কম্পিউটার যেমন হ্যাকিং করা যায় ঠিক তেমন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন এমনকি আস্ত কোন দেশকেও হ্যাকিং করে ফেলা যায়। মানে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ইউজাররা ভাবে আমরাই চালাচ্ছি, কিন্তু মূল অপারেটর অন্য কোনখানে। যন্ত্র তখন অপারেটরের কমান্ড অনুযায়ী চলতে থাকে। এটা নতুন নয়, শত শত বছর ধরেই চলছে। ইহুদীরা এসব বেশী করে। পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজরা করেছিল। নবাবের ফৌজের নিয়ন্ত্রণ নবাবের হাতে ছিল না। এভাবে তারা ধর্মীয় সংগঠনকেও মূল ধর্ম থেকে ডাইভার্ট করে ফেলে। বিদ’য়াতই হয়ে যায় ধর্ম। আমাদের আশেপাশের ধর্মীয় সংগঠনগুলোর দিকে তাকালেও চোখে পড়বে।

Advertisements

বিবাহিত জীবনের অব্যক্ত কিছু কথা

একটা মোটা দাগের কৌতুকে পড়েছিলাম ক্রিকেটে থাই গার্ডের ব্যবহার শুরুর প্রায় ১০০ বছর পর হেলমেট ব্যবহার শুরু হয়। 
কৌতুকটা ছিল পুরুষ মানুষদের নিয়ে – তারা কোনটাকে গুরুত্ব দেয় এটা নিয়ে একটা প্রাপ্তবয়ষ্ক ইশারা ছিল।

যে কথাগুলো অনেকদিন ধরে বলব ভাবছি তা সর্বসমক্ষে বলা লজ্জার, কিন্তু কিছু ব্যাপারে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লজ্জার সীমানায় এসে হলেও মানুষকে কিছু শিক্ষা দিয়েছেন।*

উমার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তার মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, স্বামীকে ছাড়া তার স্ত্রী কয়দিন থাকতে পারে। উত্তর শুনেছিলেন চার মাস। এরপর তিনি নিয়ম করে দিয়েছিলেন, মুসলিম মুজাহিদদের চার মাসের বেশি জিহাদের ময়দানে রাখা যাবে না।

উমার পুরুষদের জিজ্ঞেস করেননি। আমাকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতাম, একজন পুরুষ তার স্ত্রী ছাড়া চার দিনের বেশি ভালো থাকতে পারে না।

আমি যে একটা বছর অ্যামেরিকায় ছিলাম স্ত্রীকে রেখে, কীভাবে ছিলাম সেটা আল্লাহ ভালো জানেন।

স্ত্রীকে ছাড়া ভালো থাকতে পারে না কেন? কারণ, আল্লাহ পুরুষকে সেভাবে বানিয়েছেন। চাহিদা দিয়ে, কামনা দিয়ে।

আমাদের সমাজের স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য যতটা ব্যস্ত, মনের ক্ষুধা এবং দৈহিক ক্ষুধা মেটানোর জন্য ততটাই অতৎপর।

অন্তত, আমার কাছে আসা ইনবক্সে ভাইদের অনুযোগে তাই মনে হয়।
মনের ক্ষুধা সংসারের আলাপে মেটে না। ডাল শেষ, তেল লাগবে – এগুলো সম্পর্কের উন্নতি করে না।

মনের ক্ষুধা মেটে যখন কোনো পুরুষ যে ব্যাপারে আগ্রহী সে ব্যাপারে তার সাথে আলাপ করলে। আমি বিজ্ঞান ভালোবাসি। বিজ্ঞানের নতুন একটা আবিষ্কার নিয়ে আমার সাথে আমার স্ত্রী কথা বললে আমার ভালো লাগে।

আমার স্ত্রীর বিজ্ঞান ভালো না লাগলে?

