শুরু ও শেষের হাকীকত

শুরুকে বলে মুবতাদা এবং শেষকে বলে মুনতাহা। দ্বীনের পথে যার চলা মাত্র শুরু হলো তাকে সূফিরা বলেন মুবতাদী, আর যে পুরো পথ পাড়ি দিয়েছেন তাকে তারা বলেন মুনতাহী। হযরত আশরাফ আলী থানভী (রহ) এর একটি সুন্দর উপমা দিয়েছেন। মুবতাদী ব্যক্তি নদী পার হওয়ার জন্য এপারে দাঁড়ানো। আর মুনতাহী ব্যক্তি নদী পার হয়ে চলে গেছেন ওপারে। এখন দুই পারের দুইজন ব্যক্তিকে আপাতদৃষ্টিতে একইরূপ দেখা যাবে। এপারের ব্যক্তি হয়তো মনে করবে ওপারের ব্যক্তিটি বোধ হয় আমারি মতো। অথচ সে তার মতো নয়। সে নদী পার হয়ে ইতিমধ্যে চলে গেছেন । এজন্য মুবতাদী ও মুনতাহীর অবস্থা দেখে মানুষের বিভ্রম হয়, তারা পার্থক্য করতে পারে না। উভয়ই সাধারণ জীবন যাপন করেন, বিবাহ শাদী, ব্যবসা বাণিজ্য, হাসি তামাশা, রস কৌতুকও করেন। কিন্তু উভয়ের মধ্যে বিশাল পার্থক্য। একজন পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেছেন আরেকজন পথের মাত্র শুরুতে।

আর এক ধরনের লোক আছে যারা নদীতে নেমে গেছেন। তারা ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ নদীর সাথে যুদ্ধ করে নদী পার হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টায় নিয়োজিত। তার ঘুম নেই, আহার নেই, সংসার নেই, তার মুখে হাস্য কৌতুক নেই। সে সারাদিন তার আমল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। মানুষ এখানেও বিভ্রমে পতিত হবে। মানুষ মনে করবে, সেই বোধহয় দ্বীনের পথের প্রকৃত পথিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো সে এখনও পুরো পথ পারি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়নি। হতে পারে সে ঝড় ঝঞ্ঝায় ডুবে যেতে পারে। হতে পারে সে একসময় তার গন্তব্যে পৌঁছুতেও পারে।

এই ৩ অবস্থাকে সঠিকভাবে সনাক্ত করা অনেকের নিকট অসম্ভব। যে পুরো পথ পারি দিয়ে সঠিক গন্তব্যে পৌছে গেছে একমাত্র সেই সবার চেয়ে সঠিকভাবে সবার বাস্তব অবস্থা বুঝতে সক্ষম।

।।

যে ব্যক্তি দ্বীনের পথে প্রথম পদার্পণ করেছে, এবং যে এখনও মাঝ সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে, সে মনে করে সেই নির্ভুল। উপরন্তু তার মা বাবা ভাই বোন আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, অফিস কলিগ সবাইকেই সে গোমরাহ মনে করে। এটা এতোটাই ভয়াবহ যে, যারা দ্বীনের পথ সফলতার সাথে পাড়ি দিয়েছে, অর্থাৎ যে ঐ পারে চলে গেছে তাদেরও সে কাফের গোমরাহ মুরতাদ মনে করে।

মুবতাদী নিজেকে নির্ভুল মনে করে সব কাজেই রত হয়। অনেক গোনাহের পথও পরিত্যাগ করে না। আর মাঝ সমুদ্রে অবস্থানরত নিজেকে মনে করে যেহেতু আমি কঠিন সাগর মালা পার হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছি, অতএব আমিই সঠিক পথে আছি। কিন্তু তার ধারণা নেই যে বহু লোক অপর পারে পৌছে তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করছে।

