কোথায় সে শিক্ষক

আমি জীবনে ভালো শিক্ষক পেয়েছি খুবই কম। বেশীর ভাগ শিক্ষকই আমার সাবজেক্টকে কঠিন করে দিয়েছে। ভালো পড়ানোর আর্ট জানে হাতে গুণা অল্প কয়েকজন শিক্ষক। দুঃখজনক হলেও সত্য আমার মেধা ও মানস তৈরীতে জেনারেল লাইনের শিক্ষকদের অবদানের কথা মনে করতে পারি না। বয়স্ক মাদ্রাসায় ও সাধারণ মাদ্রাসায় বাচ্চাদের সাথে একসাথে পড়ার সৌভাগ্যও হয়েছে। কিন্তু সেখানকার শিক্ষকরা মিযানের মতো টেকনিকাল সাবজেক্ট থেকেও কিভাবে যেন মাযহাব ও পীরের আলোচনায় চলে যান। সাহাবী রাযি দের আলোচনার চেয়েও তারা মাযহাবের আলোচনা বেশী করেন। অনেক সময় পুরো ক্লাসের বেশীরভাগ অংশই ক্লাস বহির্ভূত আলোচনায় চলে যায়।

ইউটিউবে ভাই আসিফ মেহের আলীর মদিনা বুকের লেকচার শুনছি কিছুদিন যাবত। পুরো ক্লাস কিভাবে শুধুমাত্র টপিকের ভেতরে থেকে প্রাণময় আলোচনা করা যায় তার বাস্তব দৃষ্টান্ত তিনি। একবারের জন্যও মনে হয়নি তিনি টপিকের বাইরে গেছেন।

কোন এক সময় আলিয়ঁস ফঁসেজে ক্লাস করার সৌভাগ্য হয়েছিল। আলিয়সেঁর মসিও বারী ছিলেন অসাধারণ শিক্ষক। ক্লাসের প্রথম থেকে ফসেঁ। শেষ পর্যন্ত। বাংলা বা অংলেঁর কোন ব্যাপার সেপার নেই। গ্রামারের কোন বিষয় তো নেই ই। আশ্চর্য একটু পরে দেখি মসিও বলে ডসেঁ ডসেঁ, ততক্ষণে পুরো ক্লাস নাচছে।

আমার মেয়েকে আমি স্কুলে দেইনি। মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম, নিয়ে এসেছি। আলহামদুলিল্লাহ্‌, বাসায়ই পড়ে। মাস্টার রেখে দিয়েছি। হুযুর রেখে দিয়েছি। এমন প্রফেশনাল হুযুর আমি জীবনেও দেখি নাই। টাইম পাস করাই উনাদের প্রাইভেট পড়ানোর লক্ষ্য। মাস শেষে বেতন পেলেই হলো। বাচ্চা কি শিখল না শিখল এটা উনাদের কোন বিষয় না। ইংরেজী মাস্টার কোথা থেকে যেন সিলেবাস যোগাড় করে নিয়ে আসে। সিলেবাস শেষ করানোর ইচ্ছা থাকলে তো স্কুলেই দিতে পারতাম এটা উনাকে কে বুঝাবে।

এখন থেকে বাচ্চাকে নিজেই পড়ানো শুরু করেছি। আরবী, ইংরেজী, অংক। বাচ্চার মা পড়াবে বাংলা। ইনশাআল্লাহ্‌। অবাক হলেও সত্য, ইংরেজী পড়ানোর জন্য আমি বেস হিসেবে ইউজ করছি এসো আরবী শিখি ও মদিনা বুক। অবশ্য সেখান থেকে ইংরেজী শেখার মতো ভার্সনে রূপান্তরের কাজটা আমাকে একটু কষ্ট করে করতে হচ্ছে। আল্লাহ্‌ তায়ালাই সর্ব শ্রেষ্ঠ তৌফিক দাতা।

আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমার মেয়ে দেখি চিত্র সহ গল্প লেখাও শুরু করেছে। যদিও আপাতত আমিই তার একমাত্র পাঠক।

প্রজেক্ট নাম্বার এতো

jewish_conspiracy

ইহুদীদের অনেক প্রজেক্ট আছে। মুসলমানদের ভেতর। প্রজেক্ট ম্যানেজাররা এক একজন জীবন্ত দরবেশ। কিভাবে বুঝবেন এসব দরবেশ যে ইহুদিদের প্রডাক্ট? সাধারণ মুসলমানদের জন্য তাদের ধরা খুব কঠিন। এরা আপনাকে ঈমানের কথা বলবে, আখিরাতের কথা বলবে। তাহলে কিভাবে চিনবেন তাদের?