বোনেরা, কিছু একটা খুঁজে বের করুন যেটাতে আপনার আর আপনার স্বামীর কমন আগ্রহ আছে।

আর থাকল দেহের ক্ষুধা।

এই ক্ষুধা সত্য। পেটের ক্ষুধার মতই সত্য। যদিও পেটের ক্ষুধার কথা কেউ বলতে বা শুনতে লজ্জা পায় না, কিন্তু এই ক্ষুধাকে পায়।
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশে বেশ্যালয় আছে। কেন? 
বেশ্যালয়ে বিবাহিত পুরুষরাও যায়। কেন?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা চারটা পর্যন্ত বিয়ের বিধান দিয়েছেন এর একটা কারণ পুরুষদের দৈহিক ক্ষুধা অনেক বেশি আগ্রাসী।

এবং অধিকাংশ বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রীকে তার চাহিদার কথা বলতে লজ্জা পায়। প্রতিনিয়ত বলা তো আরো মুশকিল।

এই অবদমিত চাহিদার হালাল বহির্প্রকাশ বাধাপ্রাপ্ত হলে পুরুষেরা ছোটে পর্নের দিকে। এখন মোবাইলে বিছানায় শুয়েও সারা দুনিয়ার নোংরামি ঘুরে আসা যায়।

স্ত্রী তার মতো ঘুমে আছেন, স্বামী পাপাচারে মগ্ন।

পরকীয়া, ধর্ষণ – প্রায় সব বিকৃত কামাচারের পেছনে হালাল স্ত্রীসঙ্গ দুর্লভ হওয়াটা একটা বড় কারণ।

স্ত্রী বুঝতে পারেন না স্বামী কেন রেগে থাকেন। তিনি বুঝতে পারেন না, সংসারে অশান্তি। এই দম্পতিকে তাদের শারীরিক সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেস করে দেখেন।

আমি পুরুষদের সবর করতে না পেরে পাপে জড়ানোকে জাস্টিফাই করছি না। একজন পুরুষ হিসেবে আসলে পুরুষেরা কী চিন্তা করে, তাদের কী চাহিদা – সেটা বোনদের সামনে তুলে ধরলাম, লজ্জার মাথা খেয়েই।

সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।

রমণী শব্দের উৎস বিশ্লেষণে যাব না, তবে বোনেরা একটু চিন্তা করে দেখবেন। কথাটা সত্য। আমাকে গালমন্দ করতে পারেন – তবে আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি।

আর ভাইয়েরা, আল্লাহ আমাদের যে প্রবৃত্তি দিয়েছেন তা নিয়ন্ত্রণ করার নামই তাকওয়া – আল্লাহ সম্পর্কে সচেতন থাকা। যে আল্লাহর নামে আমরা আমাদের স্ত্রীদের ঘরে এনেছি, তাদেরও মানসিক এবং শারীরিক অধিকার আছে। সেটার দিকে নজর রাখা আমাদের কর্তব্য।

আমরা যেন আমাদের সঙ্গী-সঙ্গিনীদের সীমাবদ্ধতাটুকু উপেক্ষা করে তাদেরকে তাদের প্রাপ্যটুকুর চেয়েও বেশি কিছু দেয়ার চেষ্টা করি। তাদের পাপ থেকে বাঁচাই এবং নিজেও বাঁচি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

Shared from Sharif Abu Hayat Opu

মন্তব্যঃ যাই বলুন পুনরায় বহুবিবাহ প্রচলন ছাড়া এ সমস্যা সমাধানের কোন গতি নেই। সুন্নতকে ছেড়ে তাকওয়া হয় না।

