লাভ ম্যারেজ নয়, ম্যারেজ উইথ লাভ

সূরা নিসার ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন,

“……….. মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই।” [৪ঃ৩]

এখানে আল্লাহ্‌ পরিষ্কার বলে দিয়েছেন “যাদের ভালো লাগে” সেইসব নারীদেরকে বিয়ে করতে। আর আমাদের সমাজে “যদি কোন মেয়েকে ভালো লাগে” তাকে বিয়ে করতে কি পরিমাণ কষ্ট পোহাতে হয়, কাঠখড় পোড়াতে হয় তা বাঙ্গালী নাটক নভেলের চেয়েও বাস্তবে আরো ভালো করে বোঝা যায়।

ছেলে পড়াশোনা শেষ করে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একটা চাকরি যোগাড় করার পর বাবা-মার খেয়ালে আসে যে ছেলের বিয়ে দেয়া দরকার। শুরু হয় পাত্রী খোঁজার মহাযজ্ঞ। তারপর মা বাবার পছন্দ, বোনের পছন্দ, ভাবির পছন্দ, মামার পছন্দ, অমুকের ভাসুরের পছন্দ সবার পছন্দ শেষ করে পাত্রের পছন্দ হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়। লাজুক ছেলে তখন সলজ্জে উত্তর দেয়, ‘আপনারা মুরুব্বী মানুষ, আপনারা যা ভালো বুঝেন তাই করেন। এটি হচ্ছে টিপিকাল বাঙ্গালী ভালো ছেলে।

একবার এক মহিলা সম্ভবত তার নাম লায়লা বিনতে কায়স ইবনুল খাতিম রাসূলুল্লাহর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেদমতে হাজির হয়ে তার সাথে নিজেকে বিয়ের জন্য সরাসরি প্রস্তাব পেশ করেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নীরব থাকেন। মহিলার কথা শুনে পাশে থাকা আনাস (রাঃ) এর কন্যা বলে উঠলেন,

‘মা কানা আ’কাল্লা হা’য়াহা’
‘মেয়েটা কত নির্লজ্জই না ছিল’

আনাস (রাঃ) তাকে বললেন, ‘সে তোমার তুলনায় অনেক ভালো ছিল। সে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল এবং নিজেকে রাসূলের (সা.) নিকট বিয়ের জন্য পেশ করেছিলো।’

পরবর্তীতে এক সাহাবী তাকে বিয়ের জন্য আগ্রহী হলে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বিয়ে দিয়ে দেন।

খানসা বিনতে খিদাম রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহার স্বামী উহুদ যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণ করলে তার বাবা তাকে এক ব্যাক্তির নিকট বিয়ে দিয়ে দেন। তখন হযরত খানসা (রা.) রাসুল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বললেন,

‘আমার পিতা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন; অথচ আমি আমার সন্তানের চাচাকেই অধিক পছন্দ করি’।

তার কথাগুলো লক্ষ্য করুন। তার বিয়ে হয়ে যাবার পর তিনি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে জানান, তার স্বামী হিসেবে তার সন্তানের চাচাকেই তিনি বেশী পছন্দ করবেন। এরপর যা ঘটলো তা হল, আল্লাহর রাসূল (সা.) তার বিয়ে ভেঙ্গে দিলেন।

এ ধরণের আরেকটি ঘটনা পাওয়া যায় মুগীরা ইবন শুবা রাযিয়াল্লাহু য়ানহুর ক্ষেত্রে। উসমান ইবন মাযউন রাযিয়াল্লাহু য়ানহুর মৃত্যুর পর তার কন্যাকে তার চাচা কুদামাহ বিয়ে দিয়ে দেন ইবন উমারের রাযিয়াল্লাহু য়ানহুর সাথে। কিন্তু ইবন উমার (রা.) প্রথম সারির একজন সাহাবী হওয়া সত্ত্বেও মেয়েটি এ বিয়েতে রাজি ছিলনা কারণ সে মুগীরা ইবন শুবাকে (রা.) পছন্দ করতো এবং সে চেয়েছিল যেন মুগীরা ইবন শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু)তাকে বিয়ে করেন। অবশেষে তার চাচা এ বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে মুগীরার (রা.) সাথে তার বিয়ে দেন।

।।

ইসলাম মানব মনের কি চমৎকার মূল্যায়নই না করেছে। সুবহানআল্লাহ। কোন নাটক নেভেলে পাওয়া যাবে এরকম একটি ঘটনা?

রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরামর্শ হলো,

“তুমি আগে গিয়ে তাকে দেখে নাও কেননা এটি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতিতে সহায়ক হবে।” [ইবনে মাজা]

আপনি কোন মুসলিমাহর প্রতি আকৃষ্ট হবেন এটাই স্বাভাবিক, কেননা এটা আপনার ফিতরাত। সূরা আর-রূমে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা বলছেন,

“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে যে তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন যুগলদের, যেন তোমরা তাদের মধ্যে স্বস্তি পেতে পার, আর তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেম ও করুণা সৃষ্টি করেছেন। (৩০:২১)

কোন মুসলিমাহ বোনের দ্বীনদারী, চরিত্র আপনার ভালো লাগতেই পারে। তবে এ ভালোবাসার একটা সীমারেখা রয়েছে। যদি তাকে পেতে চান, তাহলে চিরদিনের জন্য তাকে আপন করে নিন; দুই মাস বা দুই বছরের জন্য নয়। কাউকে পছন্দ করলে ইসলামের মূলনীতিটা হল,

‘ইঝা আতাকুম মান তারদাওনা দীনাহু ওয়া আক’লাহু ফাংকিহু’হু ’ (তিরমিযী)

‘তোমরা যখন বিয়ের জন্য এমন ছেলে বা মেয়ে পেয়ে যাবে যার দ্বীনদারী চরিত্র ও জ্ঞান-বুদ্ধিকে তোমরা পছন্দ করবে, তো তখনই তার সাথে বিয়ের সম্বন্ধ স্থাপন করো।

আবার অভিভাবকদেরকে বলা হচ্ছে,

“যদি এমন কেউ তোমার কাছে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসে – যার চরিত্র এবং তাকওয়া সন্তোষজনক, তাহলে তার কাছে (তোমার মেয়েকে) বিয়ে দাও। যদি এমনটি না কর, তাহলে পৃথিবীতে মারাত্মকরকম ফেতনা ও বিপর্যয় দেখা দিবে।” [তিরমিযি]

এটাই অবৈধ সম্পর্কের সাথে এর মাঝে পর্দা টেনে দিয়েছে। আপনি কাউকে পছন্দ করতে পারবেন কিন্তু তার সাথে কোনরূপ সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না। বিয়ের প্রস্তাব সংক্রান্ত হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। কোন নারীকে পছন্দ হলে তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে হবে তার অভিভাবকদের মাধ্যমে। এরপর তার মতামতের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।

খুব ভালো নয় বিষয়টা? কত সম্মানজনক। মানব হৃদয়ের কত নিকটবর্তী।

সংগৃহীত ও সংক্ষেপিত। jasthasan.net

সেই নারী এই নারী

আমাদের ঠিক আগের জেনারেশনে সাধারণত নারীদের প্রতি বৈষম্য করা হতো। সে সময় মেয়েদের ঠকানো হতো। ইসলাম নারীদের যে সম্পত্তির অধিকার দিয়েছে তা থেকে বঞ্চিত করা হতো। ভাইরা পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারার সময় বোনদের ঠকাতো। মেয়েরা এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিত। মনে করত, ভাইদের বাসায় আসব খাব বেড়াব। সম্পত্তি নিব কেন? জামাইরাও কিছু বলত না।

এখন সময় গিয়েছে উল্টে। যে মহিলা তার পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার ছেড়ে দিয়ে এসেছে সে মহিলাটাই আজকে নারী পুরুষের সম অধিকারের কথা বলে নিজ ছেলেকে বঞ্চিত করছে। আজকাল মা ও মেয়ে একজোট। দেখা যাচ্ছে মেয়েকে শুধু দিচ্ছেই দিচ্ছেই। মৃত্যুর আগেই সম্পত্তি বিভিন্নভাবে মেয়েদের নামে করে দিচ্ছে। পক্ষান্তরে ছেলে, ছেলের বৌ, ছেলের ঘরের নাতি হয়ে গেছে পর।

আপনাদের কি মত? আমার মনে হয়, সাধারণত এরকমই হচ্ছে।

ঘরে থেকো

হোলীর ঘটনার পর এখনও কি মুসলিমা নারীদের ঘরে থাকার সময় আসেনি? না কি এখনও অফিস আদালত ক্যারিয়ার নিয়ে দাপিয়ে বেড়ানোর সময় আছে। যদি আপনি ঘরে থাকলেন তবে আপনি সূরা কাহাফের সেই যুবকদের অনুসরণ করলেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা তখন আপনার প্রতি রহমত বিস্তার করবেন যেভাবে সূরা কাহাফের যুবকদের উপর করেছিলেন। শেষ যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এটাই কুরআন বর্ণিত আত্মরক্ষার পদ্ধতি। Run away whenever you smell Fitnah.