(১) যখন দেখবেন তারা ইসলামের একটা বিকৃত রূপকে উপস্থাপন করছে ইসলামের নাম দিয়ে।

প্রথমে কুরআন ও সুন্নাহকে মাত্র একটু বিকৃত করে এবং বলে দ্বীনের স্বার্থে করা হয়েছে। অল্প কয়েকদিন পরেই তারা একটা বিকৃত ইসলাম উপহার দেয়।

(২) যখন দেখবেন ইসলামের নাম দিয়ে তারা তাদের দলের দিকে মানুষকে ডাকছে। তারা বলবে তোমাকে এই এই করতে হবে। এই এই জায়গায় তোমার সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে হবে। তারপর একটা মূলো ধরিয়ে দিবে। সেটা চল্লিশ দিন হতে পারে, চল্লিশ বছর হতে পারে।

শিয়া হল ইহুদীদের একটি পুরনো প্রজেক্ট।

যারা সুন্নী তাদের মধ্যে অনেক সাব প্রজেক্ট আছে। যারা বিকৃত ইসলামের দিকে মানুষকে ডাকে। এবং ডাকে নিজেদের দলের দিকে। কৌশলে। অতি কৌশলে।

তাবলীগ জামাত, জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীর, আইএস, আল-কায়েদা, আহলে হাদীস, মাদ্রাসা, মডারেট ইসলাম, ওহাবিজম এগুলো সবই সাব প্রজেক্ট। হক্বের অতি কাছাকাছি বা অতি সদৃশ দেখে মানুষ মনে করে আসলেই হক্ব। যদিও কিছু ক্ষেত্রে হক্ব দিয়েই সম্ভবত শুরুটা হয়। ধীরে ধীরে ইহুদীদের অনুপ্রবেশ ও হ্যাকিং শুরু হয়।

সব প্রজেক্টে লাভও আছে, লসও আছে। তাবলীগ জামাত ও মাদ্রাসা প্রজেক্ট দু’টিতে তাদের লাভও বেশী হয়েছে, লসও বেশী হয়েছে।

হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ ইসলামের বেশ ভালো একটা ফ্লেভার পেয়েছে। আবার হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ অপভ্রংশ ইসলামকে আসল ইসলাম মনে করেছে।

সম্ভবত, তবলিগ জামাত প্রজেক্টের প্রয়োজনীয়তা ওদের কাছে ফুরিয়েছে। তাই এই অধ্যায়কে তারা শেষ করতে চাইছে। জাল গুটাচ্ছে। ইসলামের ফ্লেভার দিতেও তারা আগ্রহী নয়।

আগে ভাবতাম কুরআনের এতো বেশী সংখ্যক স্থানে ইহুদীদের শয়তানীর বর্ণনা কেন? কেন বনী ইসরাঈলের এতো আলোচনা ?

আসলে,

ইহুদীদের ষড়যন্ত্র এমন যেন পাহাড়কে টলিয়ে দেয়।

দুই ব্যক্তি

গতকাল এক বিকেল ও সন্ধ্যায় দুই ব্যক্তির সাথে পরিচয় হলো। একজন মাস্টার্স পাশ জেনারেল শিক্ষিত ও অন্যজন দেশের একটি নামকরা ক্বওমী মাদ্রাসা থেকে দাওরা সম্পন্ন করা আলেম। প্রথমজন একটি মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষক হিসেবে আছেন ও দ্বিতীয়জন একটি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। প্রথমজনের ব্রেন ছিল খোলা, কিন্তু কিভাবে যেন লকড হয়ে গেছে।

গতকাল আসরের পর আমার মেয়েকে আনতে মাদ্রাসায় গেলাম। গেটের সামনে বসে তিনি মনে হলো পাহারা দিচ্ছিলেন যেন কোন আরিফ আর হোসেনরা এসে কাউকে বায়াসড করতে না পারে। আমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে বলেছিলাম অনাবাসিক মেয়েদের আসরের পরই গার্জেনের কাছে দিয়ে দিতে। ঐ সময় আবাসিক শিক্ষকরাও হয়তো একটু রিল্যাক্স থাকে। আর উহুদ যুদ্ধের শিক্ষা এই যে, সামান্য একটু রিল্যাক্স পুরো উম্মতের জন্য পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আরিফ আর হোসেনদের ক্যামেরা ও মডিউল থেকে আমাদের সন্তানদের আল্লাহতায়ালা নিরাপদ রাখুন। এবার যে তারা আমাদের কলিজায় হানা দিয়েছে।

