দ্বিতীয় বিয়ে দাজ্জাল পছন্দ করে না। সহ্য করে না। ব্যতিক্রম ও অপারগতা ছাড়া বেশীর ভাগ মেয়েই স্বামীকে ভাগ করতে পছন্দ করে না। তারা কোরআনের এই বিধান পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না। তার মানে স্রষ্টার বিধানের প্রতি তারা পুরোপুরি আত্মসমর্পন করে না। নাটকে মিডিয়ায় পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে নেগেটিভ এবং খুবই খারাপভাবে দেখানো হয়। আর পুরুষদের মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য যে চারিত্রিক গুণাবলী কাঙ্খিত, তা’ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বিদ্যমান থাকেনা। এ এক কঠিন সমস্যা। সত্যি কথা বলতে কি – দাজ্জাল “বিয়ে” জিনিষটাই পছন্দ করে না। সে নারী পুরুষের আলাদা সত্ত্বা মানে না। তাই সে নারী-নারী, পুরুষ-পুরুষ বিয়ে, incest, পশুকাম ইত্যাদি চালু করেছে। 😮

লিখেছেনঃ Ashraf Mahmud

Advertisements

বিবাহিত জীবনের অব্যক্ত কিছু কথা

একটা মোটা দাগের কৌতুকে পড়েছিলাম ক্রিকেটে থাই গার্ডের ব্যবহার শুরুর প্রায় ১০০ বছর পর হেলমেট ব্যবহার শুরু হয়। 
কৌতুকটা ছিল পুরুষ মানুষদের নিয়ে – তারা কোনটাকে গুরুত্ব দেয় এটা নিয়ে একটা প্রাপ্তবয়ষ্ক ইশারা ছিল।

যে কথাগুলো অনেকদিন ধরে বলব ভাবছি তা সর্বসমক্ষে বলা লজ্জার, কিন্তু কিছু ব্যাপারে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লজ্জার সীমানায় এসে হলেও মানুষকে কিছু শিক্ষা দিয়েছেন।*

উমার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তার মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, স্বামীকে ছাড়া তার স্ত্রী কয়দিন থাকতে পারে। উত্তর শুনেছিলেন চার মাস। এরপর তিনি নিয়ম করে দিয়েছিলেন, মুসলিম মুজাহিদদের চার মাসের বেশি জিহাদের ময়দানে রাখা যাবে না।

উমার পুরুষদের জিজ্ঞেস করেননি। আমাকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতাম, একজন পুরুষ তার স্ত্রী ছাড়া চার দিনের বেশি ভালো থাকতে পারে না।

আমি যে একটা বছর অ্যামেরিকায় ছিলাম স্ত্রীকে রেখে, কীভাবে ছিলাম সেটা আল্লাহ ভালো জানেন।

স্ত্রীকে ছাড়া ভালো থাকতে পারে না কেন? কারণ, আল্লাহ পুরুষকে সেভাবে বানিয়েছেন। চাহিদা দিয়ে, কামনা দিয়ে।

আমাদের সমাজের স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য যতটা ব্যস্ত, মনের ক্ষুধা এবং দৈহিক ক্ষুধা মেটানোর জন্য ততটাই অতৎপর।

অন্তত, আমার কাছে আসা ইনবক্সে ভাইদের অনুযোগে তাই মনে হয়।
মনের ক্ষুধা সংসারের আলাপে মেটে না। ডাল শেষ, তেল লাগবে – এগুলো সম্পর্কের উন্নতি করে না।

মনের ক্ষুধা মেটে যখন কোনো পুরুষ যে ব্যাপারে আগ্রহী সে ব্যাপারে তার সাথে আলাপ করলে। আমি বিজ্ঞান ভালোবাসি। বিজ্ঞানের নতুন একটা আবিষ্কার নিয়ে আমার সাথে আমার স্ত্রী কথা বললে আমার ভালো লাগে।

আমার স্ত্রীর বিজ্ঞান ভালো না লাগলে?