নারীর মর্যাদা

১.
মসনদে বসে আছেন আব্বাসি খলীফা মু’তাসিম বিল্লাহ। পানি পান করার জন্যে গ্লাস হাতে নিয়েছেন। সেই মুহুর্তে একজন ছুটে এল দরবারে.. হে আমীরুল মুমিনীন..! সীমান্তে রোমানরা আক্রমণ করেছে। ঘটনা মন দিয়ে শুনছিলেন খলীফা…. বর্ণনার একপর্যায়ে লোকটি বলল- আমি দুর থেকে শুনেছি হাশেমি এক বন্দী নারী আর্তনাদ করে বলছিল, ‘খলীফা মুতাসিম বিল্লাহ..! তুমি কোথায়..?’ এটা শুনেই খলীফা পানির গ্লাস ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন: ‘লাব্বাইক’ [আমি হাজির]। নিজেই দ্রুতগতিতে ছুটলেন সীমান্তের দিকে। কাউকে বলতে হলনা, পেছনে ছুটল হাজার হাজার সৈন্য। কিন্তু ততক্ষণে বন্দীদের নিয়ে রোমানরা তাদের দূর্গে পৌঁছে গেছে। একমুহুর্তও থামলেন না খলীফা, একই গতিতে সীমানা পেরিয়ে সরাসরি হামলা করে বসলেন রোমানদের। তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ ‘আমুরিয়া’ দখল করে সকল বন্দীদের উদ্ধার করে নিজ এলাকায় ফিরে এলেন। . .

২.
গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে দেবল [বর্তমান করাচী] থেকে একটি চিঠি এসেছে। দেবলের রাজা দাহির মুসলিম বণিক কাফেলাকে আটক করেছে। সেখান থেকে এক বন্দী মেয়ে চিঠিটি পাঠিয়েছে। মেয়েটি লিখেছেঃ ‘মুসলমানদের তলোয়ার যদি ভোতা না হয়, তারা যেন আমাদের ডাকে সাড়া দেয়..!’ অসহায় মেয়েটির চিঠি পড়েই দাড়িয়ে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। নিজের জামাতা ও ভাইয়ের ছেলে মুহাম্মদ বিন কাসিমকে বললেন, যত দ্রুত সম্ভব সিন্ধু জয় করতে..! . .

৩.
স্পেনের জালিম সম্রাট রডরিক তার আঞ্চলিক গভর্ণর কাউন্ট জুলিয়ানের মেয়ে ফ্লোরিডার সম্ভ্রমহানি করেছে..! কন্যার এমন অপমান সহ্য করা যেকোন পিতার পক্ষেই কঠিন। তিনি জানতেন ন্যায়বিচারক হিসেবে খ্যাত একজনই আছেন। আফ্রিকার গভর্ণর মুসা বিন নুসাইর। কোন উপায় না পেয়ে তিনি মুসার কাছেই যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন। জুলিয়ান এসেছেন মুসার কাছে। এক অসহায় পিতার মুখে কন্যার নির্মমতার কথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন মুসা। জুলিয়ানের কথা শেষ হবার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। নিজের বিশ্বস্ত সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদকে জরুরী তলব করে বললেন, চরিত্রহীন রডরিককে হটিয়ে সমগ্র স্পেন জয় করতে। জুলিয়ান অবাক হয়ে দেখলেন, সেদিনই স্পেন দখলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল তারিকের বিশাল বাহিনী..! .

৪.
স্পেনের শাসক মনসুর আল-হাজিবের চোখে ঘুম নেই। তিনি খবর পেয়েছেন, তার সীমান্তের বাইরে একটি গীর্জায় এক মুসলিম নারী বন্দি অবস্থায় আছে..! সীমানার ওপারে বলে তিনি চিন্তিত। শেষে একটি মেয়ের জন্যই যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন। সমস্ত শক্তি নিয়ে হঠাৎ আক্রমণ করে বসলেন…! . .

