সূরা আম্বিয়ার ৯৫-৯৬ নং আয়াতের বাস্তব প্রমাণ

(১)
এ পৃথিবীতে সর্বনিম্ন জায়গা হচ্ছে ডেড সী। গুগলে lowest point of the earth বা the lowest surface of the earth লিখে সার্চ দিলে সাথে সাথে ভেসে উঠবে Dead Sea Depression. কাজেই তা অনুসন্ধানী পাঠকদের জন্য রেখে দেই। Israel Marine Data Center এর মতে সমুদ্র সমতল থেকে ডেড সী ৪৩০.৫ মিটার নীচে অবস্থিত। Dead Sea লিখে সার্চ দিলে আসবে উইকিপিডিয়া এবং একটি ছবি যাতে দেখা যাবে ডেড সী এবং তার পাশেই জেরুজালেম। জেরুজালেম হলো ডেড সীর একদম সংলগ্ন স্থান। মাত্র ৩৩.৮ কিলোমিটার দূর। এজন্য একটু গুগল ম্যাপে যেতে হবে। distance from dead sea to jerusalem লিখে সার্চ দিলে পাবেন সবচেয়ে সুন্দর ছবিটি। অর্থাৎ সারা পৃথিবীর সমস্ত ভূমি ডেড সী এবং তৎসংলগ্ন জেরুজালেম থেকে উর্দ্ধে অবস্থিত। পাঠকরা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে গবেষণা করে এটা বের করতে পারেন। আর এখানেই কোরআনের মাহাত্ম্য। ১৪০০ বৎসর পূর্বেই, যখন এ বিষয়ে কারো কোন জ্ঞান ছিল না, তখনই কোরআনে এ বিষয়ে বলা হয়। নাস্তিকদের মুখ যদি এবার বন্ধ হয়। শুধু তাও নয়, মাত্র দুটি আয়াতে একইসাথে বনী ইসরাঈল তথা ইহুদীদের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব কুষ্ঠী প্রকাশ করে দেন।

“আর যে জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি তার অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত। যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।” (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৯৫-৯৬) এখানে একটি তারা সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে, এবং এই তারা (আরবিতে হুম) নির্দেশ করছে ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদের অধিবাসীদের। কারণ সর্বনাম সবসময় কার দিকে ফিরে বা কাকে নির্দেশ করে এটা একটি মৌলিক প্রশ্ন। সর্বনাম নিশ্চয়ই প্রথম সাবজেক্টকে অনুসরণ করে। এছাড়া প্রথম আয়াতের বক্তব্যটিতো অসমাপ্ত। ফলে এখন বোঝা যাচ্ছে, যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে, তখন সে জনপদের অধিবাসীরা আবার ফিরে আসবে, সে স্থানে, যেখান থেকে তাদের ধ্বংস বা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তারা আসবে প্রতিটি উচ্চভূমি থেকে। কারণ তাদের ভূমি সবচেয়ে নীচু। এর চেয়ে নীচে আর কোন ভূমি নেই। আর কুল্লু ভূমি বা সমস্ত ভূমি হচ্ছে উঁচু। এজন্যই আরবিতে বলা হয়েছে মিন কুললি হাদাবিন ইয়ানসিলুন। From every elevation they shall go down.

অতএব, কোরআনের এ ওয়াদা পূর্ণ হয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ, ইহুদীরা তাদের ভূমিতে মাত্র এক দশকের কম সময়ের মধ্যে দ্রুত নেমে গেছে। আর সাথে সাথে ইয়াজুজ মাজুজ বন্ধন মুক্ত হবার অপর অঙ্গীকারটিও পূর্ণ হয়ে গেছে।

(২) 
এবার আমরা আসি র‍্যাবাইদের সেই তিনটি প্রশ্নের একটি প্রশ্নে। মক্কার পৌত্তলিকরা ইহুদীদের খুব জ্ঞানী মনে করত। যেহেতু তাদের কাছে নবী আসত, তারা তাওরাত পড়ত। কাজেই শেষ নবী সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য মক্কার কুরাইশরা মদীনার ইহুদীদের কাছে জানতে চাইল। ইহুদী পুরোহিতরা যখন দেখল শেষ নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম ইসহাক য়ালাইহিস সালামের বংশ থেকে আসেনি, বরং এসেছে তাদের ভাই ইসমাঈলের বংশ থেকে তখন তারা পাগলের মতো হয়ে গেল। তাদের পরিমার্জিত নকল তাওরাত থেকে তারা জানত যদি তারা জেরুজালেম দখল করতে পারে তবেই তাদের পক্ষে সম্ভব তাদের হারানো ভূমি ও সম্মান উদ্ধার করা এবং সারা পৃথিবীতে তাদের শাসন ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। আর জেরুজালেম দখল করতে হলে তাদের দরকার ইয়াজুজ মাজুজকে। কারণ ইয়াজুজ মাজুজের সহায়তায়ই তারা জেরুজালেমে ফিরে আসতে সক্ষম হবে এ জ্ঞান তাদের ছিল। তারা জানত ইয়াজুজ মাজুজ প্রাচীরের অপর পাশে বন্দি হয়ে আছে। তাই তারা কৌশলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছিল ইয়াজুজ মাজুজের বর্তমান খবর কি? তাদের বন্ধন কি মুক্ত করা হয়েছে? কাজেই তারা কৌশলের আশ্রয় নিল। তারা মক্কার কুরাইশদের বলল তোমরা মুহাম্মাদকে তিনটি প্রশ্ন করো। এসব প্রশ্নের উত্তর নবীরাই দিতে পারে। ইহুদীদের আসল উদ্দেশ্য ছিল শেষ নবী থেকে কিছু তথ্য নেয়া যাতে তারা জেরুজালেমে পুনরায় প্রত্যাবর্তন করার একটি হিসাব নিকাশ করতে পারে। তাই তারা সরাসরি ইয়াজুজ মাজুজের প্রশ্ন না করে যুলকারনাইনের সম্পর্কে জানতে চাইল। তাদের দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, তাকে সেই পরাক্রমশালী পর্যটকের কথা জিজ্ঞেস করো, যে পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের কাছাকাছি পৌছেছিল। সূরা কাহাফের ৮৩ নং আয়াতে তাদের এই দ্বিতীয় প্রশ্নটি আছে। “তারা আপনাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুনঃ আমি তোমাদের কাছে তাঁর কিছু অবস্থা বর্ণনা করব।” ৮৪ নং আয়াত থেকে আল্লাহ উত্তর দেয়া শুরু করলেন, এবং বক্তব্যের শেষে ৯৮ নং আয়াতে তাদের কাঙ্ক্ষিত উত্তরটি বলে দিলেন, যে এখনও ইয়াজুজ মাজুজ প্রাচীরে বন্দী এবং ১০০ নং আয়াতে ইয়াজুজ মাজুজের সাথে তাদের সাক্ষাতের পরিণতিও বলে দিলেন। “যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য। আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে (ইহুদী ও ইয়াজুজ মাজুজ উভয়কে) একত্রিত করে আনব। সেদিন আমি কাফেরদের কাছে জাহান্নামকে প্রত্যক্ষ ভাবে উপস্থিত করব।” (সূরা কাহাফ, আয়াত ৯৮-১০০)

