সেই ১ দল

preaching-islam

প্রশ্নঃ আসসালামু য়ালাইকুম। কিয়ামত পর্যন্ত একটা দল জিহাদ করতে থাকবে সে দলটা বর্তমানে কোন দল?

উত্তরঃ

ওয়ালাইকুম আসসালাম।

সেই দলের কোন সাইনবোর্ড থাকবে না। বা বিশেষ কোন ‘বাজারী নাম’ থাকবে না।
এরা এক অঞ্চলের কোন লোক হবে না।
বা বিশেষ কোন দেশের / ভাষার লোক হবে না।

– সেই দলে আপনিও থাকতে পারেন। এই দল সবার জন্য উন্মুক্ত।

প্রশ্নঃ কিন্তু তাহলে তাদের খুঁজে পাব কিভাবে!

উত্তরঃ
আপনার আশেপাশের কোন লোক সেই দলে থাকাটা শর্ত নয়।
কুরআন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী চললেই আপনি সেই দলের সদস্য হয়ে যাবেন। এছাড়া তাদের আর কোথাও খুঁজে পাবেন না।

প্রশ্নঃ কিন্তু একা তো জিহাদ করা যায় না।

উত্তরঃ
ইবরাহীম য়ালাইহিস সালামকে আল্লাহ্‌ একাই একটি জাতি বলেছেন। কুরআনে। উনি একাই জিহাদ করেছিলেন। আল্লাহ্‌ রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সালামকে আদেশ করেছেন ইবরাহীম য়ালাইহিস সালামের অনুসরণ করতে। এবং কাফেরদের অনুসরণ না করতে।

আল্লাহ্‌ বলেছেন,

فَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَجَاهِدْهُم بِهِ جِهَادًا كَبِيرًا

“সুতরাং তুমি কাফেরদের আনুগত্য করো না, এবং তুমি তার (কুরআনের) মাধ্যমে কাফেরদের বিরুদ্ধে প্রবল সংগ্রাম চালিয়ে যাও। সূরা ফুরক্বান, ২৫ঃ৫২”

সেই আদেশ রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সালামের উম্মত হিসেবে আমার আপনার উপরও পরে।

।।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

সদর দরজা যখন খোলা চোরের তখন পোয়াবারো

garagedoor

Install Security Cameras; Even Fake ones will Work!

আপনি যখন ৩০ হাজার টাকা দিয়া একটা কম্পিউটার কিনিলেন তখন প্রথমেই মনে হইল ভালো একটা এন্টিভাইরাস কিনিতে হইবে। যাহাতে হ্যাকাররা আপনার কম্পিউটারের ভেতর ঢুকিয়া আপনাকে মিসগাইড করিতে না পারে, আপনাকে ফাকি দিয়া আপনার দলিল দস্তাবেজ লইয়া যাইতে না পরে। সামান্য দুনিয়াবী ক্ষণস্থায়ী যাহা ডিলিট বাটনে টিপ দিলেই মুছিয়া যায় এমন দুই চারি হাজার ডাটা নিরাপদ রাখিবার জন্য আপনি ৭০০ টাকা খরচ করিয়া এন্টিভাইরাস কিনিয়া ফেলেন। আবার কয়েক দিন পর পর ইহাকে আপডেটও করেন।

৩০ লক্ষ টাকা দিয়া একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনিয়া আপনি ইহার নিরাপত্তার জন্য মাসিক ৭০০০ টাকা বেতন দিয়া একজন ভালো ও বিশ্বস্ত দারোয়ান রাখিয়া লইলেন। ইহাতেও আপনি খুশি হইলেন না। তাই টেলিফোনের ডাইরেক্টরীতে থানার ওসির নাম্বার ও ফায়ার ব্রিগেডের নাম্বার লাল কালিতে দাগ দিয়া রাখিলেন, যেন প্রয়োজন হইলে সাথে সাথে খুজিয়া পাইতে বিলম্ব না হয়।

ইহা তো গেল দুনিয়াবী হাকীকত। আল্লাহ্‌ তায়ালা কি করিয়াছেন? আর তিনি কুরআনের মাধ্যমে আমাদের কি রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানাইয়াছেন?

