গোলাপ ফুলের গল্প

blue-rose

বিবর্তনবাদ নিয়ে কয়েকদিন ধরে গম্ভীরভাবে ভাবতে লাগলে বালকটি। সে একজন শখের নাস্তিক। কিন্তু বিবর্তনবাদ নিয়ে ভেবে ভেবে কোন কূল কিনারা করতে পারল না। আজ পর্যন্ত কোন বানরকে মানুষ হতে দেখল না। অদূর ভবিষ্যতে দেখবে কি না সন্দেহ। কিন্তু বিবর্তনবাদ সত্য না হলে তো তার শখের নাস্তিকতাটা টিকে থাকছে না। তাই সে এবার অন্য লাইনে চিন্তা করল। প্রানী থেকে প্রানী হওয়াটা অসম্ভব মনে হলেও প্রানী থেকে উদ্ভিদ হওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে কি না। উভয়টাই তো কোষ দিয়ে তৈরী। এমন কি হতে পারে না যে প্রানী কোষ উদ্ভিদ কোষে ‘বিবর্তন’ হয়ে গেল? হয়তো একদিন সে শুয়ে আছে, সকাল হলে দেখা গেল সে গোলাপ ফুল গাছে পরিণত হয়েছে। একটি কলিসহ ফুল ফুটে রয়েছে। গোলাপ ফুল গাছ একদিন হয়ে গেল বট গাছ। অসম্ভব কি? – হঠাৎ হেল্পারের ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেল। “মামা নামেন নামেন কলেজ গেট আইসা পড়ছে।” সে হুড়মুড়িয়ে নামতে লাগল। নাক সরু করে কি যেন শুঁকল। হাত থেকে গোলাপ ফুলের গন্ধ বের হচ্ছে কি? তার বুক ধক করে উঠল। না না সে গোলাপ ফুল হতে চায় না।

Advertisements

বিশ্বাসের দর্শন‬ ও অবিশ্বাসের ভাইরাস (১৩)

লিখেছেনঃ Muhammad Masih Ullah

কতই না অদ্ভূত আমাদের এই চোখ! যখনই চোখের গঠন নিয়ে ভাবি, দৃষ্টির রসায়ন নিয়ে চিন্তা করি, আমার ভেতরটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নুইয়ে আসে।ইচ্ছে করে এক সিজদায় জীবনটা কাটিয়ে দিই।

কী আশ্চর্য গঠনই না আমাদের এই চোখের। চল্লিশের অধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ অংশ নিয়েই এই আঁখিযুগল। এর মধ্যে মাত্র একটির অবস্থাই যদি আমরা বিবেচনা করি, বুঝে আসবে কোন জিনিসের নাম সৃষ্টিকৌশল।

আমাদের চোখের বৈচিত্র্যময় একটি অংশ লেন্স। যে বিষয়টি আমরা কখনোই উপলদ্ধি করি না, এই যে চোখের সামনের প্রতিটি বস্তুকে আমার সুস্পষ্ট দেখা, তা যে এই লেন্সটির অবিরাম স্বয়ংক্রিয় ফোকাসিং এরই ফসল।

চোখের সামনে আমার আঙ্গুলের অগ্রভাগ ধরলাম। এক দৃষ্টিতে তাকালাম আঙ্গুলটির অগ্রভাগে। অতঃপর সেখান থেকে দ্রুত দৃষ্টিকে সরালাম সামনের দেয়ালে। আবার দ্রুত নজর করলাম আঙ্গুলে। দৃষ্টির প্রতিটি পরিবর্তনে আমরা অনুভব করি সূক্ষ্ম এক দ্রুত এডজাস্টমেন্ট।

লেন্সটি মাইক্রোসেকেন্ডেরও কম সময়ে তার পুরুত্বকে পরিবর্তন করছে। আর লেন্সের পুরুত্বের এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কতগুলো পেশি। এরা দ্রুত সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে লেন্সটিকে এডজাস্ট করে নিচ্ছে যেন সামনের বস্তুটি আমার কাছে স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। লেন্সটি এভাবে নিজের পুরুত্বকে এডজাস্ট করছে আমাদের জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডে। আর কোন প্রকার ভুল করছে না একবারও।