কাজেই বোঝা গেল এই ইয়াজুজ মাজুজের সাথে সাক্ষাত ও তাদের সহায়তায় পবিত্রভূমিতে প্রত্যাবর্তনের ষড়যন্ত্র তারা সেই নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের সময় থেকেই শুরু করেছিল। আর গত শতকে বেলফোর ডিক্লারেশনের মাধ্যমে তা বাস্তব রূপ লাভ করে। যা এই ২০১৭ সালে জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী ঘোষণার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে।

Advertisements

ইয়াজুজ মাজুজের হাত ধরে জেরুজালেমে ফিরে এসে কি ইহুদীরা শেষ রক্ষা করতে পারবে?

কোন জনপদকে আল্লাহ ধ্বংস করেছিলেন যার কথা সূরা আম্বিয়ায় ৯৫-৯৬ নং আয়াতে উল্লেখ আছে? আপনি যদি অসতর্ক আলেম হন, আপনি কখনো সে জনপদকে বের করতে পারবেন না। এমনকি আপনি পবিত্রভূমিও সনাক্ত করতে পারবেন না। আপনি বলবেন তা হবে মিশর, তা হবে সিরিয়া, অথবা লিবিয়া, লেবানন ইত্যাদি। কিন্তু আপনি যদি সত্যিকার অর্থে সে জনপদের সঠিক কাহিনী উদঘাটন করতে চান তাহলে এর জন্য আপনাকে যেতে হবে সূরা বনী ইসরাঈলের শুরুতে। একে একে দশ এগারটি আয়াত তেলাওয়াত করতে হবে। প্রথম আয়াতেই একটি মসজিদের কথা উল্লেখ আছে, যা মসজিদুল আকসা, এবং তৎসংলগ্ন স্থান তথা জেরুজালেম। এটা যে একটি বিশেষ পবিত্র স্থান তথা পবিত্রভূমি সে সম্পর্কে একটি ছোট্ট অসাধারণ সূচনা দেয়ার পরই পরবর্তী কয়েকটি আয়াতে এ শহর ও মসজিদকেন্দ্রিক ইহুদী জাতির অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব কিছুর বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এ মসজিদুল আকসা এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে ইসরার রাতে আল্লাহপাক রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামকে এখানে ভ্রমণ করান এবং এ মসজিদের সমস্ত জ্ঞান রাসূল (সা)-কে দান করেন। কিভাবে এ মসজিদ পূর্বে দু’বার ইহুদীদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এবং কিভাবে শেষ জমানায় আরেকবার তা ইহুদীদের থেকে হাতছাড়া হবে। আপনি আয়াতগুলি পড়লে বুঝতে পারবেন যে, আল্লাহপাক ইচ্ছা করেই (ইহুদীদের অপকর্মের কারণে শাস্তিস্বরূপ) তাদের দু’বার জেরুজালেম থেকে বহিষ্কার করেছেন। প্রথমবার আল্লাহ তাদের ফেরত এনেছেন তাদের তওবার কারণে। কিন্তু দ্বিতীয়বারও তারা ফেরত আসে। কিন্তু এবার তারা ফেরত আসে তওবার কারণে নয়, বরং ইয়াজুজ মাজুজের সহায়তায়। এখানেই আবার ফিরে যেতে হবে সূরা আম্বিয়ার ৯৫-৯৬ নং আয়াতে। “আর যে জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, তার অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত। যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।” (সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৯৫-৯৬) আর বাস্তবেও তাই হয়েছে, তারা অর্থাৎ ইহুদীরা সারা পৃথিবী থেকে দ্রুত অতি অল্প সময়ের মধ্যে জেরুজালেমে চলে আসে এবং জেরুজালেম দখল করে ফেলে। মসজিদুল আকসাও দখল করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু যদি তারা শেষ রাসূল মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামকে মেনে নিত তাহলে আল্লাহ এবারও তাদের ক্ষমা করে দিতেন। কিন্তু আবারও সীমালঙ্ঘনের কারণে কোরআনে বর্ণিত তারা আবার সেই পূর্বের কঠিন শাস্তির দোরগোড়ায় অপেক্ষা করছে। আল্লাহ বলেন, “হয়ত তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রূপ কর, আমিও পুনরায় তাই করব। আমি জাহান্নামকে কাফেরদের জন্যে কয়েদখানা করেছি।” (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ৮) অর্থাৎ তাদের হাত থেকে আবার জেরুজালেম ও মসজিদুল আকসা কেড়ে নেয়া হবে। ঠিক যেভাবে পূর্বে তাদের হাত থেকে দু’বার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। অতীতের মতোই তাদের মুখও এবারও কালিমাচ্ছন্ন হয়ে যাবে। যেহেতু মুসলমানদের মধ্যে হযরত ঈসা য়ালাইহিস সালাম উপস্থিত থাকবেন এবং মুসলমানরা মক্কা বিজয়ের ইতিহাস থেকে যে নম্রতার শিক্ষা পেয়েছেন তাতে হয়তো তাদের মুখমণ্ডল কর্তন করা হবে না। মুসলমানরা সেদিন মসজিদুল আকসায় প্রবেশ করবে যথাযথ সম্মানের সাথে। আল্লাহ বলেন, “এ কোরআন সর্বশ্রেষ্ঠ পথ নির্দেশ করে এবং সৎকর্মপরায়ণ বিশ্বাসীদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য রয়েছে অনেক বড় পুরস্কার।” (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ৯) আল্লাহ তায়ালা আমাদের নূর দ্বারা দেখার তৌফিক দান করুন। আমীন।

