নারী-আত্মা

আমি খুব ভালো ভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, এবং আমার এই বিষয়ে আর কোন ডাউট নেই যে নারীদের জীবনের প্রথম ও প্রধান চাহিদা হলো যৌনতা ও নিরাপত্তা। না মা হওয়া, না লেখাপড়া করে ভালো চাকরী করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। এগুলো কিছুই নয়। যদি থাকত তাহলে অবশ্যই ইসলাম এ বিষয়গুলোকে খুব ভালোভাবে এড্রেস করত। আমরা যারা ইন্টারনেটে কাজ করি তারা জানি ইন্টারনেট হচ্ছে মেয়েদের ছবি দিয়ে ভর্তি। এতো লক্ষ লক্ষ নারী কারা? এরা তো আমাদের এই সামজেরই। একজন নারী বেপর্দা হয়ে কেন বাইরে যায়? স্কুল কলেজ শপিং মল অফিস সব জায়াগায় বেপর্দা নারী কেন? এর কারণ ঐ নারীগুলো তার সেকসুয়াল লাইফে সেটেলড নয়। তার অতৃপ্ত নারী-আত্মা কামনা করে তাকে মানুষ দেখুক। তার প্রয়োজন ছিল একজন পুরুষ সঙ্গী। কিন্তু তাকে জোরপূর্বক পুরুষ সঙ্গী থেকে বঞ্চিত করে তাকে পাঠানো হয়েছে খাতা কলম দিয়ে স্কুলে। হা হা। পুরুষের চাহিদা কি খাতা কলমে পূর্ণ হবে। কে এই কাজ করলো? – এই দাজ্জালিক সমাজ ও মেয়েটির পরিবার, তার বাবা মা।

যার ফলে আমরা কি দেখি, দুই বেনি করে স্কুলে যাওয়া মেয়েটি খোলা রাস্তায় তার সহপাঠীকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলে যা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। একজন নারীর মনে রাখা উচিৎ, যে ছেলে তার ছবি তুলবে এটা সে নেটে দেয়ার জন্যই তুলবে। কম্বলের নীচে শুয়ে তার কথা মনে করে চোখের পানি ফেলার জন্য নয়।

একজন নারীর সেক্সুয়াল চাহিদা শুরু হয় কমবেশি ১৫ বৎসর বয়সে। তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ বানিয়ে বিয়ে দেয়া হচ্ছে ২০, ২৫ এমনকি ২৭ বৎসর বয়সে। এই যে তার অতিরিক্ত এতোগুলো বৎসর অতিক্রান্ত হলো কোন পুরুষ সঙ্গী ছাড়া এর ফিডব্যাক কি? কেন তার যৌন অধিকার নষ্ট করা হলো? আপনি কি নদীতে বাঁধ দিতে চান? তাহলে সে তার অন্য গতিপথ করে নিবেই। হালাল জিনিস না পাওয়া গেলে হারাম খাওয়াও জায়েজ হয়ে যায়। কেন, তার তো জীবন বাঁচাতে হবে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে হালালকে সরিয়ে রাখা কোন উপায়েই জায়েজ নয়। আজকে মা বাবারা তাদের মেয়েদের হালাল পুরুষ সঙ্গী পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সে তো হারামের দিকে ঝুঁকবেই। তার জীবনটাতো আগে বাঁচাতে হবে। ফলে স্বামীর জায়গা দখল করে সহপাঠী, মাস্টার মশায়, ভাড়াটিয়া, কাজিন, অফিসের বস, ইউনিভার্সিটির বড় ভাই।

আর একজন মেয়েকে আপনি বিয়ে দিবেন ৩০ -এ। তার তো ৪০ এ রিপ্রোডাক্টিভ এজ শেষ। কি দিল সে এই সমাজকে? জাতিকে? সার্টিফিকেটের কাগজ? হা হা। ১৭ বৎসরে বিয়ে হওয়া যে মেয়েটা স্বামী, সন্তান ও অর্থ সম্পদে ভরপুর, আর জীবনের স্ট্রাগলিং সমাপ্তির পথে, তখনও তার বাল্য বান্ধবী বন্ধুদের সাথে ফুচকা খায়, আর উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে, সে তো এখনও লাইফ ব্যাটলের মুখই দেখে নাই। কবে জীবন যুদ্ধে নামবে আর সে যুদ্ধে জয়ী হবে? আগে মাঝে মাঝে পাত্রপক্ষরা দেখতে আসতো, এখন তাও আসে না।

একজন মেয়ে তার যৌনজীবনে সেটেলড, তার সকাল হয় পরিতৃপ্তির সাথে। তাকে সকালে নাস্তা বানানোর কথা বলতে হবে না, সে বিরক্ত মুখে তাকাবে না। সে কখনো বেপর্দায় রাস্তায় বের হবে না। তার তো মানুষকে প্রদর্শন করার দরকার নেই।

মেয়েদের অভিভাবকদের বলা হচ্ছে, “যদি এমন কেউ তোমার কাছে বিয়ের পয়গাম নিয়ে আসে – যার চরিত্র ও তাক্বওয়া সন্তোষজনক, তাহলে তার কাছে তোমার মেয়েকে বিয়ে দাও। যদি এমনটি না করো, তাহলে পৃথিবী মারাত্মকরকম ফেতনা ও বিপর্যয়ে ভরে যাবে। (তিরমিযী) – এর চেয়ে আর পরিষ্কারভাবে রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে বলতে পারতেন?

কুরআন বলে, আর বিয়ে দাও তোমাদের মধ্যে অবিবাহিতদের, যদি তারা দরিদ্র থাকে, আল্লাহ্‌ তাদের ধনী করে দিবেন। আল্লাহ্‌ প্রাচুর্যময়, তোমরা কি করো আল্লাহ্‌ দেখেন। (সূরা আন-নূর, ২৪ঃ৩২)

কুরআন হাদীসের আয়াত অবজ্ঞা করার শাস্তি মা বাবা ও দাজ্জালিক সমাজকে পেতে হবে। They deserve it.

Insatiable Woman

ট্যাগঃ #  নারী # বিবাহ # বিয়ে # পরকীয়া

মন্তব্যগুলো পড়তে বিস্তারিত পড়ুন-এ ক্লিক করুন।

বিস্তারিত পড়ুন

নারী ও পারফিউম

পারফিউমের সুন্দর অর্থ হাদিসে আছে। আমার মনে হয় এতো সুন্দর অর্থ আর কেউ দেয়নি যে সংজ্ঞা রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন তার চেয়ে।

পুরুষদের পারফিউম হলো যার গন্ধ প্রকাশমান কিন্তু রং লুকায়িত। আর মেয়েদের পারফিউম হলো যার রং প্রকাশমান কিন্তু গন্ধ লুকায়িত। সুনবহানআল্লাহ্‌। হোয়াট এ নাইস ডেসক্রিপশন!!