সকল ইঞ্জিনিয়ারের সেরা ইঞ্জিনিয়ার

গত সেমিস্টারে আমাদেরকে কমিউনিকেশান ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হয়েছিলো। এ সাবজেক্টের একটা বড় অংশ ছিল মোবাইল কমিউনিকেশনের উপরে। মোবাইল ফোনকে ‘Cell-phone’ ও বলা হয়।
কেন?
.
কারণ, আমরা যখন কথা বলি তখন সে কথাকে অপর পাশে পৌছানোর জন্য যে ট্রান্সমিটার ব্যবহার করা হয়, সে ট্রান্সমিটার যতোটুকু এরিয়াকে কভার করতে পারে তাকে ‘Cell’ বলা হয়। সেখান থেকেই এসেছে ‘Cellular Phone’ বা ‘Cell Phone’। একটা সেলের শেইপ কেমন হলে ভালো হয় তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বেশ ভালোই গবেষণা করেছেন। বৃত্তকার শেইপ খুব ভালো অপশন। কারণ, কেন্দ্র থেকে পরিধির যে কোন বিন্দুর দূরত্ব যেহেতু সমান, তাই খুব সহজেই একটা ট্রান্সমিটার তার চারপাশের সকল এরিয়াকে একইভাবে কভার করতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এক সেল দিয়ে তো আর সব জায়গায় কথা বলা যায় না। একটা সেলের ব্যস কতোটুকুই আর হতে পারে?
এক মাইল থেকে শুরু করে বিশ মাইল পর্যন্ত। আমি যদি এখন খুলনা থেকে ঢাকায় কথা বলতে চাই তখন কী করব? দূরত্ব তো তিনশো কিলোর মতো।
.
সেজন্য পুরো মোবাইল কমিউনিকেশান এরিয়াকে বেশ কিছু ছোট ছোট সেলে ভাগ করা হয়। দরকার হলে এক সেল থেকে আরেক সেলে কল ট্রান্সফার করা যায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই সেলগুলোর শেইপ যদি বৃত্তাকার হয়, তাহলে কিছু এরিয়া থেকে যায় যা কখনোই কভার করা যাবে না। সেজন্য বৃত্তাকার শেইপের চিন্তা বাদ। তাহলে কী করা যায়?
সমবাহু ত্রিভুজের আকৃতিতে বানাবো সেলগুলোকে? বর্গাকৃতি? নাকি হেক্সাগোনাল বা ষড়ভুজাকৃতি?
.
তিনটাই ভালো অপশন। তবে হালকা জিওমেট্রি আর ট্রাইগনোমেট্রি এপ্লাই করে দেখা গেলো, হেক্সাগোনাল শেইপ হচ্ছে সবচেয়ে উপযোগী। এই শেইপ ব্যবহার করলেই কম খরচে বেশি দূরত্ব কভার করা যায়।
.
অনেকক্ষণ বোরিং কথা বললাম, এবার ইন্টারেস্টিং কিছু বলি।
.
কখনো মৌমাছির চাক দেখেছেন? অনেকগুলো ছোট ছোট ঘরে ভাগ করা থাকে না পুরো চাকটা? খেয়াল করলে দেখবেন, এই ঘরগুলো কিন্তু হেক্সাগোনাল। মৌমাছিরা কিন্তু ট্রাইগনোমেট্রি কিংবা জিওমেট্রি কিছুই জানে না। তারা কোন ইঞ্জিনিয়ারও না। তাহলে কিভাবে তারা জানলো হেক্সাগোনাল শেইপের কথা? কিভাবে তারা বুঝলো এই শেইপে মধুগুলোকে রাখলে কম মোম খরচ করেই অধিক পরিমাণে মধু সংরক্ষণ করা যায়?
.
বিবর্তনবাদীরা বলে, এটা ন্যাচারালি তাদের ‘Instinct’। অর্থাৎ, সত্তাগতভাবেই তারা এটা জানে। হুমায়ুন আহমেদের মতো সাহিত্যিকরা হয়তো লিখবেন- “প্রকৃতি গভীর মমতায় তাদের এটা শিখিয়েছে।”
.
আমরা বলি, এটা তাদের শিখিয়েছেন যিনি সকল ইঞ্জিনিয়ারদের সেরা ইঞ্জিনিয়ার। যার অসম্ভব সুন্দর ইঞ্জিনিয়ারিং পরিব্যপ্ত করে রেখেছে এ মহাবিশ্বকে। আমাকে, আপনাকে, আমাদের সবাইকে।
.
“তোমার রব মৌমাছির অন্তরে ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ দিয়েছেনঃ তুমি গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়, বৃক্ষ এবং মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে। এর পর প্রত্যেক ফল হতে কিছু কিছু আহার কর, অতঃপর তোমার রবের সহজ পথ অনুসরণ কর। ওর উদর হতে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিষেধক। অবশ্যই এতে রয়েছে নিদর্শন চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।” [সূরা আন-নাহল (মৌমাছি) ১৬:৬৮-৬৯] 
.
“(অন্তরে ইঙ্গিত করা বলতে বোঝানো হচ্ছে) এমন জ্ঞান-বুদ্ধি যা প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করার জন্য প্রত্যেক জীবকে দেয়া হয়েছে।” [তাফসীর আহসানুল বয়ান]
.

