরুষের দ্বিতীয়া স্ত্রী হয়েও সংসারে সবার আপনজন হওয়ার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি, ইনজেকশনকে লাত্থি মারার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে শয়তানী কপার টি ও গর্ভপাতকে নাউযুবিল্লাহ বলার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে চাকরী বা লেখাপড়া করার জন্য পরপুরুষকে মুখ না দেখানোর স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে রান্না করার আগে নিজের নামায পড়ার স্বাধীনতা।

পরিচয়

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্‌ বলিয়াছেন মানুষকে পিতৃপরিচয়ে ডাকতে। “তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত ……।” [সুরা আল-আহযাব, ৫] মহানবী হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের নামের শেষে পিতৃপরিচয় ছাড়া যারা অন্য পরিচয় ব্যবহার করে তাদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর কথা বলিয়াছেন। হযরত সাঈদ ইবনে যুবায়ের হযরত ইবনে আব্বাস (রা)কে বলতে শুনেছেন যে, রসূল (স) বলেছেন: ‘যে কেউ নিজেকে বাবার নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকবে তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতা ও সমগ্র মানুষের লা‘নত বর্ষিত হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ) ইমাম বুখারীও (র) এই হাদীসটি হযরত সা‘দ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

হযরত সা‘দ ও হযরত আবু বাকরা (রা) হতে বর্ণিত, তাঁরা প্রত্যেকে বলেছেন: আমার দু’ কান শুনেছে এবং আমার অন্তর মুহাম্মদ (স) এর এ কথা সংরক্ষণ করেছে যে, মহানবী (স) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্যের সাথে সংযুক্ত করে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে।’ (ইবনে মাজাহ)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (স) বলেছেন: যে কেউ নিজের বাবা ব্যতীত অন্যের পরিচয়ে পরিচয় দেয় সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না, যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ সত্তর বছর হাঁটার রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে। (মুসনাদে আহমাদ)

কিন্তু দাজ্জাল আপনাকে ভিন্ন শিক্ষা দিবে। এজন্য দাজ্জাল তার নারীবাহিনীকে নিযুক্ত করিয়াছে। এই নারীবাহিনীর অগ্রভাগে আছে নারীবাদীরা। ইহাদের একজন হইল বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। যিনি মনে হয় বাংলায় নারীদের নামের সাথে স্বামীর নাম যুক্ত করার কুপ্রথা সর্বপ্রথম চালু করিয়াছেন।

উনারা বুঝিয়াছিলেন, এইভাবে নারীর নামের শেষে স্বামীর নাম লাগাইয়া দিতে পারিলে প্রথমত কুরআন ও হাদীসের বিরোধিতা করা হইবে। আর দ্বিতীয়ত নারী তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা হইলে তার পুনরায় বিবাহ হইবার পথ কঠিন করিয়া দেওয়া যাইবে। এক নাম কয়বার পরিবর্তন করা যায়। বাস্তবেও তাহাই হইয়াছে। আজকের আধুনিক সমাজে তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা নারীর বিবাহ কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। ইহাই হইল সামাজিক ভারসাম্যহীনতা। ইহাই দাজ্জালের পরিকল্পনা।

মহানবী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পুণ্যবতী স্ত্রী-গণও তাহাদের নামের শেষে মুহাম্মদ যুক্ত করিয়া গর্বিত হোন নাই। বরং তাহারা তাহাদের পিতৃপরিচয়ই যথেষ্ট মনে করিয়াছেন। যেমন আয়েশা সিদ্দিকা রাযি। নাম থেকেই বুঝা যায় তিনি আবু বকর সিদ্দিকের (রা) মেয়ে। কিন্তু আজকের আধুনিক নারীগণ নিজ নামের সাথে স্বামীর নাম যুক্ত করিয়া ইহুদি খ্রিস্টানদের অনুসরণ করিতেছে।

লা’নত পড়ুক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রতি। হাদীসের ভাষ্যমতে। নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম যাহা বলিয়াছেন তাহার চেয়ে অন্য কিছু আর কি হইতে পারে?

