বনী ইসরায়েল এবং আমরা

আল্লাহপাক বনী ইজরায়েলকে অনেক নিয়ামত দান করেছিলেন। তাদেরকে নবীদের বংশধর হিসেবে মর্যাদা দিয়েছিলেন। তাদেরকে সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক নিয়ামত ও সবচেয়ে বড় জাগতিক নিয়ামত দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তাদের মধ্য থেকে নবী-রাসুল পয়দা করেছিলেন এবং তাদের মধ্য থেকে রাজা-বাদশাহ পয়দা করেছিলেন। কিন্ত তারা এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করেনি। আল্লাহপাক তাদের থেকে যে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, তারা সে অঙ্গীকার পালন করেনি। তারা ইসলামী শরীয়াতকে ত্যাগ করে তাদের বস্তুজাগতিক লাভের আশায় নিজেদের ইচ্ছেমত শরীয়ত পরিবর্তন করে অর্থাৎ আল্লাহ যা হালাল করেছেন তাকে হারাম ও আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল বানিয়ে নেয়। তাদের এরকম অপকর্ম স্বাক্ষ্য দেয় যে, তাদের মনে আল্লাহর ভয় ছিল না। তারা সত্যের সাথে মিথ্যাকে মিশ্রণ করে প্রচার করত যাতে কিছুটা ধর্মের পথেও চলা যায়, আবার কিছুটা দুনিয়াবি ফায়দার পথেও চলা যায়। তারা সত্য গোপন করে রাসুলুল্লাহ (সা) এর নব্যুওয়াত অস্বীকার করত যাতে তাদের নেতৃত্ব টিকে থাকে। তারা মানুষকে সৎকাজের আদেশ দিত, কিন্তু নিজেরা ভুলে যেত। তারা ভাইয়ে ভাইয়ে ভালো ব্যবহারের আদেশ দিত, কিন্তু নিজেরা তাদের ঈসমাইলীয় ভাই অর্থাৎ আরবদেরকে গালমন্দ করত।

আমরা যদি আখেরী জামানার মুসলিমদের দিকে তাকাই, তাহলে একই অবস্থা দেখতে পাই। আল্লাহপাক মুসলিমদের নবী-রাসুলদের সরদার রাসুলুল্লাহ (সা) এর উম্মত বানিয়েছেন। তাদেরকে সাহাবায়ে কেরামের মত অসাধারণ মহামানবদের দান করেছেন যারা হলো নক্ষত্রের মত, কোন একজনকে অনুসরণ করলেই সঠিক পথ প্রাপ্ত হওয়া যাবে। আল্লাহপাক মুসলমানদের মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত সাম্রাজ্য দান করেছেন। অথচ আমরা আল্লাহপাকের শুকরিয়া আদায় করতে ভুলে যাই। আমরা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করতে ভুলে যাই। আমরা ইহুদি-খ্রিস্ট জায়োনিস্ট কর্তৃক নির্মিত পশ্চিমা আধুনিক সভ্যতার অনুসরণে লিপ্ত হয়ে আল্লাহর ইবাদাত ও রাসুলুল্লাহ (সা) এর সুন্নত পালন করা ছেড়ে দিই। আমরা পবিত্র কোরানের সংবিধান ত্যাগ করে দাজ্জালের দ্বীপ ব্রিটেনের সংবিধান গ্রহণ করি। ব্রিটেনের শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করি। ব্রিটেনের রাজনৈতিক পন্থা গ্রহণ করি। আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত ছেড়ে দিয়ে রাস্ট্র ও জাতিসংঘকেও উঁচু মাকাম দেই। আমাদের আলেম ওলামাগণ সত্যের সাথে মিথ্যাকে মিলিয়ে মিশিয়ে প্রচার করেন। একদিকে বলেন, সুদ খাওয়া হারাম; অন্যদিকে বলেন, কাগুজে মুদ্রা হালাল! একদিকে বলেন, সুপ্রিম কোরট থেকে মূর্তি সরাও; অন্যদিকে বলেন, গণতন্ত্র হালাল! মুসলিম দেশগুলো আল্লাহপাক যা হালাল করেছেন তাকে হারাম ও হারামকে হালাল করছে। তারা আইএমএফের কথা মেনে স্বর্ণমুদ্রার ব্যবহারকে হারাম করেছে। ১৮ বছরের নীচে বিবাহকে হারাম করেছে। আমাদের আলেমগণ মানুষকে বলে, মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই। সুতরাং ভাইয়ে ভাইয়ে মিলেমিশে থাকো। আবার নিজেদের বেলায় তারা কাউকে বিদআতপন্থী, কাউকে কাফের, কাউকে শিয়া বলে গালাগালি করেন! তবে কী তারা গ্রন্থ পাঠ করছে কিন্ত তা হৃদয়ঙ্গম করতে ব্যর্থ হচ্ছে? যেখানে আল্লাহপাক মুসলিম জাতিকে এত বড় নিয়ামত দিয়েছেন, সেখানে আমরা বনী ইজরায়েলের মত নিজেদের পথ হারিয়ে ফেলছি কেন? আমাদের ভয় করা উচিত সেদিনকে যেদিন কেউ কারো উপকার করতে পারবে না, কারো সুপারিশ গৃহীত হবে না, কারো থেকে বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং কেউ সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।

