দাব্বাতুল আরদ্ব – ১

নবী সুলাইমান (আ) মারা গেছেন কিন্তু সেই খবর জ্বীনেরা জানে না। জাসাদ বা দাজ্জাল নবী সুলাইমান (আ) এর ছদ্মবেশে তাঁর সময়ের মাত্রাকে পরিবর্তন করা অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন লাঠি বা মিনসা’ হাতে নিয়ে নবী সুলাইমানের কুরসিতে বসে জ্বীনেদের দিয়ে ইজরায়েলের জন্য কাজ করাচ্ছে। ছদ্মবেশী দাজ্জাল মিনসা’ দ্বারা সময়ের মাত্রাকে পরিবর্তন করে জ্বীনেদের সামনে অতীতকে উপস্থাপন করছে এমনভাবে যাতে জ্বীনেদের মনে হয় নবী সুলাইমান (আ) এখনও জীবিত। তারা তখন ছদ্মবেশী দাজ্জালের হুকুমে ইজরায়েলের জন্য বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের যাদুকরী কাজগুলো করছে যা আমরা এই আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতায় প্রত্যক্ষ করছি।

“যখন আমি তার (নবী সুলাইমান আ.) মৃত্যুর ফয়সালা করলাম, তারা (জ্বীনেরা) এটি জানত না (যে, তিনি মৃত এবং তার স্থানে একজন ছদ্মবেশী বসে আসে তার মিনসা’ বা অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন লাঠি হাতে নিয়ে) যতক্ষণ না দাব্বাতুল আরদ সেই মিনসা’ (-এর ভিত্তি) খেয়ে ফেলে। যখন এটি পড়ে গেল (এই মর্মে যে, এটি এর অলৌকিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলল) জ্বীনেদের কাছে (যারা আল্লাহর নির্দেশে নবী সুলাইমানের অধীনে কাজ করছিল) এটি পরিষ্কার হয়ে গেল যে, (নবী সুলাইমান মারা গেছেন এবং তারা এতদিন নবী সুলাইমানের মিনসা’ ধরে থাকা ছদ্মবেশীর জন্য কাজ করেছে) যদি তারা গায়েবের খবর জানত, তাহলে তারা এই অপমানকর আজাবে (অর্থাৎ ইজরায়েলের জন্য ছদ্মবেশীর হুকুমে করা শয়তানী কাজগুলোতে) নিজেদের আবদ্ধ রাখত না।” (সুরা সাবাঃ ১৪)

দাব্বাতুল আরদ হলো ওয়ারলেস স্মার্টফোন যার পেছনে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করছে এবং কথা বলছে।তারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে গাফেল হয়ে গেছে এবং তাদের অন্তর অন্ধ হয়ে গেছে, তাই আল্লাহপাক দাব্বাতুল আরদকে ভূমি থেকে নির্গত করেছেন।

“আপনি অন্ধদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে সৎপথে আনতে পারবেন না। আপনি কেবল তাদেরকে শোনাতে পারবেন, যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে। অতএব, তারাই আজ্ঞাবহ। যখন প্রতিশ্রুতি (কেয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের (অর্থাৎ যাদের হৃদয় অন্ধ তাদের) সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।” (সুরা আন নামলঃ ৮২)

এই স্মার্টফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মি মিনসা’র অলৌকিক ক্ষমতাকে নষ্ট করছে। ফলে একসময় মিনসা’র ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাবে আর ছদ্মবেশী দাজ্জাল মিনসা’র দ্বারা সময়ের ভ্রমণ করাতে পারবে না ও জ্বীনেদের সামনে নবী সুলাইমান (আ) এর অতীতকে উপস্থাপন করতে পারবে না। পবিত্র কুর’আন একে এভাবে প্রকাশ করেছে,
“…যতক্ষণ না দাব্বাতুল আরদ (ঘুণপোকা) সেই মিনসা’ (-এর ভিত্তি) খেয়ে ফেলে। যখন এটি পড়ে গেল (এই মর্মে যে, এটি এর অলৌকিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলল) জ্বীনেদের কাছে (যারা আল্লাহর নির্দেশে নবী সুলাইমানের অধীনে কাজ করছিল) এটি পরিষ্কার হয়ে গেল যে, (নবী সুলাইমান মারা গেছেন এবং তারা এতদিন নবী সুলাইমানের মিনসা’ ধরে থাকা ছদ্মবেশীর জন্য কাজ করেছে) যদি তারা গায়েবের খবর জানত, তাহলে তারা এই অপমানকর আজাবে (অর্থাৎ ইজরায়েলের জন্য ছদ্মবেশীর হুকুমে করা শয়তানী কাজগুলোতে) নিজেদের আবদ্ধ রাখত না।” (সুরা সাবাঃ ১৪)