বোনেরা, কিছু একটা খুঁজে বের করুন যেটাতে আপনার আর আপনার স্বামীর কমন আগ্রহ আছে।

আর থাকল দেহের ক্ষুধা।

এই ক্ষুধা সত্য। পেটের ক্ষুধার মতই সত্য। যদিও পেটের ক্ষুধার কথা কেউ বলতে বা শুনতে লজ্জা পায় না, কিন্তু এই ক্ষুধাকে পায়।
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশে বেশ্যালয় আছে। কেন? 
বেশ্যালয়ে বিবাহিত পুরুষরাও যায়। কেন?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা চারটা পর্যন্ত বিয়ের বিধান দিয়েছেন এর একটা কারণ পুরুষদের দৈহিক ক্ষুধা অনেক বেশি আগ্রাসী।

এবং অধিকাংশ বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রীকে তার চাহিদার কথা বলতে লজ্জা পায়। প্রতিনিয়ত বলা তো আরো মুশকিল।

এই অবদমিত চাহিদার হালাল বহির্প্রকাশ বাধাপ্রাপ্ত হলে পুরুষেরা ছোটে পর্নের দিকে। এখন মোবাইলে বিছানায় শুয়েও সারা দুনিয়ার নোংরামি ঘুরে আসা যায়।

স্ত্রী তার মতো ঘুমে আছেন, স্বামী পাপাচারে মগ্ন।

পরকীয়া, ধর্ষণ – প্রায় সব বিকৃত কামাচারের পেছনে হালাল স্ত্রীসঙ্গ দুর্লভ হওয়াটা একটা বড় কারণ।

স্ত্রী বুঝতে পারেন না স্বামী কেন রেগে থাকেন। তিনি বুঝতে পারেন না, সংসারে অশান্তি। এই দম্পতিকে তাদের শারীরিক সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেস করে দেখেন।

আমি পুরুষদের সবর করতে না পেরে পাপে জড়ানোকে জাস্টিফাই করছি না। একজন পুরুষ হিসেবে আসলে পুরুষেরা কী চিন্তা করে, তাদের কী চাহিদা – সেটা বোনদের সামনে তুলে ধরলাম, লজ্জার মাথা খেয়েই।

সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।

রমণী শব্দের উৎস বিশ্লেষণে যাব না, তবে বোনেরা একটু চিন্তা করে দেখবেন। কথাটা সত্য। আমাকে গালমন্দ করতে পারেন – তবে আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি।

আর ভাইয়েরা, আল্লাহ আমাদের যে প্রবৃত্তি দিয়েছেন তা নিয়ন্ত্রণ করার নামই তাকওয়া – আল্লাহ সম্পর্কে সচেতন থাকা। যে আল্লাহর নামে আমরা আমাদের স্ত্রীদের ঘরে এনেছি, তাদেরও মানসিক এবং শারীরিক অধিকার আছে। সেটার দিকে নজর রাখা আমাদের কর্তব্য।

আমরা যেন আমাদের সঙ্গী-সঙ্গিনীদের সীমাবদ্ধতাটুকু উপেক্ষা করে তাদেরকে তাদের প্রাপ্যটুকুর চেয়েও বেশি কিছু দেয়ার চেষ্টা করি। তাদের পাপ থেকে বাঁচাই এবং নিজেও বাঁচি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

Shared from Sharif Abu Hayat Opu

মন্তব্যঃ যাই বলুন পুনরায় বহুবিবাহ প্রচলন ছাড়া এ সমস্যা সমাধানের কোন গতি নেই। সুন্নতকে ছেড়ে তাকওয়া হয় না।