ফটোগ্রাফার যখন ছবি তোলে, প্রতিবার হাতের মাধ্যমে নিজেদের ক্যামেরার এই এডজাস্ট তারা করে নেয়।কখনো কখনো তাদের সঠিক ফোকাসের জন্য কিছু সময় রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি এমন ক্যামেরা উদ্ভাবন করেছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোকাসিং করতে পারে। কিন্তু কোন ক্যামেরাই চোখের মতো এত দ্রুত ও এত সঠিকভাবে ফোকাস করতে পারে না।

একটা চোখ কেবল তখনই দেখতে সক্ষম, যখন চল্লিশেরও বেশি অংশ একই সময়ে একসাথে সঠিকভাবে কাজ করে। চোখের লেন্স সেই অংশগুলোর মাত্র একটি।

যখন চোখের প্রতিটি অংশ- কর্নিয়া, আইরিশ, পিউপিল, রেটিনা, অক্ষি-পেশিগুলো সবাই একসাথে সঠিকভাবে কাজ করছে, কিন্তু কেবল আইলিড (নেত্রপল্লব) অনুপস্থিত, তবে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে চোখের বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে আর সে কাজ করা বন্ধ করে দেবে। সবই ঠিক আছে, কেবল অশ্রু তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে গেলো, চোখ শুকিয়ে যাবে এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যে অন্ধ হয়ে যাবে। বিস্তারিত পড়ুন

বিশ্বাসের দর্শন‬ ও অবিশ্বাসের ভাইরাস (১২)

লিখেছেনঃ Muhammad Masih Ullah

ছোট ভাইটির বুদ্ধিসুদ্ধি কম, সহজে কোন বিষয় বুঝতে পারে না। সেবার ও,টি,তে কি কান্ডটাই না সে ঘটিয়েছে।
হানিফ সাহেবের পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়েছে। সার্জন সাফ বলে দিয়েছেন পা’টি কেটে ফেলতে হবে। যত তাড়াতাড়ি পারা যায়। নইলে তাকে বাঁচিয়ে রাখা টাফ হবে।
হানিফ সাহেবকে ও,টি,তে ঢুকানো হয়েছে। পাগল ছোটভাইটি কিভাবে যেন বিষয়টি জেনে গেলো। এরপর সে কি আর দেরি করতে পারে! বড়দাকে যে সে খুবই ভালোবাসে।
এক দৌঁড়ে সে ও,টি,র ভেতরে। কেউ তাকে রুখতে পারে নি। গিয়েই হানিফ সাহেবের হাত ধরে টানাটানি শুরু করেছে। নাহ, কিছুতেই সে পা কাটতে দেবে না। সার্জনের সাথে তার সে কি ঝগড়া!
তাকে কোনভাবেই বুঝানো যাচ্ছিলো না। সার্জনকে সে এভাবে শাঁসালো,
“আপনার এত সাহস! একটা মানুষের পা কেটে ফেলবেন! কেমন জালিম আপনি! একটা মানুষকে পঙ্গু করে দেবেন!”
তাকে বুঝানোর চেষ্টা করা বৃথা। ছোটবেলা থেকেই হাবা এই পাগলটিকে কিভাবে বুঝানো যাবে! তার কেবল এক কথা,
“কিছুতেই পা কাটা যাবে না। এ যে মহা জুলুম! আর তাছাড়া বড়দাকে যে সে বড় ভালোবাসে।”
শেষে আর কি করা। তাকে টেনে হিঁচড়ে ও,টি, থেকে বের করা হলো।

আসলে ব্রেইনের সীমাবদ্ধতা একটা মহা সমস্যা। যে প্রোগ্রাম ব্রেইনে ঢুকানো নেই, তা কিছুতেই বুঝে আসবে না। যে সফ্টওয়্যার কম্পিউটারে ঢুকানো হয় নি, সেটির সাথে সংশ্লিষ্ট কোন প্রোগ্রাম কম্পিউটারটিতে চলবে না, এটিই স্বাভাবিক।যতই বলা হোক, এটি সুপারকম্পিউটার। তাতে কি! প্রোগ্রামটি করা থাকতে হবে তো! আর সুপারকম্পিউটার যত সুপার হোক, তার একটা লিমিটেশন আছে। এক পর্যায়ে সে থেমে যাবে। মানুষের ব্রেইনও ঠিক তেমনই। এরও একটা লিমিটেশন আছে।
যে সর্বোচ্চ বিশের নামতা পর্যন্ত জানে, বীজগনিত কখনও ধরেও দেখে নি, সে কিভাবে বীজগাণিতিক কোন সমস্যা সমাধান করবে?

