সাথী ?

ছেলেটির বয়স কত হবে? ১৭ – ১৮ হবে হয়তো। আমাকে দেখে একগাল হাসি দিয়ে বলল, আপনি আমাদের মহল্লার ‘ঐ’ মসজিদের সাথী না? আমি বললাম, আমি মসজিদের সাথী হতে যাব কেন? আর মসজিদের সাথী জিনিসটা কি? সে বলল, এর অর্থ হলো, আপনি ঐ মসজিদের তবলীগ জামাতের সাথী না? আমি বললাম, না ভাই, আমি কোন দলের সাথী বা কিছু না। আমি মুসলমান, আমি একজন সাধারণ মুসলমান। আমার আখিরাতে এতোটুকু পরিচয়ই যথেষ্ট। যেখানে আল্লাহ্‌ বা তাঁর ফেরেশতারা আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না আমি তবলীগের বা এরকম কোন ইসলামিক তরীকার সাথী ছিলাম কি না, সে খানে আমার আগ বাড়িয়ে এই পরিচয় দেয়ার দরকার কি ? কুরআনে আমাকে আল্লাহ্‌ তায়ালা পরিচয় দিতে বলেছেন আমি একজন সাধারণ মুসলমান। এখন এই পরিচয় আমি আখিরাতে যেমন দিতে চাই, দুনিয়াতেও দিতে চাই। কাজেই আমি হানাফী, মাযহাবী বা লা-মাযহাবী, সুন্নী, শিয়া বা আহলে হাদীস কিছুই নই। হ্যাঁ, আমি হানাফী মাযহাব অনুসরণ করি, তাই বলে রাফউল ইয়াদাইন বা জোরে আমীনে নাক সিটকাবো আমি সেরকম নই ভাই। কারণ সেগুলোও হাদীসের আমল। আমি মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেই কিন্তু তাই বলে ১২০ দিন, ৪০ দিন বা ৭২ ঘন্টার তরীকা যা সাহাবা রাযি -দেরও অনেক পরে আবিষ্কার হয়েছে তা মানতে পারব না। আবার নামায শেষে ইমামের সাথে মোনাজাত বা দাঁড়িয়ে সালাতুনিয়া পড়তে পড়তে কিয়ামও করতে পারব না। এখন এসব জেনে তুমি যদি এরপরও আমার সাথে এরকম হাসি মুখে কথা বলো, আলহামদুলিল্লাহ্‌। ছেলেটি হাসিমুখেই বললো, ঠিক আছে। আমি বললাম, জাযাকাল্লাহু খাইরান।

সমালোচনা

এ লেখাটি এখানে শেয়ার করার কারণ হল এই পোস্টটিতে বাংলাদেশের একজন মূলধারার আলেমের (শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ.) শিয়াদের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দর্শন আছে যা শায়খ ইমরান নযর হোসেনের দর্শনের অনুরূপ। আল্লাহতায়ালা বিতর্কিত বিষয়গুলোতে আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।

লিখেছেনঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

সমালোচনা…
—–
[[ক.]]
আমাদের উস্তাযরা কখনো চাইতেন না আমরা বড়দের সমালোচনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠি। যেসব মুরব্বিদের সামনে আমরা দেখার মত দেখতে শিখেছি, দুনিয়াকে দুনিয়া, আখিরাতকে আখিরাত হিসেবে চিনতে শিখেছি তারা কখনো আমাদেরকে শিখাননি যে, “ভিন্নমতপোষণকারী বড়দের গালিগালাজ করলে আল্লাহ খুশি হয়!”
.
[[খ.]]
আচ্ছা একটা উদাহরণ দেয়া যাক, আপনি হয়তো জানেন রাজশাহীর পরিবেশ ঢাকার মত না, আইমিন জামাতে সমালোচনার ব্যাপারে ঢাকা চট্টগ্রাম এর উলামাদের যেমন বলতে দেখা যেত রাজশাহীতে তেমনটা ছিলোনা। (এখনকার হিসেব তো পুরোই আলাদা, আল্লাহ আমার ওই ভাইদের হিফাজত করুক গোমরাহি এবং জুলুম থেকে)
তো রাজশাহীর এই বৈরি পরিবেশেও আমার প্রিয় এক উস্তায মাঝেমাঝে জামাতের ভ্রষ্টতার ব্যাপারে দুচার কথা বলতেন, অন্য ক্লাসের খবর জানিনা। কিন্তু সবচে পুরাতন ব্যাচ হিসেবে আমাদের সামনে অনেক কিছুই বলতেন।
তো শাহবাগীয় সভ্যতার যুগে 😜 একবার শোনা গেলো সাঈদি সাহেবের চেহারা নাকি চাঁদে দেখা গেছে! আমরা এটা নিয়ে অনেক হাসাহাসি করলাম, একজন আরো একধাপ এগিয়ে কম্পিউটার রুমে চলে গেল!
ইলাস্ট্রেটর দিয়ে চাঁদ ও সাঈদি সাহেবের ছবি মার্জ করে ট্রল বানিয়ে ফেললো!! এই সবকিকিছুই ঘটেছিলো সেদিন সকাল ৭টার আগে..
৭টা থেকে আমাদের ক্লাস, প্রথম ঘন্টা “আল ফিকহুল মুয়াসসার” কিতাবের, উপরে বলা সেই উস্তাযের ঘন্টা.. আমাদের এক সহপাঠী অনাবাসিক থাকতো সেও নাকি দেখেছে!! এটা নিয়ে আমরা ক্লাসে হাসিঠাট্টা করছি.. এমন সময় হুজুর আসলেন..
– এত হাসি কিসের??
— হুজুর! সাঈদি সাহেবকে নাকি চাঁদে দেখা গেছে… আমরা সবাই হাসতে হাসতে বললাম
– তাই নাকি? আজ রাতের ঘটনা?
— জ্বি হুজুর! **বায়দা ভাই নাকি দেখেছে!!
– কিরে **বায়দা? কাহিনী কি?
— হুজুর ফজরের সময় আমার বোন জার্মানি থেকে ফোন করেছিল, ওর কথা শুনে আমি বাহিরে এসে দেখলাম… দেখে ওরকমি মনে হলো..
(আমরা হাসছিলাম, আর ভাবছিলাম হুজুরও হয়তো আমাদের সাথে হাসিতে যোগ দিবে..কিন্তু)
হুজুরকে একদম চুপ দেখলাম… বললেন…
.
– একজন আলেমকে যদি আল্লাহ সম্মানিত করতে চান তাহলে তোমার-আমার কি বলার আছে….
.
.
[[গ.]]
আরেকদিনের ঘটনা, তখন আমাদের নাহবেমির ক্লাস চলছে। মুহতামিম সাহেব হুজুর ক্লাস নিচ্ছেন। কথাপ্রসঙ্গে শিয়াদের কথা উঠলো.. তখন হুজুর সংক্ষেপে একটা ঘটনা শোনালেন…
.
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফসানজানী একবার বাংলাদেশে আসবে বলে কথা হচ্ছিলো… তখন কিছু উলামায়ে কিরাম তার ব্যাপারে ফতওয়া লিখে সাক্ষর যোগাড় করছিলেন… সব ঠিকঠাক চলছিলো.. মাঝে বাধ সেধে বসলেন শাইখুল হাদিস আজিজুল হক রহ.
উনি সেই ফতওয়ায় সাইন করবেন না!
আজিব! তাহলে কি উনি শিয়াদের কাফের মনে করেননা? রক্তগরম তরুণ কিছু আলেম গিয়ে হজরতের সামনে হাজির!! হুজুর আপনি ফতওয়ায় সাইন করছেননা কেন?
.
শাইখুল হাদিস সাহেব ব্যাখ্যা করলেন- “দেখো! একটা আক্বিদা কুফরি কি না.. এটা বলা সহজ! তুমি কোরআন হাদিস দেখে সহজে বলতে পারবা এটা কুফরি আক্বিদা এটা ইসলামি আক্বিদা, এই এই আক্বিদা যারা রাখবে তারা কাফির। কিন্তু একজন ব্যাক্তির ওপর যখন তুমি কুফরির ফাতওয়া দিবা (যে প্রেসিডেন্ট রাফসানজানি কাফের) তখন তোমাকে অনেক কিছু খেয়াল রাখতে হবে, সে শিয়া ঠিক আছে মানছি। কিন্তু আমার তো জানা নাই যে, সে ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ধর্মের কুফরি আক্বিদাগুলোয় বিশ্বাসী কি না….
সবচে বড় কথা হচ্ছে, রাসুল সা. এর কথা অনুযায়ী তুমি যাকে কাফির বলবা সে আসলেই কাফির না হলে, এই কুফরির ফাতওয়া তোমার ওপরেই ফিরে আসবে! অতএব…..”
শাইখুল হাদিস সাহেবের কথাশুনে এবার সবাই খামোশ!! বিস্তারিত পড়ুন