আমার এক কলিগ, বেচারা ভালো পদে আছেন, হুজুর মানুষ, গতকাল বললেন, তিনি পোস্ট গ্রাজুয়েশনের সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে মাসে ১০ হাজার টাকা খরচ নিতেন। যা তিনি পরে শোধ করে দেন। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে একদিন খোটা দেয়, ‘তুমি তো আমার বাবার পয়সায় লেখাপড়া করেছ’ এই বলে। ভাইটি আক্ষেপ করে বললেন, সেদিন তিনি তাকে মেরেছেন। আসলে মহিলার কথাটা আমারও খারাপ লাগল। যদি তিনি সত্যিই এ কথা বলে থাকেন আর কি। বেচারা মেট্রিক, নটরডেমে ইন্টার, সরকারী মেডিকেলে লেখাপড়া এগুলো কি ফাউ ফাউ করছেন? এ প্রশ্ন এসেই যায়। কিন্তু মার দিয়ে কি তাকে বুঝানো যাবে যে আমি ভালো ছাত্র ছিলাম। এখন কি করে তাকে বুঝানো যায় যে সে কথাটি ঠিক বলেনি। মার দিলে তো আরও মনে করবে, আমার বাবার টাকা দিয়ে লেখাপড়া করল আবার আমাকে মারল। তোর মতো ছোটলোক স্বামীই আমার ভাগ্যে ছিল !! পরে চিন্তা করলাম কি করা যেত। কি করলে সে বুঝত। আমি বললাম, মোহরের টাকা দিছেন? বলল, বাকী আছে। এ তো আরও সমস্যা। একে তো শ্বশুরের থেকে টাকা নিয়ে পড়েছে (যদিও তা শোধ করে দিয়েছে), আবার মোহরও বাকী আছে। চিন্তা করে বের করলাম, আসলে এই মুহূর্তে কিছু করার ছিল না। ধৈর্য ধরা উচিত ছিল। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নানাভাবে পরীক্ষা করেন। তখন ধৈর্য ধারণ করতে হয়। কিল দিয়ে জেতা যায় না। নবীজী (সা)-কে একবার আয়েশা (রাযি) দৌড় প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়েছিলেন। আবার অনেকদিন পর আয়েশা (রাযি) যখন একটু ভারী হয়ে গেছেন তখন নবীজীর কাছে হেরে যান। হা হা। কাজেই সেই সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো মেয়েটির বাবা একসময় অসহায় হবেন, যেমন একসময় মেয়েটির স্বামী হয়েছিলেন। তখন তাকে মনখুলে সাহায্য করে দিলেও কিন্তু হয়ে যায়। আর তাতেই তখন মেয়েটি বুঝতে পারতেন, জীবন জয় পরাজয়ের নয়, সহযোগিতার। সেই প্রকৃত সময় আসা পর্যন্ত কিলাকিলি করে লাভ নেই। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ সব কিছুর জন্য নির্ধারণ করেছেন একটি নির্দিষ্ট সময় / পরিমাপ / ক্ষণ। (সূরা তালাক্ব, ৬৫ঃ৩)

নারীদের মারপিট করাটা বা মানসিক নির্যাতন করা ঠিক নয়। তাদের ভালোবাসা উচিত। নবীজী (সা) নারীদের ভালোবাসতেন। সে হিসেবেও তারা ভালো ব্যবহারের হক্বদার। অন্যদিকে নারীদেরও উচিত নয় পুরুষের কয়টা স্ত্রী থাকবে এই নিয়ে মতামত দেয়া। উভয়টাই সীমালঙ্ঘন। আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। স্বামী যদি স্ত্রীদের মধ্যে বৈষম্য করে তার জন্য আইনের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আর আল্লাহ তার জন্য আখিরাতে শাস্তিও দিতে পারেন, ক্ষমাও করতে পারেন। একমাত্র শিরকের গোনাহ ছাড়া আল্লাহ যে কোন গোনাহই ক্ষমা করতে পারেন।

হেনরী কিসিঞ্জারের পলিসি

আজীবন মার্কিন প্রেসিডেন্টদের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জার্মান ইহুদী হেনরী কিসিঞ্জার।
বাংলাদেশের যুদ্ধপরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে হেনরী কিসিঞ্জার আন্তর্জাতিকভাবে একটি পলিসি তৈরী করে যা National Security Study Memorandum 200 বা NSSM200 নামে পরিচিত। এ পলিসি অনুসারে, তারা ১৩টি রাষ্ট্রের জনসংখ্যাকে তাদের নিজ দেশের নিরাপত্তা, নিজ নাগরিকদের আরাম-আয়েশ ও সম্রাজ্যবাদ টিকিয়ে রাখতে হুমকি বলে মনে করে। এই ১৩টি রাষ্ট্রের ১টি হচ্ছে বাংলাদেশ। (http://bit.ly/1Vx0lZx) এজন্য তারা এসব দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মিডিয়া ও সরকারের মাধ্যমে তাদের পলিসিগুলো বাস্তবায়ন করে থাকে। বুদ্ধি দিয়েই যদি কোটি কোটি মুসলমানকে আতুর ঘরে হত্যা করা যায়, তবে কষ্ট করে যুদ্ধাস্ত্র খরচ করার দরকার কি, বলুন ?