হযরত জিবরাঈল আমীন ফেরেশতা যখন কুরআনের আয়াত লইয়া আল্লাহ্‌র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসিতেন, আল্লাহ্‌ বলিতেছেন, এ সময় শয়তানকে কুরআন শ্রবণের সুযোগ থেকেও দূরে রাখা হইয়াছে। কি হইত শয়তানকে কুরআন শ্রবনের সুযোগ দিলে ? জিবরাঈল আমীন য়ালাইহিস সালামের উপর কি আল্লাহ্‌র আস্থা নাই ! তা নহে। আল্লাহ্‌র আস্থা ঠিকই আছে। কিন্তু তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করিয়াছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, কুরআনকে আমি প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি। তবে শয়তানদের কেউ যদি চুরি করে সংবাদ শুনে পালায় তাহলে জ্বলন্ত উল্কা পিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে। দেখুন সূরা শু’আরা ও সূরা হিজর ।

আর আমরা দ্বীনের মেহনতের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা খুলিয়া বসিয়াছি। আমরা মাদরাসা বানাইয়াছি, পীরের খানকাহ গড়িয়াছি, তবলীগের মারকাজ প্রতিষ্ঠা করিয়াছি। কিন্তু আমাদের কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই। কোন ইহুদী বা খ্রিস্টানকে শয়তান যেন প্ররোচনা দিতে পারে না, আমাদের প্রচেষ্টাগুলোকে হ্যাক করতে।

আমরা ইহুদী বিষয়ে মাথা ঘামাইতে চাহি না। আমরা শুধু আমাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা মেহনতগুলোর বর্ধিত কলেবর দেখিয়াই প্রশান্তি লাভ করি। কিন্তু তাহার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি নাই। শত শত বছর ধরে তাহা খোলা ময়দানে খোলা পড়িয়া রহিয়াছে।

যখনই কেহ মহানবী রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কোন শিক্ষাকে কাটছাট করিয়াছে বা নিজের মনমতো আকৃতি দিয়াছে আমরা ভাবিয়াছি ইহা আমাদের ভালোর জন্যই করা হইয়াছে। টুপী পাগড়ী ঘন দাড়ি দেখিয়া বিগলিত হইয়া গিয়াছি।

আমরা ভুলিয়া গিয়াছি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এমন ভাইরাসই আক্রমণ করবে যা উইন্ডোজের সাথে মানানসই। একসময় তা পুরো সিস্টেমকে নিজের কব্জায় পুড়িয়া লয়।

ইহুদীরা ইহুদী নাম দিয়া মুসলমানদের কেন হ্যাক করিতে যাইবে !! তাহারা মুসলমানদের দরদী হইয়া মুসলমানদের সিস্টেমে ঢুকিয়া পড়িবে। ইহা বুঝিতে কি আলেম হইতে হয়? পিএইচডি ডিগ্রী দরকার হয়?

……।

ইমাম মাহদী য়ালাইহি সালাম যখন আসিবেন তাহাকে কেহ চিনিতে পারিবে না। তিনি আল্লাহ্‌র শেখানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিবেন। ৪০ বৎসর কাল তাহাকে কেহ সনাক্ত করিতে পারিবে না। যখন তিনি প্রকাশিত হইবেন তখনও প্রকৃত মুসলমান ছাড়া কোন ইহুদী খ্রিস্টান শয়তানের এজেন্ট তাহার কাছে ঘেঁষিতে পারিবে না।

পুনশ্চঃ

যেইসব আলেমরা ফতোয়া দেয়, হ্যাঁ, আপনি আপাতত ব্যাংকের চাকরী করিতে থাকুন, পাশাপাশি অন্য চাকরী দেখুন। সময় সুযোগ মতো ব্যাংকের চাকরী ছাড়িয়া দিলেই হইবে।

ইহাদের থেকে সাবধান হউন। এই ফতোয়ার অর্থ হইল,

আপনি আপাতত আপনার মায়ের সাথে জেনাহ করতে থাকেন। একসময় ভালো বউ পাইলে কালেমা পড়ে বিবাহ কইরে ফেইলেন।

অথবা আল্লাহ্‌র ও তার রাসূলের সাথে আপনি যে যুদ্ধ ঘোষনা করিয়াছেন ইহা বহাল থাকুক। সময়মতো যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ভাগিয়া যাইয়েন।

– আসলে এই সকল আলেমদের মগজের ভেতর ইহুদীদের মগজ এমনভাবে বসিয়া গিয়াছে যে ইহুদীদের সেই আদি ও সনাতন সুদী ব্যবস্থাও তাহাদের সামান্য বিচলিত করিতেছে না।