ভ্রাতৃত্ব

‘বাইতুল্লাহর মুসাফিরে’র পর গত কয়েকটা দিন ‘বাইতুল্লাহর ছায়া’য় একটা সুন্দর স্বপ্নের ভিতর ডুবে ছিলাম। ফেসবুকে আসার কথা মনেও হয়নি। লেখকের সাথে হেঁটে বেড়িয়েছি মাতাফে, উম্মে হানীতে, পান করেছি আবে যামযাম, রামী করেছি জামারায়, আরাফায় আমিও কেঁদেছি, লেখকের সাথে আমিও লাভ করেছি হাফেজ্জী হুযুরের কিছু সোহবত। ঐ যে নাবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহিস সালাম সফরের লোকদের বলেছিলেন, মদীনার কিছু লোক তোমাদের সঙ্গী হবে, তোমরা যে যে উপত্যকা পাড়ি দেবে, তারাও …। অথচ তাদের জিসিম থাকবে মদীনায়।
 
কয়েকদিন পর ফেসবুকে এসে দেখি ঘটে গেছে আরও কিছু ঘটনা। সোমালিয়ায়, জাপানে, কল্যাণপুরে আরো কিছু প্রাণহানি। চীন সাগর কৃষ্ণসাগরে নাকি টানটান উত্তেজনা। আবারও কোথায় যেন বের হয়েছে ফ্লাইং সসার্স। চোখ বুলিয়ে যাই ঘটনাপ্রবাহে।
 
আবারও বিতর্ক বিভিন্ন পোস্টে। শিয়া, সুন্নী, সৌদি রাজা, রাশিয়া, রূম, অর্থোডক্স, তুরস্ক, আমেরিকা ইত্যাকার পরিচিত ভোকাবুলারি। আবারও নিজ নিজ মতের উপর অন্ধবিশ্বাস ও যুক্তির প্রলেপ। বিরুদ্ধ মতকে হেয় করা। যতভাবে পারা যায়।
 
নাহ, ফেসবুক আমার জন্য নয়, আমিতো পারবোনা শিয়াদের কাফের ফতোয়া দিতে যতক্ষণ না পুরো মুসলিম উম্মাহয় এই ইজমা হয় যেমন হয়েছে কাদিয়ানীদের ক্ষেত্রে। আমি জানি আমাদের আকাবীররা ইরাক ইরানের ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ থামানোর জন্য কেমন দৌড়ঝাঁপ করেছেন। কিন্তু সফল হয়নি আমাদের কোন কোন মাওলানাদের জন্য যারা নিজের অজান্তে ইহুদীদের ঘুঁটিতে পরিণত হয়েছিলেন।
 
আমি পারবোনা সূরা মায়েদার ৫১ আয়াত অনুসারে সৌদি রাজাদের কাফের ফতোয়া দিতে যে যারা ইহুদী খ্রিস্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করে …। আমি মনে করতে চাই, আয়াতটি মুসলমানদের পররাষ্ট্র নীতিকে নির্দেশ করে, কিন্তু কোনভাবেই ইহুদী খ্রিস্টানদের সাথে বন্ধুত্বকারীদের ঈমানকে খারিজ করে দেয় না।
 
আচ্ছা, নবীজী তো সমস্ত মুনাফিকদের চিনতেন। কিন্তু একমাত্র হোযায়ফা রাযি ছাড়া আর কারো কাছে প্রকাশ করেন নি কেন? কেন মদিনার মুসলমানরা অন্য ব্যক্তি মুনাফিক কি না তা জানতে আগ্রহী হওয়ার চেয়ে নিজের নাম মুনাফিকের লিস্টে আছে কি না তা জানতে ব্যাকুল ছিলেন !!
 
আমি মনে করতে চাই, সুন্নী হোক, শিয়া হোক, কুর্দী হোক বা সৌদি রাজা হোক এরা সকলেই আমার মুসলিম ভাই। ভাইরাতো শুধু নিজেরা নিজেদের উপর জুলুম করে, মাঝখান থেকে লাভবান হয় ইহুদীরা।