অথচ পাঠক ! একটু খেয়াল করুন-
এখন মানুষ ২টা বাচ্চা নিয়েও টাকা-পয়সার অভাবে সারাদিন হা-হুতাশ করে দিন কাটায়। অথচ আমাদের দাদি-নানীদের আমলে তারা ১২-১৫টা বাচ্চাকে দিব্বি খাওয়াইছে।
একটু হিসেব করে দেখুন-
চালের কেজি ৭০ টাকা হলে যদি ২ বাচ্চা খায়,
তবে চালের কেজি ৩৫ টাকা হলে ৪টা বাচ্চা খেতে পারবে।
আর চালের কেজি যদি ১৭.৫ টাকা হয় তবে ৮টা বাচ্চা খেতে পারবে।
বাচ্চা কমিয়ে কৃত্রিমভাবে পন্যদ্রব্যের দামবৃদ্ধি চলছে, তাহলে জনসংখ্যার উপর দায়টা আসছে কেন ??

আবার, জনসংখ্যা বলতে মিডিয়ায় শুধু ঢাকা শহরকেই দেখানো হয়।
কিন্তু ঢাকা শহরের আয়তন হচ্ছে মাত্র ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার, যেখানে থাকে ২ কোটি মানুষ ।
তাহলে ঢাকা শহরের জনসংখ্যার ঘনত্বে পুরো বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার বর্গমাইলে থাকতে পারবে- ৮১৬ কোটি লোক।
অর্থাৎ ঢাকা শহর যে পরিমাণ জনবহুল, পুরো বাংলাদেশও সে পরিমাণ জনবহুল হলে থাকতে পারবে ৮১৬ কোটি লোক। যদিও পুরো পৃথিবীর জনসংখ্যা এখনও সাড়ে ৬শ’ কোটি।
তারমানে আপনি শুধু রাজধানী ঢাকার জনবহুলতা দেখিয়ে পুরো দেশকে ইন্ডিকেট করেন তবে সম্পূর্ণ ভুল হবে।

পাঠক, তৃতীয় বিশ্বের মানুষরা এখনও হেনরি কিসিঞ্জারদের সাইকোজিক্যাল ওয়ারফেয়ার বুঝতে পারেনি, বরং তার বানানো তত্ত্বের উপর এখনও ওকালতি করে যাচ্ছে।

সংক্ষেপিত @ নয়ন চ্যাটার্জি

অল্প বয়সে বিয়ে হলে অনেক অসুবিধা (!) কিন্তু সুবিধা কি ?

অল্প বয়সে বিয়ে হলে নানান অসুবিধা হয় বলে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু অল্প বয়সে বিয়ে হলে যে অনেক সুবিধা হয়, সেটার ফিরিস্তি কিন্তু প্রচার করা হয় না।
যেমন ধরুন- একটা ছেলে ও একটা মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হলো। এতে তাদের সন্তানটি তাদের বাবা-মাকে অনেক সময় কাছে পায়। কিন্তু বেশি বয়সে বিয়ে হলে- ছেলে-মেয়ে অনেক সময় বাবা-মাকে বেশি সময় কাছে পায় না।
আমরা যে প্রজন্ম থেকে এসেছি, সেখানে আমরা বাবা-মাকে পেয়েছি, দাদা-দাদি, নানা-নানীকে পেয়েছি এবং অনেক ক্ষেত্রে দাদা-দাদী বা নানা-নানীর বাবা-মাকে পর্যন্ত দেখেছি।

কিন্তু এখন বাল্যবিবাহ বন্ধ করে নতুন সিস্টেমে যে প্রজন্ম আসবে তারা কিন্তু বাবা-মাকেই কম সময় পাবে, উপরে তো অনেক পরের বিষয়।
সামাজিক নিরাপত্তার জন্য দরকার টাকা-পয়সা বা আর্থিক সংস্থান। একজন বাবা চাকুরীতে থাকা অবস্থায় তার সন্তান যদি চাকুরীতে ঢুকে যায়, তখন ঐ পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা অধিক শক্তিশালী হয়। কিন্তু বেশি বয়সে সন্তান নিলে বাবা বৃদ্ধ বা অসুস্থ হয়ে যায়, কিন্তু সন্তান তখনও ছাত্র। এ ধরনের বিষয়গুলো সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করে।