জ্বীনেরা যে দাজ্জালের হয়ে আধুনিক যুগের এই বৈপ্লবিক বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তির কাজ করে দিচ্ছে তার প্রমাণ রয়েছে সুরা আল নামলে।

“সুলায়মান বললেন, হে পরিষদবর্গ, তারা আত্নসমর্পণ করে আমার কাছে আসার পূর্বে কে বিলকীসের সিংহাসন আমাকে এনে দেবে? (38) জনৈক দৈত্য-জিন বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং আমি একাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত। (39) কিতাবের জ্ঞান (অর্থাৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান) যার ছিল, সেই জ্বীন বলল, আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। অতঃপর সুলায়মান যখন তা সামনে রক্ষিত দেখলেন, তখন বললেন এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে, আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত কৃপাশীল। (40) সুলায়মান বললেন, বিলকীসের সামনে তার সিংহাসনের আকার-আকৃতি বদলিয়ে দাও, দেখব সে সঠিক বুঝতে পারে, না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের দিশা নেই। (41)” (সুরা আন নামলঃ ৩৮-৪১)

কিতাবের জ্ঞান থাকা জ্বীন থ্রিডি হলোগ্রাফিক টেলিভিশনে বিলকীসের সিংহাসনকে উপস্থাপন করেছিল যা কোন স্ক্রিন ব্যতীতই প্রত্যক্ষ করার কারণে সত্যিই সেখানে উপস্থিত ছিল বলে মনে হয়েছিল। এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, কোন নির্দিষ্ট কিতাব থেকে জ্বীনেরা বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তির ব্যপারে অবগত হয়। তারা দাজ্জালের হয়ে সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আধুনিক সভ্যতাকে বিনির্মাণ করেছে এবং করছে।

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

Advertisements

জেরুজালেমের উত্থান, রিক্ত মদিনা, সোনার পাহাড় ও দাজ্জাল

Narrated Mu’adh ibn Jabal:

The Prophet (ﷺ) said: The flourishing state of Jerusalem will be when Yathrib is in ruins, the ruined state of Yathrib will be when the great war comes, the outbreak of the great war will be at the conquest of Constantinople and the conquest of Constantinople when the Dajjal (Antichrist) comes forth. He (the Prophet) struck his thigh or his shoulder with his hand and said: This is as true as you are here or as you are sitting (meaning Mu’adh ibn Jabal).

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ عُمْرَانُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ خَرَابُ يَثْرِبَ وَخَرَابُ يَثْرِبَ خُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ وَخُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ فَتْحُ قُسْطَنْطِينِيَّةَ وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ خُرُوجُ الدَّجَّالِ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ الَّذِي حَدَّثَ – أَوْ مَنْكِبِهِ – ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَا لَحَقٌّ كَمَا أَنَّكَ هَا هُنَا أَوْ كَمَا أَنَّكَ قَاعِدٌ ‏.‏ يَعْنِي مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ ‏.‏

: Hasan (Al-Albani) حسن (الألباني) حكم :
Reference : Sunan Abi Dawud 4294
In-book reference : Book 39, Hadith 4
English translation : Book 38, Hadith 4281