নবীজী হযরত মুহাম্মাদ সা বলেন, এ পৃথিবীতে আমার পছন্দের জিনিস হচ্ছে নারী ও পারফিউম। আর আমার চোখের শীতলতা সালাতে।

ওয়াল্লাহি, কত সুন্দর কথা। এতো স্পষ্ট সুন্দর সত্য কথা পারবে কেউ বলতে?

https://sunnah.com/search/?q=Women+Perfume

নারী পুরুষের সম্পর্ক ও আখেরী জামানাহ

ইসলাম নারী পুরুষের সমন্বয়ে একটি গতিশীল সমাজব্যবস্থায় বিশ্বাসী। নারীদের জন্য সবচেয়ে বেশী জরুরী হচ্ছে তার যৌনতা ও নিরাপত্তা। নারীদের মা হওয়াও এতো জরুরী নয় যতটা বেশী জরুরী সে যৌনতার দিক দিয়ে সেটেলড থাকা। দাজ্জালী সমাজব্যবস্থায় নারীদের ক্যারিয়ারকে বড় করে দেখানো হয়। পলিগ্যামি ও মাল্টিম্যারেজকে সমার্থকরূপে দেখানো হয়। পলিগ্যামি মানে বহুবিবাহ / মাল্টিম্যারেজ মানেও বহুবিবাহ। কিন্তু এটা আমাদের কাছে আশ্চর্য বিষয় নয় যে আমরা যারা শেষ যুগ বিষয়ে অধ্যয়ন করি, দাজ্জালী সমাজব্যবস্থায় পলিগ্যামি নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু মাল্টিম্যারেজ নিষিদ্ধ। ঘরে এক স্ত্রী রেখে আরো অসংখ্য নারীর মধুপান করলেও তা দোষনীয় নয়। পৃথিবীর কোন আদালতে এর বিচার হবে না। অধিকন্তু সেই স্ত্রী নারীটি যদি স্বামীর এ লাম্পট্যের কথা প্রকাশ করে তাহলে স্ত্রী বেচারাকেই সমাজের কাছে হাস্যস্পদ হতে হয়। মানুষ বলে, আরে, পুরুষের ও একটু আধটু মুদ্রাদোষ থাকেই। বর্তমান জমানায় এর চেয়ে ভালো ছেলে কোথায় পাবে? অথবা মন্তব্য জোটে, তুমিই বোধহয় তোমার স্বামীকে খুশী রাখতে পারো নি। এক কথায় পলিগ্যামির কোন বিচার নেই। ওয়েস্টার্ণ কালচারে যান, বা ওয়েস্টার্ন কালচারে অভ্যস্ত আমাদের দেশের শো বিজ জগত বা সভ্য সমাজে তাকান পলিগামি সেখানে কোন বিষয় নয়, বরং ডালভাত। কিন্তু আপনি যে মেয়েটার সাথে যৌনতা করতে চান তাকে কিছু স্বর্ণ বা মুদ্রা মোহরানা দিয়ে তাকে সম্মানিতা করুন, তার জীবনের চলার পথে সাথী হোন, তখন সবাই বলবে, আরে বাপরে বাপ, কত বড় আনকালচার্ড। ছিঃ এই যুগে কেউ দুই বিয়ে করে? হয়তো আপনার প্রথমা স্ত্রীর বাপ ভাইয়েরা বলবে, এই একে জেলে ঢুকানোর ব্যবস্থা করা হোক। আমাদের মেয়ে সতীনের সংসার করবে, হতেই পারে না। — আসলে এই লোকগুলোই দাজ্জালী সমাজব্যবস্থার ব্রেন ওয়াশড প্রোডাক্ট। তারা মোটেই ইসলাম বুঝে নাই। হতে পারে তারা আলেম মাওলানা মুফতি, কিন্তু তাদের ব্রেনে দাজ্জালের পেশাব ছাড়া আর কিছুই নেই। আমার পরিচিত এক ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করাতে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে এসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। সে লোকগুলো আলেম ছিল, হাফেজ ছিল।

একটি গতিশীল সমাজব্যবস্থার জন্য পলিগ্যামি অপরিহার্য। ইসলাম কিন্তু পলিগ্যামিকে উৎসাহিত করে। তবে তা নিয়মের মাধ্যমে। সেটা হলো মাল্টিম্যারেজ। মাল্টিম্যারেজ যে শুধু ছেলেদের জন্যই তা কিন্তু নয়। অনেকে ভুলবশত মনে করে ইসলাম শুধু ছেলেদের মাল্টিম্যারেজের অধিকার দিয়েছে। একেবারে ভুল তথ্য। মেয়েরা স্বামী থেকে তালাক নিয়ে বা বিধবা হলে ইদ্দত পালনের পর পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। সন্তানের পিতা নির্ণয়ের জন্যই এটা জরুরী। স্বামীকে যদি ভালো না লাগে বা তার ভরণপোষনে সন্তুষ্ট না হলে একজন নারীর সুযোগ আছে তার থেকে বিচ্ছেদ নিয়ে অন্য স্বামী গ্রহণ করার। ইসলাম গতিশীল। ইসলাম মানুষের শারীরিক ও মনের চাহিদাকে মূল্যায়ন করে।

একজন নারী রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, আমি আমার স্বামী থেকে তালাকের পর ইদ্দত পালন শেষ দ্বিতীয় একজন ব্যক্তিকে বিয়ে করি। কিন্তু এর কাছে তো কাপড়ের পুটলির মতো ছাড়া আর কিছুই নেই। বলে তিনি তার চাদর দিয়ে কাপড়ের পুটলি বানিয়ে দেখাতে লাগলেন। নবীজী সা মুচকি হেসে বললেন, এখন কি তাহলে তুমি আগেরজনের কাছে ফিরে যেতে চাও? কিন্তু তা হবে না যতক্ষণ তুমি তার মধু পান না করছো এবং সে তোমার মধু পান না করছে। লা- হাত্তা তাযুকি উসাইলাতাহু ওয়া ইয়াযুকা উসাইলাতাক।

আজ এই আধুনিক সমাজে কোন নারী এই স্বাধীনতা প্রকাশ করতে পারবে? হয়তো হৃদয়ের চাহিদাকে মেরে ফেলে মুখ বুজে সব মেনে নিবে অথবা অন্তরের বাসনা পূরণ করার জন্য হারাম উপায়ের আশ্রয় নেবে। আর আধুনিক যুগে হারাম উপাদান, হারাম সম্পর্ক, হারাম মানুষ হাতের নাগালে, সহজলভ্য। বরং বিবাহ তালাক সব কিছু এমন কঠিন করে ফেলা হয়েছে যে মানুষ সহজে হালাল রাস্তা অবলম্বন করতে চায় না।

আজকের যুগের অনেক আলেম উলামা রাসূল সা এর অনেক স্ত্রী নিয়ে মনে হয় বিব্রত বোধ করেন। তারা মিনমিনে স্বরে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন যে, এতোগুলো স্ত্রী আসলে ইসলামের প্রয়োজনে ছিল। দ্বীনের দাওয়াতের সুবিধার জন্য। কিন্তু তারা কাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন? যেসব মুনাফিক কাফেররা নিজেরাই পলিগ্যামির জীবনে অভ্যস্ত তাদের কাছে কিসের সংকোচ? আলেমরা কেন উঁচু গলায় বলেন না, পলিগ্যামি ও মাল্টিম্যারেজ রাসূল সা-এর প্রিয় সুন্নত। নারী ও পারফিউম। আর চোখের শীতলতা ছিল সালাতে। এতে দ্বীনের স্বার্থ যেমন ছিল তার চেয়ে কোন অংশে কম ছিল না নারী ও পুরুষদের যৌন ও সামাজিক জীবন পবিত্র ও গতিশীল রাখার উদ্দেশ্য। শুধুমাত্র মিসওয়াক ও ঢিলা কুলুখের সুন্নত পালন করলে হয়তো শরীর পরিষ্কার থাকবে। কিন্তু মাল্টি ম্যারেজের সুন্নত সমাজে চালু হলে সমাজ পবিত্র থাকবে।

যেসব নারীরা দ্বীনী বিষয়ে অগ্রগামী তারাও বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেন না। যদি তারা রাসূল সা এর এই সুন্নতকে মন প্রাণ দিয়ে গ্রহণ না করেন তবে আমার আশংকা হয় তারা শেষ যুগে দাজ্জালের দলেই থাকবেন, ইমাম মাহদী য়ালাইহিস সালামের দলে শামিল হতে পারবেন না।

২।। উম্মুল মু’মিনীনদের মধ্যে হযরত যায়নাব বিনতে জাহাশ রাযি আমার খুব বেশী প্রিয়। তিনি সেই সাহাবী যার থেকে ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর ছিদ্র হওয়ার হাদীসটি প্রকাশ পেয়েছে। তাই ইসলামী ইস্কেটোলজির একজন ছাত্র হিসেবে তার প্রিয় হওয়ার কারণ আছে। এছাড়া তার মাধ্যমে শেষ যুগের বিয়ে শাদী সম্পর্কিত অনেক মাসায়েল আদব ও আচার অনুষ্ঠান শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

তিনি এমন একজন মানুষ যার কথা কুরআনে এসেছে। তিনি ছিলেন হযরত যায়েদ রাযি এর স্ত্রী এবং রাসূল সা এর ফুফাতো বোন। যায়েদ রাযি ছিলেন রাসূল সা এর প্রথমা স্ত্রী হযরত খাদিজা রাযি এর গোলাম। রাসূল সা পরে তাকে আযাদ করে পোষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। যায়েদ রাযি প্রথম চার জনের একজন যারা ইসলাম গ্রহণ করেন। কিন্তু কুরাইশ বংশীয় নারী হিসেবে একজন আযাদ হওয়া গোলামকে যায়নাব রাযি মেনে নিতে পারছিলেন না। তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। যায়েদ রাযি-ও তালাক দিতে চাচ্ছিলেন। রাসূল সা যায়েদ রাযি কে উপদেশ দেন সম্পর্কটাকে ধরে রাখতে। কিন্তু আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ছিল ভিন্ন। আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ছিল যায়নাব রাযি রাসূল সা এর স্ত্রী হবেন।

ইসলাম ধর্ম কিন্তু যায়েদ বা যায়নাব রাযি কে বাধ্য করেনি তার মনের বিপরীতে সংসার করার জন্য। কারণ ইসলাম হচ্ছে গতিশীল। যায়েদ কর্তৃক তালাক প্রদানের পর ইদ্দত পূর্ণ হলে আল্লাহ্‌র রাসূল যায়েদ রাযি-কে পাঠালেন তার পক্ষে বিয়ের প্রস্তাব দিতে। দেখুন ইসলাম কিন্তু এমন করেনি যে তালাকের মাধ্যমে সম্পর্ক চিরশত্রুতায় রূপ নেবে। বরং গাইরে মাহরাম হিসেবে একজন মুসলমানের সাথে আরেকজন মুসলমানের যতটুকু সম্পর্ক থাকা দরকার ততটুকুই থাকবে।

যায়েদ রাযি তার কাছে গেলেন। সে সময় যায়নাব রাযি আটার খামীর বানাচ্ছিলেন। যায়েদ রাযি বলেন, যায়নাবকে দেখে আমার খুব গুরুগম্ভীর ও মর্যাদাসম্পন্ন মনে হলো। কেননা খোদ রাসূল সা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাই আমি তার দিকে তাকাতে পারলাম না। আমি তার দিকে পিঠ ফিরিয়ে বললাম, হে যায়নাব, রাসূল সা আমাকে তোমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পাঠিয়েছেন। যায়নাব রাযি বললেন, আমি আমার রবের সাথে পরামর্শ ছাড়া কিছু করতে পারি না। তাই তিনি ইস্তেখারার সালাত পড়তে চলে গেলেন। এদিকে কুরআনে আয়াত নাযিল হলো, তাই রাসূল সা এর জন্য আর অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন হলো না। তিনি যায়নাবের ঘরে গেলেন। বেশ বেলা হলে রাসূল সা সবাইকে রুটি ও গোশত খাওয়ালেন। এভাবেই রাসূল সা একটি বকরি জবাইয়ের মাধ্যমে যায়নাব রাযি এর বিয়ের ওয়ালিমা করলেন। রাসূল সা আর কোন স্ত্রীর জন্য এতো আয়োজন করেন নি।

উপস্থিত লোকদের অনেকে চলে গেলেও কিছু লোক বসে রইল। ফলে রাসূল সা-ও বসে রইলেন আর যায়নাব রাযি ঘরের দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে রইলেন। তখন আল্লাহ্‌ আয়াত নাযিল করলেন যাতে গৃহস্বামীর বাড়ির আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। অযথা গল্পে মশগুল হয়ে যেন বাড়ির মালিককে কষ্ট দেয়া না হয়।

এরপর পর্দার আয়াত নাযিল হলো। আনাস রাযি ঘরে প্রবেশ করতে গেলে রাসূল সা পর্দা টেনে আড়াল করে দিলেন।

৩।। আজকাল বেগানা নারী পুরুষের মধ্যে আড্ডা দেয়ার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। এরকম আড্ডা থেকেই কত যে কেলেঙ্কারী হয়। ঘরে স্ত্রী রেখে বাহিরে বন্ধু বান্ধবীদের সাথে আড্ডায় সময় নষ্ট করাকে পৃথিবীর কোন আইন নিষেধ করবে না। এখান থেকেই উৎপন্ন হয় মাদকসেবীরা, ড্রিঙ্কস করে আর নাচে গানে ভরপুর করে তোলে। কিন্তু যখন বলা হয় এরকম আড্ডা দিয়ে নিজের জীবনকে ক্ষত বিক্ষত না করে বিয়ে করো, আড্ডা দিতে চাও তো একাধিক বিয়ে করো। কি বলবে সভ্যসমাজ কল্পনা করতে পারেন?

রাসূল সা এর নয় জন স্ত্রীর মধ্যে তিনি পালাবন্টন করে থাকতেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে নবম দিনে এসে পৌঁছতেন। যে ঘরে নবী সা যেতেন সেই ঘরে সব স্ত্রী এসে রাতের প্রথম ভাগে একত্রিত হতেন। কত যে হৃদয়ের অনুভব হাসি মান অভিমান সেসবে জড়িয়ে ছিল তা অধমের কলম ধারণ করতে অক্ষম। বাতিহীন অন্ধকার ঘরগুলোতে আলো হতো জান্নাত থেকে। একদিন নবিজী সা আয়েশা রা এর ঘরে ছিলেন। ইতিমধ্যে যায়নাব রাযি এলেন। রাসূল সা তার দিকে হাত বাড়ালেন। আয়েশা রাযি বললেন, এ তো যায়নাব। তখন নবী সা হাত গুটিয়ে নিলেন। এ নিয়ে আয়েশা ও যায়নাব রাযি বাক্য বিনিময় করলেন। এমনকি তা কথা কাটাকাটিতে পরিণত হলো। ইতিমধ্যে সালাতের ইকামত দেয়া হলো আর আবু বকর রাযি সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কথা শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল আপনি ওদের এসব রেখে সালাতের জন্য আসুন তো।

নবীজি সা বেরিয়ে গেলে আয়েশা রাযি বললেন, এখনই সালাত শেষ হবে আর আমার পিতা আবার আসবেন এবং আমার সাথে যা আচরণ করার তাই করবেন। নামায শেষ হলে আবু বকর রাযি আবার আসলেন, এবং কঠোর ভাষায় তার মেয়েকে (আয়েশা রাযি) তিরস্কার করলেন, “তুমি কি তার সাথে (যায়নাব রাযি) এমন আচরণই করে থাকো?”

সতীনের সাথে কিরূপ আচরণ করতে হয় তা আমাদের বাবারা তাদের মেয়েদের শিক্ষা দিবেন কবে? আজকাল তো সতীন থাকলে মা বাবা তাদের কুমারী মেয়েদের সেখানে বিয়েই দেন না। যেন এটা বিরাট এক অপরাধ।

৪।। আর আমাদের মেয়েরাই বা কবে সতীনের সাথে হাসি আনন্দ মান অভিমানে সময় কাটিয়ে জীবনকে স্মৃতিময় করে রাখবেন? টিভি সিরিয়াল বা সিনেমা দেখে আমাদের মেয়েরা তো ব্রেন ওয়াশড, সতীন মানেই ঝগড়া, সতীন মানেই তার একার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

রাসূল সা এর এক স্ত্রী ছিলেন সাওদা রাযি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর প্রকৃতির মহিলা। কিন্তু আয়েশা রাযি তাকে এতো বেশী ভালোবাসতেন যে আয়েশা রাযি-র কাছে তার চেয়ে বেশী প্রিয় কোন স্ত্রীলোক ছিল না। আয়েশা রাযি বলতেন, ইস্ সাওদার দেহের ভেতর যদি আমি থাকতে পারতাম। অর্থাৎ আমি যদি সাওদা হতাম। সাওদা রাযি-র বয়স যখন একটু বেড়ে যায় তখন এমনকি তার পালার দিন তিনি আয়েশা রাযি কে দিয়ে দিলেন। সুতরাং আয়েশা রাযি রাসূল সা-কে দুই দিন পেতেন।

রাসূল সা-ও আবার তার সব স্ত্রীর দিকে নযর রাখতেন। উম্মু সালামা রাযি-র সাথে বিয়ের পর তার সাথে একাধারে ৩ দিন থাকেন। তারপর তাকে বলেন, তুমি তোমার স্বামীর কাছে নগণ্যা নও। আমি চাইলে তোমার কাছে ৭ দিনও থাকতে পারি, তবে সেক্ষেত্রে আমার অন্যান্য স্ত্রীদের কাছেও তো ৭ দিন থাকতে হবে। এভাবে বুঝিয়ে বলেন।

আমরা জীবনে কতদিন আমাদের ‘এক স্ত্রীর’ কাছে একথা বলেছি, তুমি তোমার স্বামীর কাছে নগণ্যা নও? বরং সেই এক স্ত্রী-ই যে কত নগণ্য তার প্রমাণ হরহামেশাই দেয়া হয় আর তা লোকেদের চোখও এড়ায় না।

৫।। আজকাল মেয়েরা স্বামীর সাথে কিভাবে মজা করতে হয় তাও বোধহয় ভালোভাবে জানে না। শুধু তাদের চাহিদা ঠিকঠাক পূরণ হলেই হলো। ফলে সংসার থেকে বিদায় নেয় আমোদ আনন্দ। আর জীবন হয়ে পড়ে একঘেয়ে। ফলে মানুষ আনন্দের জন্য পিকনিক জন্মদিন কত কিছুই না করে।

একবার ওমর রাযি এর মেয়ে হাফসা রাযি-র ঘরে গেলে তিনি রাসূল সা-কে মধুর শরবত পান করান। রাসূল সা -এর অন্য স্ত্রীরা ফন্দি করলেন কিভাবে একটা মজা করা যায়। রাসূল সা সাওদা রাযি -র কাছে গেলে তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আপনি কি মাগাফির খেয়েছেন? তিনি বললেন, না তো। সাওদা রাযি বললেন, তাহলে এই দুর্গন্ধ কিসের? রাসূল সা বললেন, হাফসা আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। সাওদা বললেন, হুম, তাহলে মৌমাছি বোধহয় মাগাফির ফুল থেকে মধু পান করেছে। রাসূল সা এর মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এটা শুনে নবীজী খুবই বিব্রত হলেন।

একটু পর প্লান অনুযায়ী আয়েশা রাযি একইভাবে তাকে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, গন্ধ কিসের? আবার একটু পর সাফিয়া রাযি -ও একইরূপ কথা বললেন।

এদিকে হাফসা রাযি এতো ঘটনা জানেন না। পরবর্তীতে রাসূল সা আবার হাফসা রাযি-র কাছে গেলে তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি কি আপনাকে ঐ জিনিস (মধুর শরবত) পান করাবো? রাসূল সা বললেন, না আমার আর তাতে প্রয়োজন নেই।

ফলে রাসূল সা -এর স্ত্রীরা খুব দুঃখ পেলেন, সাওদা রাযি বলতে লাগলেন, “সুবহানআল্লাহ, আল্লাহ্‌র শপথ, আমরা তার জন্য তা হারাম করে দিলাম?” আয়েশা রাযি, বলতে লাগলেন, “চুপ করো।” হাসিখুশি মজা করতে গিয়ে সবাই দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে পড়লেন।

৬।। আমাদের মেয়েরা কোনভাবেই স্বামীকে শেয়ার করতে চায় না। রাসূল সা-কে এজন্য কোন অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়নি। রাসূল সা এর স্ত্রীরা তাদের স্বামীকে শেয়ার করতে কোন সংকোচ বোধ করেন নাই। এতে তাদের মান ইজ্জত মাটিতে মিশে যায় নাই। আমাদের মেয়েরা কি রাসূল সা এর স্ত্রীদের চেয়েও নিজেকে মূল্যবান মনে করেন?

রাসূল সা এর স্ত্রীরা নিজের থেকে তার জন্য পাত্রী খুঁজে আনত। আবু সুফিয়ান রাযি এর মেয়ে উম্মু হাবীবা রাযি একবার রাসূল সা কে বলে বসলেন, আমার বোনকে কি আপনার প্রয়োজন আছে? রাসূল সা বললেন, তার জন্য আমি কি করতে পারি বলো। উম্মু হাবীবা বলেন, তাকে বিয়ে করুন। রাসূল সা বললেন, তুমি কি তা চাইবে? উম্মু হাবীবা রাযি বললেন, কেন নয়? শুধু একাই তো আমি আপনার স্ত্রী নই। আপনার তো আরো স্ত্রী আছে। আর ভালো কাজে যে আমার অংশীদার হবে সে আমার বোন হোক তা আমি সবচেয়ে ভালো মনে করি। রাসূল সা বললেন, সে আমার জন্য হালাল নয়। উম্মু হাবীবা তখন বললেন, তাহলে আপনার আরেক স্ত্রী উম্মু সালামার আগের ঘরের মেয়ে দুররাকে। রাসূল সা বললেন, সেও তো আমার জন্য হালাল নয়। কারণ সে আমার স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তান। আর তাছাড়া উম্মু সালামার আগের স্বামী আবু সালামা সে তো আমার দুধ ভাই। হালিমার কাছে যাওয়ার পূর্বে আবু লাহাবের দাসী সুয়াইবিয়া কিছুদিন রাসূল সা কে দুধ পান করিয়েছিলেন। আবার আবু সালামাও সুয়াইবিয়ার দুধ পান করেছেন। আর দুধ চাচার সাথে আপান চাচার মতোই বিয়ে হারাম। সুতরাং তোমরা আমার কাছে তোমাদের কন্যা ও বোনদের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসো না।

৭।। এভাবে ইসলাম মানুষের দাম্পত্য জীবন বা যৌন জীবনকে সবসময় গতিশীল রেখেছে। বিয়ে শাদীর এতো উদার নীতির পরও ইসলাম মালাকাল ইয়ামীনের ব্যবস্থা রেখেছে। মালাকাল ইয়ামীন হলো মালিকানাভুক্ত নারী। ইংরেজীতে এদের বলে Right hands possess, এরা দাসী নয়। বরং এসব নারীরা নিজের থেকে নিজেকে কোন পুরুষকে দান করে। শেষ যুগে মালাকাল ইয়ামীনের বিরাট ভূমিকা আছে। দাজ্জালী সমাজ আমাদের মালাকাল ইয়ামীন শব্দটা ভুলিয়ে দিয়েছে। আলেম উলামারাও এখন শব্দটি ব্যবহার করতে লজ্জা পান। বিব্রত বোধ করেন। কিন্তু রাসূল সা যা পছন্দ করতেন তা নিয়ে বিব্রত হওয়া কি কোন শুভ কাজ হতে পারে?
রাসূল সা তার জীবনের শেষ কথা বলেছেন, সালাত, সালাত, আল্লাহ্‌কে ভয় করো তোমার মালাকাল ইয়ামীনদের ব্যাপারে। আজকে আলেমদের কাছে এই হাদীস শোনা যায় না। তার মালাকাল ইয়ামীনদের কথা উচ্চারণ করেন না। কখনো যদিওবা করেন, তবে তার ভুল ব্যাখ্যা করেন। মালাকাল ইয়ামীনদেরকে দাসী বলেন।

আয়েশা রাযি তাদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করতেন যেসব নারী নিজেদের রাসূল সা এর প্রতি হেবা বা দান করেছিলেন। তিনি ভাবতেন কোন নারী কি নিজেকে একজন পুরুষের কাছে দান করতে পারে? কিন্তু আল্লাহ্‌ তায়ালা আয়াত নাযিল করলেন, “হে নবী যেসব মেয়েরা আপনার জন্য নিজেদের দান করে তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আপনি নিজের কাছে স্থান দিন, যাকে ইচ্ছা দূরে সরিয়ে দিন।” এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর আয়েশা রাযি রাসূল সা-কে বললেন, ওয়াল্লাহি, আমি দেখছি, আল্লাহ্‌ তো আপনার ইচ্ছা মাফিক দ্রুত হুকুম নাযিল করেন।

কাজেই এমন সমাজ ব্যবস্থায় নারী পুরুষের যৌনতার স্বাধীনতা হালাল উপায়ে সংরক্ষিত হয়। এটাই রাসূল সা-এর সুন্নাত। আর এটাই কাফের সমাজের বাছবিচারহীন পলিগ্যামির সাথে মুসলিম সমাজের পলিগ্যামির পার্থক্য গড়ে দেয়। যেখানে কাফেরদের সমাজ মুখ থুবড়ে পড়ে, সেখানে মুসলমানদের সমাজ সচল ও গতিশীল থাকে।

একজন নারীর স্বাধীনতা চাকরী করার মধ্যে নয়, ডাক্তার ইঞ্জিনীয়ার, পাইলট, জজ ব্যারিস্টার হওয়ার মধ্যে নয়। একজন নারীর স্বাধীনতা হালাল উপায়ে তার যৌন ইচ্ছা পূরণ করার মধ্যে। ইসলাম নারীদের এই সম্মান দিয়েছে। আর কাফের ও মুনাফিকরা নারীদের যৌন আকাঙ্খাকে পূজি করে তাদের পণ্য বানিয়েছে।

মুসলিম সমাজের উচিৎ লক্ষ লক্ষ টাকা দেনমোহর, গায়ে হলুদ, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ওয়ালিমার ভোজ খাওয়ানো ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় বিষয় পরিত্যাগ করা ও ইসলাম নির্দেশিত নারী পুরুষের সম্পর্কের গতিময়তাকে বাঁধা না দেয়া।

হাল আমলে কিছু সুন্নতপ্রেমী লোকদের মধ্যে মসজিদে বিয়ে করানো, ইজতেমায় বিয়ে করানো, ফাতেমী মোহর প্রদান করা ইত্যাদি বিষয়ে সুন্নতের নামে খুব বাড়াবড়ি লক্ষ্য করা যায়। অথচ এগুলো আদৌ উল্লেখযোগ্য কোন আমল নয়। বরং বহুবিবাহ, মোহর, মালাকাল ইয়ামীন, তালাক ইত্যাদি যেসব বিষয়ে আমাদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন ও হাদীসে বারবার আলোচনা করা হয়েছে সেসব বিষয়ে মানুষ কতই না উদাসীন। মুসলমানদের পুনরায় একটি শক্তিশালী সমাজ গঠনের জন্য মূলের দিকে ফিরে আসার কোন বিকল্প নেই।

ছবি গ্যালারীঃ

মালাকাল ইয়ামীন সম্পর্কে জানতে পড়ুন –

বিয়ে-শাদী এবং আখেরী জামানাহ

ডিভাইন থ্রেট

ধরুন আপনি একজন সাদাসিধা নিরীহ মানুষ। দুনিয়ার কোন সাতেপাচে নেই। তবে আপনার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী আছে। সে খুবই ক্ষমতাশালী ও অতি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। তিনি এলাকায় পরিষ্কার বলে দিছেন যে কেউ যদি আপনাকে একটা ফুলের টোকা দূরের কথা, সামান্য এমন কথা বলে যা আপনার জন্য প্রযোজ্য নয় তাহলে তাকে ধিকৃত করা হবে ও গুরুতর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। — কেউ কি আপনাকে ডিস্টার্ব করবে? হ্যাঁ তারাই করবে, যারা জানে না যে আপনার পেছনে এতো বড় শক্তি আছে। কাজেই সে জানুক আর না জানুক তার রাহাই নেই। কারন সে মহাঘোষণা লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।

হ্যাঁ সবথেকে শক্তিশালী সত্ত্বার পক্ষ থেকে নিতান্তই দুর্বল একজনের জন্য এরকম হুমকি দেয়া আছে।

“যারা নিষ্পাপ এবং দুনিয়ার সাতপাঁচ থেকে গাফেল সেসব বিশ্বাসী নারীদের প্রতি অপবাদ দেয় তাদের জন্য রয়েছে ধিক্কার এবং গুরুতর শাস্তি। এই শাস্তি যে শুধু আখিরাতে তা নয়, বরং দুনিয়াতেও।” (সূরা নূর, আয়াত ২৩)

আজকাল এরকম একান্ত নিরীহ এবং দুনিয়ার সমস্ত পাপ পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত নারী কোথায় পাওয়া যাবে? আমি যখন ছোট ছিলাম, আমার থেকে আরো ৪ বছরের ছোট আমার বোন, সবাই আমোদের সাথে বলত, সে নাকি সেই বয়সেই আমাকে এক হাটে বেচে আরেক হাট থেকে কিনে আনতে পারবে। আর আমি বোকার মতো চিন্তা করতাম, মানুষকে আবার বেচে কিভাবে? দেখুন সমাজের বা পরিবারের অভিভাবকরা কি সূক্ষ্মভাবে নারীদের ব্রেন ওয়াশের মাধ্যমে তাদের দুনিয়ায় পুরুষদের সাথে ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

একজন নারীর যখন বাইরের জগতে বা হাটে মাঠে চোখ ফুটে যায় সে স্বাভাবিকভাবে পৃথিবীতে তার অবস্থান ধরে রাখার ও আরো উৎকর্ষ করার চেষ্টা করে। সে চাকরীতে জয়েন করে, প্রমোশনের চেষ্টা করে, প্লেন চালায়, জজ ব্যরিস্টার হয়, দেশ চালায়, বাসে কন্ডাকটরের সাথে দুই টাকা নিয়ে ঝগড়া করে, পুরুষের সাথে সবকিছুতে সমঅধিকার দাবি করে। একটুকুও কম নয়, তার পুরোটাই চাই। সে এখন জানে দুনিয়ায় তাকে টিকে থাকতে হবে। সে আপ্রাণ চেষ্টা করে টিকে থাকার। মুহূর্ত সময় পরিমাণও সে গাফেল হয় না।

কারণ, সে জানে তার পক্ষে এখন সেই অমোঘ শক্তি নেই যে তার হয়ে পুরো জগতকে থ্রেট করবে। বড় ভয়ানক সেই থ্রেট। ইস আমার হয়ে যদি এরকম এক থ্রেট কেউ করত।

“যারা নিষ্পাপ এবং দুনিয়ার সাতপাঁচ থেকে গাফেল সেসব বিশ্বাসী নারীদের প্রতি অপবাদ দেয় তাদের জন্য রয়েছে ধিক্কার এবং গুরুতর শাস্তি। এই শাস্তি যে শুধু আখিরাতে তা নয়, বরং দুনিয়াতেও।” (সূরা নূর, আয়াত ২৩)

সাত সকালের গসিপ

(১) ডাঃ আইউব আলীর বয়স ৫৭, প্রফেসর মানুষ। ঢাকায় ১০ কোটি টাকার বাড়ির মালিক। তার যোগ্যতাসম্পন্ন মেয়ে পাননি বলে বেচারার বিয়ে করা হয়ে উঠেনি। একজন মহিলা ডাক্তার খুঁজে পেলেন, তেমন বড় ডিগ্রি, এফসিপিএস, এমডি এবং ডট ডট। আমাদের ডাক্তার সাহেব নিজেকে অতি ‘উঁচু মানের পাত্র’ হিসেবে মহিলাটির কাছে উপস্থাপন করলেন। তার ডিগ্রি এবং বাড়ীর কথা বললেন। সব কিছু শোনে মহিলাটি তাকে ‘না’ করে দিলেন। বললেন, আমার ভালো পাত্রের দরকার নাই। আমার দরকার ছিল একজন মানুষ যে আমাকে সঙ্গ দিবে। প্রয়োজনে আরো দশ বছর বিয়ে না করে থাকব, কিন্তু অহংকারী লোককে বিয়ে করব না। — অবশ্য আমাদের ডাক্তার ম্যাডামটির বয়সও ৪০ এর কম ছিল না। হা হা 🙂 🙂

(২) ডাক্তার সাহেব এবার পাত্রী দেখতে গেছেন দিনাজপুর। ঢাকা থেকে বহু দূরের পথ। এবারের পাত্রী কিশোরী থেকে তরুণী হওয়ার উপক্রম। সাধারণ লেখাপড়া। ডাক্তার সাহেব ভাবলেন, অহংকারী মেয়ে আর নয়। এবার সাদাসিধা সহজ সরল মেয়ে বিয়ে করবেন যে দুনিয়ার হাউভাউ কিছু বুঝে না। সারা রাত ট্রন জার্নি করে শুকনো মুখে সকালবেলায় মেয়ে দেখতে গেলেন। একটা হোটেলে উঠে যে একটু ফ্রেশ হয়ে নিবেন তা নয়। কি দরকার হোটেলের বিল গোনার। পাত্রকে দেখে পাত্রীর মা রাগে গজগজ। একটু দূরে গিয়ে জোরে শূনিয়ে বলেই ফেললেন, এই ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিব কি? এ তো দাঁতই মাজতে জানে না। হা হা হা 🙂 🙂

(৩) এবার অন্য একজন ডাক্তারের গল্প। ব্যস্ত প্রাকটিশনার। থাকেন কোন এক সমুদ্র উপকূলে। বউ বাচ্চারা অনেক দিন যাবত বলছেন, একটু সাগরে বেড়াতে নিয়ে যাও না গো। ডাক্তার সাহেবের আর সময় হয় না। একদিন একটা বুদ্ধি করলেন। হাসপাতালের এক আয়া দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। আর সাথে দিলেন একজন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভকে। সে সাথে সাথে মাথা নাড়ল। জ্বি স্যার, কোন চিন্তা করবেন না। ভাবিকে আমি দেখব। আমি বাইক নিয়ে আগেই চলে যাব। আর স্যার আমাদের এই ওষুধটা নতুন এসেছে। এটা একটু লাঞ্চিং করতে হবে।

— “আচ্ছা চিন্তা করো না, আমি আজকেই লিখে দিচ্ছি।” ডাক্তার সাহেব হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। যাক বউয়ের সাগর দেখার ইচ্ছা পূর্ণ করতে পেরেছেন বলে। এই না একজন ভালো স্বামী।

সাগরের বীচে কোম্পানির ছেলেটি ভাবিকে ডাব কিনে খাওয়ালেন। সিট নিয়ে বসলেন, ঘোড়ায় চড়ালেন, তিন চাক্কার বাইকে চড়ালেন, ঝিনুকের মালা কিনে দিলেন। আর বললেন, ভাবি কোন চিন্তা করবেন না, আবার যদি সাগরে আসতে ইচ্ছে হয় এই অধম ভাইটিকে ফোন দিবেন। আমার সময়ের কোন সমস্যা নাই।

কয়দিন পর ছেলেটির অন্য কোথাও পোস্টিং হয়ে গেল। ভাবিটিকেও বাক্স গুছিয়ে তার সাথে চলে যতে হলো। কারণ সে এখন তার বিয়ে করা স্ত্রী।

হা হা হা। 🙂 🙂 🙂

— কেউ সিরিয়াসলি নিবেন না। এগুলো সকালের গসিপ মাত্র। তবে কেউ যদি শিক্ষামূলক কিছু খুঁজে পান এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

ফিরতি পথের কথাবার্তা

গাযওয়া থেকে ফিরছেন তারা। প্রফুল্ল মন। গুরু ও শিষ্য। নবী সা ও তার সাহাবী। নবীজী পাশ দিয়ে যেতে যেতে বললেনঃ

ও জাবির ! তোমরা কি হলো? এতো ধীরে কেন?

জাবির রাঃ – আমার উটটা ক্লান্ত।

নবী সাঃ – একটা লাঠি থাকলে দাও তো।

জাবির রাযি একটা লাঠি দিলে নবীজী সা সেটা দিয়ে উটটিকে হাঁকালেন। এখন উটটি সবার আগে চলতে লাগল।

একটু পর,

নবী সাঃ – জাবির, এটা আমার কাছে বিক্রি করে দাঁও হে।

জাবির রাঃ হেসে বলেনঃ এটা তো আপনারই। (মানে টাকা লাগবে না, এমনিই দিয়ে দিলাম)

নবী সাঃ – আরে নাহ্। তোমাকে চার দীনার দিব। তবে মদিনা পর্যন্ত তুমিই সওয়ার থাকো।

কাফেলা চলতে লাগল।

মদিনায় ঢুকতেই জাবির রাযি বাড়ির পথ ধরলেন।

নবী সাঃ – এই জাবির, কিসে তোমাকে তাড়াহুড়া করাচ্ছে?

জাবির রাঃ – বিয়ে করেছি। বাসায় নতুন বৌ আছে।

নবী সাঃ – কি বিয়ে করলে? কুমারী নাকি বিধবা?

জাবির রাঃ – বিধবা।

নবী সাঃ – কুমারী কেন বিয়ে করলে না? সে তোমার সাথে খেলতে পারত, আবার তুমিও তার সাথে খেলতে পারতে।

জাবির রাঃ – ওহুদের যুদ্ধে আমার বাবা মারা গেলেন, নয় কন্যা রেখে। আমি চাইলাম না আমার বোনদের বয়সীই আরেকজন মেয়েকে ঘরে আনতে। আমার মনে হলো একজন বয়স্কা মহিলা হলে ভালো হতো যে আমার বোনদের চুল আঁচড়ে দিত ও তাদের দেখাশোনা করত।

নবী সাঃ – হুম, তুমি খুব ভালো কাজ করেছ। ইউ হাভ ডান দ্য রাইট থিং। আল্লাহ্‌ তোমাদের কল্যাণ করুন।

সবাই মসজিদে এসে পড়লেন। জাবির রাযি নবীজী সা-কে মসজিদের দরজায় দেখতে পেলেন।

নবী সাঃ – জাবির, ফিরলে?

জাবির রাঃ – হুম।

নবী সাঃ – উট বেঁধে এসে দুই রাকাত সালাত আদায় করো।

সালাত শেষে জাবির রাযি চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলেন।

নবীজী সাঃ – আরে দাড়াও। এতো সকালেই বাসায় যেতে হবে না। ঘরের লেডিকে আলুথালু চুল বিন্যস্ত করার সুযোগ দাও। আর যাদের স্বামীরা দীর্ঘদিন পর ফিরছে সেসব লেডিগণ যেন পিউবিক হেয়ার সাফসুতরো করতে পারে।

নবীজী সাঃ বিলাল রাযিকে ডাকলেন। এই বিলাল, জাবিরকে তার দাম দিয়ে দাও। আর কিছু বেশীই দিও। সুতরাং বিলাল রাযি তাকে চার দীনার ও অতিরিক্ত এক কীরাত সোনা দিলেন। নবীজী সাঃ বললেন, তোমার উট ও উটের মূল্য দুইটাই নিয়ে যাও।

জাবির রাযি বলেন, ঐ অতিরিক্ত সোনাটা সবসময় আমার থলেতে থাকত, কখনো বিচ্ছিন্ন হতো না।

(বোখারী, মুসলিম)

মসজিদে বিয়ে শাদী

أَعْلِنُوا هَذَا النِّكَاحَ وَاجْعَلُوهُ فِي الْمَسَاجِدِ وَاضْرِبُوا عَلَيْهِ بِالدُّفُوفِ

মসজিদে এতো বিয়েশাদি ও খেজুর টুকানোর হুড়োহুড়ি দেখতে দেখতে আমার অন্তরে একটা বদ্ধমূল ধারণা হলো যে, হায় হায়, আমার কি হলো? এতো সুন্দর একটা আমল থেকে নিজেকে বঞ্চিত করলাম? আহ তখন যদি জানতাম তাহলে নিজের বিয়েটা মসজিদেই করতাম, আর তারপর খেজুর ছুড়ে দিতাম। স্ত্রীর কাছে নিজের এই আক্ষেপ বর্ণনা করতে করতে তারও ধারণা হলো, ইস যদি মসজিদে বিয়েটা হতো, কতই না বরকতময় হতো। সেদিন মাত্র সে আক্ষেপের কিছুটা হলেও পোষানোর সুযোগ এলো। আমার শ্বশূর তার ছোট কন্যার বিয়ে দিবেন। পাত্র ঠিকঠাক। আমার স্ত্রী অনেক মেহনত করে তার বাবাকে রাজি করালো যে বিয়ে হবে মসজিদে। তার বাবা আবার অনেক মেহনত করে ছেলের বাবাকে রাজি করালেন। একটা মৃত সুন্নত জিন্দা করার আনন্দে আমাদের মন তখন আনন্দে টইটম্বুর। মৃত জমিনে চাষ করা সহজ নয়। তার উপর হাতেনাতে পাকা ফল।

হঠাৎ আমার মনে হলো, দ্বীন তো পরিপূর্ণ, কোন সাহাবির বিয়ে কি মসজিদে হয়েছে? রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম ও তো অনেকগুলো বিয়ে করেছেন। আর হাজার হাজার সাহাবি রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুম রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় বিয়ে করেছেন। অনেক বিয়ের কথা হাদিসে এসেছে। এমনকি একজন সাহাবির (জাবির রাযি) কাপড়ে বিয়ের হলুদ রং লাগানো ছিল এটাও বাদ যায় নি। মসজিদে বিয়ে যদি সুন্নত হতো তাহলে তা অবশ্যই হাদিসে আসত। একবার দুবার নয়, অসংখ্যবার আসত। এবং সবগুলো সহি হাদিস থাকত। বোখারি মুসলিম ঘাটলাম, তাকি উসমানী দামাত বারাকাতুহুর বিবাহ কিতাবটি পড়লাম। কোথাও একটি সহি হাদিস নেই। শেষ পর্যন্ত তিরমিযী শরীফের মাত্র একটি দ্বয়িফ হাদিস পেলাম যার ভাষা এরকম,

أَعْلِنُوا هَذَا النِّكَاحَ وَاجْعَلُوهُ فِي الْمَسَاجِدِ وَاضْرِبُوا عَلَيْهِ بِالدُّفُوفِ

The Messenger of Allah said: “Publicize this marriage, and hold it in the Masjid, and beat the Duff for it.”

Grade : Da’if (Darussalam)

Reference : Jami` at-Tirmidhi 1089

বিয়ে সমাজের কাছে প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। এবং এটা মসজিদে। এবং দফ বাজাতে বলা হয়েছে।

মসজিদে কি বিয়ে করতে বলা হয়েছে? না কি বিয়ে প্রকাশ করার জন্য এলান দিতে বলেছে? বর্ণনাভঙ্গিতে মনে হয়, মসজিদে এলান (ঘোষণা) দিতে বলেছে। মসজিদে এলান দিবে, আর বাহিরের মানুষদের জানানোর জন্য বাহিরে দফ বাজাবে। এইতো হাদিসের ভাষা। সহজ সরল। যদিও দ্বয়িফ হাদিস।

এ কথা আমার স্ত্রীকে বললাম যে এটা তো সুন্নত না। বরং সুন্নত হলো, বিয়েতে অল্প খরচ করা। এখন মসজিদে বিয়ে করাতে গেলে তো খরচ আরো বেড়ে যাচ্ছে। বিয়ের খরচের সাথে যোগ হবে মসজিদে খেজুর ছিটানোর খরচ।

এরপর খেজুর ছিটালে শুরু হবে আরেক বিদয়াত। খেজুর টুকানোর হুড়োহুড়ি। মসজিদের আদবের প্রতি আর কোন লক্ষ্য নেই। অথচ সাহাবিরা মসজিদে হুড়োহুড়ি তো দূরের কথা, নীচু স্বরে কথা বলতেন।

এতক্ষণে আমার স্ত্রীর মাথায় হাত। তাহলে এদের যে রাজি করলাম। এরা তো ভবিষ্যতে আমাদের আর কোন কথার মূল্যায়ন করবে না যদিও তা দ্বীনের কথা হয়।

আমি বললাম, ভুল হয়েছে। হযরত উমর রাযি মসজিদে ভুল কথা বলে আবার সবার সামনেই সংশোধন করেছেন। আমার স্ত্রী বলল, উমর রাযি-র সামনে সবাই সাহাবী ছিল। তারা সবাই রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে গড়া মুসলমান। আর আমরা যাদের কাছে বলেছি তাদের দ্বীনের তেমন কোন বুঝই নেই। তো তারা মানবে কেন?

তারপর বলল, তাহলে এতোদিন যে আমি মসজিদে বিয়ে সুন্নত সুন্নত করতাম এটা কাদের দেখে শিখেছিলাম? আমি বললাম, তবলীগওয়ালা ভাইদের থেকে, যারা নবীওয়ালা মেহনত নিয়ে চলে। এতক্ষণে আমার স্ত্রী ঝাঁঝ দেখালো, তবলীগের থেকে কেন শিখতে গেছি? আমার সামনে কি নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবা রাযিআল্লাহু তায়ালা য়ানহুম ছিল না? হাদীসের কিতাবগুলো পড়লেই তো আজকে এই ঝামেলা সৃষ্টি হতো না। বা কোন ন্যয়নিষ্ঠ আলেমের থেকেও জানা যেত। একটি বিদয়াতকে সুন্নত বলে চালিয়ে দিতে হতো না।

মনে পড়ে পবিত্র কুরআনের সতর্কবাণীঃ “শয়তান তাদের কার্যবলী তাদের নিকট শোভন করেছে এবং তাদেরকে সৎপথ চলা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে, ফলে তারা সৎপথ পায় না। -(সুরা নামল, আয়াত ২৪)।

একটু আগেই যতক্ষণ কুরআন হাদিসের কষ্টিপাথরে ঘষা না দিয়েছি ততক্ষণ এই আমল ছিল অত্যন্ত শোভন। আর যখনই কুরআন সুন্নাহর আলোকে তা যাচাই করা হয়েছে তখনই সে আমলের আর কোন স্থান নেই। ঠিক যেমন স্থান নেই ইস্তেমার বিয়ে। ঘণ্টা ব্যাপী অমুকের সাথে তমুকের, ওর সাথে তার … বিয়ে পড়ানো হয়। কই, এতোবড় সুন্নত আমল তো মসজিদুল হারামে দেখলাম না, মসজিদে নব্বীতে দেখলাম না, রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বা তার সাহাবীরা (রাযি) একদল মানুষকে একসাথে এক মজলিসে এরকম বিয়ে পড়িয়েছেন কোথাও তো পেলাম না। খ্রিস্টানরা গির্জায় বিয়ে করে, খ্রিস্টানদের সাথে মুসলমানদের সাদৃশ্য তো থাকার কথা না।

এতো বিদ’য়াত কেন ধর্মীয় দলগুলোতে ??

।।

যদি কেহ কুরআন সুন্নাহর আলোকে এরকম মসজিদে বিয়ে বা এস্তেমার বিয়ে সুন্নত প্রমাণ করতে পারেন তাহলে আমি সহ আশা করি সবাই মেনে নেবেন। মেনে নেবেন মক্কা মদিনার সম্মানিত ইমামেরাও।
জাযাকুমুল্লাহ খইরন।