৫.
সম্প্রতি অন্ধকার জগত থেকে আলোর পথে ফিরে এসেছেন এক সময়ের আলোচিত চলচিত্র অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপি।

জান্নাতের প্রত্যশায় তিনি এখন তার জীবনকে সাজিয়ে নিয়েছেন নামাজ, রোজা, তাজবিহ তাহলিল ও দাওয়াতে তাবলীগের মাধ্যমে।

২০১৪ সালে তার অভিনয় করা একটি সিনেমা আগামী সপ্তাহে রিলিজ হতে যাচ্ছে। এই নিয়ে বেশ চিন্তিত সাবেক এই অভিনেত্রী।

তিনি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের নিকট সিনেমাটি বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং আলেম উলামাদের তার পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।

নাজনীন আক্তার হ্যাপি’র স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

।।

“শুনলাম আমার পূর্বের করা একটি সিনেমা নাকি আগামী সপ্তাহে রিলিজ হতে যাচ্ছে। যতদূর মনে পড়ে সেটার শ্যুটিং হয়েছিল ২০১৪ সালে।

আমার এত পরিমাণ টাকা বা ক্ষমতা নেই এই সিনেমা রিলিজ হওয়া বন্ধ করে দেওয়ার। যদি কারো ক্ষমতা থাকে এই সিনেমাটি বন্ধ করার, তাহলে আল্লাহর জন্যই বন্ধ করে দিন।এর বিনিময়ে অবশ্যই আল্লাহ উত্তম কিছু দিবেন ইনশাআল্লাহ!

এই সিনেমাটি যাদের হাতে,তাদের আমি রিকোয়েস্ট করলেও তারা শুনবে না ব্যবসার জন্য। তবুও করছি, প্লিজ আল্লাহর জন্য এটা বন্ধ করুন। আমাকে সিনেমার মাধ্যমে দেখানোর সুযোগ করে দিবেন না।

হয়তো এই কথাটা তাদের গায়েও লাগবে না।।কিন্তু আল্লাহর সামনে বলতে তো পারবো যে, আমার যতটুকু করার বা বলার ছিল সেটা করেছি। জানিনা তখন আল্লাহ আমার জন্য কি ফায়সালা করবেন!

আমি আলেম-ওলামাদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। আমি তো আপনাদেরই এক বোন। আগে না বুঝে গুনাহর সাগরে হাবুডুবু খেয়েছি। যখন আল্লাহ বোঝালেন, ফিরে এসেছি। একটা সিনেমা বন্ধ করা অসম্ভব কিছুও না।সবাই যদি আল্লাহর জন্য আওয়াজ তোলেন, এটা বন্ধ করা খুব কঠিন কিছু হবে না। আল্লাহর কসম,কলিজা ফেটে যাচ্ছে। আল্লাহর জন্য, শুধু দ্বীনের স্বার্থে এই সিনেমা বন্ধ করার ব্যবস্থা করুন। বাংলাদেশের আলেমরা এবং সবাই যদি এটা নিয়ে শক্ত অবস্থান নেন, তাহলে এই সিনেমাটা বন্ধ করা কোনো ব্যাপারই হবে না ইনশাআল্লাহ। শুধু একটু এগিয়ে আসা দরকার…..”

– নাজনীন আক্তার হ্যাপী (আমাতুল্লাহ)

(সংগৃহীত)

সিজার

নারীদের জন্য নারীদের নারীসুলভ সামান্য সিমপ্যাথি বা দরদ নেই তা গাইনি ডাক্তারদের দেখে বুঝা যায়। নারীরা তাদের কাছে একটা দামী পণ্য ছাড়া কিছুই নয়। আজকে কয়টা সিজার হল এই হিসাবের বাইরে তাদের তেমন কিছু জানা নেই। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ট্রাম্প, সিরিয়া এইসব নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহর একটা বইয়ে আবু হুরাইরা রাযি বর্ণিত একটা হাদিস নিয়ে আসা হয়েছে যেটাতে বলা হয়েছে, সিজার অপারেশন কিয়ামতের একটি নিদর্শন। নারীদের ধরে ধরে পেট ফেড়ে বাচ্চা বের করা হবে।