যাহোক উনার নিজ মুখেই শুনুন। তার নিজের মুখে এভাবেই আমার কাছে উনার জীবনকাহিনী বর্ণনা করছিলেন। বিস্তারিত পড়ুন

এক শীতের সকালে

আমার মেয়ে। আদিবা, হাফসাদের সাথে হেফজখানায় নাযেরা পড়ে। ফজরের পরেই কনকনে ঠান্ডায় রিকশায় করে মাদ্রাসায় দিয়ে আসি। শীতের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য গরম কাপড়ে মুড়ে নিতে হয়। কিন্তু হাতমোজা ওর হাত গলে বারবার খুলে যায়। আমার নিজেরই শীতে হাত অবস হয়ে আসার উপক্রম। তাকিয়ে দেখি হাতমোজা খুলে হাতে ধরে আছে। রাগ লাগে। বকা দিই জোরে। আবার কসরত করে মোজা হাতে পরে নেয়। মাদ্রাসায় পৌঁছে দিয়ে একই রিকশায় ফিরতি পথ ধরি। বকা দিয়েছি বলে মন খারাপ লাগে। আমার মেয়ে বলে নয়। আমার নবীর মেহমান এ কারণে। ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম। আমার নবীর মেহমানের কদর করতে পারলাম না। চোখ থেকে ফোটা ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে। ফেরেশতারা ওদের জন্য রাস্তায় ডানা মেলে দেয়। ওদের পাশে থাকার কারণে হয়তো আমরাও সে ডানায় ভর দিয়ে যাই।

ফিউচার

লিখেছেন: Rizwanul Kabir

অস্ট্রেলিয়া থেকে এক আপু কিছু টাকা পাঠিয়েছেন, নফল সাদকা হিসেবে। এতিমদের মধ্যে ও যে সমস্ত মাদ্রাসার আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ তাদের মাঝে বণ্টন করতে বলেছেন। আদেশ মোতাবেক এ ধরনের দুটি মাদ্রাসাতে তিন ভাগের দু ভাগ টাকা দেয়া হয়ে গিয়েছে। বাকি টাকার কিছু অংশ দিয়ে ঠাকুরগাঁও, নরসিংদী, দিনাজপুরসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় পরিচিত কিছু ছোট ছোট মাদ্রাসার ছাত্রদের শীতের কাপড় কিনে দেয়ার ইচ্ছা। এরপর অল্প যে কয়টা টাকা থাকবে, তা বিভিন্ন মাদ্রাসায় যেয়ে এতিম ও গরিব ছাত্রদের খুঁজে বের করে নিজে তাঁদের হাতে দিতে চেয়েছিলাম।

শেষ ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য প্রথমে খোঁজ করলাম নিজের মাদ্রাসাতেই এমন কেউ আছে কিনা। যদিও সম্ভাবনা কম ছিল, তাও নির্ভরযোগ্য দুজনকে বললাম ভাল করে খোঁজ করতে, যারা নিজেদের আর্থিক দুর্বলতার কথা গোপন করে কষ্ট করে লেখাপড়া করছেন।

গতকাল রাতে খোঁজ করার পর তারা জানালেন, এমন দু’তিনজন ছাত্র আছে, যাদের অবস্থা খুব শোচনীয়। একজনের কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। ইফতা বিভাগে পড়ছেন, আর কয়েকদিন পর মুফতি হয়ে যাবেন। এই আল্লাহর বান্দা ভ্যান চালিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ যোগান। একটা রিকশা বা ভ্যান চালানো কতটা কষ্টের! সেই কষ্টের কাজটি আঞ্জাম দিয়ে ইফতা বিভাগের এই বিশাল পড়াশোনার চাপ তিনি কিভাবে সহ্য করছেন, তা আমাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব না।

তবে এসব দেখে একটি প্রশ্ন এমনিতেই এসে যায়, এত কষ্ট করে কেন একটি ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে? স্কুল কলেজে কষ্ট করে পড়াশোনা করার একটা উদ্দেশ্য থাকে, লক্ষ্য থাকে। ভাল চাকরি করতে পারলে এক সময় এই অসচ্ছলতা কেটে যাবে। সচ্ছলতা ফিরে আসবে।……কিন্তু মাদ্রাসায়? এখানে কষ্ট করে কি লাভ? প্রশ্নের একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর পাওয়ার জন্য নিচের ঘটনাটিও একটু কষ্ট করে পড়তে হবে।

বিস্তারিত পড়ুন