দুই চোখের যোগসূত্র

আলোর চেয়ে দ্রুত গতির যান ব্যবহার করা হলেও ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে না। বিজ্ঞান লেখকরা টাইম মেশিনের কথা বলে মাসুম বাচ্চাদের বিভ্রান্ত করে। আজকে একটু পর আমার ভাগ্যে কি আছে তাও আগে থেকে জানা যাবে না। তবে অবশ্যই গেস করা যাবে। অনুমান করা দোষের কিছু নয়। অনুমান সত্য হতেও পারে, নাও হতে পারে। অনুমান করা হয় পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে। এটি হচ্ছে অংকের মতো। যোগ বিয়োগ করে করা হয়। গোয়েন্দারা, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা করে থাকে। তবে এর চেয়েও স্বচ্ছভাবে ভবিষ্যতকে দেখার উপায় আছে। সেটা হল কুরআন হাদীসের উপর ভিত্তি করে। এ কাজ আলেমদের করার কথা। তবে কুরআন হাদিসের সাথে যদি সততা ও অন্তর্দৃষ্টি যোগ হয় তবে আরো নিপুণভাবে ভবিষ্যতকে দেখা যায়। যার অন্তর্দৃষ্টি যত বেশী সে তত নিখুঁতভাবে ভবিষ্যতকে দেখতে পারে। অন্তর্দৃষ্টির মধ্যে সত্যস্বপ্নও বিদ্যমান। এটা হচ্ছে বহির্জ্ঞানের সাথে অন্তর্জ্ঞানের যোগসূত্র। প্রকৃত সুফী সাধকরা করে থাকেন। আজকের দাজ্জালী যুগের আলেমরা শেষোক্ত বিষয়টিকে এড়িয়ে চলেন। কারণ দাজ্জালী সমাজব্যবস্থায় অন্তর্চক্ষু অন্ধ থাকতে হয়।