সেই ১ দল

ধরুন, আপনি একজন বস। আপনার একটা গোপন টিম আছে। এ টিমের একজন আরেকজনকে চিনে না। হতে পারে এরকম? হতে পারে। অনেক সংগঠনের কর্মীরা একজন আরেক জনকে চিনে না। বিশেষ করে চরমপন্থি দলসমূহে। এদের সবার পৃথক দায়িত্ব দেওয়া হয়। একজনকে আরেকজনের চেনার কোন প্রয়োজন নেই। বরং চিনলেই বিপদ। কিন্তু সবাইকে কে চিনে? একজন। সেই একজন হল তাদের মূল লিডার। দলের লোকেরা সবাই আবার তাকে চিনে।

যা বলছিলাম, ধরুন আপনি একজন বস। আপনার গ্রুপে দশটা লোক আছে। আপনি তাদের একেকজনকে এক এক জায়গায় পাঠালেন। এক একটা মিশন দিয়ে। দলের সবাই কে কোন জায়গায় আছে তা তারা নিজেরা নিজেরা জানে না। কিন্তু আপনি জানেন।

৭৩ দলের ১ দল যে জান্নাতে যাবে এই ১ দল নিয়ে সবার চিন্তা। সবাই এ দলে ঢুকতে চায়। এ জন্য কেউ তবলিগ জামাতে ঢুকে মনে করে এটাই সেই দল। কেউ চরমোনাইতে ঢুকে মনে করে, ইউরেকা, এখান থেকে জিকিরে জিকিরে জান্নাত। কেউ হেফাজতে ঢুকে মনে এটাই আসল দল। আলেম উলামাদের দল। ভুল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কেউ কোন যায়োনিস্ট কর্তৃক সৃষ্ট মুজাহিদ গ্রুপে ঢুকে মনে করে, এটাই তো সেই দল।

এভাবে সবাই দলের তালাশ করে। সাইনবোর্ডের তালাশ করে। এক এক সাইনবোর্ডের নীচে এক এক গ্রুপ দাঁড়িয়ে যায়।

কিন্তু এমনও তো হতে পারে সেই আসল দলের কোন সাইনবোর্ড নেই। এমনকি দলের কেউ কাউকে চিনেও না। কিন্তু তাদের সবাইকে চিনে তাদের প্রতিপালক। আবার তারাও তাদের প্রতিপালককে চিনে।

এ দলের লোকগুলো নীরবে কুরআন হাদীসের অনুসরণ করে যায়। চুপচাপ রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবা (রাযি) দের আদর্শ ধারণ করে যায়। এরা ইহুদী খ্রিস্টানদের দ্বারা ব্রেন মেনিপুলেটেড নয়। এরা সীরাতুল মুস্তাকীমের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এদের কোন পরাজয় নেই।

MH Focus Mashfiq – এমন একটা সময় আসবে যখন সব বিলুপ্ত হয়ে একটা দল হবে। ৭৩ দলের ৭২ দলকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। শিয়া-সুন্নী-ওয়াহাবী-সালাফি-হানাফি-দেওবন্দী-তাবলিগী-চরমোনাই-ওলিপুরী কোন কিছুই আর থাকবে না।
থাকবে একটা দল, একটা মাত্র দল! সহী দল!! ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহী দল।
তাদের মধ্যে কোন দ্বন্দ থাকবে না।

তবলিগ হ্যাকিং ??

দারুল উলুম দেওবন্দ তবলীগ জামাতের আমীর মাওলানা সা’দ সাহেব কান্ধলভীর বিরুদ্ধে যে ফতোয়া জারি করেছে এর ইস্কেটোলজিকাল সিগনিফিকেন্স আছে। এটা অনেক গুরুতর বিষয়, কিন্তু অনেকেই খুব সাধারণভাবে নিচ্ছে। যেন এক ভাই আরেক ভাইকে শাসন করে দিচ্ছে। অথবা ডাক্তার যেন রোগীর অপারেশন করেছে। প্রথমে ইসলামকে অতি কৌশলে তবলীগ জামাতের ফ্রেমে নিয়ে আসা হয়েছিল। যাতে লোকেরা মনে করা এটাই ইসলামের মডেল। এরপর সম্ভবত ‘তাদের কাছে’ তবলিগ জামাতের প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তাই অনেকদিন ধরেই এ জামাতকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এখন কোন দলকে দুর্বল করতে আক্রমণ করতে হয় মাথায়। কাজেই আমরা দেখতে পেলাম মাওলানা সা’দ সাহেবের উপর আক্রমণ। কিন্তু সেটা এমনভাবে দেখানো লাগবে যেন মাথায় অপারেশন করা হচ্ছে। রোগীর ভালোর জন্য। এদিকে ডাক্তার তো রোগীর অপারেশন করে খুশিতে বাগবাগ, কিন্তু ডাক্তার সাহেব নিজে সুস্থ তো? এর উত্তর জানতে আপনাকে যেতে হবে আজ থেকে ৩০০ বৎসর আগে।

সেই সময় ব্রিটিশরা গোয়েন্দা নিয়োগ করেছিল ২০০ বৎসর পরের লক্ষ্যকে সামনে রেখে। সেই গোয়েন্দারা কুরআন পড়েছে, আলেম হয়েছে, মুসলিমা নারী বিয়ে করেছে। কিন্তু আসলে পেশা গোয়েন্দা। ২০০ বৎসর পর খেলাফত বিলুপ্ত হয়েছে। মুসলিম বিশ্ব অপারেশন করে ছোট ছোট করা হয়েছে, অসংখ্য ফেরকা বের হয়েছে। কুরআনের জিহাদের আয়াতের নতুন নতুন ব্যাখ্যা করেছে, নামায, রোযার মধ্যে ইসলামকে সীমিত করে দিয়েছে। সভ্য মানুষেরা এক বিয়ে করে, দ্বিতীয় বিবাহের জন্য পূর্বের স্ত্রীর অনুমতি নিতে হয় কোমলমতি নারীদের হৃদয়ে এই বীজ ঢুকিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র বলেন, মাদ্রাসা বলেন, দ্বীনী প্রতিষ্ঠান বলেন সবকিছুতে তাদের ‘ছায়া’ আছে। সে অনেক কথা। অনেক সময় রোগীও তারা, ডাক্তারও তারা। তাই কোন কিছু দেখেই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব না। আজ পর্যন্ত কোনদিন শুনলাম না দেওবন্দ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছে, আইএসের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছে, গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, নারীনীতি, পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের অধিকার, মুদ্রানীতি, সোনার পাহাড় তথা পেট্রোডলার, ইসলামিক ব্যাংক, সুদভিত্তিক অর্থনীতি, রোহিঙ্গাদের অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে ফতোয়া জারি করেছে। হঠাৎ মাওলানা সা’দ সাহেবের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা কি আশ্চর্যজনক নয়? ইহুদীদের পরিকল্পনা এমন যে পাহাড় টলে যায়। এটা শেষ যুগ। বড়ই ডেঞ্জারাস যুগ।

তবলিগ বা দেওবন্দ হ্যাকড হয়েছে কিনা তা বুঝতে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবলিগের কারণে মুসলিমবিরোধী শক্তির অনেক ক্ষতি হয়েছে, আবার অনেক লাভও হয়েছে। অনেক মানুষ দ্বীনের ছোঁয়া পেয়ে জীবনকে বদলে নিয়েছে, আবার একটি ‘কাটছাটওয়ালা ইসলাম’ সমাজে পরিচিতি পেয়েছে।

اللَهُمَّ أَرِنَا الاَشْيَاءَ كَمَا هِي‌َ

“আল্লাহুম্মা আরিনাল আশ’ইয়া’আ কামা হিয়া” (হে আল্লাহ আমাদের প্রত্যেক জিনিসের আসল রূপ দেখাও যাতে বাহ্যিক রূপ দেখে প্রতারিত না হই)

।।

পড়ুনঃ 

হ্যাকিং ইন দি পাওয়ার পলিটিক্স

তবলিগ জামাতের নীরবতার একটি সম্ভাব্য উত্তর

ভাই অরণ্য, তোমার প্রশ্নের উত্তরটি টুকে নাও ___

ভাই অরণ্য, তোমার প্রশ্ন ছিল ফিলিস্তীনে মুসলমানদের ওপর ইসরায়েলী হায়েনারা যে নিষ্ঠুর নির্যাতন করছে এবং অতঃপর বিশ্ববিবেক বলে খ্যাত পশ্চিমা ইউরো এমেরিকানরা একচক্ষু নীতি অবলম্বন করেছে, তথাপি তৃতীয় বিশ্বের গরীব মুসলিমরা যাদের আল্লাহ ছাড়া কথা শোনার আর কেউ নেই টুকটাক মিছিল সমাবেশের মাধ্যমে ঐ নিষ্ঠুরতার সাধ্যমত প্রতিবাদ করছে, এমতাবস্থায় তবলিগ জামাত বরাবরের মত এখনও কোন বিবৃতি প্রদান বা প্রতিবাদের অন্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি কেন?

ভাই অরণ্য, তোমার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। মাশা’আল্লাহ তুমি সুন্দর প্রশ্ন করেছ। দেখ পৃথিবী তার ইতিহাসের প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। সারা বিশ্ব থেকে ইহুদীরা ইসরায়েল নামক একটা অবৈধ রাষ্ট্রে জমা হয়েছে। যে পবিত্রভূমি থেকে ইহুদীদের কৃত অপরাধের কারণে আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন তাদের ২০০০ বৎসর পূর্বে বের করে দিয়েছিলেন। পবিত্র কুরআনে কৃত ভবিষ্যতবানী অনুযায়ী আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাদেরকে একটা মিশ্র জাতিরূপে পুনরায় ঐ ভূখন্ডে ফিরিয়ে এনেছেন।

এটা আসলে ইহুদীদের জন্য অশনিসংকেত। কিন্তু ইউরো এমেরিকানদের প্ররোচনা ও একচক্ষু নীতির কারণে তারা তা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে তারা এক আত্মবিধ্বংসী ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। কারণ ঐ পবিত্রভূমিতে থাকার জন্য আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত একমাত্র মানদন্ড হল ঈমান ও নেক য়ামল। এ দুটোর কোনটিই ঐ ভন্ড ইসরায়েল রাষ্ট্রের নেই। তারা ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অপরাধ থেকে ক্ষমা পাওয়ার একমাত্র উপায় বা শেষ সুযোগ ছিল আল্লাহর শেষ রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামকে মেনে নেয়া ও তার অনুসরণ করা। কিন্তু তা করতেও তারা অতীতের মত ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ রব্বুল য়ালামীন কেবলা পরিবর্তন করে দেয়ার মাধ্যমে তাদের ফিরে আসার শেষ পথটি রুদ্ধ করে দেন। ফলে তারা ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম আল্লাহ কর্তৃক শাস্তির কবলে পড়ে। সারা পৃথিবী থেকে আল্লাহ তাদেরকে পবিত্রভূমিতে একত্রিত করেন। ইউরো এমেরিকানদের প্ররোচনায় তারা এই ভয়ঙ্কর ফাঁদে পা দেয়। কিন্তু পবিত্রভূমিতে থাকার জন্য ঈমান ও নেক য়ামল সংশ্লিষ্ট শর্ত তারা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। উপরন্তু রাজনীতিতে শিরক ও অর্থনীতিতে সুদ গ্রহণ করার মাধ্যমে তারা আল্লাহকে এক আত্মবিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে আহবান করে।

বিস্তারিত পড়ুন

স্ত্রীর হাতে খুন

এক বিবাহ করা আর অসংখ্য নারীর সাথে সম্পর্ক রাখা এটা হিন্দুয়ানী রীতি। মুসলমানরা হিন্দু কালচার গ্রহণ করেছে।

দ্বিতীয় বিবাহ করার ক্ষেত্রে প্রথম বউয়ের অনুমতি নিতে হয় এটাও একটা দাজ্জালী ষড়যন্ত্র। প্রয়োজন স্বামীর, অনুমতি নিবে আরেকজনের থেকে, কি অদ্ভুত! মুসলমানদের নারী অধিকারের নামে গুনাহের দিকে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা।

মুসলমানরা ইসলামী চেতনায় জীবন সাজাতে ভয় পায়, কিন্তু মুখে ইসলাম ইসলাম করে। আহ্।

তবলীগ জামাতের এক ব্যক্তি স্ত্রীর হাতে খুন হয়েছেন। ঐ লোকের তিন স্ত্রী ছিল। অনেকেই দোষ দিচ্ছেন বহু বিবাহই এহেন হত্যাকান্ডের মূল কারণ। বিস্তারিত পড়ুন