সুনানে আবু দাউদে রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের একটি হাদিস আছে। যেখানে তিনি বলিয়াছেন, উমরানু বাইতুল মাক্বদিস খারাবু ইয়াথরিব, ওয়া খারাবুল ইয়াথরিব খুরুজুল মালহামাহ, ওয়া খুরুজুল মালহামাহ ফাতহুল ক্বুসতুনতিনিয়া, ওয়া ফাতহুল কুসতুনতিনিয়া খুরুজুদ দাজ্জাল। তিনি বলিতেছেন, যখন জেরুজালেম উদীয়মান হইবে তখন মদীনার বিনাশ হইবে, মদিনার দালানকোঠাগুলিও ধ্বংস হইবে, পরিত্যক্ত হইবে, রিক্ত হইবে। আর যখন মদিনার এরূপ অবস্থা হইবে তখন তোমরা মালহামার জন্য অপেক্ষা করিবে। যাহা হইবে একটি মহাযুদ্ধ। সুতরাং আমরা সেই সময়ের একেবারে নিকটে আসিয়া পড়িয়াছি। মদিনার দালানগুলিকে সৌদিরা ধ্বংস করিতেছে, ইহা মক্কাতেও করা হইতেছে। আজকে পৃথিবীতে মদিনার কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যাইতেছে না। মুসলিম বিশ্বের কোন কিছুতে মদিনা কোন ভূমিকা রাখিতেছে না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কাজেই মদিনার দালানগুলো আজকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় পড়িয়া আছে। সুতরাং মালহামা একেবারে আমাদের নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছে। ইহা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হইয়া যাইতে পারে। ভয়ংকরভাবে বিপথে চালিত তুর্কি সরকার ন্যাটো কর্তৃক পরিবেষ্টিত হইয়া আছে এবং সিরিয়াতে আক্রমণের প্ররোচনা লাভ করিতেছে। যদি তাহারা সিরিয়া আক্রমণ করে তবে তুরস্কে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়া যাইবে। তখন রাশিয়া তুরস্ক আক্রমণ করিতে দ্বিধা করিবে না। যদি রাশিয়া তুরস্ক আক্রমণ করে তবে পূর্ব ইউরোপ তথা বাইজেন্টাইন রাশার সাথে যোগ দিবে। মুসলমানরা তখন ন্যাটোর হাত হইতে কনস্টান্টিনোপলকে মুক্ত করার জন্য রাশিয়াকে সমর্থন দিবে। ইহাই নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম বলিয়াছেন। যখনই রাশিয়ার সাথে ন্যাটোর যুদ্ধ লাগিয়া যাইবে উহাকেই বলা হইবে মহাযুদ্ধ বা মালহামা। কাজেই ইহা অতি সন্নিকটে অবস্থান করিতেছে। সুতরাং সৌদি যা করিতেছে তা দ্বারা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের ভবিষ্যতবাণীই বাস্তবায়িত হইতেছে। তাহারা দালানগুলিকে ধ্বংস করিতেছে। শুধু তাহাই নহে, যখন ইউএস ডলার সম্পূর্ণরূপে ধ্বসিয়া যাইবে, যাহা ইতিমধ্যেই ধ্বসিয়া গিয়াছে কিন্তু কৃত্রিমভাবে বাঁচাইয়া রাখা হইয়াছে, কাজেই ইহার পরিবর্তে অন্য কিছু আসিতে হইবে। ইউএস ডলার ১৯৭৩ সাল হইতে পেট্রডলার হিসাবে কাজ করিতেছে, যাহা আপনারা আমার রিবা কনফারেন্স অব ইসলাম শীর্ষক পূর্বের লেকচারে শুনিয়াছেন, কিভাবে ইউএস ডলার পেট্রডলারে পরিণত হইল। নবীজী ছাল্লালাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম ইহার ভবিষ্যতবাণী করিয়াছিলেন। ইহা আমাদেরই অযোগ্যতা যে আমরা তাহা পড়িতে ও বুঝতে ব্যর্থ হইয়াছি। ইহা আখেরি জামানা সম্পর্কিত হাদীস। তিনি বলিয়াছেন, ফোরাত নদী স্বর্ণের পাহাড় উন্মুক্ত করিয়া দিবে। তিনি ইহা দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন? বিশাল তেলের সাগর স্বর্ণের পাহাড়রূপে কাজ করিবে। যখন তেলের সাগর ডলারকে সমর্থন দিবে, (যেমন ইতিপূর্বে মুদ্রা স্বর্ণ দ্বারা সমর্থন পাইয়া থাকিত, এখন তেল দ্বারা সমর্থন পাইতেছে) কাজেই তেল স্বর্ণের পরিবর্তে ব্যবহৃত হইতে থাকিবে। যখন কিং ফয়সাল প্রতারিত হইলেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়া বসিলেন তেল একমাত্র ইউএস ডলারের বিনিময়ে বিক্রী করা যাইবে। ইহা কি শরীয়ত বিরোধী হয় নাই? ইহা শরীয়ত বিরোধী হইয়াছে, কারণ ইসলাম ফ্রী এবং ফেয়ার ট্রেডের কথা বলিয়া থাকে। আপনি একমাত্র ডলারের বিনিময়ে তেল বিক্রী করিবেন ইহা কি ফ্রী এবং ফেয়ার ট্রেডের কথা হইল? যখন আপনি মুক্তবাজার বা ফ্রী ট্রেডকে ধ্বংস করিবেন তখন ফেয়ার ট্রেডও উপেক্ষিত হইবে। কারণ ইউএস ডলার তো স্বর্ণের স্থলাভিষিক্ত নহে। যখন ১৯৭৩ সালে কিং ফয়সাল এইভাবে পরাস্ত হইলেন, তখন ইউএস ডলার পেট্রডলারে পরিণত হইয়া উড়িতে লাগিল। পরবর্তী ৪০ বৎসরে ইহার মূল্য উঠিতে লাগিল। এখন যায়োনিস্টরা চাহিতেছে ইহাকে নামাইতে। কাজেই ইহার পরিবর্তে তাহাদের অন্য কিছু বাহির করিতে হইবে। আর সেটা হইল ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মানি যা ব্যাংকিং সিস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে। কিন্তু এই নতুন মুদ্রাকেও পেট্রমানি হইতে হইবে যাহা তেল দ্বারা সমর্থন পাইবে। আর এই মুদ্রাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইজরায়েলের একটি পথই খোলা আছে, যদি ইজরায়েল সৌদি আরবের সাথে ঠিক অনুরূপ সম্পর্ক রাখিতে পারে, যাহা পূর্বে ইউনাইটেড স্টেটস রাখিয়াছিল, আর ইহাই আমরা আমাদের চোখের সামনে ঘটিতে দেখিতেছি, যাহা সৌদি ইসরায়েল জোট হিসেবে প্রকাশিত হইয়াছে। যাহা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম বলিয়াছেন, নজদ থেকে শয়তানের শিং প্রকাশিত হইবে। সৌদি শাসক ও তাদের ওহাবী মূল নজদ থেকে আসিয়াছে। সৌদি আজ যে ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছে, ইহাতে আমার প্রতিক্রিয়া হইল, সৌদির সাথে জোট গঠন করা সারা পৃথিবীর মধ্যে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত জোট হিসেবে প্রমাণিত হইবে। আমি আশা করি ইসলামী বিশ্ব সৌদি ইসরায়েল জোটকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করিতে সক্ষম হইবে। 