যুগের নারী

প্রথম কথা হইল আপনি একজন কর্মজীবী নারী হইয়া একই সাথে যশোরে আপনার দাদী যাহা করিতেন তাহা করিতে সক্ষম হইবেন না । তাহার ছিল বারটি সন্তান, সোবহানাল্লাহ । কিন্তু আপনার মতো একজন পেশাজীবি নারীর পক্ষে তো বারটি সন্তান লালন-পালন করা সম্ভব নয়, বিরাট ঝামেলার ব্যাপার । কাজেই আল্লাহ কোরআনে বলেন, আল্লাহ আপনাদের জন্য যতটি সন্তান ভালো মনে নির্ধারন করিয়া রাখিয়াছেন তাহার বদলে এখন আপনারা নিজেরাই নিজেদের জন্য যতটি ভালো মনে করিয়াছেন নিয়াছেন । সুতরাং আপনাদের কতটি সন্তান থাকা উত্তম হইবে তাহা আল্লাহ নির্ধারন করিবেন, তাহাই আল্লাহ কোরআনে বলিয়াছেন । “তোমরা স্ত্রীদের নিকট গমন করো এবং কামনা করো আল্লাহ যাহা (সন্তান) তোমাদের জন্য লিখিয়া রাখিয়াছেন । আল কোরআন ।” কিন্তু এখন দাজ্জালের যুগে একটি নতুন বিষয় চালূ হইয়াছে যাহাকে বলা হয় “দ্বায়িত্বশীল পিতামাতা” । কাজেই এখন আপনিই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেছেন । আপনি এবং আপনার স্বামী মিলিয়া সিদ্ধান্ত নিতেছেন কতটি সন্তান নিবেন এবং মাঝখানে কত বছর বিরতি রাখিবেন । আর যখনই আপনি বিরতি দিলেন, কারণ আমি একজন কর্মজীবি নারী, তখনই আপনি শিরক করিলেন । খেয়াল করিবেন “শিরক্” শব্দটি উচ্চারণ করিলাম, কেননা আল্লাহ এভাবেই শব্দটি ব্যবহার করিয়াছেন । আপনি যদি অন্যভাবে ইহা উচ্চারণ করেন তবে আপনি কোরআনকে অপমান করিলেন, মনে রাখিবেন । সংসারের বদলে দাজ্জাল তাহাকে অফিসে পাঠাইয়া দিয়াছে, ফলস্রুতিতে তিনি হইয়া গিয়াছেন খন্ডকালীন স্ত্রী এবং খন্ডকালীন মা । অফিসে তাহার চারপাশে থাকে অসংখ্য পুরুষ আর তিনি একজন সুন্দরী মহিলা । ফলাফল হিসাবে কি ঘটিয়া থাকে আপনারা জানেন, বেশীরভাগ দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙ্গিয়া যাইতেছে । কাজেই নারীমুক্তি আন্দোলনের কারণে সমাজে তালাকের সংখ্যা বাড়িয়া গিয়াছে, বিবাহ বন্ধন ভাঙ্গিয়া যাইতেছে । এই ধরনের ঘটনা কি মালয়েশিয়াতেও ঘটিতেছে ? দাজ্জাল এভাবে মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে তাহাকে ঘরের বদলে বাইরে দ্বায়িত্ব পালনের দিকে নিয়া যাইতেছে । হযরত খাদিজা (রাঃ)ও একজন ব্যবসায়ী নারী ছিলেন, এই জাতীয় ফালতু কথা আমাকে বলিতে আসিবেন না । আমি তাহা জানি, আপনাকে বলিতে হইবে না । আমরা অন্য বিষয়ে আলোচনা করিতেছি । দাজ্জাল কেবল নারী বিপ্লব সাধন করিতে চায় না ; সাথে সাথে যৌন বিপ্লবও সফল করিতে চায় । কাজেই যখন নারীরা এমনভাবে পোষাক পরিধান করে যাহাতে তাহাদেরকে নগ্নই মনে হয়, তাহা পুরুষদেরকে সুড়সুড়ি দিতে থাকে বিশেষতঃ যুবকদেরকে । ফলে সত্যিকারের ভালবাসা কমিয়া যায় এবং তাহার বদলে বৃদ্ধি পায় যাহাকে বলা হয় “লালসা” । আর ইহাও আরেকটি কারণ যাহাতে বিবাহ-বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাইতেছে । কাজেই আখেরী জামানায় এই দাজ্জালের যুগের একটি লক্ষণ হইল আপনি দেখিতে পাইবেন বিবাহ বন্ধন ভাঙ্গিয়া যাইতেছে, বিবাহ-বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাইতেছে ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