উপরে ব্রেইনের সীমাবদ্ধতার একটা উদাহরণ দেয়া হলো। মেধার স্বল্পতার কারনে পা অপারেশন করাকে জুলুম ভাবা হচ্ছে। তেমনই মেধা অপরিপক্কতার কিছু উদাহরণ নীচের লাইনগুলোতে দেখুন।

“কোন ব্যক্তি যদি একজন ক্ষুধার্তকে অন্নদান করে ও একজন পথিকের মাল লুন্ঠন করে, একজন জলমগ্নকে উদ্ধার করে ও অন্য কাউকে হত্যা করে, অথবা একজন গৃহহীনকে গৃহদান করে এবং অপরের গৃহ করে অগ্নিদাহ, তাহাকে ‘দয়াময়’ বলা যায় কি? হয়তো তাহার উত্তর হইবে -‘না’। কিন্তু উপরোক্ত কার্যকলাপ সত্ত্বেও ঈশ্বর আখ্যায়িত আছেন দয়াময় নামে।……”

এরপর আপনি কুরআনের নীচের আয়াতগুলো পড়ুন,

فَأَمَّا الْإِنسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَاهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَعَّمَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَكْرَمَنِ
وَأَمَّا إِذَا مَا ابْتَلَاهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَهَانَنِ
كَلَّا

“মানুষ, যখন তার রব তাকে পরীক্ষা করার জন্য সম্মান দিয়ে দেন, নিয়ামত বাড়িয়ে দেন, সে বলে, আমার রব আমাকে সম্মানিত করেছেন। আর যখন পরীক্ষা করার জন্যে তার রিযককে সংকুচিত করে দেন, তখন সে বলে, আমার রব আমাকে হেয় করেছেন। কখনও তেমন নয়। “

Al-Fajr, Chapter #89, Verse #15-17

সংশয়বাদী আরজ আলী মাতবর তার মনে উদয় হওয়া কিছু প্রশ্নকে এভাবেই প্রকাশ করেছেন। তিনি যদি কুরআন ও হাদীসের দিকে ফিরতেন, তার এ সব প্রশ্নের উত্তরের জন্য যদি কোন বিজ্ঞ আলিমের শরণাপন্ন হতেন, তবে সহজেই তিনি সঠিক উত্তর পেয়ে যেতেন। আফসোস! তার সে সৌভাগ্য হয় নি। তিনি আসলে তার বইগুলোতে কিছু প্রশ্নের জবাব খুঁজেছেন। প্রশ্নগুলোর যে জবাব নেই এমন নয়। তবে জবাবের জন্য নিজের সীমাবদ্ধ মেধাকেই যথেষ্ট ভাবা বঞ্চিত হওয়ার অনেক বড়ো কারন।

স্রষ্টা তো কেবল স্রষ্টা নন, তিনি মালিকও। ধরে নিন, আমার দুটি মোরগ আছে। তার একটিকে আমি জবাই করে দিলাম, অন্যটিকে রেখে দিলাম। এ ক্ষেত্রে কি কখনও এ প্রশ্ন আসবে, আমি কেন এক মোরগের উপর জুলম করলাম, অন্যটিকে ছেড়ে দিলাম? বরং মানুষের সর্বোচ্চ আদালতও এ কথা বলবে, আমি এ ব্যাপারে স্বাধীন। অথচ আমি মোরগদুটির স্রষ্টা নই।

তাহলে যিনি স্রষ্টা, যিনি মালিক, তাঁর উপর কিভাবে জুলমের প্রশ্ন আসবে? বিস্তারিত পড়ুন

বিশ্বাসের দর্শন ও অবিশ্বাসের ভাইরাস (১১)

লিখেছেনঃ Muhammad Masih Ullah

যুগ যুগ ধরে মানুষ একই ঘটনা দেখে আসছে। গরু থেকে গরু হওয়া, ছাগল থেকে ছাগল হওয়া, কলাগাছ থেকে কলাগাছ হওয়া, আমগাছ থেকে আমগাছ হওয়া, মানুষ থেকে মানুষ হওয়া। একবারের জন্যও তার বিপরীত কিছু প্রত্যক্ষ করে নি।
এর বিপরীতে এইচআইভি ভাইরাসের দ্রুত মিউটেশনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কোন ড্রাগকে ইফেক্টিভ হতে না দেয়া, কিংবা ব্যাকটিরিয়ার এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে রেসিস্ট্যান্ট তৈরির মাধ্যমে অকার্যকর করে দেয়া নিঃসন্দেহে মিউটেশনের মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তনের উজ্জ্বল দৃস্টান্ত। কিন্তু কখনোই তা ব্যাপক বিবর্তনের উদাহরন নয়।


বিবর্তনবাদীরা যেটি বলছেন, লক্ষ লক্ষ বছরে এলোমেলো পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্ত জটিল জীব তৈরি হয়েছে সেই এককোষী জীব থেকে- কি পরিমাণ একটা নেশাগ্রস্ত কল্পনা, তা ভাষায় ব্যক্ত করা অসম্ভব।
যদি বলা হয়, এর পক্ষে আপনাদের দলিল কি?
রিচার্ড ডকিন্সের ভাষায় তারা বলবেন, আরে এর পক্ষে সব তথ্যই তো পৃথিবীতে আছে। আমরা কেবল চৌকষ গোয়েন্দার মতো দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাচ্ছি।
তার যুক্তি হলো, অপরাধী যখন একবার অপরাধ করে ফেলে, তা তো দ্বিতীয়বার রি-প্রডিউস করা যায় না। কিন্তু আলামতগুলো বিশ্লেষণ করে ঠিকই একজন ডিটেকটিভ তা নির্ণয় করে ফেলেন। তেমনই বিবর্তন তো হয়েই গেছে, আমরা ফসিলগুলো বিশ্লেষণ করে নিখুঁতভাবে বলে দিচ্ছি।


একটু বিষয়গুলি তুলনা করুন তো!


কোথায় সদ্য ঘটে যাওয়া অপরাধের আলামত আর কোথায় লক্ষ লক্ষ বছর আগের কিছু হাড় বা পায়ের ছাপ নামের ফসিল, যেগুলির উপর দিয়ে বয়ে গেছে কত চড়াই উৎড়াই।
বিস্তারিত পড়ুন

‎বিশ্বাসের দর্শন‬ ও অবিশ্বাসের ভাইরাস (১০)

লিখেছেনঃ Muhammad Masih Ullah

কল্পনা করুন, আপনি এখন সুইডেনের স্টকহোমে।
বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার কমিটির মেম্বারদের মধ্যে আপনিও একজন। মিঃ ‘এ’ নোবেলের জন্য এপ্লাই করেছেন। তার টপিক হচ্ছে বিবর্তনতত্ত্ব।
তার সাথে এভাবে কথোপকথন চলছে।
– আপনার কাছে এমন কোন প্রমান আছে যে, অতীতে বিষয়টি ঘটেছে?
– সরি, আমার কাছে নেই।
– ঠিক আছে আপনার কাছে এমন কোন প্রমান আছে বর্তমানে তা ঘটছে?
– আসলে আমি জানি না।
– মিঃ ‘এ’, বিজ্ঞান হচ্ছে কোন ঘটনার প্রমানসিদ্ধ ব্যাখ্যা দেয়া। আপনি আমাদের বলতে পারবেন, বিবর্তন কিভাবে ঘটে? কিভাবে একটা উদ্ভিদ বা প্রাণী ভিন্ন একটা উদ্ভিদ বা প্রাণীতে পরিণত হয়?
– ওয়েল, আমরা মনে করি প্রাকৃতিক নির্বাচন, অতঃপর মিউটেশন এর মাধ্যমে, আসলে ঠিক কিভাবে আমরা তা জানি না।
এখন আপনিই বলুন, আপনি মিঃ ‘এ’ কে নোবেলের জন্য ভোট দেবেন কি?
আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ইতিহাসকে কি রি-প্রডিউস করা যায়? যা একবার ঘটে গেছে, তাকে কি পূনরায় তার সমস্ত ধারাবাহিকতাকে অক্ষুন্ন রেখে সংঘটিত করা যায়? উত্তর হচ্ছে, না। বিস্তারিত পড়ুন

বিশ্বাসের দর্শন ও অবিশ্বাসের ভাইরাস (৯)

লিখেছেনঃ Muhammad Masuh Ullah

অফিস থেকে ফিরে ফ্রেস হয়ে সোজা দস্তরখানে পৌঁছে গেলো আশিক।ছোট ছোট ভুনা মাছ আশিকের বড় পছন্দ।সোজা ঐ প্লেটটির দিকেই নজর পড়লো তার। আর নজর ওখানেই আটকে গেলো। হাসির একটা চিকন রেখা ছড়িয়ে পড়লো তার ঠোঁটে।
মাছগুলো প্লেটের উপর এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন ইংরেজি বর্ণমালার কিছু অক্ষর ফুটে উঠে। সাদা প্লেটে ভুনা লালচে-কালো ছোট মাছগুলো দিয়ে লিখা ‘I LOVE YOU’.
মাছগুলো তো আর এমনি এমনি এভাবে সজ্জ্বিত হয় নি। এ যে সালমারই কাজ!
আশিকদের বিয়ে হয়েছে এক মাস হয় নি। এরই মধ্যে মেয়েটি তাকে কত আপন করে নিয়েছে। আর কত ভাবে নিজের আবেগটুকু জানিয়ে দিচ্ছে বার বার।
‘নাহ! আজই ওকে নিয়ে বেড়াতে যেতে হবে।ছোট খালার বাসায়।
আশিকরা সিএনজি থেকে নামলো।চোখের সামনে সদ্য রঙ করা চারতলা দালান। দালানের সামনে ছোটখাট একটা ফুলের বাগান। বাগানের মাঝামাঝি ঘন, সন্নিবেশিত ফুলের গাছগুলো এমনভাবে কেটে সাইজ করা, তাতে ফুটে উঠেছে বাংলা বর্ণমালার কিছু অক্ষর। সহজেই চোখে পড়ে, তাতে লিখা ‘অবকাশ ‘। অবকাশ খালাদের দালানটিরই নাম।
আশিক ভাবে, আজ দুপুরে মাছের প্লেটের এই সজ্জ্বা, এখানে খালাদের বাগানের চারাগুলোর এই সাজ যেমন বলে দেয়- এর পিছনে রয়েছে কারো নিপুণ হাতের সাক্ষর, ঠিক তেমনই এই আকাশ, এই নদী, এই তরুতলা, এই বৃক্ষ, সর্বোপরি মানুষের ডিএনএ এর এই সচেতন বিন্যাস নিশ্চয়ই কোন একজনের নিপুণ হাতের কারিশমা। আর তিনিই আমাদের স্রষ্টা, আমাদের মহান রব।”

প্রথম প্রথম যখন চীনা ভাষার পত্রিকার কোন পাতা বাজার থেকে জিনিসপত্রের সাথে প্যাকেট আকারে আসতো, দেখে অবাক হতাম। এভাবে, এমন করে প্যাঁচিয়ে লিখে কিভাবে? আর কি বিষয়েই বা লিখা হয়েছে এই পাতায়? বিস্তারিত পড়ুন

বিশ্বাসের দর্শন ও অবিশ্বাসের ভাইরাস (৮)

লিখেছেনঃ Muhammad Masuh Ullah

স্কয়ার ফার্মাসিউসিটিক্যাল কোম্পানির ঔষধ ফ্যাক্টরি। বিভিন্ন প্লান্টে কাজ করছেন বেশ কয়েকজন দক্ষ ফার্মাসিস্ট এন্ড কেমিস্ট। প্রত্যেকেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স করা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ড্রাগ প্রোডাকশনের উপর ট্রেনিংপ্রাপ্ত। প্রত্যেকেই সব ধরনের ড্রাগ তৈরিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হলেও প্রত্যেকে কাজ করেন ভিন্ন ভিন্ন প্লান্টে। ওরাল এন্টবায়োটিক্স প্লান্টে যারা কাজ করেন, তারা ইনজেক্ট্যাবল এন্টিবায়োটিক্সের প্লান্টে কাজ করেন না। অথচ সব ধরনের ইনফরমেশন মাথায় রাখেন প্রত্যেকেই।

ঠিক একটা ফ্যাক্টরির মতো এমনই ব্যতিক্রমধর্মী, পরিকল্পিত সচেতন কাজের আঞ্জাম দিচ্ছে কিছু প্রোটিন অনু মাইক্রোস্কোপিক একটা খুবই ক্ষুদ্র জায়গায় একদম কাকতালীয়ভাবে।
আপনি এটি স্বীকার করতে প্রস্তুত? আপনি কেন কোন পাগলও তা স্বীকার করবে না। অথ্চ ঠিক তাই দাবী করছে বিবর্তনবাদীরা।
একটা শুক্রানু দ্বারা একটা ডিম্বানুর নিষিক্ত হওয়া মানেই একটা মানব জীবনের শুরু।
যখন পিতার শুক্রানু দ্বারা মায়ের ডিম্বানু নিষিক্ত হয়, তখন উভয়ের জীনগুলো মিলিত হয় অনাগত শিশুর শারীরিক গঠন কেমন হবে তা ঠিক করার জন্যে। হাজার হাজার জীনের প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। এক একটি জীন ঠিক করে শিশুর গায়ের রঙ, চোখের রঙ, চুলের ধরন, মুখের গড়ন, তার প্রতিটি হাড়ের গঠন, প্রতিটি নার্ভ, গোশতপিন্ড, লিভার, কিডনি এভাবে হাজার হাজার বিষয়।

যখন শুক্রানু মিলিত হয় ডিম্বানুর সাথে তৈরি হয় একটি জীবকোষ, যেটি একজন নতুন মানুষের মূল। ঐ কোষের সাথে তৈরি হয় নতুন একটি ডিএনএ কপি, যা বহন করবে একটি নির্দিষ্ট জেনেটিক কোড, যে কোড বহন করবে অনাগত মানুষটির শরীরের জীবনের বিভিন্ন সময়ের প্রতিটি কোষ।
ঐ নিষিক্ত ডিম্বানুকে একটা মানুষে পরিণত হতে হবে। এ জন্য সেটি সংখ্যাবৃদ্ধি করার জন্য দু’ভাগ হয়, এভাবে প্রতিটি নতুন কোষ ভাগ হতে থাকে। আর ভাগ হওয়ার সময় প্রতিটি কোষই বহন করে সেই একই ডিএনএ কপি, সেই একই জেনেটিক কোড যেন বেশ সচেতনভাবেই।
আবার একই জেনেটিক কোড বহন করলেও কোষগুলোকে পরস্পর পরস্পর হতে ভিন্ন হতে হয়, যার অপর নাম ডিফারেন্সিয়েশন। যে কোষগুলো একটা গোশতপিন্ড তৈরি করবে তাদের হতে হয় একই ধরনের, নিতে হয় এক জায়গায় অবস্থান। যারা তৈরি করবে চোখ, তাদের হতে হয় আরেক রকম, যেতে হয় আরেক জায়গায়। যারা তৈরি করবে হার্ট, তারা হবে আরেক ধরনের এবং এরা চলে যাবে বক্ষগহ্বরে।
কেউ তৈরি করবে চামড়া, ঢেকে দেবে পুরো শরীর।

এরা প্রত্যেক কোষগুচ্ছই পরিমাণমতো সংখ্যাবৃদ্ধি করে, একত্রিত অবস্থান করে আর এভাবেই জন্ম দেয় এক একটি অঙ্গের। বিস্তারিত পড়ুন