বিয়ে-শাদী এবং আখেরী জামানাহ

muslim-family

আমি ধীরে ধীরে কথা বলিব, আশা করি ইনশাআল্লাহ আপনারা বুঝিতে পারিবেন (যেহেতু আপনাদের অধিকাংশেরই মাতৃভাষা ইংরেজি নয়)। আমাদের আলোচনার বিষয় বিবাহ এবং আখেরী জামানা । আখেরী জামানা বা শেষ যুগ কি ? আখেরী জামানা হইল নবী পাক (সাঃ) বলিয়াছেন, যখন আমরা বিরাট বিরাট ফিতনাহ অর্থাৎ বিপদ-মুসিবত-পরীক্ষার সম্মুখীন হইব, যেমনটা হযরত আদম (আঃ) এর সময় হইতে কেয়ামত পর্যন্ত মানবজাতি কখনও হয় নাই । আপনি জানিবেন আপনি আখেরী জামানায় আছেন যখন দেখিবেন নারীরা কাপড় পরিধান করে তথাপি তাহাদেরকে নগ্ন মনে হয় । আপনি জানিবেন আপনি আখেরী জামানায় আছেন যখন দেখিবেন নারীরা কাপড় পরিধান করে পুরুষদের মতো এবং পুরুষরা কাপড় পরিধান করে নারীদের ন্যায় । আপনি জানিবেন আপনি আখেরী জামানায় আছেন যখন দেখিবেন জিনা ব্যভিচারের ব্যাপক বৃদ্ধি, অধিকাংশ শিশু হইবে ব্যভিচারের সন্তান হারামজাদা । আপনি জানিবেন যে দাজ্জালের সকল কর্মকান্ড হইবে আখেরী জামানায় । আপনি জানিবেন আপনি শেষ জামানায় আছেন যখন দেখিবেন সুদ লেনদেন সকল স্থানে ছড়াইয়া পড়িয়াছে । আপনি সমগ্র মানবজাতির মধ্যেও একজন মানুষও পাইবেন না যে সুদ খায় না অথবা সুদ দেয় না । ইহাই হইল আখেরী জামানা শেষ যুগ । কাজেই আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় একটিই আর তাহা হইল আখেরী জামানায় বিবাহ ।

আমাদের আলোচনা শুরু করিব ইসরাহ বা মেরাজ নিয়া, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে মহাশূণ্যে উঠাইয়া নেওয়া হইয়াছিল, মহাকাশে জান্নাতে নয় । সেখানে নবী-রাসুল এবং ফেরেশতাগণ তাহাকে স্বাগত জানাইয়াছিলেন । সকলেই ছিলেন আনন্দিত মুখে ছিল হাসি । কিন্তু একজন ফেরেশতার মুখে কোন হাসি ছিল না । হযরত জিবরাঈল (আঃ) বলিলেন, তিনি হইতেছেন মালিক, জাহান্নামের রক্ষনাবেক্ষণকারী ফেরেশতা । এমনকি আপনার শুভাগমনেও তাহার মুখে হাসি নাই । কারণ জাহান্নাম কোন ভালো জায়গা হয় । সুতরাং মহানবী (সাঃ) জিবরাঈলকে জাহান্নামের ভিতরে তাকানোর জন্য তাহার অনুমতি নিতে বলিলেন । তারপর নবী করীম (সাঃ) জাহান্নামের ভিতরে তাকাইয়া দেখিলেন । তিনি অনেকগুলি বিষয় দেখিলেন যাহাদের অবস্থান হইল আখেরী জামানায় । তিনি কিছু মানুষকে দেখিলেন যাহাদের পেট বিরাট বড় । তাহাদের পেটের ভিতরে ছিল বড় বড় সাপ, সত্যি ভয়াবহ দৃশ্য । তাহাদের পেট ছিল স্বচ্ছ বাইরে থেকে সব দেখা যায় । রাসুলে পাক (সাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, ভাই জিবরাঈল, এই লোকগুলি কাহারা ? জিবরাঈল (আঃ) বলিলেন, তাহারা হইল ঐ সকল লোক দুনিয়াতে যাহারা সুদ খাইত । সুতরাং সুদ হইল আখেরী জামানার সবচাইতে বড় আলামত । বিশ্বনবী (সাঃ) বলিয়াছেন, সুদ দারিদ্র অভাব-অনটন সৃষ্টি করে । সুদের হার কম-বেশী হইলে সময় কম-বেশী লাগিতে পারে, কিন্তু দারিদ্র ‍নিঃস্বতা সৃষ্টি হইবেই । তারপর মহানবী (সাঃ) দেখিলেন আরেক ব্যক্তিকে যে একটি টেবিলে বসিয়া আহার করিতেছিল । তাহার সামনে ছিল খাবারের দুইটি বাসন । একটি থালায় ছিল কাচ্চি বিরিয়ানী সুস্বাদু তাজা রুটি । অন্য প্লেটে ছিল ভয়াবহ দুর্গন্ধযুক্ত পঁচা মাংস ভয়াবহ জঘন্য ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার যোগ্য । কিন্তু সেই লোকটি ভালো খাবারগুলির পরিবর্তে পচাঁ নোংরা খাবারগুলো খাইতেছিল । নবীজি (সাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, এই লোকটি কে ? হযরত জীবরাইল (আঃ) বলিলেন, এই ব্যক্তি হইল যাহাকে আল্লাহ স্ত্রী দিয়াছিল যাহা ছিল তাহার জন্য হালাল । কিন্তু সে তাহার স্ত্রীকে রাখিয়া অন্য নারীদের সাথে মেলামেশা করিত যাহারা ছিল তাহার জন্য হারাম । আর জাহান্নামে ইহাই হইল তাদের শাস্তি । আজ রাতে আমি আরেকটি বিষয় উল্লেখ করিতে চাই যাহা নিয়ে আমি অনেক অনুসন্ধান করিয়াছি । যাহার কোন সমাধান আমি খুঁজিয়া পাই নাই আমার সারাজীবনের চিন্তাগবেষনার পরেও আল্লাহর মেহেরবাণীতে যতক্ষন না আমি আখেরী জামানাবিদ্যা অধ্যয়ন করা শুরু করি । নবী করীম (সাঃ) বলিয়াছেন, “আমি জাহান্নামের ভিতরে তাকাইয়া দেখিলাম সেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী” । কিন্তু আপনি যদি ভুল পদ্ধতি অনুসরন করেন তবে এই উপসংহারে পৌছিঁবেন যে, মানব ইতিহাসের সকল যুগের নারীরাই বিপুল সংখ্যায় জাহান্নামে যাইবে । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সমগ্র মানবইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কিন্তু ইহা ভুল । বরং কেবলমাত্র আখেরী জামানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । ইসরাহ মেরাজে দেখা সকল কিছু আখেরী জামানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । সুতরাং আখেরী জামানায় নারীজগতে এমন কিছু ঘটিবে যাহার ফলস্রুতিতে অধিকাংশ নারীরাই পথভ্রষ্ট হইয়া জাহান্নামে যাইবে । আর ইহাই আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু – বিবাহ এবং শেষ যুগ ।