এজন্য দেখা যায় নতুন মাওলানা বা মাদরাসায় দুই চারি জামাত পড়েই বা দুই পাঁচ দশ বছর কোন ইসলামিক দলের সাথে সংযুক্ত থেকেই অনেকে ইমাম আবু হানীফা (রহ), ইবনে তাইমিয়া (রহ) -সহ অনেককে গোমরাহ মনে করেন। অনেকে বর্তমান যামানার উম্মাহকে পথ দেখাচ্ছেন যেসব মস্ত বড় আলেম তাদেরও গোমরাহ কাফের মনে করেন।

অথচ না তারা দ্বীনের কোন উল্লেখযোগ্য পথ পাড়ি দিয়েছেন না তারা অন্তত তাদের সমমানেও উন্নীত হয়েছেন। অনেকে তো কেবল সমুদ্রে তীরেই হাটু পানিতেই হাবুডুবু খাচ্ছেন আর কোন এক তরীকা অবলম্বন করে সেটাকেই একমাত্র নির্ভুল তরীকা মনে করে আত্ম-প্রশংসা করছেন।

অথচ হযরত মূসা য়ালাইহিস সালামের মতো বক্তি তার সঙ্গীকে বলেছিলেন, “দুই সমুদ্রের সংযোগস্থলে না পৌঁছে আমি থামবো না, অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।” (সূরা কাহাফ, আয়াত ৬০)

তাদের কি হলো যারা যুগ যুগ বা অনন্তকাল ধরে জ্ঞানের পথে চলার জন্য নিজেরা চেষ্টা না করে, বরং যারা অগ্রগামী তাদেরই ভুল ধরতে ব্যস্ত?

ট্যাগঃ সুন্নী শিয়া হানাফী মাযহাবী লা-মাযহাবী তবলিগী দেওবন্দী বেরলভী

Advertisements

আমার সুন্নী পরিচয়

আমার দুনিয়ার পরিচয়ে কি আসে যায়? আখিরাতের পরিচয়ই আসল পরিচয়। সুন্নি পরিচয় দিলে দুনিয়ায় কিছু লাভ হতে পারে। দ্বীনী মহলে খাতির হবে। আখিরাতে কি লাভ হবে? হানাফী পরিচয় দিলেই বা আখিরাতে কি লাভ হবে? আখিরাতে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমার দ্বীন কি? বলতে হবে, ইসলাম। দুনিয়ায় সুন্নি পরিচয় দিলাম, হানাফী পরিচয় দিলাম, আর কাজ করলাম কাফেরের তাহলে? আল্লাহ্‌ ইহুদি খ্রিস্টান চক্রের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন। আমার দিন চলে তাদের কোলে মাথা রেখে। আল্লাহ্‌ বলেন, তাহলে তুমি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্‌ বলেন, ও মু’মিন, তুমি মুসলমান না হয়ে কবরে এসো না। শুধু মু’মিন বা ঈমানদার হলে হবে না, মুসলমান হতে হবে, কবরে যাওয়ার পূর্বে। আমরা শীয়া সুন্নি হানাফি তবলিগী মাযহাবি লা-মাযহাবি অমুক পীরের মুরিদ ইত্যাদি হয়ে কবরে যাই। কয়জন মুসলমান হয়ে কবরে যাই? হানাফী পরিচয় দিলাম আর চাকরি করলাম ব্যাংকে। আল্লাহ্‌ বলেন, যারা এরপরও সুদের টাকা গ্রহণ করবে তারা জাহান্নামে থাকবে, আর কোনদিনও বের হতে পারবে না। চিরজীবন জাহান্নামে থাকবে। অথচ আমরা সুদি ব্যংকে জামাত করে যোহরের সালাত আদায় করি আর সারাদিন সুদের টাকা গ্রহণ করি ও বিতরণ করি। কি হবে সালাতে পেটের উপরে বা বুকের উপরে হাত বাধলে? আমীন জোরে বললে বা আস্তে বললে? আল্লাহ্‌ বলেন, চিরদিন এরা জাহান্নামে থাকবে।

।।

(দেখুন, সূরা মায়েদা ৫১ নং আয়াত, সূরা আল ইমরান, ১০২ নং আয়াত ও সূরা বাক্বারা ২৭৫ নং আয়াত)