(সংগৃহীত)
লেখকঃ শিহাব আহমেদ তুহিন

শিশুদের নামকরণ

পরিচিত এক বোনের একমাত্র ছেলে মাত্র চার বছর বয়সে হঠাৎই মারা যায়। বেড়াতে গিয়েছিলেন। সবাই যখন দুপুরের খাবারে ব্যস্ত, ছেলেটি কোন ফাঁকে বাসা থেকে বের হয় যায়। রাস্তার পাশে একটি ছোট পুকুরের মত। সেখানেই হঠাৎ করে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় তার।

নাবালেগ অবস্থায় সন্তানের মৃত্য বাবা মার জন্য আখিরাতে নাজাতের কারন হতে পারে। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সবরের তাউফিক দিন, উত্তম বিনিময় দান করুন।

তবে একটি লক্ষনীয় বিষয় হল, তারা না জেনে তাদের এই ছেলের নাম রেখেছিলেন “তাবীব”। যার অর্থ “ধ্বংসপ্রাপ্ত”। সুরা লাহাবের “তাব্বাত ইদা আবি লাহাব” অায়াতে এই একই অর্থে শব্দটি verb/ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।

আরেক ভাইয়ের ছেলের নাম “মুসআব”। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অতি প্রিয় সাহাবীদের একজন। কিন্তু সমস্যা হল, অারবী এই শব্দে একটি “অাইন” অক্ষর রয়েছে, যা আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ উচ্চারণ করতে পারে না। বরং আইনের স্থলে আলিফ উচারন করে। আর সেক্ষেত্রে “মুসাব” এর অর্থ হয় বিপদগ্রস্থ।

একদম ছোটবেলা থেকেই এই ছেলেটি প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকতো। এক পর্যায়ে তার নাম পরিবর্তন করে সুহাইল রাখা হয়। আলহামদুলিল্লাহ এরপর থেকেই সে মোটামুটি সুস্থ।

উত্তরা নয় নাম্বার সেক্টরে একটি এপার্টমেন্ট “হাবিতাত বিল্ডারস” কতৃক নির্মিত। হাবিতাত অর্থ ধ্বংস হয়ে যাওয়া। (আল্লাহ তা’অালা হিফাযত করুক)।

নামের একটি প্রতিক্রিয়া আছে, এটি হাদিস দ্বারা প্রমানিত। পাশাপাশি, দুনিয়াতে ব্যবহৃত নামেই আমাদেরকে আখিরাতে ডাকা হবে। খারাপ নাম থাকলে খারাপ নামে, ভাল থাকলে ভাল।

কুরঅানে ব্যবহৃত হলেই কোন শব্দের অর্থ ভাল হয়ে যায় না। কুরঅানে ফিরআউন, হামান, আবু লাহাবের নামও আছে। এসমস্ত নাম কুরঅানের আয়াত হিসেবে পড়লে প্রতি অক্ষরে দশটি করে সাওয়াব পাওয়া যাবে, কিন্তু কারো নাম হিসেবে যে এ শব্দগুলো ভাল নয়, তা তো সবাই বুঝে।

এজন্য কুরঅান বা হাদিসের বই থেকে কোন শব্দ পছন্দ হলেই নাম রেখে না দেয়া। কোন নির্ভরযোগ্য আলিমের সাথে পরামর্শ করা অবশ্যই জরুরী। গুগল করে বা নামের বই দেখেও নিজে নিজে নাম রেখে দেয়াটা অনেক রিস্কি। অনেক নামের ভাল খারাপ দুটো অর্থই থাকে। গুগল বা নামের বই আপনাকে ভাল অর্থটা বলবে,খারাপটা চেপে যাবে। আমাদের পাশের বাসার আপু তার ছেলের নাম এভাবে গুগলে দেখে রেখেছেন “ইহান”। উর্দুতে যার অর্থ “পূর্ণ চন্দ্র”, কিন্তু অারবীতে এর অর্থ “অপমানিত/লাঞ্ছিত”।

প্রতিটি বাবা মার মনে রাখা দরকার, সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পর তার একটি সুন্দর নাম রাখা তাদের দায়িত্ব। এটা সন্তানের হক। এই হক আদায়ে অবহেলা হলে আমাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