 

লেকচারঃ The Ruins in Madina and the Antichrist by Imran Hosein, You Tube Link:
https://www.youtube.com/watch?v=y_l1xjXCJ38

শায়খ ইমরান নযর হোসেন 

অনুবাদঃ আবু মুনতাহা

 

নবী সুলাইমান (আ) এর সিংহাসনে একজন ছদ্মবেশী

পবিত্র কোরান ধর্মীয় ইতিহাসের একটি অনন্য ঘটনাকে প্রকাশ করেছেন যার কোন তুলনা পাওয়া খুবই মুশকিল। এই ঘটনার বর্ণনা আমাদেরকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বাধ্য করে যে, সুলাইমান (আ) আল্লাহ সুবহানওয়াতালার তরফ থেকে একটি সত্যস্বপ্ন প্রাপ্ত হয়েছিলেন যেখানে তিনি দেখতে পান যে, একজন আত্মাহীন নফছহীন ছদ্মবেশী একদিন তাঁর সিংহাসনে আরোহণ করবে, এবং তারপর পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্র ফিরিয়ে আনার নামে একটি জাল বা মেকি বা ভুয়া রাস্ট্র বানানোর চেষ্টা করবে; ভবিষ্যতের এই অভূতপূর্ব ঘটনার জ্ঞান প্রাপ্ত হওয়ার পরপরই নবী সুলাইমান (আ) আল্লাহ সুবহানওয়াতালার দরবারে একটি অসামান্য দোয়া করেন।