“হে বনী-ইসরাঈলগণ, তোমরা স্মরণ কর আমার সে অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি এবং তোমরা পূরণ কর আমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা, তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। আর ভয় কর আমাকেই। আর তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি সত্যবক্তা হিসেবে তোমাদের কাছে। বস্তুতঃ তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ। তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না আর নামায কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়। তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না? ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব– যারা একথা খেয়াল করে যে, তাদেরকে সম্মুখীন হতে হবে স্বীয় পরওয়ারদেগারের এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। হে বনী-ইসরাঈলগণ! তোমরা স্মরণ কর আমার অনুগ্রহের কথা, যা আমি তোমাদের উপর করেছি এবং (স্মরণ কর) সে বিষয়টি যে, আমি তোমাদেরকে উচ্চমর্যাদা দান করেছি সমগ্র বিশ্বের উপর। আর সে দিনের ভয় কর, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোন সুপারিশও কবুল হবে না; কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেয়া হবে না এবং তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না।”
[আল বাকারা: ৪০-৪৮]

@ Md Arefin Showrav

# ইহুদী # ইসলাম # মুসলমান

প্রজেক্ট নাম্বার এতো -২

হ্যামফারের ডায়েরি পড়ে আমরা জানি ইংরেজরা কিভাবে ওহাবি মতবাদকে সৃষ্টি করে ইসলামি খেলাফত ধ্বংসের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। ইংরেজ গোয়েন্দারা ইসলাম শিক্ষা করে মুসলমান যুবকদের মধ্যে ঢুকে পড়ে তাদের ব্রেনকে কব্জা করে ওহাবি আন্দোলন তৈরি করে। ঠিক যেমন বর্তমানের আইএসকে যেভাবে তৈরি করা হয়েছে।

এটাতো ছিল মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা। ইংরেজ বেনিয়ারা ভারতে কি করেছে? তারা ইসলামি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র মাদ্রাসাকে দখল করে সেখানে ইংরেজ প্রিন্সিপাল সরাসরি বসিয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসার প্রথম ২৬ জন প্রিন্সিপালের নাম নীচে দেয়া হলো। যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান একজন খ্রিস্টান, নিখুঁতভাবে বললে বলতে হবে যায়োনিস্ট, সে প্রতিষ্ঠানে কি ইসলামের আর কিছু বাকী থাকে? ১৮৫০ থেকে ১৯২৫ এই মোট ৭৫ বৎসর যদি যায়োনিস্টরা ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা দখল করে রাখে সেখান থেকে কি মুসলমান বের হবে নাকি ইহুদি? সেখান থেকে লেখাপড়া করে কুরআনের হাফেজ ও আলেম হয়ে তারা স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজদের পদলেহনকারী দরবারী আলেম হওয়া ছাড়া আর কি হতে পারে?

এটা কি খুব আশ্চর্যের বিষয় নয় যে ইংরেজদের তবলীগ, পীর ও ক্বওমী মাদ্রাসা নিয়ে কোন প্রজেক্ট ছিল না? আজকে সমাজ থেকে ইসলামকে বিচ্যুত করে মাদ্রাসাবন্দি করে রাখা ও মসজিদভিত্তিক নানা ধরনের দ্বয়িফ হাদিস, স্বপ্ন ও ফাযায়েলের তিলাওয়াত করা কি তাই প্রমাণ করে না যে সেখানে ইংরেজদের হিংস্র দাঁত বসেছে? ৪০ দিনের চিল্লার নতুন ফরমুলা, পীরদের খেলাফত, বাবাপীর, দাদাপীর এসব টার্ম ইসলামে নানা ধরনের নতুন জিনিস ঢুকানো ইত্যাদি বিদয়াত দিয়ে মানুষের মগজ ধোলাই করা কি প্রমাণ করে?

ইহুদিরা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কথা চুপিসারে কেন শুনতো? হেদায়েত লাভের উদ্দেশ্যে? না কি ইসলামের মধ্যে কিভাবে ভেজাল ঢুকানো যায় তার ফন্দি ফিকিরের উদ্দেশ্যে। তাদের চুরি করে কথা শুনার উদ্দেশ্য আজ পূর্ণ হয়েছে। ইংরেজরা সব হজম করেছে, কিন্তু এখনো সিরিয়াকে হজম করতে পারেনি। গিলতেও পারেনি। গলায় আটকে আছে। এখান থেকেই শুরু হবে ইংরেজদের গলার ক্যান্সার, ইনশাআল্লাহ্‌।

বিভিন্ন সময়ে নিয়োজিত আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপালবৃন্দঃ
নামঃ – কার্যকালঃ
(১) এ স্প্রেঙ্গার এম,এ – ১৮৫০ ইং
(২) স্যার উইলিয়াম নাসনলীজ এল,এল,ডি – ১৮৭০ ইং
(৩) জে স্যাটক্লিফ এম,এ – ১৮৭০ ইং
(৪) এইচ, এফ, ব্রকম্যান এম, এ – ১৮৭৩ ইং
(৫) এ,ই, গাফ এম, এ – ১৮৭৮ ইং
(৬) এ, এফ, আর হোর্নেল সি,আই,ই,পি,এইচ,ডি – ১৮৮১ ইং
(৭) এইচ প্রথেরো এম, এ – ১৮৯০ ইং
(৮) এ, এফ, হোর্নেল – ১৮৯০ ইং
(৯) এ, জে, রো,এম, এ – ১৮৯২ ইং
(১০) এ, এফ হোর্নেল – ১৮৯২ ইং
(১১) এ, জে, রো – ১৮৯৫ ইং
(১২) এ, এফ, হোর্নেল – ১৮৯৭ ইং
(১৩) এফ, জে, রো – ১৮৯৮ ইং
(১৪) এফ, সি, হল – ১৮৯৯ ইং
(১৫) স্যার অর‌্যাল স্টেইন – ১৮৯৯ ইং
(১৬) এইচ, এ,স্টার্ক – ১৯০০ ইং
(১৭) কর্ণেল রেস্কিং – ১৯০০ ইং
(১৮) এইচ, এ,স্টার্ক – ১৯০১ ইং
(১৯) এড, ওয়ার্ড ভেনিসন – ১৯০৩ ইং
(২০) এইচ, ই, স্টেপেল্টন – ১৯০৩ ইং
(২১) ডেনিসন রাস – ১৯০৪ ইং
(২২) মিঃ চীফম্যান – ১৯০৭ ইং
(২৩) এড,ওয়ার্ড, ডেনিসন – ১৯০৮ ইং
(২৪) এ, এইচ হারলি – ১৯১১ ইং
(২৫) জে, এম বুটামলি – ১৯২৩ ইং
(২৬) এ, এইচ হারলি – ১৯২৫ ইং

।।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্বওমী সনদকে মাস্টার্সের সমমান করে সম্মান দেয়াকেও ক্বওমী মাদ্রাসার উপর জুয়িশ বা যায়োনিস্ট কন্সপিরেসি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আমরা দেখতে পাবো ক্বওমীর উপর ইহুদিদের প্রভাব এবং ওহাবী ও সালাফীদের মতো অপর আর একটি নতুন ফেরকা হিসেবে ক্বওমীদের আবির্ভাব।

Please Read,

প্রজেক্ট নাম্বার এতো -১

Zionists and Jews

Zionists did not necessary refer to the Israelis government, but the Israeli’s deep state, which operated in Israel, US, Europe, International Institutions, banks, and so forth. Yes, most of them hold important position in Israelis government, US government, the EU, NATO, the IMF, World Bank, the UN, and so forth. There are such Zionist Jews, Zionist Christians, Zionist Moslems, and so forth. You don’t have to become a Jew to become a Zionist. – Joe Biden, Former Vice President of the United States. You Tube Link (0.34 Sec).

Zionism is a secret international organization which goal is to create a superpower Israel, or Israel with superpower status. They’ve been controlling the earth, the world’s geopolitical road/world wars, international affairs, and so forth, since Pax Brintanica. Now they user US power to design the geopolitical chessboard for the rise of superpower Israel to rule the next world order. They are now Zionists. Judeo Anglo-American Empire.

Today that group is ::
–international corporations,
–international bankers,
–international political organizations,
–international military alliance,
–international military industrial complexes,
–think tanks,
–western governments,
–US Deep State, but they do not recognized each other.

Nevertheless, they were directed to achieve the same goal, each of them in diffrent field, like orchestra musicians.

They want Pax Israel/Pax Judaica to replace Pax Amerinca after the Third World War. I guess Russia and China do not support such idea.

Novaya Zemlya

You don’t have to be Jew to become a Zionist ঐ কথার মানে কি???

ইহুদী দুই ধরণের।
এক. হজরত মুসা আ. এর উম্মত। যাদেরকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করলে ইংরেজীতে বলা যায় Jew. এরাই হলো রিয়েল ইহুদী।

দ্বিতীয় ধরণের ইহুদী হলো ধর্মান্তরিত ইহুদী। এদের আদিনিবাস সাবেক মধ্য এশিয়া। রাজনৈতিক ফায়দার জন্য এরা ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করে। এদের ইংরেজীতে বলা যেতে পারে Zionist Jew.

Zionist Jew দের একটা সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হলো বিশ্বক্ষমতায় যাওয়া। যদিও এখনো তারা বিশ্বনিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু তারা সরাসরি, প্রকাশ্যে বিশ্বক্ষমতায় আসতে চায়। তাই তারা ব্যাংকিং, মিডিয়া, সামরিক, আর্থিক দিক থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রকের আসনে আসীন করেছে ছলেবলে কৌশলে। এবং ইউরোপ, আমেরিকা ও অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে আছে। এদেরই নেতা হবে দাজ্জাল। এরা বর্তমান ইহুদীর প্রায় ৯০%.

এদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, মিশন, ভিশন এবং আন্দোলনের নাম এক কথায় বলা যেতে পারে Zionist Movement.

যারা তাদের এই উদ্দেশ্যের সাথে জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে একাত্মতা প্রকাশ করে জীবন যাপন করে, তারা এক অর্থে জায়নিষ্ট বলা যেতে পারে। সেই জন্যই বলা হয় You don’t have to be Jew to become a zionist. একজন মুসলিমও জায়োনিষ্ট হতে পারে। হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ সহ যে কোনো ধর্মের লোকও জায়নিষ্ট হতে পারে।

সংক্ষেপে বলা হলো। এ নিয়ে আরো বিস্তারিত ষ্টাডি করলে আরো পরিষ্কার হবে ইনশাআল্লাহ।

Ashraf Mahmud

শত্রু খ্রিস্টান, মিত্র খ্রিস্টান

আমার পরিচিত একজন খ্রিস্টান আছে। দেখা হলে নমস্কার বলে। আমি বললাম, ভাই নমস্কার তো হিন্দুদের ভাষা। কিন্তু খ্রিস্টানরা তো মুসলমানদের অধিক নিকটবর্তী। তাদের উভয়ের কাছে আল্লাহ্‌র কিতাব আসছে। তো আপনি কি ধরনের খ্রিস্টান? তিনি বললেন, ক্যাথলিক। বুঝে নিলাম, এরা আসমানি ধর্ম পুরোটুকুই ছেড়ে দিয়েছে। হিন্দুদের সাথে মিশে গেছে। ইহুদি ও হিন্দুরা হলো মুসলমানদের শত্রু। যারা এদের সাথে সম্পর্ক রাখে তারাও মুসলমানদের শত্রু। এদের সাথে বন্ধুত্ব করতে আল্লাহ্‌ নিষেধ করেছেন। বাংলাদেশে বোধহয় বেশির ভাগ খ্রিস্টানই ক্যাথলিক। সূরা মায়িদার ৮২ নং আয়াতটা তাদের জন্য খাটছে না যেখানে আল্লাহ্‌ তাদের একত্ববাদের প্রশংসা করেছেন। “বন্ধুত্বে মুসলমানদের অধিক নিকটবর্তী খ্রিস্টানরা, কারণ তাদের মধ্যে আলেম আছে, দরবেশ আছে আর তারা অহংকারী নয়।” (সূরা মায়িদা, ৮২)। সূরা মায়িদার ৫১ ও ৮২ নং আয়াত দু’টি পড়লে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। শত্রু ও মিত্র খ্রিস্টানদের স্বরূপ বোঝা যাবে।

সেই ৭২ = এই ৭২

বনী ইসরাইলরা ৭২ দলে বিভক্ত হইয়াছিল। এই ৭২ দল নিঃশেষ হইয়া গেছে এমন কথা আমার জানামতে পাওয়া যায় নাই। মুসলমান বিভক্ত হবে ৭৩ দলে। এর অর্থ হল ঐ ৭২ বনী ইসরাইলের দলই মুসলমানদের ৭২ টি দলের নেতৃত্ব দিবে। ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনীতি, সামরিক ও শিক্ষা সব জায়গায়। মানুষ এই বনী ইসরাইলের নেতাদের অনুসরণ করিবে এমনভাবে যদি তারা টিকিটিকির গর্তেও যায় মানুষ তাই যাবে।

এই বনী ইসরাঈলের নেতারা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লামের ইসলামকে নতুন রূপ দিয়াছে। নতুনভাবে ফর্মূলেট করিয়াছে। অনেক ধরনের ফর্মুলা তাদের কাছে আছে। যে যেটা খেতে চায় তাকে সেটা খাওয়ানো হয়। কাউকে একটা যিকির ধরিয়ে দিয়া বলা হয় ইহাই তোমার ইসলাম, কাউকে একটা মার্কা ধরিয়ে দিয়া বলা হয় ইহা বহন করিতে থাকো, কাউকে একটা নির্দিষ্ট পাঠ দিয়ে দিয়া বলা হয় আমৃত্যু পড়িতে থাকো, কাউকে অমুক জায়গায় তমুক দিনের জন্য পাঠিয়ে দিয়া বলা হয় চলিতে থাকো, কাউকে একটা তলোয়ার ধরিয়ে দিয়া বলা হয় উহাকে হত্যা করিয়া ফেল, কাউকে মডারেট প্রেসক্রিপশন দিয়া বলা হয় ইহাই সর্বোত্তম – সবাই মনে করে তার রাস্তাই সহি। তার অষুধই সর্বরোগের মহৌষধ।

যদি কেউ নিজ দল সম্পর্কে চিন্তা করে তাহলে তাকে নিষেধ করা হয়। না না, তোমাকে চিন্তা করার অধিকার দেয়া হয় নাই। ইহা বড়দের তৈরী করা ফর্মুলা। ইহার মাধ্যমে বহু লোক হেদায়েত পাইয়াছে। ইহাই তোমার জন্য চূড়ান্ত।

অথচ, স্বয়ং কুরআনে আল্লাহ্‌ তায়ালা তার চিন্তাশীল বান্দাদের প্রশংসা করিয়াছেন। কুরআনের মূল অডীয়েন্সই হইল চিন্তাশীলরা। কিন্তু তাহারা, অর্থাৎ বনী ইসারাঈলের ৭২ দলের নেতারা চিন্তার দরজা মানুষের জন্য বন্ধ করিয়া দিয়াছে। বিনা আলোচনায় গণতন্ত্র, সুদ, নারী আন্দোলন, ফর্মূলেটেড ইসলাম সবই মানিয়া লইতে হইবে।

কিন্তু নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলিতেছেন, এসব রাস্তার প্রত্যেকটার শুরুতে শয়তান বসে মানুষদের ডাকছে।

কেন রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র বংশীয় লোকেরা ও তার সাহাবায়ে কেরাম রাযি এর লোকেরা আজকে পৃথিবীর কোথাও আলোচনায় নাই, টিভিতে নাই, টক শোতে নাই, ইন্টারনেটে নাই, নির্বাচনে নাই, অফিস আদালতে নাই, রাতভর ওয়াজ মাহফিলে নাই, লং মার্চে নাই কোথাও তাহারা নাই। তাহারা কি হাওয়া হইয়া গেল? বাস্তবতা এই যে, তাহারা আছেন ঐ ১ দলে, যে দলকে শয়তান ও বনী ইসরাঈলের ঈহুদী নাসারারা স্পর্শ করিতে পারে নাই।

সদর দরজা যখন খোলা চোরের তখন পোয়াবারো

garagedoor

Install Security Cameras; Even Fake ones will Work!

আপনি যখন ৩০ হাজার টাকা দিয়া একটা কম্পিউটার কিনিলেন তখন প্রথমেই মনে হইল ভালো একটা এন্টিভাইরাস কিনিতে হইবে। যাহাতে হ্যাকাররা আপনার কম্পিউটারের ভেতর ঢুকিয়া আপনাকে মিসগাইড করিতে না পারে, আপনাকে ফাকি দিয়া আপনার দলিল দস্তাবেজ লইয়া যাইতে না পরে। সামান্য দুনিয়াবী ক্ষণস্থায়ী যাহা ডিলিট বাটনে টিপ দিলেই মুছিয়া যায় এমন দুই চারি হাজার ডাটা নিরাপদ রাখিবার জন্য আপনি ৭০০ টাকা খরচ করিয়া এন্টিভাইরাস কিনিয়া ফেলেন। আবার কয়েক দিন পর পর ইহাকে আপডেটও করেন।

৩০ লক্ষ টাকা দিয়া একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনিয়া আপনি ইহার নিরাপত্তার জন্য মাসিক ৭০০০ টাকা বেতন দিয়া একজন ভালো ও বিশ্বস্ত দারোয়ান রাখিয়া লইলেন। ইহাতেও আপনি খুশি হইলেন না। তাই টেলিফোনের ডাইরেক্টরীতে থানার ওসির নাম্বার ও ফায়ার ব্রিগেডের নাম্বার লাল কালিতে দাগ দিয়া রাখিলেন, যেন প্রয়োজন হইলে সাথে সাথে খুজিয়া পাইতে বিলম্ব না হয়।

ইহা তো গেল দুনিয়াবী হাকীকত। আল্লাহ্‌ তায়ালা কি করিয়াছেন? আর তিনি কুরআনের মাধ্যমে আমাদের কি রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানাইয়াছেন?

হযরত জিবরাঈল আমীন ফেরেশতা যখন কুরআনের আয়াত লইয়া আল্লাহ্‌র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসিতেন, আল্লাহ্‌ বলিতেছেন, এ সময় শয়তানকে কুরআন শ্রবণের সুযোগ থেকেও দূরে রাখা হইয়াছে। কি হইত শয়তানকে কুরআন শ্রবনের সুযোগ দিলে ? জিবরাঈল আমীন য়ালাইহিস সালামের উপর কি আল্লাহ্‌র আস্থা নাই ! তা নহে। আল্লাহ্‌র আস্থা ঠিকই আছে। কিন্তু তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করিয়াছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, কুরআনকে আমি প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি। তবে শয়তানদের কেউ যদি চুরি করে সংবাদ শুনে পালায় তাহলে জ্বলন্ত উল্কা পিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে। দেখুন সূরা শু’আরা ও সূরা হিজর ।

আর আমরা দ্বীনের মেহনতের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা খুলিয়া বসিয়াছি। আমরা মাদরাসা বানাইয়াছি, পীরের খানকাহ গড়িয়াছি, তবলীগের মারকাজ প্রতিষ্ঠা করিয়াছি। কিন্তু আমাদের কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই। কোন ইহুদী বা খ্রিস্টানকে শয়তান যেন প্ররোচনা দিতে পারে না, আমাদের প্রচেষ্টাগুলোকে হ্যাক করতে।

আমরা ইহুদী বিষয়ে মাথা ঘামাইতে চাহি না। আমরা শুধু আমাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা মেহনতগুলোর বর্ধিত কলেবর দেখিয়াই প্রশান্তি লাভ করি। কিন্তু তাহার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি নাই। শত শত বছর ধরে তাহা খোলা ময়দানে খোলা পড়িয়া রহিয়াছে।

যখনই কেহ মহানবী রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কোন শিক্ষাকে কাটছাট করিয়াছে বা নিজের মনমতো আকৃতি দিয়াছে আমরা ভাবিয়াছি ইহা আমাদের ভালোর জন্যই করা হইয়াছে। টুপী পাগড়ী ঘন দাড়ি দেখিয়া বিগলিত হইয়া গিয়াছি।

আমরা ভুলিয়া গিয়াছি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এমন ভাইরাসই আক্রমণ করবে যা উইন্ডোজের সাথে মানানসই। একসময় তা পুরো সিস্টেমকে নিজের কব্জায় পুড়িয়া লয়।

ইহুদীরা ইহুদী নাম দিয়া মুসলমানদের কেন হ্যাক করিতে যাইবে !! তাহারা মুসলমানদের দরদী হইয়া মুসলমানদের সিস্টেমে ঢুকিয়া পড়িবে। ইহা বুঝিতে কি আলেম হইতে হয়? পিএইচডি ডিগ্রী দরকার হয়?

……।

ইমাম মাহদী য়ালাইহি সালাম যখন আসিবেন তাহাকে কেহ চিনিতে পারিবে না। তিনি আল্লাহ্‌র শেখানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিবেন। ৪০ বৎসর কাল তাহাকে কেহ সনাক্ত করিতে পারিবে না। যখন তিনি প্রকাশিত হইবেন তখনও প্রকৃত মুসলমান ছাড়া কোন ইহুদী খ্রিস্টান শয়তানের এজেন্ট তাহার কাছে ঘেঁষিতে পারিবে না।

পুনশ্চঃ

যেইসব আলেমরা ফতোয়া দেয়, হ্যাঁ, আপনি আপাতত ব্যাংকের চাকরী করিতে থাকুন, পাশাপাশি অন্য চাকরী দেখুন। সময় সুযোগ মতো ব্যাংকের চাকরী ছাড়িয়া দিলেই হইবে।

ইহাদের থেকে সাবধান হউন। এই ফতোয়ার অর্থ হইল,

আপনি আপাতত আপনার মায়ের সাথে জেনাহ করতে থাকেন। একসময় ভালো বউ পাইলে কালেমা পড়ে বিবাহ কইরে ফেইলেন।

অথবা আল্লাহ্‌র ও তার রাসূলের সাথে আপনি যে যুদ্ধ ঘোষনা করিয়াছেন ইহা বহাল থাকুক। সময়মতো যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ভাগিয়া যাইয়েন।

– আসলে এই সকল আলেমদের মগজের ভেতর ইহুদীদের মগজ এমনভাবে বসিয়া গিয়াছে যে ইহুদীদের সেই আদি ও সনাতন সুদী ব্যবস্থাও তাহাদের সামান্য বিচলিত করিতেছে না।

কোথাও ‘উহারা’ নেই

একজন তাবলীগের ভাই বললেন, আমাদের তবলীগে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু ৫ কাজ করি আর চিল্লা দেই। এটা করতে করতে একসময় যখন সবাই ইমানদার হবে তখন দ্বীন প্রতিষ্ঠা হবে। আপাতত মুরব্বীদের ঘিরে ধরা বিতর্ক দেখেও না দেখার কোশেশ করতে ব্যস্ত আছি।

একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা কেবল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামের বিজয়ের জন্য লড়ছি।

একজন চরমোনাইয়ের মুরীদ ভাই বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা আপাতত পৌরসভা নির্বাচনের জন্য লড়ছি। সামনে আমাদের লং মার্চ আছে।

একজন আহলে হাদীস বললেন, আমাদের শাইখদের মধ্যে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু সহি হাদিসের ভিত্তিতে যেসব জায়গার মুসল্লিরা আমীন আস্তে বলে সেসব জায়গায় হঠাত করে একদিন গিয়ে আমীন জোরে বলতে চাই।

একজন আইএস বললেন, আমাদের সংগঠনে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু শাইখ বাগদাদীর কথিত খেলাফত কায়েমের লক্ষ্যে রক্ত ঝড়াই।

একজন মাদ্রাসার উস্তাদ বললেন, আমাদের মাদ্রাসায় কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু ইলেম চর্চা করি। আপাতত সনদের স্বীকৃতি নিয়ে ব্যস্ত আছি।

একজন শীয়া বললেন, আমাদের শিয়াদের মধ্যে কোন ইহুদী নেই। আমরা শুধু আলী রাযি বাদে অন্য সব সাহাবীদের সম্পর্কে আজে বাজে কথা বলি। আর কোন সমস্যা নেই।

একজন ওহাবী বললেন, আমাদের ভেতর কোন ইহুদী নেই। তবে আমরাই খেলাফত থেকে আস সৌদকে স্বাধীন করে ফিলিস্তীন ইহুদীদের কাছে বিক্রী করে দিয়েছি। এরপর থেকে ইহুদীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।

তাহলে তো বলতে হয়,

ইহুদীদের মতো ভদ্র সভ্য ভালো মানুষ দুনিয়ায় আর একটাও নেই। কোথাও কোন ইহুদী নেই। ইহুদীরা শুধু টিভি দেখে আর চিকেন ফ্রাই খায়। তারা আমাদের মধ্যে ঢুকতেই পারে না। তারা আমাদের আশেপাশেও নেই। আমরা ইহুদীদের ষড়যন্ত্র থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমাদের মুরব্বী থাকতে, আলেম উলামা থাকতে, আস সৌদের সামরিক জোট থাকতে ইহুদীদের নিয়ে চিন্তা নেই।।

তাহলে প্রশ্ন জাগে,

কুরআনে এতো বেশীবার ইহুদীদের বর্ণনা দেয়া হল কেন?

ইহুদীরা কেন নবীজীর (ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম) মজলিশে আড়ি পাতত?

ইহুদীরা কেন নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের থালায় বিষ দিল??

কেন দাজ্জাল ইহুদী থেকে আসবে?? কেন দাজ্জালকে সহজে চেনা যাবে না?

কিভাবে মুসলমানরা প্রতি বিঘতে বিঘতে ইহুদীদের অনুসরণ করবে??

এসব প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। উত্তর একটাই, ইহুদীরা আমাদের ধারেকাছেও নেই। তারা অনেক ভালো, শান্তশিষ্ট, সভ্য।

অথচ উপরের সবগুলোই যতটুকু না ইসলামের অনুসরণ তার চেয়ে বেশী ইহুদীদের অনুসরণ। এসব ইহুদীরা কোথায় থাকে? আসমানে? নাকি ভাগ হয়ে যাওয়া প্রতিটি দলের কেন্দ্রবিন্দুতে? যেখান থেকে প্রতিটা হুকুমকে মানুষ অনুসরণ করতে বাধ্য।