কূটনৈতিক সুন্নাহ

strategic-sunnah

স্ট্র্যাটেজিক সুন্নাহ – মাওলানা ইমরান নযর হোসেন

মহানবীর (সাঃ) অনুসারীরা ইসলামী দুনিয়া বিশেষতঃ সমগ্র মানবজাতি বর্তমানে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো ভয়ঙ্কর অশুভ পরিবর্তনের দিকে যাইতেছে । একটি জঘন্য শয়তানী দুনিয়া সামনে আসিতেছে । আরো ব্যাপক জুলুম অত্যাচারের দুনিয়া আসিতেছে । ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী যুদ্ধ আসিতেছে । আর এই সবই হইতেছে ইজরাঈলের পক্ষে । যায়োনিষ্টরা যাহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ইসরাঈলকে পরবর্তী বিশ্বনিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র সুপারপাওয়ার হিসাবে অধিষ্টিত করিতে পারে । যেভাবে আসিয়াছিল প্যাক্স ব্রিটানিকার পরিবর্তে প্যাক্স অ্যামেরিকানা । একইভাবে আসিতেছে প্যাক্স অ্যামেরিকানার পরিবর্তে প্যাক্স জুড্যাইকা । এমনটা কেন হইতেছ ? পনের বছর আগে আমি একটি বই লিখিয়াছিলাম “পবিত্র কোরআনে জেরুজালেম” যাহাতে বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হইয়াছে । ইসলামী চিন্তাবিদগণ যদি এই সংকটময় মুহূর্তে দুনিয়ার বাস্তব অবস্থা মানুষকে বুঝাইতেছে ব্যর্থ হন, কেবল মুসলমানগণই নয় বরং সমগ্র মানবজাতিই বর্তমানে আলেমদের নিকট জানিতে চাহেন কিভাবে এই ক্রান্তিকাল মোকাবিলা করিতে হইবে । তাহারা যদি মানবজাতিকে প্রস্তুত করিতে ব্যর্থ হন, তবে স্মরণ করুন আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বে নবী করিম (সাঃ) কি বলিয়া গিয়াছেন যাহা শুনিলে এমনকি অমুসলিমরাও বিস্মিত হইবেন । হাদীসটি বায়হাকী শরীফে আছে । মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন যে, “মানুষের উপর এমন একটি সময় আসিবে যখন ইসলামের নাম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না । কোরআনের লেখাগুলি ছাড়া (বাস্তবজীবনে) আর কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না । মসজিদগুলি হইবে আলিশান অট্টালিকা কিন্তু তাহা হইতে কেউ সুপথের সন্ধ্যান লাভ করিবে না । সেই (অন্ধকার) যুগের আলেমগণ হইবে আকাশের নীচে সবচাইতে নিকৃষ্ট মানব । তাহারা হইবে (মানুষের) পথভ্রষ্টতার ফিতনার কেন্দ্রবিন্দু ।” কাজেই এখন আলেমদের দ্বায়িত্ব হইল বর্তমান বিশ্ব যেই নির্মম বাস্তবতার মোকাবেলা করিতেছে তাহা মানুষের নিকট ব্যাখা করা এবং এই কাজে কোরআনকে ব্যবহার করা । পবিত্র কোরআনের সুরা নাহলে আল্লাহ তায়ালা বলিয়াছেন, “এই কোরআন আপনার প্রতি অবতীর্ন করিয়াছি যাহাতে রহিয়াছে সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা”। আলেমদের জন্য আরো প্রয়োজন হইল বিশ্বনবীর (সাঃ) সুন্নাহ এবং জীবনাদর্শকে এই যুগের সমস্যাবলীর সমাধানে ব্যবহার করা । কেননা মহান আল্লাহ তাঁহার শেষ নবী (সাঃ) সম্পর্কে বলিয়াছেন যে, “নিশ্চয় আপনি সর্বোত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী”। অর্থাৎ মহানবীর (সাঃ) আদর্শ সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য প্রযোজ্য এবং অনন্তকালের জন্য প্রযোজ্য । কসমেটিকস ইসলাম অর্থাৎ সাজুগুজু ইসলাম এই কাজ সম্পাদন করিতে অক্ষম । কসমেটিকস ইসলাম হইল যাহারা বলে একবার ঘরে যান একবার মসজিদে যান আবার ঘরে যান আবার মসজিদে যান ঘরে যান মসজিদে যান আর একই বয়ান বারবার ঘুরাইয়া ফিরাইয়া দেওয়া হইতেছে ষাট সত্তর বছর যাবত । সুতরাং সাজসজ্জার ইসলাম উটপাখির মতো বালির নীচে মাথা ঢুকাইয়া রাখিয়াছে এবং বর্তমান পৃথিবীর সমস্যাবলী নিয়া অধ্যয়ন গবেষণা কিংবা মোকাবেলার কোন প্রচেষ্টা নাই । কাজেই কসমেটিকস ইসলাম নিয়া পড়িয়া থাকিলে মুসলমান হিসাবে আমাদের দ্বায়িত্ব পালনে কখনও সফলকাম হইবে না । অন্যদিকে আছে প্রোটেস্ট্যান্ট ইসলাম (সালাফী) যাহাতে কোন যুক্তিবাদী চিন্তা নাই বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা নাই কিভাবে সত্যকে আধুনিক যুগে প্রয়োগ করা যায় কিভাবে কুরআনকে ব্যবহার করিয়া আধুনিক যুগের বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করা যায় । সালাফী ইসলাম মনে করে আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এবং প্রথম যুগের মুসলমানগণ ছাড়া কোরআন-হাদীসকে ব্যাখ্যা করিবার অধিকার কাহারও নাই । কোন ইমরান হোসেন তাহা করিতে পারিবে না । আমরা তাহাকে সেই সুযোগ দিব না । তাহাতে কি হইয়াছে ? দুনিয়ার মানুষ এখন ইমরানের কথা শুনিতেছে । এই জন্য আমরা আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা জানাইছি । আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় নবীজি (সাঃ) সুন্নাহ অর্থাৎ রীতিনীতি । কাজেই আমরা আপনাকে উপদেশ দিতেছি স্মরণ করাইয়া দিতেছি দাঁড়ি রাখেন । কেননা ইহা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ । আল্লাহ কোন দুর্ঘটনাক্রমে পুরুষদের মুখে দাঁড়ি দেন নাই । তিনি পুরুষদের মুখে দাঁড়ি দিয়াছেন তাঁহার প্রজ্ঞার বিবেচনায় । ফলে অনেক দূর হইতেও আমরা বুঝিতে পারি কে পুরুষ আর কে নারী তাহাদের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দিকে না তাকাইয়াও । ইহাই হল আসমানী জ্ঞান ।