পবিত্র কুর’আনে ইজরায়েল

ইজরায়েলকে বোঝার জন্য পবিত্র কুর’আনের এই আয়াতগুলি গুরুত্বপূর্ণ।

১। আল্লাহপাক বনী ইজরায়েলকে পবিত্র ভূমিতে দু’বার শাস্তি দিয়েছিলেন (প্রথমবার তৌরাতের লেখা বদলে ফেলা ও অ-ইহুদিদের সাথে সুদের ব্যবসাকে হালাল করার জন্যে এবং দ্বিতীয়বার নবী-রাসুলগণকে হত্যা করার জন্যে)। তিনি তৃতীয়বার শাস্তি দেওয়ার ভবিষ্যতবাণী করেন কারণ তারা পুনরায় পবিত্র ভূমিতে ফ্যাসাদ করবে (অর্থাৎ বর্তমান ইজরায়েল রাস্ট্রের বর্বরতার কথা ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে): 
” আমি বনী ইজরায়েলকে কিতাবে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি যে, তোমরা দুইবার ঐ ভূমিতে ফ্যাসাদ (ধ্বংসাত্মক দুর্ণীতি ও ভয়ঙ্কর অত্যাচার) সৃষ্টি করবে এবং শক্তিমদত্ত হয়ে অহংকারী হয়ে উঠবে (এবং দুইবারই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে)। অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত সেই প্রথম সময়টি এলো [খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৭ সনে], তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে [বখতে নাসরের নেতৃত্বে ব্যাবিলনীয় বাহিনী] অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল। অতঃপর আমি তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে পালা ঘুরিয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধনসম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম। তোমরা যদি ভালো কর, তবে নিজেদেরই ভালো করবে আর যদি মন্দ কর, তা-ও নিজেদের জন্যেই। এরপর যখন (অবিচার অনাচারের) দ্বিতীয় সে সময়টি এলো [৭০ খ্রিস্টাব্দে], তখন অন্য বান্দাদেরকে প্রেরণ করলাম [সেনাপতি টাইটাসের নেতৃত্বে রোমান বাহিনী] , যাতে তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করে দেয় আর (সুলাইমান আঃ নির্মিত) মসজিদে ঢুকে পড়ে যেমন প্রথমবার (তাদের পূর্বসূরিরা) ঢুকেছিল, এবং যেখানেই ঢুকে, সেখানেই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। কিন্তু যদি পুনরায় তদ্রুপ কর (অর্থাৎ পবিত্রভূমিতে এসে ফ্যাসাদ কর), তাহলে আমিও পুনরায় তাই করব (অর্থাৎ তোমাদের পূর্বের মত শাস্তি দেব)।” (সুরা বনী ইজরায়েল ১৭:৪-৮)
.
২। দ্বিতীয়বার শাস্তি পাওয়ার পর অর্থাৎ ৭০ খ্রিস্টাব্দে বনী ইজরায়েলের উপর জেরুজালেম শহর হারাম হয়ে যায় এবং তারা সারা বিশ্বে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। 
“আর আমি তাদেরকে (অর্থাৎ ইহুদিদেরকে) বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেণীতে…” (সুরা আ’রাফ ৭:১৬৮)
.
৩। এত অন্যায় করার পরও আল্লাহপাক তাদেরকে শেষবারের মত সুযোগ দেন এবং আখেরী নবী রাসুলুল্লাহ (সা) কে তাওবার দরজারূপে প্রেরণ করেনঃ
“যারা রাসুলকে অনুসরণ করে, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তাদের নিজেদের কিতাবসমূহে অর্থাৎ তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত আছে, যিনি তাদের সৎকাজে আদেশ ও মন্দকাজে নিষেধ করেন, যিনি তাদের জন্য যা ভালো (এবং খাঁটি) তা হালাল করেন এবং যা মন্দ (এবং ভেজাল) তা হারাম করেন, যিনি তাদের উপর ভারী বোঝা এবং তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া জোয়াল থেকে তাদের মুক্তি দেন। আর তাই, যারা তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর কাছে যে আলো (অর্থাৎ কুর’আন) প্রেরণ করা হয়েছে, তা অনুসরণ করে, তারাই মুক্তিলাভ করবে।” (সুরা আ’রাফ ৭:১৫৭)
.
৪। কিন্তু ইহুদিরা তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে। ফলে আল্লাহপাক তাদের উপর চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত করেন। কিবলা পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহপাক তাঁর এই রায়ে স্বাক্ষর করে দেন।
“এখন নির্বোধেরা বলবে, কীসে মুসলমানদেরকে ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কিবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।” (সুরা বাক্বারা ২:১৪২)
.
৫। আল্লাহপাক বনী ইজরায়েলের উপর চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজকে মুক্ত করে দেন।
” আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই তিনি কেয়ামতের দিন পর্যন্ত তাদের (অর্থাৎ ইহুদিদের) উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তিদানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (সুরা আ’রাফ ৭:১৬৭)।
.
৬। দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজ বনী ইজরায়েলকে জেরুজালেমে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
“কিন্তু একটা শহর (অর্থাৎ জেরুজালেম আল কুদস) যা আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, তার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে ঐ শহরের বাসিন্দারা (অর্থাৎ বনী ইজরায়েল) সেখানে ফিরে আসবে না, যতক্ষণ না ইয়াজুজ মাজুজ (ইউরোপীয় খাজার ইহুদি ও ইউরোপীয় খাজার খ্রিস্টান) মুক্তি লাভ করবে এবং প্রতিটি উঁচু স্থান থেকে তারা দ্রুত নেমে আসবে অর্থাৎ সবদিকে ছড়িয়ে পড়বে (সমগ্র বিশ্বে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ)।” (সুরা আম্বিয়া ২১:৯৫-৯৬)।
.
৭। তখন থেকে সমগ্র বিশ্ব থেকে ইহুদিরা পবিত্র ভূমিতে এসে মিশ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে জড়ো হচ্ছে। 
” কিন্ত জেনে রাখ,যখন আখিরাতের ওয়াদা আসবে (অর্থাৎ কিয়ামত নিকটবর্তী হবে), আমি তোমাদেরকে (অর্থাৎ বনী ইজরায়েলকে) মিশ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে একত্রিত করব।” (সুরা বনী ইজরায়েল ১৭:১০৪)
.
*** জায়োনিস্টপন্থি ইহুদি ও জায়োনিস্টপন্থি খ্রিস্টানরা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নির্বোধ জাতি। কারণ তাদের উপর শাস্তি আপতিত হলে তারা আনন্দিত হয়। এভাবেই আল্লাহ তাদেরকে তাদের কুফরের মধ্যে ঘুরপাক খেতে দেন। আল্লাহপাক তাদের উপর শাস্তিস্বরূপ দাজ্জালকে প্রেরণ করেছেন যে তার ইয়াজুজ মাজুজ বাহিনী দ্বারা বাইবেলের ভবিষ্যতবাণীগুলো হুবহু পূরণ করছে তাদেরকে ধোঁকায় নিমজ্জিত রাখার জন্য। আর তারা ভাবছে এটা তাদের উপর আশিরবাদ। এভাবে ভবিষ্যতবাণী পূরণ করতে করতে দাজ্জাল তাদেরকে বোঝাবে যে, সে-ই প্রকৃত মসীহ। তারা তখন তা-ই বিশ্বাস করবে। কিন্তু যখন সত্য মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) লুদের দরজার নিকট দাজ্জালকে হত্যা করবেন, সেদিন তারা বুঝতে পারবে যে, তারা কত বড় গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল! সেদিন তারা প্রত্যেকে ঈমান আনবে কিন্তু ফেরাউনের ঈমান আনা যেমন তার কোন কাজে লাগেনি, তাদেরও কাজে লাগবে না। 
“এবং আহলে কিতাবের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাঁর উপর (অর্থাৎ নবী ঈসা আঃ এর উপর) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে (অর্থাৎ নবী ঈসা আঃ এর মৃত্যুর পূর্বে) বিশ্বাস স্থাপন করতে বাধ্য হবে না এবং শেষ বিচারের দিনে তিনি তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হবেন।” (সুরা নিসা ৪:১৫৯)