আল্লাহ তা’অালা আমাদের সতর্ক হওয়ার তাউফিক দিন।

সংগৃহীতঃ Rizwanul Kabir

চরমপন্থি আর নরমপন্থী। তথা খারেজিয়াত ও মডারেট। একটা হচ্ছে ইহুদিদের স্বভাব আরেকটা খ্রিস্টানদের স্বভাব। কিন্তু আল্লাহ মুসলমানদের মধ্যপন্থী করে সৃষ্টি করেছেন। মধ্যপন্থী হওয়াটাই সবচেয়ে বেশী কঠিন। এবং এটিই কাম্য।

বেটার হাফ জিনিসটা কি বুঝলাম না। এই টার্মটা ইসলামিক ভাইদের লেখায় দেখি। আম্মাজানরা (রাযি য়ানহুম) কি নবীজী (সা) এর বেটার হাফ ছিলেন নাকি? যার যার আমল তার তার বলেই তো জানি। আপনাদের বেটার হাফদের একটু বিষয়টা জিজ্ঞাসা করেন তো। আপনি না পারলেও হয়তো তারা উত্তর দিতে পারবেন।

আমার এক কলিগ, বেচারা ভালো পদে আছেন, হুজুর মানুষ, গতকাল বললেন, তিনি পোস্ট গ্রাজুয়েশনের সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে মাসে ১০ হাজার টাকা খরচ নিতেন। যা তিনি পরে শোধ করে দেন। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে একদিন খোটা দেয়, ‘তুমি তো আমার বাবার পয়সায় লেখাপড়া করেছ’ এই বলে। ভাইটি আক্ষেপ করে বললেন, সেদিন তিনি তাকে মেরেছেন। আসলে মহিলার কথাটা আমারও খারাপ লাগল। যদি তিনি সত্যিই এ কথা বলে থাকেন আর কি। বেচারা মেট্রিক, নটরডেমে ইন্টার, সরকারী মেডিকেলে লেখাপড়া এগুলো কি ফাউ ফাউ করছেন? এ প্রশ্ন এসেই যায়। কিন্তু মার দিয়ে কি তাকে বুঝানো যাবে যে আমি ভালো ছাত্র ছিলাম। এখন কি করে তাকে বুঝানো যায় যে সে কথাটি ঠিক বলেনি। মার দিলে তো আরও মনে করবে, আমার বাবার টাকা দিয়ে লেখাপড়া করল আবার আমাকে মারল। তোর মতো ছোটলোক স্বামীই আমার ভাগ্যে ছিল !! পরে চিন্তা করলাম কি করা যেত। কি করলে সে বুঝত। আমি বললাম, মোহরের টাকা দিছেন? বলল, বাকী আছে। এ তো আরও সমস্যা। একে তো শ্বশুরের থেকে টাকা নিয়ে পড়েছে (যদিও তা শোধ করে দিয়েছে), আবার মোহরও বাকী আছে। চিন্তা করে বের করলাম, আসলে এই মুহূর্তে কিছু করার ছিল না। ধৈর্য ধরা উচিত ছিল। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নানাভাবে পরীক্ষা করেন। তখন ধৈর্য ধারণ করতে হয়। কিল দিয়ে জেতা যায় না। নবীজী (সা)-কে একবার আয়েশা (রাযি) দৌড় প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়েছিলেন। আবার অনেকদিন পর আয়েশা (রাযি) যখন একটু ভারী হয়ে গেছেন তখন নবীজীর কাছে হেরে যান। হা হা। কাজেই সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো মেয়েটির বাবা একসময় অসহায় হবেন, যেমন একসময় মেয়েটির স্বামী হয়েছিলেন। তখন তাকে মনখুলে সাহায্য করে দিলেও কিন্তু হয়ে যায়। আর তাতেই তখন মেয়েটি বুঝতে পারতেন, জীবন জয় পরাজয়ের নয়, সহযোগিতার। সেই প্রকৃত সময় আসা পর্যন্ত কিলাকিলি করে লাভ নেই। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ সব কিছুর জন্য নির্ধারণ করেছেন একটি নির্দিষ্ট সময় / পরিমাপ / ক্ষণ। (সূরা তালাক্ব, ৬৫ঃ৩)