সেম উমর একটি চমকপ্রদ তথ্য প্রদান করেছেন। বর্তমানের মিনারেল ওয়াটারে এমন সব জিনিস মেশানো হয় যার জন্য বাচ্চা বেশী বড় হয়। মিনারেল ওয়াটার ও ফাস্টফুডের কারণে সিজার আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর এই মিনারেলগুলো মেশানোও বাধ্যতামূলক।

হাল আমলে জনপ্রিয় করে তোলা ফাস্টফুডের প্রভাবেও একদিকে প্রজনন ক্ষমতা তো কমে, কিন্তু স্বাস্থ্য মোটা হয়ে যায়। ফাস্টফুড, মিনারেল ওয়াটারের ফলে ডায়াবেটিস হয় যা বড় বাচ্চার জন্ম দেয়, ফলে ইন্সট্রুমেন্টাল ডেলিভারির চান্স বাড়ে। আর এদিকে বিভিন্ন এনজিও হাসপাতালগুলো সিজার করার সব রকম বন্দোবস্ত করে রাখে। এবং সিজার অপারেশনের মাইন্ড সেটিংয়ের জন্য নানা ধরনের চার্ট, ছবি ইত্যাদি ব্যবহার করে।

মূল কথা হচ্ছে দাজ্জালী সভ্যতার অকল্যাণে মানব জাতির ধ্বংস।

এই গল্প বাংলাদেশের নয়, চাঁদের দেশের। কাজেই আশা করি কোন ডাক্তার নারী চাঁদের দেশের বিষয় নিয়ে চন্দ্রাহত হবেন না।

সুদে আসলে স্বপ্নশোধ

students-at-the-graduation-ceremony-of-gccn-at-grameen-bank-bhaban-02-03-2013-dhaka-photo-nasir-a-1v3aptl-300x199

এই মেয়ে তুমি নার্স হবা? একটি গরীব বাবার মেট্রিক পাশ মেয়েকে আপনি স্বপ্ন দেখালেন। মেয়েটি ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল। চোখ থেকে দু’ফোটা পানি গড়িয়ে নামল। মুখে ফুটে উঠল একটা নাম না জানা ফুলের কলির হাসি। সে দৌড়াতে দৌড়াতে গেল বাবার কাছে। বাবা,আমি নার্স হব, আমি নার্স হব। স্বপ্ন একটু পরেই বাস্তবতায় ল্যান্ড করলো। সে অবিশ্বাসের সুরে বলল, আমি নার্স হবো? টাকা পাব কই? লেখাপড়ার টাকা? হোস্টেলে থাকা খাওয়ার খরচ?

আপনি বললেন, টাকা আমি দেব। তোমাকে শুধু …।

“টাকাটা পরে শোধ করে দিলেই হবে। নার্সিং পাশ করার পর।”

“হ্যাঁ, তবে দিতে হবে সুদে আসলে।”

মানে বোঝোই তো আমাদের তো বিদেশ থেকে টাকা সুদে আনতে হয়। তোমার বাবা তো আর টাকা দিবে না।

মেয়েটির অনভিজ্ঞ তরুণী অন্তরে তখনো স্বপ্নগুলো অক্টোপাশের মতো নড়াচড়া করতে থাকে। হ্যাঁ, পাশ করলেই তো হাসপাতালে চাকরী করে মাসে মাসে টাকা দিয়ে দিতে পারব।

সে তো আর কুরআনুল কারীমের সূরা বাকারা পড়েনি। তারপরও মানবিক ৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের কারণে আল্লাহ্‌র সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে একটা অজানা ভয় লাগছে।

কিন্তু তাকে সাহস দেয়া হলো।

সমস্যা নেই। টাকা দিতে না পারলে সারাজীবন চাকরী করে শোধ করবা। বোঝোই তো টাকাটা তোমার বাপে দেয় নাই, টাকা আমাদের বিদেশ থেকে সুদে আনতে হয়।

সারাজীবন চাকরী করে মাসে মাসে শোধ করে দিবা। প্রয়োজনে বিয়ে করবা না। সন্তান সন্ততি দিয়া কি করবা? খালি পয়সা খরচ। সেই পয়সা মাসে মাসে আমাদের দিবা।

বিনিময়ে আমরা তোমারে নার্স বানায়ে দিব।

পারবেন এ কথা বলতে কোন কিশোরী কে? পারবেন এ স্বপ্ন দেখাতে?