আখেরী জামানার অধিকাংশ মহিলার শেষ আবাসস্থল কেন জাহান্নাম ইহার উত্তর জানিবার জন্য আজকের মজলিশে উপস্থিত ভাইদের চাইতে আমাদের বোনেরা বেশী আগ্রহী হইবেন যাহাতে তাহারা জাহান্নাম থেকে নিজেদের রক্ষা করিতে পারেন । ইহার উত্তর নির্ভর করে আখেরী জামানার মূলনায়ক মাসীহ দাজ্জালের উপর । সে সারা দুনিয়া শাসন করিতে চায় । সে যখন সারা দুনিয়ার দখল করিতে সক্ষম হইবে তখন ঘোষণা করিবে “আমি সেই প্রতিশ্রুত মাসিহ” । কিন্তু সে মাসীহ নয়, মাসীহ হইলেন হযরত ঈসা ইবনে মারিয়াম (আঃ) অর্থথাৎ জেসাস । এই ব্যক্তি সত্যিকারের মাসীহের চরিত্রে ছদ্মবেশী অভিনেতা হইতে চায় এবং এভাবে ইহুদীদের সাথে প্রতারনা করিয়া বোকা বানাইতে চায় । এভাবে দাজ্জাল যাহা করিতে চায় তাহা হইল ইহুদীদের ভুল পথে পরিচালিত করা যাহাতে তাহারা তাহাকে ম্যাসাইয়া হিসাবে মানিয়া নেয় । ইহার বাহিরেও দাজ্জালকে আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে পরীক্ষার মাধ্যম বানিয়েছেন । মহানবী (সাঃ) বলিয়াছেন, “দাজ্জালের সহযোগী হিসাবে সর্বশেষ যেই দলের আবির্ভাব হইবে তাহারা হইল নারী এবং ঈমানদার ব্যক্তি তাহার ঘরে আসিয়া রশি দিয়া তাহার স্ত্রী-কন্যা-বোনকে বাধিয়া রাখিবে দাজ্জালের তীব্র আকর্ষণ থেকে রক্ষা করিবার জন্য” । রশি দিয়া বাধাকে ইন্দোনেশিয়ার ভাষায় কি বলে ? আচ্ছা যাক, আগে জানিয়া পরে আমাকে বলিবেন । এই হাদীসের মানে হইল নারী জাতির উপর দাজ্জালের সাংঘাতিক পরিকল্পিত হামলা হইবে এবং এই হামলা এমন সূক্ষ্ম নিপুণ হইবে যে, সে তাহাদের মগজ ধোলাই করিয়া ফেলিবে । দাজ্জাল মহিলাদেরকে এমনভাবে ব্রেন ওয়াশ করিবে যে আপনি তাহাদেরকে যতই বুঝান না কেন আপনার কথা তাহাদের কানে ঢুকিবে না । ব্যাপারটি হইল অনেকটা দেয়ালে মাথা ঠুকিবার মতো, ঠুকিতে ঠুকিতে আপনার মাথা চুড়মার হইয়া যাইবে কিন্তু দেয়ালের কিছুই হইবে না । ইহাই হইল নারীদের মগজ ধোলাই । আর এই ব্রেন ওয়াশিংয়ের মাধ্যমে দাজ্জাল তাহাদেরকে নারী প্রগতি নারী অধিকার আন্দোলন নারী বিপ্লব ইত্যাদির দিকে নিয়া যাইবে । ফলে নারীরা তখন পুরুষদের মতো পোষাক পরিধান করিবে । মহিলারা কেন পুরুষদের স্যুট কোট জেকেট টাই ইত্যাদি পরিধান করিবে ? কারণ দাজ্জাল চায় নারীরা সমাজে পুরুষদের ভূমিকা পালন করুক । দাজ্জাল তাহাদেরকে পেশাজীবী নারী হওয়ার জন্য, কর্মজীবী নারী হওয়ার জন্য প্ররোচিত করিতে থাকে । তাছাড়া আল্লাহ তো তাহাদেরকে বিদ্যা, বুদ্ধি, যোগ্যতা দিয়াছেন । আপনার মা তো একজন নারী, আর আপনি জানেন তিনি কতো বুদ্ধিমতী । কাজেই নারীদের বুদ্ধিশুদ্ধি পুরুষদের চাইতে কম, এই জাতীয় ফালতু কথা বলার অভ্যাস ছাড়েন । সুতরাং দাজ্জাল বর্তমানে নারীদেরকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আরো ‘দায়িত্ব’ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করিবে ।

কিন্তু এজন্য তাহাকে স্ত্রী হিসাবে, মা হিসাবে তাহার ভূমিকা অনেকটা কমাইয়া দিতে হইবে । প্রথম কথা হইল আপনি একজন কর্মজীবী নারী হইয়া একই সাথে যশোরে আপনার দাদী যাহা করিতেন তাহা করিতে সক্ষম হইবেন না । তাহার ছিল বারটি সন্তান, সোবহানাল্লাহ । কিন্তু আপনার মতো একজন পেশাজীবী নারীর পক্ষে তো বারটি সন্তান লালন-পালন করা সম্ভব নয়, বিরাট ঝামেলার ব্যাপার । কাজেই আল্লাহ কোরআনে বলেন, আল্লাহ আপনাদের জন্য যতটি সন্তান ভালো মনে নির্ধারন করিয়া রাখিয়াছেন তাহার বদলে এখন আপনারা নিজেরাই নিজেদের জন্য যতটি ভালো মনে করিয়াছেন নিয়াছেন । সুতরাং আপনাদের কতটি সন্তান থাকা উত্তম হইবে তাহা আল্লাহ নির্ধারন করিবেন, তাহাই আল্লাহ কোরআনে বলিয়াছেন । “তোমরা স্ত্রীদের নিকট গমন করো এবং কামনা করো আল্লাহ যাহা (সন্তান) তোমাদের জন্য লিখিয়া রাখিয়াছেন । আল কোরআন।” কিন্তু এখন দাজ্জালের যুগে একটি নতুন বিষয় চালূ হইয়াছে যাহাকে বলা হয় “দ্বায়িত্বশীল পিতামাতা” । কাজেই এখন আপনিই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেছেন । আপনি এবং আপনার স্বামী মিলিয়া সিদ্ধান্ত নিতেছেন কতটি সন্তান নিবেন এবং মাঝখানে কত বছর বিরতি রাখিবেন । আর যখনই আপনি বিরতি দিলেন, কারণ আমি একজন কর্মজীবি নারী, তখনই আপনি শিরক করিলেন । খেয়াল করিবেন “শিরক্” শব্দটি উচ্চারণ করিলাম, কেননা আল্লাহ এভাবেই শব্দটি ব্যবহার করিয়াছেন । আপনি যদি অন্যভাবে ইহা উচ্চারণ করেন তবে আপনি কোরআনকে অপমান করিলেন, মনে রাখিবেন । সংসারের বদলে দাজ্জাল তাহাকে অফিসে পাঠাইয়া দিয়াছে, ফলস্রুতিতে তিনি হইয়া গিয়াছেন খন্ডকালীন স্ত্রী এবং খন্ডকালীন মা । অফিসে তাহার চারপাশে থাকে অসংখ্য পুরুষ আর তিনি একজন সুন্দরী মহিলা । ফলাফল হিসাবে কি ঘটিয়া থাকে আপনারা জানেন, বেশীরভাগ দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙ্গিয়া যাইতেছে । কাজেই নারীমুক্তি আন্দোলনের কারণে সমাজে তালাকের সংখ্যা বাড়িয়া গিয়াছে, বিবাহ বন্ধন ভাঙ্গিয়া যাইতেছে । এই ধরনের ঘটনা কি মালয়েশিয়াতেও ঘটিতেছে ? দাজ্জাল এভাবে মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে তাহাকে ঘরের বদলে বাইরে দ্বায়িত্ব পালনের দিকে নিয়া যাইতেছে । হযরত খাদিজা (রাঃ)ও একজন ব্যবসায়ী নারী ছিলেন, এই জাতীয় ফালতু কথা আমাকে বলিতে আসিবেন না । আমি তাহা জানি, আপনাকে বলিতে হইবে না । আমরা অন্য বিষয়ে আলোচনা করিতেছি । দাজ্জাল কেবল নারী বিপ্লব সাধন করিতে চায় না ; সাথে সাথে যৌন বিপ্লবও সফল করিতে চায় । কাজেই যখন নারীরা এমনভাবে পোষাক পরিধান করে যাহাতে তাহাদেরকে নগ্নই মনে হয়, তাহা পুরুষদেরকে সুড়সুড়ি দিতে থাকে বিশেষতঃ যুবকদেরকে । ফলে সত্যিকারের ভালবাসা কমিয়া যায় এবং তাহার বদলে বৃদ্ধি পায় যাহাকে বলা হয় “লালসা” । আর ইহাও আরেকটি কারণ যাহাতে বিবাহ-বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাইতেছে । কাজেই আখেরী জামানায় এই দাজ্জালের যুগের একটি লক্ষণ হইল আপনি দেখিতে পাইবেন বিবাহ বন্ধন ভাঙ্গিয়া যাইতেছে, বিবাহ-বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাইতেছে ।

একজন নারী প্রথম বিবাহ করিলেন তাহা ভাঙ্গিয়া গেলো, তারপর তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করিলেন তাহাও বিচ্ছেদ হইয়া গেলো ; তারপর তিনি বলিলেন “নাহ, আর বিবাহ করিব না” । সুতরাং বিবাহ-বিচ্ছেদ যখন বৃদ্ধি পাইতে থাকিবে, মনোযোগ দিয়া শুনন, নারীদের একটি বিরাট সংখ্যা তখন নিঃসঙ্গ হইয়া যাইবে, পরিবারহীন । আমি ইতিমধ্যে দুইবার বিবাহ করিয়াছি, কাজেই আর নয় বিয়ে যতক্ষন না সত্যি সত্যি সকল পুরুষদের মধ্যে সেরা পুরুষের সন্ধ্যান না পাইতেছি । এসব আবর্জনা টাইপের পুরুষদের সাথে আর জীবন কাটাইব না । এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হইলে মানবজাতিকে তাহার কি মাশুল দিতে হইবে যখন অগণিত নারীরা বিবাহ-বহির্ভূত থাকিবে ? যাহারা বিবাহ করিতে ইচ্ছুক কিন্তু উপযুক্ত স্বামী পাইবে না । এখানেই আমাদের বক্তৃতা বিস্ময়কর মোড় নিতে যাইতেছে । আমি এখন পবিত্র কোরআনের সুরা নিছার প্রতি দৃষ্টি দিতে চাই যেখানে আল্লাহ সর্বপ্রথম বহুবিবাহের কথা বলিয়াছেন । বদর যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছে এবং আমাদের কিছু সংখ্যক পুরুষ তাহাতে শহীদ হইয়াছেন, ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছে এবং তাহাতে আমাদের বিরাট সংখ্যক পুরুষ শহীদ হইয়াছেন । ফলে বিরাট সংখ্যক নারী বিধবা হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য মেয়েরা ইয়াতীম হইয়া গেলেন । সুতরাং আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা নির্দেশ পাঠিয়ে দিলেন, “তোমরা যদি আশংকা কর যে জাতি হিসাবে ইয়াতীম নারীদের প্রতি দ্বায়িত্ব পালন করিতে পারিবে না তবে তাহাদের মধ্য হইতে দুই, তিন অথবা চার জনকে বিবাহ করিয়া নাও” । আল্লাহ এখানে সেই সব ইয়াতীম বালিকাদের কথা বলিতেছেন যাহারা বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ নারীতে পরিণত হইয়াছে । যাহাদের মাসিক ঋতুস্রাব শুরু হইয়া গিয়াছে । বর্তমানে সে গর্ভধারনের, মাতৃত্বে অধিষ্টিত হইবার যোগ্যতা অর্জন করিয়াছে । কাজেই আল্লাহ বলিতেছেন এই অনাথ নারীদের কথা, যাহারা প্রাপ্ত বয়ষ্কা হইয়াছে, তাহাদেরকে বিবাহ কর সর্বোচ্চ চারজনকে । ইতিপূর্বে আল্লাহ যত শরীয়্যাহ (জীবনবিধান) অবতীর্ন করিয়াছিলেন তাহাতে কোন সীমা নির্ধারন করা ছিল না, একজন পুরুষ তাহার যত ইচ্ছা ততজন স্ত্রী গ্রহন করিতে পারিতেন । কিন্তু এই শারীয়াহ হইল সর্বশেষ শরীয়াহ এবং ইহাতে স্ত্রীদের সংখ্যা নির্ধারন করিয়া দেওয়া হইয়াছে সর্বোচ্চ চারটি ।

এখন ইমরান হোসেন তাহার বক্তৃতা বন্ধ করিতে চাহেন এবং কুয়ালালামপুরের এই মসজিদে উপস্থিত শ্রোতাদেরকে একটি প্রশ্ন করিতে চান । আল্লাহ তো বিধান দিয়াছেন পুরুষদেরকে চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার । পৃথিবীতে নারী-পুরুষের সংখ্যা কত হইবে তাহা তো আল্লাহ নির্ধারন করিয়া থাকেন । আল্লাহ যতক্ষন সৃষ্টি না করেন ততক্ষন পৃথিবীতে কোন শিশু জন্মগ্রহন করে না । সুতরাং পৃথিবীর জনসংখ্যা আল্লাহ নির্ধারন করেন, জাতিসংঘের সেই ক্ষমতা নাই । কাজেই দুনিয়াতে কতজন নারী আর কতজন পুরুষ সৃষ্টি হইবে তাহাও নির্ধারন করেন আল্লাহ । এই ক্ষমতা এমনকি সেই লোকেরও নাই কি যেন নাম এখন, ওহ হ্যাঁ বারাক হোসেন ওবামা । সুতরাং ইহা আল্লাহ স্থির করিয়া থাকেন পৃথিবীতে কতজন নারী আর কতজন পুরুষ সৃষ্টি হইবে । আমি এখন আপনাদেরকে জিজ্ঞাসা করিতে চাই, আল্লাহ যদি পুরুষদেরকে চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার বিধান দিয়া থাকেন তাহার ফলাফল হইল আল্লাহ পুরুষদের চাইতে নারীদেরকে অনেক অনেক বেশী সংখ্যায় সৃষ্টি করেন । কাজেই কোরআনের এই আয়াতের বাস্তবতা হইল আল্লাহকে অবশ্যই অনেক বেশী সংখ্যায় নারীদেরকে সৃষ্টি করিতে হইবে । অন্যথায় পুরুষদেরকে দুই তিন চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসিত না । দীর্ঘদিন যাবত দাজ্জাল নারীমুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে মগজ ধোলাই করিয়া আসিতেছে, নারী-পুরুষের সম্মানজনক সম্পর্ক হইল একজন পুরুষের মাত্র একজন স্ত্রী থাকিবে, ইহাই নৈতিকভাবে গ্রহনযোগ্য । দাজ্জাল যুক্তি দেখাইয়া আসিতেছে যে নীতিবান পুরুষের মাত্র একজন বিবি থাকিবে কিন্তু যাহার একাধিক স্ত্রী আছে তাহার নৈতিক মান নিম্নশ্রেণীর নিম্নমানের । ফলে এখন যাহার একজন স্ত্রী আছে সে ভালো পুরুষ আর যাহার দুই-তিন-চারজন স্ত্রী আছে তাহার মানসিকতায় কোন সমস্যা আছে । এখন আমার নিজেকে সংযত করিতে হইবে অন্যথায় আমার বেগম সাহেবা পরবর্তীতে আমার উপর রাগিয়া যাইবেন । “কেন তুমি রাগিয়া গেলে ? কেন তুমি গলার আওয়াজ উচুঁ করিলে ?” কারণ আমি একজন আদম সন্তান, আমি খুবই হতাশ হইয়া পড়িয়াছি, আমার হৃদয়টি তো কাঠের তৈরী নয় । তো দাজ্জাল এইভাবে মানবজাতিকে ব্রেনওয়াশিং (গাড়ি নাম্বার ৮৩৮০ আপনার স্ত্রী গাড়িতে অপেক্ষা করিতেছেন, আপনি দ্রুত যোগাযোগ করুন অন্যথায় তিনি গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে যাবেন । সারা দুনিয়াবাসী আপনাদের কথা এখন শুনে গেলো….হা-হা-হা-) এর মাধ্যমে বিশ্বাস করাইয়াছে যে এক পুরুষের এক স্ত্রী হইল গ্রহনযোগ্য আদর্শ । ফলে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এখন একটির বেশী বিবাহ করা আইনতঃ নিষিদ্ধ । দুইজন স্ত্রী থাকিতে পারিবেন না কিন্তু মনিকা লিউনষ্কি থাকিতে পারিবে যত ইচ্ছা ।

মালয়েশিয়ার জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ, মালয়েশিয়াতে এখনও সুলতান আছেন । যেহেতু সুলতানের একাধিক স্ত্রী আছে কাজেই আপনারাও স্ত্রী রাখিতে পারিবেন । মালয়েশিয়াতে একাধিক বিবাহ নিষিদ্ধ হইবে না, আইনতঃ আপনারা এখনও চারটি বিবাহ করিতে পারেন । আলহামদুলিল্লাহ , মালয়েশিয়ার জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ । অবশ্য আমি জানি না কতজন মালয়েশিয়ান পুরুষের চারজন স্ত্রী আছে, আমি কথা বলিতেছি বাকী দুনিয়ার কথা । এখন আমার প্রশ্ন হইল আল্লাহ যদি পুরুষদের চাইতে অনেক বেশী সংখ্যায় নারীদেরকে সৃষ্টি করিয়া থাকেন, কারণ পুরুষদেরকে তিনি চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিবার অনুমতি দিয়াছেন, তারপর তুমি আসিয়াছো বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করিয়া তোমার নতুন আইন নিয়া, পৃথিবীর অধিকাংশ পুরুষই এখন একটি বিবাহ করে, তাহার ফলাফলটি কি হইবে তাহা কি ভাবিয়া দেখিয়াছো ? তুমি কি ভাবিয়া দেখিয়াছো তোমার নির্বুদ্ধিতা, তোমার চরম বোকামীর ফলাফলটা কি হইবে ? তুমি কোরআন নিষিদ্ধ করিয়া, ইসলাম নিষিদ্ধ করিয়া দাজ্জালের অনুসরন করিয়াছো । একটা গাধার সমান বুদ্ধিশুদ্ধিও তো আমাদের নাই, একটা গাধা সমান । ইহার ফলাফল হইল বিপুল সংখ্যক নারীরা একজন স্বামী লাভ করিবে না । কারণ আল্লাহ তো পুরুষদের চাইতে অনেক বেশী সংখ্যায় নারীদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন । ইহা কি একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নয় ? এমন পরিস্থিতি তো আল্লাহ চাহেন নাই । আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা আমাদেরকে এই সমস্যা ‍উপহার দিয়াছে ।

দাজ্জাল অবশ্য আপনাদেরকে নানা রকম তথ্যউপাত্ত দিয়া বলিবে যে, না না, নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় নাই, পুরুষদের সমানই আছে । দাজ্জালের এসব তথ্য উপাত্ত নিয়া ‍আমার কাছে আসিবেন না । আল্লাহ সকল যুগেই নারীদেরকে পুরুষদের চাইতে বেশী সংখ্যায় সৃষ্টি করেন । বর্তমানে দাজ্জালের আবিষ্কৃত মোবাইল রেডিয়েশান, ওয়াই-ফাই রেডিয়েশান, জেনেটিক ফুড অর্থাৎ মেগাসাইজের ফল মূল তরকারি ইত্যাদি অনেক কারণে পুরুষদের ‍শুক্রাণু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে । ফলে ছেলে শিশুদের জন্মহার কমিয়া যাইতেছে এবং মেয়ে শিশুদের জন্মহার বৃদ্ধি পাইতেছে । মালয়েশিয়ায় এই সম্পর্কিত একটি লেকচারের পরে একজন মোবাইল ইঞ্জিনিয়ার আমাকে বলিয়াছিলেন যে, হে শায়খ ! আমরা আপনার কথার সত্যতার প্রমাণ পাইয়াছি । আমাদের মোবাইল টাওয়ারে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোতে জন্ম নেওয়া সকল শিশুই কন্যা শিশু । নবী করীম (সাঃ) এর ভবিষ্যতবাণী করা মালহামার অর্থাৎ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পৃথিবীতে নারীদের সংখ্যা কি পরিমাণে বৃদ্ধি পাইবে সেই সম্পর্কেও মহানবী সাঃ বলিয়া গিয়াছেন । তিনি বলিয়াছেন, পঞ্চাশজন নারীকে দেখাশুনা করিতে হইবে মাত্র একজন পুরুষকে । আর দাজ্জাল চায় মুসলমানদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা অনেক অনেক বৃদ্ধি পাক এবং সমাজ জিনা ব্যভিচারে সয়লাব হইয়া যাক । মানবজাতি বর্তমানে অভাব-অনটন দারিদ্র্যে জর্জড়িত । এজন্য খুব কম পুরুষের পক্ষেই দুই তিন কিংবা চারজন স্ত্রীর ভরনপোষণ করা সম্ভব । ভবিষ্যতে এই দারিদ্র্য আরো প্রকট আকার ধারন করিবে । কেননা এভাবেই সম্ভব ইজরাঈলের পক্ষে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের অর্থাৎ মালহামার পরে পৃথিবীর যেই অংশটুকু অক্ষত থাকিবে তাহাকে শাসন করা । সামনে আসিতেছে অর্থনৈতিক পতন অর্থনৈতিক মন্দা । কাগজের মুদ্রা উঠিয়া যাইবে । অভাব-অনটন-দারিদ্র আরো প্রকট আকার ধারন করিবে । তখন খুব কম পুরুষের পক্ষেই সম্ভব হইবে চারজন স্ত্রীর ভরনপোষন করা । তাহলে সেই বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত নারীদের কি উপায় হইবে ? তখন আপনারা কি করিবেন ? এখনই আপনার স্ত্রী ঘোষণা করিতেছে যে, বিশ্বাস না হইলে বাসায় গিয়া আপনার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখেন, আমার স্বামী আরেকটি বিবাহ করিবে তাহা আমি মানিয়া নিব না । নাহ, কিছুতেই না । আমি তাহার নিকট থেকে তালাক নিয়া নিব, তবুও তাহার দুই স্ত্রী মানিতে পারি না, মানিয়া নিব না । অধিকাংশ নারীদেরই চিন্তাভাবনা বর্তমানে এই রকম । হ্যাঁ, বোন আপনি যে-সব কারণে জাহান্নামে যাইবেন তাহার মধ্যে ইহাও একটি কারণ । হ্যাঁ, বোন আপনি যে-সব কারণে জাহান্নামে যাইবেন তাহার মধ্যে ইহাও একটি কারণ । আজ রাতে আমি একজন ইসলামী বিশেষজ্ঞ আপনাকে বলিতেছি, আপনি জাহান্নামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন । আমাদেরকে মনে রাখিতে হইবে যে, একজন স্বামী লাভ করা প্রত্যেক নারীর অধিকার । কিন্তু একজন স্ত্রী লাভ করা প্রত্যেক পুরুষের অধিকার নহে । বরং প্রত্যেক নারীর একজন স্বামী লাভের অধিকার রক্ষার জন্য একজন পুরুষকে প্রয়োজনে দুই-তিন-চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিতে প্রস্তুত থাকিতে হইবে । অন্যথায় আপনাকে এজন্য আল্লাহর কাছে একদিন জবাবদিহি করিবার জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে । দাজ্জালের মগজ ধোলাইয়ের কারণে নারীদের মতো এখন পুরুষরাও বিশ্বাস করিতে শুরু করিয়াছে যে, একটির বেশী বিবাহ করা কোনভাবেই তাহাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে না । (অসমাপ্ত)

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

Marriage and nikah in akhiruzzaman By Sheikh Imran Hosein লেকচারের অনুবাদ

নারী স্বাধীনতা

নারী স্বাধীনতা মানে তালাক প্রাপ্তা ও বিধবা নারীর বিয়ে করার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে বালেগা হওয়ার সাথে সাথেই বিয়ে করার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে নারীদের মসজিদে গিয়ে নামায আদায়ের স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে মাহরাম পুরুষ নিয়ে চলার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে হিজাব করার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে পুরুষের দ্বিতীয়া স্ত্রী হয়েও সংসারে সবার আপনজন হওয়ার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি, ইনজেকশনকে লাত্থি মারার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে শয়তানী কপার টি ও গর্ভপাতকে নাউযুবিল্লাহ বলার স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে চাকরী বা লেখাপড়া করার জন্য পরপুরুষকে মুখ না দেখানোর স্বাধীনতা।

নারী স্বাধীনতা মানে রান্না করার আগে নিজের নামায পড়ার স্বাধীনতা।

পরিচয়

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্‌ বলিয়াছেন মানুষকে পিতৃপরিচয়ে ডাকতে। “তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত ……।” [সুরা আল-আহযাব, ৫] মহানবী হযরত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের নামের শেষে পিতৃপরিচয় ছাড়া যারা অন্য পরিচয় ব্যবহার করে তাদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর কথা বলিয়াছেন। হযরত সাঈদ ইবনে যুবায়ের হযরত ইবনে আব্বাস (রা)কে বলতে শুনেছেন যে, রসূল (স) বলেছেন: ‘যে কেউ নিজেকে বাবার নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকবে তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতা ও সমগ্র মানুষের লা‘নত বর্ষিত হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ) ইমাম বুখারীও (র) এই হাদীসটি হযরত সা‘দ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

হযরত সা‘দ ও হযরত আবু বাকরা (রা) হতে বর্ণিত, তাঁরা প্রত্যেকে বলেছেন: আমার দু’ কান শুনেছে এবং আমার অন্তর মুহাম্মদ (স) এর এ কথা সংরক্ষণ করেছে যে, মহানবী (স) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্যের সাথে সংযুক্ত করে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে।’ (ইবনে মাজাহ)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (স) বলেছেন: যে কেউ নিজের বাবা ব্যতীত অন্যের পরিচয়ে পরিচয় দেয় সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না, যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ সত্তর বছর হাঁটার রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে। (মুসনাদে আহমাদ)

কিন্তু দাজ্জাল আপনাকে ভিন্ন শিক্ষা দিবে। এজন্য দাজ্জাল তার নারীবাহিনীকে নিযুক্ত করিয়াছে। এই নারীবাহিনীর অগ্রভাগে আছে নারীবাদীরা। ইহাদের একজন হইল বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। যিনি মনে হয় বাংলায় নারীদের নামের সাথে স্বামীর নাম যুক্ত করার কুপ্রথা সর্বপ্রথম চালু করিয়াছেন।

উনারা বুঝিয়াছিলেন, এইভাবে নারীর নামের শেষে স্বামীর নাম লাগাইয়া দিতে পারিলে প্রথমত কুরআন ও হাদীসের বিরোধিতা করা হইবে। আর দ্বিতীয়ত নারী তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা হইলে তার পুনরায় বিবাহ হইবার পথ কঠিন করিয়া দেওয়া যাইবে। এক নাম কয়বার পরিবর্তন করা যায়। বাস্তবেও তাহাই হইয়াছে। আজকের আধুনিক সমাজে তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা নারীর বিবাহ কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। ইহাই হইল সামাজিক ভারসাম্যহীনতা। ইহাই দাজ্জালের পরিকল্পনা।

মহানবী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের পুণ্যবতী স্ত্রী-গণও তাহাদের নামের শেষে মুহাম্মদ যুক্ত করিয়া গর্বিত হোন নাই। বরং তাহারা তাহাদের পিতৃপরিচয়ই যথেষ্ট মনে করিয়াছেন। যেমন আয়েশা সিদ্দিকা রাযি। নাম থেকেই বুঝা যায় তিনি আবু বকর সিদ্দিকের (রা) মেয়ে। কিন্তু আজকের আধুনিক নারীগণ নিজ নামের সাথে স্বামীর নাম যুক্ত করিয়া ইহুদি খ্রিস্টানদের অনুসরণ করিতেছে।

লা’নত পড়ুক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রতি। হাদীসের ভাষ্যমতে। নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম যাহা বলিয়াছেন তাহার চেয়ে অন্য কিছু আর কি হইতে পারে?

যুগের নারী

প্রথম কথা হইল আপনি একজন কর্মজীবী নারী হইয়া একই সাথে যশোরে আপনার দাদী যাহা করিতেন তাহা করিতে সক্ষম হইবেন না । তাহার ছিল বারটি সন্তান, সোবহানাল্লাহ । কিন্তু আপনার মতো একজন পেশাজীবি নারীর পক্ষে তো বারটি সন্তান লালন-পালন করা সম্ভব নয়, বিরাট ঝামেলার ব্যাপার । কাজেই আল্লাহ কোরআনে বলেন, আল্লাহ আপনাদের জন্য যতটি সন্তান ভালো মনে নির্ধারন করিয়া রাখিয়াছেন তাহার বদলে এখন আপনারা নিজেরাই নিজেদের জন্য যতটি ভালো মনে করিয়াছেন নিয়াছেন । সুতরাং আপনাদের কতটি সন্তান থাকা উত্তম হইবে তাহা আল্লাহ নির্ধারন করিবেন, তাহাই আল্লাহ কোরআনে বলিয়াছেন । “তোমরা স্ত্রীদের নিকট গমন করো এবং কামনা করো আল্লাহ যাহা (সন্তান) তোমাদের জন্য লিখিয়া রাখিয়াছেন । আল কোরআন ।” কিন্তু এখন দাজ্জালের যুগে একটি নতুন বিষয় চালূ হইয়াছে যাহাকে বলা হয় “দ্বায়িত্বশীল পিতামাতা” । কাজেই এখন আপনিই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেছেন । আপনি এবং আপনার স্বামী মিলিয়া সিদ্ধান্ত নিতেছেন কতটি সন্তান নিবেন এবং মাঝখানে কত বছর বিরতি রাখিবেন । আর যখনই আপনি বিরতি দিলেন, কারণ আমি একজন কর্মজীবি নারী, তখনই আপনি শিরক করিলেন । খেয়াল করিবেন “শিরক্” শব্দটি উচ্চারণ করিলাম, কেননা আল্লাহ এভাবেই শব্দটি ব্যবহার করিয়াছেন । আপনি যদি অন্যভাবে ইহা উচ্চারণ করেন তবে আপনি কোরআনকে অপমান করিলেন, মনে রাখিবেন । সংসারের বদলে দাজ্জাল তাহাকে অফিসে পাঠাইয়া দিয়াছে, ফলস্রুতিতে তিনি হইয়া গিয়াছেন খন্ডকালীন স্ত্রী এবং খন্ডকালীন মা । অফিসে তাহার চারপাশে থাকে অসংখ্য পুরুষ আর তিনি একজন সুন্দরী মহিলা । ফলাফল হিসাবে কি ঘটিয়া থাকে আপনারা জানেন, বেশীরভাগ দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙ্গিয়া যাইতেছে । কাজেই নারীমুক্তি আন্দোলনের কারণে সমাজে তালাকের সংখ্যা বাড়িয়া গিয়াছে, বিবাহ বন্ধন ভাঙ্গিয়া যাইতেছে । এই ধরনের ঘটনা কি মালয়েশিয়াতেও ঘটিতেছে ? দাজ্জাল এভাবে মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে তাহাকে ঘরের বদলে বাইরে দ্বায়িত্ব পালনের দিকে নিয়া যাইতেছে । হযরত খাদিজা (রাঃ)ও একজন ব্যবসায়ী নারী ছিলেন, এই জাতীয় ফালতু কথা আমাকে বলিতে আসিবেন না । আমি তাহা জানি, আপনাকে বলিতে হইবে না । আমরা অন্য বিষয়ে আলোচনা করিতেছি । দাজ্জাল কেবল নারী বিপ্লব সাধন করিতে চায় না ; সাথে সাথে যৌন বিপ্লবও সফল করিতে চায় । কাজেই যখন নারীরা এমনভাবে পোষাক পরিধান করে যাহাতে তাহাদেরকে নগ্নই মনে হয়, তাহা পুরুষদেরকে সুড়সুড়ি দিতে থাকে বিশেষতঃ যুবকদেরকে । ফলে সত্যিকারের ভালবাসা কমিয়া যায় এবং তাহার বদলে বৃদ্ধি পায় যাহাকে বলা হয় “লালসা” । আর ইহাও আরেকটি কারণ যাহাতে বিবাহ-বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাইতেছে । কাজেই আখেরী জামানায় এই দাজ্জালের যুগের একটি লক্ষণ হইল আপনি দেখিতে পাইবেন বিবাহ বন্ধন ভাঙ্গিয়া যাইতেছে, বিবাহ-বিচ্ছেদ বৃদ্ধি পাইতেছে ।

মূল – আল্লামা ইমরান নজর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

إنصاف / ন্যায় / Equity

অনেকে মনে করতে পারেন, আমি বহু বিবাহের কথা বলি এজন্য আমি নারী বিদ্বেষী। আসলে আমি নারী বিদ্বেষী নই। আমার মা আছে, বোন আছে, স্ত্রী আছে, কন্যাও আছে। আমার মা এখনও একটা ধমক দিলে ছোটবেলার মতোই কেঁপে উঠি। আমার স্ত্রী এক জিনিস আনতে তিনবার বাজারে পাঠালেও ভোতামুখে তিনবারই বাজারে গিয়ে জিনিস বদলে আনি। নারীরাই আমার পরিবারের বেশীর ভাগ জায়গা দখল করে আছে। কিন্তু তারপরও আমি বহু বিবাহের কথা বলি। ইসলাম আমাকে বহু বিবাহের কথা বলার অনুমতি দেয়। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম ইসলামের কথা শুনতে চায় না। তারা নারী অধিকারের কথা শুনতে চায়। কিন্তু তারা শুধু একজন নারীর অধিকারের কথা বলতে গিয়ে তিনজন নারীর অধিকার নষ্ট করিয়া বসে। তারা শুধু প্রথম স্ত্রীর আবেগকে দেখে। কিন্তু দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্ত্রীর আবেগকে দেখে না। আমি বহু বিবাহের কথা বলছি কারণ হয়তো আমার কন্যা কারো দ্বিতীয়া স্ত্রী হতে পারে, আমার বোন কারো তৃতীয়া স্ত্রী হতে পারে। আমি যদি এখন মারা যাই তাহলে বর্তমান রীতি অনুযায়ী আমার স্ত্রীকে হয়তো দীর্ঘজীবন একটা কষ্টকর জীবনের বোঝা বহন করতে হবে। কিন্তু ইসলামিক রীতি অনুযায়ী চললে আমার মৃত্যুর অল্প কয়েকদিন পরেই সে পুনরায় একটা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন লাভ করতে পারত। আমি আমার স্ত্রীর সেই সুস্থ স্বাভাবিক জীবন লাভের অধিকারকে সম্মান করি। তাই তাহারও উচিৎ আরেকজন মেয়ের সুন্দর জীবনের অধিকারকে সম্মান করা। কিন্তু বর্তমান মহিলাদের প্রায় ৯৯ অংশ ২৫ ভাগ নারী অধিকারের নামে ৭৫ ভাগ নারীদের অধিকার নষ্ট করিয়া চলিয়াছে।

দ্বিতীয় বিয়ে বিষয়ে কিছু প্রশ্নোত্তর

Time for Change

Time for Change Q&A

(১)

– ছেলেদের একাধিক বিয়ের পক্ষে কথা বলে ধর্মের বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বলে আপনি কাদের উস্কে দিচ্ছেন?

  • একাধিক বিয়ের পক্ষে স্বয়ং কুর’আনে আয়াত আছে, তাহলে আমি পক্ষে বলব না কেন? এটি ধর্মের বিতর্কিত বিষয়?

– আপনি একাধিক বিয়ের পক্ষে কথা বলছেন। একটা ব্যাপার আমাদের মনে রাখা দরকার আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে আরব দেশে যে সব রীতি নীতি ছিল তা সারা পৃথিবীর জন্য কোনদিন ই প্রযোজ্য না। আজ এই আধুনিক যুগে একাধিক বউ নিয়ে ঘর করা শুধুমাত্র অসভ্যতাই নায় চরম বিকৃত মানসিকতার পরিচয় বহন করে। ১৪০০ বছর আগে তো মানুষের দাস দাসি দের সাথে সেক্স করার অধিকারও ছিল। তো এখন এটাও প্রচার করেন যে চলেন আমরা সবাই বাসার কাজের বুয়ার সাথে সেক্স করি। ভাই মাথা খাটায়ে চিন্তা করেন। আল্লাহ মাথা দিছে ভাল কিছু চিন্তা করার মানুষের ভাল করার। আরবদের মত বিকৃত চিন্তা করার জন্য না। ধন্যবাদ।

  • আপনার ইমানের অবস্থা সাংঘাতিক। তাওবা করুন। ”১৪০০ বছর আগে আরব দেশে যে সব রীতি নীতি ছিল তা সারা পৃথিবীর জন্য কোনদিন ই প্রযোজ্য না।” আপনি এখানে কুর’আনের বিধানের কথা বলছেন যে, সেটা ১৪০০ বছরে আগের এবং এই যুগে তা প্রযোজ্য নয়। আপনি ইমানের সংজ্ঞাকে আবারো পড়ুন বুঝুন।ইসলামের কোন ফরজিয়াত বা কুর’আনের কোন আদেশ বা আয়াহ বা রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন সুন্নাহ নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা, বা মনে এমন বিশ্বাস রাখা যে, এই সব তো সেকেলে যুগের নীতি, এই আধুনিক যুগে এটা চলবে না ইত্যাদি সব কিছুই কুফুরি। এগুলো যদি জেনে বুঝে বলা হয় তবে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে, তাকে আবারো নেক মনে তাওবা করে মুসলমান হতে হবে অন্যথায় মুরতাদ হয়ে যাবে।ঈমান কোন ফিক্সড এসেট নয়। যে মুসলিম হয়ে জন্মেছি মানে মুসলিমই থাকবো। বরং এটা হল ভেরিয়েবল। ঈমানের পরিমান সব সময় পরিবর্তন হয় এমনকি শূন্য হয়ে কাফির হয়ে যেতেও পারে।আবারো বলছি আপনি কুর’আনের বিধানের বিরোধিতা করছে অদ্ভুত সব যুক্তি দিয়ে। আপনি কালেমা পাঠ করুন। জেনে বুঝে কুফুরি করলে কাফির অর্থাৎ অমুসলিম হয়ে যাবেন।

– ভাই আপনি যে বিষয় নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন তার বাইরেও কুরআন ও হাদিসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে সেগুলো নিয়ে কথা বলেন। বর্তমান যুগে বহু বিবাহ নিয়ে অযথা ধর্মের বয়ান দিলেও আপনি আপনার পোস্ট এর গুরুত্ব পাবেন না।

  • আপনার কাছে এখন এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাওবা করে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা। প্রয়োজন নেই আমার পোস্টের গুরুত্ব পাওয়া।বোন আপনি পোস্টটি ভালো করে পড়ুন একাধিকবার, বহু বিবাহকে প্রমোট নয় এটা মূলত বহু বিবাহকে আল্লাহর বিধান হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য দিলাম। যদি কেউ না মেনে মন থেকে যুক্তি দিয়ে অস্বীকার করে তবে সে ইসলামের বিধান অনুসারে মুসলিম থাকবে না। সে কাফির হয়ে যাবে। অর্থাৎ মুরতাদ। তাহলে মুফতিরা তাকে তাকফির করতে পারবে। খিলাফত হলে তাকে হত্যা করাও হতে পারে। তার বিয়ে ভেঙ্গে যাবে। সে যত বার তাওবা ব্যতীত স্বামীর নিকট হবে ততবার উভয়ের যিনাহ’র গুনাহ হবে। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। অজ্ঞতা, বা হাসি তামাশার বিষয় নয়।

আমি জানি না, তিনি তওবা করেছেন কি না। তবে তার জানায় যে অনেক গলদ আছে তা স্পষ্ট। তিনি দাস-দাসী ও কাজের বুয়াকে এক করে ফেলেছেন। দাস-দাসী আর কাজের বুয়ার হুকুম এক নয়। দাস-দাসী পরাধীন। সে মনিবের ইচ্ছা ছাড়া কোথাও যেতে পারবে না। মনিব চাইলে তাকে বিক্রি করে দিতে পারে। কাজের বুয়া স্বাধীন। সে চাইলে চাকরী ছেড়ে চলে যেতে পারে। মালিক তাকে বিক্রি করতে পারে না। যেকোন স্বাধীন নারীর সাথে ইচ্ছা করলেই যৌন সম্পর্ক করা যায় না। কিন্তু দাসীর সাথে যায়। দাসী বিষয়ে কুরআনের হুকুম আজো পালটে যায় নি। কিয়ামত পর্যন্ত পাল্টাবে না। এ বেসিক বিষয়গুলো যোগ্য আলেম উলামাদের কাছ থেকে জেনে নিয়ে তারপর মন্তব্য করা উচিৎ।

(২)

– আপনারা একাধিক বিয়ে করে দেখিয়ে দিন যাতে মানুষ কিছু শিখতে পারে …।

  • মানুষ আমাদের দেখে নতুন কিছু শেখার কিছু নেই। আর দেখানো হচ্ছে রিয়া যা গুনাহ। পুরাতন বিষয়েই বলা হচ্ছে যার দৃষ্টান্ত ইসলামে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তা আপনাদের মতো মডারেট ইসলামিস্টদের মানতে কষ্ট হচ্ছে। আর আপনারা তা কখনোই মানতে পারবেন না যতক্ষন না ‘শুনলাম ও মানলাম’ নীতির উপর আপনারা না আসেন।

(৩)

– হযরত আলী রা যখন ২য় বিয়ে করতে রাসুল সা এর কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন তখন রাসুল সা তাকে অনুমতি দেন নাই,কারন তার কন্যা ফাতিমা রা অসন্তুষ্ট হবেন বলে, হযরত আলী রা ফাতিমা রা এর জীবদ্দশায় আর বিয়ে করেন নি। সাহাবায়ে কেরাম খোলফায়ে রাশেদীনের এই ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে বহুবিবাহ সবার জন্য নয়।

  • কুর’আন যেখানে স্পষ্ট সেখানে আপনি হাদিসের ভিন্ন ব্যাখ্যা থেকে উত্তর খুঁজছেন। রাসুল সা নিজেই তো একাধিক বিয়ে করেছিলেন । অন্যান্য সাহাবিরা বহু বিবাহ করেছিলেন, উমার রা করেছিলেন। হযরত ফাতিমা রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহার ইন্তেকালের পর হযরত আলী রা আরো কয়েকটি বিয়ে করেছিলেন। অদ্ভুত যুক্তি দিলেন আপনি। রাসুল সা ফাতেমা রা কে অনেক বেশি ভালোবাসতে এবং তিনি তাকে নাখোশ করতে চাইতেন না এটাই স্বাভাবিক। তেমনি আলী রা ও চাইতেন না। তাই অনুমতি চেয়েছিলেন। অন্যদিকে বহু সাহাবা একাধিক বিয়ে করেছেন রাসুল সা এর অনুমতি চান নি। হাদিসের এক পেশে ব্যাখ্যা করে একাধিক বিয়েকে কোন সীমানায় বেধে রাখা যাবে না। সীমানা একটাই যা আল্লাহ পবিত্র কুর’আনে বলেছেন ‘ন্যায় সঙ্গত আচরণ’।

(৪)

– হাসি পাচ্ছে, এখন বুঝতে পারলাম আপনি কেন বহু বিবাহের কথা বলছেন …।

  • এটা কোন হাসির কথা হচ্ছে না, দ্বীনের একটা সিরিয়াস বিষয়ে কথা হচ্ছে। আর এটাও খেয়াল রাখা চাই বোন আপনার হাসি যেন কোন ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ বা ইসলামবিরোধী ব্যক্তির হাসির কারণ না হয়।
(৫)
– ভাল লাগল……. অপ্রয়োজনে নয় পুরুষকে প্রয়োজনে দুই-তিন-চারটি পর্যন্ত বিবাহ করিতে প্রস্তুত থাকিতে হইবে….

সে প্রয়োজন সামনে নিশ্চিতরূপে আসিতেছে। কারণ ইহা সম্পর্কে নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সাল্লামের ভবিষ্যতবাণী আছে। একজন পুরুষকে স্ত্রী-মা- বোন ইত্যাদি ৫০ জন নারীর দায়িত্ব নিতে হবে।

(৬)
– শরীয়তে একাধিক বিবাহ বৈধ করা হয়েছে । দ্বীন ইসলামের জন্য জরুরী মনে করা ভুল । বরং এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে যা অনেকের জন্য অসম্ভব ।
  • জরুরী বিধায়ই বৈধ করা হয়েছে। কি পরিমাণ জরুরী যে আল্লাহতায়ালা তার কালামে এটা অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যার এক এক হরফ না পড়লেও দশ দশ করে নেকী হয়, এর চেয়ে জরুরী আর কি হতে পারে !! আর যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে তা মানতে পারবে কি পারবে না সেটা ঐ ব্যক্তির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। যদি মানতে না পারে তবে আল্লাহ তাকে শাস্তি দিবেন বা মাফ করে দিবেন। এটা আল্লাহর সাথে ওই লোকের ডিলিংস।

– কিন্তু মাঝখানে থার্ড পারসন আছে (ওয়াইফ)। উনি মাফ না করলে আল্লাহও মাফ করতে পারবেন না।

  • নাউযুবিল্লাহ !!! আপনি আল্লাহর ক্ষমতাকে কমিয়ে দিচ্ছেন কেন? আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বলেন নাই, একমাত্র শিরকের গুনাহ ব্যতীত আল্লাহ যেকোন গুনাহ ক্ষমা করিয়া দিতে পারেন? আল্লাহ জালেমকেও ক্ষমা করিতে পারেন। আপনি কি হজ্ব করিয়াছেন? হজ্ব করিলে জানিতেন, আরাফার ময়দানে আল্লাহর নবী (ছা) জালিমদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিয়াছেন। কিন্তু আল্লাহ তাহা সেখানে কবুল করেন নাই। অতঃপর পেয়ারা নবী মুযদালিফায় আল্লাহকে এই বলিলেন যে, ইয়া আল্লাহ ! আপনি আপনার পক্ষ হইতে মজলুমকে পোষাইয়া দিয়া তো জালিমকে ক্ষমা করিতে পারেন। তখন আল্লাহপাক নবীজীর এই দুয়া কবুল করিলেন। এজন্য মুযদালিফায় গিয়া না জানি কত জালিম আল্লাহর ক্ষমা পাইয়া যাইতেছে। আর মযলুমদের তো আল্লাহ তাহার নিজ পক্ষ হইতে ক্ষমা করিয়া পোষাইয়া দিচ্ছেন। কাজেই আল্লাহর সম্পর্কে বড় ধারণা রাখুন বোন। তাহলে আল্লাহও আপনার সহিত বড় ব্যবহার করিবেন।

– কিন্তু সব স্ত্রীর সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করা তো সম্ভব নয় …।

  • কোন মুসলিম পুরুষ ন্যায় সঙ্গত আচরণ করতে পারবে কি না, এটি তার বিষয়, আমাদের তর্ক করার অধিকার নেই এমনকি প্রথম স্ত্রী’র এই নিয়ে তর্ক করার অধিকার নেই। সে যদি মনে করে পারবে না তবে একটি বিয়ে করবে অন্যথায় চারটা পর্যন্ত বিয়ে করতে পারে। উল্লেখ্য যে, স্ত্রীদের মাঝে সমতাপূর্ণ আচরণ না করলে, তারা কিয়ামতের দিন পক্ষাঘাতগ্রস্থ অবস্থায় উত্থিত হবে।

– ঘরে বউ থাকতে আবার বিয়ে করা এটা কি প্রথম স্ত্রীর প্রতি জুলুম নয়?

  • দ্বিতীয়া স্ত্রীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা বা ফিকির করা এটা কি সে বেচারীরর প্রতি জুলুম নয়। লোকটি প্রথম স্ত্রীর যতটুকু স্বামী, দ্বিতীয় বা তৃতীয়া স্ত্রীরও তো ঠিক ততটুকু স্বামী।

আর তাছাড়া, আপনি যে আল্লাহর হুকুমকে, আল্লাহর নবীর সুন্নতকে মন থেকে মানতে পারছেন না, এটা কি জুলুম নয় – এ জুলুমের বিচার কে করবে?

– জ্বী আসলেই, এটা নারীদের জন্য একটি শক্ত পরীক্ষা। কিন্তু এটা পুরুষদেরও পরীক্ষা নয় কি? তারা বর্তমানে ১ স্ত্রী ও ১ মায়ের অধিকারে সামঞ্জস্য করতেই হিমসিম খাচ্ছে !

  • অবশ্যই এটা পুরুষদের জন্যও একটা কঠিন পরীক্ষা। ১ স্ত্রী ও ১ মায়ের অধিকার রক্ষায় কম বেশী অপারগ হলে গুনাহ হবে, অনেক বড় গুনাহ। কিন্তু ইনশাআল্লাহ এতে ঈমান যাবে না, আর আল্লাহর কোন বিধানের প্রতি সামান্য ভ্রূ-কুঞ্চিত করলে ঈমান যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। গুনাহের শাস্তিও হতে পারে, ক্ষমাও হতে পারে। কিন্তু ঈমান গেলে তার কোন ক্ষমা নেই।
    আর তাছাড়া সামঞ্জস্য রক্ষায় অপারগ হলে এর পেছনে মা বা স্ত্রী বা তাদের উভয়ের প্ররোচনা বা হাত আছে কি না, ন্যায়বিচারক আল্লাহ আশা করি সেটাও দেখবেন।

(৭)

– এক বোন প্রশ্ন করলেন, এটার সাথে কি পুরুষের জৈবিক চাহিদা সম্পর্কযুক্ত?

  • জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ, ভালো পয়েন্ট বলেছেন। পুরুষরা স্বভবত বহুগামী। ইসলাম পুরুষদের এ স্বভাবের মূল্যায়ন করেছে। কিন্তু এতে সমাজে যেন পিতৃপরিচয়হীন সন্তান না জন্মে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরী না হয়। উল্টোদিকে নারীদের ইজ্জত ও নিরাপত্তার মূল্যায়নও করেছে। কারণ নারীদের ইজ্জত ও নিরাপত্তা খুব বেশী প্রয়োজন। যেন কোন নারীকে পেতে হলে তার ভরণপোষণসহ আরো আনুসঙ্গিক দায়িত্ব নিতে হবে। তাকে যথাযথ ইজ্জত ও সম্মান দিতে হবে। এবং সাথে সাথে সন্তানেরও দায়িত্ব নিতে হবে। এখানেই কাফেরদের সমাজ ও মুসলমানদের সমাজের মধ্যে পার্থক্য। এভাবে ইসলাম একসাথে সব কয়টি দিক কভার করেছে।
  • চার বিয়ে কেন?
    এক ভাইয়ের ব্যক্তিগত মত হলো –
    নারীর যৌন জীবন পুরুষের মত দীর্ঘ নয়। তাই এক নারীতে পুরুষ চাহিদা মেটে না। এ ছাড়া নারীর দেহ জটিল। প্রায় সময় ফিট থাকে না। এক নারীতে সন্তুষ্ট থাকতে হলে পুরুষ ব্যভিচারের দিকে ধাবিত হতে পারে। অথবা তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে। তালাক দেয়া অনুমতি থাকলেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে ইসলামে।
    — আর ধর্মীয় কারণ হলো-
    শেষ জামানায় হাদীছ অনুযায়ী একজন পুরুষ পঞ্চাশ নারীকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। বা করবে। পুরুষ সংকট থাকবে। এখানে আল্লাহ ইঙ্গিত দিচ্ছেন নারী বেশী হবে পুরুষের তুলনায়। তাই একাধিক বিয়েই সমাধান।
    এছাড়া ভায়োলেন্স, যুদ্ধবিগ্রহ, মাদক এবং male child mortality বেশী হওয়া ইত্যাদি কারণে এমনিতেই নারীর তুলনায় পুরুষ কম বাঁচে। শুরুতেই। এ ছাড়াও জন্মগতভাবেই নারীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরুষের তুলনায় বেশী। এটি মেডিকেল science এর fact.
    সব মিলে –
    নারীর যৌন সীমাবদ্ধতা, নারীর সংখ্যাধিক্যতা, পুরুষের নিরবিচ্ছিন্ন যৌন চাহিদা ইত্যাদি নানাবিধ কারণ চার বিয়ে বাস্তবধর্মী। আরেকভাই কিছু বলছেন –
  • অনেকগুলো যুক্তি রয়েছে। তবে প্রথমে এটা দেখতে হবে সুন্নাহ কে সুন্নাহ হিসেবে মানতে হবে। যদি পানি বসে খাওয়াতে কোন উপকার না থাকে তবুও তা মানা সুন্নাহ। ডান দিকে কাত হয়ে শুলে কোন উপকার না থাকে তবুও সুন্নাহ হিসেবে মানতে হবে। বর্তমান সভ্যতা এই নিয়ে যুক্তি খুঁজে আগের মানুষ যখন শুনতেন সুন্নাহ সাথে সাথে মেনে নিতেন এটার ভালো মন্দ বিবেচ্য হত না।তবে যুক্তি এখন দেখা হয় বিশেষ করে দাওয়া’র কাজে। আমি মনে করি অনেক যুক্তি রয়েছে একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে
    – ছেলেদের যৌন আকাঙ্ক্ষা মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি এবং স্থায়ী তাই অনেক ছেলের চাহিদা একজন মেয়ে মিটাতে পারেনা। এটি প্রতিষ্ঠিত সত্যি হাজারো রিসার্চ রয়েছে এ নিয়ে। আশে পাশে তাকিয়ে অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝতে পারা যায়।
    – যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে একাধিক বিয়ের আয়াত নাজিল হয়, কারণ অনেক নারী বিধবা হচ্ছিল তাই তাদেরকে বিয়ে করার জন্য একাধিক বিয়ে করা জরুরি ছিল।
    – দুনিয়াতে স্বাভাবিক ভাবেই মেয়ের তুলনায় ছেলেরা অধিক এক্সিডেন্টালি মারা যায় তাই মেয়ের চাইতে ছেলের সংখ্যা কম। মেয়েদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা ছেলের তুলনায় বেশি কার্যকর। যুদ্ধ সহ অন্যান্য তেও ছেলেরা বেশি মরে অর্থাৎ সব মিলিয়ে নারীদের সংখ্যা পুরুষের চাইতে বেশি।
    -অধিক সন্তান পাওয়ার জন্য

    সর্ব প্রথম ও সর্বশেষ হল এটি সুন্নাহ তাই যার সামর্থ্য রয়েছে সে সুন্নাহ পালনের জন্যই একাধিক বিয়ে করতে পারে।

– শুধু সুন্নাহ নয়। ইসলামের কোন ব্যাপারেই কোন আপত্তি নেই। ইসলাম এক পূনার্ঙ্গ জীবন বিধান। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। একজন পুরুষ যদি বেনামাজী হয়, মদ জুয়া বেটিং করে। স্ত্রী বা সন্তানের প্রতি কোন দায়িত্ব না করে তখনও কি এই সুন্নাহ সমভাবে অর্পিত থাকবে?

  • কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে – এই কিন্তুটাই সমস্যা। এই কিন্তুটাকে দূর করতেই হবে। যেন কোন ‘কিন্তু’ আমার জান্নাতের পথ আটকে না দাঁড়ায়। ইসলামের সবকিছু সমভাবে সবার জন্য। এটা পরীক্ষার হল। এখানে কেউ ইচ্ছা করলে মদ খেতে পারে, কেউ চাইলে জিনা করতে পারে, এমনকি কেউ চাইলে শিরকও করতে পারে। যে মদ খায় তাকেও এখানে দ্বিতীয় স্ত্রী বা তৃতীয় স্ত্রী লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয় নাই। কিন্তু আখিরাতে তার দুনিয়ার কাজের হিসাব হবে। যার নেকের পাল্লা ভারী হবে সে জান্নাতে যাবে। আর যার গুনাহের পাল্লা ভারী হবে সে জাহান্নামে যাবে (যদি আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন সেটা ভিন্ন কথা)। মা-বাবা-স্বামী-সন্তান এসব কোন সম্পর্ক সেদিন কোন কাজে আসবে না।
  • যে ব্যক্তি তার প্রথম স্ত্রীর প্রতি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করে না, সেও যদি দ্বিতীয় আরেকটি বিয়ে করে তাও সমাজের জন্য কল্যাণকর । কেননা হয়ত দেখা যাবে সে বিয়ে না করলে সেই মুসলিম বোনটির কোন বিবাহ হতো না । আর এভাবে সেই মুসলিম বোনটি বৈধভাবে তাহার শারীরিক চাহিদা মেটানোর একটি উপায় পেয়ে গেলেন যাতে সমাজের ‍উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে থাকে । আরেক ভাই মন্তব্য করলেন।

– “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।”

  • এটা আল্লাহ তায়ালার দেয়া গাইডলাইন। পুরুষরা এই গাইডলাইনের উপর আমল করার চেষ্টা করবে নিজ সাধ্যমত। সব আমলেরই গাইডলাইন আছে। কিন্তু এ গাইডলাইন দেখিয়ে অন্য কেউ তাকে বিরত রাখতে পারবে না। যদি সে গাইডলাইন ঠিকমতো ফলো না করে তাহলে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন বা নিজ দয়ায় ক্ষমা করবেন।
  • বোন অবশ্যই সে ব্যক্তি গুনাহগার হবেন, এবং তাকে বহুবিবাহ করার পূর্বেই আল্লাহ সাবধান করছেন তা যদি সে না মানে তবে আল্লাহ আর সে বান্দার মাঝে ফয়সালা হবে। মানুষ হিসেবে আমাদের অধিকার নেই তাকে মানা করা। যেমন একজন ব্যক্তির নেসাব পরিমাণ সম্পদ হল এখন যাকাত তার উপর ফরজ, যাকাত আদায় না করলে সে গুনাহগার হবে। এখন একজন কৃপণ বা মদ খোঁড় বা খারাব ব্যক্তিকে আমরা বলতে পারি না যে, তুমি এত বেশি সম্পদের অর্জন কর না কারণ তুমি তো যাকাত আদায় করতে পারবে না। বরং আমাদের বলতে হবে আল্লাহর দেয়া নেয়ামত হালাল ভাবে অর্জন করে তার যাকাত আদায় কর। তেমনি তুমি যদি পারো তবে একাধিক বিয়ে কর কিন্তু বিয়ের পরে সমতা রক্ষা কর। আমাদের কাজ উপদেশ দেওয়া। কোন সুন্নাহ’র প্রতি নিরুৎসাহিত করা না।
  • কিন্তু, কিন্তু, কিন্তু, কিন্তু!!! বিস্তারিত পড়ুন

দ্বিতীয় বিয়ে বর্তমানে পুরুষদের জন্য একটি জিহাদ

কি পরিমাণ সংগ্রাম করতে হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের একটি বিধান বহুবিবাহকে এক্সেপ্টেড করাতে। মুসলমানরাই ইসলাম মানে না, কাফেরদের সাথে জিহাদের নৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড কিভাবে থাকবে? জিহাদ কি জন্য করতে হয়? দ্বীন যেন একমাত্র আল্লাহর জন্য হয়ে যায় এই জন্যই তো? কাফের মারা তো জিহাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু মুসলমানরাই বর্তমানে ইসলামকে আল্লাহ যেভাবে চান, as it was, সেভাবে মানতে প্রস্তুত নয়। তারা দ্বীনের মধ্যে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করে।

“আমি মনে করি বহুবিবাহ এ যুগের জন্য নয়।

আমি মনে করি, ব্যাংকে চাকরি করা জায়েজ।

আমি মনে করি সহশিক্ষা খারাপ কিছু নয়। …।।”

তো নিজের ঘর ঠিক নাই। অর্থাৎ মুসলমানদের নিজেদের বিশ্বাসই ঠিক নাই, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের মারার কি প্রয়োজন !! কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করার আগে মুসলমানদের নিজেদের বিশ্বাস শুদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করাটাই জিহাদের চেয়ে কম কি? বিশেষ করে যখন ইসলামের একটা কথা বললে আরো দশ জন মডারেট ইসলামিস্ট দাঁড়িয়ে যায় তার প্রতিবাদ করতে।