“আমি সোলায়মানকে পরীক্ষা করলাম এবং রেখে দিলাম তার সিংহাসনের উপর একটি জাসাদ বা আত্মাহীন নফছহীন মানবদেহ। অতঃপর সে রুজু হল। সোলায়মান বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।” [সুরা সা’দঃ ৩৪-৩৫]

সুলাইমান (আ) যখন তাঁর সিংহাসনে জাসাদকে দেখলেন, তিনি তখন ধৈর্যের সাথে আল্লাহর দিকে ফিরলেন এবং দোয়া করলেন যে, আল্লাহ যেন তাঁর গুনাহ মাফ করে দেন এবং তাঁর পরে যেন কেউ পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্রের মালিক হতে না পারে।

যখন উপরোক্ত আয়াতদ্বয় একসাথে গবেষণা করা হবে, তখন বোঝা যাবে যে, যখন আত্মাহীন নফছহীন মানবদেহ বা জাসাদকে সুলাইমান (আ) এর সিংহাসনে স্থাপন করা হলো, তখন তিনি আতঙ্কিত হয়ে আলোচ্য দোয়াটি করলেন এ কারণে যে, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এই জাসাদ তাঁর সিংহাসনকে তথা পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্রকে দখল করার চেষ্টা করবে এবং পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্রের নামে পবিত্র ভূমিতে একটি অপবিত্র রাস্ট্র তৈরী করবে। 

আমাদের মত হলো নবী সুলাইমান (আ) জেরুজালেমে তাঁর সিংহাসনে দাজ্জালকে দেখেছিলেন যে পবিত্র ইজরায়েলের নামে ইজরায়েল রাস্ট্র গঠন করে তা শাসন করার মিশনে নামবে। তাই তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন যাতে দাজ্জালের এই পরিকল্পনা কখনও বাস্তবায়িত না হয়। সুতরাং, যে জাসাদ সিংহাসনে বসেছিল সেই দাজ্জাল!

সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম, দাজ্জাল ফেরেশতাও না, জ্বীনও না; সে একজন জাসাদ বা আত্মাহীন নফছহীন মানবদেহ।

যেহেতু দাজ্জাল একজন জাসাদ যাকে আল্লাহ সুবহানওয়াতালা সুলাইমান (আ) এর সিংহাসনে স্থাপন করেছেন, সুতরাং সে এমন একটি সৃষ্টি যাকে তার মানব সদৃশ শরীরের জন্য মানুষ মনে হবে কিন্তু সে তার নফছ ও আত্মাহীনতার কারণে পরিপূর্ণ মানুষ নয়। যেহেতু তার নফছ নেই, তাই তার কোন স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি নেই, ফলে সে তার কৃতকাজের জন্য দায়ী হবে না এবং বিচার দিবসে ফেরেশতাদের অনুরূপ তার কোন হিসাব-নিকাশ নেই।

যেহেতু দাজ্জাল একজন জাসাদ, তার নিজস্ব কোন বুদ্ধি বা জ্ঞান নেই। সে নিজে তার জন্য কোন চিন্তা করতে পারে না। তার জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি কম্পিউটারের মত বাইরে থেকে প্রোগ্রামড করা। সে রবোটের মত এবং আমরা দাজ্জালকে ভালোভাবে বুঝতে পারব এমনকি তার পদচিহ্ন দেখতে পার আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের মধ্যে। দাজ্জালের পদচিহ্ন বর্তমানে সবচেয়ে বেশী পরিমাণে দেখা যাচ্ছে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যেখানে সত্যিকারের মুদ্রা স্বর্ণ ও রৌপ্যের জায়গা দখল করে নিয়েছে অর্থনৈতিক জাসাদ তথা আর্টিফিশিয়াল মুদ্রা।