আমরা দেখছি, বিয়ে বন্ধ করে ম্যাজিস্ট্রেট বলছে- “বিয়ে করবে না প্রেম করবে”। তার যুক্তি মতে, বিয়েতে যদি শারীরিক কুমারিত্ব শেষ হয়, তবে প্রেমের মাধ্যমে মানসিক কুমারিত্বের অবসান ঘটে। একটা মেয়ে ১২ বছর বয়সে প্রেম-ভালোবাসা শুরু করে, বিয়ে হয় ২৫ এ। মাঝে সময় তার বার বার মন দেয়া-নেয়া চলে। ফলে ১২ থেকে ২৫-এ যেতে সে বহুবার মনের দেয়া-নেয়া করে। ২৫শে বিয়ে করে স্বামীর সাথে মনের মিলন করবে কিভাবে, সেই মন তো সেকেন্ড হ্যান্ড হয়ে গেছে অনেক আগে। বিয়ে হচ্ছে পরিণত প্রেম-ভালোবাসার যায়গা। কিন্তু একটি মেয়েকে ক্ষণস্থায়ী প্রেম-ভালোবাসা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে, কিন্তু পার্মানেন্ট প্রেম-ভালোবাসার অবস্থানটা নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। এতে ঐ ছেলে বা মেয়েটিকে সংসারের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

সম্রাজ্যবাদীরা বাংলাদেশের বাল্যাবিবাহ বন্ধ করতে বলে। এই বাল্যবিবাহ বন্ধ করার যতগুলো কারণ আছে, তার মধ্যে অন্যতম- “কম বয়সে বিয়ে হলে বেশি সন্তান হবে।” আজকাল অনেকেই বলে, “বেশি সন্তান হলে এতগুলো ছেলে-মেয়ে মানুষ করতে পারা যায় না।” কিন্তু আমাদের দাদী-নানীরা ঠিকই ১০-১২টা সন্তান মানুষ করেছে, কেউ নষ্ট হয়নি।

আজকাল বাবা-মা বৃদ্ধ হলে বৃদ্ধনিবাসের কথা উঠে। এটা কাদের জন্য ? সেই সব ফ্যামিলির জন্য তাদের সন্তানের সংখ্যা কম। এক-দুই জন ছেলে মেয়ে হলে কারো না কারো সমস্যা থাকতেই পারে, কিন্তু সন্তানের সংখ্যা যদি ৫-৬টা হয়, তখন ? কেউ না কেউ অবশ্যই বাবা-মাকে দেখে।

সত্যিই বলতে, বিয়ের বয়স, সন্তানের সংখ্যা এগুলোর সাথে সামাজিক ব্যবস্থার একটি ওত-প্রত সম্পর্ক আছে। আমরা এখন যে সামাজিক ভিত্তির উপর দাড়িয়ে আছি, সেটাতে বাল্যবিবাহও ছিলো, অধিক সন্তানও ছিলো। কিন্তু এখন যারা পশ্চিমা প্রেসক্রিপশনে বিয়ের বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে, সন্তানের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে, তারা কি পশ্চিমা সামাজিক বন্ধন বা অবস্থার দিকে তাকিয়েছে ? আমরা যে সামাজিক বন্ধন ও ব্যবস্থা লালন করছি, সেটা দেখে পশ্চিমারা হিংসা করে। ওরা কিন্তু আমাদের মত বাবা-মা-দাদা-দাদী-নানা-নানীরসহ ফ্যামিলির স্বাদ পায় না, আর ভবিষ্যতে পাবেও না। কিন্তু ওদের কথা শুনে আমরা আমাদের এতদিনের লালন করা সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ওদের সমাজ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, এটা কি আদৌ ভালো করছি ? এখনও সময় আছে, ভেবে দেখুন।

@ নয়ন চ্যাটার্জী

জীবন যেখানে যেমন

এক।
-আন্টি, আপনার ঘাড়েতো চিরে গেছে। রক্ত! কী হইসে?
আন্টি চুপ।
-বলেন না প্লিজ! কী হইসে? ক্যামনে কাটসে?
-আমার ছেলে আমাকে আজকে আবারও মারসে।
আন্টির সাথে হওয়া এই কথোপকথনটা দুইদিন শেয়ার করছিলেন আমার স্ত্রী। বিষন্ন হয়ে গেলাম। তাকিয়ে দেখি উনিও কাঁদছেন।
.
দুই।
পাশের বাসায় দুই পিচ্চি আর আংকেল আন্টি যখন আসছিলেন তখন আমি স্কুলে পড়ি। আংকেলকে খুবই ভালো লাগতো দেখে। কী সুন্দর পাঁচ ওয়াক্ত সলাত পড়েন, মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেন নিয়মিত। সমস্যা একটাই। বক্সিং। নিয়মিত স্ত্রীর মুখটাকে পাঞ্চব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করতেন। মুখের ক্যানভাসে নানান সাইজের কালসিটে, চোখের উপর পরতের পর পরত ব্যান্ডেজ থাকায় আন্টিকে বীভৎস লাগতো। হাইস্কুলে পড়লেও আমার তখনো (একচুয়ালি কখনোই) মেরুদন্ড ছিলো না। শেষে রাত-দিন মারের শব্দ আর বুকচেরা তীক্ষ্ম চিৎকার পড়াশুনায় ডিস্টার্ব করতো, ফলে খুব বিরক্ত হতাম, এই যা! 
.
তিন।
প্রথম বিয়েতে স্বামীর মুখই দেখেননি, আর দ্বিতীয়টায় আর্মি অফিসার আর শাশুড়ির অকথ্য নির্যাতনে প্রায়ই বাপের বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হতেন তিনি। ওই পক্ষের যৌতুক আর উপহারের প্রতি মহাচাহিদার ফিরিস্তি না বলাই উত্তম। শেষবার যখন আসেন তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। সন্তান জন্ম দেয়ার পর তাঁরা একবার খোঁজ নিয়েছিলেন। কন্যাসন্তান হয়েছে শুনে আর ফেরৎ নেননি। লোকটির অনিয়ম আর অনৈতিক জীবনযাপনের বিরুদ্ধে স্ত্রীপক্ষ আদালতে যায়, প্রমাণিত হওয়ায় ভালো পজিশানে থাকা এই আর্মি অফিসারকে চাকরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই ডিভোর্সে গড়ায় ব্যাপারটা। 
.
এরপর আত্মীয় স্বজনের অপরূপ সুন্দর চেহারা আর সামাজিক সন্ত্রাসের যাঁতাকলের পেষণ কাকে বলে তার উদাহরণসহ সংজ্ঞা আরো একবার মুখস্থ করা হলো উনার। নারীবাদ জন্ম নিলো ভিতরে। নিজের মেয়েকে একাই বড় করবার জিদ নিয়ে যুদ্ধে নামলেন। এই যুদ্ধ পাঁচ বছর চললো। সমাজের আজাইরা সব নিয়মকানুনকে পাত্তা না দিতে শিখে গেলেন দাঁতে দাঁত চেপে। পাঁচ বছর পর পরিচয় হলো সত্যের সাথে। ইসলামকে বুঝলেন।
.
সমস্যা হলো ইসলামের সাথে পরিচয় হবার পর। মারাত্মক মেধাবী এই নারী নারীবাদের অসারতা টের পেলেন এবং মেনে নিলেন। আত্মসমর্পনে নুইয়ে দেয়া মাথা ও হৃদয়ে অনুভব করলেন সমাজ যেটা রিপ্রেজেন্ট করে সেটা ইসলাম না। ইসলাম তাঁকে জানালো অত্যাচারের বিপরীতে দাঁড়ানোটা তাঁর দায়িত্ব ছিলো। তিনি কোন অন্যায়তো করেনইনি বরং তাঁর সাথেই অন্যায় হয়েছে, তিনিই এবিউজড হয়েছেন বারবার যার গোঁড়ায় আছে সামাজিক সন্ত্রাসীদের পালন করতে থাকা বানোয়াট সামাজিক ধর্ম, ট্রেডিশান। প্রেম নামক জিনার সম্পর্ক এই সমাজে ঠিক চলে, মাথা উঁচিয়েই চলে, অথচ অত্যাচারিত হতে হতে খুন হয়ে গেলেও ইসলাম অনুমোদিত তালাক্ব দেয়া যাবে না! আজীবতো! তালাক্বপ্রাপ্তা হলে তুমি অস্পৃশ্যা, আর সেই তালাক্বপ্রাপ্তার সন্তান থাকলেতো একদম শেষ! এরপর ঘৃণা আর অত্যাচারের ষোলকলা পূর্ণ করাটা একনিষ্ঠ সমাজ পূজারী আত্মীয় স্বজনদের ধর্মীয় দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে যায়। সমাজের বাদবাকি অংশের কথা নাহয় হিসেবেই গুনলাম না।
.
অথচ নারীর ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান মোটেও এমন নয়। আল্লাহর রাসুল (সা) আর তাঁর সাহাবীরা তাদের সারাজীবনে নারীমর্যাদার অজস্র উদাহরণ প্রতিষ্ঠিত করে গেলেও তার প্রচলন আর চর্চার জীবনমুখী শিক্ষা এই তের পার্বনের অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশে ঠাঁই পায় না। সত্যশিক্ষা মেলে না। জীবনের বাঁকে বাঁকে অত্যাচারিতাদের তাই নারীবাদের সংকীর্ণতার কানাগলিতে মুক্তির চাবি খুঁজে মরতে হয়। ইসলামের খোলস লেগে থাকে কেবল পোশাক আর বাহ্যিকতায়। আচার-অর্চনায়। টাকার লোভ আর ফাঁদে। প্রাণহীন। ভালোবাসাহীন। মৃত, গলিত হয়ে। হৃদয়ে, কাজে ইসলামকে, এর ভালোবাসাময় বার্তাকে লালন করবে, করতে চায়, এমন প্রাণীদেরকে প্র‍্যাক্টিক্যালি সংখ্যালঘু বলা হয়। তবুও জানা হলো ইসলামকে। সত্ত্বাকে সঁপে দেয়া হলো অবশেষে। সত্যে।
.
পাঁচ বছর পর হেরে গেলেন। মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর নামের আরেকটা লোকের সাথে বিয়ে হলো। সেই বিয়ে নিয়ে সামাজিক জীবেরা মহাভারতের কুরুক্ষেত্র দ্বিতীয়বার মঞ্চস্থ করলেন। এবং আজ সেই মহানাটকের তিনশত ছেষট্টিতম দিন। কে জানে এবারে উনার কপালে কী জুটেছে? সময়ই বলে দেবে।
.
মানুষগুলোর জন্যে দুয়া করি, ঘৃণা না। আপনার-আমার ঘেন্নায় তাদের কিচ্ছুটা ক্ষতি হয় না, হবে না। ক্ষতিটা আপনার। আমার। নিজের মা-বোনের ক্ষতিতে, মানুষের কষ্টে যদি কান্নার বদলে ঘেন্না আসে, অপমান করবার জন্যে খোঁড়াযুক্তির স্পৃহা আর অসুরতা ভর করে হৃদয়ে, তখন সেই হৃদয়টা কি মানুষের নাকি অন্য কারো সেই প্রশ্নটা নিজেকে একবার করা যেতেই পারে।
.
ভালো থাকুক আমার মায়েরা। বোনেরা। পরিবার নিয়ে হোক কিংবা একা। বিশ্বাস করুন পুরো সমাজ আপনাকে ঘেন্না করলেও আপনার স্রষ্টা, আপনার প্রতিপালক আপনাকে কক্ষণো ফেলে দেবেন না। তাঁর দিকে ফিরে আসুন সন্তুষ্ট হয়ে। ইসলাম আপনারই সম্পদ, সামাজিক সন্ত্রাসের না।
.
নিজের সম্পদকে জানুন। ফিরিয়ে নিন জীবনে। পূর্ণভাবে।
.
আর আমার মতো আপনার এইসব অথর্ব মেরুদন্ডহীন মুসলিম ভাইদের মাফ করে দিন। মন থেকে। প্লিজ।

লিখেছেনঃ Mohammed Touaha Akbar