অবশ্য আপনি যখন দাঁড়ি রাখিবেন তখন সেগুলো নিয়া আপনার বাচ্চা খেলা করিবার সুযোগ পায় । কাজেই আপনি যখন দাঁড়ি সেভ করিয়া ফেলেন, তখন নিশ্চিতভাবেই আপনি আপনার শিশুর খেলাধুলার অধিকার হরণ করিলেন । কারণ শিশুরা আর দাঁড়ি নিয়া খেলাধুলা করিতে পারিতেছে না । সুন্নাহ আছে পোষাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে যেগুলো আমরা পরিধান করিয়া থাকি । পোষাকের কিছু সুনির্দিষ্ট ডিজাইন যাহা শালীনতা বজায় রাখে । কিন্তু ইহাই একমাত্র সুন্নাহ নয় । সুন্নাহ আছে আমাদের পানাহারের ক্ষেত্রেও । কিন্তু ইহাই একমাত্র সুন্নাহ নয় । আপনি যেই পৃথিবীতে বসবাস করেন সেই সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও সুন্নাহ । আরো সূক্ষ্মভাবে বলিতে গেলে আপনার আত্মরক্ষা, প্রতিরক্ষা, সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখাও সুন্নাহ । আপনি সত্য মিথ্যার যুদ্ধে লিপ্ত আছেন । আর মিথ্যার সেনাবাহিনী সর্বদাই আপনার উপর আক্রমণের চেষ্টায় লিপ্ত আছে । কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য অবশ্যই বিলুপ্ত করিয়া দিবে মিথ্যাকে । সুতরাং প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি বা যুদ্ধকৌশলগত কলাকৌশল হইল সত্য মিথ্যার লড়াই । সুতরাং প্রতিরক্ষা বা সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত বিষয়গুলি কিভাবে মোকাবেলা করিতে হইবে তাহা জানাও সুন্নাহ । কাজেই আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় হইল সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত সুন্নাহ, যেই সম্পর্কে আপনি আগে কখনও শুনেন নাই । কারণ এই বিষয়টি এখন আর কেউ শিক্ষা দেন না । আমরা আজকে আলোচনা করিব মহানবীর (সাঃ) সামরিক বা যুদ্ধকৌশলগত সুন্নাহ । কাজেই বিশ্বনবীর (সাঃ) সামরিক সুন্নাহসমূহ স্মরণ এবং বিশ্লেষণ করিয়া আমাদের আজকের এই জটিল বিশ্ব পরিস্থিতিতে প্রয়োগের কৌশল আলোচনা করিব । আর এই কাজে আমাদের থাকিতে হইবে দূরদৃষ্টিগত এবং অন্তর্দৃষ্টিগত চিন্তাভাবনার যোগ্যতা । কাজেই আল্লাহর পবিত্র নাম নিয়ে আমরা সত্য মিথ্যা এবং ন্যায় অন্যায়ের লড়াই নিয়ে আলোচনার সূচনা করিতেছি । নবী করীম (সাঃ) এর উপরে আক্রমণ পরিচালনা করা হইয়াছিল । কুরাইশগণ ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করিয়াছিল, জুলুম অত্যাচার, অবিচার এবং মিথ্যার সৈন্যবাহিনী । আপনি যখন দেখিবেন ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হইয়াছে তখন কি করিবেন ? আপনি যদি যথেষ্ট শক্তিশালী না হইয়া থাকেন, তবে আপনি কি আপোষ করিবেন যাহাতে আপনি যেখানে আছেন সেখানে বসবাস করিতে পারেন ? যাহাতে আপনার গ্রীনকার্ড ঠিক থাকে, আপনার চাকরি ঠিক থাকে এবং আপনার গাড়ি-বাড়িও ঠিক থাকে ? নাকি আপনি যেই পরিণতিই হোক না কেন তাহা পরোয়া না করিয়া সত্যকে আকড়াইয়া থাকিবেন ? সুন্নাহ হইল প্রয়োজনে (জন্মভূমি) মক্কা ত্যাগ করুন তবু সত্যকে ত্যাগ করিবেন না । এবং আপনি সত্যকে প্রচার করিতে থাকুন । এমন অবস্থা যখন আসিবে তখন হিজরত দেশত্যাগ করিতে হইবে । আর এজন্য এখন অনেক মানুষ বিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে হিজরত করিতেছেন । কারণ সেখানে এখন আর সত্যকে প্রচার করিবার স্বাধীনতা নাই । কিন্তু রাসুলে পাক (সাঃ) যখন হিজরত করিলেন তাহাতে কিন্তু কুরাইশগণ তাঁহাকে ছাড়িয়া দেন নাই । তাহারা নবীজির (সাঃ) পেছনে পেছনে ধাওয়া করিয়া আসিয়াছে । ফলে সংগঠিত হইয়াছে বদরের যুদ্ধ । তাহাতে আমরা তাহাদেরকে দিয়াছি অপমানজনক পরাজয় । বিস্তারিত পড়ুন