হ্যামফারের ডায়েরী

হ্যামফার কাজ করেছে সুন্নী মুসলিমদের উপর। সে ডায়েরী লিখেছে যা কোনভাবে প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় সাড়া দুনিয়া জেনে যায় তাদের অপকর্ম। কাজেই যাদেরকে আমরা সুন্নী মনে করি তা আসলে হ্যামফারী ইসলাম ছাড়া আর কিছুই নয়। একইভাবে শীয়াদের উপরও নিশ্চয়ই অন্য কোন গোয়েন্দা কাজ করেছে। বৃটিশ কমনওয়েলথ মন্ত্রণালয় তো মাত্র একজন গোয়েন্দা এমপ্লয় করে নাই। নিশ্চয়ই শত শত হাজার হাজার গোয়েন্দা ছিল তাদের। সবাই তো আর তাদের গোয়েন্দাগিরির ডায়েরী লিখে নাই। আর লিখলেও সবার ডায়েরী প্রকাশও পায় নাই।

তারাই মুসলিমদের মধ্যে জাতীয়তা বাদ সৃষ্টি করেছে।

শীয়া বলেন আর সুন্নী উভয়টার মধ্যে আছে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের আদর্শ। আজকে আপনার আমার জন্ম যদি ইরানে হতো আপনি আমি হতাম এক নম্বর শিয়া। এখন বাংলাদেশে জন্ম হওয়ায় এক নম্বর সুন্নী। আসলে রাসূল সা ও সাহাবা রাযি দের আদর্শ থেকে সবাই দূরে। কাজেই শিয়া বলেন আর সুন্নী বলেন সেগুলো জাতীয়তাবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাসূল ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের অনুসরণ করবে গজে গজে বিঘতে বিঘতে। সেটাই করছে হ্যামফারী সুন্নী ও সাবাঈ শিয়ারা। হ্যামফার ছিল খ্রিস্টান ও ইবনে সাবা ছিল ইহুদী।

a-british-spy-hempher

বাংলায় বইটি প্রকাশ করেছে জ্ঞানকোষ প্রকাশনী (ফোন নাম্বার – 01711271718)। পাওয়া যেতে পারে রকমারিপড়ুয়াতে।

হ্যামফারের ডায়েরী

আলহামদুলিল্লাহ, পুরনো বইয়ের ভিড়ে হ্যামফারের ডায়েরী বইটি পেয়ে গেলাম। তিনি একজন বৃটিশ গোয়েন্দা ছিলেন। কিভাবে ইরাকের বসরায় সাক্ষাৎ হওয়া নজদের মোহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব এবং দরিয়ার আমীর মোহাম্মদ বিন সৌদ – এই দুই মোহাম্মদকে ট্রেনিং দিয়ে লা-মাযহাবী ও ওয়াহবী মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল তার শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনী। প্রকৃতপক্ষে লা-মাযহাবী ও ওয়াহাবী শেষ যুগের ইসলামের প্রতিষ্ঠিত ধর্মমত যার প্রধান আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসলামের পূর্ববর্তী যুগের দুটি মত শিয়া ও সুন্নীদের বিভেদকে আরো উস্কে দেওয়া এবং সুন্নীদের মাযহাবগত পার্থক্যকে বিভেদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এভাবে ইসলামের পূর্বতন সব কাজকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া। লা-মাযহাবী ও ওয়াহাবী মতবাদ বুঝতে পারার অর্থ হল ইসলামের শেষ যুগের মতবাদ বুঝতে পারা। তারা প্রথম যুগের ইসলামের প্রতিটি ভিত্তির মূলে আঘাত করেছে এবং অবশ্যই তা বৃটিশ গোয়েন্দাদের নির্দেশনায়।

a-british-spy-hempher

বাংলায় বইটি প্রকাশ করেছে জ্ঞানকোষ প্রকাশনী। পাওয়া যেতে পারে রকমারি ও পড়ুয়াতে।

বাংলায় বইটি প্রকাশ করেছে জ্ঞানকোষ প্রকাশনী (ফোন নাম্বার – 01711271718)। পাওয়া যেতে পারে রকমারিপড়ুয়াতে।