ঐক্যের পথ

অনেক দিন পূর্বে কাজের ফাঁকে এক বিরতিতে আমাদের মধ্যে শিয়া সুন্নী নিয়ে কথা উঠল। আমাদের কেউ একজন বলে বসল শিয়ারা কাফের। হ্যাঁ, অনেক আলেম আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে, যে ব্যক্তি তাদের কাফের বলবে না সেও কাফের। অতঃপর আড্ডায় নানাজন নানামত দিতে লাগল। সেখানে আমাদের এক বড় ভাই বসা ছিলেন, তিনি এমনিতে নীরব থাকেন, তাবলীগ জামাতে সময় দেন। এসব আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে চান না মনে হয়। কিন্তু সবাই তাকেই ধরল ফায়সালার জন্য। তিনি একটি সুন্দর কথা বললেন যা আমি মাঝে মাঝে মনে করি। তিনি বললেন, আমাদের ঈমানী কালেমা হল, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। আমরা মানুষকে এ কালেমার দাওয়াতই দেই। যে ব্যক্তি এই কালেমায় বিশ্বাস করবে সে মুসলমান, তাকে আমরা কাফের বলতে পারব না। তিনি বললেন, কাজেই কে শিয়া কে সুন্নী আমি চিনি না, আমার জানারও প্রয়োজন নেই। যে ব্যক্তি এই কালেমায় বিশ্বাস করবে সে মুসলমান, অবশ্যই মুসলমান। পৃথিবীর কোন মুফতী তাকে কাফের বলতে পারবে না। এই কালেমার ভিত্তিতে নির্ধারণ হয় কে মুসলমান, কে কাফের। বিভক্তির হাজারো পথ আছে, কিন্তু ঐক্যের পথ একটিই কে এই কালেমায় বিশ্বাস করে।

ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য সতর্কবাণী

Maulana Sheikh Imran Nazar Hosein

Maulana Sheikh Imran Nazar Hosein

মূলঃ

আল্লামা ইমরান নযর হোসেন

অনুবাদঃ 

বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

মালহামা/ আরমাগেডন/ ৩য় বিশ্বযুদ্ধ

মহানবীর (সাঃ) ভবিষ্যবাণীকৃত মালহামা (মহাযুদ্ধ) এখন নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছে । অথচ আমরা কোরআন না পড়িবার কারণে হালুয়া রুটি খাইতেছি আর নাক ডাকিয়া ঘুমাইতেছি । কোরআন পড়া কোন জরুরি কাজ নয় । ছেলেকে অক্সফোর্ডে পাঠাইয়াছি কমপিউটার সাইন্স পড়িবার জন্য । সেটা বেশী জরুরি । এই হইল এখন মোহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মাতের অবস্থা । মালহামাকে (মহাযুদ্ধ) তাহারা বলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ । কিন্তু ইহা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো হইবে না । ইহা হইবে পারমাণবিক যুদ্ধ, হাজার হাজার এটম বোমা ইহাতে বিস্ফারিত হইবে । ইহার তুলনায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে মনে হইবে চিনাবাদামের মতো । সেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এখন নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছি । খুব সম্ভবতঃ নভেম্বরের ৪ তারিখের পূর্বেই তাহা শুরু হইবে । কারণ ট্রাম্প তাহাদের (যায়োনিষ্টদের) জন্য হুমকি হইয়া দাঁড়াইতে পারে । যখনই পাকিস্তানে কোন শক্ত মেরুদন্ডের শাসক ক্ষমতাশীন হইয়াছে তাহারা (যায়োনিষ্টরা) তাহাকে হত্যা করিয়াছে । যখনই আমেরিকায় কোন যোগ্যতাসম্পন্ন শাসক ক্ষমতাশীন হইয়াছে তাহারা (যায়োনিষ্টরা) তাহাকে হত্যা করিয়াছে । এজন্য তাহারা কেনেডীকে হত্যা করিয়াছে (তাহাদের নির্দেশ মতো চলিতে অস্বীকার করিবার কারণে) । ব্রিটিশ জনগণ এখন আর ব্রিটেনের সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে না । আমেরিকার জনগণ এখন আর আমেরিকান সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে না । কাজেই ট্রাম্প যদিও মাঝে মাঝে বোকার মতো কথা বলে কিন্তু সে প্রমাণ করিয়াছে যে তাহার স্বাধীনভাবে চিন্তা করিবার শক্তি আছে । সে কাহারো ইশারায় চলে না । ডোনাল্ড ট্রাম্প বলিয়াছেন যে, আমি একজন ব্যবসায়ী । রাশিয়ার সাথে আমরা শত্রুতা করিব আর এই সুযোগে রাশিয়ার সাথে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য একচেটিয়া চীন দখল করিয়া নিবে তাহা হইতে পারে না । কাজেই তাহারা (যায়োনিষ্টরা) যাহা করিবার নভেম্বরের ৪ তারিখের পূর্বেই করিয়া ফেলিবে । কেননা সেদিন আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন । মালহামা নাকের ডগায় আসিয়া পড়িয়াছে, ফোরাত নদীর স্বর্ণ নিয়া যুদ্ধ শুরু হইয়াছে। অথচ আলেম-ওলামাদের মুখে কিছুই শোনা যায় না । আমরা হালুয়া রুটি খাইয়া নাক ডাকিয়া ঘুমাইতেছি । এই হইল মোহাম্মাদ (সাঃ)-এর উম্মাতের অবস্থা ! তাহারা চিনাবাদাম নিয়া জিহাদ করিতেছে ।