কুরআনের সমর্থন সবচেয়ে বড়

quran-wallpaper

যখন বহুবিবাহ নিয়ে প্রথম পোস্ট দেই সেদিনকার পাবলিক রেস্পন্সের সাথে আজকের পাবলিক রেস্পন্সের ব্যাপক পার্থক্য আছে। প্রথম দিনের প্রতিবাদ আর আজকের দিনের সমর্থনের ব্যাপকতা ইনভার্সলি প্রোপরশনাল। অনেক ভাই বোন আবেগের ঊর্দ্ধে থেকে কুরআন হাদীসের সাহায্যে বিষয়টাতে সমর্থন দিচ্ছেন। আল্লাহর কাছে তাদের জন্য জাযাখায়ের চাই।

আপনার কাছে যখন কুরআন হাদীস থাকবে, অর্থাৎ আপনাকে যখন কুরআন হাদীস ব্যাকিং দিবে তখন আপনাকে কেউ আটকাতে পারবে না। সমস্ত শক্তি, সমস্ত যুক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেছেন ,

সুতরাং তুমি কাফেরদের আনুগত্য করো না, এবং তুমি তার (কুরআনের) সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রবল সংগ্রাম চালিয়ে যাও।
(সূরা ফুরক্বান, ২৫ঃ৫২)

আর যখন কুরআন হাদীস আপনাকে সমর্থন না দিবে তখন যত বড় হাতিয়ারই ব্যবহার করা হোক না কেন তা পড়ে যেতে বাধ্য। কেউ না কেউ একসময় প্রশ্ন তুলবেই। আর তার কোন উত্তর থাকবে না।

এজন্যই গণতন্ত্রের চূড়ান্ত সময়েও আজকে যখন তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়, গণতন্ত্রের ঠিকাদার কোন মুফতী তার উত্তর দিতে পারে না।

ইসলামের নামে প্রচলিত অনেক প্রতিষ্ঠিত আমলও কালক্রমে বিদআত প্রমানিত হয়।

এজন্য কুরআন হাদীসের সমর্থন সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন।

আর তাই আমরা দেখি সূরা কাহাফ ও বর্তমান বিশ্ব গ্রন্থখানির ভূমিকায়ও লেখক শায়খ ইমরান নযর হোসেন সূরা ফুরক্বানের এই আয়াত এনেছেন। “সুতরাং তুমি কাফেরদের আনুগত্য করো না, এবং তুমি তার (কুরআনের) সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রবল সংগ্রাম চালিয়ে যাও। “

কারণ তিনি জানতেন তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। এমতবস্থায়, কুরআনের ব্যাকিং ছাড়া মানুষের প্রশ্নের উত্তর দানের অন্য কোন উপায় নেই। কুরআনের ব্যাকিং থাকলে সমস্ত বিরোধিতাই একসময় শেষ হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। কুরআনের হাক্বীকত এমনই।

জ্ঞানশাস্ত্র

জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখার প্যারামিটার আলাদা। দুনিয়ার প্যারামিটারে আপনি আখিরাতকে মাপতে পারবেন না। আখিরাতের একদিন দুনিয়ার ৫০,০০০ বছর। আপনার শরীর প্রতিটি প্যারামিটারে আলাদাভাবে রেস্পন্স করে। তার সে ক্ষমতা আছে। এলোপেথিকে যে পন্থায় ওষুধের পাওয়ার কমানো হয়, হোমিওপ্যাথিকে সে পন্থায় ওষুধের পাওয়ার বাড়ানো হয়। চাইনিজ ট্রাডিশনাল মেডিসিনে শরীরে যে (Qi) চী প্রবাহিত হয় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে তার কোন অস্তিত্বই নেই। আপনি জ্ঞানের এক শাখার প্যারামিটার অন্য শাখায় ব্যবহার করতে পারেন না। যদি করেন তাহলে আপনি কোন রেজাল্ট পাবেন না। হিজামার কথাই ধরুন। এটা হল রক্তমোক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা। রক্ত বের করলে রোগী ভালো হয়ে যায়। আশ্চর্য। কিন্তু আপনি আধুনিক বিজ্ঞানের থিওরি দিয়ে হিজামাকে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। একইভাবে রুকইয়াকেও ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। আফগানিস্থানের জিহাদে অনেকে বালি ছুড়ে শত্রুট্যাংক ধ্বংস করেছেন এরকম বর্ণনা অনেক জিহাদী শায়খদের বইয়ে আমরা পাই। আরও আজব জিনিসের বর্ণনাও পাওয়া যায়। এখন এগুলো আপনি আপনার আভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মেলাতে হয়তো পারবেন না। পৃথিবী যে তার সব রহস্য আধুনিক যুগের আধুনিক মানুষদের কাছে প্রকাশ করে দিবে ব্যাপারটা এমন নয়। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তার জ্ঞানের কিছুই মানুষ আয়ত্ব করতে পারে না। এটা কুরআনের কথা। আয়াতুল কুরসিতে লেখা আছে। কিন্তু আধুনিক মানুষেরা মনে করে জ্ঞান বিজ্ঞানের সব কিছু তারা আয়ত্ব করতে পারে। সব জ্ঞানের ফ্যাক্টরি হচ্ছে হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ড। এটাই তাদের অহংকার। আল্লাহ অহংকারীদের পছন্দ করেন না।