হ্যাঁ পারবেন যদি আপনি লোকটা হন ডঃ ইউনূস। একজন স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষ।

।। আর হ্যাঁ, শেষ কথাটা বলতে ভুলবেন না। তুমি যে আমাদের দাসী হলে এর একটা বহির্প্রকাশ করতে হবে না? তুমি কিন্তু নার্সদের সাদা এপ্রণ পড়তে পারবে না। তোমাকে আমাদের গ্রামীন চেকের পোষাক পড়তে হবে যাতে বোঝা যায় তুমি আমাদের জেলখানায় আছ। আর কাপড়টা কিন্তু হাঁটুর উপর পর্যন্ত পড়তে হবে। কারণ দাসীদের কাপড় হাঁটুর নীচে নামে না ।।

বিভ্রম

ngo

এনজিওতে চাকরী। কিছু মধ্যম সারীর ছাত্রদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ। তাদের জীবনের একটা সদগতি। এই ছেলে মেয়েগুলো জীবনের প্রথম দিকের সোনালী সময়গুলো ব্যয় করে ফেলে এনজিওতে। একটা সময় তাদের যোগ্যতা হারাতে থাকে। একাডেমিক যোগ্যতা। তাদের সাথের ছেলেমেয়েরা তখন জীবন নৌকা বেয়ে চলে যায় অনেক দূরে। এনজিওর ডাক্তাররা ১৫ / ২০ বছর সেখানে চাকরী করার পরও বেতন থাকে ৪০ – ৫০ এরকম। ৭০ – ৮০ ওয়ালা স্কেলেরও কিছু আছে। তবে বিদেশী এনজিওতে। এর চেয়ে বেশী বেতন খুব কম। কিন্তু বিপরীতদিকে তার সাথের ক্লাসমেটরা চলে গেছে অনেক দূর। কেউ কেউ প্রফেসর। আর তারা ততদিনে ডাক্তারি ভুলে গেছে। এখন তারা এনজিও ওয়ার্কার। ঘরের মানুষও তাদের দিয়ে চিকিৎসা করায় না।

যারা এনজিওতে চাকরী দিয়ে জীবন শুরু করে তাদের একটা ব্রেন ওয়াশিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটা তারা বুঝে না। তাদেরকে ধারণা দেয়া হয় তোমরা একটা মহৎ কাজ করছে। তোমরা পৃথিবীর সব চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাজ করছে। তখন তারা বিসিএস দেয় না, ব্যবসায় বা বিদেশে যাওয়ার কথা ভাবতে পারে না। অর্থাৎ জীবন সংগ্রাম করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তার মগজ যথেষ্টভাবে চিন্তাভাবনা করতে পারে না। এজন্য বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার দিনও এনজিওরা মিটিং ফেলে। অফিস মিটিং। মানুষের ধর্মীয় কাজ করার মানসিক শক্তিও হরণ করা হয়। জুমা’র আযানের সময়ও মিটিং চলতে থাকে। নামায শেষ হয়ে সবাই বাসায় যায় আর এনজিও কর্মকর্তারা তাদের বাজেট, প্রোগ্রাম প্রোপোজাল এসব নিয়ে আলোচনা করে। কাজের মধ্যেই কোন এক সময় সবাই খেয়ে নেয়। এই হল তাদের জীবন। মহিলা কর্মকর্তাদের বিবাহ বিরোধী একটা মনোভাব সূক্ষ্মভাবে গড়ে তোলা হয়। যার ফলে তাদের বিয়ের বয়সটা চলে যায়। স্বামী সোহাগ থেকে বঞ্চিত করে সেই সুবর্ণ সময়টা এনজিওরা মেয়েদের থেকে চুষে নেয়। বিনিময়ে পায় একটা এসিসটেন্ট ম্যানেজার গোছের পোস্ট। সুন্দর একটা পরিপূর্ণ সংসার করার স্বপ্ন দেখার মেয়েলী যোগ্যতাটাকে তারা সুনিপুণভাবে মেরে ফেলে। যদিও এনজিও কর্মীরা মনে করে আমরা ভালো কিছু করছি। এ ব্রেন ইনজিনিয়ারিং সহজ নয়।