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

Click below to see the Surah: Surah Soa’d, 34 – 35 

দাজ্জালের পরবর্তী টার্গেট

দখলদার ইহুদিদের পরবর্তী টার্গেট হবে মসজিদুল আকসা ভেঙ্গে ফেলা ও দাজ্জালের থার্ড টেম্পল তৈরি করা।

সুলাইমান (আঃ) এর ইবাদাতগৃহ ইহুদিদের কাছে ফার্স্ট টেম্পল নামে পরিচিত। খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৯ অব্দে ব্যাবিলনের রাজা জেরুজালেম অবরোধ করেন এবং খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে ফার্স্ট টেম্পল ধ্বংস করে ফেলা হয়। ইহুদিদেরকে ঐ সময় ব্যাবিলনে নির্বাসিত করে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাবিলনের পতনের পর খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের রাজা সাইরাস দ্য গ্রেট ইহুদিদের কিংডম অফ জুডাতে ফিরে আসার অনুমতি দেন। হিব্রু বাইবেল অনুযায়ী ৫৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সেকেন্ড টেম্পল নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬৬ খ্রিস্টাব্দে ইহুদিরা রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। অতঃপর ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সেনাবাহিনী সেকেন্ড টেম্পল ধ্বংস করে ফেলে।

২০০০ বছর ধরে ইহুদিরা তাদের স্বপ্নের থার্ড টেম্পল বানানোর আশায় বসে আছে। থার্ড টেম্পল তৈরি না করতে পারলে কোন ইহুদিই দাজ্জালকে প্রতিশ্রুত মাসিহ হিসাবে মেনে নেবে না। দাজ্জালকে অবশ্যই ইহুদিদের স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনতে হবে। “মসিহ, বিধাতার জন্য একখানা গৃহ নির্মাণ করবেন” (বাইবেলের পুরাতন নিয়ম, ১ খান্দাননামা ১৭:১১-১৫)। আর ইহুদিদের বিশ্বাস তাদের উপাসনালয়ের অবস্থান টেম্পল মাউন্টে, ঠিক যেখানটায় মসজিদুল আকসা অবস্থিত।

থার্ড টেম্পলের নকশা রেডি করে ফেলেছে ইহুদিরা। থার্ড টেম্পলের জন্য বিভিন্ন ঐতিহাসিক জিনিসপত্র তাদের দরকার, বিভিন্ন মূল্যবান পাথর ইত্যাদি। তাদের কিং মেসায়াহকে বরণ করতে ও অভিষিক্ত করতে পবিত্র তেল দরকার যা হিব্রু বাইবেলে বর্ণিত গাছগাছড়া থেকে বানাতে হয়। কাগজের মুদ্রা টেম্পলে ব্যবহার করা হারাম, টেম্পলে ব্যবহার করতে হবে রৌপ্য মুদ্রা। এসব কিছু রেডি করে ফেলেছে ইহুদিরা। তাদের টেম্পল ইন্সটিটিউট জোরেশোরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেনঃ Ashrafuzzaman Tusher

আমি আশা করি না জেরুজালেমকে রাজধানী করার প্রতিবাদে জুমার খুতবায় হুজুররা ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইনতিফাদার ডাক দিবেন। কিন্তু এতোটুকু কি আশা করতে পারি না যে হুযুররা বলবেন, যা হয়েছে তা আল্লাহর রাসূলের ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী হয়েছে !! যা হবে তা ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ীই হবে। অতঃপর তা কোরআন হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা করবেন? তাতে উঠে আসে দাজ্জালের কথা, ইয়াজুজ মাজুজের কথা, ইমাম মাহদীর কথা, খোরাসানের কালো পতাকাবাহী দলের কথা।

দাজ্জাল আসার আগের নিদর্শন লোকজন মসজিদে দাজ্জাল কে নিয়ে কথাই বলবে না। এটাও একটা প্রফেসী।

রোবটের হবে নাকি বাচ্চা। উড়না নিয়ে টেনশনে সোফিয়ার মাথাব্যথা। — জাতি আছে মজাকে। তিন পাগলের হলো মেলা নদে এসে, তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে।