সচ্চরিত্রা নারী স্ত্রী হিসেবে থাকা মানে জীবনটা আনন্দে ভরপুর হয়ে যাওয়া, যদিও সে মাঝে মাঝে ক্যাটক্যাট করে। আর দুশ্চরিত্রা নারীর ছায়া মাড়ানো মানে হলো জীবনকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো, যদিও সে মাঝে মাঝে মিষ্টি মধুর রং ঢং করার চেষ্টা করে।

Advertisements

আজকাল বহু কর্মজীবী নারীদের সালাম পায় অফিসের বস, অফিসার, পিয়ন চাচা ও বহু আগডুম বাগডুম ব্যক্তি। কিন্তু কয়জন নারীর সালাম তার স্বামী পায় যে কি না সালাম পাওয়ার প্রকৃত হক্বদার? সেদিন এক পুরনো কোন পত্রিকার জীবন যাপন পাতায় দেখলাম ব্যস্ত কর্মজীবী স্বামী স্ত্রীর উদ্দেশ্যে দেয়া টিপস যাতে সপ্তাহে যে অল্প সময় ভাগ্যে জোটে নিজেদের মধ্যে দেখা সাক্ষাতের সে অল্প সময়টাকে কিভাবে কোয়ালিটি টাইমে পরিণত করা যায়। আশ্চর্য। অনেক স্বামী স্ত্রী একসাথে রাতে খাওয়ার সৌভাগ্যটুকুও হয় না। একজন আসে আরেকজন বেরিয়ে যায়। আমি জানি না কিভাবে তারা পারে? আর এতো পরিশ্রম এতো অর্জন এসবের আল্টিমেট রেজাল্ট কি?

নারী কি পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি?

“নারীদেরকে পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে” – এ কথাটি আমরা প্রায়ই শুনি। ইসলামকে বিতর্কিত করার জন্যে অনেকেই এ কথাটি বলে থাকেন।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলাম ধর্মের কোথাও এ কথাটি নেই। এটি হলো খ্রিস্টান ধর্মের একটি কথা।

বাইবেলে বলা হয়েছে –

Then the LORD God made a woman from the rib he had taken out of the man, and he brought her to the man.
[Bible, New International Version, Genesis,Chapter 2, Verse 22]

“স্রষ্টা পুরুষের পাঁজর থেকে একটি হাড় নিয়ে তা দিয়ে একজন নারীকে সৃষ্টি করেছেন। এবং তিনি নারীটিকে পুরুষের সামনে উপস্থিত করলেন।“

ribcage-by-Conscience-Killer-flickr.jpg

বাইবেলের এই লাইনটির ব্যাখ্যায় খ্রিস্টানগণ বলেন, আল্লাহ তায়ালা প্রথম আদম (আ)-কে সৃষ্টি করেছেন। এরপর আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় সংগ্রহ করেন। তারপর তা থেকে হাওয়া (আ)-কে সৃষ্টি করেন।

খ্রিস্টানদের এ কথাটি এখন মুসলিম সমাজে খুবই পরিচিত। কিন্তু এর কারণ কি? মূলত, রাসূল (স) –এর একটি হাদিসকে কোর’আনের সাহায্যে ব্যাখ্যা না করে, বাইবেলের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেই এ সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন

তাহাদের প্রতি শুভকামনা

সমসাময়িক আলেমরা যখন ঘুমাইতেছেন সেখানে আমার কিছু ছাত্র পরবর্তীকালের যোগ্য পণ্ডিতরূপে নিজেদের গড়িয়া তুলিতেছে। যাহারা হয়তো আগামীকাল আলোকবর্তীকরূপে প্রকাশিত হইবে।

আমি দেখিতেছি আজকের আধুনিক সভ্যতা পাশ্চাত্য সমাজের পাপে পরিপূর্ণ হইয়া গিয়াছে। আল্লাহ নারীদের রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য পুরুষদের যে দায়িত্ব দিয়াছেন কিছু মানুষ সেই দায়িত্ব ছাড়িয়া দিয়াছে। উল্টো তাহারা সেই সব নারীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করিয়াছে যাহারা কর্মজীবী নারী বলিয়া পরিচিত এবং নিজের ভরণপোষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিজেই করিতে সক্ষম। অথচ হাদিসে আসিয়াছে শেষ যুগে একজন পুরুষ ৫০ জন নারীর ভরণপোষণের ব্যবস্থা করিবে। তবে তাহা কিরূপে বাস্তবায়িত হইবে? পুরুষদের তো নারীদের পোষাকরূপে তাহাদের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে কার্যকরী ভূমিকা পালন করিতে হইবে।

এই অন্ধকার অবস্থার মধ্যে ইহা একটি আনন্দের বিষয় যে আমার ছাত্রদের মধ্যে এক দম্পতি যাহারা স্বামী স্ত্রী ও আদরের সন্তানাদি নিয়া সুখী জীবন থাকার পরও স্বামী একজন নারীর মালকাল ইয়ামীন হওয়ার সাহসী প্রস্তাবকে সাহসিকতার সাথে গ্রহণ করিয়াছেন। আর তার স্ত্রীও তাহাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করিয়া উদার হৃদয় ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়াছেন। এখন তাহারা সকলেই স্থিতিশীলতার সাথে অত্যন্ত সুখী জীবনযাপন করিতেছে। তাহারা সবাই মালকাল ইয়ামিন নিয়া আমার লেকচার শুনিয়াছে এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করিয়াছে।