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

কোরআনের সূরা আম্বিয়া ও বনী ইসরায়েলের আয়াতে জেরুজালেমে ইহুদীদের প্রত্যাবর্তন দ্বারা প্রমাণ হয় ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে গেছে

ইয়াজুজ মাজুজের কথা কোরআনে আছে। কাজেই আসুন আমরা একটু অনুসন্ধান করি সেখানে কি আছে। কোরআনে সূরা আম্বিয়ার ৯৫-৯৬ নং আয়াতটি সম্পর্কে একটু বলি। যখন ইহুদীরা যে পবিত্রভূমি বা জেরুজালেম থেকে আল্লাহর হুকুমে বহিষ্কার হয়েছিল, সেই পবিত্রভূমিতে ফিরে যাবে তখনই বোঝা যাবে ইয়াজুজ মাজুজই তাদের পবিত্রভূমিতে ফেরত এনেছে। আমরা জানি আল্লাহর হুকুমে ইহুদীরা দুইবার বহিষ্কৃত হয়েছিল। শেষেরবার দুই হাজার বছর পর তারা বৃটেনের বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ইসরায়েলে ফিরে যায়। এরপর থেকে তারা সারা দুনিয়ার প্রতিটি ভূমি থেকে দলে দলে ইসরায়েলে আবাসন গাড়ে। এ কথাকেই সূরা আম্বিয়ায় স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

“যেসব জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, তার অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত। যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।” এটা হচ্ছে সূরা আম্বিয়ার ৯৫-৯৬ নং আয়াতের কথা।

এখন দেখুন কারা সারা দুনিয়ায় ইতিপূর্বে ছড়িয়ে পড়েছিল?
কাদের আল্লাহ তায়ালা তাদের নিজভূমি থেকে বের করে দিয়েছিলেন আল্লাহর অবাধ্যতার শাস্তিস্বরূপ?

এর উত্তর আছে সূরা বনী ইসরায়েলে।

“আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাবে পরিষ্কার বলে দিয়েছি যে, তোমরা পৃথিবীর বুকে দুবার অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং অত্যন্ত বড় ধরনের অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে। অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত সেই প্রথম সময়টি এল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলাম আমার কঠোর যোদ্ধা বান্দাদেরকে। অতঃপর তারা প্রতিটি জনপদের আনাচে-কানাচে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। এ ওয়াদা পূর্ণ হওয়ারই ছিল।” 
(সূরা বনী ইসরায়েল, আয়াত ৪-৫)

তাদের সেই ভূমি যে পবিত্রভূমি তথা জেরুজালেম ছিল তাও সূরা বনী ইসরাইয়েলের প্রথম দিকের আয়াত পাঠ করলে বোঝা যায়। আশা করি বাকীটুকু একটু নিজেরা চিন্ত্যাভাবনা করবেন। একটু বোঝার চেষ্টা করবেন যে, কিভাবে ইহুদীরা আবার জেরুজালেমে ফিরে এলো সারা বিশ্বের প্রতিটি আনাচে কানাচে হতে এবং কারা তাদের সেখানে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিল। তখনই বুঝতে পারবেন, যারা সেই বেলফোর ঘোষণা দিয়েছিল তারাই ছিল ইয়াজুজ মাজুজ। আরা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামও বলে গিয়েছিলেন যে, ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীরে ছিদ্র হয়ে গেছে। কাজেই তাদের সেই প্রাচীর থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়া রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের সময়ই শুরু হয়েছিল। এবং তারাই এখন সারা পৃথিবীতে ফেতনা সৃষ্টি করছে। সাথে সাথে আমরা দেখতে পাচ্ছি তাবারিয়া হ্রদ বা সী অব গ্যালিলী শুকিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্যঃ
(১) এখান থেকে দেখে নিন কোরআন থেকে যে টেক্সটের অনুবাদ দিলাম তা সঠিক কি না। ourholyquran.com
(২) এই ব্যাখ্যাটাই ইমরান নযর হোসেন বলতেছেন। পবিত্র কোরআনে জেরুজালেম এবং ইসলামের দৃষ্টিতে আধুনিক বিশ্বে ইয়াজুজ ও মাজুজ বই দুটি পড়তে পারেন। বইয়ের জন্য ই-বুকে ক্লিক করুন।  