সাম্প্রতিক লেকচার : ৩য় বিশ্বযুদ্ধ কখন শুরু হবে? এবং তুরস্কের রেফারেন্ডাম বিষয়ে লেকচারের লিঙ্ক নীচে

 

তিন মাসের খাবার পানি সংগ্রহ করিয়া রাখুন

তিন মাসের খাবার পানি সংগ্রহ করিয়া রাখুন রাসুলাল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে জানাইয়াছেন যে, একটি ভয়ঙ্কর মহাযুদ্ধ সংঘটিত হইবে যাহাতে যুদ্ধরত সৈন্যদের শতকরা ৯৯ জন নিহত হইবে । প্রচলিত গতানুগতিক যুদ্ধে কখনও শতকরা ৯৯ জন নিহত হয় নাই, ইতিহাসে এমন কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই । সুতরাং যেই যুদ্ধটি আসিতেছে তাহা এমন যুদ্ধ হইবে যাহার সাথে মানবজাতি কখনও পরিচিত নয় । আমরা বলি ইহা হইবে পারমাণবিক যুদ্ধ অর্থাৎ ইহাতে ব্যাপক গণবিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হইবে । একমাত্র এই ধরনের যুদ্ধেই দুই পক্ষের শতকরা ৯৯ ভাগ লোকের মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে । যাহারা আমার এই ইন্টারভিউ শুনিতেছেন তাহারা সাবধান থাকিবেন, তাহাদেরকে সচেতন করা আমাদের কর্তব্য । এমন একটি যুদ্ধে সাধারণত খাবার, পানি এবং জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস হইয়া যাইবে । বড় বড় শহরগুলোতে যাহারা বসবাস করেন তাহারা যুদ্ধের পরে দেখিতে পাইবেন অরাজকতা, লুটপাট, ডাকাতি, খুনাখুনি । ইহা হইবে পারমাণবিক যুদ্ধে বাঁচিয়া যাওয়া মানুষদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টার কারণে । সুতরাং আপনাদেরকে বড় বড় শহরগুলো ত্যাগ করিয়া গ্রাম অঞ্চলে চলিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে । দ্বিতীয় কথা হইল আমাদের নিজের এবং স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, পানি এবং জ্বালানি যেমন মোমবাতি সংগ্রহ করিয়া রাখা উচিত । আমার মতে অন্তত তিন মাস জীবন ধারণের মতো মওজুত থাকা উচিত । আমি কয়েক দিন আগে মার্কেটে গিয়া খাবার কেনাকাটা শুরু করিয়াছি বিশেষত কৌটাজাত খাবার । পানির ব্যাপারে আমাদেরকে পার্থক্য নির্ণয় করিতে হইবে, কোনটা পান করিবার জন্য এবং কোনটা রান্নাবান্না আর শৌচক্রিয়ার পানি । পান করিবার পানি সাধারণত প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে বরং কাচেঁর বোতলে সংরক্ষন করা উচিত । আমরা জানি না পারমাণবিক যুদ্ধ সংঘটিত হইলে পারমাণবিক রেডিয়েশানে প্লাষ্টিকের বোতলের কি অবস্থা হয় । তবে কাঁচের বোতল রক্ষা পাইবে বলিয়া আমরা আশা করিতে পারি । বড় বড় বোতলে পানি সংরক্ষণের চাইতে ছোট ছোট বোতলে পানি মওজুত করা উচিত । কেননা একটি বড় বোতল ভাঙিয়া গেলে আপনি দশ বিশ লিটার পানি হারাইয়া ফেলিবেন । পানির বোতলগুলি এমন জায়গায় সংরক্ষন করা উচিত যাহাতে বিল্ডিং ভাঙিয়া পড়িলেও বোতলগুলি অক্ষত থাকে । বিস্তারিত পড়ুন