আলহামদুলিল্লাহ। তাহাদের সবার প্রতি শুভকামনা।

– শায়খ ইমরান নযর হোসেনের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে।

লিঙ্কঃ
https://goo.gl/juNgWc

নারী জীবন

নারীদের জীবনটা কাছ থেকে দেখেছেন কয়জন? গভীরভাবে তাকানোর কথা বলছি, দেখার মতো চোখ দিয়ে। বাহিরে নয়, ঘরে কেন প্রশান্তি বিরাজ করে, এ প্রশান্তিকে কে নির্মাণ করে? আর তার জীবনটাই বা কেমন। মা একশ টাকা দাও বলে চাইলেই কিভাবে একশ টাকা পাওয়া যায়। কিভাবে কাটল তার শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বৃদ্ধবয়স। জীবনের বাঁকে বাঁকে তার শারীরিক পরিবর্তনগুলো কি পরিমাণ স্পর্শকাতর। আর তার ধৈর্য ও স্থৈর্য। বাচ্চা গর্ভে আসার পর থেকে খেতে না পারা, বমি, শরীরের দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, পায়ে পানি আসা, রক্তপাত ও রক্তশূন্যতা, ডায়বেটিস ও আরো কত রকমের ঝড় তার উপর দিয়ে বয়ে যায়। আর সে থাকে নির্লিপ্ত। তারপর বুকের দুধ পান করানো, দিনের পর দিন রাত জাগা যেন বাচ্চা ক্ষুধায় কষ্ট না পায়। ইসলাম নারীদের এতোসব গুণের মূল্যায়ন করেছে। ইসলাম তাকে স্থিরতা দিয়েছে যেন সে দু’দন্ড শান্তি লাভ করতে পারে। তার সালাত, সিয়াম এবং আর অনেক আমল শিথিল করা হয়েছে। যেভাবে আল্লাহ্‌ ভালো মনে করেন। তার আরামের জন্য ঘর ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। পর্দার ব্যবস্থা করেছে যেন তাকে অযথা বিরক্ত করা না হয়। সে যেন তার মতো থাকতে পারে, প্রাইভেট ও নিরিবিলি। কিন্তু আজকে যারা তাকে মাতৃত্বকালীন ২-৪ মাস ছুটি দিয়ে আর বাকী সময় কাজে লাগিয়ে দিয়েছে তারা নারীকে নিয়ে প্রকৃত কোন চিন্তা করে না। তারপরও তারা নারীর কল্যাণকামী সেজে বসে আছে। কোন বুদ্ধিমান নারী তাদের ফাদে পা দিতে পারে না।

বিয়ের মোহর

বিয়ের মোহরের কিছু বাকী ‘টাকা’ শোধ করতে ১০ বছর পার হয়ে গেল। গৃহিণী যতই না না করুক, ওটা আপাতত আপনার কাছেই থাকুক, পরে দিলেও হবে, তবে এবার টাকাটা তার হাতে গছিয়ে দিতে পেরে শান্তি হলাম। কিন্তু পরক্ষণে ভাবলাম, তাকে ঠকানো হল না তো। দশ বছর পরে দশ বছর আগের সমান টাকা দিলে হবে? দশ বছর আগে টাকাটা দিলে সে যেভাবে ব্যবহার করতে পারত, দশ বছর পরে কি সে তার সমমানের ব্যবহার করতে পারবে? টাকার দাম কমে গেছে নিশ্চয়ই অনেক শতাংশ। তখনকার ৫০ হাজার নিশ্চয়ই এখনকার ৬০ হাজার হয়ে গেছে। শেষে ভেবে বললাম, আমি তোমাকে ঐ সময়ের অর্থ-মানের মোহর পরিশোধ করব। তোমার বাকী টাকা দিয়ে ঐ সময়ে যে স্বর্ণ পাওয়া যেত ঐ পরিমাণ স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী তুমি মোহর নিয়ে নাও। তুনি অমূল্য তাই তোমাকে চির মূল্যবান স্বর্ণের দামে বিয়ে করব। যে মুদ্রার মূল্য প্রতিদিন কমে যায় সে মুদ্রার দামে নয়। তার মুখ খুশীতে ভরে উঠল। এই খুশী মূল্যহীন টাকা দিয়ে কেনা যায় না, মূল্যবান সোনা দিয়ে কিনতে হয়।

তালাক নেব তবু সতীন নেব না

যে নারী বলল, “আমি তালাক নিয়ে নেব তবু সতীন মেনে নেব না”; সে নারী স্পষ্টত শিরক করল এবং নিজেকে আল্লাহর থেকে বড় মনে করল, আর মুশরিকা নারীর সাথে দাম্পত্য জীবন বজায় রাখা হারাম, হারাম, হারাম।

— শেখ ইমরান হোসেন।                                                                           Md Arefin Showrav