ইয়াহুদি, খৃষ্টান ও মুসলিমদের মধ্যে শেষ যামানা সচেতনতা এবং সাম্প্রতিক ঘটনা

শেষ যামানা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন হল ইয়াহুদিরা। তারা তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রিক, অর্থনৈতিক প্রতিটি পদক্ষেপ শেষ যামানার আলোকে নেয়। তারা তাদের বিকৃত ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে যতটুকু বুঝেছে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করে। তাদের ব্যক্তিগত চিন্তায়, রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক আলোচনায়, মিডিয়ার খবরে শেষ যামানা সম্পর্কিত অনেক আলোচনা থাকে। মাসিয়াখ (দাজ্জাল) অচিরেই আসবে, অমুক রাবাই অমুক ভবিষ্যৎবাণী করেছে, অমুক আশ্চর্য ঘটনা অমুক ধর্মীয় বিষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সুপারমুন, সাবাত, জুবলি ইত্যাদি নিয়ে তাদের বড় বড় মিডিয়া প্রায় খবর করে।

ইয়াহুদিদের চাইতে কম হলেও শেষ যামানা সচেতনতা খৃষ্টানদের মধ্যে অনেক রয়েছে। সাম্প্রতি এমন অনেক ঘটনায় এটা সহজে বুঝা যায়। হুয়াইট ইভেনজালিস্ট খৃষ্টানরা প্রথমে ট্রাম্পকে ভোট দিতে চায়নি কিন্তু যখন ট্রাম্প ইশতেহারে জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে বলে উল্লেখ করেছিল, এটা শুনে ৮১% ইভেঞ্জালিস্টরা তাকে ভোট দেয়- কারন তাদের বিশ্বাস হল জেরুজালেম রাজধানী হলে ইসা (আঃ) এর দ্রুত আগমন হবে। এখন তারা প্রচার করছে ট্রাম্পের এমন ঘোষণা আরমোগেডান ও মানব জাতির ধ্বংসকে কাছিয়ে এনেছে। তাদের প্রধান প্রধান মিডিয়া প্রায় এমন নিউজ করে। বড় কোনো অবাক, সংকটপূর্ণ, রহস্যময় ঘটনাকে তারা এপোক্লিপ্স (দুনিয়ার ধ্বংস) ও আরমোগেডন (মহাযুদ্ধ/মালহামা) শব্দ ব্যবহার করে নিউজ করে। আমেরিকার সাথে কোরিয়া, বা রাশিয়া বা চীনের দ্বন্দ্ব ইত্যাদিকে তারা আরমোগেডন বলে নিউজে করেছিল। আমি কোনো কন্সপাইরেসি থিওরি শেয়ারিং নিউজ মিডিয়ার কথা বলছি না, বরং ওয়াসিংটন পোষ্ট, টাইম নিউজ, ইকোনমিক, ফক্স, বিবিসি, সিএনএন ইত্যাদি নিউজের কথা বলছি। যেমন ক্যালিফোরনিয়ার দাবানলের চিত্র তুলে ধরতে ইকোনোমিক্স ‘এপোক্লিপ্ট সিন’ শব্দ ব্যবহার করেছে। অর্থোডক্স খৃষ্টান ইস্পুটিনিক নিউজ করেছে (Trump’s Jerusalem Move ‘Step Closer to Armageddon’ Say US Evangelical Christians)

তাদের মুভি, ডকুমেন্টারি এমনকি গেমসেও এই সব শব্দ অনেক ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন কাহিনিকে আরমোগেডন বা এপোক্লিপ্স এর সাথে জুড়ে দেয়। জেরুজালেমকে রাজধানী করার পরে, অনেক খৃষ্টান তাদের মত শেয়ার করতে গিয়ে এন্টিক্রাইস্ট ও শেষ যামানার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মিডিয়া সি অব গ্যালিলি’র নিউজ করলে অবশ্যই এন্টিক্রাইস্টের কথাও বলে। একই ভাবে উল্লেখ্যযোগ্য মিডিয়া, জেরুজালেমকে শুধু রাজধানী না বলে ‘ইটারনাল (অনন্ত ও চিরস্থায়ী) রাজধানী’ ব্যবহার করেছে। এখানে ইটারনাল বলতে তাদের চিরস্থায়ী বিশ্বাস ও চিরস্থায়ী জান্নাতের বিশ্বাসকে বুঝানো হচ্ছে।

এমনকি তাদের ধর্মীয় গুরু বা রাস্ট্র শাসককে তাদের অনেকে এন্টি ক্রাইস্ট (দাজ্জাল) বা জিসাস (দ্বিতীয়বার আগত জিসাস) মনে করে। ২০১৩ সালের সার্ভেতে বলা হয়েছিল প্রতি ৪ জনের একজন আমেরিকান (২৫%) জনগন বারাক ওবামাকে এন্টিক্রাইস্ট বা দাজ্জাল মনে করে। পোপ ফ্রান্সিস খ্রিষ্টানদের একটি ইবাদতের পদ্ধতি চেঞ্জ করতে বলেছেন, এটা শুনে অনেকে তাকে এন্টিক্রাইস্ট বলে আখ্যায়িত করেছে। এই সব কথা নিউজে তারা ছেপেছে। রাশিয়া যখন সিরিয়ায় আগমন করে এটাকে অনেক মিডিয়া আরমোগেডন শিরোনামে নিউজ করেছিল। ট্রাম্পকে ভোট দেয়ার পিছনে অনেক খ্রিষ্টানরা প্রথমে বিবলিকাল প্রফেসি দিয়ে জাস্টিফাই করেছে, কেউ বলেছে সে এন্টিক্রাইস্ট, কেউ বা বলেছে সে আসলে এন্টি ক্রাইস্ট আসবে। এই সব বিশ্বাস কতটুকু যৌক্তিক তা জানা জরুরি নয় তবে জরুরি হল তারা শেষ যামানা সচেতন মানুষ।

মুসলিম। অত্যন্ত আফসোসের বিষয় পৃথিবীর বলতে গেলে প্রায় সকল ধর্মের মানুষের চাইতে আমরা এই সব নিয়ে কম ভাবি। আমরা পশ্চিমাদের অর্থাৎ ইয়াহুদি খৃষ্টানদের অন্ধভাবে অনুসরন করি কিন্তু আমরা তাদের মত আমাদের সকল বিষয় তথা ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি কুর’আন হাদিসের জ্ঞানের আলোকে দেখি না। আমরা মনে করি এই সব কাজে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের মিডিয়া কখনো মালহামা, ইমাম মাহদি, দাজ্জাল, কালো পতকা বাহিনী, সি অব গ্যালিলি ইত্যাদি শব্দ উচ্চারন করে না। এই সব হল সেকেলে, অজ্ঞদের বিশ্বাস!!!!। এমনকি আমাদের আলেমরাও শেষ যামানার জ্ঞানের সাথে যুগের বিভিন্ন ঘটনাকে মিলিয়ে দেখেন না। একজন আলেম নেই যিনি জেরুজালেম বা ইসরাইলের কোন ঘটনার সাথে শেষ যামানার জ্ঞান মিলিয়ে দেখেন। অথচ কিয়ামত ও শেষ যামানার ফিতনা নিয়ে আমাদের কাছে সব চেয়ে বেশি তথ্য রয়েছে। শত শত আলামত হাজারো হাদিস রয়েছে। কিন্তু আমরা ছোট ছোট বিষয় নিয়ে একে অপরের সাথে লড়াই করতে ব্যস্ত। সামগ্রিক উম্মাহ নিয়ে ভাবার কারোর সময় নেই। ভাবটাও এমন থাকে যে এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পরে না।

মুসলিমদের কোন খ্যাত অখ্যাত মিডিয়া পাবেন না যারা একবারো কোনো ঘটনাকে শেষ যামানার কোনো শব্দ দিয়ে নিউজ করেছে। কোন জনপ্রিয় আলেমেরও সময় নেই এই সব নিয়ে বলার। তারা সি অব গ্যালিলি নিয়ে কিছুই জানেন না। গোল্ড বেসড টাকা চলে গেল তারা জানতেন না, এখন ফালতু মিথ্যা কাগুজে নোট খতম হয়ে আরো বড় ফালতু বোগাস ক্রিপ্টকারেন্সি আসতেছে তারা কিছুই জানেন না। যেহেতু গোল্ড বেসড টাকা জায়িজ ছিল তাই যতই নতুন মুদ্রা ব্যবস্থা আসুক সবই জায়িজ আমরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে পারি এখন। আমার ২৫ বছর পার হল একবারো কোনো খুতবাতে দাজ্জালের নাম শুনিনি। ওলামাদের অবস্থা এমন হলে সাধারনের অবস্থা সহজেই বুঝা যায়। তারা পশ্চিমাদের ফ্যাশন, স্টাইল, এটিটিউড কোপি করতে ব্যস্ত। বর্তমান উম্মাহর যে অবস্থা দাজ্জাল মশাই এমন অবস্থারই অপেক্ষা করছে নিশ্চয়।

উল্লেখ্য যে, সকল আলেম এমন নন। যাইহোক হতাশা বা আফসোস নয়। মুমিনদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে। আল্লাহ অবশ্যই মহাপরিকল্পক।সুসংবাদ রয়েছে গুরাবাদের জন্য।

লিখেছেনঃ Kaisar Ahmed

জেরুজালেমের উত্থান, রিক্ত মদিনা, সোনার পাহাড় ও দাজ্জাল

Narrated Mu’adh ibn Jabal:

The Prophet (ﷺ) said: The flourishing state of Jerusalem will be when Yathrib is in ruins, the ruined state of Yathrib will be when the great war comes, the outbreak of the great war will be at the conquest of Constantinople and the conquest of Constantinople when the Dajjal (Antichrist) comes forth. He (the Prophet) struck his thigh or his shoulder with his hand and said: This is as true as you are here or as you are sitting (meaning Mu’adh ibn Jabal).

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ عُمْرَانُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ خَرَابُ يَثْرِبَ وَخَرَابُ يَثْرِبَ خُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ وَخُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ فَتْحُ قُسْطَنْطِينِيَّةَ وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ خُرُوجُ الدَّجَّالِ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ الَّذِي حَدَّثَ – أَوْ مَنْكِبِهِ – ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَا لَحَقٌّ كَمَا أَنَّكَ هَا هُنَا أَوْ كَمَا أَنَّكَ قَاعِدٌ ‏.‏ يَعْنِي مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ ‏.‏

: Hasan (Al-Albani) حسن (الألباني) حكم :
Reference : Sunan Abi Dawud 4294
In-book reference : Book 39, Hadith 4
English translation : Book 38, Hadith 4281

সুনানে আবু দাউদে রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের একটি হাদিস আছে। যেখানে তিনি বলিয়াছেন, উমরানু বাইতুল মাক্বদিস খারাবু ইয়াথরিব, ওয়া খারাবুল ইয়াথরিব খুরুজুল মালহামাহ, ওয়া খুরুজুল মালহামাহ ফাতহুল ক্বুসতুনতিনিয়া, ওয়া ফাতহুল কুসতুনতিনিয়া খুরুজুদ দাজ্জাল। তিনি বলিতেছেন, যখন জেরুজালেম উদীয়মান হইবে তখন মদীনার বিনাশ হইবে, মদিনার দালানকোঠাগুলিও ধ্বংস হইবে, পরিত্যক্ত হইবে, রিক্ত হইবে। আর যখন মদিনার এরূপ অবস্থা হইবে তখন তোমরা মালহামার জন্য অপেক্ষা করিবে। যাহা হইবে একটি মহাযুদ্ধ। সুতরাং আমরা সেই সময়ের একেবারে নিকটে আসিয়া পড়িয়াছি। মদিনার দালানগুলিকে সৌদিরা ধ্বংস করিতেছে, ইহা মক্কাতেও করা হইতেছে। আজকে পৃথিবীতে মদিনার কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যাইতেছে না। মুসলিম বিশ্বের কোন কিছুতে মদিনা কোন ভূমিকা রাখিতেছে না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কাজেই মদিনার দালানগুলো আজকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় পড়িয়া আছে। সুতরাং মালহামা একেবারে আমাদের নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছে। ইহা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হইয়া যাইতে পারে। ভয়ংকরভাবে বিপথে চালিত তুর্কি সরকার ন্যাটো কর্তৃক পরিবেষ্টিত হইয়া আছে এবং সিরিয়াতে আক্রমণের প্ররোচনা লাভ করিতেছে। যদি তাহারা সিরিয়া আক্রমণ করে তবে তুরস্কে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়া যাইবে। তখন রাশিয়া তুরস্ক আক্রমণ করিতে দ্বিধা করিবে না। যদি রাশিয়া তুরস্ক আক্রমণ করে তবে পূর্ব ইউরোপ তথা বাইজেন্টাইন রাশার সাথে যোগ দিবে। মুসলমানরা তখন ন্যাটোর হাত হইতে কনস্টান্টিনোপলকে মুক্ত করার জন্য রাশিয়াকে সমর্থন দিবে। ইহাই নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম বলিয়াছেন। যখনই রাশিয়ার সাথে ন্যাটোর যুদ্ধ লাগিয়া যাইবে উহাকেই বলা হইবে মহাযুদ্ধ বা মালহামা। কাজেই ইহা অতি সন্নিকটে অবস্থান করিতেছে। সুতরাং সৌদি যা করিতেছে তা দ্বারা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালামের ভবিষ্যতবাণীই বাস্তবায়িত হইতেছে। তাহারা দালানগুলিকে ধ্বংস করিতেছে। শুধু তাহাই নহে, যখন ইউএস ডলার সম্পূর্ণরূপে ধ্বসিয়া যাইবে, যাহা ইতিমধ্যেই ধ্বসিয়া গিয়াছে কিন্তু কৃত্রিমভাবে বাঁচাইয়া রাখা হইয়াছে, কাজেই ইহার পরিবর্তে অন্য কিছু আসিতে হইবে। ইউএস ডলার ১৯৭৩ সাল হইতে পেট্রডলার হিসাবে কাজ করিতেছে, যাহা আপনারা আমার রিবা কনফারেন্স অব ইসলাম শীর্ষক পূর্বের লেকচারে শুনিয়াছেন, কিভাবে ইউএস ডলার পেট্রডলারে পরিণত হইল। নবীজী ছাল্লালাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম ইহার ভবিষ্যতবাণী করিয়াছিলেন। ইহা আমাদেরই অযোগ্যতা যে আমরা তাহা পড়িতে ও বুঝতে ব্যর্থ হইয়াছি। ইহা আখেরি জামানা সম্পর্কিত হাদীস। তিনি বলিয়াছেন, ফোরাত নদী স্বর্ণের পাহাড় উন্মুক্ত করিয়া দিবে। তিনি ইহা দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন? বিশাল তেলের সাগর স্বর্ণের পাহাড়রূপে কাজ করিবে। যখন তেলের সাগর ডলারকে সমর্থন দিবে, (যেমন ইতিপূর্বে মুদ্রা স্বর্ণ দ্বারা সমর্থন পাইয়া থাকিত, এখন তেল দ্বারা সমর্থন পাইতেছে) কাজেই তেল স্বর্ণের পরিবর্তে ব্যবহৃত হইতে থাকিবে। যখন কিং ফয়সাল প্রতারিত হইলেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়া বসিলেন তেল একমাত্র ইউএস ডলারের বিনিময়ে বিক্রী করা যাইবে। ইহা কি শরীয়ত বিরোধী হয় নাই? ইহা শরীয়ত বিরোধী হইয়াছে, কারণ ইসলাম ফ্রী এবং ফেয়ার ট্রেডের কথা বলিয়া থাকে। আপনি একমাত্র ডলারের বিনিময়ে তেল বিক্রী করিবেন ইহা কি ফ্রী এবং ফেয়ার ট্রেডের কথা হইল? যখন আপনি মুক্তবাজার বা ফ্রী ট্রেডকে ধ্বংস করিবেন তখন ফেয়ার ট্রেডও উপেক্ষিত হইবে। কারণ ইউএস ডলার তো স্বর্ণের স্থলাভিষিক্ত নহে। যখন ১৯৭৩ সালে কিং ফয়সাল এইভাবে পরাস্ত হইলেন, তখন ইউএস ডলার পেট্রডলারে পরিণত হইয়া উড়িতে লাগিল। পরবর্তী ৪০ বৎসরে ইহার মূল্য উঠিতে লাগিল। এখন যায়োনিস্টরা চাহিতেছে ইহাকে নামাইতে। কাজেই ইহার পরিবর্তে তাহাদের অন্য কিছু বাহির করিতে হইবে। আর সেটা হইল ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মানি যা ব্যাংকিং সিস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে। কিন্তু এই নতুন মুদ্রাকেও পেট্রমানি হইতে হইবে যাহা তেল দ্বারা সমর্থন পাইবে। আর এই মুদ্রাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইজরায়েলের একটি পথই খোলা আছে, যদি ইজরায়েল সৌদি আরবের সাথে ঠিক অনুরূপ সম্পর্ক রাখিতে পারে, যাহা পূর্বে ইউনাইটেড স্টেটস রাখিয়াছিল, আর ইহাই আমরা আমাদের চোখের সামনে ঘটিতে দেখিতেছি, যাহা সৌদি ইসরায়েল জোট হিসেবে প্রকাশিত হইয়াছে। যাহা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সালাম বলিয়াছেন, নজদ থেকে শয়তানের শিং প্রকাশিত হইবে। সৌদি শাসক ও তাদের ওহাবী মূল নজদ থেকে আসিয়াছে। সৌদি আজ যে ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছে, ইহাতে আমার প্রতিক্রিয়া হইল, সৌদির সাথে জোট গঠন করা সারা পৃথিবীর মধ্যে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত জোট হিসেবে প্রমাণিত হইবে। আমি আশা করি ইসলামী বিশ্ব সৌদি ইসরায়েল জোটকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করিতে সক্ষম হইবে। 

 

লেকচারঃ The Ruins in Madina and the Antichrist by Imran Hosein, You Tube Link:
https://www.youtube.com/watch?v=y_l1xjXCJ38

শায়খ ইমরান নযর হোসেন 

অনুবাদঃ আবু মুনতাহা

 

নবী সুলাইমান (আ) এর সিংহাসনে একজন ছদ্মবেশী

পবিত্র কোরান ধর্মীয় ইতিহাসের একটি অনন্য ঘটনাকে প্রকাশ করেছেন যার কোন তুলনা পাওয়া খুবই মুশকিল। এই ঘটনার বর্ণনা আমাদেরকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বাধ্য করে যে, সুলাইমান (আ) আল্লাহ সুবহানওয়াতালার তরফ থেকে একটি সত্যস্বপ্ন প্রাপ্ত হয়েছিলেন যেখানে তিনি দেখতে পান যে, একজন আত্মাহীন নফছহীন ছদ্মবেশী একদিন তাঁর সিংহাসনে আরোহণ করবে, এবং তারপর পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্র ফিরিয়ে আনার নামে একটি জাল বা মেকি বা ভুয়া রাস্ট্র বানানোর চেষ্টা করবে; ভবিষ্যতের এই অভূতপূর্ব ঘটনার জ্ঞান প্রাপ্ত হওয়ার পরপরই নবী সুলাইমান (আ) আল্লাহ সুবহানওয়াতালার দরবারে একটি অসামান্য দোয়া করেন।

“আমি সোলায়মানকে পরীক্ষা করলাম এবং রেখে দিলাম তার সিংহাসনের উপর একটি জাসাদ বা আত্মাহীন নফছহীন মানবদেহ। অতঃপর সে রুজু হল। সোলায়মান বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।” [সুরা সা’দঃ ৩৪-৩৫]

সুলাইমান (আ) যখন তাঁর সিংহাসনে জাসাদকে দেখলেন, তিনি তখন ধৈর্যের সাথে আল্লাহর দিকে ফিরলেন এবং দোয়া করলেন যে, আল্লাহ যেন তাঁর গুনাহ মাফ করে দেন এবং তাঁর পরে যেন কেউ পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্রের মালিক হতে না পারে।

যখন উপরোক্ত আয়াতদ্বয় একসাথে গবেষণা করা হবে, তখন বোঝা যাবে যে, যখন আত্মাহীন নফছহীন মানবদেহ বা জাসাদকে সুলাইমান (আ) এর সিংহাসনে স্থাপন করা হলো, তখন তিনি আতঙ্কিত হয়ে আলোচ্য দোয়াটি করলেন এ কারণে যে, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এই জাসাদ তাঁর সিংহাসনকে তথা পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্রকে দখল করার চেষ্টা করবে এবং পবিত্র ইজরায়েল রাস্ট্রের নামে পবিত্র ভূমিতে একটি অপবিত্র রাস্ট্র তৈরী করবে। 

আমাদের মত হলো নবী সুলাইমান (আ) জেরুজালেমে তাঁর সিংহাসনে দাজ্জালকে দেখেছিলেন যে পবিত্র ইজরায়েলের নামে ইজরায়েল রাস্ট্র গঠন করে তা শাসন করার মিশনে নামবে। তাই তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন যাতে দাজ্জালের এই পরিকল্পনা কখনও বাস্তবায়িত না হয়। সুতরাং, যে জাসাদ সিংহাসনে বসেছিল সেই দাজ্জাল!

সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম, দাজ্জাল ফেরেশতাও না, জ্বীনও না; সে একজন জাসাদ বা আত্মাহীন নফছহীন মানবদেহ।

যেহেতু দাজ্জাল একজন জাসাদ যাকে আল্লাহ সুবহানওয়াতালা সুলাইমান (আ) এর সিংহাসনে স্থাপন করেছেন, সুতরাং সে এমন একটি সৃষ্টি যাকে তার মানব সদৃশ শরীরের জন্য মানুষ মনে হবে কিন্তু সে তার নফছ ও আত্মাহীনতার কারণে পরিপূর্ণ মানুষ নয়। যেহেতু তার নফছ নেই, তাই তার কোন স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি নেই, ফলে সে তার কৃতকাজের জন্য দায়ী হবে না এবং বিচার দিবসে ফেরেশতাদের অনুরূপ তার কোন হিসাব-নিকাশ নেই।

যেহেতু দাজ্জাল একজন জাসাদ, তার নিজস্ব কোন বুদ্ধি বা জ্ঞান নেই। সে নিজে তার জন্য কোন চিন্তা করতে পারে না। তার জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি কম্পিউটারের মত বাইরে থেকে প্রোগ্রামড করা। সে রবোটের মত এবং আমরা দাজ্জালকে ভালোভাবে বুঝতে পারব এমনকি তার পদচিহ্ন দেখতে পার আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের মধ্যে। দাজ্জালের পদচিহ্ন বর্তমানে সবচেয়ে বেশী পরিমাণে দেখা যাচ্ছে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যেখানে সত্যিকারের মুদ্রা স্বর্ণ ও রৌপ্যের জায়গা দখল করে নিয়েছে অর্থনৈতিক জাসাদ তথা আর্টিফিশিয়াল মুদ্রা।

লিখেছেনঃ Md Arefin Showrav

Click below to see the Surah: Surah Soa’d, 34 – 35